অষ্টম খণ্ড।
[ চতুর্থ ভাগ]
মহামহোপাধ্যায়
প্রকাশক
দেব সাহিত্য কুটীর প্রাইভেট লিঃ ২১, ঝামাপুকুর লেন, কলিকাতা। সন ১৩৩৯ সাল
শ্রীনীরদচন্দ্র মজুমদার দ্বারা মুদ্রিত। “বি, পি, এম্স্ প্রেস” ২২।৫ বি, ঝামাপুকুর লেন, কলিকাতা—৯।
অপার করুণাময় পরমেশ্বরের রূপায় টীকা, ভাষ্য, অনুবাদ ও টিপ্পনী সহকারে সম্পূর্ণ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্ অদ্য মুদ্রিত হইয়া প্রচারিত হইল। উপনিষদ্সমূহের মধ্যে বৃহদারণ্যকোপনিষদ্ যে, কেবল আয়তনে ও বিষয়- বাহুল্যেই বৃহৎ, তাহা নহে, অর্থগৌরবেও সর্ব্বাপেক্ষা অতি মহান; বোধ হয়, এবিষয়ে কাহারো সন্দেহ নাই। এত বড় গ্রন্থের মুদ্রণাদি কার্য্যে যে, কিঞ্চিৎ কালবিলম্ব ঘটিয়াছে; আশা করি, তজ্জন্য সহৃদয় পাঠকগণ আমাদের যত্নের ত্রুটী মনে করিবেন না।
উপনিষদমাত্রই যে, ব্রহ্মবিদ্যা প্রকাশক বা ব্রহ্মবিদ্যাত্মক, ‘উপনিষদ্’ সংজ্ঞাই তদ্বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে; কারণ, ‘উপনিষদ্’ শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ করিলে ঐরূপ অর্থ ই প্রতীতিগোচর হইয়া থাকে। উপনিষদ্ শব্দ হইতে কি প্রকারে যে, ঐরূপ অর্থ লাভ করা যায়, তাহা আমরা ইতঃ পূর্ব্বে বহুবার বলিয়াছি; সুতরাং এখানে আর তাহার পুনরুল্লেখ নিষ্প্রয়োজন। এখন বৃহদারণ্যকোপনিষদ্ সম্বন্ধে যাহা কিছু বিশেষ বক্তব্য আছে, এখানে আমরা স-ক্ষেপতঃ কেবল তাহারই আলোচনা করিব।
প্রসিদ্ধ যজুর্ব্বেদ দুই ভাগে বিভক্ত—এক শুক্ল, অপর কৃষ্ণ। অন্যান্য বেদের ন্যায় শুক্ল যজুর্ব্বেদও বহু শাখায় বিভক্ত; তন্মধ্যে কান্থ ও মাধ্যন্দিননামক শাখা দুইটা এদেশে সমধিক প্রসিদ্ধ। অন্যান্য বেদশাখার ন্যায় এই কান্থ ও মাধ্যন্দিন শাখায়ও দুইটী স্বতন্ত্র ‘ব্রাহ্মণ’ সংযোজিত আছে। ঐ ব্রাহ্মণদ্বয় ‘শতপথ ব্রাহ্মণ’ নামে পরিচিত: তন্মধ্যে কান্থশাখীর ব্রাহ্মণটা সপ্তদশ কাণ্ডে সমাপ্ত, আর মাধ্যন্দিন-শাখীয় ব্রাহ্মণটা পঞ্চদশ কাণ্ডে সম্পূর্ণ হইয়াছে। এই উভয় ব্রাহ্মণেরই কাণ্ডদ্বয় ‘আরণ্যক’ নামে প্রসিদ্ধ, এবং তাহারই শেষাংশে দুইখানি উৎকৃষ্ট উপনিষদ্ সন্নিবদ্ধ আছে।
উক্ত ব্রাহ্মণদ্বয়ের মধ্যে কেবল যে, নামেরই একমাত্র সাম্য আছে, তাহা নহে; উভয়ের মধ্যে ভাষা ও বিষয়গত সাম্যও যথেষ্ট রহিয়াছে। অধিক কি, অনেক স্থলে একই শ্রুতি উভয় ব্রাহ্মণের মধ্যে অবিকলভাবে সন্নিবদ্ধ রহিয়াছে, দেখিতে পাওয়া যায়। কোথাও বা একই অভিপ্রায়-
প্রকাশক একাকার শ্রুতিদ্বয়ের মধ্যে, কেবল দুই একটা শব্দের ন্যূনাধিক্য- ব্যতীত আর কিছুমাত্র প্রভেদ পরিদৃষ্ট হয় না। এই কারণেই, উভয়ের মধ্যে, এক ব্রাহ্মণস্থিত কোন শ্রুতির প্রকৃতার্থ নির্দ্ধারণে সংশয় উপস্থিত হইলে, আচার্য্যগণ অপর ব্রাহ্মণগত অনুরূপ শ্রুতির সাহায্যে প্রকৃতার্থ নির্দ্ধারণ করিতে যত্নপর হইয়াছেন।
আমরা প্রথমেই বলিয়াছি যে, কাথ ও মাধ্যন্দিন-শাখীয় দুইটা ব্রাহ্মণেরই শেষাংশে দুইটা উৎকৃষ্ট উপনিষদ্ সংযোজিত রহিয়াছে। তন্মধ্যে আলোচ্য বৃহদারণ্যকোপনিষদ্খানি কাথ-শাখীয় শতপথ ব্রাহ্মণের সপ্তদশ কাণ্ডের তৃতীয় অধ্যায় হইতে আরব্ধ হইয়া ছয় অধ্যায়ে সমাপ্ত হইয়াছে।
এই বৃহদারণ্যকোপনিষদের নাম-নির্বচন প্রসঙ্গে আচার্য্য শঙ্কর বলিয়া- ছেন—“সেরং বড়ধ্যায়ী অরণ্যে অনুচ্যমানত্বাৎ—‘আরণ্যকম্’; বৃহত্ত্বাৎ পরি- মাণতঃ বৃহৎ—বৃহদারণ্যকম্।” অর্থাৎ ছয় অধ্যায়ে পরিপূর্ণ এই উপনিষদখানি অরণ্যমধ্যে উপদিষ্ট হইয়া থাকে বলিয়া ‘আরণ্যক’, আর পরিমাণে সর্ব্বাপেক্ষা বড় বলিয়া বৃহৎ;[সুতরাং ইহার নাম হইয়াছে—] ‘বৃহদারণ্যক’। এ কথা নিঃশঙ্কচিত্তে বলিতে পারা যায় যে, চতুর্বেদান্তর্গত ছোট বড় যতগুলি উপনিষদ্ আছে, তন্মধ্যে এই বৃহদারণ্যক-উপনিষদখানি যে, আয়তনে ও অর্থগৌরবে সর্ব্বাপেক্ষা বৃহৎ, তদ্বিষয়ে কোনও সন্দেহ নাই, এবং ইহার মধ্যে যে সমুদয় দুরূহ বিষয়—জীব, জগৎ ও ব্রহ্মতত্ত্ব সন্নিবদ্ধ, আলোচিত ও মীমাংসিত হইয়াছে, সে সমুদয় তত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম বা অনুভবগোচর করিতে হইলে যে, জনকোলাহলশূন্য পুণ্য অরণ্যভূমিই একান্ত উপযোগী, সে বিষয়ে কাহারও বিবাদ নাই। অতএব আচার্য্য-প্রদর্শিত নাম-নির্বচন হইতেই ইহার প্রকৃত স্বরূপ ও গৌরবমহিমা প্রকাশ পাইয়াছে।
আলোচ্য বৃহদারণ্যকোপনিষদের প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয় দুইটী—জ্ঞান ও কৰ্ম্ম। জীব, জগৎ ও ব্রহ্মতত্ত্ব প্রায় প্রত্যেক উপনিষদেই অল্পাধিক পরিমাণে প্রতিপাদিত ও আলোচিত হইয়াছে; কিন্তু বৃহদারণ্যকোপনিষদ্ কেবল সেই কয়টামাত্র বিষয়ের উপদেশ করিয়াই বিরত হন নাই; পরন্তু মোক্ষলাভের এক- মাত্র উপায়ভূত ব্রহ্মবিদ্যা বা তত্ত্বজ্ঞানের সহিত কর্মকাণ্ডের যে, একটা ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ আছে, তাহাও অতি উত্তমরূপে বুঝাইয়া দিয়াছেন। শ্রুতির অভিপ্রায় এই যে, সাধারণতঃ মনুষ্যমাত্রই সকাম; সুতরাং কর্মপরতন্ত্র; সকাম কর্মমাত্রই ভোগাসক্তি বৃদ্ধি করিয়া দেয়; ‘এইজন্য উহা নিঃশ্রেয়সসংসাধন অদ্বৈত ব্রহ্মজ্ঞানের
নিতান্ত পরিপন্থী; সুতরাং ভোগাসক্ত সকাম মানবগণের নিকট নিষ্কাম ভাবলভ্য অদ্বৈততত্ত্বের উপদেশ কখনই চিত্তাকর্ষক হইতে পারে না; এবং সে উপদেশে কিছুমাত্র ফলোদয়ও হয় না, বা হইতে পারে না; অথচ পরম সত্য অদ্বৈতবিদ্যা ব্যতিরেকে সংসার-সাগরমগ্ন কোন মানবেরই উদ্ধারের দ্বিতীয় উপায় নাই। শ্রুতি বলিতেছেন—
“তদেব বিদিতো মৃত্যুস্ত্যজি, নাথঃ পদাং বিদিতোঽনাত্মা”। অর্থাৎ মুমুক্ষু জীব সেই একমাত্র পরমাত্মাকে জানিয়াই মৃত্যুভয় অতিক্রম করিতে (মুক্তিলাভে) সমর্থ হয়; মোক্ষধামে যাইবার আর দ্বিতীয় পথ নাই। তাই জননীর ন্যায় লোকহিতৈষিণী শ্রুতি কর্মাসক্ত সকাম জীবগণের জন্য যেরূপ উপায় অবলম্বন করিলে ব্রহ্মবিদ্যালাভযোগ্য লাভ হইতে পারে—বিবেচনা করিয়াছেন; এখানে সেই পদ্ধতিই অবলম্বন করিয়াছেন; কিন্তু কর্ম্মের নিন্দা বা উপেক্ষণীয়তা প্রতিদান দ্বারা অজ্ঞ লোকদিগের বুদ্ধিভেদ ঘটাইয়া জ্ঞান-কর্ম উভয়পথই কণ্টকিত করেন নাই: পরন্তু প্রথমেই কর্মাঙ্গ উপাসনার অবতারণা করিয়া কর্মাসক্ত জীবগণকেও জ্ঞান-সুধা-রসাস্বাদনের যথেষ্ট সুযোগ করিয়া দিয়াছেন।
উপনিষদের প্রথমেই সর্ব্বলোক-বিদিত যাগশ্রেষ্ঠ অশ্বমেধীয় অশ্বের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গে ঊষা-কাল প্রভৃতির চিন্তা করিতে উপদেশ করিয়াছেন; পক্ষান্তরে, যে সকল লোকের অশ্বমেধ যাগে অধিকার নাই, তাহাদের জন্যও উক্ত ঊষাকাল প্রভৃতিতে যজ্ঞীয় অশ্বের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ-দৃষ্টির বিধান করিয়াছেন। এইরূপ কর্ম্মাঙ্গ স্তোত্রজাতীয় উদ্গীথাদি অবলম্বনেও উদ্গীথ-বিদ্যা প্রভৃতির উপদেশ করিয়াছেন। উদ্দেশ্য—কর্ম্মাসক্ত মানবগণ এইরূপে স্থূল বস্তু অবলম্বনে চিন্তা করিতে অভ্যস্ত হইয়া, ক্রমে ব্রহ্মচিন্তায়ও অধিকারী হইতে পারিবে। এইরূপ ব্যবস্থা অভ্যাস- যোগেরই অন্তর্গত।
অনন্তর সোপানারোহক্রমে ক্রমশঃ সগুণ ব্রহ্মবিষয়ে সম্পদ ও প্রতীক প্রভৃতি (১) নানাপ্রকার সগুণোপাসনা নিরূপণ করিয়া, চরম লক্ষ্য নিগুণ ব্রহ্মবিদ্যার
(১) সম্পদ ও প্রতীক নামে দুইপ্রকার উপাসনা আছে। তন্মধ্যে, অল্পগুণ-সম্পন্ন কোন একটী আলম্বনের(ধ্যেয় বস্তুর) ক্ষুদ্রভাব গোপন রাখিয়া যে, তদপেক্ষা অধিকগুণ-সম্পন্ন কোন বস্তুর সহিত অভিন্নভাবে উপাসনা, তাহার নাম সম্পদ উপাসনা। যেমন—প্রতিমাতে বিষ্ণুর উপাসনা। আর ধ্যেয় বস্তুর কোন একটা অংশকে যে, সম্পূর্ণ ধ্যেয় বস্তুরূপে উপাসনা, তাহা প্রতীক উপাসনা। যেমন ব্রহ্ম-নামে ব্রহ্মচিন্তা।
( 10)
অবতারণা করিয়াছেন। প্রসঙ্গক্রমে সৃষ্টিতত্ত্ব ও জড়তত্ত্ব প্রভৃতি অবশ্যজ্ঞাতব্য নানা- বিধ বিষয়েরও অবতারণা করিয়া আপনার উদ্দেশ্যসিদ্ধির পথ প্রশস্ত করিয়াছেন।
জ্ঞানগুরু আচার্য্য শঙ্কর স্বকৃতভাষ্যমধ্যে এই সমুদয় বিষয়ের বিবৃতিপ্রসঙ্গে এমন সমুদয় জটিল তত্ত্বের আলোচনা ও মীমাংসা করিয়া গিয়াছেন, যাহা অন্যত্র কুত্রাপি সেরূপ বিশদভাবে আলোচিত হয় নাই। অধিক কি, একমাত্র বৃহদারণ্য- কোপনিষদের শাঙ্কর ভাষ্যটী উত্তমরূপে বুঝিতে পারিলে, বেদান্তের প্রতিপাদ্য সমস্ত বিষয় ও বেদান্তসম্বন্ধে আচার্য্য শঙ্করের অভিমত সিদ্ধান্ত যে কি, এবং কত উদার, তাহাও জানিতে বা বুঝিতে বাকী থাকে না। আচার্য্য শঙ্কর বেদান্তদর্শন বা ব্রহ্মসূত্রের ভাষ্য-ব্যাখ্যার অধিকাংশ স্থলেই, ছান্দোগ্যের ন্যায় বৃহদারণ্যকের বাক্যসমূহও উদ্ধৃত করিয়া স্বমত-সংস্থাপনে সফলতা লাভ করিয়াছেন।
এই বৃহদারণ্যকোপনিষদের শাঙ্কর-ভাষ্যের উপর আচার্য্য সুরেশ্বর একটী প্রকাণ্ড ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করিয়াছেন। তাহার নাম বৃহদারণ্যক-বার্ত্তিক। ভাষ্যমধ্যে যে সমুদয় বিষয় বলা হয় নাই, অথবা সংক্ষেপে বা জটিলভাবে বলা হইয়াছে, সে সমুদয়ের বিবৃতি বিধান করাই ঐ বার্তিকের প্রধান উদ্দেশ্য। দুঃখের বিষয় এই যে, আমরা পাঠকবর্গকে তাহার রসাস্বাদনের কোন ব্যবস্থাই করিতে পারিলাম না।
বৃহদারণ্যকোপনিষদ্ সম্বন্ধে আরও অনেক কথা বলিবার আছে, কিন্তু এখন সে সমুদয়ের অবতারণা করিব না। ভগবদিচ্ছা থাকিলে, সর্ব্বশেষে আমরা ঐ সমুদয় বিষয়ের বিশদভাবে আলোচনা করিয়া নিজের ও পাঠকবর্গের কৌতূহল চরিতার্থ করিব।
পরিশেষে বক্তব্য এই যে, আধি-ব্যাধিসমাকুল সংসারে এরূপ বৃহদায়তন জটিল গ্রন্থের সম্পাদনে ও অনুবাদাদি কার্য্যে পদে পদে ত্রুটী ঘটিতে পারে; বিশেষতঃ যেখানে অপরের সহায়তা গ্রহণ ব্যতীত চলিবার উপায় নাই, সেখানে ত ত্রুটীসংঘটন একান্তই সম্ভবপর; অতএব সহৃদয় পাঠকগণ, সেরূপ কোনও ত্রুটী দেখিয়া আমাদিগকে জানাইলে, আমরা পরম আনন্দ লাভ করিব এবং বিশেষ উপকৃত হইব।
ভবানীপুর, ভাগবত চতুষ্পাঠী কলিকাতা। ১৩২৯, শুভ কার্ত্তিক।
শ্রীদুর্গাচরণ সাংখ্যবেদান্ততীর্থ সম্পাদক ও অনুবাদক।
ভগবৎকৃপায় বৃহদারণ্যক উপনিষদ্ আজ দ্বিতীয়বার মুদ্রিত হইয়া তত্ত্বজিজ্ঞাসু মনীষী পাঠকবৃন্দের সম্মুখে উপস্থিত হইল। এত বড় বহুমূল্যের গ্রন্থ যে, এত অল্প সময়ের মধ্যে নিঃশেষ হইয়া গিয়াছে, ইহা যেমন দেশবাসীর সদিচ্ছা ও জ্ঞানপিপাসার পরিচায়ক, তেমনই আমাদের আনন্দ ও উৎসাহবর্দ্ধক।
দ্বিতীয় সংস্করণে অনুবাদ ও টিপ্পনীর স্থানে স্থানে কিঞ্চিৎ পরিবর্তন ও পরিবর্দ্ধন করা হইয়াছে, এবং গ্রন্থখানি নির্ভুল করিবার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করা হইয়াছে, সহৃদয় পাঠকবর্গ দেখিলেই তাহা বুঝিতে পারিবেন।
এরূপ বৃহদায়তন গ্রন্থ মুদ্রণ করা বহু ব্যয়সাপেক্ষ; সুতরাং ইচ্ছা সত্ত্বেও স্বল্পমূল্য করা সম্ভবপর হয় না। আশা করি, দেশের সুধীসমাজ এবারও এই গ্রন্থের আদর করিয়া আমাদিগকে উৎসাহিত করিবেন। ইতি—
ভবানীপুর, ভাগবত চতুষ্পাঠী কলিকাতা। শুভ বৈশাখ ১৩৪০।
শ্রীদুর্গাচরণ সাংখ্যবেদান্ততীর্থ সম্পাদক ও অনুবাদক।
বিষয়। ব্রাহ্মণ। পত্রাঙ্ক। আত্মজ্ঞানবিহীন ব্যক্তির দেব-পিতৃঋণ প্রভৃতি ঋণ পরিশোধন এবং মনঃ, বাক্ ও প্রাণ প্রভৃতিতে পাঙক্ত কর্ম্মদৃষ্টির উপদেশ— ৪। ৩১৯—৩৫৯
বিষয়। ব্রাহ্মণ। পত্রাঙ্ক। ১৪। গার্গ্য ও অজাতশত্রুর সংবাদ। গার্গ্যকর্তৃক অজাতশত্রুর নিকট ব্রহ্মোপদেশের প্রস্তাবনা ও অজাতশত্রুকর্তৃক তাহার অনুমোদন এবং গার্গ্যোক্ত আদিত্য পুরুষাদির অব্রহ্মত্ব কথন— ১। ৪৫৫-৪৯৮ ১৫। গার্গ্যকর্তৃক অজাতশত্রুর নিকট প্রকৃত ব্রহ্মোপদেশের প্রার্থনা জ্ঞাপন, এবং গার্গ্যকে লইয়া অজাতশত্রুর সুপ্তপুরুষ-সমীপে গমন ও পাণিপেশনে প্রবোধন ও স্বপ্ন-সুষুপ্ত্যাদি অবস্থাভেদে আত্মতত্ত্ব কথন— ১। ৪৯৯-৫৫৯
বিষয়। ব্রাহ্মণ। পণ্ডিত।
৩। ৩৯৮—৭০১
বিবিধ। ব্রাহ্মণ। শৌর্য্য।
| বিষয়। | ব্রাহ্মণ। | পত্রাঙ্ক। |
|---|---|---|
| ৩৪। বাচক্লবী-(গার্গী) যাজ্ঞবল্ক্য সংবাদ—সর্ব্বাধার সূত্রাত্মা ও আকাশ- ব্রহ্মের আধারবিষয়ে প্রশ্ন এবং তদুত্তরে নিরুপাধিক অস্থুলাদিস্বভাব অক্ষর ব্রহ্মের স্বরূপ নিরূপণ— | ৮। | ৮৭০—৯০০ |
| ৩৫। শাকল্য-যাজ্ঞবল্ক্যসংবাদ—দেবতার সংখ্যাভেদসম্বন্ধে প্রশ্ন, এবং তদুত্তরে দেবতার একত্ব(প্রাণস্বরূপতা) নির্দ্ধারণ— | ৯। | ৯০১—৯১৪ |
| ৩৬। প্রাণ-ব্রহ্মের অধিদৈবতরূপে অষ্টপ্রকার ভেদনির্ধারণ— | ||
| ৯। | ৯১৫—৯২৮ | |
| ৩৭। দিগ্দেবতাপ্রভৃতি বিষয়ে প্রশ্ন ও তদুত্তরে শারীরাদি অষ্টপ্রকার পুরুষ নিরূপণ— | ৯। | ৯২৯—৯৪৪ |
| ৩৮। শরীর ও হৃদয়াধিষ্ঠান বিষয়ে প্রশ্ন এবং তদুত্তরে প্রাণপ্রতিষ্ঠিতত্ব নিরূপণ— | ৯। | ৯৪৫—৯৫২ |
| ৩৯। সভাস্থ সমস্ত পণ্ডিতের প্রতি যাজ্ঞবল্ক্যের আত্মবিষয়ক প্রশ্ন ও তদুত্তর— | ৯। | ৯৫৩—৯৭২ |
| বিষয়। | ব্রাহ্মণ। | পত্রাঙ্ক। |
|---|---|---|
| ৪০। | জনক-যাজ্ঞবল্ক্যসংবাদ—যাজ্ঞবল্ক্যকর্তৃক জনকোক্ত ব্রহ্মবাদ খণ্ডন এবং বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয়ে ব্রহ্মদৃষ্টির উপদেশ— | ১। ৯৭৩—৯৯৫ |
| ৪১। | মৃত্যুর পর গন্তব্যস্থান বিষয়ে জনকের প্রশ্ন ও যাজ্ঞবল্ক্যকর্তৃক অক্ষি- পুরুষাদিক্রমে তাহার উত্তর প্রদান— | ২। ৯৯৬—১০০৮ |
| ৪২। | পুনরায় জনক-যাজ্ঞবল্ক্য-সংবাদ—জনককর্তৃক যাজ্ঞবল্ক্যের প্রতি স্বয়ং- জ্যোতিঃ পুরুষ বিষয়ে প্রশ্ন এবং যাজ্ঞবল্ক্যকর্তৃক তদুত্তরে স্বয়ংজ্যোতিঃ বিজ্ঞানময় আত্মার স্বরূপ নির্দ্ধারণ— | ৩। ১০০৯—১০৭০ |
| ৪৩। | সেই বিজ্ঞানময় আত্মার জন্ম, মরণ ও জাগ্রৎ স্বপ্নাদি অবস্থা বর্ণন, এবং সেই সমুদয় অবস্থায় আত্মার নির্লিপ্ততা নিরূপণপূর্ব্বক সুষুপ্তিতে আত্মার স্বয়ংজ্যোতিঃ ও পূর্ণানন্দ স্বরূপ প্রদর্শন— | ৩। ১০৭১—১১৭৪ |
বিষয়। ব্রাহ্মণ। পত্রাঙ্ক। ৪৪। স্বপ্ন-জাগরণ দৃষ্টান্তানুসারে জীবের অপর দেহে গমনার্থ পূর্ব্ব দেহ হইতে উৎক্রমণকালীন অবস্থা বর্ণন— ৩। ১১৭৫—১১৮৮
বিষয়। ব্রাহ্মণ। পণ্ডিত।
৫০। খিলকাণ্ড—সোপাধিক ব্রহ্মসম্বন্ধে পূর্ব্বে অনুক্ত বিশেষভাব কথন, এবং তৎপ্রসঙ্গে ‘কং,খং ব্রহ্ম’ কথন— ১। ১৩৫০—১৩৭০
৫১। প্রজাপতির তিন সন্তানের—দেবতা, মানুষ ও অসুরগণের ব্রহ্মজ্ঞান লাভার্থ প্রজাপতির সমীপে গমন ও ব্রহ্মচর্য্যগ্রহণ, এবং প্রজাপতিকর্তৃক উচ্চারিত একই ‘দ’ শব্দ হইতে তিনজনের তিন প্রকার অর্থ গ্রহণ—
২। ১৩৭১—১৩৭৩
| বিষয়। | ব্রাহ্মণ। | পত্রাঙ্ক। | |
|---|---|---|---|
| ৫২। | হৃদয়াখ্য ব্রহ্মের উপাসনা কথন— | ৩। | ১৩৮০—১৩৮৩ |
| ৫৩। | পূর্ব্বোক্ত হৃদয়াখ্য নাম-ব্রহ্মের ‘সত্য’ রূপে উপাসনা নির্দেশ— | ৪। | ১৩৮৪—১৩৮৫ |
| ৫৪। | উপাস্য সত্যব্রহ্মের প্রশংসার্থ তাহার প্রথমজত্ব ও বিভূতি প্রভৃতি | ৫। | ১৩৮৬—১৩৯৫ |
| ৫৫। | উক্ত সত্যব্রহ্মের মনোময়াদি গুণযোগে উপাসনা কথন— | ৬। | ১৩৯৬—১৩৯৭ |
| ৫৬। | উক্ত সত্য ব্রহ্মের বিদ্যুৎস্বরূপে উপাসনা কীর্ত্তন— | ৭। | ১৩৯৮—১৩৯৯ |
| ৫৭। | ধেনুরূপে বাব্রহ্মের উপাসনা বিধান— | ৮। | ১৪০০—১৪০১ |
| ৫৮। | বৈশ্বানরাখ্য ব্রহ্মের উপাসনা কথন— | ৯। | ১৪০২—১৪০২ |
| ৫৯। | পূর্ব্বোক্ত সমস্ত সগুণোপাসনার ফলোপসংহার ও গতিপ্রকার | ||
| কথন— | ১০। | ১৪০৩—১৪০৫ | |
| ৬০। | ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তির ব্যাধিজনিত ক্লেশে তপস্যার | প্রণালী চিন্তা | |
| উপদেশ— | ১১। | ১৪০৬—১৪০৭ | |
| ৬১। | অন্ন-ব্রহ্মের উপাসনা বিধান— | ১২। | ১৪০৮—১৪১২ |
| ৬২। | উক্ত, যজুঃ, সাম ও ক্ষত্রাদিরূপে প্রাণোপাসনা কথন— | ||
| ৬৩। | সমষ্টি ব্যষ্টি গায়ত্রী প্রভৃতি উপাধিযোগে প্রাণোপাসনা কথন, এবং | ||
| গায়ত্রীর চতুর্থ পাদ নিরূপণ ও গায়ত্রী-শব্দের অর্থ প্রকাশন— | |||
| ১৪। | ১৪১৮—১৪৪০ | ||
| ৬৪। | কর্মাঙ্গ উপাসককর্তৃক মৃত্যুকালে আদিত্য-সমীপে | প্রার্থনা প্রণালী | |
| কথন— | ১৫। | ১৪৪১—১৪৪৭ |
| বিষয়। | ব্রাহ্মণ। | পত্রাঙ্ক। |
|---|---|---|
| ৬৫। খিলকাণ্ড—পূর্ব্বে অনুক্ত অথচ বিশেষফলজনক প্রাণোপাসনা এবং বাক্ প্রভৃতির বিবাদ, উৎক্রমণ ও প্রাণে বসিষ্ঠাদি গুণ সমর্পণাদি বিষয় নির্দেশ— | ১। | ১৪৪৮—১৪৭৫ |
| ৬৬। পূর্ব্বে সামান্যাকারে বর্ণিত জীবের সংসার-গতি পুনর্ব্বার বিস্তৃত ভাবে বর্ণনা এবং শ্বেতকেতু ও পঞ্চালরাজ-সংবাদ কথন—২। | ১৪৭৬—১৫২৯ | |
| ৬৭। মন্থকৰ্ম্ম,—মহত্ত্ব-প্রাপক মানুষ-বিত্ত সঞ্চয়ের আবশ্যকতা ও তাহার ফল প্রতিপাদন— | ৩। | ১৫৩০—১৫৪৮ |
| ৬৮। মন্থাখ্য-কর্মকর্তার পুত্র কিরূপে পিতার মনোরম হইতে পারে, তন্নিরূপণ— | ৪। | ১৫৪৯—১৫৬৩ |
| ৬৯। মন্থাখ্য-কর্মকর্তার অভিরূপ পুত্রোৎপাদনার্থ গর্ভাধান-ক্রিয়ার উপদেশ— | ৪। | ১৫৬৪—১৫৭৬ |
| ৭০। জাত পুত্রের নামকরণ-প্রণালী— | ৪। | ১৫৭৭—১৫৮১ |
| ৭১। বংশ ব্রাহ্মণ কীর্ত্তন— | ৫। | ১৫৮২—১৫৮৬ |
বৃহদারণ্যকোপনিষদের সূচী-পত্র সম্পূর্ণ।
| অ | অধ্যায়। ব্রাহ্মণ। মন্ত্র | |||
|---|---|---|---|---|
| অগ্নিয়ে স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা | ... | ৪ | ৬ | ২ |
| অগ্নিবেশ্যাদাগ্নিবেদ্যো | ... | ৬ | ৩ | ৩ |
| অত্র পিতাপিতা ভবতি | ... | ৪ | ৩ | ২২ |
| অথ কর্মনামাত্মেত্যেতদেবা | ... | ১ | ৬ | ৩ |
| অথ চক্ষুরত্যবহত্তদ্যদা | ... | ১ | ৩ | ১৪ |
| অথ ত্রয়ো বাব লোকা | .. | ১ | ৫ | ১৬ |
| অথ প্রাণমত্যবহৎ, স যদা | ... | ১ | ৩ | ১৩ |
| অথ মনোহত্যবহদ্ যদা | ... | ১ | ৩ | ১৬ |
| অথ য ইচ্ছেৎ পুত্রো মে কপিলঃ পিঙ্গলো | ... | ৬ | ৪ | ১৫ |
| অথ য ইচ্ছেৎ পুত্রো মে পণ্ডিতো জায়েত | ... | ৬ | ৪ | ১৮ |
| অথ য ইচ্ছেৎ পুত্রো মে শ্যামো | ... | ৬ | ৪ | ১৬ |
| অথ য ইচ্ছেদু হিতা মে পণ্ডিতা | ... | ৬ | ৪ | ১৭ |
| অথ যদা সুষুপ্তো ভবতি | ... | ২ | ১ | ১৯ |
| অথ যদ্যুদক আত্মানং | ... | ৬ | ৪ | ৬ |
| অথ যস্য জায়ামার্তবং | ... | ৬ | ৪ | ১৩ |
| অথ যস্য জায়ায়ৈ | ... | ৬ | ৪ | ১২ |
| অথ যামিচ্ছেদধীতেতি | ... | ৬ | ৪ | ১১ |
| অথ যামিচ্ছেদ গর্ভং দধীতেতি | ... | ৬ | ৪ | ১০ |
| অথ যে যজ্ঞেন দানেন | ... | ৬ | ২ | ১৫ |
| অথ রূপাণাং চক্ষু | ... | ১ | ৬ | ২ |
| অথ বংশঃ পৌতিমায্যো | ... | ২ | ৬ | ১ |
| অথ বংশঃ পৌতিমাযো | ... | ৪ | ৬ | ৬ |
| অধ্যায়। ব্রাহ্মণ। মন্ত্র | ||||
|---|---|---|---|---|
| অথ বংশ পৌতিমাষ্যো | ... | ৬ | ৫ | ১ |
| অথ শ্রোত্রমত্যবহত্তদ্যথা | ... | ১ | ৩ | ১৫ |
| অথ হ’চক্ষুরূচুঃ | ... | ১ | ৩ | ৪ |
| অথ হ প্রাণ উৎক্রমি | ... | ৬ | ১ | ১৩ |
| অথ হ প্রাণমুচ্ছ্বং ন | ... | ১ | ৩ | ৩ |
| অথ হ মন উচুঃ | ... | ১ | ৩ | ৬ |
| অথ হ যাজ্ঞবন্ধ্যস্য দ্বে | ... | ৪ | ৫ | ১ |
| অথ হ বাচকব্যুবাচ | ... | ৩ | ৮ | ১ |
| অথ হ শ্রোত্রমুচুঃ | ... | ১ | ৩ | ৫ |
| অথ হেমমাসন্যং প্রাণ | ... | ১ | ৩ | ৭ |
| অথ হৈনমসুরা উঁচুঃ | ... | ৫ | ১ | ৩ |
| অথ হৈনমুদ্দালক আ | ... | ৩ | ৭ | ১ |
| অথ হৈনমুদ্দালকা | ... | ৩ | ৪ | ১ |
| অথ হৈনং কহোলঃ কৌ | ... | ৩ | ৫ | ১ |
| অথ হৈনং গার্গী বাচ | ... | ৩ | ৬ | ১ |
| অথ হৈনং জারৎকারব | ... | ৩ | ২ | ১ |
| অথ হৈনং ভুজ্যুরাহ্যা | ... | ৩ | ৩ | ১ |
| অথ হৈনং মনুষ্যা উঁচুঃ | ... | ৫ | ৫ | ২ |
| অথ হৈনং বিদগ্ধশা | ... | ৩ | ৯ | ১ |
| অথ হোবাচ ব্রাহ্মণা | ... | ৩ | ৯ | ২৭ |
| অথাতঃ পবমানানামে | ... | ১ | ৩ | ২৮ |
| অথাতঃ সংপ্রতির্যদা | ... | ১ | ৫ | ১৭ |
| অথাতো ব্রতমীমাংসা | ... | ১ | ৫ | ২১ |
| অথাত্মনেহ ম্লাদ্যমাগা | ... | ১ | - | ১৭ |
| অথাধিদৈবতং জ্বলিষ্যা | ... | ১ | ৫ | ২২ |
| অথাধ্যাত্মমিদমেব মুর্তং | ... | ২ | ৩ | ৪ |
| অথাভিপ্রাতরেব স্থালী | ... | ৬ | ৪ | ১৯ |
| অথামূর্তং প্রাণশ্চ যশ্চা | ... | ২ | ৩ | ৫ |
| অথামূর্তং বায়ুশ্চান্তরিক্ষং | ... | ২ | ৩ | ৩ |
| অধ্যায়। ব্রাহ্মণ। মন্ত্র | |||
|---|---|---|---|
| অথাস্য দক্ষিণং কর্ণম্ | ... | ৬ | ৪ ২৫ |
| অথাস্য নাম করোতি | ... | ৬ | ৪ ২৬ |
| অথাস্য মাতরমভিম ০ | ... | ৬ | ৪ ২৮ |
| অথাস্যা উরূ বিহাপ ০ | ... | ৬ | ৪ ২১ |
| অথেত্যভ্যমন্থৎ স মুখাচ্চ | ... | ১ | ৪ ৬ |
| অথৈতদ্বামেহক্ষণি | ... | ৪ | ২ ৩ |
| অথৈতস্য প্রাণস্যাপঃ | ... | ১ | ৫ ১৩ |
| অথৈতস্য মনসো দ্যৌঃ | ... | ১ | ৫ ৩২ |
| অথৈনমগ্নয়ে | ... | ৬ | ১ ১৪ |
| অথৈনমভিমৃশতি | ... | ৬ | ৩ ৪ |
| অথৈনমাচামতি | ... | ৬ | ৩ ৬ |
| অথৈনমুদ্যচ্ছত্যামং ০ | ... | ৬ | ৩ ৫ |
| অথৈনং মাত্রে প্রদায় | ... | ৬ | ৪ ২৭ |
| অথৈনং বসত্যোপমন্ত্রয়াং ০ | ... | ৬ | ১ ৩ |
| অথৈনামভিপদ্যতে | ... | ৬ | ৪ ২০ |
| অথৈষ শ্লোকো ভবতি | ... | ১ | ৫ ২৩ |
| অথো অয়ং বা আত্মা ০ | ... | ১ | ৪ ১৬ |
| অস্ত্যশ্চৈনং চন্দ্রমসশ্চ | ... | ১ | ৫ ২০ |
| অনন্দা নাম তে লোকা | ... | ৪ | ৪ ১১ |
| অন্ধং তমঃ প্রবিশন্তি | ... | ৪ | ১০ |
| অন্নং ব্রহ্মেত্যেক আহুঃ | ... | ৫ | ১২ ১ |
| অয়মগ্নিঃ সর্ব্বেষাং ভূতানাং | ... | ২ | ৫ ৩ |
| অয়মগ্নির্বৈশ্বানরো | ... | ৫ | ৯ ১ |
| অয়মাকাশঃ সর্ব্বেষাং | ... | ২ | ৫ ১০ |
| অয়মাত্মা সর্ব্বেষাং ভূতানাং | ... | ২ | ৫ ১৪ |
| অয়মাদিত্যঃ সর্ব্বেষাৎ | ... | ২ | ৫ ৫ |
| অয়ং চন্দ্রঃ সর্ব্বেষাৎ | ... | ২ | ৫ ৭ |
| অয়ং ধর্ম্মঃ সর্ব্বেষাং ভূতানাং | ... | ২ | ৫ ১১ |
| অয়ং বায়ুঃ সর্ব্বেষাং | ... | ২ | ৫ ৪ |
| অধ্যায়। | ব্রাহ্মণ। | মন্ত্র | ||
|---|---|---|---|---|
| অয়ং বৈ লোকোহগ্নিগৌতম | ... | ৬ | ২ | ১১ |
| অয়ং স্তনয়িত্ব | ... | ২ | ৫ | ৯ |
| অসৌ বৈ লোকোহগ্নিগৌতম | ... | ৬ | ২ | ৯ |
| অস্তমিত আদিত্যে যাজ্ঞবল্ক্য কিংজ্যোতি | ... | ৪ | ৩ | ৩ |
| অস্তমিত আদিত্যে যাজ্ঞবল্ক্য চন্দ্রমস্যস্তমিতে কিংজ্যোতিরেবা ০ | ... | ৪ | ৩ | ৪ |
| অস্তমিত আদিত্যে যাজ্ঞবল্ক্যচন্দ্রমস্য- স্তমিতে শান্তেহগ্নো | ... | ৪ | ৩ | ৫ |
| অস্তমিত আদিত্যে যাজ্ঞবল্ক্য চন্দ্রমস্যস্ত- মিতে শান্তেহগ্নো শান্তায়াং বাচি | ... | ৪ | ৩ | ৬ |
| অহর্বা অশ্বং পুরস্তাৎ | ... | ১ | ১ | ২ |
| অহল্লিকেতি হোবাচ | ... | ৩ | ৯ | ১৫ |
| আ | ||||
| আকাশ এব যস্যায় ০ | ... | ৩ | ৯ | ১৩ |
| আগ্নিবেশ্যাদাগ্নিবেশ্যঃ | ... | ২ | ৬ | ২ |
| আগ্নিবেশ্যাদাগ্নিবেশ্যো | ... | ৪ | ৬ | ২ |
| আত্মানং চেদ্বিজানীয়াদ ০ | ... | ৪ | ৪ | ১২ |
| আত্মৈবেদমগ্র আসীৎ পূ ০ | ... | ১ | ৪ | ১ |
| আত্মৈবেদমগ্র আসীদেক | ... | ১ | ৪ | ১৭ |
| আত্রেয়ীপুত্রাদাত্রেরীপুত্রে। | ... | ৬ | ৫ | ২ |
| আপ এব যস্যায়তনম্ | ... | ৩ | ৯ | ১৬ |
| আপ এবেদমগ্র আসুঃ | ... | ৫ | ৫ | ১ |
| আপো বা অর্কস্তদ্যদপাং | ... | ১ | ২ | ২ |
| আরামমস্য পশ্যন্তি | ... | ৪ | ৩ | ১৪ |
| ই | ||||
| ইদং মানুষৎ সর্ব্বেষাং | ... | ২ | ৫ | ১৩ |
| ইদং বৈ তন্মধু আথর্ব্ব ০ | ... | ২ | ৫ | ১৭ |
| ইদং বৈ তন্মধু পশ্যন্নবোচং। তদ্বাৎ | ... | ২ | ৫ | ১৬ |
| অধ্যায়। ব্রাহ্মণ। মন্ত্র | ||||
|---|---|---|---|---|
| ইদং বৈ তন্মধু পশ্যন্নবোচৎ। পুরশ্চক্রে | ... | ২ | ৫ | ১৮ |
| ইদং বৈ তন্মধু পশ্যন্নবোচৎ। রূপ ং | ... | ২ | ৫ | ১৯ |
| ইদং সত্যং সর্ব্বেষাং | ... | ১ | ৫ | ১২ |
| ইন্ধো হ বৈ নামৈষ | ... | ৪ | ২ | ২ |
| ইমা আপঃ সর্ব্বেষাং | ... | ২ | ৫ | ২ |
| ইমা দিশঃ সর্ব্বেষাং | ... | ১ | ৫ | ৬ |
| ইমাবেব গোতম-ভরদ্বাজা | ... | ১ | ১ | ৪ |
| ইয়ং পৃথিবী সর্ব্বেষাং | ... | ২ | ৫ | ১ |
| ইয়ং বিদ্যুৎ সর্ব্বেষাং ভূতানাং | ... | ১ | ৫ | ৮ |
| ইহৈব সন্তোহথ বিদ্ধঃ | ... | ৪ | ৪ | ১৪ |
| উ | ||||
| উকথং প্রাণো বা উকথং | ... | ৫ | ১৩ | ১ |
| উষা বা অশ্বস্য মেধ্যস্য | ... | ১ | ১ | ১ |
| ঋ | ||||
| ঋচো যজুংষি | ... | ৫ | ১৪ | ২ |
| এ | ||||
| একধৈবানুদ্রষ্টব্যমেতদপ্র ো | ... | ৪ | ৪ | ২০ |
| একীভবতি ন পশ্যতী ো | ... | ৪ | ৪ | ২ |
| এতদ্ধ বৈ তজ্জনকো | ... | ৫ | ১৪ | ৮ |
| এতদ্ধ স্ম বৈ তদ্বিদ্বানু ো | ... | ৬ | ৪ | ৪ |
| এতদ্বৈ পরমং | ... | ৫ | ১১ | ১ |
| এতমু হৈব চুলো | ... | ৬ | ৩ | ১০ |
| এতমু হৈব জানকিরায়স্থূণঃ | ... | ৬ | ৩ | ১১ |
| এতমু হৈব মধুকঃ | ... | ৬ | ৩ | ৯ |
| এতমু হৈব বাজসনেয়ো | ... | ৬ | ৩ | ৮ |
| এতমু হৈব সত্যকামো | ... | ৬ | ৩ | ১২ |
| এতস্য বা অক্ষরস্য | ... | ৩ | ৮ | ৯ |
| এষ উ এব বৃহস্পতিঃ | ... | ১ | ৩ | ২০ |
| অধ্যায়। ব্রাহ্মণ। মন্ত্র: | ||||
|---|---|---|---|---|
| এষ উ এব ব্রহ্মণস্পতিঃ | ... | ১ | ৩ | ২১ |
| এষ উ এব সাম বাগ্বৈ | ... | ১ | ৩ | ২২ |
| এষ উ বা উদগীথঃ | ... | ১ | ৩ | ২৩ |
| এষ প্রজাপতিঃ | ... | ৫ | ৩ | ১ |
| এষা বৈ ভূতানাং পৃথিবী | ... | ৬ | ৪ | ১ |
| ক | ||||
| কতম আত্মেতি যোহয়ম্ | ... | ৮ | ৩ | ৭ |
| কতম আদিত্যা ইতি | ... | ৩ | ২ | ৫ |
| কতম ইন্দ্রঃ কতমঃ | ... | ৩ | ৯ | ৬ |
| কতমে তে ত্রয়ো দেবা | ... | ৩ | ৯ | ৮ |
| কতমে রুদ্রা ইতি | ... | ৩ | ৯ | ৪ |
| কতমে বসব ইত্যগ্নিশ্চ | ... | ৩ | ৯ | ৩ |
| কতমে ষড়িত্যগ্নিশ্চ | ... | ৩ | ৯ | ৭ |
| কস্মিন্ন ত্বং চাত্মা ০ | ... | ৩ | ৯ | ২৬ |
| কাম এব যস্যায়তনং | ... | ৩ | ৯ | ১১ |
| কিংদেবতোহস্যামুদীচ্যাং | ... | ৩ | ৯ | ২৩ |
| কিংদেবতোহস্যাং দক্ষিণায়াং | ... | ৩ | ৯ | ২১ |
| কিংদেবতোহস্যাং ধ্রুবায়াং | ... | ৩ | ৯ | ২৩ |
| কিংদেবতোহস্যাং প্রতীচ্যাং | ... | ৩ | ৯ | ২২ |
| কিংদেবতোহস্যাং প্রাচ্যাং | ... | ৩ | ৯ | ২০ |
| ক্ষত্রং প্রাণো বৈ ক্ষত্রং প্রাণো | ... | ৫ | ১৩ | ৪ |
| ঘ | ||||
| ঘৃতকৌশিকাদ্যুতকৌশিকঃ | ... | ২ | ৬ | ৩ |
| ঘৃতকৌশিকাদ্যুতকৌশিকঃ | ... | ৪ | ৬ | ৩ |
| চ | ||||
| চক্ষুর্বৈ গ্রহঃ | ... | ৩ | ২ | ৫ |
| চক্ষুহোচ্চক্রাম | ... | ৬ | ১ | ৯ |
| চতুরৌদুম্বরো ভবত্যৌদু ০, | ... | ৬ | ৩ | ১৩ |
(৭)
পঞ্চম। দ্বাদশ। ষষ্ঠ।
| জ | ||||
|---|---|---|---|---|
| যজুঃ, প্রাণো | ... | ৫ | ১৩ | ২ |
| জনকো হ বৈদেহ আ | ... | ৪ | ১ | ১ |
| জনকো হ বৈদেহঃ কুর্চা | ... | ৪ | ২ | ১ |
| জনক ং হ বৈদেহং যাজ্ঞ | ... | ৪ | ৩ | ১ |
| জনকো হ বৈদেহো বহু | ... | ৩ | ১ | ১ |
| জাত এব ন জায়তে | ... | ৩ | ৯ | ৩৪ |
| জাতেহগ্নিমুপসমাধায়ঙ্ক | ... | ৬ | ৪ | ২৪ |
| জিহ্বা বৈ গ্রহঃ | ... | ৩ | ২ | ৪ |
| জ্যেষ্ঠায় স্বাহা শ্রেষ্ঠায় | ... | ৬ | ৩ | ২ |
| ত | ||||
| তদভিমৃশেদনু বা | ... | ৬ | ৪ | ৫ |
| তদাহুর্যদয়মেক ইবৈব | ... | ৩ | ৯ | ৯ |
| তদাহুর্যদ্ব ক্ষবিদ্যয়া | ... | ১ | ৪ | ৯ |
| তদেতৎ প্রেয়ঃ পুত্রাৎ প্রেরো | ... | ১ | ৪ | ৮ |
| তদেতদৃচাযুক্তম্। এষ | ... | ৪ | ৪ | ২৩ |
| তদেতদ্বহ্ম ক্ষত্রং বিট্ | ... | ১ | ৪ | ১৫ |
| তদেতন্মূর্ত্তং যদন্যৎ | ... | ২ | ৩ | ২ |
| তদেতে শ্লোকা ভবন্তি। অণুঃ | ||||
| পন্থা বিততঃ | ... | ৪ | ৪ | ৮ |
| তদেতে শ্লোকা ভবন্তি। স্বপ্নেন | ... | ৪ | ৩ | ১১ |
| তদেষ শ্লোকো ভবতি। অর্বাগ্লিলশ্চমস | ... | ২ | ২ | ৩ |
| তদেষ শ্লোকো ভবতি। তদেব সক্তঃ সহ | ... | ৪ | ৪ | ৬ |
| তদেষ শ্লোকো ভবতি। যদা সর্ব্বে | ... | ৪ | ৪ | ৭ |
| তদ্ধাপি ব্রহ্মদত্তশ্চৈকিতা | ... | ১ | ৩ | ২৪ |
| তদ্ধেদং তহ্যব্যাকৃতমাসীৎ | ... | ১ | ৪ | ৭ |
| তদ্যত্তৎ সত্যমসৌ | ... | ৫ | ৫ | ২ |
| তদ্যথা তৃণজলায়ুকা | ... | ৪ | ৪ | ৩ |
| ধ্যায়। | ব্রাহ্মণ। | মন্ত্র | ||
|---|---|---|---|---|
| তদ্যথানঃ সুসমাহিতম্ | ... | ৪ | ৩ | ৩৫ |
| তদ্যথা পেশস্কারী পেশ ० | ... | ৪ | ৪ | ৪ |
| তদ্যথা মহামৎস্য উভে | ... | ৪ | ৩ | ১৮ |
| তদ্যথা রাজানমায়ান্তং | ... | ৪ | ৩ | ৩৭ |
| তদ্যথা রাজানং প্রষি ০ | ... | ৪ | ৩ | ৩৮ |
| তদ্যথাস্মিন্নাকাশে | ... | ৪ | ৩ | ১৯ |
| তদ্বা অস্মৈতদতিচ্ছন্দা | ... | ৪ | ৩ | ২১ |
| তদ্বা এতদক্ষরং গার্গ্যদৃষ্টং | ... | ৩ | ৮ | ১১ |
| তদ্বৈ তদেতদেব | ... | ৫ | ৪ | ১ |
| তম্ এব যস্যায়তনম্ | ... | ৩ | ৯ | ১৪ |
| তমেতাঃ সপ্তাক্ষিতয়ঃ | ... | ২ | ২ | ২ |
| তমেব ধীরো বিজ্ঞায় | ... | ৪ | ৪ | ২১ |
| তস্মিঙ্কু ক্লুমুত নীলমাহুঃ | ... | ৭ | ৪ | ৯ |
| তস্য প্রাচী দিক্ প্রাঞ্চঃ | ... | ৪ | ১ | ৪ |
| তস্য বা এতস্য পুরুষস্য... | ... | ৪ | ৩ | ৯ |
| তস্য হৈতস্য পুরুষস্য | ... | ২ | ৩ | ৬ |
| তস্য হৈতস্য সাম্নো যঃ প্রতিষ্ঠাং বেদ | ... | ১ | ৩ | ২৭ |
| তস্য হৈতস্য সাম্নো যঃ সুবর্ণং বেদ | ... | ১ | ৩ | ২৬ |
| তস্য হৈতস্য সাম্নো যঃ স্বং বেদ | ... | ১ | ৩ | ২৫ |
| তস্যা উপস্থানং গায়ত্র্যৎ | ... | ৫ | ১৪ | ৭ |
| তস্যা বেদিরুপস্থো | ... | ৬ | ৪ | ৩ |
| তস্যে বাচঃ পৃথিবী | ... | ১ | ৫ | ১১ |
| তং হৈতমুদ্দালক | ... | ৬ | ৩ | ৭ |
| তান্ হোবাচ ব্রাহ্মণা | ... | ৩ | ১ | ২ |
| তা বা অস্যৈতা হিতা | ... | ৪ | ৩ | ২০ |
| তাং হৈতামেকে | ... | ৫ | ১৪ | ৫ |
| তে দেবা অক্রবন্নেতাবদ্বা | ... | ১ | ৩ | ১৮ |
| তে য এবমেতদ্বিদুঃ | ... | ৬ | ২ | ১৫ |
| তে হ বাচমু চুস্তং ন | ... | ১ | ৩ | ২ |
( ৯)
| অধ্যায়। | ব্রাহ্মণ। | মন্ত্র | |||
|---|---|---|---|---|---|
| তে হেমে প্রাণা অহং শ্রেয়সে | ... | ৬ | ১ | ৭ | |
| তে হোচুঃ ক নু সোহভূৎ | ... | ১ | ৩ | ৮ | |
| ত্রয়ং বা ইদং নাম রূপং | ... | ১ | ৬ | ১ | |
| ত্রয়াঃ প্রাজাপত্যাঃ | ... | ৫ | ১ | ১ | |
| ত্রয়ো লোকা এত এব | ... | ১ | ৫ | ৪ | |
| ত্রয়ো বেদা এত এব | ... | ১ | ৫ | ৫ | |
| ত্রীণ্যাত্মনেহকুরুতেতি | ... | ১ | ৫ | ৩ | |
| ত্বগ্বৈ গ্রহঃ | ... | ৩ | ২ | ৯ | |
| ত্বচ এবাস্য রুধিরং | ... | ৩ | ৯ | ২৯ | |
| দ | |||||
| দিবশ্চৈনমাদিত্যাচ্চ | ... | ১ | ৫ | ১৯ | |
| দৃপ্তবালাকি হানুচানো | ... | ২ | ১ | ১ | |
| দেবাঃ পিতরো মনুষ্যাঃ | ... | ১ | ৫ | ৬ | |
| দ্বয়া হ প্রাজাপত্যাঃ | ... | ১ | ৩ | ১ | |
| দ্বে বাব ব্রহ্মণো রূপে মূর্ত্ত ০ | ... | ২ | ৩ | ১ | |
| ন | |||||
| ন তত্র রথা ন রথ | ... | ৪ | ৩ | ১০ | |
| নৈবেহ কিঞ্চনাগ্র আসীৎ | ... | ১ | ১ | ১ | |
| প | |||||
| পর্জন্যো বা অগ্নির্গৌতম | ... | ৬ | ২ | ১৬ | |
| পিতা মাতা প্রজৈত | ... | ১ | ৫ | ৭ | |
| পুরুষো বা অগ্নির্গৌতম | ... | ৬ | ২ | ১২ | |
| পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং ওঁম্ খং ব্রহ্ম | ... | ৫ | ১ | ১ | |
| পৃথিব্যেব যস্যায়তনং | ... | ৩ | ৯ | ১০ | |
| পৃথিব্যৈ চৈনমগ্নেশ | ... | ১ | ৫ | ১৮ | |
| প্রাণস্য প্রাণযুত চক্ষুষঃ | ... | ৪ | ৪ | ১৮ | |
| প্রাণেন রক্ষন্নবরং কুলায়ং | ... | ৪ | ৩ | ১২ | |
| প্রাণোহপানো ব্যান | ... | ৫ | ১৪ | ৩ | |
| প্রাণো বৈ গ্রহঃ | ... | ৩ | ২ | ২ | |
( ৯০)
| অধ্যায়। | ব্রাহ্মণ। | মন্ত্র | |||
|---|---|---|---|---|---|
| ব | |||||
| ব্রহ্ম তং…ভূতানি | ... | ৪ | ৫ | ৭ | |
| ব্রহ্ম তং…বেদান্তং | ... | ২ | ৪ | ৬ | |
| ব্রহ্ম বা ইদমগ্র আসীত্তদাত্মানমেবাবেৎ | ... | ১ | ৪ | ১০ | |
| ব্রহ্ম বা ইদমগ্র আসীদেকমেব | ... | ১ | ৪ | ১১ | |
| ভ | |||||
| ভূমিরন্তরিক্ষং | ... | ৫ | ১৪ | ১ | |
| ম | |||||
| মনসৈবানুদ্রষ্টব্যং | ... | ৪ | ৪ | ১৯ | |
| মনোময়োহয়ং পুরুষঃ | ... | ৫ | ৬ | ১ | |
| মনো বৈ গ্রহঃ | ... | ৩ | ১ | ৭ | |
| মনো হোচ্চক্রাম | ... | ৬ | ১ | ১১ | |
| মাংসান্যস্য শকরাণি | ... | ৩ | ৯ | ৩০ | |
| মৈত্রেয়ীতি হোবাচ | ... | ২ | ৪ | ১ | |
| মৈত্রেয়ীতি হোবাচ যাজ্ঞ০ | ... | ৪ | ৫ | ১ | |
| য | |||||
| যঃ পৃথিব্যাং তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ৩ | |
| যঃ প্রাণে তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ১৬ | |
| যঃ শ্রোত্রে তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ১৯ | |
| যঃ সর্বেষু ভূতেষু | ... | ৩ | ৭ | ১৫ | |
| য আকাশে তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ১২ | |
| য আহিত্যে তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ৯ | |
| এ এব এতস্মিন্মণ্ডলে | ... | ৫ | ৫ | ৩ | |
| যজুঃ, প্রাণো বৈ যজুঃ প্রাণে | ... | ৫ | ১৩ | ২ | |
| যৎ কিং চ বিজিজ্ঞাস্যং | ... | ১ | ৫ | ৯ | |
| যৎ কিং চচারিজ্ঞাতং প্রাণস্য | ... | ১ | ৫ | ১০ | |
| যত্তে কশ্চিদব্রবীত্তচ্ছৃণ ০ | ... | ৪ | ১ | ২ | |
| যত্র বা অন্যদিব | ... | ৪ | ৩ | ৩১ | |
| যত্র হি দ্বৈতমিব ভবতি, তদিতর ইতরং জিঘ্রতি | 2 | ৪ | ১৪ | ||
| অধ্যায়। ব্রাহ্মণ। মন্ত্র | ||||
|---|---|---|---|---|
| যত্র হি দ্বৈতমিব ভবতি, তদিতর ইতরং পশ্যতি | ৪ | ৫ | ১৫ | |
| যৎ সপ্তান্নানি মেধয়া তপসাজনয়ৎ পিতা | ১ | ৫ | ১ | |
| যৎ সপ্তান্নানি মেধয়া তপসা জনয়ৎ পিতেতি | ১ | ৫ | ২ | |
| যৎ সমূলমাবৃহেষু | ... | ৯ | ৩ | |
| যথা বৃক্ষো বনস্পতিঃ | ... | ৩ | ৯ | ২৮ |
| যদা বৈ পুরুষঃ | ... | ৫ | ১০ | ১ |
| যদেব তে কশ্চিদব্রবীত্তচ্ছৃণবামেত্যব্রবীন্ম উদঙ্কঃ | ৪ | ১ | ৩ | |
| যদেব তে কশ্চিদব্রবীত্তচ্ছৃণবামেত্যব্রবীন্মে গর্দভী বিপীতে। | ৪ | ১ | ৫ | |
| যদেব তে কশ্চিদব্রবীত্তচ্ছৃণবামেত্যব্রবীন্মে বকুবাষ্ণঃ | ৪ | ১ | ৪ | |
| যদেব তে কশ্চিদব্রবীত্তচ্ছৃণবামেত্যব্রবীন্মে বিদগ্ধঃ | ৪ | ১ | ৭ | |
| যদেব তে কশ্চিদব্রবীত্তচ্ছৃণবামেত্যব্রবীন্মে সত্যকামো | ৪ | ১ | ৬ | |
| যদৈতমনুপশ্যত্যাত্মানং | ... | ৪ | ৪ | ১৫ |
| যদ্বৃক্ষো বৃক্নো রোহতি | ... | ৩ | ৯ | ৩১ |
| যদ্বৈ তন্ন জিঘ্রতি জিঘ্রন্বৈ | ... | ৪ | ৩ | ২৪ |
| যদ্বৈ তন্ন পশ্যতি পশ্যন্ | ... | ৪ | ৩ | ২৩ |
| যদ্বৈ তন্ন মনুতে | ... | ৪ | ৩ | ২৮ |
| যদ্বৈ তন্ন রসয়তে | ... | ৪ | ৩ | ২৫ |
| যদ্বৈ তন্ন বদতি | ... | ৪ | ৩ | ২৬ |
| যদ্বৈ তন্ন বিজানাতি | ... | ৪ | ৩ | ৩০ |
| যদ্বৈ তন্ন শূণোতি | ... | ৪ | ৩ | ২৭ |
| যদ্বৈ তন্ন স্পৃশতি | ... | ৪ | ৩ | ২৯ |
| যশ্চক্ষুষি তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ১৮ |
| যশ্চন্দ্রতারকে | ... | ৩ | ৭ | ১১ |
| যস্তমসি তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ১৩ |
| যস্তেজসি তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ১৪ |
| যস্বচি তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ২১ |
| যস্মাদর্বাক্ সংবৎসরো | .. | ৪ | ৪ | ১৬ |
| যস্মিন্ পঞ্চ পঞ্চজনাঃ | ... | ৪ | ৪ | ১৭ |
| যস্যানুবিত্তঃ প্রতিবুদ্ধঃ | ... | ৪ | ৪ | ১৩ |
| অধ্যায়। | ||||
|---|---|---|---|---|
| যাজ্ঞবল্ক্য কিংজ্যোতিরয়ং | ... | ৪ | ৩ | ২ |
| যাজ্ঞবল্ক্যাদ্যাজ্ঞবল্ক্য | ... | ৬ | ৫ | ৩ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ কতিভিরয়মদ্য ব্রহ্মা | ... | ৩ | ১ | ৯ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ কতিভিরয়মদ্যর্গভিঃ | ... | ৩ | ১ | ৭ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ কত্যয়মদ্যাধ্বর্যুরস্মিন্ | ... | ৩ | ১ | ৮ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ কত্যয়মদ্যোদগাতা | ... | ৩ | ১ | ১০ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ যত্রায়ং পুরুষোত্রিয়ত উদস্মাৎ | ... | ৩ | ২ | ১১ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ যত্রায়ং পুরুষো ম্রিয়তে কি ০ | ... | ৩ | ১ | ১২ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ যত্রাস্য পুরুষস্য | ... | ৩ | ২ | ১৩ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ যদিদমন্তরিক্ষং | ... | ৩ | ১ | ৬ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ যদিদং সর্ব্বমহোরাত্রাভ্যাং | ... | ৩ | ১ | ৪ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ যদিদং সর্ব্বং মৃত্যুনা | ... | ৩ | ১ | ৩ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ যদিদং সর্ব্বং মৃত্যোরন্ন | ... | ৩ | ১ | ১০ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ যদিদৎ সর্ব্বং পূর্ব্বপক্ষা | ... | ৩ | ১ | ৫ |
| যাজ্ঞবল্ক্যেতি হোবাচ শাকল্যো | ... | ৩ | ৯ | ১৯ |
| যোহগৌ তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ১৫ |
| বো দিক্ষু তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ১০ |
| যো দিবি তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ৮ |
| যোহন্তরিক্ষে তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ৬ |
| যোহপ্সু তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ৪ |
| যো মনসি তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ১০ |
| যোহয়ং দক্ষিণেহক্ষন্ পুরুষঃ | ... | ৫ | ৫ | ৪ |
| যো রেতসি তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ২৩ |
| যো বা এতদক্ষরং | ... | ৩ | ৮ | ১০ |
| যো বাচি তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ১৭ |
| যো বায়ৌ তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ৭ |
| যো বিজ্ঞানে তিষ্ঠন্ | ... | ৩ | ৭ | ২২ |
| যো বৈ স সংবৎসরঃ | ... | ১ | ৫ | ১৫ |
| যোষা বা অগ্নিগৌতম | ... | ৬ | ২ | ১৩ |
| অধ্যায়। | ব্রাহ্মণ। | মন্ত্র | ||
|---|---|---|---|---|
| যো হ বা আয়তনং বেদ | ... | ৬ | ১ | ৫ |
| যো হ বৈ জ্যেষ্ঠং চ শ্রেষ্ঠং চ... | ... | ৬ | ১ | ১ |
| যো হ বৈ প্রজাপতিং বেদ | ... | ৬ | ১ | ৬ |
| যো হ বৈ প্রতিষ্ঠাং বেদ | ... | ৬ | ১ | ৩ |
| যো হ বৈ বসিষ্ঠাং বেদ | ... | ৮ | ২ | |
| যো হ বৈ শিশুং সাধারণং | ... | |||
| যো হ বৈ সংপদং বেদ | ... | |||
| র | ||||
| রূপাণ্যের যস্যায়তনং...য এবায়মাদর্শে | ... | ৩ | ৯ | ১৫ |
| রূপাণ্যের যস্যায়তনং...য এবাসাবাদিত্যে | ... | ৩ | ৯ | ১২ |
| রেত এব যস্যায়তনং | ... | ৩ | ৯ | ১৭ |
| রেতস ইতি মা বোচত | .. | ৩ | ৯ | ৩২ |
| রেতো হোচ্চক্রাম | ... | ৬ | ১ | ১২ |
| ব | ||||
| বাগহোচ্চক্রাম | ... | ৬ | ১ | ৮ |
| বাগ্বৈ গ্রহঃ | ... | ৩ | ২ | ৩ |
| বাচং ধেনুমুপাসীত | ... | ৫ | ৮ | ১ |
| বিজ্ঞাতং বিজিজ্ঞাস্যমবি ০ | ... | ১ | ৫ | ৮ |
| বিদ্যদ্বক্ষেত্যাহুঃ | ... | ৫ | ৭ | ১ |
| বেথ যথেমাঃ প্রজাঃ | ... | ৬ | ১ | ২ |
| শ | ||||
| শাকল্যেতি হোবাচ | ... | ৩ | ৯ | ১৮ |
| শ্রোত্রং বৈ গ্রহঃ | ... | ৩ | ২ | ৬ |
| শ্রোত্রং হোচ্চক্রাম | ... | ৬ | ১ | ১০ |
| শ্বেতকেতুর্হ বা আরুণের | ... | ৬ | ২ | ১ |
| স | ||||
| স এষ সংবৎসরঃ প্রজা ০ | ... | ১ | ৫ | ১৪ |
| স ঐক্ষত যদি বা | ... | ২ | ১ | ৫ |
| স ত্রেধাত্মানং ব্যকুরুতা ০ | ... | ১ | ২ | ৩ |
| অধ্যায়। | ব্রাহ্মণ। | মন্ত্র | ||
|---|---|---|---|---|
| স নৈব ব্যভবত্তচ্ছেয়ো | ... | ১ | ৪ | ১৪ |
| স নৈব ব্যভবৎ স বিশ ০ | ... | ১ | ৪ | ১২ |
| স নৈব ব্যভবৎ স শৌ ০ | ... | ১ | ৪ | ১৩ |
| সমানমা সাংজীবীপুত্রাৎ | ... | ৬ | ৫ | ৪ |
| স যঃ কাময়েত | ... | ৬ | ৩ | ১ |
| স য ইচ্ছেৎ পুত্রো মে | ... | ৬ | ৪ | ১৪ |
| স য ইমাংস্ত্রীল্লোঁকান্ | ... | ৫ | ১৪ | ৬ |
| স যত্রায়মণিমানং ন্যেতি | ... | ৪ | ৩ | ৩৬ |
| স যত্রায়মাত্মাবল্যং | ... | ৪ | ৪ | ১ |
| স যত্রৈতৎ স্বপ্নয়া | ... | ২ | ১ | ১৮ |
| স যথা দুন্দুভেইন্যমা ০ | ... | ২।৪ | ৪।৫ | ৭।৯ |
| স যথাদ্রৈধাগ্নেরভ্যাহিতস্য | ... | ৪ | ৫ | ১১ |
| স যথার্দ্রৈধাগ্নেরভ্যাহিতাং | ... | ১ | ৪ | ১০ |
| স যথা বীণায়ৈ বাদ্য ০ | ... | ২।৪ | ৪।৫ | ৯।১০ |
| স যথা শঙ্খস্য ধ্যায় ০ | ,... | ২ | ৪ | ৮ |
| স যথা সর্ব্বসামপাং | ... | ২।৪ | ৪।৫ | ১১।১২ |
| স যথা সৈন্ধবখিল্য ০ | ... | ২ | ৪ | ১২ |
| স যথা সৈন্ধবঘনো | ... | ৪ | ৫ | ১৩ |
| স যথোর্ণনাভিঃ | ... | ২ | ১ | ২০ |
| স যামিচ্ছেৎ কাময়েত | ... | ৬ | ৪ | ৯ |
| স যো মনুষ্যণোং | ... | ৪ | ৩ | ৩৩ |
| সলিল একো দ্রষ্টাদ্বৈতো | ... | ৪ | ৩ | ৩২ |
| স বা অয়মাত্মা ব্রহ্ম | ... | ৪ | ৪ | ৫ |
| স বা অয়মাত্মা সর্ব্বেষাং | ... | ২ | ৫ | ১৫ |
| স বা অয়ং পুরুষো জায় ০ | ... | ৪ | ৩ | ৮ |
| স বা এষ এতস্মিন্বু ০ | ... | ৪ | ৩ | ১৭ |
| স বা এষ...সংপ্রসাদে | ... | ৪ | ৩ | ১৫ |
| স বা এষ...স্বপ্নান্তে | ... | ৪ | ৩ | ৩৪ |
| স বা এষ...স্বপ্নে | ... | ৪ | ৩ | ১৬ |
| অধ্যায়। ব্রাহ্মণ। মন্ত্র’ | ||||
|---|---|---|---|---|
| স বা এষ মহানজ আত্মাজরোংমরো | ... | ৪ | ৪ | ২৫ |
| স বা এষ মহানজ আত্মান্নাদো | ... | ৪ | ৪ | ২৪ |
| স বা এষ মহানজ আত্মা যোহয়ং | ... | ৪ | ৪ | ২২ |
| স বৈ বাচমেব প্রথমামত্যবহৎ সা | ... | ১ | ৩ | ১২ |
| স হ প্রজাপতিরীক্ষাঞ্চক্রে | ... | ৬ | ৪ | ২ |
| স হোবাচ গার্গ্যো য এবায়মগ্নে | ... | ১ | ১ | ৭ |
| স হোবাচ গার্গ্যো য এবায়মপ্সু | ... | ১ | ১ | ৮ |
| স হোবাচ গার্গ্যো য এবায়মাকাশে | ... | ২ | ১ | ৫ |
| স হোবাচ গার্গ্যো য এবায়মাত্মনি | ... | ২ | ১ | ১৩ |
| স হোবাচ গার্গ্যো য এবায়মাদর্শে | ... | ১ | ১ | ৯ |
| স হোবাচ গার্গ্যো য এবায়ং ছায়াময়ঃ | ... | ২ | ১ | ১২ |
| স হোবাচ গার্গ্যো য এবায়ং দিক্ষু | ... | ২ | ১ | ১১ |
| স হোবাচ গার্গ্যো য এবায়ং যস্তং | ... | ২ | ১ | ১০ |
| স হোবাচ গার্গ্যো য এবায়ং বায়ৌ | ... | ১ | ১ | ৬ |
| স হোবাচ গার্গ্যো য এবাসাবাদিত্যে | ... | ২ | ১ | ২ |
| স হোবাচ গার্গ্যো য এবাসৌ চন্দ্রে | ... | ২ | ১ | ৩ |
| স হোবাচ গার্গ্যো য এবাসৌ বিদ্যুতি | ... | ২ | ১ | ৪ |
| স হোবাচ তথা নত্ত্বং গৌতম | ... | ৬ | ২ | ৮ |
| স হোবাচ তথা নত্ত্বং তাত | ... | ৬ | ২ | ৪ |
| স হোবাচ দৈবেষু বৈ | ... | ৬ | ২ | ৬ |
| স হোবাচ ন বা অরে পত্যুঃ কামায় | ... | ২ | ৪ | ৫ |
| স হোবাচ ন বা অরে পত্যুঃ | ... | ৪ | ৫ | ৬ |
| স হোবাচ প্রতিজ্ঞাতো | ... | ৬ | ২ | ৫ |
| স হোবাচ মহিমান | ... | ৩ | ৯ | ২ |
| স হোবাচ যদুর্দ্ধং গার্গি আকাশ এব | ... | ৩ | ৮ | ৭ |
| স হোবাচ যদুর্দ্ধং গার্গি...আকাশে তদোতং | ... | ৩ | ৮ | ৪০ |
| স হোবাচ যাজ্ঞবল্ক্যঃ প্রিয়া বতারে | ... | ২ | ৪ | ১ |
| স হোবাচ যাজ্ঞবল্ক্যঃ প্রিয়া বৈ খলু | ... | ৪ | ৫ | ৪ |
| স হোবাচ বায়ুর্বৈগৌতম | ... | ৩ | ৭ | ৫ |
| অধ্যায়। ব্রাহ্মণ। মন্ত্র | ||||
|---|---|---|---|---|
| স হোবাচ বিজ্ঞায়তে | ... | ৬ | ২ | ৭ |
| স হোবাচাজাতশত্রুঃ প্রতিলোমং | ... | ২ | ১ | ১৫ |
| স হোবাচাজাতশত্রুরেতাবন্ | ... | ২ | ১ | ১৪ |
| স হোবাচাজাতশত্রুর্যত্রৈষ এতৎ সুপ্তোহভূদ্য এষ বিজ্ঞানময়ঃ | ||||
| পুরুষঃ ক্বৈষ | ... | ২ | ১ | ১৬ |
| স হোবাচাজাতশত্রুর্যত্রৈষ এতৎ সুপ্তোহভূদ্য এষ বিজ্ঞানময়ঃ পুরুষঃ, তদেষাং | ... | ২ | ১ | ১৭ |
| স হোবাচৈতদ্বৈ তক্ষরং | ... | ৩ | ৮ | ৮ |
| স হোবাচোবাচ বৈ সো | ... | ৩ | ৩ | ২ |
| স হোবাচোষস্তশ্চাক্রায়ণো | ... | ৩ | ৪ | ২ |
| সা চেদম্মৈ ন দদ্যাৎ কা | ... | ৬ | ৪ | ৭ |
| সা চেদম্মৈ তদ্যাদি | ... | ৬ | ৪ | ৮ |
| সাম, প্রাণো বৈ সাম | ... | ৫ | ১৩ | ৩ |
| সা বা এষা দেবতা | ... | ১ | ৩ | ৯ |
| সা বা এষা দেবতৈসাং দেবতানাং পাপ্মানং মৃত্যুমপহত্য | ১ | ৩ | ১০ | |
| সা বা এষা দেবতৈতাসাং দেবতানাং | ||||
| পাপ্মানং মৃত্যুমপহত্যাথৈনা | ... | ১ | ৩ | ১১ |
| সা হ বাগুবাচ | ... | ৬ | ১ | ১৪ |
| সা হোবাচ নমস্তেহস্ত | ... | ৩ | ৮ | ৫ |
| সা হোবাচ ব্রাহ্মণা | ... | ৩ | ৮ | ১২ |
| সা হোবাচ মৈত্রেয়ী। যন্নুম ইয়ং ভগোঃ সর্ব্বা | ২ | ৪ | ২ | |
| স্যা হোবাচ মৈত্রেয়ী। যন্নুম ইয়ং ভগোঃ সর্ব্বা পৃথিবী | ||||
| বিত্তেন পূর্ণা স্যাৎ স্যাৎ | ... | ৪ | ৫ | ৩ |
| সা হোবাচ মৈত্রেয়ী | ... | ৪ | ৫ | ৪ |
| সা হোবাচ মৈত্রেয়ী যেনাহং | ... | ২ | ৪ | ৩ |
| সা হোবাচ মৈত্রেয্যত্রৈব মা ভগবানমু | ... | ২ | ৪ | ১৩ |
| সা হোবাচ মৈত্রেয্যত্রৈব মা ভগবানমো | ... | ৪ | ৫ | ১৪ |
| সা হোবাচ যদুর্দ্ধং গার্গি | ... | ৩ | ৮ | ৪ |
| সা হোবাচ যদুর্দ্ধং যাজ্ঞ | ... | ৩ | ৮ | ৬ |
১২০১
থাকে, সেরূপ গতিক্রম বা পারম্পর্য্য প্রকাশন করা ইহার অভিপ্রেত নহে। সে সময়ে এই আত্মা সবিজ্ঞান হয়, অর্থাৎ স্বপ্নসময়ের ন্যায় সে সময়েও প্রাক্তন কর্মানুসারেই তাহার বিশেষ বিজ্ঞান প্রকাশ পায়, কিন্তু তখন তাহার সেই বিজ্ঞানের উপর কোনরূপ স্বাতন্ত্র্য থাকে না; কারণ, তাৎকালিক বিজ্ঞানে জীবের স্বাধীনতা থাকিলে, জীব নিশ্চয়ই কৃতার্থ হইতে পারিত; কিন্তু সেরূপ ভাব ত কখনও দেখিতে পাওয়া যায় না। এই জন্যই বেদব্যাস বলিয়াছেন—“সদা তদ্ভাবভাবিতঃ” অর্থাৎ ‘সর্ব্বদা সেই ভাবে তদগত থাকিয়া’ ইত্যাদি(১)। মৃত্যু- সময়ে জীবের কর্মানুসারে অন্তঃকরণমধ্যে বিভিন্নাকার বৃত্তি অভিব্যক্ত হইয়া থাকে। বাসনাময় সেই সমুদয় বিজ্ঞানের সহিত সম্বন্ধ থাকায় সমস্ত লোকই সে সময় বিজ্ঞানসম্পন্ন হইয়া থাকে, এবং সেই বিজ্ঞানের সহিতই গন্তব্য স্থানে গমন করে, অর্থাৎ মরণসময়ে বিশেষ বিশেষ বাসনাময় জ্ঞান অভিব্যক্ত হইয়া তাহার সম্মুখে যেরূপ গন্তব্য স্থান উদ্ভাসিত করিয়া দেয়, মুমূর্ষু জীব সেই স্থানাভিমুখেই প্রস্থান করিয়া থাকে। অতএব যাহারা পরলোকে হিত চাহে, তাহাদের পক্ষে মৃত্যুসময়ে স্বাতন্ত্র্যলাভের জন্য, প্রথম হইতেই শ্রদ্ধা ও সাবধানতা-সহকারে যোগধর্মসেবা(যোগানুষ্ঠান), পরিসংখ্যান বা তত্ত্ববিবেকাভ্যাস ও উত্তম পুণ্য- সঞ্চয় করা একান্ত আবশ্যক, এবং সমস্ত শাস্ত্র বিশেষ আগ্রহ-সহকারে যাহা হইতে নিবৃত্তির জন্য বিশেষ উপদেশ দিয়াছেন, সেই দুষ্কার্য্য হইতে বিরত থাকাও আবশ্যক। ৩
কারণ, মৃত্যুসময়ে স্বীয় কর্মরাশি যখন তাহাকে লইয়া যায়, তখন তাহার কিছুমাত্র স্বাতন্ত্র্য বা স্বাধীনতা থাকে না; সুতরাং সে সময়ে মুমূর্ষু ব্যক্তি কোন মতেই আপনার অভিপ্রায়ানুযায়ী কোন কার্য্য সম্পাদন করিতে সমর্থ হয় না। পূর্ব্বেও কথিত ‘হইয়াছে যে, ‘পুণ্য কর্ম্মের ফলে পুণ্য-লোক প্রাপ্ত হয়, এবং
পাপকর্ম্মের ফলে পাপলোক প্রাপ্ত হয়’ ইতি। জীবের সম্ভাবিত এই অনিষ্ট প্রশমনের নিমিত্তই সর্ব্বশাখীয় সমস্ত উপনিষৎ আরব্ধ হইয়াছে। উপনিষদ্বিহিত উপায়ানুষ্ঠান ব্যতীত এমন কোনও প্রকৃষ্ট উপায় নাই, যাহা দ্বারা উক্ত অনর্থরাশির আত্যন্তিক নিবৃত্তি হইতে পারে। অতএব উপনিষৎ শাস্ত্রে, যে উপায় উপদিষ্ট হইয়াছে, তদ্বিষয়ে সকলেরই যত্নবান্ হওয়া আবশ্যক; ইহাই এই প্রকরণের তাৎপর্য্যার্থ। ৪
পূর্ব্বে কথিত হইয়াছে—বিবিধ দ্রব্যসম্ভারপূর্ণ শকটের ন্যায় মুমূর্ষু জীব শব্দ করিতে করিতে নিষ্ক্রান্ত হয়।[ এখন জিজ্ঞাস্য এই যে,] পরলোকে প্রস্থিত সেই জীবের—শকটারূঢ় দ্রব্যসম্ভারের ন্যায় পাথেয় বা পথে ভোগ্য বস্তুই বা কি? আর পরলোকে যাইয়া যাহা ভোগ করিবে, ও পরলোকে যাহা দ্বারা তাহার শরীর নির্মিত হইবে, তাহাই বা কি? এখন এ সমুদয় বিষয় বর্ণিত হইতেছে,— আত্মা যখন পরলোকে প্রস্থানোদ্যত হয়, তখন বিদ্যা, কর্ম্ম ও পূর্ব্বপ্রজ্ঞা তাহার অনুগমন করিয়া থাকে। এখানে বিদ্যা অর্থে—বিহিত, নিষিদ্ধ, অবিহিত ও অনিষিদ্ধ—সর্ব্বপ্রকার বিদ্যা বুঝিতে হইবে, এবং কর্ম্ম অর্থে—বিহিত, নিষিদ্ধ, অবিহিত ও অনিষিদ্ধ—সর্ব্বপ্রকার কর্ম্ম গ্রহণ করিতে হইবে; আর পূর্ব্বপ্রজ্ঞা অর্থে পূর্ব্বানুভূতবিষয়ক জ্ঞান, অর্থাৎ প্রাক্তন কর্ম্মের ফলানুভব হইতে মনোমধ্যে যে বাসনা বা সংস্কার জন্মিয়াছে, তাহাই বুঝিতে হইবে(১)। ৫।
[পূর্ব্বে যে, বাসনাত্মক পূর্ব্বপ্রজ্ঞার কথা উক্ত হইয়াছে,] সেই বাসনাই জীবের অদৃষ্ট-জনিত কর্ম্মের এবং কর্ম্মবিপাকের(কর্মফল ভোগের) প্রারম্ভে অঙ্গ বা সহায়; এইজন্য জীবের প্রয়াণসময়ে সেই বাসনাও সঙ্গে সঙ্গে গমন করিয়া থাকে; কেননা, এই বাসনার সাহায্য ব্যতীত কর্ম্মানুষ্ঠান করিতে কিংবা ফলভোগ করিতে কেহ কখনও সমর্থ হয় না; কারণ, যে বিষয়ে যাহার কখনও অভ্যাস
(১) তাৎপর্য্য—বিহিত প্রতিষিদ্ধাদি বিদ্যার উদাহরণ এইরূপ—বিহিত বিদ্যা—দেহ ও আত্মাদি অধ্যাত্মতত্ত্ববিষয়ক জ্ঞান; প্রতিষিদ্ধ—নগ্নস্ত্রীদর্শনাদি; অবিহিত—ঘটপটাদি লৌকিক বস্তুবিষয়ক জ্ঞান; অপ্রতিষিদ্ধ—পণিস্থ তৃণাদিস্পর্শ। বিহিত কৰ্ম্ম—যাগযজ্ঞাদি; প্রতিষিদ্ধ কৰ্ম্ম—ব্রহ্মহত্যা প্রভৃতি; অবিহিত কৰ্ম্ম—পরস্ত্রীসংসর্গ প্রভৃতি; অপ্রতিষিদ্ধ কৰ্ম্ম— নেত্র সংকোচ-বিকাশাদি।(আনন্দগিবি কৃত টীকা।)
পূর্ব্বপ্রজ্ঞা অর্থ—পূর্ব্ব পূর্ব্ব জন্মে যে সমস্ত শুভাশুভ কৰ্ম্ম অনুষ্ঠিত হইয়াছে, বর্তমান জন্মে সেই সমস্ত কর্ম্মের ফলভোগ করিতে হয়; সেই ফলানুভব হইতে আবার একপ্রকার বাসনা বা সংস্কারের সৃষ্টি হয়; সেই ফলানুভবজনিত বাসনাই এখানে ‘পূর্ব্বপ্রজ্ঞা’ শব্দের অর্থ।
১২০৩
নাই, অর্থাৎ অভ্যাসজনিত সংস্কার হয় নাই, সে বিষয়ে তাহার কখনও কোনও ইন্দ্রিয়ের পটুতা হইতে পারে না; অথচ পূর্বজন্মকৃত অনুভবানুসারে বিষয়ক্ষেত্রে প্রবৃত্ত ইন্দ্রিয়সমূহের, ইহ জন্মকৃত অভ্যাস না থাকিলেও যথেষ্ট কৌশল বা পটুতা ঘটিয়া থাকে। দেখিতেও পাওয়া যায়—কোন কোন লোকের ঐহিক অভ্যাস ব্যতীতও চিত্রকর্মাদি কোন কোন ক্রিয়ায়, জন্মাবধিই পটুতা হইয়া থাকে; আবার কোন কোন লোকের দেখা যায়—অতি সহজসাধ্য কার্য্যেও অপটুতা ঘটিয়া থাকে; এইরূপ বিভিন্ন প্রকার বিষয়োপভোগেও কোন কোন লোকের স্বভাবসিদ্ধ পটুতা ও অপটুতা দেখিতে পাওয়া যায়। ৬।
বুঝিতে হইবে, এ সমস্তই প্রাক্তন সংস্কারের প্রাদুর্ভাব ও অপ্রাদুর্ভাবের ফল, অর্থাৎ যাহার যে কার্য্যে প্রাক্তন সংস্কার থাকে, সে কার্য্যে তাহার আপনা হইতেই দক্ষতা জন্মে, আর যাহার সেরূপ সংস্কার নাই, সহস্র চেষ্টায়ও তাহার সেই কার্য্যে দক্ষতা জন্মে না। অতএব স্বীকার করিতে হইবে যে, প্রাক্তন সংস্কার না থাকিলে, কোন প্রকার কর্ম্মে কিংবা ফলভোগে কাহারও প্রবৃত্তি হইতে পারে না। অতএব যথোক্ত বিদ্যা, কৰ্ম্ম ও পূর্ব্বপ্রজ্ঞা, এই তিনটি ধর্মই শকটস্থ দ্রব্যসম্ভারের ন্যায় পর-লোক-পথে উপভোগ্য বা সম্বল। যে হেতু বিদ্যা, কৰ্ম্ম ও পূর্ব্বপ্রজ্ঞাই পারলৌকিক দেহান্তরপ্রাপ্তি ও ফলভোগের প্রধান সহায়; সেই হেতু বিদ্যা ও কৰ্ম্ম প্রভৃতি যাহা করিবে, ভালই করিবে—যাহাতে অভীষ্ট দেহ প্রাপ্তি ও অভিমত ভোগসম্পত্তিসম্পন্ন হইতে পারে। ইহাই এই প্রকরণের স্কুল মৰ্ম্ম ॥ ২৯২ ॥ ২॥
আভাসভাষ্যম্।—এবং বিদ্যাদিসম্ভারসম্ভূতো দেহান্তরং প্রতিপদ্য- মানঃ, মুক্তা পূর্ব্বং দেহম্, পক্ষীব বৃক্ষান্তরম্, দেহান্তরং প্রতিপদ্যতে? অথবা আতিবাহিকেন শরীরান্তরেণ কর্ম্মফলজন্মদেশং নীয়তে? কিংচ, অত্রস্থস্যৈব সর্ব্ব- গতানাং করণানাং বৃত্তিলাভো ভবতি? আহোস্বিৎ শরীরস্থস্য সঙ্কুচিতানি করণানি মৃতস্য ভিন্নঘট-প্রদীপপ্রকাশবৎ সর্ব্বতো ব্যাপ্য পুনর্দেহান্তরারম্ভে সঙ্কোচমুপ- গচ্ছন্তি? কিং বা মনোমাত্রং বৈশেষিকসময় ইব দেহান্তরারম্ভে দেশং প্রতি গচ্ছতি? কিংবা কল্পনান্তরমেব বেদান্তসময়ে?—ইতি। ১।
উচ্যতে—“ত এতে সর্ব্বএব সমাঃ সর্ব্বেহনন্তাঃ” ইতি শ্রুতেঃ সর্বাত্মকানি তাবৎ করণানি সর্বাত্মকপ্রাণসংশ্রয়াচ্চ; তেষামাধ্যাত্মিকাধিভৌতিকপরিচ্ছেদঃ প্রাণিকৰ্ম্ম- জ্ঞান ভাবনানিমিত্তঃ; অতস্তদ্বশাৎ স্বভাবতঃ সর্ব্বগতানামনন্তানামপি প্রাণানাং কৰ্ম্মজ্ঞানবাসনানুরূপ্যেণ্যৈব দেহান্তরারম্ভবশাৎ প্রাণানাং বৃত্তিঃ সঙ্কুচতি বিকসতি
চ। তথাচোক্তম্—“সমঃ প্লুষিণা সমো মশকেন সমো নাগেন সম এভিস্ত্রিভির্লোকৈঃ, সমনোনেন সর্ব্বেণ” ইতি। তথাচেদং বচনমনুকূলম্—“স যো হৈতাননন্তানুপাস্তে” ইত্যাদি, “তৎ যথা যথোপাসতে” ইতি চ। ২।
তত্র বাসনা পূর্ব্বপ্রজ্ঞাখ্যা বিদ্যা কৰ্ম্মতন্ত্রা জলুকাবৎ সন্ততৈব স্বপ্নকাল ইব কৰ্ম্মকৃতং দেহাদ্দেহান্তরমারভতে; হৃদয়স্থৈব পুনর্দেহান্তরারম্ভে দেহান্তরং পূর্ব্বাশ্রয়ং বিমুঞ্চতি—ইত্যেতস্মিন্নর্থে দৃষ্টান্ত উপাদীয়তে—
আভাসভাষ্য-টীকা। তৃণজলায়ুকাবাক্যমবতারয়িতুং বৃত্তমনূদ্য বাদিবিবাদান্ দর্শয়ন্নাদৌ দিগম্বরমতমাহ—এবমিত্যাদিনা। দেবতাবাদিমতমাহ—অথবেতি। দেবতা যেন শরীরেণ বিশিষ্টং জীবং পরলোকং নয়তি, তদাতিবাহিকং শরীরান্তরং, তেনেতি যাবৎ। সাংখ্যাদিমত- মাহ—কিং চেতি। সিদ্ধান্তং সূচয়তি—আহোস্বিদিতি। বৈশেষিকাদিপক্ষমাহ—কিং চেতি। ন্যূনত্বনিবৃত্ত্যর্থমাহ—কিংবা কল্পনান্তরমিতি। ১
তত্র সিদ্ধান্তস্ত প্রামাণিকত্বেনোপাদেয়ত্বং বদন্ কল্পনান্তরাণামপ্রামাণিকত্বেন ত্যাজ্যত্বমভি- প্রেত্যাহ—উচ্যত ইতি। তেষাং কৰ্ম্মাত্মকত্বে হেত্বন্তরমাহ—সর্ব্বাত্মকেতি। কথং হি করণানাং পরিচ্ছিন্নত্ববীরিত্যাশঙ্ক্যাহ--তেষামিতি। আধিদৈবিকেন রূপেণাপরিচ্ছিন্নানামপি করণানা- মাধ্যাত্মিকাদিরূপেণ পরিচ্ছিন্নতেতি স্থিতে ফলিতমাহ—অত ইতি। তদ্বশাদুদাহৃতশ্রতিবশা- দিত্যেতৎ। স্বভাবতো দেবতাস্বরূপানুসারেণেতি যাবৎ। কশ্মজ্ঞানবাসনানুরূপেণেত্যত্র ভোক্তুরিতি শেষঃ। উভয়ত্র সম্বন্ধার্থং প্রাণানামিতি দ্বিরুক্তম্। তেষাং বৃত্তিসঙ্কোচাদৌ প্রমাণ- মাহ—তথা চেতি। পরিচ্ছিন্নাপরিচ্ছিন্নপ্রাণোপাসনে গুণদোষসঙ্কীর্ত্তনমপি প্রাণসঙ্কোচরিকা- সয়োঃ সূচকমিত্যাহ—তথা চেদমিতি। ২
আভাসভায়্যানুবাদ।—যথোক্তপ্রকার বিদ্যাদি সাধনসম্পন্ন পুরুষ যে সময়ে দেহান্তর প্রাপ্ত হয়, সেই সময়ে পূর্ব্বদেহ পরিত্যাগ করিয়া—পক্ষী যেরূপ এক বৃক্ষ ত্যাগ’করিয়া অপর বৃক্ষ আশ্রয় করে, ঠিক সেইরূপই কি দেহান্তর আশ্রয় করে? অথবা কর্ম্ম-ফলভোগের জন্য যে স্থানে জন্ম হইবে, ‘আতিবাহিক’ নামক অপর শরীর দ্বারা সেই স্থানে নীত হইয়া থাকে?(১)। আরও
(১) তাৎপর্য্য—স্থূল ও সূক্ষ্ম শরীরের ন্যায় ‘আতিবাহিক’ নামে আরও একটি দেহ আছে। সেই দেহও স্থূলই বটে, তবে বায়বীয়(তাহাতে বায়ুর ভাগ অধিক) বলিয়া ইহা সাধারণের প্রত্যক্ষগোচর হয় না। মৃত্যুকালে জীব সেই দেহে প্রবেশ করিয়া কর্মানুযায়ী গন্তব্য স্থানে গমন করে। জীবকে বহন করিয়া ইহলোক হইতে লোকান্তরে লইয়া যায় বলিয়া এই দেহের নাম ‘আতিবাহিক’। অভীষ্ট স্থানে যাইয়া ভোগদেহ প্রাপ্তির পর এই দেহ আর থাকে না। বলা আবশ্যক যে, এই আতিবাহিক দেহে কোনপ্রকার স্থূল ভোগ সম্ভব হয় না; স্থানান্তর প্রাপণই ইহার একমাত্র কার্য্য।
এক কথা, জীব ইহলোকে থাকিবার সময়েই তদীয় ব্যাপক ইন্দ্রিয়বর্গের কি অন্যত্রও বৃত্তিলাভ বা কার্য্যারম্ভ হইয়া থাকে? কিংবা আত্মা শরীরে থাকিবার সময়ে, তাহার ইন্দ্রিয়বর্গ সঙ্কুচিতভাবে থাকে, মৃত্যুর পর—ঘট ভাঙ্গিলে ঘটস্থ প্রদীপের যেমন বিস্তৃতি ঘটে, তেমনই ব্যাপ্তি বা বিস্তার লাভ করিয়া দেহান্তরে প্রবেশের পর কি পুনর্ব্বার সঙ্কুচিত হইয়া থাকে? অপিচ, বৈশেষিক দর্শনের মতে যেমন একমাত্র মনই দেহান্তরপ্রাপ্তির জন্য উপযুক্ত দেশে গমন করে? বেদান্ত সিদ্ধান্তে অন্যও কি সেইপ্রকারই অথবা অন্য কোন প্রকার কল্পনা আছে? এখন এ সমস্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদত্ত হইতেছে—
‘সেই এই ইন্দ্রিয়গণ সকলেই সমান এবং সকলেই অনন্ত’, এই শ্রুতি হইতে, এবং ইন্দ্রিয়গণ সর্বাত্মক প্রাণাশ্রিত, ইহা হইতেও জানা যায় যে, সমস্ত ইন্দ্রিয়ই সর্ব্বাত্মক(সর্ব্বব্যাপক)। সেই ব্যাপক ইন্দ্রিয়সমূহের যে, আধ্যাত্মিকাদিভাবে পরিচ্ছেদ বা পরিচ্ছিন্নতা; প্রাণিগণের প্রাক্তন কৰ্ম্ম ও জ্ঞান-সংস্কারই তাহার কারণ; অতএব ইন্দ্রিয়গণ স্বভাবতঃ সর্ব্বগত এবং অপরিচ্ছিন্ন হইলেও, কৰ্ম্ম ও জ্ঞানসংস্কারানুসারে ভবিষ্যৎ দেহান্তর সমুৎপন্ন হওয়ায়, তদনুসারেই ইন্দ্রিয়সমূহের বৃত্তি বা ক্রিয় শক্তি সঙ্কুচিত ও বিকাশিত হইয়া থাকে, অর্থাৎ দেহভেদানুসারে একই ইন্দ্রিয়ের বৃত্তি(ব্যাপার) সময়ে সঙ্কুচিত আবার সময়ে বিকাশিত হইয়া থাকে। অন্যত্রও এইরূপ কথা উক্ত আছে—[ ‘এই প্রাণসমূহ] প্লুষিনামক ক্ষুদ্র প্রাণীর সমান, মশকের সমান, হস্তীর সমান, এই ত্রিলোকের সমান এবং দৃশ্যমান যে কোন বস্তুর সমান‘। বক্ষ্যমাণ শ্রুতিবাক্যও এ কথার অনুকূল বা সমর্থক,— ‘যে লোক এই সমুদয় অনন্তের[প্রাণের] উপাসনা করে’ এবং ‘তাহাকে যেভাবে যেভাবে উপাসনা করে’ ইত্যাদি। বিশেষ এই যে, পূর্ব্বপ্রজ্ঞানামক বাসনা বা সংস্কার বর্তমান হৃদয়ে বিদ্যমান থাকিয়াই—জলুকার ন্যায়(জোঁকের মত) অবিচ্ছিন্ন থাকিয়াই স্বপ্নসময়ের ন্যায় কর্মানুযায়ী দেহান্তর আরম্ভ করিয়া থাকে; দেহান্তর নির্মিত হইলে পর নিজের আশ্রয়ভূত পূর্ব্বতন দেহটিও পরিত্যাগ করে, এ বিষয়ে একটা দৃষ্টান্ত প্রদর্শিত হইতেছে—
তদ্যথা তৃণজলায়ুকা তৃণস্যান্তং গত্বান্যমাক্রমমাক্রম্যাত্মান- মুপসহরত্যেবমেবায়মাত্মেদশরীরং নিহত্যাবিদ্যাং গময়িত্বান্য- মাক্রমমাক্রম্যাত্মানমুপসহরতি ॥ ২৯৩ ॥ ৩ ॥
মদার্থঃ।—তৎ(তব-দেহং তত্রাপ্যভিষিক্ত)[দুষ্টোঽহং]
প্রদর্য্যতে—] তৃণজলাযুকা যথা তৃণস্য(আশ্রয়ভূতস্য তৃণস্য) অন্তং(অবসানম্— অগ্রভাগং) গত্বা অন্যম্ আক্রমম্(আক্রম্যতে আশ্রীয়তে ইতি আক্রমঃ— অবলম্বনম্) আক্রম্য(গৃহীত্বা) আত্মানম্(স্বদেহম্) উপসংহরতি(সঙ্কোচয়তি— পশ্চাদ্ভাগং পূর্ব্বভাগে প্রবেশয়তি), এবম্ এব(যথোক্তদৃষ্টান্তবদেব) অয়ম্ (মুমুর্ষুঃ) আত্মা ইদং(বর্তমানং) শরীরং নিহত্য(নিপাত্য)—অবিদ্যাৎ (মোহং) গময়িত্বা(অচেতনং কৃত্বা), অন্যম্ আক্রমম্(শরীরান্তরম্) আক্রম্য আত্মানম্ উপসংহরতি(শরীরান্তরে আত্মভাবম্ অবলম্বত ইত্যর্থঃ) ॥২৯৩৷৷৩৷৷
মূলানুবাদ:-[আত্মার বর্তমান দেহত্যাগের পর শরীরান্তর গ্রহণে দৃষ্টান্ত প্রদর্শিত হইতেছে-] তৃণজলায়কা(জোঁক) যেমন পূর্বগৃহীত তৃণের প্রান্তভাগে যাইয়া অপর একটা তৃণ গ্রহণপূর্ব্বক আপনাকে সংহৃত করে অর্থাৎ আপনার পশ্চাদ্ভাগকে সম্মুখের অংশে প্রবেশিত করে, ঠিক সেইরূপই এই আত্মাও(মুমুর্ষু জীবও) বর্তমান শরীরটী নিহত করিয়া(ত্যাগ করিয়া) এবং চেতনাশূন্য করিয়া অপর একটী দেহ অবলম্বন করত আপনাকে সেখানে লইয়া যায় ॥ ২৯৩॥ ৩॥
শাঙ্করভাষ্যম্।-তৎ তত্র দেহান্তরসঞ্চারে ইদং নিদর্শনম্।—যথা যেন প্রকারেণ তৃণজলায়ুকা তৃণজলুকা তৃণস্য অন্তম্ অবসানং গত্বা প্রাপ্য অন্যং তৃণান্তরম্ আক্রমম্ আক্রম্যতে ইত্যাক্রমঃ, তম্ আক্রম্য আশ্রিত্য, আত্মানম্ আত্মনঃ পূর্ব্বাবয়বম্ উপসংহরতি অন্ত্যাবয়বস্থানে, এবমেব অয়ম্ আত্মা—যঃ প্রকৃতঃ সংসারী, ইদং শরীরং পূর্ব্বোপাত্তম, নিহত্য—স্বপ্নং প্রতিপিৎসুরিব পাতয়িত্বা অবিদ্যাং গময়িত্বা অচেতনং কৃত্বা স্বাত্মোপসংহারেণ অন্যমাক্রমম্ তৃণা- ন্তরমিব তৃণজলুকা, শরীরান্তরং গৃহীত্বা প্রসারিতয়া বাসনয়া, আত্মানম্ উপ- সংহরতি—তত্রাত্মভাবমারভতে,—যথা স্বপ্নে দেহান্তরমারভতে, স্বপ্নং দেহান্তরস্য শরীরারম্ভদেশে—আরভ্যমাণে দেহে জঙ্গমে স্থাবরে বা।
তত্র চ কর্মবশাৎ করণানি লব্ধবৃত্তীনি সংহন্যন্তে, বাহ্যঞ্চ কুশমৃত্তিকাস্থানীয়ং শরীরমারভ্যতে। তত্র চ করণব্যূহমপেক্ষ্য বাগাদ্যনুগ্রহায় অগ্ন্যাদিদেবতাঃ সংশ্রয়ন্তে। এষ দেহান্তরারম্ভবিধিঃ ॥২৯৩৷৷৩৷৷
টাকা। আধিদৈবিকেন রূপেণ সর্ব্বগতানামপি করণানামাধ্যাত্মিকাধিভৌতিকরূপেণ পরিচ্ছিন্নত্বাৎ তৎপরিবৃতস্য গমনং সিধ্যতীতি সিদ্ধান্তো দর্শিতঃ। ইদানীং তৃণজলায়ুকাদৃষ্টান্তাৎ
১২০৭
দেহান্তরং গৃহীত্বা পূর্ব্বদেহং মুঞ্চত্যাত্মেতি স্থূলদেহবিশিষ্টস্যৈব পরলোকগমনমিতি পৌরাণিক- প্রক্রিয়াং প্রত্যাখ্যাতুং দৃষ্টান্তবাক্যস্য তাৎপর্য্যমাহ—তত্রেত্যাদিনা। দেহনির্গমনাৎ প্রাগবস্থা সপ্তম্যর্থঃ। তদৈব যথোক্তা বাসনা হৃদয়স্থা বিদ্যাকৰ্ম্মনিমিত্তং ভাবিদেহং স্পৃশতি, জীবোহপি তত্রাভিমানং করোতি, পুনশ্চ পূর্ব্বদেহং ত্যজতি, যথা স্বপ্নে দেবোহহমিত্যভিমন্যমানো দেহান্তরস্থ এব ভবতি, তথোৎক্রান্তাবপি, তস্মাৎ ন পূর্ব্বদেহবিশিষ্টস্যৈব পরলোকগমনমিত্যর্থঃ। স্বাত্মোপ- সংহারো দেহে পূর্ব্বস্মিন্নাত্মাভিমানত্যাগঃ। প্রসারিতয়া বাসনয়া শরীরান্তরং গৃহীত্বেতি সম্বন্ধঃ। উপসংহারস্য স্বরূপমাহ—তত্রেতি। সপ্তম্যর্থং বিবৃণোতি—আরভ্যমাণ ইতি।
আরন্ধে দেহান্তরে সূক্ষ্মদেহস্যাভিব্যক্তিমাহ—তত্র চেতি। কর্মগ্রহণং বিদ্যাপূর্ব্বপ্রজ্ঞয়োরুপ- লক্ষণম্। ননু লিঙ্গদেহবলাদেবার্থক্রিয়াসিদ্ধৌ কৃতং স্থূলশরীরেণেত্যাশঙ্ক্য তদ্ব্যতিরেকেণে- তরস্যার্থক্রিয়াকারিত্বঃ নাস্তীতি মত্বাহ—বাহ্যং চেতি। আরন্ধে দেহদ্বয়ে করণেষু দেবতানামনুগ্রাহক- ত্বেনাবস্থানং দর্শয়তি—তত্রেতি। স্থুলো দেহঃ সপ্তম্যর্থঃ। করণব্যূহস্তেযামভিব্যক্তিঃ ॥২৯৩৷৷৩৷৷
ভাষ্যানুবাদ।—জীবের দেহান্তর-সঞ্চরণের দৃষ্টান্ত এই—তৃণজলায়ুকা (জোঁক) যে প্রকার[অবলম্বিত তৃণের অন্তে অর্থাৎ অগ্রভাগে যাইয়া, অবলম্বন- যোগ্য অপর তৃণ আশ্রয় করে, এবং পরে আত্মাকে—আপনার পূর্ব্ব ভাগটাকে শেষ অবয়বস্থানে উপসংহৃত করে(লইয়া যায়), ঠিক এইরূপই—যে আত্মার প্রস্তাব চলিতেছে, সেই সংসারী জীব পূর্ব্বগৃহীত এই শরীরকে নিহত করিয়া স্বপ্নাবস্থার ন্যায় নিপাতিত করিয়া, অবিদ্যাগ্রস্ত করিয়া অর্থাৎ স্বীয় আত্মার উপ- সংহার দ্বারা দেহকে অচেতন করিয়া, জলাযুকা যেরূপ তৃণান্তর গ্রহণ করে, তদ্রূপ দীর্ঘীকৃত স্বীয় বাসনা দ্বারা অপর দেহ অবলম্বন করিয়া আত্মার উপসংহার করে, অর্থাৎ সেই দেহে আত্মাভিমান স্থাপন করে,—স্বপ্নসময়ে যেমন বর্তমান দেহে বিদ্যমান থাকিয়াই স্বীয় সঙ্কল্পবলে যেখানে স্বপ্ন শরীর আরব্ধ হয়, সেখানেই অভিমান স্থাপন করে, তেমনই আরভ্যমান স্থাবর জঙ্গম দেহে আত্মভাব স্থাপন করে(১)।
সেখানে ইন্দ্রিয়গণ প্রাক্তন কর্ম্মশক্তির প্রেরণায় সব্যাপার হইয়া পরস্পর সম্মিলিত হয়, এবং কুশ(খড়) ও মৃত্তিকা দ্বারা নির্ম্মিত মূর্ত্তির ন্যায় একটা বাহ্য
(১) তাৎপর্য্য—স্বপ্নসময়ে স্বপ্নদর্শী স্বদেহে থাকিয়াই স্বীয় সঙ্কল্পশক্তি দ্বারা দূরদেশে বিবিধ প্রাতিভাসিক দেহ সৃষ্টি করিয়া তৎকালোচিত কার্য্য করিয়া থাকে, মুমূর্ষু জীবও এইরূপ দেহান্তর প্রাপ্তির পূর্ব্বপর্যন্ত এই দেহে থাকিয়াই নিজের জ্ঞান-কর্মানুসারে পরজন্মে যেরূপ দেহে যাইতে হইবে, তদনুরূপ উদ্বুদ্ধ বাসনাকে দীর্ঘ-দীর্ঘতর করিয়া ভবিষ্যৎ দেহপ্রাপ্তির স্থানে গমন করে, অর্থাৎ তখন ভবিষ্যৎ দেহ বিষয়ে তাহার পূর্ব্বসংস্কার এরূপভাবে প্রবুদ্ধ হয়, যেন সেই দেহটী প্রাপ্ত বলিয়াই মনে হয়। তৃণজলায়ুকার দৃষ্টান্ত হইতে এইরূপ দেহান্তর প্রাপ্তিই বুঝিতে হইবে, কিন্তু সাক্ষাৎ সম্বন্ধে দেহান্তর প্রবেশ নহে।
শরীর(স্থূল শরীর) সমুৎপন্ন হয়; তাহার পর ইন্দ্রিয়াধিষ্ঠাতা অগ্নিপ্রভৃতি দেবতা- গণ ইন্দ্রিয়সমূহকে সমাহৃত দেখিয়া, বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয়ের প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশের নিমিত্ত সেই ইন্দ্রিয়সংঘাতে পুনঃ অধিষ্ঠিত হয়, ইহাই দেহান্তরসমুৎপত্তির প্রণালী ॥২৯৩৷৷৩৷৷
আভাসভাষ্যম্।—তত্র দেহান্তরারম্ভে নিত্যোপাত্তমেবোপাদানম্ উপদ্যোপমৃদ্য দেহান্তরমারভতে? অহোস্বিৎ অপূর্ব্বমেব পুনঃ পুনরাদত্তে?— ইতি। অত্রোচ্যতে দৃষ্টান্তঃ—
আভাসভাষ্যের অনুবাদ।—এখন শঙ্কা হইতেছে যে, যখন দেহান্তর সমুৎপন্ন হইতে থাকে, তখন কি—যে সমস্ত দেহোপাদান সর্ব্বদা বিদ্যমান আছে, সেই উপাদানগুলিই চূর্ণ-বিচূর্ণ করিয়া অপর নূতন দেহ বিরচিত হয়? অথবা সম্পূর্ণ নূতন উপাদান সংগৃহীত হইয়া থাকে? তদুত্তরে দৃষ্টান্ত প্রদর্শিত হইতেছে—
তদ্যথা পেশস্কারী পেশসো মাত্রামপাদায়ান্যন্নবতরং কল্যাণ- তররূপং তনুত এবমেবায়মাত্মেদশরীরং নিহত্যাহবিদ্যাং গময়িত্বাহন্যন্নবতরং কল্যাণতররূপং কুরুতে—পিত্র্যং বা গান্ধর্ব্বং বা দৈবং বা প্রাজাপত্যং বা ব্রাহ্মং বাহন্যেষাং বা ভূতানাম্ ॥ ২৯৪ ॥ ৪ ॥
সন্মলার্থঃ।--তৎ(তত্র দেহান্তরারম্ভে উপাদানগ্রহণবিষয়ে দৃষ্টান্তঃ প্রদর্য্যতে-) পেশস্কারী(সুবর্ণকারঃ) যথা পেশসঃ(সুবর্ণস্য) মাত্রাং(অংশং) অপাদায়(গৃহীত্বা) কল্যাণতরং(পূর্ব্বমপেক্ষ্য প্রিয়তরং) নবতরং(পূর্ব্বমপেক্ষ্য নূতনং) অন্যৎ রূপং তনুতে(নির্ম্মাতি), এবম্ এব(যথোক্তদৃষ্টান্তবদেব) অয়ং (পরলোকজিগমিষু:) আত্মা ইদং(বর্তমানং) শরীরং নিহত্য অবিদ্যাং, (অচেতনতাং) গময়িত্বা, পিত্র্যং(পিতৃলোক-গমনোপযোগি) বা, গান্ধর্ব্বং (গন্ধর্ব্বলোকোপযোগি) বা, দৈবং(দেবসম্বন্ধি) বা, প্রাজাপত্যং(প্রজাপতি লোকপ্রাপকং) বা, ব্রাহ্মং(ব্রহ্মলোকপ্রাপকং) বা, অন্যেষাং ভূতানাং[সম্বন্ধি] বা অন্যৎ নবতরং কল্যাণতরং রূপং(শরীরং) কুরুতে(নিৰ্ম্মাতি ইত্যর্থঃ) ॥২৯৪৷৷৪৷৷
মুলাসুবাদ।—[নূতন দেহারম্ভের উপযোগী উপাদান সম্বন্ধে দৃষ্টান্ত প্রদর্শিত হইতেছে—] পেশস্কারী(সুবর্ণকার) যেমন পূর্ব্ব-
সঞ্চিত সুবর্ণের অংশ লইয়া অপর একটা নূতন রমণীয় রূপ(অলঙ্কার) নির্মাণ করিয়া থাকে, তেমনই পরলোকে গমনোদ্যত এই আত্মাও বর্তমান দেহটী নিহত ও অচেতন করিয়া, পিতৃলোকে গমনোপযোগী, অথবা গন্ধর্ব্বলোকোপযোগী, কিংবা দেবলোকপ্রাপ্তিযোগ্য, অথবা প্রজা- পতিলোকে গমনোপযোগী, কিংবা ব্রহ্মলোকলাভের উপযুক্ত, অথবা অন্য কোন একটা প্রাণিসম্বন্ধী কল্যাণময় অভিনব নূতন শরীর গ্রহণ করে ॥ ২৯৪ ॥ ৪ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তৎ তত্রৈতস্মিন্নর্থে, যথা পেশস্কারী, পেশঃ সুবর্ণম্, তৎ করোতীতি পেশস্কারী সুবর্ণকারঃ, পেশসঃ সুবর্ণস্য মাত্রামপাদায় অপচ্ছিদ্য গৃহীত্বা অন্যৎ পূর্ব্বস্মাৎ রচনাবিশেষাৎ অন্যৎ নবতরমভিনবতরম্ কল্যাণাৎ কল্যাণ- তরম্ রূপং তনুতে নির্ম্মিনোতি, এবমেব অয়মাত্মেত্যাদি পূর্ব্ববৎ।
নিত্যোপাত্তান্যের পৃথিব্যাদীন্যাকাশান্তানি পঞ্চ ভূতানি, যানি “দ্বে বাব ব্রহ্মণো রূপে” ইতি চতুর্থে ব্যাখ্যাতানি, পেশঃস্থানীয়ানি তান্যেব উপমৃদ্যোপমৃদ্য অন্যদন্যচ্চ দেহান্তরং নবতরং কল্যাণতরং রূপৎ সংস্থানবিশেষৎ দেহান্তরমিত্যর্থঃ, কুরুতে—পিত্র্যং বা, পিতৃভ্যো হিতং পিতৃলোকোপভোগযোগ্যমিত্যর্থঃ; গান্ধর্ব্বং গন্ধর্ব্বাণামুপভোগযোগ্যম্; তথা দেবানাং দৈবম্, প্রজাপতেঃ প্রাজাপত্যম্, ব্রহ্মণ ইদং ব্রাহ্ম্যং বা, যথাকৰ্ম্ম যথাশ্রুতম্ অন্যেষাং বা ভূতানাং সম্বন্ধি শরীরান্তরং কুরুত- ইত্যভিসম্বধ্যতে ॥২৯৪৷৷৪৷৷
টীকা। পেশস্কারিবাক্যব্যাবর্ত্যামাশঙ্কামাহ-তত্রেতি। সংসারিণো হি প্রকৃতে দেহান্তরা- রম্ভে কিমুপাদানমস্তি কিং বা নাস্তি? নাস্তি চেৎ, ন ভাবরূপং কার্য্যং সিধ্যেৎ; অস্তি চেৎ, কিং ভূতপঞ্চকমুতান্যৎ? আদ্যেইপি তন্নিত্যোপাত্তমেব পূর্ব্বপূর্ব্বদেহোপমর্দ্দেনান্যমন্যং দেহমারভতে? কিংবাহন্যদন্যস্তুপঞ্চকমন্যমন্যং দেহং জনয়তি। নাদ্যঃ, ভূতপঞ্চকস্য তত্তদেহোপাদানত্বে মায়ায়াঃ সর্ব্বকারণত্ব-স্বীকারবিরোধাৎ। ন দ্বিতীয়ঃ ভূতপঞ্চকোৎপত্তাবপি কারণান্তরস্য মৃগ্যত্বাত্তস্যৈব দেহান্তরকারণত্বসংভবান্নেতরো দেহস্য পাঞ্চভৌতিকত্বপ্রসিদ্ধিরোধাদিতি ভাবঃ। উত্তরং বাক্যমুত্তরত্বেনাদত্তে-অত্রেতি। তচ্ছব্দার্থমপেক্ষিতং পুরয়ন্নাহ-দৃষ্টান্ত ইতি। অব- শিষ্টং ভাগমাদায় ব্যাচষ্টে-যথেত্যাদিনা।
কিং পুনরুপাদানমেতাবতা দেহান্তরারম্ভেহভ্যুপগতং ভবতি, তত্রাহ-নিত্যোপাত্তানীতি। শরীরদ্বয়ারম্ভকাণীতি শেষঃ। তেষামুভয়ারম্ভকত্বেন মুর্তামুর্তব্রাহ্মণে প্রস্তুতত্বং দর্শয়তি- যানীতি। দেহবিকল্পে নিয়ামকমাহ-যথাকর্মেতি ॥ ২৯৪ ॥ ৪ ॥
ভাষ্যানুসারে।—এই দুই কথিত বিষয়[পৃষ্ঠা এই—] শেষ পর্যন্ত
সুবর্ণ, যে লোক তাহার কাজ করে, সে পেশকারী—সুবর্ণকার, সে যেমন সুবর্ণের অংশ গ্রহণ করিয়া, নবতর—পূর্ব্বতন গঠনপ্রণালী হইতে সম্পূর্ণ অভিনব এবং কল্যাণতর অর্থাৎ সুন্দর হইতেও অধিক সুন্দর অন্য একটা রূপ(অলঙ্কার) নির্মাণ করিয়া থাকে। ‘এবম্ এব’ ইত্যাদির অর্থ পূর্ব্বশ্রুতির অর্থের অনুরূপ। ১
পৃথিবী হইতে আরম্ভ করিয়া আকাশপর্যন্ত যে পঞ্চভূত সর্ব্বদাই প্রাপ্ত রহিয়াছে, এবং চতুর্থ অধ্যায়ে “দ্বে বাব ব্রহ্মণো রূপে” ইত্যাদি বাক্যে যাহাদের কথা বর্ণিত হইয়াছে, সুবর্ণস্থানীয় সেই পঞ্চভূতকেই বারংবার উপমদ্দিত করিয়া অন্য অন্য নবতর ও কল্যাণতর রূপ—আকৃতিবিশেষ অর্থাৎ দেহান্তর নির্মাণ করিয়া থাকে;[সেই দেহটী] পিত্র্য—পিতৃহিতকর অর্থাৎ যেরূপ দেহ দ্বারা পিতৃলোকে উপভোগ সম্পন্ন হইতে পারে, সেইরূপ; গান্ধর্ব্ব—গন্ধর্ব্বগণের উপভোগযোগ্য; এইরূপ দৈব—দেবগণের উপভোগযোগ্য—প্রাজাপত্য—প্রজা- পতির(উপযুক্ত), অথবা ব্রাহ্ম—ব্রহ্মার যোগ্য, কিংবা স্বীয় কৰ্ম্ম ও জ্ঞান অনুসারে অপরাপর ভূতগণের উপভোগযোগ্য অপর শরীর নির্মাণ করিয়া থাকে ॥২৯৪৷৷৪৷৷
আভাসভাষ্যম্।—যেহস্য বন্ধনসংজ্ঞকা উপাধিভূতাঃ, বৈঃ সংযুক্ত- স্তন্ময়োহয়মিতি বিভাব্যতে, তে পদার্থাঃ পুঞ্জীকৃত্য ইহ একত্র প্রতিনিধিদ্দিশ্যন্তে।
আভাসভাষ্যানুবাদ।—পরলোকে গমনোদ্যত এই আত্মার যে সমস্ত উপাধি ‘বন্ধন’ নামে অভিহিত, এবং যাহাদের সংযোগে এই আত্মা তন্ময়—সেই সেই উপাধির সহিত অভিন্ন বলিয়া অনুভূত হয়, এখানে সে সমুদয়কে একত্রিত করিয়া প্রদর্শন করা হইতেছে—
স বা অয়মাত্মা ব্রহ্ম বিজ্ঞানময়ো মনোময়ঃ প্রাণময়শ্চক্ষু- ৰ্ম্ময়ঃ শ্রোত্রময়ঃ পৃথিবীময় আপোময়ো বায়ুময় আকাশময়স্তেজো- ময়োহতেজোময়ঃ কামময়োহকামময়ঃ ক্রোধময়োহক্রোধময়ো ধৰ্ম্মময়োহধৰ্ম্মময়ঃ সর্ব্বময়স্তদ্যদেতদিদম্ময়োহদোময় ইতি, যথা- কারী যথাচারী তথা ভবতি, সাধুকারী সাধুর্ভবতি পাপকারী পাপো ভবতি, পুণ্যঃ পুণ্যেন কৰ্ম্মণা ভবতি পাপঃ পাপেন। অথো খল্বাহুঃ কামময় এবায়ং পুরুষ ইতি, স যথাকামো ভবতি তৎক্রতুর্ভবতি, যৎক্রতুর্ভবতি তৎ কৰ্ম্ম কুরুতে, যৎ কৰ্ম্ম কুরুতে, তদভিসম্পদ্যতে ॥ ২৯৫ ॥ ৫ ॥
১২১১
সরলার্থঃ।—[ইদানীমাত্মোপাধীন বিবিচ্য প্রদর্শয়িতুমাহ—‘সঃ বৈ’ ইত্যাদি।] সঃ অয়ং(সংসারী) আত্মা ব্রহ্ম বৈ(ব্রহ্ম এব),[উপাধিসম্পর্কাৎ পুনঃ] বিজ্ঞানময়ঃ(বিজ্ঞানং বুদ্ধিঃ, তদুপহিতত্বাৎ বিজ্ঞানময়ঃ), মনোময়ঃ(মন- উপহিতত্ত্বাৎ মনোময়ঃ), এবং প্রাণময়ঃ, চক্ষুর্ময়ঃ, শ্রোত্রময়ঃ, পৃথিবীময়ঃ, আপো- ময়ঃ, বায়ুময়ঃ(বায়বীয়শরীরে বায়ুময়ঃ), তথা আকাশময়ঃ, তেজোময়ঃ, অতেজোময়ঃ, কামময়ঃ, অকামময়ঃ, ক্রোধময়ঃ, অক্রোধময়ঃ, ধর্মময়ঃ, অধৰ্ম্মময়ঃ, সর্ব্বময়ঃ, তৎ এতৎ(যথোক্তং রূপম্ অস্য সিদ্ধম্; অন্যচ্চ—) যৎ(যস্মাৎ) ইদম্ময়ঃ (প্রত্যক্ষতঃ গৃহ্যমাণরূপঃ), অদোময়ঃ(পরোক্ষময়ঃ);[কিং বহুনা—] যথাকারী(যথা কর্ত্তুং শীলং যস্য, সঃ), যথাচারী(যথা আচরিতুং শীলং যস্য, সঃ)[ভবতি],[সঃ] তথা(স্বস্য কর্মাচারানুসারেণ ফলভাক্) ভবতি— সাধুকারী সাধুঃ ভবতি, পাপকারী পাপঃ ভবতি;[তত্রাপি বিশেষঃ—] পুণ্যেন কর্মণা পুণ্যঃ ভবতি, পাপেন পাপঃ ভবতি।
অথো(কিঞ্চ), খলু(প্রসিদ্ধৌ) আহুঃ(কথয়ন্তি)[লোকাঃ]—অয়ং পুরুষঃ কামময়ঃ এব ইতি; সঃ(পুরুষঃ) যথাকামঃ ভবতি, তৎক্রতুঃ(তাদৃশ- সংকল্পবান্) ভবতি, যৎক্রতুঃ(যাদৃশসংকল্পবান্) ভবতি, তৎ(সংকল্পিতং) কৰ্ম্ম কুরুতে; যৎ কৰ্ম্ম কুরুতে, তৎ অভিসম্পদ্যতে ইত্যর্থঃ(তদ্রূপং লভতে) ॥২৯৫৷৷৫৷৷
মূলানুবাদ:-[এই সংসারী আত্মা যে সমস্ত উপাধিযোগে তন্ময়ত্ব প্রাপ্ত হয়, সে সমুদয়ের নির্দেশ করিতেছেন-] সেই আত্মা প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মই বটে,[কিন্তু উপাধিযোগে] বিজ্ঞানময়(বুদ্ধির সহিত অভিন্নরূপ) ও মনোময়(মনের সহিত অভিন্নরূপ) হয়; এই প্রকার প্রাণময়, চক্ষুর্ময়, শ্রোত্রময়,[পার্থিব শরীরে] পৃথিবীময়,[বরুণ- লোকে] আপোময়, বায়ুময়, আকাশময়, তেজোময়, অতেজোময়, কামময়, অকামময়, ক্রোধময়, অক্রোধময়, ধৰ্ম্মময়, অধৰ্ম্মময়, সর্ব্বময়, এবং প্রত্যক্ষ-গ্রাহ্য বস্তুময়, পরোক্ষ-বস্তুময়ও বটে।[ফল কথা,] যেরূপ কৰ্ম্ম ও আচারের অনুশীলন করে, সেইরূপই হয়,-উত্তম কৰ্ম্মকারী উত্তম হয়, আর অধম কৰ্ম্মকারী অধম হয়, পুণ্য কৰ্ম্ম দ্বারা পুণ্যবান (সুখী) হয়, আর পাপ কৰ্ম্ম দ্বারা পাপী(দুঃখী) হয়।
লোকেও বলিয়া থাকে যে, এই সংসারী জীব কেবলই কামময়; সে যেরূপ কামনাশালী হয়, সেইরূপই সংকল্প করে, আবার যেরূপ সংকল্পসম্পন্ন হয়, সেইরূপই কর্মানুষ্ঠান করে, এবং যেরূপ কৰ্ম্ম করে, ঠিক তদনুরূপ অবস্থাই লাভ করে ॥ ২৯৫ ॥ ৫ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—স বৈ অয়ম্, যঃ এবং সংসারত্যাত্মা—ব্রহ্মৈব পর এব, যঃ অশনায়াদ্যতীতো বিজ্ঞানময়ঃ; বিজ্ঞানং বুদ্ধিঃ, তেনোপলক্ষ্যমাণঃ তন্ময়ঃ; “কতম আত্মেতি, যোহয়ৎ বিজ্ঞানময়ঃ প্রাণেষু” ইতি হি উক্তম্; বিজ্ঞানময়ঃ বিজ্ঞানপ্রায়ঃ, যস্মাৎ তদ্ধর্মত্বমস্য বিভাব্যতে, “ধ্যায়তীব লেলায়তীব” ইতি; তথা মনোময়ঃ—মনঃসন্নিকর্ষাৎ মনোময়ঃ; তথা প্রাণময়ঃ, প্রাণঃ পঞ্চবৃত্তিঃ, তন্ময়ঃ, যেন চেতনশ্চলতীব লক্ষ্যতে; তথা চক্ষুৰ্ম্ময়ঃ রূপদর্শনকালে, এবং শ্রোত্র- মরঃ শব্দশ্রবণকালে, এবং তস্য তস্যেন্দ্রিয়স্য ব্যাপারোদ্ভবে তত্তন্ময়ো ভবতি। ১
টীকা। শরীরারম্ভে মায়াত্মকভূতপঞ্চকমুপাদানমিতি বদতা ভূতাবয়বানামপি সহৈব গমনমিত্যুক্তম্। ইদানীং স বা অয়মাত্মেত্যাদেস্তাৎপর্য্যমাহ-যেহস্যেতি। তানেবোপাধি- ভূতান্ পদার্থান্ বিশিনষ্টি-যৈরিতি। ননু পূর্ব্বমপ্যেতে পদার্থা দর্শিতাঃ, কিং পুনস্তৎপ্রদর্শনে- নেত্যাশঙ্ক্যাহ-পুঞ্জীকৃত্যেতি। স বা অয়মাত্মা ব্রহ্মেতি ভাগং ব্যাকুর্বন্নাত্মনো ব্রহ্মৈকাং বাস্তবং বৃত্তং দর্শয়তি-স বা ইতি। তস্যৈবাবান্তরং রূপমুপন্যস্যতি বিজ্ঞানময় ইত্যাদিনা। জ্যোতিব্রাহ্মণেহপি ব্যাখ্যাতং বিজ্ঞানময়ত্বমিত্যাহ-কতম ইতি। কস্মিন্নর্থে ময়ট্ প্রযুজাতে, তত্রাহ-বিজ্ঞানেতি। উক্তে ময়ড়র্থে হেতুমাহ-যম্মাদিতি। বুদ্ধ্যৈক্যাধ্যাসাত্তদ্ধর্ম্মস্য কর্তৃত্ব।- দেরাত্মনি প্রতীতিরিত্যত্র মানমাহ-ধ্যায়তীবেতি। মনঃসনিকর্ষাতেন দ্রষ্টব্যতয়া সংবন্ধাদিতি যাবৎ। চক্ষুর্ময়ত্বাদেরুপলক্ষণত্বমঙ্গীকৃত্যাহ-এবমিতি। ১
এবং বুদ্ধিপ্রাণদ্বারেণ চক্ষুরাদিকরণময়ঃ সন্ শরীরারম্ভকপৃথিব্যাদিভূতময়ো ভবতি; তত্র পার্থিবাদিশরীরারম্ভে পৃথিবীময়ো ভবতি; তথা বরুণাদিলোকেষু আপ্যশরীরারম্ভে আপোময়ো ভবতি; তথা বায়ব্যশরীরারম্ভে বায়ুময়ো ভবতি; তথা আকাশশরীরারম্ভে আকাশময়ো ভবতি; এবমেতানি তৈজসানি দেব- শরীরাণি; তেঘারভ্যমাণেষু তত্তন্ময়ঃ তেজোময়ো ভবতি। অতো ব্যতিরিক্তানি পশ্বাদিশরীরাণি নরকপ্রেতাদিশরীরাণি চ অতেজোময়ানি; তান্যপেক্ষ্য আহ— অতেজোময় ইতি।
এবং কার্য্যকরণসঙ্ঘাতময়ঃ সন্ আত্মা প্রাপ্তব্যং বস্তুন্তরং পশ্যন্ ইদং ময়া প্রাপ্তম্, অদো ময়া প্রাপ্তব্যম্—ইত্যেবং বিপরীতপ্রত্যয়স্তদভিলাষঃ কামময়ো ভবতি। তস্মিন্ কামে দোষং পশ্যতঃ তদ্বিষয়াভিলাষপ্রশমে চিত্তং প্রসন্নমকলুষং
শান্তং ভবতি, তন্ময়ঃ অকামময়ঃ; এবং তস্মিন্ বিহতে কামে কেনচিৎ, স কামঃ ক্রোধত্বেন পরিণমতে, তেন তন্ময়ো ভবন্ ক্রোধময়ঃ। স ক্রোধঃ কেনচিদুপায়েন নিবর্তিতো যদা ভবতি, তদা প্রসন্নমনাকুলং চিত্তং সৎ অক্রোধ উচ্যতে, তেন তন্ময়ঃ। এবং কামক্রোধাভ্যামকামাক্রোধাভ্যাঞ্চ তন্ময়ো ভূত্বা ধৰ্ম্মময়োহধৰ্ম্ম- ময়শ্চ ভবতি। নহি কামক্রোধাদিভিবিনা ধর্মাদিপ্রবৃত্তিরুপপদ্যতে, “যদ্যদ্ধি কুরুতে কৰ্ম্ম তত্তৎ কামস্য চেষ্টিতম্” ইতি স্মরণাৎ; ধৰ্ম্মময়োহধৰ্ম্মময়শ্চ ভূত্বা সর্ব্বময়ো ভবতি। সমস্তং ধর্মাধর্ময়োঃ কার্য্যং যাবৎকিঞ্চিদ্ব্যাকৃতম্, তৎ সর্ব্বং ধর্মাধৰ্ম্ময়োঃ ফলম্; তৎ প্রতিপদ্যমানস্তন্ময়ো ভবতি। ২
উক্তমনুষ্য সামান্যেন পঞ্চভূতময়ত্বমাহ—এবং বুদ্ধীতি। ভূতময়ত্বে সত্যবান্তরবিশেষমাহ— তত্রেত্যাদিনা। ন চাকাশপরমাত্মভাবাদাকাশস্য শরীরানারম্ভকত্বং, শ্রুতিবিরুদ্ধারম্ভপ্রক্রিয়া- নভ্যুপগমাদিতাভিপ্রেত্যাহ—তথাকাশেতি। কথং পুনর্ধম্মাদিময়ত্বে কামাদিময়ত্বমুপযুজ্যতে, তত্রাহ—ন হীতি। কথং ধর্ম্মাদিময়ত্বং সর্ব্বময়ত্বে কারণমিত্যাশঙ্ক্যাহ—সমস্তমিতি। ২
কিং বহুনা, তদেতৎ সিদ্ধমস্য—যৎ অয়ম্ ইদম্ময়ঃ গৃহ্যমাণবিষয়াদিময়ঃ, তস্মাদ্ অয়ম্ অদোময়ঃ; অদ ইতি পরোক্ষং কার্য্যেণ গৃহ্যমাণেন নিৰ্দ্দিশ্যতে; অনন্তা হি অন্তঃকরণে ভাবনাবিশেষাঃ; নৈব তে বিশেষতো নির্দ্দিষ্টং শক্যতে; তস্মিং- স্তস্মিন্ ক্ষণে কার্য্যতোহবগমান্তে—ইদমস্য হৃদি বর্ত্ততে, অদোহস্যেতি। তেন গৃহ্যমাণ-কার্য্যেণ ইদম্ময়তয়া নিৰ্দ্দিশ্যতে—পরোক্ষোহন্তঃস্থো ব্যবহারঃ— অয়মিদানীমদোময় ইতি। ৩।
তদ্যদেতদিত্যাদেরর্থমাহ-কিং বহুনেতি। বিষয়ঃ শব্দাদিস্ততোহন্যদপি প্রত্যক্ষতো গৃহ্যমাণমাদিশব্দার্থঃ। ইদংময়ত্বমদোময়ত্বে গমকমিত্যাহ-তস্মাদিতি। বিশেষতস্তন্ময়ত্বোক্তিং বিনা কিমিতি সামান্যোক্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-অনন্তা হীতি। তদন্তিত্বে মানমাহ-তস্মিন্নিতি। অবগতিপ্রকারমভিনয়তি-ইদমস্যেতি। ইদংময়ত্বমদোময়ত্বং চোপসংহরতি তেনেত্যাদিনা। পরোক্ষত্বং ব্যাকরোতি-অন্তঃস্থ ইতি। ব্যবহিতবিষয়ব্যবহারবানিতি যাবৎ। ইদানীমিত্য- স্মাদুপরিষ্টাদপি তেনেতি সংবধ্যতে। পরোক্ষত্বাবস্থেদানীমিত্যুক্তা। তৃতীয়য়া চ প্রবৃত্তো ব্যবহারো নির্দিশ্যতে। ইতিশব্দঃ সর্ব্বময়ত্বোপসংহারার্থঃ। ৩
সক্ষেপতত্ত্ব—যথা কর্ত্তুং যথা বা আচরিতুং শীলমস্য, সোহয়ং যথাকারী যথাচারী, স তথা ভবতি। করণং নাম নিয়তা ক্রিয়া বিধিপ্রতিষেধাদি-গম্যা, আচরণং নাম অনিয়তা ইতি বিশেষঃ। সাধুকারী সাধুর্ভবতীতি যথাকারীত্যস্য বিশেষণম্; পাপকারী পাপো ভবতীতি চ যথাচারীত্যস্য। তাচ্ছীল্যপ্রত্যয়ো- পাদানাৎ। অত্যন্ততাৎপর্য্যতৈব তন্ময়ত্বম্, ন তু তৎকর্মমাত্রেণ, ইত্যাশঙ্ক্যাহ— পুণ্যঃ পুণ্যেন কর্মণা ভবতি, পাপঃ পাপেনেতি। পুণ্যপাপকর্মমাত্রেণৈব তন্ময়তা
স্যাৎ, ন তু তাচ্ছীল্যমপেক্ষতে; তাচ্ছীল্যে তু তন্ময়ত্বাতিশয় ইত্যয়ং বিশেষঃ। তত্র কামক্রোধাদিপূর্ব্বকপুণ্যাপুণ্যকারিতা সর্ব্বময়ত্বে হেতুঃ, সংসারস্য কারণম্, দেহাদ্দেহান্তরসঞ্চারস্য চ; এতৎপ্রযুক্তো হি অন্যদন্যদ্দেহান্তরমুপাদত্তে; তস্মাৎ পুণ্যাপুণ্যে সংসারস্য কারণম্, এতদ্বিষয়ৌ হি বিধিপ্রতিষেধৌ, অত্র শাস্ত্রস্য সাফল্যমিতি। ৪।
বিজ্ঞানময়াদিবাক্যার্থং সংক্ষিপতি-সংক্ষেপতস্থিতি। করণচরণয়োরৈক্যেন পৌনরুক্ত্য- মাশঙ্ক্যাহ-করণং নামেতি। আদিশব্দঃ শিষ্টাচারসংগ্রহার্থঃ। বাক্যান্তরং শঙ্কোত্তরত্বেনোত্থাপ্য ব্যাচষ্টে-তাচ্ছীল্যেত্যাদিনা। কুত্র তর্হি তাচ্ছীল্যমুপযুজ্যতে, তত্রাহ-তাচ্ছীল্যে ত্বিতি। পূর্ব্বপক্ষমুপসংহরতি-তত্রেত্যাদিনা। কৰ্ম্মণঃ সংসারকারণত্বমুপসংহরতি-এতৎপ্রযুক্তো হীতি। সংসারপ্রয়োজকে কর্মণি প্রমাণমাহ-এতদ্বিষয়ে হীতি। কথং যথোক্তকৰ্ম্মবিষয়ত্বং বিধি- নিষেধয়োরিত্যাশঙ্ক্যাহ-অত্রেতি। ইতিশব্দঃ পূর্ব্বপক্ষসমাপ্ত্যর্থঃ। ৪
অথো অপি অন্যে বন্ধ-মোক্ষকুশলাঃ খল্বাহুঃ—সত্যং, কামাদিপূর্ব্বকে পুণ্যা- পুণ্যে শরীরগ্রহণকারণম্; তথাপি কামপ্রযুক্তো হি পুরুষঃ পুণ্যা-পুণ্যে কৰ্ম্মণী উপচিনোতি; কামপ্রহাণে তু কৰ্ম্ম বিদ্যমানমপি পুণ্যাপুণ্যোপচয়করং ন ভবতি; উপচিতে অপি পুণ্যাপুণ্যে কৰ্ম্মণী কামশূন্যে ফলারম্ভকে ন ভবতঃ; তস্মাৎ কাম- এব সংসারস্য মূলম্। তথা চোক্তমাথর্ব্বণে “কামান্ যঃ কাময়তে মন্যমানঃ স কর্মভির্জায়তে তত্র তত্র” ইতি। তস্মাৎ কামময় এবায়ং পুরুষঃ; যদন্যময়ত্বম্, তদকারণং বিদ্যমানমপি, ইত্যতঃ অবধারয়তি—‘কামময় এব’ ইতি। ৫।
সিদ্ধান্তমবতারয়তি—অথো ইতি। সংসারকারণস্যাজ্ঞানস্য প্রাধান্যেন কামঃ সহকারীতি স্বসিদ্ধান্তং সমর্থয়তে—সত্যমিত্যাদিনা। কামাভাবেহপি কৰ্ম্মণঃ সত্ত্বং দৃষ্টমিত্যাশঙ্ক্যাহ—কাম- প্রহাণে ত্বিতি। ননু কামাভাবেহপি নিত্যাদ্যনুষ্ঠানাৎ পুণ্যাপুণ্যে সঞ্চীয়তে, তত্রাহ—উপচিতে ইতি। যোহিপশুপুত্রস্বর্গাদীননতিশয়পুরুষার্থান্ মন্যমানঃ তানেব কাময়তে, স তত্তদ্ভোগভূমৌ তত্তৎকামসংযুক্তো ভবতীত্যাথর্ব্বণশ্রুতেরর্থঃ। শ্রুতিযুক্তিসিদ্ধমর্থং নিগময়তি—তস্মাদিতি। ধর্মাদিময়ত্বস্যাপি সত্ত্বাদবধারণানুপপত্তিমাশঙ্ক্যাহ—যদিতি। ৫
যস্মাৎ স চ কামময়ঃ সন্ যাদৃশেন কামেন যথাকামো ভবতি, তৎক্রতুর্ভবতি, স কাম ঈষদভিলাষমাত্রেণাভিব্যক্তো যস্মিন্ বিষয়ে ভবতি, সঃ অবিহন্যমানঃ স্ফুটীভবন্ ক্রতুত্বমাপদ্যতে। ক্রতুর্নাম অধ্যবসায়ঃ নিশ্চয়ঃ—যদনন্তরা ক্রিয়া প্রবর্ত্ততে। যৎক্রতুর্ভবতি—যাদৃক্কামকার্য্যেণ ক্রতুনা যথারূপঃ ক্রতুরস্য, সোহয়ং যৎক্রতুর্ভবতি, তৎ কর্ম্ম কুরুতে যদিবিষয়ঃ ক্রতুঃ, তৎফল-নিবৃত্তয়ে যদ্ যোগ্যং কর্ম্ম, তৎ কুরুতে নির্ব্বর্ত্তয়তি; যৎ কর্ম্ম কুরুতে, তদভিসম্পদ্যতে তদীয়ং ফলমভি- সম্পদ্যতে। তস্মাৎ সর্ব্বময়ত্বে অন্য সংসারিত্বে চ কাম এব হেতুরিতি ॥২৯৫৷৷৫৷৷
১২১৫
স যথাকামো ভবতীত্যাদি ব্যাচষ্টে-যম্মাদিত্যাদিনা। যম্মাদিত্যস্য তন্মাদিতি ব্যবহিতেন সম্বন্ধঃ। ইতিশব্দো ব্রাহ্মণসমাপ্ত্যর্থঃ ॥ ২৯৫ ॥ ৫ ॥
ভাষ্যানুবাদ।-যে আত্মা এইরূপে পরলোকে প্রয়াণ করে, সেই আত্মা ব্রহ্মই-পরমাত্মাই-যিনি অশনায়াদি ধর্ম্মের অতীত; সেই আত্মা বিজ্ঞানময়- বিজ্ঞান অর্থ-বুদ্ধি, বুদ্ধিতে লক্ষিত হয় বলিয়া আত্মা বিজ্ঞানময়; অন্যত্রও উক্ত হইয়াছে যে, ‘আত্মা কোন্টী? না, প্রাণের মধ্যে যাহা এই বিজ্ঞানময়।’ বিজ্ঞানময় অর্থ-বিজ্ঞানপ্রায় অর্থাৎ ঠিক বিজ্ঞানেরই মত; যেহেতু আত্মধর্মরূপে বিজ্ঞানের প্রতীতি হয়, সেই হেতুই ইহার বিজ্ঞানময়ত্ব; শ্রুতি বলিতেছেন, ‘যেন ধ্যানই করে, যেন চেষ্টাই করে‘। এইপ্রকার মনোময়-মনের সহিত সান্নিধ্য থাকায় আত্মা মনোময় হয়; সেই প্রকার প্রাণময়-প্রাণ অর্থ-পঞ্চবৃত্তি প্রাণ, তাহার সহিত সম্বন্ধ বশতঃ আত্মা তন্ময় হয়; যাহার ফলে চেতন আত্মা ক্রিয়াশীল বলিয়াই যেন প্রতীত হইয়া থাকে। এইরূপ, রূপ দর্শনকালে চক্ষুর্ময় এবং শব্দ শ্রবণ-সময়ে শ্রোত্রময় হয়। এইপ্রকার যখন যে ইন্দ্রিয়ের ব্যাপার প্রাদুর্ভূত হয়, তখন সেই ইন্দ্রিয়ের সহিতই তন্ময়তা প্রাপ্ত হয়। ১
এইপ্রকার বুদ্ধি ও প্রাণের সাহায্যে আত্মা চক্ষুঃপ্রভৃতি করণবর্গের সহিত তন্ময়ত্ব প্রাপ্ত হইয়া, শেষে শরীরোৎপাদক পৃথিবীপ্রভৃতি ভূতময়ও হইয়া থাকে। তন্মধ্যে পার্থিব শরীরোৎপত্তিতে আত্মা পৃথিবীময় হয়; এইরূপ বরুণলোকপ্রভৃতি বিভিন্নস্থানে—জলীয় শরীরসৃষ্টিতে আপোময় হয়; বায়বীয় শরীরসৃষ্টিতে বায়ুময় হয়; এইপ্রকার আকাশাত্মক শরীরোৎপত্তিতে আকাশময়, তৈজস দেব শরীরসৃষ্টিতে তেজোময় হয়, তদ্ভিন্ন পশুপ্রভৃতির শরীর এবং নারক ও প্রেতাদির শরীর অতেজোময়; সেই সমস্ত দেহকে লক্ষ্য করিয়া অতেজোময় বলা হইয়াছে। ২
এইপ্রকার, আত্মা দেহেন্দ্রিয়সংঘাতের সহিত তন্ময়তা প্রাপ্ত হইবার পর, ভবিষ্যতে যে ভাব লাভ করিবে, জ্ঞানদৃষ্টিতে তাহা অবলোকন করত ‘আমি ইহা পাইয়াছি, আমি অমুক ভাব পাইব’ এইপ্রকার ভ্রান্তবুদ্ধিবশে তদ্বিষয়ে অভিলাষী হইয়া কামময় হয়। পুরুষের চিত্ত আবার সেই কামনাতেও দোষদর্শন করিয়া সেই কামনা-দোষের অপগমে প্রসন্ন, কলুষতাশূন্য ও প্রশান্ত হয়; চিত্ত তখন তন্ময় —অকামময় হয়। কোন কারণে যদি সেই কাম বা অভিলাষ ব্যাহত হয়, তাহা হইলে সেই কামই আবার ক্রোধাকারে পরিণত হয়; সেই জন্য তন্ময়তা লাভ করিয়া ক্রোধময় হয়; সেই ক্রোধও আবার যখন কোন উপায়ে নিবারিত হয়,
তখন তাহার চিত্ত প্রসন্ন ও অব্যাকুল হওয়ায় অক্রোধময় বলিয়া কথিত হয়; এই জন্য পুরুষ তখন তন্ময়(অক্রোধময়) হয়। এইরূপ কামে ও ক্রোধে এবং অকামে ও অক্রোধে তন্ময়তা লাভ করত পুরুষ ধর্মময় এবং অধর্মময়ও হইয়া থাকে; কেন না, ‘লোক যে কোন কৰ্ম্ম করে, সে সমুদয়ই কামের চেষ্টা বা কামনার ফল’ ইত্যাদি স্মৃতিবাক্য হইতে জানা যায় যে, কাম-ক্রোধাদি ব্যতিরেকে ধৰ্মাধৰ্ম্ম বিষয়ে লোকের প্রবৃত্তি জন্মিতে পারে না। ধর্মময়ও অধর্মময় হইয়া সর্ব্বময় হয়; যাহা কিছু ব্যক্ত জগৎ—জাগতিক পদার্থ, সে সমুদয়ই ধর্মাধর্মের কার্য্য বা ফল, অর্থাৎ ধর্মাধর্মের ফলভোগের জন্যই এই দৃশ্যমান জগতের অভিব্যক্তি হইয়াছে; সুতরাং জগৎকে ধর্মাধর্মের ফল বলা যাইতে পারে; পুরুষ তাহা প্রাপ্ত হইয়া তন্ময় হইয়া থাকে। ৩
আর অধিক কথায় প্রয়োজন কি, পুরুষের এই ভাব চিরপ্রসিদ্ধ; পুরুষ যেহেতু ইদম্ময়—ইন্দ্রিয় যে সমুদয় বিষয় গ্রহণ করিয়া থাকে, তন্ময় হয়, সেই হেতুই পুরুষ অদোময়ও বটে; ‘অদস্’ অর্থ পরোক্ষ বস্তু, যাহা কার্য্য-দর্শনে জানিতে পারা যায়; কারণ, হৃদয়ের ভাব(চিন্তাবিশেষ) অনন্ত, সে সমুদয়ের বিশেষ নাম নির্দেশ করা সম্ভব হয় না; তবে উপস্থিতমতে বিশেষ বিশেষ কার্য্য দর্শনে বুঝিতে পারা যায় যে, ইহার হৃদয়ে এই ভাব আছে, ইহার হৃদয়ে অমুক ভাব আছে; অতএব প্রতীতি-গোচরাপন্ন কার্য্য দ্বারাই ‘ইদম্ময়’ রূপে নির্দেশ করা হয়, আর অন্তঃকরণস্থ পরোক্ষব্যবহার-গোচর বস্তুকে ‘অদোময়’ রূপে প্রকাশ করা হয়। ৪
সঙ্ক্ষেপতঃ[ বলা যায় যে,] যে পুরুষ যেরূপ কর্ম্ম করিতে বা যেরূপ আচরণ করিতে অভ্যস্ত, সেই পুরুষ যথাকারী ও যথাচারী; তদ্বিষয়ে তিনি স্বীয় কর্ম্ম ও আচারানুরূপ হইয়া থাকেন।[যথাকারী কথার] করণ অর্থ—বিধি-নিষেধ- শাস্ত্রগম্য নিয়ত বা অবশ্যকর্ত্তব্য ক্রিয়া, আর চরণ অর্থ—অনিয়ত অর্থাৎ যাহা অবশ্য কর্ত্তব্য নহে, এরূপ ক্রিয়া; উক্ত ক্রিয়া ও আচারের মধ্যে এইরূপ পার্থক্য রহিয়াছে। ‘সাধুকারী সাধুঃ ভবতি’(উত্তম কার্য্যকারী উত্তম হয়), এ কথাটী ‘যথাকারী’ কথারই বিশেষণ বা অর্থপ্রকাশক মাত্র; এবং ‘পাপকারী পাপঃ ভবতি’(পাপকর্ম্মকারী পাপী হয়), এই কথাটাও যথাচারী কথার বিশেষণ। এখানে ‘যথাকারী ও যথাচারী’ প্রভৃতি বাক্যে তাচ্ছীল্য প্রত্যয় থাকায়(১)
১২১৭
আশঙ্কা হইতে পারে যে, অত্যন্ত তৎপরতাই(অত্যন্ত অভিনিবেশই) তন্ময়ত্ব, শুধু ভাল মন্দ কৰ্ম্ম মাত্র নহে; সেই আশঙ্কা নিরাসের নিমিত্ত বলিতেছেন— ‘পুণ্যকৰ্ম্ম দ্বারা পুণ্য(শুভফলভাগী) হয়, আর পাপকৰ্ম্ম দ্বারা পাপ(নিকৃষ্ট ফল- ভাগী) হয়‘। বিশেষ এই যে, শুধু পুণ্য ও পাপকৰ্ম্ম দ্বারাই তন্ময়ত্ব হইতে পারে সত্য, কিন্তু তাহাতে ‘তাচ্ছীল্য’ হইলে অর্থাৎ সেই পুণ্য ও পাপকৰ্ম্ম স্বভাবে পরিণত হইলে তন্ময়তার পরিপুষ্টি ঘটিয়া থাকে। কামক্রোধাদি দোষ সহকারে যে পুণ্যাপুণ্য কর্মানুষ্ঠান, তাহাই জীবের সর্ব্বময়ত্বের কারণ এবং সংসারপ্রাপ্তির ও দেহান্তর সঞ্চরণের কারণ; কেন না, কামক্রোধাদি-সহকৃত কর্মের প্রেরণা- বশেই জীব এক দেহের পর অন্য দেহ ধারণ করিতে থাকে। অতএব পুণ্যাপুণ্যই সংসার-প্রাপ্তির কারণ, বিধি-নিষেধশাস্ত্রও এই পুণ্যাপুণ্য বিষয়েই প্রযুক্ত হইয়াছে; তদ্বিষয়েই শাস্ত্রের সফলতা বা সার্থকতা। ৫
অপি চ, যাঁহারা বন্ধ মোক্ষ বিষয়ে অভিজ্ঞ, তাঁহারাও বলিয়া থাকেন—যদিও কাম ক্রোধাদি সহকৃত পুণ্য পাপই জীবের শরীর-গ্রহণের কারণ সত্য, তথাপি কামনার প্রেরণায়ই লোকে পুণ্য ও পাপ সঞ্চয় করিয়া থাকে; কামনা পরিত্যাগ করিলে, কর্ম্ম অনুষ্ঠিত হইয়াও পুণ্য বা পাপ জন্মায় না; পক্ষান্তরে পুণ্যাপুণ্য সঞ্চিত থাকিলেও, যদি কামনারহিত হয়, তাহা হইলে ঐ পুণ্য ও পাপ কোনরূপ ফলজনক হয় না; অতএব প্রকৃতপক্ষে কামনাই সংসারের মুখ্য কারণ(১)। আথর্ব্বণ শ্রুতিতেও এই কথা বলা আছে—‘যে লোক অভিনিবেশ সহকারে বিবিধ কাম্য বিষয় কামনা করে; সেই লোক সেই কামনানুসারে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে জন্ম গ্রহণ করে’; অতএব এই পুরুষ অর্থাৎ জীব কামময়ই(কামনাপ্রধানই)
স্বভাব, তাহাকে বলে—সুরাপায়ী, প্রাণিহত্যা করা যাহার স্বভাব, তাহাকে বলে ‘ঘাতুক’ ইত্যাদি। এখানে সাধু কৰ্ম্ম করাই যাহার স্বভাব, তিনি সাধুকারী; সুতরাং দুই একবার সাধুকৰ্ম্ম করিলেই সাধুকারী বলিতে পারা যায় না; এই আশঙ্কায় বলিলেন ‘পুণ্য’ ইতি।
(১) তাৎপর্য্য—জীবের অনুষ্ঠিত শুভাশুভ কৰ্ম্মই সাক্ষাৎ সম্বন্ধে ভবিষ্যৎ ফলের জনক, কামনা তাহার সহকারী কারণ; কিন্তু কামনা সহকারী হইলেও ফলোৎপাদনে তাহারই প্রাধান্য। তণ্ডুল যেমন অঙ্কুরোৎপত্তির প্রধান কারণ হইয়াও, তুষরহিত হইলে অঙ্কুরোৎ- পাদনে সমর্থ হয় না; এই জন্য তুষ নিজে অঙ্কুরোৎপাদক না হইলেও, অঙ্কুরোৎপাদনের প্রধান সহায়; এইরূপ পুণ্যাপুণ্য কৰ্ম্ম ফলজনক হইলেও, কামনাই তাহার প্রধান সহায়। কামনার অভাবে কোন কর্মই ফলোৎপাদনে সমর্থ হয় না; এই জন্যই নিষ্কামভাবে কৰ্ম্ম করিলে তাহা দ্বারা তদনুষ্ঠাতা সংসারে আবদ্ধ হয় না।
বটে; ইহা ছাড়া যে অন্যময়তা, তাহা থাকিলেও কোন ফলবিশেষের জনক হয় না। ইহাই ‘কামময় এব’ কথায় অবধারিত হইয়াছে। ৬
যেহেতু পুরুষ কামময় হইয়া বিভিন্নরূপ কামনানুসারে—যাদৃশ কামনাসম্পন্ন হয়, তাদৃশ সঙ্কল্পবান্ হয়, অর্থাৎ কামনা প্রথমতঃ যে বিষয়ে অতি অল্প মাত্রায় অভি- ব্যক্ত হয়, পরে তাহাই বিনা বাধায় পরিস্ফুট হইয়া ক্রতুরূপে পরিণত হইয়া থাকে; ক্রতু অর্থ অধ্যবসায়; ইহার অন্য নাম সংকল্প ও নিশ্চয় জ্ঞান; যাহার পরেই ক্রিয়া আরম্ভ হয়। লোক যে বিষয়ে ক্রতুমান্ হয়, অর্থাৎ যাদৃশ কামনাজনিত সংকল্প দ্বারা পুরুষ যেরূপ ক্রতুসম্পন্ন হয়, সেইরূপ কর্মই করিয়া থাকে। অভিপ্রায় এই যে, যে বিষয়ে ক্রতু হয়, তাহার ফল-সম্পাদনের নিমিত্ত তদুপযুক্ত কৰ্ম্ম সম্পাদন করিয়া থাকে। তাহার পর, যেরূপ কৰ্ম্ম করে, তদনুরূপ ফল লাভ করিয়া থাকে। [ অতএব বুঝা গেল যে,] পুরুষের সর্ব্বময়ত্ব ও সংসারিত্বের প্রতি কামনাই মুখ্য কারণ ৷ ২৯৫ ॥ ৫ ॥
তদেষ শ্লোকো ভবতি—তদেব সক্তঃ সহ কৰ্ম্মণৈতি লিঙ্গং মনো যত্র নিষক্তমস্য। প্রাপ্যান্তং কৰ্ম্মণস্তস্য যৎ কিঞ্চেহ করো- ত্যয়ম্। তস্মাল্লোকাৎ পুনরৈত্যস্মৈ লোকায় কৰ্ম্মণে—ইতি নু কাময়মানঃ, অথাকাময়মানো যোহকামো নিষ্কাম আপ্তকাম আত্ম- কামঃ, নতস্য প্রাণা উৎক্রামন্তি ব্রহ্মৈব সন্ ব্রহ্মাপ্যেতি ॥২৯৬৷৷৬৷৷
সঙ্কলার্থঃ।—তৎ(তত্র বিষয়ে) এষঃ(বক্ষ্যমাণঃ) শ্লোকঃ(সংক্ষি- প্তার্থকং বাক্যম্) ভবতি(অস্তি)।[তমেব শ্লোকং নিদ্দিশতি—] অন্য (পুরুষস্য) লিঙ্গং(সূক্ষ্মং, লিঙ্গশরীরাবয়বং বা) মনঃ, যত্র(যস্মিন্ বিষয়ে) নিষক্তম্(কামনাযুক্তম্—তন্ময়ম্)[ভবতি], সক্তঃ(আসক্তঃ—কামনাবান্) পুরুষঃ কর্মণা সহ(কর্মসংস্কারেণ সহ, ‘সঃ’ ইতি পুরুষবিশেষণং বা, হ ইতি নিশ্চয়ে) তৎ(কাম্যং ফলম্) এব এতি(প্রাপ্নোতি)।
অয়ং(সংসারী জীবঃ) ইহ(অস্মিন্ জন্মনি) যৎ কিঞ্চ(যৎ কিমপি কৰ্ম্ম) করোতি, তস্য কর্মণঃ(কর্মফলস্য) অন্তং(অবসানং) প্রাপ্য, তস্মাৎ(কৰ্ম্ম- লব্ধাৎ ভোগস্থানাৎ) পুনঃ অস্মৈ লোকায়(পৃথিবীলোকায়) কৰ্ম্মণে(কৰ্ম্ম কর্তুম্) পুনঃ এতি(আগচ্ছতি);[কর্মফলভোগায় লোকান্তরং যাতি, তদ্ভোগা- বসানে চ পুনঃ কর্মকরণায় এতস্মিন্নেব লোকে প্রত্যাগচ্ছতীতি ভাবঃ], ইতি (এবং গত্যাগতী) নু(নিশ্চয়ে) কাময়মানঃ(সকামঃ পুরুষ এব)[লভতে];
১২১৯
অথ(পক্ষান্তরে) অকাময়মানঃ(ফলাকাঙ্ক্ষারহিতঃ পুরুষঃ)[উচ্যতে]—যঃ অকামঃ—নিষ্কামঃ(নাস্তি কামঃ যস্য সঃ),[কথম্ অকামঃ? যস্মাৎ] আপ্তকামঃ (আপ্তাঃ প্রাপ্তাঃ কামাঃ যেন, সঃ),[তদেব কথম্? ইত্যাহ—যতঃ] আত্মকামঃ (আত্মৈব তস্য কাম্যঃ, নান্যঃ, আত্মা তু নিত্যপ্রাপ্ত এব, তস্মাৎ আপ্তকামঃ ইত্যর্থঃ); তস্য(আপ্তকামস্য) প্রাণাঃ ন উৎক্রামন্তি(দেহত্যাগাৎ পরং ন লোকান্তরং গচ্ছন্তি);[সঃ] ব্রহ্ম এব(নিত্যং ব্রহ্মস্বরূপ এব) সন্(ভবন্) ব্রহ্ম অপ্যেতি(অভিন্নতয়া ব্রহ্মণি লীয়তে ইত্যর্থঃ) ॥২৯৬৷৷৬৷৷
মূলানুবাদ।-জীবের পরলোকপ্রাপ্তি সম্বন্ধে এইরূপ একটি শ্লোক আছে-জীবের লিঙ্গ-সূক্ষম অথবা লিঙ্গশরীরের অংশ মন যে বিষয়ে নিযুক্ত বা আসক্ত থাকে, সেই কর্ম্মের সংস্কার-সহযোগে সেইরূপ ফলই প্রাপ্ত হয়। পুরুষ ইহলোকে যে কোনরূপ শুভাশুভ কৰ্ম্ম করে, লোকান্তরে সেই সেই কর্ম্মের ফলভোগ শেষ করিয়া, সেই লোক হইতে পুনর্বার কর্মানুষ্ঠানের নিমিত্ত ইহলোকে প্রত্যাগমন করে; ইহা হইতেছে কেবল সকাম পুরুষের কথা; অতঃপর কামনারহিত পুরুষের কথা বলা হইতেছে-যে পুরুষ অকাম নিষ্কাম অর্থাৎ ফলাভিলাষশূন্য, এবং নিত্যপ্রাপ্ত আত্মাই যাহার একমাত্র কাম্য; বাহিরে কোন বিষয়ই তাহার প্রাপ্তব্য থাকে না; এই জন্য তিনি আপ্তকাম হন; তাহার প্রাণসমূহ উৎক্রমণ করে না, তিনি ব্রহ্মস্বরূপই বটে; এই জন্য শেষেও ব্রহ্মকেই প্রাপ্ত হন ৷ ২৯৬৷ ৬॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তৎ তস্মিন্নর্থে এষ শ্লোকঃ মন্ত্রোহপি ভবতি। তদে- বৈতি তদেব গচ্ছতি। সক্ত আসক্তঃ তত্র উদ্ভূতাভিলাষঃ সন্নিত্যর্থঃ। কথমেতি? সহ কৰ্ম্মণা, যৎ কৰ্ম্ম ফলাসক্তঃ সন্ অকরোৎ, তেন কৰ্ম্মণা সহৈব তদেতি—তৎ ফলম্ এতি। কিং তৎ? লিঙ্গং মনঃ—মনঃপ্রধানত্বাৎ লিঙ্গস্য মনঃ লিঙ্গম্ ইত্যুচ্যতে; অথবা লিঙ্গ্যতে অবগম্যতে অবগচ্ছতি যেন, তৎ লিঙ্গম্; তৎ মনঃ যত্র যস্মিন্ নিষক্তম্—নিশ্চয়েন সক্তম্ উদ্ভূতাভিলাষম্, অন্য সংসারিণঃ; তদভি- লাযো হি তৎ কৰ্ম্ম কৃতবান্; তস্মাৎ তন্মনোইভিষঙ্গবশাদেব অন্য তেন কৰ্ম্মণা তৎফলপ্রাপ্তিঃ; তেনৈতৎ সিদ্ধং ভবতি—কামো মূলং সংসারস্যেতি। অত উৎসন্নকামস্য বিদ্যমানান্যপি কর্মাণি ব্রহ্মবিদো বন্ধ্যপ্রসবানি ভবন্তি; “পর্যাপ্ত কামস্য কৃতাত্মনশ্চ ইহৈব সর্ব্বে প্রবিলীয়ন্তি কামাঃ” ইতি শ্রুতেঃ। ১
টীকা। তত্রেতি গন্তব্যফলপরামর্শঃ, তদেব গন্তব্যং ফলং বিশেষতো জ্ঞাতুং পৃচ্ছতি-- কিংতদিতি। প্রতীকমাদায় ব্যাচষ্টে-লিঙ্গমিতি। যোহবগচ্ছতি স প্রমাত্রাদিসাক্ষী, যেন সাক্ষ্যেণ মনসাবগম্যতে, তন্মনো লিঙ্গমিতি, পক্ষান্তরমাহ-অথবেতি। যস্মিন্নিশ্চয়েন সংসারিণো মনঃ সক্তং, তৎফলপ্রাপ্তিস্তস্যেতি সম্বন্ধঃ। তদেবোপপাদয়তি-তদভিলাষো হীতি। পূর্ব্বার্দ্ধার্থমুপসংহরতি-তেনেতি। কামস্য সংসারমূলত্বে সত্যর্থসিদ্ধমর্থমাহ- অত ইতি। বন্ধ্যপ্রসবত্বং নিষ্ফলত্বম্। পর্যাপ্তকামস্য প্রাপ্তপরমপুরুষার্থস্তেতি যাবৎ। কৃতাত্মনঃ শুদ্ধবুদ্ধের্বিদিতসতত্ত্বস্তেত্যর্থঃ। ইহেতি জীবদবস্থোক্তিঃ। ১
কিঞ্চ, প্রাপ্যান্তং কৰ্ম্মণঃ-প্রাপ্য ভুক্তা অন্তম্ অবসানং যাবৎকৰ্ম্মণঃ ফল- পরিসমাপ্তিং কৃত্বেত্যর্থঃ। কস্য কর্ম্মণোহন্তং প্রাপ্যেত্যুচ্যতে-তস্য, যৎ কিঞ্চ ইহ অস্মিন্ লোকে করোতি নির্ব্বর্তয়তি অয়ম্, তস্য কর্ম্মণঃ ফলং ভুক্তা অন্তং প্রাপ্য, তস্মাৎ লোকাৎ পুনঃ ঐতি আগচ্ছতি অস্মৈ লোকায় কর্ম্মণে-অয়ং হি লোকঃ কৰ্ম্মপ্রধানঃ, তেনাহ-‘কর্ম্মণে’ ইতি-পুনঃ কর্ম্মকরণায়; পুনঃ কৰ্ম্ম কৃত্বা ফলসঙ্গবশাৎ পুনরমুং লোকং যাতি ইত্যেবম্। ইতি নু এবং নু কাময়মানঃ সংসরতি। যস্মাৎ কাময়মান এব এবং সংসরতি, অথ তস্মাৎ, অকাময়মানঃ ন ক্বচিৎ সংসরতি। ফলাসক্তস্য হি গতিরুক্তা; অকামস্য হি ক্রিয়ানুপপত্তেঃ অকাময়মানো মুচ্যুত এব। ২
কামপ্রধানঃ সংসরতি চেৎ, কৰ্ম্মফলভোগানন্তরং কামাভাবান্ মুক্তিঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-- কিং চেতি। ইতশ্চ সংসারস্য কামপ্রধানত্বমাস্থেয়মিত্যর্থঃ। যাবদবসানং তাবদ্ভুক্তেতি সম্বন্ধঃ। উক্তমেব সংক্ষিপতি-কৰ্ম্মণ ইতি। ইত্যেবং পারস্পর্য্যেণ সংসরণাদৃতে জ্ঞানান্ ন মুক্তিরিতি শেষঃ। সংসারপ্রকরণমুপসংহরতি ইতি দ্বিতি। অবস্থাদ্বয়স্য দাষ্টান্তিকং বন্ধং প্রবন্ধেন দর্শয়িত্বা সুষুপ্তস্য দাষ্টান্তিকং মোক্ষং বক্ত মথেত্যাদি বাক্যং। তত্রাথশব্দার্থমাহ-যস্মাদিতি। ২
কথং পুনরকাময়মানো ভবতি? যঃ অকামো ভবতি, অসাবকাময়মানঃ। কথমকামতেত্যুচ্যতে-যো নিষ্কামঃ, যস্মান্নির্গতাঃ কামাঃ, সোহয়ৎ নিষ্কামঃ। কথং কামা নির্গচ্ছন্তি? য আপ্তকামো ভবতি, আপ্তাঃ কামা যেন, স আপ্তকামঃ। কথমাপ্যন্তে কামাঃ? আত্মকামত্বেন-যস্যাত্মৈব নান্যঃ কাময়িতব্যো বস্তুন্তরভূতঃ পদার্থো ভবতি; আত্মৈব অনন্তরোহবাহ্যঃ কৃৎস্নঃ প্রজ্ঞানঘন একরসঃ নোদ্ধং ন তির্য্যগ্ নাধঃ আত্মনোহন্যৎ কাময়িতব্যং বস্ত্বন্তরম্-যস্য সর্ব্বমাত্মৈবাভূৎ, তৎ কেন কং পশ্যেৎ, শৃণুয়াৎ মন্বীত, বিজানীয়াদা-এবং বিজানন্ কং কাময়েত? জ্ঞায়মানো হি অন্যত্বেন পদার্থঃ কাময়িতব্যো ভবতি; ন চাসাবন্যো ব্রহ্মবিদ আপ্তকামস্যাস্তি। য এবাত্মকামতয়া আপ্তকামঃ, স নিষ্কামঃ অকামঃ, অকাময়- মানশ্চেতি মুচ্যতে। ন হি-যস্যাত্মৈব সর্ব্বং ভবতি, তস্যানাত্মা কাময়িতব্যো-
হস্তি; অনাত্মা চান্যঃ কাময়িতব্যঃ, সর্ব্বঞ্চাত্মৈবাভূদিতি বিপ্রতিষিদ্ধম্। সর্ব্বাত্ম- দর্শিনঃ কাময়িতব্যাভাবাৎ কর্ম্মানুপপত্তিঃ। ৩
কামরহিতস্য সংসারাভাবং সাধয়তি-ফলাসক্তস্যেতি। বিদুষো নিষ্কামস্য ক্রিয়ারাহিত্যে নৈষ্কর্ম্যমযত্নসিদ্ধমিতি ভাবঃ। অকাময়মানত্বে প্রশ্নপূর্ব্বকং হেতুমাহ-কথমিত্যাদিনা। বাহ্যেষু শব্দাদিষু বিষয়েধাসঙ্গরাহিত্যাদকাময়মানতেত্যর্থঃ। অকামত্বে হেতুমাকাঙ্ক্ষাপূর্বকমাহ- কথমিতি। বাসনারূপকামাভাবাদকামতেত্যর্থঃ। নিষ্কামত্বে প্রশ্নপূর্ব্বকং হেতুমুখাপ্য ব্যাচষ্টে- কথমিতি। প্রাপ্তপরমানন্দত্বান্নিস্কামতেত্যর্থঃ। আপ্তকামত্বে হেতুমাকাঙ্ক্ষাপূর্বকমাহ-কথ- মিত্যাদিনা। হেতুমেব সাধয়তি-যদ্যেতি। তস্য যুক্তমাপ্তকামত্বমিতি শেষঃ। উক্তমর্থং প্রমাণপ্রদনার্থং প্রপঞ্চয়তি-আত্মৈবেতি। কাময়িতব্যাভাবং ব্রহ্মবিদঃ শ্রুত্যবষ্টন্তেন স্পষ্টয়তি-যদ্যেতি। ইতি বিদ্যাবস্থা যদ্য বিদুষোহস্তি, সোহন্যমবিজানন্ ন কঞ্চিদপি কাময়েতেতি যোজনা। পদার্থোহন্যত্বেনাবিজ্ঞাতোহপি কাময়িতব্যঃ স্যাদিতি চেন্নেত্যাহ- জ্ঞায়মানো হীতি। অনুভূতে স্মরণবিপরিবর্তিনি কামনিয়মাদিত্যর্থঃ। অন্যত্বেন জ্ঞায়মানস্তর্হি পদার্থো বিদুষোহপি কাময়িতব্যঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। আপ্তকামস্য ব্রহ্মবিদো দর্শিতরীয়া কাময়িতব্যাভাবে মুক্তিঃ সিদ্ধেত্যুপসংহরতি-য এবেতি। কথং কাময়িতব্যা- ভাবোহনাত্মনস্তথাত্বাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন হীতি। সর্বাত্মত্বমনাত্মকাময়িতৃত্বং চ স্যাদিত্যা- শঙ্ক্যাহ-অনাত্মা চেতি। অপেত্যাদিবাক্যে শ্রৌতমর্থযুক্তাহর্থসিদ্ধমর্থং কথয়তি-সর্ব্বাত্ম- দর্শন ইতি। ৩
যে তু প্রত্যবায়পরিহারার্থং কৰ্ম্ম কল্পয়ন্তি ব্রহ্মবিদোহপি, তেষাং নাম্মৈব সর্ব্বং ভবতি, প্রত্যবায়স্য জিহাসিতব্যস্য আত্মনোঽন্যস্যাভিপ্রেতত্বাৎ। যেন চ অশ- নায়াদ্যতীতো নিত্যং প্রত্যবায়াসম্বদ্ধো বিদিত আত্মা, তৎ বয়ং ব্রহ্মবিদৎ ক্রমঃ। নিত্যমেব অশনায়াদ্যতীতমাত্মানং পশ্যতি; যস্মাৎ চ জিহাসিতব্যমন্যমুপাদেয়ং বা যো ন পশ্যতি, তস্য কৰ্ম্ম ন শক্যত এব সম্বন্ধুম্। যস্তু অব্রহ্মবিৎ, তস্য ভবত্যেব প্রত্যবায়পরিহারার্থং কর্মেতি ন বিরোধঃ। ততঃ কামাভাবাদ অকাময়মানো ন জায়তে, মুচ্যুত এব। ৪
কৰ্ম্মজড়ানাং মতমুখাপ্য শ্রুতিবিরোধেন প্রত্যাচষ্টে-যে ত্বিতি। ব্রহ্মবিদি প্রত্যবায়- প্রাপ্তিমঙ্গীকৃত্যোক্তমিদানীং তৎপ্রাপ্তিরেব তস্মিন্নাস্তীত্যাহ-যেন চেতি। যথোক্তস্যাপি ব্রহ্মবিদো বিহিতত্বাদেব নিত্যাদ্যনুষ্ঠানং স্যাদিতি চেন্নেত্যাহ-নিত্যমেবেতি। যো হি সদৈব সংসারিণমাত্মানমনুভবতি, ন চ হেয়মাদেয়ং বাত্মনোহন্যৎ পশ্যতি। যম্মাদেবং, তস্মাৎ তস্য কৰ্ম্ম সংস্প্রষ্টুমযোগ্যম্। যথোক্তব্রহ্মবিদ্যয়া কৰ্ম্মাধিকারহেতুনামুপমৃদিতত্বাদিত্যর্থঃ। কৰ্ম্ম- সম্বন্ধস্তর্হি কস্যেত্যাশঙ্ক্যাহ-যস্থিতি। ন বিরোধো বিধিকাগুস্যেতি শেষঃ। শ্রুত্যর্থাভ্যাং সিদ্ধমর্থমুপসংহরতি-অত ইতি। বিদ্যাবশাদিত্যেতৎ। কামাভাবাৎ কৰ্মাভাবাচ্চেতি দ্রষ্টব্যম্। অকাময়মানোহকুর্ব্বাণশ্চেতি শেষঃ। ৪
তস্য এবমকাময়মানস্য কৰ্ম্মাভাবে গমনকারণাভাবাৎ, প্রাণা বাগাদরঃ, ন উৎক্রামন্তি ন ঊর্দ্ধং ক্রামন্তি দেহাৎ; স চ বিদ্বান্ আপ্তকামঃ, আত্মকাতয়া ইহৈব ব্রহ্মভূতঃ। সর্ব্বাত্মনো হি ব্রহ্মণো দৃষ্টান্তত্বেন প্রদর্শিতমেতদ্রূপম্—“তদ্বা- অস্যৈতদাপ্তকামমাত্মকামমকামং রূপম্” ইতি; তস্য হি দাষ্টান্তিকভূতোহয়মর্থ উপসংহ্রিয়তে ‘অথাকাময়মানঃ’ ইত্যাদিনা। ৫
দেশান্তরপ্রাপ্ত্যায়ত্তা মুক্তিরিত্যেতন্নিরাকর্তুং ন তস্যেত্যাদি ব্যাচষ্টে-তস্যেত্যাদিনা। ব্রহ্মৈব সন্নিভ্যেতদবতারয়তি-স চেতি। কথং বর্তমানে দেহে তিষ্ঠন্নেব ব্রহ্মভূতো ভবতি, তত্রাহ- সর্ব্বাত্মনো হীতি। ৫
স কথমেবস্তুতো মুচ্যুত ইত্যুচ্যতে—যো হি সুষুপ্তাবস্থমিব নির্বিশেষমদ্বৈতম্ অলুপ্তচিদ্রূপজ্যোতিঃস্বভাবম্ আত্মানং পশ্যতি, তস্যৈবাকাময়মানস্য কৰ্ম্মাভাবে গমনকারণাভাবাৎ প্রাণাঃ বাগাদয়ঃ ন উৎক্রামন্তি; কিন্তু বিদ্বান্ স ইহৈব ব্রহ্ম, যদ্যপি দেহবানিব লক্ষ্যতে; স ব্রহ্মৈব সন্ ব্রহ্মাপ্যেতি। যস্মাৎ ন হি তস্যা- ব্রহ্মত্বপরিচ্ছেদহেতবঃ কামাঃ সন্তি, তস্মাদিহৈব ব্রহ্মৈব সন্ ব্রহ্ম অপ্যেতি, ন শরীরপাতোত্তরকালম্। ন হি বিদুষো মৃতস্য ভাবান্তরাপত্তিঃ জীবতোহন্যো ভাবঃ, দেহান্তরপ্রতিসন্ধানাভাবমাত্রেণৈব তু ব্রহ্মাপ্যেতীত্যুচ্যতে। ৬
দৃষ্টান্তালোচনয়া দাষ্টান্তিকেহপি সদা ব্রহ্মত্বং ভাতীতি ভাবঃ। সদা ব্রহ্মীভূতস্য মুক্তির্নাম নাস্তীতি শঙ্কিত্বা পরিহরতি-স কথমিতি। পরিহারমেব ক্ষোরয়িতুং ন তস্যেত্যাদিবাক্যার্থ- মনুদ্রবতি-তস্যৈবেতি। ব্রহ্মৈব সন্নিত্যস্যার্থমনুবদতি-কিং ত্বিতি। বিদ্বানিহৈব ব্রহ্ম চেৎ, কথং তন্য ব্রহ্মপ্রাপ্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-ব্রহ্মৈবেতি। যদুক্তং ব্রহ্মৈব সন্নিত্যাদি; তদুপপাদয়তি- যম্মাদিতি। প্রাগপি ব্রহ্মভূতস্যৈব পুনর্দেহপাতে ব্রহ্মপ্রাপ্তিরিত্যুক্তং, বিদুষো মৃতস্য ভাবান্তরাপত্তিস্বীকারাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন হীতি। কথং তর্হি ব্রহ্মাপ্যেতীত্যুচ্যতে, তত্রাহ- দেহান্তরেতি। ৬
ভাবান্তরাপত্তৌ হি মোক্ষস্য সর্ব্বোপনিষদ্বিবক্ষিতোহর্থঃ—আত্মৈকত্বাখ্যঃ, স বাধিতো ভবেৎ; কৰ্ম্মহেতুকশ্চ মোক্ষঃ প্রাপ্নোতি, ন জ্ঞাননিমিত্ত ইতি; স চানিষ্টঃ; অনিত্যত্বঞ্চ মোক্ষস্য প্রাপ্নোতি; ন হি ক্রিয়ানিবৃত্তোহর্থো নিত্যো দৃষ্টঃ। নিত্যশ্চ মোক্ষোহভ্যুপগম্যতে, ‘এষ নিত্যো মহিমা’ ইতি মন্ত্রবর্ণাৎ। ন চ স্বাভাবিকাৎ স্বভাবাদন্যৎ নিত্যং কল্পয়িতুং শক্যম্; স্বাভাবিকশ্চেদ্ অগ্ন্যুষ্ণবদ্ আত্মনঃ স্বভাবঃ, স ন শক্যতে পুরুষব্যাপারানুভাবীতি বক্তুং। ন হি অগ্নেরৌষ্ণ্যং প্রকাশো বা অগ্নিব্যাপারানন্তরানুভাবী; অগ্নিব্যাপারানুভাবী, স্বাভাবিকশ্চেতি বিপ্রতিষিদ্ধম্। ৭
বিদুঃ। তদ্বৎপাপশুদ্ধিস্তুং কিঞ্চিৎ পশ্যতি কিঞ্চিৎ দূষণীতি চেৎ, তত্রাহ—তদ্বৎপাপশুদ্ধিস্তুং।
হীতি। তথা চোপনিষদামপ্রামাণ্যং বিনা হেতুর্নস্যাদিতি ভাবঃ। ভাবান্তরাপত্তিমুক্তিরিত্যত্র দোযান্তরমাহ-কর্মেতি। ইতিপদাদুপরিষ্টাৎ ক্রিয়াপদস্য সম্বন্ধঃ। অস্তু কৰ্ম্মনিমিত্তো মোক্ষো জ্ঞাননিমিত্তস্ত মা ভূৎ, তত্রাহ-স চেতি। প্রসঙ্গঃ সর্ব্বনাম্না পরামৃশ্যতে। প্রতিষেধশাস্ত্র- বিরোধাদিতি ভাবঃ। মোক্ষস্য কৰ্ম্মসাধ্যত্বে দোষান্তরমাহ-অনিত্যত্বং চেতি। তত্রোপযুক্তাং ব্যাপ্তিমাহ-ন হীতি। অস্তু তর্হি প্রাসাদাদিবৎ ক্রিয়াসাধ্যস্য মোক্ষস্যাপ্যনিত্যত্বং, নেত্যাহ- নিত্যশ্চেতি। কৃতকোহপি ব্রহ্মভাবো ধ্বংসবন্নিত্যঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। কৃত্রিম- স্বভাবব্যাবৃত্ত্যর্থং স্বাভাবিকপদম্। ‘অতোহন্যদার্তম্’ ইতি হি শ্রুতিঃ। ধ্বংসস্য তু বিকল্প- মাত্রত্বাৎ নিত্যত্বমসম্মতমিতি ভাবঃ। মোক্ষো অকৃত্রিমস্বভাবোহপি কর্ম্মোত্থঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ- স্বাভাবিকশ্চেদিতি। অগ্নেরৌষ্ণাবদাত্মনো মোক্ষশ্চ স্বাভাবিকস্বভাবশ্চেৎ, ন স ক্রিয়াসাধ্যো ব্যাঘাতাদিত্যর্থঃ। দৃষ্টান্তং সমর্থয়তে-ন হতি। ৭
জ্বলনব্যাপারানুভাবিত্বম্ উষ্ণ-প্রকাশয়োরিতি চেৎ; ন, অন্যোপলব্ধিব্যব- ধানাপগমাভিব্যক্ত্যপেক্ষত্বাৎ; জ্বলনাদিপূর্ব্বকম্ অগ্নিঃ উষ্ণপ্রকাশগুণাভ্যামভি- ব্যজ্যতে, তৎ ন অগ্নাপেক্ষয়া; কিং তহি, অন্যদৃষ্টেঃ অগ্নেরৌষ্ণ্যপ্রকাশৌ ধর্ম্মো ব্যবহিতৌ, কস্যচিদ্ দৃষ্ট্যা তু অসম্বধ্যমানৌ, জলনাপেক্ষরা ব্যবধানাপগমে দৃষ্টে- রভিব্যজ্যেতে; তদপেক্ষয়া ভ্রান্তিরুপজায়তে—জ্বলনপূর্ব্বকাবেতৌ উষ্ণপ্রকাশৌ ধর্ম্মো জাতাবিতি। যদি উষ্ণপ্রকাশয়োরপি স্বাভাবিকত্বং ন স্যাৎ, যঃ স্বাভা- বিকোহগ্নের্ধর্ম্মঃ, তমুদাহরিষ্যামঃ; ন চ স্বাভাবিকো ধৰ্ম্ম এব নাস্তি পদার্থানা- মিতি শক্যং বক্তুম্। ৮
অরণিগতস্যাগ্নেরৌক্ষ্যপ্রকাশৌ নোপলভ্যেতে, সতি চ জ্বলনে দৃগেতে, তেন স্বাভাবিকাবপি তাবাগন্তকৌ কাদাচিৎকোপলব্ধিমত্ত্বাদিতি শঙ্কতে--জ্বলনেতি। ন হি সতোহগ্নেরৌফ্যাদি কাদাচিৎকং যুক্তং, তৎদৃষ্টেব্ব্যাবধানন্য দাব্বাদেধ্বংসে-মথনজলনাদিনা বহ্নাভিব্যক্তিমপেক্ষ্য তৎস্বভাবস্থৌফ্যাদেব্ব্যক্ত্যভ্যুপগমাদিতি পরিহরতি-নান্যেতি। তদেব প্রপঞ্চয়তি-জ্বলনা- দীতি। মথনাদিব্যাপারবশাৎ প্রকাশাদিনা ব্যজ্যতেইগ্নিরিতি যদুচ্যতে, তদগ্নৌ সত্যেব তদ্গতব্যাপারাপেক্ষয়া তদৌফ্যাদ্যভিব্যক্তিবশাৎ ন ভবতি, কিন্তু দেবদত্তদৃষ্টেরগ্নিধর্ম্মৌ ব্যবহিতৌ, ন তু তৌ কস্যচিৎ দৃষ্ট্যা সম্বন্ধেতে, জ্বলনাদিব্যাপারাৎ তু দৃষ্টেব্বাবধানভঙ্গে তয়োরভিব্যক্তিরিত্যর্থঃ। কথং তহি জ্বলনাদিব্যাপারাদগ্নেরৌক্ষ্যপ্রকাশৌ জাতাবিতি বুদ্ধিঃ, তত্রাহ-তদপেক্ষয়েতি। জ্বলনাদিব্যাপারাৎ দৃষ্টিব্যবধানভঙ্গে বহ্নেরৌক্ষ্যপ্রকাশাভিব্যক্ত্য- পেক্ষয়েতি যাবৎ। যথা বহ্নেরৌফ্যাদি স্বাভাবিকং ন ক্রিয়াসাধ্যং, তথাত্মনো মুক্তিঃ স্বাভাবিকী ন ক্রিয়াসাধ্যেত্যুক্তমিদানীমগ্নেরৌক্ষ্যাদি ন স্বাভাবিকমিত্যাশঙ্ক্যাহ-যদীতি। উদাহরিষ্যামো মোক্ষস্যাত্মস্বভাবস্যাকৰ্ম্মসাধ্যত্বায়েতি শেষঃ। অথাগ্নেঃ স্বাভাবিকো ন কশ্চিদ্ধর্মোহস্তি, যো মোক্ষস্য দৃষ্টান্তঃ স্যাদত আহ-ন চেতি। লব্ধাত্মকং হি বস্তু বস্তুতরেণ সম্বধ্যতে। অস্তি চ নিম্বাদৌ তিক্তত্বাদিধীরিত্যর্থঃ। ভাবান্তরাপত্তিপক্ষং প্রতিক্ষিপ্য, পক্ষান্তরং প্রত্যাহ-ন চেতি।
ন হি বক্ষ্য তথাভূতস্য নিবৃত্তিরোধানাপ্যথাভূতস্যানবস্থানাৎ, ন চ প্রসিদ্ধিবিরোধো দুর্নিরূপধ্বস্তিবিষয়ত্বাদিতি ভাবঃ। ৮
ন চ নিগড়ভঙ্গ ইব অভাবভূতো মোক্ষঃ বন্ধননিবৃত্তিরুপপদ্যতে, পরমা- ত্মৈকত্বাভ্যুপগমাৎ, “একমেবাদ্বিতীয়ম্” ইতি শ্রুতেঃ; ন চান্যো বদ্ধোহস্তি, যস্য নিগড়নিবৃত্তিবৎ বন্ধননিবৃত্তির্মোক্ষঃ স্যাৎ; পরমাত্মব্যতিরেকেণ অন্যস্যাভাবং বিস্তরেণ অবাদিম্ম। তস্মাদবিদ্যানিবৃত্তিমাত্রে মোক্ষব্যবহার ইতি চাবোচাম, যথা রজ্জাদৌ সর্পাদিজ্ঞাননিবৃত্ত্যা সর্পাদিনিবৃত্তিরিতি। ৯
কিঞ্চ, পরস্মাদন্যস্য বন্ধনিবৃত্তিস্তস্যৈব বা? নাদ্য ইত্যাহ-ন চেতি। তত্র হেতুত্বেন পরমাত্মৈকত্বাভ্যুপগমাদিত্যাদি ভাষ্যং ব্যাখ্যেয়ম্! ন দ্বিতীয়স্তস্য নিত্যমুক্তস্য ত্বয়াপি বদ্ধস্থান- ভ্যুপগমাদিতি দ্রষ্টব্যম্। কথং পরস্মাদন্যো বদ্ধে। নাস্তীত্যাশঙ্ক্য প্রবেশবিচারাদাবুক্তং স্মারয়তি-পরমাত্মেতি। ন চেদন্যো বদ্ধোহস্তি, কথং মোক্ষব্যবহারঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ- তস্মাদিতি। অন্যস্য বদ্ধস্যাভাবাৎ পরস্য চ নিত্যমুক্তত্বাদিতি যাবৎ। যথা রজ্জাদাবধিষ্ঠানে সর্পাদিহেতোরজ্জজ্ঞানস্থ্য নিবৃত্তৌ সত্যাং সর্পাদেরপি নিবৃত্তিস্তথাবিদ্যায়া বন্ধহেতোনিবৃত্তিমাত্রেণ তৎকার্য্যস্থ্য বন্ধস্যাপি নিবৃত্তিব্যবহারো ভবতীতি চাবাদিম্মেতি যোজনা। ৯
যেহপি আচক্ষতে-মোক্ষে বিজ্ঞানান্তরম্ আনন্দান্তরং চ অভিব্যজ্যত ইতি, তৈর্ব্বক্তব্যঃ অভিব্যক্তিশব্দার্থঃ। যদি তাবৎ অলৌকিক্যেব উপলব্ধিবিষয়ব্যাপ্তি- রভিব্যক্তিশব্দার্থঃ, ততো বক্তব্যম্-কিং বিদ্যমানমভিব্যজ্যতে? অবিদ্যমানমিতি বা? বিদ্যমানঞ্চেৎ, যস্য মুক্তস্য তদভিব্যজ্যতে, তস্যাত্মভূতমেব তৎ, ইত্যুপলব্ধি- ব্যবধানানুপপত্তেঃ; নিত্যাভিব্যক্তত্বাৎ ‘মুক্তস্যাভিব্যজ্যতে’ ইতি বিশেষবচনমনর্থক- মেব। অথ কদাচিদেবাভিব্যজ্যতে, উপলব্ধিব্যবধানাৎ অনাত্মভূতৎ তদ্ ইতি অন্যতোহভিব্যক্তিপ্রসঙ্গঃ; তথা চাভিব্যক্তিসাধনাপেক্ষতা। উপলব্ধি-সমানা- শ্রয়ত্বে তু ব্যবধানকল্পনানুপপত্তেঃ সর্ব্বদা অভিব্যক্তিঃ অনভিব্যক্তিৰ্ব্বা; ন তু অন্তরালকল্পনায়াং প্রমাণমস্তি। ন চ সমানাশ্রয়াণামেকস্যাত্মভূতানাং ধর্ম্মাণাম্ ইতরেতরবিষয়-বিষয়িত্বং সম্ভবতি। বিজ্ঞান-সুখয়োশ্চ প্রাগভিব্যক্তেঃ সংসারিত্বম্, অভিব্যক্তুত্তরকালঞ্চ মুক্তত্বং যস্য, সোহন্যঃ পরস্মাৎ নিত্যাভিব্যক্তজ্ঞানস্বরূপাৎ অত্যন্তবৈলক্ষণ্যাৎ, শৈত্যমিবৌষ্ণ্যাৎ। পরমাত্মভেদকল্পনায়াঞ্চ বৈদিকঃ কৃতান্তঃ পরিত্যক্তঃ স্যাৎ। ১০।
মতান্তরমুদ্ভাবয়তি—যেহপ্যাচক্ষত ইতি। বৈষয়িকজ্ঞানানন্দাপেক্ষয়ান্তরশব্দঃ। কেয়মভি- ব্যক্তিরুৎপত্তির্ব্বা প্রকাশো বা। নাদ্যো মোক্ষে সুখাদ্যুৎপত্তৌ তদনিত্যত্বাপত্তেরিত্যভি- প্রেত্যাহ—তৈরিতি। দ্বিতীয়মালম্বতে—যদীতি। তত্র দোষং বক্তুং বিকল্পয়তি—তত ইতি। দ্বিতীয়ে খরবিষাণবদপরোক্ষাভিব্যক্তিঃ ন স্যাদিত্যভিপ্রেত্যাদ্যমনুভাষ্য দুষয়তি—বিদ্যমানং
চেদিতি। উপলব্ধিস্বভাবস্তাবদাত্মা, তস্য বিদ্যমানং সুখাদি ব্যজ্যতে চেৎ, জ্ঞানানন্দয়োর্দেশাদি- ব্যবধানাভাবাদানন্দঃ সদৈব ব্যজ্যত ইতি মুক্তিবিশেষণমনর্থকমিত্যর্থঃ। চক্ষুঘটয়োর্বিষয়- বিষয়িত্বপ্রতিবন্ধককুড্যাদিবদধৰ্ম্মাদিপ্রতিবন্ধাদানন্দো জ্ঞানং চ সংসারদশায়াং ন ব্যজ্যতে, মোক্ষে তু ব্যজ্যতে, তদভাবাদিতি শঙ্কতে-অথেতি। উপলব্ধিদেশাস্তিন্নদেশস্যৈব ঘটাদেরুপ- লব্ধিপ্রতিবন্ধদর্শনাদনাত্মভূতং সুখং ন স্বভাবভূতয়োরুপলন্ধ্যা প্রকাশেত, কিন্তু বিষয়েন্দ্রিয়- সম্পর্কাদিত্যুত্তরমাহ-তথা চেতি। তৎসাধনানি চেৎ মুক্তৌ স্থাঃ, সংসারাদবিশেষঃ স্যাদিতি ভাবঃ। উপলব্ধিব্যবধানমানন্দস্যাঙ্গীকৃত্যোক্তমিদানীং তদেব নাস্তীত্যাহ-উপলব্ধীতি। কদাচিদভিব্যক্তিরনভিব্যক্তিশ্চ কদাচিদিত্যেবং কালভেদেনোভয়ং কিং ন স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন ত্বিতি। আনন্দজ্ঞানয়োবিষয়বিষয়িত্বমভূপেত্য কাদাচিৎকী তাবদভিব্যক্তিনিরস্তা, সংপ্রতি তদপি ন সংভযতীত্যাহ-ন চেতি। আত্মভূতত্বং স্বাভাবিকত্বম্। বিমতং ন সমানাশ্রয়বিষয়ং ধৰ্ম্মত্বাৎ প্রদীপপ্রকাশবদিতি ভাবঃ। মুক্তাবানন্দজ্ঞানাভিব্যক্তিপক্ষে দোষান্তরং বক্তুং ভূমিকাং করোতি-বিজ্ঞানসুখয়োশ্চেতি। ১০
মোক্ষস্য ইদানীমিব নির্বিশেষত্বে তদর্থাধিকযত্নানুপপত্তিঃ শাস্ত্রবৈয়র্থ্যৎ চ প্রাপ্নোতীতি চেৎ; ন, অবিদ্যাভ্রমাপোহার্থত্বাৎ। ন হি বস্তুতো মুক্তামুক্তত্ববিশে- যোহস্তি, আত্মনো নিত্যৈকরূপত্বাৎ; কিন্তু তদ্বিষয়া অবিদ্যা অপোহাতে শাস্ত্রোপ- দেশজনিতবিজ্ঞানেন; প্রাক্ তদ্রুপদেশপ্রাপ্তেঃ তদর্থশ্চ প্রযত্ন উপপদ্যত এব। অবিদ্যাবতঃ অবিদ্যানিবৃত্ত্যানিবৃত্তিকৃতো বিশেষ আত্মনঃ স্যাদিতি চেৎ; ন, অবিদ্যাকল্পনাবিষয়ত্বাভ্যুপগমাৎ; রজ্জু বর-শুক্তিকা-গগনানাং সর্পোদক-রজত- মলিনত্বাদিবদ্ অদোষ ইত্যবোচাম। ১১।
তত্তেদাপাদনমিষ্টমেবেত্যাশঙ্কা বিবক্ষিতং দোষমাহ-পরমাত্মেতি। পরমতে নিরাকৃতে সিদ্ধান্তেহপি দোষদ্বয়মাশঙ্কতে-মোক্ষস্যেতি। মোক্ষার্থোহধিকো যত্নঃ শমদমাদিঃ। শাস্ত্রং মোক্ষবিষয়ম্। মোক্ষস্য নির্বিশেষত্বেহপি প্রত্যগবিদ্যাতদুখানর্থধ্বংসিত্বেনোভয়মর্থবদিতি পরি- হরতি-নাবিদ্যেতি। তত্র নএর্থং বিবৃণোতি-ন হীতি। কথং তহি শাস্ত্রাদ্যর্থবত্ত্বমিত্যা- শঙ্ক্যাহ-কিং ত্বিতি। তদ্র শাস্ত্রস্যার্থবস্তুং সমর্থয়তি-তদ্বিষয়েতি। প্রস্তুততাত্মবিষয়স্তচ্ছন্দঃ। সংপ্রতি প্রযত্নস্যার্থবত্ত্বং প্রকটয়তি-প্রাগিতি। প্রথমস্তচ্ছন্দঃ শাস্ত্রবিষয়ঃ। দ্বিতীয়ো মোক্ষ- বিষয়ঃ। আত্মনঃ সদৈকরূপত্বং প্রাগুক্তমাক্ষিপতি-অবিদ্যেতি। অবিদ্যঃ সোহপীতি সমাধত্তে-নেতি। যথা রজ্জ্বাদ্যবিদ্যোখসর্পাদেস্তদ্বিদ্যয়া ধ্বংসাধ্বংসয়ো রজ্জাদের্ন বাস্তবো বিশেষস্তথাত্মনোহপি স্বাবিদ্যামাত্রোত্থবিশেষবত্ত্বেহপি তধ্বংসাধ্বংসয়োর্ন বাস্তবো বিশেষো- হস্তীত্যর্থঃ। অদোষঃ সবিশেষত্বদোষরাহিত্যম্। ১১
তিমিরাতিমিরদৃষ্টিবৎ অবিদ্যাকর্তৃত্বাকর্তৃত্বকৃত আত্মনো বিশেষঃ স্যাদিতি চেৎ; ন, “ধ্যায়তীব লেলায়তীব” ইতি স্বতোহবিদ্যাকর্তৃত্বস্য প্রতিষিদ্ধত্বাৎ; অনেক- ব্যাপারসন্নিপাতজনিতত্বাচ্চ অবিদ্যাভ্রমস্য; বিষয়ত্বোপপত্তেশ্চ; যস্য চাবিদ্যাভ্রমো
ঘটাদিবদ্বিবিক্তো গৃহ্যতে, স নাবিদ্যাভ্রমবান্। অহং ন জানে মুগ্ধোহম্মীতি প্রত্যয়- দর্শনাদ্ অবিদ্যাভ্রমবত্ত্বমেবেতি চেৎ; ন, তস্যাপি বিবেক-গ্রহণাৎ; ন হি যো যস্য বিবেকেন গ্রহীতা, স তস্মিন্ ভ্রান্ত ইত্যুচ্যতে; তস্য চ বিবেকগ্রহণম্, তস্মিন্নেব চ ভ্রম ইতি বিপ্রতিষিদ্ধম্। ন জানে মুগ্ধোহম্মীতি দৃশ্যতে—ইতি ব্রবীষি—তদ্দর্শিনশ্চ অজ্ঞানং মুগ্ধরূপতা দৃশ্যতে—ইতি চ তদ্দর্শনস্য বিষয়ো ভবতি কৰ্ম্মতামাপদ্যত ইতি; তৎ কথং কৰ্ম্মভূতং সৎ কর্তৃস্বরূপ-দৃশিবিশেষণম্ অজ্ঞান- মুগ্ধতে স্যাতাম্?।
অথ দৃশিবিশেষণত্বং তয়োঃ, কথং কৰ্ম্ম স্যাতাম্—দৃশিনা ব্যাপ্যেতে? কৰ্ম্ম হি কর্তৃ-ক্রিয়য়া ব্যাপ্যমানং ভবতি, অন্যচ্চ ব্যাপ্যম্ অন্যদ্ব্যাপকম্; ন তেনৈব তদ্ব্যাপ্যতে। বদ, কথমেবংসতি অজ্ঞান-মুগ্ধতে দৃশিবিশেষণে স্যাতাম্?। ১২।
প্রকারান্তরেণ সবিশেষত্বং শঙ্কতে-তিমিরেতি। কিমিদমবিদ্যাকর্তৃত্বং? কিং তজ্জনকত্বং কিং বা তদাশ্রয়ত্বমিতি বিকল্প্যাদ্যং দূষয়তি-ন ধ্যায়তীবেতি। আত্মনঃ স্বতোহবিদ্যাকর্তৃত্বা- ভাবে হেত্বন্তরমাহ-অনেকেতি। বিষয়বিষয্যাকারোহস্তঃকরণস্য তত্র চিদাভাসোদয়শ্চাত্মনো ব্যাপারস্তথাচানেকব্যাপারসংনিপাতে সত্যহং সংসারীত্যবিদ্যাত্মকো ভ্রমো জায়তে, তস্মান্ন তস্যাত্মকার্যতেত্যর্থঃ। কল্পান্তরং প্রত্যাহ-বিষয়ত্বেতি। অবিদ্যাদেরাত্মদৃশ্যত্বান্ন তদাশ্রয়ত্বং, ন হি তদগতস্য তদ্গ্রাহ্যত্বমংশতঃ স্বগ্রহাপত্তেরিতার্থঃ। তদেব স্ফোরয়তি-যস্য চেতি। অনুভবমনুসূত্য শঙ্কতে-অহং নেত্যাদিনা। সাক্ষিসাক্ষ্যভাবেন ভেদাভ্যুপগমান্নাত্মনোহ- বিদ্যাশ্রয়ত্বমিত্যুত্তরমাহ-ন তস্যাপীতি। তদেব স্পষ্টয়তি-ন হীতি। অবিদ্যাদেবিবেকেন গ্রহীতর্য্যপি তদ্বিষয়ে ভ্রান্তত্বে কা হানিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-যস্য চেতি। অজ্ঞানং মুগ্ধত্ব’ চাত্মনো ন বিশেষণমিতি বিধান্তরেণ দর্শয়িতুং চোদ্যবাক্যমনুবদতি-ন জান ইতি। তদ্ব্যাচষ্টে- তদ্দর্শিনশ্চেতি। অজ্ঞানাদিস্তচ্ছব্দার্থঃ। দৃশ্যমানত্বমেব বিশদয়তি-কর্মতামিতি। ইতি ব্রবীষীতি সম্বন্ধঃ। এবং পরকীয়ং বাক্যং ব্যাখ্যায়-ফলিতমাহ-তৎকথমিতি। তত্র চাদ্যবাক্যার্থে দর্শিতরীত্যা স্থিতে সতি কর্তৃবিশেষণং নাজ্ঞানমুগ্ধতে স্যাতাং, তয়োঃ প্রত্যেকং কৰ্ম্মভূতত্বাদিত্যর্থঃ। ১২
ন চ অজ্ঞানবিবেকদর্শী অজ্ঞানম্ আত্মনঃ কৰ্ম্মভূতমুপলভমান উপলব্ধ-ধৰ্ম্মত্বেন গৃহ্লাতি, শরীরে কার্য্যরূপাদিবৎ। তথা সুখদুঃখেচ্ছাপ্রযত্নাদীন্ সর্ব্বো লোকো গৃহ্লাতীতি চেৎ; তথাপি গ্রহীতুর্লোকস্য বিবিক্ততৈবাভ্যুপগতা স্যাৎ। ন জানেহহং ত্বদুক্তং—মুগ্ধ এবেতি চেৎ; ভবতু অজ্ঞো মুগ্ধঃ, যস্তু এবংদর্শী, তং জ্ঞমমুগ্ধং প্রতি- জানীমহে বয়ম্। তথা ব্যাসেনোক্তম্, ইচ্ছাদি কৃৎস্নং ক্ষেত্রং ক্ষেত্রী প্রকাশয়তীতি,
“নমঃ সর্ব্বেষু ভূতেষু তিষ্ঠন্তং পরমেশ্বরম্।
বিনাশং বিনাশং যঃ পশ্যতি ন পশ্যতি ॥”
১২২৭
ইত্যাদি শতশ উক্তম্। তস্মান্নাত্মনঃ স্বতো বদ্ধমুক্তজ্ঞানাজ্ঞানকৃতো বিশে- যোহস্তি, সর্ব্বদা সমৈকরসস্বাভাব্যাভ্যুপগমাৎ। ১৩।
বিপক্ষে দোষমাহ-অথেতি। কথং কৰ্ম্ম স্যাতামিত্যেতদেব ব্যাচষ্টে-দৃশিনেতি। তত্রাপি কথংশব্দঃ সংবধ্যতে। এতদেব স্ফুটয়তি-কৰ্ম্ম হীতি। এবং সতি ব্যাপ্যব্যাপক- ভাবস্য ভেদনিষ্ঠত্বে সতীত্যেতৎ। কিংচাজ্ঞানমুপলব্ধ ধর্ম্মো ন ভবত্যুপলভ্যমানত্বাদ্দেহগত- কার্যাদিবদিত্যাহ-ন চেতি। অজ্ঞানবত্তৎকার্য্যমপি নাত্মধৰ্ম্মঃ স্যাদিত্যতিদিশতি-তথেতি। অজ্ঞানোত্থস্যেচ্ছাদেরাত্মধর্মত্বনিরাকরণে প্রতীতিবিরোধঃ স্যাদিতি শঙ্কতে-সুখেতি। তেষাং গ্রাহ্যত্বমঙ্গীকৃত্য পরিহরতি-তথাপীতি। আত্মনিষ্ঠত্বে সুখাদীনাং চৈতন্যবদাত্মত্বাযোগাৎ তদ্গ্রাহ্যানাং তেষাং ন তদ্ধর্মতেতি ভাবঃ। প্রকারান্তরেণ নিরাকর্ত্তুং নিরাকৃতমেব চোদ্যমনু- দ্রবতি-ন জানে ইতি। কিং প্রমাতুরজ্ঞানাদ্যাশ্রয়ত্বমনুভবাদ অভিদধাসি তৎসাক্ষিণো বা? তত্রাদ্যং প্রত্যাহ-ভবত্বিতি। কল্পান্তরং নিরাকরোতি-যস্থিতি। ন হি যো যত্র সাক্ষী, স তত্রাজ্ঞো মূঢো বেতি। তথা সর্ব্বসাক্ষী নাজ্ঞানাদিমান্ ভবর্তীত্যর্থঃ। আত্মনো মোহাদি- রাহিত্যে ভগবদ্বাক্যং প্রমাণয়তি-তথেতি। তস্য সর্ব্ববিশেষশূন্যত্বে বাক্যান্তরমুদাহরতি-- সমমিতি। আদিপদেন “সমং পশ্যন্ হি সর্বত্র।” “জ্যোতিষামপি তজ্জ্যোতিঃ” ইত্যাদি গৃহ্যতে। আত্মনো নির্বিশেষত্বে প্রামাণিকে স্বমতমুপসংহরতি-তস্মান্নেতি। ১৩
যে তু অতোহন্যথা আত্মবস্তু পরিকল্প্য বন্ধমোক্ষশাস্ত্রঞ্চ অর্থবাদমাপাদয়ন্তি, তে উৎসহন্তে—খেহপি শাকুনং পদং দ্রষ্টুম্, খং বা মুষ্টিনা আক্রষ্টুম্, চৰ্ম্মবদ্বে- ষ্টিতুম্; বয়ন্তু তৎ কর্তুমশক্তাঃ, সর্ব্বদা সমৈকরসমবিক্রিয়মজমজরমমরমনৃতমভয়- মাত্মতত্ত্বং ব্রহ্মৈবাম্মীত্যেষঃ—সর্ব্ববেদান্তনিশ্চিতোহর্থঃ—ইত্যেবং প্রতিপদ্যামহে। তস্মাদ্ ব্রহ্মাপ্যেতীত্যুপচারমাত্রমেতদ্ বিপরীতগ্রহবদ্দেহসন্ততেবিচ্ছেদমাত্রং বিজ্ঞান- ফলমপেক্ষ্য ॥ ২৯৬ ॥ ৬ ॥
পক্ষান্তরমনুভাষতে-যে ত্বিতি। অতো নির্বিশেষস্বাভাব্যাদিতি যাবৎ। অজ্ঞানান্বন্ধো জ্ঞানান্মুক্তিরিতি শাস্ত্রমর্থবাদঃ। আদিশব্দেন রুদ্ররোদনাদ্যর্থবাদং দৃষ্টান্তং সূচয়তি। সোপহাসং দূষয়তি-তে উৎসহন্ত ইতি। ন হি সবিশেষত্বং শক্যমাত্মনঃ প্রতিপতুং, নির্বিশেষত্ব- প্রত্যায়কাগমবিরোধাদিতি ভাবঃ। কথং তর্হি ভবদ্ভিরাত্মতত্ত্বমভ্যুপগম্যতে, তত্রাহ-বয়ং ত্বিতি। প্রমাণবিরুদ্ধার্থদর্শনং তচ্ছব্দেন পরামৃশ্যতে। সত্ত্বাদীনামিব সাম্যং দূষয়তি- সর্বদেতি। ভেদাভেদমপবদতি-একরসমিতি। তত্র হেতুমাহ-অদ্বৈতমিতি। দ্বৈতা- ভাবোপলক্ষিতত্বাদিত্যর্থঃ। ঐকরস্যে কৌটস্থ্যং হেত্বন্তরমাহ-অবিক্রিয়মিতি। তদুপপাদয়তি- অজমিত্যাদিনা। অমরং মরণাযোগ্যম্। তত্র সর্বত্রাবিদ্যাসংবন্ধরাহিত্যং হেতুমাহ-অভয়- মিতি। ননু ব্রহ্মৈবংবিধং ন ত্বাত্মতত্ত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-ব্রহ্মৈবেতি। যথোক্তং প্রত্যগ্ভূতং ব্রহ্মেত্যত্র প্রমাণমাহ-ইত্যেব ইতি। তত্রৈব বিদ্বদনুভবং প্রমাণয়তি-ইত্যেবমিতি। পরপক্ষনিরাসেন প্রকৃতং বাক্যার্থমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। উপচারনিমিত্তমাহ-বিপরীতেতি।
আজ্ঞা তদ্বতঃ সংসারীতি বিপরীতগ্রহবতী যা দেহসংততিস্তস্যা বিচ্ছেদমাত্রং জ্ঞানফল- মপেক্ষ্যোপচারমাত্রমিত্যর্থঃ ॥২৯৬॥৬॥
ভাষ্যানুবাদ।—কথিত বিষয়ে এইরূপ একটি শ্লোক(মন্ত্র) আছে—সক্ত অর্থ—ফলাসক্ত। পুরুষ[মৃত্যুকালে] সেই কাম্য বিষয়ে অভিলাষ সমুদ্ধ হওয়া, [মৃত্যুর পর] সেই ফলই প্রাপ্ত হয়। কি প্রকারে প্রাপ্ত হয়? কর্ম্মের সহিত— পুরুষ ফলাভিলাষী হইয়া যে কর্ম্ম করিয়াছিল, সেই কর্ম্মের(কর্ম্ম-সংস্কারের) সঙ্গেই তাহা—সেই কর্ম্মফল প্রাপ্ত হয়। যে প্রাপ্ত হয়, সে কে? না, লিঙ্গ—মনঃ। লিঙ্গ শরীরের মধ্যে মনই প্রধান, এই জন্য মনকে ‘লিঙ্গ’ বলা হইয়াছে; অথবা যাহা দ্বারা লিঙ্গিত হয়—আত্মা জ্ঞাত হয়, তাহার নাম ‘লিঙ্গ’(মনঃ)। সেই মন যে বিষয়ে নিষিক্ত—নিশ্চিতরূপে আসক্ত থাকে অর্থাৎ যে বিষয়ে তাহার অভিলাষ প্রবল থাকে, সেই সংসারী পুরুষ—সেই বিষয়ে অভিলাষী হইয়া তদনুকূল কর্ম্ম করিয়া থাকে; সেই হেতু মন তাদৃশ ফলাসক্তিতে আচরিত কর্ম্ম দ্বারা সেই অভিলষিত ফলই লাভ করে। এই কথায় ইহাই প্রমাণিত হইতেছে যে, কামনাই সংসারের মূল কারণ; এই জন্য নিষ্কাম ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষের বিবিধ কর্ম্ম বিদ্যমান থাকিলেও ফল-প্রসবে সমর্থ হয় না। অন্য শ্রুতি বলিয়াছেন ‘যাহার কামনা পর্য্যাপ্ত(পরিপূর্ণ) হইয়াছে, সেই কৃতাত্মা বা কৃতার্থ পুরুষের সমস্ত কামনা এখানেই বিলীন হইয়া যায়’ ইতি। ১
আরও এক কথা, স্বকৃত কর্মের অন্ত—অবসান প্রাপ্ত হইয়া অর্থাৎ ফল-ভোগ শেষ করিয়া,—কোন কর্ম্মের অন্ত প্রাপ্ত হইয়া, তাহা বলা হইতেছে—এই সংসারী জীব ইহলোকে যে কৰ্ম্ম সম্পাদন করে, সেই কর্ম্মের অন্ত পাইয়া—ফল- ভোগ শেষ করিয়া পুনর্ব্বার কর্ম্ম করিবার নিমিত্ত সেই পরলোক হইতে ইহলোকে ফিরিয়া আইসে। অভিপ্রায় এই যে, এই মর্ত্যলোক স্বভাবতঃই কর্মপ্রধান; সেই কারণে বলিলেন—‘কর্ম্মণে’ পুনর্ব্বার কর্ম্ম করিবার জন্য; এখানে কর্মকর্তার কর্মফলে আসক্তি থাকায় পুনর্ব্বার পরলোকে প্রয়াণ করিতে হয়; এই প্রকারেই কামনাবান্(সকাম পুরুষ) জন্মমরণপ্রবাহ ভোগ করিয়া থাকে। ২
যেহেতু সকাম পুরুষই এইপ্রকারে সংসরণ করে, সেই হেতুই[বুঝিতে হইবে যে,] অকাময়মান(কামনাহীন) পুরুষ[মৃত্যুর পর] কোথাও গমন করে না। কেন না, যে ব্যক্তি ফলাসক্ত, তাহার পক্ষেই পারলৌকিক গতি কথিত হইয়াছে; সুতরাং কামনাবিহীন পুরুষের লোকান্তরে গতি সম্ভব হয় না;[কাজেই বুঝিতে হইবে যে,] সে নিশ্চয়ই বিমুক্ত হয়। কি প্রকারে অকাময়মান হয়? না, যিনি
অকাম, তিনিই অকাময়মান। অকামত্বই বা হয় কি প্রকারে, তাহা বলা হইতেছে -যাঁহার নিকট হইতে সমস্ত কামনা দূরীভূত হইয়া যায়, তিনিই অকাম। কামনাসমূহ দূরীভূত হয় কি প্রকারে? আপ্তকাম হইলে; যিনি আপ্তকাম- যিনি সমস্ত কাম্যবস্তু প্রাপ্ত হইয়াছেন, তিনি আপ্তকাম। কামসমূহ প্রাপ্ত হয় কিরূপে? না, আত্মকামত্ব নিবন্ধন, অর্থাৎ যাহার অপর কোনও বস্তু কাম্য বা প্রার্থনীয় নাই, আত্মাই একমাত্র কাম্য, বাহ্যাভ্যন্তর ভাববিহীন পরিপূর্ণ প্রজ্ঞানৈকরস আত্মাই যাহার সমস্ত, যাহার উর্দ্ধে অধে ‘ও পার্শ্বে আত্মব্যতিরিক্ত অন্য কোন বস্তু প্রার্থনীয় থাকে না,-সমস্তই আত্ম-স্বরূপ হইয়া যায়, সে কিসের দ্বারা কাহাকে দেখিবে, শ্রবণ করিবে, মনন করিবে, অথবা জানিবে’? এইরূপ জ্ঞানোদয়ের পর, সে আর কোনও বস্তু কামনা করিতে পারে কি? আপনার অতিরিক্ত কোন পদার্থ প্রতীতিগম্য হইলেই তদ্বিধয়ে কামনা হইতে পারে; কিন্তু এই ব্রহ্মজ্ঞের পক্ষে ত আর সেই ভেদদর্শন সম্ভবপর হয় না। যিনিই আত্মকামত্ব নিবন্ধন আপ্তকাম হন, তিনিই অকাম ও অকাময়মান; সুতরাং তিনিই বিমুক্ত হন: কেন না, যাহার আত্মাই সর্ব্বময় হইয়া যায়, তাঁহার পক্ষে কখনও অনাত্মা কোন পদার্থ কাম্য(প্রার্থনীয়) থাকিতে পারে না; আত্মব্যতিরিক্ত অন্য কাম্য পদার্থ বিদ্যমান থাকিলে, ‘সমস্তই আত্মস্বরূপ হইয়া যায়’, একথা বিরুদ্ধ হয়; অতএব সর্ব্বাত্মদর্শীর অন্য কোনও কাম্য পদার্থ না থাকায় কর্মানুষ্ঠান উপপন্ন হয় না। ৩
কিন্তু যাহারা[ কর্তব্য কর্মের অকরণজনিত] প্রত্যবায়-নিবারণার্থ ব্রহ্মবিদের সম্বন্ধেও কর্মানুষ্ঠানের আবশ্যকতা কল্পনা করিয়া থাকে, তাহাদের মতে আত্মার সর্ব্বাত্মকতাই উপপন্ন হয় না; কারণ, পরিত্যাজ্য প্রত্যবায়ই(পাপই)[তাহা- দের] আত্মাতিরিক্ত পদার্থ থাকিয়া যায়। আমরা কিন্তু তাহাকেই ব্রহ্মবিদ বলিয়া থাকি, যিনি নিত্যই অশনায়া-পিপাসাদি সংসারধর্ম্মের অতীত ও পাপের সহিত অসংস্পৃষ্ট আত্মার স্বরূপ দর্শন করিয়া থাকেন। যিনি সর্ব্বদাই আপনাকে অশনায়াদি সংসার-ধৰ্ম্মাতীত আত্মস্বরূপে দর্শন করেন, এবং আপনার অতিরিক্ত ত্যাজ্য বা গ্রাহ্য অন্য কোনও পদার্থ দর্শন করেন না, কৰ্ম্ম কখনই তাঁহাকে স্পর্শ করিতে পারে না; পরন্তু যে লোক ব্রহ্মবিদ নয়, প্রত্যবায়-পরিহারের নিমিত্ত তাহার পক্ষেই বৈধ কৰ্ম্ম অবশ্য অনুষ্ঠেয় হয়; সুতরাং উভয় কথার মধ্যে কোনই বিরোধ ঘটিতেছে না। অতএব কামনা না থাকায় অকাময়মান পুরুষ কখনও পুনর্জন্ম লাভ করে না, পরন্তু দেহত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে বিমুক্ত হয়। ৪
এবংবিধ অকাম্যমান পুরুষ কর্ম্ম থাকা সম্ভব হয় না; তন্নিবন্ধন পরলোকেও
গমন হইতে পারে না; সেইহেতু তাহার প্রাণসমূহ এবং বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয়- গণও উৎক্রমণ করে না, অর্থাৎ দেহ হইতে ঊর্দ্ধগামী হয় না। সেই বিদ্বান্—জ্ঞানী আপ্তকাম পুরুষ আত্মকামত্বনিবন্ধন এখানেই ব্রহ্মস্বরূপ হন। পূর্ব্বে সর্ব্বাত্মক ব্রহ্মের দৃষ্টান্তরূপেও এবংবিধ স্বরূপই প্রদর্শিত হইয়াছে, ‘ইহাই তাহার সেই আপ্তকাম ও অকাম রূপ’ ইত্যাদি। এখানে ‘অথ অকাময়মানঃ’ ইত্যাদি বাক্যে দাষ্টান্তিক রূপের উপসংহার করিতেছেন। ৫
এবংভূত সেই পুরুষ যে, কিরূপে মুক্তিলাভ করেন, তাহা কথিত হইতেছে— যে লোক সুষুপ্তি অবস্থাপ্রাপ্তির ন্যায় নির্বিশেষ অদ্বৈত নিত্য চৈতন্য-জ্যোতিঃস্বভাব আত্মাকে(আপনাকে) দর্শন করে, সেই অকাময়মান পুরুষের কর্ম্মাভাববশতঃ গমনের কারণ বিলুপ্ত হইয়া যায়; সেইহেতু বাক্ প্রভৃতি প্রাণসমূহ ঊর্দ্ধগামী হয় না; পরন্তু সেই জ্ঞানী পুরুষ যদিও দেহবানের ন্যায়ই(দেহীর মতই) দৃষ্ট হয় সত্য, তথাপি এখানেই তিনি ব্রহ্মস্বরূপ হন; তিনি ব্রহ্মস্বরূপ বলিয়াই ব্রহ্মকে প্রাপ্ত হন। যেহেতু তাঁহার পরিচ্ছিন্ন অব্রহ্মভাবের হেতুভূত কামনাসমূহ বিদ্যমান থাকে না, সেইহেতু ইহজন্মেই তাঁহার ব্রহ্মভাব প্রবুদ্ধ হওয়ায় ব্রহ্মপ্রাপ্তি ঘটে, তাঁহার আর দেহপাতের অপেক্ষা থাকে না(১); কেননা, জ্ঞানীর যে মৃত্যুর পর অন্যভাব- প্রাপ্তি, তাহা বাস্তবিক পক্ষে জীবদবস্থা হইতে কোনও স্বতন্ত্র অবস্থা নহে, পরন্তু অজ্ঞলোকের মৃত্যুর পর যেরূপ দেহান্তরসম্বন্ধ সংঘটিত হয়, তাহার সেরূপ হয় না; এইজন্যই ‘ব্রহ্মবিদ্ ব্রহ্ম প্রাপ্ত হন’ বলা হইয়া থাকে। ৬
মোক্ষ যদি অবস্থান্তরপ্রাপ্তিই হয়, তাহা হইলে, সমস্ত উপনিষদের অভিপ্রেত যে মোক্ষের আত্মৈকভাব বা কৈবল্যরূপতা, তাহা বাধিত হইয়া পড়ে; তাহা ত কাহারো বাঞ্ছনীয় নহে; অধিকন্তু ঐরূপ হইলে মোক্ষের অনিত্যত্ব দোষও আপতিত হয়। যাহা ক্রিয়াদ্বারা নিষ্পন্ন হয়, কোথাও তাহার নিত্যত্ব দেখা যায় না; অথচ সকলেই মোক্ষকে নিত্য বলিয়া স্বীকার করিয়া থাকে; ‘ইহা
(১) তাৎপর্য্য—ব্রহ্মবিদের মুক্তি দুইপ্রকারে হইতে পারে, এক দেহসত্ত্বে—বর্তমান জন্মে, দ্বিতীয় দেহপাতের পর বিদেহমুক্তি। ইহজন্মেই যাহার ব্রহ্মভাব করামলকবৎ প্রত্যক্ষানুভূত হইয়াছে, ভেদদৃষ্টি ও তন্মূলীভূত অজ্ঞান আমূলতঃ বিনষ্ট হইয়াছে, তাহার মুক্তিতে আর দেহপাতের অপেক্ষা থাকে না, এই দেহেই ব্রহ্মভাবপ্রাপ্তিরূপ মুক্তি সম্পন্ন হয়। শ্রুতি বলিয়াছেন—“তস্য তাবদেব চিরম্, যাবন্ন বিমোক্ষে অথ সম্পৎস্যে” ইত্যাদি। “ন তস্য প্রাণা উৎক্রামন্তি ইহৈব সমবলীয়ন্তে, বিমুক্তশ্চ বিমুচ্যতে” ইতি। আর যাহার ব্রহ্মভাব সেরূপ প্রত্যক্ষীকৃত হয় নাই, তাহার মুক্তি দেহপাতের পর হয়, উভয়ের মধ্যে এইমাত্র বিশেষ
১২৩১
আত্মার নিত্য মহিমা বা ঐশ্বর্য্য‘—এই মন্ত্রবাক্যও এ বিষয়ে প্রমাণ। স্বভাবসিদ্ধ আত্মভাবাতিরিক্ত অন্যপ্রকার নিত্য বস্তু কেহ কল্পনা করিতে পারে না। মোক্ষ আত্মার স্বভাবসিদ্ধ হইলে, উহা নিশ্চয়ই অগ্নির স্বভাব উষ্ণতার ন্যায় আত্মারও স্বভাব ভিন্ন আর কিছুই হইতে পারে না; সেই স্বভাবকে কখনই লোকের ক্রিয়ানুগত বা ক্রিয়াসাধ্যও বলিতে পারা যায় না; কেন না, অগ্নির স্বাভাবিক উষ্ণতা বা প্রকাশ কখনই অগ্নির কোনরূপ ক্রিয়ার পরভাবী ফল নহে; কেন না, অগ্নির ক্রিয়ানন্তরভাবী অথচ তাহা অগ্নির স্বাভাবিক, একথা সম্পূর্ণ বিরুদ্ধ। ৭
যদি বল, অগ্রে অগ্নির জ্বলন, পরে তাহার উষ্ণত্ব ও প্রকাশ প্রতীত হয়; অতএব অগ্নির উষ্ণতা ও প্রকাশে ত জ্বলন-ব্যাপারের অপেক্ষা বা আনন্তর্য্য নিশ্চয়ই আছে। না, তাহা বলিতে পার না; যেহেতু অগ্নির যে ঐরূপ জ্বলন-ব্যাপারানু- ভাবিত্ব প্রতীতি, অপরের(দ্রষ্টার) প্রতীতিব্যাঘাতক কোনরূপ ব্যবধায়ক পদার্থের অপগমই তাহার কারণ। অভিপ্রায় এই যে, অগ্নির প্রজ্বলনের পরে যে, উষ্ণত্ব ও প্রকাশধর্ম্মের অভিব্যক্তি দেখিতে পাওয়া যায়, স্বয়ং অগ্নিই তাহার কারণ নহে; পরন্তু ঐ অগ্নির উষ্ণত্ব ও প্রকাশ, এই ধর্মদুইটা পূর্ব্বে অপরের দৃষ্টিপথের অন্তরালে বা ব্যবধানে ছিল, কাহারও চক্ষুর সহিত সম্বদ্ধ ছিল না; প্রজ্বলনের পর সেই ব্যবধান অন্তর্হিত হইয়া যায়, তখন ঐ উভয় ধৰ্ম্মই লোকের দৃষ্টিপথে পতিত হয়, তন্নিবন্ধন লোকের ভ্রম হইয়া থাকে যে, অগ্নির উষ্ণত্ব ও প্রকাশরূপ ধৰ্ম্ম দুইটী প্রজ্বলন হইতে জন্মিয়াছে। এই উষ্ণত্ব ও প্রকাশ যদি অগ্নির স্বাভা- বিক ধৰ্ম্ম নাই হয়, তাহা হইলে, অগ্নির যাহা স্বাভাবিক ধর্ম, আমরা তাহারই উদাহরণ প্রদর্শন করিব। কোন বস্তুর যে স্বাভাবিক ধর্ম আদৌ নাই, একথা কখনই বলিতে পারা যায় না। ৮
শৃঙ্খলভঙ্গের ন্যায় বন্ধনিবৃত্তিরূপ মোক্ষ অভাবস্বরূপও হইতে পারে না; কারণ, পরমাত্মার সহিত একীভাবকে মোক্ষ বলিয়া স্বীকার করা হইয়া থাকে, যেহেতু ‘একম্ এব অদ্বিতীয়ম্’ শ্রুতি একত্বই প্রতিপাদন করিতেছে। আর বদ্ধ পুরুষ যখন পরমাত্মাতিরিক্ত অপর কিছুই নহে, তখন তাহার বন্ধনিবৃত্তিরূপ মোক্ষ কখনই নিগড়ভঙ্গের ন্যায় অভাব হইতে পারে না। পরমাত্মাতিরিক্ত দ্বিতীয় কোন পদার্থই যে নাই—অসৎ, তাহা আমরা ইতঃপূর্ব্বে বিস্তৃতভাবে বর্ণন করিয়াছি। এইজন্যই আমরা বলিয়াছি যে, রজ্জুপ্রভৃতিতে সর্পাদিবিষয়ক অজ্ঞাননিবৃত্তির পর যেমন সর্পাদির নিবৃত্তি হয়, তেমনি শুধু অবিদ্যানিবৃত্তিতেই মোক্ষ ব্যবহার হইয়া থাকে। ৯
আর যাঁহারা বলিয়া থাকেন যে, মুক্তিতে অন্য একপ্রকার বিজ্ঞান ও আনন্দ অভিব্যক্ত হইয়া থাকে, তাঁহাদের পক্ষে ‘অভিব্যক্তি’ শব্দের অর্থ প্রকাশ করিয়া বলা আবশ্যক; যদি লোকপ্রসিদ্ধ জ্ঞাতব্য বিষয়ের আবরণ-ধ্বংসের নাম ‘অভি- ব্যক্তি’ হয়, তাহা হইলেও তোমাকে বলিতে হইবে যে, এই অভিব্যক্তি কি বিদ্যমান পদার্থের? অথবা অবিদ্যমান পদার্থের? অভিব্যক্তি যদি বিদ্যমান পদার্থেরই ধর্ম হয়, তাহা হইলে, মুক্ত পুরুষের সম্বন্ধে যে মুক্তির অভিব্যক্তি হয়, তাহা ত তাহার আত্মস্বরূপই বটে, অথচ স্বরূপতঃ আত্মপ্রতীতির যখন ব্যবধান সম্ভব হয় না, তখন নিশ্চয়ই উহা সর্ব্বদা অভিব্যক্ত রহিয়াছে বলিতে হইবে; সুতরাং ‘মুক্তের সম্বন্ধে অভিব্যক্ত হয়’ এইরূপ বিশেষোক্তি নিরর্থক হইয়া পড়ে। যদি বল, কোন কারণে উহা ব্যবহিত হওয়ায়, যেন অনাত্মস্বরূপই হইয়া পড়ে; আবার সময়বিশেষে সেই ব্যবধানের অপগম হইলেই তাহার অভিব্যক্তিও হইয়া থাকে; তাহা হইলেও, কারণান্তরের সাহায্যে অভিব্যক্তি হওয়ায়-মুক্তিতে অভিব্যক্তিসাধনের অপেক্ষা থাকিয়া যায়। আর যদি বল, উপলব্ধি ও অভি- ব্যক্তি উভয়ই একাশ্রয়ে অবস্থিত, অর্থাৎ যাহার উপলব্ধি, তাহাতেই অভি- ব্যক্তি হয়; তাহা হইলেও, উপলব্ধির ব্যবধান থাকা সম্ভব না হওয়ায় অভি- ব্যক্তি বা অনভিব্যক্তি সর্বদাই থাকিতে পারে; কিন্তু এতদতিরিক্ত একটা মধ্যবর্তী অবস্থা কল্পনার অনুকূল কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না; বিশেষতঃ একই আশ্রয়ে অবস্থিত একেরই স্বরূপভূত ধৰ্ম্মগুলির মধ্যে বিষয়-বিষয়িভাব(গ্রাহ্য- গ্রাহকত্ব) কখনই সম্ভব হয় না। তাহার পর, বিশেষবিজ্ঞান ও বিশিষ্ট আনন্দ অভিব্যক্ত হইবার পূর্ব্বে যাহার সংসারিত্ব বা বন্ধন থাকে, আর বিশেষ বিজ্ঞান ও আনন্দাভিব্যক্তির পরে মুক্তি হয়, সেই পুরুষ নিশ্চয়ই নিত্যপ্রকাশ জ্ঞানস্বরূপ পরমাত্মা হইতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র; কারণ, উভয়ের মধ্যে উষ্ণত্ব ও শীতলতার ন্যায় অত্যন্ত বৈলক্ষণ্য রহিয়াছে। আর যদি পরমাত্মারও ভেদ স্বীকার করা হয়, তাহা হইলে ত সমুদয় বৈদিক সিদ্ধান্তই পরিত্যক্ত হয়। ১০
যদি বল, সংসার ও মোক্ষ উভয় অবস্থায়ই যদি আত্মা নির্বিশেষ একরূপ হয়, তাহা হইলে মোক্ষের জন্য আর কাহারও অধিক প্রয়াস পাইতে হয় না, এবং মোক্ষপ্রতিপাদক শাস্ত্রগুলিরও কোন সার্থকতা থাকে না; না, তাহা হয় না; কারণ, অবিদ্যাজনিত ভ্রমাপনোদনে উহাদের সার্থকতা রহিয়াছে; বাস্তবিক পক্ষে মুক্তি ও অমুক্তিনিবন্ধন আত্মার কিছুমাত্র বিশেষ হয় না; কারণ, আত্মা নিত্যই একরূপ(পরিবর্তনরহিত); তবে এইমাত্র বিশেষ আছে যে, শাস্ত্রীয়
১২৩৩
উপদেশ হইতে যে জ্ঞান জন্মে, তাহা দ্বারা নিত্য নির্ব্বিকার আত্মবিষয়ক অবিদ্যা বা ভ্রমমাত্র নিবারিত হয়; অতএব তাদৃশ উপদেশ লাভের পূর্ব্বে ঐরূপ উপদেশ প্রাপ্তির জন্য নিশ্চয়ই চেষ্টা করা আবশ্যক হয়। যদি বল, অবিদ্যাসম্পন্ন পুরুষের অবিদ্যা ও তাহার নিবৃত্তি বা অনিবৃত্তি দ্বারা আত্মারও বিশেষ বা স্বরূপভেদ ঘটিতে পারে; না, এ দোষ হয় না; কারণ, আমাদের মতে ইহা কেবল অবিদ্যার কল্পনা বা ফলমাত্র; যেমন রজ্জু, মরুভূমি, শুক্তিকা ও গগনতলে যথাক্রমে সর্প, জল, রজত ও মলিনতা কল্পিত হয়, আত্মগত বিশেষোক্তিও ঠিক সেইরূপই, একথা আমরা পূর্ব্বেও বলিয়াছি। ১১
আশঙ্কা হইতে পারে যে, যাহার চক্ষুতে তিমিররোগ জন্মিয়াছে, তাহার যেমন ঐ তিমির রোগের সদ্ভাব ও অসদ্ভাব দ্বারা দৃষ্টির বৈলক্ষণ্য ঘটে, তেমনি এস্থলেও অবিদ্যার কর্তৃত্ব ও অকর্তৃত্ব দ্বারা আত্মার স্বরূপগত পার্থক্য হইতে পারে; না, তাহাও হইতে পারে না; কারণ, ‘যেন ধ্যানই করে, যেন স্পন্দনই করে’ ইত্যাদি শ্রুতিতেও আত্মার সম্বন্ধে স্বতঃসিদ্ধ অবিদ্যাকর্তৃত্ব নিষিদ্ধ হইয়াছে। বিশেষতঃ বহুতর ব্যাপার-সংস্পর্শেই অবিদ্যাভ্রম উপস্থিত হয়, অর্থাৎ প্রথমতঃ বিষয়াকারে অন্তঃকরণের বৃত্তি জন্মে, পরে তাহাতে চৈতন্যের প্রতিবিম্ব পড়ে, তাহার পর ‘আমি সংসারী’ ইত্যাদি ভ্রান্তি জ্ঞান উপস্থিত হয়; সুতরাং অবিদ্যাভ্রমের কারণ যে, বহু, তাহাতে সংশয় নাই;[এই জন্যই আত্মগত তাদৃশ অবিদ্যাকে স্বাভাবিক বলিতে পারা যায় না]। অধিকন্তু অবিদ্যা যখন আত্মার বিষয়(আত্মপ্রকাশ্য), তখন তাহা আত্মগতও হইতে পারে না; স্বগত অবিদ্যা কখনই আত্মার দৃশ্য বা গ্রহণীয় হইতে পারে না। পক্ষান্তরে, যে লোক অবিদ্যাভ্রমকে ঘটাদি পদার্থের ন্যায় পৃথরূপে দর্শন করিতে পারে, বুঝিতে হইবে যে, সে লোক নিশ্চয়ই অবিদ্যা-ভ্রমসম্পন্ন নহে। যদি বল, ‘আমি জানিতেছি না, আমি মুগ্ধ(মোহ- সম্পন্ন)’ এইরূপ প্রতীতি হইতে বুঝা যায় যে, সে লোক নিশ্চয়ই অবিদ্যাভ্রম- সম্পন্ন; না, সে কথাও বলিতে পার না; কারণ, সে লোক বিবেকদর্শী; কারণ, যে লোক যাহাকে বিবিক্তরূপে অর্থাৎ পৃথক্ বস্তু বলিয়া জানিতে পারে, সে লোককে কখনই তদ্বিষয়ে ভ্রান্ত বলিতে পারা যায় না; যে যাহা পৃথক্ করিয়া গ্রহণ করে, তাহাতেও তাহার অবিদ্যাভ্রম থাকে, একথা বড়ই বিরুদ্ধ হয়। তবে যে, ‘আমি মুগ্ধ, বুঝিতেছি না’ এইরূপ প্রতীতির কথা বলিতেছ, অর্থাৎ বিবিক্তদর্শীরও যে, দৃশ্যবিষয়ে অজ্ঞান ও মোহ দেখা যায়-জ্ঞানের বিষয়ীভূত
੨
হয়;[জিজ্ঞাসা করি—] অজ্ঞান ও মোহ(মুগ্ধতা) একবার কর্ম্ম হইয়া আবার কর্ত্তস্বরূপ জ্ঞানের বিশেষণ হয় কিরূপে?। ১২
আর যদি বল, ঐ অজ্ঞান ও মুগ্ধতা(মোহ) উভয়ই কর্তৃত্বরূপ দর্শনের বিশেষণ, তাহা হইলেও উহারা আর দর্শনের বিষয়-কৰ্ম্ম হইতে পারে না; কেন না, কৰ্ম্মমাত্রই কর্তার ক্রিয়াদ্বারা ব্যাপ্ত(বিষয়ীভূত) হইয়া থাকে; অথচ ভিন্ন পদার্থ ই ব্যাপ্য-ব্যাপকভাবাপন্ন হইতে পারে, অর্থাৎ যাহা ব্যাপ্য, তাহা ব্যাপক হয় না, আর যাহা ব্যাপক, তাহাও কখনই ব্যাপ্য হইতে পারে না; কেন না, নিজেই নিজেকে কখনও ব্যাপ্ত করিতে পাবে না। এখন বল দেখি, এরূপ অবস্থায় অজ্ঞান ও মুগ্ধতা দর্শনের বিশেষণ হইতে পারে কিরূপে? স্বীয় শরীর- গত কৃশতাদি ধর্ম যেরূপ আপনা হইতে পৃথক্ ধর্মরূপেই অনুভব করিয়া থাকে, সেইরূপ যে ব্যক্তি অজ্ঞানের বিবেকদর্শী, সে ব্যক্তি আপনার অজ্ঞানকে যখন কর্ম বা অনুভাব্যরূপে অনুভব করে, তখন নিশ্চয়ই ঐ অজ্ঞানকে উপলব্ধিকর্তারই (অনুভবকর্তারই) ধর্মরূপে অনুভব করে;[কিন্তু জ্ঞানধর্মরূপে কখনই অনুভব করে না]। যদি বল, সুখ দুঃখ ইচ্ছা ও চেষ্টা প্রভৃতি ধর্মগুলিকে ত সকলেই অনুভব করিয়া থাকে; না-সে কথাও বলিতে পার না; কারণ, এ পক্ষেও, যাহারা ঐরূপেই গ্রহণ করিয়া থাকে, সুখদুঃখাদির সহিত তাহাদের পার্থক্য ত স্বীকৃতই হয়। যদি বল, ‘আমি তোমার কথা বুঝিতে পারিতেছি না, আমি মুগ্ধ’[এইরূপে ত নিজের মুগ্ধতা ও অনুভব করিয়া থাকি]; হাঁ, অজ্ঞ ব্যক্তি মুগ্ধ হয়, হউক; কিন্তু যে লোক ঐরূপে অজ্ঞান ও মোহের স্বব্যতিরিক্ততা অনু- ভব করিতে পারে, আমরা তাহাকেই অমুগ্ধ জ্ঞানী বলিয়া অঙ্গীকার করিতেছি। ব্যাসদেবও এইরূপই বলিয়াছেন-‘ক্ষেত্রী(দেহস্বামী) ইচ্ছাপ্রভৃতি নিখিল ক্ষেত্রকে (দেহকে) প্রকাশ করিয়া থাকে।’ যিনি ‘সমস্ত ভূতে সমভাবে বর্তমান, এবং ভূতসমূহ বিনষ্ট হইলেও যিনি স্বয়ং অবিনাশী, সেই পরমেশ্বরকে[যিনি জানেন, তিনিই ঠিক জানেন।]’ ইত্যাদি কথা শত শত স্থানে উক্ত হইয়াছে। অতএব সর্ব্বদা সমানভাবে একরস আত্মস্বভাব স্বীকৃত হওয়ায় বুঝিতে হইবে যে, বন্ধ মোক্ষ জ্ঞান ও অজ্ঞান দ্বারা আত্মার স্বরূপতঃ কিছুমাত্র প্রভেদ ঘটে না। ১৩
আর যাহারা এতদপেক্ষা অন্যপ্রকার আত্মার স্বরূপ স্বীকার করিয়া বন্ধ- মোক্ষাদিপ্রতিপাদক শাস্ত্রবাক্যকে ‘অর্থবাদ’ বলিয়া কল্পনা করিয়া থাকেন, তাঁহারা আকাশে উড্ডীয়মান পাখীরও চরণচিহ্ন দর্শন করিতে, কিংবা আকাশকেও মুষ্টিদ্বারা আকর্ষণ করিতে বা চর্ম্মের ন্যায় বেষ্টন করিতেও উৎসাহী বা সাহসী
১২৩৫
হইতে পারেন, অর্থাৎ আকাশকে মুষ্টিবদ্ধ করিতে সাহসী হওয়া, আর আত্মার নির্বিশেষ স্বভাব ত্যাগ করিয়া সবিশেষভাব কল্পনা করা, উভয়ই তুল্য(১); আমরা কিন্তু সেরূপ করিতে অসমর্থ; আমরা ‘সর্ব্বদা সমান, একরূপ, অদ্বৈত, অবিক্রিয়, জন্ম, জরা ও মরণবর্জিত, অমৃত অভয় আত্মস্বরূপ ব্রহ্মই‘-এই যে, সমস্ত বেদান্তশাস্ত্রের অবিসংবাদিত সিদ্ধান্ত, তাহাই স্বীকার করিয়া থাকি। অতএব জ্ঞানোদয়ের পূর্ব্বে দেহেতে যে, অহম্ভাবরূপ বিপরীত বুদ্ধি থাকে, ব্রহ্ম- বিজ্ঞান সেই বিপরীত বুদ্ধি অপনয়ন করিয়া দেয়, সেই দেহ-বিচ্ছেদরূপ বিজ্ঞানফল লক্ষ্য করিয়া ‘ব্রহ্মপ্রাপ্ত হয়’ এইরূপ ব্যবহার হইয়া থাকে মাত্র;[বস্তুতঃ জীব চিরদিনই ব্রহ্মস্বরূপ] ॥২৯৬৷৷৬৷৷
আভাসভাষ্যম্।—স্বপ্নবুদ্ধান্তগমনদৃষ্টান্তস্য দাষ্টান্তিকঃ সংসারো বর্ণিতঃ; সংসারহেতুশ্চ অবিদ্যা-কর্ম্ম-পূর্ব্বপ্রজ্ঞা বর্ণিতাঃ; বৈশোপাধিভূতৈঃ কার্য্য- করণলক্ষণভূতৈঃ পরিবেষ্টিতঃ সংসারিত্বমনুভবতি, তানি চোক্তানি। তেষাং সাক্ষাৎপ্রযোজকৌ ধর্ম্মাধর্ম্মাবিতি পূর্ব্বপক্ষং কৃত্বা, কাম এবেত্যবধারিতম্। যথা চ ব্রাহ্মণেনায়মর্থোহবধারিতঃ, এবং মন্ত্রেণাপীতি বন্ধং বন্ধকারণং চোক্ত্বা উপ- সংহৃতং প্রকরণম্—‘ইতি নু কাময়মান ইতি’।—“অথ অকীময়মানঃ” ইত্যারভ্য সুষুপ্তদৃষ্টান্তস্য দাষ্টান্তিকভূতঃ সর্ব্বাত্মভাবো মোক্ষ উক্তঃ। মোক্ষকারণঞ্চাত্ম- কামতয়া যদাপ্তকামত্বমুক্তম্, তচ্চ সামর্থ্যাৎ ন আত্মজ্ঞামমন্তরেণাত্মকামতয়া আপ্তকামত্বমিতি সামর্থ্যাদ্ ব্রহ্মবিদ্যৈব মোক্ষকারণম্; ইত্যুক্তম্; অতো যদ্যপি কামো মূলমিত্যুক্তম্, তথাপি মোক্ষকারণবিপর্যয়েণ বন্ধকারণমবিদ্যেত্যেতদ- প্যুক্তমেব ভবতি। অত্রাপি মোক্ষো মোক্ষসাধনং চ ব্রাহ্মণেনোক্তম্, তস্যৈব দৃঢ়ীকরণায় মন্ত্র উদাহ্রিয়তে শ্লোকশব্দবাচ্যঃ।—
(১) তাৎপর্য্য—যাহারা আত্মাকে ইচ্ছা-দ্বেষাদি গুণযুক্ত সবিশেষ বস্তু বলিয়া স্বীকার করে, আত্মার নির্বিশেষভাব স্বীকার করে না, তাহাদের পক্ষে বন্ধ মোক্ষের অবাস্তবত্ব প্রতিপাদক ‘অজ্ঞানে বন্ধ, জ্ঞানে মোক্ষ’ ইত্যাদি শাস্ত্রকথাও সঙ্গত হয় না; এই জন্য তাহারা ঐ সমস্ত বাক্যকে ‘অর্থবাদ’(প্রশংসামাত্র) বলিয়া নির্দেশ করেন। অভিপ্রায় এই যে, জীবের বন্ধ মোক্ষ অসত্যই বটে, কিন্তু মোক্ষমার্গে লোকদের প্রবৃত্তি ও উৎসাহ বর্দ্ধনের জন্য ঐরূপ অসত্য কথা শাস্ত্রে উপদিষ্ট হইয়াছে মাত্র। পাখী ভূমিতে বিচরণ করিবার সময়, ভূমিতে যেমন তাহাদের পদচিহ্ন পতিত হয়, আকাশে উড়িবার কালে আকাশেও তেমনি পদচিহ্ন আছে, এইরূপ মনে করিয়া আকাশেও পাখীর পদচিহ্ন দেখিবার অভিলাষী হইতে পারে।
আভাসভাষ্য-টীকা। ব্রাহ্মণোক্তেহর্থে মন্ত্রনবতারয়িতুং ব্রাহ্মণার্থমনুবদতি—স্বপ্নেত্যাদিনা। অয়মর্থঃ সংসারস্তদ্ধেতুশ্চ, মন্ত্রস্তদেব সক্তঃ সহ কৰ্ম্মণেত্যাদিঃ। আত্মজ্ঞানস্য তহি মোক্ষকারণত্ব- মুপেক্ষিতমিত্যাশঙ্ক্যাহ—তচ্চেতি। অতো ব্রহ্মজ্ঞানং মোক্ষকারণমিত্যুক্তত্বাদিতি যাবৎ। মূলং বন্ধস্যেতি শেষঃ। অত্রেতি মোক্ষপ্রকরণোক্তিঃ। বন্ধপ্রকরণং দৃষ্টান্তয়িতুমপিশকঃ।
আভাস-ভাষ্যানুবাদ।-পূর্ব্বপ্রদর্শিত দৃষ্টান্তস্বরূপ স্বপ্ন ও জাগ্রদ- বস্থায় প্রবেশের দাষ্টান্তিকরূপ সংসার বর্ণিত হইয়াছে; সংসারের হেতুস্বরূপ যে, কৰ্ম্ম বিদ্যা ও পূর্ব্বপ্রজ্ঞা, তাহাও প্রদর্শিত হইয়াছে; এবং দেহেন্দ্রিয়াত্মক যে সমস্ত উপাধি দ্বারা পরিবেষ্টিত হইয়া, জীব নিজের সংসারিত্ব অনুভব করিয়া থাকে, সে সমুদয়ও কথিত হইয়াছে। তাহার পর, ধৰ্মাধর্মই সেই সমুদয় উপাধির সাক্ষাৎ সম্বন্ধে প্রযোজক বা প্রবর্ত্তক বলিয়া পূর্ব্বপক্ষ(আশঙ্কা) উত্থাপন করিয়া পরিশেষে কামেরই(কামনারই) মুখ্য প্রযোজকত্ব অবধারিত হইয়াছে। এ বিষয় ব্রাহ্মণ ভাগে যেভাবে অবধারিত হইয়াছে, মন্ত্রেও ঠিক সেইভাবেই বন্ধ ও বন্ধকারণের নির্দেশপূর্ব্বক “ইতি নু কাময়মানঃ” বাক্যে তাহার উপসংহার করা হইয়াছে।
ইহার পর, “অথ অকাময়মানঃ” এই হইতে আরম্ভ করিয়া দৃষ্টান্তস্বরূপ সুষুপ্তির দাষ্টান্তিক সর্বাত্মভাবরূপ মোক্ষ উক্ত হইয়াছে। সেখানে কথিত হইয়াছে যে, আত্মকামত্ব হইতে লব্ধ যে, আপ্তকামত্ব, তাহাই মোক্ষলাভের কারণ; আত্মজ্ঞান ব্যতিরেকে যখন আত্মকামতা ও তদধীন আপ্ত-কামত্ব হইতেই পারে না, তখন কথিত না হইলেও বুঝা যাইতেছে যে, ফলতঃ ব্রহ্মবিদ্যাই মুক্তির মুখ্য কারণ; অতএব পূর্ব্বে যদিও কামকে সংসারের মূলকারণ বলা হইয়াছে সত্য, তথাপি মোক্ষ-কারণের বিপরীত বস্তুই যখন বন্ধের কারণ, তখন অবিদ্যাই যে, বন্ধের প্রকৃত কারণ, এ কথাও প্রকারান্তরে বলাই হইয়াছে। এখানেও ব্রাহ্মণবাক্যে মোক্ষ ও মোক্ষকারণের কথা উক্ত হইয়াছে, তাহারই দৃঢ়তা সম্পাদনের জন্য শ্লোকশব্দবাচ্য মন্ত্র অভিহিত হইতেছে:-
তদেষ শ্লোকো ভবতি—যদা সর্ব্বে প্রমুচ্যন্তে কামা যেহস্য হৃদি শ্রিতাঃ। অথ মর্ত্যোহমৃতো ভবত্যত্র ব্রহ্ম সমশ্নুত ইতি। তদ্যথাহিনিল্বয়নী বল্মীকে মৃতা প্রত্যস্তা শয়ীতৈবমেবেৎ শরীরং শেতে, অথায়মশরীরোহমৃতঃ প্রাণো ব্রহ্মৈব তেজ
১২৩৭
এব, সোহহং ভগবতে সহস্রং দদামীতি হোবাচ জনকো বৈদেহঃ ॥ ২৯৭ ॥ ৭ ॥
সরলার্থঃ।—তৎ(তস্মিন্ উক্তে অর্থে) এষঃ(বক্ষ্যমাণঃ) শ্লোকঃ(মন্ত্রঃ) ভবতি(অস্তি);—যে কামাঃ(কামনাঃ) অন্য(পুরুষস্য) হৃদি শ্রিতাঃ (বুদ্ধিনিষ্ঠাঃ),[তে] সর্ব্বে যদা(যস্মিন্ কালে) প্রমুচ্যন্তে(জ্ঞানাৎ বিশীর্যন্তে); অথ(তদা) মর্ত্যঃ(মরণশীলঃ সঃ) অমৃতঃ(অবিদ্যাত্মকমৃত্যু- বিজয়াৎ মরণরহিতঃ) ভবতি; অত্র(অস্মিন্ এব দেহে) ব্রহ্ম সমশ্নুতে (ব্রহ্মভাবম্ প্রাপ্নোতি) ইতি।
তং(তত্র)[অয়ং দৃষ্টান্ত উচ্যতে-] যথা মৃতা(জীর্ণতাৎ গতা) অহি- নির্ঘয়নী(সর্পত্বক্), বল্মীকে প্রত্যস্তা(অনাত্মসম্বন্ধিতয়া নিক্ষিপ্তা সতী) শয়ীত (তিষ্ঠতি), এবম্ এব(যথোক্তদৃষ্টান্তবৎ এব) ইদং শরীরং(বিদুষঃ স্থুলো দেহঃ) শেতে(অনাত্মভাবেন পরিত্যক্তং মৃতমিব বর্ত্ততে); অথ(অনন্তরম্) অয়ম্ (মুক্তঃ পুরুষঃ) অশরীরঃ অনৃতঃ প্রাণঃ ব্রহ্ম এব, তেজঃ(জ্যোতিঃস্বরূপঃ) এব [ভবতি]।[এতৎ শ্রুত্বা] বৈদেহঃ জনকঃ উবাচ হ—সঃ(ভবতো লব্ধবিজ্ঞানঃ) অহম্ ভগবতে(পূজনীয়ায় তুভ্যম্) সহস্রং দদামি ইতি।[ব্যাখ্যা পূর্ব্ববৎ] ॥ ২৯৭ ॥ ৭ ॥
মূলানুবাদ।—কথিত বিষয়ে এইরূপ একটা শ্লোক আছে— যে সমস্ত কাম বা কামনা এই মুমুক্ষু পুরুষের হৃদয়কে আশ্রয় করিয়া আছে, সে সমুদয় কাম যখন ব্রহ্মজ্ঞান প্রভাবে বিদূরিত হইয়া যায়, তখন সেই পুরুষ মর্ত্য—মরণশীল হইয়াও অমরত্ব লাভ করে, এবং এই দেহেই ব্রহ্মভাব আস্বাদন করে।[এ বিষয়ে দৃষ্টান্ত এই—] মৃত অর্থাৎ জীর্ণতা প্রাপ্ত অহিনিলয়নী(সাপের খোলস্) যে প্রকার বল্মীকে(উই- মাটির স্তূপে) প্রক্ষিপ্ত হইয়া পড়িয়া থাকে, ঠিক এইরূপই[ব্রহ্মজ্ঞের অনাত্মবুদ্ধিতে উপেক্ষিত] এই শরীর পড়িয়া থাকে। অতঃপর তিনি অশরীর[শরীরাভিমানশূন্য),(সুতরাং) অমৃত(মরণরহিত), প্রাণ ও ব্রহ্মস্বরূপই এবং তেজঃস্বরূপই হন।[এই কথা শুনিয়া] বিদেহপতি জনক বলিলেন—আমি আপনার নিকট হইতে বিদ্যালাভ করিয়াছি; অতএব আপনাকে সহস্র গো দান করিতেছি ॥২৯৭॥ ৭॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তৎ তস্মিন্নেবার্থে এষ শ্লোকো মন্ত্রো ভবতি। যদা যস্মিন্ কালে সর্ব্বে সমস্তাঃ কামাঃ তৃষ্ণাপ্রভেদাঃ প্রমুচ্যন্তে, আত্মকামস্য ব্রহ্মবিদঃ সমূলতো বিশীর্য্যন্তে; যে প্রসিদ্ধা লোকে ইহামুত্রার্থাঃ পুত্র-বিত্ত-লোকৈষণা- লক্ষণাঃ অন্য প্রসিদ্ধস্য পুরুষস্য হৃদি বুদ্ধৌ শ্রিতা আশ্রিতাঃ। অথ তদা, স মর্ত্যঃ মরণধৰ্ম্মা সন্, কামবিয়োগাৎ সমূলতঃ, অমৃতো ভবতি, অর্থাৎ অনাত্মবিষয়াঃ কামা অবিদ্যালক্ষণা মৃত্যব ইত্যেতদুক্তং ভবতি। অতো মৃত্যুবিয়োগে বিদ্বান্ জীবন্নেব অমৃতো ভবতি। অত্র অস্মিন্নেব শরীরে বর্তমানঃ ব্রহ্ম সমশ্নুতে ব্রহ্মভাবং মোক্ষং প্রতিপদ্যত ইত্যর্থঃ; অতঃ মোক্ষো ন দেশান্তরগমনাদি অপেক্ষতে; তস্মাৎ বিদুষঃ ন উৎক্রামন্তি প্রাণাঃ, যথাবস্থিতা এব স্বকারণে পুরুষে সমবনীয়ন্তে; নামমাত্রং হি অবশিষ্যত ইত্যুক্তম্। ১
টাকা। উক্তেহর্থে তদেব ইত্যাদ্যক্ষরাণি ব্যাচষ্টে-তৎ তস্মিন্নেবেতি। কম্মিন্ কালে বিদ্যা- পরিপাকাবস্থায়ামিত্যর্থঃ। সুষুপ্তিব্যাবৃত্ত্যর্থং সর্ব্ববিশেষণমিতি মত্বাহ-সমস্তা ইতি। কাম- শব্দস্যার্থান্তরবিষয়ত্বং ব্যাবর্তয়তি-তৃষ্ণেতি। ক্রিয়াপদং সোপসর্গং ব্যাকরোতি-আত্ম- কামস্যেতি। তানেব বিশিনষ্টি-যে প্রসিদ্ধা ইতি। কামানামাত্মাশ্রয়ত্বং নিরাকরোতি- হৃদীতি। সমূলতঃ কামবিয়োগাদিতি সংবন্ধঃ। কামবিয়োগাদমৃতো ভবতীতিনির্দেশসামর্থা- সিদ্ধমর্থমাহ-অর্থাদিতি। তেষাং মৃত্যুত্বে কিং স্যাত্তদাহ-অত ইতি। অত্রেত্যাদিনা বিবক্ষিতমর্থমাহ-অতো মোক্ষ ইতি। আদিপদমুৎক্রান্ত্যাদিসংগ্রহার্থম্। মুক্তেস্তদপেক্ষাভাবে ফলিতমাহ-তস্মাদিতি। তর্হি মরণাসিদ্ধিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-যথেতি। উৎক্রান্তিগত্যাগতিরাহিত্যং যথাবস্থিতত্বম্। এতচ্চ পঞ্চমে প্রতিপাদিতমিত্যাহ-নামমাত্রমিতি। ১
কথং পুনঃ সমবনীতেষু প্রাণেষু, দেহে চ স্বকারণে প্রলীনে, বিদ্বান্ মুক্তঃ অত্রৈব সর্ব্বাত্মা সন্ বর্তমানঃ পুনঃ পূর্ব্ববৎ দেহিত্বং সংসারিত্বলক্ষণং ন প্রতিপদ্যত- ইতি। অত্রোচ্যতে—তৎ তত্র অয়ং দৃষ্টান্তঃ—যথা লোকে অহিঃ সর্পঃ, তস্য নির্বয়নী নির্ম্মোকঃ, সা অহিনির্বয়নী বল্মীকে সর্পাশ্রয়ে বল্মীকাদাবিত্যর্থঃ, মৃতা প্রত্যস্তা ক্ষিপ্তা অনাত্মভাবেন সর্পেণ পরিত্যক্তা শয়ীত বর্ত্ততে, এবমেব—যথায়ং দৃষ্টান্তঃ, ইদং শরীরং সর্পস্থানীয়েন মুক্তেন অনাত্মভাবেন পরিত্যক্তং মৃতমিব শেতে। ২
তদ্যথেত্যাদিবাক্যনিরস্যাং শঙ্কামাহ—কথং পুনরিতি। বিদুষো বিদ্যয়াত্মমাত্রত্বেন প্রাণাদিষু বাধিতেষপি দেহে চেদসৌ বর্ত্ততে, ততোহস্য পূর্ব্ববদ্দেহিত্বাদ্বিদ্যাবৈয়র্থমিত্যর্থঃ। দৃষ্টান্তেন পরিহরতি—অত্রেত্যাদিনা। দেহে বর্তমানস্যাপি বিদুষস্তত্রাভিমানরাহিত্যং তত্রেত্যুচ্যতে। যস্যাং ত্বচি সর্পো নিতরাং লীয়তে, সা নির্বয়নী সর্পত্বগুচ্যতে। সর্পনির্ম্মোক- দৃষ্টান্তস্য দাষ্টান্তিকমাহ—এবমেবেতি। ২
১২৩৯
অথ ইতরঃ সর্পস্থানীয়ো মুক্তঃ সর্বাত্মভূতঃ সর্পবৎ তত্রৈব বর্তমানোহপি অশরীর এব, ন পূর্ব্ববং পুনঃ সশরীরে। ভবতি। কাম-কৰ্ম্মপ্রযুক্তশরীরাত্মভাবেন হি পূর্ব্বং সশরীরো মর্ত্যশ্চ, তদ্বিয়োগাদ অথ ইদানীম্ অশরীরঃ, অতএব চ অমৃতঃ; প্রাণঃ, প্রাণিতীতি প্রাণঃ, “প্রাণস্য প্রাণম্” ইতি হি বক্ষ্যমাণে শ্লোকে, “প্রাণ- বন্ধনং হি সোম্য মনঃ” ইতি চ শ্রুত্যন্তরে; প্রকরণবাক্যসামর্থ্যাচ্চ পর এবাত্মা অত্র প্রাণশব্দবাচ্যঃ; ব্রহ্মৈব পরমাত্মৈব। কিং পুনঃ তৎ? তেজ এব বিজ্ঞানং জ্যোতিঃ, যেনাত্মজ্যোতিষা জগদভাস্যমানং প্রজ্ঞানেত্রং বিজ্ঞানজ্যোতিষ্মৎ সৎ অবি- ভ্রংশদ্ বর্ত্ততে। ৩
সর্পদৃষ্টান্তস্য দাষ্টান্তিকং দর্শয়তি-অথেতি। অজ্ঞানেন সহ দেহস্য নষ্টত্বমশরীরত্বাদৌ হেতুরণশব্দার্থঃ। অথশব্দাবদ্যোতিত-হেত্ববষ্টস্তেনাশরীরত্বং বিশদয়তি-কামেতি। পূর্বমিত্য- বিদ্যাবস্থোক্তিঃ। ইদানীমিতি বিদ্যাবস্থোচ্যতে। ব্যুৎপত্যনুসারিণং রূঢ়ং চ মুখ্যং প্রাণং ব্যাবর্তয়তি-প্রাণস্যেতি। শ্লোকে পর এবাত্মা যথা প্রাণশব্দস্তথাত্রাপীত্যর্থঃ। যথা চ শ্রুত্যন্তরে প্রাণশব্দঃ পর এবাত্মা, তথাত্রাপীত্যাহ-প্রাণেতি। কিঞ্চ পরবিষয়মিদং প্রকরণ- মথাকাময়মান-ইতি মোক্ষস্য প্রক্রান্তত্বাদথায়মিত্যাদি বাক্যং চ তদ্বিষয়ম্, অন্যথা ব্রহ্মাদি- শব্দানুপপত্তেঃ। তস্মাদুভয়সামর্থ্যাদত্র পর এবাত্মা প্রাণশব্দিত ইত্যাহ-প্রকরণেতি। বিশেষ্যং দর্শয়িত্বা বিশেষণং দর্শয়তি-ব্রহ্মৈবেতি। ব্রহ্মশব্দস্য কমলাসনাদিবিষয়ত্বং বারয়তি-কিং পুনরিতি। তেজঃশব্দস্য কায্যজ্যোতিব্বিষয়ত্বমাশঙ্ক্যাহ-বিজ্ঞানেতি। তত্র প্রমাণমাহ- যেনেতি। প্রজ্ঞা প্রকৃষ্টা জ্ঞপ্তিঃ স্বরূপচৈতন্যং নেত্রমিব নেত্রং প্রকাশকমস্যেতি তথোক্তম্। ৩
যঃ কাম-প্রশ্নো বিমোক্ষার্থো যাজ্ঞবল্ক্যেন বরো দত্তো জনকায়, সহেতুকো বন্ধ- মোক্ষার্থলক্ষণো দৃষ্টান্ত-দাষ্টান্তিকভূতঃ স এব নির্ণীতঃ সবিস্তরো জনক-যাজ্ঞবল্ক্যা- খ্যায়িকারূপধারিণ্যা শ্রুত্যা; সংসারবিমোক্ষোপায় উক্তঃ প্রাণিভ্যঃ। ইদানীং শ্রুতিঃ স্বরমেবাহ—বিদ্যানিক্ষ্রয়ার্থং জনকেনৈবমুক্তম্ ইতি। কথম্? সোহহমেবং বিমোক্ষিতস্থয়া ভগবতে তুভ্যং বিদ্যানিক্ষ্রয়ার্থং সহস্রং দদামি, ইতি হ এবং কিল উবাচ উক্তবান্ জনকো বৈদেহঃ। অত্র কম্মাদ্বিমোক্ষপদার্থে নির্ণীতে বিদেহ- রাজ্যমাত্মানমের চ ন নিবেদয়তি, একদেশোক্তাবিব সহস্রমেব দদাতি? তত্র কোহভিপ্রায় ইতি। ৪।
সোহহমিত্যাদেস্তাৎপযাং বক্তুং বৃত্তং কীর্তয়তি-যঃ কামপ্রশ্ন ইতি। নির্ণয়প্রকারং সংক্ষিপতি-সংসারেতি। সোহহমিত্যাদিবাক্যান্তরমুখাপয়তি-ইদানীমিতি। আকাঙ্ক্ষা- পূর্ব্বকং বাক্যমাদায় বিভজতে-কথমিতি। সহস্রদানমাক্ষিপতি-অত্রেতি। ৪
অত্র কেচিদ্বর্ণয়ন্তি—অধ্যাত্মবিদ্যারসিকো জনকঃ শ্রুতমপ্যর্থং পুনর্মন্ত্রৈঃ শুশ্রূষতি; অতো ন সর্ব্বমেব নিবেদয়তি; শ্রুত্বাভিপ্রেতং যাজ্ঞবল্ক্যাৎ পুনরন্তে
নিবেদয়িষ্যামীতি হি মন্যতে। যদি চাত্রৈব সর্ব্বং নিবেদয়ামি, নিবৃত্তাভিলাযো- হয়ং শ্রবণাৎ—ইতি মত্বা শ্লোকান্ ন বক্ষ্যতীতি চ ভয়াৎ সহস্রদানং শুশ্রূধালিঙ্গ- জ্ঞাপনায়েতি। সর্ব্বমপ্যেতদ্ অসৎ, পুরুষস্যেব প্রমাণভূতায়াঃ শ্রুতের্ব্যাজানুপপত্তেঃ; অর্থশেষোপপত্তেশ্চ—বিমোক্ষপদার্থে উক্তেইপি আত্মজ্ঞানসাধনে, আত্মজ্ঞানশেষ- ভূতঃ সর্ব্বৈষণাপরিত্যাগঃ সন্ন্যাসাখ্যো বক্তব্যোহর্থশেষো বিদ্যতে; তস্মাৎ শ্লোকমাত্র-শুশ্রূষাকল্পনা অনূজ্রী; অগতিকা হি গতিঃ পুনরুক্তার্থকল্পনা; সা চাযুক্তা, সত্যাং গতৌ। ৫
সর্ব্বস্বদানপ্রাপ্তাবপি সহস্রদানে হেতুমেকদেশীয়ং দর্শয়তি-অত্রেত্যাদিনা। কদা তর্হি গুরবে সর্ব্বস্বং রাজা নিবেদয়িষ্যতি, তত্রাহ-শ্রুত্বেতি। ননু পুনঃ শুশ্রূষুরপি রাজা কিমিতি সংপ্রত্যেব সর্ব্বস্বং গুরবে ন প্রযচ্ছতি, প্রভুতা হি দক্ষিণা গুরুং প্রীণয়ন্তী স্বীয়াং শুশ্রূষাং সফলয়তি, তত্রাহ-যদি চেতি। অনাপ্তোক্তৌ হৃদয়েহন্যন্নিধায় বাচান্যনিষ্পাদনাত্মকং ব্যাজোত্তরং যুক্তং, শ্রুতৌ ত্বপৌরুষেয্যামপাস্তাশেষদোষশঙ্কায়াং ন ব্যাজোক্তিযুক্তা, তদীয়ম্বারসিকপ্রামাণ্যভঙ্গ- প্রসঙ্গাদিতি দূষরতি-সর্ব্বমপীতি। একদেশীয়পরিহারাসম্ভবে হেত্বন্তরমাহ-অর্থেতি। তদুপপত্তিমেবোপপাদয়তি-বিমোক্ষেতি। তস্যাপি পূর্বমসকুদুক্তেস্তদীয়শুশ্রূযাধীনং সহস্র- দানমনুচিতমিত্যাশঙ্ক্য শমাদেজ্ঞানসাধনত্বেন প্রাগমুক্তেস্তেন সহ ভূয়োইপি সংন্যাসস্য বক্তব্যত্ব- যোগাৎ তদপেক্ষয়া যুক্তং সহস্রদানমিত্যাহ-অগতিকা হীতি। ৫
ন চ তৎ স্তুতিমাত্রমিত্যবোচাম। নন্বেবং সতি “অত ঊর্দ্ধং বিমোক্ষায়ৈব” ইতি বক্তব্যম্; নৈষ দোষঃ; আত্মজ্ঞানবদপ্রযোজকঃ সন্ন্যাসঃ, পক্ষে প্রতি- পত্তি-কর্মবৎ ইতি হি মন্যতে; “সন্ন্যাসেন তনুং ত্যজেৎ” ইতি হি স্মৃতেঃ; সাধনত্বপক্ষেহপি, ন “অত ঊর্দ্ধং বিমোক্ষায়ৈব” ইতি প্রশ্নমর্হতি, মোক্ষসাধন- ভূতাত্ম-জ্ঞানপরিপাকার্থত্বাৎ ॥ ২৯৭ ॥ ৭ ॥
ননু সংন্যাসাদি বিদ্যাস্তত্যর্থমুচ্যতে, মহাভাগা হীয়ং, যত্তদর্থী দুষ্করমপি করোত্যতো নার্থ- শেষসিদ্ধিস্তত্রাহ-ন চেতি। ন তাবৎ সংন্যাসো বিদ্যাস্তুতিঃ বিদিত্বা ব্যুত্থায়েতি সমানকর্তৃত্ব- নির্দেশাৎ ইতি পঞ্চমে স্থিতং, নাপি শমাদির্বিদ্যাস্ততিস্তত্রাপি বিধের্বক্ষ্যমাণত্বাদিত্যর্থঃ। অর্থ- শেষশুশ্রূষয়া সহস্রদানমিত্যত্র জনকস্যাকৌশলং চোদয়তি-নন্বিতি। রাজঃ শঙ্কিতমকৌশলং দূষয়তি-নৈষ ইতি। তত্র চ হেতুমাহ-আত্মজ্ঞানবদিতি। যথাত্মজ্ঞানং মোক্ষে প্রযোজকং, ন তথা সংন্যাসঃ, ন চাস্মিন্ পক্ষে তস্যাকর্তব্যত্বং প্রতিপত্তিকৰ্ম্মবদনুষ্ঠানসম্ভবাদিতি রাজা যতো মন্যতে, ততঃ সংন্যাসস্থ্য ন জ্ঞানতুল্যত্বমতো নাত উর্দ্ধং বিমোক্ষায়ৈব ক্রহীতি পৃচ্ছতীত্যর্থঃ। সংন্যাসস্থ্য প্রতিপত্তিকৰ্ম্মবৎ কর্তব্যত্বে প্রমাণমাহ-সংন্যাসেনেতি। নমু বিবিদিযা-সংন্যাসমঙ্গী- কুর্ব্বতা ন তস্য প্রতিপত্তিকৰ্ম্মবদনুষ্ঠেয়ত্বমিষ্যতে, তত্রাহ-সাধনত্বেতি। “ত্যজাতৈব হি তজ্ঞেয়ং ত্যক্তঃ প্রত্যক্সরং পদম্” ইত্যুক্তত্বাদিত্যর্থঃ। ২৯৭। ৭॥
ভাষ্যানুসারে।—পূর্ব্বোক্ত বিষয় এইরূপ শ্লোক-মন্ত্র আছে—যে সময়ে
১২৪১
আত্মকাম ব্রহ্মবিদের সমস্ত কাম-নানাপ্রকার ভোগতৃষ্ণা-প্রমুক্ত হয়-সম্পূর্ণ শীর্ণতা প্রাপ্ত হয়।[কোন কামসমূহ? না,-] ঐহিক বা পারলৌকিক পুত্র বিত্ত ও স্বর্গাদি-লোকৈষণা নামে প্রসিদ্ধ যে সমুদয় কাম এই পুরুষের হৃদয়ে স্থিত- বুদ্ধিকে আশ্রয় করিয়া রহিয়াছে;[সেই সমস্ত কাম]। তখন[সেই পুরুষ] মর্ত্য-মরণ-ধর্মযুক্ত হইয়াও সমূলে কাম-নিবৃত্তি হওয়ায় অমৃত হন। ইহা দ্বারা এই কথাই বলা হইতেছে যে, অবিদ্যামূলক অনাত্মবিষয়ক যে কামনা, তাহাই প্রকৃত মৃত্যু; অতএব সেই অবিদ্যারূপ মৃত্যু বিধ্বস্ত হওয়ায় বিদ্বান্ পুরুষ জীবৎ- দশায়ই অমৃত হইয়া থাকেন। এখানে অর্থাৎ এই শরীরমধ্যে বর্তমান থাকিয়াই ব্রহ্মভোগ করেন-ব্রহ্মভাব লাভ করেন; অতএব[বুঝা যাইতেছে যে,] মোক্ষ কখনও দেশান্তর-গমনের অপেক্ষা রাখে না, অর্থাৎ দেশান্তরে যাইয়া যে, মোক্ষ লাভ করিতে হয়, একথা হইতে পারে না; এই জন্যই পূর্ব্বে বলা হইয়াছে যে, ব্রহ্মবিদের প্রাণ উৎক্রান্ত হয় না, যে ভাবে ছিল, ঠিক সেই ভাবেই স্বকারণীভূত পুরুষে(আত্মায়) বিলয় প্রাপ্ত হয়; কেবল নামমাত্র অবশিষ্ট থাকে অর্থাৎ মুক্ত পুরুষের দেহত্যাগ হইলে ঐহিক সমস্তই ফুরাইয়া যায়, কেবল তাঁহার নামটী মাত্র জগতে থাকিয়া যায়। ১
ভাল, প্রাণসমূহ বিলীন হইয়া গেলে এবং দেহও স্বকারণে লয় প্রাপ্ত হইলে, মুক্ত বিদ্বান্ পুরুষ এখানেই সর্ব্বাত্মভাবে বর্তমান থাকিয়া, পূর্ব্বের ন্যায় পুনশ্চ দেহিত্ব(সংসারিত্ব) লাভ করে না কেন? হাঁ, এ বিষয়ে উত্তর প্রদত্ত হইতেছে— এ বিষয়ে দৃষ্টান্ত এই—অহি অর্থ সর্প; তাহার ‘নির্ঘরণী’ অর্থ—নির্ম্মোক (সাপের খোলস্); জগতে সেই অহিনির্বয়ণী যেমন মৃত—জীর্ণ হইলে বল্মীকে অর্থাৎ সর্প যেখানে বাস করে, সেই উইমাটী প্রভৃতি স্থানে প্রত্যস্ত—অনাত্মভাবে প্রক্ষিপ্ত হইয়া অর্থাৎ ইহা আমি বা আমার নহে, এইরূপে পরিত্যক্ত হইয়া শয়ন করে—বর্তমান থাকে; ঠিক এইরূপই অর্থাৎ উক্ত দৃষ্টান্তেরই মত, এই শরীর সর্পস্থানীয় মুক্ত পুরুষকর্তৃক অনাত্মভাবে—‘ইহা আমি বা আমার নহে’ এইরূপে পরিত্যক্ত হইয়া মৃতবৎ(মরার মত) পড়িয়া থাকে। ২
এদিকে সর্পস্থানপাতী মুক্ত পুরুষ সর্ব্বাত্মভাবাপন্ন হইয়া, সর্পের ন্যায় সেই শরীরে বর্তমান থাকিয়াও অশরীরই থাকেন, কিন্তু পূর্ব্বের ন্যায় সশরীর বা শরীরাভিমানী হন না; কেন না, পূর্ব্বে যে, তাঁহার সশরীরত্ব ও মর্ত্যত্ব ছিল, কাম-কর্মজনিত শরীরাত্মভাবই তাহার কারণ,(কেবল দেহাধিষ্ঠান তাহার কারণ নহে); এখন তাঁহার সেই ‘কাম’ চলিয়া গিয়াছে; কাজেই তিনি অশরীর;
এই কারণেই অমৃত, এবং প্রাণ—যাহা দ্বারা প্রাণন করে, অর্থাৎ যাহা জীবনের হেতু, এইরূপ ব্যুৎপত্তি অনুসারে, পরবর্তী শ্লোকেও ‘প্রাণের প্রাণ’ বলিয়া নির্দেশ থাকায়, অন্য শ্রুতিতেও মনকে ‘প্রাণবন্ধন’(প্রাণাধীন) বলিয়া উল্লেখ করায় এবং পরমাত্মার প্রকরণে এই বাক্য সন্নিবিষ্ট থাকায় বুঝিতে হইবে যে, এখানে পরমাত্মাই প্রাণ-পদের অর্থ। তিনি ‘ব্রহ্মই’ অর্থাৎ পরমাত্মাই বটে। সেই ব্রহ্ম কি প্রকার? না, তেজই, অর্থাৎ জ্যোতির্ময় জ্ঞানস্বরূপই, যে আত্ম- জ্যোতিঃ দ্বারা উদ্ভাসিত হইয়া এই জগৎ প্রজ্ঞানেত্র অর্থাৎ জ্ঞানসম্পন্ন ও বিজ্ঞান- জ্যোতিঃ লাভ করিয়া অপ্রচ্যুতভাবে বর্তমান রহিয়াছে। ৩
ইতঃ পূর্ব্বে যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি জনক মহারাজকে যে, ইচ্ছানুসারে মোক্ষলাভোপ- যোগী প্রশ্নাধিকাররূপ বর প্রদান করিয়াছিলেন, শ্রুতি নিজেই জনক-যাজ্ঞবল্ক্য- সংবাদরূপ আখ্যায়িকা-আকার পরিগ্রহপূর্ব্বক সেই বন্ধ মোক্ষ ও তাহার উপায় এবং তদ্বিষয়ে দৃষ্টান্ত ও দার্সান্তিক বিস্তৃতভাবে নিরূপণ করিলেন, যাহাতে প্রাণিগণ মোক্ষোপায় অনায়াসে জানিতে পারে। জনক বিদ্যানিষ্ক্রয়ার্থ যাহা বলিয়াছিলেন, এখন শ্রুতি নিজেই তাহা বলিতেছেন। কি প্রকার? না, আপনি আমাকে বিমুক্তিলাভের পথ প্রদর্শন করিয়া মুক্তিলাভের সাহায্য করিয়াছেন; অতএব পূজনীয় আপনাকে বিদ্যার মূল্যস্বরূপ সহস্র গো দান করিতেছি; এই কথা বিদেহপতি জনক যাজ্ঞবল্ক্যকে বলিয়াছিলেন। এখানে শঙ্কা হইতে পারে যে, এখন যখন বিমোক্ষ-তত্ত্ব নির্ণীত হইল, তখন বিদেহপতি সম্পূর্ণ বিদেহরাজ্য, এমন কি, আপনাকেই বা দান করিলেন না কেন; অথচ পূর্ব্বে যেমন মোক্ষৈকদেশ শ্রবণে সহস্র দান করিয়াছিলেন, এখনও তাহাই দান করিতেছেন; ইহার অভি- প্রায় কি? ৪
ইহার উত্তরে কেহ কেহ বলিয়া থাকেন যে, জনক মহারাজ অধ্যাত্মবিদ্যায় রসিক; ব্রাহ্মণাকারে শ্রুত বিষয়টি পুনর্ব্বার মন্ত্রাকারে(শ্লোকরূপে) শ্রবণ করিতে ইচ্ছা করেন; এই কারণে তিনি এখনও সর্ব্বস্ব প্রদান করেন নাই; ‘যাজ্ঞবল্ক্যের নিকট ইচ্ছামত আরও শুনিয়া শেষে সর্ব্বস্ব দান করিব’ ইহাই জনকের মনের ভাব।[আমি] যদি এখনই সর্ব্বস্ব দান করি, তাহা হইলে, যাজ্ঞবন্ধ্য ঋষি মনে করিতে পারেন যে, এ ব্যক্তির শ্রবণাভিলাষ পরিপূর্ণ হইয়াছে, এখন ইহার আর কোন বিষয়ে শ্রবণেচ্ছা নাই; এই মনে করিয়া তিনি আর শ্লোক না বলিতেও পারেন; এই ভয়ে, শ্রবণেচ্ছার সম্ভাব জ্ঞাপনের নিমিত্ত সহস্র মাত্র দান করিয়া- ছেন। এসমস্ত কথাই অসৎ বা অযৌক্তিক; প্রথম কারণ—প্রমাণভূত(বিশ্বাস্য)
১২৪৩
শ্রুতির পক্ষে সাধারণ লোকের ন্যায় এইরূপ প্রতারণা করা অসঙ্গত; দ্বিতীয় কারণ —অর্থশেষের(অনুক্ত বিষয়ের) উপপত্তি বা সঙ্গতি; কেন না, মোক্ষলাভের উপায়- ভূত আত্মজ্ঞান উক্ত হইলেও, অজ্ঞানের শেষ বা অঙ্গস্বরূপ সর্ব্বপ্রকার কামনা পরি- ত্যাগরূপ সন্ন্যাসের কথা এখনও বলিতে বাকী রহিয়াছে, তাহা ত বলিতেই হইবে; সুতরাং কেবল শ্লোক শ্রবণের ইচ্ছাকেই যে, ঐরূপ ব্যবহারের একমাত্র কারণরূপে কল্পনা করা, তাহা সরল পদ্ধতি নহে; প্রতিপাদ্য বিষয়ের যে, পুনরুক্তি কল্পনা, তাহা কেবল অগতির গতি মাত্র, অর্থাৎ অগত্যাপক্ষে ঐরূপ কল্পনা করা যাইতে পারে, কিন্তু উপায়ান্তরসত্ত্বে ঐরূপ কল্পনা কখনই যুক্তিসম্মত হইতে পারে না। ৫
সর্ব্বপ্রকার কামনাত্যাগরূপ সন্ন্যাসকে ব্রহ্মবিদ্যার স্তুতি বা প্রশংসা স্বরূপও বলিতে পারা যায় না; ইহা আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি। ভাল, এইরূপই যদি অভিপ্রায় হয়, তাহা হইলে ত, ‘ইহার পর আমাকে বিমোক্ষের উপায়ই বলুন’, এইরূপই বলা উচিত ছিল। হাঁ, ইহা দোষাবহ হয় না; কারণ, আত্ম- জ্ঞান যেরূপ মোক্ষের প্রযোজক বা প্রবর্ত্তক, সন্ন্যাস ঠিক সেরূপ নহে; পরন্তু প্রতিপত্তিক্রিয়ার বা উপাসনার ন্যায় উহাও পাক্ষিক কারণ মাত্র; ইহাই শ্রুতির অভিপ্রায়; কারণ, স্মৃতিতে আছে—‘সন্ন্যাস দ্বারা শরীরপাত করিবে’; আর যে পক্ষে সন্ন্যাস ধৰ্ম্ম মোক্ষ-সাধন, সে পক্ষেও ‘অতঃপর বিমোক্ষের উপায়ই বলুন’ এইরূপ কথা হইতে পারে না; কারণ, মোক্ষলাভের সাধনস্বরূপ যে, আত্মজ্ঞান, তাহার পরিপক্কতা-সম্পাদনই সন্ন্যাসের প্রধান প্রয়োজন;[সুতরাং জিজ্ঞাসা না থাকিলেও, ঐ বিষয় নির্দ্ধারণ করা আবশ্যক হইতেছে] ॥২৯৭৷৷৭৷৷
তদেতে শ্লোকা ভবন্তি—অণুঃ পন্থা বিততঃ পুরাণো মাং- স্পৃষ্টোহনুরিত্তো ময়ৈব। তেন ধীরা অপিযন্তি ব্রহ্মবিদঃ স্বর্গং লোকমিত ঊর্দ্ধং বিমুক্তাঃ ॥ ২৯৮ ॥ ৮ ॥
সরলার্থঃ।—তৎ(তস্মিন্ অর্থে) এতে(বক্ষ্যমাণাঃ) শ্লোকাঃ(মন্ত্রাঃ) ভবন্তি,—পুরাণঃ(পুরাতনঃ—সনাতনঃ) বিততঃ(বিস্তীর্ণঃ) অণুঃ(সূক্ষ্মঃ দুর্লভঃ) পন্থাঃ(মোক্ষমার্গঃ) ময়া(যাজ্ঞবল্ক্যেন) এব অনুবিত্তঃ(পরিজ্ঞাতঃ, ময়া সাক্ষাৎকৃতঃ),[অতএব] মাং স্পৃষ্টঃ(ময়া অধিগতঃ) এব। ধীরাঃ(প্রজ্ঞা- বন্তঃ) ব্রহ্মবিদঃ বিমুক্তাঃ[সন্তঃ] ইতঃ(অস্মাৎ লোকাৎ, দেহপাতাদ্বা) ঊর্দ্ধং (পশ্চাৎ), তেন(জ্ঞানলক্ষণেন মোক্ষমার্গেণ) স্বর্গং লোকং(মোক্ষং) অপিযন্তি প্রাপ্ত বন্তি, বিদ্যাফলং মোক্ষং লভন্তে ইত্যর্থঃ) ॥২৯৮৷৷৮৷৷
মূলানুবাদ:-পূর্ব্বোক্ত বিষয়ে এই সমুদয় শ্লোক আছে- চিরপ্রসিদ্ধ বিস্তীর্ণ(দীর্ঘকালসাধ্য) দুর্বিজ্ঞেয় পথ(মোক্ষমার্গ- ব্রহ্মবিদ্যা) নিশ্চয়ই আমার দ্বারা বিজ্ঞাত হইয়াছে; অতএব তাহা আমাকে স্পর্শও করিয়াছে, অর্থাৎ আমি মোক্ষপথ ব্রহ্মবিদ্যা লাভ করিয়াছি। যাহারা ধীর ব্রহ্মজ্ঞ, তাহারা এখান হইতে বিমুক্ত হইয়া অর্থাৎ দেহপাতের পর, ঐ পথেই স্বর্গলোকে গমন করিয়া থাকেন। এখানে স্বর্গলোক অর্থ আত্মলোক-মোক্ষ ॥ ২৯৮ ॥৮॥
শাঙ্করভাষ্যম্।-আত্মকামস্য ব্রহ্মবিদো মোক্ষঃ-ইত্যেতস্মিন্নর্থে মন্ত্রব্রাহ্মণোক্তে, বিস্তরপ্রতিপাদকা এতে শ্লোকা ভবন্তি-অণুঃ সূক্ষ্মঃ পন্থাঃ দুর্বিজ্ঞেয়ত্বাৎ, বিততঃ বিস্তীর্ণঃ, বিস্পষ্টতরণহেতুত্বাদ্বা, ‘বিতরঃ’ ইতি পাঠান্তরাৎ; মোক্ষসাধনো জ্ঞানমার্গঃ, পুরাণশ্চিরন্তনঃ, নিত্যশ্রুতিপ্রকাশিতত্বাৎ, ন তার্কিক- বুদ্ধিপ্রভব-কুদৃষ্টিমার্গবদ্ অর্ব্বাক্কালিকঃ, মাং স্পৃষ্টঃ ময়া লব্ধ ইত্যর্থঃ; যো হি যেন লভ্যতে, স তং স্পৃশতীব সম্বধ্যতে; তেনায়ং ব্রহ্মবিদ্যা-লক্ষণো মোক্ষমার্গঃ ময়া লব্ধত্বাৎ ‘মাং স্পৃষ্টঃ’ ইত্যুচ্যতে। ন কেবলং ময়া লব্ধঃ, কিন্তু অনুবিত্তঃ ময়ৈব; অনুবেদনং নাম বিদ্যায়াঃ পরিপাকাপেক্ষয়া ফলাবসানতা নিষ্ঠাপ্রাপ্তিঃ, ভুজেরিব তৃপ্ত্যবসানতা; পূর্ব্বন্তু জ্ঞানপ্রাপ্তিসম্বন্ধমাত্রমেবেতি বিশেষঃ। ১
টাকা। রাজ্ঞোহকৌশলং পরিহৃত্য মন্ত্রানবতারয়তি-আত্মকামস্যেতি। যদেত্যাদ্যতীত- শ্লোকেনাগামিশ্লোকানামর্থাপৌনরুক্ত্যং সূচয়তি-বিস্তরেতি। জ্ঞানমার্গস্য সূক্ষ্মত্বে হেতুমাহ- দুর্বিজ্ঞেয়ত্বাদিতি। বিস্তীর্ণত্বং পূর্ণবস্তুবিষয়ত্বাদবধেয়ম্। মাধ্যংদিনশ্রুতিমাশ্রিত্যাহ- বিস্পষ্টেতি। প্রযত্নসাধ্যত্বং তস্য পঞ্চম্যা বিবক্ষ্যতে। কথং পুনরধুনাতনো বৈদিকো জ্ঞান- মার্গশ্চিরত্তনো নিরুচ্যতে, তত্রাহ-নিত্যেতি। বিশেষণপ্রকাশিতমর্থমুক্ত। তস্য ব্যবচ্ছেদ্যমাহ- ন তার্কিকেতি। মন্ত্রদৃশা লব্ধত্বেইপি কুতো জ্ঞানমার্গস্য তৎসংস্পর্শিত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-যো হীতি। অনুবেদনলাভয়োবিশেষাভাবাৎ পৌনরুক্ত্যমাশঙ্ক্যাহ-অনুবেদনমিতি। পূর্ব্বশব্দেন পাঠক্রমানুসারেণ লাভো গৃহ্যতে।
কিমসাবেব মন্ত্রদূগেকঃ ব্রহ্মবিদ্যাফলং প্রাপ্তঃ, নান্যঃ প্রাপ্তবান্, যেন ‘অনুবিত্তো ময়ৈব’ ইত্যবধারয়তি? নৈষ দোষঃ, অস্যাঃ ফলমাত্মসাক্ষিকমনুত্তমমিতি ব্রহ্ম- বিদায়াঃ স্তুতিপরত্বাৎ; এবং হি কৃতার্থাত্মাভিমানকরমাত্মপ্রত্যয়সাক্ষিকম্ আত্মজ্ঞানম্, কিমতঃ পরমন্যৎ স্যাদিতি ব্রহ্মবিদ্যাং স্তৌতি; ন তু পুনরন্যো ব্রহ্ম- বিৎ তৎফলং ন প্রাপ্নোতীতি, “তদ্যো যো দেবানাম্” ইতি সর্ব্বার্থশ্রুতেঃ। তদেবাহ—তেন ব্রহ্মবিদ্যামার্মেণ, ধীরাঃ প্রজ্ঞাবন্তঃ অন্যেহপি ব্রহ্মবিদ ইত্যর্থঃ,
১২৪৫
অপিযন্তি অপিগচ্ছন্তি, ব্রহ্মবিদ্যাফলং মোক্ষং স্বর্গং লোকম্। স্বর্গলোকশব্দ- স্ত্রিপিষ্টপবাচ্যপি সন্ ইহ প্রকরণাৎ মোক্ষাভিধায়কঃ। ইতঃ অস্মাৎ শরীরপাতাৎ ঊর্দ্ধং, জীবন্ত এব বিমুক্তাঃ সন্তঃ ॥২৯৮৷৷
এবকারমাশ্রিত্য শঙ্কতে-কিমসাবিতি। তথা চ তদ্যো যো দেবানামিত্যাদ্যবিশেষ- শ্রুতিবিরুধ্যেতেতি শেষঃ। অবধারণশ্রুতেরন্যপরত্বেনান্যযোগব্যবচ্ছেদকাভাবমভিপ্রেত্য পরি- হরতি-নৈষ দোষ ইতি। স্তুতিপরত্বমেব প্রকটয়তি-এবং হাঁতি। কৃতার্থোহম্মীত্যাত্মন্যভি- মানকরং স্বানুভবসিদ্ধমাত্মজ্ঞানং নাম্মাদন্যদুৎখৃষ্টং কিঞ্চিদিত্যেবং বিদ্যামবধারণশ্রুতিঃ স্তৌতীত্যর্থঃ। যথাশ্রুতার্থত্বে কো দোষঃ স্যাদিতি চেৎ, তত্রাহ-নন্বিতি। ইত্যবধারণশ্রুত্যা বিবক্ষিতমিতি শেষঃ। তত্র হেতুঃ-তদ্যো য ইতি। সর্ব্বার্থশ্রুতেব্রহ্মবিদ্যা সর্ব্বার্থা সর্ব্ব- সাধারণীতি শ্রবণাদিতি যাবৎ। ব্রহ্মবিদ্যায়াঃ সর্ব্বার্থত্বে বাক্যশেষং প্রমাণত্বেনাবতার্য্য ব্যাচষ্টে-তদেবেতি। ননু মোক্ষে স্বর্গশব্দো ন যুজ্যতে, তস্যার্থান্তরে রূঢ়ত্বাদত আহ- স্বর্গেতি। যথা জ্যোতিষ্টোমপ্রকরণে শ্রুতো জ্যোতিঃশব্দো জ্যোতিষ্টোমবিষয়স্তথা মোক্ষ- প্রকরণে শ্রুতঃ স্বর্গশব্দো মোক্ষমধিকরোতি। রূঢ্যঙ্গীকারে ব্রহ্মবিদ্যায়া নিকর্যপ্রসঙ্গাদিতি ভাবঃ। জীবন্ত এব মুক্তাঃ সন্তঃ শরীরপাতাদুর্দ্ধং মোক্ষমপিযন্তীতিসম্বন্ধঃ ॥ ২৯৮॥৮॥
ভাষ্যানুবাদ।—আত্মকাম ব্রহ্মবিদের মোক্ষলাভ হয়, এ কথা মন্ত্র ও ব্রাহ্মণভাগে উক্ত হইয়াছে; বিস্তৃতভাবে তৎপ্রতিপাদক এই সমুদয় শ্লোক আছে—
অণু অর্থ—সূক্ষ্ম; কেন না, উহা অতিদুর্বিজ্ঞেয়; বিতত অর্থ—বিস্তীর্ণ, অথবা সংসার হইতে ত্রাণ পাইবার উৎকৃষ্ট উপায় বলিয়া বিতত; কারণ, মাধ্যন্দিন শাখায় ‘বিততঃ’ স্থলে ‘বিতরঃ’ পাঠ রহিয়াছে। পুরাণ অর্থ—পুরাতন; কেন না, উহা নিত্য শ্রুতিদ্বারা প্রকাশিত; কিন্তু তার্কিকদিগের স্ববুদ্ধিকল্পিত অপকৃষ্ট জ্ঞান- পথের ন্যায় ইহা আধুনিক নহে। এবংবিধ পথ—মোক্ষসাধন জ্ঞানমার্গ আমাকে স্পর্শ করিয়াছে, অর্থাৎ আমা দ্বারা লব্ধ হইয়াছে; কেন না, যাহা দ্বারা যাহা লব্ধ হয়, সেই লব্ধ বস্তু লাভকর্তাকে যেন স্পর্শই করিয়া থাকে; সেই হেতু উক্ত ব্রহ্মবিদ্যা আমা দ্বারা লব্ধ হওয়ায় ‘আমাকে স্পর্শ করিয়াছে’ বলা হইতেছে। আমি যে, ইহা কেবল লাভই করিয়াছি, তাহা নহে, পরন্তু আমি নিশ্চয়ই ইহার অনুবেদনও করিয়াছি। ভোজন বলিলে যেমন ভোজনজনিত তৃপ্তিপর্য্যন্ত বুঝায়, তেমনি এখানে ‘অনুবেদন’ অর্থে বিদ্যার পরিপক্কতানুসারে ফলের চরম অবস্থা- প্রাপ্তি পর্য্যন্ত বুঝাইতেছে। প্রথমে কেবল জ্ঞানপ্রাপ্তির সংবন্ধ মাত্র ছিল, [এখন তাহার ফলাবস্থা বা সাক্ষাৎকারও লাভ হইয়াছে, ইহাই উভয়ের মধ্যে বিশেষ]। ১
ভাল, একমাত্র এই যাজ্ঞবল্ক্যই কি ব্রহ্মবিদ্যার ফল লাভ করিয়াছিলেন? অপর কেহ কি বিদ্যাফল প্রাপ্ত হন নাই? যাহার দরুণ ‘আমাদ্বারাই অনুবিত্ত হইয়াছে’ বলিয়া অবধারণ করিতেছেন। না-ইহা দোষাবহ হয় নাই; কারণ, এই ব্রহ্মবিদ্যার ফল যে, আত্মসাক্ষিক(নিজের প্রত্যক্ষীভূত) হইলেই সর্বোত্তম হয়, এইরূপে ব্রহ্মবিদ্যার প্রশংসাপ্রদর্শন করাই উক্ত অবধারণের অভিপ্রেত তাৎপর্য্য। আত্মজ্ঞান আত্মপ্রতীতিগম্য হইলে যে, আপনার কৃতার্থতাভিমান জন্মায়; বল দেখি, এতদপেক্ষা আর উৎকৃষ্ট ফল কি হইতে পারে? এইরূপে ব্রহ্মবিদ্যার স্তুতিপ্রকাশ করা হইতেছে মাত্র, কিন্তু অপর কোনও ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষ যে, জ্ঞানফল প্রাপ্ত হন নাই, এরূপ অর্থে উহার তাৎপর্য্য নহে; কারণ, ‘দেবতা- দিগের মধ্যে যে যে প্রতিবুদ্ধ হইয়াছিলেন’, ইত্যাদি শ্রুতিতে সর্ব্বসাধারণের জন্যই তুল্য ফলপ্রাপ্তির কথা উক্ত হইয়াছে। তাহাই বলিতেছেন-ধীর অর্থাৎ উত্তম জ্ঞানসম্পন্ন অপরাপর ব্রহ্মবিদ্গণও এই ব্রহ্মবিদ্যা-পথে জীবদবস্থায়ই মুক্তিলাভ করেন, শেষে দেহপাতের পর ব্রহ্মবিদ্যার ফলস্বরূপ স্বর্গলোকে গমন করেন, অর্থাৎ মুক্তিলাভ করেন। যদিও ‘স্বর্গ’ শব্দ সাধারণতঃ সুরলোকবাচক হউক, তথাপি এখানে প্রকরণানুসারে মোক্ষই উহার প্রতিপাদ্য অর্থ ॥২৯৮৷৷৷
তস্মিন্ শুক্লমুত নীলমাহুঃ পিঙ্গলহরিতং লোহিতঞ্চ। এষ পন্থা ব্রহ্মণা হানুবিত্তস্তেনৈতি ব্রহ্মবিৎ পুণ্যকৃত্তৌজসশ্চ ॥২৯৯৷৷৯৷৷
সরলার্থঃ।—তস্মিন্(মোক্ষমার্গে)[বিপ্রতিপন্নাঃ] শুক্লং(শুভ্রং) উত (অপি) নীলম্, পিঙ্গলং, হরিতং(শ্যামলং), লোহিতং(রক্তবর্ণং) চ আহুঃ (কথয়ন্তি—মার্গাণাং শুক্লাদিবর্ণভেদান্ কল্পয়ন্তি ইত্যর্থঃ)। এষঃ(যথোক্তরূপঃ) পথাঃ, ব্রহ্মণা(পরমাত্মনা) অনুবিত্তঃ(প্রাপ্তঃ সম্বদ্ধঃ); ব্রহ্মবিৎ, পুণ্যকৃৎ(প্রথমং পুণ্যকৰ্ম্মণা শুদ্ধচিত্তঃ), তৈজসঃ(তেজোময়ে ব্রহ্মণি সম্পন্নঃ) চ সন্, তেন (যথোক্তেন পথা) এতি(গচ্ছতি, ব্রহ্ম প্রাপ্নোতি ইত্যর্থঃ) ॥২৯৯৷৷৯৷৷
মূলানুবাদ।—[ ভিন্ন ভিন্ন লোক নিজ নিজ জ্ঞান অনু- সারে] পূর্ব্বোক্ত মোক্ষসাধনপথের শুক্ল(বিশুদ্ধ বা নির্ম্মল), নীল, পিঙ্গল, হরিত(শ্যাম) ও লোহিত বর্ণ বর্ণনা করিয়া থাকেন। এই পথটী ব্রহ্মের সহিত সম্বন্ধ: ব্রহ্মবিৎ পুরুষ পুণ্য কর্ম্ম দ্বারা শুদ্ধচিত্ত হইয়া এবং তেজোময় ব্রহ্মে আত্মভাব স্থাপন করিয়া ঐ ব্রহ্মপথে গমন করেন অর্থাৎ মোক্ষ প্রাপ্ত হন ॥২৯৯৷৷৯৷৷
১২৪৭
শাঙ্করভাষ্যম্।—তস্মিন্ মোক্ষসাধন-মার্গে বিপ্রতিপত্তির্মু মুক্ষুণাম্। কথম্? তস্মিন্ শুক্লং শুদ্ধং বিমলমাহুঃ কেচিৎ মুমুক্ষবঃ, নীলম্ অন্যে, পিঙ্গলম্ অন্যে, হরিতং লোহিতঞ্চ যথাদর্শনম্। নাড্যস্বেতাঃ সুষুম্নাদ্যাঃ শ্লেষ্মাদিরস- সম্পূর্ণাঃ—শুক্লস্য নীলস্য পিঙ্গলস্যেত্যাদ্যুক্তত্বাৎ। আদিত্যং বা মোক্ষমার্গমেবং- বিধং মন্যন্তে—“এষ শুক্ল এষ নীলঃ” ইত্যাদিশ্রুত্যন্তরাৎ; দর্শনমার্গস্য চ শুক্লাদি- বর্ণাসম্ভবাৎ। সর্ব্বথাপি তু প্রকৃতাদ ব্রহ্মবিদ্যামার্গাৎ অন্যে এতে শুক্লাদয়ঃ। ১
টাকা। তস্মিন্নিত্যাদি পূর্ব্বপক্ষমুখাপয়তি-তস্মিন্নিতি। বিপ্রতিপত্তিমেব প্রশ্নপূর্ব্বকং বিশদয়তি-কথমিত্যাদিনা। পিঙ্গলং বহ্নিজ্বালাতুল্যম্। লোহিতং জবাকুসুমসন্নিভম্। সপ্রপঞ্চং শব্দস্পর্শরূপরসাদিমদ্ ব্রহ্ম তদুপাসনমনুসৃত্য তৎপ্রাপ্তিমার্গে বিবাদো মুমুক্ষুণামিত্যাহ- যথাদর্শনমিতি। তথাপি কথং ব্রহ্মপ্রাপ্তিমার্গে শুক্লাদিরূপসিদ্ধিঃ। নহি জ্ঞানস্য রূপাদিমত্ত্ব- মিত্যাশঙ্ক্যাহ-নাড্যন্তিতি। তাসামপি কথং যথোক্তরূপবত্তমিত্যাশঙ্ক্যাহ-শ্লেষ্মাদীতি। তথাপি কথং শুক্লাদিরূপবত্ত্বমিত্যাশঙ্ক্য নাড়ীখক্তোক্তং স্মারয়তি-শুক্লস্যেতি। নাড়ীপরিগ্রহে নিয়ামকাভাবমাশঙ্ক্য পক্ষান্তরমাহ-আদিত্যং বেতি। এবম্বিধং শুক্লাদিনানাবর্ণমিত্যর্থঃ। তস্য তথাত্বে প্রমাণমাহ-এষ ইতি। প্রকৃতে জ্ঞানমার্গে কিমিতি মার্গান্তরং কল্প্যতে, তত্রাহ-দর্শনেতি। তর্হি নাড়ীপক্ষো বাদিত্যপক্ষো বা কতরো বিবক্ষিতস্তত্রাহ- সর্ব্বথাপীতি। ১
ননু শুক্লঃ শুদ্ধঃ অদ্বৈতমার্গঃ; ন, নীলপীতাদিশব্দৈবর্ণবাচকৈঃ সহ অনু- দ্রবণাৎ; যান্ শুক্লাদীন্ যোগিনো মোক্ষপথান্ আহুঃ, ন তে মোক্ষমার্গাঃ; সংসারবিষয়া এব হিতে—“চক্ষুষ্টো বা মূর্খো বা অন্যেভ্যো বা শরীর- দেশেভ্যঃ” ইতি শরীরদেশান্নিঃসরণসম্বন্ধাৎ, ব্রহ্মাদিলোকপ্রাপকা হি তে। তস্মা- দয়মেব মোক্ষমার্গঃ, যঃ আত্মকামত্বেনাপ্তকামতয়া সর্ব্বকামক্ষয়ে গমনানুপপতৌ প্রদীপনির্বাণবৎ চক্ষুরাদীনাং কার্যকরণানাম্ অত্রৈব সমবনয়ঃ—ইতি এষ জ্ঞানমার্গঃ পন্থাঃ, ব্রহ্মণা পরাত্মস্বরূপেণৈব ব্রাহ্মণেন ত্যক্তসর্ব্বৈষণেন অনুবিত্তঃ। তেন ব্রহ্মবিদ্যামার্গেণ ব্রহ্মবিদ্ অন্যোহপি এতি। ২
শুক্লমার্গস্য জ্ঞানমাগাদন্যত্বমাক্ষিপতি-নান্বিতি। শুক্লশব্দস্য নাদ্বৈতমাগবিষয়ত্বং নীলাদি- শব্দসমভিব্যাহারবিরোধাদিতি পরিহরতি-ন নীলেতি। সৈদ্ধান্তিকমন্ত্রভাগং ব্যাখ্যাতুং পূর্ব্বপক্ষং দূষয়তি-যান্ শুক্লাদীনিতি। ন কেবলং দেহদেশনিঃসরণসম্বন্ধাদেব নাড়ীভেদানাং সংসারবিষয়ত্বং, কিন্তু ব্রহ্মলোকাদিসম্বন্ধাদপীত্যাহ-ব্রহ্মাদীতি। আদিত্যোহপি দেবযান- মধ্যপাতী ব্রহ্মলোকপ্রাপকঃ সংসারহেতুরেবেতি মন্থানো মোক্ষমার্গমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। আপ্তকামতয়া জ্ঞানমার্গ ইতি সম্বন্ধঃ। এবং ভূমিকাং কৃত্বা এষ ইত্যন্তার্থমাহ-সর্ব্বকামেতি। যথা তৈলাদিবিলয়ে প্রদীপস্য জ্বলনানুপপতৌ তেজোমাত্রে নির্বাণমিষ্যতে, তথা স্থূলস্য সুক্ষ্মস্য চ সর্ব্বস্যৈব কামস্য জ্ঞানাৎ ক্ষয়ে সতি গত্যনুপপত্তাবত্রৈব প্রত্যগাত্মনি কার্যকরণানামেকী-
ভাবেনাবসানমিত্যয়মেষশব্দার্থ ইত্যর্থঃ। পন্থা ইত্যেতদ্ব্যাচষ্টে-জ্ঞানমার্গ ইতি। ইত্থংভাবে তৃতীয়ামাশ্রিত্যাহ-পরমাত্মেতি। অনুবেদনকর্ত্তৃব্রাহ্মণস্য সংন্যাসিত্বং দর্শয়তি-ত্যক্তেতি। বিপ্রতিপত্তিং নিরাকৃত্য মোক্ষমার্গং নির্দ্ধায্য যেন ধীরা অপিযস্তীত্যত্রোক্তং নিগময়তি-তেনেতি। অন্যোহপি মন্ত্রদৃশঃ সকাশাদিতি শেষঃ। ইহেতি জীবদবস্থোক্তিঃ। ২
কীদৃশো ব্রহ্মবিৎ তেন এতীতি উচ্যতে-পূর্ব্বং পুণ্যকৃৎ ভূত্বা, পুনস্ত্যক্ত- পুত্রাদ্যেষণঃ পরমাত্মতেজস্যাত্মানং সংযোজ্য তস্মিন্নভিনিবৃত্তঃ তৈজসশ্চাত্মভূতঃ ইহৈবেত্যর্থঃ। ঈদৃশো ব্রহ্মবিৎ তেন মার্গেণ এতি, ন পুনঃ পুণ্যাদিসমুচ্চয়- কারিণো গ্রহণম্, বিরোধাদিত্যবোচাম।
“অপুংসকৌপবচয়ঃ। পুনর্নির্ধারিতঃ।
শোভাঃ সর্ব্ববিলা। যোনিং তস্য যোনিঃ। যোনিশ্চ যোনিঃ॥ ইতি শ্লোকঃ।
“তত্র ধর্ম্মধর্ম্মঞ্চ” ইত্যাদি পুণ্যপাপোৎপাদ্যার্থং।
“নিরাশিষ্যমনাস্তুং, নির্ঘণ্টাশ্চৈব তস্মিন্।
পাপীনাং শৌনকধর্ম্মাণাং তং দেবা ব্রাহ্মণং বিদুঃ। ॥”
“নৈবাদৃশং ব্রাহ্মণস্যতি নিবং যটৈকত্বা সমতা। সত্যতা চ।”
শীতং হিতং নিবাপনমার্থং, তত্রহস্তোঽপ্যগ্নিঃ। ক্রিয়াশ্চ॥
ইত্যাদিস্তিত্বাৎ ॥ ৩ ॥
সমুচ্চয়কারিণোহত্র ব্রহ্মপ্রাপ্তির্বিবক্ষিতেতি কেচিৎ; তান্ প্রত্যাহ-ন পুনরিতি। বিরোধাৎ জ্ঞানকৰ্ম্মণোরিতি শেষঃ। কিঞ্চ ক্রমসমুচ্চয়ঃ সমসচ্চয়ো বেতি বিকল্প্যাদ্যমঙ্গীকৃত্য দ্বিতীয়ং দূষয়তি-অপুণ্যেতি। জ্ঞানস্য কৰ্মাসমুচ্চয়েইপি বিবেকজ্ঞানেন সমুচ্চয়োহস্তীত্যা- শঙ্ক্যাহ-ত্যজেতি। ব্রহ্মবিদোহপি স্তুত্যাদিদৃষ্টেস্তেন সমুচ্চয়ো জ্ঞানস্যেত্যাশঙ্ক্যাহ-নিরাশিষ- মিতি। কাম্যাননুষ্ঠানমনারম্ভঃ। অক্ষীণত্বং নিষিদ্ধানাচরণম্। ক্ষীণকৰ্ম্মত্বং নিত্যাদিকৰ্ম্ম- রাহিত্যম্। অসমুচ্চয়ে বাক্যান্তরমাহ-নেত্যাদিনা। একতা নিরপেক্ষতা সর্ব্বোদাসীনতেতি যাবৎ। সমতা মিত্রোদাসীনশত্রুবুদ্ধিব্যতিরেকেণ সর্বত্র স্বস্মিন্নির দৃষ্টিঃ। দণ্ডনিধানমহিংসা- পরত্বম্।
“অগ্নি মূলং নিষ্কৃতিঃ কফং চ কষায়ং বিস্বাদং চ বর্দ্ধয়তি।
সর্ব্বত্র যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র যোনিঃ। যোনিঃ সর্ব্বত্র য
ইত্যাদি চতুর্বিধে পুরুষার্থে সাধনভেদোপদেশি বাক্যমাদিশব্দার্থঃ। ইত্যাদি স্মৃতিভ্যশ্চ ন পুণ্যা দিসমুচ্চয়কারিণো গ্রহণমিতি সম্বন্ধঃ। ৩
উপদেক্ষ্যন্তি চ ইহাপি তু, “এষ নিত্যো মহিমা ব্রাহ্মণস্য ন বর্দ্ধতে কৰ্ম্মণা নো কনীয়ান্” ইতি কৰ্ম্মপ্রয়োজনাভাবে হেতুমুক্তা, “তস্মাদেবংবিৎ শান্তো দান্তঃ” ইত্যাদিনা সর্ব্বক্রিয়োপরমং দর্শয়তি। তস্মাদ যথাব্যাখ্যাতমেব পুণ্যকৃত্বম্,
১২৪৯
যো ব্রহ্মবিৎ তেনৈতি স পুণ্যকৃৎ তৈজসশ্চেতি ব্রহ্মবিৎ-স্তুতিরেষা। পুণ্যকৃতি তৈজসে চ যোগিনি মহাভাগ্যং প্রসিদ্ধং লোকে, তাভ্যাম্ অতো ব্রহ্মবিৎ স্তূয়তে প্রখ্যাভমহাভাগ্যত্বাল্লোকে ॥২৯৯৷৷৯৷৷
তথাপি প্রকৃতে মন্ত্রে সমুচ্চয়ো ভাতীত্যাশঙ্ক্যাহ-উপদেক্ষ্যতীতি। বাক্যশেষাদি- পর্যালোচনাসিদ্ধমর্থমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। পূর্ব্বং পুণ্যকৃদ্ ভূত্বা পুনস্ত্যক্তপুত্রাদ্যেষণো ব্রহ্ম- বিত্তেনৈতীতি ক্রমো ন যুজ্যতে, অশ্রুতত্বাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-অথবেতি। স্তুতিমেবোপপাদয়তি- পুণ্যকৃতীতি। তেজাংসি করণান্যুপসংহৃত্য স্থিতস্তৈজসো দহরাদ্যুপাসীনো যোগী, তস্মিন্ অণিমাদ্যৈশ্বয্যাৎ মহানুভাবত্বপ্রসিদ্ধিঃ। তাভ্যাং পুণ্যকৃৎ-তৈজসাভ্যামিত্যর্থঃ। অতঃ-শব্দ- পরামৃষ্টং স্পষ্টয়তি-প্রখ্যাতেতি। পুণ্যবৃত্তৈজসয়োরিতি শেষঃ। ২৯৯। ৯॥
ভাষ্যানুবাদ।—সেই মোক্ষের সাধনপথ সম্বন্ধে মুমুক্ষুগণের বিভিন্ন- প্রকার মতভেদ[দেখিতে পাওয়া যায়]। কি প্রকার? কোন কোন মুমুক্ষু সেই পথে শুক্ল অর্থাৎ বিশুদ্ধ নির্ম্মল রূপ বর্ণনা করিয়া থাকেন; অন্যে নীল বর্ণ বলেন, অপরে পিঙ্গলবর্ণ, কেহ বা হরিত(সবুজ), কেহ বা লোহিতবর্ণ(১), সকলেই নিজ নিজ জ্ঞানানুসারে বর্ণনা করিয়া থাকেন। প্রকৃতপক্ষে কিন্তু এ সমস্তই শ্লেষ্মাদিপূর্ণ সুষুম্নাদি নাড়ীসমূহ; কেননা, এখানে যেমন শুক্ল নীল ও পিঙ্গলাদি বর্ণের উল্লেখ রহিয়াছে,[সুষুম্না প্রভৃতিরও ঐরূপ বর্ণ প্রসিদ্ধ আছে]। কেহ কেহ মনে করেন যে, এই প্রকার বর্ণযুক্ত আদিত্যই মোক্ষমার্গ; কারণ, অন্য শ্রুতিতে আছে—‘ইনিই শুক্ল, ইনিই নীল’ ইত্যাদি। বিশেষতঃ জ্ঞানরূপ পথে শুক্লাদি বর্ণসম্বন্ধ থাকা একান্তই অসম্ভব। ফল কথা, সকল মতেই শুক্লাদি পথগুলি যে, মোক্ষমার্গ হইতে স্বতন্ত্র, তদ্বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। ১
ভাল, জিজ্ঞাসা করি; অদ্বৈতপথও(মোক্ষমার্গও ত) শুক্লই—শুদ্ধই বটে; [ তবে আর অন্য প্রকার অর্থ করিবার প্রয়োজন কি?] না, বর্ণবাচক নীল পীত প্রভৃতি শব্দের সহিত একত্র পঠিত থাকায় সে কথা বলিতে পারা যায় না। যোগি- গণ শুক্লাদি বর্ণবিশিষ্ট যে সমস্ত মোক্ষপথের কথা বলিয়া থাকেন, প্রকৃতপক্ষে সেগুলি যথার্থ মোক্ষপথ নহে; সে সমস্ত পথ সংসারাধিকারেই অবস্থিত; কারণ, ‘চক্ষু হইতে, অথবা মস্তক(ব্রহ্মরন্ধ্র) হইতে, কিংবা শরীরের অন্যান্য প্রদেশ হইতে [ বহির্গত হয়’], এই শ্রুতিতেও সাংসারিক গতির পক্ষেই শরীরের অংশবিশেষ
হইতে নির্গমনের কথা রহিয়াছে; সুতরাং এসমস্ত পথ ব্রহ্মলোকাদি প্রাপ্তিরই উপায়,(মোক্ষ প্রাপ্তির নহে)। অতএব ইহাই প্রকৃত মোক্ষপথ, যাহা মুমুক্ষুর আত্মবিষয়ক কামনা দ্বারা আপ্ত-কামত্ব নিবন্ধন কামনা ক্ষয় হইলে পর, প্রদীপ- নির্ব্বাণের ন্যায় চক্ষুঃপ্রভৃতি ইন্দ্রিয়নিচয় এখানেই বিলীন হইয়া যায়; এই জ্ঞান- মার্গ ই সেই মোক্ষপথ; এই পথটি ব্রহ্মকর্তৃক অর্থাৎ সর্ব্বকামনাবিনির্ম্মুক্ত পরমাত্ম- স্বরূপে অবস্থিত ব্রাহ্মণকর্তৃক অনুবিত্ত—সম্পূর্ণরূপে অনুভূত; অন্য ব্রহ্মবিদ্ পুরুষও সেই ব্রহ্মবিদ্যা-পথে গমন করিয়া থাকেন। ২।
কি প্রকার ব্রহ্মবিৎ পুরুষ সেই পথে গমন করেন, তাহা বলা হইতেছে-যিনি প্রথমে পুণ্যকর্ম করিয়া এবং পুত্রবিত্তাদি বিষয়ে কামনা ত্যাগ করিয়া পরমাত্মতেজে অর্থাৎ স্বপ্রকাশ পরমাত্মাতে আত্মসংযোগ করত সেই পরমাত্ম- তেজঃস্বরূপে পরিনিষ্পন্ন তৈজসত্ব লাভ করিয়াছেন, অর্থাৎ ইহ লোকেই আত্মস্বরূপ হইয়াছেন, এবংবিধ ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষ সেই পথে গমন করেন। এখানে ‘পুণ্যকৃৎ’ শব্দে জ্ঞান ও পুণ্যাদির সমুচ্চয়কারীর গ্রহণ নহে, অর্থাৎ একসঙ্গে জ্ঞান-কর্মের অনুষ্ঠাতা বুঝিতে হইবে না। জ্ঞান ও কৰ্ম্ম যে, পরস্পর বিরুদ্ধস্বভাব, এ কথা আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি। বিশেষতঃ স্মৃতিশাস্ত্রে আছে-‘পাপ ও পুণ্যের নিবৃত্তি হইলে পর, পুনর্জন্মের ভয় হইতে বিমুক্ত-অতএব শান্ত-নিরুদ্বিগ্নচিত্ত সন্ন্যাসি- গণ যাহাকে লাভ করিয়া থাকেন, সেই স্বভাবমুক্ত আত্মাকে নমস্কার করি‘। তাহার পর, ‘ধৰ্ম্ম ও অধৰ্ম্ম ত্যাগ কর’ ইত্যাদি ধর্মাধর্মত্যাগের উপদেশ হেতু, এবং ‘যিনি কোন বিষয়ের আকাঙ্ক্ষা করেন না, তন্নিমিত্ত কোন কর্মও করেন না, নমস্কার ও স্তুতিরহিত, নিজে অক্ষীণ(অনিষিদ্ধকর্মা) ও ক্ষীণকৰ্ম্মা(কর্ম যাহার ক্ষয় পাইয়াছে), দেবতাগণ তাঁহাকে ব্রাহ্মণ(ব্রহ্মনিষ্ঠ) বলিয়া জানেন‘। ‘ব্রহ্মনিষ্ঠ ব্যক্তির পক্ষে, একতা(ব্রহ্মাত্মৈকত্ব), সমতা, সত্যতা, শীল(ন্যায্যপক্ষে স্থিতি), দণ্ডগ্রহণ, সরলতা, এবং কৰ্ম্ম হইতে বিরত থাকা, ইহার তুল্য আর কোন সম্পদ নাই।’ ইত্যাদি স্মৃতি বচন হইতেও জ্ঞান ও কর্মের সমুচ্চর সিদ্ধ হইতেছে না। ৩ এখানেও উপদেশ করিবেন ‘ব্রহ্মনিষ্ঠ ব্যক্তির ইহা নিত্য মহিমা, কৰ্ম্ম দ্বারা ইহার কোনও ক্ষতি বৃদ্ধি হয় না’ এইরূপে কর্মানুষ্ঠানের অনাবশ্যকতার হেতু জ্ঞাপন করিয়া ‘অতএব এবংবিধ জ্ঞানসম্পন্ন(ব্রহ্মজ্ঞ) পুরুষ শান্ত ও দান্ত (ইন্দ্রিয়সংযমী) হইয়া’ ইত্যাদি বাক্যে সর্ব্বক্রিয়া হইতে নিবৃত্তির উপদেশ করিবেন। অতএব ‘পুণ্যকৃৎ’ শব্দের ব্যাখ্যা আমরা যেরূপ করিয়াছি, সেইরূপ
১২৫১
ব্যাখ্যাই সমীচীন। অথবা, ইহা কেবল ব্রহ্মবিৎ পুরুষের স্তুতিমাত্র—যে ব্রহ্মবিৎ সেই পথে গমন করেন, তিনিই পুণ্যকৃৎ এবং তৈজস; কারণ, পুণ্যকর্মা ও তৈজস যোগী পুরুষ যে, মহাসৌভাগ্য-সম্পন্ন, তাহা জগতে সুপ্রসিদ্ধ। যেহেতু ব্রহ্মজ্ঞ ব্যক্তি মহাভাগ্যবান্ বলিয়া জগতে প্রসিদ্ধ, সেই হেতুই ঐ ‘পুণ্যকৃৎ’ ও ‘তৈজস’ শব্দে তাহাদের প্রশংসা কীর্ত্তন করা হইতেছে ॥২৯৯৷৷৯৷৷
অন্ধং তমঃ প্রবিশন্তি যেহবিদ্যামুপাসতে, ততো ভূয় ইব তে তমো য উ বিদ্যায়াতরতাঃ ॥ ৩০০ ॥ ১০॥
সরলার্থঃ।—যে অবিদ্যাং(বিদ্যাভিন্নাং জ্ঞানরহিতাং ক্রিয়াং(কৰ্ম্ম) ইত্যর্থঃ) উপাসতে,[তে] অন্ধং তমঃ(সংসারপ্রাপ্তিহেতুং অজ্ঞানং) প্রবিশন্তি; যে(অজ্ঞাঃ) উ(পুনঃ) বিদ্যায়াং(কর্মমাত্রাববোধিকায়াং বেদবিদ্যায়াং) রতাঃ (উপনিষদুক্তাত্ম-তত্ত্ববিমুখাঃ),[তে] ততঃ(তস্মাৎ—অন্ধতমসোহপি) ভূয়ঃ (অধিকম্) ইব তমঃ(অজ্ঞানং)[প্রবিশন্তি] ॥ ৩০০ ॥ ১০ ॥
মূলানুবাদ।—যাহারা অবিদ্যার উপাসনা করে, অর্থাৎ জ্ঞানরহিত কর্ম্মানুষ্ঠান করে, তাহারা অন্ধতমে—সংসারপ্রাপ্তির কারণীভূত অজ্ঞানে প্রবেশ করে; আর যাহারা বিদ্যাতে—কেবল কর্ম্মপ্রতিপাদক বেদবিদ্যায় নিরত থাকে,[উপনিষদুক্ত অর্থ জানে না], তাহারা তদপেক্ষাও অধিকতর অজ্ঞানে প্রবেশ করে ॥৩০০॥১০॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অন্ধমদর্শনাত্মকং তমঃ সংসারনিয়ামকং প্রবিশন্তি প্রতিপদ্যন্তে; কে? যে অবিদ্যাৎ বিদ্যাতোহন্যাৎ সাধ্যসাধনলক্ষণামুপাসতে— অনুবর্ত্তন্ত ইত্যর্থঃ। ততস্তস্মাদপি ভূয়ইব বহুতরমিব তমঃ প্রবিশন্তি; কে? যে উ বিদ্যায়াম্ অবিদ্যাবস্তুপ্রতিপাদিকায়াং কর্মার্থায়াং ত্রয্যামেব বিদ্যায়াৎ রতাঃ অভিরতাঃ,—বিধিপ্রতিষেধপর এবং বেদঃ, নান্যোহস্তীত্যুপনিষদর্থানপেক্ষিণ- ইত্যর্থঃ ॥ ৩০০ ॥ ১০ ॥
টীকা। প্রস্তুতজ্ঞানমার্গস্তত্যর্থং মার্গান্তরং নিন্দতি—অন্ধমিত্যাদিনা। বিদ্যায়ামিতি প্রতীকমাদায় ব্যাকরোতি—অবিদ্যেতি। কথং পুনস্ত্রয্যামভিরতানামধঃপতনমিত্যাশঙ্ক্যাহ— বিধীতি। ৩০০॥ ১০॥
ভাষ্যানুবাদ।—অন্ধ অর্থ—অদর্শন, অর্থাৎ আত্মদর্শনের অভাব, সেই অদর্শনাত্মক তমে—জন্মমরণাত্মক সংসারপ্রাপ্তি যাহার অবশ্যম্ভাবী ফল, সেই অজ্ঞানান্ধকারে প্রবেশ করে অর্থাৎ তাহা প্রাপ্ত হয়। কাহারা[প্রাপ্ত হয়]?
না, যাহারা অবিদ্যার—বিদ্যাভিন্নর—সাধ্য, সাধন ও ফলাত্মক অবিদ্যার উপাসনা করে, অর্থাৎ কেবলই কর্ম্মের অনুসরণ করে। তদপেক্ষাও অধিকতর অন্ধতমেই যেন প্রবেশ করে; কাহারা? যাহারা বিদ্যায়—অবিদ্যাত্মক কাম্যবস্তুপ্রাপক কর্ম্মোপদেশক বেদবিদ্যায়ই কেবল রত—সম্পূর্ণরূপে নিবিষ্ট থাকে; অর্থাৎ যাহারা মনে করে—বিধিনিষেধ-প্রতিপাদক বেদই প্রকৃত বেদ, তদতিরিক্ত কোন বেদভাগ নাই, এইরূপ মনে করিয়া উপনিষদের উপদিষ্ট বিষয়ে উপেক্ষা প্রকাশ করে,(তাহারা) ॥ ৩০০ ॥ ১০ ॥
অনন্দা নাম তে লোকা অন্ধেন তমসাবৃতাঃ, তাস্তে প্রেত্যাভিগচ্ছন্ত্যবিদ্বাহ্সোহবুধো জনাঃ ॥ ৩০১ ॥ ১১ ॥
সক্সলার্থঃ।—যে জনাঃ(প্রাকৃতাঃ জন্মমরণশীলাঃ) অবিদ্বাৎসঃ অবুধঃ (অবোধাঃ আত্মবোধবর্জ্জিতাঃ), তে প্রেত্য(মৃত্বা) অন্ধেন(অদর্শনাত্মকেন) তমসা আবৃতাঃ(ব্যাপ্তাঃ) তে(প্রসিদ্ধাঃ) অনন্দাঃ(নিরানন্দাঃ) নাম লোকাঃ [যে সন্তি], তান্(লোকান্) অভিগচ্ছন্তি(সম্যক্—প্রাপ্তুবন্তি) ॥৩০১৷৷১১৷৷
মূলানুবাদ?—যে সমুদয় লোক অবিদ্বান্ ও আত্মবোধ- বিবর্জিত, তাহারা মৃত্যুর পর—অদর্শনাত্মক অন্ধকারে আবৃত সেই যে, ‘অনন্দ’(আনন্দহীন) স্থান, সেই স্থানে গমন করিয়া থাকে ॥ ৩০১ ॥ ১১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যদি তে অদর্শনলক্ষণং তমঃ প্রবিশন্তি, কো দোষঃ, ইত্যুচ্যতে—অনন্দাঃ অনানন্দাঃ অসুখা নাম তে লোকাঃ, তেনান্ধেনাদর্শন- লক্ষণেন তমসা আবৃতাঃ ব্যাপ্তাঃ, তে তস্যাজ্ঞানতমসো গোচরাঃ, তান্ তে প্রেত্য মৃত্বা অভিগচ্ছন্তি অভিযান্তি; কে? যে অবিদ্বাৎসঃ। কিং সামান্যেনা- বিদ্বত্তামাত্রেণ? নেত্যুচ্যতে—অবুধঃ, বুধেরবগমনার্থস্য ধাতোঃ ক্বিপ্-প্রত্যয়ান্তস্য রূপম্, আত্মাবগমবর্জ্জিতা ইত্যর্থঃ। জনাঃ প্রাকৃতা এব জননধর্মাণো বা ইত্যেতৎ ॥৩০১৷৷১॥
টীকা। মন্ত্রান্তরমাকাঙ্ক্ষাদ্বারোখাপ্য ব্যাচষ্টে-যদীত্যাদিনা। অবুধ ইত্যস্য নিষ্পত্তিং সূচয়ন বিবক্ষিতমর্থমাহ-বুধেরিতি ॥ ৩০১ ॥ ১১ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—ভাল, তাহারা যদি অদর্শনাত্মক তমেই প্রবেশ করে, তাহাতেই বা দোষ কি? তদুত্তরে বলিতেছেন—অনন্দ অর্থাৎ আনন্দরহিত— অসুখাত্মক কতগুলি প্রসিদ্ধ লোক আছে, সেই স্থানগুলি অদর্শনাত্মক অন্ধতমে
১২৫৩
আবৃত অর্থাৎ ব্যাপ্ত, সেই স্থানগুলি অজ্ঞানান্ধকারেরই অধিকারভুক্ত; মৃত্যুর পর তাহারা সেই সমস্ত স্থানে গমন করিয়া থাকে। কাহারা? না, যাহারা অবিদ্বান্; সাধারণতঃ অবিদ্বান্ হইলেই কি গমন করে? না—তাহা নহে; এই জন্য বলিলেন—‘অবুধঃ’; এইটা—অবগত্যর্থক ‘বুধ’ ধাতুর ক্বিপ্ প্রত্যয়ান্ত রূপ; সুতরাং ‘অবুধঃ’ অর্থ—যাহারা আত্মার তত্ত্ব অবগত নহে। ‘জনাঃ’ অর্থ— সাধারণ লোকসকল, অথবা কেবল জন্মমরণশীল লোকসকল ॥৩০১৷৷১১৷৷
আখ্যানং চেদ্বিজানীয়াদয়মশ্নীতি পুরুষঃ।
কিমিচ্ছন্ কস্য কামায় শরীরমনু সংজ্বরেৎ ॥ ৩০২ ॥ ১২ ॥
সরলার্থঃ।—পূরুষঃ(যঃ কোহপি জীবঃ) চেৎ(যদি), আত্মানম্ ‘অয়ম্ অস্মি’(নিত্য-শুদ্ধবুদ্ধঃ যঃ পর আত্মা, সঃ অহং ভবামি) ইতি(ইত্থং) বিজানীয়াৎ(বিশেষেণ প্রতীয়াৎ),[তদা সঃ] কিম্ ইচ্ছন্(স্বরূপাতিরিক্ত- বস্তুভাবাৎ কিং কাময়ন্), কস্য(আত্মব্যতিরিক্তস্য বা) কামায়(প্রয়োজনায়) শরীরম্ অনু সংজরেৎ(জ্বরৎ শরীরং লক্ষ্যীকৃত্য জ্বরং পীড়াং অনুভবেৎ)? [শরীরে আত্মাধ্যাসো হি দুঃখাদিনিমিত্তম্, স চেৎ আত্মজ্ঞানেন অপনীয়তে, তদা কারণাভাবাৎ শারীরং জ্বরাদিকমপি আত্মনি পুনর্ন অনুভূয়ত ইতি ভাবঃ] ॥৩০২৷৷১২৷৷
মূলানুবাদ?—পুরুষ অর্থাৎ জীব যদি বুঝিতে পারে যে,— ‘আমি এতৎস্বরূপ, অর্থাৎ সর্বসংসারধর্ম্মাতীত পরমাত্মস্বরূপ’, তাহা হইলে, সেই পুরুষ কিসের ইচ্ছায় বা কাহার কামনায়(প্রয়োজনে) শরীরের সঙ্গেসঙ্গে জ্বর—দুঃখ অনুভব করিবে? অর্থাৎ জীবের যে, দুঃখ হয়, তাহার কারণ—আপনার স্বরূপ না জানা এবং শরীরে আত্মাভিমান স্থাপন করা, সেই দুইটী কারণেরই অভাব হইলে আত্মার যে, ইচ্ছা, কামনা ও শরীরানুগত দুঃখসম্বন্ধ, এ সমস্তই নিবৃত্ত হইয়া যায়॥ ৩০২॥ ১২॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—আত্মানং স্বং পরং সর্ব্বপ্রাণিমনীষিতজ্ঞং হৃৎস্থ- মশনায়াদিধর্ম্মাতীতং চেৎ যদি বিজানীয়াৎ—সহস্রেযু কশ্চিৎ চেৎ-ইত্যাত্মবিদ্যায় দুল্লভত্বং দর্শয়তি। কথম্? অয়ং পর আত্মা সর্ব্বপ্রাণিপ্রত্যয়সাক্ষী, যো নেতি নেত্যাদ্যুক্তঃ, যস্মাৎ নান্যোহস্তি দ্রষ্টা শ্রোতা মন্তা বিজ্ঞাতা, সমঃ সর্ব্বভূতস্থো নিত্যশুদ্ধ-বুদ্ধ-মুক্তস্বভাবঃ—অস্মি ভবামীতি, পুরুষঃ পুরুষঃ।
সঃ কিমিচ্ছন্ তৎস্বরূপব্যতিরিক্তমন্যদ্বস্ত ফলভূতং কিমিচ্ছন্, কস্য বা অন্যস্য আত্মনো ব্যতিরিক্তস্য কামায় প্রয়োজনায়; ন হি তস্যাত্মন এষ্টব্যং ফলম্, ন চাপি আত্মনোহন্যঃ অস্তি, যস্য কামায় ইচ্ছতি, সর্ব্বস্যাত্মভূতত্বাৎ; অতঃ কিমি- চ্ছন্ কস্য বা কামায় শরীরমনু সংজরেৎ ভ্রংশেৎ—শরীরোপাধিকৃতদুঃখম্ অনু দুঃখী স্যাৎ, শরীরতাপম্ অনু তপোত। অনাত্মদর্শিনো হি তদ্ব্যতিরিক্তবস্তু- ন্তরেপ্সোঃ ‘মমেদং স্যাৎ, পুত্রস্যেদম্, ভার্য্যায়া ইদম্’ ইত্যেবমীহমানঃ পুনঃ পুনর্জননমরণপ্রবন্ধারূঢ়ঃ শরীররোগমনু রুজ্যতে; সর্ব্বাত্মদর্শিনস্ত তদসম্ভব ইত্যেতদাহ ॥৩০২৷৷১২৷৷
টীকা। উক্তাত্মজ্ঞানস্তত্যর্থমেব তন্নিষ্ঠস্য কায়ক্লেশরাহিত্যং দর্শয়তি-আত্মানমিত্যাদিনা। বিজ্ঞানমাত্মনো বৈলক্ষণ্যার্থং বিশিনষ্টি-সর্ব্বেতি। তাটস্থ্যং ব্যাবর্ত্তয়তি--হৃৎস্তমিতি। বুদ্ধি- সম্বন্ধপ্রাপ্তিং সংসারিত্বং বারয়তি-অশনায়াদীতি। প্রশ্নপূর্ব্বকং জ্ঞানপ্রকারং প্রকটয়তি- কথমিত্যাদিনা। সর্বভূতসম্বন্ধপ্রযুক্তং দোষং বারয়িতুং বিশিনষ্টি-নিত্যেতি। ইতি বিজানীয়াদিতি সম্বন্ধঃ। প্রয়োজনায় শরীরমনুসংজরেদিতি সম্বন্ধঃ। কিমিচ্ছন্নিত্যাক্ষেপং সমর্থয়তে-ন হীতি। কন্য বা কামায়েত্যাক্ষেপমুপপাদয়তি-ন চেতি। আক্ষেপদ্বয়ং নিগময়তি-অত ইতি। তদেব স্পষ্টয়তি-শরীরেতি। বিদুষস্তাপাভাবং ব্যতিরেকমুখেণ বিশদয়তি-অনাত্মেতি। বস্তুন্তরেস্পোস্তাপসম্ভব ইতি শেষঃ। সচেত্যধ্যাহৃত্য মমেদমিত্যাদি যোজ্যম্। ইত্যেতদাহ কিমিচ্ছন্নিত্যাদ্য শ্রুতিরিতি শেষঃ ॥৩০২॥১২॥
ভাষ্যানুবাদ।—সর্ব্বপ্রাণীর হৃদয়জ্ঞ ও হৃদয়স্থ এবং ক্ষুধাপিপাসাদি সংসার-ধর্ম্মের অতীত স্বস্বরূপ পরমাত্মাকে যদি সহস্রের মধ্যে একজনও জানিতে পারে; এখানে ‘যদি’(চেং) বলার অভিপ্রায় এই যে, আত্মজ্ঞান অতীব দুর্লভ। কি প্রকারে[জানে]? এই যে, সর্ব্বপ্রাণীর অনুভূতির সাক্ষিস্বরূপ পরমাত্মা, যিনি ‘নেতি নেতি’ বলিয়া উক্ত হইয়াছেন, যাঁহার অতিরিক্ত আর দ্রষ্টা, শ্রোতা, মননকর্ত্তা বা বিজ্ঞাতা কেহ নাই, এবং যিনি বৈষম্যবর্জিত ও সর্ব্বভূতস্থ নিত্য শুদ্ধ ও মুক্তস্বভাব, আমি হইতেছি তৎস্বরূপ[এই প্রকারে জানে]।
সেই পুরুষ কিসের ইচ্ছায়—ইচ্ছার ফলস্বরূপ স্বব্যতিরিক্ত কোন বস্তু ইচ্ছা করিয়া, কাহারই বা কামনায় অর্থাৎ আত্মাতিরিক্ত অন্য কাহারও প্রয়োজনে?— কেননা, তাহার নিজের ত প্রার্থনীয় কোন ফল নাই, অথচ আত্মার অতিরিক্তও অন্য কেহ নাই, যাহার প্রয়োজনে ইচ্ছা করিবে; সে তখন সকলের আত্মস্বরূপ হইয়াছে; অতএব কাহার প্রয়োজনে, কিসের ইচ্ছায় শরীরের অনুগত হইয়া সম্যক্ জ্বরভাগী হইবে—স্বরূপভ্রষ্ট হইবে?—শরীররূপ উপাধিজনিত দুঃখ লক্ষ্য
১২৫৫
করিয়া দুঃখিত হইবে, অর্থাৎ শরীরগত সন্তাপের অনুগত হইয়া—সন্তাপ অনুভব করিবে? অনাত্মদর্শী পুরুষই আপনার অতিরিক্ত বস্তু পাইতে অভিলাষী হয়; সুতরাং[ তাহারই সন্তাপ সম্ভব হয়];[ এবং সেই পুরুষই] ‘আমার ইহা হউক, পুত্রের অমুক হউক, স্ত্রীর অমুক হউক’ এইরূপ কামনার বশীভূত হইয়া এবং বারংবার জন্ম-মরণপ্রবাহে পতিত হইয়া, শরীরগত রোগের অনুসরণ করিয়া— দুঃখ অনুভব করিয়া থাকে; কিন্তু যিনি সর্ব্বত্র আত্মভাব দর্শন করিয়া থাকেন, তাঁহার পক্ষে ঐরূপ সন্তাপ ভোগ করা কখনই সম্ভবপর হয় না ॥৩০২৷৷১২৷৷
যস্যানুবিত্তঃ প্রতিবুদ্ধ আত্মাহস্মিন্ সন্দেহে গহনে প্রবিষ্টঃ। স বিশ্বকৃৎ স হি সর্বস্য কর্তা, তস্য লোকঃ স উ লোক এব ॥ ৩০৩ ॥ ১৩ ॥
সরলার্থঃ।—গহনে(অনেকানর্থসংকুলে) অস্মিন্ সন্দেহে(সন্দে- হাস্পদে শরীরে) প্রবিষ্টঃ(শরীরাধ্যক্ষরূপেণ স্থিতঃ) আত্মা যস্য(যেন ব্রহ্ম- নিষ্ঠেন) অনুবিত্তঃ(প্রাক্ পরোক্ষতয়া অনুভূতঃ), প্রতিবুদ্ধঃ(‘অহমস্মি পরং ব্রহ্ম’ ইত্যেবং সাক্ষাৎকৃতঃ), সঃ(আত্মজ্ঞঃ) বিশ্বকৃৎ(বিশ্বস্য জগতঃ কর্তা); হি(যতঃ) সঃ(আত্মজ্ঞঃ) সর্ব্বস্য(জগতঃ) কর্ত্তা(উৎপাদকঃ),[ন কেবলং বিশ্বকর্তৃত্বমেব তস্য, অপিতু] লোকঃ(সর্ব্ব আত্মা) তস্য, সঃ উ(অপি) লোক এব(লোকাত্মক এব, ন ততোহতিরিক্তঃ কশ্চিৎ লোকোহস্তীতি ভাবঃ) ॥৩০৩৷৷১৩৷৷
মূলানুবাদ?—অনেক অনর্থসংকুল এবং বহুবিধ সন্দেহাস্পদ এই দেহমধ্যে প্রবিষ্ট এই আত্মা যাহার পরিজ্ঞাত এবং ‘আমিই সেই পরমাত্মা’ ইত্যাকারে প্রত্যক্ষীকৃত হয়, তিনি বিশ্বকর্ত্তা;[কারণ?] যেহেতু তিনি সকলেরই কর্ত্তা বা উৎপাদক;[শুধু তাহাই নহে,] সমস্ত লোক অর্থাৎ সমস্ত আত্মাই তাঁহার, এবং তিনিও সমস্ত লোক বা সর্ব্বাত্মস্বরূপ ॥ ৩০৩ ॥ ১৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্—কিঞ্চ, যস্য ব্রাহ্মণস্য অনুবিত্তঃ অনুলব্ধঃ, প্রতিবুদ্ধঃ সাক্ষাৎকৃতঃ; কথম্? অহমস্মি পরং ব্রহ্মেত্যেবং প্রত্যগাত্মত্বেনাবগতঃ আত্মা অস্মিন্ সন্দেহ্যে সন্দেহে অনেকানর্থসঙ্কটোপচয়ে, গহনে বিষমে অনেকশত- সহস্রবিবেকবিজ্ঞানপ্রতিপক্ষে বিষমে প্রবিষ্টঃ; স যস্য ব্রাহ্মণস্যানুবিত্তঃ প্রতি- বোধেনেত্যর্থঃ। স বিশ্বকৃদ্বিশ্বস্য কর্তা; কথং বিশ্বকৃত্বৎ, তস্য কিং বিশ্বকৃদিতি
নাম? ইত্যাশঙ্ক্যাহ—স হি যস্মাৎ সর্ব্বস্য কর্তা, ন নামমাত্রম্; ন কেবলং বিশ্ব- কৃৎ পরপ্রযুক্তঃ সন্, কিন্তুহি? তস্য লোকঃ সর্ব্বঃ, কিমন্যো লোকোহন্যোহসাবিত্যু- চ্যতে;—স উ লোক এব; লোকশব্দেন আত্মা উচ্যতে; তস্য সর্ব্ব আত্মা, স চ সর্ব্বস্যাত্মেত্যর্থঃ। য এষ ব্রাহ্মণেন প্রত্যগাত্মা প্রতিবুদ্ধতয়ানুবিত্ত আত্মা অনর্থ- সঙ্কটে গহনে প্রবিষ্টঃ, স ন সংসারী, কিন্তু পর এব; যস্মাদ্বিশস্য কর্তা সর্ব্বস্য আত্মা, তস্য চ সর্ব্ব আত্মা। এক এবাদ্বিতীয়ঃ পর এবাস্মীত্যনুসন্ধাতব্য ইতি শ্লোকার্থঃ ॥৩০৩৷৷১৩৷৷
টীকা। ন কেবলমাত্মবিদ্যারসিকস্য কায়ক্লেশরাহিত্যং, কিন্তু কৃতকৃত্যতা চাস্তীত্যাহ- কিঞ্চেতি। সন্দেহে পৃথিব্যাদিভির্ভূতৈরুপচিতে শরীরে। সন্দেহত্বং সাধয়তি-অনেকেতি। বিষমত্বং বিশদয়তি-অনেকশতেতি। ন নামমাত্রমিত্যত্র পুরস্তাৎ নঞঃ, তস্মাদিতি পঠিতব্যং, যস্মাদিত্যুপক্রমাৎ; বিশ্বকৃত্বমিতি শেষঃ। পরশব্দো বিদ্যাবিষয়ঃ। বিশ্বকৃৎ কৃতকৃত্য ইত্যেতৎ। লোকলোকিবিভাগেন ভেদং শঙ্কিত্বা দূষয়তি-কিমিত্যাদিনা। যন্যেত্যাদিমন্ত্রস্য তাৎপর্য্যার্থং সংগৃহ্লাতি-য এষ ইতি। অস্তেবং, কিং তাবতেত্যাশঙ্ক্যাহ-এক এবেতি। যোহি পরঃ সর্ব্ব- প্রকারভেদরাহিত্যাৎ পূর্ণতয়া বর্ত্ততে, স এবাশ্মীত্যাত্মানুসন্ধাতব্য ইতি যোজনা॥ ৩০০। ১৩॥
ভাষ্যানুবাদ।-[আত্ম-বিদ্যারত পুরুষের যে, কেবল কায়ক্লেশই নিবৃত্ত হয়, তাহা নহে, পরন্তু কৃতার্থতাও হয়; এই অভিপ্রায়ে বলিতেছেন-] অপিচ, ব্রহ্মনিষ্ঠ পুরুষ গহন-বিষম অর্থাৎ বিবেকজ্ঞানের বহু-শতসহস্র প্রতি- কূলভাবাপন্ন এই সন্দেহ্যে-বিবিধ অনথরাশিতে পরিপূর্ণ এই দেহে প্রবিষ্ট শরীরাধিপতিরূপে অবস্থিত এই আত্মাকে উপলব্ধ করিয়াছেন, এবং প্রতি- বোধগোচর অর্থাৎ সাক্ষাৎকার করিয়াছেন; কি প্রকারে? না, ‘আমিই সেই পর ব্রহ্ম’ এইরূপে প্রত্যক্ষ করিয়াছেন; তিনি বিশ্বকৃৎ-জগতের কর্তা; কিরূপে তাঁহার বিশ্বকর্তৃত্ব? তাঁহার নামই কি ‘বিশ্বকৃৎ’? এই আশঙ্কায় বলিতেছেন- [না-ইহা তাঁহার নাম নহে;] যেহেতু তিনি সকলের কর্তা; তিনি যে, অন্যের আদেশ মতে বিশ্বকৃৎ হন, তাহা নহে; তবে কি না, সমস্ত লোকই(আত্মাই) তাঁহার। ভাল, তবে কি তিনি ও অন্য লোক পরস্পর ভিন্ন? তদুত্তরে বলিতে- ছেন-তিনিও লোকস্বরূপই বটেন। এখানে ‘লোক’ শব্দে আত্মাকে বুঝাইতেছে; সকলে তাঁহার আত্মা, এবং তিনিও সকলের আত্মা।
এই যে আত্মা, ব্রহ্মনিষ্ঠকর্তৃক প্রতিবোধ বা বিবেকজ্ঞানের বিষয়ীভূত হইয়া সাক্ষাৎকৃত এবং বিবিধ অনর্থসঙ্কুল গহন দেহমধ্যে প্রবিষ্ট, সেই আত্মা প্রকৃত পক্ষে সংসারী নহে, পরন্তু পরমাত্মাই; যেহেতু এই আত্মাই বিশ্বের কর্তা ও সকলের আত্মা, এবং অপর সকলেও তাঁহার আত্মা। ‘আমি হইতেছি এক
১২৫৭
অদ্বিতীয় পরমাত্মস্বরূপই’ এইরূপে আত্মার অনুসন্ধান করিবে, ইহাই এই শ্লোকের অভিপ্রেত অর্থ ॥৩০৩৷৷১৩৷৷
ইহৈব সন্তোহথ বিমস্তদ্বয়ং ন চেদবেদির্মহতী বিনষ্টিঃ। য এতদ্বিদুরমৃতাস্তে ভবন্ত্যথেতরে দুঃখমেবাপিযন্তি ॥৩০৪৷১৪৷
সরলার্থঃ।—ইহ(অনর্থসঙ্কুলে দেতে) এব সন্তঃ(বর্তমানাঃ অপি) বয়ম্, অথ(কথঞ্চিৎ—অতিকৃচ্ছেণ) তৎ(ব্রহ্ম) বিঘ্নঃ(বিজ্ঞাতবন্তঃ); চেৎ(যদি) ন[বিঘ্নঃ, তর্হি], অবেদিঃ(বেদনরহিতাঃ—ব্রহ্মানভিজ্ঞা ভবেম ইত্যর্থঃ, এক- বচনমত্র অবিবক্ষিতম্)। তৎফলঞ্চ—মহতী বিনষ্টিঃ(বিনাশঃ—জন্ম-মরণলক্ষণঃ অনুচ্ছেদ্যঃ ভবেদিত্যর্থঃ)। যে পুনঃ(অন্যেহপি বিবেকিনঃ) তৎ(ব্রহ্ম) বিদুঃ(বিদন্তি), তে অমৃতাঃ(বিনাশরহিতাঃ—মুক্তাঃ) ভবন্তি; অথ(বিপক্ষে) ইতরে(অবিদ্বাৎসঃ) দুঃখম্ এব অপিযন্তি(গচ্ছন্তি)।[জ্ঞানাং মোক্ষঃ, অজ্ঞানাচ বন্ধঃ দুঃখসম্বন্ধ ইত্যাশয়ঃ] ॥৩০৪॥১৪॥
মূলানুবাদ?—আমরা এই বিষম সঙ্কটময় দেহে থাকিয়াও কোন প্রকারে সেই ব্রহ্মতত্ত্ব উপলব্ধি করিতে পারিয়াছি; যদি না পারিতাম, তাহা হইলে অবেদি হইতাম, অর্থাৎ তদ্বিষয়ে অজ্ঞ থাকিতাম। তাহার ফল হইত—অনন্ত কালেও জন্ম-মরণ-প্রবাহের উচ্ছেদ হইত না। আরও যাঁহারা তাহা(ব্রহ্মতত্ত্ব) জানিতে পারেন, তাঁহারাও অমরত্ব লাভ করেন; কিন্তু তদ্ভিন্ন সকলে কেবল দুঃখই পাইয়া থাকে ॥ ৩০৪ ॥ ১৪ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—কিঞ্চ, ইহৈবানেকানর্থসঙ্কুলে সন্তো ভবন্তোহজ্ঞান- দীর্ঘনিদ্রামোহিতাঃ সন্তঃ কথঞ্চিদিব ব্রহ্মতত্ত্বম্ আত্মত্বেন অথ বিদ্ধঃ বিজানীমঃ, তদেতদ্ব্রহ্ম প্রকৃতম্; অহো বয়ং কৃতার্থা ইত্যভিপ্রায়ঃ। যদেতদ্ব্রহ্ম বিজানীমঃ, তন্ন চেদ্বিদিতবন্তো বয়ম্—বেদনং বেদঃ, বেদোহস্যাস্তীতি বেদী, বেদ্যেব বেদিঃ, ন বেদিঃ অবেদিঃ, ততোহহমবেদিঃ স্যাম্। যদি অবেদিঃ স্যাম্, কো দোষঃ স্যাৎ; মহতী অনন্তপরিমাণা জন্মমরণাদিলক্ষণা বিনষ্টিবিনশনম্। অহো বয়মস্মান্মহতো বিনশনান্নির্ম্মুক্তাঃ, যদদ্বয়ং ব্রহ্ম বিদিতবন্ত ইত্যর্থঃ। যথা চ বয়ং ব্রহ্ম বিদিত্বা অস্মাদ্বিনশনাদ্বিপ্রমুক্তাঃ, এবং যে তদ্বিদুঃ অমৃতাস্তে ভবন্তি; যে পুনর্নৈবং ব্রহ্ম বিদুঃ, তে ইতরে ব্রহ্মবিদ্যোহন্যে অব্রহ্মবিদ ইত্যর্থঃ, দুঃখমেব জন্মমরণাদিলক্ষণমেব অপিযন্তি প্রতিপদ্যন্তে, ন কদাচিদপ্যবিদুষাং ততো বিনি- বৃত্তিরিত্যর্থঃ। দুঃখমেব হি তে আত্মত্বেনোপগচ্ছন্তি ॥৩০৪৷৷১৪৷৷
টীকা। ব্রহ্মবিদো বিদ্যয়া কৃতকৃত্যত্বে শ্রুতিসংপ্রতিপত্তিরেব কেবলং ন ভবতি, কিন্তু স্বানুভবসংপ্রতিপত্তিরস্তীত্যাহ-কিঞ্চেতি। অথেত্যস্য কপঞ্চিদিব ইতি ব্যাখ্যানম্, তদিত্যস্য ব্রহ্মতত্ত্বমিত্যুক্তমর্থং স্ফুটয়তি-তদেতদিতি। ব্রহ্মজ্ঞানে কৃতার্থত্বং শ্রুত্যনুভবাভ্যামুক্ত। তদভাবে দোষমাহ-যদেতদিতি। তর্হি মহতী বিনষ্টিরিতি সম্বন্ধঃ। বহুত্বং ন বিবক্ষিতং, জ্ঞানান্ মোক্ষোহত্র বিবক্ষিত ইত্যভিপ্রেত্য বেদিরিত্যস্থার্থমাহ-বেদনমিত্যাদিনা। ন চেৎ ব্রহ্ম বিদিতবস্তো বয়ং, ততোহহমবেদিঃ স্যামিতি যোজনা। বিদ্যাভাবে দোষমুক্ত। বিদ্বদনুভব- সিদ্ধমর্থং নিগময়তি-অহো বয়মিতি। ইহৈবেত্যাদিনা পূর্বার্দ্ধেনোক্তমেবার্থমুত্তরার্দ্ধেন প্রপঞ্চরতি-যথা চেত্যাদিনা। দুঃখাদবিদুষাং বিনির্ম্মোকাভাবে হেতুমাহ-দুঃখমে- বেতি ॥ ৩০৪ ॥ ১৪ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—অপিচ, অনেক অনর্থপূর্ণ এই দেহে থাকিয়া অজ্ঞানময় দীর্ঘনিদ্রায় বিমোহিত হইয়াও, আমরা অতিকষ্টে সেই এই ব্রহ্মকে আত্মরূপে উপলব্ধি করিয়াছি; অভিপ্রায় এই যে, বড় আনন্দের বিষয় এই যে, আমরা কৃতার্থ হইয়াছি। আমরা যে ব্রহ্মতত্ত্ব উপলব্ধি করিয়াছি, তাহা যদি উপলব্ধি করিতে না পারিতাম, তাহা হইলে আমরা ‘অবেদি’ হইতাম। ‘বেদ’ অর্থ বেদন(জানা), তাহা যাহার আছে, তিনি বেদী, ‘বেদী’ আর ‘বেদি’ একই অর্থ;[স্বার্থে তদ্ধিতপ্রত্যয়], যিনি বেদি নহেন, তিনি ‘অবেদি’; তাহা হইলে আমি অবেদি হইতাম, অর্থাৎ অজ্ঞ থাকিতাম। ভাল, যদি ‘অবেদি’ হইতাম, তাহাতেই বা কি দোষ হইত? হাঁ, দোষ—মহৎ বিনাশ, অর্থাৎ অনন্ত- কালব্যাপী জন্মমরণাদিরূপ দুঃখধারা লাভ। বড়ই আনন্দের বিষয় যে, আমরা দুর্জ্জের ব্রহ্মতত্ত্ব অবগত হইয়া সেই মহা বিনাশ হইতে বিমুক্তি লাভ করিয়াছি।
আমরা যেরূপ অদ্বিতীয় ব্রহ্মতত্ত্ব অবগত হইয়া এই বিনাশ বা অনর্থ হইতে নির্মুক্ত হইয়াছি, এইরূপ আরও যাঁহারা এই ব্রহ্মকে জানিতে পারেন, তাঁহারাও অমৃতত্ব লাভ করিতে সমর্থ হইয়া থাকেন; কিন্তু যাহারা এই প্রকারে ব্রহ্মকে জানিতে পারে না, সেই জন্য তাহারা সকলে অর্থাৎ ব্রহ্মবিদ্ হইতে ভিন্ন— অব্রহ্মবিদ্ জনগণ জন্মমরণরূপ দুঃখধারাই প্রাপ্ত হইয়া থাকে; অবিদ্বান্ লোকেরা কস্মিন্ কালেও তাহা হইতে বিমুক্তি লাভ করিতে পারে না; তাহারা দুঃখকেই আত্মস্বরূপে প্রাপ্ত হইয়া থাকে ॥৩০৪৷১৪৷
বটৈলতন্মূষ্যত্যাত্মানং দেবমঞ্জসা।
শৈলেনং ভূত-ভব্যস্য ন ততো বিজুগুপতে ॥৩০৫॥ ১৫
মদনার্থঃ।—যদা, এবং দেবম্(শৌচাননম্) ভূতভব্যস্য(অতীতাগ-
তয়োঃ—সুতরাং বর্তমানস্যাপি) ঈশানং(শাসকম্) আত্মানম্ অঞ্জসা(তত্ত্বতঃ) পশ্যতি(সাক্ষাৎ করোতি); ততঃ(তস্মাৎ ঈশানাৎ কৃত-প্রসাদাৎ) ন বিজুগুপ্সতে(বিশেষেণ আত্মানং ন গোপায়িতুম্ ইচ্ছতি, ঈশানাৎ স্বস্য ভেদা- ভাবাদিত্যাশয়ঃ), অথবা, ততঃ(তস্মাৎ হেতোঃ) ন বিজুগুপ্সতে(কঞ্চিৎ ন নিন্দতীত্যর্থঃ) ॥৩০৫৷১৫৷৷
মূলানুবাদ।—মুমুক্ষু পুরুষ যখন ভূত ভবিষ্যৎ ও বর্তমান কালবর্ত্তী সমস্ত বস্তুর ঈশ্বর বা শাসনকর্ত্তা স্বপ্রকাশ এই আত্মাকে সম্পূর্ণরূপে দর্শন করিতে পারেন, তখন তিনি আর সেই সর্ব্বেশ্বর হইতে আপনাকে গোপন করিতে ইচ্ছা করেন না। অভিপ্রায় এই যে, যতকাল সেই ঈশ্বরকে পৃথক্ রূপে দেখে, ততকালই তাহার সাহায্যে আত্মরক্ষা করিতে ইচ্ছা করে, কিন্তু যে লোক তত্ত্বজ্ঞানবলে সেই ঈশান আত্মার সঙ্গে একত্ব লাভ করে, তখন তাহার পক্ষে ঐরূপে আত্মগোপন করা কখনই সম্ভবপর হয় না; অথবা, ঐ আত্মদর্শনের ফলে, সে কাহাকেও নিন্দা করে না। নিন্দা ও গোপন উভয়ই ‘গুপ্ধাতুর অর্থ’ ॥৩০৫৷৷১৫৷৷
শাঙ্করভাষ্যম্।—যদা পুনঃ এতম্ আত্মানং, কথঞ্চিৎ পরমকারুণিকং কঞ্চিদাচার্য্যং প্রাপ্য ততো লব্ধপ্রসাদঃ সন্, অনু পশ্চাৎ পশ্যতি সাক্ষাৎকরোতি, স্বমাত্মানং, দেবং দ্যোতনবন্তং দাতারং বা সর্ব্বপ্রাণিকৰ্ম্মফলানাম্ যথাকৰ্ম্মানুরূপম্, অঞ্জসা সাক্ষাৎ, ঈশানং স্বামিনম্, ভূতভব্যস্য কালত্রয়স্যেত্যেতৎ। ন ততস্তস্মাদ্ ঈশানাৎ দেবাদ আত্মানং বিশেষেণ জুগুপ্সতে গোপায়িতুমিচ্ছতি। সর্ব্বো হি লোক ঈশ্বরাদ্গুপ্তিমিচ্ছতি ভেদদর্শী; অয়ং তু একত্বদর্শী ন বিভেতি কুতশ্চন; অতো ন তদা বিজুগুপ্সতে, যদা ঈশানং দেবম্ অঞ্জসা আত্মত্বেন পশ্যতি, ন তদা নিন্দতি বা কঞ্চিৎ, সর্ব্বমাত্মানং হি পশ্যতি, স এবং পশ্যন্ কম্ অসৌ নিন্দ্যাৎ ॥৩০৫৷৷১৫৷৷
টীকা। কিঞ্চ বিদুষো বিহিতাকরণাদিপ্রযুক্তং ভয়ং নাস্তীতি বিদ্যাং স্তোতুমেব মন্ত্রান্তর- মাদার ব্যাচষ্টে—যদা পুনরিত্যাদিনা। উক্তমর্থং ব্যতিরেকমুখেণ বিশদয়তি—সর্ব্বো হীতি। জুগুলায়া নিন্দাতেন প্রসিদ্ধত্বাৎ কথমবয়বার্থমাদায় ব্যাখ্যায়তে? রূঢ়ির্যোগমপহরতীতি ন্যায়াদিত্যাশঙ্ক্যাহ—যদেতি। তদেবোপপাদয়তি—সর্ব্বমিতি ॥ ৩০৫ ॥ ১৫ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—[মুমুক্ষু পুরুষ] যখন কোনপ্রকারে পরম কারুণিক কোনও মহাপুরুষের দর্শনলাভ করিয়া, তাঁহার অনুগ্রহভাজন হইয়া, পশ্চাৎ দেব—
স্বয়ংপ্রকাশমান বা কর্মানুসারে প্রাণিগণের কর্মফলদাতা ও ভূতভব্যের অর্থাৎ ত্রিকালের ঈশ্বর পূর্ব্বোক্ত এই স্বস্বরূপ আত্মাকে প্রত্যক্ষ করিতে সমর্থ হয়, তখন সেই ঈশান আত্মা হইতে আপনাকে বিশেষরূপে গোপন করিতে ইচ্ছা করে না।
সাধারণতঃ ভেদদর্শী লোকমাত্রই ভীত হইয়া ঈশ্বরের সাহায্যে আত্মরক্ষা করিতে ইচ্ছা করে; কিন্তু এই একত্বদর্শী কোথা হইতেও ভীত হয় না; এই জন্যই যখন সেই ঈশান দেবকে সম্পূর্ণরূপে আত্মভাবে প্রত্যক্ষ করিতে থাকে, তখন আর সেই ঈশান হইতে আত্মগোপন করিতে ইচ্ছা করে না বা করিতে পারে না; অথবা তখন সে কাহাকেও নিন্দা করে না; কারণ, সে তখন সকলকেই আত্মস্বরূপে দর্শন করিয়া থাকে; সুতরাং সে আর কাহাকে নিন্দা করিবে? ॥ ৩০৫ ॥ ১৫ ॥
যস্মাদ্বর্দ্ধাক্ সংবৎসরেহহস্তিঃ পরিবর্ত্ততে।
তদেবা জ্যোতিষীং জ্যোতির্ব্বিজ্ঞানীশ্চ পশুপতিঃ ॥৩০॥আ॥১৬॥
সরলার্থঃ।—সংবৎসরঃ(কালবিশেষঃ দ্বাদশ মাসাঃ, ত্রয়োদশ মাসা বা) অহোভিঃ(বৎসরাবয়বৈঃ দিবসৈঃ) যস্মাৎ(ঈশানাৎ দেবাৎ) অর্ব্বাক্ (অধস্তাৎ) পরিবর্ত্ততে(আবর্ত্ততে, যত্র সংবৎসরাদি-কালপরিচ্ছেদো নাস্তীতি ভাবঃ); দেবাঃ(প্রকাশদৃষ্টয়ঃ) জ্যোতিষাং(আদিত্যচন্দ্রাদীনাং) জ্যোতিঃ (উদ্ভাসকঃ) তৎ(তম্ ঈশানম্) আয়ুঃ[অতএব] অমৃতম্ ইতি উপাসতে আয়ুগুণবিশিষ্টতয়া তৎ জ্যোতিঃ উপাসতে ইত্যাশয়ঃ) ॥ ৩০৬॥ ১৬॥
মূলানুবাদ?—সংবৎসরাত্মক কাল নিজ অবয়ব দিবারাত্রিদ্বারা যাঁহার(যে ঈশানের) অধে(নিম্নে) পরিবর্তিত হয়.(গমনাগমন করে); দেবগণ, আদিত্যাদি জ্যোতিঃপুঞ্জেরও জ্যোতিঃপ্রদ সেই ঈশানকে অমৃত আয়ু বলিয়া উপাসনা করিয়া থাকেন ॥৩০৬৷৷১৬৷৷
শাঙ্করভাষ্যম্।—কিঞ্চ, যস্মাৎ ঈশানাং অর্ব্বাক্, যস্মাদন্যবিষয় এবে- ত্যর্থঃ, সম্বৎসরঃ কালাত্মা সর্ব্বস্য জনিমতঃ পরিচ্ছেত্তা, যম্ অপরিচ্ছিন্নন্ অর্ব্বাগেব বর্ত্ততে, অহোভিঃ স্বাবরবৈঃ অহোরাত্রৈরিত্যর্থঃ; তজ্জ্যোতিষাং জ্যোতিঃ, আদিত্যাদিজ্যোতিষামপ্যবভাসকত্বাৎ; আয়ুরিত্যুপাসতে দেবাঃ। অমৃতং জ্যোতিঃ, অতোহন্যৎ ম্রিয়তে, নহি জ্যোতিঃ; সর্ব্বস্য হি এতজ্জ্যোতিঃ আয়ুঃ, আয়ুগুণেন যম্মাদ দেবাঃ তজ্জ্যোতিরুপাসতে, তস্মাৎ আয়ুষ্মন্তস্তে। তস্মাৎ আয়ুষ্কামেনায়ুগুণেনোপাস্যং ব্রহ্মেত্যর্থঃ ॥ ৩০৬ ॥ ১৬ ॥
১২৬১
টীকা। অথেশ্বরস্যাপি কালান্যত্বে সতি বস্তুত্বাৎ ঘটবৎ কালাবচ্ছিন্নত্বাৎ ন কালত্রয়ং প্রতি যুক্তমীশ্বরত্বমত আহ—কিঞ্চেতি। যম্মাদীশ্যানাদর্ব্বাক্ সংবৎসরো বর্ত্ততে, তমুপাসতে দেবা ইতি সম্বন্ধঃ। ননু কথং সম্বৎসরোহর্ভাগিত্যুচ্যতে, কালস্য কালান্তরাভাবেন পূর্ব্বকালসম্বন্ধাভাবাৎ, অত আহ—যম্মাদিতি। অন্বয়স্ত পূর্ব্ববৎ। আত্মজ্যোতিয়ো গুণমায়ুষ্ট, লক্ষণং স্পষ্টয়ন্ন পাসকস্য ফলমাহ—সর্ব্বস্যেতি। যথোক্তোপাসনে দেবানামেবাধিকারো বিশেষবচনাদিত্যাশঙ্ক্যাহ— তন্মাদিতি ॥ ৩০৬ ॥ ১৬ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—আরও এক কথা, যে ঈশানের নিম্নে[সংবৎসর বিচরণ করে], যাঁহার অন্যত্র সংবৎসর কাল,—কাল উৎপত্তিশীল পদার্থমাত্রেরই সীমা- নিদ্ধারক, সেই কাল যাঁহাকে সীমাবদ্ধ না করিয়া তাহার নিম্নস্তরেই স্বীয় অবয়বভূত দিবারাত্ররূপে গমনাগমন করে, দেবগণ জ্যোতিঃসমূহেরও জ্যোতিঃ- স্বরূপ অর্থাৎ আদিত্যাদি জ্যোতিঃপদার্থেরও প্রকাশক সেই ঈশানকে ‘অমৃত আয়ু’ বলিয়া উপাসনা করিয়া থাকেন। জ্যোতিই অমৃত(মরণরহিত), তদ্ভিন্ন আর সকলেই মৃত্যুমুখে পতিত হয়, কেবল ঐ জ্যোতিই পতিত হয় না; এই জন্য সেই জ্যোতিঃ সকলের আয়ুঃস্বরূপ। যেহেতু দেবগণ সেই জ্যোতিকে আয়ু-গুণ- যুক্তরূপে উপাসনা করেন, সেই হেতু তাঁহারা আয়ুষ্মান্(দীর্ঘায়ুঃ) হইয়াছেন; অতএব যাহার আয়ু লাভের কামনা আছে, তাহার পক্ষে ব্রহ্মকে আয়ুগুণযুক্ত- রূপেই উপাসনা করা উচিত ॥ ৩০৬ ॥ ১৬ ॥
যস্মিন্ পক্ষ পঞ্চজন আকাশশ্চ প্রতিষ্ঠিতঃ।
তদেব মন্য আখ্যানং বিদ্ধান্ ব্রহ্মামৃতোঽস্মৃতম্ ॥৩০৭॥১৭॥
সরলার্থঃ।—যস্মিন্(আত্মনি) পঞ্চ(পঞ্চসংখ্যকাঃ) পঞ্চজনাঃ(গন্ধর্ব্বাঃ, পিতরঃ, দেবাঃ, অসুরাঃ, রক্ষাৎসি, অথবা নিষাদপঞ্চমা ব্রাহ্মণাদয়শ্চত্বারো বর্ণাঃ) আকাশঃ(অঞ্চীকৃতাখ্যঃ সূক্ষ্মঃ) চ(অপি) প্রতিষ্ঠিতঃ; অহং তম্ এব আত্মানং অমৃতং বিদ্বান্(জানন্) অমৃতঃ(অমরণধর্ম্মা)[অস্মীতি শেষঃ] ॥ ৩০৭ ॥ ১৭৷৷
মূলানুবাদ?—যাহাতে(যে ব্রহ্মে) পাঁচ প্রকার—‘পঞ্চজন’ দেবতা, গন্ধর্ব্ব, পিতৃগণ, অসুর ও রাক্ষস, অথবা ব্রাহ্মণাদি বর্ণচতুষ্টয় ও পঞ্চম নিষাদ, ইহারা এবং আকাশ(সূক্ষ্ম আকাশ) প্রতিষ্ঠিত রহিয়াছে, আমি সেই আত্মাকেই অমৃত ব্রহ্ম বলিয়া মনে করি(উপাসনা করি); এবং তাহাকে জানি বলিয়াই আমি অমৃতস্বরূপ হইয়াছি ॥ ৩০৭৷ ১৭ ॥ শাঙ্করভাষ্যম্?—কিঞ্চ, যস্মিন্ যত্র ব্রহ্মণি পঞ্চ পঞ্চজনাঃ—গন্ধ শৈলকং।—নিশ্চয়, যদি, যদ্যপি, শস্যং, শস্যং, শস্যং, শস্যং।—শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্যং-শস্য
র্ব্বাদয়ঃ পঞ্চৈব সঙ্খ্যাতাঃ—গন্ধর্ব্বাঃ পিতরো দেবা অসুরা রক্ষাংসি—নিষাদ- পঞ্চমা বা বর্ণাঃ, আকাশশ্চ অব্যাকৃতাখ্যঃ—“যস্মিন্ সূত্রম্ ওতঞ্চ প্রোতঞ্চ”— যস্মিন্ প্রতিষ্ঠিতঃ; “এতস্মিন্ নু খল্বক্ষরে গার্গ্যাকাশঃ” ইত্যুক্তম্; তমেবাত্মানম্ অমৃতং ব্রহ্ম মন্যে অহম্; ন চাহমাত্মানং ততোহন্যত্বেন জানে; কিং তহি? অমৃ- তোহহং ব্রহ্ম বিদ্বান্ সন্; অজ্ঞানমাত্রেণ তু মর্ত্যোহহমাসম্, তদপগমাদ বিদ্বানহম্ অমৃত এব ॥ ৩০৭ ॥ ১৭ ॥
টীকা। জ্যোতিষাং জ্যোতিরমৃতমিত্যুক্তং, তস্যামৃতত্বং সর্ব্বাধিষ্ঠানত্বেন সাধয়তি- কিঞ্চেতি। এবকারার্থমাহ-ন চেতি। যদ্যাত্মানং ব্রহ্ম জানাসি, তহি কিং তে তদ্বিদ্যাফল- মিতি প্রশ্নপূর্ব্বকমাহ-কিং তহীতি। কথং তর্হি তে মর্ত্যত্বপ্রতীতিস্তত্রাহ-অজ্ঞানমাত্রে- ণেতি ॥ ৩০৭ ॥ ১৭ ॥
ভাষ্যানুবাদ।-অপিচ, যাহাতে-যে ব্রহ্মে গন্ধর্ব্বাদি পঞ্চসংখ্যক পঞ্চজন-গন্ধর্ব্ব, পিতৃগণ, দেবতা, অসুর ও রাক্ষসগণ, কিংবা ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র ও নিষাদ এই পাঁচ বর্ণ, এবং আকাশ প্রতিষ্ঠিত আছে; এখানে আকাশ অর্থ-অপঞ্চীকৃত সূক্ষ্ম আকাশ, যাহার মধ্যে এই সমস্ত জগৎ ওতপ্রোত রহিয়াছে; পূর্ব্বেও কথিত হইয়াছে যে, ‘হে গার্গি, এই অক্ষরে আকাশ[ওত- প্রোত রহিয়াছে]’ ইত্যাদি। আমি সেই আত্মাকে অমৃত বলিয়া মনে করি, অর্থাৎ আমি আত্মাকে সেই অমৃত ব্রহ্ম হইতে পৃথক্ পদার্থ বলিয়া জানি না; তবে কিনা, বিদ্বান্ আমি স্বরূপতঃ অমৃত ব্রহ্মই, কেবল অজ্ঞানবশতঃ আমি মর্ত্য ছিলাম, অর্থাৎ নিজের অমরত্ব ভুলিয়া গিয়া মরণশীল বলিয়া মনে করিতাম, জ্ঞানোদয়ে সেই ভ্রম অপনীত হওয়ায় আমি অমৃত হইয়াছি ॥ ৩০৭ ॥ ১৭ ॥
প্রাণস্য প্রাণমুত চক্ষুষশ্চক্ষুরুত শ্রোত্রস্য শ্রোত্রং মনসো যে মনো বিদুঃ। তে নিচিক্যুব্রহ্ম পুরাণমগ্র্যম্ ॥৩০৮৷৷১৮৷৷
সরমার্থঃ।—অপিচ, যে(অন্যেহপি সাধকাঃ) প্রাণস্য(পঞ্চ-বৃত্ত্যাত্মকস্য) প্রাণং(স্থিতিনিদানম্), উত(অপি) চক্ষুষঃ চক্ষুঃ(চক্ষুষঃ প্রকাশকম্), উত(অপি) শ্রোত্রস্য(শ্রবণেন্দ্রিয়স্য) শ্রোত্রং(শ্রোত্রত্ব-সম্পাদকম্), মনসঃ (অন্তঃকরণস্য) মনঃ(শক্ত্যাধায়কম্)[তম্ আত্মানম্] বিদুঃ(জানন্তি), তে(আত্মবিদঃ) পুরাণং(চিরন্তনং নিত্যম্) অগ্র্যং(অগ্রেভবং জগৎকারণম্) ব্রহ্ম নিচিক্যুঃ(নিশ্চয়েন জ্ঞাতবন্ত ইত্যর্থঃ) ॥৩০৮৷৷১৮৷৷
মূলানুবাদ।—যাঁহারা প্রাণের প্রাণ, চক্ষুর চক্ষু, শ্রোত্রের শ্রোত্র এবং মনেরও মন—অর্থাৎ প্রাণাদি ক্রিয়া ও জ্ঞানশক্তির
১২৬৩
নির্বাহক আত্মাকে জানেন, তাঁহারাই পুরাতন জগৎকারণ ব্রহ্মকে নিশ্চিতরূপে জানিয়াছেন ॥ ৩০৮ ॥ ১৮ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—কিঞ্চ, তেন হি চৈতন্যাত্মজ্যোতিষা অবভাস্যমানঃ প্রাণ আত্মভূতেন প্রাণিতি, তেন প্রাণস্যাপি প্রাণঃ সঃ; তৎ প্রাণস্য প্রাণম্, তথা চক্ষুষোহপি চক্ষুঃ, উত শ্রোত্রস্যাপি শ্রোত্রম্। ব্রহ্মশক্ত্যধিষ্ঠিতানাং হি চক্ষুরা- দীনাং দর্শনাদিসামর্থ্যম্; স্বতঃ কাষ্ঠলোষ্টসমানি হি তানি চৈতন্যাত্ম-জ্যোতিঃ- শূন্যানি; মনসোহপি মনঃ—ইতি যে বিদুঃ; চক্ষুরাদিব্যাপারদ্বারানুমিতাস্তিত্বং প্রত্যগাত্মানম, ন বিষয়ভূতম্, যে বিদুঃ, তে কিম্? তে নিচিক্যনিশ্চয়েন জ্ঞাতবন্তঃ ব্রহ্ম, পুরাণং চিরন্তনম্, অগ্র্যাম অগ্রে ভবম্, “তদ্ যদাত্মবিদে। বিদুঃ” ইতি হ্যাথর্ব্বণে ॥৩০৮৷৷১৮৷৷
টীকা। প্রকৃতাঃ পঞ্চজনাঃ পঞ্চ, জ্যোতিষা সহ প্রাণাদয়ো বা স্যরিত্যভিপ্রেত্যাহ— কিঞ্চেতি। কথং চক্ষুরাদিয় চক্ষুরাদিত্বং ব্রহ্মণঃ সিধ্যতি, তত্রাহ—ব্রহ্মশক্তীতি। বিমতানি কেনচিদধিষ্ঠিতানি প্রবর্ত্তন্তে করণত্বাদ্বাস্যাদিবৎ, ইতি চক্ষুরাদিব্যাপারেণানুমিতাস্তিত্বং প্রত্যগাত্মানং যে বিদুরিতি যোজনা। বিদিক্রিয়াবিষয়ত্বং ব্যাবর্ত্তয়তি—নেতি। প্রত্যগাত্ম- বিদাং কথং ব্রহ্মবিত্তমিত্যাশঙ্ক্যাহ—তদিতি ॥৩০৮৷৷১৮৷৷
ভাষ্যানুবাদ।—আরও, প্রাণাপানাদি পঞ্চবৃত্তিবিশিষ্ট প্রাণও সেই চৈতন্যস্বরূপ আত্মজ্যোতিঃ দ্বারা উদ্ভাসিত হইয়া বাঁচিয়া থাকে—কার্য্য করিতে সমর্থ হয়; সেই হেতু আত্মা প্রাণেরও প্রাণ; সেই প্রাণের প্রাণকে, চক্ষুর চক্ষুকে, এবং শ্রোত্রেরও শ্রোত্রকে—; চক্ষুঃ প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গণ যখন ব্রহ্মশক্তিদ্বারা অধিষ্ঠিত হয়, তখনই তাহাদের দর্শনাদি-সামর্থ্য ঘটে; পক্ষান্তরে যদি উহারা চৈতন্যাত্মজ্যোতির সম্বন্ধরহিত হয়, তাহা হইলে, কাষ্ঠ-লোষ্ট্রাদির(মৃৎ- পিণ্ডাদির) তুল্য হইয়া পড়ে; এইরূপ মনেরও মন বলিয়া যাঁহারা জানেন, অর্থাৎ চক্ষুরাদি ইন্দ্রিয়ের ব্যাপার দেখিয়া যাঁহারা ইন্দ্রিয়ের অগোচর প্রত্যক্-আত্মার অস্তিত্ব অনুভব করিয়া থাকেন, তাঁহারাই পুরাণ—চিরন্তন(নিত্য) অগ্র্য— অগ্রে(সৃষ্টির আদিতে) বিদ্যমান অর্থাৎ জগতের কারণস্বরূপ ব্রহ্মকে নিশ্চিতরূপে জানেন। অথর্ববেদীয় উপনিষদেও এই কথা রহিয়াছে—‘যাঁহারা সেই আত্মাকে জানেন, তাঁহারাই ঠিক জানেন’ ইত্যাদি ॥৩০৮॥১৮৷৷
মনসেবনুষ্টব্যং নেহ নানান্তি কিঞ্চন।
মৃত্যোঃ স মৃত্যুমাপ্নোতি য ইহ নানেব, পশ্যতি ॥৩০৯৷১৯৷ সরলার্থঃ।—(অথ ব্রহ্মদর্শনোপায়মাহ—মনসৈবেত্যাদিনা।][তৎ ব্রহ্ম]
মনসা(আচার্য্যোপদেশাদিনা পরিমার্জিতেন প্রশান্তেন মনসা) এব অনুদ্রষ্টব্যম্; [তত্র বিশেষমাহ-] ইহ(ব্রহ্মণি) নানা(বিভক্তং) কিঞ্চন(কিঞ্চিদপি) ন অস্তি।[ভেদদর্শনে দোষমাহ-] যঃ(দ্রষ্টা) ইহ নানা ইব(ভেদমিব, অত্র ‘ইব’-শব্দপ্রয়োগাৎ তথা দর্শনেহপি ভেদস্যাবস্তুত্বং সূচিতম্ ইত্যভিপ্রায়ঃ) পশ্যতি, সঃ(ভেদদর্শী) মৃত্যোঃ মৃত্যুৎ(মরণাৎ মরণম্-পুনঃপুনর্মরণং আপ্নোতি (লভতে), ন মুচ্যতে ইতি ভাবঃ) ॥৩০৯৷৷১৯৷৷
মূলানুবাদ।—[ সেই ব্রহ্মকে কিসের দ্বারা দেখিতে হইবে, তাহা বলিতেছেন]—সেই ব্রহ্মকে আচার্য্যোপদেশাদি দ্বারা পরিশুদ্ধ মনের সাহায্যে দর্শন করিতে হইবে।[ যে লোক] এই ব্রহ্মে ভেদের মতই দর্শন করে, সে লোক মৃত্যুর পর মৃত্যু প্রাপ্ত হয়, অর্থাৎ ভেদদর্শী লোক পুনঃ পুনঃ জন্মমরণপ্রবাহ ভোগ করে, কখনও বিমুক্ত হইতে পারে না ॥ ৩০৯ ॥ ১৯ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তদ্ব্রহ্মদর্শনে সাধনমুচ্যতে—মনসৈব পরমার্থ- জ্ঞানসংস্কৃতেন আচার্য্যোপদেশপূর্ব্বকং চানুদ্রষ্টব্যম্। তত্র চ দর্শনবিষয়ে ব্রহ্মণি ন ইহ নানা অস্তি কিঞ্চন ন কিঞ্চিদপি; অসতি নানাত্বে নানাত্বমধ্যারোপয়ত্য- বিদ্যয়া। স মৃত্যোঃ মরণাৎ মৃত্যুং মরণম্ আপ্নোতি, কোহসৌ? য ইহ নানের পশ্যতি। অবিদ্যাধ্যারোপণব্যতিরেকেণ নাস্তি পরমার্থতো দ্বিতীয়- মিত্যর্থঃ ॥৩০৯৷৷১৯৷৷
টীকা। মনসো ব্রহ্মদর্শনসাধনত্বে কথং ব্রহ্মণো বাঘ্ননসাতীতত্বশ্রুতিরিত্যাশঙ্ক্যাহ- পরমার্থেতি। কেবলং মনো ব্রহ্মাবিষয়ীকুর্ব্বদপি শ্রবণাদিসংস্কৃতং তদাকারং জায়তে; তেন দ্রষ্টব্যম্ তদুচ্যতে; অতএব বৃত্তিব্যাপ্যং ব্রহ্মেত্যুপগচ্ছন্তীতি ভাবঃ। অনুশব্দার্থমাহ- আচার্য্যেতি। দ্রষ্টদ্রষ্টব্যাদিভাবেন ভেদমাশঙ্ক্যাহ-তত্র চেতি। এবকারার্থমাহ-নেহেতি। কথমাত্মনি বস্তুতো ভেদরহিতেহপি ভেদো ভাতীত্যাশঙ্ক্যাহ-অসতীতি। নেহেত্যাদেঃ সংপিণ্ডিতমর্থং কথয়তি-অবিদ্যেতি ॥৩০৯৷১৯৷
ভাষ্যানুবাদ।—[পূর্ব্বোক্ত ব্রহ্মদর্শনের সাধন(উপায়) বলা হই- তেছে—আচার্য্যের নিকট উপদেশ-লাভপূর্ব্বক তত্ত্বজ্ঞান-পরিশোধিত মনের দ্বারা [সেই ব্রহ্মকে] দর্শন করিবে। সেই দ্রষ্টব্য ব্রহ্মে নানা(বিভাগ) কিছু নাই। নানাত্ব না থাকিলেও লোকে অবিদ্যা দ্বারা তাহাতে নানাত্ব বা ভেদ আরোপিত করিয়া থাকে। সে লোক মৃত্যুর—মরণের পরও মৃত্যু প্রাপ্ত হয়। সেই লোক কে? না, যে লোক ইহাতে(ব্রহ্মে) নানার মত(ভেদের ন্যায়) দর্শন করে।
অভিপ্রায় এই যে, অবিদ্যাকৃত অধ্যাস ব্যতিরেকে আত্মাতে বাস্তবিক দ্বৈত বা বিভাগ নাই ॥ ৩০৯ ॥ ১৯ ॥
একটৈষাণুভঙ্গীব্যাধেন ধ্রুবং ধ্রুবম্।
বিরক্তঃ পর আকাশাদিক আজ্ঞা মহান্ ধ্রুবঃ ॥৩১০॥২০॥
সরলার্থঃ।-অপ্রময়ং(অপ্রমেয়ং, প্রমাণান্তরাবিষয়ঃ, স্বসাক্ষিকমিত্যর্থঃ) ধ্রুবং(কূটস্থং) এতৎ(আত্মবস্তু) একধা(একরূপেণ-বিজ্ঞানৈকাকারেণ) এব দ্রষ্টব্যম্(স্ববিষয়ীকর্ত্তব্যম্)।[পুনশ্চ তৎস্বরূপমুচ্যতে-] আত্মা বিরজঃ (বিরজাঃ, ধর্ম্মাধর্ম্মাদিরূপ-মালিন্যরহিতঃ), আকাশাৎ(সূক্ষ্মাকাশাদপি) পরঃ (সূক্ষ্মতরঃ), অজঃ(জন্মরহিতঃ), মহান্(পরিমাণতঃ মহত্তমঃ), ধ্রুবঃ(অবি- কারী কূটস্থশ্চ) ॥ ৩১০ ॥ ২০ ॥
মূলানুবাদ।—অপ্রমেয়(অপর সর্ব্বপ্রমাণের অগম্য) ধ্রুব (নিত্য কূটস্থ) এই আত্মাকে একইরূপে—শুদ্ধ জ্ঞানস্বরূপেই দর্শন করিবে।[আত্মার স্বরূপ বলিতেছেন—] এই আত্মা বিরজঃ— পুণ্যপাপাদি-মলরহিত এবং সূক্ষ্ম আকাশ অপেক্ষাও অতি সূক্ষ্ম, পরম মহৎ ও কূটস্থ ॥ ৩১০ ॥ ২০।
শাঙ্করভাষ্যম্।—যম্মাদেবম্, তস্মাদেকধৈব একেনৈব প্রকারেণ বিজ্ঞানঘনৈকরসপ্রকারেণ আকাশবৎ নিরন্তরেণ অনুদ্রষ্টব্যম্। যম্মাদেতদ্ ব্রহ্ম অপ্রময়ম্ অপ্রমেয়ং সর্ব্বৈকত্বাৎ; অন্যেন হি অন্যৎ প্রমীয়তে, ইদং তু একমেব, অতঃ অপ্রমেয়ম্। ধ্রুবং নিত্যং কূটস্থম্ অবিচালীত্যর্থঃ। ১
ননু বিরুদ্ধমিদমুচ্যতে, অপ্রমেয়ং জ্ঞায়ত ইতি চ-‘জ্ঞায়তে’ ইতি প্রমাণৈ- মীয়ত ইত্যর্থঃ, অপ্রমেয়ম্ ইতি চ তৎপ্রতিষেধঃ। নৈষ দোষঃ, অন্যবস্তুবৎ অনাগম-প্রমাণপ্রমেয়ত্বপ্রতিষেধার্থত্বাৎ; যথা অন্যানি বস্তুনি আগমনিরপেক্ষৈঃ প্রমাণৈবিষয়ীক্রিয়ন্তে, ন তথা এতদাত্মতত্ত্বং প্রমাণান্তরেণ বিষয়ীকর্তুং শক্যতে। সর্ব্বস্যাত্মত্বে কেন কং পশ্যেৎ বিজানীয়াৎ-ইতি প্রমাতৃপ্রমাণাদিব্যাপারপ্রতি- যেধেনৈব আগমোহপি বিজ্ঞাপয়তি, ন তু অভিধানাভিধেয়লক্ষণ-বাক্যধর্মাঙ্গী- করণেন; তস্মাৎ ন আগমনাপি স্বর্গমের্ব্বাদিবৎ তৎ প্রতিপাদ্যতে; প্রতি- পাদয়িত্রাত্মভূতং হি তৎ; প্রতিপাদয়িতুঃ প্রতিপাদনস্য প্রতিপাদ্যবিষয়ত্বাৎ; ভেদে হি সতি তদ্ভবতি। ২
জ্ঞানকং তস্মিন্ পরাত্মভাবনিবৃত্তিরেব, ন তস্মিন্, গাণপ্যভাবঃ কর্ত্তব্যঃ,
9
বিদ্যমানত্বাদাত্মভাবস্য; নিত্যো হি আত্মভাবঃ সর্ব্বস্য অতদ্বিষয় ইব প্রত্যবভাসতে; তস্মাৎ অতদ্বিষয়াবভাসনিবৃত্তিব্যাতিরেকেণ ন তস্মিন্ আত্মভাবো বিধীয়তে; অন্যাত্মভাবনিবৃত্তৌ আত্মভাবঃ স্বাত্মনি স্বাভাবিকো যঃ, স কেবলে ভবতীতি আত্মা জ্ঞায়ত ইত্যুচ্যতে, স্বতশ্চাপ্রমেয়ঃ, প্রমাণান্তরেণ ন বিষয়ীক্রিয়তে, ইত্যু- ভয়মপি অবিরুদ্ধমেব। বিরজঃ বিগতরজঃ; রজো নাম ধৰ্মাধর্মাদিমলম্, তদ্রহিত ইত্যেতৎ। পরঃ—পরো ব্যতিরিক্তঃ সূক্ষ্মো ব্যাপী বা আকাশাদপি অব্যাকৃতা- খ্যাৎ, অজঃ ন জায়তে; জন্মমরণপ্রতিষেধাৎ উত্তরেহপি ভাববিকারাঃ প্রতিষিদ্ধাঃ, সর্ব্বেষাং জন্মাদিত্বাৎ। আত্মা মহান্ পরিমাণতঃ মহত্তরঃ সর্ব্বস্মাৎ, ধ্রুবঃ অবিনাশী ॥ ৩১০ ॥ ২০ ॥
টীকা। দ্বৈতাভাবে কথমনুদ্রষ্টব্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ-যম্মাদিতি। তমেবৈকং প্রকারং প্রকটয়তি-বিজ্ঞানেতি। পরিচ্ছিন্নত্বং ব্যবচ্ছিনত্তি-আকাশবদিতি। একরসত্বং হেতুকৃত্যা- প্রমেয়ত্বং প্রতিজানীতে-যম্মাদিতি। এতদ্ব্রহ্ম যম্মাদেকরসং, তস্মাদপ্রমেয়মিতি যোজনা। হেত্বর্থং স্ফুটয়তি-সর্ব্বৈকত্বাদিতি। তথাপি কথমপ্রমেয়ত্বং, তদাহ-অন্যেনেতি। মিথো বিরোধমাশঙ্কতে-নন্বিতি। বিরোধমেব স্ফোরয়তি-জ্ঞায়ত ইতীতি। চোদিতং বিরোধং নিরাকরোতি-নৈষ দোষ ইতি। সংগৃহীতং সমাধানং বিশদয়তি-যথেত্যাদিনা। তস্য মানান্তরৈবিষয়ীকর্তুমশক্যত্বে হেতুমাহ-সর্ব্বস্যেতি। ইতি সর্ব্বদ্বৈতোপশান্তিশ্রুতেরিতি শেষঃ। আগমোহপি তর্হি কথমাত্মানমাবেদয়েদিত্যাশঙ্ক্যাহ-প্রমাত্রিতি। আত্মনঃ স্বর্গাদি- বদ্বিষয়ত্বেনাগমপ্রতিপাদ্যত্বাভাবে হেতুমাহ-প্রতিপাদয়িত্রিতি। তথাপি কিমিত্যবিষয়ত্বেনা- প্রতিপাদ্যত্বং, তত্রাহ-প্রতিপাদয়িতুরিতি। তদিতি প্রতিপাদ্যত্বমুক্তম্। ১
কথং তর্হি তস্মিন্নাগমিকং জ্ঞানং, তত্রাহ-জ্ঞানং চেতি। পরস্মিন্ দেহাদাবাত্মভাব- স্যারোপিতস্য নিবৃত্তিরেব বাক্যেন ক্রিয়তে। তথা চাত্মনি পরিশিষ্টে স্বাভাবিকমেব স্ফুরণং প্রতিবন্ধবিগমাৎ প্রকটীভবতীতি ভাবঃ। নমু ব্রহ্মণ্যাত্মভাবঃ শ্রুত্যা কর্তব্যো বিবক্ষ্যতে, ন তু দেহাদাবাত্মব্যাবৃত্তিরত আহ-ন তস্মিন্নিতি। ব্রহ্মণশ্চেদাত্মভাবঃ সদা মন্যতে, কথমন্যথা প্রথা, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-নিত্যো হীতি। সর্ব্বস্য পূর্ণস্য ব্রহ্মণ ইত্যেতৎ। অতদ্বিষয়ো ব্রহ্মব্যতিরিক্ত- বিষয় ইত্যর্থঃ। ব্রহ্মণ্যাত্মভাবস্থ্য সদা বিদ্যমানত্বে ফলিতমাহ-তস্মাদিতি। অতদ্বিষয়াবভাসো দেহাদাবাত্মত্বপ্রতিভাসঃ। তস্মিন্ ব্রহ্মণীত্যর্থঃ। অন্যস্মিন্ অনাত্মভাবনিবৃত্তিরেবাগমেন ক্রিয়তে চেৎ, তর্হি কথমাত্মা তেন গম্যত ইত্যুচ্যতে, তত্রাহ-অন্যেতি। যদ্যাগমিকবৃত্তি- ব্যাপ্যতাত্মনো মেয়ত্বমিদ্যুতে, কথং তর্হি তস্যামেয়ত্ববাচোযুক্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-স্বতশ্চেতি। বৃত্তিব্যাপ্যত্বেন মেয়ত্বং, স্ফুরণব্যাপ্যত্বেন চামেরত্বমিত্যুপসংহরতি-ইত্যুভয়মিতি। যদুক্তং ধ্রুবত্বং, তদুপস্কারপূর্ব্বকমুপপাদরতি-বিরজ ইত্যাদিনা। কথং জন্মনিষেধাদিতরে বিকারা নিষিদ্ধ্যন্তে, তত্রাহ-সর্ব্বেযামিতি। ৩১০। ২০।
ভাষ্যানুসারে।—যেহেতু এই প্রকার ব্যবস্থা, সেই হেতু[আষাঢ়]
একই প্রকারে—আকাশ যেরূপ নিরন্তর বা অবিচ্ছিন্ন, তদ্রূপ একমাত্র জ্ঞানস্বরূপে নিয়ত দর্শন করিবে। যেহেতু এই ব্রহ্ম ‘অপ্রময়’—অপ্রমেয় অর্থাৎ সর্ব্ববস্তুর সহিত অভিন্ন বলিয়া প্রমাণের অবিষয়; অন্যেই অন্য বস্তু দর্শন করিয়া থাকে, এই ব্রহ্ম ত একই—তাহা হইতে ভিন্ন কিছুই নাই; এইজন্য অপ্রমেয়; ধ্রুব অর্থ— নিত্য অর্থাৎ কূটস্থ—কূটের ন্যায় নির্ব্বিকারে বা একাকারে অবস্থিত(১), অপর কাহারো দ্বারা চালিত হন না।
ভাল, ইহা ত বিরুদ্ধ কথা বলা হইতেছে যে, ‘অপ্রমেয়’ও বটে, আবার জ্ঞানের বিষয়ও(প্রমেয়ও) বটে; ‘জ্ঞায়তে’(জ্ঞাত হয়) অর্থই প্রমাণের বিষয়ীভূত হয়, অথচ ‘অপ্রমেয়’ শব্দে তাহারই নিষেধ করা হইতেছে! না, ইহা দোষাবহ হইতেছে না, কারণ, অন্য বস্তু যেরূপ আগমাতিরিক্ত প্রমাণেরও বিষয় হইয়া থাকে, এই আত্মবস্তু সেরূপ হয় না; এই জন্য ‘অপ্রমেয়’ কথায় সেই প্রমাণান্তরেরই প্রতিষেধ করা হইয়াছে। অভিপ্রায় এই যে, জগতের অন্যান্য বস্তু যেমন শাস্ত্রোপদেশ ব্যতিরেকেও প্রত্যক্ষাদি অন্য প্রমাণের বিষয়ীভূত হইতে পারে, কিন্তু এই আত্মাকে শাস্ত্র ভিন্ন কোনও প্রমাণ দ্বারা তেমনভাবে গ্রহণ করিতে পারে না। বিশেষতঃ সর্বাত্মভাব পরিনিষ্পন্ন হইলে পর, সমস্ত ভেদ- বুদ্ধি বিলুপ্ত হইয়া যায়; সুতরাং সে সময়ে কে কিসের দ্বারা কাহাকে দর্শন করিবে বা জানিবে? ইত্যাদি আগমবাক্যও কেবল তদ্বিষয়ে প্রমেয়-প্রমাণাদি- ব্যাপারের প্রতিষেধ দ্বারাই তাহার স্বরূপ জ্ঞাপন করে, কিন্তু অভিধান-অভিধেয়- ভাবে অর্থাৎ বাচ্য-বাচকভাবরূপ যে বাক্যধৰ্ম্ম বা বাক্যের স্বভাব, তাহা দ্বারা পারে না, অর্থাৎ স্বভাবসিদ্ধ বাচ্য-বাচকসম্বন্ধ দ্বারা আত্মবস্তু প্রতিপাদন করিবার ক্ষমতা কোন শব্দেরই নাই। অতএব আগম বা শাস্ত্রও, ‘স্বর্গ’ ও ‘সুমেরু’র স্বরূপ যেরূপ বর্ণনা করিয়া থাকে, সেরূপে কিন্তু আত্মার স্বরূপ নিরূপণ করিতে পারে না; কেন না, এই আত্মতত্ত্ব হইতেছে-প্রতিপাদকেরই আত্ম- স্বরূপ বা অভিন্নরূপ। প্রতিপাদনকর্তা সাধারণতঃ প্রতিপাদ্য বিষয়েরই প্রতিপাদন করিয়া থাকে; অথচ পরস্পরের ভেদ বা পার্থক্য না থাকিলে, সেই প্রতিপাদন কার্য্য কখনই সম্ভব হয় না। ২
এখানে ব্রহ্মবিষয়ক জ্ঞান, অর্থ—অনাদ্যা-বস্তুতে যে আত্মবৃদ্ধি, তাহার
(১) তাৎপর্য্য—কূট অর্থ—পর্ব্বতশৃঙ্গ, কিংবা কর্ম্মকারের ‘নাহাই’; তাহার মত নির্ব্বিকারে থাকেন বলিয়া ব্রহ্ম কূটস্থ। “কূটবৎ নির্ব্বিকারেণ স্থিতঃ কূটস্থ উচ্যতে।” পঞ্চদশী।
নিবৃত্তিমাত্র; কিন্তু সাক্ষাৎসম্বন্ধে তাহাতে আত্মভাব স্থাপন করা নহে; কারণ, তাহাতে আত্মভাব বিদ্যমানই আছে। সেই ব্রহ্মের সহিত সকলেরই আত্মভাব নিত্যসিদ্ধ রহিয়াছে, কেবল অজ্ঞানবশতঃ তাহার প্রতীতি হয় না মাত্র; অতএব অব্রহ্মবিষয়ে যে, ভ্রমাত্মক আত্মবুদ্ধি, তাহার নিবৃত্তি ভিন্ন এখানে আর আত্ম- ভাবের বিধান করা হইতেছে না। দেহাদি অন্য পদার্থ হইতে আত্মভাব-ভ্রান্তি নিবৃত্ত হইলে পর, প্রকৃত আত্মাতে যে আত্মভাব তখন তাহাই কেবল স্ফুরিত হইতে থাকে; এই জন্য ‘আত্মা জ্ঞাত হয়’(‘আত্মা জ্ঞায়তে’) এই কথা বলা হইয়া থাকে। স্বরূপতঃ আত্মা অপ্রমেয়ই বটে, কোন প্রমাণই তাহাকে বিষয় করিতে পারে না; অতএব[‘দ্রষ্টব্য’ ও ‘অপ্রমেয়’ এই] উভয় কথাই অবিরুদ্ধ বা সুসঙ্গত হইতেছে। ৩
রজঃ অর্থ—চিত্তগত ধর্ম্মাধর্মাদিরূপ মল; ‘বিরজঃ’ অর্থ—সেই ধর্ম্মাধর্মাদি মলরহিত। ‘পর’ অর্থ—অতিরিক্ত(পৃথক্), সূক্ষ্ম কিংবা ব্যাপক আকাশ হইতেও—অপঞ্চীকৃত সূক্ষ্ম আকাশ অপেক্ষাও পর—সূক্ষ্ম। ‘অজ’ অর্থ—যাহা জন্মে না; এখানে এক মাত্র জন্মের নিষেধ করাতেই পরবর্তী ভাব-বিকারসমূহও নিষিদ্ধ হইল, বুঝিতে হইবে; কারণ, জন্মই ঐ সমুদয় বিকারের আদি বা পূর্ব্ববর্তী(১)। এই আত্মা, ‘মহান্’ পরিমাণে মহান্ অর্থাৎ সর্ব্বাপেক্ষা বৃহৎ(মহৎ-পরিমাণযুক্ত); ‘ধ্রুব’ অর্থ—অবিনাশী(যাহার কখনও বিনাশ হয় না) ॥৩১০৷৷২০॥
তদেব ধীতো বিজ্ঞায় প্রজ্ঞাং কুব্বীত ব্রাহ্মণঃ।
নানুখ্যায়াহুষ্ণবান্ বাচো বিম্রপনহী তদিত ॥৩১॥২॥
সরলার্থঃ।—ধীরঃ(জ্ঞানী) ব্রাহ্মণঃ(ব্রহ্মনিষ্ঠঃ) তম্(উক্তলক্ষণম্ আত্মানম্) এব বিজ্ঞায়(শাস্ত্রাচার্য্যোপদেশতঃ নিঃসংশয়ং জ্ঞাত্বা) প্রজ্ঞাং (জিজ্ঞাসাপরিসমাপ্তিঃ যয়া ভবেৎ, তাদৃশীং বুদ্ধিং) কুব্বীত(অপরোক্ষতয়া
১২৬৯
জানীয়াদিত্যর্থঃ)। বহুন্ শব্দান্(তর্কোপকরণানি বহুনি বচনানি) ন অনু- ধ্যায়াৎ(ন অনুচিন্তয়েৎ); হি(যতঃ) তৎ(বহুশব্দানুধ্যানম্) বাচঃ(বাগিন্দ্রিয়স্য) বিগ্লাপনম্(গ্লানিজনকম্) ইতি ॥৩১১৷৷২১৷৷
মূলানুবাদ।—ধীর ব্রাহ্মণ—ব্রহ্মনিষ্ঠ পুরুষ পূর্ব্বোক্তপ্রকার আত্মাকেই শাস্ত্র ও আচার্য্যোপদেশ হইতে উত্তমরূপে অবগত হইয়া তদ্বিষয়ে প্রজ্ঞা লাভ করিবে, অর্থাৎ যাহাতে তাহার আর জিজ্ঞাসা করিবার কিছু না থাকে—সমস্ত সংশয় নিবৃত্তি হইয়া যায়, এইরূপ অপরোক্ষ জ্ঞান লাভ করিবে। বহুতর শব্দ চিন্তা করিবে না; কারণ, তাহাতে কেবল বাগিন্দ্রিয়ের গ্লানি বা অবসাদ জন্মিয়া থাকে মাত্র, (কোন ফল লাভ হয় না)॥ ৩১১ ॥ ২১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তমীদৃশমাত্মানমেব, ধীরো ধীমান্, বিজ্ঞায় উপ- দেশতঃ শাস্ত্রতশ্চ, প্রজ্ঞাং শাস্ত্রাচার্য্যোপদিষ্টবিষয়াং জিজ্ঞাসাপরিসমাপ্তিকরীৎ কুব্বীত ব্রাহ্মণঃ—এবং প্রজ্ঞাকরণসাধনানি সন্ন্যাস-শম-দমোপরমতিতিক্ষাসমা- ধানানি কুৰ্য্যাদিত্যর্থঃ। ন অনুধ্যায়াৎ ন অনুচিন্তয়েৎ, বহুন্ প্রভুতান্ শব্দান্; তত্র বহুত্বপ্রতিষেধাৎ কেবলাত্মৈকত্বপ্রতিপাদকাঃ স্বল্পাঃ শব্দা অনুজ্ঞায়ন্তে। “ওঁমিত্যেবং ধ্যায়থ আত্মানম্” “অন্যা বাচো বিমুঞ্চথ” ইতি চার্থর্ব্বণে। বাচঃ বিগ্লাপনং বিশেষেণ গ্লানিকরং শ্রমকরম্, হি যস্মাৎ—তদ্বহুশব্দাভিধ্যান- মিতি ॥৩১১৷৷২১৷৷
টীকা। যথোক্তং বস্তুনিদর্শনং নিগময়তি-তমীদৃশমিতি। নিত্যশুদ্ধত্বাদিলক্ষণমিতি যাবৎ। উক্তরীত্যা প্রজ্ঞাকরণে কানি সাধনানীতি চেৎ, তানি দর্শয়তি-এবমিতি। কাম্যনিষিদ্ধত্যাগঃ সন্ন্যাসঃ, উপরমঃ নিত্যনৈমিত্তিকত্যাগঃ ইতি ভেদঃ। বহুনিতি বিশেষণবশাদায়াতমর্থং দর্শয়তি- তত্রেতি। চিন্তনীয়েষু শব্দেধিতি যাবৎ। তত্র শ্রুত্যন্তরং সংবাদয়তি-ওঁমিত্যেবমিতি। নানুধ্যায়াদিত্যত্র হেতুমাহ-বাচ ইতি। তস্মাদবহুন্ শব্দান্নানুচিন্তয়েদিতি পূর্ব্বেণ সম্বন্ধঃ। ইতি শব্দঃ শ্লোকব্যাখ্যানসমাপ্ত্যর্থঃ। ৩১১। ২১।
ভাষ্যানুবাদ।—ধীর অর্থাৎ পরিশুদ্ধ-বুদ্ধিসম্পন্ন ব্রাহ্মণ(ব্রহ্মনিষ্ঠ পুরুষ) উক্তপ্রকার আত্মাকে শাস্ত্র ও আচার্য্যোপদেশ হইতে অবগত হইয়া, ‘প্রজ্ঞা’ করিবে, অর্থাৎ যাহাতে শাস্ত্র ও আচার্য্যোপদেশ হইতে বিজ্ঞাত বিষয়ে আর কোনও জিজ্ঞাসা—জানিবার ইচ্ছা না থাকে, এমনভাবে জ্ঞান লাভ করিবে, এবং জ্ঞানসাধন—সন্ন্যাস, শম, দম, উপরতি(ভোগবিরতি), তিতিক্ষা ও সমাধি প্রভৃতির অনুষ্ঠান করিবে। বহু—অধিকপরিমাণে শব্দের অনুধ্যান বা
চিন্তা করিবে না। এখানে ‘বহুন্’ শব্দ থাকায় বুঝা যাইতেছে যে, কেবল আত্ম- তত্ত্ব-প্রকাশক অল্পশব্দ অনুধ্যান করিবার অনুমতি প্রদান করা হইতেছে; কেন না, আথর্ব্বণ শ্রুতিতে আছে—‘ওঁঙ্কাররূপে আত্মাকে ধ্যান কর’, ‘অন্য সমস্ত বাক্য ত্যাগ কর’ ইত্যাদি। ‘বাচো বিপ্লাপনম্’ অর্থ—বাগিন্দ্রিয়ের বিশেষ গ্লানিজনক—শ্রমকর। যেহেতু বহু শব্দাভিধ্যান[ বাগিন্দ্রিয়ের গ্লানি- কর], সেই হেতু বহু শব্দ চিন্তা করিবে না] ॥৩১১৷৷২১৷৷
স বা এষ মহানজ আত্মা যোহয়ং বিজ্ঞানময়ঃ প্রাণেষু, য এযোহন্তহৃদয় আকাশস্তস্মিঙ্গেতে, সর্ব্বস্য বশী সর্ব্বস্যেশানঃ সর্ব্বস্যাধিপতিঃ, স ন সাধুনা কৰ্ম্মণা ভূয়ান্ নো এবাসাধুনা কনীয়ান্। এষ সর্বেশ্বর এষ ভূতাধিপতিরেষ ভূতপাল এষ সেতুর্বিধরণ এষাং লোকানামসম্ভেদায়। তমেতং বেদানুবচনেন ব্রাহ্মণা বিবিদিষন্তি-যজ্ঞেন দানেন তপসানাশকেনৈতমেব বিদিত্বা মুনির্ভবতি। এতমেব প্রব্রাজিনো লোকমিচ্ছন্তঃ প্রব্রজন্তি। এতদ্ধ স্ম বৈ তৎ পূর্ব্বে বিদ্বাৎসঃ প্রজাং ন কাময়ন্তে-কিং প্রজয়া করিষ্যামো যেষাং নোহয়মাত্মায়ং লোক ইতি। তে হ স্ম পুত্রৈষণায়াশ্চ বিতৈষণায়াশ্চ লোকৈষণা- য়াশ্চ ব্যুত্থায়াথ ভিক্ষাচর্য্যং চরন্তি। যা হোব পুত্রৈষণা সা বিতৈষণা, যা বিতৈষণা সা লোকৈষণোভে হোতে এষণে এব ভবতঃ। স এষ নেতি নেত্যাত্মাগৃহ্যো নহি গৃহ্যতেহশীর্য্যো নহি শীৰ্য্যতেহসঙ্গো নহি সজ্যতেহসিতো ন ব্যথতে ন রিষ্যতি, এতমু হৈবৈতে ন তরত ইত্যতঃ পাপমকরবমিত্যতঃ কল্যাণমকরবমিতি; উভে উ হৈবৈষ এতে তরতি, নৈনং কৃতাকৃতে তপতঃ ॥৩১২৷২২৷৷
সরলার্থঃ।—[ইদানীং পূর্ব্বোক্তমেব আত্মতত্ত্বমুপসংহরতি—‘স বা এষঃ’ ইত্যাদিনা]। সঃ(পূর্ব্বোক্তঃ) বৈ(এব) এষঃ(প্রকৃতঃ) মহান্ অজঃ আত্মা;[কোহসৌ?] যঃ অয়ং প্রাণেষু(ইন্দ্রিয়াদিশু মধ্যে) বিজ্ঞানময়ঃ (বুদ্ধিবিজ্ঞানপ্রায়ঃ)[উক্তঃ]; সর্ব্বস্য বশী(সর্ব্বং বশীকরোতি), সর্ব্বস্য
১২৭১
(ব্রহ্মাদিস্তম্বপর্য্যন্তস্য) ঈশানঃ(ঈশ্বরঃ), সর্ব্বস্য অধিপতিঃ(সাক্ষাৎ পালকঃ), য এষঃ অন্তহৃদয়ে(হৃদয়পুণ্ডরীকে) আকাশঃ(বুদ্ধিবিজ্ঞানাশ্রয়ঃ, পরমাত্মা বা), তস্মিন্ শেতে(বর্ত্ততে)। সঃ(আত্মা) সাধুনা(উত্তমেন) কর্মণা ভূয়ান্ (অধিকঃ) ন, অসাধুনা(অধমেন কৰ্ম্মণা বা) নো(ন) এব কনীয়ান্(হীনঃ), [ভবতি]; এষঃ(যথোক্তপ্রকারঃ আত্মা) সর্ব্বেশ্বরঃ, এষ ভূতাধিপতিঃ, এষঃ ভূতপালঃ; এষঃ(আত্মা) এষাং লোকানাম্(ভূরাদীনাম্) অসম্ভেদায়(অসাঙ্ক- র্য্যায়, কর্মফল-বস্তুশক্তি-বিপর্যয়-বারণায়) বিধারণঃ(বিধারকঃ) সেতুঃ(সেতুবৎ ভেদব্যবস্থাপকঃ)।
ব্রাহ্মণাঃ(ব্রহ্মনিষ্ঠাঃ) তম্ এতম্(আত্মানম্) বেদানুবচনেন(বেদাধ্যয়নেন, বেদোক্তেন বা) যজ্ঞেন, দানেন, অনাশকেন(ভোগনিবৃত্ত্যাত্মকেন) তপসা বিবিদিষন্তি(বেদিতুমিচ্ছন্তি); এতম্(আত্মানম্) এব বিদিত্বা(জ্ঞাত্বা) মুনিঃ(মননশীলঃ) ভবতি। প্রব্রাজিনঃ(সন্ন্যাসিনঃ) এতম্ এব লোকম্ (আত্মানম্) ইচ্ছন্তঃ(কাময়মানাঃ সন্তঃ) প্রব্রজন্তি(প্রব্রজ্যাং কুর্ব্বন্তি); [তত্র প্রব্রজ্যাগ্রহণে হেতুমাহ] এতৎ হ স্ম বৈ তদ্(এতদেব প্রব্রজ্যাগ্রহণে কারণম্; যৎ),[স্ম বৈ ইতি ঐতিহ্যার্থম্]; পূর্ব্বে(অতীতাঃ) বিদ্বাৎসঃ[বয়ম্] প্রজয়া(সন্তানেন) কিং করিষ্যামঃ, যেষাং(পরমার্থদৃশাং)(নঃ অস্মাকং) অয়ম্ আত্মা[এব] অয়ং লোকঃ(অভিপ্রেতং ফলম্), তে বয়ং প্রজয়া কিং করিষ্যামঃ—[ইতি কৃত্বা] প্রজাং ন কাময়ন্তে(ন ইচ্ছন্তি)।
তে(বিদ্বাংসঃ) পুত্রৈষণায়াঃ(পুত্রকামনায়াঃ) চ বিত্তৈষণায়াঃ চ লোকৈ- ষণায়া চ ব্যুত্থায়(বিশেষেণ বিরজ্য) অথ(অনন্তরং) ভিক্ষাচর্য্যৎ চরন্তি(সন্ন্যা- সম্ অবলম্বন্তে)। যা হি পুত্রৈষণা, সা এব বিত্তৈষণা, তথা যা বিত্তৈষণা, সা [এব] লোকৈষণা,[অতঃ] এতে হি(নিশ্চয়ে) এব উভে এষণে(পুত্র- লোকৈষণে) ভবতঃ,(ন ততোহধিকা কাচিৎ এষণা আস্তে ইত্যর্থঃ)।
নেতি নেতি(নেতি নেতীতি সর্ব্বনিষেধাবধিভূতঃ) সঃ এষঃ আত্মা অগৃহ্যঃ (গ্রহীতুমশক্যঃ),[অতঃ] নহি(নৈব) গৃহ্যতে; অশীর্য্যঃ(শীর্ণতায়া অযোগ্যঃ), [অতঃ] নহি শীৰ্য্যতে; অসঙ্গঃ,[অতঃ] নহি সজ্যতে[কেনচিৎ সংসারধর্ম্মেণ ন লিপ্যতে]; অসিতঃ,[অতঃ] ন ব্যথতে, ন রিষ্যতি(স্বরূপাৎ ন প্রচ্যবতে); এতে(বক্ষমাণে কৃতাকৃতে) এতম্(আত্মানম্) এব উহ ন তরতঃ(ন অভি- ভবতঃ) ইতি; এষঃ(আত্মদর্শী) অতঃ(অস্মৈ ফলায়) পাপম্ অকরবম্ ইতি, অতঃ(অস্মৈ ফলায়) কল্যাণম্(শুভং কৰ্ম্ম) ‘অকরবম্ ইতি—এতে উভে
এব(পুণ্যাপুণ্যে) তরতি(অতিক্রামতি); কৃতাকৃতে(নিষিদ্ধস্য করণম্, বিহিতস্য চ অকরণম্, এতে) এনম্(আত্মদর্শিনম্) ন তপতঃ(ন পীড়য়তঃ) ॥৩১২৷৷২২৷৷
মূলানুবাদ?—এই যে, পূর্ব্বোক্ত সেই মহান্ অজ আত্মা, এবং যাহা প্রাণপদবাচ্য ইন্দ্রিয়বর্গের মধ্যে বিজ্ঞানময়—বুদ্ধিবিজ্ঞানের সহিত সম্মিলিত হইয়া প্রকাশমান, যাহা সকলের বশীকর্ত্তা, সকলের অধিপতি ও সকলের ঈশ্বর, এবং যে আত্মা হৃদয়পুণ্ডরীকের মধ্যবর্তী আকাশ-পদবাচ্য পরমাত্মায় অবস্থিত, সেই আত্মা উত্তম কর্ম্ম দ্বারা বৃদ্ধি পায় না, এবং নিকৃষ্ট কর্ম্ম দ্বারাও হীন হয় না। ইনি সকলের ঈশ্বর, ইনি ভূতাধিপতি, ইনি সর্ব্বভূতের পালক এবং ইনিই সমস্ত জগতের সাংকর্য্য-নিবারণের জন্য জগদ্বিধারক সেতুস্বরূপ।
ব্রাহ্মণগণ বেদপাঠ, যজ্ঞ, দান ও বিষয়োপরতিরূপ তপস্যা দ্বারা সেই এই আত্মাকে জানিতে ইচ্ছা করেন; ইহাকে জানিয়াই মুনি (মননশীল) হন; সন্ন্যাসিগণ এই আত্ম-লোক লাভের জন্যই প্রব্রজ্যা বা সন্ন্যাস গ্রহণ করেন।[তাহাদের প্রব্রজ্যাগ্রহণের] ইহাই সেই কারণ যে, প্রাচীন বিদ্বানগণ মনে করেন যে, যে আমাদের এই আত্ম- লাভই হইতেছে—লক্ষ্য একমাত্র ফল, সেই আমরা প্রজা—সন্তান দ্বারা কি করিব? এই জন্য তাঁহারা সন্তান কামনা করেন না; এই কারণেই তাঁহারা পুত্র-কামনা, বিত্ত-কামনা ও স্বর্গাদিলোক-কামনা হইতে বিরত হইয়া ভিক্ষাচর্য্যা(সন্ন্যাসগ্রহণ) করিয়া থাকেন। প্রকৃতপক্ষে কিন্তু কামনা(এষণা) দুইটার অধিক হয় না; কারণ, যাহা পুত্রৈষণা, তাহাই বিত্তৈষণা, এবং যাহা বিত্তৈষণা, তাহাই লোকৈষণা; সুতরাং সমুদায়ে দুইটামাত্র এষণা(কামনা) হইতেছে।
‘ইহা নহে, ইহা নহে’(নেতি নেতি) বলিয়া সর্বনিষেধের অবধি- রূপে অভিহিত সেই এই আত্মা স্বভাবতই গ্রহণের অযোগ্য; এই জন্য কোন ইন্দ্রিয় দ্বারা গৃহীত হয় না; শীর্ণ হইবার অযোগ্য, এই জন্য শীর্ণ হয় না; অসঙ্গ, এইজন্য কিছুতেই আসক্ত হয় না; ক্ষয় হইবার অযোগ্য, এই জন্য কোন ব্যথা পায় না, এবং বিকৃতও হয় না।
১২৭৩
ইহাকেই কেবল—‘আমি এই ফলের জন্য পাপ করিয়াছি, এবং অমুক ফলের জন্য পুণ্য করিয়াছি’ এই উভয়প্রকার কৃতাকৃতচিন্তায় অভিভূত করিতে পারে না। এইপ্রকার আত্মদর্শী পুরুষ উক্ত উভয়বিধ কৃতাকৃত—পুণ্য ও পাপ অতিক্রম করেন, ঐ কৃতাকৃতচিন্তা তাহাকে সন্তাপ প্রদান করে না ॥ ৩১২ ॥ ২২ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—সহেতুকৌ বন্ধমোক্ষাবভিহিতৌ মন্ত্রব্রাহ্মণাভ্যাম্, শ্লোকৈশ্চ পুনর্মোক্ষস্বরূপং বিস্তরেণ প্রতিপাদিতম্। এবম্ এতস্মিন্ আত্মবিষয়ে সর্ব্বো বেদঃ যথোপযুক্তো ভবতি; তৎ তথা বক্তব্যমিতি তদর্থেয়ং কণ্ডিকা আর- ভ্যতে। তচ্চ যথা অস্মিন্ প্রপাঠকে অভিহিতং সপ্রয়োজনম্, অনুদ্য অত্রৈবোপ- যোগঃ কৃৎস্নস্য বেদস্য কাম্যরাশিবজ্জিতস্য—ইত্যেবমর্থ উক্তার্থানুবাদঃ “স বা এষঃ” ইত্যাদিঃ। স ইতি উক্তপরামর্শার্থঃ; কোহসাবুক্তঃ পরামৃশ্যতে? তং প্রতি- নিৰ্দ্দিশতি—“য এষ বিজ্ঞানময়ঃ” ইতি,—অতীতানন্তরবাক্যোক্তসম্প্রত্যয়ো মা ভূদিতি “য এষঃ”। কতম এষ ইত্যুচ্যতে—বিজ্ঞানময়ঃ প্রাণেধিতি। উক্তবাক্যো- ল্লিঙ্গনং সংশয়নিবৃত্ত্যর্থম্; উক্তং হি পূর্ব্বং জনকপ্রশ্নারম্ভে “কতম আত্মেতি, যোহয়ং বিজ্ঞানময়ঃ প্রাণেষু” ইত্যাদি। ১
টীকা। কণ্ডিকান্তরমবতারয়িতুং বৃত্তং কীর্তয়তি-সহেতুকাবিতি। উত্তরকণ্ডিকাতাৎপর্য্য- মাহ-এবমিতি। বিরজঃ পর ইত্যাদিনোক্তক্রমেণাবস্থিতে ব্রহ্মণীতি যাবৎ। তদিত্যুপ- যুক্তোক্তিঃ। তদর্থা ব্রহ্মাত্মনি সর্ব্বস্য দেবস্য বিনিয়োগপ্রদর্শনার্থেতি যাবৎ। ননু বিবিদিষা- বাক্যেন ব্রহ্মাত্মনি সর্ব্বস্য বেদস্য বিনিয়োগো বক্ষ্যতে, তথা চ তস্মাৎ প্রাক্তনং বাক্যং কিমর্থমিত্যাশঙ্ক্যাহ-তচ্চেতি। যথাস্মিন্নধ্যায়ে সফলমাত্মজ্ঞানমুক্তং, তথৈব তদনুদ্যেতি যোজনা। কথং যথোক্তে জ্ঞানে সর্ব্বো বেদো বিনিযোক্তং শক্যতে, স্বর্গকামাদিবাক্যন্য স্বর্গাদাবেব পর্য্যবসানাদিত্যাশঙ্ক্য সংযোগপৃথত্বন্যায়মনাদৃত্য বিশিনষ্টি-কাম্যরাশীতি। উক্তস্য সফলস্যাত্মজ্ঞানস্যানুবাদ ইতি যাবৎ। উক্তানাং ভূয়ন্তে বিশেষং জ্ঞাতুং পৃচ্ছতি-কোৎসাবিতি। বিশেষণানর্থক্যমাশঙ্ক্য পরিহরতি-অতীতেতি। তৎ হি বিরজঃ পর ইত্যাদি, তেনোক্তো যো মহত্ত্বাদিবিশেষণঃ পরমাত্মা, তত্র স-শব্দাৎ প্রতীতি: মাভুদিতি কৃত্বা তেন জ্যোতিব্রাহ্মণস্থং জীবং পরামৃশ্য তমেব বৈশব্দেন স্মারয়িত্বা তস্য সন্নিহিতেন পরেণাত্মনৈক্যমেষশব্দেন নির্দিশতীত্যর্থঃ। বিশেষণবাক্যস্থমেষ-শব্দং প্রশ্নপূর্ব্বকং ব্যাচষ্টে-কতম ইতি। কথং জীবো বিজ্ঞানময়ঃ, কথং বা প্রাণেখিতি সপ্তমী প্রযুজ্যতে, তত্রাহ-উক্তেতি। তদনুবাদস্য সশব্দার্থ- সন্দেহাপোহং ফলমাহ-সংশয়েতি। উক্তবাক্যোল্লিঙ্গনমিত্যুক্তং বিবৃণোতি-উত্তং হীতি। ১
এতদুক্তং ভবতি-“যোহয়ং বিজ্ঞানময়ঃ প্রাণেষু” ইত্যাদিনা বাক্যেন প্রতি- পাদিতঃ স্বয়ংজ্যোতিরাত্মা, স এষ কামকর্মাবিজ্ঞানাম্ ‘অনাত্মধৰ্ম্মত্বপ্রতিপাদন-
দ্বারেণ মোক্ষিতঃ পরমাত্মভাবমাপাদিতঃ—পর এবায়ং নান্য ইতি—এষ স সাক্ষাৎ মহানজ আত্মেত্যুক্তঃ। যোহয়ং বিজ্ঞানময়ঃ প্রাণেষিতি যথাব্যাখ্যাতার্থ এব। য এষঃ অন্তহৃ দয়ে হৃদয়পুণ্ডরীকমধ্যে য এষ আকাশো বুদ্ধিবিজ্ঞানসংশ্রয়ঃ, তস্মিন্ আকাশে বুদ্ধিবিজ্ঞানসহিতে শেতে তিষ্ঠতি; অথবা সম্প্রসাদকালে অন্তহৃদয়ে য এষ আকাশঃ পর এব আত্মা নিরুপাধিকো বিজ্ঞানময়স্য স্বস্বভাবঃ, তস্মিন্ স্বভাবে পরমাত্মনি আকাশাখ্যে শেতে। চতুর্থে এতদ্ব্যাখ্যাতম্ “কৈষ তদা অভূৎ” ইত্যস্য প্রতিবচনত্বেন। ২
যোহয়ং বিজ্ঞানময়ঃ প্রাণেষু প্রাগুক্তঃ, স এষ মহানজ আত্মেতি জীবানুবাদেন পরমাত্মভাবো বিহিত ইতি বাক্যার্থমাহ—এতদিতি। পরমাত্মজ্ঞাবাপাদনপ্রকারমনুবদতি—সাক্ষাদিতি। বিশেষণবাক্যস্য ব্যাখ্যেয়ত্বপ্রাপ্তাবুক্তবাক্যোল্লিঙ্গনমিত্যত্রোক্তং স্মারয়তি—যোহয়মিতি। বাক্যান্তরমবতার্য্য ব্যাচষ্টে—য এষ ইতি। কথং পুনরাকাশশব্দস্য পরমাত্মবিষয়ত্বমুপেত্য দ্বিতীয়ং ব্যাখ্যানং, তস্যার্থান্তরে রূঢ়ত্বাদিত্যাশঙ্ক্যাহ—চতুর্থ ইতি। ২
“স চ সর্ব্বস্য ব্রহ্মেন্দ্রাদেঃ বশী; সর্ব্বো হি অন্য বশে বর্ততে। উক্তঞ্চ,- “এতস্য বা অক্ষরস্য প্রশাসনে” ইতি। ন কেবলং বশী, সর্ব্বস্য ঈশানঃ ঈশিতা চ ব্রহ্মেন্দ্রপ্রভৃতীনাম্। ঈশিতৃত্বং চ কদাচিৎ জাতিকৃতম্, যথা রাজকুমারস্য বলবত্তরানপি ভৃত্যান্ প্রতি, তদ্বৎ মা ভূদিত্যাহ-সর্ব্বস্যাধিপতিঃ অধিষ্ঠায় পাল- য়িতা, স্বতন্ত্র ইত্যর্থঃ; ন রাজপুত্রবৎ অমাত্যাদিভৃত্যতন্ত্রঃ। ত্রয়মপ্যেতৎ বশিত্বাদি হেতুহেতুমদ্রূপম্-যম্মাৎ সর্ব্বস্যাধিপতিঃ, ততোহসৌ সর্ব্বস্যেশানঃ; যো হি যমধিষ্ঠায় পালয়তি, স তং প্রতীষ্ট এবেতি প্রসিদ্ধম্, যম্মাৎ চ সর্ব্বস্যেশানঃ, তস্মাৎ সর্ব্বস্য বশীতি! ৩
ইথমুক্তং জ্ঞানমনুষ্য তৎফলমনুবদতি-স চেত্যাদিনা। কথং পুননিরুপাধিকস্যেশ্বরস্য বশিত্বং, কথং চ তদভাবে তদাত্মনো বিদুষস্তদুপপদ্যতে, তত্রাহ-উক্তং চেতি। বিশেষণত্রয়স্য হেতুহেতুমদ্রূপত্বমেব বিশদয়তি-যম্মাদিত্যাদিনা। তত্র প্রসিদ্ধিং প্রমাণয়তি-যো হীতি। ৩
কিঞ্চান্যৎ, স এবস্তূতো হৃদ্যন্তর্জ্যোতিঃপুরুষো বিজ্ঞানময়ঃ ন সাধুনা শাস্ত্র- বিহিতেন কর্মণা ভূয়ান্ ভবতি ন বর্দ্ধতে-পূর্ব্বাবস্থাতঃ কেনচিদ্ধর্ম্মেণ; নো এব শাস্ত্রপ্রতিষিদ্ধেন অসাধুনা কৰ্ম্মণা কনীয়ান্ অল্পতরো ভবতি-পূর্ব্বাবস্থাতো ন হীয়ত ইত্যর্থঃ। কিঞ্চ, সর্ব্বো হি অধিষ্ঠানপালনাদি কুর্ব্বন্ পরানুগ্রহ-পীড়াকৃতেন ধর্মাধৰ্মাখ্যেন যুজ্যতে; অস্যৈব তু কথং তদভাব ইত্যুচ্যতে-যম্মাদেষ সর্ব্বেশ্বরঃ সন্ কর্মণোহপীশিতুং ভবত্যেব শীলমস্য, তস্মাৎ ন কৰ্ম্মণা সম্বধ্যতে। কিঞ্চ, এষ ভূতাধিপতিঃ ব্রহ্মাদিস্তম্বপর্য্যন্তানাং ভূতানাম্ অধিপতিরিত্যুক্তার্থং পদম্। ৪
ন কেবলমুকুলং বিবিধং, বিবিধোৎপত্তি-বিবিধং। এবংবংশং ক্বচিৎ।
পরমাত্মাভিন্নত্বম্। পরিশুদ্ধত্বমর্থমনুবদতি-হৃদীতি। ব্রহ্মীভূতস্য বিদুষঃ স্বাতন্ত্র্যাদিবন্ধৰ্ম্মাধৰ্ম্মা- স্পর্শিত্বমপি ফলমিত্যর্থঃ। অধিষ্ঠানাদিকর্তৃত্বান্বিদুযোহপি লৌকিকবদ্ধর্মাদিসংবন্ধিত্বং স্যাদিতি শঙ্কতে-সর্বো হীতি। পরতন্ত্রত্বমুপাধিরিতি পরিহরতি-উচ্যত ইতি। সর্বাধিপত্যরাহিত্যং চোপাধিরিত্যাহ-কিংচেতি। ৪
এষ ভূতানাং তেষামেব পালয়িতা রক্ষিতা। এষ সেতুঃ; কিংবিশিষ্ট ইত্যাহ- বিধরণঃ বর্ণাশ্রমাদিব্যবস্থায়া বিধারয়িতা; তদাহ-এষাং ভূরাদীনাং ব্রহ্মলোকা- স্তানাং লোকানাম্ অসম্ভেদায় অসন্তিন্নমর্য্যাদায়ৈ; পরমেশ্বরেণ সেতুবদবিধার্য্য- মাণা লোকাঃ সম্ভিন্নমর্য্যাদাঃ স্যুঃ; অতো লোকানামসম্ভেদায় সেতুভূতোহয়ং পরমেশ্বরঃ, যঃ স্বয়ংজ্যোতিরাত্মৈব। এবংবিৎ সর্ব্বস্য বশী ইত্যাদি ব্রহ্মবিদ্যারাঃ ফলমেতন্নিদ্দিষ্টম্। ৫
সর্ব্বপালকত্বরাহিত্যং চোপাধিরিত্যাহ—এষ ইতি। সর্ব্বানাধারত্বং চোপাধিরিত্যাহ—এষ ইতি। কথং বিধারয়িতৃত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ—তদাহেতি। তদেব সাধয়তি—পরমেশ্বরেণেতি। সর্ব্বস্য বশীত্যাদিনোক্তমুপসংহরতি—এবংবিদিতি। ৫
‘কিংজ্যোতিরয়ং পুরুষঃ” ইত্যেবমাদি-ষষ্ঠপ্রপাঠকবিহিতায়ামেতস্যাং ব্রহ্ম- বিদ্যায়াম্ এবংফলায়াং কাম্যৈকদেশবর্জিতং কৃৎস্নৎ কৰ্ম্মকাণ্ডং তাদর্থ্যেন বিনি- যুজ্যতে; তৎ কথম্ ইত্যুচ্যতে—তমেতম্ এবস্তৃতমৌপনিষদং পুরুষম্ বেদানুবচনেন মন্ত্রব্রাহ্মণাধ্যয়নেন নিত্যস্বাধ্যায়লক্ষণেন বিবিদিষন্তি বেদিতুমিচ্ছন্তি; কে? ব্রাহ্মণাঃ; ব্রাহ্মণগ্রহণমুপলক্ষণার্থম্, অবিশিষ্টো হি অধিকারস্ত্রয়াণাং বর্ণানাম্; অথবা কর্ম্মকাণ্ডেন মন্ত্র-ব্রাহ্মণেন বেদানুবচনেন বিবিদিষন্তি। কথং বিবিদি- ষন্তীত্যুচ্যতে—যজ্ঞেনেত্যাদি। ৬
সফলং জ্ঞানমনুদ্য বিবিদিষাবাক্যমবতারয়তি-কিংজ্যোতিরিতি। এবংফলায়াং সর্ব্বস্য বশীত্যাদিনোক্তফলোপেতায়ামিতি যাবৎ। তাদর্থ্যেন পরম্পরয়া জ্ঞানোৎপত্তিশেষত্বেনেত্যর্থঃ। বিনিযোজকং বাক্যমাকাঙ্ক্ষাপূর্বকমাদায় ব্যাচষ্টে-তৎ কথমিত্যাদিনা। এবংভূতং শ্লোকোক্ত- বিশেষণমিত্যর্থঃ। ব্রাহ্মণশব্দস্থ্য ক্ষত্রিয়াদ্যুপলক্ষণত্বে হেতুমাহ-অবিশিষ্টো হীতি। সম্ভাবিতং পক্ষান্তরমাহ-অথবেতি। তেন বিবিদিষাপ্রকারং প্রশ্নপূর্ব্বকং বিবৃণোতি-কথমিত্যাদিনা। ৬
যে পুনর্মন্ত্রব্রাহ্মণলক্ষণেন বেদানুবচনেন প্রকাশ্যমানং বিবিদিষন্তীতি ব্যাচক্ষতে, তেষামারণ্যকমাত্রমেব বেদানুবচনং স্যাৎ; ন হি কর্মকাণ্ডেন পর আত্মা প্রকাশ্যতে, “তত্ত্বৌপনিষদম্” ইতি বিশেষশ্রুতেঃ। বেদানুবচনেনেতি চাবিশেষিতত্বাৎ সমস্তগ্রাহীদং বচনম্; ন চ তদেকদেশোৎসর্গো যুক্তঃ। ননু ত্বৎপক্ষেহপি উপনিষদ্বর্জ্জমিতি একদেশত্বং স্যাৎ; ন, আদ্যব্যাখ্যানেহবিরোধাৎ অস্মৎপক্ষে নৈষ দোষো ভবতি। যদা বেদানুবচনশব্দেন নিত্যঃ স্বাধ্যায়ো
বিধীয়তে, তদা উপনিষদপি গৃহীতৈবেতি, বেদানুবচনশব্দার্থৈকদেশো ন পরি- ত্যক্তো ভবতি। ৭
ভর্তৃপ্রপঞ্চপ্রস্থানমুখাপ্য প্রত্যাচষ্টে-যে পুনরিত্যাদিনা। তত্র হেতুমাহ-ন হীতি। ভবতু উপনিষন্মাত্রগ্রহণমিত্যাশঙ্ক্য বেদো বা অনুচ্যতে গুরুচ্চারণানন্তরং পঠ্যত ইতি ব্যুৎপত্তে- র্ব্বেদানুবচনশব্দেন সর্ববেদগ্রহে সম্ভবতি তদেকদেশত্যাগো ন যুক্ত ইত্যাহ-বেদেতি। দোষসাম্যমাশঙ্কতে-নন্বিতি। সিদ্ধান্তেহপ্যুপনিষদং বর্জ্জয়িত্বা বেদানুবচনশব্দেন কর্ম্মকাণ্ডং গৃহীতমিতি কৃত্বা তস্য বেদৈকদেশবিষয়ত্বং স্যাৎ, ততঃ “যথাযথং যথা। দোষঃ পিত্তং কফপিত্তং বাঃ শমঃ।
দৈবঃ পশ্যতি বা তস্য যৎকিঞ্চনশ্চিদেহং।
ইতি ন্যায়বিরোধ ইত্যর্থঃ। নিত্যস্বাধ্যায়ো বেদানুবচনমিতি পক্ষমাদায় পরিহর’ত-নেত্যাদিন‘। বেদৈকদেশপরিগ্রহপরিত্যাগাত্মকবিরোধাভাবং সাধয়তি-যদেতি। “
যজ্ঞাদিসহপাঠাচ্চ—যজ্ঞাদীনি কর্ম্মাণ্যের অনুক্রমিসূন্ বেদানুবচনশব্দ প্রযুক্তে; তস্মাৎ কর্ম্মৈব বেদানুবচনশব্দেনোচিত ইতি গমাতে: কৰ্ম্ম ‘হ নিত্য- স্বাধ্যায়ঃ। কথং পুননিত্যস্বাধ্যায়াদিভিঃ কৰ্ম্মভিরাত্মান, বিবিদিয়ন্তি? নৈব হি তান্যাত্মানং প্রকাশয়ন্তি, যথোপনিষদঃ। নৈষ দোষঃ, কৰ্ম্মণাং বিশুদ্ধিহেতুত্বাৎ; কৰ্ম্মভিঃ সংস্কৃতা হি বিশুদ্ধাত্মানঃ শত্রুবন্তি আত্মানম্ উপনিষৎপ্রকাশিতম্ অপ্রতি- বন্ধেন বেদিতুম্; তথা হ্যাথর্ব্বণে—“বিশুদ্ধসত্ত্বস্ততস্তু তং পশ্যতে নিষ্ফলং ধ্যারমানঃ” ইতি; স্মৃতিশ্চ—“জ্ঞানমুৎপদ্যতে পুংসাং ক্ষয়াৎ পাপস্য কৰ্ম্মণঃ” ইত্যাদি। ৮
তহি ব্যাখ্যানান্তরমুপেক্ষিতমিত্যাশঙ্ক্য তদপি বাক্যদোষবশাদপেক্ষিতমেবেত্যাহ- যজ্ঞাদীতি। সংগ্রহবাক্যং বিবৃণোতি-যজ্ঞাদীনি কৰ্ম্মাণীতি। তর্হি প্রথমব্যাখ্যানে কথং বাক্যশেষোপপত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-কৰ্ম্ম হাঁতি। বেদানুবচনাদীনামাত্মবিবিদিযাসাধনত্বমাক্ষি- পতি-কথমিতি। উপনিষস্তিরেবাত্মা তৈরপি জ্ঞায়তামিত্যাশঙ্ক্যাহ-নৈবেতি। কৰ্ম্মণা- মপ্রমাণত্বেইপি পরস্পরয়া জ্ঞানহেতুত্বাৎ বিবিদিযাশ্রুতিরবিরুদ্ধেতি সমাধত্তে-নৈষ দোষ ইতি। তদেব স্ফুটয়তি-কৰ্ম্মভিরিতি। তত্র শ্রুত্যন্তরং প্রমাণয়তি-তথা হীতি। ততো নিত্যাদ্যনুষ্ঠানাদ্বিশুদ্ধধীরাত্মানং সদা চিন্তয়ন্নুপনিষদ্ভিস্তং পশ্যতীত্যর্থঃ। আদিশব্দেন কষায়- পক্তিরিত্যাদিস্মৃতিসংগ্রহঃ। ৮
কথং পুননিত্যানি কর্মাণি সংস্কারার্থানীত্যবগম্যতে? “সত বা আত্মযাজী, যো বেদেদং মেহনেনাঙ্গং সংস্ক্রিয়তে, ইদং মেহনেনাঙ্গমুপধীয়তে” ইত্যাদিশ্রুতেঃ। সর্ব্বেযু চ স্মৃতিশাস্ত্রেষু কর্মাণি সংস্কারার্থান্যের আচক্ষতে—“অষ্টাচত্বারিংশৎ সংস্কারাঃ” ইত্যাদিষু। গীতাসু চ—
“যতো দানং তপশ্চেতব পাবনানি যতোঽধিম্।”
“গদাধরশর্ম্মণো যক্ষ্যবিদা। যক্ষ্যবিদা যক্ষ্যবিদাঃ॥” ইতি।
যজ্ঞেনেতি—দ্রব্যযজ্ঞা জ্ঞানযজ্ঞাশ্চ সংস্কারার্থাঃ। সংস্কৃতস্য চ বিশুদ্ধসত্ত্বস্থ্য জ্ঞানোৎপত্তিরপ্রতিবন্ধেন ভবিষ্যতি, অতো যজ্ঞেন বিবিদিষন্তি। দানেন— দানমপি পাপক্ষয়হেতুত্বাৎ ধর্মবৃদ্ধিহেতুত্বাচ্চ। তপসা—তপ ইত্যবিশেষেণ কৃচ্ছ্র- চান্দ্রায়ণাদিপ্রাপ্তৌ বিশেষণম্—অনাশকেনেতি; কামানশনমনাশকম্, ন তু ভোজননিবৃত্তিঃ; ভোজননিবৃত্তৌ ম্রিয়ত এব, নাত্মবেদনম্। ৯
নিত্যকর্মণাং সংস্কারার্থত্বে প্রমাণং পৃচ্ছতি-কথমিতি। যদ্যপি শ্রুতিস্মৃতিভ্যাং কৰ্ম্মভিঃ সংস্কৃতস্যোপনিষদ্ভিরাত্মা জ্ঞাতুং শক্যতে, তথাপি তেষাং সংস্কারার্থত্বে কিং প্রমাণমিতি প্রশ্নে শ্রুতিস্মৃতী প্রমাণয়তি-স হ বা ইত্যাদিনা। কিং পুনঃ স্মৃতিশাস্ত্রং, তদাহ-অষ্টাচত্বারিংশ- দিতি। অষ্টাবনায়াসাদয়ো গুণাশ্চত্বারিংশদাৰ্ভাধানাদয়ঃ সংস্কারা ইতি বিভাগঃ। বহু- বচনোপাত্তং স্মৃত্যন্তরমাহ-গীতানু চেতি। পদান্তরমাদায় ব্যাচষ্টে-যজ্ঞেনেতীতি। তেষাং সংস্কারার্থত্বেহপি কথং জ্ঞানসাধনত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-সংস্কৃতস্যেতি। দানেন বিবিদিষন্তীতি পূর্ব্বেণ সম্বন্ধঃ। কথং পুনঃ স্বতন্ত্রং দানং বিবিদিষাকারণমত আহ-দানমপীতি। বিবিদিষা- হেতুরিতি শেষঃ। তপসেত্যত্রাপি পূর্ববদন্বয়ঃ। কামানশনং রাগদ্বেষরহিতৈরিন্দ্রিয়ৈবিষয়সেবনং যদৃচ্ছালাভসন্তুষ্টত্বমিতি যাবৎ। যথাশ্রুতার্থত্বে কা হানিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন ত্বিতি। ৯
বেদানুবচন-যজ্ঞ-দান-তপঃশব্দেন সর্ব্বমেব নিত্যং কৰ্ম্ম উপলক্ষ্যতে; এবং কাম্যবজ্জিতং নিত্যং কৰ্ম্মজাতং সর্ব্বম্ আত্মজ্ঞানোৎপত্তিদ্বারেণ মোক্ষসাধনত্বং প্রতিপদ্যতে; এবং কর্মকাণ্ডেন অস্যৈকবাক্যতাবগতিঃ। এবং যথোক্তেন ন্যায়েনৈতমেব আত্মানং বিদিত্বা যথাপ্রকাশিতম্, মুনির্ভবতি—মননাৎ মুনিরোগী ভবতীত্যর্থঃ। এতমেব বিদিত্বা মুনির্ভবতি নান্যম্। ১০
ভবতু উপাত্তানাং বেদানুবচনাদীনামিষ্যমাণে জ্ঞানে বিনিয়োগন্তথাপি কথং সর্ব্বং নিত্যং কৰ্ম্ম তত্র বিনিযুক্তমিত্যাশঙ্ক্যাহ-বেদানুবচনেতি। উপলক্ষণফলমাহ-এবমিতি। প্রণাড্যা কম্মণো মুক্তিহেতুত্বে কাণ্ডদ্বয়স্যৈকবাক্যত্বমপি সিধ্যতীত্যাহ-এবং কৰ্ম্মেতি। বাক্যান্তরমবতায্য ব্যাকরোতি-এবমিতি। তদ্যৈবার্থমাহ-যথোক্তেনেতি। যজ্ঞাদ্যনুষ্ঠানাদ্বিশুদ্ধিদ্বারা বিবি- দিষোৎপত্তৌ গুরুপাদোপসর্পণং শ্রবণাদি চেত্যনেন ক্রমেণেত্যর্থঃ। যথাপ্রকাশিতং মোক্ষ- প্রকরণে মন্ত্রব্রাহ্মণাভ্যানুক্তলক্ষণমিত্যর্থঃ। যোগিশব্দো জীবন্মুক্তবিষয়ঃ। এবকারং ব্যাকরোতি- এতমেবেতি। ১০
ননু অন্যবেদনেহপি মুনিত্বং স্যাৎ; কথমবধার্য্যতে—এতমেবেতি। বাঢ়ম্, অন্য- বেদনেহপি মুনির্ভবেৎ, কিন্তু অন্যবেদনে ন মুনিরেব স্যাৎ, কিং তহি? কর্ম্ম্যপি ভবেৎ সঃ। এতং তু ঔপনিষদং পুরুষং বিদিত্বা মুনিরেব স্যাৎ, ন তু কর্মী; অতোহসাধারণং মুনিত্বং বিবক্ষিতমস্যেতি অবধারয়তি—এতমেবেতি। এতস্মিন্ হি বিদিতে, কেন কং পশ্যেদিত্যেবং ক্রিয়াৎসম্ভবাৎ ‘মননমের স্যাৎ। কিঞ্চ,
এতমেব আত্মানং স্বং লোকমিচ্ছন্তঃ প্রার্থয়ন্তঃ প্রব্রাজিনঃ প্রব্রজনশীলাঃ প্রব্রজন্তি প্রকর্ষেণ ব্রজন্তি-সর্ব্বাণি কর্ম্মাণি সন্ন্যস্যন্তীত্যর্থঃ। ১১
অবধারণমাক্ষিপ্য সমাধত্তে-নন্বিত্যাদিনা। এবকারস্তর্হি ত্যজ্যতামিত্যাশঙ্ক্যাহ-কিংত্বিতি। আত্মবেদনেহপি কর্ম্মিত্বং স্যাদিতি চেয়েত্যাহ-এতং ত্বিতি। কথমাত্মবিদোহপি মুনিত্বমসা- ধারণং, তদাহ-এতস্মিন্নিতি। ইতশ্চাত্মবিদো ন কর্ম্মিত্বমিত্যাহ-কিংচেতি। আত্মলোক- মিচ্ছতাং মুমুক্ষুণামপি কৰ্ম্মত্যাগশ্রবণাদাত্মবিদাং ন কর্ম্মিতেতি কিং বক্তব্যমিত্যর্থঃ। তাচ্ছীল্যং বৈরাগ্যাতিশয়শালিত্বম্। ১১
“এতমেব লোকমিচ্ছন্তঃ” ইত্যবধারণাৎ ন বাহ্যলোকত্রয়েসুনাং পারিব্রাজ্যেহ- ধিকার ইতি গম্যতে। ন হি গঙ্গাদ্বারং প্রতিপিৎসুঃ কাশীদেশনিবাসী পূর্ব্বাভিমুখঃ প্রৈতি; তস্মাদ্বাহ্যলোকত্রয়ার্থিনাং পুত্রকর্মাপরব্রহ্মবিদ্যাঃ সাধনম্, “পুত্রেণায়ং লোকো জয্যো নান্যেন কর্মণা” ইত্যাদিশ্রুতেঃ। অতস্তদর্থিভিঃ পুত্রাদি সাধনং প্রত্যাখ্যায় ন পারিব্রাজ্যৎ প্রতিপত্তুং যুক্তম্, অতৎসাধনত্বাৎ পারিব্রাজ্যস্য। তস্মাৎ “এতমেব লোকমিচ্ছন্তঃ প্রব্রজন্তি” ইতি যুক্তমবধারণম্। আত্মলোকপ্রাপ্তির্হি অবিদ্যানিবৃত্তৌ স্বাত্মন্যবস্থানমেব; তস্মাদাত্মানং চেৎ লোক- মিচ্ছতি যঃ, তস্য সর্ব্বক্রিয়োপরম এবাত্মলোকসাধনং মুখ্যমন্তরঙ্গম্, যথা পুত্রাদি- রেব বাহ্যলোকত্রয়স্য, পুত্রাদিকর্মণ আত্মলোকং প্রত্যসাধনত্বাৎ; অসম্ভবেন চ বিরুদ্ধত্বমবোচাম। ১২
অবধারণসামর্থ্যসিদ্ধমর্থমাহ-এতমেবেতি। পারিব্রাজ্যে লোকত্রয়ার্থিনামনধিকারে ষ্টান্তমাহ-ন হীতি। লোকত্রয়ার্থিনশ্চেৎ পারিব্রাজ্যে নাধিক্রিয়ন্তে, কুত্র তহি তেষামধি- কারস্তত্রাহ-তস্মাদিতি। স্বর্গকামস্য স্বর্গসাধনে যাগেহধিকারবল্লোকত্রয়ার্থিনামপি তৎসাধনে পুত্রাদাবধিকার ইত্যর্থঃ। পুত্রাদীনাং বাহ্যলোকসাধনত্বে প্রমাণমাহ-পুত্রেণেতি। পুত্রাদীনাং লোকত্রয়সাধনত্বে সিদ্ধে ফলিতমাহ-অত ইতি। অতৎসাধনত্বং লোকত্রয়ং প্রত্যনুপায়ত্বম্। অবধারণার্থমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। লোকত্রয়ার্থিনাং পরিব্রাজ্যেহনধিকারাদিতি যাবৎ। আত্মলোকস্য স্বরূপত্বেন সদাপ্তত্বাৎ কথং তত্রেচ্ছেত্যাশঙ্ক্যাহ-আত্মেতি। তস্যাত্মত্বেন নিত্যপ্রাপ্তত্বেহপ্যবিদ্যয়া ব্যবহিতত্বাৎ প্রেসা সংভবতীতি ভাবঃ।
ভবত্বাত্মলোকপ্রেপ্সা, তথাপি কিং তৎপ্রাপ্তিসাধনং, তদাহ-তন্মাদিতি। অবিদ্যাবশাৎ তদীপ্সাসংভবাদিত্যর্থঃ। তদিচ্ছায়া দৌর্লভ্যং দ্যোতয়িতুং চেচ্ছব্দঃ। মুখ্যত্বং শ্রুত্যক্ষরপ্রতি- পন্নত্বম্। প্রণাড়িকাসাধনেভ্যো বেদানুবচনাদিভ্যো বিশেষমাহ-অন্তরঙ্গমিতি। পারিব্রাজ্য- মেবাত্মলোকস্যান্তরঙ্গসাধনমিতি দৃষ্টান্তমাহ-যথেতি। তথা পারিব্রাজ্যমেবাত্মলোকস্য সাধন- মিতি শেষঃ। পারিব্রাজ্যমেবেতি নিয়মে হেতুমাহ-পুত্রাদীতি। তস্যাদ্যত্র বিনিযুক্তত্বাদিতি শেষঃ। যদ্যপি কেবলং পুত্রাদিরুং নাত্মলোকপ্রাপকং, তথাপি পারিব্রাজ্যসমুচ্চিতং তথা স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-অসংভবেনেতি। ন হি পরিব্রাজকস্য পুত্রাদি, তদ্বতো বা পারিব্রাজ্যং
সংভবতি। উক্তং চ সমুচ্চয়ং নিরাকুর্ব্বত্তিঃ সপরিকরস্য জ্ঞানস্য কর্ম্মাদিনা বিরুদ্ধত্বং, তেন কুতঃ সমুচ্চিতং পুত্রান্যাত্মলোকপ্রাপকমিত্যর্থঃ। ১২
তস্মাদাত্মানং লোকমিচ্ছন্তঃ প্রব্রজন্ত্যেব সর্ব্বক্রিয়াভ্যো নিবর্তেরস্নেবেত্যর্থঃ। যথা চ বাহ্যলোকত্রয়ার্থিনঃ প্রতিনিয়তানি পুত্রাদীনি সাধনানি বিহিতানি, এবমাত্মলোকার্থিনঃ সর্ব্বৈষণানিবৃত্তিং পারিব্রাজ্যং ব্রহ্মবিদো বিধীয়ত এব। ১৩
সাধনান্তরাসংভবে ফলিতমুপসংহরতি-তন্মাদাত্মানমিতি। প্রব্রজন্তীতি বর্তমানাপদেশান্নাত্র বিধিরস্তীত্যাশঙ্ক্যাগ্নিহোত্রং জুহোতীতিবদ্বিধিমাশ্রিত্যাহ-তথা চেতি। ১৩
কুতঃ পুনস্তে আত্মলোকার্থিনঃ প্রব্রজন্ত্যেবেত্যুচ্যতে; তত্রার্থবাদবাক্যরূপেণ হেতুং দর্শয়তি—এতৎ হ স্ম বৈ তৎ। তদেতৎ পারিব্রাজ্যে কারণমুচ্যতে—হ স্ম বৈ কিল, পূর্ব্বে অতিক্রান্তকালীনা বিদ্বাংসঃ আত্মজ্ঞাঃ প্রজাং কৰ্ম্ম অপরব্রহ্মবিদ্যাঞ্চ; প্রজোপলক্ষিতং হি ত্রয়মেতৎ বাহ্যলোকত্রয়সাধনং নিৰ্দ্দিশ্যতে—প্রজামিতি। প্রজাং কিম্? ন কাময়ন্তে, পুত্রাদিলোকত্রয়সাধনং নানুতিষ্ঠন্তীত্যর্থঃ। ১৪
পারিব্রাজ্যবিধিমুক্ত। তদপেক্ষিতমর্থবাদমাকাঙ্ক্ষাপূর্ব্বকমুখাপয়তি-কুতঃ পুনরিতি। উত্থাপিতস্যার্থবাদস্য তাৎপর্য্যমাহ-তত্রেতি। আত্মলোকার্থিনাং পারিব্রাজ্যনিয়মঃ সপ্তমার্থঃ। অর্থবাদস্থান্যক্ষরাণি ব্যাচষ্টে-তদেতদিতি। ক্রিয়াপদেন স্মেতি সংবধ্যতে। নিপাতদ্বয়স্যার্থমাহ -কিলেতি। প্রজাং ন কাময়ন্ত ইত্যুত্তরত্র সংবন্ধঃ। প্রজামাত্রে শ্রুতে কথং কৰ্ম্মাদি গৃহ্যতে, তত্রাহ -প্রজেতি। আকাঙ্ক্ষাপূর্ব্বকমন্বয়মম্বাচষ্টে-প্রজাং কিমিতি। অকাময়মানত্বস্য পর্যবসানং দর্শয়তি-পুত্রাদীতি। ১৪
ননু অপরব্রহ্মদর্শনমনুতিষ্ঠন্ত্যেব; তদ্বলাদ্ধি ব্যুত্থানম্; ন, অপবাদাৎ; “ব্রহ্ম তৎ পরাদাদ্যোহন্যত্রাত্মনো ব্রহ্ম বেদ”, ‘সর্ব্বং তং পরাদাৎ ইত্যপরব্রহ্মদর্শন- মপ্যপবদন্ত্যেব, অপরব্রহ্মণোহপি সর্ব্বমধ্যান্তর্ভাবাৎ; “যত্র নান্যৎ পশ্যতি” ইতি চ পূর্ব্বাপরবাহান্তরদর্শনপ্রতিষেধাচ্চ—“অপূর্ব্বমনপরমনন্তরমবাহ্যম্” ইতি, “তৎ কেন কং পশ্যেদ্বিজানীয়াৎ” ইতি চ। তস্মাৎ ন আত্মদর্শনব্যতিরেকেণ অন্যদ্বু খান- কারণমপেক্ষতে। ১৫
পূর্ব্বে বিদ্বাংসঃ সাধনত্রয়ং নানুতিষ্ঠন্তীত্যযুক্তমাক্ষিপতি-নন্বিতি। এষণাভ্যো ব্যুটিষ্ঠতাং কিং তদনুষ্ঠানেনেত্যাশঙ্ক্যাহ-তদ্বলান্ধীতি। আত্মবিদামপরবিদ্যানুষ্ঠানং দূষয়তি-নাপবাদাদিতি। অথাত্র সর্ব্বস্যানাত্মনো দর্শনমেবাপোদ্যতে, ন ত্বপরস্য ব্রহ্মণো দর্শনমত আহ-অপরব্রহ্মণোহপীতি। তদপবাদে শ্রুত্যন্তরমাহ-যত্রেতি। যস্মিন্ ভূয়ি স্থিতশ্চক্ষুরাদিভিরন্যৎ ন পশ্যতি ন শূণোভীত্যা- দিনা চ দর্শনাদিব্যবহারস্য বারিতত্বাদাত্মবিদো ন যুক্তমপরব্রহ্মদর্শনমিত্যর্থঃ। তত্রৈব হেত্বন্তরমাহ -পূর্ব্বেতি। প্রতিষেধপ্রকারমভিনয়তি-অপূর্ব্বমিতি। ইতশ্চাত্মবিদাং নাপরব্রহ্মদর্শনমিত্যাহ- তৎ কেনেতি। অপরব্রহ্মদর্শনাসংভবে কিং তেষামেষণাভ্যো ব্যুত্থানে কারণমিত্যাশঙ্ক্যাহ- তন্মাদিতি। ১৫
কঃ পুনস্তেষামভিপ্রায় ইত্যুচ্যতে—কিং প্রয়োজনং ফলং সাধ্যং করিষ্যামঃ প্রজয়া সাধনেন; প্রজা হি বাহ্যলোকত্রয়সাধনং নির্জ্ঞাতা; স চ বাহ্যো লোকো নাস্তি অস্মাকমাত্মব্যতিরিক্তঃ; সর্ব্বং হি অস্মাকমাত্মভূতমেব, সর্ব্বস্য চ বয়মাত্মভূতাঃ। আত্মা চ আত্মত্বাদেব ন কেনচিৎ সাধনেন উৎপাদ্য আপ্যো বিকার্য্যঃ সংস্কার্য্যো বা। ১৬
সাধনত্রয়মননুতিষ্ঠতামভিপ্রায়ং প্রশ্নপূর্ব্বকমাহ-কঃ পুনরিত্যাদিনা। কৈবল্যমেব তৎসাধ্যং ফলমিত্যাশঙ্ক্যাহ-প্রজা হীতি। নির্জ্ঞাতা সোহয়মিত্যাদিশ্রুতাবিতি শেষঃ। স এব তর্হি প্রজয়া সাধ্যতামিতি চেন্নেত্যাহ-স চেতি। আত্মব্যতিরিক্তো নাস্তীত্যুক্তমুপপাদয়তি-সর্ব্বং হীতি। আত্মব্যতিরিক্তস্যৈব লোকস্য প্রজাদিসাধ্যত্বমিষ্যতামিতি চেন্নেত্যাহ-আত্মা চেতি। ১৬
বদপি আত্মযাজিনঃ সংস্কারার্থং কর্ম্মেতি, তদপি কার্য্যকরণাত্মদর্শনবিষয়মেব, “ইদং মে অনেনাঙ্গং সংস্ক্রিয়তে”—ইত্যঙ্গাঙ্গিত্বাদিশ্রবণাৎ; ন হি বিজ্ঞানঘনৈক- রসনৈরন্তর্য্যদর্শিনঃ অঙ্গাঙ্গিসংস্কারোপধানদর্শনং সম্ভবতি; তস্মান্ন কিঞ্চিৎ প্রজাদি- সাধনৈঃ করিষ্যামঃ; অবিদুষাং হি তৎ প্রজাদিসাধনৈঃ কর্তব্যৎ ফলম্; ন হি মৃগতৃষ্ণিকায়ামুদকপানায় তদুদকদর্শী প্রবৃত্তঃ—ইতি তত্রোষরমাত্রমুদকাভাবং পশ্যতোহপি প্রবৃত্তিযুক্তা। এবমম্মাকমপি পরমার্থাত্মলোকদর্শিনাং প্রজাদিসাধন- সাধ্যে মৃগতৃষ্ণিকাদিসমে অবিদ্বদ্দর্শনবিষয়ে ন প্রবৃত্তিযুক্তেত্যভিপ্রায়ঃ। ১৭।
আত্মযাজিনঃ সংস্কারার্থং কর্ম্মেত্যঙ্গীকারাদাত্মনোহস্তি সংস্কার্যত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-যদপীতি। অথাঙ্গাঙ্গিত্বং সংস্কার্যত্বং চ মুখ্যাত্মদর্শনবিষয়মেব কিং নেষ্যতে, তত্রাহ-ন হীতি। আত্মবিদাং প্রজাদিসাধ্যাভাবমুপসংহরতি-তস্মান্নেতি। কেষাং তর্হি প্রজাদিভিঃ সাধ্যং ফলং, তদাহ- অবিদুষাং হীতি। কেষাংচিৎ পুত্রাদিষু প্রবৃত্তিশ্চেত্তেনৈব ন্যায়েন বিদুষামপি তেষু প্রবৃত্তিঃ স্যাদিত্যা- শঙ্ক্যাহ-ন হীতি। তত্র প্রবৃত্তিরিতি সংবন্ধঃ। অবিদ্বদ্দর্শনবিষয় ইতি চ্ছেদঃ। ১৭
তদেতদুচ্যতে—যেষামস্মাকং পরমার্থদর্শিনাং নঃ, অয়মাত্মা অশনায়াদিবিনির্মুক্তঃ সাধ্বসাধুভ্যামবিকার্য্যঃ অয়ং লোকঃ ফলমভিপ্রেতম্। ন চাস্যাত্মনঃ সাধ্যসাধনাদি- সর্ব্বসংসারধর্মবিনির্ম্মুক্তস্য সাধনং কিঞ্চিদেষিতব্যম্; সাধ্যস্য হি সাধনান্বেষণা ক্রিয়তে, অসাধ্যস্য সাধনান্বেষণায়াম্ জলবুদ্ধ্যা স্থল ইব তরণং কৃতং স্যাৎ, খে বা শাকুনপদান্বেষণম্। ১৮
উত্তেহর্থে বাক্যমবতার্য্য ব্যাচষ্টে-তদেতদিতি। আত্মা চেত্তদভিপ্রেতঃ ফলং, তহি তত্র সাধনেন ভবিতব্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। ক তহি সাধনমেষ্টব্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ-সাধ্যস্যেতি। বিপক্ষে দোষমাহ--অসাধ্যস্যেতি। ১৮
তস্মাৎ এতমাত্মানং বিদিত্বা প্রব্রজেয়ুরেব ব্রাহ্মণাঃ, ন কর্ম্মারভেরন্নিত্যর্থঃ। যস্মাৎ পূর্ব্বে এব ব্রাহ্মণা এবং বিদ্বাংসঃ প্রজামকাময়মানাঃ, তে এবং সাধ্যসাধন-
১২৮১
সংব্যবহারং নিন্দন্তঃ অবিদ্বদ্বিষয়োহয়মিতি কৃত্বা, কিং কৃতবন্ত ইত্যুচ্যতে-তে হ স্ম কিল পুত্রৈষণায়াশ্চ বিত্তৈষণায়াশ লোকৈষণায়াশ ব্যুত্থায় অথ ভিক্ষাচর্য্যং চরন্তীত্যাদি ব্যাখ্যাতম্। তম্মাদাত্মানং লোকমিচ্ছন্তঃ প্রব্রজন্তি-প্রব্রজেয়ুরিত্যেয বিধিরর্থবাদেন সঙ্গচ্ছতে; ন হি সার্থবাদস্যাস্য লোকস্তুত্যা আভিমুখ্যমুপপদ্যতে; প্রব্রজন্তীত্যস্যার্থবাদরূপো হি এতদ্ধ স্ম ইত্যাদিরুত্তরো গ্রন্থঃ। অর্থবাদশ্চেৎ, ন অর্থবাদান্তরমপেক্ষেত; অপেক্ষতে তু ‘এতদ্ধ স্ম’ ইত্যাদ্যর্থবাদং ‘প্রব্রজন্তি’ ইত্যেতৎ। ১৯
যেষামিত্যাদিবাক্যার্থমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। ব্রাহ্মণানাং ব্রহ্মবিদাং প্রজাদিভিঃ সাধ্যা- ভাবাদিতি যাবৎ। বাক্যান্তরং প্রশ্নদ্বারেণাবতায্য পাঞ্চমিকং ব্যাখ্যানং তস্য স্মারয়তি-ত এবমিত্যাদিনা। যদর্থোহয়মর্থবাদস্তং বিধিং নিগময়তি-তস্মাদিতি। মহানুভাবোইয়মাত্মলোকো যত্তদর্থিনো দুষ্করমপি পারিব্রাজ্যং কুর্ব্বন্তীতি স্তুতিরত্র বিবক্ষিতা, ন বিধিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন হীতি। তদেব প্রপঞ্চয়তি-প্রব্রজন্তীত্যস্যেতি। তথাপি প্রব্রজন্তীতিবাক্যস্যার্থবাদত্বং কিং ন স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ - অর্থবাদশ্চেদিতি। ১৯
যস্মাৎ পূর্ব্বে বিদ্বাংসঃ প্রজাদিকৰ্ম্মভ্যো নিবৃত্তাঃ প্রব্রজিতবন্ত এব, তস্মাদ- অধুনাতনা অপি প্রব্রজন্তি প্রব্রজেয়ুঃ—ইত্যেবং সম্বধ্যমানং ন লোকস্তুত্যভিমুখং ভবিতুমহতি; বিজ্ঞানসমানকর্তৃকত্বোপদেশাদিত্যাদিনা অবোচাম। বেদানু- বচনাদিসহপাঠাচ্চ; যথা আত্মবেদনসাধনত্বেন বিহিতানাং বেদানুবচনাদীনাং যথার্থত্বমেব, নার্থবাদত্বম্, তথা তৈরেব সহ পঠিতস্য পারিব্রাজ্যস্যাত্মলোকপ্রাপ্তি- সাধনত্বেন অর্থবাদত্বমযুক্তম্। ফলবিভাগোপদেশাচ্চ; “এতমেবাত্মানং লোকং বিদিত্বা” ইতি অন্যম্মাদ্বাহ্যাৎ লোকাদাত্মানং ফলান্তরত্বেন প্রবিভজতি, যথা— পুত্রেণৈবায়ং লোকো জয্যঃ, নান্যেন কৰ্ম্মণা, কৰ্ম্মণা পিতৃলোক ইতি। ন চ প্রব্রজন্তীত্যেতৎ প্রাপ্তবৎ লোকস্তুতিপরম্, প্রধানবচ্চার্থবাদাপেক্ষম্, সকৃৎশ্রুতং স্যাৎ। তস্মাদ ভ্রান্তিরেবৈষা—লোকস্তুতিপরমিতি। ২০
অপেক্ষাপ্রকারমেব প্রকটয়ন্নস্য স্তুত্যভিমুখত্বাভাবাদ্বিধিত্বমেবেত্যাহ-যম্মাদিতি। কিঞ্চ বিদিত্বা ব্যুত্থায় ভিক্ষাচর্য্যং চরন্তীত্যত্র বিজ্ঞানেন সমানকর্তৃকত্বং ব্যুত্থানাদেরুপদিশ্যতে, বিজ্ঞানং চ সর্ব্বা- সুপনিষৎসু বিধীয়তেহতো ব্যুত্থানমপি বিধিমর্হতীত্যুক্তং, তথা চাত্রাপি ব্যুত্থানাপরপর্যায়ং পারি- ব্রাজ্যং বিধেয়মিত্যাহ-বিজ্ঞানেতি। ইতশ্চ পারিব্রাজ্যবাক্যমর্থবাদো ন ভবতীত্যাহ-বেদেতি। তদেব সাধয়তি-যথেত্যাদিনা। পারিব্রাজ্যস্থ্য বিধেয়ত্বে হেত্বন্তরমাহ-ফলেতি। পুত্রাদিফলা- পেক্ষয়া পারিব্রাজ্যফলং বিভাগেনোপদিশ্যতে, তথাচ ফলবত্ত্বাৎ পারিব্রাজ্যস্য বিধেয়ত্বসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। তদেব বিবৃণোতি-এতমেবেতি। প্রকৃতমাত্মানং স্বং লোকমাপাততো বিদিত্বা তমেব সাক্ষাৎকর্তুমিচ্ছন্তঃ প্রব্রজন্তীতি বচনাৎ পুত্রাদিসাধ্যান্মনুষ্যাদিলোকাদাত্মাখ্যং লোকং
পারিব্রাজ্যস্থ্য ফলান্তরত্বেন যতঃ শ্রুতিবিভজ্যাভিদধাতি, অতস্তস্য বিধেয়ত্বমপ্রত্যুহমিত্যর্থঃ ফলবিভাগোপদেশে দৃষ্টান্তমাহ-যথেতি। তথা পারিব্রাজ্যেহপি ফলবিভাগোক্তেঃ বিধেয়তেতি দাষ্টান্তিকমিতিশব্দার্থঃ। পারিব্রাজ্যস্য স্তুতিপরত্বাভাবে হেত্বন্তরমাহ-ন চেতি। যথা বায়ুর্ব্বে ক্ষেপিষ্ঠেত্যাদিরর্থবাদঃ প্রাপ্তার্থঃ দেবতাদিস্তুত্যর্থঃ স্থিতো ন তথেদং স্তুতিপরং, তদবদ্যোতিশব্দাভাবাদিত্যর্থঃ। কিঞ্চ প্রধানস্য দর্শপূর্ণমাসাদেরর্থবাদাপেক্ষাবৎ পারিব্রাজ্যমপি তদপেক্ষমুপলভ্যতে, তেন তস্য দর্শাদিবদ্বিধেয়ত্বং দুর্ব্বারমিত্যাহ-প্রধানবচ্চেতি। কিঞ্চ পারিব্রাজ্যং সকৃদেব শ্রুতং চেদবিবক্ষিতমন্যস্তুতিপরং স্যান্ন চেদং সকৃদেব ক্রয়তে, প্রব্রজন্তীত্যুপ- ক্রম্য প্রজাং ন কাময়ন্তে ব্যুখায়াথ ভিক্ষাচর্য্যং চরন্তীত্যভ্যাসাদতোহপি ন স্তুতিমাত্র- মেতদিত্যাহ-সকৃদিতি। ন চেত্তত্রাপি সংবধ্যতে, কথং তর্হি পারিব্রাজ্যস্য স্তুতিপরত্ব- প্রভীতিস্তত্রাহ-তস্মাদিতি। ২০
ন চানুষ্ঠেয়েন পারিব্রাজ্যেন স্তুতিরুপপদ্যতে; যদি পারিব্রাজ্যমনুষ্ঠেয়মপি সদ্ অন্যস্তত্যর্থং স্যাৎ, দর্শপূর্ণমাসাদীনামপ্যনুষ্ঠেয়ানাং স্তুত্যর্থতা স্যাৎ, ন চান্যত্র কর্তব্যতা এতস্মাদ্বিষয়ান্নিজ্ঞাতা, যত ইহ স্তুত্যর্থো ভবেৎ। যদি পুনঃ ক্বচিৎ বিধিঃ পরিকল্প্যেত পারিব্রাজ্যস্য, স ইহৈব মুখ্যঃ, নান্যত্র সম্ভবতি। যদপি অনধিকৃতবিষয়ে পারিব্রাজ্যং পরিকল্প্যতে, তত্র বৃক্ষাদ্যারোহণাদ্যপি পারিব্রাজ্যবৎ কল্প্যেত, কর্তব্যত্বেন অনিজ্ঞাতত্বাবিশেষাৎ। তস্মাৎ স্তুতিত্বগন্ধোহপ্যত্র ন শক্যঃ কল্পয়িতুম্। ২১
অস্ত তর্হি বিধেয়মপি পারিব্রাজ্যং স্তাবকমপীতি চেন্নেত্যাহ-ন চেতি বিপক্ষে দোষমাহ- যদীতি। অথ পারিব্রাজ্যং যজ্ঞাদিবদন্যত্র বিধীয়তামিহ তু স্তুতিরেবেত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চান্যত্রেতি। আত্মজ্ঞানাধিকারাদন্যত্র পারিব্রাজ্যবিধ্যনুপলন্তাদিত্যর্থঃ। অন্যত্র বিধ্যনুপলন্তং সমর্থয়তে- যদীত্যাদিনা। অন্যত্র প্রক্রিয়ায়ামিতি যাবৎ। কর্মাধিকারে তত্যাগবিধেরিরুদ্ধত্বাদিতি ভাবঃ। ভবত্বিহ পারিব্রাজ্যে বিধিস্তথাপি সর্ব্বকৰ্ম্মানধিকৃতবিষয়ঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-যদপীতি। তত্র কর্মানধিকৃতে পুংসীত্যেতৎ। তত্র হেতুমাহ-কর্তব্যত্বেনেতি। কৰ্ম্মানধিকৃতেন কর্তব্যতয়া জ্ঞাতত্বং বৃক্ষারোহণাদাবিৰ পারিব্রাজ্যেহপি নাস্তি, তথা চানধিকৃতবিষয়ে পারিব্রাজ্যং কল্যতে চেত্তস্মিন্ বিষয়ে বৃক্ষারোহণাদ্যপি কল্যেতাবিশেযাদিত্যর্থঃ। পারিব্রাজ্যস্যাধিকৃতবিষয়ত্বে বিধেয়ত্বে চ সিদ্ধে ফলিতমাহ-তন্মাদিতি। ২১
যদি অয়মাত্মা লোক ইষ্যতে, কিমর্থং তৎপ্রাপ্তিসাধনত্বেন কর্মাণ্যেব ন আরভেরন্, কিং পারিব্রাজ্যেন ইতি; অত্রোচ্যতে—অস্য আত্মলোকস্য কৰ্ম্মভি- রসম্বন্ধাৎ; যমাত্মানমিচ্ছন্তঃ প্রব্রজেয়ুঃ, স আত্মা সাধনত্বেন ফলত্বেন চ উৎপাদ্য- ত্বাদিপ্রকারাণামন্যতমত্বেনাপি কৰ্ম্মভিন সম্বধ্যতে; তস্মাৎ ‘স এষ নেতি নেত্যাত্মাহগৃহ্যো ন হি গৃহ্যতে’ ইত্যাদিলক্ষণঃ, যস্মাৎ এবংলক্ষণ আত্মা কৰ্ম্মফল- সাধনাসম্বন্ধী সর্ব্বসংসারধৰ্ম্মবিলক্ষণঃ অশনায়াদ্যতীতঃ অস্থুলাদিধৰ্ম্মবান্ অজো-
১২৮৩
হজরোহমরোহমৃতোহভয়ঃ সৈন্ধবঘনবৎ বিজ্ঞানৈকরসম্বভাবঃ স্বয়ংজ্যোতিরেক এবাদ্বয়োহপূর্ব্বোহনপরোহনন্তরোহবাহ্যঃ-ইত্যেতদ্ আগমতস্তর্কতশ্চ স্থাপিতম্, বিশেষতশ্চেহ জনকযাজ্ঞবল্ক্য-সংবাদেহস্মিন্; তস্মাদেবলক্ষণে আত্মনি বিহিতে আত্মত্বেন, নৈব কর্মারম্ভ উপপদ্যতে। তম্মাদাত্মা নির্বিশেষঃ। ২২
সার্থবাদং পারিব্রাজ্যং ব্যাখ্যায় স এষ ইত্যাদি ব্যাকর্তুং শঙ্কয়তি-যদীভি। পরিহরতি- অত্রেতি। তদর্থিনো নারভন্তে কর্মাণীতি শেষঃ। কর্মভিরসংবন্ধমাত্মলোকস্য সাধয়তি- যমাত্মানমিতি। কর্মাসংবন্ধে নিষ্প্রপঞ্চত্বং ফলতীত্যাহ-তস্মাদিতি। ২২
ন হি চক্ষুষ্মান্ পথি প্রবৃত্তঃ অহনি কূপে কণ্টকে বা পততি; কৃৎস্নস্য চ কর্ম্মফলস্য বিদ্যাফলে অন্তর্ভাবাৎ। ন চাষত্নপ্রাপ্যে বস্তুনি বিদ্বান্ যত্ন- মাতিষ্ঠতি।
“যাক তেনামুং বিসর্জ্জয়ন্তি কিমর্থং পর্ব্বতং ব্রজেৎ।
ইষ্টার্থস্য সখাচ্ছ্বো কো বিবাদং যত্রাপ্যপঃ ॥”
“সর্ব্বং কৰ্ম্মাখিলং পার্থ জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে।” ইতি গীতাসু। ইহাপি চ এতস্যৈব পরমানন্দস্য ব্রহ্মবিৎ-প্রাপ্যস্য অন্যানি ভূতানি মাত্রামুপ- জীবন্তীত্যুক্তম্। অতো ব্রহ্মবিদাং ন কর্ম্মারম্ভঃ। ২৩
আত্মনো নিষ্প্রপঞ্চত্বেহপি কথং তদর্থিনাং পারিব্রাজ্যসিদ্ধিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-যম্মাদিতি। নির্বিশেষস্তত্র তত্র বাক্যে দর্শিতস্বরূপোহরমাত্মেত্যেবদাগমোপপত্তিভ্যাং যথা পূর্ব্বত্র স্থাপিতং, তথৈবাত্রাপি ব্রাহ্মণদ্বয়ে বিশেষতো যস্মান্নির্ধারিতং, তস্মাদস্মিন্নাত্মন্যাপাততো জ্ঞাতে কর্মানুষ্ঠানমিত্যত্র দৃষ্টান্তমাহ-ন হীতি। ব্রহ্মজ্ঞানফলে সর্ব্বকৰ্ম্মফলান্তর্ভাবাচ্চ তদর্থিনো মুমুক্ষোর্ন কর্তব্যং কৰ্ম্মেত্যাহ-কৃৎস্নস্যেতি। তথাপি বিচিত্রফলানি কর্মাণীতি বিবেকী কুতূহলবশাদনুষ্ঠাস্যতীত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। তত্র লৌকিকং ন্যায়ং দর্শয়তি-অকে চেদিতি। পুরোদেশে মধু লভেত চেদিতি যাবৎ। জ্ঞানফলে কৰ্ম্মফলান্তর্ভাবে মানমাহ-সর্ব্বমিতি। অখিলং সমগ্রাঙ্গোপেতমিত্যর্থঃ। তত্রৈব শ্রুতিং সংবাদয়তি-ইহাপীতি। নিষেধবাক্য- তাৎপর্য্যমুপসংহরতি-অত ইতি। ২৩
যস্মাৎ সর্ব্বৈষণাবিনিবৃত্তঃ স এষ নেতি নেত্যাত্মানম্ আত্মত্বেনোপগম্য তদ্রূপেণৈব বর্ততে, তস্মাৎ এতমেবংবিদং নেতি নেত্যাত্মভূতম্, উ হ এব এতে বক্ষ্যমাণে ন তরতঃ ন প্রাপ্নুতঃ-ইতি যুক্তমেবেতি বাক্যশেষঃ। কে তে, ইত্যুচ্যতে-অতঃ অস্মান্নিমিত্তাৎ শরীরধারণাদিহেতোঃ, পাপম্ অপুণ্যং কৰ্ম্ম অকরবং কৃতবানস্মি-কষ্টং খলু মম বৃত্তম্, অনেন পাপেন কৰ্মণা অহং নরকং প্রতিপৎস্যে-ইতি যোহয়ং পশ্চাৎ পাপং কৰ্ম্ম কৃতবতঃ পরিতাপঃ, স এনং- নেতি নেত্যাত্মভূতং ন তরতি; তথা অতঃ কল্যাণং ফলবিষয়কামানিমিত্তাদ
যজ্ঞদানাদিলক্ষণং পুণ্যং শোভনং কৰ্ম্ম কৃতবানস্মি, অতোহহমন্য ফলং সুখমুপ- ভোক্ষ্যে দেহান্তরে—ইত্যেযোহপি হর্ষঃ তং ন তরতি। উভে উ হ এব এষ ব্রহ্মবিৎ এতে কর্মণী তরতি পুণ্যপাপলক্ষণে। ২৪
এতমিত্যাদি বাক্যং যোজয়তি-যম্মাদিতি। উ হেতি নিপাতাভ্যাং সূচিতোহর্থো যম্মাদিত্যনুভাবিতঃ। ইতিশব্দস্যাপেক্ষিতং পূরয়তি-যুক্তমিতি। আকাঙ্ক্ষাপূর্ব্বকমুত্তর- বাক্যমবতার্য্য ব্যাকরোতি-কে তে ইত্যাদিনা। যথোক্তাত্মবিদস্তাপহর্ষাসম্পর্শে-হেতুমাহ- উভে ইতি। ২৪
এবং ব্রহ্মবিদঃ সন্ন্যাসিন উভে অপি কৰ্ম্মণী ক্ষীয়েতে—পূর্ব্বজন্মনি কৃতে যে, তে, ইহ জন্মনি কৃতে যে, তে চ অপূর্ব্বে চ নারভ্যেতে। কিঞ্চ, নৈনং কৃতা- কৃতে—কৃতং নিত্যানুষ্ঠানম্, অকৃতং তস্যৈবাক্রিয়া, তে অপি কৃতাকৃতে এনং ন তপতঃ; অনাত্মজ্ঞং হি কৃতং ফলদানেন, অকৃতং প্রত্যবায়োৎপাদনেন তপতঃ; অয়ন্তু ব্রহ্মবিৎ আত্মবিদ্যাগ্নিনা সর্ব্বাণি কর্ম্মাণি ভস্মীকরোতি,
“যতোঽপি গমিষ্যতি ধিক্ কুশলং কুরুতেহর্জ্জুন।
জ্ঞানার্থিঃ সর্ব্বকর্ম্মাণি ভস্মাৎ কুরুতে তথা॥” ইত্যাদিভূতে।
শরীরারম্ভকয়োস্তু উপভোগেনৈব ক্ষয়ঃ; অতো ব্রহ্মবিদ্ অকর্ম্ম- সম্বন্ধী ॥ ৩১২ ॥ ২২ ॥
পুণ্যপাপে তরতীত্যুক্তে পৃথগবস্থানং তয়োঃ শক্যতে, তন্নিরস্তুতি-এবমিতি। নিষেধ- বাক্যোক্তক্রমেণেতি যাবৎ। ইতশ্চাত্মবিদো ধৰ্ম্মাদিসংবন্ধো নাস্তীত্যাহ-কিঞ্চেতি। তদেবানন্তরবাক্যব্যাখ্যানেন ক্ষোরয়তি-নৈর্নমিতি। তয়োস্তর্হি কুত্র তাপকত্বং, তদাহ- অনাত্মজ্ঞং হীতি। পুরুষত্বাদ্ ব্রহ্মবিদুষ্যপি কৃতাকৃতয়োস্তাপকত্বং স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-অয়ং ত্বিতি। অত্র ভগবদ্বাক্যং প্রমাণয়তি-যথেতি। যদ্যপি পূর্ব্বোত্তরয়োর্দ্ধর্ময়োরনারব্ধয়োরাত্মবিদ্যাবশা- দ্বিনাশাশ্লেষৌ, তথাপি প্রারব্ধয়োরস্তি তয়োস্তাপকত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-শরীরেতি। প্রকৃতং বিদ্যাফলমুপসংহরতি-অত ইতি। কৰ্ম্মকাৰ্য্যাসংবন্ধাদিতি যাবৎ ॥ ৩১২ ॥ ২২॥
ভাষ্যানুবাদ?—ইতঃ পূর্ব্বে মন্ত্র ও ব্রাহ্মণবাক্যে বন্ধ, মোক্ষ ও তদুভয়ের হেতু কথিত হইয়াছে; তাহার পর শ্লোকাকার বাক্যেও মোক্ষের স্বরূপ বিস্তৃত- ভাবে বর্ণিত হইয়াছে। অতঃপর, সমস্ত বেদশাস্ত্রই এই আত্মবিষয়ে যেরূপে উপযুক্ত বা অনুকূল হইতে পারে, এখন সেইরূপেই তাহা বলা আবশ্যক; এই উদ্দেশ্যে পরবর্তী কণ্ডিকা(শ্রুতি) আরব্ধ হইতেছে। এই প্রপাঠকে (অধ্যায়ে) উক্ত আত্মজ্ঞান ও তাহার ফল যে প্রকার অভিহিত হইয়াছে, ঠিক তাহারই তদনুরূপ অনুবাদ বা পুনরুল্লেখ করা হইতেছে মাত্র। কাম্য কর্ম্ম- প্রতিপাদক বেদরাশি ভিন্ন সমস্ত বেদেরই যে, এই আত্মবিষয়ে উপযোগিতা বা
তাৎপর্য্য, তাহা বুঝাইবার নিমিত্ত পূর্ব্বোক্ত ‘স বা এষঃ’ ইত্যাদি বাক্যের এখানে অনুবাদ করা হইতেছে। ‘সঃ’ শব্দটী পূর্ব্বকথিত বিষয়ের পরামর্শদ্যোতক; ‘সঃ’ শব্দে পূর্ব্বোক্ত কোন বিষয়ের পরামর্শ করা হইতেছে? তাহা বুঝাইবার জন্য ‘য এষ বিজ্ঞানময়ঃ’ বলিয়া সেই পূর্ব্বোক্ত আত্মারই পুনরুল্লেখ করা হইতেছে। পাছে অব্যবহিত পূর্ব্ববর্তী ‘য এষ বিরজঃ’ ইত্যাদি বাক্যোক্ত বিষয়ের সহিত সম্বন্ধ-শঙ্কা হয়, তন্নিরাকরণার্থ বলিলেন-‘য এষঃ’। ‘এষঃ’ পদের অর্থ-কি, তাহা বুঝাইবার জন্য বলিতেছেন-‘বিজ্ঞানময়ঃ প্রাণেষু’(প্রাণের মধ্যে যিনি বিজ্ঞানময়)। এখানকার ‘য এষঃ’ কথায় পূর্ব্বোক্ত আত্মার গ্রহণ, কিংবা অপর কোনও আত্মার গ্রহণ, সেই আশঙ্কা অপনয়নের নিমিত্ত এখানে কথিতের পুনরুল্লেখ করা(‘বিজ্ঞানময়ঃ’ বলা) আবশ্যক হইয়াছে। জনক মহারাজ যাজ্ঞবল্ক্যের নিকট যখন প্রশ্ন করেন, তখন প্রথমেই উক্ত হইয়াছে যে, আত্মা কোন্টি? না, প্রাণের(ইন্দ্রিয়বর্গের) মধ্যে এই যাহা বিজ্ঞানময় ইত্যাদি। ১
অভিপ্রায় এই যে, ‘বিজ্ঞানময়ঃ প্রাণেষু’ ইত্যাদি বাক্যে স্বয়ংজ্যোতিস্বরূপ যে আত্মা প্রতিপাদিত হইয়াছে, এখানে কাম, কর্ম ও অবিদ্যার অনাত্মধৰ্ম্মত্ব প্রতিপাদন দ্বারা, তাহাকেই মোক্ষপদে উন্নীত-পরমাত্মস্বভাবসম্পন্ন করান হইয়াছে; সুতরাং এই আত্মা বস্তুতঃ পরমাত্মাই বটে, তাহা হইতে ভিন্ন অন্য কিছু নহে। ‘এষ সঃ’ কথায় সেই মহান্ অজ আত্মারই নির্দেশ করা হইয়াছে। এখানকার ‘যোহয়ং বিজ্ঞানময়ঃ প্রাণেষু’ কথার ব্যাখ্যা[পূর্ব্বে জনকের প্রশ্না- বসরে] যেরূপ করা হইয়াছে, এখানেও ঠিক সেইরূপ ব্যাখ্যাই বুঝিতে হইবে। এই যে, অন্তঃকরণে-হৃৎপদ্মের মধ্যে বিদ্যমান আকাশ-যাহাকে আশ্রয় করিয়া বুদ্ধিবিজ্ঞান বা বুদ্ধিবৃত্তি প্রকাশ পাইয়া থাকে, এবং যাহা বুদ্ধিবৃত্তি সহকারে সেই আকাশে অবস্থান করে; অথবা সুযুপ্তিসময়ে হৃদয়াভ্যন্তরস্থ এই যে আকাশ -বিজ্ঞানময় আত্মার(জীবের প্রকৃতস্বরূপ) পরমাত্মা, যাহা জীবের স্বাভাবিক রূপ, সেই আকাশনামক পরমাত্মাতে শয়ন করে(অবস্থান করে)। অতীত চতুর্থ শ্রুতিতে “ক এব তদাভূৎ”(এই বিজ্ঞানময় আত্মা তখন কোথায় ছিল?) এই প্রশ্নের উত্তর স্থলে এই বিষয় ব্যাখ্যাত হইয়াছে। ২
সেই পূর্ব্বকথিত আত্মাই ব্রহ্ম ও ইন্দ্র প্রভৃতি সকলের বশী, অর্থাৎ তাহারা সকলে ইহার বশে থাকে। পূর্ব্বে ‘এই অক্ষর ব্রহ্মের শাসনে[ সূর্য্য ও চন্দ্র প্রভৃতি নিয়মিত আছে], ইত্যাদি স্থলে এ কথা উক্ত হইয়াছে। তিনি কেবল
যে বশী, তাহা নহে, পরন্তু সকলের—ব্রহ্মা ও ইন্দ্র প্রভৃতিরও ঈশান—শাসনকর্তা বা ঈশ্বর। শাসনক্ষমতা কখন কখন জন্মগতও হইয়া থাকে, যেমন বলশালী ভৃত্যবর্গের উপরেও শিশু রাজকুমারের প্রভুত্ব, সেরূপ মনে না হউক, এইজন্য বলিতেছেন, তিনি সকলের অধিপতি—অধিষ্ঠানপূর্ব্বক শাসনকর্তা অর্থাৎ স্বতন্ত্র বা স্বাধীন, কিন্তু রাজকুমারের ন্যায় মন্ত্রিপ্রভৃতি ভৃত্যবর্গের সাহায্য গ্রহণ করেন না। উক্ত তিনটী ধর্মই পরস্পর হেতু-হেতুমদ্ভাবাপন্ন—যেহেতু তিনি সকলের অধিপতি, সেই হেতু তিনি সকলের ঈশান(শাসনকর্তা), যিনি সাক্ষাৎসম্বন্ধে যাহাকে পালন করেন, তিনি যে, তাহার প্রভু বা ঈশ্বর, ইহা লোকপ্রসিদ্ধও বটে; এইরূপ যেহেতু তিনি সকলের ঈশান, সেই হেতুই তিনি সকলকে বশীভূত রাখেন। ৩
আরও এক কথা, হৃদয়-মধ্যবর্তী এবংবিধ গুণসম্পন্ন সেই স্বস্বরূপ বিজ্ঞানময় পুরুষ শাস্ত্রবিহিত উত্তম কৰ্ম্ম দ্বারা বড় হন না—পূর্ব্বাবস্থা অপেক্ষা কোন গুণে বৃদ্ধি পান না, এবং শাস্ত্রনিষিদ্ধ কোন অপকৰ্ম্ম দ্বারাও অধিক ছোট হন না— নিজের পূর্ব্বাবস্থা অপেক্ষা কিছুমাত্র হীন হন না। অপিচ,[শঙ্কা হইতে পারে যে,] অধিষ্ঠান বা পরিচালনা ও পালনাদি কৰ্ম্ম করিতে যাইয়া সকল লোকই পরের প্রতি অনুগ্রহ বা নিগ্রহ(পীড়ন) করিয়া থাকে, এবং তাহার দরণ ধৰ্ম্ম ও অধর্ম্ম দ্বারা সংস্পৃষ্ট হইয়া থাকে, কিন্তু এই পরমাত্মার তাহা হয় না; হয় না কেন? তদুত্তরে বলা হইতেছে—যেহেতু এই পরমেশ্বর সকলেরই ঈশ্বর; সর্ব্বেশ্বর বলিয়া কর্ম্মকেও শাসনে রাখিতে সমর্থ হন,—এবং যেহেতু ইহাই তাঁহার স্বভাব, সেই হেতু কৰ্ম্ম দ্বারাও সম্বদ্ধ হন না। বিশেষতঃ তিনি ভূতাধিপতি অর্থাৎ ব্রহ্মা হইতে আরম্ভ করিয়া তৃণগুচ্ছ পর্য্যন্ত বস্তুমাত্রেরই অধিপতি; এ কথার ব্যাখ্যা পূর্ব্বেই উক্ত হইয়াছে। ৪
তিনি যাহাদের অধিপতি, তিনি সেই সমস্ত ভূতবর্গেরই পালক-রক্ষক। ইনিই সেতু(বাঁধ), কিরূপ সেতু, তাহা বলিতেছেন-‘বিধরণ’ অর্থাৎ বর্ণা- শ্রমাদি-ব্যবস্থার বিশেষরূপে ধারণকর্তা-রক্ষাকর্তা। এই কথারই অর্থ বিশেষ করিয়া বলিতেছেন-এই যে, পৃথিবী হইতে আরম্ভ করিয়া ব্রহ্মলোক পর্য্যন্ত লোকসমূহ, সে সমস্ত লোকের অসম্ভেদের জন্য-সনাতন নিয়মপদ্ধতি যাহাতে বিনষ্ট না হয়, তাহার জন্য[তিনি সেতুরূপে রহিয়াছেন]; পরমেশ্বর যদি সেতুর ন্যায় মধ্যবর্তী থাকিয়া ধারণ না করিতেন, তাহা হইলে জগতের সমস্ত নিয়ম বা স্বাভাবিক ধর্মগুলি ভাঙ্গিয়া যাইত;[যাহাতে তাহা না হইতে পারে,] সেই
১২৮৭
জন্য এই পরমেশ্বরই সেতুরূপে অবস্থান করিতেছেন। এই যে, সেতুভূত পরমেশ্বর ইনিই সেই স্বয়ংজ্যোতিঃ আত্মা। এতদ্বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন আত্মার বশিত্বাদি যে সমুদয় ধৰ্ম্ম নিদ্দিষ্ট হইল, তাহাই এই ব্রহ্মবিদ্যার ফল। ৫
এই গ্রন্থের ষষ্ঠ প্রপাঠকে(ষষ্ঠ অধ্যায়ে) “কিংজ্যোতিরয়ং পুরুষঃ” ইত্যাদি বাক্যে এই ব্রহ্মবিদ্যাই কথিত হইয়াছে। ইহারও যেরূপ ফল, তাহারও ঠিক সেইরূপই ফল অভিহিত হইয়াছে। এখানে কেবল সেই ব্রহ্মবিদ্যাতেই যে, সমস্ত কর্মকাণ্ডের বিনিয়োগ বা উপযোগিতা, তাহা প্রদর্শিত হইতেছে, কেবল কাম্যকর্ম্মের অংশমাত্র বাদ পড়িতেছে। অভিপ্রায় এই যে, কাম্য কৰ্ম্ম ভিন্ন যত রকমের কর্ম আছে, সে সমস্ত কৰ্ম্মই সাক্ষাৎ বা পরস্পরা সম্বন্ধে এই ব্রহ্ম-বিদ্যার উপকার সাধন করিয়া থাকে। কিরূপে যে, সেই উপকার সাধন করে, এখানে তাহা প্রদর্শিত হইতেছে-এবম্বিধ গুণসম্পন্ন সেই এই ঔপনিষদ-উপনিষদ্বেদ্য পুরুষকে, বেদাধ্যয়নবিষয়ক নিত্য বিধি হইতে প্রাপ্ত অর্থাৎ বিজ্ঞাত মন্ত্র ও ব্রাহ্মণাত্মক বেদের অধ্যয়নরূপ বেদানুবচন দ্বারা জানিতে ইচ্ছা করেন(১)। কাহারা? ব্রাহ্মণেরা; এখানে ব্রাহ্মণ-শব্দটী ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যজাতিরও উপলক্ষণ (বোধক); কেন না, বেদাধ্যয়নে ব্রাহ্মণাদি বর্ণত্রয়েরই অধিকার তুল্য; অথবা বেদানুবচন অর্থ কৰ্ম্ম-প্রতিপাদক মন্ত্র ও ব্রাহ্মণ; তাহা দ্বারা অর্থাৎ বেদোক্ত কৰ্ম্ম দ্বারা জানিতে ইচ্ছা করেন। কিরূপে যে, জানিতে ইচ্ছা করেন, তাহা-‘যজ্ঞেন’ (যজ্ঞ দ্বারা) ইত্যাদি কথায় প্রকাশ করিতেছেন। ৬
কিন্তু এখানে যাঁহারা, মন্ত্র ও ব্রাহ্মণরূপ বেদানুবচন’ দ্বারা প্রকাশিত[ব্রহ্মকে] জানিতে ইচ্ছা করেন, তাঁহারা এইরূপ ব্যাখ্যা করেন; ফলতঃ তাঁহাদের মতে বেদের আরণ্যক অংশ মাত্র ‘বেদানুবচন’ শব্দে পরিগৃহীত হইতে পারে; কেন না, বেদের কর্মকাণ্ড দ্বারা ত আত্মার স্বরূপ প্রকাশিত হয় না; কেন না, ‘সেই ঔপনিষদ পুরুষকে’ ইত্যাদি শ্রুতি বিশেষ করিয়া[আত্মার উপনিষৎ-প্রকাশ্যতাই প্রতিপাদন করিতেছেন]; অথচ এখানে সামান্যাকারে নির্দেশ থাকায় ‘বেদানু- বচনেন’ কথায় যখন সমস্ত বেদভাগই বুঝাইতেছে; তখন তাহার একাংশ পরি- ত্যাগ করা যুক্তিযুক্ত হয় না। ভাল, তোমার(ভাষ্যকারের) মতেও উক্ত
(১) তাৎপর্য্য—বেদের সাধারণতঃ দুইটা ভাগ—(১) মন্ত্রভাগ ও(২) ব্রাহ্মণভাগ; এই উভয় ভাগ লইয়া বেদ পূর্ণ হইয়াছে। আপস্তম্ব বলিয়াছেন—“মন্ত্র-ব্রাহ্মণয়োর্ব্বেদনামধেয়ম্” অর্থাৎ মন্ত্র ও ব্রাহ্মণ এতদুভয়ের নাম বেদ। মন্ত্রভাগ কর্মকাণ্ড ও সংহিতা নামে, আর ব্রাহ্মণভাগ উপনিষদ ও আরণ্যক প্রভৃতি নামে এবং স্বনামেও পরিচিত।”
বেদানুবচন শব্দে উপনিষদ্ অংশ পরিত্যাগ করায় একদেশমাত্র প্রতিপাদন করা সমানই রহিল? না, সে কথা বলিতে পার না; কারণ, আমরা ‘বেদানুবচন’ শব্দের প্রথমে যে ব্যাখ্যা করিয়াছি, তাহাতে ত কোন বিরোধই নাই;[কারণ, সেখানে ‘বেদানুবচন’ শব্দে মন্ত্র ও ব্রাহ্মণ উভয় অংশই গ্রহণ করা হইয়াছে]; সুতরাং উপনিষদও তাহার মধ্যে পড়িয়া গিয়াছে। যজ্ঞাদির সহিত একত্র পঠিত হওয়াতেও[‘বেদানুবচন’ শব্দের] অন্য কোন প্রকার বিশেষার্থ করা যায় না; কারণ, যজ্ঞাদির কথা বলিবার জন্যই এখানে ‘বেদানুবচন’ শব্দের প্রয়োগ করা হইয়াছে। ইহা হইতে বুঝা যাইতেছে যে, ‘বেদানুবচন’ শব্দে কেবল যজ্ঞাদি কর্মই প্রতিপাদন করিতেছে; কেন না, কর্মই লোকের নিত্য স্বাধ্যায় বা অবশ্য পঠনীয়। [অতএব ‘নিত্য স্বাধ্যায়’ অর্থ করাতেই বেদানুবচন কথায় সমস্ত বেদাংশই পাওয়া যাইতেছে]। ৭
ভাল, নিত্য স্বাধ্যায়াত্মক কর্মসমূহ দ্বারা অর্থাৎ অবশ্যপঠনীয় কর্মকাণ্ড দ্বারা আত্মাকে জানিতে ইচ্ছা করে কিরূপে? কেন না, উপনিষদের ন্যায় কর্মবিধায়ক ঐ সমস্ত অংশ ত আর আত্মতত্ত্ব প্রকাশ করে না? না-এ দোষ হয় না; কারণ, কর্মসমূহ চিত্তশুদ্ধির হেতু। অভিপ্রায় এই যে, কর্মানুষ্ঠান দ্বারা যাহাদের চিত্ত উত্তমরূপে সংস্কৃত ও বিশুদ্ধতা লাভ করিয়াছে, সেই সমুদয় শুদ্ধচিত্ত লোকই বিনা বাধায় উপনিষৎ-প্রকাশিত আত্মাকে জানিতে সমর্থ হয়। আথর্ব্বণ শ্রুতিও সেই কথাই বলিতেছেন,-‘অগ্রে বিশুদ্ধ-চিত্ত হইয়া, পশ্চাৎ ধ্যানযোগে সেই নিষ্কল আত্মাকে দর্শন করিয়া থাকেন।’ স্মৃতিশাস্ত্রও বলিতেছে-‘কৰ্ম্ম দ্বারা পাপ ক্ষয় হইলে পর, লোকদিগের জ্ঞান উৎপন্ন হয়’ ইত্যাদি। ৮
ভাল, জিজ্ঞাসা করি, নিত্য কর্মসমূহের ফল যে, সংস্কার বা চিত্তশুদ্ধি, ইহা বুঝা যাইতেছে কিসে? হাঁ, ‘সেই ব্যক্তিই আত্মযাজী, যে ব্যক্তি জানে যে, এই কৰ্ম্ম দ্বারা আমার এই অঙ্গ সংস্কৃত(শোধিত) হইতেছে; এই কৰ্ম্ম দ্বারা আমার এই অঙ্গ উপযুক্ততা লাভ করিতেছে’ ইত্যাদি শ্রুতি হইতে[জানিতে পারা যায়]। বিশেষতঃ সমস্ত স্মৃতিশাস্ত্রও ‘অষ্টাচত্বারিংশৎ সংস্কার’(আটচল্লিশ প্রকার সংস্কার) ইত্যাদি স্থলে কর্মসমূহকে চিত্তশুদ্ধির উপায় বলিয়া নির্দেশ করিতেছে(১)। ভগবদগীতাতেও আছে—‘যজ্ঞ, দান ও তপস্যা, এ সমস্তই
মনীষিগণের(ধ্যাননিষ্ঠদিগের) শুদ্ধিকারণ-যজ্ঞানুষ্ঠান দ্বারা যাহাদের হৃদয়গত সমস্ত পাপ ক্ষয় হইয়াছে, তাহারা সকলেই যজ্ঞবিদ্ অর্থাৎ যজ্ঞরহস্য অবগত আছেন’ ইতি।[এখন শ্রুতির ‘যজ্ঞেন’ কথার অর্থ বলিতেছেন-] দ্রব্যযজ্ঞ[দ্রব্য- সাধ্য যজ্ঞসমূহ] এবং জ্ঞানযজ্ঞসমূহ(যে সমুদয় যজ্ঞ দ্রব্যনিরপেক্ষ, কেবলই জ্ঞানা- ত্মক, সেই সমুদয় যজ্ঞ), এই উভয়েরই উদ্দেশ্য চিত্তশুদ্ধি সম্পাদন করা। কৰ্ম্ম দ্বারা সংস্কার সাধিত হইলে পর, বিশুদ্ধচিত্তে বিনা বাধায় জ্ঞানোৎপত্তি হইতে পারে; এই কারণেই জ্ঞানিগণ যজ্ঞ দ্বারা[আত্মাকে] জানিতে ইচ্ছা করিয়া থাকেন। দান দ্বারাও[জানিতে ইচ্ছা করেন]; দানও পাপক্ষয় ও ধর্মবৃদ্ধির উপায়; এই জন্য [তাহা দ্বারাও আত্মবেদন সম্ভব হয়]। তপস্যা দ্বারা-‘তপঃ’ শব্দে সাধারণতঃ কৃচ্ছ্র চান্দ্রায়ণাদি সমস্ত ব্রতই ধরা যাইতে পারে; এই জন্য ‘অনাশকেন’ বিশেষণ প্রদত্ত হইয়াছে-‘অনাশক’ অর্থ-কামনাপূর্ব্বক ভোগ না করা, কিন্তু ভোজন- নিবৃত্তি অর্থ নহে; কারণ, ভোজন নিবৃত্তি হইলে সাধকের মৃত্যুরই সম্ভাবনা হয়, আত্মবেদনের আর সম্ভাবনা থাকে না;[অতএব ঐরূপ অর্থ হইতে পারে না]। ৯
এখানে ‘যজ্ঞ, দান, তপঃ ও বেদানুবচন’ শব্দে সমস্ত নিত্য কর্ম বুঝাইতেছে। কাম্য কৰ্ম্মভিন্ন যত কিছু নিত্য কৰ্ম্ম আছে, তৎসমস্তই আত্মজ্ঞান সমুৎপাদন করিয়া থাকে; সেই আত্মজ্ঞান দ্বারা উহা মোক্ষলাভেরও কারণ হইয়া থাকে। এইরূপে কর্মকাণ্ডের সহিত আত্মবিদ্যার একবাক্যতা বা একার্থপরতাও সিদ্ধ হইতেছে। এখানে যে সমস্ত উপায় উপদিষ্ট হইল, সে সমস্তের সাহায্যে যথা- বর্ণিত এই আত্মাকে অবগত হইয়া মুনি হয়—আত্মবিষয়ে মনন করে বলিয়া মুনি —যোগী হয়। বুঝিতে হইবে, যথোক্তপ্রকার এই আত্মাকে জানিয়াই মুনি হয়, অন্য তত্ত্ব জানিয়া নহে। ১০
ভাল, অন্যবিষয়ক জ্ঞানেও ত মুনি হইতে পারা যায়; তবে কিরূপে অবধারণ করা হইতেছে যে, ‘ইহাকে জানিয়াই’[মুনি হয়]? হাঁ, অন্যবিষয়ক জ্ঞানেও মুনি হইতে পারে সত্য, কিন্তু অন্যবিষয়ক জ্ঞানে যে, কেবল মুনিই হইবে, তাহার নিশ্চয়তা নাই; সে লোক কর্মীও হইতে পারে; কিন্তু এই ঔপনিষদ পুরুষকে (আত্মাকে) জানিলে সে কেবল মুনিই হয়, কখনও কর্মী হয় না। অতএব মুনিত্ব লাভের অসাধারণ বা অব্যভিচারী কারণ নির্দেশের অভিপ্রায়েই এখানে
‘এতম্ এব’ বলিয়া অবধারণ করা হইতেছে। এই আত্মাকে সম্যক্ অবগত হইলে কিসের দ্বারা কাহাকে দর্শন করিবে? অর্থাৎ তখন আত্মজ্ঞানের প্রভাবে ভেদবুদ্ধি বিলুপ্ত হইয়া যায়; সুতরাং তখন আর ভেদবুদ্ধি-সাপেক্ষ কর্মাধিকার থাকে না; কাজেই তখন কেবল একমাত্র মননই হইয়া থাকে। অপিচ, এই আত্মস্বরূপ স্ব-লোক পাইবার প্রত্যাশায় প্রব্রাজিগণ—প্রব্রজনশীল সন্ন্যাসিগণ প্রব্রজ্যা করিয়া থাকেন, অর্থাৎ সমস্ত কৰ্ম্ম পরিত্যাগ করিয়া সন্ন্যাস গ্রহণ করিয়া থাকেন।
এখানে ‘এতম্ এব লোকম্ ইচ্ছন্তঃ’ এইরূপ অবধারণ থাকায় বুঝা যাইতেছে যে, যাহারা বাহ্যলোকপ্রার্থী অর্থাৎ পুত্র, বিত্ত ও স্বর্গাদি লোক লাভের অভিলাষী, তাহাদের পারিব্রাজ্যে বা সন্ন্যাস গ্রহণে অধিকার নাই। কেন না, কাশীপ্রদেশ- বাসী কোন লোক যদি হরিদ্বারে যাইতে ইচ্ছুক হয়, সে কখনই পূর্ব্বাভিমুখে গমন করে না; অতএব যাহারা পুত্রাদি বাহ্য-লোকপ্রার্থী হয়, পুত্র, কৰ্ম্ম ও অপর ব্রহ্ম- বিদ্যাই তাহাদের সাধন অর্থাৎ অভীষ্টলাভের উপায় হয়। শ্রুতি বলিতেছেন— ‘পুত্র দ্বারাই এই লোক জয় করিতে হয়(আয়ত্ত করিতে হয়), কিন্তু অন্য কৰ্ম্ম দ্বারা নহে’ ইত্যাদি। অতএব বাহ্য লোকত্রয়ার্থিগণের পক্ষে পুত্রাদি সাধনসমূহ ত্যাগ করিয়া পারিব্রাজ্য স্বীকার করা কখনই যুক্তিযুক্ত হয় না; কেন না, তাহারা যাহা চাহে, পারিব্রাজ্য তাহার সাধন(প্রাপ্তির উপায়) নহে। অতএব ‘এতম্ এব লোকম্ ইচ্ছন্তঃ প্রব্রজন্তি’ এইরূপ অবধারণ করা যুক্তিযুক্তই হইয়াছে। আত্ম-লোকপ্রাপ্তি অর্থ—অবিদ্যানিবৃত্তির পর স্বস্বরূপে অবস্থান ভিন্ন আর কিছুই নহে। অতএব যদি কেহ আত্মলোক পাইতে ইচ্ছুক হয়, তবে তাহার পক্ষে সমস্ত ক্রিয়া হইতে বিরত থাকাই আত্মলোক-লাভের প্রধান—অন্তরঙ্গ সাধন; যেমন পুত্রাদি সাধনসমূহ আত্মপ্রাপ্তির অসাধনত্ব নিবন্ধন উহারা কেবল ত্রিবিধ অনাত্মলোক প্রাপ্তিরই সাধন হয়, ইহাও তদ্রূপ(১)। পুত্রাদি কর্ম্ম দ্বারা যে, আত্মলোক লাভের সম্ভাবনাই নাই; সম্ভাবনা নাই বলিয়াই উহারা আত্মলোকের বিরোধী, একথা আমরা অগ্রেই বলিয়াছি। ১২
অতএব, যাঁহারা আত্মলোক পাইতে ইচ্ছা করেন, তাঁহারা প্রব্রজ্যাই গ্রহণ করিয়া থাকেন, অর্থাৎ অবশ্যই সমস্ত ক্রিয়া হইতে নিবৃত্ত হন। ত্রিবিধ অনাত্ম- লোকপ্রার্থীদিগের জন্য যেমন অবশ্য-কর্তব্যরূপে পুত্রাদি সাধনসমূহ বিহিত হইয়াছে, তেমনই আত্মলোকপ্রার্থী ব্রহ্মবিদের সম্বন্ধেও সর্ব্বক্রিয়া-নিবৃত্তিরূপ পারিব্রাজ্য বা সন্ন্যাসই বিহিত হইতেছে। ১৩
ভাল, আত্মলোকপ্রার্থী লোকেরা যে, কেবল প্রব্রজ্যাই করিয়া থাকে, বলা হইতেছে, তাহার কারণ কি? এই প্রশ্নের উত্তরে শ্রুতি নিজেই অর্থবাদরূপে কারণ প্রদর্শন করিতেছেন—শ্রুতির ‘হ, স্ম, বৈ’ শব্দে পুরাবৃত্ত বা প্রাচীন পদ্ধতি সূচিত হইতেছে। পূর্ব্ব অর্থাৎ অতীতকালীন বিদ্বান্ আত্মজ্ঞ লোকেরা প্রজা— সন্তান কামনা করেন নাই, অর্থাৎ লোকত্রয়-সাধন—ত্রিবিধ লোকপ্রাপ্তির উপায়- ভূত পুত্রাদি ও অপর বিদ্যার অনুষ্ঠান করেন নাই। এখানে ‘প্রজা’ কথাটী কৰ্ম্ম ও অপর ব্রহ্মবিদ্যারও দ্যোতক; ঐ একই শব্দে বাহ্যলোকত্রয়ের উপায়ভূত ঐ ত্রিবিধ সাধনই বুঝাইতেছে। ১৪
ভাল, জিজ্ঞাসা করি, আত্মজ্ঞেরাও ত নিশ্চয়ই অপর-ব্রহ্মবিদ্যার অনুশীলন করিয়া থাকেন; তাহার দরুণই তাহাদের ব্যুত্থান(সমস্ত এষণার পরিত্যাগ) হইয়া থাকে;[নচেৎ ব্যুত্থান হওয়াই অসম্ভব হয়]। না—এ আপত্তি হইতে পারে না; কারণ, ব্রহ্মবিদের সম্বন্ধে অপবাদ বা নিন্দাবাদ রহিয়াছে;—‘ব্রহ্ম তাহাকে বঞ্চিত করেন, অর্থাৎ তাহার পক্ষে ব্রহ্মদর্শন সম্ভব হয় না, যে লোক আত্মার অন্যত্র ব্রহ্ম দর্শন করে, অর্থাৎ ব্রহ্ম ও আত্মার ভেদ দর্শন করে’, ‘সকলে তাহাকে প্রতারিত করে,[যে লোক আত্মার অন্যত্র ব্রহ্মকে জানে]’, এই শ্রুতি অ-পরব্রহ্ম দর্শনেরও নিন্দা করিতেছে। কেন না, শ্রুতিতে ‘সর্ব্ব’ শব্দ থাকায়, অ-পরব্রহ্মও তাহার অন্তর্ভূত হইয়া পড়িয়াছে।[অন্য শ্রুতি বলিতেছেন— ‘যাহাতে অন্য কিছু দর্শন করে না’ ইতি। বিশেষতঃ ‘[ব্রহ্মের] পূর্ব্ব বা আদি নাই, অন্ত নাই, অন্তর(মধ্য) ও বাহ্য(বাহির) নাই’, এই শ্রুতিতে ব্রহ্মেতে পূর্ব্ব পশ্চাৎ বাহ্য ও আন্তর দর্শনও নিষিদ্ধ হইয়াছে। আরও আছে—‘সে সময় কে কিসের দ্বারা কাহাকে দর্শন করিবে, কাহাকেই বা জানিবে’? অতএব ব্যুত্থানে একমাত্র আত্মদর্শন ভিন্ন অন্য কোনও কারণের অপেক্ষা করে না। ১৫
[যাহারা প্রজা কামনা করে না,] তাহাদের অভিপ্রায় কি? তাহা কথিত হইতেছে—প্রজারূপ সাধন দ্বারা আমরা কোন প্রয়োজন(ফল) সাধন করিব? কেন না, প্রজা যে, বাহ্যলোক-সিদ্ধির উপায়, ইহা নিশ্চিতরূপে পরিজ্ঞাতই
আছে; আমাদের ত আত্মাতিরিক্ত সেই বাহ্যলোক বলিয়া কিছু নাই সমস্তই আমাদের আত্মস্বরূপ, এবং আমরাও সকলের আত্মস্বরূপ; আমাদের আত্মা ত আত্মা বলিয়াই(স্বস্বরূপ বলিয়াই) অপর কোনও সাধনের সাহায্যে উৎপাদ্য(যাহার উৎপাদন করা হয়, এমন), বিকার্য্য, প্রাপ্য বা সংস্কার্য্য নহে;(১)[সুতরাং তাহার জন্য কোন সাধনেরই আবশ্যক হয় না]। ১৬
তবে যে, আত্মযাজীর আত্মসংস্কারার্থ কর্মের অপেক্ষা হইয়া থাকে, বুঝিতে হইবে, দেহেন্দ্রিয়াদিতে আত্মদর্শনই তাহার কারণ; কেন না, ‘ইদং মে অনেন অঙ্গং সংস্ক্রিয়তে’(এই কৰ্ম্ম দ্বারা আমার এই অঙ্গ সংস্কৃত বা শুদ্ধ করা হইতেছে), এইরূপে অঙ্গাঙ্গিভাবের অর্থাৎ আমি অঙ্গী, আমার অঙ্গ, এইরূপে দেহ ও আত্মার অঙ্গাঙ্গিভাব সম্বন্ধের উল্লেখ রহিয়াছে। যে লোক নিরন্তর আত্মার একমাত্র বিজ্ঞানঘন স্বভাব দর্শন করে, তাহার পক্ষে ভেদদর্শনমূলক অঙ্গাঙ্গিভাবসংস্কার কখনই সম্ভব হয় না; এই জন্যই[তাঁহারা মনে করেন যে,] পুত্র প্রভৃতি সাধন দ্বারা আমরা কি করিব? পুত্রাদি সাধন-সাধ্য যে ফল, তাহা অজ্ঞলোকদিগের জন্যই বিহিত; কেন না, মৃগতৃষ্ণিকাতে জলভ্রান্তিযুক্ত পুরুষই সেই জলপানে প্রবৃত্ত হয়, কিন্তু তা’ বলিয়া কি, যে লোক জলশূন্য ঊষর ভূমি মাত্র দর্শন করে, তাহারও সেখানে জলপানে প্রবৃত্তি হওয়া যুক্তিসঙ্গত হয়? এইরূপ[তাঁহারাও মনে করেন যে,] পরমার্থ সত্য আত্মলোকদর্শী আমাদেরও মৃগতৃষ্ণিকাতুল্য অজ্ঞজন-দৃশ্য অসত্য বিষয়ে প্রবৃত্তি হওয়া যুক্তিসঙ্গত নহে; ইহাই এ কথার অভিপ্রায়। ১৭
এই অভিপ্রায়েই বলা হইতেছে যে, পরমার্থদর্শী আমাদের অশনায়াদি সংসারধৰ্ম্মবর্জিত ও ভাল-মন্দ কার্য্য দ্বারা বিকারশূন্য আত্মাই একমাত্র লোক— অভিপ্রেত ফল; অথচ সাংসারিক সাধ্য-সাধনাদি সর্ব্বধর্মবিনির্ম্মুক্ত আত্মার সম্বন্ধে অন্য কোন সাধনও প্রার্থনীয় হইতে পারে না। যাহা সাধ্য, তাহারই সাধনের অন্বেষণ আবশ্যক হয়, অসাধ্য(নিত্য) বিষয়ে যে সাধনের অনুসরণ করা হয়, তাহা
১২৯৩
বস্তুতঃ জলভ্রমে শুষ্ক ভূমিতে সন্তরণের তুল্য, অথবা আকাশে পাখীর পদচিহ্ন অন্বেষণের অনুরূপ। ১৮
অতএব ব্রাহ্মণগণ এই আত্মাকে উত্তমরূপে জানিয়া অবশ্যই প্রব্রজ্যা করিবে, কিন্তু কর্ম্মারম্ভ করিবে না। যেহেতু প্রাচীনগণ এইরূপে আত্মতত্ত্ব অবগত হইয়া সন্তান-কামনায় পরাম্মুখ হইয়া, এবং এইরূপ সাধ্য-সাধন ব্যবহারকে—ইহা অজ্ঞজন-সেব্য বলিয়া নিন্দা করত[তাঁহারা] কি করিতেন, তাহা বলা হইতেছে —তাঁহারা পুত্র কামনা হইতে, বিত্ত কামনা হইতে, এবং স্বর্গাদি লোককামনা হইতেও ব্যুত্থান করিয়া অর্থাৎ ঐ সমস্ত বিষয়ে কামনা পরিত্যাগ করিয়া ভিক্ষা- চর্য্যা করিতেন, ইত্যাদি অংশ পূর্ব্বেই ব্যাখ্যাত হইয়াছে। অতএব, ‘আত্মলোক পাইতে ইচ্ছুক হইয়া প্রব্রজ্যা করিয়া থাকেন(‘প্রব্রজন্তি’), এই ‘অর্থবাদ’ বাক্য হইতেই ‘প্রব্রজেয়ুঃ’(প্রব্রজ্যা করিবে) এইরূপ বিধিকল্পনাও সুসঙ্গত হয়। এই বাক্যটী যখন অর্থবাদযুক্ত, তখন আত্মার প্রশংসাখ্যাপন দ্বারা যে, এ বিষয়ে সাধারণ লোকের আভিমুখ্য(ঔৎসুক্য) কল্পনা করা, তাহা কখনই উপপন্ন হয় না; কেন না, ‘প্রব্রজন্তি’ বাক্যের অর্থবাদ বা প্রশংসাসূচক বাক্য হইতেছে পরবর্তী—‘এতৎ হ স্ম’ ইত্যাদি বাক্য; সুতরাং ‘প্রব্রজন্তি’ বাক্যটী অর্থবাদস্বরূপ হইলে, সে কখনই অপর অর্থবাদের আকাঙ্ক্ষা করিত না; অথচ ‘প্রব্রজন্তি’ বাক্যটা কিন্তু ‘এতৎ হ স্ম’ ইত্যাদি অর্থবাদের নিশ্চয়ই অপেক্ষা করিতেছে(১)। ১৯
যেহেতু পূর্ব্বতন বিদ্বানসমূহ প্রজাদি কৰ্ম্ম হইতে নিবৃত্ত হইয়া, কেবল প্রব্রজ্যাই করিতেন, সেই হেতু ইদানীন্তন লোকেরাও অবশ্যই প্রব্রজ্যা করিবে; এইরূপ বাক্যসম্বন্ধ যোজনা করিলে, উক্ত বাক্যটী আর প্রাপ্য লোকের স্তুতি প্রকাশন দ্বারা সাধারণ লোকদিগের আভিমুখ্যপর বা প্রবৃত্তিজনক বলিয়া পরিকল্পিত হইতে পারে না। পূর্ব্বেও ‘বিজ্ঞান ও প্রব্রজ্যার একই কর্তা উপদিষ্ট হওয়ায়’
ইত্যাদি বাক্যে এ কথা আমরা বুঝাইয়া দিয়াছি। উক্ত বাক্যের অর্থবাদত্বের বিপক্ষে বেদানুবচনের সঙ্গে একত্র পাঠও অপর কারণ; অভিপ্রায় এই যে, আত্মজ্ঞানের সাধনরূপে বিহিত ‘বেদানুবচন’ প্রভৃতি যেরূপ ‘অর্থবাদ’ নহে, পরন্তু সত্যার্থ-জ্ঞাপকমাত্র, সেইরূপ বেদানুবচন প্রভৃতির সহিত একত্র পঠিত ‘পারিব্রাজ্য’ও যখন আত্মলোক প্রাপ্তির উপায়, তখন উহারও অর্থবাদত্ব কল্পনা করা সঙ্গত হয় না। বিভিন্ন ফলোপদেশও ইহার অপর হেতু, যেমন ‘পুত্র দ্বারাই ইহলোক জয় করিতে হয়, অন্য কৰ্ম্ম দ্বারা নহে, এবং কৰ্ম্ম দ্বারা পিতৃলোক জয় করিতে হয়,(অন্য দ্বারা নহে)’ এই স্থলে পুত্র ও কৰ্ম্ম দ্বারা লভ্য বিভিন্ন ফলের উল্লেখ আছে, ঠিক তেমন ‘এই আত্মস্বরূপ লোক বিশেষভাবে অবগত হইয়া’ এই স্থলেও বাহ্য অপরাপর সমস্ত লোক হইতে স্বতন্ত্র ফলরূপে আত্মার নির্দেশ করিতেছেন। আর ইহাও বলা যায় না যে, ‘প্রব্রজন্তি’ এই কথাটা প্রসিদ্ধের ন্যায় কেবল আত্মলোকেরই প্রশংসাবোধক মাত্র এবং প্রধান বা বিধেয় বিষয় যেরূপ অর্থবাদের অপেক্ষা করে, ইহাকে সেরূপও বলিতে পারা যায়; কারণ, তাহা হইলে একবার মাত্র উহার উল্লেখ থাকিত;[এখানে কিন্তু ‘প্রব্রজন্তি’ ও ‘ব্যুত্থায় অর্থ ভিক্ষাচর্য্যং চরন্তি’ এইরূপে দুইবার উল্লেখ রহিয়াছে, ইহা অর্থবাদের পক্ষে সঙ্গত হয় না](১)। ২০
একথাও বলিতে পারা যায় না যে, পারিব্রাজ্য যখন অনুষ্ঠেয়—অনুষ্ঠান- সাপেক্ষ, তখন বৈধ কর্ম্মের ন্যায় উহা দ্বারাও বিধির স্তুতি উপপন্ন হইতে পারে; কারণ, পারিব্রাজ্য নিজে অনুষ্ঠেয় হইয়াও যদি অপরের স্তাবক হয়, তাহা হইলে অনুষ্ঠেয় ‘দর্শপূর্ণমাস’ প্রভৃতি যাগও অন্যের স্তুতিরূপে কল্পিত হইতে পারে। আর এতদতিরিক্ত স্থানে পারিব্রাজ্যের কর্তব্যতা-বিধায়ক এমন কোন বাক্যও দেখা যায় না, যাহার জন্য এখানে উহা স্তুতিবোধক হইবে। পক্ষান্তরে অন্য কোন স্থানে যদি পারিব্রাজ্যের বিধান কল্পনাই করা হয়, তাহা হইলেও এখানেই পারিব্রাজ্যের সেই বিধি প্রধানভাবে কল্পনা করা উচিত। আর যদি অনধিকৃত
(অপ্রাসঙ্গিক) বিষয়ে পারিব্রাজ্যের বিধি কল্পনা করা হয়, তাহা হইলে ত পারি- ব্রাজ্যের ন্যায় বৃক্ষারোহণাদি যাদৃচ্ছিক কার্য্যেরও বিধি কল্পনা করা যাইতে পারে; কারণ, অবশ্যকর্তব্যরূপে উভয়ই অবিজ্ঞাত; উভয়ের মধ্যে অজ্ঞাতত্ব অংশে কিছু- মাত্র বিশেষ নাই; অতএব এখানে স্তুতিবাদের নামগন্ধও কল্পনা করিতে পারা যায় না। ২১
ভাল, সেই ব্রাহ্মণগণ যদি এই আত্মাকেই একমাত্র প্রাপ্য বলিয়া মনে করেন, তাহা হইলেও, তৎপ্রাপ্তির উপায়রূপে কর্মেরই বা অনুষ্ঠান করেন না কেন? পারিব্রাজ্য অবলম্বনের প্রয়োজন কি? তদুত্তরে বলিতেছেন-কর্মের সহিত এই আত্মার সম্বন্ধ নাই; নাই বলিয়াই[তাঁহারা কৰ্ম্ম করেন না]। তাঁহারা, যে আত্মাকে পাইবার ইচ্ছায় প্রব্রজ্যা অবলম্বন করিয়া থাকেন, সেই আত্মা সাধনরূপে কিংবা ফলরূপে, অধিক কি, উৎপাদ্যাদি চতুর্বিধ কর্ম্মের কোন এক প্রকারেও ক্রিয়ার সহিত সম্বদ্ধ নহে; এই কারণেই শ্রুতিতে আত্মার ‘স এষ নেতি নেতি আত্মা, অগৃহ্যঃ নহি গৃহ্যতে’ ইত্যাদি লক্ষণ অভিহিত হইয়াছে। যেহেতু যথোক্ত লক্ষণসম্পন্ন আত্মা কৰ্ম্ম, ফল ও সাধনের সহিত অসম্বদ্ধ, সংসার- গোচর যে কোনরূপ ধৰ্ম্ম বা গুণ আছে, তদ্বিলক্ষণ, ক্ষুধা পিপাসাদির অতীত ও স্থূলত্বাদি ধর্মশূন্য এবং জন্ম, জরা, মরণ ও ভয় বিবজ্জিত অমৃতস্বরূপ, সৈন্ধবখণ্ডের ন্যায় একমাত্র বিজ্ঞানস্বভাব স্বয়ংজ্যোতিঃ(স্বপ্রকাশ), এক অদ্বিতীয়, পূর্ব্ব ও পর(কার্য্য ও কারণ) এবং আন্তর ও বাহ্য-বজ্জিত, এরূপ লক্ষণই শাস্ত্র ও যুক্তির সাহায্যে অবধারিত হইয়াছে; এবং এখানেও জনক-যাজ্ঞবল্ক্যসংবাদে বিশেষভাবে সমর্থিত হইয়াছে; অতএব যথোক্তলক্ষণ সম্পন্ন আত্মাকে আত্মরূপে বিশেষ- ভাবে অবগত হইলে, তাহার পক্ষে আর কর্মানুষ্ঠান সম্ভবপর হয় না। এই জন্যই আত্মাকে নির্বিশেষ-সর্ব্বপ্রকার বিশেষ ধর্মশূন্য বলিয়া স্বীকার করিতে হয়। ২২
কেন না, যে লোক চক্ষুষ্মান, সেই লোক দিবাভাগে পথ চলিতে যাইয়া কখনই কূপে বা কণ্টকে পতিত হয় না। বিশেষতঃ সমস্ত কর্মফলই যখন ব্রহ্মবিদ্যাফলের অন্তর্ভূত, তখন কৰ্ম্মসাধ্য সমস্ত ফলই তাহার অযত্নলভ্য; কোন বুদ্ধিমান্ লোকই অযত্নলভ্য ফলের জন্য যত্ন করে না।[এবিষয়ে একটা লৌকিক গাথা আছে যে,] ‘নিকটে বা গৃহকোণে যদি মধু পাওয়া যায়, তাহা হইলে, কিসের জন্য পর্ব্বতে যাইবে? অভিলষিত বিষয়ের সিদ্ধি বা প্রাপ্তিসত্ত্বে কোন্ বুদ্ধিমান্ লোক তাহার জন্য আবার যত্ন করে?’ ভগবদগীতাতেও আছে—
‘হে পার্থ, সমস্ত কর্মই নিঃশেষভাবে জ্ঞানে পরিসমাপ্ত হয়, অর্থাৎ সমস্ত কর্মফল জ্ঞানফলের অন্তর্ভূত হয়।’ আর এখানেও বলা হইয়াছে—‘ব্রহ্মবিদ্ পুরুষ, যে পরমানন্দ লাভ করেন, অন্যান্য প্রাণিগণ তাহারই অংশমাত্র ভোগ করিয়া থাকে’; অতএব ব্রহ্মবিদের পক্ষে কর্মারম্ভ নিতান্তই অসম্ভব ও অনুপযোগী। ২৩
যেহেতু সর্ব্বাভিলাষবিবর্জিত সেই পুরুষ ‘নেতি নেতি’রূপে সর্ব্বনিষেধের অবধিরূপে অবস্থিত আত্মার স্বরূপ অবগত হইয়া, নিজেও তৎস্বরূপেই অবস্থান করেন, সেই হেতুই যথোক্ত আত্মস্বরূপে বর্তমান সেই আত্মজ্ঞ পুরুষকে এই বক্ষ্য- মাণ দুইটা বিষয় প্রাপ্ত হয় না। সেই দুইটা বিষয় কি কি, তাহা বলা হই- তেছে,-এই নিমিত্ত অর্থাৎ শরীর ধারণাদি প্রয়োজনে[আমি] পাপ-অপুণ্য কর্ম করিয়াছি, আমি দুষ্কর্ম করিয়াছি; এই দুষ্কর্মের দরুণ আমি নরকে গমন করিব-এইরূপে যে পাপকর্মকারীর পশ্চাৎতাপ বা অনুশোচনা, সেই পশ্চাৎতাপে ইহাকে-নেতি নেতি-সর্ব্বসংসারধর্মশূন্য আত্মাকে আক্রমণ করে না; সেইরূপ এই কারণে-‘অমুক ফলের অভিলাষে আমি কল্যাণ করিয়াছি, অর্থাৎ যজ্ঞ-দানাদি পুণ্য কর্ম করিয়াছি, অতএব আমি দেহান্তরে সেই শুভ কর্মের ফলস্বরূপ সুখরাশি সম্ভোগ করিব’, ইত্যাকার হর্ষও তাহাকে অভিভূত করে না; এই ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষ পুণ্য ও পাপাত্মক উভয়প্রকার কর্মই অতিক্রম করিয়া থাকেন। ২৪
এই প্রকার ব্রহ্মজ্ঞ সন্ন্যাসীর উভয়প্রকার কর্মই ক্ষয় প্রাপ্ত হয়-পূর্ব্ব জন্মে যে সমস্ত পুণ্য পাপ করিয়াছিলেন, সে সমস্ত, এবং ইহ জন্মেও যে সমস্ত পুণ্য ও পাপকর্ম করিয়াছিলেন, সে সমস্তও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, এবং তাহার কৃত কোন কৰ্ম্মই আর পুণ্য পাপরূপ অদৃষ্ট সমুৎপাদনে সমর্থ হয় না। আরও এক কথা, কৃত ও অকৃত-কৃত অর্থ-অবশ্যানুষ্ঠেয় যে কৰ্ম্ম করা হইয়াছে, আর অকৃত অর্থ-সেই অবশ্যানুষ্ঠেয় যে কৰ্ম্ম করা হয় নাই, সেই কৃতাকৃতও ইঁহাকে তাপ দেয় না; কেন না, যে লোক অনাত্মজ্ঞ, তাহাকেই কৃত কৰ্ম্ম ফলদান দ্বারা, আর অকৃত কৰ্ম্ম প্রত্যবায় সমুৎপাদন দ্বারা সন্তাপ প্রদান করিয়া থাকে; কিন্তু এই আত্মজ্ঞ পুরুষ আত্মজ্ঞানরূপ অগ্নিদ্বারা সমস্ত কর্মরাশিকে ভস্মীভূত করিয়া ফেলেন। গীতাস্মৃতিতেও আছে-‘সমিদ্ধ অর্থাৎ প্রদীপ্ত অগ্নি যেরূপ কাষ্ঠরাশিকে[ভস্মসাৎ করে, তদ্রূপ জ্ঞানাগ্নিও সমস্ত কর্মকে ভস্মীভূত করিয়া ফেলে]’ ইত্যাদি। যে সমস্ত পুণ্য ও পাপের ফলে এই বর্তমান দেহ ‘আরব্ধ হইয়াছে, কেবল সেই সমুদয় পুণ্য ও পাপই ফলোপভোগ দ্বারা ক্ষয়
করিতে হয়। অতএব বুঝিতে হইবে, ব্রহ্মবিদের সহিত কর্ম্মের কোনও সম্বন্ধ নাই(১) ॥৩১২৷৷২২৷৷
তদেতদৃচাভ্যুক্তম্—এষ নিত্যো মহিমা ব্রাহ্মণস্য ন বর্দ্ধতে কর্মণা নো কনীয়ান্। তস্যৈব স্যাৎ পদবিৎ, তং বিদিত্বা ন লিপ্যতে কর্মণা পাপকেনেতি, তস্মাদেবংবিচ্ছান্তো দান্ত উপরতস্তিতিক্ষুঃ সমাহিতো ভূত্বাত্মন্যেবাত্মানং পশ্যতি সর্ব্ব- মাত্মানং পশ্যতি; নৈনং পাপ্যা তরতি, সর্ব্বং পাপ্যানং তরতি, নৈনং পাপ্যা তপতি, সর্ব্বং পাপ্যানং তপতি, বিপাপো বিরজো- হবিচিকিৎসো ব্রাহ্মণো ভবতি, এষ ব্রহ্মলোকঃ সম্রাড়েনং প্রাপি- তোহসীতি হোবাচ যাজ্ঞবল্ক্যঃ। সোহহং ভগবতে বিদেহান্ দদামি মাঞ্চাপি সহ দাস্যায়েতি ॥ ৩১৩ ॥ ২৩ ॥
সরলার্থঃ।—তং এতৎ(তত্ত্বং) ঋচা(মন্ত্রেণ, ন কেবলং ব্রাহ্মণেন মন্ত্রেণাপি) অভ্যুক্তম্(প্রকাশিতম্। মন্ত্রেণ ব্রাহ্মণার্থো দৃঢ়ীক্রিয়তে, মন্ত্র- ব্রাহ্মণয়োরেকার্থপরত্বাদিতি ভাবঃ),—ব্রাহ্মণস্য(ব্রহ্মবিদঃ) এষঃ(সর্ব্বসংসারধর্ম- বৈলক্ষণ্যরূপঃ) মহিমা(স্বভাবঃ) নিত্যঃ(উৎপত্তি-বিনাশবর্জ্জিতঃ);[অত- এব] কর্মণা ন বর্দ্ধতে(বৃদ্ধিং ন প্রাপ্নোতি), নো(ন) কনীয়ান্(অল্পতরঃ বা)[ভবতি]।[অতএব] তস্য(মহিম্নঃ) এব পদবিৎ(পদ্যতে গম্যতে ইতি পদম্—মহিম্নঃ স্বরূপম্, তৎ বেত্তীতি পদবিৎ) স্যাৎ(ভবেৎ);[স চ] তং(মহিমানম্) বিদিত্বা(সম্যক্ জ্ঞাত্বা) পাপকেন(পুণ্য-পাপরূপেণ) কৰ্ম্মণা ন লিপ্যতে(ন সম্বধ্যতে) ইতি। তস্মাৎ(আত্মমহিম্নঃ কৰ্ম্মসম্বন্ধাতীতত্বাৎ)
B
এবংবিৎ[আত্মমহিম্নঃ যথোক্তস্বরূপজ্ঞঃ) শান্তঃ(বহিরিন্দ্রিয়-ব্যাপারাৎ নিবৃত্তঃ), দান্তঃ(অন্তঃকরণগত-বাসনাভ্যো বিরতঃ),[কেচিত্তু শান্তঃ-নিগৃহীতান্তঃকরণঃ, দান্তঃ-বহিরিন্দ্রিয়বিজয়ী ইতি ব্যাচক্ষতে], উপরতঃ(সর্ব্ববাসনানিবৃত্তঃ), তিতিক্ষুঃ(শীতোষ্ণাদিদ্বন্দ্বসহিষ্ণুঃ), সমাহিতঃ(একাগ্রচিত্তঃ) ভূত্বা আত্মনি (স্বস্মিন্) আত্মানং(সচ্চিদানন্দঘনং) পশ্যতি; সর্ব্বং(সমস্তং বস্তু) আত্মানং (আত্মনোহব্যতিরিক্তং) পশ্যতি(আত্মব্যতিরেকেণ ন কিঞ্চিৎ পশ্যতীত্যর্থঃ)। পাপ্যা(পাপং) এনং(আত্মজ্ঞং) ন তরতি(প্রাপ্নোতি),[এষঃ] সর্ব্বং পাপ্যানং তরতি(অতিক্রামতি); পাপমা এনং ন তপতি,[এষঃ] সর্ব্বং পাপ্যানং তপতি(পীড়য়তি);[এষঃ] বিপাপঃ(বিগতপাপপুণ্যঃ), বিরজঃ(বিগত- কামঃ), অবিচিকিৎসঃ(সর্ব্বত্র নিঃসংশয়ঃ) ব্রাহ্মণঃ(ব্রহ্মনিষ্ঠঃ) ভবতি। এষঃ(যথোক্তলক্ষণঃ আত্মা) ব্রহ্মলোকঃ(ব্রহ্মৈব লোকঃ প্রাপ্যঃ)। হে সম্রাট্, [ত্বম্] এনং(ব্রহ্মলোকং) প্রাপিতঃ(ময়া গমিতঃ) অসি ইতি হ(ঐতিহ্যে) যাজ্ঞবল্ক্যঃ উবাচ(উক্তবান্)।[অনন্তরং জনক উবাচ-] সঃ(ভবতা এবং ব্রহ্ম প্রাপিতঃ) অহং ভগবতে(পূজনীয়ায় তুভ্যং) বিদেহান্(বিদেহনামকং জনপদং) দদামি, মাং চ(মাম্ অপি) দাস্যায়(দাসকর্মকরণায়) সহ(বিদহেহৈঃ সার্দ্ধম্)[দদামি ইতি শেষঃ] ॥৩১৩৷৷২৩৷
মূলানুবাদ।-এখানে যাহা বলা হইল, মন্ত্রেও ঠিক তাহাই উক্ত হইয়াছে,-ব্রাহ্মণের(ব্রহ্মবিদ্ পুরুষের) উক্তপ্রকার মহিমা বা সম্পদ নিত্য-উদয়াস্তবজ্জিত; এই মহিমা কৰ্ম্মানুষ্ঠান দ্বারা বৃদ্ধি পায় না, কোন কৰ্ম্ম দ্বারা হ্রাসও হয় না;[অতএব] এই মহিমারই স্বরূপ অবগত হইবে। এই মহিমার তত্ত্ববিদ্ পুরুষ এই মহিমা উত্তমরূপে অবগত হইলে পর, সে কোনও পাপ পুণ্য কৰ্ম্ম দ্বারা লিপ্ত(সংস্পৃষ্ট) হয় না; অতএব, এবংবিধ মহিমজ্ঞ পুরুষ শান্ত(হস্তপদাদি ইন্দ্রিয়- সংযমী) দান্ত(অন্তঃকরণজয়ী) উপরত(বিষয়াভিলাষ হইতে নিবৃত্ত) তিতিক্ষু(শীতোষ্ণাদি দ্বন্দ্বসহিষ্ণু) এবং সমাহিত(একাগ্রচিত্ত) হইয়া এই শরীরেই আত্মদর্শন করেন; কারণ, তিনি সমস্তই আত্মস্বরূপে দর্শন করেন; পাপ বা পুণ্য তাঁহাকে প্রাপ্ত হয় না, পরন্তু তিনি সমস্ত পাপ অতিক্রম করেন; কোন পাপকৰ্ম্ম তাঁহাকে তাপ দেয় না, পরন্ত তিনিই পাপকে তাপ দিয়া থাকেন। ব্রাহ্মণ(ব্রহ্মবিদ্ পুরুষ) পাপপুণ্য-
১৯৯৯
শূন্য, এবং রজোগুণের ফল যে কামনা, তদ্বজ্জিত হন। ইহাই ব্রহ্মলোক (যাহা ব্রহ্ম, তাহাই লোক)। যাজ্ঞবল্ক্য বলিলেন, হে সম্রাট্, আমার সাহায্যে তুমি এই ব্রহ্মলোক লাভ করিয়াছ।[জনক একথা শুনিয়া বলিলেন—] আপনার নিকট লব্ধবিদ্য আমি পূজনীয় আপনাকে সমস্ত বিদেহ দেশ দান করিতেছি, এবং দাসকর্ম্ম করিবার নিমিত্ত আমাকেও ইহার সহিত প্রদান করিতেছি ॥ ৩১৩ ॥ ২৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।-তদেতদ্বস্ত ব্রাহ্মণেনোক্তম্, ঋচা মন্ত্রেণ অভ্যুক্তং প্রকাশিতম্। এষঃ নেতিনেত্যাদিলক্ষণঃ নিত্যো মহিমা; অন্যে তু মহিমানঃ কর্মকৃতা ইত্যনিত্যাঃ; অয়ন্তু তদ্বিলক্ষণো মহিমা স্বাভাবিকত্বান্নিত্যঃ ব্রহ্ম- বিদো ব্রাহ্মণস্য ত্যক্তসর্ব্বৈষণস্য। কুতোহস্য নিত্যত্বমিতি হেতুমাহ-কৰ্ম্মণা ন বর্দ্ধতে-শুভলক্ষণেন কৃতেন বৃদ্ধিলক্ষণাং বিক্রিয়াং ন প্রাপ্নোতি; অশুভেন কর্মণা নো কনীয়ান্ নাপি অপক্ষয়লক্ষণাং বিক্রিয়াং প্রাপ্নোতি। উপচয়াপচয়- হেতুভূতা এব হি সর্ব্বা বিক্রিয়া ইত্যেতাভ্যাং প্রতিষিধ্যন্তে; অতোহবিক্রিয়ত্বাৎ নিত্য এষ মহিমা। ১
টীকা। উক্তে বিদ্যাফলে মন্ত্রং সংবাদয়তি-তদেতদিতি। এষ নিত্যো মহিমেত্যত্র নিত্যত্বমুপপাদয়তি-অন্যে ত্বিতি। তদ্বিলক্ষণত্বমকৰ্ম্মকৃতত্বম্। অকৰ্ম্মকৃতো মহিমা স্বাভাবিকত্বান্নিত্য ইত্যত্রাকৰ্ম্মকৃতত্বেন স্বাভাবিকত্বমসিদ্ধমিত্যাশঙ্ক্যাহ-কুতোহন্যেতি। বৃদ্ধি- রপক্ষয়শ্চেতি বিক্রিয়ান্বয়াভাবেহপি বিক্রিয়ান্তরাণি ভবিষ্যন্তীত্যাশঙ্ক্যাহ-উপচয়েতি। এতাভ্যাং নিষেধাভ্যামিতি যাবৎ। আত্মনঃ সর্ববিক্রিয়ারাহিত্যে ফলিতমাহ-অত ইতি। ১
তস্মাৎ তস্যৈব মহিম্নঃ, স্যাৎ ভবেৎ পদবিৎ—পদস্য বেত্তা, পদ্যতে গম্যতে জ্ঞায়ত ইতি মহিম্নঃ স্বরূপমেব পদম্, তস্য পদস্য বেদিতা। কিং তৎপদবেদনেন স্যাদিত্যুচ্যতে—তং বিদিত্বা মহিমানম্, ন লিপ্যতে ন সম্বধ্যতে কৰ্ম্মণা পাপকেন ধৰ্মাধর্ম্মলক্ষণেন; উভয়মপি পাপকমেব বিদুষঃ। ২
তস্য নিত্যত্বেহপি কিং, তদাহ-তস্মাদিতি। অধর্ম্মলক্ষণেনেতি বক্তব্যে কিমিদং ধর্ম্মাধৰ্ম্ম- লক্ষণেনেত্যুক্তমত আহ-উভয়মপীতি। সংসারহেতুত্বাবিশেষাদিত্যর্থঃ। ২
যম্মাদেবমকৰ্ম্মসম্বন্ধ্যেষ ব্রাহ্মণস্য মহিমা নেতি-নেত্যাদিলক্ষণঃ, তস্মাদেবংবিৎ শান্তঃ বাহ্যেন্দ্রিয়ব্যাপারত উপশান্তঃ, তথা দান্তঃ অন্তঃকরণতৃষ্ণাতো নিবৃত্তঃ, উপরতঃ সর্ব্বৈষণাবিনির্মুক্তঃ সন্ন্যাসী, তিতিক্ষুঃ দ্বন্দ্বসহিষ্ণুঃ, সমাহিতঃ ইন্দ্রিয়ান্তঃ- করণচলনরূপাদ্যাবৃত্যা ঐকাগ্র্যরূপেণ সমাহিতো ভূত্বা; তদেতদুক্তং পুরস্তাৎ “বাল্যঞ্চ পাণ্ডিত্যঞ্চ নির্বিদ্য” ইতি; আত্মন্যেব স্বে’ কার্য্যকরণসঙ্ঘাতে আত্মানৎ
প্রত্যচেতয়িতারং পশ্যতি। তত্র কিং তাবন্মাত্রপরিচ্ছিন্নম্? নেত্যুচ্যতে-সর্ব্বং সমস্তম্ আত্মানমেব পশ্যতি, নান্যদাত্মব্যতিরিক্তং বালাগ্রমাত্রমপ্যস্তীত্যেবং পশ্যতি। মননানুনির্ভবতি জাগ্রৎস্বপ্নসুষুপ্তাখ্যং স্থানত্রয়ং হিত্বা। ৩
তস্মাদিত্যাদি বাক্যং ব্যাচষ্টে-যম্মাদিতি। এবংবিদাত্মা কৰ্ম্মতৎফলসংবন্ধশূন্য ইত্যাপাততো জানন্নিত্যর্থঃ। বিশেষণাভ্যামুৎসর্গতো বিহিতস্যোভয়বিধকরণব্যাপারোপরমস্য যাবজ্জীবাদি- শ্রুতিবিহিতং কর্মাপবাদস্তম্মাদ্বিরক্তস্যাপি ন নিত্যাদিত্যাগঃ। “উৎসর্গস্যাপবাদেন বাধঃ কন্য ন সংমতঃ” ইত্যাদি্যায়াদিত্যাশঙ্ক্যাহ-উপরত ইতি। জীবনবিচ্ছেদব্যতিরিক্ত-শীতাদিসহিষ্ণুত্বং তিতিক্ষুত্বম্। যত্র কর্ত্তঃ স্বাতন্ত্র্যং, তেষাং কৰ্ম্মণাং নিবৃত্তিঃ শমাদিপদৈরুক্তা, যত্র তু সম্যগ্ধী- বিরোধিনি নিদ্রালস্যাদৌ পুংসো ন স্বাতন্ত্র্যং, তন্নিবৃত্তিঃ সমাধানম্। সমাহিতো ভূত্বা পশ্যতীতি সংবন্ধঃ। পণ্যতীতি বর্তমানাপদেশাৎ কথং বিশেষণেষু সংক্রামিতো বিধিরিত্যাশঙ্ক্যাহ- তদেতদিতি। ৩
এবং পশ্যন্তং ব্রাহ্মণং নৈনং পাপ্মা পুণ্যপাপলক্ষণস্তরতি ন প্রাপ্নোতি; অয়ন্তু ব্রহ্মবিৎ সর্ব্বং পাপ্মানং তরতি আত্মভাবেনৈব ব্যাপ্নোতি অতিক্রমতি; নৈনং পাপ্মা কৃতাকৃতলক্ষণস্তপতি ইষ্টফল-প্রত্যবায়োৎপাদনাভ্যাম্; সর্ব্বং পাপ্মানময়ং তপতি, ব্রহ্মবিৎ সর্ব্বাত্মদর্শনবহ্নিনা ভস্মীকরোতি। স এষ এবংবিৎ বিপাপো বিগতধর্মাধৰ্ম্মঃ, বিরজঃ বিগতরজঃ—রজঃ কামঃ বিগতকামঃ। অবিচিকিৎস- ছিন্নসংশয়ঃ, অহমস্মি সর্ব্বাত্মা পরং ব্রহ্মেতি নিশ্চিতমতিঃ ব্রাহ্মণো ভবতি। ৪
যথোক্তৈঃ সাধনৈরুদিতায়াং বিদ্যায়াং কিং স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-এবমিতি। তন্য পুণ্যপাপা- সংস্পর্শে হেতুমাহ-অয়ং স্থিতি। ইতশ্চ বিদুষো ন কৰ্ম্মসংবন্ধোহস্তীত্যাহ-নৈনমিতি। কিমিতি পাপ্যা ব্রহ্মবিদং ন তপতিত্যাশঙ্ক্যাহ-সর্ব্বমিতি। ৪
অয়ন্তু এবস্তূতঃ এতস্যামবস্থায়াং মুখ্যো ব্রাহ্মণঃ, প্রাগেতস্মাদ্ব্রহ্মস্বরূপাবস্থানাদ- গৌণমস্য ব্রাহ্মণ্যম্। এষ ব্রহ্মলোকঃ—ব্রহ্মৈব লোকঃ ব্রহ্মলোকঃ মুখ্যো নিরুপ- চরিতঃ সর্ব্বাত্মভাবলক্ষণঃ। হে সম্রাট্, এনং ব্রহ্মলোকং প্রাপিতোহসি—অভয়ং নেতি নেত্যাদিলক্ষণম্ ইতি হোবাচ যাজ্ঞবল্ক্যঃ।
এবং ব্রহ্মভূতো জনকঃ যাজ্ঞবল্ক্যেন ব্রহ্মভাবমাপাদিতঃ প্রত্যাহ—সোহহং ত্বয়া ব্রহ্মভাবমাপাদিতঃ সন্, ভগবতে তুভ্যং বিদেহান্ দেশান্ মম রাজ্যং সমস্তং দদামি, মাং চ সহ বিদৈহৈদ্দাস্যায় দাসকর্ম্মণে দদামীতি চশব্দাৎ সম্বধ্যতে। ৫
কথং ব্রাহ্মণো ভবতীত্যপূর্ব্ববদুচ্যতে, প্রাগপি ব্রাহ্মণ্যস্য সত্ত্বাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-অয়ং ত্বিতি। মুখ্যত্বমবাধিতত্বম্। সফলাং বিদ্যাং মন্ত্রব্রাহ্মণাভ্যামুপদিশ্যোপসংহরতি-এব ইতি। তত্র কর্মধারয়সমাসং সূচয়তি-ব্রহ্মৈবেতি। তথাবিধসমাসপরিগ্রহে প্রকরণমনুগ্রাহকমভিপ্রেত্যাহ- মুখ্য ইতি। তথাপি কিং মম সিদ্ধমিতি, তদাহ-এনমিতি। ৫
পরিসমাপিতা ব্রহ্মবিদ্যা সহ সন্ন্যাসেন সাঙ্গা সেতিকর্তব্যতাকা। পরি- সমাপ্তঃ পরমপুরুষার্থঃ। এতাবৎ পুরুষেণ কর্তব্যম্, এষা নিষ্ঠা, এষা পরা গতিঃ, এতন্নিঃশ্রেয়সম্, এতং প্রাপ্য কৃতকৃত্যো ব্রাহ্মণো ভবতি, এতৎ সর্ব্ববেদানু- শাসনমিতি ॥৩১৩৷২আ৷
আত্মীয়ং বিদ্যালাভং দ্যোতয়িতুং রাজ্ঞো বচনমিত্যাহ-এবমিতি। সতি বক্তব্যশেষে কথমিখং রাজ্ঞো বচনমিত্যাশঙ্ক্যাহ-পরিসমাপিতেতি। তথাপি পরমপুরুষার্থস্য বক্তব্যত্ব- মিত্যাশঙ্ক্যাহ-পরিসমাপ্ত ইতি। কর্তব্যান্বরং বক্তব্যমন্তীত্যাশঙ্ক্যাহ-এতাবদিতি। তথাপি যত্র নিষ্ঠা কর্তব্য, তদ্বাচ্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ-এযেতি। তথাপি পরমা নিষ্ঠাহন্যাহস্তীতি চেন্নেত্যাহ- এযেতি। নিশ্চিতং শ্রেয়োহন্যদন্তীত্যাশঙ্ক্যাহ-এতদিতি। তথাপি কৃতকুত্যতয়া মুখ্যব্রাহ্মণ্য- সিন্ধ্যর্থং বক্তব্যান্তরমস্তীত্যাশঙ্ক্যাহ-এতৎ প্রাপ্যেতি। কিমস্যাং প্রতিজ্ঞাপপরম্পরায়াং নিয়ামকমিত্যাশঙ্ক্যাহ-এতদিতি। নিরুপাধিকব্রহ্মজ্ঞানাৎ কৈবল্যমিতি গময়িতুমিতি- শব্দঃ ॥ ৩১৩। ২৩॥
ভাষ্যানুবাদ।-ব্রাহ্মণভাগোক্ত এই বিষয়টা ঋক্ মন্ত্রেও উক্ত হইয়াছে। এই যে “নেতিনেতি” ইত্যাদি রূপে উক্ত মহিমা, ইহা নিত্য; অন্য যে সমস্ত মহিমা, সে সমস্তই কৰ্ম্মকৃত(ক্রিয়ানিষ্পন্ন), এই জন্য অনিত্য; কিন্তু ব্রহ্ম- বিদের—সমস্ত বাসনা-বিনির্ম্মুক্ত ব্রাহ্মণের এই মহিমা তাহা হইতে সম্পূর্ণ অন্যরূপ; ইহা আত্মার স্বভাবসিদ্ধ, এই জন্য নিত্য। কি কারণে যে ইহার নিত্যতা, তাহা নির্দেশ করিতেছেন—ইহা কর্ম দ্বারা বৃদ্ধি পায় না, অর্থাৎ অনুষ্ঠিত শুভকর্ম দ্বারা বৃদ্ধিরূপ বিকার লাভ করে না, এবং অশুভ কৰ্ম্ম দ্বারাও ক্ষীণ হয় না, অর্থাৎ অপক্ষয়রূপ বিকার প্রাপ্ত হয় না। এখানে বৃদ্ধি ও ক্ষয়ের নিষেধেই উপচয় ও অপচয়ের হেতুভূত অন্য সমস্ত বিকারও নিষিদ্ধ হইতেছে; অতএব অবিক্রিয়ত্ব নিবন্ধনই এই মহিমা নিত্য। ১
অতএব সেই মহিমারই পদবিৎ(স্বরূপাভিজ্ঞ) হইবে। পদবিদ্ অর্থ-পদ- জ্ঞাতা; যাহা লাভ করা যায় অর্থাৎ জ্ঞানের বিষয়ীভূত করা হয়, তাহা পদ- মহিমার যথার্থ স্বরূপ; সেই পদবিজ্ঞাতা পুরুষই পদবিদ্। সেই পদজ্ঞানে কি ফল হয়, তাহা বলা হইতেছে-সেই মহিমা অবগত হইলে পাপকর্ম দ্বারা-ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম দ্বারা লিপ্ত-সম্বদ্ধ হয় না। এখানে ‘পাপ’ শব্দে ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম দুইই বুঝিতে হইবে; কারণ, জ্ঞানীর পক্ষে উভয়ই তুল্য। ২ যেহেতু ব্রাহ্মণের ‘নেতি নেতি’ ইত্যাদি রূপ মহিমা কোন কৰ্ম্ম দ্বারাই সম্বদ্ধ নহে, সেই হেতু যথোক্তপ্রকার মহিমাভিজ্ঞ পুরুষ শান্ত—বহিরিন্দ্রিয়ের ব্যাপার হইতে বিরত, এবং দান্ত—অন্তঃকরণগত তৃষ্ণা বা ভোগাভিলাষ হইতে
নিবৃত্ত, উপরত-সর্ব্ব কামনা হইতে বিরত-সন্ন্যাসী, তিতিক্ষু-শীতোষ্ণাদি দ্বন্দ্বসহিষ্ণু, এবং সমাহিত অর্থাৎ ইন্দ্রিয় ও অন্তঃকরণের চাঞ্চল্য-নিবৃত্তিরূপ একাগ্রতা দ্বারা সমাধিসম্পন্ন হইয়া,-পূর্ব্বেও উক্ত হইয়াছে যে ‘বাল্য ও পাণ্ডিত্য পরিসমাপ্ত করিয়া, অথবা তাহা হইতে বিরক্ত হইয়া’ ইত্যাদি; আত্মাতেই-স্বীয় দেহেন্দ্রিয়- সঙ্ঘাতের মধ্যেই আত্মাকে-প্রত্যক্ চেতনকে দর্শন করিয়া থাকেন। তবে কি কেবল দেহ-পরিচ্ছিন্নরূপেই দর্শন করেন? না-সমস্তই আত্মস্বরূপে দর্শন করেন; অর্থাৎ আত্মাতিরিক্ত কেশাগ্রভাগটুকুও নাই-এইরূপে দর্শন করেন। ঐরূপ মনন বা চিন্তার ফলে জাগ্রৎ, স্বপ্ন ও সুযুপ্তি, এই তিন অবস্থা অতিক্রম করিয়া তখন মুনি হয়। ৩
এইরূপ দর্শনশীল ব্রাহ্মণকে কোন পাপ—ধর্ম ও অধর্ম স্পর্শ করে না; এই ব্রহ্মবিদ্ পুরুষ সমস্ত পাপ উত্তীর্ণ হন, অর্থাৎ আত্মভাবে অবস্থিতির ফলেই সমস্ত পাপ অতিক্রম করেন। বিহিত কর্মের অনুষ্ঠান ও অননুষ্ঠানরূপ পুণ্য-পাপও ইহাকে ইষ্ট ফল প্রদান ও প্রত্যবায় উৎপাদন দ্বারা সন্তাপ দেয় না; পরন্তু এই ব্রহ্মবিদই সমস্ত পাপকে তাপ দেন, অর্থাৎ সর্ব্বত্র আত্মভাব দর্শনরূপ বহ্নি দ্বারা সমস্ত পাপ ভস্মীভূত করিয়া ফেলেন। এবংবিধ জ্ঞানসম্পন্ন পুরুষ বিপাপ ধৰ্ম্মা- ধৰ্ম্মরহিত, বিরজ—‘রজ’ অর্থ কাম, তদ্রহিত অর্থাৎ নিষ্কাম, অবিচিকিৎস— ছিন্নসংশয়(কোন বিষয়ে তাহার সংশয় থাকে না), অর্থাৎ তখন আমি হইতেছি সর্ব্বাত্মা পরব্রহ্মস্বরূপ, এইপ্রকার নিশ্চিতমতি যথার্থ ব্রাহ্মণ হন—এবস্তুত এই ব্রাহ্মণই এই অবস্থায় যথার্থ ব্রাহ্মণ-পদবাচ্য হন। এইপ্রকার ব্রহ্মাত্মভাবে অবস্থিতির পূর্ব্বে যে, ইহার ব্রাহ্মণত্ব, তাহা মুখ্য নহে—গৌণ। ৪
ইহাই ব্রহ্মলোক; এখানে ব্রহ্ম ও লোক পৃথক্ পদার্থ নহে, ব্রহ্মই প্রাপ্য বলিয়া ‘লোক’-শব্দবাচ্য; গৌণার্থসম্বন্ধশূন্য এই ভাবই যথার্থ ব্রহ্মলোক;[অন্য অর্থে ‘ব্রহ্মলোক’ শব্দ গৌণ]। যাজ্ঞবল্ক্য বলিলেন-হে সম্রাট্(জনক), [তুমি] সর্ব্বনিষেধের শেষ ভূমি এই অভয় ব্রহ্মলোক প্রাপিত হইয়াছ। জনক এই প্রকারে ব্রহ্মভাবাপন্ন হইয়া-যাজ্ঞবল্ক্যকর্তৃক ব্রহ্মভাব প্রাপিত হইয়া বলিলেন-[ভগবন্,] পূজনীয় আপনাকে এই বিদেহ দেশ অর্থাৎ আমার সমস্ত রাজ্য দান করিতেছি, এবং দাস্য কৰ্ম্ম করিবার জন্য রাজ্যের সহিত আমাকেও দান করিতেছি। ৫
সন্ন্যাসের সহিত সম্পূর্ণ ব্রহ্মবিদ্যা এবং তাহার অঙ্গ ও ইতিকর্তব্যতার(ব্রহ্ম লাভের জন্য পূর্ব্বাপর কর্তব্য প্রণালীর) কথা এখানে সমাপ্ত করা হইল; এবং
১৩৩
পরম পুরুষার্থের কথাও এই বলিয়া সমাপ্ত করা হইল যে, পুরুষের এই পর্য্যন্তই কর্তব্য, ইহাই নিষ্ঠা(চরম অবস্থা), ইহাই জীবের পরমা গতি, এবং ইহাই পরম মঙ্গল; এই নিঃশ্রেয়স লাভ করিয়াই কৃতকৃত্য হয়, ইহাই সমস্ত বেদের চরম উপদেশ ॥ ৩১৩ ॥ ২৩ ॥
স বা এষ মহানজ আত্মান্নাদো বসুদানো বিন্দতে বসু য এবং বেদ ॥ ৩১৪ ॥ ২৪ ॥
সরলার্থঃ।—উক্তমেবার্থং পুনঃ সংক্ষেপেণাহ—‘স বৈ’ ইত্যাদিনা। সঃ (জনক-যাজ্ঞবল্ক্যাখ্যায়িকায়াং বর্ণিতঃ) এষঃ(প্রকৃতঃ) আত্মা মহান্ অজঃ (জন্মরহিতঃ) অন্নাদঃ(সর্ব্বেষাং ভূতানাম্ অন্তঃস্থঃ সন্ অন্নাংশভোক্তা), বসুদানঃ প্রাণিনাং কর্ম্মফলরূপ-ধনদাতা); যঃ(উপাসকঃ) এবং(যথোক্ত-গুণযুক্ততয়া আত্মানং) বেদ(জানাতি),[সঃ] বসু(স্বকর্ম্মফলং)[সর্ব্বমন্নং চ] বিন্দতে (লভতে)॥ ৩১৪ ॥ ২৪ ॥
মূলানুবাদ:-[ জনক-যাজ্ঞবল্ক্যসংবাদে, যে আত্মার কথা বলা হইয়াছে,] সেই এই আত্মা মহান্(সর্বব্যাপী), অজ(জন্মরহিত), সর্বভূতে অবস্থান করিয়া অন্ন ভোগ করেন, এবং প্রাণিগণের কর্ম্মফল- রূপ ধন প্রদান করিয়া থাকেন। যে লোক এই সমস্ত গুণযুক্ত আত্মার উপাসনা করে, সে লোকও অন্নভোক্তা হয়, এবং বসুদ অর্থাৎ ধনদাতা হয় ॥ ৩১৪ ॥ ২৪ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যোহয়ং জনক-যাজ্ঞবল্ক্যাখ্যারিকায়াং ব্যাখ্যাত আত্মা, স বৈ এধঃ মহান্ অজঃ আত্মা অন্নাদঃ—সর্ব্বভূতস্থঃ সর্ব্বান্নানামত্তা, বসুদানঃ বসু ধনং সর্ব্বপ্রাণিকৰ্ম্মফলম্, তস্য দাতা, প্রাণিনাং যথাকৰ্ম্ম ফলেন যোজ- য়িতেত্যর্থঃ। তমেতম্ অজমন্নাদং বসুদানমাত্মানম্ অন্নাদ-বসুদান-গুণাভ্যাং যুক্তং যো বেদ, সঃ সর্ব্বভূতেষাত্মভূতঃ অন্নমত্তি বিন্দতে চ বসু—সর্ব্বং কৰ্ম্মফলজাতং লভতে সর্ব্বাত্মত্বাদেব, য এবং যথোক্তং বেদ। অথবা দৃষ্টফলাথিভিরপি এবংগুণ উপাস্যঃ; তেন অন্নাদো বসোশ্চ লব্ধা, দৃষ্টেনৈব ফলেন অন্নাত্বেন গো-শ্বাদিনা চাশ্য যোগো ভবতীত্যর্থঃ ॥ ৩১৪ ॥ ২৪ ॥
টীকা। সংপ্রতি সোপাধিকব্রহ্মধ্যানাদভ্যুদয়ং দর্শয়তি-যোহয়মিত্যাদিনা। ঈশ্বরশ্চেৎ প্রাণিভ্যঃ কৰ্ম্মফলং দদাতি, তর্হি তস্য বৈষম্যনৈর্ঘুণ্যে স্যাতামিত্যাশঙ্ক্যাহ-প্রাণিনামিতি। উপাস্যস্বরূপং দর্শয়িত্বা তদুপাসনং সফলং দর্শয়তি-তমেতমিতি। সর্বাত্মত্বফলমুপাসনমুক্ত।
পক্ষান্তরমাহ-অথবেতি। দৃষ্টং ফলমন্নাতৃত্বং ধনলাভশ্চ। উক্তগুণকমীশ্বরং ধ্যায়তঃ ফলমাহ- তেনেতি। তদেব ফলং স্পষ্টয়তি-দৃষ্টেনেতি। অন্নাত্তৃত্বং দীপ্তাগ্নিত্বম্ ॥ ৩১৪ ॥ ২৪ ॥
ভাষ্যানুবাদ।-জনক-যাজ্ঞবল্ক্য-সংবাদে, যে আত্মার স্বরূপ বর্ণিত হইয়াছে, সেই এই আত্মা মহান্ অজ, অন্নাদ অর্থাৎ সর্ব্বপ্রাণিতে অবস্থানপূর্ব্বক সর্ব্বান্নভোক্তা, এবং বসুদান—প্রাণিগণের কর্ম্মফলরূপ যে ধন, তাহার প্রদান, অর্থাৎ প্রাণিগণকে নিজনিজ কর্ম্মানুসারে ফলভাগী করেন। যে ব্যক্তি সেই এই অজ, অন্নাদ ও বসুদাতা আত্মাকে অন্নাদ ও বসুদাতৃত্ব গুণযুক্তরূপে অবগত হয়, যে ব্যক্তি সর্ব্বভূতের আত্মস্বরূপ হইয়া অন্নভোগ করে, এবং সর্ব্বাত্মভাবাপন্ন বলিয়া সমস্ত কর্ম্মের ফলরাশি লাভ করে; অথবা যাহারা দৃষ্ট-ফলার্থী—ইহ লোকেই ফল পাইতে ইচ্ছা করিয়া থাকে, তাহাদের পক্ষেও কথিত-গুণসম্পন্ন আত্মার উপাসনা করা আবশ্যক, এবং সেইরূপ উপাসনার ফলে ইহলোকেই অন্নাদ (দীপ্তাগ্নি) ও বসুদ হয়, অর্থাৎ ঐহিক অন্নভোগ ও গো অশ্বাদি পশু ইহার আয়ত্ত হইয়া থাকে ॥ ৩১৪ ॥ ২৪ ॥
স বা এষ মহানজ আত্মাজরোহমরোহমৃতোহভয়ো ব্রহ্মাভয়ং বৈ ব্রহ্মাভয়ংহি বৈ ব্রহ্ম ভবতি, য এবং বেদ ॥ ৩১৫ ॥ ২৫ ॥
ইতি চতুর্থ্যাধ্যায়ঃ চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্ ॥ ৪ ॥ ৪ ॥
সরলার্থঃ।—অপিচ, স বৈ এষঃ মহান্ অজঃ আত্মা অজরঃ(জরা-রহিতঃ), অমরঃ(মরণবর্জিতঃ)[অতএব] অমৃতঃ(নিত্যঃ), অভয়ঃ(দ্বৈতজ্ঞানাধীন- ভয়রহিতঃ), ব্রহ্ম(পরমং মহৎ); বৈ(প্রসিদ্ধৌ), ব্রহ্ম অভয়ম্(ইতি প্রসিদ্ধম্)। যঃ(এবং যথোক্তগুণযোগেন) বেদ(আত্মানং জানাতি),[সঃ] অভয়ং ব্রহ্ম বৈ(এব) ভবতি ॥ ৩১৫ ॥ ২৫ ॥
ইতি চতুর্থধ্যায়ে চতুর্থ-ব্রাহ্মণব্যাখ্যা সমাপ্তা ॥ ৪ ॥ ৪ ॥
মূলানুবাদ।—অপিচ, সেই এই মহান্ অজ আত্মা জরারহিত, মরণবর্জ্জিত, অতএব অমৃত(অবিনাশী নিত্য), এবং অভয়(দ্বৈতভয়- শূন্য) ব্রহ্ম; ব্রহ্ম যে অভয়, ইহা প্রসিদ্ধ কথা। যে ব্যক্তি এইরূপ গুণযুক্ত আত্মাকে জানে, সে নিজেও অভয় ব্রহ্ম হয় ॥ ৩১৫ ॥ ২৫ ॥
ইতি চতুর্থীধ্যায়ে চতুর্থ ব্রাহ্মণের অনুবাদ ॥ ৪ ॥ ৪
শাঙ্করভাষ্যম্।—ইদানীং সমস্তস্যৈবারণ্যকস্য যোহর্থ উক্তঃ, স সমুচ্চিত্যাস্যাং কণ্ডিকায়াৎ ‘নির্দ্দিশ্যতে, এতাবান্ সমস্তারণ্যকার্থ ইতি। স বা এষ
মহানজ আত্মা অজরঃ ন জীর্য্যতে ইতি, ন বিপরিণমত ইত্যর্থঃ; অমরঃ-যস্মাচ্চ অজরঃ, তস্মাদমরঃ, ন ম্রিয়ত ইত্যমরঃ; যো হি জায়তে জীর্য্যতে চ, স বিনশ্যতি ম্রিয়তে বা; অয়ং তু অজত্বাদজরত্বাৎ চ অবিনাশী যতঃ, অত এব অমৃতঃ। যস্মাৎ জনিমৃতিপ্রভৃতিভিস্ত্রিভির্ভাববিকারৈর্ব্বর্জিতঃ, তস্মাদিতরৈরপি ভাববিকারৈস্ত্রিভিঃ তৎকৃতৈশ্চ কাম-কর্ম-মোহাদিভিমৃত্যুরূপৈঃ বর্জ্জিত ইত্যেতৎ; অভয়ঃ অত এব; যস্মাৎ চৈবং পূর্ব্বোক্ত-বিশেষণঃ, তস্মাত্তরবর্জ্জিতঃ; ভয়ং চ হি নাম অবিদ্যাকার্য্যম্, তৎকার্য্যপ্রতিষেধেন ভাববিকার প্রতিষেধেন চাবিদ্যায়াঃ প্রতিষেধঃ সিদ্ধো বেদিতব্যঃ। অভয় আত্মা, এবংগুণবিশিষ্টঃ কিমসৌ? ব্রহ্ম পরিবৃঢ়ং নিরতিশয়ং মহদিত্যর্থঃ। অভয়ং বৈ ব্রহ্ম; প্রসিদ্ধমেতল্লোকে অভয়ং ব্রহ্মেতি; তস্মাদ যুক্তমেবংগুণবিশিষ্ট আত্মা ব্রহ্মেতি। য এবং যথোক্তমাত্মান- মভয়ং ব্রহ্ম বেদ, সঃ অভয়ং হি বৈ ব্রহ্ম ভবতি। ১
টীকা। নিরুপাধিকব্রহ্মজ্ঞানান্ মুক্তিরুক্তা, সোপাধিকব্রহ্মজ্ঞানাৎ চাভ্যুদয় উক্তঃ, তথা চ কিমুত্তরকণ্ডিকয়েত্যাশঙ্ক্যাহ-ইদানীমিতি। অজত্বাচ্চাবিনাশীতি বক্তুং চশব্দঃ। কথং জন্ম- জরাভাবয়োরমরত্বাবিনাশিত্বসাধকত্বং, তদাহ-যো হাঁতি। অয়ং তু অজত্বাদবিনাশী, অজরত্বাৎ চামরঃ, অমরত্বাৎ চাবিনাশীতি যোজনা। মরণযোগ্যত্বমুপজীব্য মরণকার্য্যাভাবং দর্শয়তি-অত এবেতি। জন্মাপক্ষয়বিনাশানামের ভাববিকারাণামিহ-মুখ্যতো নিষেধাদ্বিবৃদ্ধ্যাদীনি বিকারা- ন্তরাণ্যাত্মনি ভবিষ্যন্তীতি বিশেষনিষেধস্য শেষাভ্যনুজ্ঞাপরত্বাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-যস্মাদিতি। ইতরে সত্ত্ববিবৃদ্ধিবিপরিণামাঃ। অত এবাভয় ইত্যুক্তং বিবৃণোতি-যস্মাচ্চেতি। কিং তদ্ভয়ং, তদাহ-ভয়ং চেতি। অবিদ্যানিষেধিবিশেষণাভাবাদাত্মানং সা সদা স্পৃশতীত্যাশঙ্ক্যাহ- তৎকায্যেতি। বিশেষণান্তরং প্রশ্নপূর্ব্বকমুখাপ্য ব্যাকরোতি-অভয়ম্ ইতি। কথং পুনরভয়- গুণবিশিষ্টস্যাত্মনো ব্রহ্মত্বম্, তদাহ-অভয়মিতি। বৈশব্দার্থমাহ-প্রসিদ্ধমিতি। লোকশব্দঃ শাস্ত্রস্যাপ্যুপলক্ষণম্। ১
এষ সর্ব্বস্যা উপনিষদঃ সংক্ষিপ্তোহর্থ উক্তঃ। এতস্যৈবার্থস্থ্য সম্যক্ প্রবোধার উৎপত্তি-স্থিতি-প্রলয়াদিকল্পনা ক্রিয়া-কারক-ফলাধ্যারোপণা চাত্মনি কৃতা; তদপোহেন চ নেতিনেতীত্যধ্যারোপিতবিশেষাপনয়নদ্বারেণ পুনস্তত্বমাবেদিতম্। যথা একপ্রভৃত্যাপরাদ্ধ-সঙ্গ্যাস্বরূপপরিজ্ঞানায় রেখাধ্যারোপণং কৃত্বা—একেয়ং রেখা, দশেয়ম্, শতেয়ম্, সহস্রেয়ম্ ইতি গ্রাহয়তি—অবগময়তি সঙ্ঘ্যাস্বরূপং কেবলম্—ন তু সংখ্যায়া রেখাত্মত্বমেব; যথা চ অকারাদীন্যক্ষরাণি বিজিগ্রাহ- রিষুঃ পত্র-মসী-রেখাদিসংযোগোপায়মাস্থার বর্ণানাং সতত্ত্বমাবেদয়তি, ন পত্রমস্যাদ্যাত্মতামক্ষরাণাং গ্রাহয়তি; তথা চেহ উৎপত্ত্যাদ্যনেকোপায়মাস্থায়ৈকং ব্রহ্মতত্ত্বমাবেদিতম্, পুনস্তৎকল্পিতোপায়জনিত-বিশেষ-পরিশোধনার্থং নেতি-
নেতীতি তত্ত্বোপসংহারঃ কৃতঃ। তদুপসংহৃতং পুনঃ পরিশুদ্ধং কেবলমেব সফলং জ্ঞানমস্তেহস্যাৎ কণ্ডিকায়ামিতি ॥৩১৫৷৷২৫৷৷
ইতি বৃহদারণ্যকোপনিষদ্ভাষ্যে চতুর্থধ্যায়ঃ চতুর্থং ব্রাহ্মণম্ ॥ ৪ ॥ ৪ ॥
বেদ্যস্বরূপমুক্ত। বিদ্যাফলং কথয়তি-য এবমিতি। কণ্ডিকার্থমুপসংহরতি-এষ ইতি। সৃষ্ট্যাদেরপি তদর্থত্বাৎ কিমিত্যসাবিহ নোপসংহ্রিয়তে, তত্রাহ-এতস্যেতি। সৃষ্ট্যাদে- রারোপিতত্বে গমকমাহ-তদপোহেনেতি। তচ্ছব্দঃ সৃষ্ট্যাদিপ্রপঞ্চবিষয়ঃ। তদপোহেনেতি যদুক্তং, তদেব স্ফুটয়তি-নেতীতি। অধ্যারোপাপবাদন্যায়েন তত্ত্বস্যাবেদিতত্বাদারোপিতং ভবত্যেব সৃষ্ট্যাদিদ্বৈতমিত্যর্থঃ। অধ্যারোপাপবাদন্যায় পঙ্কপ্রক্ষালনন্যায়বিরুদ্ধত্বাৎ তত্ত্বং বিবক্ষিতং চেৎ, তদেবোচ্যতাং, কৃতং সৃষ্ট্যাদিদ্বৈতারোপেণেত্যাশঙ্ক্যাহ-যথেতি। উদাহরণান্তর- মাহ-যথা চেতি। দৃষ্টান্তদ্বয়মনূদ্য দাষ্টান্তিকমাচষ্টে-তথা চেতি। ইহেতি মোক্ষশাস্ত্রোক্তিঃ। তথাপি কল্পিতপ্রপঞ্চসম্বন্ধপ্রযুক্তং সবিশেষত্বং ব্রহ্মণঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-পুনরিতি। তস্মিন্নাত্মনি কল্পিতঃ সৃষ্ট্যাদিরুপায়স্তেন জনিতো বিশেষস্তস্মিন্ কারণত্বাদিস্তস্য নিরাসার্থমিতি যাবৎ। তর্হি দ্বৈতাভাববিশিষ্টং তত্ত্বমিতি চেন্নেত্যাহ-তদুপসংহৃতমিতি। পরিশুদ্ধং ভাব- বদভাবেনাপি ন সংস্পৃষ্টমিত্যর্থঃ। কেবলমিত্যদ্বিতীয়োক্তিঃ। সৃষ্ট্যাদিবচনস্থ্য গতিমুক্ত। প্রকৃতমুপসংহরতি-সফলমিতি। ইতিশব্দঃ সংগ্রহসমাপ্ত্যর্থো ব্রাহ্মণসমাপ্ত্যর্থো বা ॥৩১৫৷২৫॥ ইতি বৃন্দাবনে কশ্যপনিবাসে চতুর্ব্বিংশতি চতুর্থোঽধ্যায়ঃ। চতুর্থোঽধ্যায়ঃ। ৪। ৪।
ভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর, সমস্ত বৃহদারণ্যকে যে তত্ত্ব প্রতিপাদিত হইয়াছে, তাহা একত্রিত করিয়া সংক্ষেপে এই কাণ্ডমধ্যে নির্দেশ করা হইতেছে। উদ্দেশ্য—সমস্ত বৃহদারণ্যকের অর্থ বা প্রতিপাদ্য বিষয় যে, এই পর্য্যন্তই, ইহা জ্ঞাপন করা।
সেই এই মহান্ অজ আত্মা হইতেছে অজর-কখনও জরাগ্রস্ত অর্থাৎ বিপরিণত বা ক্ষয়োন্মুখ হয় না; অমর-যেহেতু জরাবর্জিত, সেই হেতুই অমর- কখনও মরে না। কেন না, যাহা জন্মে ও জীর্ণ হয়, তাহাই বিনষ্ট হয় বা মরে; যেহেতু এই আত্মা অজ ও অজর বলিয়া অবিনাশী, সেই হেতুই অমৃত। যেহেতু জন্ম, জরা ও মরণ, এই ত্রিবিধ ভাব-বিকার(বস্তুধৰ্ম্ম) ইহার নাই, সেই হেতুই অপর যে তিনপ্রকার ভাববিকার(সত্তা, বৃদ্ধি ও বিপরিণাম), সে সমুদয় এবং তৎসহকৃত মৃত্যুরূপী কাম, কৰ্ম্ম ও মোহাদিও তাহার নাই, বুঝিতে হইবে। কোন বিকারের সম্ভাবনা নাই বলিয়াই অভয়(সর্ব্বপ্রকার ভয়বজ্জিত); কেন না, ভয় সাধারণতঃ অবিদ্যার ফল; সুতরাং অবিদ্যা-কার্য্যের নিষেধে এবং সর্ব্বপ্রকার ভাব- বিকারের প্রতিষেধেই ফলতঃ অবিদ্যারও প্রতিষেধ সিদ্ধ হইয়াছে বুঝিতে হইবে। উক্ত আত্মা কি কেবল’এই সমস্ত গুণবিশিষ্টই? না,[এই আত্মা] ব্রহ্ম-
১৩৩৭
পরিবৃঢ়, অর্থাৎ সর্ব্বাপেক্ষা অধিক মহান্। ব্রহ্মই অভয়; ব্রহ্ম যে অভয়, ইহা জগতেও প্রসিদ্ধ। অতএব আত্মা যে এবংবিধ গুণবিশিষ্ট, ইহা যুক্তি- যুক্তও বটে। ১
ইহাই সমস্ত উপনিষদের সারভূত অর্থ সংক্ষেপে উক্ত হইল। এই তত্ত্বটা উত্তমরূপে বুঝাইবার নিমিত্তই আত্মাতে সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় প্রভৃতি কার্য্যের কল্পনা, এবং ক্রিয়া কারক ও ফলের অধ্যারোপ করা হইয়াছে। পুনর্ব্বার ‘নেতি নেতি’ করিয়া, সেই আরোপিত বিশেষ বিশেষ ভাবগুলির অপনয়ন দ্বারা প্রকৃত তত্ত্ব বিজ্ঞাপিত হইয়াছে। যেমন এক হইতে পরার্দ্ধপর্যন্ত সংখ্যার স্বরূপ জ্ঞাপনের জন্য, রেখাতে একত্বাদি সংখ্যার আরোপ করিয়া বুঝান হয় যে, এই রেখাটী এক, এইটী শত, এইটী সহস্র ইত্যাদি।[প্রকৃতপক্ষে কিন্তু রেখাই সংখ্যা নহে]; এখানে কেবল সংখ্যাই বুঝান হয়, কিন্তু একত্বাদি সংখ্যাকে কখনই রেখা বলিয়া উপদেশ করা হয় না; অথবা অকারাদি অক্ষর শিক্ষা দিবার ইচ্ছায় যেমন রেখা অঙ্কনের উপকরণ কালি কলম ও পত্রাদির সাহায্য লইয়া প্রকৃত বর্ণেরই (অক্ষরেরই) তত্ত্ব শিক্ষা দেওয়া হয়, কিন্তু কালি ও পত্র প্রভৃতিকেই অক্ষর বলিয়া কেহ কখনও উপদেশ দেয় না;[উপনিষদের সৃষ্টিচিন্তা প্রভৃতিও ঠিক তেমনই]। প্রথমতঃ উৎপত্তি প্রভৃতি বহু উপায় অবলম্বন করিয়া একই ব্রহ্মতত্ত্ব উপদিষ্ট হইয়াছে; আবার সেই সমুদয় কল্পিত উপায় আশ্রয় করাতে যে, ব্রহ্মেতে ভেদবুদ্ধি উপস্থিত হইয়াছিল, তন্নিরাকরণার্থ আবার ‘নেতি নেতি’ বলিয়া ভেদ- প্রত্যাখ্যান দ্বারা পরমার্থ তত্ত্বের উপসংহার করা হইয়াছে; সেই জন্য এই ব্রাহ্মণের এই কণ্ডিকায় কেবল বিশুদ্ধ জ্ঞানের উপসংহার করা হইল ॥৩১৫৷৷২৫৷৷
ইতি বৃন্দাবনকোশনিব্দে চতুর্থধ্যায়ে চতুর্থ ব্রাহ্মণের ভাষ্যানুবাদ ॥৪॥৪॥
আভাসভাষ্যম্।—আগমপ্রধানেন মধুকাণ্ডেন ব্রহ্মতত্ত্বং নির্দ্ধারিতম্। পুনস্তস্যৈব উপপত্তিপ্রধানেন যাজ্ঞবল্কীয়েন কাণ্ডেন পক্ষপ্রতিপক্ষপরিগ্রহং কৃত্বা বিগৃহ্য-বাদেন বিচারিতম্। শিষ্যাচার্য্যসম্বন্ধেন চ ষষ্ঠে প্রশ্ন-প্রতিবচনন্যায়েন সবিস্তরং বিচার্য্যোপসংহৃতম্। অথেদানীং নিগমনস্থানীয়ং মৈত্রেয়ীব্রাহ্মণমার- ভ্যতে।—অয়ঞ্চ ন্যায়ো বাক্য-কোবিদৈঃ পরিগৃহীতঃ—“হেত্বপদেশাৎ প্রতিজ্ঞায়াঃ পুনর্ব্বচনং নিগমনম্” ইতি।
অথবা আগমপ্রধানেন মধুকাণ্ডেন যদমৃতত্বসাধনং সসন্ন্যাসমাত্মজ্ঞানমভি- হিতম্, তদেব তর্কেণাপ্যমৃতত্বসাধনং সসন্ন্যাসমাত্মজ্ঞানমধিগম্যতে; তর্কপ্রধানং হি যাজ্ঞবল্কীয়ং কাণ্ডম্; তস্মাচ্ছাস্ত্রতর্কাভ্যাং নিশ্চিতমেতৎ যদেতদাত্মজ্ঞানং সসন্ন্যাসমমৃতত্বসাধনমিতি। তস্মাচ্ছাস্ত্রশ্রদ্ধাবদ্ভিরমৃতত্বপ্রতিপিৎসুবিরেতৎ প্রতি- পত্তব্যমিতি। আগমোপপত্তিভ্যাং হি নিশ্চিতোহর্থঃ শ্রদ্ধেয়ো ভবতি, অব্যভি- চারাদিতি। বাক্যাক্সরাণান্ত চতুর্থে যথা ব্যাখ্যাতোহর্থঃ, তথা প্রতিপত্তব্যো- হত্রাপি; যান্যক্ষরাণি অবখ্যাতানি, তানি ব্যাখ্যাস্যামঃ।
আভাসভাষ্য-টীকা। সমাপ্তং শারীরক-ব্রাহ্মণম্, বংশব্রাহ্মণং ব্যাখ্যাতব্যম্, কৃতং গতার্থেন মৈত্রেয়ী-ব্রাহ্মণেন, ইত্যাশঙ্ক্য মধুকাণ্ডার্থমনুদ্রবতে আগমেতি। পাঞ্চমিকমর্থমনুভাষতে পুন- রিতি। তস্যৈব ব্রহ্মণস্তত্ত্বমিতি শেষঃ। বিগৃহ্যবাদঃ জয়পরাজয়প্রধানঃ জল্পপ্রায়ঃ। যষ্ঠে প্রতিষ্ঠাপিত- মনুবদতি-শিষ্যেতি। প্রশ্নপ্রতিবচনন্যায়স্তত্ত্বনির্ণয়প্রধানো বাদঃ। উপসংহৃতং তদেব তত্ত্বমিতি শেষঃ। সংপ্রত্যুত্তরব্রাহ্মণস্যাগতার্থত্বমাহ-অথেতি। আগমোপপত্তিভ্যাং নিশ্চিতে তত্ত্বে নিগমনমকিঞ্চিৎকরমিত্যাশঙ্ক্যাহ-অয়ং চেতি। প্রকারান্তরেণ সঙ্গতিমাহ-অথবেতি। কথমিহ তর্কেণাধিগতিস্তত্রাহ-তর্কেতি। মুনিকাণ্ডস্য তর্কপ্রধানত্বে কিং স্যাৎ, তদাহ- তস্মাদিতি। ইতি ফলতীতি শেষঃ। শাস্ত্রাদিনা যথোক্তস্য জ্ঞানস্য নিশ্চিতত্বেহপি কিং সিধ্যতি, তদাহ-তস্মাচ্ছাস্ত্রশ্রদ্ধাবদ্ভিরিতি। এতচ্ছব্দো যথোক্তজ্ঞানপরামর্শার্থঃ। ইতি সিধ্যতীতি শেষঃ। তত্র হেতুমাহ-আগমেতি। অব্যভিচারান্ মানযুক্তিগম্যস্যার্থস্য তথৈব সত্ত্বাদিতি যাবৎ। ইতিশব্দো ব্রাহ্মণসঙ্গতিসমাপ্ত্যর্থঃ। তাৎপর্যার্থে ব্যাখ্যাতে সত্যক্ষরব্যাখ্যান- প্রসক্তাবাহ-অক্ষরাণাং স্থিতি। তর্হি ব্রাহ্মণেহস্মিন্ বক্তব্যাভাবাৎ পরিসমাপ্তিরেবেত্যা- শন্যাহ-যানীতি।
আভাসভাষ্যানুবাদ।—ইতঃপূর্ব্বে আগমপ্রধান(তর্করহিত বাক্য- প্রধান) মধুকান্ডে(মধুব্রাহ্মণে) ব্রহ্মতত্ত্ব নির্দ্ধারিত হইয়াছে। পুনর্ব্বার সেই
বিষয়েরই সমর্থনের জন্য তর্কপ্রধান যাজ্ঞবল্কীয় কাণ্ডে পক্ষ-প্রতিপক্ষ পরিগ্রহপূর্ব্বক ‘বিগৃহ্যবাদে’(যেরূপ কথায় কেবল বাদী ও প্রতিবাদীর জিগীষামূলক তর্ক মাত্র থাকে, সেই প্রণালীতে) ব্রহ্মতত্ত্ব বিচারিত হইয়াছে। তাহার পর ষষ্ঠ অধ্যায়েও (উপনিষদের চতুর্থ অধ্যায়েও) শিষ্যাচার্য্য-সংবাদের নিয়মে প্রশ্ন ও প্রতিবচনের ছলে বিস্তৃতভাবে বিচারপূর্ব্বক তাহার উপসংহার করা হইয়াছে। অতঃপর এখন ‘মৈত্রেয়ীব্রাহ্মণ’ আরব্ধ হইতেছে। ইহা পূর্ব্বকথারই নিগমনস্থানীয়,[‘নিগমন’ অর্থ—কথিত বিষয়ের যুক্তিসহকারে উপসংহার বা পুনরুল্লেখ।] বাক্যবিৎ প্রাচীন পণ্ডিতগণও এইরূপ উপদেশপ্রণালীর অঙ্গীকার বা অনুমোদন করিয়া- ছেন;[গোতম ঋষি ন্যায়দর্শনে বলিয়াছেন—] ‘হেতুপ্রদর্শনের ছলে যে, প্রতিজ্ঞাত বিষয়ের পুনর্ব্বার কথন, তাহার নাম ‘নিগমন’।(১)
অথবা(এরূপও বলা যাইতে পারে যে,) আগমপ্রধান—তর্কনিরপেক্ষ শব্দ- মাত্রপ্রধান পূর্ব্বোক্ত ‘মক্কাণ্ডে’ সন্ন্যাস-সহকৃত যে আত্মজ্ঞান মুক্তিলাভের উপায় বলিয়া অভিহিত হইয়াছে, তর্ক দ্বারাও ঐ সসন্ন্যাস আত্মজ্ঞানেরই মুক্তি- সাধনত্ব প্রতীত বা প্রমাণিত হইতে পারে;[এই জন্য এখানে তাহার পুনরুল্লেখ করা হইল।] কেন না, এই যে, যাজ্ঞবল্কীয় প্রকরণ, ইহা তর্কপ্রধান; সুতরাং শাস্ত্র ও তর্কের সাহায্যে ইহাই নিশ্চিত হইল যে, সন্ন্যাসসহকৃত এই আত্ম-জ্ঞানই মুক্তির প্রকৃত সাধন বা উপায়। অতএব শাস্ত্রবাক্যে যাহাদের শ্রদ্ধা আছে, সেই সমুদয় মুমুক্ষুর পক্ষে ইহা অবশ্য অবলম্বনীয়; কারণ, শাস্ত্র ও তর্ক- দ্বার। যাহা নিশ্চিত হয়, তাহার কখনও ব্যতিক্রম ঘটে না; সুতরাং তদ্বিষয়ে সহজেই শ্রদ্ধা হওয়া উচিত। চতুর্থ প্রকরণে যেরূপ ব্যাখ্যা করা হইয়াছে,
(১) তাৎপর্য্য—বাদী ও প্রতিবাদী উভয়ের মধ্যে কোন বিষয়ে সংশয় উপস্থিত হইলে, তাহার তত্ত্ব নির্দ্ধারণের জন্য যে, সাধ্য বা স্বপক্ষ নির্দেশ, তাহার নাম প্রতিজ্ঞা। পরে উপযুক্ত হেতু দ্বারা সেই প্রতিজ্ঞাত বিষয়ের সমর্থন করা আবশ্যক হয়; তাহার পর হেতুর সহিত যে, প্রতিজ্ঞাত বিষয়ের পুনর্ব্বার উল্লেখ করা, তাহার নাম ‘নিগমন’।
যেমন পর্ব্বতে অগ্নি আছে কি না, এই বিষয় লইয়া দুই জনের মধ্যে বিবাদ উপস্থিত হইলে পর, একজন বলিল—‘হাঁ, পর্ব্বতে অগ্নি আছে’; ইহাই হইল তাহার প্রতিজ্ঞা বা সাধ্যনির্দেশ। পরে দ্বিতীয় ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিল, পর্ব্বতে যে অগ্নি আছে, তাহার হেতু বা যুক্তি কি? উত্তর হইল—‘যেহেতু পর্ব্বতে ধূম দেখা যাইতেছে’; ইহাকে বলে হেতুনির্দেশ। শেষে ‘অতএব পর্ব্বতে নিশ্চয়ই অগ্নি আছে’ এইরূপে যে হেতুর সঙ্গে প্রতিজ্ঞাত বিষয়ের নির্দেশ, তাহার নাম—‘নিগমন’।
এখানেও ঠিক তদনুরূপই শব্দার্থ বুঝিতে হইবে; আর যে সমস্ত কথার অর্থ সেখানে ব্যাখ্যাত হয় নাই, আমরা এখানে কেবল সেই সমুদয় কথারই ব্যাখ্যা করিব।
অথ হ যাজ্ঞবল্ক্যস্য দ্বে ভার্য্যে বভূবতুর্মৈত্রেয়ী চ কাত্যায়নী চ। তয়োর্হ মৈত্রেয়ী ব্রহ্মবাদিনী বভূব, স্ত্রীপ্রজ্ঞৈব তর্হি কাত্যা- য়নী, অথ হ যাজ্ঞবল্ক্যোহন্যত্বমুপাকরিষ্যন্—॥ ৩১৬ ॥ ১ ॥
সরলার্থঃ।—অথ(আখ্যায়িকারম্ভে) হ(ঐতিহ্যে) যাজ্ঞবল্ক্যস্য(তদাখ্যস্য ঋষেঃ) মৈত্রেয়ী চ কাত্যায়নী চ দ্বে ভার্য্যে(পত্নৌ) বভূবতুঃ। তয়োঃ(পত্ন্যো- র্ম্মধ্যে) মৈত্রেয়ী(তদাখ্যা পত্নী) ব্রহ্মবাদিনী(ব্রহ্মকথনশীলা) বভূব, তর্হি (তস্মিন্ কালে) কাত্যায়নী(তদাখ্যা পত্নী তু) স্ত্রীপ্রজ্ঞা(স্ত্রীজনোচিতবুদ্ধি- বিজ্ঞানসম্পন্না সরলা) এব[আসীৎ]। অথ(এবং সতি) যাজ্ঞবল্ক্যঃ অন্যৎ বৃত্তং (পূর্ব্বস্মাৎ গার্হস্থ্যলক্ষণাৎ ধর্ম্মাৎ সন্ন্যাসলক্ষণং ধর্ম্মান্তরম্) উপাকরিষ্যন্(গ্রহী- ষ্যন্ সন্—) ॥৩১৬৷৷১৷৷
মূলানুবাদ।—অতঃপর যাজ্ঞবল্কীয় কাণ্ড মৈত্রেয়ীব্রাহ্মণ আরব্ধ হইতেছে—যাজ্ঞবল্ক্য ঋষির মৈত্রেয়ী ও কাত্যায়নী নামে প্রসিদ্ধা দুই পত্নী ছিলেন; তন্মধ্যে মৈত্রেয়ী ব্রহ্মবাদিনী ছিলেন, আর কাত্যায়নী তখনও সাধারণ স্ত্রীজনোচিত বুদ্ধিসম্পন্না ছিলেন। যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি অন্য বৃত্ত অর্থাৎ গার্হস্থ্য হইতে পৃথক্ ধর্ম্ম—সন্ন্যাসাশ্রম অবলম্বন করিবেন মনে করিয়া—॥ ৩১৬ ॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথেতি হেত্বপদেশানন্তর্য্যপ্রদর্শনার্থঃ। হেতুপ্রধা- নানি হি বাক্যান্যতীতানি, তদনন্তরমাগমপ্রধানেন প্রতিজ্ঞাতোহর্থো নিগম্যতে মৈত্রেয়ীব্রাহ্মণেন। হ-শব্দো বৃত্তাবদ্যোতকঃ। যাজ্ঞবল্ক্যস্য ঋষেঃ কিল দ্বে ভার্য্যে পত্ন্যো বভূবতুরাস্তাম্—মৈত্রেয়ী চ নামত একা, অপরা কাত্যায়নী নামতঃ। তয়োভার্য্যয়োঃ মৈত্রেয়ী হ কিল ব্রহ্মবাদিনী ব্রহ্ম-বদনশীলা বভূব আসীৎ। স্ত্রী- প্রজ্ঞা—স্ত্রিয়াং যা উচিতা, সাস্ত্রীপ্রজ্ঞৈব তর্হি তস্মিন্ কালে আসীৎ কাত্যায়নী। অথ এবং সতি হ কিল যাজ্ঞবল্ক্যঃ পূর্ব্বস্মাৎ গার্হস্থ্যলক্ষণাৎ বৃত্তাৎ পারিব্রাজ্য- লক্ষণং বৃত্তম্ উপাকরিষ্যন্ উপাচিকীর্ষুঃ সন্—॥৩১৬৷১৷
টীকা। ননু বাক্যানি, পূর্ব্বত্র ব্যাখ্যাতানি ন হেতুরুপদিষ্টঃ, তৎ কথং তদুপদেশানন্তর্য্যং সসংস্যাসস্যামৃতত্বহেতোরাত্মজ্ঞানস্থার্থশব্দেন দ্যোত্যতে, তত্রাহ-হেতুপ্রধানানীতি। তদেব
বৃত্তং ব্যনক্তি-যাজ্ঞবন্ধ্যস্যেতি। অথেত্যস্যার্থমাহ-এবং সতীতি। ভার্য্যান্বয়ে দর্শিতরীত্যা স্থিতে, স্বস্ত চ বৈরাগ্যাতিরেকে সতীতি যাবৎ। ৩১৬।১।
ভাষ্যানুবাদ।—অথ শব্দের অর্থ—হেতুপ্রদর্শনের আনন্তর্য; কারণ, ইতঃপূর্ব্বে কারণপ্রদর্শক বাক্যসমূহ প্রদর্শিত হইয়াছে; তাহার পর এখন আগম- প্রধান(যুক্তিরহিত কেবল শব্দমাত্র-প্রধান) মৈত্রেয়ীব্রাহ্মণে পূর্ব্বপ্রতিজ্ঞাত বিষয়- সমূহ উপপাদিত হইতেছে।[শ্রুতির] ‘হ’ শব্দটী অতীত বৃত্তান্ত-দ্যোতক।
যাজ্ঞবল্ক্যনামক ঋষির দুইটী ভার্য্যা—পত্নী ছিলেন; এক জনের নাম মৈত্রেয়ী, অপরের নাম কাত্যায়নী। সেই উভয় ভার্য্যার মধ্যে মৈত্রেয়ী ব্রহ্মবাদিনী— ব্রহ্মবিষয়ক আলোচনায় তৎপরা ছিলেন, আর কাত্যায়নী তখনও স্ত্রীপ্রজ্ঞাই ছিলেন; স্ত্রীপ্রজ্ঞা অর্থ—স্ত্রীলোকের যেরূপ প্রজ্ঞা(জ্ঞান) থাকা আবশ্যক, সেইরূপ প্রজ্ঞা—গৃহকর্মোপযোগী প্রয়োজন-নির্ব্বাহক্ষম বুদ্ধি তাঁহার ছিল। এরূপ অবস্থায় যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি অন্য বৃত্ত অর্থাৎ পূর্ব্বতন গার্হস্থ্য আশ্রম হইতে স্বতন্ত্র সন্ন্যাসাশ্রম গ্রহণেচ্ছু হইয়া—॥৩১৬৷১৷৷
মৈত্রেয়ীতি হোবাচ যাজ্ঞবল্ক্যঃ—প্রব্রজিষ্যন্ বা অরেহহমস্মাৎ স্থানাদস্মি, হন্ত তেহনয়া কাত্যায়ন্যান্তং করবাণীতি ॥ ৩১৭৷ ২ ॥
সরলার্থঃ।—যাজ্ঞবল্ক্যঃ হে মৈত্রেয়ি, ইতি[সম্বোধ্য] উবাচ হ—অরে (অয়ি মৈত্রেয়ি,) অহং অস্মাৎ স্থানাৎ(গার্হস্থ্যাৎ) প্রব্রজিষ্যন্(প্রব্রজ্যাং করিষ্যন্) বৈ অস্মি(ভবামি)। হন্ত(প্রার্থনায়াম্); অনয়া কাত্যায়ন্যা (তদাখ্যয়া সপত্ন্যা সহ) তে(তব) অন্তং(বিচ্ছেদং) করবাণি(প্রার্থনায়াং লোট্) ইতি ॥৩১৭৷৷২৷৷
মূলানুবাদ।—যাজ্ঞবল্ক্য মৈত্রেয়ীকে সম্বোধনপূর্ব্বক বলি- লেন—অরে মৈত্রেয়ি, আমি এই গার্হস্থ্য আশ্রম হইতে চলিয়া যাইতে অর্থাৎ সন্ন্যাস গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক হইয়াছি। যদি ইচ্ছা কর, তবে আমি এই কাত্যায়নীর সহিত তোমার বিচ্ছেদ(বিভাগ) করিয়া দিতে ইচ্ছা করি ॥ ৩১৭ ॥২॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—হে মৈত্রেয়ীতি জ্যেষ্ঠাৎ ভার্য্যামামন্ত্রয়ামাস। আমন্ত্র্য চোবাচ হ—প্রব্রজিষ্যন্ পারিব্রাজ্যং করিষ্যন্ বা অরে মৈত্রেয়ি, অস্মাৎ স্থানাৎ গার্হস্থ্যাদহমস্মি ভবামি। মৈত্রেয়ি, অনুজানীহি মাম্; হন্ত ইচ্ছসি যদি, তে অনয়া কাত্যায়ন্যা অন্তং করবাণি—ইত্যাদি ব্যাখ্যাতম্॥৩১৭৷৷২৷৷
টীকা। তস্যা ব্রহ্মবাদিত্বং তদামন্ত্রণদ্বারেণ তাং প্রত্যেব সংবাদে হেতুকর্তব্যম্। তস্য ব্রহ্মবাদিত্বং দ্যোতয়িতুমিচ্ছসি যদীত্যুক্তম্ ॥ ৩১৭॥২॥
ভাষ্যানুবাদ।—[যাজ্ঞবল্ক্য] হে মৈত্রেয়ি, বলিয়া জ্যেষ্ঠা ভার্য্যাকে আহ্বান করিলেন, এবং আহ্বান করিয়া বলিলেন—অরে মৈত্রেয়ি, আমি এই স্থান হইতে অর্থাৎ গার্হস্থ্যাশ্রম হইতে প্রব্রজ্যা করিতে ইচ্ছুক হইয়াছি। তুমি যদি ইচ্ছা কর, তবে আমাকে অনুমতি প্রদান কর। তোমাকে এই কাত্যায়নীর সহিত বিচ্ছিন্ন করিয়া দিই অর্থাৎ তোমাদের ধনসম্পদ্ বিভাগ করিয়া দিতে ইচ্ছা করি(১) ॥৩১৭৷৷২॥
সা হোবাচ মৈত্রেয়ী যন্নু ম ইয়ং ভগোঃ সর্ব্বা পৃথিবী বিত্তেন পূর্ণা স্যাৎ, স্যাং ন্বহং তেনামৃতাহো ৩ নেতি; নেতি হোবাচ যাজ্ঞবল্ক্যঃ, যথৈবোপকরণবতাং জীবিতম্, তথৈব তে জীবিত- স্যাদমৃতত্বস্য তু নাশাস্তি বিত্তেনেতি ॥ ৩১৮ ॥ ৩ ॥
সরলার্থঃ।—সা(এবং পৃষ্ঠা) মৈত্রেয়ী উবাচ(যাজ্ঞবল্ক্যম্ উক্তবর্তী) হ—ভগোঃ(ভগবন্), নু(বিতর্কে) যৎ(যদি) বিত্তেন(ধনেন) পূর্ণা ইয়ং সর্ব্বা পৃথিবী মে(মম) স্যাৎ(ভবেৎ), অহং তেন(বিত্তপূর্ণপৃথিবীলাভেন) অমৃতা(অমরণশীলা)—বিমুক্তা স্যাম্(ভবেয়ম্)? আহো(অথবা) ন, ইতি। যাজ্ঞবল্ক্যঃ উবাচ হ—ন ইতি(অমৃতা ন ভবেঃ ইতি);[পরন্তু] উপকরণবতাং (ভোগসাধন-সম্পন্নানাং) জীবিতং(জীবনং) যথা(যদ্বৎ সুখবহুলং) ভবেৎ, (তথা) তদ্বৎ(এব নিশ্চয়ে), তে(তব) জীবিতং স্যাৎ; বিত্তেন(ধনেন) তু(পুনঃ) অমৃতত্বস্য(মুক্তেঃ) আশা(সম্ভাবনাপি) ন অস্তি;[কা কথা তৎ- প্রাপ্তেঃ] ইতি ॥৩১৮৷৷৩৷৷
মূলানুবাদ।—সেই মৈত্রেয়ী বলিলেন—ভগবন্, যদি ধন- পূর্ণা এই সম্পূর্ণ পৃথিবী আমার আয়ত্ত হয়, তাহা হইলে তদ্দ্বারা আমি অমৃতা মরণরহিতা—বিমুক্তা হইতে পারিব কি না? যাজ্ঞবল্ক্য বলিলেন, না—অমৃতা হইতে পারিবে না, কিন্তু বিবিধ ভোগসাধনসম্পন্ন লোক-
১৩১৩
দিগের জীবন যেরূপ(সুখবহুল) হয়, তোমারও ঠিক সেইরূপই হইবে, কিন্তু বিত্ত দ্বারা অমৃতত্ব লাভের আশাও নাই ॥ ৩১৮ ॥ ৩॥ শাঙ্করভাষ্যম্:-৷০৷৩১৮৷৷৩৷৷ টাকা। ০।৩১৮।৩। সা হোবাচ মৈত্রেয়ী যেনাহং নামৃতা স্যাম্, কিমহং তেন কুৰ্যাম্, যদেব ভগবান্ বেদ, তদেব মে ক্রহীতি ॥ ৩১৯ ॥ ৪ ॥ সরলার্থঃ।-সা(এবমুক্তা) মৈত্রেয়ী উবাচ হ-অহং যেন(বিত্তেন) অমৃতা ন স্যাম্(ন ভবেয়ম্), অহং তেন(বিত্তেন) কিং কুৰ্যাম্(ন কিমপীতি ভাবঃ)। ভগবান্(পূজনীয়ঃ ভবান্) যৎ এব বেদ(অমৃতত্বসাধনং জানাসি) তৎ এব মে(মহাং) ক্রহি(কথর) ইতি ॥৩১৯৷৪৷৷ মূলানুবাদ।—এই কথার পর মৈত্রেয়ী বলিলেন, যাহা দ্বারা আমি অমৃতা হইব না, সেই বিত্ত দ্বারা আমি কি করিব? পূজনীয় আপনি যাহা(অমৃতত্ব লাভের নিশ্চিত সাধন) অবগত আছেন, তাহাই আমাকে বলুন ৷ ৩১৯ ॥ ৪ ॥ শাঙ্করভাষ্যম্।-সৈবমুক্তোবাচ মৈত্রেয়ী। সর্ব্বেয়ং পৃথিবী বিত্তেন পূর্ণা স্যাৎ, নু কিং শ্যাম্? কিমহং বিত্তসাধ্যেন কৰ্ম্মণা অমৃতা, আহো ন স্যামিতি। নেতি হোবাচ যাজ্ঞবল্ক্য ইত্যাদি সমানমন্যৎ ॥৩১৯৷৪৷৷ টীকা। মৈত্রেয়ী ত্বমৃতত্বমাত্রাপিতামাত্মনো দর্শয়তি-সৈবমিতি ॥ ৩১৯ ॥ ৪ ॥ ভাষ্যানুবাদ।—সেই মৈত্রেয়ী এই কথা শ্রবণ করিয়া বলিলেন- যদি ধনপূর্ণা এই সমস্ত পৃথিবী আমার হয়,[তাহা হইলে] আমি কি হইব? অর্থাৎ বিত্তসাধ্য কৰ্ম্ম দ্বারা আমি কি অমৃতা হইতে পারিব, অথবা পারিব না? যাজ্ঞবল্ক্য বলিলেন-না, পারিবে না। অন্য অংশের ব্যাখ্যা পূর্ব্বের ন্যায় ॥৩১৯৷৪৷৷ স হোবাচ যাজ্ঞবল্ক্যঃ-প্রিয়া বৈ খলু নো ভবতী সতী প্রিয়মবৃধৎ, হন্ত তর্হি ভবত্যেতদ্ব্যাখ্যাস্যামি তে, ব্যাচক্ষাণস্য তু মে নিদিধ্যাসস্বেতি ॥ ৩২০ ॥ ৫ ॥ সরলার্থঃ।-সঃ(এবমুক্তঃ) যাজ্ঞবল্ক্যঃ উবাচ হ-[হে মৈত্রেয়ি,] ভবতী নঃ(অস্মাকং) প্রিয়া(প্রীতিভাজনং) বৈখলু(নিশ্চয়ে) সতী, প্রিয়ম্ (আনন্দম) অবৃধৎ(বর্দ্ধিতবতী)। হন্ত(প্রার্থনায়াম্, আহলাদে বা), তহি
হে ভবতি, তে(তুভ্যম্) এতৎ(অমৃতত্বসাধনম্) ব্যাখ্যাস্যামি(কথয়িষ্যামি); ব্যাচক্ষাণস্য(ব্যাখ্যাং কুর্ব্বতঃ) তু মে(মম)[কথায়াম্] নিদিধ্যাসস্ব (একাগ্রচিত্তা ভব) ইতি ॥ ২১০॥ ৫ ॥
মূলানুবাদ?—মৈত্রেয়ী এই কথা বলিলে পর, যাজ্ঞবল্ক্য বলিলেন—তুমি আমার যেমন প্রিয়া, তেমনই প্রীতি বর্দ্ধনই করিয়াছ। ভাল, তুমি যদি ইচ্ছা কর, তাহা হইলে ইহা(অমৃতত্বসাধন) তোমার নিকট ব্যাখ্যা করিতেছি; তুমি আমার ব্যাখ্যায় মনো- যোগিনী হও॥ ৩২০॥ ৫॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—স হোবাচ প্রিয়ৈব পূর্ব্বং খলু, নঃ অস্মভ্যং ভবতী ভবন্তী সতী প্রিয়মেব অবৃধৎ বর্দ্ধিতবতী নির্দ্ধারিতবত্যসি; অতস্তুষ্টোহহম্। হন্ত ইচ্ছসি চেৎ অমৃতত্বসাধনং জ্ঞাতুম্, হে ভবতি, তে তুভ্যং তদমৃতত্ত্বসাধনং ব্যাখ্যাস্যামি ॥ ৩২০ ॥ ৫ ॥
টীকা। গুরুপ্রসাদাধীনা বিদ্যাবাপ্তিরিতি দ্যোতনার্থমাহ-স হোবাচেতি। জ্ঞানেচ্ছা- দুর্ল ভতাদ্যোতনায় চেদিত্যুক্তম্। ৩২০ ॥ ৫ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—সেই যাজ্ঞবল্ক্য বলিলেন—তুমি পূর্ব্বেই আমার প্রীতি- ভাজন ছিলে, এখনও তুমি প্রিয় বিষয়ই অবধারণ করিয়াছ; অতএব আমি সন্তুষ্ট হইয়াছি। তুমি যদি অমৃতত্বলাভের উপায় জানিতে ইচ্ছা কর, তাহা হইলে, হে ভবতি, তোমার নিকট সেই অমৃতত্ব-সাধন ব্যাখ্যা করিব ॥ ৩২০ ॥ ৫ ॥
স হোবাচ—ন বা অরে পত্যুঃ কামায় পতিঃ প্রিয়ো ভবত্যা- ত্মনস্ত কামায় পতিঃ প্রিয়ো ভবতি। ন বা অরে জায়ায়ৈ কামায় জায়া প্রিয়া ভবত্যাত্মনস্ত কামায় জায়া প্রিয়া ভবতি। ন বা অরে পুত্রাণাং কামায় পুত্রাঃ প্রিয়া ভবন্ত্যাত্মনস্ত কামায় পুত্রাঃ প্রিয়া ভবন্তি। ন বা অরে বিত্তস্য কামায় বিত্তং প্রিয়ং ভবত্যাত্মনস্ত কামায় বিত্তং প্রিয়ং ভবতি। ন বা অরে পশূনাং কামায় পশবঃ প্রিয়া ভবন্ত্যাত্মনস্ত কামায় পশবঃ প্রিয়া ভবন্তি। ন বা অরে ব্রহ্মণঃ কামায় ব্রহ্ম প্রিয়ং ভবত্যাত্মনস্ত কামায় ব্রহ্ম প্রিয়ং ভবতি। ন বা অরে ক্ষত্রস্য কামায় ক্ষত্রং
১৩১৫
প্রিয়ং ভবত্যাত্মনস্ত কামায় ক্ষত্রং প্রিয়ং ভবতি। ন বা অরে লোকানাং কামায় লোকাঃ প্রিয়া ভবন্ত্যাত্মনস্ত কামায় লোকাঃ প্রিয়া ভবন্তি। ন বা অরে দেবানাং কামায় দেবাঃ প্রিয়া ভবন্ত্যাত্মনস্ত কামায় দেবাঃ প্রিয়া ভবন্তি।
ন বা অরে বেদানাং কামায় বেদাঃ প্রিয়া ভবন্ত্যাত্মনস্ত কামায় বেদাঃ প্রিয়া ভবন্তি। ন বা অরে ভূতানাং কামায় ভূতানি প্রিয়াণি ভবন্ত্যাত্মনস্ত কামায় ভূতানি প্রিয়াণি ভবন্তি। ন বা অরে সর্ব্বস্য কামায় সর্ব্বং প্রিয়ং ভবত্যাত্মনস্ত কামায় সর্ব্বং প্রিয়ং ভবতি। আত্মা বা অরে দ্রষ্টব্যঃ শ্রোতব্যো মন্তব্যো নিদিধ্যাসিতব্যো মৈত্রেয়ি, আত্মনি খল্বরে দৃষ্টে শ্রুতে মতে বিজ্ঞাত ইদ্সর্ব্বং বিদিতম্ ॥ ৩২১ ॥ ৬ ॥
সরলার্থঃ।-সঃ(এবং পৃষ্টঃ) যাজ্ঞবল্ক্যঃ উবাচ হ-অরে(হে মৈত্রেয়ি,) পত্যুঃ(স্বামিনঃ) কামায়(প্রীতয়ে) পতিঃ ন বৈ(নৈব) প্রিয়ঃ ভবতি,[পত্ন্যা ইতি শেষঃ]; তু(পুনঃ) আত্মনঃ(স্বস্যাঃ) কামায় পতিঃ [পত্ন্যাঃ] প্রিয়ঃ ভবতি। তথা অরে জায়ায়ৈ(জায়ায়াঃ) কামায় জায়া ন বৈ প্রিয়া ভবতি[পত্যুরিতি শেষঃ], তু(পুনঃ) আত্মনঃ(স্বস্য) কামায় জায়া [পত্যুঃ], প্রিয়া ভবতি। অরে পুত্রাণাং কামায় পুত্রাঃ ন বৈ প্রিয়াঃ ভবন্তি [পিতুঃ], তু(পুনঃ) আত্মনঃ কামার পুত্রাঃ প্রিয়াঃ ভবন্তি[পিতুরিতি শেষঃ]। অরে, বিত্তস্য(ধনস্য) কামায় বিত্তং ন বৈ প্রিয়ং ভবতি[ধনার্থিন ইতি শেষঃ], আত্মনঃ তু কামায় বিত্তং প্রিয়ং ভবতি। অরে, পশুনাং কামার পশবঃ ন বৈ প্রিয়াঃ ভবন্তি,[গৃহস্থানামিতি শেষঃ], আত্মনঃ তু কামায় পশবঃ প্রিয়াঃ ভবন্তি। অরে, ব্রহ্মণঃ[ব্রাহ্মণস্য] কামায় ব্রহ্ম(ব্রাহ্মণঃ) ন বৈ প্রিয়ং ভবতি, আত্মনঃ তু কামায় ব্রহ্ম প্রিয়ং ভবতি। অরে, ক্ষত্রস্য কামায় ক্ষত্রং ন বৈ প্রিয়ং ভবতি, আত্মনঃ তু কামায় ক্ষত্রং প্রিয়ং ভবতি। অরে, লোকানাং (স্বর্গাদীনাং) কামায় লোকাঃ ন বৈ প্রিয়াঃ ভবন্তি, আত্মনঃ তু কামায় লোকাঃ প্রিয়াঃ ভবন্তি। অরে, দেবানাং(ইন্দ্রাদীনাং) কামায় দেবাঃ ন বৈ প্রিয়াঃ ভবন্তি, আত্মনঃ তু কামায় দেবাঃ প্রিয়াঃ ভবন্তি। অরে, বেদানাং(ঋগাদীনাং) কামায় বেদাঃ ন বৈ প্রিয়াঃ ভবন্তি, আত্মনঃ তু কামায় বেদাৎ প্রিয়াঃ ভবন্তি। অরে,
ভূতানাং(ক্ষিত্যাদীনাং, প্রাণিনাং বা) কামায় ভূতানি ন বৈ প্রিয়াণি ভবন্তি, আত্মনঃ তু কামায় ভূতানি প্রিয়াণি ভবন্তি। অরে,[কিং বহুনা,] সর্ব্বস্য(বস্তু- মাত্রস্য) কামায় সর্ব্বং ন বৈ প্রিয়ং ভবতি, আত্মনঃ তু কামায় সর্ব্বং প্রিয়ং ভবতি। অরে, আত্মা বৈ(এব) দ্রষ্টব্যঃ(সাক্ষাৎ কর্তব্যঃ),[তদুপায়তয়া] শ্রোতব্যঃ (শাস্ত্রাচার্য্যোপদেশাভ্যাম্ শ্রুতিবিষয়ঃ কর্তব্যঃ),[পশ্চাৎ সংশয়নিরাসার্থম্] মন্তব্যঃ(অনুকূলতর্কেণ প্রতিকূলতর্কখণ্ডনপূর্ব্বকং শ্রুতার্থে দৃঢ়ঃ প্রত্যয়ঃ কর্তব্যঃ), নিদিধ্যাসিতব্যঃ(শ্রুতার্থে চিত্তৈকতানত্বং কর্ত্তব্যম্)। অরে মৈত্রেয়ি, খলু(যতঃ) আত্মনি দৃষ্টে শ্রুতে মতে বিজ্ঞাতে(সাক্ষাদনুভূতে সতি) ইদং সর্ব্বং(জগৎ) বিদিতং(বিজ্ঞাতং ভবতি, আত্মনঃ সর্বাত্মকত্বাদিতি ভাবঃ) ॥ ৩২১ ॥ ৬॥
মূলানুবাদ:-মৈত্রেয়ীর কথা শুনিয়া যাজ্ঞবল্ক্য বলিলেন- অরে মৈত্রেয়ি, পতির কামের(প্রীতির) জন্য পতি কখনই পত্নীর প্রিয় হয় না; পরন্তু আত্ম-প্রীতির জন্যই পতি প্রিয় হইয়া থাকে। অরে মৈত্রেয়ি, পত্নীর প্রীতির জন্য পত্নী কখনই পতির প্রিয়া হয় না; পরন্তু আত্ম-প্রীতির জন্যই পত্নী পতির প্রিয়া হইয়া থাকে। অরে মৈত্রেয়ি, পুত্রগণের প্রীতির জন্য পুত্রগণ কখনই পিতার প্রিয় হয় না, পরন্তু আত্মার প্রীতির জন্যই পুত্রগণ প্রিয় হইয়া থাকে। অরে মৈত্রেয়ি, বিত্তের প্রীতির জন্য বিত্ত কখনই প্রিয় হয় না; পরন্তু আত্ম-প্রীতির জন্যই বিত্ত সকলের প্রিয় হইয়া থাকে। অরে মৈত্রেয়ি, পশুগণের প্রীতির জন্য কখনই পশুগণ প্রিয় হয় না; কিন্তু আত্মার প্রীতির জন্যই পশুগণ সকলের প্রিয় হইয়া থাকে। অরে মৈত্রেয়ি, ব্রাহ্মণের প্রীতির জন্য কখনই ব্রাহ্মণ কাহারো প্রিয় হয় না; পরন্তু আত্মার প্রীতির জন্যই ব্রাহ্মণ প্রিয় হইয়া থাকেন। অরে মৈত্রেয়ি, ক্ষত্রিয়ের প্রীতির জন্য ক্ষত্রিয় কখনই প্রিয় হয় না, পরন্তু আত্মার প্রীতির জন্যই ক্ষত্রিয়গণ সকলের প্রিয় হইয়া থাকে। অরে মৈত্রেয়ি, স্বর্গাদি লোকের প্রীতির জন্য স্বর্গাদি লোকসমূহ কখনই সকলের প্রিয় হয় না, পরন্তু আত্মপ্রীতির জন্যই স্বর্গাদি লোকসমূহ সকলের প্রিয় হইয়া থাকে। অরে মৈত্রেয়ি, দেবগণের প্রীতির জন্য কখনই দেবগণ প্রিয় হন না; পরন্তু আত্মার প্রীতির জন্যই দেবগণ সকলের প্রিয় হইয়া থাকেন। অরে মৈত্রেয়ি, ঋপ্রভৃতি বেদসমূহের
প্রীতির জন্য বেদসমূহ কখনই লোকের প্রিয় হয় না; পরন্তু আত্মার প্রীতির জন্যই বেদসমূহ সকলের প্রিয় হইয়া থাকে। অরে মৈত্রেয়ি, ভূতগণের প্রীতির জন্য ভূতগণ কখনই লোকের প্রিয় হয় না; পরন্ত আত্মার প্রীতির জন্যই ভূতগণ সকলের প্রিয় হইয়া থাকে। অরে মৈত্রেয়ি,[ অধিক কি,] সকলের প্রীতির জন্যই সকলে অর্থাৎ কাহারো প্রীতির জন্যই কেহ কাহারও প্রিয় হয় না; পরন্তু আত্ম-প্রীতির জন্যই সকলে সকলের প্রিয় হইয়া থাকে। অরে মৈত্রেয়ি, অতএব আত্মাকেই দর্শন করিবে(সাক্ষাৎ করিবে),[শাস্ত্র ও আচার্য্যের নিকট হইতে] শ্রবণ করিবে, মনন করিবে, এবং নিদিধ্যাসন করিবে। অরে মৈত্রেয়ি, আত্মাকে দশন করিলে, শ্রবণ করিলে, মনন করিলে ও নিদিধ্যাসন করিলে এবং বিশেষ ভাবে অবগত হইলে, এই সমস্ত জগৎই বিজ্ঞাত হয়;[কারণ, আত্মার অতিরিক্ত কোন বস্তু জগতে নাই]॥ ৩২১ ॥ ৬ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—আত্মনি খলু অরে মৈত্রেয়ি দৃষ্টে,—কথং দৃষ্টে আত্ম- নীতি? উচ্যতে—পূর্ব্বমাচার্য্যাগমাভ্যাং শ্রুতে, পুনস্তর্কেণোপপত্যা মতে বিচা- রিতে। শ্রবণন্তু আগমমাত্রেণ; মতে উপপত্যা পশ্চাদ্বিজ্ঞাতে—এবমেতন্নান্যথেতি নিদ্ধারিতে; কিং ভবতীত্যুচ্যতে—ইদং বিদিতং ভবতি; ইদং সর্ব্বমিতি যদা- ত্মনোহন্যৎ, আত্মব্যতিরেকেণাভাবাৎ ॥ ৩২১ ॥ ৬ ॥
টীকা। ব্যাখ্যানপ্রকারমেবাহ-আত্মনীতি। দৃষ্টে সর্বমিদং বিদিতং ভবতীত্যুত্তরত্র সম্বন্ধঃ। কেনোপায়েনাত্মনি দৃষ্টে সর্বং দৃষ্টং ভবতীত্যুপায়ং পৃচ্ছতি-কথমিতি। আত্ম- দর্শনোপায়ং শ্রবণাদিকং দর্শয়ন্নুত্তরমাহ-উচ্যত ইতি। উক্তোপায়ফলং প্রশ্নপূর্ব্বকমাহ- কিমিত্যাদিনা। ইদং সর্বমিত্যন্য তস্যার্থমাহ-যদাত্মনোহন্যদিতি। তদাত্মনি দৃষ্টে দৃষ্টং স্যাদতি শেষঃ। কথমন্যস্মিন্ দৃষ্টে সত্যন্যৎ দৃষ্টং ভবতি, তত্রাহ-আত্মব্যতিরেকেণেতি ॥ ৩২১ ॥৬॥
ভাষ্যানুবাদ।—অরে মৈত্রেয়ি, আত্মাকে দর্শন করিলে—; কিরূপে দর্শন করিলে? তদুত্তরে বলিতেছেন—প্রথমে আচার্য্য ও শাস্ত্র-বাক্য হইতে শ্রবণ করিয়া, পরে তর্ক ও যুক্তি দ্বারা বিচার করিয়া, কেবল শাস্ত্রবাক্য হইতে শ্রবণ করিতে হয়, পরে যুক্তি দ্বারা তাহার মনন করিতে হয়, অনন্তর বিজ্ঞান—ইহা এই প্রকারই সত্য, অন্য প্রকার নহে,, এইরূপে নির্দ্ধারণ করিতে হয়। তাহার ফল কি হয়? বলিতেছেন—এই সমস্তই বিদিত হয়, অর্থাৎ প্রকৃত-
পক্ষে আত্মাতিরিক্ত কিছু না থাকায়, যাহা কিছু আত্মাতিরিক্ত বলিয়া মনে হয়, সে সমুদয়ই বিজ্ঞাত হয়,[কিছুই অবিজ্ঞাত থাকে না] ॥ ৩২১॥ ৬॥
ব্রহ্ম তং পরাদাদ্যোহন্যত্রাত্মনঃ ব্রহ্ম বেদ, ক্ষত্রং তং পরাদাদ্- যোহন্যত্রাত্মনঃ ক্ষত্রং বেদ, লোকান্তং পরাদুর্য্যোহন্যত্রাত্মনো লোকান্ বেদ, দেবাস্তং পরাদুর্য্যোহন্যত্রাত্মনো দেবান্ বেদ, বেদাস্তং পরাদুর্য্যোহন্যত্রাত্মনো বেদান্ বেদ, ভূতানি তং পরাদুর্য্যোহন্যত্রাত্মনো ভূতানি বেদ, সর্ব্বং তং পরাদাদ্যোহ- ন্যত্রাত্মনঃ সর্ব্বং বেদ, ইদং ব্রহ্মেদং ক্ষত্রমিমে লোকা ইমে দেবা ইমে বেদা ইমানি ভূতানীদসর্ব্বং যদয়মাত্মা ॥ ৩২২ ॥ ৭ ॥
সরলার্থঃ।-ব্রহ্ম(ব্রাহ্মণজাতিঃ) তং(জনং) পরাদাৎ(পরাকুৰ্য্যাৎ ব্রহ্মলাভাৎ বঞ্চয়তি);[কং?] যঃ আত্মনঃ অন্যত্র(আত্মব্যতিরেকেণ) ব্রহ্ম বেদ (জানাতি); ক্ষত্রং(কর্তৃ) তং(জনং) পরাদাৎ, যঃ আত্মনঃ অন্যত্র ক্ষত্রং (ক্ষত্রিয়জাতিং) বেদ; লোকাঃ(স্বর্গাদয়ঃ) তং(জনং) পরাদুঃ(বঞ্চয়ন্তি), ‘যঃ আত্মনঃ অন্যত্র লোকান্ বেদ; তথা দেবাঃ তং পরাদুঃ, যঃ আত্মনঃ অন্যত্র দেবান্ বেদ; বেদাঃ তং পরাদুঃ, যঃ আত্মনঃ অন্যত্র বেদান্ বেদ। ভূতানি তং পরাদুঃ, যঃ আত্মনঃ অন্যত্র ভূতানি বেদ।[কিং বহুনা,] সর্ব্বং ‘তং পরাদাৎ, যঃ আত্মনঃ অন্যত্র সর্ব্বং বেদ। ইদং ব্রহ্ম(ব্রাহ্মণজাতিঃ), ইদং ক্ষত্রং, ইমে লোকাঃ, ইমে দেবাঃ, ইমে বেদাঃ, ইমানি ভূতানি, ইদং সর্ব্বম্[এব],[কিম্?] যৎ(যঃ) অয়ং(প্রকৃতঃ) আত্মা[এতৎ সর্ব্বম্ এতদাত্মস্বরূপমেবেতি ভাবঃ।] ॥ ৩২২ ॥ ৭ ॥
মূলানুবাদ।—ব্রহ্ম অর্থাৎ ব্রাহ্মণজাতি তাহাকে পরাস্ত— বঞ্চিত করে, যে লোক ব্রাহ্মণজাতিকে আত্মভিন্ন বলিয়া জানে। ক্ষত্রিয় জাতি তাহাকে বঞ্চিত করে, যে লোক ক্ষত্রিয় জাতিকে আত্মা হইতে ভিন্ন বলিয়া জানে। স্বর্গাদি লোকসমূহও তাহাকে বঞ্চিত করে, যে ব্যক্তি স্বর্গাদি লোকসমূহকে আত্মা হইতে অতিরিক্ত বলিয়া জানে। দেবতাগণ তাহাকে বঞ্চিত করে, যে লোক দেবতাগণকে আত্মা হইতে অতিরিক্ত বলিয়া জানে। বেদসমূহ তাহাকে বঞ্চিত করে, যে লোক বেদসমূহকে আত্ম-ব্যতিরিক্ত বলিয়া জানে। ভূতগণ তাহাকে বঞ্চিত
১৩১৯
করে, যে লোক ভূতসমূহকে আত্মা হইতে অতিরিক্ত বলিয়া জানে। অধিক কি, সমস্তই তাহাকে বঞ্চিত করে, যে লোক সমস্তকে আত্মা হইতে অতিরিক্ত বলিয়া জানে। এই ব্রাহ্মণ, এই ক্ষত্রিয়, এই সমস্ত দেবতা, এই সমস্ত বেদ, এই সমস্ত ভূত, অধিক কি, এই সমস্তই এই আত্মার স্বরূপ ॥ ৩২২ ॥ ৭ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তং অযথার্থদর্শিনং পরাদাৎ পরাকুৰ্য্যাৎ-কৈবল্যা- সম্বন্ধিনং কুৰ্য্যাৎ—অয়ম্ অনাত্মস্বরূপেণ মাং পশ্যতীত্যপরাধাদিতি ভাবঃ ॥৩২২৷৷৭৷৷
ভাষ্যানুবাদ।—সেই অযথার্থদর্শীকে(মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষকে) পরাকৃত করিবে, অর্থাৎ তাহাকে কৈবল্যসম্বন্ধরহিত করিবে, এই ব্যক্তি আমাকে অনাত্মরূপে দর্শন করিতেছে; সুতরাং অপরাধ করিতেছে; এই অপরাধ বশতঃ[তাহাকে সকলেই বঞ্চিত করে] ॥ ৩২২ ॥ ৭ ॥
স যথা দুন্দুভেইন্যমানস্য ন বাহ্যাঞ্জব্দাঞ্ছরু য়াগ্রহণায়, দুন্দুভেস্ত গ্রহণেন দুন্দুভ্যাঘাতস্য বা শব্দো গৃহীতঃ ॥ ৩২৩ ॥৮॥
সরলার্থঃ?—আত্মবিজ্ঞানে সর্ব্ববিজ্ঞাননিষ্পত্তৌ দৃষ্টান্তমাহ—“স যথা” ইত্যাদি।[অস্মিন্ বিষয়ে] সঃ(প্রসিদ্ধঃ দৃষ্টান্তঃ অস্তি); যথা দুন্দুভেঃ(বাদ্য- বিশেষস্য) হন্যমানস্য(তাড্যমানস্য সতঃ) বাহ্যান্(ইতরান্) শব্দান্(ধ্বনিন্) গ্রহণায়(গ্রহীতুং) ন শকুয়াৎ(সমর্থঃ ন ভবেৎ)[কশ্চিৎ]; তু(পুনঃ) দুন্দুভেঃ (দুন্দুভিধ্বনেঃ) দুন্দুভ্যাঘাতস্য বা গ্রহণেন শব্দঃ ‘(বাহ্যো ধ্বনিঃ) গৃহীতঃ [ভবতি ইতি শেষঃ]।(পূর্ব্বমপি ব্যাখ্যাতেয়ং শ্রুতিঃ) ॥ ৩২৩ ॥৮॥
মূলাসুবাদঃ—এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ দৃষ্টান্ত এই—যেমন দুন্দুভি বাদ্য আহত(বাদিত) হইলে পর, বাহিরের অপর কোন শব্দই কেহ পৃথক্ করিয়া গ্রহণ করিতে সমর্থ হয় না; পরন্তু দুন্দুভির কিংবা দুন্দুভি- ধ্বনির গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে অন্য শব্দও গৃহীত হয়,[তেমনি আত্ম- বিজ্ঞানেই অপর সমস্ত বিজ্ঞাত হয়] ॥ ৩২৩ ॥৮॥
শ্লোকভাষ্যম্।—॥ ০ ॥ ৩২৩ ॥ ৮ ॥(১)
টীকা। ০। ৩২৩। ৮।
স যথা শঙ্খস্য ধ্যায়মানস্য ন বাহ্যাঞ্জব্দাঞ্ছরু য়াগ্রহণায়, শঙ্খস্য তু গ্রহণেন শঙ্খধ্মস্য বা শব্দো গৃহীতঃ ॥৩২৪৷৯৷৷
সরলার্থঃ।—কিঞ্চ, অত্র সঃ(প্রসিদ্ধঃ দৃষ্টান্তঃ) যথা শঙ্খস্য ধ্যায়মানস্য (শব্দায়মানস্য সতঃ) বাহ্যান্(ইতরান্) শব্দান্ গ্রহণায় ন শত্রুয়াৎ[কশ্চিৎ ইতি শেষঃ]; তু(পুনঃ) শঙ্খস্য শঙ্খন্মস্য(শঙ্খধ্বনেঃ) বা গ্রহণেন শব্দঃ(ইতরঃ ধ্বনিঃ) গৃহীতঃ(ভবতি),(তদ্বৎ আত্মগ্রহণেনৈব অন্যৎ সর্ব্বং গৃহীতং ভবতীতি ভাবঃ)। ৩২৪॥ ৯॥
মূলানুবাদ।—এ বিষয়ে আরও দৃষ্টান্ত এই—যেমন শঙ্খ বায়ুপূরিত হইলে, কেহই বাহিরের অন্য কোন শব্দ গ্রহণ করিতে সমর্থ হয় না; পরন্তু শঙ্খ বা শঙ্খধ্বনির গ্রহণে অন্য শব্দও গৃহীত হয়, তেমনি আত্মগ্রহণে অপর সমস্তও গৃহীত হইয়া যায় ॥ ৩২৪ ॥ ৯ ॥
শ্লোকভাষ্যম্।—॥ ০ ॥ ৩২৪ ॥ ৯ ॥
শ্রীকৃষ্ণ। ০। ৭২৪। ৯॥
স যথা বীণায়ৈ বাদ্যমানায়ৈ ন বাহ্যাঞ্জব্দাঞ্ছরু য়াগ্রহণায়, বীণায়ৈ তু গ্রহণেন বীণাবাদস্য বা শব্দো গৃহীতঃ ॥৩২৫৷১০৷৷
সরলার্থঃ।—সঃ(দৃষ্টান্তঃ) যথা বীণায়ৈ বাদ্যমানায়ৈ(বীণায়াং বাদ্য- মানায়াং সত্যাম্) বাহ্যান্ শব্দান্ গ্রহণায়(গ্রহীতুং) ন শত্রুয়াৎ; তু(পুনঃ) বীণায়ৈ (বীণায়াঃ) বীণাবাদস্য বা গ্রহণেন শব্দঃ(বাহ্যঃ শব্দঃ) গৃহীতঃ ভবতি, [এবম্] ॥ ৩২৫ ॥ ১০ ॥
মূলানুবাদ।—[ এ বিষয়ে] দৃষ্টান্ত এই—যেমন বীণাযন্ত্র বাদিত হইতে থাকিলে বাহিরের অপর শব্দ পৃথক্ করিয়া গ্রহণ করা যায় না; পরন্তু বীণার বা বীণাধ್ವನির গ্রহণের সঙ্গে অপর শব্দও গৃহীত হয়,[ এইরূপ] ॥ ৩২৫ ॥ ১০ ॥
শ্লোকভাষ্যম্।—॥ ৩২৫ ॥ ১০ ॥
টীকা। ১। ৩৫৫। ১।
স যথাদ্রৈধাগ্নেরভ্যাহিতস্য পৃথগ্ধূমা বিনিশ্চরন্ত্যেবং বা অরেহস্য মহতো ভূতস্য নিশ্বসিতমেতদ্ যদৃগ্বেদো যজুর্ব্বেদঃ সামবেদোহথর্ব্বাঙ্গিরস’ ইতিহাসঃ পুরাণং বিদ্যা উপনিষদঃ
১৩২১
শ্লোকাঃ সূত্রাণ্যনুব্যাখ্যানানি ব্যাখ্যানানীষ্টহুতমাশিতং পায়িত- ময়ঞ্চ লোকঃ পরশ্চ লোকঃ সর্ব্বাণি চ ভূতান্যস্যৈবৈতানি সর্ব্বাণি নিশ্বসিতানি ॥৩২৬৷৷১১৷৷
সরলার্থঃ?—সঃ(দৃষ্টান্তঃ) যথা, আর্দ্রৈধাগ্নেঃ(সজলকাষ্ঠগতস্য অগ্নেঃ) অভ্যাহিতস্য(প্রজ্বলিতস্য সতঃ) পৃথক্(বিবিধাঃ) ধূমাঃ বিনিশ্চরন্তি (বিনির্গচ্ছন্তি), অরে(হে মৈত্রেরি,) এবং(উক্তদৃষ্টান্তবৎ) অন্য(প্রকৃতস্য) মহতঃ ভূতস্য[স্বতঃসিদ্ধস্য নিত্যস্য ব্রহ্মণঃ] নিশ্বাসিতং(নিশ্বাসবৎ অযত্নপ্রসূতম্) এতৎ।[এতৎ কিম্?] যৎ ঋগ্বেদঃ, যজুর্ব্বেদঃ, সামবেদঃ, অথর্ব্বাঙ্গিরসঃ, ইতিহাসঃ, পুরাণং, বিদ্যাঃ, উপনিষদঃ, শ্লোকাঃ, সূত্রাণি, ব্যাখ্যানানি, অনুব্যাখ্যানানি, ইষ্টং, হুতং, আশিতম্(অন্নং), পায়িতং(পেয়ং), অরং চ লোকঃ, পরশ লোকঃ(স্বর্গাদিঃ), সর্ব্বাণি চ ভূতানি, এতানি সর্ব্বাণি অন্য(ব্রহ্মণঃ) এব নিশ্বাসিতানি(নিশ্বাস- বদযত্নপ্রসূতানি) ॥৩২৬৷ ১১॥
মূলানুবাদ।—এ বিষয়ে দৃষ্টান্ত এই—যেমন আর্দ্রকাষ্ঠ- , সংযুক্ত অগ্নি হইতে নানাপ্রকার ধূমসমূহ নির্গত হয়, তেমনি এই নিত্যসিদ্ধ ব্রহ্ম হইতেও নিশ্বাসবৎ অযত্নে এই সমস্ত নির্গত হইয়াছে— ঋগ্বেদ, যজুর্ব্বেদ, সামবেদ, অথর্ব্ববেদ, ইতিহাস, পুরাণ, বিদ্যা, উপনিষদ্, শ্লোকসমূহ, সূত্রসমূহ, অনুব্যাখ্যান, ব্যাখ্যান, ইষ্ট(যাগ), হুত(হোম), অন্ন, পান, এবং বর্তমান লোক, পর লোক ও সমস্ত ভূত, এ সমস্ত ইহারই নিশ্বাস অর্থাৎ নিশ্বাসের ন্যায় অযত্নপ্রসূত ॥ ৩২৬ ॥ ১১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—চতুর্থে শব্দনিশ্বাসেনৈব লোকাদ্যর্থনিশ্বাসঃ সামর্থ্যা- দুক্তো ভবতীতি পৃথগনোক্তঃ; ইহ তু সর্ব্বশাস্ত্রার্থোপসংহার ইতি কৃত্বা অর্থ- প্রাপ্তোহপ্যর্থঃ স্পষ্টীকর্তব্য ইতি পৃথগুচ্যতে ॥ ৩২৬ ॥ ১১ ॥
টাকা। যথার্দ্রধাগ্নেরিত্যাদাবিষ্টং হুতমিত্যাদ্যধিকং দৃষ্টং, তস্যার্থমাহ-চতুর্থ ইতি। সামর্থ্যাদর্থশূন্যস্য শব্দস্যানুপপত্তেরিত্যর্থঃ। নশ্বত্রাপি সামর্থ্যাবিশেষাৎ পৃথগুক্তিরযুক্তেত্যা- শন্যাহ-ইহ ত্বিতি। ৩২৬। ১১॥
ভাষ্যানুবাদ।—[ দ্বিতীয় অধ্যায়ের] চতুর্থ ব্রাহ্মণে শব্দকে নিশ্বাসবৎ অযত্নপ্রসূত বলাতেই ফলে ফলে লোকাদি বিষয়গুলিরও নিশ্বাসবৎ আবির্ভাব বলাই হইয়াছে; এই কারণে সেখানে আর লোকাদির আবির্ভাবের কথা পৃথক্ করিয়া বলা হয় নাই; কিন্তু এখানে যখন সমস্ত শাস্ত্রের প্রতিপাদ্য সমস্ত বিষয়ের
উপসংহার করা হইতেছে, তখন এখানে প্রকারান্তর-লভ্য বিষয়ও স্পষ্ট করিয়া নির্দেশ করা উচিত; এই কারণে এখানে লোকাদির কথাও পৃথক্তভাবে উল্লেখ করা হইল ॥ ৩২৬ ॥ ১১ ॥
স যথা সর্ব্বাসামপাণ্ সমুদ্র একায়নমেবং সর্বেষাং স্পর্শানাং ত্বগেকায়নমেবং সর্বেষাং গন্ধানাং নাসিকে একায়ন- মেবং সর্বেষান্রসানাং জিহ্বৈকায়নমেবং সর্বেষাং রূপাণাং চক্ষুরেকায়নমেবং সর্বেষাং শব্দানাং শ্রোত্রমেকায়নমেবং সর্বেষাং সঙ্কল্পানাং মন একায়নমেবং সর্ব্বাসাং বিদ্যানাং হৃদয়- মেকায়নমেবং সর্বেষাং কর্ম্মণাং হস্তাবেকায়নমেবং সর্বেষা- মানন্দানামুপস্থ একায়নমেবং সর্বেষাং বিসর্গাণাং পায়ুরেকায়ন- মেবং সর্বেষামধ্বনাং পাদাবেকায়নমেবং সর্বেষাং বেদানাং বাগেকায়নম্ ॥৩২৭৷৷১২৷৷
সরলার্থঃ।—সঃ(দৃষ্টান্তঃ) যথা সমুদ্রঃ সর্ব্বাসাম্ অপাং(জলানাং) একায়নং(এক আশ্রয়ঃ), এবং(যথা) সর্ব্বেষাং স্পর্শানাং ত্বক্(ত্বগিন্দ্রিয়ং) একায়নং, এবং সর্ব্বেষাং গন্ধানাং নাসিকে(নাসারন্ধ্রদ্বয়ং) একায়নং; এবং (যথা) সর্ব্বেষাং রসানাং জিহ্বা একায়নম্; এবং সর্ব্বেষাং রূপাণাং চক্ষুঃ একায়নম্; এবং(যথা) সর্ব্বেষাং শব্দানাং শ্রোত্রম্ একায়নম্; এবং(যথা) সর্ব্বেষাং সংকল্পানাং মনঃ একায়নম্; এবং সর্ব্বাসাং বিদ্যানাং হৃদয়ম্ একায়নম্; এবং সর্ব্বেষাং কর্ম্মণাং(ক্রিয়াণাং) হস্তৌ একায়নম্; এবং সর্ব্বেষাং আনন্দানাং উপস্থঃ একায়নম্, এবং সর্ব্বেষাং বিসর্গাণাং পায়ুঃ একায়নম্, এবং সর্ব্বেষাং অধ্বনাং পাদৌ একায়নম্; এবং সর্ব্বেষাং বেদানাং বাক্ একায়নম্;[তথা ব্রহ্মাপীতি শেষঃ] ॥ ৩২৭ ॥ ১২ ॥
মূলানুবাদ?—এ বিষয়ে দৃষ্টান্ত এই যে,—সমুদ্র যেরূপ সমস্ত জলের একমাত্র আশ্রয়, ত্বগিন্দ্রিয় যেরূপ সমস্ত স্পর্শের একমাত্র আশ্রয়, নাসিকা যেরূপ সমস্ত গন্ধের একমাত্র আশ্রয়, জিহ্বা যেরূপ সমস্ত রসের একমাত্র আশ্রয়, চক্ষু যেরূপ সমস্ত রূপের একমাত্র আশ্রয়, শ্রবণেন্দ্রিয় যেরূপ সমস্ত শব্দের একমাত্র আশ্রয়, মন যেরূপ সমস্ত
সংকল্পের একমাত্র আশ্রয়, হৃদয় যেরূপ সমস্ত বিদ্যার একমাত্র নিলয়, হস্তদ্বয় যেরূপ সমস্ত কর্ম্মের একমাত্র আশ্রয়, উপস্থ(গুপ্তেন্দ্রিয়) যেরূপ সমস্ত আনন্দের একমাত্র আলয়, পায়ু(মলদ্বার) যেরূপ সমস্ত ত্যাগের একমাত্র আশ্রয়, পাদদ্বয় যেরূপ সমস্ত পথের প্রধান আয়তন এবং বাগিন্দ্রিয় যেরূপ সমস্ত বেদের একমাত্র আয়তন,(ব্রহ্মও সেইরূপ সমস্ত জগতের একমাত্র আশ্রয়) ॥৩২৭৷৷১২৷৷
শ্লোকভাষ্যম্।—॥ ০ ॥ ৩২৭ ॥ ১২ ॥
টীকা। ১৩৭। ১২৮।
ভাষ্যানুবাদ।—॥০॥ ৩২৭ ॥ ১২ ॥
স যথা সৈন্ধবঘনোহনন্তরোহবাহ্যঃ কৃৎস্নো রসঘন এবৈবং বা অরেহয়মাত্মানন্তরোহবাহ্যঃ কৃৎস্নঃ প্রজ্ঞানঘন এবৈতেভ্যো ভূতেভ্যঃ সমুত্থায় তান্যেবানুবিনশ্যতি, ন প্রেত্য সংজ্ঞাস্তীত্যরে ব্রবীমীতি হোবাচ যাজ্ঞবল্ক্যঃ ॥৩২৮৷৷১৩৷৷
সরলার্থঃ।—সঃ(দৃষ্টান্তঃ) যথা, সৈন্ধবঘনঃ(সৈন্ধবপিণ্ডং) অনন্তরঃ অবাহ্যঃ(বাহ্যান্তররহিতঃ) কৃৎস্নঃ(সকলঃ) রসঘনঃ(লবণরসাত্মকঃ) এব, অরে মৈত্রেয়ি, এবং বৈ(এবম্ এব) অয়ং(প্রকৃতঃ) আত্মা অনন্তরঃ, অবাহ্যঃ কৃৎস্নঃ প্রজ্ঞানঘনঃ(জ্ঞানৈকমূর্ত্তিঃ) এব, এতেভ্যঃ ভূতেভ্যঃ(ভূতানি আশ্রিত্য) সমুত্থায় তানি(ভূতানি) এব অনুবিনশ্যতি(বিনশ্যন্তি ভূতানি অনুসৃত্য নশ্যন্তি), প্রেত্য (মৃত্বা—মৃত্যোঃ অনন্তরং) সংজ্ঞা(সম্যক্ জ্ঞানং—পরিচয়ঃ) ন অস্তি, ইতি অরে মৈত্রেয়ি, ব্রবীমি—ইতি যাজ্ঞবল্ক্যঃ উবাচ(মৈত্রেয়ীম্ উক্তবান্) ॥ ৩২৮ ॥ ১৩ ॥
মূলানুবাদ:-এ বিষয়ে দৃষ্টান্ত এই-সৈন্ধব লবণের খণ্ড যেরূপ সমস্তই লবণরসময়, তাহার আর ভিতরে বাহিরে প্রভেদ নাই; অরে মৈত্রেয়ি, এই আত্মাও ঠিক তদ্রূপ প্রজ্ঞানঘনই(জ্ঞানমূর্ত্তিই), তাহার অন্তরে ও বাহিরে কোন প্রভেদ নাই। এই প্রজ্ঞানঘন আত্মা কথিত ভূতবর্গকে অবলম্বন করিয়া উত্থিত হয়-জীবভাবে আবির্ভূত হয়, আবার সেই ভূতবর্গের নাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিলীন হয়; মৃত্যুর পর আর তাহার কোন সংজ্ঞা বা বিশেষ বোধ’থাকে না; হে মৈত্রেয়ি,
আমি তোমাকে এই প্রকারই উপদেশ দিতেছি; যাজ্ঞবল্ক্য এইরূপ বলিয়াছিলেন ॥ ৩২৮ ॥ ১৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—সর্ব্বকার্য্যপ্রলয়ে বিদ্যানিমিত্তে সৈন্ধবঘনবদনন্তরো- হবাহ্যঃ কৃৎস্নঃ প্রজ্ঞানঘন এক আত্মা অবতিষ্ঠতে পূর্ব্বং তু—ভূতমাত্রাসংসর্গবিশেষাৎ লব্ধবিশেষবিজ্ঞানঃ সন্, তস্মিন্ প্রবিলাপিতে বিদ্যয়া বিশেষবিজ্ঞানে, তন্নিমিত্তে চ ভূতসংসর্গে, ন প্রেত্য সংজ্ঞাহস্তীত্যেবং যাজ্ঞবল্ক্যেনোক্তা ॥ ৩২৮ ॥ ১৩ ॥
টীকা। স যথা সৈন্ধবধন ইত্যাদিবাক্যতাৎপর্য্যমাহ—সর্ব্বকায্যেতি। এতেভ্যো ভূতেভ্য ইত্যাদেরর্থমাহ—পূর্ব্বং ত্বিতি। জ্ঞানোদয়াৎ প্রাগবস্থায়ামিত্যর্থঃ। লব্ধবিশেষবিজ্ঞানঃ সন্ ব্যবহারতীতি শেষঃ। প্রবিলাপিতে তস্যেত্যধ্যাহারঃ॥ ৩২৮॥ ১৩॥
ভাষ্যানুবাদ।—ব্রহ্মবিদ্যাপ্রভাবে সমস্ত অবিদ্যা ও তৎকার্য্য বিলীন হইলে পর, আত্মা তখন বাহ্যাভ্যন্তরবজ্জিত পূর্ণ একমাত্র প্রজ্ঞানঘনরূপেই অবস্থান করে, কিন্তু তৎপূর্ব্বে সূক্ষ্মভূতাত্মক বস্তুর সহিত সম্বন্ধনিবন্ধন বিশেষ জ্ঞান থাকে; ব্রহ্মবিদ্যার উদয়ে সেই সূক্ষ্ম ভূতের সংসর্গ এবং তৎকৃত বিশেষ জ্ঞানও বিলীন হইয়া যায়; তাহার পরে প্রেত্যভাব হয়; প্রেত্যভাবের পর আর কোন সংজ্ঞা অর্থাৎ ‘আমি অমুক’ ইত্যাদি জ্ঞান থাকে না। যাজ্ঞবল্ক্য মৈত্রেয়ীকে এই কথা বলিলে পর—॥ ৩২৮ ॥ ১৩ ॥
সা হোবাচ মৈত্রেয্যত্রৈব মা ভগবান্মোহান্তমাপীপিপদ্ ন বা অহমিমং বিজানামীতি। স হোবাচ ন বা অরেহহং মোহং ব্রবীম্যবিনাশী বা অরেহয়মাত্মানুচ্ছিত্তিধৰ্ম্মা ॥৩২৯৷১৪৷
সরলার্থঃ।—সা মৈত্রেয়ী উবাচ হ—ভগবান্(পূজনীয়ঃ ভবান্) অত্র (ন প্রেত্য সংজ্ঞাস্তীত্যত্র বিষয়ে) এব মা(মাম্) মোহান্তং(মোহ-মধ্যম্) আপীপিপৎ(আপীপদৎ—আপাদিতবান্);[যতঃ] অহং ইমং(বিষয়ং) ন বিজানামি(বিশেষেণ অবগচ্ছামি) ইতি।
সঃ(এবমুক্তঃ যাজ্ঞবল্ক্যঃ) উবাচ হ—অরে মৈত্রেয়ি, অহং ন বৈ(নৈব) মোহং ব্রবীমি; অরে, অবিনাশী বৈ অয়ম্ আত্মা অনুচ্ছিত্তিধৰ্ম্মা(অবিনাশ- স্বভাবঃ) ॥ ৩২৯ ॥ ১৪ ॥
মূলানুবাদ।—মৈত্রেয়ী বলিলেন—পূজনীয় আপনি আমাকে এখানেই অর্থাৎ আত্মা বিজ্ঞানঘন, অথচ মৃত্যুর পর তাহার কোন জ্ঞান থাকে না, এই ‘কথায়ই বিষম ভ্রমে ফেলিয়াছেন; আমি
ইহা বুঝিতে পারিতেছি না। যাজ্ঞবল্ক্য বলিলেন—অরে মৈত্রেয়ি, আমি তোমাকে মোহজনক কথা বলিতেছি না; আত্মা স্বভাবতই অনুচ্ছিত্তিধৰ্ম্মক; সুতরাং অবিনাশী; আত্মার বিনাশ কখনও সম্ভব হয় না ॥৩২৯৷১৪৷৷
শাঙ্করভাষ্যম্।—সা হোবাচ—অত্রৈব মা ভগবান্ এতস্মিন্নেব বস্তুনি প্রজ্ঞানঘন এব ন প্রেত্য সংজ্ঞাহস্তীতি, মোহান্তং মোহমধ্যং আপীপিপৎ আপী- পদৎ অবগমিতবানসি—সম্মোহিতবানসীত্যর্থঃ; অতো ন বৈ অহমিমমাত্মানমুক্ত- লক্ষণং বিজানামি বিবেকত ইতি। স হোবাচ—নাহং মোহং ব্রবীমি, অবিনাশী বা অরে অয়মাত্মা—যতো বিনষ্টুং শীলমস্যেতি বিনাশী, ন বিনাশী অবিনাশী; বিনাশশব্দেন বিক্রিয়া, অবিনাশীত্যবিক্রিয় আত্মেত্যর্থঃ। অরে মৈত্রেয়ি, অয়মাত্মা প্রকৃতঃ অনুচ্ছিত্তিধৰ্ম্মা, উচ্ছিত্তিরুচ্ছেদঃ, উচ্ছেদঃ অন্তো বিনাশঃ, উচ্ছিত্তিঃ ধর্মোহস্যেত্যুচ্ছিত্তিধৰ্ম্মা, ন উচ্ছিত্তিধৰ্ম্মা অনুচ্ছিত্তিধৰ্ম্মা, নাপি বিক্রিয়ালক্ষণো নাপ্যুচ্ছেদলক্ষণো বিনাশোহস্য বিদ্যত ইত্যর্থঃ॥ ৩২৯ ॥ ১৪ ॥
টীকা।—পূর্ব্বোত্তরবিরোধং শঙ্কিত্বা পরিহরতি-সা হোবাচেত্যাদিনা। অবিনাশিত্বং পূর্ব্বত্র হেতুরিত্যাহ—যত ইতি। ৩২৯॥ ১৪॥
ভাষ্যানুবাদ।—মৈত্রেয়ী বলিলেন—পূজনীয় আপনি আমাকে এই বিষয়েই অর্থাৎ আত্মা কেবলই প্রজ্ঞানঘন, অথচ মৃত্যুর পর তাহার কোন বিশেষ বিজ্ঞান থাকে না, এই বিষয়েই মোহান্ত—মোহমধ্য অর্থাৎ গভীর ভ্রম বুঝাইয়াছেন—সম্যরূপে বিমোহিত করিয়াছেন; অতএব আমি উক্তপ্রকার আত্মতত্ত্ব সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করিতে পারিতেছি না।
যাজ্ঞবল্ক্য বলিলেন—অরে মৈত্রেয়ি, আমি মোহ-প্রাপ্তিজনক কথা বলিতেছি না; যেহেতু এই আত্মা হইতেছে অবিনাশী—বিনাশ পাওয়া যাহার স্বভাব, সে হয় বিনাশী; বিনাশ না থাকায় আত্মা অবিনাশী—বিনাশ শব্দের অর্থ—বিকার— স্বরূপের অন্যথাভাব; তাহা না থাকায় আত্মা অবিনাশী অর্থাৎ অবিকারী। অরে মৈত্রেয়ি, যে আত্মার বিষয় বর্ণিত হইতেছে, সেই আত্মা হইতেছে অনুচ্ছিত্তি- ধৰ্ম্মা; উচ্ছিত্তি অর্থ—উচ্ছেদ অর্থাৎ বিনাশ; সেই উচ্ছিত্তি যাহার ধর্ম বা স্বভাব, সে হয় উচ্ছিত্তিধৰ্ম্মা; সেরূপ নয় বলিয়াই আত্মা অনুচ্ছিত্তিধৰ্ম্মা। অভিপ্রায় এই যে, বিকার কিংবা উচ্ছেদাত্মক বিনাশ ইহার নাই ॥৩২৯৷৷১৪৷৷
যত্র হি বৈভব ভবতি তদিতর ইতরং পশ্যতি, তদিতর
ইতরং জিঘ্রতি, তদিতর ইতরং রসয়তে, তদিতর ইতরমভিবদতি, তদিতর ইতরং শৃণোতি, তদিতর ইতরং মনুতে, তদিতর ইতরং স্পৃশতি, তদিতর ইতরং বিজানাতি। যত্র ত্বস্য সর্ব্বমাত্মৈবাভূৎ, তৎ কেন কং পশ্যেৎ, তৎ কেন কং জিঘ্রেৎ, তৎ কেন কং রসয়েৎ, তৎ কেন কমভিবদেৎ, তৎ কেন কং শৃণুয়াৎ, তৎ কেন কং মন্থীত, তৎ কেন কং স্পৃশেৎ, তৎ কেন কং বিজানীয়াদ, যেনেদং সর্ব্বং বিজানাতি তং কেন বিজানীয়াৎ। স এষ নেতি নেত্যাত্মাগৃহ্যো ন হি গৃহ্যতেহশীৰ্য্যো ন হি শীৰ্য্যতেহসঙ্গো ন হি সজ্যতেহসিতো ন ব্যথতে ন রিষ্যতি, বিজ্ঞাতারমরে কেন বিজানীয়াদিত্যুক্তানুশাসনাসি মৈত্রেয্যেতাবদরে খল্বমৃতত্বমিতি হোক্ত্বা যাজ্ঞবল্ক্যো বিজহার ॥৩৩০॥১৫৷৷
ইতি বৃহদারণ্যকোপনিষদি চতুর্থ্যাধ্যায়ঃ পঞ্চমঃ ব্রাহ্মণম্ ॥৪॥৫॥
সরলার্থঃ।—যত্র হি দ্বৈতম্ ইব(ইবশব্দাৎ দ্বৈতস্যাসত্ত্বম্) ভবতি, তৎ (তদা) ইতরঃ(কর্তা) ইতরং(বিষয়ং) পশ্যতি; তৎ ইতরঃ ইতরং জিঘ্রতি, তৎ ইতরঃ ইতরং রসয়তে; তৎ ইতরঃ ইতরং অভিবদতি(স্তৌতি); তৎ ইতরঃ ইতরং শূণোতি; তৎ ইতরঃ ইতরং মনুতে; তৎ ইতরঃ ইতরং শূণোতি; তৎ ইতরঃ ইতরং বিজানাতি।
তু(পুনঃ) যত্র(অবস্থায়াং) অন্য(পুরুষস্য) সর্ব্বং(জগৎ) আত্মা এব ভবতি, তৎ(তদা) কেন(করণেন) কং পশ্যেৎ, তৎ কেন কং জিঘ্রেৎ, তৎ কেন কং রসয়েৎ; তৎ কেন কং অভিবদেৎ, তৎ কেন কং শৃণুয়াৎ; তৎ কেন কং মন্বীত; তৎ কেন কং স্পৃশেৎ; তৎ কেন কং বিজানীয়াৎ; যেন ইদং সর্ব্বং বিজানাতি, তং(বিজ্ঞানাত্মানম্) কেন বিজানীয়াৎ? স এষ আত্মা—ইতি ন ইতি ন, অগৃহ্যঃ(গ্রহণযোগ্যঃ)[অতঃ] ন গৃহ্যতে; অশীর্য্যঃ(শীর্ণতা- প্রাপ্ত্যনর্হঃ),[অতঃ] নহি শীৰ্য্যতে(শীর্ণো ভবতি); অসঙ্গঃ,[অতঃ] ন হি সজ্যতে(আসক্তঃ ভবতি); অসিতঃ,[অতঃ] ন ব্যথতে; ন রিষ্যতি; অরে মৈত্রেয়ি, বিজ্ঞাতারং কেন বিজানীয়াৎ? ইতি(ইত্থং) উক্তানু- শাসনা অসি; অরে মৈত্রেয়ি, এতাবৎ(এতৎপর্য্যন্তমেব) থলু(নিশ্চয়ে)
অমৃতত্বম্(অমৃতত্বসাধনম্) ইতি উক্তা যাজ্ঞবল্ক্যঃ বিজহার(প্রব্রজ্যাং কৃতবান্) ॥ ৩৩০ ॥ ১৫ ॥
মুলাসুবাদ?—অরে মৈত্রেয়ি, যে অবস্থায় আত্মা দ্বৈতের মত হয়, সেই অবস্থায়ই অপরে অপরকে দর্শন করে, তখনই অপরে অপর বিষয় আঘ্রাণ করে, অপরে অপরকে আস্বাদন করে, অপরে অপরকে অভিবাদন করে; অপরে অপরকে শ্রবণ করে, অপরে অপরকে মনন করে, অপরে অপরকে স্পর্শ করে; অপরে অপরকে বিশেষভাবে জানে; কিন্তু যখন সমস্তই ইহার আত্মস্বরূপ হইয়া যায়, তখন[ কে] কিসের দ্বারা কাহাকে আঘ্রাণ করিবে? কাহার দ্বারা কাহাকে আস্বাদন করিবে? কাহার দ্বারা কাহাকে অভিবাদন করিবে? কাহার দ্বারা কাহাকে শ্রবণ করিবে? কাহার দ্বারা কাহাকে মনন (চিন্তা) করিবে? কিসের দ্বারা কাহাকে স্পর্শ করিবে? কিসের দ্বারা কাহাকে বিশেষভাবে জানিবে? সকলে যাহার দ্বারা এই সমস্ত বিষয় ‘জানিতেছে, তাহাকে অপর কিসের দ্বারা জানিবে?
সেই এই আত্মা ‘নেতি নেতি’ প্রতীতিগম্য; কোন ইন্দ্রিয়ের গ্রাহ্য নহে; এই জন্য ইন্দ্রিয় দ্বারা গৃহীত হয় না; শীর্ণ হইবার অযোগ্য; এই জন্য শীর্ণ হয় না; অসঙ্গ, এই জন্য কোথাও আসক্ত হয় না; অক্ষীণ, এই কারণে ব্যথিত হয় না, কিংবা বিকৃত হয় না; অরে মৈত্রেয়ি, বিজ্ঞাতাকে—সর্বজ্ঞানের কর্ত্তাকে আবার কিসের দ্বারা জানিবে? তুমি এইরূপই উপদেশ প্রাপ্ত হইলে। অরে মৈত্রেয়ি, এই পর্য্যন্তই অমৃতত্ব বা মুক্তির সাধন। যাজ্ঞবল্ক্য এই কথা বলিয়া বাহির হইলেন— প্রব্রজ্যাগ্রহণ করিলেন ॥৩৩০॥১৫৷৷
শাঙ্করভাষ্যম্।—চতুর্ঘপি প্রপাঠকেষু এক আত্মা তুল্যো নির্দ্ধারিতঃ পরং ব্রহ্ম। উপায়বিশেষস্তু তস্যাধিগমে অন্যশ্চান্যশ্চ, উপেয়স্তু স এব আত্মা, যশ্চতুর্থে অথাত আদেশো নেতীতি নির্দিষ্টঃ। স এব পঞ্চমে প্রাণপণোপন্যাসেন শাকল্য-যাজ্ঞবল্ক্যসংবাদে নির্দ্ধারিতঃ; পুনঃ পঞ্চমসমাপ্তৌ, পুনর্জজনকযাজ্ঞবল্ক্য- সংবাদে, পুনরিহ উপনিষৎসমাপ্তৌ, চতুর্ণামপি প্রপাঠকানামেতদাত্মনিষ্ঠতা,
নাহোঽস্তরালে কশ্চিদপি বিবক্ষিতোঽর্থ ইত্যেতৎপ্রদর্শনায় অন্ত উপসংহারঃ—স এব নেতি নেতীত্যাদিঃ। ১
টাকা। প্রত্যধ্যায়মন্যথান্যথা প্রতিপাদনাদাত্মনঃ সবিশেষত্বমাশঙ্ক্য স এষ ইত্যাদেস্তাৎ- পর্য্যমাহ—চতুর্থপীতি। কেন প্রকারেণ তস্য তুল্যত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ—পরং ব্রহ্মেতি। অধ্যায়- ভেদস্তর্হি কথমিত্যাশঙ্ক্যাহ—উপায়েতি। উপায়ভেদবদুপেয়ভেদোহপি স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ— উপেরস্থিতি। চাতুর্থিকাদর্থাৎ পাঞ্চমিকস্যার্থস্য ভেদং ব্যাবর্ত্তয়তি—স এবেতি। প্রাণপণো- স্যাসেন মূর্ধা তে বিপতিষ্যতীতি মুর্দ্ধপাতোপন্যাসাৎ প্রাণাঃ পণত্বেন গৃহীতা ইতি গম্যতে। তেন শাকল্যব্রাহ্মণেন নির্বিশেষঃ প্রত্যগাত্মা নির্দ্ধারিত ইত্যর্থঃ। বিজ্ঞানমানন্দং ব্রহ্মেত্যাদা- বুক্তং স্মারয়তি—পুনরিতি। পঞ্চমসমাপ্তৌ পুনর্বিজ্ঞানমিত্যাদিনা স এব নির্দ্ধারিত ইতি যোজনা। কুর্চ্চব্রাহ্মণাদাবপি স এবোক্ত ইত্যাহ—পুনরিহেতি। কিমিতি পূর্ব্বত্র তত্র তত্রোক্তস্য নির্বিশেষস্যাত্মনোহবসানে বচনমিত্যাশঙ্ক্যাহ—চতুর্ণামপীতি। ১।
যস্মাৎ প্রকারশতেনাপি নিরূপ্যমাণে তত্ত্বে নেতিনেত্যাত্মৈব নিষ্ঠা, নান্যা উপলভ্যতে-তর্কেণ বা, আগমনেন বা, তস্মাদেতদেবামৃতত্বসাধনং তদেতন্নেতি নেত্যাত্মপরিজ্ঞানং সর্ব্বসন্ন্যাসশ্চেত্যেতমর্থমুপসঞ্জিহীর্যন্নাহ-এতাবৎ এতাবন্মাত্রম্, যদেতন্নেতি ‘নেত্যদ্বৈতাদ্বয়াত্মদর্শনম্। ইদঞ্চ অন্যসহকারিকারণনিরপেক্ষমেব, অরে মৈত্রেরি, অমৃতত্বসাধনম্; যৎ পৃষ্টবত্যসি-যদেব ভগবান্ বেদ, তদেব মে ক্রহি অমৃতত্বসাধনমিতি; তদেতাবদেবেতি বিজ্ঞেরং ত্বয়া; ইতি হ এবং কিল অমৃতত্বসাধনম্ আত্মজ্ঞানং প্রিয়ায়ৈ ভার্য্যায়ৈ উক্ত্বা যাজ্ঞবল্ক্যঃ কিং কৃতবান্? যৎ পূর্ব্বং প্রতিজ্ঞাতং প্রব্রজিষ্যন্নস্মীতি, তচ্চকার-বিজহার প্রব্রজিতবানিত্যর্থঃ। পরিসমাপ্তা ব্রহ্মবিদ্যা সন্ন্যাসপর্যবসানা, এতাবানুপদেশঃ, এতদেবানুশাসনম্, এষা পরমা নিষ্ঠা, এব পুরুষার্থকর্তব্যতান্ত ইতি। ২
পৌর্ব্বাপর্যালোচনায়ামুপনিষদর্থো নির্বিশেষমাত্মতত্ত্বমিত্যুপপাদ্য বাক্যান্তরমবতার্য্য ব্যাক- রোতি—যস্মাদিত্যাদিনা। ইতি হোক্তেত্যাদিবাক্যমাকাঙ্ক্ষাপূর্বকমাদায় ব্যাচষ্টে—যৎ পৃষ্ট- বত্যসীত্যাদিনা। ব্রাহ্মণার্থমুপসংহরতি—পরিসমাদ্দেতি। তথাপ্যুপদেশান্তরং কর্তব্য- মস্তীত্যাশঙ্ক্যাহ—এতাবানিতি। কিমত্র প্রমাণমিতি, তদাহ—এতদিতি। তথাপি পরমা নিষ্ঠা সন্ন্যাসিনো বক্তব্যেতি চেন্নেত্যাহ—এষেতি। আত্মজ্ঞানে সসন্ন্যাসে সত্যপি পুরুষার্থান্তরং কর্তব্যমস্তীত্যাশঙ্ক্যাহ—এষ ইতি। ইতিশব্দো ব্রাহ্মণসমাপ্ত্যর্থঃ। ২
ইদানীং বিচার্য্যতে শাস্ত্রার্থবিবেকপ্রতিপত্তরে; যত আকুলানি হি বাক্যানি দৃশ্যন্তে—“যাবজ্জীবমগ্নিহোত্রং জুহুয়াৎ”, “যাবজ্জীবং দর্শপূর্ণমাসাভ্যাং যজেত”, “কুর্ব্বন্নেবেহ কর্মাণি জিজীবিযেচ্ছতং সমাঃ”, “এতদ্বৈ জরামর্য্যং সত্রম্, যদগ্নি- হোত্রম্” ইত্যাদীন্যৈকাশ্রম্যপ্রতিষ্ঠাপকানি; অন্যানি চ আশ্রমান্তর প্রতিপাদকানি
বাক্যানি,-“বিদিত্বা ব্যুত্থায় প্রব্রজন্তি”, “আত্মানমেব লোকমিচ্ছন্তঃ প্রব্রজন্তি”, “ব্রহ্মচর্য্যং সমাপ্য গৃহী ভবেৎ, গৃহাদ্বনী ভূত্বা প্রব্রজেৎ, যদি বেতরথা ব্রহ্মচর্য্যাদেব প্রব্রজেৎ গৃহাদ্বা বনাদ্বা” ইতি, “দ্বাবেব পন্থানাবনুনিষ্ক্রান্ততরৌ ভবতঃ, ক্রিয়াপথ- শ্চৈব পুরস্তাৎ সন্ন্যাসশ্চ, তয়োঃ সন্ন্যাস এবাতিরেচয়তি” ইতি, “ন কৰ্ম্মণা ন প্রজয়া ধনেন ত্যাগেনৈকেহমৃতত্বমানশুঃ” ইত্যাদিনি। তথা স্মৃতয়শ্চ,- “ব্রহ্মচর্য্যবান্ প্রব্রজতি।” তথা-“অবিশীর্ণব্রহ্মচর্য্যো যমিচ্ছেত্তমাবসেৎ” “তস্যা- শ্রমবিকল্পমেকে ক্রুবতে”। তথা “বেদানধীত্য ব্রহ্মচর্য্যেণ পুত্রপৌত্রানিচ্ছেৎ পাবনার্থং পিতৃণাম্। অগ্নীনাধায় বিধিবচ্চেষ্টযজ্ঞো বনং প্রবিশ্যাথ মুনিবু ভূষেৎ।” “প্রাজাপত্যাং নিরূপ্যেষ্টিং সর্ব্ববেদস-দক্ষিণাম্। আত্মন্যগ্লীন্ সমারোপ্য ব্রাহ্মণঃ প্রব্রজেদ্ গৃহাৎ।” ইত্যাদ্যাঃ। ৩ সসন্ন্যাসমাত্মজ্ঞানমমৃতত্বসাধনমিত্যুপপাদ্য সন্ন্যাসমধিকৃত্য বিচারমবতারয়তি-ইদানীমিতি। তত্র তত্র প্রাগেব বিচারিতত্বাৎ কিং পুনর্বিচারেণেত্যাশঙ্ক্যাহ-শাস্ত্রার্থেতি। বিরক্তস্য সন্ন্যাসো জ্ঞানস্যাস্তরঙ্গসাধনং, জ্ঞানং তু কেবলমমৃতত্বস্তেতি শাস্ত্রার্থে বিবেকরূপা প্রতিপত্তিরপি প্রাগেব সিদ্ধেতি কিং তদর্থেন বিচারারম্ভেণেত্যাশঙ্ক্যাহ-যত ইতি। অতো বিচারঃ কর্তব্যো নান্যথা, শাস্ত্রার্থবিবেক: স্যাদিত্যুপসংহারার্থো হি-শব্দঃ। বাক্যানামাকুলত্ব- মেব দর্শয়তি-যাবদিতি। যদগ্নিহোত্রমিত্যাদীনীত্যাদিশব্দাদৈকাশ্রম্যং ত্বাচাৰ্য্যাঃ প্রত্যক্ষ- বিধানাৎ গার্হস্থ্যস্যেত্যাদি স্মৃতিবাক্যং গৃহ্যতে। কথমেতাবতা বাক্যানি ব্যাকুলানীত্যা- শঙ্ক্যাহ-অন্যানি চেতি। বিদিত্বা ব্যুত্থায় ভিক্ষাচর্য্যং চরস্তীতি বাক্যং পাঠক্রমেণ বিদ্বৎসন্ন্যাস- পরম্, অর্থক্রমেণ তু বিবিদিষা-সন্ন্যাসপরম্, আত্মানমেব লোকমিচ্ছন্তঃ প্রব্রজন্তীতি তু বিবিদিষা- সন্ন্যাসপরমেবেতি বিভাগঃ। ক্রমসন্ন্যাসপরাং শ্রুতিমুদাহরতি-ব্রহ্মচর্যামিতি। অক্রমসন্ন্যাস- বিষয়ং বাক্যং পঠতি-যদি বেতি। কৰ্ম্মসন্ন্যাসয়োঃ সন্ন্যাসস্যাধিক্যপ্রদর্শনপরাং শ্রুতিং দর্শ- য়তি-দ্বাবেবেতি। অসুনিষ্ক্রান্ততরৌ শাস্ত্রে ক্রমেণাভ্যুদয়নিশ্রেয়সোপায়ত্বেন পুনঃ পুনরুক্তা- বিত্যর্থঃ। জ্ঞানদ্বারা সন্ন্যাসস্য মোক্ষোপায়ত্বে শ্রুত্যন্তরমাহ-ন কর্মণেতি। ‘তানি বা এতান্যবরাণি তপাংসি, ন্যাস এবাত্যরেচয়ৎ’ ইত্যাদি বাকামাদিশব্দার্থঃ। যথা শ্রুতয়স্তথা স্মৃতয়োহপ্যাকুলা দৃপ্ত ইত্যাহ-তথেতি। তত্র ক্রমসন্ন্যাসে স্মৃতিমাদাবুদাহরতি-ব্রহ্মচর্য্য- বানিতি। যথেষ্টাশ্রমপ্রতিপত্তৌ প্রমাণভূতাং স্মৃতিং দর্শয়তি-অবিশীর্ণেতি। আশ্রমবিকল্প- বিষয়াং স্মৃতিং পঠতি-তস্যেতি। ব্রহ্মচারী ষষ্ঠ্যর্থঃ। ক্রমসন্ন্যাসে প্রমাণমাহ-তথেতি। তত্রৈব বাক্যান্তরং পঠতি-প্রাজাপত্যামিতি। সর্ববেদসং সর্বস্বং দক্ষিণা যস্যাং তাং নির্বর্ত্যেত্যর্থঃ। আদিপদেন মুণ্ডা নিস্তম্ভবশ্চেত্যাদিবাক্যং গৃহ্যতে। ইত্যাঘাঃ স্মৃতয়শ্চেতি পূর্ব্বেণ সম্বন্ধঃ। ৩
এবং ভূষণবিবরণ-ক্রম-যথেষ্ঠপ্রতিপত্তি-প্রতিপাদকানি হি প্রতিপত্তি-
ਚ
বাক্যানি শতশ উপলভ্যন্তে ইতরেতরবিরুদ্ধানি; আচারশ্চ তদ্বিদাম্; বিপ্রতি- পত্তিশ্চ শাস্ত্রার্থপ্রতিপত্তৃণাং বহুবিদামপি; অতো ন শক্যতে শাস্ত্রার্থো মন্দ- বুদ্ধিভির্বিবেকেন প্রতিপতম্। পরিনিষ্ঠিতশাস্ত্রন্যায়বুদ্ধিভিরেব হ্যেষাৎ বাক্যানাং বিষয়বিভাগঃ শক্যতেহবধায়য়িতুম্। তস্মাদেষাং বিষয়বিভাগজ্ঞাপনায় যথাবুদ্ধি- সামর্থ্যং বিচারয়িষ্যামঃ। ৪
ব্যাকুলানি বাক্যানি দর্শিতানুপসংহরতি-এবমিতি। ইতশ্চ কর্তব্যো বিচার ইত্যাহ- আচারশ্চেতি। শ্রুতিস্মৃতিবিদামাচারঃ স বিরুদ্ধো লক্ষ্যতে। কেচিদ্ ব্রহ্মচর্য্যাদেব প্রব্রজন্তি। অপরে তু তৎ পরিসমাপ্য গার্হস্থ্যমেবাচরন্তি। অন্যে তু চতুরোহপ্যাশ্ৰমান্ ত্রমেণাশ্রয়ন্তে, তথা চ বিনা বিচারং নির্ণয়াসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। ইতশ্চান্তি বিচারস্য কার্য্যতেত্যাহ-বিপ্রতি- পত্তিশ্চেতি। যদ্যপি বহুবিদঃ শাস্ত্রার্থপ্রতিপত্তারো জৈমিনিপ্রভূতয়স্তথাপি তেষাং বিপ্রতি- পত্তিরুপলভ্যতে, কেচিদূর্দ্ধরেতস আশ্রমাঃ সন্তীত্যাহুঃ, ন সম্ভীতাপরে, তৎ কৃতো বিচারাদৃতে নিশ্চয়সিদ্ধিরিত্যর্থঃ। অথ কেষাঞ্চিদন্তরেণাপি বিচারং শাস্ত্রার্থো বিবেকেন প্রতিভাস্যতি, তত্রাহ-অত ইতি। শ্রুতিস্মৃত্যাচারবিপ্রতিপত্তেরিতি যাবৎ। কৈস্তহি শাস্ত্রার্থো বিবেকেন জ্ঞাতুং শক্যতে, তত্রাহ-পরিনিষ্ঠিতেতি। নানাশ্রুতিদর্শনাদিবশাদুপপাদিতং বিচারারম্ভ- মুপসংহরতি-তন্মাদিতি। ৪
যাবজ্জীবশ্রুত্যাদিবাক্যানামন্যার্থাসম্ভবাৎ ক্রিয়াবসান এব বেদার্থঃ, “তং যজ্ঞপাত্রৈদহন্তি” ইত্যন্ত্য-কৰ্ম্মশ্রবণাজ্জরামর্য্যশ্রবণাচ্চ; লিঙ্গাচ্চ ‘ভস্মান্তং শরীরম্’ ইতি। ন হি পারিব্রাজ্যপক্ষে ভস্মান্ততা শরীরস্য স্যাৎ। স্মৃতিশ্চ,— “নিবেকাদিশ্মশানান্তো মন্বৈর্যস্যোদিতো বিধিঃ।
“নিষেধকাদিমশানাস্তো। মটৈর্য্যশৌদিতে। বিধিঃ।
তস্য শৌচং ধিকিঙ্গোঽস্মিন্ ভবেৎ। নাথঞ্চ কশ্চিৎ॥ ইতি।
সমন্ত্রকং হি যৎ কৰ্ম্ম বেদেনেহ বিধীয়তে, তস্য শ্মশানান্ততাং দর্শয়তি। স্মৃত্যধিকারাভাবপ্রদর্শনাচ্চাত্যন্তমেব শ্রুত্যধিকারাভাবোহকর্ম্মিণো গম্যতে। অগ্নুদ্বাসনাপবাদাচ্চ, “বীরহা বা এষ দেবানাম্, যোহগ্নিমুদাসয়তে” ইতি। ৫
বিচারকর্তব্যতানুক্ত। পূর্বপক্ষং গৃহ্লাতি-যাবদিত্যাদিনা। শ্রুত্যাদীত্যাদিশব্দেন কুর্ব্বন্নি- ত্যাদিমন্ত্রবাদো গৃহ্যতে। ঐকাশ্রম্যে হেত্বন্তরমাহ-তমিতি। এতৎ বৈ জরামর্য্যং সত্রং যদগ্নি- হোত্রমিতি শ্রুতেশ্চ পারিব্রাজ্যাসিদ্ধিরিত্যাহ--জরেতি। তত্রৈব হেত্বন্তরমাহ-লিঙ্গাচ্চেতি। পারিব্রাজ্যপক্ষেহপি তদুপপত্তিমাশঙ্ক্যাহ-ন হীতি। ইতশ্চ নাস্তি পারিব্রাজ্যমিত্যাহ- স্মৃতিশ্চেতি। তস্যাস্তাৎপর্য্যমাহ-সমন্ত্রকং হীতি। নান্যস্য কন্যচিদিত্যত্র সূচিতমর্থং কথয়তি-অধিকারেতি। গৃহস্থস্য পারিব্রাজ্যাভাবে হেত্বন্তরমাহ-অগ্নীতি।?
ননু ব্যুত্থানাদিবিধানাদ্বৈকল্পিকং ক্রিয়াবসানত্বং বেদার্থস্য? ন, অন্যার্থত্বাদ্- ব্যুত্থানাদিশ্রুতীনাম্। “যাবজ্জীবমগ্নিহোত্রং জুহোতি”, যাবজ্জীবং দর্শপূর্ণ-
মাসাভ্যাং যজেত” ইত্যেবমাদীনাং শ্রুতীনাং জীবনমাত্রনিমিত্তত্বাদ যদা ন শক্যতেহন্যার্থতা কল্পয়িতুম্, তদা ব্যুত্থানাদিবাক্যানাঞ্চ কর্ম্মানধিকৃতবিষয়ত্ব- সম্ভবাৎ, “কুর্ব্বন্নেবেহ কর্মাণি জিজীবিযেচ্ছতং সমাঃ” ইতি চ মন্ত্রবর্ণাৎ, “জরয়া বা হোবাস্মান্মুচ্যতে মৃত্যুনা বা” ইতি চ, জরামৃত্যুভ্যামন্যত্র কৰ্ম্মবিয়োগচ্ছিদ্রা- সম্ভবাৎ কৰ্ম্মিণাং শ্মশানান্তত্বং ন বৈকল্পিকম্। কাণকুব্জাদয়োহপি কৰ্ম্মণ্যনধি- কৃতা অনুগ্রাহ্য এব শ্রুত্যেতি ব্যুত্থানাদ্যাশ্রমান্তরবিধানং নানুপপন্নম্। ৬
পূর্ব্বপক্ষমাক্ষিপতি—নন্বিতি। উভয়বিধিদর্শনে ষোড়শীগ্রহণগ্রহণবদধিকারিভেদেন বিকল্পো যুক্তঃ, ন তু ক্রিয়াবসান এব বেদার্থ ইতি পক্ষপাতে নিবন্ধনমস্তীত্যর্থঃ। তুল্যবিধি- দ্বয়দর্শনে হি বিকল্পো ভবতি, অত্র তু সাবকাশানবকাশত্বেনাতুল্যত্বাৎ নৈবমিত্যাহ—নান্যার্থত্বা- দিতি। তদেব স্ফুটয়তি—যাবজ্জীবমিত্যাদিনা। কর্ম্মানধিকৃতবিষয়ত্বাৎ ন বৈকল্পিকমিতি সম্বন্ধঃ। ক্রিয়াবসানত্বং বেদার্থস্যেতি শেষঃ। তত্রৈব হেত্বন্তরাণ্যাহ—কুর্বন্নিত্যাদিনা। ন বৈকল্পিকমিতাত্র পূর্ব্ববদন্বয়ঃ। ব্যুত্থানাদিবাক্যানাং কথমনধিকৃতবিষয়ত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ— কাণেতি। ৬
পারিব্রাজ্যক্রমবিধানস্যানবকাশত্বমিতি চেৎ; ন, বিশ্বজিৎ-সর্ব্বমেধয়োর্যাব- জ্জীববিধ্যপবাদত্বাৎ; যাবজ্জীবাগ্নিহোত্রাদিবিধেবিশ্বজিৎ-সর্ব্বমেধয়োরেবাপবাদঃ, তত্র চ ক্রমপ্রতিপত্তিসম্ভবঃ—ব্রহ্মচর্য্যং সমাপ্য গৃহী ভবেদ্, গৃহাদ্বনী ভূত্বা প্রব্রজেদিতি। বিরোধানুপপত্তেঃ, ন হোবংবিষয়ত্বে পারিব্রাজ্যক্রমবিধানবাক্যস্য কশ্চিদ্বিরোধঃ। ক্রমপ্রতিপত্তিরন্যবিষয়পরিকল্পনায়ান্ত যাবজ্জীববিধান-শ্রুতিঃ স্ববিষয়াৎ সঙ্কোচিতা স্যাৎ; ক্রমপ্রতিপত্তেস্তু বিশ্বজিৎসর্ব্বমেধবিষয়ত্বান্ন কশ্চিদ্বাধঃ। ন, আত্মজ্ঞানস্যামৃতত্বহেতুত্বাভ্যুপগমাৎ। ৭
অনধিকৃতবিষয়ত্বং তেষামশক্যং বক্তুং, ব্রহ্মচর্য্যং সমাপ্যেত্যাদাবধিকৃতবিষয়ে ক্রমদর্শনাদিতি শঙ্কতে-পারিব্রাজোতি। গত্যন্তরং দর্শয়ন্নুত্তরমাহ-ন বিশ্বজিদিতি। যাবজ্জীবমগ্নিহোত্রং জুহোতীত্যুৎসগস্তস্যাপবাদো বিশ্বজিৎ সর্ব্বমেধৌ, তদনুষ্ঠানে সর্বস্বদানাদেব সাধনসম্পদ্বিরহাৎ পারিব্রাজ্যস্যাবশ্যম্ভাবিত্বাদতস্তদ্বিষয়ং ক্রমবিধানমিত্যর্থঃ। তদেব স্ফুটয়তি-যাবজ্জীবেতি। কথং ক্রমবিধেরেব বিষয়ত্বং কল্পকাভাবাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-বিরোধানুপপত্তেরিতি। গৃহস্থস্যাপি বিরক্তস্য পারিব্রাজ্যমিতি কিমিতি ক্রমবিষয়ো নেষ্যতে, তত্রাহ-অন্যবিষয়েতি। ক্রমবিধেরপি ত্বৎপক্ষে সঙ্কোচঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ক্রমপ্রতিপত্তেস্থিতি। সতি জ্ঞানে কৰ্ম্মত্যাগো নিবিধ্যতে, সত্যাং বা জিজ্ঞাসায়ামিতি বিকল্প্যাদ্যং দূষয়তি সিদ্ধান্তী-নাত্মজ্ঞানস্তেতি। ৭
যত্তাবৎ “আত্মেত্যেবোপাসীত” ইত্যারভ্য “স এষ নেতিনেতি” ইত্যেতদন্তেন গ্রন্থেন যদুপসংহৃতমাত্মজ্ঞানম্, তদমৃতত্বসাধনমিত্যভ্যুপগতং ভবতা; তত্র এতাব- দেবামৃতত্বসাধনম্ অন্য-নিরপেক্ষমিত্যেতৎ ন মৃষ্যতে। তত্র ভবন্তং পৃচ্ছামি— কিমর্থমাত্মজ্ঞানং মর্ষয়তি ভবানিতি। শৃণু তত্র কারণম্, যথা স্বর্গকামস্য স্বর্গ-
প্রাপ্ত্যুপায়মজানতঃ অগ্নিহোত্রাদি স্বর্গপ্রাপ্তিসাধনং জ্ঞাপয়তি, তথা ইহাপ্যমৃতত্ব- প্রতিপিৎসঃ অমৃতত্বপ্রাপ্ত্যুপায়মজানতঃ “যদেব ভগবান্ বেদ, তদেব মে ক্রহি” ইত্যেবমাকাঙ্ক্ষিতমমৃতত্বসাধনম্ “এতাবদরে” ইত্যেবমাদৌ বেদেন জ্ঞাপ্যত ইতি। এবং তর্হি যথা জ্ঞাপিতমগ্নিহোত্রাদি স্বর্গসাধনমভ্যুপগম্যতে, তথা ইহাপি আত্ম- জ্ঞানং যথা জ্ঞাপ্যতে, তথাভূতমেব অমৃতত্বসাধনমাত্মজ্ঞানমভ্যুপগন্তুং যুক্তম্, তুল্য- প্রামাণ্যাদুভয়ত্র। ৮
বিদ্বৎসংহ্যাসস্যাবশ্যম্ভাবিত্বাৎ ন কর্মাবসান এব বেদার্থ ইতি সংগৃহীতং বস্তু বিবৃণোতি- যৎ তাবদিতি। বিদ্যাসূত্রাদারভ্য নিষেধবাক্যান্তেন গ্রন্থেন যদাত্মজ্ঞানমুপসংহৃতং, তত্তাবন্মুক্তি- সাধনমিতি ভবতাপি যম্মাদভ্যুপগতং, পরাঙ্গং চাত্মবিজ্ঞানমন্যত্রেত্যবধারণাদিতি ন্যায়াৎ; তস্মাৎ জ্ঞানে সতি কৰ্ম্মানুষ্ঠানং নিরবকাশমিত্যর্থঃ। অথাত্মজ্ঞানং কৰ্ম্মসহিতমমৃতত্বসাধন- মিষ্যতে, ন কেবলং; তথা চ জ্ঞানোত্তরকালমপি ন কৰ্ম্মত্যাগসিদ্ধিরিতি শঙ্কতে-তত্রেতি। আত্মজ্ঞানস্যামৃতত্বসাধনত্বে সত্যপীতি যাবৎ। কর্মনিরপেক্ষত্বং চেদাত্মজ্ঞানস্য ভবান্ ন সহতে, কিমিতি তর্হি জ্ঞানমেবোপগতমিতি সিদ্ধান্তী পৃচ্ছতি-তত্রেতি। তস্য কৰ্ম্মানপেক্ষত্বানঙ্গী- কারে সতীত্যর্থঃ। তত্র পূর্ববাদী শাস্ত্রীয়ত্বাদাত্মজ্ঞানমমৃতত্বসাধনমভ্যুপগতমিতি শঙ্কতে- শৃণ্বিতি। জ্ঞাপয়তি বেদ ইতি শেষঃ। শাস্ত্রানুসারেণাত্মজ্ঞানাঙ্গীকারে কর্মনিরপেক্ষমেবাত্ম- জ্ঞানং মোক্ষসাধনং সেৎস্যতীতি পরিহরতি-এবং তহীতি। উভয়ত্র জ্ঞানে কৰ্ম্মণি চেত্যর্থঃ। যদ্বা জ্ঞানস্যামৃতত্বসাধনত্বে তস্য কৰ্ম্মনিরপেক্ষত্বে চেত্যর্থঃ। তুল্যপ্রামাণ্যাৎ প্রামাণ্যস্থ্য তুল্যত্বাৎ বেদস্যেতি শেষঃ। ৮
যদ্যেবম্, কিং স্যাৎ? সর্ব্বকৰ্ম্মহেতুপমদকত্বাদাত্মজ্ঞানস্য, বিদ্যোদ্ভবে কৰ্ম্ম- নিবৃত্তিঃ স্যাৎ, দারাগ্নিসম্বন্ধানাং তাবদগ্নিহোত্রাদিকৰ্মণাং ভেদবুদ্ধিবিষয়-সম্প্রদান- কারকসাধ্যত্বম্; অন্যবুদ্ধিপরিচ্ছেদ্যাং হি অগ্ন্যাদিদেবতাং সম্প্রদান-কারকং কর্মসাধনত্বেনোপদিশ্যতে; স ইহ বিদ্যয়া নিবর্ত্যতে-“অন্যোহসাবন্যোহহ- মম্মীতি, নস বেদ।” “দেবাস্তং পরাদুর্য্যোহন্যত্রাত্মনো দেবান্ বেদ।” “মৃত্যোঃ স মৃত্যুমাপ্নোতি, য ইহ নানের পশ্যতি।” “একধৈবানুদ্রষ্টব্যম্” “সর্ব্বমাত্মানং পশ্যতি” ইত্যাদিশ্রুতিভ্যঃ। ন চ দেশকালনিমিতাদ্যপেক্ষত্বম্, ব্যবস্থিতাত্মবস্তু বিষয়ত্বাদাত্মজ্ঞানস্য; ক্রিয়ায়াস্ত পুরুষতন্ত্রত্বাৎ স্যাৎ দেশকাল-নিমিতাপেক্ষত্বম্; জানন্ত বস্তুতন্ত্রত্বাৎ ন দেশকালনিমিতাদি অপেক্ষতে; যথা অগ্নিরুষ্ণঃ, আকাশো হমূর্ত ইতি-তথা আত্মবিজ্ঞানমপি। ৯
যথাশাস্ত্রং জ্ঞানাভ্যুপগমেহপি কথং তৎ কেবলং কৈবল্যকারণমিতি ‘পৃচ্ছতি-যদ্যেবমিতি। শাস্ত্রানুসারেণ জ্ঞানমভ্যুপগচ্ছন্তং প্রত্যাহ-সর্ব্বকৰ্ম্মেতি। আত্মজ্ঞানস্য তদুপমদকত্বং দর্শয়িতুং কৰ্ম্মহেতুং তাবদ্দর্শয়তি-দারাগ্নীতি। অগ্নিহোত্রাদীনাং সম্প্রদানকারকসাধ্যত্বং ব্যতিরেকদ্বারা সাধয়তি-অন্যেতি। তথাপি কথমাত্মজ্ঞানস্য কৰ্ম্মহেতুপমদকত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-
যথাহীতি। ইহেতি বিদ্যাদশোক্তিঃ। বিদ্যায়াঃ শ্রুতিজন্যত্বেন বলবত্ত্বং দর্শয়তি-অন্যো- হসাবিত্যাদিনা। ননু শুচৌ দেশে দিবসাদৌ কালে শাস্ত্রাচর্য্যাদিবশাদুৎপন্নং জ্ঞানং পুমর্থ- সাধনম্ ‘শুচৌ দেশে প্রতিষ্ঠাপ্য’ ইত্যাদিস্মৃতেস্তথা চ কথং তস্য ভেদবুদ্ধ্যুপমর্দকত্বম্, অত আহ-ন চেতি। যত্রৈকাগ্রতা তত্রাবিশেষাদিতি ন্যায়াৎ জ্ঞানসাধনস্য সমাধেরপি ন দেশাদ্যপেক্ষা, দূরতন্তু কূটস্থবস্তুতন্ত্রস্য জ্ঞানস্যেতি ভাবঃ। বিমতং দেশাদ্যপেক্ষং শাস্ত্রার্থত্বাৎ ধর্মবদিত্যাশঙ্ক্য পুরুষতন্ত্রমুপাধিরিত্যাহ-ক্রিয়ায়াস্থিতি। সাধনব্যাপ্তিং দূষয়তি-জ্ঞানং ত্বিতি। বিমতং ন দেশাদ্যপেক্ষং প্রমাণত্বাৎ উঞ্চাগ্নিজ্ঞানবদিতি প্রত্যনুমানমাহ-যথেতি। ৯
নম্বেবং সতি প্রমাণভূতস্য কৰ্ম্মবিধেনিরোধঃ স্যাৎ; ন চ তুল্যপ্রমাণয়োরিত- রেতরনিরোধো যুক্তঃ। ন, স্বাভাবিকভেদবুদ্ধিমাত্রনিরোধকত্বাৎ; নহি বিধ্যন্তর- নিরোধকমাত্মজ্ঞানম্, স্বাভাবিকভেদবুদ্ধিমাত্রং নিরুণদ্ধি। তথাপি হেত্বপহারাৎ কর্মানুপপত্তের্বিধিনিরোধ এব স্যাদিতি চেৎ; ন, কামপ্রতিষেধাৎ কাম্যপ্রবৃত্তি- নিরোধবদদোষাৎ; যথা “স্বর্গকামো যজেত” ইতি স্বর্গসাধনে যাগে প্রবৃত্তস্য কাম প্রতিষেধবিধেঃ, কামে বিহতে কাম্য-যাগানুষ্ঠানপ্রবৃত্তিনিরুধ্যতে, ন চৈতাবতা কাম্যবিধিনিরুদ্ধো ভবতি। ১০
আত্মজ্ঞানস্য সর্ব্বকৰ্ম্মহেতুপমর্দকত্বে দোষমাশঙ্কতে-নন্বিতি। ইষ্টাপত্তিমাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। কৰ্ম্মকাণ্ডেন কাণ্ডান্তরস্যাপি নিরোধসম্ভবাদিত্যর্থঃ। সাক্ষাদাত্মজ্ঞানং কৰ্ম্মবিধিনিরোধার্থাদ্বেতি বিকল্পাদ্যং দূষয়তি-নেত্যাদিনা। তদেব স্ফুটয়তি-ন হি বিধ্যন্তরেতি। দ্বিতীয়ং শঙ্কতে- তথাহপীতি। যথা ন কামী স্যাদিতি নিষেধাৎ কস্যচিৎ কামপ্রবৃত্তিন ভবতীত্যেবতা ন সর্ব্বান্ প্রতি কাম্যবিধির্নিরুধ্যতে, তথা কস্যচিদাত্মজ্ঞানাৎ কৰ্ম্মবিধিনিরোধেহপি ন সর্ব্বান্ প্রত্যসৌ নিরুদ্ধো ভবিষ্যতীতি পরিহরতি ন কামেতি। দৃষ্টান্তমেব স্পষ্টয়তি-যথেত্যাদিনা। প্রতিষেধ- শাস্ত্রার্থানভিজ্ঞং প্রতি তদুপপত্তেরিতি ভাবঃ। ১০
কামপ্রতিষেধবিধিনা কাম্যবিধেরনর্থকত্বজ্ঞাপনাৎ প্রবৃত্ত্যনুপপত্তেনিরুদ্ধ এব স্যাদিতি চেৎ? ভবতু এব এবং কর্মবিধিনিরোধোহপি, যথা কাম-প্রতিষেধে কাম্যবিধেঃ। এবং প্রামাণ্যানুপপত্তিরিতি চেৎ, অননুষ্ঠেয়ত্বে অনুষ্ঠানুরভাবাৎ অনুষ্ঠানবিধানর্থক্যাদপ্রামাণ্যমেব কৰ্ম্মবিধীনামিতি চেৎ; ন, প্রাগাত্মজ্ঞানাৎ প্রবৃত্ত্যুপপত্তেঃ। স্বাভাবিকস্য ক্রিয়া-কারক-ফলভেদ-বিজ্ঞানস্য প্রাগাত্মজ্ঞানাৎ কর্মহেতুত্বমুপপদ্যত এব; যথা কামবিষয়ে দোষবিজ্ঞানোৎপত্তেঃ প্রাক্ কাম্যকৰ্ম্ম- প্রবৃত্তিহেতুত্বং স্যাদেব স্বর্গাদীচ্ছায়াঃ স্বাভাবিক্যাঃ, তদ্বৎ। ১১
অভিপ্রায়মবিদ্বানাশঙ্কতে-কামপ্রতিষেধবিধিনেতি। অনর্থকত্বজ্ঞানাৎ কামস্তেতি শেষঃ। প্রবৃত্ত্যনুপপত্তেঃ কাম্যেযু কৰ্ম্মস্থিতি দ্রষ্টব্যম্। নিরুদ্ধঃ স্যাৎ কাম্যবিধিরিত্যধ্যাহর্তব্যম্। গুঢ়াভিসন্ধিঃ সিদ্ধান্তী ব্রতে-ভবত্বিতি। পুনরভিপ্রায়মপ্রতিপদ্যমানশ্চোদয়তি-যথেতি। এবমিতি জ্ঞানেন কর্মবিধিনিরোধে সতীতি যাবৎ। তৎপ্রামাণ্যানুপপত্তিরিতি শেষঃ। তদেব
চোহ্যং বিশদয়তি-অননুষ্ঠেয়ত্ব ইতি। তেষামনুষ্ঠেয়ানামগ্নিহোত্রাদীনাং কর্মণাং যে বিষয়া- স্তেষামিতি যাবৎ। সিদ্ধান্তী স্বাভিসন্ধিমুঘাটয়ন্নুত্তরমাহ-নেত্যাদিনা। উপপত্তিমেবোপ- দর্শয়তি-স্বাভাবিকস্যেতি। তদেব দৃষ্টান্তেন স্পষ্টয়তি-যথেতি। ১১
তথা সতি অনর্থার্থো বেদ ইতি চেৎ; ন, অর্থানর্থয়োরভিপ্রায়তন্ত্রত্বাৎ; মোক্ষমেকং বর্জয়িত্বা অন্যস্যাবিদ্যাবিষয়ত্বাৎ। পুরুষাভিপ্রায়তন্ত্রৌ হি অর্থানর্থী, মরণাদিকাম্যেষ্টিদর্শনাৎ। তস্মাদ যাবদাত্মজ্ঞানবিধেরাভিমুখ্যম্, তাবদেব কর্মবিষয়ঃ, তস্মান্নাত্মজ্ঞানসহভাবিত্বং কর্মণাম,-ইত্যতঃ সিদ্ধম্ আত্মজ্ঞান- মাত্রমেবামৃতত্বসাধনম্ “এতাবদরে খলুমৃতত্বম্” ইতি, কর্মনিরপেক্ষত্বাৎ জ্ঞানস্য। অতো বিদুষস্তাবৎ পারিব্রাজ্যং সিদ্ধম্, সম্প্রদানাদি-কর্মকারক-জাত্যাদিশূন্যাবি- ক্রিয়ব্রহ্মাত্ম-দৃঢ়প্রতিপত্তিমাত্রেণ বচনমন্তরেণাপ্যুক্তন্যায়তঃ। ১২
অজ্ঞানাবস্থায়ামের কর্মবিধিপ্রবৃত্তিরিত্যত্রানিষ্টমাশঙ্কতে-তথা সতীতি। কৰ্ম্মবিধেরপি পুরুষাভিপ্রায়বশাৎ পুরুষার্থোপযোগিত্বসিদ্ধের্নানিষ্টাপত্তিরিত্যুত্তরমাহ-নার্থেতি। অর্থস্য পুরুষাভিপ্রায়তন্ত্রত্বে মোক্ষস্যাপি বাস্তবং পুরুষার্থত্বং ন স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-মোক্ষমিতি। অর্থানর্থয়োরভিপ্রায়তন্ত্রত্বং সাধয়তি-পুরুষেতি। মরণং মহাপ্রস্থানমিত্যাদি কাম্যং কৃত্বা জীবদবস্থায়ামের মহাভারতাদাবিষ্টিবিধানং দৃষ্টমতোহথানর্থাবভিপ্রায়তন্ত্রকাবেবেত্যর্থঃ। কৰ্ম্ম- বিধীনামাত্মজ্ঞানাৎ প্রাচীনত্বং প্রতিপাদিতমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। তথাপি প্রকৃতে কিমায়াতং, তদাহ-তস্মান্নেতি। তত্র প্রমাণমাহ ইত্যত ইতি। অতঃশব্দার্থং স্ফুটয়তি- কর্মেতি। জ্ঞানস্য কৰ্ম্মবিরোধিত্বে তন্নিরপেক্ষত্বে চ সিদ্ধে ফলিতমাহ-অত ইতি। আত্ম- জ্ঞানস্যামৃতত্বহেতুত্বাভ্যুপগমাদিত্যাদেরুক্তন্যায়াদাত্মসাক্ষাৎকারস্য কেবলস্য কৈবলাকারণত্বে সিদ্ধেঃ, সতি তস্মিন্ জীবন্মুক্তস্য কৰ্ম্মানুষ্ঠানানবকাশাৎ তদুপদেশেন প্রবৃত্তস্যাধীতবেদস্য পরোক্ষজ্ঞানবতস্তমত্রেণ প্রমাণাপেক্ষামস্তরেণ সিদ্ধং সর্বকর্মত্যাগলক্ষণং পারিব্রাজ্যমেব বিদ্বৎসংন্যাসো ন ত্বপরোক্ষজ্ঞানবতঃ প্রারব্ধফলপ্রাপ্তিমস্তরেণানুষ্ঠেয়ং কিঞ্চিদন্তীতি ভাবঃ। বিধ্যবিষয়ত্বাৎ তৎসাক্ষাৎকারস্য কথং পারিব্রাজ্যং, তত্রাহ-বচনমিতি। উক্তন্যায়ং শান্তাদিবাক্যসূচিতং। বিধিং বিনাপি ফলভূতং পারিব্রাজ্যমিত্যর্থঃ। ১২
তথা চ ব্যাখ্যাতমেতৎ—“যেষাং নোহয়মাত্মাহয়ং লোকঃ” ইতি হেতু-বচনেন, “পূর্ব্বে বিদ্বাংসঃ প্রজামকাময়মানা ব্যুত্তিষ্ঠন্তি” ইতি—পারিব্রাজ্যম্ বিদুষামাত্ম- লোকাববোধাদেব, তথা বিবিদিযোরপি সিদ্ধং পারিব্রাজ্যম্, “এতমেবাত্মানং লোকমিচ্ছন্তঃ প্রব্রজন্তি” ইতি বচনাৎ। কৰ্ম্মণাঞ্চ অবিদ্ববিষয়ত্বমবোচাম। অবিদ্যাবিষয়ে চোৎপত্যাপ্তি-বিকার-সংস্কারার্থানি কর্মাণীত্যত আত্ম-সংস্কার- দ্বারেণাত্মজ্ঞানসাধনত্বমপি কৰ্ম্মণামবোচাম,—“যজ্ঞাদিভিব্বিদিষন্তি” ইতি। ১৩
সত্যাং জিজ্ঞাসায়াং কৰ্ম্মত্যাগো ন শক্যতে নিষেধুমিতি বদন্ বিবিদিষাসংন্যাসং সাধ- য়তি—তথা চেত্যাদিনা। এতৎ পারিব্রাজ্যমিতি সম্বন্ধঃ। বিদুষামাত্মসাক্ষাৎকারাপিনাং
তৎ পরোক্ষনিশ্চয়বতামিতি যাবৎ। আত্মলোকস্যাববোধোহপি ব্যুত্থানহেতুঃ পরোক্ষনিশ্চয় এব। সতীতরস্মিন্ ফলাবস্থস্য ব্যুত্থানাদ্যনুষ্ঠানাযোগাৎ তদন্তরেণ তৎপ্রাপ্ত্যভাবাচ্চ। উক্তং হি শমাদিবদুপরতেরপি তত্ত্বসাক্ষাৎকারে নিয়তং সাধনত্বং, তদাহ-তথা চেতি। বিবিদিযু- র্নামাধীতবেদো বিচারপ্রযোজকাপাতিকজ্ঞানবান্ মুমুক্ষুর্মোক্ষসাধনং তত্ত্বসাক্ষাৎকারমপেক্ষ- মাণস্তস্মিন্ পরোক্ষনিশ্চয়েনাপি শূন্যো বিবক্ষিতঃ, তস্য কথং পারিব্রাজ্যমত আহ-এত- মেবাত্মানমিতি। ইতশ্চ বিবিদিষাসংন্যাসোহস্তীত্যাহ-কর্মণাং চেতি। তথা চাবিদ্যাবিরুদ্ধাং বিদ্যামিচ্ছন্নশেষাণি কর্মাণি শরীরধারণমাত্রকারণেতরাণি ত্যজেদিতি শেষঃ। বিবিদিষা- সংন্যাসে হেত্বন্তরমাহ-অবিদ্যাবিষয়ে চেতি। চতুর্ধিধফলানি কর্মাণ্যবিদ্যাবিষয়পরাণি সম্ভযন্তি, ন ত্বসাধ্যে বস্তুনীতাতো বস্তুজিজ্ঞাসায়াং তানীত্যর্থঃ। কথং তর্হি কৰ্ম্মণামুত্তম- ফলাম্বয়স্তত্রাহ-আত্মেতি। বুদ্ধিশুদ্ধিদ্বারা জ্ঞানহেতুহ্বাৎ কর্মণামস্তি প্রণাড্যা পরমপুরুষার্থান্বয় ইত্যর্থঃ। ১৩
অথৈবং সত্যবিদ্বদ্বিষয়াণামাশ্রমকৰ্ম্মণাং বলাবলবিচারণায়াম্ আত্মজ্ঞানোৎ- পাদনং প্রতি যম-প্রধানানাম্ অমানিত্বাদীনাং, মানসানাঞ্চ ধ্যান-জ্ঞান-বৈরাগ্যা- দীনাং সন্নিপত্যোপকারকত্বম্; হিংসারাগদ্বেষাদিবাহুল্যাং বহুক্লিষ্ট-কর্মবিমিশ্রিতা ইতরে, ইত্যতঃ পারিব্রাজ্যং মুমুক্ষুণাং প্রশংসন্তি—
“ত্যাগ এবং হি গদাধরসুতাং ন চ কর্ম্মণাম্।
বৈরাগ্যং, পুনরুক্তিঃ, মোক্ষস্য পরমো বিধিঃ॥”
“কিন্তু যখন কিছু বর্দ্ধিত, কিন্তু যে পোহাঙ্কিত সে মরিয়াছি।
আজ্ঞানমধিষ্ঠেৎ, তত্র প্রবিষ্টং, নিপাতকং কদাচনং, দিবাচ।
এবং সাঙ্খ্য-যোগশাস্ত্রেষু চ সন্ন্যাসঃ জ্ঞানং প্রতি প্রত্যাসন্ন উচ্যতে। কাম- প্রবৃত্ত্যভাবাচ্চ; কামপ্রবৃত্তেহি জ্ঞানপ্রতিকূলতা সর্ব্বশাস্ত্রেষু প্রসিদ্ধা; তস্মা- দ্বিরক্তস্যাপি মুমুক্ষোঃ বিনাপি জ্ঞানেন “ব্রহ্মচর্য্যাদেব প্রব্রজেৎ” ইত্যাদ্যপ- পন্নম্। ১৪
‘সংন্যাসঃ কর্মযোগশ্চ নিঃশ্রেয়সকরাবুভৌ’ ইতি স্মৃতের্বিবিদিষুণাং মুমুক্ষুণাং কথং পারিব্রাজ্য- স্যৈব কর্তব্যত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ—অথেতি। যথা বিদ্বৎসংন্যাসস্তথা বিবিদিবাসসংন্যাসেহপি যথোক্ত- নীত্যা সম্ভাবিতে সতীতি যাবৎ। আত্মজ্ঞানোৎপাদনং প্রত্যাশ্রমধম্মাণাং বলাবলবিচারণা নামান্তরঙ্গত্ববহিরঙ্গত্বচিন্তা, তস্যাং সত্যামিত্যর্থঃ। অহিংসাস্তেয়ব্রহ্মচর্য্যাদয়ো যমাঃ। বৈরা- গ্যাদীনামিত্যাদিশব্দেন শমাদয়ো গৃহন্তে। ইতরে নিয়মপ্রধানা আশ্রমধর্ম্মা বহুনা ক্লিষ্টেন পাপেন কৰ্ম্মণা সঙ্কীর্ণাঃ হিংসাদিপ্রাচুর্য্যাৎ।
‘যথাং পট্টভূষণো নিগ্রাহ্যং কেবলং ভজন্’
ইতি স্মৃতেঃ, তস্মাৎ পূর্ব্বেযামন্তরঙ্গত্বমুত্তরেষাং বহিরঙ্গত্বমিত্যাশয়েনাহ-হিংসেতি। কৰ্ম্ম- যোগাপেক্ষয়া তৎত্যাগস্যাধিকারিবিশেষং প্রতি প্রশস্তত্বমুপসহরতি-ইত্যত ইতি। তৎ-
প্রশংসাপ্রকারমেবাভিনয়তি—ত্যাগ এবেতি। উক্তানামাশ্রমৈরনুমেয়ত্বেনেতি শেষঃ। তৎ- ত্যাগে হেতুমাহ—বৈরাগ্যমিতি। মোক্ষস্য কৰ্ম্মপরিত্যাগস্যেত্যর্থঃ। উত্তমপুমর্থার্থিনঃ সংন্যাসদ্বারা শ্রবণাদি কর্তব্যমিত্যত্র বাক্যান্তরমুদাহরতি—কিং তে ধনেনেতি। অথ পিত্রাদিভির্গতং পন্থানমন্বেষয়ামি নাত্মানমিত্যাশঙ্ক্যাহ—পিতামহা ইতি। বিবিদিষাসংন্যাসে সাংখ্যাদিসম্মতিমাহ—এবমিতি। যথাহুঃ সাংখ্যাঃ—
“জ্ঞানেন চাপবর্গো বিপর্যয়াদিষ্যতে বন্ধঃ” ইতি। “বিবেকখ্যাতিপর্য্যন্তমজ্ঞানাচ্চিত্তচেষ্টিতম্” ইতি চ। “অবিপর্যয়াদ্বিশুদ্ধং কেবলমুৎপদ্যতে জ্ঞানম্” ইতি চ।
যোগশাস্ত্রবিদশ্চাহঃ “অভ্যাসবৈরাগ্যাভ্যাং তন্নিরোধঃ” ইতি। তত্র বৈরাগ্যেণ বিষয়স্রোতঃ পরিখিলীক্রিয়তে। বিবেকদর্শনাভ্যাসেন কল্যাণস্রোত উৎপাদ্যত ইতি চ। “দৃষ্টানুশ্রবিক- বিষয়বিতৃষ্ণস্য বশীকারস’জ্ঞা বৈরাগাম্” ইতি চ। ইতশ্চ সংন্যাসো জ্ঞানং প্রতি প্রত্যাসন্নঃ, ইত্যাহ—কামেতি। সংন্যাসিনঃ কামপ্রবৃত্ত্যভাবেহপি কথং সংন্যাসন্য জ্ঞানং প্রতি প্রত্যাসন্নত্ব- মিত্যাশঙ্ক্যাহ—কামপ্রবৃত্তেরিতি। “ইতিনু কাময়মানঃ”।
“কাম এবং ক্রোধ এবং রোষ। গুণমুহুর্ত্তঃ।
মহাশয়। মহাশয়। বিসর্জ্জনং বৈরিশ্যম্॥”
ইত্যাদীনি শাস্ত্রাণি। বিবিদিবাসংন্যাসপসংহরতি-তদ্গাদিতি। যথোক্তস্যাধিকারিণো দর্শিতয়া বিধয়া জ্ঞানেন বিনাপি সংন্যাসস্থ্য প্রাপ্তত্বাৎ ব্রহ্মচর্য্যাদেবেত্যাদি বিধিবাক্যমুপপন্নমিতি যোজনা। ১৪
ননু সাবকাশত্বাৎ অনধিকৃতবিষয়মেতদিত্যুক্তম্, যাবজ্জীবশ্রুত্যুপরোধাৎ; নৈষ দোষঃ, নিতরাং সাবকাশত্বাদ যাবজ্জীবশ্রুতীনাম্; অবিদ্বৎকামিকর্তব্যতাং হি অবোচাম সর্ব্বকৰ্ম্মণাম্; ন তু নিরপেক্ষমেব—জীবননিমিত্তমেব কর্তব্যং কৰ্ম্ম- প্রায়েণ হি পুরুষাঃ কামবহুলাঃ, কামশ্চানেকবিষয়ঃ অনেককর্মসাধন-সাধ্যশ্চ; অনেকফলসাধনানি চ বৈদিকানি কর্মাণি দারাগ্নিসম্বন্ধপুরুষকর্তব্যানি, পুনঃ পুনশ্চানুষ্ঠীয়মানানি বহুফলানি কৃষ্যাদিবৎ বর্ষশতসমাপ্তীনি চ গার্হস্থ্যে বা অরণ্যে বা, অতস্তদপেক্ষয়া যাবজ্জীবশ্রুতয়ঃ, “কুৰ্বন্নেবেহ কর্মাণি” ইতি চ মন্ত্রবর্ণঃ। ১৫
অথ পারিব্রাজ্যবিধানমনধিকৃতবিষয়মুচিতং, তথা সতি সাবকাশত্বাৎ ন ত্বধিকৃতবিষয়ং, যাবজ্জীবশ্রুতিবিরোধাৎ, তস্যা নিরবকাশত্বাৎ; সাবকাশনিরবকাশয়োশ্চ নিরবকাশস্যৈব বল- বত্ত্বাদিত্যুক্তং শঙ্কতে—নন্বিতি। যাবজ্জীবশ্রতেঃ নিরবকাশত্বং দূষয়তি—নৈষ দোষ ইতি। কথমতিশয়েন সাবকাশত্বং, তত্রাহ—অবিদ্বদিতি। জীবনমাত্রং নিমিত্তীকৃত্য চোদিতং কৰ্ম্ম কথং কামিনা কর্তব্যং, তত্রাহ—ন ত্বিতি। প্রত্যবায়পরিহারাদেরিষ্টত্বাদিত্যর্থঃ। অনুষ্ঠাতৃ- স্বরূপনিরূপণায়ামপি ন জীবনমাত্রং নিমিত্তীকৃত্য কৰ্ম্ম কর্তব্যমিত্যাহ—প্রায়েণেতি। তথাপি নিত্যেযু কর্মসু ন কামনিমিত্তা প্রবৃত্তিস্তত্র কাম্যমানফলাভাবাদিত্যাশঙ্ক্যাহ—কামশ্চেতি।
প্রত্যবায়পরিহারাদেরপি কামিতত্বং যুক্তমিতি ভাবঃ। তথাপি নিত্যে কর্মণি কাম্যমানং ফলং বিধ্যুদ্দেশে কিঞ্চিৎ ন শ্রতমিত্যাশঙ্ক্যাহ—অনেকেতি। কর্মভিরনেকৈঃ সাধনৈর্যদ দুরিত- নিবর্হণাদি সাধ্যং, তদেবাস্যাশ্র তমপি বিধুদ্দেশে সাধ্যং ভবতি।
‘যদপি কুশলং কদাচনং কতিবাৎ কোষ্ঠি’
ইতি স্মৃতস্তদ্ব্যতিরেকেণ প্রবৃত্ত্যনুপপত্তেঃ, অতো নিত্যোহপি কামিতং ফলমস্তীত্যর্থঃ। ননু বৈদিকানাং কৰ্ম্মণাং নিয়তফলত্বাৎ কামোহপি নিয়তফলো যুক্তঃ, তথা চ নিতোযু তদভাবাৎ ন কামিতং ফলং সেৎস্যতি, তত্রাহ-অনেকফলেতি। অথ তানি পুরুষমাত্রকর্তব্যানীতি কুতো বিবক্ষিতসংন্যাসসিদ্ধিস্তত্রাহ-দারেতি। নম্ববিরতেনাপি গৃহিণা সবৃদেব তান্যনুষ্ঠেয়ানি, তাবতা বিধেশ্চরিতার্থত্বাৎ, তথা চ কপং ফলবাহুল্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ-পুনঃ পুনশ্চেতি। যাবজ্জীবোপবন্ধাদাবৃত্তিসিদ্ধিরিতি ভাবঃ। তর্হি যাবজ্জীবশ্রুতিবশাদশেষাশ্রমানুষ্ঠেয়ান্যনব- রতমগ্নিহোত্রাদীনীতি কুতো যথোক্তসংন্যাসোপপত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-বর্ষশতেতি। অবিরক্তগৃহি- বিষয়ত্বং শ্রুতিমন্ত্রয়োরিত্যুপস’হরতি-অত ইতি। ১৫
তস্মিংশ্চ পক্ষে বিশ্বজিৎ-সর্ব্বমেধয়োঃ কৰ্ম্মপরিত্যাগঃ। যস্মিংশ পক্ষে যাবজ্জী- বানুষ্ঠানম্, তদা শ্মশানান্তত্বং ভস্মান্ততা চ শরীরস্য। ইতরবর্ণাপেক্ষয়া বা যাবজ্জীব- শ্রুতিঃ; ন হি ক্ষত্রিয়বৈশ্যয়োঃ পারিব্রাজ্যপ্রতিপত্তিরস্তি; তথা “মন্ত্রৈর্যস্যোদিতো বিধিঃ”। “ঐকাশ্রম্যস্বাচার্য্যাঃ” ইত্যেবমাদীনাং ক্ষত্রিয়বৈশ্যাপেক্ষত্বম্। তস্মাৎ পুরুষসামর্থ্য-জ্ঞান-বৈরাগ্য-কামাদ্যপেক্ষয়া ব্যুতান-বিকল্প-ক্রম-পারিব্রাজ্যপ্রতি- পত্তিপ্রকারা ন বিরুধ্যন্তে। অনধিকৃতানাঞ্চ পৃথগ্বিধানাং পারিব্রাজ্যস্থ্য,-“স্নাতকো বাহস্নাতকো বোৎসন্নাগ্নিকো বা” ইত্যাদিনা। তস্মাৎ সিদ্ধান্যাশ্রান্তরাণি অধিকৃতানামেব ॥ ৩৩০ ॥ ১৬ ॥
ইতি বৃহদারণ্যকভাগে চতুর্থধ্যায়ে পঞ্চম-ব্রাহ্মণভাষ্যম্ ॥ ৪ ॥ ৫ ॥
যৎ তু, যাবজ্জীবশ্রুতেরপবাদো বিশ্বজিৎ-সর্বমেধয়োরিতি, তদপি কামিগৃহিবিষয়ত্বাৎ ন ব্রহ্মচর্য্যাদেব প্রব্রজেদিতি বিধ্যপবাদকমিত্যাহ—তস্মিংশ্চেতি। পরোক্তং লিঙ্গমপি তদ্বিষয়ত্বাৎ ন সর্বস্য বেদস্য কর্মাবসানত্বং দ্যোতয়তীত্যাহ—যস্মিংশ্চেতি। যাবজ্জীবশ্রতেগত্যন্তরমাহ— ইতরেতি। কথং সা ক্ষত্রিয়বৈশ্যবিষয়ত্বেন প্রবৃত্তা, ত্রৈবর্ণিকানামপি পারিব্রাজ্যপরিগ্রহাদিত্যা- শঙ্ক্যাহ—ন হীতি। যাবজ্জীবশ্রুতিবদৈকাশ্রম্যপ্রতিপাদকস্মৃতীনামপি ক্ষত্রিয়াদিবিষয়ত্বমাহ— তথেতি। শ্রুতিস্মৃতীনাং কৰ্ম্মতৎসংন্যাসার্থানাং ভিন্নবিষয়ত্বে ফলিতমুপসংহরতি—তস্মাদিতি। যৎ তু কাণকুজাদয়োহপি কৰ্ম্মণ্যনধিকৃতা অনুগ্রাহ্যা এব শ্রুত্যেতি, তত্রাহ—অনধিকৃতানাং চেতি। সত্যামের ভার্য্যায়াং ত্যক্তাগ্নিরুৎসন্নাগ্নিস্তস্যামসত্যাং পরিত্যক্তাগ্নিরনগ্নিক ইতি ভেদঃ। আশ্রমান্তরবিষয়শ্রুতিস্মৃতীনামনধিকৃতবিষয়ত্বাভাবে সিদ্ধমর্থং নিগময়তি—তস্মা- দিতি॥ ৩৩০ ॥ ১৬ ॥
ইতি বৃন্দাবনে শ্রীনিবাসচন্দ্রদেবায় চতুর্থোঽধ্যায়ঃ। প্রথমঃ খণ্ডঃ॥ ৪। ৫। ৬।
ভাষ্যানুবাদ।—প্রথম হইতে চতুর্থ অধ্যায় পর্য্যন্ত সমস্ত অধ্যায়েই বৈষম্যবিবর্জ্জিত একই আত্মা পরব্রহ্মরূপে নির্ধারিত হইয়াছে; সেই পরব্রহ্ম-স্বরূপ আত্মাকে উপলব্ধি করিবার উপায়গুলি অবশ্যই বিভিন্নপ্রকার, কিন্তু উপেয় বা উপায়লভ্য সেই আত্মা কিন্তু একই—চতুর্থ অধ্যায়ে অর্থাৎ এই উপনিষদের দ্বিতীয় অধ্যায়ে তৃতীয় ব্রাহ্মণের ষষ্ঠ শ্রুতিতে ‘অথাত আদেশঃ—নেতি নেতি’ ইত্যাদি বাক্যে যাহার স্বরূপ নির্দেশ করা হইয়াছে, এবং পঞ্চম অধ্যায়ে অর্থাৎ এই উপনিষদের তৃতীয় অধ্যায়ে শাকল্যের প্রাণপণ(শিরঃপাত) উল্লেখপূর্ব্বক যে শাকল্য-যাজ্ঞবল্ক্যসংবাদ উক্ত হইয়াছে, সেখানেও সেই আত্মাই অবধারিত হইয়াছে; পঞ্চম(তৃতীয়) অধ্যায়ের শেষেও আবার সেই তত্ত্বই বর্ণিত হইয়াছে। তাহার পর এই ষষ্ঠ(উপনিষদের চতুর্থ) অধ্যায়েও প্রথমতঃ জনক-যাজ্ঞবল্ক্য- সংবাদে এবং পঞ্চম ব্রাহ্মণেরও শেষভাগে সেই একই আত্মতত্ত্ব নিরূপিত হইয়াছে।(১)
অতএব গত চারি প্রপাঠকেরই(অধ্যায়েরই) যে, একই আত্মতত্ত্বনির্ধারণে তাৎপর্য্য, তদ্ভিন্ন অন্য কোন অর্থ ই শ্রুতির অভিপ্রেত নহে, ইহা প্রদর্শন করিবার জন্য এই অধ্যায়ের শেষভাগে সেই তত্ত্বের উপসংহার করা হইতেছে—‘স এষ নেতি নেতি’ ইত্যাদি। ১
যেহেতু তত্ত্বনিরূপণার্থ শত শত প্রকারে বিচার করিলেও, ‘নেতি নেতি’রূপেই বাক্যের তাৎপর্য্য পর্যবসিত হয়, তর্ক বা শাস্ত্র হইতে অন্য কোন প্রকার তত্ত্বই উপলব্ধিগোচর করা যায় না; সেইহেতু ইহাই একমাত্র প্রকৃত অমৃতত্ব-সাধন যে, ‘নেতি নেতি’রূপে আত্মাকে অনুভব করা। এই বিষয়েরই উপসংহার করিবার অভিপ্রায়ে বলিতেছেন—এই যে, ‘নেতি নেতি’রূপে অদ্বৈত আত্মতত্ত্বজ্ঞান, ইহাই[অমৃতত্বলাভের] একমাত্র উপায়। অরে মৈত্রেয়ি, অমৃতত্ব সাধন করিতে ইহা অপর কোনও সহকারী কারণের অপেক্ষা করে না, নিরপেক্ষভাবেই সাধন করে। তুমি যে আমাকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলে ‘আপনি যাহা অমৃতত্ব-
(১) তাৎপর্য্য—এই বৃহদারণ্যক উপনিষদ্দী বৃহদারণ্যক ব্রাহ্মণের তৃতীয় অধ্যায় হইতে আরব্ধ হইয়াছে; সুতরাং ব্রাহ্মণের তৃতীয় অধ্যায় বলিলেই উপনিষদের প্রথম অধ্যায় বুঝিতে হইবে। অন্যান্য অধ্যায়ের সংখ্যাও এইরূপ। ভাষ্যকার এখানে উপনিষদের অধ্যায়-সংখ্যা না ধরিয়া সাক্ষাৎ ব্রাহ্মণের অধ্যায়-সংখ্যাই গ্রহণ করিয়াছেন; সুতরাং ভাষ্যলিখিত—‘চতুর্থ অধ্যায়’ শব্দে উপনিষদের দ্বিতীয় অধ্যায়, আর ভাষ্যোক্ত পঞ্চম অধ্যায় কথায় উপনিষদের তৃতীয় অধ্যায় বুঝিতে হইবে। ‘অধ্যায়ের অপর নাম—’প্রপাঠক‘।
সদ্ধির নিশ্চিত উপায় অবগত আছেন, তাহাই বলুন’; জানিবে, তাহা এই পর্যন্তই। যাজ্ঞবল্ক্য নিজের প্রিয়া ভার্য্যা মৈত্রেয়ীকে এই প্রকার অমৃতত্ব-সাধন বলিয়া পরে কি করিয়াছিলেন? না, তিনি পূর্ব্বে যে, প্রব্রজ্যা-গ্রহণের অঙ্গীকার জ্ঞাপন করিয়াছিলেন, তাহাই করিয়াছিলেন, অর্থাৎ প্রব্রজ্যা(সন্ন্যাসগ্রহণ) করিয়াছিলেন। সন্ন্যাসে যাহার পূর্ণতা বা পর্যবসান, সেই ব্রহ্মবিদ্যার কথা এখানে সমাপ্ত হইল। এই পর্যন্তই উপদেশ, ইহাই বেদের শেষ আদেশ, ইহাই সর্ব্বোত্তম নিষ্ঠা—জ্ঞানের পরাকাষ্ঠা; পুরুষের যত রকম কর্তব্য আছে, ইহাতেই সেই কর্তব্যতার পরিসমাপ্তি হয়, ইহার উপরে পুরুষের আর কিছু কর্তব্য নাই। ২
এখন শাস্ত্রের প্রকৃতার্থ নির্ণয়ের নিমিত্ত আলোচনা আরম্ভ করা হইতেছে; কেননা, ‘যাবজ্জীবন অগ্নিহোত্র হোম করিবে’, ‘যাবজ্জীবন দর্শপূর্ণমাস যাগ করিবে’, ‘কর্মানুষ্ঠানসহকারেই ইহলোকে শতবর্ষ জীবিত থাকিতে ইচ্ছা করিবে’, ‘এই যে, অগ্নিহোত্র যাগ, ইহা জরামরণবার্য্য’, এই সমস্ত বাক্যই হইতেছে একমাত্র গার্হস্থ্য আশ্রমের বিধায়ক; আবার আশ্রমান্তরবিধায়কও অপর কতকগুলি বাক্য আছে- ‘তাহাকে বিদিত হইয়া’ এবং ‘এবণাত্রয় হইতে ব্যুত্থিত হইয়া প্রব্রজ্যা করিবে’, ‘ব্রহ্মচর্য্য সমাপন করিয়া গৃহী হইবে, তাহার পর, বানপ্রস্থ্য সমাপন করিয়া প্রব্রজ্যা করিবে, অথবা সম্ভব হইলে ব্রহ্মচর্য্য হইতেই কিংবা গৃহস্থাশ্রম হইতে অথবা বানপ্রস্থ হইতেই প্রব্রজ্যা করিবে’, ‘দুইটামাত্র পথ বা সাধনমার্গই সম্পূর্ণ পৃথকভাবে নির্গত হইয়াছে,-প্রথমটী ক্রিয়াপথ, দ্বিতীয়টী জ্ঞানপথ, তন্মধ্যে সন্ন্যাসই তদুভয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ’, ‘প্রাচীন কোন কোন ঋষি কৰ্ম্ম, সন্তান ও ধন দ্বারা অমৃতত্ব(মোক্ষ) লাভ করিতে সমর্থ না হইয়া কেবল ত্যাগ অর্থাৎ সন্ন্যাস দ্বারাই অমৃতত্ব ভোগ করিয়াছিলেন’ ইত্যাদি।
এইরূপ স্মৃতিশাস্ত্রও[পরস্পর বিপরীতার্থ-প্রকাশক দৃষ্ট হয়-] ‘যথাবিধি ব্রহ্ম- চর্য্যসম্পন্ন লোকই প্রব্রজ্যা করিবে’, ‘যাহার ব্রহ্মচর্য্য ব্রত কোনরূপে বিশীর্ণ বা ব্যাহত হয় নাই, তিনি ইচ্ছানুসারে যে কোন আশ্রমে বাস করিবেন’, ‘কেহ কেহ তাহার সম্বন্ধে আশ্রমের বিকল্প অর্থাৎ ইচ্ছামত অন্যতম আশ্রম গ্রহণের কথা বলিয়া থাকেন’, ‘ব্রহ্মচর্য্য অবলম্বনপূর্ব্বক বেদাধ্যয়ন শেষ করিয়া পিতৃ-ঋণ- বিশোধনার্থ পুত্রপৌত্র ইচ্ছা করিবে, অর্থাৎ গার্হস্থ্যাশ্রম গ্রহণ করিবে’, ‘অগ্নি আধানপূর্ব্বক যথাবিধি যজ্ঞানুষ্ঠান করিয়া শেষে বনে প্রবেশ করত মুনি হইবে’, ‘ব্রাহ্মণ সর্ব্বস্বদক্ষিণাযুক্ত প্রাজাপত্য যজ্ঞ সমাপন করিয়া যজ্ঞাগ্নি আত্মাতে আধান- পূর্ব্বক গৃহস্থাশ্রম হইতে প্রব্রজ্যা করিবেন’ ইত্যাদি। ৩
আশ্রমের বিকল্প, ক্রম ও যথেষ্ট গ্রহণ-প্রতিপাদক এমন শত শত বাক্য দেখিতে পাওয়া যায়, যে সমস্ত বাক্য পরস্পর বিরুদ্ধার্থ-বোধক, এবং ঐ সমস্ত শাস্ত্রবিদ্ পণ্ডিতগণের আচারও সেইরূপ পরস্পর বিরোধী দেখা যায়। আবার যাঁহারা শাস্ত্রার্থ ব্যাখ্যাতা বহুজ্ঞ পণ্ডিত, তাঁহাদের মধ্যেও শাস্ত্রার্থ লইয়া বিষম বিরোধ দেখিতে পাওয়া যায়; কাজেই যাহারা অল্পমতি লোক, তাহারা কখনই বিরোধ পরিহারপূর্ব্বক শাস্ত্রার্থ নির্ণয় করিতে সমর্থ হয় না; পরন্তু যাঁহাদের বুদ্ধি শাস্ত্রার্থ- নিরূপণের উপযুক্ত ও নিয়মানুশীলনে পরিপক্কতা লাভ করিয়াছে, কেবল তাঁহারাই বিষয়বিভাগপূর্ব্বক অবিরোধে শাস্ত্রার্থ অবধারণ করিতে সমর্থ হন। এই কারণে উক্ত বিরুদ্ধার্থপ্রতিপাদক বাক্যসমূহের বিষয়বিভাগ প্রদর্শনের জন্য এখানে স্বীয় বুদ্ধিসামর্থ্য অনুসারে বিচার করিব। ৪
[পূর্ব্বপক্ষ-] যাবজ্জীবন অগ্নিহোত্রাদিবিধায়ক বাক্যসমূহের যখন অন্যরূপ অর্থ করা সম্ভবপর হয় না, তখন[বুঝিতে হইবে যে,] ক্রিয়াপ্রতিপাদনই বেদের যথার্থ অর্থ; কেন না, মন্ত্রে আছে-‘তাহাকে(অগ্নিহোত্রীকে) যজ্ঞপাত্র দ্বারা দাহ করিবে’; এখানে অগ্নিহোত্রীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যজ্ঞপাত্রের আবশ্যকতা শ্রুত হইতেছে। তাহার পর, অগ্নিহোত্রবিধায়ক প্রকরণে জরামরণাতিক্রম ফলশ্রুতিও রহিয়াছে; এবং ‘শরীরকে ভস্মাবশেষ করিবে’ এইরূপ সমর্থক বাক্যও রহিয়াছে। পারিব্রাজ্য-গ্রহণপক্ষেত শরীরের ভস্মীকরণ সম্ভবপর হয় না;[কারণ, সন্ন্যাসীর শরীর ভূগর্ভে সমাহিত করিতে হয়, ভস্ম করিতে হয় না।] বিশেষতঃ স্মৃতিশাস্ত্রও বলিতেছেন,-যাহার গর্ভাধান হইতে শ্মশানপর্য্যন্ত(দাহপর্যন্ত) ক্রিয়াসমূহ মন্ত্রপূর্ব্বক সম্পাদিত হয়, জানিবে, তাহারই এই অধ্যাত্মশাস্ত্রে অধিকার, অন্যের নহে।’ বেদে যে সমুদয় কৰ্ম্ম মন্ত্রোচ্চারণপূর্ব্বক সম্পাদনীয় বলিয়া বিহিত হইয়াছে, এখানে স্মৃতিশাস্ত্র আবার শ্মশানকে সেই সমুদয় কার্য্যের শেষ সীমারূপে নির্দেশ করিতেছে; অর্থাৎ গর্ভাধান হইতে শ্মশান পর্যন্ত সেই সমুদয় ক্রিয়ার মন্ত্রপূর্ব্বক অনুষ্ঠান করিতে বলিতেছে। কর্মত্যাগীর অধিকারাভাবও অন্য কারণ; কেন না, শ্রুতি আলোচনা করিলে বুঝিতে পারা যায় যে, অকর্মীর (যে লোক বিহিত কৰ্ম্ম না করে, তাহার) বেদে অধিকার নাই। তাহার পর, অগ্নি পরিত্যাগের নিন্দাও আছে--‘যে লোক অগ্নি ত্যাগ করে, সে লোক দেবগণের বীর্য্যহানি করে’ ইত্যাদি। ৫
[আশঙ্কা—] ভাল, বেদেই যখন ব্যুত্থান প্রভৃতিরও(সন্ন্যাস প্রভৃতিরও) বিধান রহিয়াছে, তখন বুঝিতে হইবে যে, বেদে যে অগ্নিহোত্রাদি ক্রিয়ার বিধান,
তাহা বৈকল্পিক, অর্থাৎ ব্যুত্থান কিংবা কৰ্ম্ম ইহাদের অন্যতর পক্ষ গ্রহণ করিবে, এইরূপ অর্থেই উহার তাৎপর্য্য। না, যেহেতু ব্যুত্থানাদিবোধক শ্রুতিসমূহের তাৎপর্য্য অন্যরূপ অর্থে,(কৰ্ম্ম ত্যাগে নহে); কেন না, ‘যাবজ্জীবন অগ্নিহোত্র হোম করিবে’, ‘যাবজ্জীবন দর্শপূর্ণমাস যাগ করিবে’ ইত্যাদি শ্রুতিসমুহে কেবল জীবনধারণকেই অগ্নিহোত্রাদি অনুষ্ঠানের নিমিত্তরূপে নির্দেশ করায়, যখন এই সমুদয় শ্রুতির অন্যপ্রকার অর্থ করা যাইতে পারে না, তখন ব্যুত্থানাদিবোধক শ্রুতিসমূহের কর্ম্মানধিকৃত বিষয়ে অর্থাৎ কর্মানুষ্ঠানে যাহাদের অধিকার নাই, তাহাদের সম্বন্ধেই সার্থকতা সম্ভব হয়; যেহেতু মন্ত্রে আছে—‘কর্মানুষ্ঠান সহকারেই শত বর্ষ জীবিত থাকিবে’; এবং ‘একমাত্র জরা বা মৃত্যু দ্বারাই এই কর্মপাশ হইতে মুক্ত হইতে পারে‘। এখানে কেবল জরা ও মরণকেই কর্মানু- ষ্ঠানের প্রতিবন্ধক বলা হইয়াছে; সুতরাং জরা বা মরণ ব্যতিরেকে কোন সময়েই কর্মানুষ্ঠানের বাধা হইতে পারে না; অতএব কর্মীদিগের যে শ্মশানান্ত কর্মানুষ্ঠান, তাহা বৈকল্পিক অর্থাৎ ইচ্ছানুযায়ী বলিতে পারা যায় না। যাহারা কাণ-কুজাদি ভাবাপন্ন বিধায় কর্মেতে অনধিকারী, তাহাদের প্রতি শ্রুতির অনুগ্রহ প্রকাশ করা আবশ্যক; সুতরাং তাহাদের জন্য শ্রুতিতে ব্যুত্থানাদির বিধান থাকাও অনুপপন্ন বা অসঙ্গত হইতেছে না। ৬
যদি বল, তাহা হইলে পারিব্রাজ্যবিধায়ক শাস্ত্রের কোনও সার্থকতা থাকে না; না—তাহাও বলিতে পার না; কারণ, ‘বিশ্বজিৎ’ ও ‘সর্ব্বমেধস’ নামক যাগদ্বয়ই ‘যাবজ্জীব’ শ্রুতির অপবাদক; অর্থাৎ যাবজ্জীবন যে অগ্নিহোত্রাদির বিধি রহিয়াছে, ‘বিশ্বজিৎ’ ও ‘সর্ব্বমেধস’ নামক যাগের স্থলেই তাহার বাধা হইতেছে; সুতরাং সে স্থানেই ক্রম-সন্ন্যাস বিধিরও সার্থকতা আছে। যেমন—‘ব্রহ্মচর্য্য সমাপন করিয়া গৃহী হইবে, গৃহ হইতে বনী হইবে, তাহার পর প্রব্রজ্যা গ্রহণ করিবে’(১)। বিশেষতঃ এরূপ কল্পনায় কোন প্রকার
বিরোধও ঘটে না; কেন না, এইরূপ পারিব্রাজ্য-বিধায়ক বাক্যের ক্রম নিষ্পত্তিতে কোন বিরোধও দৃষ্ট হয় না। পক্ষান্তরে, অন্যপ্রকার কল্পনা করিলে অর্থাৎ পারিব্রাজ্যের বিকল্প স্বীকার করিলে, যাবজ্জীবন অগ্নিহোত্র যাগ-বিধায়ক শাস্ত্রের অধিকার-সংকোচ করা হয়; কিন্তু ‘বিশ্বজিৎ’ ও ‘সর্ব্বমেধস’ স্থলে ক্রমবিধির বিষয় কল্পনা করিলে, যাবজ্জীবাদিশ্রুতিরও অধিকার কিছুমাত্র বাধিত হয় না। ৭
[এখন সিদ্ধান্তবাদী উত্তরে বলিতেছেন-] না,-এইরূপ কল্পনা হইতে পারে না। যেহেতু আত্মজ্ঞানকে মোক্ষহেতু বলিয়া স্বীকার করা হইয়াছে; “আত্মেত্যেবোপাসীত।” এই হইতে “স এষ নেতিনেতি” এই পর্যন্ত গ্রন্থ দ্বারা যে আত্ম-জ্ঞানের উপসংহার করা হইয়াছে, তুমিও তাহাই মোক্ষ-সাধন বলিয়া স্বীকার করিতেছ; অথচ এখন “এতাবদেবামৃতত্ব-সাধনম্ অন্যনিরপেক্ষম্”, অর্থাৎ ইহাই(আত্ম-জ্ঞানই) অন্যের সাহায্য-নিরপেক্ষ হইয়া মোক্ষসাধন হয়, কেবল এই কথাটা মাত্র সহ্য করিতেছ না; অতএব তোমাকে জিজ্ঞাসা করি-তবে তুমি আত্মজ্ঞানকেই বা[মোক্ষসাধন বলিয়া] স্বীকার করিতেছ কেন? হ্যাঁ, তাহার কারণ শ্রবণ কর,-বেদ যেমন স্বর্গপ্রাপ্তির উপায় নির্দেশ করে-জ্ঞানরহিত স্বর্গকামী পুরুষের নিমিত্ত যেমন অগ্নিহোত্রাদি কৰ্ম্ম সকল স্বর্গ-লাভের উপায় বলিয়া জ্ঞাপন করে, তেমনি এখানেও মোক্ষের উপায়ানভিজ্ঞ অথচ মোক্ষেচ্ছু লোকের নিমিত্ত ‘যাহা মহাশয় জানেন, ‘তাহাই আমায় বলুন’, এই প্রকারে আকাঙ্ক্ষিত মোক্ষোপায় “এতাবদেব” (এই পর্য্যন্তই) বলিয়া বেদই তাহা বিজ্ঞাপিত করিতেছে;[ইহাই আত্ম-জ্ঞানের উপায়ত্ব সহনের কারণ]।[তাৎপর্য্য এই যে,-বেদ-বিহিত বিধায় অগ্নিহোত্রাদি কর্ম্ম সকল যখন স্বর্গসাধন বলিয়া স্বীকৃত হইয়া থাকে, তখন ঠিক সেই ভাবেই বেদ-বিহিত আত্মজ্ঞানকেই বা মোক্ষসাধন বলিয়া অস্বীকার করা যায় কিরূপে? তা’ বলিয়া কর্ম্ম-নিরপেক্ষ আত্মজ্ঞানকেও মোক্ষের হেতু বলিয়া স্বীকার করিতে পারা যায় না।] ভাল, তাহা হইলে, বেদ-জ্ঞাপিত বলিয়া অগ্নিহোত্রাদি কৰ্ম্ম যেরূপ স্বর্গসাধনরূপে স্বীকৃত হইয়া থাকে, তেমনই এখানেও, আত্ম-জ্ঞান যে ভাবে শাস্ত্রে উপদিষ্ট হইয়াছে, ঠিক সেই ভাবেই তাহারা অগ্নিহোত্রাদি কৰ্ম্ম সমাপন করিয়া প্রব্রজ্যা গ্রহণ করিতে পারে; তাহাতে কোন প্রত্যবায়ের সম্ভাবনা নাই। অতএব প্রব্রজ্যার বিধি অনুপপন্ন হয় বলিয়া আশঙ্কা করিতে পারা যায় না।
মোক্ষ-সাধনরূপেই) আত্ম-জ্ঞানকে স্বীকার করা উচিত; কেননা, উভয় স্থলেই প্রমাণ(বেদ) তুল্য। ৮
যদি এইরূপই হয়, তবে কি হইবে? হ্যাঁ, বলিতেছি,-যেহেতু আত্ম-জ্ঞান সমস্ত কর্মের হেতুভূত অবিদ্যার নিবর্তক, সেই হেতুই আত্ম- বিদ্যার আবির্ভাবেই সমস্ত কর্ম্মের নিবৃত্তি হইবে। কেননা, অগ্নি ও ভার্য্যা প্রভৃতির সহিত নিয়তসম্বদ্ধ অগ্নিহোত্রাদি কর্মসকল ভেদবুদ্ধির বিষয়ীভূত সম্প্রদানাদি কারকের সাহায্যসাপেক্ষ ও ভেদবুদ্ধিবিশিষ্ট অগ্নি প্রভৃতি দেবতাই যজ্ঞীয় আহুতি প্রভৃতির সম্প্রদান কারক; সেই অগ্নি প্রভৃতি দেবতা ব্যতীত কখনই যজ্ঞাদি কার্য্য সম্পন্ন হইতে পারে না। সম্প্রদান-কারকাদি- বিষয়ক যে বুদ্ধি দ্বারা সম্প্রদানাদি কারকসমূহ কর্মের উদ্দেশ্যরূপে উপদিষ্ট হইয়া থাকে, বিদ্যা দ্বারা সেই বুদ্ধিই নিবর্তিত হইয়া যায়। নিম্নলিখিত শ্রুতিসমূহও এ বিষয়ে প্রমাণ-‘যে লোক জানে যে, আমি অন্য, এবং আমার উপাস্য অন্য, সে কিছুই জানে না।’ ‘যে ব্যক্তি দেবতা- গণকে আত্মা হইতে পৃথরূপে দেখে, দেবতার। তাহাকে পরাভূত করেন।’ ‘যে লোক এইরূপে ব্রহ্মে নানাভাবের ন্যায় দর্শন করে, সে মৃত্যুর পর মৃত্যু প্রাপ্ত হয়।’ ‘ব্রহ্মকে একপ্রকারেই দেখিবে।’ ‘জ্ঞানী সমস্তই আত্মা বলিয়া দেখেন’ ইত্যাদি।[এখানে আপাততঃ এরূপ আশঙ্কা হইতে পারে যে,] যখন, পবিত্র স্থানে ও শুভকালে শাস্ত্রাচার্য্যের উপদেশ-লব্ধ জ্ঞানই পরম পুরুষার্থের (মোক্ষের) সাধক, তখন ভেদবুদ্ধির বিষয়ীভূত দেশাদির অপেক্ষা থাকায় আত্ম-জ্ঞান ভেদবুদ্ধির উপমদ্দক বা নিবর্তক হয় কিরূপে?[ইহার উত্তর-] আত্ম-জ্ঞান কখনও দেশ, কাল বা নিমিত্তাদির অপেক্ষা করে না; কেননা, আত্ম- জ্ঞান যথার্থ-বস্তুবিষয়ক; সুতরাং তথায় আর পুরুষের স্বাতন্ত্র্য থাকে না,-কেবল বস্তুরই প্রাধান্য থাকে; যে বস্তু যেরূপ হইবে, তাহার জ্ঞানও ঠিক সেইরূপই হইতে হইবে; কিন্তু ক্রিয়াতে তাহার বৈলক্ষণ্য আছে,-কেন না, ক্রিয়া পুরুষতন্ত্র; সুতরাং সেখানে দেশ, কাল ও নিমিত্তাদিরও অপেক্ষা থাকা আবশ্যক হয়, কিন্তু বস্তু-তন্ত্র জ্ঞান কখনই দেশ, কাল ও নিমিত্তের অপেক্ষা করে না; স্বভাবতঃ উষ্ণ অগ্নি এবং স্বভাবতঃ মুত্তিহীন আকাশ যেরূপ কোনও দেশকালাদির অপেক্ষা করে না, আত্মজ্ঞানও ঠিক সেই প্রকার। ৯ ভাল কথা, যদি সর্ব্বকৰ্ম্ম পরিত্যাগপূর্ব্বক সন্ন্যাসগ্রহণই কর্তব্য হয়, তাহা হইলে কৰ্ম্ম-বিধিসকল একেবারে নিরর্থক হইয়া পড়ে; অথচ তুল্যবল প্রমাণে
প্রতিপাদিত বিধি-দ্বয়ের মধ্যে কেবল একটাকে বাধিত বা নিরর্থক করা কখনই উচিত হয় না। হ্যাঁ, এখানে সে দোষও হয় না; কারণ, উহা কেবল ভেদবুদ্ধি- মাত্রের বিরোধক, অর্থাৎ আত্মজ্ঞান কখনও অন্যান্য কর্মবিধির নিরোধ বা অধিকারসংকোচ করে না; পরন্তু জীবের যে স্বতঃসিদ্ধ ভেদবুদ্ধি, কেবল তাহারই নিবৃত্তিসাধন করে মাত্র। ভাল, কর্মপ্রবৃত্তির নিদানভূত ভেদবুদ্ধি নিবৃত্তি করায়, ফলতঃ বৈদিক কৰ্ম্ম-বিধিরই ত নিরোধ করা হইয়া পড়ে? না,-কাম্য-প্রবৃত্তি-নিরোধের ন্যায় ইহাও দোষাবহ হয় না; যেমন স্বর্গ লাভের ইচ্ছায় অশ্বমেধ যাগে প্রবৃত্ত ব্যক্তির কামনা-নিষেধক শাস্ত্রদ্বারা কামনা ব্যাহত হইলে সঙ্গে সঙ্গে সেই কাম্য যাগানুষ্ঠানের প্রবৃত্তিও নিরুদ্ধ হইয়া যায়, অথচ তাহাদ্বারা সেই সকল কাম্য বিধি নিষিদ্ধ হয় না, ইহাও সেইরূপ। ১০
আর যদি বল, কাম-প্রতিষেধ বশতঃ কাম্য-বিধিরও নিষেধ হয়? তবে, বলিব, হয় হউক, ক্ষতি নাই। যদি বল যে, কাম্যবিধির অনুষ্ঠেয়ত্ব পক্ষে, অনুষ্ঠাতার অভাবনিবন্ধন অনুষ্ঠান-বিধিরও আনর্থক্য ঘটে; কাজেই সেই সকল কৰ্ম্ম-বোধক বিধির প্রামাণ্যও নষ্ট হইয়া যায়। না, সে দোষও হইতে পারে না; কারণ, আত্মজ্ঞান উৎপন্ন হইবার পূর্ব্ব পর্যন্তও তাহাতে প্রবৃত্তি হইতে পারে; যেমন কাম্য বিষয়ে দোষ-জ্ঞান না হওয়া পর্যন্ত স্বভাবতই স্বর্গাদি ফলের বলবত্তা নিবন্ধন লোকের কাম্য কর্ম্মে প্রবৃত্তি হয়, পশ্চাৎ দোষ-জ্ঞান উৎপন্ন হইলে, আর তদ্বিষয়ে প্রবৃত্তি থাকে না, ইহাও ঠিক তেমনই। ১১
কর্মের কুফল দর্শন করিয়া যদি বল যে, এরূপ হইলে সর্ব্বজ্ঞানাকর বেদশাস্ত্র ত জীবের অনর্থেরই কারণ হয়? না, তাহাও হয় না; কেন না, অর্থ আর অনর্থ উভয়ই ইচ্ছানুযায়ী বা মনঃকল্পিত ভিন্ন আর কিছুই নহে; কারণ,[বিচার করিয়া দেখিলে বুঝিতে পারা যায় যে,] একমাত্র মোক্ষ ভিন্ন অন্য সমস্তই অবিদ্যা-কল্পিত;[সুতরাং] অনর্থমধ্যে পরিগণিত। [মহাভারত প্রভৃতি গ্রন্থে] দেখিতে পাওয়া যায় যে, মরণস্থানীয় মহা- প্রস্থানাদি কামনায়ও অন্তিম যজ্ঞানুষ্ঠানের ব্যবহার রহিয়াছে; কাজেই বলিতে হয়—অর্থ ও অনর্থব্যবস্থা কেবল পুরুষের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে, উহা স্বতঃসিদ্ধ নহে। অতএব যে পর্য্যন্ত আত্মজ্ঞানাভিমুখে অগ্রসর হইতে হয়, তাবৎই কর্মবিধির প্রয়োজন, পরে নহে; এই কারণেই “এতাবদরে খল্বমৃতত্বং” অর্থাৎ কর্মনিরপেক্ষ কেবল এই আত্মজ্ঞানই যে অমৃতত্বের(মোক্ষের)
সাধন, এই সিদ্ধান্তই সুস্থির হইল; কারণ, আত্মজ্ঞান কর্মসাপেক্ষ নহে। অতএব জ্ঞানীর ক্রিয়াকারকাদি ভেদবুদ্ধি না থাকায় এবং আত্ম-যাথাত্ম্য সম্বন্ধে দৃঢ় প্রত্যয় হওয়ায়, তাহার পারিব্রাজ্যও বিধিসিদ্ধ হইল। পূর্ব্বোক্ত “যেষাং নোহয়ম্” ইত্যাদি বাক্যেও হেতু-প্রদর্শন দ্বারা ইহাই ব্যাখ্যাত হইয়াছে। ১২
“পূর্ব্বতন জ্ঞানিগণ আত্মদর্শন বশতঃ প্রজাকামনা না করিয়া ব্যুত্থিত হইতেন”, এই বাক্যদ্বারা যেরূপ বিদ্বানের সম্বন্ধে সন্ন্যাস বিহিত হইয়াছে, তেমনই “এই লোককে(আত্মাকে) ইচ্ছা করত” ইত্যাদি বচনবলে বিবিদিযুর(জানিতে ইচ্ছুক) সম্বন্ধেও প্রব্রজ্যাবিধি বিহিত হইতেছে। কৰ্ম্মমাত্রই যে অনাত্মজ্ঞবিষয়ক, একথা আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি। অতএব অবিদ্যার সম্বন্ধ থাকায় কৰ্ম্মমাত্রই উৎপত্তি, আপ্তি, বিকার ও সংস্কারার্থক; এই হেতুই কর্মসমূহও চিত্ত-শোধন দ্বারা আত্মজ্ঞানের সাধন হয়, এ কথাও তোমায় বলিয়াছি। ১৩
এইরূপ হইলে অজ্ঞ-বিষয়ক আশ্রমোক্ত কর্মসমূহেরও বলাবল পর্য্যালোচনা করিলে, আত্মজ্ঞানোৎপাদন বিষয়ে অহিংসাদিরূপ যম-প্রধান অমানিত্ব প্রভৃতি এবং মানস ধ্যান ও বৈরাগ্যাদিও সাক্ষাৎসম্বন্ধে আত্মজ্ঞানেরই সাধন করে; এতদ্ভিন্ন নিয়ম-প্রধান আশ্রমধর্মসকল হিংসা ও রাগ-দ্বেষাদির প্রাচুর্য্যনিবন্ধন ক্লিষ্ট কৰ্ম্মমধ্যে-পরিগণিত হয়; এই কারণে ঋষিগণ মুমুক্ষুর পক্ষে নির্দোষ পারিব্রাজ্যেরই প্রশংসা করিয়া থাকেন। পুনশ্চ দেখ, ‘উক্ত কর্মসকলের মধ্যে ত্যাগই(সন্ন্যাসই) মোক্ষের পরমোৎকৃষ্ট ‘সাধন’, এবং ‘বৈরাগ্যই এই ত্যাগের চরম সীমা’, ‘হে ব্রাহ্মণ, ধন দ্বারা তোমার কি হইবে? বন্ধুগণ দ্বারাই বা তোমার কি হইবে? এবং স্ত্রীদ্বারাই বা তোমার প্রয়োজন কি? যে তুমি মরিয়া যাইবে; অতএব গুহা-প্রবিষ্ট অর্থাৎ অতি দুর্জেয় আত্মার অন্বেষণ কর। দেখ, তোমার পিতামহগণ ও পিতা কোথায় গিয়াছেন?’ এই প্রকার সাংখ্য ও যোগশাস্ত্রাদিতেও সন্ন্যাসই আত্মজ্ঞানোদয়ের সন্নিহিত কারণ বলিয়া অভিহিত হইয়াছে। কামনা বা ভোগপ্রবৃত্তির অভাবও এ বিষয়ে অপর হেতু, অর্থাৎ সমস্ত শাস্ত্রেই কামপ্রবৃত্তিকে জ্ঞানের প্রতিকূল বলিয়া নির্দেশ করিয়াছে; সেই কারণেই কামনা হইতে বিরত— বৈরাগ্যযুক্ত মুমুক্ষুর যে জ্ঞানলাভের পূর্ব্বেও কেবল ব্রহ্মচর্য্য হইতেই প্রব্রজ্যা বা সন্ন্যাস গ্রহণের উপদেশ ‘যদহরেব বিরজেৎ’ ইত্যাদি শ্রুতিতে উক্ত হইয়াছে, তাহাও সঙ্গত হইতেছে। ১৪
ভাল, সন্ন্যাসপ্রতিপাদিকা শ্রুতিসমূহের সাবকাশত্ব বিধায়, যাহারা কর্ম্মে অনধিকারী অন্ধপঙ্গু প্রভৃতি, তাহাদের জন্যই ঐ সকল শ্রুতি বিহিত, এ কথা ইতঃপূর্ব্বেই বলা হইয়াছে; নচেৎ ‘যাবজ্জীবন অগ্নিহোত্র করিবে’ এ শ্রুতির বাধা হইয়া পড়ে? না—এ দোষ হয় না; কারণ, যাবজ্জীবাদি শ্রুতিও সম্পূর্ণ সাবকাশ। যাবজ্জীবাদি শ্রুতির যে, কামনাবান্ অবিদ্বান্ লোকের সম্বন্ধেই স্বচ্ছন্দ অবকাশ(সার্থকতা) রহিয়াছে, তাহাও পূর্ব্বেই নির্দেশ করিয়াছি। আর অগ্নি- হোত্রাদি কর্ম্মসমূহও কেবল জীবনসত্তামাত্র নিমিত্তের অপেক্ষা করে, অপর কাহারও অপেক্ষা করে না; যেহেতু জীবগণ প্রায়ই বহুতর কামনায় পরিপূর্ণ; কামনাও আবার অনেকানেক বিষয়ভেদে বহুপ্রকার এবং বহুবিধ সাধন-সাধ্য। তাহার পর, গার্হস্থ্যে বা আরণ্যাশ্রমে অনুষ্ঠেয় বেদবিহিত কর্ম্মসকলও, স্ত্রী-অগ্নিসম্বন্ধবিশিষ্ট পুরুষেরই কর্তব্য এবং কৃষ্যাদি কর্ম্মের ন্যায় বহুবর্ষ-সমাপ্য; অধিকন্তু পুনঃ পুনঃ অনুষ্ঠিত হইলেই বহুবিধ ফল উৎপাদন করিয়া থাকে; সুতরাং ঐ সকল স্থলেই যাবজ্জীবন শ্রুতি এবং “কুর্ব্বন্নেবেহ কর্ম্মাণি” ইত্যাদি মন্ত্রবাক্য সার্থক হইতে পারে। ১৫
আর সেই পক্ষেই ‘বিশ্বজিৎ ও সর্বমেধস’ যাগে কর্মপরিত্যাগ করা আবশ্যক হয়, যে পক্ষে যাবজ্জীবন কৰ্ম্মানুষ্ঠান এবং শরীরের শ্মশানান্তত্ব বা ভস্মান্তত্বের বিধায়ক শ্রুতি রহিয়াছে। অথবা, ব্রাহ্মণ ভিন্ন বর্ণকে অপেক্ষা করিয়াই যাবজ্জীবন শ্রুতিসঙ্গত হইতে পারে; যেহেতু ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যের পারিব্রাজ্যে(সন্ন্যাসে) অধিকার নাই। “মন্ত্রৈর্যস্যোদিতো বিধিঃ”-এই স্মৃতিও ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যের পক্ষেই প্রযোজ্য। “ঐকাশ্রম্যত্বাচার্য্যাঃ” অর্থাৎ আচার্য্য বলেন যে, উহাদের একটামাত্র আশ্রম, ইত্যাদি স্মৃতিশাস্ত্রও ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যের পক্ষেই সঙ্গত করিতে হইবে। অতএব সামর্থ্য, জ্ঞান ও বৈরাগ্যাদি অনুসারেই ব্যুত্থানের বিকল্প, ক্রম ও পারিব্রাজ্যাদি- বিধি অবিরুদ্ধ হয়, অধিকন্তু কৰ্ম্মে অনধিকৃতগণের সম্বন্ধে যখন ‘স্নাতক হউক, বা অস্নাতক হউক, উৎসন্নাগ্নি(অগ্নিতাগী) হউক বা নিরগ্নি হউক’ ইত্যাদি বাক্যদ্বারা পৃথকভাবে পারিব্রাজ্যের বিধান করা হইয়াছে, তখন এই সন্ন্যাসবিধি যে কেবল তাঁহাদিগের নিমিত্তই হইয়াছে, এ কথা ত হইতেই পারে না: অতএব কৰ্ম্মে অধিকারিগণের পক্ষেও আশ্রমান্তর বিধি-সন্ন্যাসবিধি সিদ্ধ হইল!! ৩৩০ ॥ ১৫ ॥
ইতি বৃহদারণ্যকোপনিষদে চতুর্থ্যাধ্যায়ে পঞ্চম ব্রাহ্মণের।
॥ 8 ॥ ৫ ॥
অথ বংশঃ—পৌতিমায্যো গৌপবনাদেগোপবনঃ পৌতিমাষ্যাৎ পৌতিমায্যো গৌপবনাদেগোপবনঃ কৌশিকাৎ কৌশিকঃ কৌণ্ডিন্যাৎ কৌণ্ডিন্যঃ শাণ্ডিল্যাচ্ছাণ্ডিল্যঃ কৌশিকাচ্চ গৌত- মাচ্চ, গৌতমঃ—৷৷ ৩৩১ ৷ ১ ॥ *
মূলানুবাদ?—অনন্তর যাজ্ঞবল্কীয়কাণ্ডের বংশবর্ণন আরম্ভ হইতেছে। পৌতিমাস্য বংশ গৌপবন হইতে, গৌপবন পুনশ্চ পৌতিমাস্য হইতে, পৌতিমাস্য পুনশ্চ গৌপবন হইতে, গৌপবন কৌশিক হইতে, কৌশিক কৌণ্ডিন্য হইতে, কৌণ্ডিন্য শাণ্ডিল্য হইতে, শাণ্ডিল্য আবার কৌশিক ও গৌতম হইতে[প্রকাশিত হইয়াছেন।] গৌতম—॥৩৩১৷৷১৷৷
আগ্নিবেশ্যাদাগ্নিবেশ্যো গার্গ্যাদ্গার্য্যো গার্গ্যাদ্গার্য্যো গৌত- মাদেগৌতমঃ সৈতবাৎ সৈতবঃ পারাশর্যায়ণাৎ পারাশর্যায়ণো গার্গ্যায়ণাদগার্গ্যায়ণ উদ্দালকায়নাদুদ্দালকায়নো জাবালায়নাজ্জা- বালায়নো মাধ্যন্দিনায়নান্মাধ্যন্দিনায়নঃ সৌকরায়ণাৎ সৌক- রায়ণঃ কাষায়ণাৎ কাষায়ণঃ সায়কায়নাৎ সায়কায়নঃ কৌশি- কায়নেঃ, কৌশিকায়নিঃ—৷ ৩৩২ ॥ ২ ॥
মূলানুবাদ:-আগ্নিবেশ্য হইতে, আগ্নিবেশ্য গার্গ্য হইতে, গার্গ্য পুনশ্চ গার্গ্য হইতে, গার্গ্য আবার গৌতম হইতে, গৌতম সৈতব হইতে, সৈতব পারাশর্যায়ণ হইতে, পারাশর্যায়ণ গার্গ্যায়ণ হইতে, গার্গ্যায়ণ উদ্দালকায়ন হইতে, উদ্দালকায়ন জাবালায়ন হইতে, জাবালায়ন মাধ্যন্দিনায়ন হইতে, মাধ্যন্দিনায়ন সৌকরায়ণ হইতে, সৌকরায়ণ কাষায়ণ হইতে, কাষায়ণ সায়কায়ন হইতে, সায়কায়ন কৌশিকায়নি হইতে[প্রাদুর্ভূত হইয়াছিল] কৌশিকায়নি আবার ॥ ৩৩২ ॥ ২ ॥
ঘৃতকৌশিকাদ্বৃতকৌশিকঃ পারাশর্য্যায়ণাৎপারাশর্য্যায়ণঃ পারাশর্য্যাৎপারাশর্য্যো জাতুকর্ণ্যাজ্জাতুকর্ণ্য আসুরায়ণাচ্চ যাস্কা- চ্চাসুরায়ণস্ত্রেবণেস্ত্রেবণিরোপজন্ধনেরৌপজন্ধনিরাসুরেরাসুরির্ভার-
দ্বাজাদ্দারদ্বাজ আত্রেয়াদাত্রেয়ো মাণ্টেৰ্মান্টির্গে তিমাদগৌতমো গৌতমাদগৌতমো বাৎস্যাদ্বাৎস্যঃ শাণ্ডিল্যাচ্ছাণ্ডিল্যঃ কৈশোর্য্যাৎ কাপ্যাৎ কৈশোর্য্যঃ কাপ্যঃ কুমারহারিতাৎ কুমারহারিতো গালবাদ্গালবো বিদভীকৌণ্ডিন্যাদ্বিদভীকৌণ্ডিন্যো বৎসনপাতো বাভ্রবাদ্বৎসনপাদ্বাভ্রবঃ পথঃ সৌভরাৎপন্থাঃ সৌভরোহয়াস্যা- দাঙ্গিরসাদয়াস্য আঙ্গিরস আভূতেত্ত্বাষ্ট্রাদাভূতিত্ত্বাষ্ট্রো বিশ্বরূপাৎ ত্বাষ্ট্রাদ্বিশ্বরূপত্ত্বাষ্ট্রোহশ্বিভ্যামশ্বিনৌ দধীচ আথর্ব্বণাদ্দধ্যঙা- থর্ব্বণোহথর্ব্বণো দৈবাদথর্ব্বা দৈবো মৃত্যোঃ প্রাধ্বৎসনামৃত্যুঃ প্রাধ্বৎসনঃ প্রধ্বংসনাৎ প্রাধ্বৎস্ন একর্ষেরেকর্ষিবিপ্রচিত্তে- বিপ্রচিত্তির্ব্যষ্টেব্যষ্টিঃ সনারোঃ সনারুঃ সনাতনাৎ সনাতনঃ সনগাৎ সনগঃ পরমেষ্ঠিনঃ পরমেষ্ঠী ব্রহ্মণো ব্রহ্ম স্বয়ম্ভু, ব্রহ্মণে নমঃ ॥ ৩৩৩ ॥ ৩ ॥
ইতি চতুর্থাধ্যায়স্য ষষ্ঠম্ ব্রাহ্মণম্ ॥ ৪ ॥ ৬ ॥ ইতি শ্রীবৃহদারণ্যকোপনিষৎসু চতুর্থোহধ্যায়ঃ (ব্রাহ্মণানুক্রমেণ তু ষষ্ঠোহধ্যায়ঃ) ॥ ৪ ॥
মূলানুবাদ:-ঘৃতকৌশিক হইতে, ঘৃতকৌশিক পারাশর্যায়ণ হইতে, পারাশর্যায়ণ পারাশর্য্য হইতে, পারাশর্য্য জাতুকর্ণ হইতে, জাতুকর্ণ আসুরায়ণ ও যাস্ক হইতে, আসুরায়ণ ত্রৈবণি হইতে, ত্রৈবণি ঔপজন্ধনি হইতে, ঔপজন্ধনি আসুরি হইতে, আসুরি ভারদ্বাজ হইতে, ভারদ্বাজ আত্রেয় হইতে, আত্রেয় মান্টি হইতে, মান্টি গৌতম হইতে, গৌতম পুনশ্চ গৌতম হইতে, গৌতম বাৎস্য হইতে, বাৎস্য শাণ্ডিল্য হইতে, শাণ্ডিল্য কৈশোর্যকাপ্য হইতে, কৈশোর্যকাপ্য কুমারহারিত হইতে, কুমারহারিত গালব হইতে, গালব বিদর্ভ কৌণ্ডিন্য হইতে, বিদর্ভ কৌণ্ডিন্য বৎসনপাৎ বাভ্রব হইতে, বৎসনপাৎ বাভ্রব পন্থা সৌভর হইতে, পন্থা সৌভর অয়াস্য আঙ্গিরস হইতে, অয়াস্য আঙ্গিরস আভূতি ত্বাষ্ট্র হইতে, আভূতি ত্বাষ্ট্র বিশ্বরূপ ত্বাষ্ট্র হইতে, বিশ্বরূপ ত্বাষ্ট্র অশ্বিনদ্বয়
১৩৪৯
হইতে, অশ্বিনদ্বয় দধ্যঙ্ আথর্বণ হইতে, দধ্যঙ্ আথর্বণ আথর্বর্ণ দৈব হইতে, আথর্বণ দৈব মৃত্যু প্রাধ্বংসন হইতে, মৃত্যু প্রাধ্বংসন একর্ষি হইতে, একর্ষি বিপ্রচিত্তি হইতে, বিপ্রচিত্তি ব্যষ্টি হইতে, ব্যষ্টি সনারু হইতে, সনারু সনাতন হইতে, সনাতন সনগ হইতে, সনগ পরমেষ্ঠী হইতে, পরমেষ্ঠী ব্রহ্মা হইতে[প্রাদুর্ভূত হইয়াছেন।] ব্রহ্মা স্বয়ম্ভু— ব্রহ্মার উদ্দেশে নমস্কার করি ॥ ৩৩৩ ॥ ৩ ॥
ইতি বৃহদারণ্যকোপনিষদের চতুর্থ অধ্যায়ে ষষ্ঠ ব্রাহ্মণব্যাখ্যা ॥ ৪ ॥ ৬ ॥ ইতি বৃহদারণ্যকোপনিষদে চতুর্থ অধ্যায় সমাপ্ত ॥ ৪ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথানন্তরং যাজ্ঞবল্কীয়স্য কাণ্ডস্য বংশ আরভ্যতে, যথা মধুকাণ্ডস্য বংশঃ। ব্যাখ্যানন্ত পূর্ব্ববৎ। ব্রহ্ম স্বয়ম্ভু; ব্রহ্মণে নম ওঁম্ ইতি ॥ ৩৩১—৩ ॥
ইতি শ্রীবৃহদারণ্যকোপনিষদি চতুর্থাধ্যায়স্য ষষ্ঠম্ বংশব্রাহ্মণভাষ্যম্ ॥ ৪ ॥ ৬ ॥ ইতি শ্রীমদ্ গোবিন্দভগবৎ পূজ্যপাদশিষ্যস্য পরমহংস-পরিব্রাজকাচার্য্যস্য
শ্রীশঙ্করদেবঃ কৃতো বৃহদারণ্যকোপনিষদ্ভাষ্যং চতুর্থোহধ্যায়ঃ ॥ ৪ ॥
টীকা।—তদেবং বিচারদ্বারা শ্রুতিস্মৃতীনামাপাততো বিরুদ্ধানামবিরোধং প্রতিপাদ্যাথ বংশ ইত্যস্যার্থমাহ—অথেতি। সাঙ্গোপাঙ্গস্য সফলস্যাত্মবিজ্ঞানস্য প্রবচনানন্তর্য্যামথশব্দার্থ- মাহ—অনন্তরমিতি। যথা প্রথমাস্তঃ শিষ্যো গুরুস্তু পঞ্চম্যন্ত ইতি চতুর্থান্তে ব্যাখ্যাতং, তথাত্রাপীত্যাহ—ব্যাখ্যানং ত্বিতি। ইত্যাগমোপপত্তিভ্যাং সসংন্যাসং সেতিকর্তব্যতা- কমাত্মজ্ঞানমমৃতত্বসাধনং সিদ্ধমিত্যুপসংহর্তুমিতি-শব্দঃ। পরিসমাপ্তৌ মঙ্গলমাচরতি— ব্রহ্মেতি ॥৩৩১॥৩৩২৷৷৩৩৩৷১৷২৷৩৷
ইতি বৃহদারণ্যকোপনিষদ্ভাষ্যটীকায়াং চতুর্থাধ্যায়স্য ষষ্ঠং বংশব্রাহ্মণম্ ॥ ৪ ॥ ৬ ॥ ইতি শ্রীমৎপরমহংসপরিব্রাজকাচার্য্য শ্রীমচ্ছুদ্ধানন্দভগবৎপূজ্যপাদশিষ্য-শ্রীমদ্ভগবদানন্দজ্ঞান-
বিবর্জ্জিতোঽপি। শ্রীমদ্ভাগবতং ক্বচিৎ পঠন্তি ক্বচিৎ পঠন্তি চ। চতুর্দ্দশোহধ্যায়ঃ॥ ৪ ॥
চতুর্থোহধ্যায়ঃ সমাপ্তঃ ॥ ৪ ॥
ওম্ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে। পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে ॥ ৩৩৪ ॥ ১ ॥
সরলার্থঃ।—[ কার্য্যাত্মনঃ কারণাত্মনশ্চ ব্রহ্মণঃ অখণ্ডপূর্ণত্বমাবেদয়িত্ব- মাহ—পূর্ণমদঃ ইত্যাদি।] অদঃ(পরোক্ষং কারণাত্মকং ব্রহ্ম) পূর্ণম্ (অখণ্ডম্), তথা ইদং(কার্য্যাত্মকং জগদ্রূপং ব্রহ্ম) পূর্ণম্। পূর্ণাৎ(কার- ণাৎ) পূর্ণং(কার্য্যং ব্রহ্ম) উদচ্যতে(উদ্গচ্ছতি)।[প্রলয়াদৌ চ,] পূর্ণস্য(পূর্ণতয়া অবস্থিতস্য কার্য্যাত্মনঃ) পূর্ণং(পূর্ণহম্) আদার(গৃহীত্বা) [কারণং ব্রহ্ম] পূর্ণম্ এব অবশিষ্যতে(ন কথঞ্চিৎ বিক্রিয়তে ইত্যাশরঃ) ॥ ৩৩৪ ॥ ১ ॥
মূলানুবাদ:-‘অদঃ’-ইন্দ্রিয়ের অগোচর কারণস্বরূপ ব্রহ্ম, তিনি পূর্ণ; এবং ‘ইদং’-কার্য্যাত্মক ব্রহ্ম, তিনিও পূর্ণ; পূর্ণ জগৎ-কার্য্য পূর্ণ কারণ হইতে অভিব্যক্ত হয়। অবশেষে এই পূর্ণের পূর্ণত্ব লইয়া- অর্থাৎ পরিপূর্ণস্বরূপ এই কার্য্য-জগৎ তাহাতে বিলীন হইলে পর, সেই পূর্ণই অবশিষ্ট থাকেন; অর্থাৎ তাহার কোন প্রকার বিকৃতি ঘটে না ॥ ৩৩৪ ॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—‘পূর্ণমদঃ’ ইত্যাদি খিলকাণ্ডমারভ্যতে। অধ্যায়- চতুষ্টয়েন যদেব সাক্ষাদপরোক্ষাদ ব্রহ্ম, য আত্মা সর্ব্বান্তরঃ নিরুপাধিকঃ অশ- নায়াদ্যতীতঃ নেতিনেতীতি-ব্যপদেশ্যে। নির্দ্ধারিতঃ, যদিজ্ঞানং কেবলমমৃতত্ব- সাধনম্, অধুনা তস্যৈবাত্মনঃ সোপাধিকস্য শব্দার্থাদিব্যবহারবিষয়াপন্নস্য পুরস্তা- দনুক্তানি উপাসনানি কর্ম্মভিরবিরুদ্ধানি প্রকৃষ্টাভ্যুদয়সাধনানি ক্রমমুক্তিভাঞ্জি চ, তানি বক্তব্যানীতি পরঃ সন্দর্ভঃ। সর্ব্বোপাসনশেষত্বেন ওঁঙ্কারঃ দমং দানং দয়াম্-ইত্যেতানি চ বিধিৎসিতানি। ১
টীকা। পূর্বস্মিন্ অধ্যায়ে ব্রহ্মাত্মজ্ঞানং সফলং সাঙ্গোপাঙ্গং বাদন্যায়েনোক্তম্, ইদানীং কাণ্ডান্তরমবতারয়তি-পূর্ণমিতি। পূর্বাধ্যায়েধেব সর্বস্থ্য বক্তব্যস্য সমাপ্তত্বাদলং খিল- কাণ্ডারম্ভেণেত্যাশঙ্ক্য পূর্বত্রানুক্তং পরিশিষ্টং বস্তু খিলশব্দবাচ্যমস্তীত্যাহ-অধ্যায়-চতুষ্টয়েনেতি।
সর্বান্তর ইত্যুক্ত ইতি শেষঃ। অমৃতত্বসাধনং নির্দ্ধারিতমিতি পূর্ব্বেণ সম্বন্ধঃ। শব্দার্থাদীত্যাদি- শব্দেন মানমেয়াদিগ্রহঃ। দয়াং শিক্ষেদিত্যুক্তানীতি শেষঃ। ১
পূর্ণমদঃ-পূর্ণং ন কুতশ্চিদ্ব্যাবৃত্তং ব্যাপীত্যেতৎ; নিষ্ঠা চ কর্তরি দ্রষ্টব্যা। অদ ইতি পরোক্ষাভিধায়ি সর্ব্বনাম, তৎ পরং ব্রহ্মেত্যর্থঃ। তৎ সম্পূর্ণম্ আকাশ- বৎ ব্যাপি নিরন্তরং নিরুপাধিকং চ; তদেব ইদং সোপাধিকং নামরূপস্থং ব্যবহারা- পন্নং পূর্ণং স্বেন রূপেণ পরমাত্মনা ব্যাপ্যেব, ন উপাধিপরিচ্ছিন্নেন বিশেষাত্মনা। তদিদং বিশেষাপন্নং কার্য্যাত্মকং ব্রহ্ম পূর্ণাৎ কারণাত্মনঃ উদচ্যতে উদ্রিচ্যতে উদ্গচ্ছতীত্যেতৎ। যদ্যপি কাৰ্য্যাত্মনা উদ্রিচ্যতে, তথাপি যৎ স্বরূপং পূর্ণত্বং পরমাত্মভাবঃ, তন্ন জহাতি, পূর্ণমেব উদ্রিচাতে। পূর্ণস্য কাৰ্য্যাত্মনো ব্রহ্মণঃ, পূর্ণং পূর্ণত্বম্, আদায় গৃহীত্বা আত্মস্বরূপৈকরসত্বম্ আপাদ্য বিদ্যয়া, অবিদ্যাকৃতং ভূতমাত্রোপাধিসংসর্গজমন্যত্বাবভাসং তিরস্কৃত্য, পূর্ণমেব অনন্তরমবাহ্যং প্রজ্ঞান- ঘনৈকরসম্ভাবং কেবলং ব্রহ্ম অবশিষ্যতে। ২
ওঁকারাদি যত্র সাধনত্বেন বিধিৎসিতং, তৎ পূর্ব্বোক্তমৈক্যজ্ঞানমনুবদতি-পূর্ণমিতি। অবয়বার্থমুক্তা সমুদায়ার্থমাহ-তৎ সংপূর্ণমিতি। অদঃ পূর্ণমিত্যনেন লক্ষ্যং তৎপদার্থং দশয়িত্বা ত্বংপদার্থং দর্শয়তি-তদেবেতি। কথং সোপাধিকস্য পূর্ণত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-স্বেনেতি। ব্যাবর্ত্তামাহ-নোপাধীতি। ন বয়মুপহিতেন বিশিষ্টেন রূপেণ পূর্ণতাং বর্ণয়ামঃ, কিন্তু কেবলেন স্বরূপেণেত্যর্থঃ। লক্ষ্যৌ তত্ত্বং পদার্থাবুক্ত্বা তাবের বাচ্যো কথয়তি-তদিদমিতি। কথং কার্য্যাত্মনোত্রিচ্যমানস্য পূর্ণত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-যদ্যপীতি। লক্ষ্যপদার্থৈক্যজ্ঞানফলমুপন্য- স্যুতি-পূর্ণস্যেতি। ২
যদুক্তং “ব্রহ্ম বা ইদমগ্র আসীৎ, তদাত্মানমেবীবেৎ, তস্মাত্তৎ সর্ব্বমভবৎ” ইতি-এবঃ অন্য মন্ত্রস্যার্থঃ। তত্র ব্রহ্মেত্যস্যার্থঃ ‘পূর্ণমদঃ’ ইতি। ইদং পূর্ণমিতি “ব্রহ্ম বা ইদমগ্র আসীৎ” ইত্যস্যার্থঃ; তথা চ শ্রুত্যন্তরম্, “যদেবেহ তদমুত্র যদ- মুত্র তদন্বিহ” ইতি। অতঃ অদঃশব্দবাচ্যং পূর্ণং ব্রহ্ম, তদেবেদং পূর্ণং কার্য্যস্থং নাম- রূপোপাধিসংযুক্তমবিদ্যয়া উদ্রিক্তম্, তম্মাদেব পরমার্থস্বরূপাদন্যদিব প্রত্যবভাস- মানম্-তৎ আত্মানমেব পরং পূর্ণং ব্রহ্ম বিদিত্বা-অহম্ অদঃ পূর্ণং ব্রহ্মাস্মীত্যেবম্, পূর্ণমাদায়-তিরস্কৃত্য অপূর্ণস্বরূপতামবিদ্যাকৃতাং নামরূপোপাধিসম্পর্কজাম্ এতয়া ব্রহ্মবিদ্যয়া, পূর্ণমেব কেবলমবশিষ্যতে। তথা চোক্তম্, “তস্মাৎ তৎ সর্ব্বমভবৎ” ইতি। যঃ সর্ব্বোপনিষদর্থো ব্রহ্ম, স এষঃ অনেন মন্ত্রেণানুদ্যতে-উত্তরসম্বন্ধার্থম্। ব্রহ্মবিদ্যাসাধনত্বেন হি বক্ষ্যমাণানি সাধনানি ওঁঙ্কার-দম-দান-দয়াখ্যানি বিধিৎ- সিতানি, খিলপ্রকরণসম্বন্ধাৎ সর্ব্বোপাসনাঙ্গভূতানি. চ। ৩
উপদ্রবং পশ্যতি হ্যশোকমর্ম্মেণ। কশ্চিৎ। শৌর্য্যেন, গদাধর—যদুনাথ। কশ্চিৎ।
পূর্ব্বকণ্ডিকয়া সহৈকার্থত্বেনৈকবাক্যত্বমিত্যাশঙ্ক্য তদ্ব্যুৎপাদয়তি—তত্রেত্যাদিনা। উপক্রমোপ- সংহারসিদ্ধে ব্রহ্মাত্মৈক্যে কঠশ্রুতিং সংবাদয়তি—তথা চেতি। ব্রহ্মাত্মনোরৈক্যমুক্তমুপজীব্য বাক্যার্থমাহ—অত ইতি। পূর্ণং তদ্রহ্মেতি তচ্ছব্দো দ্রষ্টব্যঃ। উক্তমেব ব্যনক্তি—তস্মা- দেবেতি। সংসারাবস্থাং দর্শয়িত্বা মোক্ষাবস্থাং দর্শয়তি—তদ্যদাত্মানমিতি। উক্তে বিদ্যাফলে বাক্যোপক্রমমনুকূলয়তি—তথা চোক্তমিতি
ন কেবলং ব্রহ্মকণ্ডিকয়ৈবাস্য মন্ত্রস্যৈকবাক্যত্বং, কিন্তু সর্ব্বাভিরুপনিষদ্বিরিত্যাহ—যঃ সর্ব্বোপনিষদর্থ ইতি। অনুবাদফলমাহ—উন্নরেতি। তদেব স্ফুটয়তি—ব্রহ্মবিদ্যেতি। তস্মাদযুক্তো ব্রহ্মণোহনুবাদ ইতি শেষঃ। কথং তর্হি সর্ব্বোপাসনশেষত্বেন বিধিৎসিতত্বম্ ওঁকারাদীনামুক্তমত আহ—থিলেতি। ৩।
অত্রৈকে বর্ণয়ন্তি,-পূর্ণাৎ কারণাৎ পূর্ণং কার্য্যমুদ্রিচ্যতে। উদ্রিক্তং কার্য্যং বর্ত- মানকালেহপি পূর্ণমেব পরমার্থবস্তুভূতং দ্বৈতরূপেণ; পুনঃ প্রলয়কালে পূর্ণস্য কার্য্যশ্য পূর্ণতামাদার আত্মনি ধিত্বা পূর্ণমেব অবশিষ্যতে কারণরূপম্; এবমুৎপত্তিস্থিতি- প্রলয়েষু ত্রিঘপি কালেষু কার্য্যকারণয়োঃ পূর্ণ তৈব; সা চ একৈব পূর্ণতা কার্য্য- কারণয়োর্ভেদেন ব্যপদিশ্যতে; এবঞ্চ দ্বৈতাদ্বৈতাত্মকমেকং ব্রহ্ম। যথা কিল সমুদ্রো জলতরঙ্গফেনবুদ্ধুদাদ্যাত্মক এব; যথা চ জলং সত্যম্, তদুদ্ভবাশ্চ তরঙ্গফেনবুদ্বুদাদয়ঃ সমুদ্রাত্মভূতা এবাবির্ভাবতিরোভাবধৰ্ম্মাণঃ পরমার্থসত্যা এব, এবং সর্ব্বমিদং দ্বৈতং পরমার্থসত্যমের জলতরঙ্গাদিস্থানীয়ম্, সমুদ্রজলস্থানীয়ং তু পরং ব্রহ্ম। ৪
অদ্বিতীয়ং ব্রহ্মেত্যুৎসর্গপ্রবৃত্তং শাস্ত্রং প্রলয়াবস্থব্রহ্মবিষয়ং, সৃষ্টিশাস্ত্রং তু বিশেষপ্রবৃত্তং তস্যাপবাদস্ততো দ্বৈতাদ্বৈতরূপং ব্রহ্ম সর্বোপনিষদর্থস্তদেব ব্রহ্মানেন মন্ত্রেণ সংক্ষিপত্যত ইতি ভর্তৃপ্রপঞ্চপক্ষমুখাপয়তি—অত্রেত্যাদিনা। কার্য্যকারণয়োরুৎপত্তিকালে পূর্ণত্বমুক্ত। স্থিতি- কালেহপি তদাহ—উদ্রিক্তমিতি। প্রলয়কালেহপি তয়োঃ পূর্ণত্বং দর্শয়তি—পুনরিতি। কাল- ভেদেন কার্য্যকারণয়োরুক্তাং পূর্ণতাং নিগময়তি—এবমিতি। কার্য্যকারণে যে পূর্ণে চেৎ, তর্হি কথমদ্বৈতসিদ্ধিরিত্যাশঙ্ক্যাহ—সা চেতি। কথং তর্হি ‘দ্বয়োরুক্তং পূর্ণত্ব’, তদাহ—কার্য্য- কারণয়োরিতি। একা পূর্ণতা, ব্যপদিশ্যতে চ দ্বয়োরিতি স্থিতে লব্ধমর্থমাহ—এবং চেতি। একং হনেকাত্মকমিতি শেষঃ। ব্রহ্মণো দ্বৈতাত্মকত্বেহপি সত্যমদ্বৈতমসত্যমিতরদিত্যাশঙ্ক্যাহ— যথা চেত্যাদিনা। ৪
এবঞ্চ কিল দ্বৈতস্য সত্যত্বে কর্মকাণ্ডস্য প্রামাণ্যম্; যদা পুনদ্বৈতং দ্বৈতমিবা- বিদ্যাকৃতং মৃগতৃষ্ণিকাবদনৃতম্, অদ্বৈতমেব পরমার্থতঃ, তদা কিল কর্মকাণ্ডং বিষয়াভাবাদপ্রমাণং ভবতি; তথা চ বিরোধ এব স্যাৎ,-বেদৈকদেশভূতা উপ- নিষৎ প্রমাণম্, পরমার্থতোহদ্বৈতবস্তুপ্রতিপাদকত্বাৎ; অপ্রমাণং কর্মকাণ্ডম্, অসদ্বৈতবিষয়ত্বাৎ। তদ্বিরোধপরিজিহীর্ষয়া শ্রত্যৈতদুক্তম্-কার্যকারণয়োঃ সত্যত্বং সমুদ্রবৎ ‘পূর্ণমদঃ’ ইত্যাদিনেতি। ৫
দ্বৈতস্য পরমার্থসত্যত্বে কর্মকাণ্ডশ্রুতিমনুকূলয়তি—এবং চেতি। বিপক্ষে দোষমাহ—যদা পুনরিতি। অস্তু কর্মকাণ্ডাপ্রামাণ্যং, নেত্যাহ—তথা চেতি। বিরোধোহধ্যয়নবিধেরিতি শেষঃ। তমেব বিরোধং সাধয়তি—বেদেতি। কথং তর্হি বিরোধসমাধিস্তত্রাহ— তদ্বিরোধেতি। ৫
তদসৎ, বিশিষ্টবিষয়াপবাদবিকল্পয়োরসম্ভবাৎ। ন হীয়ং সুবিবক্ষিতা কল্পনা; কস্মাৎ? যথা ক্রিয়াবিষয়ে উৎসর্গপ্রাপ্তস্যৈকদেশেহপবাদঃ ক্রিয়তে, যথা “অহিংসন্ সর্ব্বভূতান্যত্র তীর্থেভ্যঃ” ইতি হিংসা সর্ব্বভূতবিষয়া উৎসর্গেণ নিবারিতা তীর্থে বিশিষ্টবিষয়ে জ্যোতিষ্টোমাদাবনুজ্ঞায়তে, ন চ তথা বস্তুবিষয়ে ইহ অদ্বৈতং ব্রহ্ম উৎসর্গেণ প্রতিপাদ্য পুনস্তদেকদেশেহপবদিতুং শক্যতে; ব্রহ্মণোহদ্বৈতত্বাদেব একদেশত্বানুপপত্তেঃ। তথা বিকল্পানুপপত্তেশ্চ, যথা “অতিরাত্রে ষোড়শিনং গৃহ্লাতি, নাতিরাত্রে ষোড়শিনং গৃহ্লাতি” ইতি গ্রহণাগ্রহণয়োঃ পুরুষাধীনত্বাদিকল্পো ভবতি, ন দ্বিহ তথা বস্তুবিষয়ে দ্বৈতং বা স্যাৎ, অদ্বৈতং বেতি বিকল্পঃ সম্ভবতি, অপরুবতন্ত্রত্বাদাত্মবস্তুনঃ, বিরোধাচ্চ দ্বৈতাদ্বৈতত্বয়োরেকস্য। তস্মান্ন সুবিবক্ষিতেরং কল্পনা। ৬
প্রাপ্তং ভর্তৃপ্রপঞ্চপ্রস্থানং প্রত্যাচষ্টে-তদসদিতি। বিশিষ্টমদ্বিতীয়ং ব্রহ্ম তদ্বিষয়োৎ- সর্গাপবাদযোর্বিকল্পসমুচ্চয়য়োশ্চাসম্ভবং বক্তুং প্রতিজ্ঞাভাগং বিভজতে-ন হীতি। তত্র প্রশ্নপূর্ব্বকং হেতুং বিবৃণোতি-কস্মাদিত্যাদিনা। যথেত্যাদিগ্রন্থস্য ন চ তথেত্যাদিনা সম্বন্ধঃ। ক্রিয়ায়ামুৎসগাপবাদসম্ভাবনামুদাহরতি-যখেত্যাদিনা। তথা অন্যত্রাপি ক্রিয়ায়ামুৎসর্গাপ- বাদৌ দৃষ্টৌ, ন তাবদদ্বিতীয়ে ব্রহ্মণি সম্ভবতঃ। ন হি ব্রহ্মাদ্বয়মেব জায়তে লীয়তে চেতি সম্ভাবনাস্পদমিতি ভাবঃ। উৎসর্গাপবাদানুপপত্তিবদ্ ব্রহ্মণি বিকল্পানুপপত্তেশ্চ তদেক- রসমেষিতব্যমিত্যাহ-তথেতি। বিকল্পানুপপত্তিমুপপাদয়তি-যথেত্যাদিনা। সম্প্রতি সমুচ্চয়া- সম্ভবমভিদধাতি--বিরোধাচ্চেতি। উৎসগাপবাদবিকল্পসমুচ্চয়ানামসম্ভবাৎ ন যুক্তা ব্রহ্মণো নানারসত্বকল্পনেতি ফলিতমাহ-তস্মাদিতি। ৬
শ্রুতিন্যায়বিরোধাচ্চ—সৈন্ধবঘনবৎ প্রজ্ঞানৈকরসঘনং নিরন্তরং পূর্ব্বাপর- বাহ্যাভ্যন্তরভেদবিবর্জিতং সবাহ্যাভ্যন্তরমজং নেতি-নেত্যস্থুলমনন্বজমজর- মভয়মমৃতম্—ইত্যেবমাদ্যাঃ শ্রুতয়ো নিশ্চিতার্থাঃ সংশয়বিপর্য্যাসাশঙ্কারহিতাঃ সর্ব্বাঃ সমুদ্রে প্রক্ষিপ্তাঃ স্যুঃ, অকিঞ্চিৎকরত্বাৎ। তথা ন্যায়বিরোধোহপি— সাবয়বস্যানেকাত্মকস্য ক্রিয়াবতো নিত্যত্বানুপপত্তেঃ। নিত্যত্বঞ্চ আত্মনঃ স্মৃত্যাদিদর্শনাদনুমীয়তে; তদ্বিরোধশ্চ প্রাপ্নোতি অনিত্যত্বে; ভবৎকল্পনা- নর্থক্যঞ্চ; স্ফুটমেব চ অস্মিন্ পক্ষে কর্মকাণ্ডানর্থক্যম্; অকৃতাভ্যাগম- কৃতবিপ্রণাশপ্রসঙ্গাৎ। ৭।
পরকীয়কল্পনানুপপত্তৌ হেত্বন্তরং প্রতিজ্ঞায় শ্রুতিবিরোধং প্রকটীকৃত্য ন্যায়বিরোধং প্রকটয়তি—তথেতি। ব্রহ্মণোহনেকরসত্বে স্যাদিতি শেষঃ। নিত্যত্বানুপপত্তেরাত্মনো নিত্যত্বাঙ্গীকারবিরোধঃ স্যাদিত্যধ্যাহারঃ। ননু তস্য নিত্যত্বং নাঙ্গীক্রিয়তে মানাভাবাদিতি প্রাসঙ্গিকীমাশঙ্কাং প্রত্যাহ—নিত্যত্বং চেতি। স্মৃত্যাদিদর্শনাদিত্যাদিশব্দেন “স এব তু কর্মানু- স্মৃতিশব্দবিধিভ্যঃ” ইত্যধিকরণোক্তা হেতবো গৃহ্যন্তে। অনুমীয়তে কল্প্যতে স্বীক্রিয়ত ইতি যাবৎ। তদ্বিরোধশ্চ স্মৃত্যাদিদর্শনকৃতাত্মনিত্যত্বানুমানবিরোধশ্চেত্যর্থঃ। আত্মনো অনিত্যত্বে দোষান্তর- মাহ—ভবদিতি। কর্মকাণ্ডস্য সত্যার্থত্বং পরেণ কল্পাতে, তদানর্থক্যমাত্মনিত্যত্বে স্পষ্টমাপতে- দিত্যুক্তমেব স্ফুটয়তি—স্ফুটমেবেতি। ৭
ননু ব্রহ্মণো দ্বৈতাদ্বৈতাত্মকত্বে, সমুদ্রাদিদৃষ্টান্তা বিদ্যন্তে; কথমুচ্যতে ভবতা একস্য দ্বৈতাদ্বৈতত্ত্বং বিরুদ্ধমিতি? ন, অন্যবিষয়ত্বাৎ; নিত্যনিরবরব- বস্তুবিষয়ং হি বিরুদ্ধত্বম্ অবোচাম দ্বৈতাদ্বৈতত্বস্য, ন কার্য্যবিষয়ে সাবয়বে। তস্মাৎ শ্রুতিস্মৃতিন্যায়বিরোধাৎ অনুপপন্নের কল্পনা। অস্যাঃ কল্পনায়া বরমুপ- নিধৎপরিত্যাগ এব। ৮
ব্রহ্মণো নানারসতে বিরোধমুক্তমসহমানঃ স্বোক্তং স্মারয়তি-নখিতি। সমুদ্রাদীনাং কার্য্যত্বসাবয়বত্বাভ্যামনেকাত্মকত্বমবিরুদ্ধ’, ব্রহ্মণস্তু নিত্যহাৎ নিরবয়বত্বাৎ চ নানেকাত্মকত্বং যুক্তমিতি বৈষম্যসাদশয়ন্ উত্তরমাহ-নেত্যাদিনা। ব্রহ্মণো নানারসত্বকল্পনানুপপত্তিমুপ- সংহরতি-তস্মাদিতি। ‘অজো নিত্যঃ শাশ্বতোহয়ং পুরাণঃ।’ ইত্যাদ্যাঃ স্মৃতয়ঃ। ননু প্রত্যক্ষাদ্যবিরোধেনোপনিষদাং বিষয়সিদ্ধ্যর্থমেযা কল্পনা ক্রিয়তে, তথা 5 কথং সা অনুপপন্নেত্যা- শঙ্ক্যা-অস্যা ইতি। বিরুদ্ধার্থত্বে করিতেহপি তৎ প্রামাণ্যানুপপত্তেরবিশেষাদিতি ভাবঃ।
কিং চ, ব্রহ্মণো নানারসহং লৌকিকং বৈদিকং বা। ন অদ্যঃ, তস্যালৌকিকত্বাৎ, নানারসত্বে লোকস্য তটস্থত্বাৎ। ন দ্বিতীয়ঃ, তন্নানারসত্বস্য ধ্যেয়ত্বেন জ্ঞেয়ত্বেন বা শাস্ত্রেণানু- পদেশাদিত্যাহ—অধ্যেয়ত্বাৎ চেতি। তদেব স্ফুটয়তি—ন হীতি। ইতশ্চ নানারসং ব্রহ্ম ন যথাশাস্ত্রপ্রকাশ্যমিত্যাহ—প্রজ্ঞানেতি। চকারাদুপদিশতীত্যাকৃষ্যতে। অনেকধাদশনাপবাদাচ্চ, নানারসং ব্রহ্ম শাস্ত্রার্থো ন ভবতীতি শেষঃ। ভেদদর্শনস্য নিন্দিতত্বে লব্ধমর্থমাহ—যৎ চেতি। অকর্তব্যত্বে প্রাপ্তমর্থং কথয়তি—যৎ চেতি। সামান্যন্যায়ং প্রকৃত্তে যোজয়তি—ব্রহ্মণ ইতি। কস্তর্হি—শাস্ত্রার্থস্তত্রাহ—যত্তিতি। ৮
অধ্যেরত্বাচ্চ ন শাস্ত্রার্থেয়ং কল্পনা; ন হি জননমরণাদ্যনর্থশতসহস্রভেদ- সমাকুলং সমুদ্রবনাদিবৎ সাবয়বমনেকরসং ব্রহ্ম ধ্যেয়ত্বেন বিজ্ঞেয়ত্বেন বা শ্রুত্যা উপদিশ্যতে; প্রজ্ঞানঘনতা চ উপদিশ্যতে, “একধৈবানুদ্রষ্টব্যম্” ইতি চ; অনেকধাদর্শনাপবাদাচ্চ “মৃত্যোঃ স মৃত্যুমাপ্নোতি য ইহ নানেব পশ্যতি” ইতি। যচ্চ শ্রুত্যা নিন্দিতম্, তন্ন কর্ত্তব্যম্; যচ্চ ন ক্রিয়তে, ন স শাস্ত্রার্থঃ। ব্রহ্মণোহনেকরসত্বমনেকধাত্বঞ্চ দ্বৈতরূপং নিন্দিতত্বান্ন দ্রষ্টব্যম্; অতো ন
শাস্ত্রার্থঃ। যতু একরসত্ত্বং ব্রহ্মণঃ, তৎ দ্রষ্টব্যত্বাৎ প্রশস্তম্; প্রশস্তত্বাচ্চ শাস্ত্রার্থো ভবিতুমর্হতি। ৯
ব্রহ্মৈকরস্যে প্রাগুক্তং দোষমনুভাষতে-যত্তুক্তমিতি। কর্মকাণ্ডস্য কৰ্ম্মবিষয়ে ন প্রামাণ্যম্, অসদদ্বৈতবিষয়ত্বাদ, ব্রহ্মকাণ্ডস্য ত্বদ্বৈতে প্রামাণ্যং পরমার্থাদ্বৈতবস্তুপ্রতিপাদকত্বাৎ, তথা চ বিরোধোহধ্যয়নবিধেরিত্যনুবাদার্থঃ। কর্মকাণ্ডাপ্রামাণ্যং প্রত্যাচষ্টে-তন্নেতি। প্রসিদ্ধং ভেদমাদায় তত্রৈব বিধিনিষেধোপদেশস্থ্য প্রবৃত্তিনিবৃত্তিদ্বারার্থবত্ত্বান্ন কর্মকাণ্ডানর্থক্যমিত্যর্থঃ। ননু শাস্ত্রমেবাদৌ ভেদং বোধয়িত্বা পশ্চাদভুদয়সাধনং কর্মোপদিশতি, তথা চ নাস্তি ভেদস্যান্যতঃ প্রাপ্তিরত আহ-ন হাঁতি। তথা হি শাস্ত্রং জাতমাত্রং পুরুষং প্রত্যদ্বৈতং বস্তু জ্ঞাপয়িত্বা পশ্চাদব্রহ্মবিদ্যামুপদিশতীতি নেস্যতে, তথা প্রথমমেব পুরুষং প্রতি দ্বৈতং বোধয়িত্বা কৰ্ম্ম পুনর্বোধয়তীত্যপি নাভ্যুপেয়ং, প্রথমতো ভেদবেদনাবস্থায়ামস্থ্য শাস্ত্রানধিকারিত্বা- দিত্যর্থঃ। দ্বৈতস্ত্যোপদেশার্হত্বমঙ্গীবৃত্যোক্তং, তদেব নাস্তীত্যাহ-ন চেতি। ৯
যত্তূক্তম্—বেদৈকদেশস্যাপ্রামাণ্যম্ কর্ম্মবিষয়ে, দ্বৈতাভাবাৎ; অদ্বৈতে চ প্রামাণ্যমিতি; তন্ন, যথাপ্রাপ্তোপদেশোর্থত্বাৎ। ন হি দ্বৈতমদ্বৈতং বা বস্তু জাতমাত্রমেব পুরুষং জ্ঞাপয়িত্বা, পশ্চাৎ কৰ্ম্ম বা ব্রহ্মবিদ্যাৎ বা উপদিশতি শাস্ত্রম্; ন চোপদেশাহং দ্বৈতম্, জাতমাত্র-প্রাণিবুদ্ধিগম্যত্বাৎ। ন চ দ্বৈতস্যানৃতত্ববুদ্ধিঃ প্রথমমের কস্যচিৎ স্যাৎ, যেন দ্বৈতস্য সত্যত্বমুপদিশ্য পশ্চাদাত্মনঃ প্রামাণ্যং প্রতিপাদয়েৎ শাস্ত্রম্। নাপি পাষণ্ডিভিরপি প্রস্থাপিতাঃ শাস্ত্রস্য প্রামাণ্যং ন গৃহ্নীয়ুঃ।
তস্মাদ যথাপ্রাপ্তমেব দ্বৈতমবিদ্যাকৃতং স্বাভাবিকমুপাদার স্বাভাবিক্যৈবা- বিদ্যয়া যুক্তায় রাগদ্বেষাদিদোষবতে যথাভিমত-পুরুষার্থসাধনং কৰ্ম্ম উপদিশ- ত্যগ্রে; পশ্চাৎ প্রসিদ্ধক্রিয়াকারকফলস্বরূপদোষদর্শনবতে তদ্বিপরীতৌদাসীন্য- স্বরূপাবস্থানাম্বিনে তদুপায়ভূতামাত্মৈকত্বদর্শনাত্মিকাং ব্রহ্মবিদ্যামুপদিশতি। ১০
ননু দ্বৈতস্য সত্যবুদ্ধ্যভাবে প্রত্যুক্তানুষ্ঠানায় পুংসাং প্রবৃত্ত্যনুপপত্তেঃ স্বপ্রামাণ্যসিদ্ধ্যর্থমেব দ্বৈতসত্যত্বং শ্রুতির্বোধয়িষ্যতি, নেত্যাহ-ন চ দ্বৈতস্যেতি। দ্বৈতানৃতত্ববাদিযু কৰ্ম্মজড়ানাং প্রদ্বেষপ্রতীতেন প্রথমতো দ্বৈতানৃতত্ববুদ্ধিঃ, ন চ দ্বৈতসত্যত্বং শ্রুত্যর্থস্তৎপরিচয়হীনানামপি দ্বৈত- সত্যত্বাভিনিবেশাদিত্যর্থঃ। কিঞ্চ ন দ্বৈতবৈতথ্যং শাস্ত্রপ্রামাণ্যবিঘাতকং, যতো বৌদ্ধাদিভিঃ শ্রেয়সে প্রস্থাপিতাঃ স্বশিষ্যা দ্বৈতমিথ্যাত্বাবগমেহপি “স্বর্গকামশ্চৈত্যং বন্দেত” ইত্যাদিশাস্ত্রস্য প্রামাণ্যং গৃহ্লন্তি। তথাগ্নিহোত্রাদিশাস্ত্রস্যাপি প্রামাণ্যং ভবিষ্যতি সাধনত্বশক্ত্যনপহারাদিত্যাহ- নাপীতি।
কাণ্ডদ্বয়স্য প্রামাণ্যোপপত্তিমুপসংহরতি—তস্মাদিত্যাদিনা। প্রসিদ্ধো যোহয়ং ক্রিয়াদিরূপে দ্বৈতে দোষঃ সাতিশয়ত্বাদিস্তদ্দর্শনং বিবেকস্তদ্বতে, তস্মাদ্বৈতাদ্বিপরীতমৌদাসীন্যোপলক্ষিতং স্বরূপং, তস্মিন্নবস্থানং কৈবল্যং, তদর্থিনে মুমুক্ষবে সাধনচতুষ্টয়সংপন্নায়েত্যর্থঃ। ১০
অথ এবং সতি তদৌদাসীন্যস্বরূপাবস্থানে ফলে প্রাপ্তে, শাস্ত্রস্য প্রামাণ্যৎ প্রতি অর্থিত্বং নিবর্ততে; তদভাবাৎ শাস্ত্রস্যাপি শাস্ত্রত্বং তং প্রতি নিবর্তত- এব। তথা প্রতিপুরুষং পরিসমাপ্তং শাস্ত্রম্, ইতি ন শাস্ত্রবিরোধগন্ধোৎপ্যন্তি, অদ্বৈতজ্ঞানাবসানত্বাৎ শাস্ত্রশিষ্যশাসনাদিদ্বৈতভেদস্য; অন্যতমাবস্থানে হি বিরোধঃ স্যাৎ অবস্থিতস্য; ইতরেতরাপেক্ষত্বাত্তু শাস্ত্রশিষ্যশাসনানাং নান্যতমোহপি অবতিষ্ঠতে। সর্ব্বসমাপ্তৌ তু কস্য বিরোধ আশঙ্ক্যেত অদ্বৈতে কেবলে শিবে সিদ্ধে? নাপ্যবিরোধিতা, অতএব ॥ ১১
কিঞ্চ, তত্ত্বজ্ঞানাদূর্দ্ধং পূর্ব্বং বা কাওয়োবিরোধঃ শঙ্ক্যতে? নাদ্য ইত্যাহ—অথেতি। অবস্থাভেদাদেকস্মিন্নপি পুরুষে কাণ্ডদ্বয়স্য প্রামাণ্যমবিরুদ্ধমিত্যেবং স্থিতে সত্যুপনিষদ্ভ্যস্তত্ত্ব- জ্ঞানোৎপত্ত্যনন্তরং নান্তরীয়কত্বেন প্রাপ্তে কৈবল্যে পুরুষস্য নৈরাকাঙ্ক্ষ্যং জায়তে, ন চ নিরাকাঙ্ক্ষং পুরুষং প্রতি শাস্ত্রস্য শাস্ত্রত্বমন্তি।
“প্রবৃত্তির্ব্বা নিবৃত্তির্ব্বা নিত্যেন কৃতকেন বা। পুংসাং যেনোপদিশ্যেত তচ্ছাস্ত্রমভিধীয়তে।” ইতি ন্যায়াৎ কৃতকৃত্যং প্রতি প্রবর্তকত্বাদিবিরহিণঃ শাস্ত্রত্বাযোগাদতো জ্ঞানাদুর্দ্ধং ধৰ্ম্ম- ভাবাদ্বিরোধাসিদ্ধিরিত্যর্থঃ।
একস্মিন্ পুরুষে দর্শিতন্যায়ং সর্বত্রাতিদিশতি-তথেতি। জ্ঞানাদুর্দ্ধং বিরোধাভাবমুপ- সংহরতি-ইতি নেতি। কল্পান্তরং প্রত্যাহ-অদ্বৈতেতি। তত্ত্বজ্ঞানাৎ পূর্ব্বং ভেদস্যা- বস্থিতত্বাৎ তমাবিদ্যমাদায়াধিকারিভেদাদবস্থাভেদাদ্বা কাণ্ডয়োরবিরোধসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। ভেদ- মেবোপপাদয়তি-অন্যতমেতি। শিষ্যাদীনামন্যতমস্যৈবাবস্থানং চেদবস্থিতস্যেতরস্মিংশ্চ সাপেক্ষত্বান্ন সোহপ্যবতিষ্ঠেত। ন চ জ্ঞানাৎ প্রাগন্যতমস্ত্যৈবাবস্থানং সর্বেষামের তেষাং যথাপ্রতিভাসমব- স্থানাৎ, অতো ন পূর্ব্বং বিরোধশঙ্কেত্যর্থঃ। ঊর্দ্ধং বিরোধশঙ্কাভাবমধিকবিবক্ষয়ানুবদতি- সর্ব্বেতি। কথং কৈবল্যং, বিরোধাভাবস্য সত্ত্বাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-নাপীতি। অদ্বৈতত্বাদেবাভাব- স্যাপি তত্ত্বনিমজ্জনাদিত্যাহ-অত এবেতি। ১১
অথাপি অভ্যুপগম্য ক্রমঃ—দ্বৈতাদ্বৈতাত্মকত্বেহপি শাস্ত্রবিরোধস্য তুল্যত্বাৎ; যদাপি সমুদ্রাদিবৎ দ্বৈতাদ্বৈতাত্মকমেকং ব্রহ্ম অভ্যুপগচ্ছামঃ, নান্যদ্বস্তন্তরম্, তদাপি ভবদুক্তাৎ শাস্ত্রবিরোধাৎ ন মুচ্যামহে। কথম্? একং হি পরং ব্রহ্ম দ্বৈতাদ্বৈতাত্মকম্; তৎ শোকমোহাদ্যতীতত্বাদুপদেশং ন কাঙ্ক্ষতি; ন চ উপদেষ্টা অন্যো ব্রহ্মণঃ, দ্বৈতাদ্বৈতরূপস্য ব্রহ্মণ একস্যৈবাভ্যুপগমাৎ ॥ ১২
অদ্বিতীয়মেব ব্রহ্ম ন দ্বৈতাদ্বৈতাত্মকমিত্যুপপাদিতমিদানীং ব্রহ্মণো দ্বৈতাদ্বৈতাত্মকত্বা- ভ্যুপগমেহপি বিরোধো ন শক্যতে পরিহর্ত্তু মিত্যাহ—অথাপীতি। তুল্যত্বাত্তদভ্যুপগমো বৃথেতি শেষঃ। উক্তমেবোপপাদয়তি—যদাপীতি। দ্বৈতাদ্বৈতাত্মকং ব্রহ্মেতি পক্ষে কথং বিরোধো ন সমাধীয়তে, দ্বৈতমদ্বৈতং চাধিকৃত্য কাণ্ডদ্বয়প্রামাণ্যসংভবাদিত্যাক্ষিপতি—কথমিতি। কিং ব্রহ্মবিষয়ঃ শাস্ত্রোপদেশঃ কিং’ বাহব্রহ্মবিষয়ঃ। প্রথমে দ্বৈতাদ্বৈতরূপস্যৈকস্যৈব ব্রহ্মণোহভ্যুপ-
গমাৎ, তস্য চ নিত্যমুক্তত্বান্নোপদেশঃ সংভবতীত্যাহ—একং হীতি। তন্যোপদেশাভাবে হেত্বন্তর- মাহ—ন চেতি। উপদেষ্টা হি ব্রহ্মণোহন্যোহনন্তো বা। নাদ্যোহভ্যুপগমবিরোধাৎ। ন দ্বিতীয়ো ভেদমস্তরেণোপদেশকভাবাসংভবাদিতি ভাবঃ। ১২
অথ দ্বৈতবিষয়স্যানেকত্বাৎ অন্যোন্যোপদেশঃ, ন ব্রহ্মবিষয় উপদেশঃ ইতি চেৎ? তদা দ্বৈতাদ্বৈতাত্মকমের ব্রহ্ম নান্যদন্তীতি বিরুধ্যতে। যস্মিন্ দ্বৈতবিষয়ে অন্যোন্যোপদেশঃ, স অন্যঃ, দ্বৈতঞ্চ অন্যদেব, ইতি সমুদ্রদৃষ্টান্তো বিরুদ্ধঃ। ন চ সমুদ্রোদকৈকত্ববৎ বিজ্ঞানৈকত্বে ব্রহ্মণঃ, অন্যত্রোপদেশগ্রহণাদিকল্পনা সম্ভবতি; ন হি হস্তাদিদ্বৈতাদ্বৈতাত্মকে দেবদত্তে বাক্-কর্ণয়োদ্দেবদত্তৈকদেশভূতয়োঃ বাগুপদেষ্ট্রী, কর্ণঃ কেবল উপদেশস্য গ্রহীতা, দেবদত্তস্তু নোপদেষ্টা নাপ্যুপদেশস্য গ্রহীতেতি কল্পয়িতুং শক্যতে, সমুদ্রৈকোদকাত্মত্ববৎ একবিজ্ঞানবত্ত্বাৎ দেবদত্তস্য। তস্মাৎ শ্রুতিন্যায়বিরোধশ্চ অভিপ্রেতার্থাসিদ্ধিশ্চৈবং কল্পনায়াং স্যাৎ। তস্মাদ্ যথাব্যাখ্যাত এবাস্মাভিঃ ‘পূর্ণমদঃ’ ইত্যস্য মন্ত্রস্যার্থঃ ॥৩৩৪৷১৷৷
কল্পান্তরমুখাপয়তি-অপেতি। প্রতিজ্ঞাবিরোধেন নিরাকরোতি-তদেতি। কিং চ, সর্বস্য ব্রহ্মরূপত্বে যঃ সমুদ্রদৃষ্টান্তঃ, স ন স্যাৎ, পরস্পরোপদেশস্যাব্রহ্মবিষয়ত্বাদিত্যাহ- যস্মিন্নিতি। অথ যথা ফেনাদিবিকারাণাং ভিন্নত্বেইপি সমুদ্রোদকাত্মত্বং, তথা জীবাদীনাং ভিন্নত্বেইপি ব্রহ্মস্বভাববিজ্ঞানৈক্যাদ্ ব্রহ্ম সর্বমিতি ন নিরুধ্যতে, তত্রাহ-ন চেতি। সর্বস্থ্য ব্রহ্মত্বমঙ্গীকৃতং চেদ্, ব্রহ্মবিষয় এবোপদেশঃ স্যাদ্ভেদস্যাবিচারিতরমণীয়ত্বাদিত্যর্থঃ। ননু নানারূপ- বস্তুসমুদায়ো ব্রহ্ম, তত্র প্রদেশভেদাডুপদেশোপদেশকভাবঃ, ব্রহ্ম তু নোপদেশ্যমুপদেশকং চেতি, তত্রাহ-ন হীতি। তত্র হেতুমাহ--সমুদ্রেতি। যথা সমুদ্রস্যোদকাত্মনা ফেনাদিষেকত্বং, তথা দেবদত্তক্ষেত্রজ্ঞস্য বাগাদ্যবয়বেঘেকত্বেন বিজ্ঞানবত্ত্বান্ন ব্যবস্থাসংভবতঃ, তথা ব্রহ্মণ্যপি দ্রষ্টব্য- মিত্যর্থঃ। মতান্তরনিরাকরণমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। আত্মৈকরস্যপ্রতিপাদিকা শ্রুতির্ন্যায়শ্চ সাবয়বস্যানেকাত্মকস্যেত্যাদাবুক্তঃ। অভিপ্রেতার্থাসিদ্ধির্ভবৎকল্পনানর্থক্যং চেত্যাদিনা দর্শিতা। এবংকল্পনায়ামেকানেকাত্মকং ব্রহ্মেত্যভ্যুপগতাবিত্যর্থঃ। পরকীয়ব্যাখ্যানাসংভবে ফলিত- মাহ-তস্মাদিতি ॥৩৩৪॥১॥
ভাষ্যানুবাদ।—এখন ‘পূর্ণমদঃ’ ইত্যাদি খিলকাণ্ড(খিলনামক প্রকরণ) আরব্ধ হইতেছে।(১) পূর্ব্বোক্ত চারি অধ্যায়মধ্যে, সাক্ষাৎপ্রত্যক্ষরূপী যে ব্রহ্ম উক্ত হইয়াছেন, ‘নেতি নেতি’ শ্রুতিতে অশনায়াদিধর্ম্মের অতীত, সর্ব্বোপাধি-
(১) তাৎপর্য্য—‘খিল’ অর্থ অবশিষ্ট—যাহা না বলিলে কথা অসম্পূর্ণ থাকে; অথচ যথাস্থানে তাহা বলা হয় নাই, সেরূপ গ্রন্থ বা বাক্যকে ‘খিল’ বলা হয়। যেমন মহাভারতের ‘খিল কাণ্ড’ হইতেছে—‘হরিবংশ’। এই ‘খিল’ শব্দ হইতেই ‘অখিল’ শব্দের উৎপত্তি হই- য়াছে। অখিল অর্থ—যাহা পূর্ণ—কোন অংশে ন্যূন নহে।
বিবর্জিত সর্ব্বান্তর্যামী যে আত্মা অবধারিত হইয়াছে, এবং যাহার যাথার্থ্যো- পলব্ধিই একমাত্র মুক্তিলাভের উপায় বলিয়া নির্দ্ধারিত হইয়াছে, এখন সেই সোপাধিক(দেহেন্দ্রিয়াদি উপাধিযুক্ত, সুতরাং) শব্দার্থাদি-ব্যবহারের অর্থাৎ বাচ্য-বাচকভাবরূপ সম্বন্ধের বিষয়ীভূত আত্মার সম্বন্ধেই—কর্মাবিরোধী (কর্ম্মের সহিত বিরুদ্ধ নয়), অথচ উত্তম অভ্যুদয়-সিদ্ধির উপায় ও ক্রমমুক্তির (১) সহায়ভূত যে সমুদয় উপাসনা পূর্ব্বে উক্ত হয় নাই, সেই সমুদয় উপাসনার কথা বলিতে হইবে; এই জন্য পরবর্তী গ্রন্থ আরব্ধ হইতেছে। এখানে সমস্ত উপাসনার অঙ্গস্বরূপ প্রণব, দম, দান ও দয়া, এ সমুদয় বিষয়ের উপদেশ- দান করাও শ্রুতির অভিপ্রেত। ১
‘পূর্ণম্ অদঃ’-পূর্ণ অর্থ-সর্ব্বব্যাপী-যাহা কোন পদার্থ হইতেই ব্যাবৃত্ত বা পৃথগ্ভূত নহে। এখানে(‘পূর্ণ’ পদে) যে, নিষ্ঠা-প্রত্যয়(‘ক্ত’ প্রত্যয়) আছে, তাহা কর্তৃবাচ্যে হইয়াছে বুঝিতে হইবে;[সুতরাং ‘পূর্ণ’ শব্দের ব্যাপকতা অর্থ গ্রহণ করা যাইতে পারে]। ‘অদঃ’ শব্দটী সর্ব্বনাম শব্দ; উহা পরোক্ষ- ইন্দ্রিয়ের অগোচর বস্তুর বোধক; উহার অর্থ-সেই, অর্থাৎ বাক্য ও মনের অগোচর পরব্রহ্ম। সেই ব্রহ্ম সম্পূর্ণ অর্থাৎ আকাশের ন্যায় ব্যাপক, নিরন্তর (ব্যবধান রহিত) ও উপাধিবর্জ্জিত। সেই পরোক্ষ ব্রহ্মই আবার ‘ইদং’ পদবাচ্য- সোপাধিক-নামরূপাবস্থাপন্ন;[সুতরাং] লোকব্যবহারের বিষয়ীভূত; তথাপি উহা পূর্ণ ই-নিজের প্রকৃত রূপ পরমাত্মভাবে ব্যাপকই বটে; কিন্তু উপাধি- পরিচ্ছিন্ন কার্য্যাকারে[ব্যাপক] নহে। সেই যে, এই বিশেষাবস্থাপ্রাপ্ত(জগ- দাকারে প্রকটিত) কাৰ্য্যাত্মক ব্রহ্ম, ইহা সেই পূর্ণ-কারণরূপী পরমাত্মা হইতেই উৎপন্ন হয়। অভিপ্রায় এই যে, ইহা যদিও কার্য্যাকারে উদ্ভূত হউক, তথাপি নিজের প্রকৃত স্বরূপ যে পূর্ণত্ব-পরমাত্মভাব, তাহা পরিত্যাগ করে নাই।
পুনশ্চ, কার্য্যাবস্থায়ও স্বরূপতঃ পূর্ণ যে, কার্য্য-ব্রহ্ম(সোপাধিক আত্মা), বিদ্যা বা তত্ত্বজ্ঞান প্রভাবে তাহার পূর্ণত্ব গ্রহণ করিয়া—আত্মার শুদ্ধ স্বরূপমাত্র অধিগত হইয়া অর্থাৎ পূর্ব্বে যে, ভৌতিক দেহেন্দ্রিয়াদি উপাধির সহিত সম্বন্ধ-
(১) তাৎপর্য্য—যাঁহারা সগুণ ব্রহ্মের উপাসনা করেন, তাঁহারা মৃত্যুর পর সেই উপাসনা- বলে, ব্রহ্মলোকে গমন করেন; সেখানে যাইয়া পুনশ্চ জ্ঞানানুশীলন করিতে থাকেন; ক্রমে আত্মজ্ঞানের উদয় হয়; সেই আত্মজ্ঞানের ফলে বিদেহ মুক্তি প্রাপ্ত হন। এই প্রকার মুক্তিকে ‘ক্রমমুক্তি’ বলা হইয়া থাকে।
নিবন্ধন[ব্রহ্ম ও আত্মার মধ্যে] ভেদ প্রতীতি ছিল, তাহা অপনীত করিয়া, ঔপাধিক অসত্য ভেদবুদ্ধি দুরীকৃত হইলে পর, কেবলই পূর্ণ অন্তর-বাহির শূন্য, একমাত্র প্রজ্ঞানঘন স্বভাবশুদ্ধ ব্রহ্মমাত্র অবশিষ্ট থাকে। ২
পূর্ব্বে যে, “ব্রহ্ম বা ইদম্ অগ্রে আসীৎ; তৎ আত্মানমেব অবেৎ; তস্মাৎ তৎ সর্ব্বমভবৎ” এই শ্রুতিবাক্য উক্ত হইয়াছে, এই ‘পূর্ণম্ অদঃ’ ইত্যাদি মন্ত্রটী তাহারই অর্থপ্রকাশক মাত্র। তন্মধ্যে ‘পূর্ণম্ অদঃ’ কথাটী পূর্ব্বোক্ত ‘ব্রহ্ম’ পদের অর্থ; ‘পূর্ণম্ ইদম্’ কথাটী পূর্ব্বোক্ত ‘ব্রহ্ম বা ইদম্ অগ্রে আসীৎ’ এই বাক্য- সমষ্টির অর্থপ্রকাশক। অন্য শ্রুতিও এইরূপ অর্থই প্রকাশ করিতেছে—‘যাহা এখানে, তাহাই পরলোকে; আবার যাহা পরলোকে, তাহাই এখানে অর্থাৎ প্রত্যক্ষগ্রাহ্য’ ইতি। অতএব বুঝিতে হইবে, ‘অদঃ’ শব্দের মুখ্য অর্থ যে(পরোক্ষ) পূর্ণ ব্রহ্ম, তাহাই আবার ‘ইদং’-পদার্থ(অপরোক্ষ—জগতের অন্তর্গতরূপে) পরি- পূর্ণ, কেবল অবিদ্যা বশতঃ নাম-রূপ-উপাধিসংযোগে কার্য্যাবস্থায়(ত্বং-পদার্থরূপে) অভিব্যক্ত হইয়া—সেই যে পরমার্থসত্য স্বরূপ, তাহা হইতে ভিন্নবৎ প্রতীয়মান হইয়া থাকে। আত্মাতেই পূর্ণ ব্রহ্মরূপ অবগত হইয়া—‘আমিই সেই পূর্ণ ব্রহ্মস্বরূপ’ এই প্রকারে আত্মার পূর্ণভাব গ্রহণ করিয়া, এই যথোক্ত ব্রহ্মবিদ্যা-প্রভাবে— অবিদ্যাকৃত নাম-রূপাত্মক উপাধিসম্পর্কজনিত অপূর্ণভাব অপনীত হইলে, তখন কেবল পূর্ণস্বরূপই অবশিষ্ট থাকে; এই অভিপ্রায়ই “তস্মাৎ তৎ সর্ব্বমভবৎ” বাক্যে কথিত হইয়াছে।
সমস্ত উপনিষৎ-শাস্ত্রের প্রতিপাদ্য যে ব্রহ্ম-পদার্থ, পরবর্তী বাক্যের সহিত সম্বন্ধ সংরক্ষণের জন্য এই মন্ত্রে তাহারই পুনরুল্লেখ করা হইতেছে; কারণ, বক্ষ্যমাণ প্রণব, দম, দান ও দয়ানামক সাধনসমূহ ব্রহ্মবিদ্যার উপায়রূপে এখানে বিধিৎসিত(যাহার বিধান করা অভিপ্রেত), এবং উক্ত সাধন- সমূহ ‘খিল’ প্রকরণে সন্নিবিষ্ট হওয়ায় বুঝিতে হইবে যে, উহারা সমস্ত উপাসনারই অঙ্গভূতও বটে। ৩
এস্থলে কেহ কেহ বর্ণনা করিয়া থাকেন—পূর্ণ কারণ হইতে পূর্ণ কার্য্য উৎপন্ন হয়; সেই উৎপন্ন কার্য্য বর্তমান সময়েও পূর্ণই, এবং দ্বৈত ভাবে পর- মার্থ সত্যও বটে। প্রলয়সময়ে আবার সেই পূর্ণ কার্য্যের পূর্ণভাব গ্রহণ করিয়া অর্থাৎ আপনাতে সেই পূর্ণতা সমাধান করিয়া একমাত্র কারণরূপী পূর্ণরূপই অবশিষ্ট থাকে। এইরূপে দেখা যায় যে, উৎপত্তি, স্থিতি ও প্রলয়, এই কাল- ত্রয়েই কার্য্য ও কারণের পূর্ণতা অক্ষুণ্ণ থাকে। প্রকৃতপক্ষে সেই পূর্ণতা একই
বটে, কেবল কার্য্য ও কারণের প্রভেদ অনুসারে ভিন্নবৎ ব্যবহৃত হইয়া থাকে মাত্র। এই প্রকারে প্রতীত হয় যে, একই ব্রহ্ম দ্বৈত ও অদ্বৈত উভয়ভাবে অবস্থিত আছেন। দৃষ্টান্ত এই যে, জল, তরঙ্গ, ফেন ও বুদ্বুদ প্রভৃতি লইয়াই সমুদ্রের সমুদ্রত্ব; তন্মধ্যে জল যেমন সত্য, তেমনই জলবিকার ফেন, তরঙ্গ, বুদ্বুদ প্রভৃতিও সত্য—প্রকৃতপক্ষে সমুদ্রেরই আত্মস্বরূপ, এবং আবির্ভাব-তিরোভাবশীল হইলেও, সে সমুদয় বিকার পরমার্থ সত্যই বটে; এই প্রকার জলের তরঙ্গাদি- স্থানীয় বর্তমান সমস্ত দ্বৈত জগৎ নিশ্চয়ই পরমার্থ সত্য; এ পক্ষে পরব্রহ্ম হইতে- ছেন—সমুদ্রের জলস্থানীয়। ৪
এই ভাবে দ্বৈতের সত্যতা রক্ষা হইলেই, বৈদিক কর্মকাণ্ডেরও প্রামাণ্য রক্ষা পাইতে পারে। পক্ষান্তরে, দ্বৈতপ্রপঞ্চ যদি অবিদ্যাকৃত,[সুতরাং] মৃগ- তৃষ্ণার(মরীচিকার) ন্যায় অসত্য—আভাসমাত্র হয়; তাহা হইলে, বিষয় বা কর্মক্ষেত্র না থাকায় কর্মবিধায়ক বেদভাগের অপ্রামাণ্য হইয়া পড়ে; তাহার ফলে[কর্ম-কাণ্ডের সহিত জ্ঞান-কাণ্ডের] বিরোধই উপস্থিত হয়। কেননা, যে বেদের একদেশ উপনিষৎভাগ হইতেছে প্রমাণ, কারণ, উহা পরমার্থ সত্য অদ্বৈত- তত্ত্বের প্রতিপাদক; আর সেই বেদেরই অপর অংশ কর্মকাণ্ড হইতেছে অপ্রমাণ, কারণ, ইহা অসত্য দ্বৈতবিষয়ের প্রতিপাদক;[ইহা নিশ্চয়ই বিরুদ্ধ]। সেই বিরোধ-ভঞ্জনার্থ—শ্রুতি নিজেই ‘পূর্ণমদঃ’ ইত্যাদি বাক্য দ্বারা সমুদ্রের দৃষ্টান্ত অনুসারে কার্য্য ও কারণ উভয়েরই সত্যতা প্রতিপাদন করিয়াছেন। ৫
না—ইহা উত্তম কথা নহে। কারণ, এ বিষয়ে অপবাদ(বিশেষ বিধি) ও বিকল্প কল্পনা, উভয়ই অসম্ভব। বিশেষতঃ এরূপ কল্পনা যে শ্রুতির সম্পূর্ণ অনুমোদিত, তাহাও বলিতে পারা যায় না। কারণ?[উত্তর—] যেমন পুরুষ- নিষ্পাদ্য ক্রিয়াসম্বন্ধে সাধারণ বিধি দ্বারা প্রাপ্ত কার্য্যের একাংশে অপবাদ(বাধা বা সংকোচ) করা হইয়া থাকে; যেমন হিংসামাত্রই শাস্ত্রে সাধারণভাবে নিবিদ্ধ হইয়াছে; কিন্তু ‘তীর্থ ভিন্ন স্থলে_হিংসা করিবে না’ এই বাক্যে আবার সেই শাস্ত্রনিবিদ্ধ হিংসারই তীর্থে—জ্যোতিষ্টোমাদি যাগরূপ বিশিষ্ট কার্য্যে অপ- বাদ বা অনুমোদন করা হইয়াছে।(১) এখানে ব্রহ্মবস্তু বিষয়ে কিন্তু সেরূপ
/(১) তাৎপর্য্য—শাস্ত্রে সামান্য বিধিকে বলে ‘উৎসর্গ’, আর বিশেষ বিধিকে বলে ‘অপবাদ’। অপবাদ বিধির অধিকার মধ্যে উৎসর্গ বিধির কার্য্য হয় না, অপবাদের বিষয়ে
হইতে পারে না; অর্থাৎ সাধারণভাবে ব্রহ্মের অদ্বৈতভাব প্রতিপাদন করিয়া পুনর্ব্বার তাহারই একদেশে যে, সেই অদ্বৈতভাবের অপবাদ বা প্রতিষেধ করিতে পারা যায়, তাহা নহে; কেন না, ব্রহ্ম স্বরূপতঃ অদ্বিতীয় বলিয়াই তাহার একদেশ কল্পনা উপপন্ন হইতে পারে না।
ব্রহ্মবিষয়ে বিকল্প কল্পনার অসঙ্গতিও[ঐরূপ ব্যাখ্যা পরিত্যাগের] অপর কারণ। যেমন ‘অতিরাত্র যজ্ঞে ষোড়শিন(পাত্রবিশেষ) গ্রহণ করিবে, আবার অতিরাত্র যজ্ঞে ষোড়শিন গ্রহণ করিবে না’, এইরূপে একই যজ্ঞে ষোড়শিনের গ্রহণ ও অগ্রহণের বিকল্প বিধান হইয়া থাকে। সেখানে ‘ষোড়শিন’-গ্রহণ কর্তার ইচ্ছাধীন; সুতরাং কর্তার ইচ্ছা হইলে গ্রহণ করিতে পারে, ইচ্ছা না হইলে গ্রহণ না করিতেও পারে; এখানে কিন্তু সেরূপ হইতে পারে না; কারণ, ব্রহ্ম একবার দ্বৈতও হইবে, আবার অদ্বৈতও হইবে, এরূপ বিকল্পের সম্ভব হয় না; যেহেতু ব্রহ্ম স্বতঃসিদ্ধ বস্তু, কোন পুরুষের ব্যাপারাধীন বা পুরুষ-প্রযত্ননিষ্পাদ্য নহে; বিশেষতঃ বিরুদ্ধ বলিয়াও এক বস্তুতে দ্বৈতাদ্বৈতভাব থাকিতে পারে না। অতএব ঐরূপ দ্বৈতাদ্বৈত কল্পনা কখনই শ্রুতির অভিমত হইতে পারে না। ৬
শ্রুতিবিরোধ এবং যুক্তিবিরোধও ইহার অপর কারণ;[কেন না, এই পক্ষে,] আত্মার স্বরূপপ্রদর্শক—‘আত্মা সৈন্ধবখণ্ডের ন্যায় একমাত্র প্রজ্ঞানস্বরূপ, বাহ্যাভ্যন্তর বা পূর্ব্বাপর ভেদবর্জিত, অথচ বাহ্য ও অভ্যন্তর সর্ব্বত্র সমভাবে বিদ্য- মান ‘ও জন্মরহিত’, ‘নেতি নেতি’—‘স্থূল নহে, সূক্ষ্ম নহে, হ্রস্ব নহে, এবং জরা- মরণভয়বর্জিত’, ইত্যাদি যে সমুদয় শ্রুতির অর্থ সুনিশ্চিত, এবং যে সম্বন্ধে কোনপ্রকার সংশয় বা বিপর্যয়েরও সম্ভাবনা নাই, সেই সমুদয় শ্রুতি একেবারে
উৎসর্গের অধিকার নাই। একটা উদাহরণ এই—‘মা হিংসাৎ সর্ব্বা ভূতানি’ অর্থাৎ কোন প্রাণীরই হিংসা করিবে না। এখানে সামান্যতঃ হিংসামাত্রই নিষিদ্ধ হইয়াছে; এইটা উৎসর্গবিধি; ইহার অপবাদবিধি হইতেছে “অগ্নিযোমীয়ং পশুমালভেত” অর্থাৎ অগ্নিযোমীয় পশু বধ করিবে, ইত্যাদি। ইহাদ্বারা পূর্ব্বোক্ত হিংসানিষেধক বাক্যের অধিকার সংকোচিত করা হইল। বুঝিতে হইবে যে, বিশেষ বিশেষ শাস্ত্রে যে সমুদয় স্থলে হিংসার বিধান আছে, তদতিরিক্ত স্থলেই ঐ সামান্য হিংসা-নিষেধক শাস্ত্রের বিষয়; সুতরাং বৈধ হিংসা নিষিদ্ধ নহে। পূর্ব্বপক্ষাবলম্বী ব্রহ্মসম্বন্ধেও উৎসর্গ ও অপবাদ কল্পনা করিয়া অংশভেদে দ্বৈত ও অদ্বৈতভাব সংস্থাপনের প্রয়াস পাইয়াছিলেন; ভাষ্যকার তদুত্তরে বলিলেন ‘যে, ব্রহ্ম যখন নিরবয়ব, তখন তাহার একদেশে দ্বৈত, অন্যদেশে অদ্বৈত কল্পনা কখনই সম্ভব হয় না।
க
সমুদ্রজলে বিসর্জন করিতে হয়; কারণ, উহাদের কিছুমাত্র সার্থকতা থাকে না। এপক্ষে যুক্তিবিরোধও ঘটে; কারণ সাবয়ব ও ক্রিয়াবিশিষ্ট অনেকাত্মক পদার্থ কখনও নিত্য হইতে পারে না; আত্মা অনিত্য হইলে ঐ সমুদয় শাস্ত্রও যুক্তি- বিরুদ্ধ হইয়া পড়ে; সুতরাং তোমার তথাবিধ কল্পনারও সার্থকতা থাকে না; আর আত্মার অনিতায় পক্ষে যে, কৃতনাশ ও অকৃতাভ্যাগম দোষের সম্ভাবনা নিবন্ধন কর্মকাণ্ডেরও আনর্থক্য ঘটে, তাহা ত স্পষ্টই দেখা যাইতেছে(১)। ৭
ভাল, ব্রহ্মের দ্বৈতাদ্বৈতভাবপক্ষে ত সমুদ্রপ্রভৃতিই দৃষ্টান্ত রহিয়াছে, তবে তুমি একই বস্তুর দ্বৈতাদ্বৈতভাবকে যুক্তিবিরুদ্ধ বলিতেছ কিরূপে? না,- এ কথা বলিতে পার না; কারণ, বিরোধের কারণ অন্যপ্রকার, অর্থাৎ একই বস্তুর দ্বৈতাদ্বৈতভাব সম্বন্ধে বিরোধ বলা হয় নাই; পরন্তু নিত্য নিরবয়ব বস্তুবিষয়ে দ্বৈতাদ্বৈতভাবের বিরুদ্ধতা মাত্র আমরা বলিয়াছি, অর্থাৎ নিত্য ও নিরবয়ব বস্তু যে, কখনই দ্বৈতাদ্বৈতভাববিশিষ্ট হইতে পারে না,-এই কথাই আমরা বলিয়াছি, কিন্তু জন্য সাবয়ব বস্তুর সম্বন্ধে দ্বৈতাদ্বৈতভাবকে বিরুদ্ধ বলি নাই। অতএব শ্রুতি, স্মৃতি ও যুক্তিবিরুদ্ধ বলিয়া এইরূপ কল্পনা কখনই উপপন্ন হইতে পারে না; এরূপ অসৎ কল্পনা অপেক্ষা বরং উপনিষৎশাস্ত্র পরিত্যাগ করাই শ্রেয়ঃ। ৮
তাহার পর, ধ্যানের অযোগ্য বা অনুপযোগী বলিয়াও এরূপ কল্পনা শাস্ত্রসম্মত হইতে পারে না। কেন না, দৃষ্টান্তরূপে প্রদর্শিত সমুদ্র ও বন প্রভৃতি পদার্থসমূহ স্বভাবতই জন্ম-মরণ-প্রভৃতি শতসহস্র অনর্থরাশিতে পরিপূর্ণ; উহাদের ন্যায় সাবয়ব ও অনেকাত্মক ব্রহ্মকে শ্রুতি কোথাও ধ্যেয় বা জ্ঞেয়রূপে উপদেশ করেন নাই; শ্রুতি কেবল ব্রহ্মের প্রজ্ঞান-ঘনভাবেরই সর্ব্বত্র উপদেশ করিয়াছেন; এবং ‘এক প্রকারেই তাহাকে দর্শন করিবে’
(১) তাৎপর্য্য—কৃতনাশ ও অকৃতাভ্যাগম দোষ এইপ্রকার যে কর্ম্ম করা হইল, সেই কর্ম্মের ফলভোগ হইল না; অথচ যাহা ভোগ করা হইতেছে, তাহা স্বকৃত কোন কর্ম্মের ফল নহে,—উহা আগন্তুক। আত্মা যদি সাবয়ব ও ক্রিয়াবান্ হয়, তাহা হইলে নিশ্চয়ই তাহাকে অনিত্য বলিতে হইবে, কারণ, সাবয়ব ও ক্রিয়াবিশিষ্ট বস্তু কোথাও ‘নিত্য’ দেখা যায় না। আত্মা অনিত্য হইলে, ইহজন্মে যত কর্ম্ম করা হয়, তাহার ফলভোগ শেষ হইবার পূর্ব্বেই দেহত্যাগ করায় ‘কৃতনাশ’—স্বকৃত কর্ম্ম বিফল হইল; আর বর্তমান জন্মে যাহা ভোগ করিতে হয়, তাহাও স্বকৃত কোন কর্ম্মের ফল নহে; আকস্মিকভাবে ভোগ করিতে হয় মাত্র; সুতরাং ‘অকৃতাভ্যাগম’ হইল।’
এইরূপই উপদেশ করিয়াছেন; পক্ষান্তরে ভেদদৃষ্টির নিন্দাও করিয়াছেন— ‘সে লোক মৃত্যুর পর মৃত্যু প্রাপ্ত হয়, যে লোক ব্রহ্মেতে ভেদ দর্শন করে’। শ্রুতি যাহার নিন্দা করিয়াছেন, তাহা কখনই করা উচিত হয় না; যাহা কর্তব্যই নয়, তাহা শাস্ত্রার্থও নহে; অতএব শ্রুতি-নিন্দিত বলিয়াই ব্রহ্মের নানাত্ব বা অনেকরসত্বরূপ ভেদবুদ্ধি কখনই হইতে পারে না; সুতরাং উহা শাস্ত্রার্থরূপেও পরিগণিত হইতে পারে না; পক্ষান্তরে, ব্রহ্মে যে, একরসত্ব বা অখণ্ড অদ্বৈতভাব, তাহাই দ্রষ্টব্য(ধ্যেয় বা জ্ঞেয়); সুতরাং তাহাই প্রশস্ত বা উত্তম; প্রশস্তত্বনিবন্ধন তাহাই শাস্ত্রের অভিপ্রেত অর্থরূপে পরিগণিত হওয়া উচিত। ৯
আরও যে, আপত্তি করা হইয়াছে—দ্বৈতাভাব পক্ষে বেদৈকদেশ কর্মকাণ্ডের অপ্রামাণ্য, আর কেবল উপনিষদ্ভাগের প্রামাণ্য হইতে পারে; সে আপত্তিও সঙ্গত হয় না; যেহেতু যথাপ্রাপ্ত(লোকসিদ্ধ) বস্তুবিষয়ক উপদেশ প্রদান করাই ঐ শাস্ত্রের অভিপ্রেত অর্থ;[বস্তু-তত্ত্ব প্রতিপাদন করা উহার অর্থ নহে]; কেন না, শাস্ত্র যে, জন্মমাত্রেই পুরুষকে প্রথমতঃ বস্তুর দ্বৈত বা অদ্বৈতভাব জ্ঞাপন করিয়া, পশ্চাৎ কর্ম্ম বা ব্রহ্মবিদ্যার উপদেশ করিয়া থাকেন, তাহা নহে; বিশেষতঃ দ্বৈতবিষয়ে উপদেশ করাও আবশ্যক হইতে পারে না; কারণ, উহা জাতমাত্র সকল প্রাণীরই বুদ্ধির বিষয়ীভূত হইয়া থাকে। তাহার পর, দ্বৈত যে, অসত্য—মিথ্যা, এরূপ বুদ্ধি ত প্রথমেই কাহারো হয় না, যে, শাস্ত্র প্রথমে দ্বৈতপ্রপঞ্চের সত্যতা উপদেশ করিয়া, পশ্চাৎ উহার অসত্যতা প্রতিপাদন করিবে।[দ্বৈতমিথ্যাত্বও শাস্ত্রের প্রামাণ্য-ব্যাঘাতক হয় না; কেন না,][জগৎ-মিথ্যাত্ববাদী] পাষণ্ডী বৌদ্ধসম্প্রদায়ের শিষ্যগণও যে, শাস্ত্রের প্রামাণ্য গ্রহণ করে না, তাহা নহে;[কারণ, তাহারাও জগৎকে মিথ্যা বলে, অথচ ‘স্বর্গকামঃ চৈত্যং বন্দেত’ অর্থাৎ “স্বর্গাভিলাষী পুরুষ ‘বিহারস্থান’ বন্দনা করিবে”, ইত্যাদি বাক্যের প্রামাণ্য স্বীকার করিয়া থাকে।]
অতএব বুঝিতে হইবে যে, শাস্ত্র প্রথমতঃ অবিদ্যাজনিত লোকপ্রসিদ্ধ উপস্থিত দ্বৈতভাব স্বীকার করিয়া লইয়াই, স্বভাবসিদ্ধ অবিদ্যাযুক্ত ও রাগ- দ্বেষাদি-দোষসম্পন্ন পুরুষকে তাহার অভিলষিত বিষয় লাভের উপায়ভূত কর্মানুষ্ঠানের উপদেশ করিয়া থাকে; তাহার পর, লোকপ্রসিদ্ধ ক্রিয়া কারক
ও ফলভেদ বিষয়ে যাহার দোষ দর্শন হইয়াছে, এবং কর্মানুষ্ঠানে ঔদাসীন্য মাত্র ফল লাভ হইয়াছে, তাহাকে তাহার উদ্দেশ্য-সিদ্ধির উপায়ভূত আত্মৈকত্বদর্শনাত্মক ব্রহ্মবিদ্যার উপদেশ করিয়া থাকেন। ১০
এইরূপ উপদেশের ফলে, অধিকারী পুরুষ যে সময় উদাসীনভাবে অবস্থিতিরূপ ফল লাভ করেন, সে সময়ে শাস্ত্রের প্রামাণ্য-চিন্তার প্রয়োজনও নিবৃত্ত হইয়া যায়; সুতরাং প্রয়োজনের অভাবে সে ব্যক্তির পক্ষে শাস্ত্রের শাস্ত্রত্বও(শাসনকর্তৃত্বও) থামিয়া যায়। বিশেষতঃ শাস্ত্র-প্রামাণ্য যখন প্রত্যেক পুরুষে পরিসমাপ্ত, তখন এ পক্ষে বিরোধের কোন সম্ভাবনাই নাই; কেন না, লোক-প্রসিদ্ধ যে, শাস্ত্র, শিষ্য ও শাসনাদি দ্বৈতভেদ, অদ্বৈতজ্ঞানেই তাহার পরিসমাপ্তি বা অবসান হইয়া যায়। উক্ত দ্বৈতভেদের একটা থাকিলেও অপরটার সঙ্গে বিরোধের সম্ভাবনা থাকিত, কিন্তু শাস্ত্র, শিষ্য ও শাসন এ সমুদয় যখন পরস্পর সাপেক্ষ, তখন উহাদের একটাও সে সময়ে থাকে না বলিতে হইবে। অতএব সর্ব্বপ্রকার ভেদনিবৃত্তির পর, একমাত্র কল্যাণময় অদ্বৈতভাব সিদ্ধ হওয়ায় কোনপ্রকার বিরোধেরই আশঙ্কা নাই; এইজন্য অবিরোধ বলিয়াও কিছু নাই, অর্থাৎ অদ্বৈতভাব নিষ্পন্ন হইবার পর, ভেদসাপেক্ষ বিরোধ ও অবিরোধ উভয়ই বিলুপ্ত হইয়া যায়। ১১
আর যদি তোমাদের সিদ্ধান্ত স্বীকারও করিয়া লই, তাহা হইলেও বলি— দ্বৈতাদ্বৈতপক্ষেও শাস্ত্র-বিরোধের কিছুমাত্র পার্থক্য নাই। যে পক্ষে সমুদ্রাদির দৃষ্টান্তানুসারে একই ব্রহ্ম দ্বৈতাদ্বৈতভাবাপন্ন বলিয়া স্বীকার করিয়া লই, সে পক্ষেও তোমার কথিত শাস্ত্রবিরোধ হইতে কোনপ্রকারেই মুক্তিলাভ করিতে পারি না; কেন? যেহেতু, একই পরব্রহ্ম যখন দ্বৈতাদ্বৈত উভয়াত্মক, তখন সে ত সর্ব্বদাই শোকমোহে অভিভূত; সুতরাং তাহার আর উপদেশ গ্রহণে আকাঙ্ক্ষাই হইতে পারে না; আর ব্রহ্মাতিরিক্ত অপর কেহ উপদেষ্টাও নাই; কারণ, দ্বৈতাদ্বৈতভাবসম্পন্ন ব্রহ্মকে এক বলিয়াই স্বীকার করা হইয়া থাকে। ১২
আর যদি বল, একত্বনিবন্ধন ব্রহ্মবিষয়ে উপদেশ সম্ভব না হয়, না হউক, দ্বৈত বিষয়সমূহ যখন অনেক, তখন তদ্বিষয়ে ত পরস্পর উপদেশদান সম্ভবপরই-হয়। না, তাহা হইলে, দ্বৈতাদ্বৈত ব্রহ্ম একই, তদতিরিক্ত অন্য কিছু নাই, তোমার একথা বিরুদ্ধ হয়। তাহার পর পূর্ব্বোক্ত সমুদ্র দৃষ্টান্তও সঙ্গত হয় না; কারণ,
যে দ্বৈতবিষয়ে পরস্পর উপদেশ প্রদত্ত হয়, সেই দ্বৈতবস্তু ও উপ- দেশের বিষয় যখন এক নহে—সম্পূর্ণ পৃথক্, তখন আর এ বিষয়ে সমুদ্র দৃষ্টান্ত উপপন্ন হইতে পারে না।
সমুদ্র যেমন জলাত্মক এক বস্তু, তেমনি ব্রহ্মকে একমাত্র বিজ্ঞানস্বরূপ স্বীকার করিলে, ব্রহ্মের অন্যত্র ত আর উপদেশপ্রদান বা উপদেশ গ্রহণ-কিছুই সম্ভব হয় না। কেননা’, একই দেবদত্ত যদি হস্তপদাদি দ্বারা দ্বৈতভাবাপন্ন হয়, অর্থাৎ দেবদত্ত স্বরূপতঃ অদ্বৈতই বটে, কিন্তু হস্তপদাদি দ্বারা দ্বৈতভাবাপন্ন-দ্বৈতা- দ্বৈতাত্মক হয়, তাহা হইলে যেমন দেবদত্তের একদেশ বাগিন্দ্রিয় ও শ্রবণেন্দ্রি- য়ের মধ্যে বাগিন্দ্রির কেবল উপদেশকর্তা, আর শ্রবণেন্দ্রিয় কেবল সেই উপদেশের গ্রহীতা বা শ্রোতা, অথচ দেবদত্ত উপদেশের কর্তা বা গ্রহীতা কেহই নহে-এইরূপ কল্পনা করিতে পারা যায় না; কেননা, সমুদ্র যেমন কেবলই জলাত্মক, তেমনি দেবদত্তও ত কেবলই বিজ্ঞানাত্মক,(চক্ষু ও শ্রবণেন্দ্রিয় ত আর বিজ্ঞানাত্মক নহে, উহারা অবিজ্ঞান জড় পদার্থ); অতএব উক্ত প্রকার কল্পনা করিলে, শ্রুতিবিরোধ, যুক্তিবিরোধ এবং অভিপ্রেতার্থেরও অসিদ্ধি সংঘটিত হয়। অতএব ‘পূর্ণমদঃ’ ইত্যাদি মন্ত্রের আমরা যেরূপ ব্যাখ্যা করিয়াছি, তাহাই প্রকৃত অর্থ ॥ ৩৩৪৷১
ওম্ খং ব্রহ্ম। খং পুরাণম্, বায়ুরং খমিতি হ স্মাহ কৌরব্যায়নীপুত্রঃ, বেদোহয়ং ব্রাহ্মণা বিদুর্ব্বেদৈনেন যদ্বেদিতব্যম্ ॥ ৩৩৫ ॥ ২॥
সরলার্থঃ?—[‘ওম্ খং ব্রহ্ম’ ইতি মন্ত্রঃ, তস্যায়মর্থঃ—] খং(আকা- শাখ্যং) ব্রহ্ম, ওঁম্(ওঁঙ্কারবাচ্যার্থ ইত্যর্থঃ)।[তচ্চ] খং পুরাণং(চিরন্তনং নিত্যং, নতু ভূতাকাশমিত্যাশয়ঃ); কৌরব্যায়নীপুত্রঃ[পুনঃ] বায়ুরং (বায়োরধিষ্ঠানং ভূতাকাশমেব) খম্ ইতি আহ স্ম। অয়ং(প্রণবঃ) বেদঃ (সর্ববেদাত্মকঃ); ব্রাহ্মণাঃ যৎ বেদিতব্যং,[তৎ] এনেন(ওঙ্কারেণ) বিদুঃ (জানন্তি);(ইত্যেষা স্তুতিরোঙ্কারস্য) ॥ ৩৩৫৷৷২৷৷
মূলানুবাদ।—আকাশাত্মক ব্রহ্ম ওঁঙ্কার-শব্দের প্রতিপাদ্য। উক্ত ‘খ’ বস্তুটা পুরাণ—নিত্য অর্থাৎ ভূতাকাশ নহে; কিন্তু কৌর-
ব্যায়নীপুত্র বলেন যে, ইহা বায়ুর আশ্রয় ভূতাকাশই বটে। এই ওঁঙ্কারই সমস্ত বেদস্বরূপ; ব্রাহ্মণগণ ইহা দ্বারাই সমস্ত জ্ঞাতব্য বিষয় অবগত হন ॥ ৩৩৫ ॥ ২॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—ওঁম্ খং ব্রহ্মেতি মন্ত্রঃ; অয়ঞ্চ অন্যত্রাবিনিযুক্ত ইহ ব্রাহ্মণেন ধ্যানকর্মণি বিনিযুজ্যতে। অত্র চ ব্রহ্মেতি বিশেষ্যাভিধানম্, খমিতি বিশেষণম্। বিশেষণবিশেষ্যয়োশ্চ সামানাধিকরণ্যেন নির্দেশঃ নীলোৎপলবৎ— খং ব্রহ্মেতি। ব্রহ্মশব্দঃ বৃহদ্বস্তুমাত্রাস্পদোহবিশেষিতঃ, অতো বিশিষ্যতে—খং ব্রহ্মেতি। যত্তৎ খং ব্রহ্ম, তৎ ওঁমশব্দবাচ্যম্ ওঁমশব্দস্বরূপমেব বা, উভয়থাপি সামানাধিকরণ্যমবিরুদ্ধম্ ॥ ১
টীকা। ধ্যানশেষত্বেনোপনিষদর্থং ব্রহ্মানুদ্য তদ্বিধানার্থং তস্মিন্বিনিযুক্তং মন্ত্রমুখাপয়তি- ওম্ খমিতি। ইষে ত্বেত্যাদিবত্তস্য কর্মান্তরে বিনিযুক্তত্বমাশঙ্ক্যাহ-অয়ং চেতি। বিনিয়োগকা- ভাবাদিতি ভাবঃ। তর্হি ধ্যানেইপি নায়ং বিনিযুক্তো বিনিময়োজকাভাবাবিশেষাদিত্যা- শঙ্ক্যাহ-ইহেতি। খং পুরাণমিত্যাদি ব্রাহ্মণং, তস্য চ বিনিয়োগকত্বং ধ্যানসমবেতার্থ- প্রকাশনসামর্থ্যাৎ। যদ্যপি মন্ত্রনিষ্ঠং সামর্থ্যং বিনিযোজকং, তথাপি মন্ত্রব্রাহ্মণয়োরেকার্থত্বাদ- ব্রাহ্মণস্য সামর্থ্যদ্বারা বিনিয়োগকত্বমবিরুদ্ধমিতি ভাবঃ। অত্রেতি মন্ত্রোক্তিঃ। বিশেষণ- বিশেষ্যত্বে যথোক্তসামানাধিকরণ্যং হেতুকরোতি-বিশেষণেতি। ব্রহ্মেত্যুক্তে সত্যাকাঙ্ক্ষা- ভাবাৎ কিং বিশেষণেনেত্যাশঙ্ক্যাহ-ব্রহ্মশব্দ ইতি। নিরুপাধিকস্য সোপাধিকস্য বা ব্রহ্মণো বিশেষণত্বেইপি কথং তস্মিন্নোমশব্দপ্রবৃত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-যত্তদিতি। ১
ইহ চ ব্রহ্মোপাসনসাধনত্বার্থম্ ওঁশব্দঃ প্রযুক্তঃ। তথাচ শ্রুত্যন্তরাৎ “এতদাল- ম্বনং শ্রেষ্ঠমেতদালম্বনং পরম্।” “ওঁমিত্যাত্মানং যুঞ্জীত”। “ওঁমিত্যেতেনৈবাক্ষরেণ পরং পুরুষমভিধ্যায়ীত।” “ওঁমিত্যেবং ধ্যায়থ আত্মানম্” ইত্যাদেঃ। অন্যার্থা- সম্ভবাচ্চোপদেশস্য। যথা অন্যত্র “ওঁমিতি শংসতি” “ওমিত্যুদগায়তি” ইত্যেব- মাদৌ স্বাধ্যায়ারম্ভাপবর্গয়োশ্চ ওঁঙ্কারপ্রয়োগো বিনিয়োগাদবগম্যতে, ন চ তথার্থান্তরমিহ অবগম্যতে। তস্মাৎ ধ্যানসাধনতেনৈব ইহোঙ্কারশব্দস্যোপ- দেশঃ ॥ ২
কিমিতি যথোক্তে ব্রহ্মণ্যোমশব্দো মন্ত্রে প্রযুজ্যতে, তত্রাহ—ইহ চেতি। ওঁম্শব্দো ব্রহ্মোপাসনে সাধনমিত্যত্র মানমাহ—তথা চেতি। সাপেক্ষং শ্রৈষ্ঠ্যং বারয়তি—পরমিতি। আদিশব্দেন প্রণবো ধনুরিত্যাদি গৃহ্যতে। ওঁ ব্রহ্মেতি সামানাধিকরণ্যোপদেশস্য ব্রহ্মোপাসনে সাধনত্বমোংকারস্যেত্যম্মাদর্থান্তরাসংভবাচ্চ তস্য তৎসাধনত্বমেষ্টব্যমিত্যাহ—অন্যার্থেতি। এতদেব প্রপঞ্চয়তি—যথেত্যাদিনা।’ অন্যত্রেতি তৈত্তিরীয়শ্রুতিগ্রহণম্। অপবর্গঃ স্বাধ্যায়- বসানম্। অর্থান্তরাবগতেরভাবে ফলিতমাহ—তস্মাদিতি। ২
যদ্যপি ব্রহ্মাত্মাদিশব্দা ব্রহ্মণো বাচকাঃ, তথাপি শ্রুতিপ্রামাণ্যাদ্ ব্রহ্মণো নেদিষ্ঠমভিধানম্ ওঁঙ্কারঃ; অতএব ব্রহ্মপ্রতিপত্তৌ ইদং পরং সাধনম্; তচ্চ দ্বিপ্রকারেণ—প্রতীকত্বেন অভিধানত্বেন চ। প্রতীকত্বেন—যথা বিষ্ণাদি- প্রতিমাহভেদেন, এবম্ ওঁঙ্কারো ব্রহ্মেতি প্রতিপত্তব্যঃ। তথা হি ওঁঙ্কারালম্বনস্য ব্রহ্ম প্রসীদতি,
“এতদালম্বনং শ্রেষ্ঠেতদানলম্বনম্, পরম্।
এগমনং ক্বচিৎ বশেনোঽপি মহীর্ষয়েৎ ॥ ইতি খণ্ডঃ ॥ ৩ ॥
ননু শব্দান্তরেধপি ব্রহ্মবাচকেষু সৎসু কিমিত্যোংশব্দ এব ধ্যানসাধনত্বেনোপদিশ্যতে, ভত্রাহ—যদ্যপীতি। নেদিষ্ঠং নিকটতমং সংপ্রিয়তমমিত্যর্থঃ। প্রিয়তমত্বপ্রযুক্তং ফলমাহ— অত এবেতি। সাধনত্বেহবাস্তরবিশেষং দর্শয়তি—তচ্চেতি। প্রতীকত্বেন কথং সাধনত্বমিতি পৃচ্ছতি—প্রতীকত্বেনেতি। কথমিত্যধ্যাহারঃ। পরিহরতি—যথেতি। ওঁকারো ব্রহ্মেতি প্রতিপত্তৌ কিং স্যাত্তদাহ—তথা হীতি। ৩
অত্র খমিতি ভৌতিকে প্রতীতিৰ্ম্মা ভূদিত্যাহ, -খং পুরাণম্-চিরন্তনং খং পরমাত্মাকাশমিত্যর্থঃ। যত্তৎ পরমাত্মাকাশং পুরাণং খম্, তৎ চক্ষুরাদ্যবিষয়- ত্বাৎ নিরালম্বনমশক্যং গ্রহীতুমিতি শ্রদ্ধাভক্তিভ্যাং ভাববিশেষেণ চ ওঁঙ্কারে আবেশয়তি-যথা বিষ্ণুঙ্গাঙ্কিতায়াং শৈলাদিপ্রতিমায়ান বিষ্ণুং লোকঃ, এবম্। বায়ুরং খম্-বায়ুরস্মিন্ বিদ্যত ইতি বায়ুরং খং, খমাত্রং খমিত্যুচ্যতে, ন পুরাণং খম্-ইত্যেবমাহ স্ম। কোহসৌ? কৌরব্যায়ণীপুত্রঃ; বায়ুরে হি খে মুখ্যঃ খ-শব্দব্যবহারঃ, তস্মাৎ মুখ্যে সম্প্রত্যয়ো যুক্ত ইতি মন্যতে। তত্র যদি পুরাণং ব্রহ্ম নিরুপাধিস্বরূপম্, যদি বা বায়ুরং খং সোপাধিকং ব্রহ্ম, সর্ব্বথাপি ওঁঙ্কারঃ প্রতীকত্বেনৈব প্রতিমাবৎ সাধনত্বং প্রতিপদ্যতে “এতদ্বৈ সত্যকাম, পরঞ্চাপরঞ্চ ব্রহ্ম, যদোঙ্কারঃ” ইতিশ্রুত্যন্তরাৎ; কেবলং খশব্দার্থে বিপ্রতিপত্তিঃ ॥ ৪
মন্ত্রমেবং ব্যাখ্যায় ব্রাহ্মণমবতার্য্য ব্যাচষ্টে-তত্রেত্যাদিনা। মন্ত্রঃ সপ্তম্যর্থঃ। ননু যথোক্তং তত্ত্বং স্বেনৈব রূপেণ প্রতিপতুং শক্যতে, কিং প্রতীকোপদেশেনেত্যাশঙ্ক্যাহ-যত্তদিতি। ভাববিশেষো বুদ্ধের্বিষয়পারবশ্যং পরিহৃত্য প্রত্যগব্রহ্মজ্ঞানাভিমুখ্যম্। ওঁকারে ব্রহ্মাবেশনমুদা- হরণেন দ্রঢ়য়তি-যথেতি। কল্পান্তরমাহ-বায়ুরমিত্যাদিনা। কিমিতি সূত্রাধিকরণ- মব্যাকৃতমাকাশমত্র গৃহ্যতে, তত্রাহ-বায়ুরে হীতি। তদেব ভূতাকাশাত্মনা বিপরিণতমিতি ভাবঃ। তর্হি পক্ষদ্বয়ে সংপ্লবমানে কঃ সিদ্ধান্তঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাধিকারিভেদমাশ্রিত্যাহ- তত্রেতি। শ্রুত্যন্তরস্যান্থথাসিদ্ধিসংভবাদোংকারস্য প্রতীকত্বেইপি বিপ্রতিপত্তিমাশঙ্ক্যাহ- কেবলমিতি। ইতরত্র বিপ্রতিপত্তিভোতকাভাবাদিতি ভারঃ। ৪
ততোঽহং মোক্ষঃ, ততো বিসর্জ্জনোঽপ্যননশ্চরন্তি; ততোঽপি ততোঽপি।
বাচকঃ অভিধানম্। তেনাভিধানেন যদ্বেদিতব্যং ব্রহ্ম প্রকাশ্যমানম্ অভিধীয়- মানং বেদ সাধকো বিজানাতি উপলভতে, তস্মাদ্বেদোহয়মিতি ব্রাহ্মণা বিদুঃ। তস্মাদ্ ব্রাহ্মণানামভিধানত্বেন সাধনত্বমভিপ্রেতম্ ওঁঙ্কারস্য ॥ ৫
প্রতীকপক্ষমুপপাদ্যাভিধানপক্ষমুপপাদয়তি—বেদোহয়মিতি। তদেব প্রপঞ্চয়তি—তেনোতি। বেদেত্যত্রাদৌ তচ্ছব্দো দ্রষ্টব্যঃ। ব্রাহ্মণা বিদুরিতি বিশেষনির্দেশস্য তাৎপর্য্যমাহ— তস্মাদিতি। ৫
অথবা বেদোহয়মিত্যাদি অর্থবাদঃ। কথম্? ওঁঙ্কারো ব্রহ্মণঃ প্রতীকত্বেন বিহিতঃ; ওঁম্ খং ব্রহ্মেতি সামানাধিকরণ্যাৎ, তস্য স্তুতিরিদানীং বেদত্বেন- সর্ব্বো হি অয়ং বেদঃ ওঁঙ্কার এব; এতৎপ্রভব এতদাত্মকঃ সর্ব্ব খাগ্ যজুঃ সামাদি- ভেদভিন্ন এবঃ ওঁঙ্কারঃ, “তদ্যথা শঙ্কুনা সর্ব্বাণি পর্ণানি” ইত্যাদিশ্রুত্যন্তরাৎ। ইতশ্চায়ং বেদ ওঁকারঃ, যদ্বেদিতব্যম্, তৎ সর্ব্বং বেদিতব্যমোঙ্কারেণৈব বেদ এনেন, অতোহয়মোঙ্কারো বেদঃ। ইতরস্যাপি বেদস্য বেদত্বম্ অত এব; তস্মাদ্বিশিষ্টোহয়ম্ ওঁঙ্কারঃ সাধনত্বেন প্রতিপত্তব্য ইতি। অথবা বেদঃ সঃ; কোহসৌ? যং ব্রাহ্মণা বিছরোঙ্কারম্। ব্রাহ্মণানাং হি অসৌ প্রণবোদগীথাদি- বিকল্পৈর্বিবজ্ঞেয়ঃ; তস্মিন্ প্রযুজ্যমানে সাধনত্বেন সর্ব্বো বেদঃ প্রযুক্তো ভবতীতি ॥ ৩৩৫ ॥ ২ ॥
প্রতীকপক্ষেহপি বেদোহয়মিত্যাদিগ্রন্থো নির্বহতীত্যাহ-অথবেতি। বিধ্যভাবে কথমর্থ- বাদঃ সংভবতীত্যাশক্য পরিহরতি-কথমিত্যাদিনা। বেদত্বেন স্তুতিমোঙ্কারস্য সংগ্রহ- বিবরণাভ্যাং দর্শয়তি-সর্ব্বো হীতি। ওঁকারে সর্ব্বস্য নামজাতস্তান্তর্ভাবে প্রমাণমাহ- তদ্যথেতি। তত্রৈব হেত্বন্তরমবতায্য ব্যাকরোতি-ইতশ্চেতি। বেদিতব্যং পরমপরং বা ব্রহ্ম। ‘যে ব্রহ্মণী বেদিতব্যে’ ইতি শ্রুত্যন্তরাৎ। তদ্বেদনসাধনত্বেইপি কথমোংকারস্য বেদত্ব- মিত্যাশঙ্ক্যাহ-ইতরস্যাপীতি। অতএব বেদিতব্যবেদনহেতুত্বাদেবেত্যর্থঃ। প্রতীকপক্ষে বাক্যযোজনাং নিগময়তি-তস্মাদিতি। অভিধানপক্ষে প্রতীকপক্ষে চৈকং বাক্যমেকৈকত্র যোজয়িত্বা পক্ষস্বয়েহপি সাধারণ্যেন যোজয়তি-অথবেতি। তস্য পূর্ব্বোক্তনীত্যা বেদত্বে লাভং দর্শয়তি-তস্মিন্নিতি। ওঙ্কারস্য ব্রহ্মোপাস্তিসাধনত্বমিথং সিদ্ধমিত্যুপসংহর্ত্তু- মিতিশব্দঃ। ৩৩৫।২।
ইতি বৃন্দাবনে কপোতাক্ষেরোৎকর্ষেণ প্রথমঃ প্রবর্ত্তিতঃ। ৫।১।১।
ভাষ্যানুবাদ।—‘ওম্ খং ব্রহ্ম’ এই বাক্যটা একটা মন্ত্র; এই মন্ত্রটা অন্য কোথাও বিনিযুক্ত বা ব্যবহৃত হয় নাই; কেবল এখানেই ধ্যানকার্য্যে বিনিযুক্ত হইতেছে। এখানে ‘ব্রহ্ম’ শব্দটী বিশেষ্য, ‘খ’ শব্দটা তাহার বিশেষণরূপে
ব্যবহৃত হইয়াছে। ‘নীলোৎপল’ পদের ‘নীল’ ও ‘উৎপল’ শব্দের ন্যায় এখানেও বিশেষণ ‘খং’ শব্দের ও বিশেষ্য ‘ব্রহ্ম’ শব্দের সামানাধিকরণ্য অর্থাৎ অভেদ বিশেষণ-বিশেষ্যভাব নির্দেশ করা হইয়াছে। বিশেষণশূন্য ‘ব্রহ্ম’ শব্দটা সাধারণতঃ বৃহৎ বস্তুমাত্র বুঝাইয়া থাকে; এই জন্য বিশেষ করিয়া বলা হইল যে, ‘খং ব্রহ্ম’ ইতি।[ইহার অর্থ এই যে,] সেই যে, খ ব্রহ্ম, তাহা ওঙ্কারস্বরূপই; উভয় পক্ষেই ঐরূপ অভেদ নির্দেশ বিরুদ্ধ হয় না। ১
ওঁম্ শব্দটা যে, উপাসনার সাধন, ইহা জ্ঞাপনের নিমিত্ত এখানে ওঁম্ শব্দ প্রযুক্ত হইয়াছে। এ বিষয়ে অন্য শ্রুতিও আছে—‘এই ওঁম্কারই শ্রেষ্ঠ আলম্বন, ইহাই উত্তম অবলম্বন বা ধ্যানের বিষয়’, ‘ওঁম্-ইত্যাকারে আত্মাতে সমাহিত হইবে’, ‘ওঁম্’ এই অক্ষরস্বরূপেই পরম পুরুষকে ধ্যান করিবে’, ‘তোমরা ওঁম্- ইত্যাকারেই ধ্যান করিবে’ ইত্যাদি। বিশেষতঃ এই উপদেশের অন্যপ্রকার অর্থ সম্ভবপরও হয় না; অন্যত্র ‘ওঁম্-ইত্যাকারে স্তুতিগান করে’, ‘ওঁম্-ইত্যাকারে উদ্গীথ গান করে’ ইত্যাদি স্থলে যেরূপ বেদগ্রহণের আদিতে ও অন্তে ওঙ্কারের প্রয়োগ বা ব্যবহার বিনিয়োগবাক্য হইতে জানিতে পারা যায়, এখানে কিন্তু ওঁঙ্কারের সেরূপ অন্য কোনপ্রকার অর্থ বুঝা যায় না। অতএব বুঝিতে হইবে যে, কেবল ধ্যান-সাধন বা ধ্যানের আলম্বনরূপেই এখানে ওঁঙ্কারের উপদেশ, অন্য উদ্দেশ্যে নহে। ২
যদিও ব্রহ্ম, আত্মা প্রভৃতি শব্দগুলিও ব্রহ্মের বাচক বটে, তথাপি শ্রুতি- প্রমাণ হইতে জানিতে পারা যায় যে, ‘ওঁঙ্কারই তাঁহার খুব ঘনিষ্ঠ বা প্রিয় নাম’; এই কারণেই ইহা ব্রহ্মোপাসনার একটা অতি উৎকৃষ্ট সাধন বা উপায়। এই ওঁঙ্কার শব্দটা প্রতীকরূপে ও অভিধানরূপেও ধ্যানসাধন হয়। প্রতীকরূপে যথা—বিষ্ণুপ্রভৃতি প্রতিমা যেরূপ বিষ্ণুপ্রভৃতির সহিত অভিন্নভাবে উপাসিত হয়, এই ওঁঙ্কারকেও তদ্রূপ ব্রহ্মস্বরূপেই উপাসনা করিতে হয়। এইরূপে যে লোক ওঁঙ্কারকে আলম্বন করিয়া উপাসনা করে, ব্রহ্ম তাহার প্রতি প্রসন্ন হইয়া থাকেন; কারণ, অন্যশ্রুতিতে আছে ‘ইহাই ধ্যানের শ্রেষ্ঠ অবলম্বন, ইহাই ধ্যানের উত্তম আলম্বন, এই আলম্বন অবগত হইয়া ব্রহ্মলোকে বিরাজ করেন’ ইতি। ৩
শুধু ‘খ’ বিশেষণ থাকিলে পঞ্চভূতের অন্তর্গত আকাশেরও প্রতীতি হইতে পারে, তন্নিবারণার্থ বলিতেছেন—এই ‘খঃ’ পদার্থটী পুরাণ—চিরন্তন
(নিত্য) অর্থাৎ ‘খ’ অর্থ পরমাত্মাকাশ। ‘পুরাণ খ’ যে পরমাত্মাকাশ, তাহা চক্ষুরাদি ইন্দ্রিয়ের অবিষয়; কোন একটা অবলম্বনের সাহায্য ব্যতীত তাহাকে গ্রহণ করিতে পারা যায় না; এই জন্য শ্রদ্ধা ও ভক্তি সহকারে এবং আবেগপূর্ণ হৃদয়ে ওঁঙ্কারে মনোনিবেশ করিতে হয়; সাধক লোক যেমন বিষ্ণুর অঙ্গচিহ্নিত প্রতিমায় বিষ্ণুকে অবলম্বন করিয়া মনোনিবেশ করিয়া থাকে, ইহাও তেমনই। ‘বায়ুরং খম্’-বায়ু যাহাতে আছে, তাহা ‘বায়ুরম্’; ‘খম্’ অর্থ-আকাশমাত্র, কিন্তু ‘পুরাণ খ’-পরমাত্মাকাশ নহে, এই প্রকার বলিয়াছেন। কে বলিয়াছেন? না, কৌরব্যায়নীর পুত্র। তিনি মনে করেন-বায়ুর আশ্রয়ভূত আকাশেই সাধারণতঃ ‘খ’ শব্দের মুখ্য ব্যবহার হইয়া থাকে; অতএব মুখ্য অর্থের প্রতীতি হওয়াই যুক্তিযুক্ত। ৪
তন্মধ্যে, পুরাণ খ যদি নিরুপাধিক ব্রহ্ম হন, আর যদি বা ‘বায়ুর’ খ— সোপাধিক ব্রহ্ম হন, উভয় অর্থে ই ওঁঙ্কার শব্দটী প্রতিমার ন্যায় উপাসনার সাধন বা আলম্বনভাব প্রাপ্ত হয়; কারণ, অন্য শ্রুতিতে আছে ‘হে সত্যকাম, ইহাই পর ও অপর ব্রহ্ম—যাহা ‘ওঁঙ্কার’। এখানে কেবল ‘খ’ শব্দের অর্থ লইয়াই বিরোধ;[কিন্তু উহার সাধনত্ব অংশে কাহারো আপত্তি নাই]। ৫
‘বেদোহয়ম্ ওঁঙ্কারঃ’-যেহেতু লোকে এই ওঁঙ্কার দ্বারাই বেদিতব্য(জ্ঞাতব্য) বিষয় বিশেষভাবে অবগত হইয়া থাকে, সেই হেতু ব্রহ্মবাচক ওঁঙ্কার শব্দটী ‘বেদ’ অর্থাৎ ব্রহ্মের নাম; যেহেতু সাধক ব্যক্তি বেদিতব্য অর্থাৎ অবশ্য- জ্ঞাতব্য ব্রহ্মকে এই ওঁঙ্কাররূপ অভিধান বা নাম দ্বারা বিশেষভাবে জানিয়া থাকেন-উপলব্ধি করিয়া থাকেন, সেই হেতু ব্রাহ্মণগণ ইহাকে ‘বেদ’ বলিয়া জানেন। অতএব বুঝিতে হইবে যে, ওঁঙ্কার যে, ব্রহ্মবাচকরূপে উপাসনার একটা বিশেষ সাধন, তাহা জ্ঞাপন করাই ব্রাহ্মণগণের ঐরূপ অর্থপ্রতীতির তাৎপর্য্য। ৬
অথবা ‘বেদোহয়ম্’ ইত্যাদি বাক্য কেবল অর্থবাদ মাত্র, অর্থাৎ ওঁঙ্কারের স্তুতি- প্রকাশক মাত্র। কি প্রকার? না, ওঁঙ্কার এখানে ব্রহ্মের প্রতীকরূপে বিহিত হইয়াছে। এখানে ‘ওম্ খং ব্রহ্ম’ এইরূপ অভেদ বিশেষণ-বিশেষ্যভাবে নির্দেশদ্বারা তাহার স্তুতি করিতেছেন যে, সমস্ত বেদ এই ওঁঙ্কারেরই স্বরূপ। ঋক্, যজুঃ, সাম ও অথর্ব্বাদি নামে বিভিন্ন সমস্ত বেদ এই ওঁঙ্কার হইতেই উদ্ভুত, এবং এই ওঁকারস্বরূপ—এই ওঁঙ্কারই। যেহেতু অন্য শ্রুতিতে আছে ‘যেমন শঙ্কুদ্বারা সমস্ত পত্র বিদ্ধ’ হয় ইত্যাদি। এই কারণেও এই ওঁঙ্কার বেদস্বরূপ; যেহেতু
১৩৭১
যাহা কিছু বেদিতব্য, সেই সমস্ত বেদিতব্য বিষয় এই ওঁঙ্কার দ্বারাই সাধক ব্যক্তি জানিয়া থাকেন; এই কারণেই ওঁঙ্কার ‘বেদ’। প্রসিদ্ধ অপর বেদের যে বেদত্ব, তাহাও এই কারণেই; অতএব ঈদৃশ বিশেষ গুণযুক্ত ওঁঙ্কারকে সাধনরূপে অবলম্বন করিবে। অথবা, তাহাই বেদ; তাহা কি? না, ব্রাহ্মণগণ যাহাকে ওঁঙ্কার বলিয়া জানেন; কারণ, প্রণব ও উদগীথ প্রভৃতি শব্দে এই ওঁঙ্কারই ব্রাহ্মণগণের বিজ্ঞেয়; যেহেতু সেই প্রণবকে যদি সাধনরূপে প্রয়োগ করা যায়, তাহা হইলে সমস্ত বেদই প্রযুক্ত বা ব্যবহৃত হইয়া থাকে;[সুতরাং এখানে ঐ বাক্যটা অর্থবাদস্বরূপেই গ্রহণীয়] ॥ ৩৩৪-৫ ॥ ১-২ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ে প্রথম ব্রাহ্মণের ভাষ্যঅনুবাদ ॥ ৫ ॥ ১ ॥
ত্রয়াঃ প্রাজাপত্যাঃ প্রজাপতৌ পিতরি ব্রহ্মচর্য্যমুষুদেবা মনুষ্যা অসুরাঃ। উষিত্বা ব্রহ্মচর্য্যং দেবা উচুব্রবীতু নো- ভবানিতি, তেভ্যো হৈতদক্ষরমুবাচ—দ-ইতি। ব্যজ্ঞাসিস্টাত ইতি? ব্যজ্ঞাসিম্মেতি হোচুৰ্দাম্যতেতি ন আথেতি, ওমিতি হোবাচ ব্যজ্ঞাসিষ্টেতি ॥ ৩৩৬ ॥ ১
সরলার্থঃ।-এয়াঃ(ত্রয়ঃ) প্রাজাপত্যাঃ(প্রজাপতেঃ অপত্যানি)- দেবাঃ মনুষ্যাঃ অসুরাশ্চ পিতরি প্রজাপর্তো ব্রহ্মচর্য্যম্ ঊষুঃ(ব্রহ্মচারি- রূপেণ প্রজাপতিসমীপে বাসং চক্রুঃ)।[তত্র] দেবাঃ ব্রহ্মচর্য্যম্ উষিত্বা উচুঃ (প্রজাপতিম্ উক্তবন্তঃ),-ভবান্ নঃ(অস্মান্) ব্রবীতু(তত্ত্বম্ উপদিশতু) ইতি; তেভ্যঃ(দেবেভ্যঃ) এতৎ অক্ষরং(বর্ণং) উবাচ(উক্তবান্) [প্রজাপতিঃ]।[কিং তৎ অক্ষরম্? ইত্যাহ-] ‘দ’ ইতি(‘দ’ ইত্যক্ষরমুক্তবান্ প্রজাপতিরিত্যর্থঃ)।[প্রজাপতিঃ এবমুক্তা পপ্রচ্ছ-] ব্যজ্ঞাসিষ্ট।(ব্যজ্ঞাসিষ্ট-বিজ্ঞাতবন্তঃ)?[যূয়ম্ ইতি শেষঃ]।[দেবা উচুঃ-] ব্যজ্ঞাসিম(বিশেষেণ জ্ঞাতবন্তঃ)[বয়ম্ ইতি শেষঃ) ইতি। [কিম্?][যূয়ং] দাম্যত(স্বভাবতঃ অদান্তা যূয়ং দান্তাঃ-দমগুণা- ন্বিতাঃ-শান্তাঃ ভবত) ইতি নঃ(অস্মান্) আখ(উক্তবান্)[ত্বম্ ইতি শেষঃ]।[ততঃ] ওম্ ইতি(অঙ্গীকারে) ব্যজ্ঞাসিষ্ট ইতি হ উবাচ [প্রজাপতিঃ] ॥ ৩৩৬ ॥ ১ ॥
মূলসুবাদ।—প্রজাপতির তিনশ্রেণীর পুত্র—দেবতা, মনুষ্য
ও অসুরগণ পিতা প্রজাপতির নিকট ব্রহ্মচর্য্য বাস করিয়াছিলেন। তন্মধ্যে দেবতাগণ ব্রহ্মচর্য্য পরিসমাপ্ত করিয়া[প্রজাপতিকে] বলিলেন,- আপনি আমাদিগকে উপদেশ প্রদান করুন। প্রজাপতি তাহাদিগকে ‘দ’ এই একটামাত্র অক্ষর উপদেশ করিলেন, এবং জিজ্ঞাসা করিলেন- তোমরা ইহার অর্থ উত্তমরূপে বুঝিয়াছ কি? দেবগণ বলিলেন-হাঁ, বুঝিয়াছি; আপনি আমাদিগকে ‘দন্ত’ অর্থাৎ দমগুণান্বিত-সংযতেন্দ্রিয় হইবার নিমিত্ত আদেশ করিতেছেন। প্রজাপতি বলিলেন-হাঁ, তোমরা ঠিক বুঝিয়াছ ॥ ৩৩৬ ॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অধুনা দমাদিসাধনত্রয়বিধানার্থোহয়মারম্ভঃ। এয়াঃ— ত্রিসঙ্খ্যাকাঃ প্রাজাপত্যাঃ প্রজাপতেরপত্যানি প্রাজাপত্যাঃ; তে কিম্? প্রজাপতৌ পিতরি, ব্রহ্মচর্য্যং—শিষ্যবৃত্তের ব্রহ্মচর্য্যস্য প্রাধান্যাৎ শিষ্যাঃ সন্তঃ ব্রহ্মচর্য্যম্ উষুঃ উষিতবন্ত ইত্যর্থঃ। কে তে? বিশেষতঃ দেবা মনুষ্যা অসুরাশ্চ। তে চ উষিত্বা ব্রহ্মচর্য্যং কিমকুর্ব্বন্নিত্যুচ্যতে,—তেষাং দেবা উচুঃ পিতরং প্রজাপতিং প্রতি। কিমিতি? ব্রবীতু কথয়তু, নঃ অস্মভ্যং যদনুশাসনং ভবানিতি। তেভ্য এবমথিভ্যো হ এতদক্ষরং বর্ণমাত্রমুবাচ— দ-ইতি।
উক্তা চ তান্ পপ্রচ্ছ পিতা—কিং ব্যজ্ঞাসিষ্টা ইতি, ময়া উপদেশার্থমভি- হিতস্যাক্ষরস্যার্থং বিজ্ঞাতবন্তঃ আহোস্বিন্নেতি। দেবা উচুঃ—ব্যজ্ঞাসিন্মেতি বিজ্ঞাতবন্তো বয়ম্। যদ্যেবম্, উচ্যতাং কিং ময়োক্তমিতি? দেবা উচুঃ—দাম্যত —অদান্তা যুয়ং স্বভাবতঃ, অতো দান্তা ভবতেতি নঃ অস্মান্ আত্ম কথয়সি। ইতর আহ—ওমিতি সম্যক্ ব্যজ্ঞাসিষ্টেতি ॥ ৩৩৬ ॥ ১ ॥
টীকা। ব্রাহ্মণান্তরস্য তাৎপর্য্যমাহ—অধুনেতি। তদ্বিধানং সর্ব্বোপাস্তিশেষত্বেনেতি দ্রষ্টব্যম্। আখ্যায়িকাপ্রবৃত্তিরারম্ভঃ। পিতরি ব্রহ্মচর্য্যমুষুরিতি সংবন্ধঃ। প্রজাপতিসমীপে ব্রহ্মচর্য্যবাসমাত্রেণ কিমিত্যসৌ দেবাদিভ্যো হিতং ক্রয়াদিত্যাশঙ্ক্যাহ—শিষ্যত্বেতি। শিষ্য- ভাবেন বৃত্তেঃ সংবন্ধিনো যে ধর্মান্তেষাং মধ্যে ব্রহ্মচর্য্যস্যেত্যাদি যোজ্যম্। তেষামিতি নির্ধারণে ষষ্ঠী। উহাপোহশক্তানামের শিষ্যত্বমিতি দ্যোতনার্থো হশব্দঃ। বিচারার্থা প্লুতিরিত্যঙ্গীকৃত্য প্রশ্নমেব ব্যাচষ্টে—মরেতি। ওমিত্যনুজ্ঞামেব বিভজতে—সম্যগিতি॥ ৩৩৬॥ ১॥
ভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর ‘দম’ প্রভৃতি তিনপ্রকার সাধন বিধানের নিমিত্ত এই প্রকরণ আরব্ধ হইতেছে। ‘ত্রয়াঃ’ অর্থ—ত্রিসংখ্যক(তিন-
১৩৭৩
প্রকার); ‘প্রাজাপত্য’ অর্থ-প্রজাপতির সন্তান। তাহারা কি[করিয়া- ছিল?] না, পিতা প্রজাপতির নিকট-ব্রহ্মচর্য্য বাস করিয়াছিল। ব্রহ্মচর্য্যই শিষ্যত্ব ব্যবহারের প্রধান অঙ্গ; সুতরাং বুঝিতে হইবে যে, তাহারা যোগ্য শিষ্য- ভাবে বাস করিয়াছিল। তাহারা কাহারা? বিশেষতঃ দেবতা, মনুষ্য ও অসুর- গণ। তাহারা ব্রহ্মচর্য্য বাস করিয়া যে কি করিয়াছিল, তাহা বলা হইতেছে- তাহাদের মধ্যে প্রথমতঃ দেবগণ পিতা প্রজাপতিকে বলিলেন। কি বলিলেন? আমাদের সম্বন্ধে যাহা সঙ্গত অনুশাসন, তাহা আপনি বলুন। এইরূপে উপদেশপ্রার্থী তাহাদিগকে প্রজাপতি এই অক্ষরটা-‘দ’ এই একটামাত্র বর্ণ বলিয়াছিলেন পিতা প্রজাপতি ঐ অক্ষর উপদেশ করিয়া তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিয়া- ছিলেন—তোমরা বুঝিয়াছ কি? অর্থাৎ আমি উপদেশচ্ছলে যে অক্ষরটা বলিলাম, তাহার অর্থ কি বিশেষভাবে হৃদয়ঙ্গম করিয়াছ? অথবা কর নাই? দেবগণ বলিলেন—আমরা উত্তমরূপে বুঝিয়াছি। ভাল, যদি বুঝিয়া থাক, তবে বল দেখি, আমি তোমাদিগকে কি বলিয়াছি? দেবগণ বলিলেন—আপনি বলিয়া- ছেন—‘দাম্যত’, অর্থাৎ তোমরা স্বভাবতই অদান্ত—অসংযত, অতএব তোমরা সংযমশীল হও; এই কথা আপনি আমাদিগকে বলিয়াছেন। প্রজাপতি বলিলেন— হাঁ, তোমরা যথার্থই বুঝিয়াছ ॥ ৩৩৬ ॥ ১ ॥
অথ হৈনং মনুষ্যা উচুব্রবীতু নো ভবানিতি, তেভ্যো- হৈতদেবাক্ষরমুবাচ দ-ইতি, ব্যজ্ঞাসিষ্টাও ইতি, ব্যজ্ঞাসিম্মেতি হোচুৰ্দ্দত্তেতি ন আথেতি, ওমিতি হোবাচ ব্যজ্ঞাসিষ্টেতি ॥ ৩৩৭ ॥ ২ ॥
সরলার্থঃ।—অথ(অনন্তরম্) মনুষ্যাঃ এনং(প্রজাপতিং) উচুঃ হ (উক্তবন্তঃ কিল)—ভবান্ নঃ(অস্মান্) ব্রবীতু ইতি। এবমুক্তঃ[প্রজাপতিঃ] তেভ্যঃ(মনুষ্যেভ্যঃ) হ এতৎ এব অক্ষরং—‘দ’ ইতি উবাচ।[ততঃ পপ্রচ্ছ] ব্যজ্ঞাসিষ্টা(ব্যজ্ঞাসিষ্ট—বিশেষেণ জ্ঞাতবন্তঃ যূয়ম্)? ইতি।[মনুষ্যাঃ] হ উচুঃ—ব্যজ্ঞাসিম্ম(বিশেষেণ জ্ঞাতবন্তঃ বয়ম্) ইতি—‘দত্ত’(দানং কুরুত)। ইতি নঃ(অস্মান্) আথ(উক্তবান্ ত্বম্) ইতি।[এতৎ শ্রুত্বা প্রজাপতিঃ] উবাচ হ—ওম্ ইতি(অঙ্গীকারে) ব্যজ্ঞাসিষ্ট ইতি॥ ৩৩৭ ॥ ২ ॥
মূল্যবান্দর।—অতঃপর মনুষ্যগণ, প্রজাপতিকে বলিল—
আপনি আমাদিগকে উপদেশ প্রদান করুন। প্রজাপতি তাহাদিগকেও ‘দ’ এই একটা মাত্র অক্ষরই উপদেশ করিলেন,[এবং উপদেশের পর জিজ্ঞাসা করিলেন-] উত্তমরূপে বুঝিয়াছ কি?[মনুষ্যগণ] বলিল-হাঁ, উত্তমরূপেই বুঝিয়াছি-আপনি আমাদিগকে দান করিতে উপদেশ দিতেছেন।[প্রজাপতি] বলিলেন-হাঁ, তোমরা যথার্থ ই বুঝিয়াছ ॥ ৩৩৭ ॥ ২ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—সমানমন্যৎ। স্বভাবতো লুব্ধা যূয়ম, অতো যথাশক্তি সংবিভজত—দত্তেতি নঃ অস্মান্ আখ, কিমন্যদ্ ব্রূয়াৎ নো হিতমিতি মনুষ্যাঃ ॥ ৩৩৭ ॥ ২ ॥
টীকা। সমানত্বেনোত্তরস্য সর্ব্বস্যৈবার্থবাদস্যাব্যাখ্যেয়ত্বে প্রাপ্তে দত্তেত্যত্র তাৎপর্য্যমাহ— স্বভাবত ইতি। দানমেব লোভত্যাগরূপমুপদিষ্টমিতি কুতো নিদ্দিষ্টং, কিংত্বন্তদেব হিতং কিঞ্চিদাদিষ্টং কিং ন স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ—কিমন্যদিতি। ৩৩৭। ২॥
ভাষ্যানুবাদ।—শ্রুতির অন্যাংশের ব্যাখ্যা পূর্ব্বানুরূপ; বিশেষ এই যে, মনুষ্যগণ বলিল—আপনি আমাদিগকে এই উপদেশ দিয়াছেন যে, তোমরা স্বভাবতই লোভপরতন্ত্র; অতএব শক্তি অনুসারে তোমরা দান কর— স্বীয় ধন বিভাগ করিয়া দাও। আপনি আমাদিগকে এই উপদেশই দিয়াছেন; ইহা ভিন্ন আমাদিগকে আর কি উপদেশ দিবেন? ॥ ৩৩৭ ॥ ২ ॥
অথ হৈনমসুরা উচুব্রবীতু নো ভবানিতি, তেভ্যো হৈতদেবা- ক্ষরমুবাচ দ-ইতি, ব্যজ্ঞাসিস্টাত ইতি, ব্যজ্ঞাসিম্মেতি হোচুদ্দয়- ধ্বমিতি ন আখেতি, ওমিতি হোবাচ ব্যজ্ঞাসিষ্টেতি, তদে- তদেবৈষা দৈবী বাগনুবদতি স্তনয়িত্নর্দ-দ-দ-ইতি—দাম্যত দত্ত দয়ধ্বমিতি। তদেতত্রয়ম্ শিক্ষেদ্দমং দানং দয়ামিতি ॥৩৩৮৷৷৩৷৷
ইতি দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্ ॥৫॥২।
সন্নলার্থঃ।—অথ(অতঃপরম্) অসুরাঃ হ এনং(প্রজাপতিৎ) উচুঃ— ভবান্ নঃ(অস্মান্) ব্রবীতু ইতি।[এবমুক্তঃ প্রজাপতিঃ] তেভ্যঃ(অসুরেভ্যঃ) এতৎ এব ‘দ’ ইত্যক্ষরম্ উবাচ।[উক্তা চ পৃষ্টবান্—] ব্যজ্ঞাসিষ্টা ইতি? [অসুরাঃ উচুঃ] ব্যজ্ঞাসিন্ন ইতি—দয়ধ্বম্(দয়াৎ কুরুত) ইতি নঃ(অস্মান্) আখ ইতি।[এতৎ শ্রুত্বা প্রজাপতিঃ] উবাচ হ—ওম্-ইতি—ব্যজ্ঞাসিষ্ট ইতি।
১৩৭৫
এষা(লোকপ্রসিদ্ধা) দৈবী(দেবতাসম্বন্ধিনী) বাক্-স্তনয়িত্বঃ(মেঘধ্বনিঃ) ‘দ-দ-দ’ ইতি[কৃত্বা] দাম্যত, দত্ত, দয়ধ্বম্ ইতি এতৎ(প্রজাপতিবচনম্) এব অনুবদতি(উক্তস্য অনুকথনম্ অনুবাদঃ, তৎ করোতীবেত্যর্থঃ)। তৎ এতৎ ত্রয়ম্-দমং দানং, দয়াম্ শিক্ষেৎ(অভ্যসেৎ) ইতি[শ্রুতেরুপদেশঃ] ॥ ৩৩৮৷৷৩৷৷
মুলাসুবাদ।—ইহার পর অসুরগণ প্রজাপতিকে বলিল— আপনি আমাদিগকে উপদেশ প্রদান করুন। প্রজাপতি তাহাদিগকে সেই ‘দ’ অক্ষরটাই উপদেশ করিলেন; এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা বেশ বুঝিয়াছ কি?[অসুরগণ বলিল—] হাঁ, বেশ বুঝিয়াছি —আপনি আমাদিগকে দয়াশীল হইবার নিমিত্ত উপদেশ করিতে- ছেন। প্রজাপতি বলিলেন—হাঁ, তোমরা ঠিক বুঝিয়াছ। এখনও এই দৈববাণী স্তনয়িত্ব অর্থাৎ মেঘধ্বনি ‘দ—দ—দ’ বলিয়া— প্রজাপতির দাম্যত(দন্ত হও), দত্ত(দানশীল হও) ও দয়ধ্বং (দয়াপর হও) এই কথাত্রয়েরই অনুবাদ করিতেছে। উদ্দেশ্য—ইহা হইতে লোকে দম, দান ও দয়া শিক্ষা করিবে ॥ ৩৩৮ ॥ ৩ ॥
ইতি দ্বিতীয় ব্রাহ্মণব্যাখ্যা ॥ ৫ ॥ ২ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তথা অসুরাঃ, দয়ধ্বমিতি; ক্রুরা যূয়ং হিংসাপরাঃ, অতো দয়ধ্বং প্রাণিষু দয়াং কুরুতোতি। তদেতৎ প্রজাপতেরনুশাসনম্ অদ্যাপ্যনু- বর্ত্তত এব। যঃ পূর্ব্বং প্রজাপতিদ্দেবাদীন্ অনুশশাস, সঃ অদ্যাপি অনুশাস্ত্যেব দৈব্যা স্তনয়িত্ব লক্ষণয়া বাচা। ১
টাকা। যথা দেবা মনুষ্যাশ্চ স্বাভিপ্রায়ানুসারেণ দকারশ্রবণে সত্যর্থং জগৃহুস্তথেতি যাবৎ। দয়ধ্বমিত্যত্র তাৎপর্য্যমীরয়তি-ক্রুরা ইতি। হিংসাদীত্যাদিশব্দেন পরস্বাপহারাদি গৃহ্যতে। প্রজাপতেরনুশাসনং প্রাগাসীদিত্যত্র লিঙ্গমাহ-তদেতদিতি। অনুশাসনস্যানুবৃত্তিমেব ব্যাকরোতি-যঃ পূর্বমিতি। দ-ইতি বিসন্ধিকরণং সর্বত্র বর্ণান্তরভ্রমাপোহার্থম্। ১
কথম্? এষা শ্রয়তে দৈবী বাক্? কাসৌ? স্তনয়িত্বঃ—দ-দ-দ ইতি—দাম্যত, দত্ত, দয়ধ্বমিতি। এষাং বাক্যানামুপলক্ষণায় ত্রিদ্দকার উচ্চার্য্যতে অনুকৃতিঃ, নতু স্তনয়িত্ব-শব্দঃ ত্রিরেব, সঙ্খ্যানিয়মস্য লোকে অপ্রসিদ্ধত্বাৎ। যম্মাদদ্যাপি প্রজাপতির্দাম্যত দত্ত দয়ধ্বমিত্যনুশাস্ত্যেব, তস্মাৎ কারণাদেতত্রয়ম্; কিং তত্রয়- মিত্যুচ্যতে—দমং দানং দয়ামিতি শিক্ষেদুপাদদ্যাৎ প্রজাপতেরনুশাসনমস্মাভিঃ কর্তব্যমিত্যেবং মতিং কুৰ্য্যাৎ। তথা চ স্মৃতিঃ—
“ত্রিবিধং নরকস্যেদং দ্বারং নাশনমাত্মনঃ। কামঃ ক্রোধস্তথা লোভস্তম্মাদেতত্রয়ং ত্যজেৎ।” ইতি। ২
যথা দকারত্রয়মত্র বিবক্ষিতং, তথা স্তনয়িত্বশব্দেপি ত্রিত্বং বিবক্ষিতং চেৎ, প্রসিদ্ধিবিরোধঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ—অনুকৃতিরিতি। দশব্দানুকারমাত্রমত্র বিবক্ষিতং, ন তু স্তনয়িত্বশব্দে ত্রিত্বং, প্রমাণাভাবাদিত্যর্থঃ। প্রকৃতস্যার্থবাদস্য বিধিপর্য্যবসায়িত্বং ফলিতমাহ—যম্মাদিতি। উপাদান- প্রকারমেবাভিনয়তি—প্রজাপতেরিতি। শ্রুতিসিদ্ধবিধ্যনুসারেণ ভগবদ্বাক্যপ্রবৃত্তিং দর্শয়তি— তথা চেতি। ২
অস্য হি বিধেঃ শেষঃ পূর্ব্বঃ। তত্রাপি দেবাদীনুদ্দিশ্য কিমর্থং দকারত্রয়মুচ্চা- রিতবান্ প্রজাপতিঃ পৃথগনুশাসনাথিভ্যঃ; তে বা কথং বিবেকেন প্রতিপন্নাঃ প্রজাপতের্মনোগতং—সমানেনৈব দকারবর্ণমাত্রেণেতি পরাভিপ্রায়জ্ঞা বিকল্প- য়ন্তি। ৩
তদেতৎ ত্রয়ং শিক্ষেদিত্যেষ বিধিশ্চেৎ, কৃতং এয়াঃ প্রাজাপত্যা ইত্যাদিনা গ্রন্থেনেত্যাশঙ্ক্য যম্মাদিত্যাদিনা সূচিতমাহ-অস্যেতি। সর্ব্বৈরেব ত্রয়মনুষ্ঠেয়ং চেৎ, তর্হি দেবাদীনুদ্দিশ্য দকার- ত্রয়োচ্চারণমনুপপন্নমিতি শঙ্কতে-তথেতি। দমাদিত্রয়স্য সর্ব্বৈরনুষ্ঠেয়ত্বে সতীতি যাবৎ। কিঞ্চ, পৃথকপৃথগনুশাসনার্থিনো দেবাদয়স্তেভ্যো দকারমাত্রোচ্চারণেনাপেক্ষিতমনুশাসনং সিধ্যতীত্যাহ-পৃথগিতি। কিমর্থমিত্যাদিনা পূর্ব্বেণ সংবন্ধঃ। দকারমাত্রমুচ্চারয়তোইপি প্রজাপতেব্বিভাগেনানুশাসনমভিসংহিতমিত্যাশঙ্ক্যাহ-তে বেতি। ত্রয়ং সর্ব্বৈরনুষ্ঠেয়মিতি পরস্থ্য সিদ্ধান্তিনোহভিপ্রায়স্তদভিজ্ঞাঃ সন্তো যথোক্তনীত্যা বিকল্পয়ন্তীতি যোজনা। পরাভি- প্রায়জ্ঞা ইত্যুপহাসো বা, পরন্য প্রজাপতের্মনুষ্যাদীনাং চাভিপ্রায়জ্ঞা ইতি। ৩
অত্রৈক আহুঃ-অদান্তত্বাদাতৃত্বাদয়ালুত্বৈঃ অপরাধিত্বম্ আত্মনো মন্যমানাঃ শঙ্কিতা এব প্রজাপতৌ উধুঃ-কিং নো বক্ষ্যতীতি; তেষাঞ্চ দকারশ্রবণমাত্রাদেব আত্মাশঙ্কাবশেন তদর্থপ্রতিপত্তিরভূৎ; লোকেহপি হি প্রসিদ্ধম-পুত্রাঃ শিষ্যাশ্চা- নুশাস্যাঃ সন্তঃ দোষান্নিবর্তয়িতব্যা ইতি; অতো যুক্তং, প্রজাপতেৰ্দকারমাত্রো- চ্চারণম্; দমাদিত্রয়ে চ দকারান্বয়াৎ, আত্মনো দোষানুরূপ্যেণ দেবাদীনাং বিবে- কেন প্রতিপত্তুঞ্চেতি। ফলং তু এতৎ-আত্মদোষজ্ঞানে সতি দোষাৎ নিবর্ত্ত- রিতুং শক্যতে অল্পেনাপ্যুপদেশেন; যথা দেবাদয়ো দকারমাত্রেণেতি। ৪
একীয়ং পরিহারমুখাপয়তি-অত্রেতি। অস্ত তেষামেষা শঙ্কা, তথাপি দকারমাত্রাৎ কীদৃশী প্রতিপত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-তেষাং চেতি। তদর্থো দকারার্থো দমাদিস্তস্য প্রতিপত্তিস্তদ্দ্বারেণা- দান্তত্বাদিনিবৃত্তিরাসীদিত্যর্থঃ। কিমিতি প্রজাপতির্দোষজ্ঞাপনদ্বারেণ ততো দেবাদীনমু- শাস্ত্যান্ দোষান্নিবর্তয়িষ্যতি, তত্রাহ-লোকেইপীতি। দকারোচ্চারণস্য প্রয়োজনে সিদ্ধে ফলিতমাহ-অত ইতি। যত্তুক্তং তে বা কথমিত্যাদি, তত্রাহ-মদাদীতি। প্রতিপতুং চ যুক্তং মদাদীতি শেষঃ। ইতিশব্দঃ স্বযধ্যমত-সমাপ্ত্যর্থঃ। পরোক্তং পরিহারমঙ্গীকৃত্যাখ্যায়িকা-
তাৎপর্য্যং সিদ্ধান্তী ব্রতে-ফলং ত্বিতি। নির্জাতিদোষা দেবাদয়ঃ তথা দকারমাত্রেণ ততো নিবর্ত্যন্ত ইতি শেষঃ। ইতিশব্দো দাষ্টান্তিকপ্রদর্শনার্থঃ। ৪
ননু এতৎ ত্রয়াণাং দেবাদীনাননুশাসনং দেবাদিভিরপি একৈকমেবোপাদেয়ম্ অদ্যত্বেহপি, ন তু এয়ং মনুষ্যৈঃ শিক্ষিতব্যম্ ইতি? অত্রোচ্যতে,-পূর্ব্বৈদেবা- দিভিবিশিষ্টৈরনুষ্ঠিতমেতত্রয়ম্; তস্মাৎ মনুষ্য্যেরেব শিক্ষিতব্যমিতি। তত্র দয়ালুত্বস্যাননুষ্ঠেয়ত্বং স্যাৎ; কথম্? অসুরৈরপ্রশস্তৈরনুষ্ঠিতত্বাদিতি চেৎ; ন; তুল্যত্বাৎ ত্রয়াণাম্; অতোহন্যোহত্রাভিপ্রায়ঃ-প্রজাপতেঃ পুত্রা দেবাদয়ন্ত্রয়ঃ; পুত্রেভ্যশ্চ হিতমেব পিত্রোপদেষ্টব্যম্; প্রজাপতিশ্চ হিতজ্ঞো নান্যথোপদিশতি; তস্মাৎ পুত্রানুশাসনং প্রজাপতেঃ পরমমেতৎ হিতম্; অতো মনুষ্যয়েরেব এতত্রয়ং শিক্ষিতব্যমিতি। ৫
বিশিষ্টান্ প্রত্যনুশাসনস্য প্রবৃত্তত্বাদস্মাকং তদভাবাদনুপাদেয়ং দনাদীতি শঙ্কতে-নন্বিতি। কিঞ্চ, দেবাদিভিরপি প্রাতিস্বিকানুশাসনবশাদেকৈকমেব দমাদ্যনুষ্ঠেয়ং, ন তত্রয়মিত্যাহ- দেবাদিভিরিতি। যথা পূর্ব্বস্মিন্ কালে দেবাদিভিরেকৈকমেবোপাদেয়মিত্যুক্তং, তথা বর্তমানেহপি কালে মনুষ্যৈরেকৈকমেধ কর্ত্তব্যং পূর্ব্বাচারানুসারান্ন তু ত্রয়ং শিক্ষিতব্যং, তথা চ কস্যায়ং বিধিরিত্যাহ-অন্যত্বেংপীতি। আচারপ্রামাণ্যমাশ্রিত্য-পরিহরতি অত্রেতি। ইত্যেকৈকমেব নোপাদেয়মিতি শেষঃ। দয়ালুত্বস্যানুষ্ঠেয়ত্বমাক্ষিপতি-তত্রেতি। মধ্যে দমাদীনামিতি যাবৎ। অসুরৈরনুষ্ঠিতত্বেহপি দয়ালুত্বমনুষ্ঠেরং হিতসাধনত্বাদ্দানাদিবদিতি পরিহরতি-নেত্যাদিনা। দেবাদিষু প্রজাপতেরবিশেষাত্তেভ্যস্তদুপদিষ্টমদ্যত্বেহপি সর্ব্বমনুষ্ঠেয়- মিত্যর্থঃ। হিতস্যৈবোপদেষ্টব্যত্বেহপি তদজ্ঞানাৎ প্রজাপতিরন্যথোপদিশতীত্যাশঙ্ক্যাহ-প্রজা- পতিশ্চেতি। হিতজ্ঞস্ত পিতুরহিতোপদেশিত্বাভাবস্তস্মাদিত্যুক্তম্। বিশিষ্টৈরনুষ্ঠিতস্যাম্মদাদিভি- রনুষ্ঠেয়ত্বে ফলিতমাহ-অত ইতি। প্রাজাপত্যা দেবাদয়ো বিগ্রহবস্তু সন্তীত্যর্থ- বাদস্য যথাশ্রুতেহর্থে প্রামাণ্যমভ্যুপগম্য দকারত্রয়স্য তাৎপর্য্যং সিদ্ধমিতি বক্তুমিতি- শব্দঃ। ৫.
অথবা ন দেবা অসুরা বা অন্যে কেচন বিদ্যন্তে মনুষ্যেভ্যঃ; মনুষ্যাণামেব অদান্তা যে অন্যৈরুতমৈগুণৈঃ সম্পন্নাঃ, তে দেবাঃ, লোভপ্রধানা মনুষ্যাঃ, তথা হিংসাপরাঃ ক্রুরা অসুরাঃ। তে এব মনুষ্যা অদান্তত্বাদিদোষত্রয়মপেক্ষ্য দেবাদি- শব্দভাজো ভবন্তি—ইতরাংশ গুণান্ সত্ত্বরজস্তমাংসি অপেক্ষ্য। অতো মনুষ্যেরেব শিক্ষিতব্যমেতৎ ত্রয়মিতি, তদপেক্ষয়ৈব প্রজাপতিনোপদিষ্টত্বাৎ। তথা হি মনুষ্যা অদান্তা লুব্ধাঃ ক্রুরাশ্চ দৃশ্যন্তে। তথা চ স্মৃতিঃ,—“কামঃ ক্রোধস্তথা লোভস্তস্মা- দেতলয়ং ত্যজেৎ।” ইতি ॥ ৩৩৮ ॥ ৩॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ং দ্বিতীয়ং বাণম্ ॥ ৫ ॥ ২ ॥
সংপ্রতি কৰ্ম্মমীমাংসকমতমনুসৃত্যাহ-অথবেতি। কথং মনুষ্যেষের দেবাসুরত্বং, তত্রাহ- মনুষ্যাণামিতি। অন্যে গুণা জ্ঞানাদয়ঃ। কিং পুনৰ্ম্মনুয্যেযু দেবাদিশব্দপ্রবৃত্তৌ নিমিত্তং, তদাহ-অদন্তত্মত্বাদীতি। দেবাদিশব্দপ্রবৃত্তৌ নিমিত্তান্তরমাহ-ইতরাংশ্চেতি। মনুষ্যেষেব দেবাদিশব্দপ্রবৃত্তৌ ফলিতমাহ-অত ইতি। ইতিশব্দো বিধ্যুপপত্তিপ্রদর্শনার্থঃ। মনুষ্যৈরেব এয়ং শিক্ষিতব্যমিত্যত্র হেতুমাহ-তদপেক্ষয়েতি। মনুষ্যাণামের দেবাদিভাবে প্রমাণমাহ- তথা হীতি। এয়ং শিক্ষিতব্যমিত্যত্র স্মৃতিমুদাহরতি-তথা চেতি। ইতিশব্দো ব্রাহ্মণ- সমাপ্ত্যর্থঃ ॥ ৩৩৮। ৩।
ইতি কৃষ্ণদাসকপনিবংশীয়ং প্রথমভাগং দ্বিতীয়ং। ৫।২।
ভাষ্যানুবাদ।—সেইরূপ[প্রজাপতির জিজ্ঞাসান্তে] অসুরগণ বলিল —[আপনি আমাদিগকে উপদেশ করিয়াছেন যে,] তোমরা ক্রুরস্বভাব—হিংসা- পরায়ণ; অতএব দয়ালু হও, প্রাণিগণের প্রতি দয়া কর। প্রজাপতির এই উপ- দেশ এখন পর্য্যন্তও নিশ্চয়ই অনুসৃত হইতেছে। প্রজাপতি পুরাকালে দেবতা- প্রভৃতির প্রতি যে উপদেশ করিয়াছিলেন, আজও স্তনয়িত্ব বা মেঘধ্বনিরূপ দৈবী বাণী সেই উপদেশেরই অনুবাদ করিতেছে। ১
এই দৈববাণী কি প্রকার শ্রুত হইয়া থাকে? এবং এই স্তনয়িত্বই বা কি? [তদুত্তরে বলা হইতেছে যে,] দ-দ-দ ইতি,[ইহার অর্থ-] দান্ত হও, দানশীল হও, এবং দয়ালু হও। এই তিনটা বাক্যের(দাম্যত, দত্ত ও দয়ধ্বম্, এই তিনটী কথার) প্রতীতি জন্মাইবার নিমিত্ত অনুকরণরূপে তিন বাক্যেই ‘দ’কারের উচ্চারণ করা হইয়াছে, কিন্তু স্তনয়িত্ব ধ্বনি যে, মাত্র তিনবারই হইয়া থাকে, তাহা নহে; কারণ, জগতে স্তনয়িত্বধ্বনিতে ত্রিত্বসংখ্যার কোনও নিয়ম দেখা যায় না। যেহেতু প্রজাপতি আজ পর্য্যন্তও ‘দাম্যত, দত্ত ও দয়ধ্বম্’ এইরূপ উপদেশ করিতেছেন, সেই হেতু এই তিনটা,-এই তিনটা যে কি, তাহা কথিত হইতেছে-দম, দান ও দয়া এই তিনটা বিষয় শিক্ষা করিবে অর্থাৎ গ্রহণ করিবে, প্রজাপতির অনুশাসন আমাদের প্রতিপালন করা আবশ্যক, এই প্রকার বুদ্ধি স্থির করিবে। এই প্রকার স্মৃতিবাক্যও আছে-‘আত্মনাশের প্রধান উপায় কাম,/ ক্রোধ ও লোভ এই তিনটাই নরকের দ্বার; অতএব এই তিনটা সর্ব্বথা পরিত্যাগ করিবে‘।(১)।২
(১) তাৎপর্য্য—সাধারণতঃ স্মৃতি অপেক্ষা শ্রুতির প্রামাণ্য অধিক; সুতরাং শ্রুতি কখনই স্মৃতির অপেক্ষা করে না, কিন্তু যেখানে শ্রুতির যথার্থ অর্থ নির্ণয়ে বাধা ঘটে—সংশয় উপস্থিত হয়, কেবল সেইখানেই সংশয় নিবারণার্থ স্মৃতির সাহায্য লইতে হয়। মহাভারতে আছে “ইতিহাসপুরাণাভ্যাং বেদার্থমুপবৃংহয়েৎ” অর্থাৎ ইতিহাস ও পুরাণের সাহায্যে বেদার্থ
১৩৭৯
প্রথমোক্ত ‘ত্রয়া হ প্রাজাপত্যাঃ’ ইত্যাদি বাক্য এই শিক্ষাবিধিরই অঙ্গ, অর্থাৎ এই প্রকার শিক্ষালাভের উপযুক্ত পাত্ররূপেই প্রথমে দেবতাপ্রভৃতির উল্লেখ করা হইয়াছে; কিন্তু এইরূপে নিযোজ্য-নির্দেশ সত্ত্বেও পরাভিপ্রায়-বিচারে পটু পণ্ডিতগণ নানাবিধ বিকল্প বা বিতর্ক উত্থাপন করিয়া বলেন যে, দেবতাপ্রভৃতি শিষ্যগণ যখন বিভিন্নপ্রকার উপদেশের প্রার্থী, তখন প্রজাপতি তাহাদের উদ্দেশে তিনবার একই দকার মাত্র উচ্চারণ করিলেন কেন? এবং প্রজাপতির একই দকার অক্ষরের উচ্চারণমাত্রে উহারাই বা পৃথক্ পৃথক্ ভাবে প্রজাপতির মনো- গত ভাব অবগত হইল কি প্রকারে? ইত্যাদি বিষয় লইয়া পরচিত্তাভিজ্ঞ পণ্ডিতগণ নানাপ্রকার কল্পনা করিয়া থাকেন। ৩
এস্থলে কেহ কেহ বলেন, দেবতাপ্রভৃতিরা যে সময় প্রজাপতির নিকট ব্রহ্মচারী রূপে বাস করিতেছিলেন, তখনই তাঁহারা নিজেদের অদান্তত্ব, অদাতৃত্ব ও অদয়ালুত্ব দোষগুলির প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া শঙ্কা করিতেছিলেন যে, প্রজাপতি আমাদিগকে কি জানি বলিবেন। অনন্তর প্রজাপতির উপদেশে দকার মাত্র শ্রবণ করিয়া আপনাদের শঙ্কা অনুসারেই তাহার অর্থ প্রতীতি করিয়াছিলেন মাত্র। জগতেও ইহা প্রসিদ্ধ যে, পুত্র ও শিষ্যপ্রভৃতি যাহারা শাসনযোগ্য, তাহাদিগকে নিজ নিজ দোষ হইতে নিবৃত্ত করানই উচিত; এই কারণে প্রজাপতির এই প্রকার শুধু দকার মাত্রের উচ্চারণ করা সঙ্গতই হইয়াছে; এবং দম, দান ও দয়া, এই তিনেতেই দকারের সম্বন্ধ থাকার নিজেদের দোষানুসারে দেবতাপ্রভৃতিরও বিভিন্ন প্রকার অর্থ প্রতীতি করা সঙ্গতই হইয়াছে। ইহার উদ্দেশ্য এই যে, আপ- নার দোষগুলি একবার জ্ঞানগোচর হইলে, অতি অল্প উপদেশেও সেই সমুদয় দোষ হইতে তাহাদিগকে নিবৃত্ত করা যাইতে পারে; যেমন একমাত্র ‘দ’কার শ্রবণেই দেবতাপ্রভৃতিরা দোষ হইতে নিবৃত্ত হইয়াছিলেন।
ভাল কথা, দেবতাপ্রভৃতি তিনশ্রেণীর লোকের জন্য যদি এই তিনটা উপদেশ প্রদত্ত হইয়া থাকে, তাহা হইলে দেবতা প্রভৃতির পক্ষে ইহার এক একটা মাত্র উপদেশ গ্রহণ করাই উচিত; সুতরাং এখনও মনুষ্যগণের তিনটা উপদেশই প্রতিপালনীয় হইতে পারে না। বিশেষতঃ দয়ালুত্ব কখনই শিক্ষণীয় হইতে পারে না; যেহেতু, উহা অপ্রশস্ত বা হীনপ্রকৃতি অসুরের দ্বারা অনুষ্ঠিত। না, এরূপ আপত্তি সঙ্গত হয় না; কারণ? যেহেতু প্রজাপতির
নিকট তিনই তুল্য; অতএব বুঝিতে হইবে যে, এখানে প্রজাপতির অভিপ্রায় অন্যপ্রকার—দেবতা, মনুষ্য ও অসুর, এই তিনই প্রজাপতির পুত্র; পুত্রগণের উদ্দেশে হিতোপদেশ প্রদানই পিতার কর্তব্য; প্রজাপতিও হিতজ্ঞ; তিনি কখনই অহিতের উপদেশ করিতে পারেন না; অতএব বুঝিতে হইবে যে, পুত্রগণের প্রতি যে, প্রজাপতির এইরূপ উপদেশ, তাহা নিশ্চয়ই পরম হিতকর; অতএব মনুষ্যগণের পক্ষেও এই তিনটা অবশ্যই শিক্ষণীয়। ৫
অথবা, মনুষ্যের অতিরিক্ত দেবতা বা অসুর বলিয়া কেহ নাই; পরন্তু মনুষ্যের মধ্যেই যাহারা মনুষ্যোচিত অন্যান্য উৎকৃষ্ট গুণসম্পন্ন হইয়াও অদান্তস্বভাব, তাহারা দেবতা, যাহারা লোভপ্রধান, তাহারা মনুষ্য, আর যাহারা হিংসাপরায়ণ ক্রুরপ্রকৃতি, তাহারা অসুর শব্দে অভিহিত হইয়া থাকে; সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ, এই গুণত্রয় অনুসারেই এইপ্রকার বিভাগ করা হইয়া থাকে। অতএব কেবল মনুষ্যগণকেই এই তিনটা বিষয় শিক্ষা করিতে হইবে; কারণ, তদুদ্দেশ্যেই প্রজাপতি উপদেশ করিয়াছেন। দেখ, মনুষ্যগণের মধ্যেই অদান্ত, লুব্ধ ও ক্রুরস্বভাব লোক দৃষ্ট হইয়া থাকে। স্মৃতিশাস্ত্রও সেইরূপ বলিতেছেন—‘অতএব কাম, ক্রোধ ও লোভ এই তিনটী দোষ ত্যাগ করিবে’ ইতি ॥ ৩৩৮ ॥ ৩ ॥
আভাষভাষ্যম্।—দমাদিসাধনত্রয়ং সর্ব্বোপাসনাশেষং বিহিতম্। দান্তোহলুব্ধো দয়ালুঃ সন্ ‘সর্ব্বোপাসনেঘধিক্রিয়তে। তত্র নিরুপাধিকস্য ব্রহ্মণে। দর্শনমতিক্রান্তম্, অধুনা সোপাধিকস্য তস্যৈবাভ্যুদয়ফলানি বক্তব্যানীত্যেব- মর্থোহয়মারম্ভঃ—
আভাষভাষ্যানুবাদ।—সমস্ত উপাসনার অঙ্গরূপে দমাদিসাধনত্রয় বিহিত হইয়াছে;[অতএব বুঝিতে হইবে যে,] লোক দান্ত, নির্লোভ ও দয়াসম্পন্ন হইলে পর, সমস্ত উপাসনার অধিকারী হইয়া থাকে। তন্মধ্যে নিরুপাধিক ব্রহ্মোপাসনার কথা পূর্ব্বে কথিত হইয়াছে; অতঃপর অভ্যুদয়-ফলসাধক সোপাধিক ব্রহ্মেরই উপাসনাসমূহ বলিতে হইবে; এই উদ্দেশ্যে পরবর্তী গ্রন্থের আরম্ভ হইতেছে—
এষ প্রজাপতির্যদ্ হৃদয়মেতদ্রহ্মৈতৎ সর্ব্বম্, তদেতৎ ত্র্যক্ষরং হৃদয়মিতি, হৃ-ইত্যেকমক্ষরম্, অভিহরন্ত্যস্মৈ স্বাশ্চান্যে
চ, য এবং বেদ। দ-ইত্যেকমক্ষরম্, দদত্যস্মৈ স্বাশ্চান্যে চ, য এবং বেদ। যমিত্যেকমক্ষরমেতি স্বর্গং লোকং, য এবং বেদ ॥ ৩৩৯৷৷১৷৷
ইতি তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্ ॥ ৫ ॥ ৩ ॥
সরলার্থঃ।—এষঃ প্রজাপতিঃ(প্রজানাং স্রষ্টা);[কোহসৌ?] যৎ হৃদয়ম্ (হৃদয়স্থা বুদ্ধিঃ); এতৎ ব্রহ্ম(বৃহৎ), এতৎ সর্ব্বম্। তদেতৎ হৃদয়ম্ ইতি(হৃদয়পদম্) ত্র্যক্ষরম্(অক্ষরত্রয়াত্মকম্)।[তত্র] ‘হৃ’ ইতি একম্ অক্ষরম্; যঃ এবং বেদ, অস্মৈ (বিদুষে)(স্বকীয়াঃ জ্ঞাতয়ঃ) অন্যে চ(জ্ঞাতিভিন্নাঃ) অভিহরন্তি(স্বং স্বং উপ- ঢৌকয়ন্তি); ‘দ’ ইতি একম্ অক্ষরম্, যঃ এবং বেদ, অস্মৈ(বিদুষে) স্বাঃ চ অন্যে চ[স্বং স্বং কার্য্যজাতম্] দদতি(প্রযচ্ছন্তি); তথা ‘যম্’ ইতি একম্ অক্ষরম্, যঃ এবং বেদ,[সঃ বিদ্বান্] স্বর্গং লোকম্ এতি(প্রাপ্নোতি)। ৩৩৯ ॥ ১ ॥
মূলানুবাদ:-পূর্ব্বে যে প্রজাপতির কথা বলা হইয়াছে, এই হৃদয়ই অর্থাৎ হৃদয়স্থ বুদ্ধিই সেই প্রজাপতি; এই হৃদয়ই ব্রহ্ম (বৃহৎ) এবং এই হৃদয়ই সর্বাত্মক। এই ‘হৃদয়’ নামটী এ্যক্ষর (তিনটা অক্ষরযুক্ত); তন্মধ্যে একটা অক্ষর ‘হৃ’; যে লোক এই প্রকার হৃদয়তত্ত্ব জানেন, স্বীয় জ্ঞাতিগণ এবং অপর সকলেও তাঁহার উদ্দেশে স্ব স্ব বিষয় আহরণ করে অর্থাৎ তাঁহার ভোগার্থ উপস্থিত করে। হৃদয়ের আর একটী অক্ষর ‘দ’; যে লোক ইহা যথোক্ত প্রকারে জানে, স্বীয় জ্ঞাতিবর্গ ও অপর সকলে তাহার জন্য ভোগ্য বস্তু উপহার প্রদান করে; হৃদয়ের অপর একটা অক্ষর ‘যম্’; যিনি এইরূপে ইহা অবগত হন, তিনি স্বর্গলোক লাভ করেন ॥ ৩৩৯ ॥ ১॥
ইতি তৃতীয় ব্রাহ্মণ ব্যাখ্যা ॥ ৫ ॥ ৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—এষ প্রজাপতিঃ, যৎ হৃদয়ম্; প্রজাপতিরনুশাস্তীত্য- নন্তরমেবাভিহিতম্। কঃ পুনরসাবনুশাস্তা প্রজাপতিরিত্যুচ্যতে—এষ প্রজা- পতিঃ; কোহসৌ? যৎ হৃদয়ম্; হৃদয়মিতি হৃদয়স্থা বুদ্ধিরচ্যতে; যস্মিন্ শাকল্যব্রাহ্মণান্তে নামরূপকর্ম্মণামুপসংহার উক্তো দিগ্বিভাগদ্বারেণ; তদেতৎ সর্ব্বভূতপ্রতিষ্ঠং সর্ব্বভূতাত্মভূতং হৃদয়ং প্রজাপতিঃ প্রজানাং স্রষ্টা। এতদ্ ব্রহ্ম, বৃহত্ত্বাৎ সর্ব্বাত্মত্বাচ্চ ব্রহ্ম; এতৎ সর্ব্বম্; উক্তং পঞ্চমাধ্যায়ে হৃদয়স্য সর্ব্বাত্মত্বম্; তৎ সর্ব্বং যস্মাৎ, তস্মাদুপাস্যং হৃদয়ং ব্রহ্ম। ১
তত্র হৃদয়নামাক্ষরবিষয়মেব তাবদুপাসনমুচ্যতে। তদেতদ্ হৃদয়মিতি নাম এ্যক্ষরম্ ত্রীণ্যক্ষরাণ্যস্যেতি এ্যক্ষরম্। কানি পুনস্তানি ত্রীণ্যক্ষরাণি? উচ্যন্তে— হৃ-ইত্যেকমক্ষরম্। অভিহরন্তি, হৃতেরাহৃতিকৰ্ম্মণো হৃ-ইত্যেতদ্ রূপম্-ইতি যো বেদ, যস্মাদ্ হৃদয়ায় ব্রহ্মণে স্বাশ্চ ইন্দ্রিয়াণি, অন্যে চ বিষয়াঃ শব্দাদয়ঃ স্ব-স্বং কার্য্যমভিহরন্তি; হৃদয়ং চ ভোক্ত র্থমভিহরতি; অতো হৃদয়নাম্নো হৃ-ইত্যেতদক্ষর- মিতি যে বেদ, অস্মৈ বিদুষে অভিহরন্তি স্বাশ্চ জ্ঞাতয়ঃ, অন্যে চাসম্বদ্ধাঃ; বলিমিতি বাক্যশেষঃ। বিজ্ঞানানুরূপ্যেণৈতৎ ফলম্। ২
তথ’ দ ইত্যেতদপি একমক্ষরম্; এতদপি দানার্থস্য দদাতঃ দ-ইত্যেতদ্ রূপৎ হৃদয়নামাক্ষরত্বেন নিবদ্ধম্। অত্রাপি হৃদয়ায় ব্রহ্মণে স্বাশ্চ করণানি অন্যে চ বিষয়াঃ স্বং স্বং কার্য্যৎ দদতি, হৃদয়ঞ্চ ভোক্ত্রে দদাতি স্বৎ বীর্য্যম্; অতো দকার ইত্যেবং যো বেদ, অস্মৈ দদতি স্বাশ্চান্যে চ। তথা যম্-ইত্যেতদপ্যেকমক্ষরম্; ইণো গত্যর্থস্য যমিত্যেতদ্রূপমস্মিন্ নাম্নি নিবদ্ধমিতি যো বেদ, স স্বর্গং লোকমেতি। এবং নামাক্ষরাদপীদৃশং বিশিষ্টং ফলং প্রাপ্নোতি, কিমু বক্তব্যং হৃদয়- স্বরূপোপাসনাৎ, ইতি হৃদয়স্তুতরে নামাক্ষরোপন্যাসঃ ॥ ৩৩৯ ॥ ১ ॥
ইতি পঞ্চদশঃ পর্ব্বঃ। অধ্যায়ঃ॥ ৫ ॥ ৬ ॥
টাকা। সার্থবাদেন বিধিনা সিদ্ধমর্থমনুবদতি-দমাদীতি। কথং তস্য সর্ব্বোপাসন- শেষত্বং, তদাহ-দান্ত ইতি। অলুব্ধ ইতি চ্ছেদঃ। সংপ্রত্যুত্তরসংদর্ভস্য তাৎপর্য্যং বক্তুং ভূমিকাং করোতি-তত্রেতি। কাণ্ডদ্বয়ং সপ্তম্যর্থঃ। অনন্তরসংদর্ভস্য তাৎপয্যমাহ-অথেতি। পাপক্ষয়াদিরভ্যুদয়স্তৎফলান্যুপাসনানীতি শেষঃ। অনন্তরব্রাহ্মণমাদায় তস্য সঙ্গতিমাহ-এষ ইত্যাদিনা। উক্তস্য হৃদয়শব্দার্থস্য পাঞ্চমিকত্বং দর্শয়ন্ প্রজাপতিত্বং সাধয়তি-যস্মিন্নিতি। কথং হৃদয়স্য সর্ব্বত্বং, তদাহ-উক্তমিতি। সর্ব্বত্বসংকীর্ত্তনফলমাহ-তৎ সর্ব্বমিতি। তত্র হৃদয়স্যোপাস্যত্বে সিদ্ধে সতীত্যেবৎ। ফলোক্তিমুখাপ্য ব্যাকরোতি-অভিহরন্তীতি। যো বেদাম্লৈ বিদুষেহভিহরন্তীতি সংবন্ধঃ। বেদনমেব বিশদয়তি-যস্মাদিত্যাদিনা। স্বং কাৰ্য্যং রূপদর্শনাদি। হৃদয়স্য তু কার্যাং সুখাদি। অসংবদ্ধা জ্ঞাতিব্যতিরিক্তাঃ। ঔচিত্যমুক্তে ফলে কথয়তি-বিজ্ঞানেতি।
অত্রাপীতি দকারাক্ষরোপাসনেহপি ফলমুচ্যুত ইতি শেষঃ। তামেব ফলোক্তিং ব্যনক্তি— হৃদয়ায়েতি। অস্মৈ বিদুষে স্বাশ্চান্যে চ দদতি, বলিমিতি শেষঃ। নামাক্ষরোপাসনানি ত্রীণি হৃদয়স্বরূপোপাসনমেকমিতি চত্বার্যুপাসনান্তত্র বিবক্ষিতানীত্যাশঙ্ক্যাহ—এবমিতি। ৩৩৯। ১।
ইতি কৃষ্ণদাসদেবপণ্ডিতকবিরঃ প্রথমোঽধ্যায়ঃ। তৃতীয়ঃ অধ্যায়ঃ॥ ৪৩॥
ভাষ্যানুবাদ।—‘এষ প্রজাপতিঃ যদ্ হৃদয়ম্’ ইত্যাদি। অব্যবহিত পূর্ব্বেই বলা হইয়াছে যে, প্রজাপতি অনুশাসন করিলেন; সেই শাসনকর্তা প্রজা-
১৩৮৩
পতি যে, কে, এখন তাহা বলা হইতেছে—ইনিই সেই প্রজাপতি। ইনি কে? না, যাহা হৃদয়। এখানে হৃদয়-শব্দে হৃদয়স্থ বুদ্ধি অভিহিত হইতেছে; যাহার সম্বন্ধে অতীত শাকল্যব্রাহ্মণের শেষে দিগ্বিভাগক্রমে নাম; রূপ ও কর্ম্মের উপসংহার বা সন্নিবেশ কথিত হইয়াছে। সর্ব্বভূতের আশ্রয় ও সর্ব্বভূতাত্মক সেই এই হৃদয়ই প্রজাপতি—প্রজাবর্গের সৃষ্টিকর্তা; ইহাই ব্রহ্ম, যেহেতু সর্ব্বাপেক্ষা বৃহৎ ও সর্ব্বাত্মক, সেই হেতু ব্রহ্ম-পদবাচ্য। সেই এই হৃদয়ই আবার সর্ব্বাত্মক; হৃদয় যে, সর্ব্বাত্মক কি প্রকারে, তাহা পঞ্চমাধ্যায়ে কথিত হইয়াছে। যেহেতু হৃদয় সর্ব্বাত্মক, সেই হেতু হৃদয়-ব্রহ্মের উপাসনা করিবে। ১
এখন হৃদয়ের নামাক্ষর-বিষয়ক উপাসনার কথাই প্রথমে বলা হইতেছে— সেই এই ‘হৃদয়’ নামটা এ্যক্ষর অর্থাৎ তিনটী অক্ষরবিশিষ্ট। সেই তিনটা অক্ষর কি কি? তাহা বলা হইতেছে—‘হৃ’ একটা অক্ষর। ‘অভিহরন্তি’ অর্থ আহরণ করে; ‘হৃ’ অক্ষরটা আহরণার্থক ‘হৃ’ ধাতু হইতে নিষ্পন্ন; উহার অর্থ—আহরণ করা; ইহা যিনি জানেন,—যেহেতু ইন্দ্রিয়গণ ও শব্দাদি বিষয়সমূহ হৃদয়াখ্য ব্রহ্মের উদ্দেশে নিজ নিজ কার্য্য উপহার প্রদান করিয়া থাকে, এবং স্বয়ং হৃদয়ও ভোক্তা—আত্মার উদ্দেশে বিষয় আহরণ করিয়া থাকে, সেইহেতু ‘হৃদয়’ নামের ‘হৃ’ অক্ষরটাকে যিনি এইরূপে জানেন, সেই বিদ্বানের উদ্দেশে স্ব—জ্ঞাতিগণ এবং সম্বন্ধবিহীন অপর লোকেও বলি বা উপহার আহরণ করিয়া থাকে। ইহা উপাসনারই অনুরূপ ফল, অর্থাৎ যাহাকে যেরূপে উপাসনা করা যায়, তাহা হইতে সেই প্রকার ফলই লাভ করা যায়। ২
এইরূপ আর একটা অক্ষর হইতেছে ‘দ’। এই ‘দ’ অক্ষরটাও দানার্থক দা- ধাতু হইতে নিষ্পন্ন হইয়া ‘হৃদয়’ নামের অক্ষররূপে সন্নিবিষ্ট হইয়াছে। এখানে বুঝিতে হইবে যে, ইন্দ্রিয়গণ হৃদয়াখ্য ব্রহ্মের উদ্দেশে নিজ নিজ বীর্য্য বা শক্তি অর্পণ করিয়া থাকে; হৃদয় আবার আপনার শক্তিকে ভোক্তা—জীবের উদ্দেশে সমর্পণ করে। অতএব এ প্রকারে ‘দ’কারকে মিনি জানেন, নিজের জ্ঞাতিগণ এবং অপর সকলে তাহার উদ্দেশে স্বীয় শক্তি প্রদান করিয়া থাকে। এইরূপ ‘হৃদয়’ নামের আর একটা অক্ষর ‘য’; গমনার্থক ‘ইন্’ধাতু হইতে নিষ্পন্ন ‘য’ অক্ষরটা ঐ নামের সহিত সংযোজিত হইয়াছে; যিনি এই তত্ত্ব জানেন, তিনি স্বর্গলোক লাভ করেন। ইহার তাৎপর্য্য এই যে, যাহার নামের এক একটা অক্ষর হইতেও এইরূপ বিশিষ্ট ফল লাভ করা যায়, সাক্ষাৎ সেই হৃদয়ের উপাসনায় যে, কত ফল হয়, তাহা আর কি বলিব?
এইরূপে হৃদয়ের প্রশংসনার্থ এখানে হৃদয় নামের অক্ষরত্রয়ের উল্লেখ করা হইয়াছে ॥ ৩৩৯ ॥ ১ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ে তৃতীয় ব্রাহ্মণের ভাষ্যসূচায় ॥ ৫ ॥ ৬ ॥
তদ্বৈ তদেতদেব তদাস, সত্যমেব সঃ, যো হৈতং মহদ্যক্ষং প্রথমজং বেদ সত্যং ব্রহ্মেতি, জয়তীমাল্লোঁকান্ জিত ইন্নস্বসাসদ্ য এবমেতন্মহদ্যক্ষং প্রথমজং বেদ সত্যং ব্রহ্মেতি, সত্যং হোব ব্রহ্ম ॥ ৩৪০ ॥ ১ ॥
ইতি পঞ্চমে চতুর্থং ব্রাহ্মণম্ ॥ ৫ ॥ ৪ ॥
সরলার্থঃ।—ইদানীং প্রকারান্তরেণ হৃদয়াখ্যস্য ব্রহ্মণ উপাসনং বিধিৎসন্ আহ—‘তদ্বৈ’ ইত্যাদি।[‘বৈ’ ইতি স্মরণে]; তৎ(পূর্ব্বোক্তং স্মর্য্যমাণং যৎ হৃদয়ং ব্রহ্ম), তৎ(প্রকারান্তরেণ) এতৎ(বক্ষ্যমাণং) সত্যং(সৎ চ, ত্যৎ চ— মূর্ত্তামূর্ত্তস্বরূপম্)[এব] তৎ(ব্রহ্ম) আস(আসীৎ)। সঃ যঃ(যঃ কশ্চিৎ) হ(অবধারণে) এতৎ(এতৎ) মহৎ যক্ষং(রমণীয়ং পূজ্যং বা) প্রথমজং(সর্ব্বেভ্যঃ জীবেভ্যঃ প্রথমোৎপন্নং) সত্যং ব্রহ্ম ইতি বেদ(জানাতি উপাস্তে),[সঃ উপাসকঃ] ইমান্ লোকান্ জয়তি(বশীকরোতি)। ইন্নু(ইত্থং- প্রকারেণ) জিতঃ(বশীকৃতঃ) অসৌ(শত্রুঃ) অসৎ(অসন্ এব)[ভবেৎ]। [উক্তমেবার্থং বোধসৌকর্য্যার্থং পুনরাহ—] ‘য এবমেতৎ’ ইত্যাদিনা ॥ ৩৪০ ॥ ১ ॥
মূলানুবাদ:-[ এখন প্রকারান্তরে আবার সেই হৃদয়- ব্রহ্মেরই অন্যরূপ উপাসনা উপদিষ্ট হইতেছে]। প্রথম ‘তৎ’ শব্দটা দ্বারা পূর্ব্বোক্ত হৃদয়-ব্রহ্মের কথা স্মরণ করিয়া দেওয়া হইতেছে। সেই যে, এই হৃদয়-ব্রহ্ম, ইহা সত্য—সৎ ও ত্যৎস্বরূপে অর্থাৎ সৎ মূর্ত্ত— যাহার আকৃতি আছে—পরিচ্ছন্ন, আর ত্যৎঅমূর্ত্ত—যাহার আকৃতি নাই, এই উভয় রূপেই ছিলেন। যে কেহ সেই এই মহৎ রমণীয় ও সর্ব্বাপেক্ষা প্রথমোৎপন্ন এই মূর্ত্তামূর্ত্ত ব্রহ্মকে জানে, সেই ব্যক্তি এই সমস্ত জগৎ জয় করে(বশীভূত করে) এবং তাহার বিজিত শত্রুর অভাব ঘটে। সত্যই ব্রহ্ম; মহৎ যক্ষ ও প্রথমজ এই সত্য ব্রহ্মকে জানে; ইহা পূর্ব্ব কথারই পুনরুল্লেখমাত্র ॥ ৩৪০ ॥ ১ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ে চতুর্থ ব্রাহ্মণব্যাখ্যা ॥ ৫ ॥ ৪ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তস্যৈব হৃদয়াখ্যস্য ব্রহ্মণঃ সত্যমিত্যুপাসনং বিধিৎ- সন্নাহ,—‘তদ্বৈ’ ইতি। তদিতি হৃদয়ব্রহ্ম পরামৃষ্টম্; বৈ ইতি স্মরণার্থম্। তদ্ হৃদয়ং ব্রহ্ম স্মর্য্যতে ইত্যেকস্তচ্ছন্দঃ; তদেতদুচ্যতে প্রকারান্তরেণেতি দ্বিতীয়- স্তচ্ছন্দঃ। কিং পুনস্তৎ প্রকারান্তরম্? এতদেব তদিতি এতচ্ছন্দেন সংবধ্যতে তৃতীয়ঃ তচ্ছন্দঃ; এতদিতি বক্ষ্যমাণং বুদ্ধৌ সন্নিধীকৃত্য আহ—আস বভূব। কিং পুনরেতদেব আস? যদুক্তং হৃদয়ং ব্রহ্মেতি, তৎ-ইতি তৃতীয়স্তচ্ছন্দো বিনিযুক্তঃ। কিং তদিতি বিশেষতো নিৰ্দ্দিশতি;—সত্যমেব, সচ্চ তাচ্চ মূর্ত্তঞ্চামূর্ত্তঞ্চ সত্যং ব্রহ্ম, পঞ্চভূতাত্মকমিত্যেতৎ।
স যঃ কশ্চিৎ সত্যাত্মানমেতং মহৎ মহত্ত্বাৎ, যক্ষং পূজ্যম্, প্রথমজং প্রথম- জাতম্, সর্ব্বস্মাৎ সংসারিণঃ এতদেবাগ্রে জাতং ব্রহ্ম, অতঃ প্রথমজম্; বেদ বিজানাতি সত্যং ব্রহ্মেতি; তস্যেদং ফলমুচ্যতে—যথা সত্যেন ব্রহ্মণঃ ইমে লোকা আত্মসাৎকৃতাঃ জিতাঃ, এবং, সত্যাত্মানং ব্রহ্ম মহদ্বক্ষং প্রথমজং বেদ, স জয়তীমান্ লোকান্। কিঞ্চ, জিতো বশীকৃতঃ, ইন্নু ইখং—যথা ব্রহ্মণা অসৌ শত্রুরিতি বাক্যশেষঃ। অসচ্চ অসদ্ভবেৎ—অসৌ শত্রুঃ জিতো ভবেদিত্যর্থঃ। কস্যৈতৎ ফলমিতি পুননিগময়তি—য এবমেতন্মহদ্বক্ষং প্রথমজং বেদ সত্যং ব্রহ্মেতি। অতো বিদ্যানুরূপং ফলং যুক্তম্; সত্যং হোব যস্মাদ ব্রহ্ম ॥ ৩৪০ ॥ ১ ॥
পঞ্চমঃ অধ্যায়ঃ চতুর্থঃ অধ্যায়ঃ ॥ ৫ ॥ ৪ ॥
টীকা। ব্রাহ্মণান্তরমুখাপ্যাক্সরাণি ব্যাচষ্টে-তস্যেত্যাদিনা। সত্যশব্দার্থং সত্যজ্ঞানাদি- বাক্যোপাত্তং ব্যাবর্তয়তি-সচ্চেতি। সর্বাত্মত্বন্য চতুর্থে প্রস্তুতত্বং সূচয়তি-মূর্ত্তং চেতি। বেদনমনুদ্য ফলোক্তিমবতারয়তি-স য ইতি। প্রথমজত্বং প্রকটয়তি-সব্বম্মাদিতি। স যঃ কশ্চিন্বেদেতি সংবন্ধঃ। কৈমুতিকসিদ্ধং ফলান্তরমাহ-কিংচেতি। বশীকৃতস্য শত্রোঃ স্বরূপেণ সত্ত্বং বারয়তি-অসচ্চেতি। স যো হৈতমিত্যাদিনা য এবমেতদিত্যাদেরেকার্থত্বাৎ পুনরুক্তি- রিত্যাশঙ্ক্যাহ-কস্যৈতদিতি। কথমস্য বিজ্ঞানস্থেদং ফলমিত্যাশঙ্ক্যাহ-অত ইতি। পঞ্চমী- পরামৃষ্টং স্পষ্টয়তি-সত্যং হীতি ॥ ৩৪০ ॥ ১ ॥
ইতি কৃষ্ণদাসদেবক। পনিবংশীয়ং প্রথমঃ খণ্ডঃ চতুর্থঃ খণ্ডঃ। ৫। ৪।
ভাষ্যানুবাদ।—সেই হৃদয়াখ্য ব্রহ্মেরই সত্যরূপে উপাসনা বিধানার্থ বলিতেছেন—‘তদ্বৈ’ ইত্যাদি। ‘তৎ’ শব্দে পূর্ব্বোক্ত হৃদয়-ব্রহ্মের উল্লেখ করা হইয়াছে। ‘বৈ’ কথাটী স্মরণার্থক। একটা ‘তৎ’পদের অর্থ—সেই যে হৃদয়াখ্য ব্রহ্ম স্মৃতিগোচর হইতেছেন; দ্বিতীয় ‘তৎ’পদে তাহারই যে, প্রকারান্তরে উপাসনা, তাহা প্রকাশ করা হইতেছে। উপাসনার সেই প্রকারন্তরটা কি?[ বলা
হইতেছে—] ইহাই সেই ব্রহ্ম; এই ‘এতৎ’ শব্দের সহিত তৃতীয় ‘তৎ’ পদের সম্বন্ধ হইয়াছে; এখানে, পরে যাহা বলা হইবে, বুদ্ধিস্থ তাহাই এতৎ পদের অর্থ। প্রথমে তাহাই ছিল। তাহাই কি? না, যাহা ‘হৃদয়-ব্রহ্ম’ বলিয়া উক্ত হইয়াছে; তাহার সহিত এইরূপে তৃতীয় ‘তৎ’পদের সম্বন্ধ করিতে হইবে। সেই তৎপদার্থটী বিশেষভাবে নির্দেশ করিয়া বলিতেছেন; উহা ‘সত্যই’—‘সং’ ও ‘ত্যৎ’[ সং+ত্যৎ=সত্যম্] অর্থাৎ সত্য ব্রহ্ম মূর্ত্ত ও অমূর্ত্তাত্মক—মূর্ত্তামূর্ত্ত পঞ্চভূতাত্মক।
মহত্ত্বের হেতু বলিয়া মহৎ, যক্ষ-পূজনীয় ও প্রথমজ-যেহেতু সমস্ত সংসারী জীবের জন্মের অগ্রে এই ব্রহ্মের প্রাদুর্ভাব, সেই হেতু ইনি প্রথমজ। যে কেহ এই সত্যরূপী প্রথমজকে জানে-সতা ব্রহ্মরূপে অবগত হয়, তাহার সম্বন্ধে এইরূপ ফল কথিত হইতেছে-সত্যব্রহ্মকর্তৃক যেরূপ এই সমস্ত লোক(জগৎ) জিত-নিজের অধীনকৃত রহিয়াছে, সেইরূপ, যে ব্যক্তি এই সত্যাত্মক মহৎ যক্ষ প্রথমজাত ব্রহ্মকে জানে, সে ব্যক্তিও সেই সমুদয় লোককে জয় করে। আরও এক কথা, বশীকৃত উহা অসং হইয়া যায়, অর্থাৎ সমস্ত শত্রু বিজিত হয়। এই ফল কাহার হয়? এই আকাঙ্ক্ষা, নিবৃত্তির জন্য উক্ত কথারই পুনর্ব্বার হেতুসহকারে নির্দেশ করিয়া বলিতেছেন-যে ব্যক্তি এই প্রথমজ মহৎ যক্ষ সত্য ব্রহ্মকে জানে,[তাহার এই- রূপ ফল হয়]। যেহেতু ব্রহ্ম সত্যস্বরূপ, সেইহেতু তদ্বিষয়ক জ্ঞানের অনুরূপ ফল হওয়াই যুক্তিযুক্ত ॥ ৩৪০ ॥ ১ ॥
পঞ্চম্যাধ্যায় চতুর্থ অধ্যায়ং ভাষ্যানুবাদ ॥ ৫ ॥ ৪ ॥
আপ এবেদমগ্র আসুস্তা আপঃ সত্যমসৃজন্ত, সত্যং ব্রহ্ম; ব্রহ্ম প্রজাপতিম্, প্রজাপতির্দেবাস্তে দেবাঃ সত্যমেবো- পাসতে। তদেতৎ এ্যক্ষরং সত্যমিতি; স ইত্যেকমক্ষরম্, তীত্যেকমক্ষরম্, যমিত্যেকমক্ষরম্। প্রথমোত্তমে অক্ষরে সত্যম্, মধ্যতোহনৃতম্, তদেতদনৃতমুভয়তঃ সত্যেন পরিগৃহীতং সত্যভূয়মেব ভবতি, নৈনং বিদ্বাৎসমনৃতং হিনস্তি ॥ ৩৪১ ॥ ১ ॥
সরলার্থঃ।—[ইদানীং সত্যস্য ব্রহ্মণঃ স্তত্যর্থমিদমভিবীয়তে—‘আপঃ’ ইত্যাদি।] অগ্রে(সৃষ্টেঃ প্রাক্) ইদং(জগৎ) আপঃ(জলানি—কর্মসম্বন্ধিন্য আহুতয়ঃ) এব আসুঃ(উৎপত্তেঃ, পূর্ব্বং জগদিদম্ আহুতিবাষ্পরূপেণ আসীদ্ ইতি ভাবঃ)। তাঃ(আহূতিরূপা আপঃ) সত্যং(হিরণ্যগর্ভং) অসৃজন্ত(সৃষ্টবত্যঃ);
তৎ সত্যং(হিরণ্যগর্ভঃ) ব্রহ্ম(বৃহত্ত্বাৎ ব্রহ্মপদবাচ্যম্); তথা ব্রহ্ম প্রজাপতিম্ (বিরাজং)[অসৃজত]; প্রজাপতিং দেবান্[অসৃজত]। তে দেবাঃ সত্যম্ এব (কারণভূতং হিরণ্যগর্ভম্ এব) উপাসতে। তৎ এতৎ(‘সত্য’ পদং) এ্যক্ষরং— সত্যম্—ইতি। স-ইতি একম্ অক্ষরম্, ‘তি’ ইতি একম্ অক্ষরম্, ‘যম্’ ইতি একমক্ষরম্।[তত্র] প্রথমোত্তমে(প্রথম-তৃতীয়ে সকার-যকাররূপে) অক্ষরে সত্যম্(বিকারাত্মক-মৃত্যোরভাবাৎ সত্যরূপে), মধ্যতঃ(মধ্যস্থিতং ‘তি’ অক্ষরং) অনৃতং(অসত্যং—বিকারাত্মক-মৃত্যুগ্রস্তত্বাৎ)। তৎ এতৎ অনৃতং (মধ্যমম্ অক্ষরং) উভয়তঃ(অগ্রে পশ্চাৎ চ) সত্যেন(‘স’কার-‘য’কাররূপেণ) পরিগৃহীতং(বেষ্টিতম্)।[এবং বিদ্বান্] সত্যভূয়ঃ(সত্যবহুলঃ) এব ভবতি; এবং বিদ্বাংসং(ঈদৃশজ্ঞানসম্পন্নং জনম্) অনৃতং(অসত্যং) নৈব হিনস্তি (পাপিষ্ঠং করোতি ইত্যর্থঃ) ॥ ৩৪১ ॥১॥
মূলানুবাদ?—উৎপত্তির পূর্ব্বে এই জগৎ জলরূপে অর্থাৎ বাষ্পাকারে পরিণত যজ্ঞাহুতিরূপে বিদ্যমান ছিল। সেই জল হিরণ্য- গর্ভনামক সত্যের সৃষ্টি করিল; সেই সত্যই মহত্ত্বনিবন্ধন ব্রহ্ম; সেই ব্রহ্ম আবার প্রজাপতি বিরাটপুরুষকে সৃষ্টি করিলেন; সেই প্রজাপতি আবার দেবতাগণকে সৃষ্টি করিলেন। সেই দেবতাগণ সত্যেরই (হিরণ্যগর্ভেরই) উপাসনা করিয়া থাকেন। সেই এই ‘সত্য’ শব্দটী ত্র্যক্ষর(তিনটী অক্ষরযুক্ত), তন্মধ্যে ‘স’ একটী অক্ষর, ‘তি’ একটী অক্ষর এবং ‘য’ একটী অক্ষর। ইহাদের মধ্যে প্রথম ও শেষ অক্ষর দুইটী সত্য;[কারণ, উহাদের কোনপ্রকার বিকার ঘটে না]; আর মধ্যের ‘তি’ অক্ষরটী অনৃত(অসত্য); সেই এই অসত্য ‘তি’ অক্ষরটী উভয় পার্শ্বে সত্যস্বরূপ ‘স’ ও ‘য’ অক্ষরে পরিবেষ্টিত হইয়া আছে। এইরূপ নাম-রহস্যজ্ঞ ব্যক্তি সত্যবহুল হন, কদাপি মিথ্যা দ্বারা অভিভূত হন না ॥ ৩৪১ ॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—সত্যস্য ব্রহ্মণঃ স্তুত্যর্থমিদমাহ। মহদ্যক্ষং প্রথমজ- মিত্যুক্তম্; তৎ কথং প্রথমজত্বমিত্যুচ্যতে—আপ এবেদমগ্র আসুঃ। আপ ইতি কর্মসমবায়িন্যোহগ্নিহোত্রাদ্যাহুতরঃ। অগ্নিহোত্রাদ্যাহুতেদ্রবাত্মকত্বাৎ অপ্তুম্। তাশ্চাপঃ অগ্নিহোত্রাদিকৰ্ম্মাপবর্গোত্তরকালং কেনচিদদৃষ্টেন সূক্ষ্মেণাত্মনা কৰ্ম্ম- সমবায়িত্বমপরিত্যজন্ত্য ইতরভূতসহিতা এব, ন কেবলাঃ, কৰ্ম্মসমবায়িত্বাতু প্রাধান্য
মপাম্—ইতি সর্ব্বাণ্যের ভূতানি প্রাগুৎপত্তেরব্যাক্বতাবস্থানি কর্তৃসহিতানি নিদ্দিশ্যন্তে আপ ইতি। তা আপো বীজভূতা জগতোহব্যাক্বতাত্মনাবস্থিতাঃ; তা এবেদং সর্ব্বং নামরূপবিকৃতং জগদ্ অগ্রে আসুঃ, নান্যৎ কিঞ্চিদ্বিকারজাত- মাসীৎ। ১
টাকা। ইদমা ব্রাহ্মণং গৃহ্যতে। তস্যাবান্তরসংগতিমাহ-মহদিতি। আহুতীনামেব কর্মসমবায়িত্বং, ন ত্বপামিত্যাশঙ্ক্যাহ-অগ্নিহোত্রাদীতি। যদ্যপ্যাপঃ সোমাদ্যা হুয়মানাঃ কর্মসমবায়িন্যস্তথাপ্যুত্তরকালে কথং তাসাং তথাত্বং-কর্মণোহস্থায়িত্বাদিত্যাশঙ্ক্যাহ- তাশ্চেতি। কর্মসমবায়িত্বমপরিত্যজন্ত্যস্তৎসংবন্ধিত্বেনাপঃ প্রথমং প্রবৃত্তাঃ তন্নাশোত্তরকালং সুক্ষ্মেণাদৃষ্টেনাত্মনা অবতিষ্ঠন্তে ইতি যোজনা। আপ ইতি বিশেষণং ভূতান্তরব্যাসেধার্থমিতি মতিং বারয়তি-ইতরেতি। কথং তহি তাসামের শ্রুতাবুপাদানং, তদাহ-কর্মেতি। ইতি তাসামেবাভ্র গ্রহণমিতি শেষঃ। বিবক্ষিতপদার্থং নিগময়তি-সর্বাণ্যেবেতি। ১
তাঃ পুনরাপঃ সত্যমসূজন্ত; তস্মাৎ সত্যং ব্রহ্ম প্রথমজম্। তদেতদ্ হিরণ্য- গর্ভস্য সূত্রাত্মনে: জন্ম, যদব্যাকৃতস্য জগতো ব্যাকরণম্, তৎ সত্যং ব্রহ্ম; কুতঃ? মহত্ত্বাৎ; কথং মহত্বন্? ইত্যাহ—যস্মাৎ সর্ব্বস্থ্য স্রষ্টু। কথম্? যৎ সত্যং ব্রহ্ম, তৎ প্রজাপতি, প্রজানাং পতিং বিরাজং সূর্য্যাদিকরণম্ অসৃজতেত্যনুষঙ্গঃ। প্রজা- পতিঃ দেবান্, স বিরাট্ প্রজাপতিঃ দেবান্ অসৃজত। যস্মাৎ সর্ব্বমেবক্রমেণ সত্যাদ্ ব্রহ্মণে, জাতম্, তস্মান্মহৎ সত্যং ব্রহ্ম। কথং পুনর্যক্ষমিতি? উচ্যতে—তে এবং সৃষ্টা দেবাঃ পিতরমপি বিরাজমতীত্য তদেব সত্যং ব্রহ্ম উপাসতে; অত- এতৎ প্রথমজং মহদ্বক্ষম্; তস্মাৎ সর্ব্বাত্মনোপাস্যং তৎ। ২
পদার্থমুক্তমনুদ্য বাক্যার্থমাহ—তা ইতি। যাস্তা যথোক্তা আপস্তা এবেতি যচ্ছব্দানুবন্ধেন যোজনা। সত্যং জ্ঞানমনস্তং ব্রহ্মেতি শ্রুতং সত্যং কথং ভূতান্তরসহিতাভ্যোহস্ত্যো জায়তে? তত্রাহ—তদেতদিতি। তস্য ব্রহ্মত্বং প্রশ্নপূর্ব্বকং বিশদয়তি—তৎ সত্যমিতি। ‘সত্যস্য ব্রহ্মণো মহত্ত্বং প্রশ্নদ্বারা সাধয়তি—কথমিত্যাদিনা। তস্য সর্ব্বস্রষ্টৃত্বং প্রশ্নদ্বারেণ স্পষ্টয়তি—কথমিতি। বৃহত্বমুপসংহরতি—যস্মাদিতি। বিশেষণত্রয়ে সিদ্ধে ফলিতমাহ—তস্মাদিতি। ২
তন্যাপি সত্যস্য ব্রহ্মণো নাম-সত্যমিতি; তদেতৎ এ্যক্ষরম্। কানি তান্য- ক্ষরাণি? ইত্যাহ-স ইত্যেকমক্ষরম্, তীত্যেকমক্ষরম্, তীতি ইকারানুবন্ধো নির্দেশার্থঃ; যমিত্যেকমক্ষরম্। তত্র তেষাং প্রথমোত্তমে অক্ষরে সকারযকারৌ সত্যম্, মৃত্যুরূপাভাবাৎ। মধ্যতঃ মধ্যে অনূতম্, অনৃতং হি মৃত্যুঃ; মৃত্যূনৃতয়ো- স্তকারসামান্যাৎ। তদেতদনৃতং মৃত্যুরূপমুভয়তঃ সত্যেন সকার-যকারলক্ষণেন পরিগৃহীতং ব্যাপ্তমন্তর্ভাবিতং সত্যরূপাভ্যাম্; অতোহকিঞ্চিৎকরম্ তৎ; সত্য- ভূয়মের সত্যবাহুল্যমের ভবতি। এবং সত্যবাহুল্যং সর্ব্বস্য মৃত্যোরনৃতস্যাকিঞ্চিৎ-
করত্বং চ যো বিদ্বান্, তমেবং বিদ্বাংসম্ অনৃতং কদাচিৎ প্রমাদোত্থং ন হিনস্তি ॥ ৩৪১ ॥ ১ ॥
তস্যাপীত্যপিশব্দো হৃদয়ব্রহ্মদৃষ্টান্তার্থঃ। বুদ্ধিপূর্বকমনৃতং বিদুষোহপি বাধকমিত্যভিপ্রেত্য বিশিনষ্টি—প্রমাদোক্তমিতি। ৩৪১। ১॥
ভাষ্যানুবাদ।—পূর্ব্বোক্ত সত্যব্রহ্মের স্তুতির জন্য এই বাক্য কথিত হইতেছে। পূর্ব্বে সত্য ব্রহ্মকে মহৎ যক্ষ ও প্রথমজ বলা হইয়াছে; তাহার প্রথমজত্ব হয় কিরূপে, এখন তাহা কথিত হইতেছে—“আপ এব ইদম্ অগ্রে আসুঃ” ইতি। অপ্(জল) অর্থ এখানে অগ্নিহোত্রপ্রভৃতি কর্মসম্পর্কিত আহুতি- সমূহ। অগ্নিহোত্রাদি যজ্ঞের আহুতিসমূহ সাধারণতঃ দ্রবাত্মক—জলীয় দ্রব্য- প্রধান; এইজন্য এই আহুতিসমূহে অপধর্ম বিদ্যমান আছে। যজ্ঞাদি কার্য্য- স্থলে দ্রব-দ্রব্যের বাহুল্য নিবন্ধন জলের প্রাধান্য; সেই কারণে উৎপত্তির পূর্ব্বে অনভিব্যক্ত অবস্থায় অবস্থিত জীবসহকৃত সমস্ত ভূতই এখানে ‘আপঃ’ বলিয়া নির্দিষ্ট হইতেছে। সেই জলসমূহ অগ্নিহোত্রাদি কর্মপরিসমাপ্তির পর, কোনও এক অনির্বচনীয় অদৃষ্ট সূক্ষ্মরূপে—কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ না করিয়াই অপরাপর ভূতগণের সহিত সম্মিলিত হইয়া থাকে। নাম ও রূপাকারে অভিব্যক্ত এই জগৎ উৎপত্তির পূর্ব্বে অব্যক্তরূপে অবস্থিত বীজস্বরূপ সেই অপরূপেই ছিল, অর্থাৎ উৎপত্তির পূর্ব্বে নামরূপাভিব্যক্ত এই স্থূল জগৎ ছিল না; ইহারই বীজস্বরূপ সূক্ষ্ম অপ্ বা আহুতি মাত্র ছিল, তদ্ভিন্ন অন্য কোনও জন্য পদার্থ বিদ্যমান ছিল না। ১
সেই অপ্সসমূহই সত্য ব্রহ্মের সৃষ্টি করিয়াছিল; এই কারণে সত্য ব্রহ্ম প্রথমজ। এই যে, অব্যাকৃত বা অনভিব্যক্ত-নামরূপাত্মক জগতের ব্যাকরণ— অভিব্যক্তিসাধন, ইহাই হিরণ্যগর্ভনামক সূত্রাত্মার জন্ম। ভাল, সেই সত্য পদার্থটাকে ব্রহ্ম বলা হয় কি কারণে? হাঁ, যেহেতু তাহা মহৎ; তাহার মহত্ত্বেরই বা প্রমাণ কি? যেহেতু তাহাই সকলের স্রষ্টা—সৃষ্টিকর্তা; কি প্রকারে? যেহেতু সেই সত্য ব্রহ্মই প্রজাপতিকে—সূর্য্যচন্দ্রাদি যাহার চক্ষুঃপ্রভৃতি ইন্দ্রিয়স্থানীয়, সেই বিরাট্পুরুষকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন। সেই প্রজাপতি অর্থাৎ সেই বিরাট্- সংজ্ঞক প্রজাপতি আবার দেবতাগণকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন। যেহেতু সত্য ব্রহ্ম হইতেই এই প্রকারে সমস্ত পদার্থ জন্মলাভ করিয়াছে, সেই হেতুই উক্ত সত্য বস্তুটা মহৎ—ব্রহ্ম। ভাল, উহা যক্ষ(পূজনীয়) কেন? তাহা বলা যাইতেছে—যেহেতু যথোক্ত পদ্ধতিক্রমে সৃষ্ট দেবগণ পিতা প্রজাপতিকেও
অতিক্রম করিয়া সেই সত্য ব্রহ্মেরই উপাসনা করেন, সেই হেতুই এই প্রথমজ মহৎ পদার্থটী যক্ষ; সেই কারণে সর্ব্বতোভাবে তাঁহারই উপাসনা করা উচিত। ২
সেই ব্রহ্মের অপর নাম হইতেছে—‘সত্যম্’। এই সত্য নামটী এ্যক্ষর অর্থাৎ তিনটা অক্ষরযুক্ত। সেই তিনটা অক্ষর কি কি? তাহা বলিতেছেন—‘স’ একটা অক্ষর, ‘তি’ একটা অক্ষর; ‘তি’র ইকার কেবল উচ্চারণার্থ; ‘য’ আর একটা অক্ষর। এই অক্ষরত্রয়ের মধ্যে প্রথম ও শেষ অক্ষরটা অর্থাৎ স ও য অক্ষর দুইটা সত্য; কারণ, উহারা মৃত্যুরহিত; মধ্যবর্তী ‘তি’ অক্ষরটা অনৃত। অনৃতই মৃত্যু; কারণ, মৃত্যু ও অনৃতের মধ্যে ‘ত’কারের সমতা রহিয়াছে। সেই এই অনৃত মৃত্যুস্বরূপ ‘তি’ অক্ষরটা সত্যস্বরূপ স ও য দ্বারা উভয়দিকে পরিগৃহীত—পরিবেষ্টিত বা কবলীকৃত রহিয়াছে; অতএব সেই ‘তি’ অক্ষরটা অকিঞ্চিৎকর, সত্যই প্রধান। যে ব্যক্তি এইরূপ সত্যের বাহুল্য এবং অনৃত মৃত্যুর অল্পত্ব বা অকিঞ্চিৎকরত্ব জানে, সেই বিদ্বানকে, সময়বিশেষে অনবধানতা নিবন্ধন প্রযুক্ত অনৃতরূপী মৃত্যু কখনও হিংসা করিতে পারে না ॥ ৩৪১ ॥ ১ ॥
তদ্যৎ তৎ সত্যমসৌ স আদিত্যো য এষ এতস্মিন্মণ্ডলে পুরুষঃ, যশ্চায়ং দক্ষিণেহক্ষন্ পুরুষস্তাবেতাবন্যোন্যস্মিন্ প্রতিষ্ঠিতৌ, রশ্মিভিরেষোহস্মিন্ প্রতিষ্ঠিতঃ, প্রাণৈরয়মমুস্মিন্। স যদোৎক্রমিষ্যন্ ভবতি শুদ্ধমেবৈতন্মণ্ডলং পশ্যতি নৈনমেতে রশ্ময়ঃ প্রত্যায়ন্তি ॥ ৩৪২ ॥ ২ ॥
সরলার্থঃ।—তৎ(পূর্ব্বোক্তম্)(যৎ ব্রহ্ম) সত্যম্; অসৌ সঃ (বক্ষ্যমাণঃ) আদিত্যঃ।[অসৌ কঃ?] য এষঃ আদিত্যমণ্ডলে পুরুষঃ, যশ্চ (যোহপি)[অধ্যাত্মং] অয়ং দক্ষিণে অক্ষন্(অক্ষিণি চক্ষুষি) পুরুষঃ; তৌ এতৌ(অক্ষ্যাদিত্যপুরুষৌ) অন্যোন্যস্মিন্(পরস্পরে প্রতিষ্ঠিতৌ, পরস্পরং সম্বন্ধৌ)।[অন্যোন্যপ্রতিষ্ঠামেবাহ—] এষঃ(আদিত্যমণ্ডলস্থঃ পুরুষঃ) রশ্মিভিঃ(কিরণৈঃ দ্বারা) অস্মিন্(অক্ষিপুরুষে)[প্রতিষ্ঠিতঃ], অয়ং(অক্ষি- পুরুষঃ চ) প্রাণৈঃ(দ্বারা) অমুস্মিন্(আদিত্যপুরুষে)[প্রতিষ্ঠিতঃ]। সঃ (অক্ষিপুরুষঃ) যদা(যস্মিন্ কালে) উৎক্রমিষ্যন্(জীবো যদা আসন্নমৃত্যুঃ) ভবতি, তদা এনং(আদিত্যপুরুষং) শুদ্ধম্(রশ্মিবিযুক্তম্) এব পশ্যতি; এতে রশ্ময়ঃ এনং(আসন্নমৃত্যুৎ পুরুষং) ন প্রত্যায়ন্তি(ন প্রাপ্নুবন্তি নোপতপস্তীতি
ভাবঃ)।[এবংবিধসূর্য্যমণ্ডল-দর্শনং হি দ্রষ্টুঃ আসন্নমৃত্যুসূচকঃ অরিষ্টবিশেষ ইতি জ্ঞেয়ম্] ॥ ৩৪২ ॥ ২॥
মূলানুবাদ।—সেই যে প্রথমজ সত্যব্রহ্ম, তাহাই এই আদিত্য, যাহা এই মণ্ডলমধ্যস্থ পুরুষ এবং যাহা এই দক্ষিণ চক্ষুর মধ্যবর্তী পুরুষ, অর্থাৎ আদিত্য-মণ্ডলাধিষ্ঠিত আধিদৈবিক পুরুষ, আর চক্ষুর মধ্যগত অধ্যাত্মপুরুষ, এই উভয় পুরুষই পরস্পর পরস্পরের আশ্রয়ে অবস্থিত—আদিত্যপুরুষ রশ্মি দ্বারা ইহার সহিত সম্বদ্ধ, আর চাক্ষুষ পুরুষ প্রাণ দ্বারা আদিত্য পুরুষের সহিত সম্বন্ধ। এই দেহস্বামী পুরুষ যে সময়ে উৎক্রমণ করিবে, অর্থাৎ আসন্নমৃত্যু হইবে, সে সময়ে সে এই আদিত্যমণ্ডলকে শুদ্ধ অর্থাৎ রশ্মিহীন দেখিতে পায়, অর্থাৎ স্বাভাবিক চক্ষে সূর্য্যকে দর্শন করিতে পারে; তখন সূর্য্যের রশ্মিসমূহ আর তাহার নিকটে আইসে না, অর্থাৎ তাহার চক্ষুর পীড়া জন্মায় না।[ এরূপ ভাবে সূর্য্যদর্শন আসন্ন মৃত্যুর সূচক —অরিষ্ট বিশেষ] ॥ ৩৪২ ॥ ২ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অস্যাধুনা সত্যস্য ব্রহ্মণঃ সংস্থানবিশেষে উপাসন- মুচ্যতে—তদ্ যং; কিং তৎ? যৎ সত্যং ব্রহ্ম প্রথমজম্; কিম্? অসৌ সঃ; কোহসৌ? আদিত্যঃ; কঃ পুনরসাবাদিত্যঃ? য এবঃ; ক এবঃ? য এতস্মিন্ আদিত্যমণ্ডলে পুরুষাভিমানী; সোহসৌ সত্যং ‘ব্রহ্ম। যশ্চায়ম্ অধ্যাত্মং দক্ষিণে অক্ষন্ অক্ষিণি পুরুষঃ; চশব্দাৎ স চ সত্যং ব্রহ্মেতি সম্বন্ধঃ। তাবেতাবাদিত্যাক্থিস্থৌ পুরুষাবেকস্য সত্যস্য ব্রহ্মণঃ সংস্থানবিশেষৌ যস্মাৎ, তস্মাদন্যোন্যস্মিন্নিতরেতরস্মিন্—আদিত্যশ্চাক্ষুষে চাক্ষুষশ্চাদিত্যে প্রতিষ্ঠিতৌ, অধ্যাত্মাধিদৈবতয়োরন্যোনোপকার্য্যোপকারকত্বাৎ। কথং প্রতিষ্ঠিতাবিতি উচ্যতে—রশ্মিভিঃ প্রকাশেন অনুগ্রহং কুর্ব্বন্ এষ আদিত্যঃ অস্মিন্ চাক্ষুষে অধ্যাত্মে প্রতিষ্ঠিতঃ; অয়ঞ্চ চাক্ষুষঃ প্রাণৈঃ আদিত্যমনুগৃহ্ণু অমুগ্নি্নাদিত্যে অধিদৈবে প্রতিষ্ঠিতঃ।
সঃ অস্মিন্ শরীরে বিজ্ঞানময়ো ভোক্তা, যদা যস্মিন্ কালে উৎক্রমিষ্যন্ ভবতি, তদা অসৌ চাক্ষুষ আদিত্যপুরুষো রশ্মীনুপসংহৃত্য কেবলেন ঔদাসীন্যেন রূপেণ ব্যবতিষ্ঠতে; তদা অয়ং বিজ্ঞানময়ঃ পশ্যতি শুদ্ধমেব কেবলং বিরশ্মি এতন্মণ্ডলং চন্দ্রমণ্ডলমিব। তদেতদরিষ্টদর্শনং ‘প্রাসঙ্গিকং প্রদর্শ্যতে, কথং
নাম পুরুষঃ করণীয়ে যত্নবান্ স্যাদিতি। ন—এনং চাক্ষুষং পুরুষমুররীকৃত্য তৎ প্রত্যনুগ্রহায় এতে রশ্ময়ঃ স্বামিকর্ত্তব্যবশাৎ, পূর্ব্বমাগচ্ছন্তোহপি পুনস্তৎকর্মক্ষয়ম্ অনুরুধ্যমানা ইব নোপযন্তি ন প্রত্যাগচ্ছন্তি এনম্। অতোহবগম্যতে পরস্পরোপ- কার্য্যোপকারকভাবাৎ সত্যস্যৈবৈকস্য আত্মনঃ অংশাবেতাবিতি ॥ ৩৪২ ॥ ২ ॥
টীকা। ব্রাহ্মণান্তরমবতার্য্য ব্যাকরোতি-অস্তেত্যাদিনা। তত্রাধিদৈবিকং স্থানবিশেষ- মুপন্যস্তুতি-তদিত্যাদিনা। সংপ্রত্যাধ্যাত্মিকং স্থানবিশেষং দর্শয়তি-যশ্চেতি। প্রদেশভেদ- বর্তিনোঃ স্থানভেদেন ভেদং শঙ্কিত্বা পরিহরতি-তাবেতাবিতি। অন্যোন্যমুপকাযোপ- কারকত্বেনান্যোন্যস্মিন্ প্রতিষ্ঠিতত্বং প্রশ্নপূর্ব্বকং প্রকটয়তি-কথমিত্যাদিনা। প্রাণৈশ্চক্ষু- রাদিভিরিন্দ্রিয়ৈরিতি যাবৎ। অনুগৃহন্নাদিত্যমণ্ডলাত্মানং প্রকাশয়নিত্যর্থঃ। প্রাসঙ্গিকমুপাসনা- প্রসঙ্গাতমিত্যর্থঃ। তৎপ্রদর্শনস্য কিং ফলমিত্যাশঙ্ক্যাহ-কথমিতি। পুরুষদ্বয়স্যান্যোন্য- মুপকায্যোপকারকত্বমুক্তং। নিগময়তি-নেত্যাদিনা। পুনঃশব্দেন মৃতেরুত্তরকালো গৃহতে। রশ্মীনামচেতনত্বাদিবশব্দঃ। পুনর্ন কারোচ্চারণমন্বয়প্রদর্শনার্থম্। ৩৪২ ॥ ২ ॥
ভাষ্যানুবাদ?—এখন উক্ত সত্যব্রহ্মের দেহাদি অংশবিশেষে উপাসনা- প্রণালী কথিত হইতেছে—সেই যাহা, তাহা কি? যাহা প্রথমজ সত্য ব্রহ্ম, তাহা কি? ইহাই তাহা, ইহা কি? না, আদিত্য; এই আদিত্য আবার কে? যাহা এই; এই—কি? যাহা এই আদিত্যমণ্ডলে স্থিত পুরুষ, অর্থাৎ আদিত্যমণ্ডলাভিমানী পুরুষ, তাহাই এই সত্য ব্রহ্ম; এবং দেহমধ্যে এই যে, দক্ষিণ চক্ষুতে অবস্থিত অভিমানী পুরুষ, চ-শব্দ থাকায় বুঝিতে হইবে যে, তাহাও সত্য ব্রহ্ম। যেহেতু আদিত্যস্থ ও অক্ষিস্থ এই পুরুষদ্বয় সেই সত্য ব্রহ্মেরই অংশবিশেষ মাত্র, সেই হেতু ইহারা পরস্পরে অর্থাৎ আদিত্য পুরুষ অক্ষি- পুরুষে, অক্ষিপুরুষ আবার আদিত্যপুরুষে প্রতিষ্ঠিত—সম্বন্ধ; কারণ, অধ্যাত্ম আর যে অধিদৈবত, ইহাদের মধ্যে পরস্পর উপকার্যোপকারকভাব বিদ্যমান রহিয়াছে। ইহারা কি প্রকারে প্রতিষ্ঠিত আছেন, তাহা কথিত হইতেছে— এই আদিত্য রশ্মিসমূহ দ্বারা অর্থাৎ প্রকাশ কার্য্য দ্বারা উপকার সাধন করত অধ্যাত্ম চাক্ষুষ পুরুষে প্রতিষ্ঠিত, এই চাক্ষুষ পুরুষও আবার প্রাণব্যাপার দ্বারা উপকার সম্পাদন করত এই আধিদৈবিক আদিত্যপুরুষে প্রতিষ্ঠিত আছেন।
এই দেহমধ্যে অবস্থিত ভোক্তা বিজ্ঞানময় আত্মা(জীব) যে সময়ে উৎ- ক্রমণ করিবে অর্থাৎ দেহত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবে, সেই সময়ে অর্থাৎ মৃত্যুর আসন্ন পূর্ব্ববর্তী সময়ে এই অক্ষিসম্বদ্ধ আদিত্যপুরুষ রশ্মিসমূহকে প্রত্যাবৃত্ত করিয়া কেবল উদাসীনভাবে—নিষ্প্রভভাবে অবস্থান করেন; সেই সময়ে এই বিজ্ঞানময় পুরুষ আদিত্যমণ্ডলকে শুদ্ধ—রশ্মিবিহীন—চন্দ্রমণ্ডলের ন্যায় অতীব্র-
ভাবাপন্ন দর্শন করে। এই অরিষ্টদর্শনের কথা এখানে প্রসঙ্গক্রমে বলা হইল। উদ্দেশ্য—সাধারণ লোক যেন ইহা দ্বারা নিজ নিজ কর্তব্য কর্ম্মে যত্নবান্ হয়(১)। উক্ত রশ্মিসমূহ পূর্ব্বে এই চাক্ষুষ পুরুষের প্রতি অনুগ্রহপ্রকাশার্থ স্বপ্রভু মণ্ডল- পুরুষের কর্তব্য সম্পাদনোদ্দেশ্যে আগমন করিত, এখন তাহার সেই কর্তব্য পরিসমাপ্ত হইয়া গিয়াছে, এইজন্যই যেন তাহারা আর ইহার দিকে আগমন করে না। অতএব এইরূপ পরস্পর উপকার্য্যোপকারকভাব হইতে বুঝা যাইতেছে যে, এই আদিত্যপুরুষ ও অক্ষিপুরুষ একই সত্য ব্রহ্মের দুইটা অংশ মাত্র ॥ ৩৪২ ॥ ২॥
য এষ এতস্মিন্মণ্ডলে পুরুষস্তস্য ভূরিতি শিরঃ, একং শিরঃ একমেতদক্ষরম্, ভুব ইতি বাহু, দ্বৌ বাহু, দ্বে এতে অক্ষরে। স্বরিতি প্রতিষ্ঠা, দ্বে প্রতিষ্ঠে, দ্বে এতে অক্ষরে। তস্যোপনিষদ- হরিতি, হন্তি পাপ্মানং জহাতি চ য এবং বেদ ॥ ৩৪৩ ॥ ৩ ॥
সরলার্থঃ।—যঃ এষঃ এতস্মিন্ মণ্ডলে(সূর্য্যমণ্ডলে) পুরুষঃ[সত্য- নামকঃ], তস্য(পুরুষস্য) ভূঃ ইতি(ব্যাহৃতাক্ষরং) শিরঃ;[যতঃ] একং শিরঃ(শিরস একত্বং প্রসিদ্ধম্), এতৎ(ভূঃ ইতি চ) একম্ অক্ষরং,[এতস্মাৎ সামান্যাৎ ভূঃ শিরঃ উচ্যতে ইত্যাশয়ঃ।] তথা ভুব ইতি বাহু;[যতঃ] দ্বৌ বাহু [ভবতঃ], এতে(ভুব-রূপে) অক্ষরে[অপি] দ্বে(দ্বিত্বসংখ্যকে),[অতঃ ‘ভুব’ ইত্যেতয়োঃ বাহুত্বম্]; তথা স্বর্-ইতি প্রতিষ্ঠা(প্রতিষ্ঠতি অনয়া ইতি প্রতিষ্ঠা পাদ উচ্যতে);[যতঃ] প্রতিষ্ঠে(পাদে) দ্বে, এতে অক্ষরে(স্ব-র্ ইত্যেবংরূপে)[অপি] দ্বে,[তস্মাৎ স্বঃপদস্য প্রতিষ্ঠাত্বম্]। তস্য সত্যপুরুষস্য (উপনিষদ্) গুহ্যং নাম—‘অহঃ’ ইতি; যঃ এবং(যথোক্তরূপাং উপনিষদং)
(১) তাৎপয্য—অরিষ্ট অর্থ নিকটবর্তী মৃত্যুর সূচক ঘটনাবলী। এরূপ কতকগুলি আকস্মিক ঘটনা উপস্থিত হয়, যাহা দ্বারা অনায়াসে বুঝিতে পারা যায় যে, অমুক ব্যক্তির মৃত্যুকাল নিকটবর্তী হইয়াছে। যেমন—“দীপনির্বাপজং গন্ধং, সুহৃদ্বাক্যমরুদ্ধতীম্। ন গৃহুস্তি ন শৃণ্বন্তি ন পশ্যন্তি গতায়ুষঃ।” অর্থাৎ যাহাদের আয়ুঃশেষ হইয়াছে, তাহারা দীপনির্বাণোত্থিত গন্ধ পায় না, বন্ধুর হিতকথা ভাল মনে করে না, অরুন্ধতী নক্ষত্র দেখিতে পায় না ইত্যাদি। সূর্য্যমণ্ডলকে প্রভাহীন—নিস্তেজ দর্শন করাও একটা অরিষ্ট; ইহা দর্শন করিলে লোকে বুঝিতে পারিবে যে, আমার মৃত্যুর আর বিলম্ব নাই। ইহা জানিলে, স্বতই লোকের ঐহিক ও পারলৌকিক আত্মহিতকর কর্ম্মে সমধিক যত্ন হইতে পারে; এইজন্য এখানে ইহার উল্লেখ করা হইয়াছে।
বেদ,[সঃ] পাপ্মানং হস্তি, জহাতি চ(ত্যজতি চ, নিষ্পাপো ভব- তীত্যর্থঃ) ॥ ৩৪৩ ॥ ৩ ॥
মূলানুবাদ।—এই যে, আদিত্যমণ্ডলস্থ পুরুষ,[ব্যাহৃতির অবয়ব] ‘ভূ’ অক্ষরটী তাহার শির; কারণ, শিরও এক, এই ‘ভূ’ অক্ষরটাও এক,[ভূ অক্ষরকে শির বলিয়া চিন্তা করিবে]। ‘ভুব’ অক্ষর দুইটা তাহার বাহুদ্বয়; কেন না, বাহুও দুইটা, ‘ভুব’ শব্দের অক্ষরও দুইটা; ‘স্বর্’ তাহার প্রতিষ্ঠা(পদদ্বয়); কারণ, পদ সাধারণতঃ দুইটা, ‘স্বর’ শব্দেতে অক্ষরও দুইটা। তাহার উপনিষদ্ বা রহস্য নাম হইতেছে—‘অহঃ’। যে ব্যক্তি এইরূপ জানে, সে ব্যক্তি সমস্ত পাপ নষ্ট করে এবং পরিত্যাগ করে, অর্থাৎ নিষ্পাপ হয় ॥ ৩৪৩ ॥ ৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তত্র যঃ,—অসৌ কঃ? য এষ এতস্মিন্ মণ্ডলে পুরুষঃ সত্যনামা; তস্য ব্যাহৃতয়ঃ অবয়বাঃ। কথম্? ভূরিতি যেয়ং ব্যাহৃতিঃ, সা তস্য শিরঃ, প্রাথম্যাৎ। তত্র সামান্যং স্বয়মেবাহ শ্রুতিঃ—একম্ একসংখ্যাযুক্তং শিরঃ, তথা এতদক্ষরমেকং ভূরিতি। ভুব ইতি বাহু, দ্বিত্বসামান্যাৎ; দ্বৌ বাহু, দ্বে এতে অক্ষরে। তথা স্বরিতি প্রতিষ্ঠা; দ্বে প্রতিষ্ঠে, দ্বে এতে অক্ষরে; প্রতিষ্ঠে পাদৌ, প্রতিষ্ঠিষ্ঠত্যাভ্যামিতি। তস্যাস্য ব্যাহৃত্যবয়বস্য সত্যস্য ব্রহ্মণ উপনিষদ্ রহস্য- মভিধানম্,—যেনাবিধানেনাভিধীয়মানং তদ্ব্রহ্ম অভিমুখীভবতি, লোকবৎ। কাসাবিত্যাহ—অহরিতি। অহরিতি চৈতদ্রূপং হন্তের্জহাতেশ্চেতি যো বেদ, স হন্তি জহাতি চ পাপ্মানং, য এবং বেদ ॥ ৩৪৩ ॥ ৩ ॥
টীকা। তত্র স্থানদ্বয়সংবন্ধিনঃ সত্যস্য ব্রহ্মণো ধ্যানে প্রস্তুতে সতীত্যর্থঃ। তত্রেতি প্রথমব্যাহৃতৌ শিরোদৃষ্ট্যারোপে বিবক্ষিতে। তস্যোপনিষদিত্যাদি ব্যাচষ্টে-তস্যেত্যাদিনা। যথা লোকে গবাদিঃ স্বেনাভিধানেনাভিধীয়মানঃ সংমুখীভবতি, তদ্বদিত্যাহ-লোকবদিতি। নামোপান্তিফলমাহ-অহরিতি চেতি। ৩৪৩।৩।
ভাষ্যানুবাদ।—সেখানে যিনি; এই যৎপদবাচ্য(যিনি) কে? না, এই যিনি এই আদিত্যমণ্ডলে অবস্থিত সত্যনামক পুরুষ। ব্যাহৃতিসমূহ(‘ভূ’, ‘ভুব’ ও ‘স্বর্’ এই অক্ষরসমূহ) তাহার অবয়ব। কি প্রকারে? এই যে ‘ভূ’ ব্যাহৃতি, তাহা তাহার শিরঃ(মস্তক); কারণ, উহা ব্যাহৃতির প্রথম অক্ষর; শ্রুতি নিজেই শিরের সহিত ‘ভূ’র সাদৃশ্য প্রদর্শন করিতেছেন—শিরঃ সাধারণতঃ
১৩৯৫
এক—একসংখ্যক, সেইরূপ এই ‘ভূ’ অক্ষরটাও এক। ‘ভুব’ তাহার বাহুদ্বয়; কারণ, উভয়েতেই দ্বিত্ব সংখ্যা সমান;—বাহু দুইটা, আর ‘ভুব’ অক্ষরও দুইটা; [ অতএব উভয়েরই সংখ্যা সমান]; সেইরূপ ‘স্বর্’ এই অক্ষর দুইটা তাহার প্রতিষ্ঠা; প্রতিষ্ঠাও দুইটা, এবং এই অক্ষরও দুইটা; প্রতিষ্ঠা অর্থ—পদদ্বয়; কারণ, এই দুইটার সাহায্যে স্থিতি লাভ করা(দাঁড়ান) হয়। ব্যাহৃতিরূপ অবয়ববিশিষ্ট সেই এই সত্যব্রহ্মের উপনিষদ বা রহস্য অভিধান(নাম), যে নামে অভিহিত হইলে ব্রহ্মও সাধারণ লোকের ন্যায় অভিধায়কের অভিমুখী হন, সেই নাম; সেই রহস্য নামটী কি? না, ‘অহঃ’। ‘অহঃ’ পদটী হিংসার্থক ‘হন্’ ধাতু ও ত্যাগার্থক ‘হা’ ধাতু হইতে নিষ্পন্ন; ইহা যিনি জানেন, তিনি পাপ ধ্বংস করেন এবং পাপ ত্যাগও করেন, অর্থাৎ নিষ্পাপ হন ॥ ৩৪৩ ॥ ৩ ॥
যোহয়ং দক্ষিণেহক্ষন্ পুরুষস্তস্য ভূরিতি শিরঃ, একং শির একমেতদক্ষরম্, ভুব ইতি বাহু, দ্বৌ বাহু দ্বে এতে অক্ষরে, স্বরিতি প্রতিষ্ঠা, দ্বে প্রতিষ্ঠে দ্বে এতে অক্ষরে। তস্যোপনিষদ- হমিতি, হন্তি পাপ্মানং জহাতি চ য এবং বেদ ॥ ৩৪৪ ॥ ৪ ॥
সরলার্থঃ।—[ আদিত্যপুরুষবং অক্ষিপুরুষস্যাপি ব্যাহৃত্যবয়বতাং দর্শ- য়তি—‘যোহয়ম্’ ইত্যাদিনা]। যঃ অরং দক্ষিণে অক্ষন্(অক্ষিণি) পুরুষঃ, তস্য ‘ভূঃ’ ইতি শিরঃ,[ যতঃ] একং শিরঃ, এতৎ অক্ষরমপি একম্; তথা ‘ভুবঃ’ ইতি বাহু;[ যতঃ] বাহু দ্বৌ, এতে অক্ষরে অপি দ্বে। তথা ‘স্বর্’ ইতি প্রতিষ্ঠা; [ যতঃ] দ্বে প্রতিষ্ঠে(পাদৌ), এতে অক্ষরে অপি দ্বে। তস্য(অক্ষিপুরুষস্য) উপনিষদ্(রহস্যং নাম)—‘অহম্’ ইতি। যঃ এবং বেদ(যথোক্তপ্রকারাং উপনিষদং জানাতি),[ সঃ] পাপ্মানং হন্তি, জহাতি(ত্যজতি) চ ॥ ৩৪৪ ॥ ৪ ॥
মূলানুবাদ?—[ আদিত্য পুরুষের ন্যায় অক্ষিপুরুষেরও ব্যাহৃতি-অবয়ব প্রদর্শন করিতেছেন—] এই যে, দক্ষিণ অক্ষিমধ্যস্থ সত্য পুরুষ, তাহার শির হইতেছে ‘ভূঃ’; কারণ, শিরও এক, এই অক্ষরটাও এক; ‘ভুব’ তাহার দুইটা বাহু; কারণ, বাহু দুইটী, আর এই অক্ষরও দুইটী; ‘স্বর’ তাহার প্রতিষ্ঠা—পদদ্বয়; কারণ, পদ সাধারণতঃ দুইটা, এই অক্ষরও দুইটা। তাহার উপনিষদ হইতেছে—‘অহম্’।
যিনি ইহা জানেন, তিনি পাপ নাশ করেন, এবং পাপ পরিত্যাগ করেন ॥ ৩৪৪ ॥ ৪ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ে পঞ্চম অধ্যায়ঃ ॥ ৫ ॥ ৫ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—এবং যোহয়ং দক্ষিণেহক্ষন্ পুরুষস্তস্য ভূরিতি শির ইত্যাদি সর্ব্বং সমানম্। তস্যোপনিষদহমিতি, প্রত্যগাত্মভূতত্বাৎ। পূর্ব্ববদ্ হন্তে- র্জহাতেশ্চেতি ॥ ৩৪৪ ॥ ৪ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ঃ পঞ্চম-ব্রাহ্মণভাগঃ ॥ ৫ ॥ ৫ ॥
টীকা। যথা মণ্ডলপুরুষস্য ব্যাহৃত্যবয়বস্য সোপনিষৎকস্যাধিদৈবতমুপাসনমুক্তং, তথাহধ্যাত্মং চাক্ষুষপুরুষস্যোক্তবিশেষণস্যোপাসনমুচ্যতে ইত্যাহ-এবমিতি। চাক্ষুষস্য পুরুষস্য কথমহমিত্যুপনিষদিষ্যতে? তত্রাহ-প্রত্যগিতি। হত্তেজহাতেশ্চাহমিত্যেতদ্রূপমিতি যো বেদ, স হস্তি পাপ্মানং জহাতি চেতি পূর্ববৎ ফলবাক্যং যোজ্যমিত্যাহ-পূর্ববদিতি। ৩৪৪॥৪॥
ইতি বৃন্দাবনে কপোতাক্ষে চণ্ডীকায়ে চ। পঞ্চমাধ্যায়ে চ পঞ্চমঃ প্রপঞ্চঃ। ৫। ৫। ৫।
ভাষ্যানুবাদ।—পূর্ব্বের ন্যায় এই যে, দক্ষিণ অক্ষিগত পুরুষ, তাহার ‘ভূ’ হইতেছে শির, ইত্যাদির ব্যাখ্যা সমস্তই পূর্ব্বশ্রুতির অনুরূপ। তাহার উপনিষদ্ ‘অহম্’; যেহেতু উহা জীবাত্মস্বরূপ। পূর্ব্বের ন্যায় ‘অহম্’ পদটাও ‘হন্’ ও ‘হা’ ধাতু হইতে নিষ্পন্ন ॥ ৩৪৪ ॥ ৪ ॥
পঞ্চম অধ্যায়ে পঞ্চমোহধ্যায় সমাপ্ত। ॥ ৫ ॥ ৫ ॥
আভাসভাষ্যম্।—উপাধীনামনেকত্বাদ্ অনেকবিশেষত্বাচ্চ তস্যৈব প্রকৃতস্য ব্রহ্মণো মনউপাধিবিশিষ্টস্যোপাসনং বিধিসমূহ—
আভাসভাষ্যানুবাদ।—ব্রহ্মের উপাধি অনেক ও অনেকপ্রকার; এই কারণে এখন মন-উপাধিবিশিষ্ট সেই ব্রহ্মের উপাসনা বিধানার্থ বলিতেছেন—
মনোময়োহয়ং পুরুষো ভাঃসত্যস্তস্মিন্নন্তহৃদয়ে যথা ব্রীহির্ব্বা যবো বা, স এষ সর্বস্যেশানঃ সর্বস্যাধিপতিঃ সর্বমিদং প্রশান্তি, যদিদং কিঞ্চ ॥ ৩৪৫ ॥ ১ ॥
ইতি ষষ্ঠং ব্রাহ্মণম্ ॥ ৫ ॥ ৬ ॥
সরলার্থঃ?—মনোময়ঃ(মনঃপ্রায়ঃ মনসি উপলভ্যমান ইত্যর্থঃ), ভাঃসত্যঃ(ভাঃ দীপ্তিঃ এব সত্যং প্রকৃতং স্বরূপং যস্য, স ভাঃসত্যঃ); অয়ং(পূর্ব্বোক্তঃ সত্যাখ্যঃ) পুরুষঃ তস্মিন্(প্রসিদ্ধে) অন্তহৃদয়ে(হৃদয়শ্য- মধ্যে) যথা ব্রীহিঃ বা, যবঃ বা,[তথা সূক্ষ্মরূপতয়া অবস্থিতঃ অস্তি]; সঃ এষঃ
(অন্তর্হৃদয়ে স্থিতোহপি পুরুষঃ) সর্ব্বস্য(বস্তুজাতস্য) ঈশানঃ, সর্ব্বস্য অধিপতিঃ (অধিষ্ঠায় অধ্যক্ষরূপেণ পাতি), ইদং সর্ব্বং(জগৎ) প্রশাস্তি(নিয়মরতি), যৎ ইদং(অনুভূয়মানং কিঞ্চ)[তৎ সর্ব্বং ইতি সম্বন্ধঃ] ॥ ৩৪৫ ॥ ১ ॥
মূলানুবাদ?—পূর্ব্বে যে সত্যব্রহ্মের কথা বলা হইয়াছে, সেই পুরুষ মনোময় অর্থাৎ মনোমধ্যে দৃষ্ট হয় বলিয়া প্রায় মনেরই মত, এবং ভাঃ—দীপ্তিই তাহার যথার্থ স্বরূপ, এই জন্য ভাঃসত্য; সেই পুরুষ ব্রীহি(হৈমন্তিক ধান্য) ও যবের ন্যায় সূক্ষ্মরূপে হৃদয়ের মধ্যে অবস্থিত আছেন। সেই এই পুরুষই আবার সকলের অধিপতি ও সকলের পালনকর্তা এবং জগতে যাহা কিছু আছে, তৎসমস্তের শাসনকর্তা ॥ ৩৪৫ ॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—মনোময়ঃ মনঃপ্রায়ঃ, মনস্যুপলভ্যমানত্বাৎ; মনসা চ উপলব্ধ ইতি মনোময়োহয়ং পুরুষঃ, ভাঃ-সত্যাঃ ভা এব সত্যৎ—সদ্ভাবঃ স্বরূপং যস্য, সোহয়ং ভাঃসত্যঃ, ভাস্বরইত্যেতং; মনসঃ সর্ব্বার্থাবভাসকত্বান্মনো- মরত্বাচ্চ অস্য ভাস্বরত্বম্। তস্মিন্ অন্তর্দয়ে হৃদয়স্যান্তঃ, তস্মিন্নিত্যেতৎ; যথা ব্রীহিব্বা যবো বা পরিমাণতঃ, এবংপরিমাণঃ, তস্মিন্নন্তহৃদয়ে যোগিভিদৃশ্যত- ইত্যর্থঃ।
স এষ সর্ব্বস্যেশানঃ সর্ব্বস্য স্বভেদজাতস্য ঈশানঃ স্বামী; স্বামিত্বেহপি সতি, কশ্চিদমাত্যাদিতন্ত্রঃ; অয়ন্তু ন তথা; কিং তর্হি? অধিপতিঃ অধিষ্ঠায় পালয়িতা; সর্বমিদং প্রশান্তি, যদিদং কিঞ্চ যৎ কিঞ্চিৎ সর্ব্বং জগৎ, তৎ সর্ব্বং প্রশান্তি। এবং মনোময়স্যোপাসনাৎ তথারূপাপত্তিরেব ফলম্; “তং যথা যথোপাসতে, তদেব ভবতি” ইতি ব্রাহ্মণম্ ॥ ৩৪৫ ॥ ১ ॥
টীকা। ব্রাহ্মণান্তরমুখাপয়তি-উপাধীনামিতি। অনেকবিশেষণত্বাচ্চ প্রত্যেকং তেষামিতি শেষঃ। তৎপ্রায়ত্বে হেতুমাহ-মনসীতি। প্রকারান্তরেণ তৎপ্রায়ত্বমাহ-মনসা চেতি। ভস্য ভাস্বররূপত্বং সাধয়তি-মনস ইতি। তস্য ধ্যানার্থং স্থানং দর্শয়তি-তস্মিন্নিতি। ঔপাধিকমিদং পরিমাণং, স্বাভাবিকং ত্বানন্ত্যমিত্যভিপ্রেত্যাহ-স এষ ইতি। যদুত্তৎ সর্ব্বন্যেশান ইতি, তন্নিগময়তি-সর্ব্বমিতি। যথান্তত্র তথাত্রাফলশ্রুতেরফলমিদমুপাসনমকার্য্যমিতি চেন্নেত্যাহ- এবমিতি। ৩৪৫।১।
ইতি কৃষ্ণদাসদেবপণ্ডিতের ভাষ্যমতে, পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে। ৫। ৬।
ভাষ্যানুবাদ?—মনোময় অর্থ মনঃপ্রায়ঃ অর্থাৎ এই পুরুষকে মনো- মধ্যেই উপলব্ধি করিতে হয়, এবং মনের দ্বারাই উপলব্ধি করা হয়, এই কারণে এই পুরুষ মনোময় অর্থাৎ একপ্রকার মনেরই মত; এবং ভাঃসত্য, অর্থাৎ ভা দীপ্তিই তাহার সত্য—সদ্ভাব—যথার্থ স্বরূপ, এই জন্য তিনি ভাঃসত্য অর্থাৎ তিনি ভাস্বর বা সমুজ্জ্বল; যোগিগণ এই পুরুষকে অন্তহৃদয়ে অর্থাৎ হৃদয়ের অভ্যন্তরে—ব্রীহি কিংবা যব যেমন[সূক্ষ্ম], সেই পরিমাণ সূক্ষ্মাকার দর্শন করিয়া থাকেন।
সেই পুরুষই আবার সকলের অর্থাৎ আপনারই বিবর্তরূপ বিভিন্ন পদার্থ- নিচয়ের ঈশান অর্থাৎ স্বামী বা প্রভু। স্বামী হইয়াও কেহ কেহ মন্ত্রিপ্রভৃতির অধীন থাকেন, কিন্তু এই পুরুষ কখনই সেরূপ নহে; তবে কি প্রকার? না, তিনি অধিপতি, স্বয়ংই অধ্যক্ষরূপে পালন করেন; জগতে যাহা কিছু আছে অর্থাৎ সমস্ত জগৎই তিনি সম্যরূপে শাসন করেন। মনোময় পুরুষের এবংবিধ উপাসনা হইতে তদনুরূপ ফলই সিদ্ধ হইয়া থাকে; কারণ, অন্য ব্রাহ্মণোপনিষদে কথিত আছে যে, ‘তাঁহাকে যে ভাবে যে ভাবে উপাসনা করে, উপাসক সেই সেই ভাবেই ফল প্রাপ্ত হয়’ ইতি ॥ ৩৪৫ ॥ ১ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ে ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ সমাপ্তঃ ॥ ৫ ॥ ৬ ॥
বিদ্যুব্রহ্মেত্যাহুঃ, বিদানাদ্বিদ্যুৎ, বিদ্যত্যেনং পাপ্মনো য এবং বেদ বিদ্যুদ্ ব্রহ্মেতি বিদ্যুদ্ধ্যেব ব্রহ্ম ॥৩৪৬৷৷১৷৷
ইতি সপ্তমং ব্রাহ্মণম্ ॥ ৫ ॥ ৭ ॥
সরলার্থঃ।—[তস্যৈব সত্যব্রহ্মণঃ প্রকারান্তরেণোপাসনমুচ্যতে—‘বিদ্যু- ব্রহ্ম’ ইত্যদিনা]। বিদ্যুৎ(তড়িৎ)[এব] ব্রহ্ম—ইতি আহুঃ(কপয়ন্তি) [কেচিৎ ইতি শেষঃ]।(কথং বিদ্যুৎ ব্রহ্ম? ইত্যাহ—) বিদানাৎ(মেঘান্ধকারস্থ্য খণ্ডনাৎ বিদারণাৎ) বিদ্যুৎ। যঃ এবং বিদ্যুদ্ব্রহ্ম-ইত্যেবং বেদ,[সঃ] এনং (আত্মানং)[প্রতি, প্রতিকূলভূতান্] পাপ্যানঃ(পাপানি) বিদ্যতি(অবখণ্ডয়তি নাশয়তীত্যর্থঃ)।[কুত এবং ফলম্?] হি(যতঃ) বিদ্যুদ্ এব(নিশ্চয়ে) ব্রহ্ম; [উপাসনানুরূপং ফলং হি যুক্তমিত্যাশয়ঃ]॥ ৩৪৬॥ ১॥
মূলানুবাদ।—[ সেই সত্য-ব্রহ্মেরই অন্য প্রকারে উপাসনা কথিত হইতেছে—] বিদ্যুৎই ব্রহ্ম, কেহ কেহ এইরূপ বলিয়া থাকেন, অর্থাৎ কেহ কেহ ব্রহ্মকে বিদ্যুৎ-গুণযোগে উপাসনা করিয়া থাকেন।
যেহেতু মেঘান্ধকারের ন্যায় পাপান্ধকার খণ্ডন করিয়া—অপনীত করিয়া আবির্ভূত হয়, সেই হেতু ব্রহ্মকে বিদ্যুৎ বলিয়া জানেন। তিনি আত্ম- লাভের প্রতিকূল যে সমুদয় পাপ আছে, সে সমুদয় পাপ খণ্ডন করেন। যেহেতু বিদ্যুৎই ব্রহ্ম,(সেই হেতু ঐরূপ ফললাভ সমুচিতই হয়) ॥ ৩৪৬ ॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তথৈবোপাসনান্তরং সত্যস্য ব্রহ্মণো বিশিষ্টফলমার- ভ্যতে—বিদ্যদ্বহ্মেত্যাহুঃ। বিদ্যতো ব্রহ্মণো নির্ব্বচনমুচ্যতে—বিদানাদবখণ্ডনাৎ তমসঃ, মেঘান্ধকারং বিদার্য্য হি অবভাসতে বিদ্যুৎ, এবংগুণং বিদ্যুৎব্রহ্মেতি যো বেদ, অসৌ বিদ্যতি অবখণ্ডয়তি বিনাশয়তি পাপ্মনঃ; এনমাত্মানং প্রতি প্রতি- কূলভূতাঃ পাপ্সানো যে, তান্ সর্ব্বান্ পাপ্সনোহবখণ্ডয়তীত্যর্থঃ। য এবং বেদ বিদ্যদ্বহ্মেতি, তস্যানুরূপং ফলম্, বিদ্যুৎ হি যস্মাদ্ ব্রহ্ম ॥ ৩৪৬ ॥ ১ ॥
টাকা। ব্রাহ্মণান্তরমুদ্ভাব্য বিভজতে-তথৈবেত্যাদিনা। তমসো বিদানাদ্বিদ্যুদিতি সংবন্ধঃ। তদেব স্ফুটয়তি-মেঘেতি। উক্তমেব ফলং প্রকটয়তি-এনমিতি। ৩৪৬। ১।
ইতি কৃষ্ণায় নমোঽপি কৃষ্ণায় নমোঽপি কৃষ্ণায় নমোঽপি। ৫। ৭।
ভাষ্যানুবাদ।—পূর্ব্বের ন্যায় পুনশ্চ সত্য-ব্রহ্মের বিশিষ্ট ফলজনক অন্যপ্রকার উপাসনা বলিতেছেন—“বিদ্যুৎ-ব্রহ্ম ইত্যাহুঃ” ইত্যাদি। কিরূপ অর্থ- যোগে বিদ্যুৎকে ব্রহ্ম বলা হইল, তাহা বলিতেছেন, বিদ্যুৎ যেহেতু অন্ধকারের অবখণ্ডন বা বিদারণ করে, বাস্তবিকই মেঘান্ধকার বিদীর্ণ করিয়া বিদ্যুৎ প্রকাশ পাইয়া থাকে; এই কারণে তাহার নাম বিদ্যুৎ। যে ব্যক্তি এবংবিধ গুণযুক্ত বিদ্যুৎ-ব্রহ্ম জানেন, তিনিও পাপসমূহ বিদীর্ণ করেন, অর্থাৎ বিনষ্ট করেন, এবং এই আত্মার সম্বন্ধে প্রতিকূলভূত যে সমুদয় পাপ, সেই সমস্ত—অবখণ্ডন করেন, পাপ নিবারণ করেন(বিনষ্ট করেন)। যেহেতু বিদ্যুৎই ব্রহ্ম, সেই হেতু, যে লোক বিদ্যুৎব্রহ্ম জানে, তাহার এইরূপে যে পাপ খণ্ডন করা, তাহা(উপাসনার) অনুরূপ ফলই বটে ॥ ৩৪৬ ॥ ১ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ে পঞ্চম ব্রাহ্মণের ভাষ্যানুসারে ॥ ৫ ॥ ৭ ॥
বাচং ধেনুমুপাসীত, তস্যাশ্চত্বারঃ স্তনাঃ, স্বাহাকারো বষট্- কারো হন্তকারঃ স্বধাকারঃ, তস্যৈ দ্বৌ স্তনৌ দেবা উপজীবন্তি
স্বাহাহাকারং চ বষট্কারঞ্চ, হন্তকারং মনুষ্যাঃ, স্বধাকারং পিতরঃ, তস্যাঃ প্রাণ ঋষভঃ, মনো বৎসঃ ॥ ৩৪৭ ॥ ১ ॥
সরলার্থঃ।—পুনরপি তথৈব সত্য-ব্রহ্মণ উপাসনান্তরমুচ্যতে—‘বাচং ধেনুম্’ ইত্যাদিনা। বাচং(বাঙ্ময়ং বেদং) ধেনুং(ধেনুমিব সর্ব্বার্থদাং মত্বা) উপাসীত; তস্যাঃ(বাগ্রূপায়াঃ ধেনোঃ) চত্বারঃ স্তনাঃ(স্তনা ইব আজ্যরূপ- পয়ঃক্ষরণাৎ)—স্বাহাকারঃ, বষট্কারঃ, হন্তকারঃ, স্বধাকারঃ[চ]। তস্যৈ(তস্যাঃ) দ্বৌ স্তনৌ—স্বাহাকারং চ বষট্কারং চ দেবা উপজীবন্তি(উপভঞ্জতে), হন্ত- কারং মনুষ্যাঃ, স্বধাকারং চ পিতরঃ[উপজীবন্তি]। প্রাণঃ তস্যাঃ(বাগ্ধেনোঃ) ঋষভঃ(বৃষভস্থানীয়ঃ, প্রাণসহযোগেনৈব বাচঃ ফলপ্রসবাৎ), মনঃ বৎসঃ(বৎস- স্থানীয়ং, যতঃ মনঃসংযোগেনৈব বাচঃ রসস্রাবো ভবতি, তস্মাৎ মনঃ বৎস- ইত্যর্থঃ) ॥ ৩৪৭ ॥ ১ ॥
মূলানুবাদ।—বাক্যকে ধেনুরূপে উপাসনা করিবে। সেই বাক্যরূপা ধেনুর স্বাহাকার, বষট্কার, হন্তকার ও স্বধাকারনামক চারিটী স্তন আছে; তন্মধ্যে স্বাহাকার ও বষট্কারনামক স্তন দুইটী দেবগণ উপভোগ করেন, এবং হন্তকার স্তনটা মনুষ্যগণ ও স্বধাকার স্তনটা পিতৃগণ উপভোগ করিয়া থাকেন। প্রাণ তাহার বৃষস্থানীয় এবং মন তাহার বৎসস্বরূপ;(কারণ, প্রাণের সাহায্যেই বাক্য প্রকাশে যোগ্যতা লাভ করে, এবং মনের সহযোগেই বক্তব্য বিষয় প্রকাশ করিয়া থাকে) ॥ ৩৪৭ ॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—পুনরুপাসনান্তরং তস্যৈব ব্রহ্মণঃ,—বাগ্বৈ ব্রহ্মেতি। বাগিতি শব্দঃ ত্রয়ী; তাং বাচং ধেনুম্, ধেনুরিব ধেনুঃ, যথা ধেনুশ্চতুর্ভিস্তনৈঃ স্তন্যং পয়ঃ ক্ষরতি বৎসায়, এবং বাগ্ধেনুর্ব্বক্ষ্যমাণৈঃ স্তনৈঃ পয় ইবান্নং ক্ষরতি দেবাদিভ্যঃ। কে পুনস্তে স্তনাঃ? কে বা তে, যেভ্যঃ ক্ষরতি? তস্যা এতস্যা বাচো ধেন্বা দ্বৌ স্তনৌ দেবা উপজীবন্তি বৎসস্থানীয়াঃ। কৌ তৌ? স্বাহাকারং চ বষট্কারঞ্চ; আভ্যাং হি হবির্দীয়তে দেবেভ্যঃ। হস্তকারং মনুষ্যাঃ; হন্তেতি মনুষ্যেভ্যোহন্নং প্রযচ্ছন্তি। স্বধাকারং পিতরঃ; স্বধাকারেণ হি পিতৃভ্যঃ স্বধাং প্রযচ্ছন্তি। তস্যা ধেন্বা বাচঃ প্রাণ ঋষভঃ, প্রাণেন হি বাক্ প্রসূয়তে। মনো বৎসঃ; মনসা হি প্রস্রাব্যতে, মনসা হি আলোচিতে বিষয়ে বাক্
প্রবর্ত্ততে; তস্মাৎ মনঃ বৎসস্থানীয়ম্। এবং বাঘেনূপাসকঃ তাদ্ভাব্যমেব প্রতি- পদ্যতে ॥ ৩৪৭ ॥ ১ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়শ্চৈবং ব্রাহ্মণম্ ॥ ৫ ॥ ৮ ॥
টীকা। ব্রাহ্মণান্তরমবতারয়তি-পুনরিতি। তাং ধেনুমুপাসীতেতি সংবন্ধঃ। বাচো ধেষ্বাশ্চ সাদৃশ্যং বিশদয়তি-যথেত্যাদিনা। স্তনচতুষ্টয়ং ভোভৃত্রয়ং চ প্রশ্নপূর্ব্বকং প্রকটয়তি- কে পুনরিত্যাদিনা। কথং দেবা যথোক্তৌ স্তনাবুপজীবন্তি? তত্রাহ-আভ্যাং হীতি। হস্ত যদ্যপেক্ষিতমিত্যর্থঃ। স্বধামন্নম্। প্রস্রাব্যতে প্রশ্রুতা ক্ষরণোদ্যতা ক্রিয়তে। মনসা হীত্যাদি- নোক্তং বিবৃণোভি-মনসেতি। ফলাশ্রবণাদেতদুপাসনমকিঞ্চিৎকরমিত্যাশঙ্ক্যাহ-এবমিতি। তাত্তাব্যং যথোক্ত-বাগুপাধিকব্রহ্মরূপত্বমিত্যর্থঃ ॥ ৩৪৭ ॥ ১ ॥
ইতি বৃন্দাবনে কোশলনিবাসে চ। পঞ্চমাধ্যায়ঃ সমাপ্তঃ। ৫। ৮।
ভাষ্যানুবাদ।—“বাগ্ বৈ ব্রহ্ম” ইত্যাদি বাক্যে সেই সত্য ব্রহ্মেরই অন্যপ্রকার উপাসনা কথিত হইতেছে। বাক্ অর্থ—শব্দ—অর্থাৎ শব্দময় বেদ; সেই বেদকে ধেনুরূপে উপাসনা করিবে। এখানে ‘ধেনু’ অর্থ ধেনুর মত; ধেনু যেমন চারিটী স্তন দ্বারা বৎসের উদ্দেশে স্তন্য(দুগ্ধ) ক্ষরণ করিয়া থাকে, তেমনি এই বাক্যরূপ ধেনুও বক্ষ্যমাণ চারিটী স্তন দ্বারা দেবতা প্রভৃতির উদ্দেশে দুগ্ধের মত অন্ন(ভোগ্য বস্তু) ক্ষরণ করে। এই বাগ্ধেনুর সেই চারিটী স্তন কি কি? এবং যাহাদের নিমিত্ত ক্ষরণ করে—অন্ন প্রদান করে, তাহারাই বা কাহারা?[উত্তর—] সেই বাক্যরূপ ধেনুর দুইটা স্তন বৎসস্থানীয় দেবগণ উপভোগ করিয়া থাকেন; সেই দুইটা স্তন কি কি? না, স্বাহা ও বষট্কার; কেননা, এই স্বাহা ও বষট্শব্দ- যোগেই দেবতাগণের উদ্দেশে হব্য(ঘৃত প্রভৃতি দ্রব্য) প্রদত্ত হইয়া থাকে। মনুষ্যগণ হস্তকারনামক স্তনটা(উপজীব্য করিয়া থাকে); কেননা, ‘হন্ত’-শব্দ উচ্চারণপূর্ব্বক মনুষ্যগণকে অন্ন প্রদান করা হইয়া থাকে। পিতৃগণ স্বধানামক স্তনটা[ভোগ করিয়া থাকেন]; কেননা, পিতৃগণের উদ্দেশে যাহা দিতে হয়, তাহা স্বধা শব্দ দ্বারাই প্রদত্ত হয়। সেই বাকৃপা ধেনুর ঋষভ(বৃষস্থানীয়) হইতেছে প্রাণ; কারণ, বাক্য যাহা প্রসব করে—অর্থ প্রকাশ করে, প্রাণের সাহায্যেই[তাহা প্রকাশ করিয়া থাকে]। মন তাহার বৎসস্থানীয়; কেননা, মনের সাহায্যেই তাহার স্রাব(ভাবপ্রকাশন) হইয়া থাকে; কারণ, মনে মনে আলোচিত বিষয়েই বাক্যের প্রবৃত্তি হইয়া থাকে; এই কারণে মন তাহার বৎসস্থানীয়। এইরূপে বাগ্-ধেনুর উপাসক ব্যক্তি উপাস্যের স্বভাবই প্রাপ্ত হন ॥ ৩৪৭৷৷ ১ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ে অষ্টম ব্রাহ্মণের ভাষ্যঅনুবাদ ॥ ৫ ॥ ৮ ॥
অয়মগ্নির্বৈশ্বানরো যোহয়মন্তঃপুরুষে, যেনেদমন্নং পচ্যতে যদিদমদ্যতে, তস্যৈষ ঘোষো ভবতি, ‘ঘমেতৎ কর্ণাবপিধায় শূণোতি, স যদোৎক্রমিষ্যন্ ভবতি, নৈনং ঘোষণ্ শূণোতি ॥ ৩৪৮ ॥ ১ ॥
সক্সলার্থঃ।—[অত্রাপি উপাসনান্তরং বিধিৎসন্ আহ—‘অয়মগ্নিঃ’ ইত্যাদি]। অয়ম্ অগ্নিঃ বৈশ্বানরঃ;[অয়ং কঃ? ইত্যাহ—] যঃ অয়ৎ পুরুষে অন্তঃ(পুরুষস্য অন্তর্ব্বর্তী—জাঠরঃ অগ্নিঃ), যেন(জাঠরেণ অগ্নিনা) ইদং অম্লং পচ্যতে;[কিং নাম তদন্নম্?] যৎ ইদং(অন্নং) পুরুষেণ অদ্যতে(ভক্ষ্যতে),[তৎ]। তস্য (বৈশ্বানরস্য) এষঃ ঘোষঃ(ধ্বনিঃ) ভবতি;[কোহসৌ ঘোষঃ?][জনঃ] কর্ণে অপিধায়(আচ্ছাদ্য) যং(ঘোষং) এতৎ(যথা স্যাৎ তথা) শূণোতি,[এষ এব স ঘোষঃ]। সঃ(পুরুষঃ) যদা উৎক্রমিষ্যন্(মুমুর্ষুঃ) ভবতি,[তদা] এবং ঘোষং ন শূণোতি;[অরিষ্টবিশেষোহয়মিতি ভাবঃ]॥ ৩৪৮॥ ১॥
মূলানুবাদ।—এখন অন্য প্রকারে উপাসনা কথিত হই- তেছে—এই অগ্নি হইতেছে বৈশ্বানর, যাহা এই পুরুষের অভ্যন্তরে [দেহমধ্যে] অবস্থিত এবং যাহা দ্বারা এই অন্ন—যাহা পুরুষ ভক্ষণ করে, সেই অন্ন পরিপাক প্রাপ্ত হইয়া থাকে। সেই বৈশ্বানর জঠরাগ্নির ইহাই ঘোষ(ধ্বনি), লোকে কর্ণদ্বয় আচ্ছাদন করিয়া যে ধ্বনি শুনিতে পায়। এই পুরুষ যে সময় আসন্নমৃত্যু হয়, তখন সেই ধ্বনি শুনিতে পায় না।(ইহা এক প্রকার অরিষ্ট বা মৃত্যুচিহ্ন) ॥ ৩৪৮ ॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অরমগ্নির্বৈশ্বানরঃ। পূর্ব্ববটপাসনান্তরম্। অয়- মগ্নির্বৈশ্বানরঃ; কোহয়মগ্নিরিত্যাহ—যোহয়মন্তঃ পুরুষে। কিং শরীরারম্ভকঃ? নেত্যুচ্যতে—যেনাগ্নিনা বৈশ্বানরাখ্যেন ইদমন্নং পচ্যতে। কিং তদন্নম্? যদিদম্ অদ্যতে ভুজ্যতে অন্নং প্রজাভিঃ, জাঠরোহগ্লিরিত্যর্থঃ। তস্য সাক্ষাদুপলক্ষণার্থ- মিদমাহ—তস্যাগ্নেরন্নং পচতো জাঠরস্য এষ ঘোষো ভবতি। কোহসৌ? যৎ ঘোষম্, এতদিতি ক্রিয়াবিশেষণম্, কর্ণাবপিধায় অঙ্গুলীভ্যামপিধানং কৃত্বা শৃণোতি; তৎ প্রজাপতিমুপাসীত বৈশ্বানরমগ্নিম্। অত্রাপি তাদ্ভাব্যং ফলম্। তত্র
প্রাসঙ্গিকমিদমরিষ্টলক্ষণমুচ্যতে—সোহত্র শরীরে ভোক্তা যদা উৎক্রমিষ্যন্ ভবতি, নৈনং ঘোষং শূণোতি ॥ ৩৪৮ ॥ ১ ॥,
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ঃ শেষঃ, অধ্যায়ঃ ॥ ৫ ॥ ৯ ॥
টীকা। ব্রাহ্মণান্তরমদ্য তস্য তাৎপর্য্যমাহ—অয়মিতি। অন্নপানস্য পক্তা। তৎসদ্ভাবে মানমাহ—তস্যেতি। ক্রিয়ায়াঃ শ্রবণস্যৈতদিতি বিশেষণং, তদযথা ভবতি তথেত্যর্থঃ। কৌক্ষে- য়াগ্যুপাধিকস্য পরস্যোপাসনে প্রস্তুতে সতীত্যাহ—তত্রেতি ॥৩৪৮৷১॥
ইতি কৃষ্ণপুরাণং সমাপ্তং। শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ। ॥ ৯ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—‘অয়ম্ অগ্নিঃ বৈশ্বানরঃ’ ইত্যাদি বাক্যও উপাসনান্তর- বিধায়ক। এই অগ্নি বৈশ্বানর; এই অগ্নি কে? তদুত্তরে বলিতেছেন, এই যাহা পুরুষের অভ্যন্তরে[অবস্থিত]। ভাল, ইহা কি তবে শরীরারম্ভক,(যাহা দ্বারা এই শরীর নির্ম্মিত হইয়াছে, সেই অগ্নি)? বলিতেছেন—না—তাহা নহে; পরন্তু বৈশ্বানরনামক যে অগ্নি দ্বারা এই অন্ন পরিপাক পাইয়া থাকে। কোন্ অন্ন? লোকে এই যাহা ভক্ষণ করে, অর্থাৎ যে অন্ন ভোজন করিয়া থাকে;(অত- এব, এই বৈশ্বানর হইতেছে) জাঠরাগ্নি। তাহার সাক্ষাৎ সম্বন্ধে প্রতীতির জন্য বলা হইতেছে যে, ভুক্তান্নের পরিপাককারী সেই জাঠরাগ্নির ইহা হইতেছে— ঘোষ—ধ্বনি; কর্ণদ্বয় আবৃত করিলে—দুই অঙ্গুলী দ্বারা আচ্ছাদন করিলে, লোকে যে ধ্বনি শুনিতে পায়, তাহাই সেই ঘোষ। সেই যে বৈশ্বানরনামক প্রজাপতি অগ্নি, তাহার উপাসনা করিবে। পূর্ব্বের ন্যায় ইহারও ফল—তদ্ভাব প্রাপ্তি। এখানে প্রসঙ্গক্রমে এইরূপ একটা অরিষ্টলক্ষণ কথিত হইতেছে যে, এই শরীরস্থিত ভোগকর্তা পুরুষ যে সময় উৎক্রমণ করিবে অর্থাৎ আসন্নমৃত্যু হইয়া থাকে, তখন সে ঐ শব্দ শুনিতে পায় না॥ ৩৪৮॥ ১॥
যদা বৈ পুরুষোহস্মাল্লোকাৎ প্রৈতি স বায়ুমাগচ্ছতি, তস্মৈ স তত্র বিজিহীতে যথা রথচক্রস্য খম্, তেন স ঊর্দ্ধ আক্রমতে, স আদিত্যমাগচ্ছতি, তস্মৈ স তত্র বিজিহীতে যথা লম্বরস্য খম্, তেন স ঊর্দ্ধ আক্রমতে, স চন্দ্রমসমাগচ্ছতি, তস্মৈ স তত্র বিজিহীতে যথা দুন্দুভেঃ খম্, তেন স ঊর্দ্ধ আক্রমতে, স লোক- মাগচ্ছত্যশোকমহিমম্, তস্মিন্ বসতি শাশ্বতীঃ সমাঃ ॥৩৪৯৷১৷ ইতি দশমং ব্রাহ্মণম্ ॥৫৷১০৷৷
সরলার্থঃ।—[ইদানীং সর্ব্বেষামেবোপাসনানাং গতিপ্রকারঃ ফলং উচ্যতে—‘যদা বৈ’ ইত্যাদিনা।] পুরুষঃ(উপাসকঃ) যদা বৈ অস্মাৎ লোকাৎ প্রৈতি(প্রয়াতি—দেহং ত্যক্তা গচ্ছতি),[তদা] সঃ(প্রয়াতা পুরুষঃ)[প্রথমং] বায়ুং(বায়ুমণ্ডলং) আগচ্ছতি(প্রাপ্নোতি); সঃ বায়ুঃ তস্মৈ(উপাসকায়) তত্র(স্বশরীরে) যথা রথচক্রস্য খং(ছিদ্রং, তথা) বিজিহীতে(ছিদ্রং— গমনদ্বারং করোতি)। সঃ(পুরুষঃ) তেন(ছিদ্রেণ) উর্দ্ধঃ সন্ আক্রমতে (গচ্ছতি), সঃ(ঊর্দ্ধগামী পুরুষঃ) আদিত্যম্ আগচ্ছতি; সঃ(আদিত্যঃ) তস্মৈ যথা লম্বরস্য(বাদ্যযন্ত্রবিশেষস্য) খং(ছিদ্রং),[তথা] বিজিহীতে; সঃ তেন ঊর্দ্ধঃ সন্ আক্রমতে, সঃ চন্দ্রমসম্(চন্দ্রম্) আগচ্ছতি;(সঃ চন্দ্রঃ) তস্মৈ (পুরুষায়) তত্র(দেশে) যথা দুন্দুভেঃ(পটহস্য) খং(ছিদ্রং),[তথা] বিজিহীতে(ছিদ্রং করোতি); সঃ(উপাসকঃ) তেন(ছিদ্রপথেন) ঊর্দ্ধ আক্রমতে(গচ্ছতি);[ততশ্চ] সঃ(ঊর্দ্ধগামী পুরুষঃ) অশোকম্(মানসেন দুঃখেন বর্জিতম্), অহিমং(হিমরহিতং শারীরদুঃখরহিতং চ) লোকং(প্রজাপতি- লোকম্) আগচ্ছতি; তস্মিন্(প্রজাপতিলোকে) শাশ্বতীঃ সমাঃ(বৎসরান্ ব্যাপ্য) বসতি(তিষ্ঠতি) ॥৩৪৯৷৷১৷৷
মূলানুবাদ:-উপাসক পুরুষ যখন ইহলোক হইতে প্রস্থান করে-দেহ ত্যাগ করিতে উদ্যত হয়, তখন প্রথমে বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত হয়; বায়ু তাহার জন্য স্বদেহে রথচক্রের ছিদ্রের ন্যায় একটা সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ করিয়া দেন; উপস্থিত পুরুষ সেই ছিদ্রপথে ঊর্দ্ধে গমন করেন; তিনি যাইয়া আদিত্যমণ্ডলে উপস্থিত হন; আদিত্য তাহার জন্য স্বশরীরে লম্বরনামক বাদ্যযন্ত্রের ছিদ্রের ন্যায় একটী সূক্ষম ছিদ্রপথ করিয়া দেন; সেই পুরুষ তাহার সাহায্যে পুনশ্চ ঊর্দ্ধে গমন করেন; এবং তিনি চন্দ্রমণ্ডলে যাইয়া উপস্থিত হন; চন্দ্রও সেখানে তাহার নিমিত্ত দুন্দুভি বাদ্যের ছিদ্রের ন্যায় একটা সূক্ষম ছিদ্রপথ প্রস্তুত করিয়া দেন; উপাসক তাহা দ্বারা ঊর্দ্ধে গমন করেন; তিনি ক্রমে শোক ও হিমবর্জিত অর্থাৎ মানসিক ও শারীরিক দুঃখরহিত লোকে-ব্রহ্মলোকে গমন করেন, এবং সেখানে বহু কল্পকাল বাস করিয়া থাকেন ॥ ৩৪৯ ॥ ১ ॥
পঞ্চমোহধ্যায়ঃ পঞ্চম অধ্যায়ঃ ॥ ৫ ॥ ১০ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—সর্ব্বেষামস্মিন্ প্রকরণে উপাসনানাৎ গতিরিয়ম্ ফলঞ্চোচ্যতে—যদা বৈ পুরুষঃ বিদ্বান্ অস্মাৎ লোকাৎ প্রৈতি শরীরং পরি- ত্যজতি, স তদা বায়ুমাগচ্ছতি, অন্তরিক্ষে তির্য্যভূতো বায়ুঃ স্তিমিতঃ অভেদ্য- স্তিষ্ঠতি; স বায়ুঃ তত্র স্বাত্মনি তস্মৈ সম্প্রাপ্তায় বিজিহীতে স্বাত্মাবয়বান্ বিগময়তি, ছিদ্রীকরোত্যাত্মানমিত্যর্থঃ। কিংপরিমাণং ছিদ্রম্—ইত্যুচ্যতে, যথা রথচক্রস্য খং ছিদ্রং প্রসিদ্ধ-পরিমাণম্; তেন ছিদ্রেণ স বিদ্বান্ ঊর্দ্ধঃ আক্রমণে ঊর্দ্ধঃ সন্ গচ্ছতি; স আদিত্যমাগচ্ছতি। আদিত্যঃ ব্রহ্মলোকং জিগমিষোর্ম্মার্গ- নিরোধং কৃত্বা স্থিতঃ, সোহপ্যেবংবিদে উপাসকায় দ্বারং প্রযচ্ছতি; তস্মৈ স তত্র বিজিহীতে; যথা লম্বরস্য খং বাদিত্রবিশেষস্য ছিদ্রপরিমাণম্, তেন স ঊর্দ্ধ আক্র- মতে, স চন্দ্রমসমাগচ্ছতি। সোহপি তস্মৈ তত্র বিজিহীতে; যথা দুন্দুভেঃ খং প্রসিদ্ধম্; স তেন ঊর্দ্ধ আক্রমতে। স লোকং প্রজাপতিলোকম্ আগচ্ছতি। কিংবিশিষ্টম্? অশোকং মানসেন দুঃখেন বিবর্জ্জিতমিত্যেতৎ; অহিমং হিম- বর্জ্জিতং শারীরদুঃখবর্জ্জিতমিত্যর্থঃ। তং প্রাপ্য তস্মিন্ বসতি শাশ্বতীঃ নিত্যাঃ সমাঃ সংবৎসরানিত্যর্থঃ; ব্রহ্মণো বহুন্ কল্পান্ বসতীত্যেতৎ ॥ ৩৪৯ ॥ ১ ॥
পঞ্চম্যাধ্যায়ঃ। দশমঃ অধ্যায়ঃ॥ ৫ ॥ ১০ ॥
টীকা। ব্রাহ্মণান্তরস্য তাৎপর্য্যমাহ—সর্ব্বেষামিতি। ফলং চাশ্রুতফলানামিতি শেষঃ। কিমিতি বিদ্বান্ বায়ুমাগচ্ছতি, তমুপেক্ষ্যৈব ব্রহ্মলোকং কুতো ন গচ্ছতীত্যাশঙ্ক্যাহ—অন্তরিক্ষ ইতি। আদিত্যং প্রত্যাগমনে হেতুমাহ—আদিত্য ইতি। উক্তেহর্থে বাক্যং পাতয়তি—তস্মা ইতি। বহুন্ কল্পানিত্যবান্তরকল্লোক্তিঃ॥ ৩৪৯ ॥ ১ ॥
ইতি বৃন্দাবনে কোপনিবাসে চণ্ডীকাণ্ডে দশমঃ স্কন্ধে ॥৫॥
ভাষ্যানুবাদ।—এই প্রকরণে সাধারণতঃ সমস্ত উপাসনারই গতি- প্রণালী ও ফল বলা হইতেছে,—যে সময় বিদ্বান্ পুরুষ(উপাসক) বর্তমান লোক হইতে প্রস্থান করেন, অর্থাৎ শরীর পরিত্যাগ করিয়া চলিয়া যান, সে সময় তিনি প্রথমে বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত হন; নভোমণ্ডলে যে বক্রভাবাপন্ন বায়ু স্তিমিত(স্থির) ও অভেদ্যভাবে অবস্থিত আছে, সেই বায়ু সেই পুরুষের জন্য সেখানে—স্বশরীরে অবয়বগুলি বিশ্লেষণ করে অর্থাৎ দেহাবয়বগুলিকে বিশ্লিষ্ট করিয়া আপনার মধ্যেই একটা ছিদ্র উৎপাদন করে; সেই ছিদ্রটা কত বড়, তাহা বলা হইতেছে—রথচক্রের ছিদ্রের পরিমাণ যত বড় প্রসিদ্ধ, ঠিক সেই পরিমাণে বড়। সেই ছিদ্রপথে উপস্থিত বিদ্বান্ উদ্ধাভিমুখী হইয়া গমন করেন, তিনি আদিত্যমণ্ডলে উপস্থিত হন। আদিত্যও ব্রহ্মলোকে গমনেচ্ছু
সেই পুরুষের গমন-পথ অবরুদ্ধ করিয়া রহিয়াছেন; এই কারণে তিনিও এই বিদ্বান্ উপাসকের জন্য প্রবেশের দ্বার(পথ) প্রদান করেন; তিনিও সেই উপাসকের জন্য লম্বরনামক বাদ্যযন্ত্রের ছিদ্রের ন্যায় একটা সূক্ষ্ম ছিদ্র করিয়া দেন; উপাসক সেই ছিদ্রপথে উর্দ্ধে যাইতে থাকেন; তিনি ক্রমে চন্দ্রলোকে উপস্থিত হন। সেই চন্দ্রও আবার সেখানে তাহার জন্য দুন্দুভিনামক বাদ্যযন্ত্রের —ঢাকের ছিদ্রের ন্যায় একটী ছিদ্রপথ করিয়া দেন; তিনি সেই ছিদ্রপথে উর্দ্ধে গমন করেন; তিনি যাইয়া প্রজাপতি-লোকে(ব্রহ্মলোকে) উপস্থিত হন। সেই প্রজাপতি-লোকের বিশেষত্ব কি? না, উহা অশোক—মানসিক দুঃখবর্জিত, এবং অহিম—হিমশূন্য অর্থাৎ শারীরিক দুঃখরহিত; উপাসক সেই লোকে উপ- স্থিত হইয়া শাশ্বত সংবৎসরকাল বাস করেন, অর্থাৎ ব্রহ্মার বহু কল্পপর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন ॥ ৩৪৯ ॥ ১ ॥
এতদ্বৈ পরমং তপো যদ্ ব্যাহিতস্তপ্যতে, পরমং হৈব লোকং জয়তি য এবং বেদ, এতদ্বৈ পরমং তপো যং প্রেতমরণ্যং হরন্তি, পরমং হৈব লোকং জয়তি য এবং বেদ, এতদ্বৈ পরমং তপো যং প্রেতমগ্নাবভ্যাদধতি, পরমং হৈব লোকং জয়তি য এবং বেদ ॥৩৫০॥১৷৷
সরলার্থঃ।—এতৎ বৈ পরমং(উৎকৃষ্টং) তপঃ, যৎ ব্যাহিতঃ(ব্যাধিতঃ পীড়িতঃ সন্) তপ্যতে(তাপং অনুভবতি); এতৎ পরমং তপ ইতি চিন্তয়ে- দিত্যাশয়ঃ। যঃ এবং বেদ,[সঃ] পরমম্ এব লোকং জয়তি হ। এতৎ বৈ পরমং তপঃ, যৎ প্রেতম্ অরণ্যং হরন্তি(অন্ত্যেষ্টিকৰ্ম্মণে অরণ্যং নয়ন্তি); যঃ এবং বেদ,[সঃ] পরমম্ এব লোকং জয়তি হ। তথা এতৎ বৈ পরমং তপঃ, যৎ প্রেতম্ অগ্নৌ অভ্যাদধতি(আরোপয়ন্তি); যঃ এবং বেদ,[সঃ] পরমম্ এব লোকং জয়তি হ॥ ৩৫০ ॥ ১ ॥
মূলানুবাদঃ—ইহাই একটা ‘পরম তপস্যা যে, লোকে ব্যাধিগ্রস্ত হইয়া সন্তাপ ভোগ করে। যিনি এইরূপ জানেন, তিনি উৎকৃষ্ট লোকই জয় করেন(প্রাপ্ত হন)। ইহাই একটা পরম
১৪০৭
তপস্যা যে, লোকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য প্রেতকে(মৃতব্যক্তিকে) অরণ্যে লইয়া যায়। যিনি ইহা জানেন, তিনি নিশ্চয়ই উৎকৃষ্ট লোক লাভ করেন। ইহাই আর একটা পরম তপস্যা যে, লোকে প্রেতব্যক্তিকে অগ্নিতে স্থাপন করে; যিনি ইহা জানেন, তিনি অবশ্যই পরম লোক লাভ করেন ॥ ৩৫০ ॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—এতদ্বৈ পরমং তপঃ। কিং তৎ? যদ্ ব্যাহিতঃ ব্যাধিতঃ জ্বরাদিপরিগৃহীতঃ সন্ যৎ তপ্যতে, তদেতৎ পরমং তপইত্যেবং চিন্তয়েৎ, দুঃখসামান্যাৎ। তস্যৈবং চিন্তয়তো বিদুষঃ কর্মক্ষয়হেতুঃ তদেব তপো ভবতি অনিন্দতঃ অবিষীদতঃ। স এব চ তেন বিজ্ঞান-তপসা দগ্ধকিল্বিষঃ পরমং হৈব লোকং জয়তি, য এবং বেদ। তথা মুমুর্ষুঃ আদাবেব কল্পয়তি; কিম্? এতদ্বৈ পরমং তপঃ, বং প্রেতং মাং গ্রামাদরণ্যং হরন্তি ঋত্বিজঃ অন্ত্যকৰ্ম্মণে; তদ্গ্রামা- দরণ্যগমনসামান্যাৎ পরমং মম তৎ তপো ভবিষ্যতি; গ্রামাদরণ্যগমনং পরমং তপ ইতি হি প্রসিদ্ধম্। পরমং হৈব লোকং জয়তি, য এবং বেদ। তথা এতদ্বৈ পরমং তপঃ, যং প্রেতম্ অগ্নাবভ্যাদধতি, অগ্নিপ্রবেশসামান্যাৎ। পরমং হৈব লোকং জয়তি, য এব বেদ ॥ ৩৫০ ॥ ১ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ৈকাদশ-ব্রাহ্মণভোজ্যম্ ॥৫॥ ১১॥
টীকা। ব্রহ্মোপাসনপ্রসঙ্গেন ফলবদব্রহ্মোপাসনমুপন্যস্যতি-এতদিতি। যদ্যাহিত ইতি প্রতীকমাদার ব্যাচষ্টে-জরাদীতি। কৰ্ম্মক্ষয়হেতুরিত্যত্র কৰ্ম্মশব্দেন পাপমুচ্যতে। পরমং হৈব লোকমিত্যত্র তপসোহনুকূলং ফলং লোকশব্দার্থঃ। অস্তু গ্রামাদরণ্যগমনং, তথাপি কথং তপস্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-গ্রামাদিতি ॥ ৩৫০॥১॥
ইতি বৃন্দাবনে কোশলীয়াকায়ঃ পঞ্চম্যাধ্যায়ঃ। কথমাহুঃ। ৫। ১১।
ভাষ্যানুবাদ?—ইহাই উৎকৃষ্ট তপস্যা। সেই তপস্যাটা কি? না, ব্যাহিত—ব্যাধিত অর্থাৎ লোক যে জ্বরাদিরোগগ্রস্ত হইয়া তাপ ভোগ করে; সেই এই সন্তাপকে তপস্যা বলিয়া চিন্তা করিবে; কারণ, রোগযাতনা ও তপস্যা, উভয়েতেই দুঃখ বা ক্লেশভোগ সমান। এইরূপ চিন্তাশীল বিদ্বান্ পুরুষ যদি রোগ-ভোগের নিন্দা না করে এবং বিষণ্ণ না হয়, তাহা হইলে, ঐরূপ সন্তাপই তাহার কর্ম্মক্ষয়ের নিদানভূত তপস্যাস্বরূপ হইয়া থাকে। সেই ব্যক্তিই ঐরূপ জ্ঞানময় তপস্যা প্রভাবে পাপরাশি দগ্ধ করিয়া উত্তম লোক(স্বর্গাদি স্থান) জয় করেন অর্থাৎ নিজে প্রাপ্ত হন। সেইরূপ, মুমুর্ষু পুরুষ প্রথমেই মনোমধ্যে কল্পনা করিয়া থাকেন; কিরূপ? না, ইহাই পরম তপস্যা হইবে যে, ঋত্বিকগণ আমাকে
মৃতাবস্থায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার(দাহের) জন্য গ্রাম হইতে অরণ্যে লইয়া যাইবে। ‘সেই যে, আমার গ্রাম হইতে অরণ্যে গমন, তাহাই আমার পরম তপস্যা হইবে; কেন না, উভয়স্থলেই অরণ্যে গমন তুল্য। গ্রাম হইতে যে, অরণ্যে গমন অর্থাৎ বানপ্রস্থ্য অবলম্বন, তাহা পরম তপস্যা বলিয়া জগতে প্রসিদ্ধ। যিনি এইরূপ জানেন, তিনি পরম লোকই লাভ করেন। সেইরূপ ইহাও আর একটা পরম তপস্যা;[তাহা কি?] প্রেত ব্যক্তিকে যে, অগ্নিতে স্থাপন করিয়া থাকে, ইহাও একটা পরম তপস্যা; কারণ, উভয়েতেই অগ্নিপ্রবেশের সাম্য রহিয়াছে। যিনি এই প্রকার জানেন, তিনি নিশ্চয়ই পরম লোক লাভ করিয়া থাকেন ॥৩৫০৷৷১৷৷
অন্নং ব্রহ্মেত্যেক আহুস্তন্ন তথা, পূয়তি বা অন্নমৃতে প্রাণাৎ, প্রাণো ব্রহ্মেত্যেক আহুস্তন্ন তথা, শুষ্যতি বৈ প্রাণ ঋতেহন্নাৎ, এতে হ ত্বেব দেবতে একধাভূয়ং ভূত্বা পরমতাং গচ্ছতঃ, তদ্ধ স্মাহ প্রাতৃদঃ পিতরং কিস্বিদেবৈবং বিদুষে সাধু কুৰ্য্যাম্, কিমেবাস্মা অসাধু কুর্য্যামিতি। স হ স্মাহ পাণিনা, মা প্রাতৃদ, কত্ত্বেনয়োরেকধাভূয়ং ভূত্বা পরমতাং গচ্ছতীতি, তস্মা উ হৈতদুবাচ বীতি, অন্নং বৈ বি, অন্নে হীমানি সর্ব্বাণি ভূতানি বিষ্টানি; রমিতি, প্রাণো বৈ রম্, প্রাণে হীমানি সর্ব্বাণি ভূতানি রমন্তে। সর্ব্বাণি হ বা অস্মিন্ ভূতানি বিশন্তি, সর্ব্বাণি ভূতানি রমন্তে য এবং বেদ ॥৩৫১৷৷১৷৷
সরলার্থঃ।—[পুনশ্চ উপাসনান্তরমাহ—অন্নমিত্যাদি।] একে আহুঃ— অন্নং ব্রহ্মেতি;[অন্নমত্র ভক্ষ্যমাত্রমুচ্যতে]; তৎ তথা ন(অন্নং ব্রহ্মেতি যৎ আহুঃ, তৎ ন সঙ্গতমিত্যর্থঃ); বৈ(যতঃ), প্রাণাৎ ঋতে(প্রাণং বিনা) অন্নং (ভক্ষ্যং, অন্নপরিণামঃ দেহো বা) পূয়তি(পূতিভাবং প্রাপ্নোতি)।[অতঃ] প্রাণঃ ব্রহ্ম-ইতি একে আহুঃ, তৎ তথা ন(প্রাণঃ ব্রহ্ম ইত্যেবমপি নৈব গ্রহণীয়ম্); বৈ(যতঃ) অন্নাদ্ ঋতে(অন্নং বিনা) প্রাণঃ শুষ্যতি(দেহাৎ নির্গচ্ছতীতি ভাবঃ); এতে এব(নিশ্চয়ে) তু(পুনঃ) দেবতে(অন্ন-প্রাণরূপে) একধাভূয়ং ভূত্বা(একার্থপরে ভূত্বা) পরমতাং(শ্রেষ্ঠতাং) গচ্ছতঃ। প্রাতৃদঃ(তন্নামকঃ কশ্চিৎ) তৎ(যথোক্তং তত্ত্বং) পিতরম্ আহ স্ম—এবং
১৪০৯
বিদুষে(প্রাণান্নয়োঃ সম্ভূয়কারিত্বং জানতে) কিং স্বিৎ(বিতর্কে) সাধু(হিতং কৰ্ম্ম) কুৰ্য্যাম্, কিম্ অস্মৈ(বিদুষে), অসাধু এব কুর্য্যাম্?(কৃতকৃত্যতয়া তস্য সাধ্বসাধু-কর্মাপেক্ষা নাস্তীতি ভাবঃ) ইতি। সঃ(পিতা) হ পাণিনা [বারয়ন্] আহ স্ম[পুত্রম্],-হে প্রাতৃদ, মা[এবং ন ক্রহি]; কঃ তু(পুনঃ) এনয়োঃ(অন্ন-প্রাণয়োঃ) একধাভূয়ং ভূত্বা(তদ্বিদিত্বা) পরমতাং(ব্রহ্মভাবং) গচ্ছতি?(ন কোহপীতি ভাবঃ) ইতি। তস্মৈ(প্রাতৃদায়) এতৎ(বক্ষ্যমাণং বচনং) উবাচ হ-বি-ইতি; অন্নং বৈ বি; হি(যস্মাৎ) ইমানি সর্ব্বাণি ভূতানি (চরাচরাত্মকানি) অন্নে বিষ্টানি(প্রবিষ্টানি-আশ্রিতানীত্যর্থঃ);[অতঃ অন্নং বীতি বিজানীয়াৎ]; তথা রম্-ইতি[উবাচ]। প্রাণঃ বৈ রম্; হি(যতঃ) ইমানি সর্ব্বাণি ভূতানি প্রাণে রমন্তে(প্রাণমাশ্রিত্য রমন্তে, অন্যথা বিবীদন্তীতি ভাবঃ)। যঃ এবং(যথোক্তগুণং প্রাণান্নভাবং) বেদ, সর্ব্বাণি ভূতানি বৈ অস্মিন্(বিদুষি) বিশন্তি, তথা সর্ব্বাণি ভূতানি রমন্তে চ[ইতি বিজ্ঞানফল- মেতৎ] ॥ ৩৫১ ॥ ১ ॥
মূলানুবাদ?—কেহ কেহ বলেন—অন্ন—ভক্ষ্যবস্তুই ব্রহ্ম; অপর আচার্য্যগণ বলেন—না, এরূপ হইতে পারে না—অন্নকে ব্রহ্ম- বুদ্ধিতে গ্রহণ করা উচিত নহে; কারণ, প্রাণ ব্যতিরেকে অন্নমাত্রই পূতিভাব প্রাপ্ত হয়(পচিয়া যায়); অতএব প্রাণই ব্রহ্ম। বস্তুতঃ এ কথাও এইরূপে গ্রহণ করা উচিত হয় না; কারণ, অন্নের অভাবে প্রাণও শুষ্ক হইয়া যায়, অর্থাৎ প্রাণও বহির্গত হইয়া যায়; পরন্তু এই উভয় দেবতাই(অন্ন ও প্রাণই) একত্রিত হইয়া পরমত্ব—ব্রহ্মভাব লাভ করিয়া থাকে।
প্রাতৃদনামক ঋষি তাঁহার পিতাকে এই কথা জিজ্ঞাসা করিয়া- ছিলেন যে, যে ব্যক্তি এই প্রকারে অন্ন ও প্রাণের সহবৃত্তিতামূলক ব্রহ্মভাব অবগত হন;[তিনি নিশ্চয়ই কৃতার্থ হন]; অতএব তাহার উদ্দেশে কেনই বা অসাধু কৰ্ম্ম করিব, অথবা তাহার উদ্দেশে কিসের জন্যই বা সাধু কৰ্ম্ম করিব? একথা শুনিয়া তাঁহার পিতা হস্ত দ্বারা বারণপূর্ব্বক পুত্রকে বলিয়াছিলেন—না—এরূপ বলিও না; এই প্রাণ ও অন্নের যথোক্তপ্রকার একধাভাব প্রাপ্ত হইয়া কোন ব্যক্তি
পরমত্ব লাভ করিয়াছে? অর্থাৎ কেহই নহে। অনন্তর তিনি ‘বি’ শব্দ উচ্চারণ করিয়া প্রাতৃদকে বলিলেন—অন্ন হইতেছে বি; কেননা, চরাচর এই সমস্ত জগৎই এই অন্নে প্রতিষ্ঠিত, অর্থাৎ অন্নের অধীন; তাহার পর তিনি ‘রম্’ শব্দ উচ্চারণ করিয়া উপদেশ করিলেন যে, প্রাণ হইতেছে—‘রম্’; কারণ, চরাচরাত্মক এই জগৎই এই প্রাণে রমণ করে, অর্থাৎ প্রাণের অধীন থাকিয়া তৃপ্তি ভোগ করে; [ প্রাণহীনের রতি হয় না,—মৃত্যু হয়]। যে ব্যক্তি এই প্রকার জানে, সমস্ত জগৎই তাহাতে প্রবেশ করে, এবং তাহার আশ্রয়ে থাকিয়া রমণ করে ॥ ৩৫১ ॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অন্নং ব্রহ্মেতি। তথৈতদপাসনান্তরং বিধিৎসন্নাহ— অন্নং ব্রহ্ম। অন্নম্—অন্যতে যৎ, তৎ ব্রহ্মেতি একে আচার্য্যা আহুঃ; তৎ ন তথা গ্রহীতব্যম্—অন্নং ব্রহ্মেতি। অন্যে চাহুঃ, প্রাণো ব্রহ্মেতি। তচ্চ তথা ন গ্রহীতব্যম্। কিমর্থং পুনরন্নং ব্রহ্মেতি ন গ্রাহ্যম্? যস্মাৎ পূয়তি ক্লিদ্যতে পূতিভাবমাপদ্যতে ঋতে প্রাণাৎ, তৎ কথং ব্রহ্ম ভবিতুমর্হতি? ব্রহ্ম তি নাম তৎ, যদবিনাশি। অস্তু তর্হি প্রাণো ব্রহ্ম; নৈবম্, যস্মাৎ শুষ্যতি বৈ প্রাণঃ শোষমুপৈতি ঋতে অন্নাৎ; অত্তা হি প্রাণঃ; অতোহন্নেনাদ্যেন বিনা ন শরোত্যাত্মানং ধারয়িতুম্; তস্মাৎ শুষ্যতি বৈ প্রাণঃ ঋতেহন্নাৎ; অত একৈকস্য ব্রহ্মতা নোপপদ্যতে যস্মাৎ, তস্মাদেতে হ তু এব অন্ন-প্রাণদেবতে একধাভূয়ম্ একধাভাবং ভূত্বা গত্বা পরমতাং পরমত্বং গচ্ছতঃ ব্রহ্মত্বং প্রাপ্ততঃ। ১
তদেতদ্ এবমধ্যবস্য হ আহ স্ম-প্রাতৃদো নাম পিতরমাত্মনঃ। কি-স্বিদিতি বিতর্কে। যথা ময়া ব্রহ্ম পরিকল্পিতম্, এবং বিদুষে কিংস্বিৎ সাধু কুৰ্য্যাং-সাধু শোভনং পূজাং কাম্ অস্মৈ পূজাং কুর্যামিত্যভিপ্রায়ঃ। কিমেব বাস্মৈ বিদুষে অসাধু কুৰ্য্যাম্? কৃতকৃত্যোহসাবিত্যভিপ্রায়ঃ। অন্নপ্রাণৌ সহভূতৌ ব্রহ্মেতি বিদ্বান্ নাসৌ অসাধুকরণেন খণ্ডিতে। ভবতি, নাপি সাধুকরণেন মহীকৃতঃ। তমেবংবাদিনং স পিতা হ স্ম আহ-পাণিনা হস্তেন নিবারয়ন্, মা প্রাতৃদ মৈবং বোচঃ। কন্তু- এনয়োঃ অন্ন-প্রাণয়োরেকধাভূরং ভূত্বা পরমতাং কস্তু গচ্ছতি?-ন কশ্চিদপি বিদ্বান্ অনেন ব্রহ্মদর্শনেন পরমতাং গচ্ছতি। তস্মান্নৈবং বক্তুমর্হসি-কৃতকৃত্যোহসাবিতি। -যদ্যেবম্, ব্রবীতু ভবান, কথং পরমতাং গচ্ছতীতি? ২
তস্মৈ উ হ এতদ্বক্ষ্যমাণং বচ উবাচ। কিং তৎ? বীতি। কিং তৎ বি-ইতি? উচ্যতে, অন্নং বৈ বি; অন্নে হি যস্মাৎ ইমানি সর্ব্বাণি ভূতানি বিষ্টানি; আশ্রিতানি; অতঃ অন্নং বীত্যুচ্যতে। কিঞ্চ, রমিতি, রম্ ইতি চোক্তবান্ পিতা। কিং পুনস্তৎ রম্? প্রাণো বৈ রম্; কুতঃ? ইত্যাহ-প্রাণে হি যস্মাদ বলাশ্রয়ে সতি সর্ব্বাণি ভূতানি রমন্তে; অতো রং প্রাণঃ। সর্বভূতাশ্রয়গুণমন্নম্, সর্ব্বভূতরতিগুণশ্চ প্রাণঃ; ন হি কশ্চিদনায়তনো নিরাশ্রয়ো রমতে, নাপি সত্যপ্যায়তনে প্রাণী দুর্ব্বলো রমতে; যদা তু আরতনবান্ প্রাণী বলবাংশ, তদা কৃতার্থমাত্মানং মন্যমানো রমতে লোকঃ; “যুবা স্যাৎ সাধু যুবাধ্যায়কঃ” ইত্যাদিশ্রুতেঃ। ইদানীমেবংবিদঃ ফলমাহ -সর্ব্বাণি হ বা অস্মিন্ ভূতানি বিশন্তি অন্নগুণজ্ঞানাৎ, সর্ব্বাণি ভূতানি রমন্তে প্রাণ গুণজ্ঞানাৎ, য এবং বেদ ॥ ৩৫১ ॥ ১ ॥
টীকা। ব্রাহ্মণান্তরং গৃহীত্বা তাৎপযামাহ-অন্নমিতি। যথা পূর্বস্মিন্ ব্রাহ্মণে ফলবব্রহ্মোপা- সনমুক্তং তদ্বনিত্যাহ-তথেতি। এতদিতি ব্রহ্মবিষয়োক্তিঃ। উপাস্যং ব্রহ্ম নির্ধারয়িতুং বিচারয়তি -অন্নমিত্যাদিনা। অন্নস্য বিনাশিত্বেহপি ব্রহ্মত্বং কিং ন স্যাদত আহ-ব্রহ্ম হীতি। কথমন্নং বিনা প্রাণস্য শোষপ্রাপ্তিস্তত্রাহ-অত্তা হীতি। প্রত্যেকং নাশিত্বমতঃশব্দার্থঃ। ১
কিংস্বিদিত্যাদিবাক্যস্যার্থং বিবৃণোতি-অন্নপ্রাণাবিতি। কস্তিতি প্রতীকমাদায় ব্যাকরোতি -এনয়োরিতি। যদ্যেবমুক্তরীত্যা পরমত্বং যদি নাস্তীত্যর্থঃ। উক্তমসংকীর্ণ-গুণদ্বয়ং সংক্ষিপ্যাহ- সর্বভূতেতি। অন্নগুণং বিনা প্রাণগুণাদেতদ্ধ্যানং সিধ্যতীত্যাশঙ্ক্যাহ-ন হীতি। প্রাণগুণস্যাপ্যন্ন- গুণত্বসংভবাদলং প্রাণেনেত্যাশঙ্ক্যাহ-নাপীতি। গুণদ্বয়স্য, পরস্পরাপেক্ষামনুভবানুসারেণ স্ফোরয়তি-যদা ত্বিতি। আয়তনবতো বলবতশ্চ কৃতার্থতেত্যত্র তৈত্তিরীয়শ্রুতিং সংবাদয়তি- যুবা স্যাদিতি। আশিষ্ঠো দ্রঢ়িষ্ঠো বলিষ্ঠস্তস্যেয়ং পৃথিবী সর্বা বিত্তস্য পূর্ণা স্যাদিত্যেতদ্ আদিশব্দেন গৃহ্যতে। ৩৫১। ১-৪
ইতি কৃষ্ণদাসগুপ্তের পঞ্জিকা। প্রথম খণ্ড। বঙ্গাব্দ। ১৩২৯।
ভাষ্যানুবাদ।—“অন্নং ব্রহ্মেতি”। পূর্ব্বের ন্যায় এইরূপ আর একটা উপাসন। বিধানার্থ বলিতেছেন—কোন কোন আচার্য্য বলেন যে, অন্নই ব্রহ্ম; যাহা কিছু ভোজন করা যায়, তাহাই অন্ন, এবং তাহা ব্রহ্মস্বরূপ। অন্য আচার্য্যগণ বলেন—ইহা সত্য নহে—অন্নকে ব্রহ্মস্বরূপে গ্রহণ করা উচিত হয় না; প্রাণ হইতেছে ব্রহ্মস্বরূপ; এই জন্যই অন্নকে ব্রহ্মস্বরূপে গ্রহণ করিতে নাই। ভাল, কি কারণে অন্নকে ব্রহ্মস্বরূপে গ্রহণ করিতে নাই? যেহেতু প্রাণের অভাবে অন্ন পূতিভাব প্রাপ্ত হয়—পচিয়া যায়, সেই হেতু উহা কিরূপে ব্রহ্মস্বরূপ হইতে পারে? কারণ, সেই বস্তুই ব্রহ্ম, যাহার কখনও বিনাশ হয় না। তবে প্রাণই
ব্রহ্ম হউক? না, তাহাও হইতে পারে না; কারণ, অন্নের অভাবে প্রাণও শোষপ্রাপ্ত হয়—শুষ্ক হইয়া যায়; কেননা, প্রাণই ভোজনের কর্তা—ভোক্তা;(১) এই জন্য ভক্ষ্য অন্নের অভাবে প্রাণ কখনই আপনাকে রক্ষা করিতে পারে না; সেই কারণেই অন্নের অভাবে প্রাণ শুষ্ক হইয়া পড়ে। অতএব, যেহেতু এক একটীর(কেবল অন্নের, কিংবা কেবল প্রাণের) ব্রহ্মভাব কখনই উপপন্ন হয় না, সেই হেতুই এই অন্ন ও প্রাণরূপী দেবতাদ্বয় একধা হইয়া—একত্রিত হইয়া পরমতা—পরমত্ব অর্থাৎ ব্রহ্মভাব লাভ করিয়া থাকে। ১
প্রাতৃদনামক ঋষি এইরূপ নিশ্চয় করিয়া নিজের পিতাকে বলিয়াছিলেন,- ‘কিং স্বিৎ’ কথাটী বিতর্ক-জ্ঞাপক; অর্থাৎ আমি যেরূপ ব্রহ্ম কল্পনা করিলাম, এই প্রকার ব্রহ্মকে যিনি অবগত হন, তাঁহার উদ্দেশে আমি আর কি শোভন কর্ম-পূজা করিব? অর্থাৎ তাঁহার আবার পূজা কি? এবং তাঁহার উদ্দেশে অসাধু কৰ্ম্মই বা কি করিব? অর্থাৎ সেরূপ বিদ্বান্ পুরুষ ত কৃতকৃত্য হইয়া গিয়াছেন; সুতরাং তাঁহার উদ্দেশে ভাল মন্দ কোন অনুষ্ঠানেরই প্রয়োজন হয় না। কেননা, যিনি সহভূত(সহযোগে স্থিতিশীল) অন্ন ও প্রাণকে ব্রহ্ম বলিয়া জানিয়াছেন, সেই বিদ্বান্ ত কোন অসাধু কার্য্য দ্বারাও হীনতা প্রাপ্ত হন না, আর উত্তম কর্ম দ্বারাও অভিনন্দিত হন না; [সুতরাং তাঁহার সম্বন্ধে সাধু বা অসাধু কর্মের কোনই প্রয়োজনীয়তা নাই]। পুত্র এইরূপ অভিপ্রায় ব্যক্ত করিলে পর, পিতা তাঁহাকে হস্তদ্বারা নিবারণপূর্ব্বক বলিলেন-হে প্রাতৃদ, তুমি এরূপ কথা বলিও না। এই অন্ন ও প্রাণের উক্তপ্রকার একধাভাব অবগত হইয়া কোন লোক পরমতা প্রাপ্ত হয়? এরূপ ব্রহ্মদর্শনের ফলে কোন বিদ্বানই পরমত্ব বা ব্রহ্মভাব লাভ
(১) তাৎপর্য্য—প্রশ্নোপনিষদে প্রাণকে স্পষ্টাক্ষরে ‘অত্তা’(ভোক্তা) বলিয়া নির্দেশ করা হইয়াছে। যথা—“ব্রাত্যস্থং প্রাণৈকঋষিরত্তা বিশ্বস্য সৎপতিঃ। বয়মান্বস্য দাতারঃ পিতা ত্বং মাতরিশ্ব নঃ।”(২৮।১১)। ইহার অর্থ এই যে, হে প্রাণ, তুমি ব্রাত্য; কেননা, তুমি সকলের প্রথমে উৎপন্ন এবং তোমাদ্বারাই অপরের সংস্কার সম্পন্ন হইয়া থাকে, কিন্তু তোমার সংস্কার-সাধক কেহ নাই। তুমিই একর্ষি নামে প্রসিদ্ধ অগ্নিস্বরূপ; তুমিই সমস্ত ভোগ্য বস্তুর অদনকর্তা—ভোক্তা এবং জগতের সৎপতি; আমরা তোমার উদ্দেশেই অন্নদান করিয়া থাকি। হে বায়ুরূপী প্রাণ, তুমিই আমাদের পিতা। অন্যত্র আরও স্পষ্ট করিয়া বলিয়াছেন, “ক্ষুৎপিপাসে প্রাণধর্ম্মো স্বপ্ননিদ্রে তু মানসে”, অর্থাৎ ক্ষুধা ও পিপাসা এই দুইটা প্রাণের ধর্ম, আর স্বপ্ন ও নিদ্রা হইতেছে মনের ধর্ম।
করিতে পারে না; অতএব, ঐরূপ বিদ্বান্ যে, কৃতকৃত্য, একথা কখনই বলিতে পার না। ভাল, ইহা যদি এইরূপই হয়, তবে আপনিই বলুন, কি প্রকারে লোক পরমতা লাভ করিতে সমর্থ হয়। ২
পিতা তদুত্তরে এই কথা বলিয়াছিলেন। সেই কথাটা কি?[সেই কথাটী হইতেছে-] ‘বি’। এই ‘বি’ পদের অর্থ যে কি, তাহা বলা হইতেছে-অন্নই ‘বি’; কেননা, চরাচরাত্মক সমস্ত ভূতই এই অন্নে বিষ্ট-আশ্রিত রহিয়াছে; এই জন্য অন্নকে ‘বি’ বলা হইতেছে। ইহার পর পিতা আবার বলিলেন, ‘রম’ ইতি; সেই ‘রম্’ অর্থ কি?-প্রাণই ‘রম্’; কেন? তাহা বলিতেছেন-যেহেতু বলের আশ্রয়ভূত প্রাণে সমস্ত ভূতবর্গ রমণ করে; এই জন্য প্রাণ হইতেছে ‘রম্’। যেহেতু অন্ন সমস্ত ভূতের আশ্রয়ভূত এবং প্রাণ সর্ব্বভূতের রতি বা আনন্দদায়ক গুণযুক্ত;[সেই হেতুই প্রাণ ‘রম্’;] কেননা, কেহই দেহবিযুক্ত নিরাশ্রয়ভাবে রতি অনুভব করিতে সমর্থ হয় না; অথবা আশ্রয়ভূত দেহসত্ত্বেও প্রাণ না থাকিলে দুর্ব্বল অবস্থায় রতি অনুভব করিতে পারে না। লোক যখনই দেহ ও প্রাণের সংযোগে সবল হয়, তখনই আপনাকে কৃতার্থ মনে করিয়া আনন্দ অনুভব করিতে থাকে; কারণ, শ্রুতিও বলিয়াছেন-‘সংস্বভাবাপন্ন প্রথমবয়স্ক যুবা হইবে এবং বেদাধ্যায়ী হইবে’ ইত্যাদি। অতঃপর, যথোক্ত বিজ্ঞানের ফল বলা হইতেছে-যিনি এইরূপ জানেন, অন্নগুণ-জ্ঞানের দরুণ সমস্ত ভূত তাহাতে প্রবেশ করে, এবং প্রাণ- বিজ্ঞানের দরুণ সমস্ত ভূত ইহাতে রমণ করে ॥ ৩৫১ ॥ ১ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ে দ্বাদশ ব্রাহ্মণের ভাষ্যঅনুবাদ ॥ ৫ ॥ ১২ ॥
উক্থম্, প্রাণো বা উক্থম্, প্রাণো হীদংসর্ব্বমুখাপয়- ত্যুদ্ধাস্মাদুথবিদ্ বীরস্তিষ্ঠত্যুক্থস্য সাযুজ্যং সলোকতাং জয়তি য এবং বেদ ॥ ৩৫২ ॥ ১ ॥
সরলার্থঃ।—[ইদানীমপরম্ ‘উকথোপাসনম্’ উচ্যতে—‘উকথম্’ ইতি]। প্রাণঃ বৈ উকথম্; হি(যস্মাৎ) প্রাণঃ ইদং সর্ব্বং(জগৎ) উত্থাপয়তি,[জগদুখা- পনাৎ প্রাণস্য উকথত্বমিতি ভাবঃ]। যঃ এবং বেদ; অস্মাৎ(এবংবিধজ্ঞান- সম্পন্নাৎ) হ(নিশ্চয়ে) উকথবিদ্ বীরঃ[চ পুত্রঃ] তিষ্ঠতি(উৎপদ্যতে); [স্বয়ং চ] উকথস্য সাযুজ্যং সলোকতাং(সমানলোকবর্তিত্বং) জয়তি(অধি- করোতি)। ৩১২॥ ১॥
মূলানুবাদ।—অতঃপর উক্তি-রূপে আর একটী উপাসনা।
কথিত হইতেছে—প্রাণ হইতেছে উক্থ; কারণ, প্রাণই এই সমস্ত জগৎ উত্থাপিত করে। যে লোক’এই প্রকার জ্ঞান লাভ করে, সেই লোকের উক্থবিদ্ বীর পুত্র ‘উৎপন্ন হয়; এবং সে নিজেও উক্থের সাযুজ্য ও সালোক্য লাভ করে ॥ ৩৫২ ॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—উক্থম্—তথা উপাসনান্তরম্; উক্খং শস্ত্রম্; তদ্ধি প্রধানং মহাব্রতে ক্রতৌ। কিং পুনস্তদুক্থম্? প্রাণো বৈ উক্থম্; প্রাণশ্চ প্রধান ইন্দ্রিয়াণাম্, উক্খঞ্চ শস্ত্রাণাম্; অত উক্খমিত্যুপাসীত। কথং প্রাণ উক্- থম্? ইত্যাহ—প্রাণঃ হি যস্মাৎ ইদং সর্ব্বম্ উত্থাপয়তি; উত্থাপনাদুক্থং প্রাণঃ; ন হি অপ্রাণঃ কশ্চিদুত্তিষ্ঠতি। তদুপাসনফলমাহ—উৎ হ অস্মাৎ এবংবিদঃ উক্খ- বিৎ প্রাণবিদ্ বীরঃ পুল উত্তিষ্ঠতি হ। দৃষ্টমেতৎ ফলম্; অদৃষ্টন্তু উক্খস্য সাযুজ্যং সলোকতাং জয়তি, য এবং বেদ ॥ ৩৫২ ॥ ১ ॥
টীকা। অন্নপ্রাণয়োগুণদ্বয়বিশিষ্টয়োর্মিলিতয়োরুপাসনমুক্তম্, ইদানীং ব্রাহ্মণান্তরমাদায় তাৎপর্য্যমাহ—উক্থমিতি। সৎসু শাস্ত্রান্তরেষু কিমিত্যুক্থমুপাস্যত্বেনোপন্যস্যতে? তত্রাহ— তন্ধীতি। কস্মিন্ কিমারোপ্য কন্যোপাস্যত্বমিতি প্রশ্নদ্বারা বিবৃণোতি—কিং পুনরিতি। তস্মিন্নু কথদৃষ্টৌ হেতুমাহ—প্রাণশ্চেতি। তস্মিন্নু কথশব্দস্য সমবেতার্থত্বং প্রশ্নপূর্ব্বকমাহ— কথমিত্যাদিনা। উত্থানস্য স্বতোহপি সংভবান্ন প্রাণকৃতত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ—ন হীতি। উক্তস্য প্রাণস্যৈতদ্বিজ্ঞানতারতম্যমপেক্ষ্য সাযুজ্যং সালোক্যং চ ব্যাখ্যেয়ম্॥ ৩৫২॥ ১॥
ভাষ্যানুবাদ।—‘উত্থ’ পূর্ব্বের ন্যায় ইহাও একটা উপাসনা। উত্থ অর্থ সামবেদোক্ত শস্ত্রবিশেষ অর্থাৎ একপ্রকার গাথা বা স্তোত্র; মহাব্রতনামক ক্রতুতে এই উত্থই প্রধান অঙ্গ। এখানে সেই উত্থ কি? প্রাণই উত্থ; কেননা, প্রাণই ইন্দ্রিয়বর্গের মধ্যে প্রধান; আর উত্থও সমস্ত ‘শস্ত্রের’ মধ্যে প্রধান; অতএব প্রাণকে উত্থ বলিয়া উপাসনা করিবে। প্রাণ যে, কি কারণে উত্থ, তাহা বলা হইতেছে,—যেহেতু প্রাণই সমস্ত বস্তুকে উত্থাপিত করে, সেই হেতু—উত্থাপন করে বলিয়াই প্রাণ উত্থ-পদবাচ্য; কেননা, প্রাণহীন কেহই উত্থিত হয় না। এই উপাসনার ফল বলিতেছেন—যিনি এইরূপ জানেন, সেই বিদ্বান্ পুরুষ হইতে উত্থবিদ অর্থাৎ প্রাণবিদ্ ও বীর পুত্র উত্থিত হয়(জন্ম লাভ করে); ইহা হইতেছে উপাসনার দৃষ্ট ফল অর্থাৎ উত্থ-বিদ্যার ঐহিক ফল; কিন্তু অদৃষ্ট বা পারলৌকিক ফল হইতেছে—তিনি উত্থের সালোক্য ও সাযুজ্য লাভ করেন ॥ ৩৫২ ॥ ১ ॥
যদুঃ, প্রাগো বৈ যদুঃ, প্রাগে হীমানি সর্ব্বাণি ভূতানি
১৪১৫
যুজ্যন্তে, যুজ্যন্তে হাস্মৈ সর্ব্বাণি ভূতানি শ্রৈষ্ঠ্যায়, যজুষঃ সাযুজ্যং সলোকতাং জয়তি, য এবং বেদ ॥ ৩৫৩ ॥ ২॥
সরলার্থঃ।—[অতঃপরং যজুঃস্বরূপেণ উপাসনান্তরমুচ্যতে—“যজুঃ” ইত্যা- দিনা]। প্রাণঃ বৈ(এব) যজুঃ; হি(যস্মাৎ) ইমানি সর্ব্বাণি ভূতানি(প্রাণিনঃ) প্রাণে যুজ্যন্তে(সংবধ্যন্তে)। যঃ এবং বেদ, অস্মৈ(বিদুষে) ইমানি সর্ব্বাণি ভূতানি শ্রৈষ্ঠ্যার(এবংবিদঃ শ্রেষ্ঠত্বসাধনায়) যুজ্যন্তে(উদ্যমং কুর্ব্বন্তি)।[স চ] যজুষঃ সাযুজ্যং সলোকতাং জয়তি॥ ৩৫৩॥ ২॥
মূলানুবাদ?—অতঃপর যজুঃস্বরূপে প্রাণোপাসনা কথিত হইতেছে। প্রাণই যজুঃ; কারণ, এই সমস্ত ভূতই প্রাণের সহিত সংযুক্ত থাকে; যে লোক এই বিদ্যা জানে, তাহার শ্রেষ্ঠতা-সাধনার্থ দৃশ্যমান সমস্ত ভূতই উদ্যম করিয়া থাকে, এবং তিনি নিজেও যজুর সাযুজ্য ও সালোক্য প্রাপ্ত হইয়া থাকেন ॥ ৩৫৩ ॥ ২ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যজুরিতি চোপাসীত প্রাণম্; প্রাণো বৈ যজুঃ। কথং যজুঃ প্রাণঃ? প্রাণে হি যস্মাৎ সর্ব্বাণি ভূতানি যুজ্যন্তে; ন হ্যসতি প্রাণে কেনচিৎ কস্যচিদযোগসামর্থ্যম্; অতো যুনক্তীতি প্রাণো যজুঃ। এবম্বিদঃ ফলমাহ, যুজ্যন্তে উদয়চ্ছন্ত ইত্যর্থঃ, হ অস্মৈ এবংবিদে, সর্ব্বাণি ভূতানি, শ্রেইষ্ঠ্যং শ্রেষ্ঠভাবঃ, তস্মৈ শ্রেইষ্ঠ্যায়—অয়ং নঃ শ্রেষ্ঠো ভবেদিতি। যজুষঃ প্রাণস্য সাযুজ্যমিত্যাদি সর্ব্বং সমানম্ ॥ ৩৫৩ ॥ ২ ॥
টীকা। যজুঃশব্দস্যান্যত্র রূঢ়ত্বাদযুক্তং প্রাণবিষয়ত্বমিতি শঙ্কিত্বা পরিহরতি-কথ- মিত্যাদিনা। অসত্যপি প্রাণে যোগঃ সংভবর্তীত্যাশঙ্ক্যাহ-ন হীতি। প্রকরণানুগৃহীত- প্রাণশব্দশ্রুত্যা যজুঃশব্দস্য রূঢ়িং ত্যক্ত্বা যোগোহঙ্গীক্রিয়ত ইত্যাহ-অত ইতি ॥ ৩৫১॥ ২॥
ভাষ্যানুবাদ।—যজুঃস্বরূপে প্রাণের উপাসনা করিবে। প্রাণই যজুঃ। প্রাণ যজুঃস্বরূপ কেন? যেহেতু এই সমস্ত ভূতই এই প্রাণে সংযুক্ত থাকে; কেননা, প্রাণ না থাকিলে কেহ কোন বস্তুর সহিত যোগ লাভ করিতে সমর্থ হয় না; অতএব যোগসাধন করে বলিয়াই প্রাণ যজুঃস্বরূপ। এবংবিধ জ্ঞানীর ফল বলিতেছেন—[ যে লোক এইরূপ উপাসনা করে,] তাহার শ্রৈষ্ঠ্যের(শ্রেষ্ঠতার) জন্য, সমস্ত ভূত উদ্যম করিয়া থাকে। ‘যজুঃস্বরূপ প্রাণের’ ইত্যাদির অর্থ পূর্ব্বশ্রুতির অর্থের অনুরূপ ॥ ৩৫৩ ॥ ২ ॥
সাম, ধাটে। বৈ সাম, ধাটে হীমানি সর্ব্বাণি ভূতানি
সম্যঞ্চি, সম্যঞ্চি হাস্মৈ সর্ব্বাণি ভূতানি শ্রৈষ্ঠ্যায় কল্পন্তে, সাম্নঃ সাযুজ্যৎসলোকতাং জয়তি য এবং বেদ ॥ ৩৫৪ ॥ ৩॥
সরলার্থঃ।—[ইদানীং সামবিষয়কমুপাসনমুচ্যতে সামেত্যাদিনা।] প্রাণঃ বৈ(এব) সাম; হি(যতঃ) ইমানি সর্ব্বাণি ভূতানি প্রাণে সম্যঞ্চি(সংগতানি ভবন্তি), যঃ এবং বেদ, অস্মৈ(বিদুষে) শ্রৈষ্ঠ্যায়(শ্রেষ্ঠত্বায়) সর্ব্বাণি ভূতানি সম্যঞ্চি(সংগতানি ভবন্তি);[স্বয়ং চ] সাম্নঃ সাযুজ্যং সলোকতাং চ জয়তি ॥ ৩৫৪ ॥ ৩ ॥
মূলানুবাদ?—এখানে সামবিষয়ক উপাসনা কথিত হইতেছে—প্রাণই সামস্বরূপ; কারণ, এই সমস্ত ভূতই সাথে সঙ্গত আছে। যে কোন লোক এইরূপে ইহা জানে, সমস্ত ভূত তাহার শ্রেষ্ঠতা-সাধনের জন্য উদ্যোগী হয়; এবং সে নিজেও সামের সাযুজ্য ও সলোকতা লাভ করে ॥ ৩৫৪ ॥ ৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—সামেতি চোপাসীত প্রাণম্। প্রাণো বৈ সাম; কথং প্রাণঃ সাম। প্রাণে হি যস্মাৎ সর্ব্বাণি ভূতানি সম্যঞ্চি সঙ্গচ্ছন্তে, সঙ্গমনাৎ সাম্যাপত্তিহেতুত্বাৎ সাম প্রাণঃ। সম্যঞ্চি সঙ্গচ্ছন্তে হ অস্মৈ সর্ব্বাণি ভূতানি। ন কেবলং সঙ্গচ্ছন্ত এব, শ্রেষ্ঠভাবায় চাম্মৈ কল্পন্তে সমর্থ্যন্তে। সাম্নঃ সাযুজ্যমিত্যাদি পূর্ব্ববৎ ॥ ৩৫৪ ॥ ৩ ॥
টীকা। গর্গবংশীয়ং বাচস্পতি—গর্গবংশীয়ং ॥ ৩৫৪ ॥ ৩ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—প্রাণকে সাম বলিয়া উপাসনা করিবে। প্রাণই সাম; প্রাণ সামস্বরূপ কিপ্রকারে? যেহেতু সমস্ত ভূতই প্রাণেতে সম্যক্ অনুগত থাকে; সেই হেতু—সাম্যপ্রাপ্তির হেতু বলিয়াই প্রাণ সামস্বরূপ। যে ব্যক্তি এইরূপে উপাসনা করে, সমস্ত ভূত তাহার জন্য সম্মিলিত হয়; কেবল যে, সম্মিলিতই হয়, তাহা নহে, পরন্তু তাহার শ্রেষ্ঠতা-সম্পাদনের নিমিত্ত সামর্থ্যও প্রাপ্ত হয়, এবং সে ব্যক্তি সামের সাযুজ্য ও সলোকতা অধিকার করে ॥ ৩৫৪ ॥ ৩ ॥
ক্ষত্রম্, প্রাণো বৈ ক্ষত্রম্, প্রাণো হি বৈ ক্ষত্রম্, ত্রায়তে হৈনং প্রাণঃ ক্ষণিতোঃ, প্র ক্ষত্রমত্রমাপ্নোতি, ক্ষত্রস্য সাযুজ্যং সলোকতাং জয়তি য এবং বেদ ॥ ৩৫৫ ॥ ৪ ॥
ইতি চণ্ডীদাসং ব্রাহ্মণম্ ॥ ৫ ॥ ১৩।
১৪৭৯
সরলার্থঃ।—[অথ ক্ষত্রবিষয়কমুপাসনমুচ্যতে ক্ষত্রমিত্যাদিনা]। প্রাণঃ বৈ ক্ষত্রম্; হি(যস্মাৎ) প্রাণঃ ক্ষত্রং বৈ(প্রসিদ্ধম্),[তস্মাৎ] প্রাণঃ হ এনং(দেহং) ক্ষণিতোঃ(হিংসনাৎ) ত্রায়তে(রক্ষতি)। যঃ এবং বেদ,[সঃ] অত্রং(অন্যেন ন ত্রায়তে ইতি অত্রম্, তাদৃশং) ক্ষত্রং প্রাণং প্রাপ্নোতি, ক্ষত্রস্য সাযুজ্যং সলোকতাং জয়তি ॥ ৩৫৫ ॥ ৪ ॥
মূলানুবাদ:-এখন ক্ষত্রবিষয়ক অন্যরকম উপাসনা বর্ণিত হইতেছে-প্রাণই ক্ষত্র। প্রাণ হইতেছে ক্ষত্র-যেহেতু হিংসা হইতে সে এই দেহকে রক্ষা করে, সেই হেতু প্রাণের ক্ষত্রত্ব সুপ্রসিদ্ধ। যে ব্যক্তি প্রাণের ক্ষত্রত্ব জানে, প্রাণসমূহ তাহাকে ক্ষয় বা হিংসা হইতে রক্ষা করিয়া থাকে; এবং সে নিজেও অনন্যরক্ষিত ক্ষত্র প্রাণকে প্রাপ্ত হইয়া থাকে; অধিকন্তু ক্ষত্র প্রাণের সাবুজ্য ও সলোকতা লাভ করে ॥ ৩৫৫ ॥ ৪ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ে ত্রয়োদশোহধ্যায়ঃ ॥ ৫ ॥ ১৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তং প্রাণং ক্ষত্রমিত্যুপাসীত। প্রাণো বৈ ক্ষত্রম্; প্রসিদ্ধমেতৎ প্রাণো হি বৈ ক্ষত্রম্। কথং প্রসিদ্ধতেত্যাহ—ত্রায়তে পালয়ত্যেনং পিণ্ডং দেহং প্রাণঃ ক্ষণিতোঃ শস্ত্রাদি-হিংসিতাৎ পুনর্মাংসেনাপূরয়তি যস্মাৎ, তস্মাৎ ক্ষতত্রাণাৎ প্রসিদ্ধং ক্ষত্রত্বং প্রাণস্য। বিদ্বৎফলমাহ—প্র ক্ষত্রমত্রম্, ন ত্রায়তেহন্যেন কেনচিদিত্যত্রম্—ক্ষত্রং প্রাণঃ, তমত্রং ক্ষত্রং প্রাণং প্রাপ্নোতীত্যর্থঃ। শাখান্তরে বা-পাঠাৎ ক্ষত্রমাত্রং প্রাপ্নোতি প্রাণো ভবতীত্যর্থঃ। ক্ষত্রস্য সাযুজ্যং সলোকতাং জয়তি য এবং বেদ ॥ ৩৫৫ ॥ ৪ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ঃ ত্রয়োদশঃ ব্রাহ্মণম্ ॥ ৫ ॥ ১৩ ॥
টীকা। শশাঙ্কদেবগণ শশাঙ্কদেবগণে ॥ ৩৫৫ ॥ ৩ ॥
ইতি বৃহদারণ্যকোপনিষদ্ভাষ্যং। পঞ্চমাধ্যায়ং। দ্বাদশস্কন্ধম্॥ ৫। ১। ৯।
ভাষ্যানুবাদ।—সেই প্রাণকে ক্ষত্র বলিয়া উপাসনা করিবে। প্রাণই ক্ষত্র; প্রাণ যে, ক্ষত্র, ইহা প্রসিদ্ধও বটে। কি রকমে প্রসিদ্ধ, তাহা কথিত হইতেছে—যেহেতু প্রাণ এই দেহ-পিণ্ডকে শস্ত্রাদিজনিত ক্ষয় হইতে ত্রাণ করে— রক্ষা করে অর্থাৎ মাংস দ্বারা পুনর্ব্বার ক্ষতস্থান পূরণ করে, সেই হেতু—ক্ষত-ত্রাণ হেতু প্রাণের ক্ষত্রত্ব প্রসিদ্ধ। বিদ্যার ফল বলিতেছেন—যাহা আত্মরক্ষার জন্য অন্য কাহারো অপেক্ষা করে না, তাহার নাম—অত্র; উক্ত ক্ষত্র প্রাণই অত্র;
বিদ্বান্ পুরুষ সেই অত্র ক্ষত্র প্রাণকে প্রাপ্ত হয়। অন্য শাখায় এখানে ‘বা’ শব্দ থাকায় বুঝিতে হইবে যে, সে কেবলই ক্ষত্রস্বরূপ—প্রাণরূপ প্রাপ্ত হয়। যে লোক এইরূপ উপাসনা করে, সে লোক ক্ষত্রের সাযজ্য ও সমান লোক লাভ করিয়া থাকে ॥ ৩৫৫ ॥ ৪ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ে ত্রয়োদশ ব্রাহ্মণের ভাষ্যঅনুবাদ ॥ ৫ ॥ ১৩ ॥
ভূমিরন্তরিক্ষং দ্যৌরিত্যষ্টাবক্ষরাণ্যষ্টাক্ষরং হ বা একং গায়ত্র্যৈ পদমেতদু হৈবাস্যা এতৎ, স যাবদেযু ত্রিষু তাবদ্ধ জয়তি, যোহস্যা এতদেবং পদং বেদ ॥ ৩৫৬ ॥ ১ ॥
সরলার্থঃ।—[ইদানীং গায়ত্রীচ্ছন্দোদ্বারেণ প্রাণোপাসনমুচ্যতে—“ভূমিঃ” ইত্যাদিনা]। ভূমিঃ(পৃথিবী), অন্তরিক্ষং(আকাশং), দ্যৌঃ(দ্যুলোকঃ স্বর্গঃ) ইতি(এতানি) অষ্টৌ অক্ষরাণি:(দ্যৌঃ ইত্যত্র দ-কার-য-কারয়োর্বিশ্লেষণাৎ অষ্টত্বম্ মন্তব্যম্, অন্যথা সপ্তত্বং স্যাৎ)। গায়ত্র্যৈ(গায়ত্র্যাঃ) একং পদং (প্রথমঃ পাদঃ) অষ্টাক্ষরম্ চ, হবৈ(ইতি প্রসিদ্ধিদ্যোতকৌ)। অন্য এতৎ (অক্ষরাষ্টাত্মকং)(গায়ত্র্যাঃ) এতৎ(প্রথমং পদং) উ হ এব(নিশ্চয়ে)। সঃ (উপাসকঃ) এযু ত্রিষু লোকেষু যাবৎ, তাবৎ হ জয়তি;[কঃ?] যঃ অস্যাঃ (গায়ত্র্যাঃ) এতৎ(পদং) এবং(যথোক্তেন রূপেণ) বেদ(জানাতি, সঃ)॥ ৩৫৬ ॥ ১ ॥
মূলানুবাদ।—প্রকারান্তরে উপাসনা কথিত হইতেছে— ভূমি, অন্তরিক্ষ ও ছৌ[দ ও য্], এই তিনটা শব্দে আটটা অক্ষর আছে; আট অক্ষরে গায়ত্রীর একটা পদ বা চরণ হয়; উক্ত আটটা অক্ষরই গায়ত্রীর সেই পদ বলিয়া প্রসিদ্ধ।(১) যিনি এই গায়ত্রীর এই পদটা জানেন, তিনি ত্রিলোকের মধ্যে যাহা কিছু আছে, সে সমস্তই জয়(অধিকার) করেন ॥ ৩৫৬ ॥ ১ ॥
শঙ্করভাষ্যম্।—ব্রহ্মণো হৃদয়াদ্যনেকোপাধিবিশিষ্টস্যোপাসনমুক্তম্; অথেদানীং গায়ক্র্যপাধিবিশিষ্টস্যোপাসনং বক্তব্যমিত্যারভ্যতে। ১
সর্ব্বচ্ছন্দসাং হি গায়ত্রী চ্ছন্দঃ প্রধানভূতম্; তৎপ্রয়োক্ত-গয়-ত্রাণাদ গায়- ত্রীতি বক্ষ্যতি। ন চান্যেষাং ছন্দসাং প্রয়োক্তৃ-প্রাণত্রাণসামর্থ্যম্। প্রাণাত্মভূতা- চ সা; সর্ব্বচ্ছন্দসাঞ্চাত্মা প্রাণঃ। প্রাণশ্চ ক্ষতত্রাণাৎ ক্ষত্রমিত্যুক্তম্; প্রাণশ্চ- গায়ত্রী; তস্মাত্তদুপাসনমেব বিধিৎস্যতে; দ্বিজোত্তমজন্মহেতুত্বাচ্চ-“গায়ত্র্যা
১৪১৯
ব্রাহ্মণমসৃজত, ত্রিষ্টুভা রাজন্যম্, জগত্যা বৈশ্যম্” ইতি দ্বিজোত্তমস্য দ্বিতীয়ং জন্ম গায়ত্রীনিমিত্তম্; তস্মাৎ প্রধানা গায়ত্রী; “ব্রাহ্মণা ব্যুত্থায়, ব্রাহ্মণা অভিবদন্তি, স ব্রাহ্মণো বিপাপো বিজরোহবিচিকিৎসো ব্রাহ্মণো ভবতি” ইত্যুত্তমপুরুষার্থসম্বন্ধং দর্শয়তি। তচ্চ ব্রাহ্মণত্বং গায়ত্রীজন্মমূলম্, অতো বক্তব্যং গায়ত্র্যাঃ সতত্ত্বম্।
গায়ত্র্যা হি যঃ সৃষ্টো দ্বিজোত্তমো নিরঙ্কুশ এবোত্তমপুরুষার্থসাধনেহধিক্রিয়তে; অতস্তন্মূলঃ পরমপুরুষার্থসম্বন্ধঃ। তস্মাত্তদুপাসনবিধানায়াহ-ভূমিরন্তরিক্ষং দ্যৌঃ ইত্যেতান্যষ্টাবক্ষরাণি; অষ্টাক্ষরম্ অষ্টাবক্ষরাণি যস্য, তদিদমষ্টাক্ষরম্; হ বৈ প্রসিদ্ধ্যবদ্যোতকৌ। একং প্রথমম্, গায়ত্র্যৈ গায়ত্র্যাঃ, পদম্; বকারেণৈবাষ্টত্ব- পূরণম্। এতদু হ এব এতদেবাস্যা গায়ত্র্যাঃ পদং পাদঃ প্রথমঃ ভূম্যাদিলক্ষণস্ত্রৈ- লোক্যাত্মা, অষ্টাক্ষরত্বসামান্যাৎ; এবমেতৎ ত্রৈলোক্যাত্মকং গায়ত্র্যাঃ প্রথমং পদং যো বেদ, তস্যৈতৎ ফলং-বিদ্বান্-যাবৎ কিঞ্চিৎ ত্রিষু লোকেষু জেতব্যম্, তাবৎ সর্ব্বং হ জয়তি, যোহস্যা এতদেবং পদং বেদ ॥ ৩৫৬ ॥ ১ ॥
টীকা। বৃত্তমনুদ্য গায়ত্রীব্রাহ্মণস্য তাৎপয্যমাহ-ব্রহ্মণ ইত্যাদিনা। ছন্দোহন্তরেঘপি বিদ্যমানেষু কিমিতি গায়ক্র্যপাধিকমেব ব্রহ্মোপাস্তমিষ্যতে? তত্রাহ-সর্ব্বচ্ছন্দসামিতি। তৎপ্রাধান্যে হেতুমাহ-তৎপ্রয়োক্তিতি। তুল্যং প্রয়োতৃপ্রাণত্রাণসামর্থ্যং ছন্দোহস্তরাণামপীতি চেন্নেত্যাহ-ন চেতি। প্রমাণাভাবাদিতি ভাবঃ। কিংচ, প্রাণাত্মভাবো গায়্যা বিবক্ষ্যতে, প্রাণশ্চ সর্বেষাং ছন্দসাং নির্ব্বর্তকত্বাদাত্মা, তথা চ সর্ব্বচ্ছন্দোব্যাপকগায়ক্র্যপাধিকব্রহ্মো- পাসনমেবাত্র বিবক্ষিতমিত্যাহ-প্রাণাঃস্মৃতি। তদাত্মভূতা গাযত্রীভুক্তং ব্যক্তীকরোতি- প্রাণশ্চেতি। তৎপ্রয়োকৃগয়ত্রাণাদি গায়ত্রী। প্রাণশ্চ বাগাদীনাং ত্রাতা। ততশ্চৈক- লক্ষণদ্বাৎ তয়োস্তাদাত্মমিত্যর্থঃ। প্রাণগায়ত্র্যোস্তাদাত্ম্যে ফলিতমাহ-তস্মাদিতি। গায়ত্রী- প্রাধান্যে হেত্বন্তরমাহ-দ্বিজোত্তমেতি। তদেব স্ফুটয়তি-গায়ত্রেতি। তৎপ্রাধান্যে হেত্বন্তর- মাহ-ব্রাহ্মণা ইতি। কথমেতাবতা গায়ত্রীপ্রাধান্যং? তত্রাহ-তত্রেতি। সতো বক্তব্য- মিত্যত্রাতঃশব্দার্থমাহ-গায়ট্র্যা হীতি। অধিকারিত্বকৃতং কার্য্যমাহ-অত ইতি। তচ্ছব্দো গায়ত্রীবিষয়ঃ। গায়ত্রীবৈশিষ্ট্যং পরামৃন্য ফলিতমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। গায়ত্রীপ্রথমপাদস্য সপ্তাক্ষরত্বং প্রতীয়তে, ন ত্বষ্টাক্ষরত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-যকারেণেতি। গায়ত্রীপ্রথমপাদস্য ত্রৈলোক্য- নায়শ্চ সংখ্যাসামান্যপ্রযুক্তং কার্য্যমাহ-এতদিতি। গায়ত্রীপ্রথমপাদে ত্রৈলোক্যদৃষ্ট্যারোপস্থ্য প্রয়োজনং দর্শয়তি-এবমিতি। প্রথমপাদজ্ঞানে বিরাড়াত্মকত্বং ফলতীত্যর্থঃ ॥ ৩৫৬ ॥ ১ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—ইতঃপূর্ব্বে হৃদয়প্রভৃতি নানাবিধ উপাধিসহযোগে ব্রহ্মের উপাসনা অভিহিত হইয়াছে; অতঃপর এখন গায়ত্রীরূপ উপাধিবিশিষ্ট ব্রহ্মের উপাসনা বলিতে হইবে; এইজন্য পরবর্তী প্রকরণ আরব্ধ হইতেছে। ১
যত্রতত্র ছদ্ম আছে, তত্রতত্র গায়ত্রী ছন্দই সর্ব্বাপেক্ষা প্রধান; যাহারা
উহার প্রয়োগ বা গান করে, তাহাদিগকে ত্রাণ করে বলিয়া ঐ ছন্দের নাম ‘গায়ত্রী’, একথা নিজেই পরে বলিবেন।, অপরাপর ছন্দের যে, প্রয়োগকর্তা প্রাণকে পরিত্রাণ করিবার ক্ষমতা আছে, তাহাও নহে। গায়ত্রী হইতেছে প্রাণের আত্মস্বরূপ; প্রাণ আবার সমস্ত ছন্দের আত্মা; এবং ক্ষত্রত্রাণ হেতু প্রাণই ক্ষত্রস্বরূপ, একথাও বলা হইয়াছে। সেই প্রাণই আবার গায়ত্রী; এই- জন্য সেই প্রাণের উপাসনা-বিধান করা অভিপ্রেত হইতেছে। বিশেষতঃ উত্তম দ্বিজসৃষ্টির হেতুভূত বলিয়াও গায়ত্রীর উপাসনা বিধান করা আবশ্যক হইতেছে; ‘বিধাতা গায়ত্রী ছন্দোযোগে ব্রাহ্মণ সৃষ্টি করিয়াছেন, ত্রিষ্টুভছন্দে ক্ষত্রিয়, আর জগতীছন্দে বৈশ্য সৃষ্টি করিয়াছেন’, এই শ্রুতি দৃষ্টে জানা যায় যে, গায়ত্রী ছন্দটী দ্বিজোত্তম ব্রাহ্মণের দ্বিতীয় জন্মের হেতুভূত; এই কারণে গায়ত্রী হইতেছে ছন্দঃসমূহের মধ্যে প্রধানভূতা। তাহার পর, ‘ব্রাহ্মণগণ গায়ত্রী দ্বারা এষণাত্রয় হইতে ব্যুত্থিত হইয়া অভিবাদন করিয়া থাকেন; সেই ব্রাহ্মণই পাপ- বিনির্মুক্ত রজঃসম্পর্কশূন্য ও সন্দেহবর্জিত ব্রাহ্মণ হন‘। এখানে আবার যে ব্রাহ্মণের পক্ষে উত্তম পুরুষার্থ-লাভের যোগ্যতা প্রদর্শিত হইতেছে, সেই ব্রাহ্মণত্বের মূল কারণ হইতেছে গায়ত্রীর জন্ম; এই কারণে গায়ত্রীর তত্ত্ব-নির্দেশ করা আবশ্যক। ২
গায়ত্রী দ্বারা যে দ্বিজোত্তম ব্রাহ্মণ সৃষ্ট হন, তিনিই উত্তম পুরুষার্থ—মোক্ষ- সাধনে অব্যাহতভাবে অধিকার প্রাপ্ত হন; কাজেই গায়ত্রীকে পরম পুরুষার্থ- সিদ্ধির মূল বলিতে হয়। এই কারণেই সেই গায়ত্রীর উপাসনা বিধানার্থ বলিতেছেন ‘ভূমি’, ‘অন্তরিক্ষ’ ও ‘দ্যৌ’[এই শব্দত্রয়ে] আটটা অক্ষর আছে; গায়ত্রীর একটা(প্রথম) পাদও অষ্টাক্ষরযুক্ত, অর্থাৎ আটটা অক্ষর যাহাতে আছে, এইরূপ অষ্টাক্ষরযুক্ত বলিয়া প্রসিদ্ধ। এখানে[দ্যৌ শব্দের] ‘য’ অক্ষরটী পৃথক্ করিয়া অষ্টাক্ষর পূরণ করিতে হয়(১)। ইহাই উক্ত গায়ত্রীর ভূমি, অন্তরিক্ষ ও দ্যৌরূপী ত্রৈলোক্যাত্মক প্রথম পদ(পাদ) অর্থাৎ চারিভাগের প্রথমভাগ; কেননা, আট অক্ষরে গায়ত্রীর একটা পাদ হয়, আর ‘ভূমি, অন্তরিক্ষ
১৪২১
ও দ্যৌ’ এই শব্দত্রয়েও আট অক্ষর রহিয়াছে; এই সাম্যনিবন্ধন এই অষ্টাক্ষরকে গায়ত্রীর প্রথম পাদ বলা হইয়াছে। যে ব্যক্তি গায়ত্রীর উক্ত প্রকারে ত্রৈলো- ক্যাত্মক প্রথম পাদ জানে, তাহার ফল এইরূপ—ভূমি, অন্তরিক্ষ ও দ্যুলোক— এই লোকত্রয়ে যাহা কিছু জেতব্য(অধিকার করিবার বিষয়) আছে; যিনি এইরূপে গায়ত্রীর প্রথম পাদ জানেন, তিনি সে সমস্ত বিষয় জয় করেন, অর্থাৎ- ত্রিলোকে তাহার অনধিকৃত কোন বিষয় থাকে না ॥ ৩৫৬৷ ১ ॥
ঋচো যজুহৃষি সামানীত্যষ্টাবক্ষরাণ্যষ্টাক্ষরং হ বা একং গায়ত্র্যৈ পদমেতদু হৈবাস্যা এতৎ, স যাবতীয়ং ত্রয়ী বিদ্যা, তাবদ্ধ জয়তি যোহস্যা এতদেবং পদং বেদ ॥ ৩৫৭ ॥ ২ ॥
সরলার্থঃ।—‘ঋচঃ যজুংষি সামানি’ ইতি অষ্টৌ অক্ষরাণি; গায়ত্র্যৈ (গায়ত্র্যাঃ) একং পদং(চরণঃ) অষ্টাক্ষরং হ বৈ(অষ্টাক্ষরত্বেন প্রসিদ্ধম্); এতৎ(ঋগ্যজুঃসামলক্ষণম্) উ হ এব অস্যাঃ(গায়ত্র্যাঃ) এতৎ(দ্বিতীয়ং পদম্)। যঃ(জনঃ) অস্যাঃ(গায়ত্র্যাঃ) এতৎ পদং এবং(যথোক্তপ্রকারং) বেদ, সঃ(বিদ্বান্), ইয়ং ত্রয়ী বিদ্যা(বেদবিদ্যা) যাবতী[যাবৎপরিমাণা— যাবৎফলঃ), তাবৎ(তাবৎ ফলম্) জয়তি(লভতে) হ॥ ৩৫৭ ॥ ২ ॥
মূলানুবাদ:-ঋচঃ(ঋক্সসমূহ) ‘যজুংষি’(যজুঃসমূহ) ও ‘সামানি’(সামসমূহ) এই আটটা অক্ষর; গায়ত্রীর একটা(দ্বিতীয়) পদও অষ্টাক্ষরযুক্ত বলিয়া প্রসিদ্ধ। উক্ত বেদত্রয়ের আটটী নামাক্ষরই গায়ত্রীর সেই দ্বিতীয় পাদ। যে লোক এইরূপে গায়ত্রীর এই পাদটী জানেন, তিনি বেদত্রয়ে যে সমস্ত ফল অভিহিত আছে, সে সমস্ত ফল প্রাপ্ত হন ॥ ৩৫৭ ॥ ২ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তথা ঋচো যজুংষি সামানীতি। ত্রয়ীবিদ্যানামা- ক্ষরাণি এতান্যপ্যষ্টাবেব; তথৈবাষ্টাক্ষরং হ বা একং গায়ত্র্যৈ পদং দ্বিতীয়ম্। এতদু হৈবাস্যা এতৎ ঋগ্যজুঃসামলক্ষণম্, অষ্টাক্ষরত্বসামান্যাদেব। স যাবতীয়ং ত্রয়ী বিদ্যা, ত্রয্যা বিদ্যয়া যাবৎ ফলজাতমাপ্যতে, তাবদ্ধ জয়তি, যোহস্যা এতদগায়- এ্যাস্ত্রৈবিদ্যালক্ষণং পদং বেদ ॥ ৩৫৭ ॥ ২ ॥
টীকা। প্রথমে পাদে ত্রৈলোক্যদৃষ্টিবৎ দ্বিতীয়ে পাদে কর্তব্যা। ত্রৈবিদ্যদৃষ্টিরিত্যাহ-তথেতি। দৃষ্টিবিধুপযোগিত্বেন সংখ্যাসামান্তং কথয়তি-খচ ইতি। সংখ্যাসামান্যফলমাহ-এতদিতি। বিদ্যাফলং দর্শয়তি-স যাবতীভি। ৩৫৭।২।
ভাষ্যানুবাদ।—পূর্ব্বের ন্যায় ত্রয়ীবিদ্যার(বেদবিদ্যার) যে, ‘ঋক্’, ‘যজুংষি’ ও ‘সামানি’ এই নামাক্ষর, ইহাও আটটা; ‘গায়ত্রী’ ছন্দের একটা পদও(দ্বিতীয় পাদও) সেইরূপই অষ্টাক্ষর বলিয়া প্রসিদ্ধ। এইরূপে অক্ষরগত অষ্টত্বসাম্যনিবন্ধন ঋক্ যজুঃ সামই গায়ত্রীছন্দের দ্বিতীয় পদ। এই ত্রয়ী বিদ্যা যে পরিমাণ অর্থাৎ ত্রয়ী বিদ্যা দ্বারা যে পরিমাণ ফল লাভ করা যায়, সেই ব্যক্তি সেই সমস্ত ফল প্রাপ্ত হন, যিনি গায়ত্রীর উক্তপ্রকার বেদত্রয়স্বরূপে গায়ত্রীর দ্বিতীয় পাদ অবগত হন ॥ ৩৫৭ ॥ ২ ॥
প্রাণোহপানো ব্যান ইত্যষ্টাবক্ষরাণ্যষ্টাক্ষরং হ বা একং গায়ত্র্যৈ পদমেতদু হৈবাস্যা এতৎ, স যাবদিদং প্রাণি তাবদ্ধ জয়তি, যোহস্যা এতদেবং পদং বেদ, অথাস্যা এতদেব তুরীয়ং দর্শতং পদং পরোরজা য এষ তপতি, যদ্বৈ চতুর্থং তত্তুরীয়ং দর্শতং পদমিতি—দদৃশ ইব হ্যেষ পরোরজা ইতি সর্ব্বমু হ্যেবৈষ রজ উপর্যুপরি তপত্যেবৎ হৈব শ্রিয়া যশসা তপতি যোহস্যা এতদেবং পদং বেদ ॥ ৩৫৮ ॥ ৩ ॥
সরলার্থঃ।—তথা, ‘প্রাণঃ অপানঃ ব্যানঃ’ ইতি অষ্টৌ অক্ষরাণি; গায়ত্র্যৈ (গায়ত্র্যাঃ) একং পদং(তৃতীয়ং পদং) অষ্টাক্ষরং হ বৈ(প্রসিদ্ধম্); এতৎ উ হ এব অস্যাঃ(গায়ত্র্যাঃ) এতৎ(তৃতীয়ং পদম্)। যঃ(জনঃ) অস্যাঃ এতৎ (তৃতীয়ং পদং) এবং(যথোক্তেন প্রকারেণ) বেদ, সঃ(বিদ্বান্) ইদং প্রাণি (প্রাণবদ্ বস্তু) যাবৎ(যাবৎপরিমাণং), তাবৎ ত(তাবদেব—সর্ব্ব প্রাণি- জাতং) জয়তি।
অথ(অনন্তরম্)[চতুর্থং পদমুচ্যতে-] অস্যাঃ(গায়ত্র্যাঃ) এতদ্ এব তুরীয়ং(চতুর্থং) দর্শতং(দৃশ্যমানমিব) পদম্।[কিং তৎ?] যঃ এবঃ পরোরজাঃ(রজসঃ পরঃ রজঃসম্বন্ধশূন্যঃ সূর্য্যঃ) তপতি; যৎ বৈ চতুর্থং (পদং), তৎ তুরীয়ং দর্শতং পদম্—ইতি।[কুতঃ দর্শতম্?] হি(যতঃ) এষঃ(মণ্ডলমধ্যস্থঃ পুরুষঃ) দদৃশে ইব দৃশ্যতে ইব।[কুতশ্চ] পরোরজা ইতি? হি(যস্মাৎ) সর্ব্বম্ রজঃ(রজোগুণাত্মকং জগৎ) উপর্যুপরি(অধিপতি- রূপেণ) এষঃ তপতি,[অতঃ পরোরজাঃ]। যঃ অস্যাঃ(গায়ত্র্যাঃ) এতৎ (তুরীয়ং) পদং এবং বেদ,(স বিদ্বান্) এবং হ(এবমেব) শ্রিয়া যশসা তপতি॥ ৩৫৮ ॥ ৩॥
১৪২৩
মূলানুবাদ?—পূর্ব্বের ন্যায় প্রাণ, অপান ও ব্যান, এই শব্দত্রয়ে আটটা অক্ষর আছে, গায়ত্রীর তৃতীয় পদেও আটটা অক্ষর আছে; এইরূপ সংখ্যা-সাম্যনিবন্ধন প্রাণাদি আট অক্ষরই গায়ত্রীর তৃতীয় পাদস্বরূপ। যে লোক এইপ্রকার গায়ত্রীর তৃতীয় পাদ জানেন, তিনি জগতে যত প্রাণী আছে, সে সমুদয়কে জয় করেন।
অতঃপর গায়ত্রীর চতুর্থ পাদ কথিত হইতেছে—ইহাই গায়ত্রীর দর্শত ও পরোরজা চতুর্থ পাদ—এই যিনি তাপ দিতেছেন। যাহা চতুর্থ, তাহাই তুরীয় দর্শত; যেহেতু যেন দৃষ্টই হইতেছেন,[বাস্তবিক- পক্ষে কিন্তু মণ্ডলমধ্যবর্তী পুরুষ দৃষ্ট হন না; এই কারণে তাহা দর্শত]; এবং যেহেতু রজোগুণময় এই সমস্ত জগতের উপরে উপরে অর্থাৎ অধিপতিরূপে অবস্থান করেন, সেইহেতু তিনি পরোরজাঃ। যে লোক এই প্রকারে গায়ত্রীর চতুর্থ পাদ অবগত হন, তিনিও শ্রী ও যশের দ্বারা সমস্ত জগৎকে তাপ দিয়া থাকেন ॥ ৩৫৮ ॥ ৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তথা প্রাণঃ অপানঃ ব্যানঃ, এতান্যপি প্রাণাদ্যভি- ধানাক্ষরাণ্যষ্টৌ, তচ্চ গায়ত্র্যাস্তৃতীয়ং পদম্; যাবদিদং প্রাণিজাতম্, তাবদ্ধ জয়তি, যোহস্যা এতদেবং গায়ত্র্যাস্তৃতীয়ং পদং বেদ। অথ অনন্তরং গায়ত্র্যাস্ত্রিপদায়াঃ শব্দাত্মিকায়াস্তরীয়ং পদমুচ্যতে অভিধেয়ভূতম্—অথ, অস্যাঃ প্রকৃতায়া গায়ত্রা এতদেব বক্ষ্যমাণং তুরীয়ং দর্শতং পদম্, পরোরজা য এব তপতি। ১
তুরীয়মিত্যাদিবাক্য-পদার্থং স্বয়মেব ব্যাচষ্টে শ্রুতিঃ-যদ্বৈ চতুর্থং প্রসিদ্ধং লোকে, তদিহ তুরীয়শব্দেনাভিধীয়তে। দর্শতং পদমিত্যস্য কোহর্থ ইত্যুচ্যতে -দদৃশ ইব, দৃশ্যত ইব হি এষ মণ্ডলান্তর্গতঃ পুরুষঃ, অতো দর্শতং পদমুচ্যতে। পরোরজা ইত্যাস্য পদস্য কোহর্থ ইত্যুচ্যতে-সর্ব্বং সমস্তং উ হি এব এষ মণ্ডলস্থঃ পরুষঃ রজঃ রজোজাতং সমস্তং লোকমিত্যর্থঃ; উপর্যুপরি আধিপত্য- ভাবেন সর্ব্ব লোকং রজোজাতং তপতি। উপর্যুপরীতি বীপ্সা সর্ব্বলোকাধি- পত্যখ্যাপনার্থা। ননু সর্ব্বশব্দেনৈব সিদ্ধত্বাদ্বীপ্সানণিকা? নৈষ দোষঃ, যেষা- মুপরিষ্টাৎ সবিতা দৃশ্যতে, তদ্বিষয় এব সর্ব্বশব্দঃ স্যাদিত্যাশঙ্কানিবৃত্ত্যর্থা বীপ্সা, “যে চামুষ্মাৎ পরাঞ্চো লোকাস্তেষাঞ্চেষ্টে দেবকামানাচ” ইতিশ্রুত্যনুরোধাৎ; তস্মাৎ সর্বাববোধার্থা বীপ্সা। যথাসৌ সবিতা সর্বাধিপত্যলক্ষণয়া শ্রিয়া
যশসা চ খ্যাত্যা তপতি, এবং হৈব শ্রিয়া যশসা চ তপতি, যোহস্যা এতদেবং তুরীয়ং দর্শতং পদং বেদ ॥ ৩৫৮ ॥ ৩॥.
টীকা। প্রথমদ্বিতীয়পাদয়োস্ত্রৈলোক্যত্রৈবিদ্যদৃষ্টিবৎ তৃতীয়ে পাদে প্রাণাদিদৃষ্টিঃ কর্তব্যেত্যাহ -তথেতি। ননু ত্রিপদা গায়ত্রী ব্যাখ্যাতা চেৎ, কিমুত্তরগ্রন্থেনেত্যাশঙ্ক্যাহ-অথেতি। শব্দাত্মক- গায়ত্রী-প্রকরণবিচ্ছেদার্থোহথশব্দঃ। যদ্বৈ চতুর্থমিত্যাদিগ্রন্থস্য পূর্ব্বেণ পৌনরুক্ত্যমাশঙ্ক্যাহ- তুরীয়মিতি। ইহেতি প্রকৃতবাক্যোক্তিঃ। যোগিভির্দৃশ্যত ইবেতি লক্ষ্যতে, ন তু মুখ্যমীশ্বরস্য দৃশ্যত্বমতীন্দ্রিয়ত্বাদিত্যাহ-দৃশ্যত ইবেতি। ‘লোকা রজাংস্যুচ্যন্তে’ ইতি শ্রুত্যন্তরমাশ্রিত্যাহ- সমস্তমিতি। আধিপত্যভাবেনেতি কথং ব্যাখ্যানমিত্যাশঙ্ক্যাহ-উপর্যুপরীতি। বীপ্সামাক্ষি- পতি-নন্বিতি। সর্ব্বং রজস্তপতীত্যেবসর্বাধিপত্যস্থ্য সিদ্ধত্বাদ ব্যর্থা বীপ্সেতি চোদ্যং দূষয়তি-নৈষ দোষ ইতি। যেষাং লোকানামিতি যাবৎ। মণ্ডলপুরুষন্য নিরঙ্কুশমাধিপত্য- মিত্যত্র ছান্দোগ্যশ্রুতিমনুকূলয়তি-যে চেতি। বীপ্সার্থবত্ত্বমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। চতুর্থ- পাদজ্ঞানস্য ফলবত্ত্বং কথয়তি-যথেতি ॥ ৩৫৮॥৩॥
ভাষ্যানুবাদ।—পূর্ব্বের ন্যায় প্রাণাদির অভিধায়ক প্রাণ, অপান ও ব্যান, এই তিনটী নামেতেও আটটা অক্ষর আছে; সেই অক্ষরসংঘই গায়ত্রীর তৃতীয় পাদ। যিনি গায়ত্রীর এই তৃতীয় পাদকে এইরূপে জানেন, তিনি, জগতে যে সমস্ত প্রাণী আছে, সে সমুদয়কে জয় করেন। অতঃপর শব্দাত্মক ত্রিপদা গায়ত্রীর প্রতিপাদ্য চতুর্থ পাদ কথিত হইতেছে—এই যে প্রস্তাবিত, ইহাই—যাহার কথা পরে বলা হইবে, তাহাই তুরীয়(চতুর্থ) দর্শত পদ, এই যিনি পরোরজারূপে তাপ দিতেছেন।
এখন শ্রুতি নিজেই ‘তুরীয়’ ইত্যাদি বাক্যান্তর্গত পদগুলির অর্থ বর্ণনা করিতেছেন। এই আদিত্যমণ্ডলের মধ্যবর্তী পুরুষ যেন দৃষ্টই হইতেছেন, এই জন্য তাহাকে ‘দর্শত’ পদ বলা হইতেছে। ‘পরোরজাঃ’ এই পদটার অর্থ কি, তাহা বলিতেছেন-যেহেতু এই মণ্ডলমধ্যস্থ পুরুষ রজঃ-রজোগুণজাত সমস্ত লোকের উপরে উপরে থাকিয়া অধিপতিরূপে তাপ দিয়া থাকেন। ‘উপর্য- পরি’ এইরূপে বীপ্সা বা দ্বিরুক্তির উদ্দেশ্য-সর্ব্বলোকের উপরে তাঁহার আধিপত্য বা প্রভুত্ব জ্ঞাপন করা। ভাল, ‘সর্ব্ব’ পদ থাকাতেই যখন বীপ্সার প্রয়োজন সিদ্ধ হইতেছে, তখন বীপ্সার আর প্রয়োজন কি? না, ইহা দোষাবহ হইতেছে না; কেননা, এরূপ আশঙ্কাও হইতে পারিত যে, যাহাদের উপরিভাগে সূর্যদেব দৃষ্ট হইয়া থাকেন, ‘সর্ব্ব’ শব্দটা বোধ হয় কেবল সেই সমুদয় লোকেরই বোধক; সেই আশঙ্কা অপনয়নের নিমিত্ত এখানে বীপ্সার আবশ্যক রহিয়াছে; কারণ, অন্য শ্রুতি বলিয়াছেন-‘এই
১৪২৫
সূর্য্যমণ্ডলের উপরে যে সমুদয় লোক(ভোগস্থান) বিদ্যমান আছে, সেই সমুদয় লোকের এবং দেবগণের কাম্য বিষয়সমূহেরও তিনি ‘ঈশ্বর’; অতএব বুঝিতে হইবে যে, নিখিল লোক বুঝাইবার নিমিত্তই এখানে বীপ্সা প্রযুক্ত হইয়াছে। এই সূর্য্যদেব যেরূপ সর্বাধিপত্যরূপ শ্রী ও যশঃ—লোকপ্রতিষ্ঠা দ্বারা তাপ দিয়া থাকেন, যিনি গায়ত্রীর এই চতুর্থ দর্শত পদ অবগত হন, তিনিও সেইরূপ শ্রী ও যশঃ দ্বারা তাপ দিয়া থাকেন ॥ ৩৫৮ ॥ ৩ ॥
সৈষা গায়ত্র্যেতস্মিন্তুরীয়ে দর্শতে পদে পরোরজসি প্রতিষ্ঠিতা, তদ্বৈ তৎ সত্যে প্রতিষ্ঠিতং, চক্ষুর্ব্বে সত্যম্,-চক্ষুর্হি বৈ সত্যম্, তস্মাদ্ যদিদানীং দ্বৌ বিবদমানাবেয়াতাম্—অহমদর্শম- হমশ্রৌষমিতি, য এব ক্রয়াদহমদর্শমিতি, তস্মা এব শ্রদ্দধ্যাম। তদ্বৈ তৎ সত্যং বলে প্রতিষ্ঠিতম্, প্রাণো বৈ বলম্, তৎ প্রাণে প্রতিষ্ঠিতম্, তস্মাদাহুর্ব্বলংসত্যাদোগীয় ইত্যেবম্ বেষা গায়ত্র্যধ্যাত্মং প্রতিষ্ঠিতা, সা হৈষা গয়াস্তত্রে, প্রাণা বৈ গয়াস্তৎ প্রাণাস্তত্রে, তদযদগয়াস্তত্রে তস্মাদ্ গায়ত্রী নাম, স যামেবামু সাবিত্রীমন্বাহৈবৈষ সা, স যসমা অন্বাহ তস্য প্রাণা- স্ত্রায়তে ॥ ৩৫৯ ॥ ৪ ॥
সরলার্থঃ।—সা এষা(উক্তা ত্রিপদা) গারত্রী এতস্মিন্(যথোক্তে) তুরীয়ে পরোরজসি দর্শতে পদে প্রতিষ্ঠিতা। তৎ(তুরীয়ং পদং) তৎ(তস্মিন্) সত্যে প্রতিষ্ঠিতম্। চক্ষুঃ বৈ(প্রসিদ্ধৌ) সত্যম্; হি(যস্মাৎ) চক্ষুঃ বৈ(এব) সত্যম্; তস্মাৎ হেতোঃ, ইদানীমপি যৎ(যদি) অহং অদর্শং(দৃষ্টবান্ অস্মি), অহং অশ্রৌষম্(শ্রুতবানস্মি) ইতি বিবদমানৌ দ্বৌ এয়াতাং(আগচ্ছতঃ); [তত্র] যঃ এবং ক্রয়াৎ—অহম্ অদর্শম্ ইতি, তস্মৈ(দর্শকায়) এব শ্রদ্দধ্যাম (শ্রদ্ধাং কুৰ্ম্মঃ, ন পুনঃ শ্রুতবতে)। তৎ সত্যং বলে প্রতিষ্ঠিতম্; প্রাণঃ বৈ বলম্, তৎ(সত্যং) প্রাণে প্রতিষ্ঠিতম্; তস্মাৎ হেতোঃ বলং সত্যাদ্ ওগীয়ঃ (ওজীয়ঃ বলবত্তরম্) ইতি আহুঃ(কথয়ন্তি)[ঋষয়ঃ]।
এবং(উক্তেন প্রকারেণ) উ(অপি) এষা গায়ত্রী অধ্যাত্মং(দেহসম্বন্ধিনি প্রাণে) প্রতিষ্ঠিতা। সা এষা গায়ত্রী হ গয়ান্ তত্রে(ত্রাতবতী)।[গয়াঃ কে? তত্রাহ—] প্রাণাঃ বৈ গয়াঃ, তৎ প্রাণান্(গায়কান্) তত্রে; তৎ(ততশ্চ) যৎ
(যস্মাৎ) গয়ান্ তত্রে(ত্রায়তে), তস্মাৎ গায়ত্রী নাম(গায়্যা গায়ত্রীত্বং প্রসিদ্ধমিত্যর্থঃ)। সঃ(আচার্য্যঃ) যাৎ অমুং সাবিত্রীং(সবিতৃদেবতাকাং গায়ত্রীং) এব অন্বাহ(উপনীতং মাণবকং উপদিশতি), সা(সাবিত্রী) এষা (প্রাণাধিষ্ঠিতা গায়ত্রী) এব(নান্যা); সঃ(আচার্য্যঃ) যস্মৈ(মাণবকায়) অন্বাহ, তস্য প্রাণান্ ত্রায়তে(অধর্মাৎ রক্ষতীত্যর্থঃ) ॥ ৩৫৯ ॥ ৪ ॥
মূলানুবাদ।—এই যে, পূর্ব্বে ত্রিপদা গায়ত্রীর কথা বলা হইয়াছে, সেই গায়ত্রী এই পরোরজা দর্শতনামক তুরীয়(চতুর্থ) পদে প্রতিষ্ঠিত আছে; সেই চতুর্থ পদটী আবার সত্যে প্রতিষ্ঠিত। [সত্য কি?] চক্ষুই সত্য বলিয়া প্রসিদ্ধ; সেই কারণেই এখনও যদি দুইজন লোক[কোন বিষয় লইয়া] বিবাদ করিতে করিতে আইসে, তন্মধ্যে একজনে যদি বলে, আমি ইহা দেখিয়াছি— প্রত্যক্ষ করিয়াছি, আর অপর ব্যক্তি যদি বলে, আমি ইহা শুনিয়াছি; তাহা হইলে, তাহাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বলে, আমি প্রত্যক্ষ করিয়াছি, সেই প্রত্যক্ষদর্শীর কথাতেই আমরা শ্রদ্ধা করিয়া থাকি। সেই তুরীয় পদের আশ্রয়ভূত সেই সত্যও আবার বলে প্রতিষ্ঠিত।[বল কি?] না, প্রাণই বল; কেননা, বল সাধারণতঃ প্রাণেরই অধীন; সেই কারণেই লোকে সত্য অপেক্ষাও প্রাণের শ্রেষ্ঠত্ব নির্দেশ করিয়া থাকে; উক্ত গায়ত্রী এই প্রকারে অধ্যাত্ম প্রাণে প্রতিষ্ঠিত রহিয়াছে। <সেই এই গায়ত্রী গয়সমূহকে ত্রাণ করে (দুঃখরহিত করে); প্রাণসমূহই গয়(গায়ত্রীর গায়ক); সেই প্রাণরূপী গয়সমূহকে ত্রাণ করে। যেহেতু গয়সমূহকে ত্রাণ করে, সেই হেতুই ‘গায়ত্রী’ নাম প্রসিদ্ধ। আচার্য্য যে, উপনীত বালককে এই সাবিত্রীর—সূর্য্যদৈবতক গায়ত্রীর যথানিয়মে উপদেশ করেন, এই গায়ত্রীই সেই সাবিত্রী। তিনি যাহাকে উপদেশ করেন, তাহার প্রাণকে পরিত্রাণ করেন। ৩৫৯ ॥ ৪ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—সৈষা ত্রিপদোক্তা যা ত্রৈলোক্য-ত্রৈবিদ্য-প্রাণলক্ষণা গায়ত্রী, এতস্মিংশ্চতুর্থে তুরীয়ে দর্শতে পদে পরোরজসি প্রতিষ্ঠিতা, মূর্তামুর্তরসত্বা- দাদিত্যম্ভ; রসাপায়ে হি বস্তু নীরসমপ্রতিষ্ঠিতং ভবতি; যথা কাষ্ঠাদি দগ্ধসারম্,
১৪২৭
তদ্বৎ। তথা মূর্তামূর্তাত্মকং জগত্রিপদা গায়ত্রী আদিত্যে প্রতিষ্ঠিতা, তদ্রসত্বাৎ সহ ত্রিভিঃ পাদৈঃ; তদ্বৈ তুরীয়ং পদঞ্চ সত্যে প্রতিষ্ঠিতম্। কিং পুনস্তৎ সত্যম্? উচ্যতে,-চক্ষুর্ব্বে সত্যম্; কথং চক্ষুঃ সত্যমিত্যাহ-প্রসিদ্ধমেতৎ চক্ষুর্হি বৈ সত্যম্। কথং প্রসিদ্ধতেত্যাহ-তস্মাদ, যদ্ যদি, ইদানীমেব দ্বৌ বিবদমানৌ বিরুদ্ধং বদমানৌ এয়াতামাগচ্ছেয়াতাম্-অহমদর্শং দৃষ্টবানম্মীতি, অন্য আহ- অহমশ্রৌষম্-ত্বয়া দৃষ্টং ন তথা তদ্বস্থিতি; তয়োর্য এবং ক্রয়াৎ-অহমদ্রাক্ষমিতি, তস্মা এব শ্রদ্দধ্যাম, ন পুনর্যো ক্রয়াৎ অহমশ্রৌষমিতি। শ্রোতুমৃষা শ্রবণমপি সম্ভবতি, ন তু চক্ষুষো মৃষা দর্শনম্। তস্মান্ন অশ্রৌষমিত্যুক্তবতে শ্রদ্দধ্যাম। তস্মাৎ সংপ্রতিপত্তিহেতুত্বাৎ সত্যং চক্ষুঃ; তস্মিন্ সত্যে চক্ষুষি সহ ত্রিভিরিতরৈঃ পাদৈস্তরীয়ং পদং প্রতিষ্ঠিতমিত্যর্থঃ। উক্তঞ্চ,-“স আদিত্যঃ কস্মিন্ প্রতিষ্ঠিত ইতি, চক্ষুষি” ইতি। ১
তদ্বৈ তুরীয়পদাশ্রয়ং সত্যং বলে প্রতিষ্ঠিতম্। কিং পুনস্তদ্বলম্? ইত্যাহ- প্রাণো বৈ বলম্; তস্মিন্ প্রাণে বলে প্রতিষ্ঠিতং সত্যম্। তথাচোক্তম্-“সূত্রে তদোতঞ্চ প্রোতঞ্চ” ইতি। যম্মাদ্বলে সত্যং প্রতিষ্ঠিতম্, তস্মাদাহুঃ-বলং সত্যাদোগীয়ঃ ওজীয়ঃ ওজন্তরমিত্যর্থঃ। লোকেহপি যস্মিন্ হি যদাশ্রিতং ভবতি, তস্মাদাশ্রিতাদাশ্রয়স্য বলবত্তরত্বং প্রসিদ্ধম্; ন হি দুর্ব্বলং বলবতঃ কচিদাশ্রয়ভূতং দৃষ্টম্। এবমুক্তন্যায়েন তু এষা গায়ত্রী অধ্যাত্মমধ্যাত্মে প্রাণে প্রতিষ্ঠিতা। সৈষা গায়ত্রী প্রাণঃ; অতো গায়ত্র্যাং জগৎ প্রতিষ্ঠিতম্; যস্মিন্ প্রাণে সর্ব্বে দেবা একং ভবন্তি, সর্ব্বে বেদাঃ, কর্মাণি ফলঞ্চ, সৈবং গায়ত্রী প্রাণরূপা সতী জগত আত্মা। ২
সাহ এষা গয়ান্ তত্রে ত্রাতবতী। কে পুনর্গয়াঃ? প্রাণা বাগাদয়ো বৈ গয়াঃ, শব্দকরণাৎ; তান্ তত্রে সৈষা গায়ত্রী; তৎ তত্র যৎ যম্মাদ গয়ান্ তত্রে, তস্মাদ গায়ত্রী নাম; গয়ত্রাণাদ গায়ত্রীতি প্রথিতা। স আচার্য্য উপনীয় মাণব- কমষ্টবর্ষং যামের অমুং সাবিত্রীং সবিতৃদেবতাকাম্ অন্বাহ—পচ্ছঃ অর্দ্ধর্চ্চশঃ সমস্তাঞ্চ, এষৈব স সাক্ষাৎ প্রাণো জগত আত্মা মাণবকায় সমর্পিতা ইহ ইদানীং ব্যাখ্যাতা, নান্যা। স আচার্য্যঃ যস্মৈ মাণবকায় অন্বাহ অনুবক্তি, তস্য মাণবকস্য গয়ান্ প্রাণান্ ত্রায়তে নরকাদিপতনাৎ ॥ ৩৫৯ ॥ ৪ ॥
টীকা। অভিধানাভিধেয়াত্মিকাং গায়ত্রীং ব্যাখ্যায়াভিধানস্যাভিধেয়তন্ত্রত্বমাহ-সৈষেতি। আদিত্যে প্রতিষ্ঠিতা মূর্তামূর্তাত্মিকা গায়ত্রীত্যত্র হেতুমাহ-মূর্তেতি। ভবতু মূর্তামূর্তব্রাহ্মণানু- সারেণাদিত্যস্য তৎসারত্বং, তথাপি কথং গায়ত্রান্তৎপ্রতিষ্ঠত্বং, পৃথগেব সা মূর্তাদ্যাত্মিকা গায়ত্রী
স্যাদপ্রতিষ্ঠিতেতি শেষঃ। সারাদৃতে স্বাতন্ত্র্যেণ মূর্ত্তাদেন স্থিতিরিতি স্থিতে ফলিতমাহ- তথেতি। আদিত্যস্য স্বাতন্ত্র্যং বারয়তি-তদ্বৈ ইতি। তৎশব্দস্যানৃতবিপরীতবাগ্বিষয়ত্বং শঙ্কাদ্বারা বারয়ন্তি-কিং পুনরিত্যাদিনা। চক্ষুষঃ সত্যত্বে প্রমাণাভাবং শঙ্কিত্বা দূষয়তি- কথমিত্যাদিনা। শ্রোতরি শ্রদ্ধাভাবে হেতুমাহ-শ্রোতুরিতি। দ্রষ্টুরপি মৃষাদর্শনং সংভবতীত্যা- শঙ্ক্যাহ-ন ত্বিতি। কচিৎ কথঞ্চিৎ সংভবেহপি শ্রোত্রপেক্ষয়া দ্রষ্টরি বিশ্বাসো দৃষ্টো লোকন্যে- ত্যাহ-তস্মান্নেতি। বিশ্বাসাতিশয়ফলমাহ-তস্মাদিতি। আদিত্যস্য চক্ষুষি প্রতিষ্ঠিতত্বং পঞ্চমেহপি প্রতিপাদিতমিত্যাহ-উক্তং চেতি। ১
সত্যস্য স্বাতন্ত্র্যং প্রত্যাহ—তদ্বৈ ইতি। সত্যস্য প্রাণপ্রতিষ্ঠিতত্বং পাঞ্চমিকমিত্যাহ— তথাচেতি। সূত্রং প্রাণো বায়ুঃ। তচ্ছব্দেন সত্যশব্দিতসর্ব্বভূতগ্রহণম্। সত্যং বলে প্রতিষ্ঠিতমিত্যত্র লোকপ্রসিদ্ধিং প্রমাণয়তি—তস্মাদিতি। তদেবোপপাদয়তি—লোকেহপীতি। তদেব ব্যতিরেকমুখেনাহ—ন হীতি। এতেন গায়এ্যাঃ সূত্রাত্মত্বং সিদ্ধমিত্যাহ—এবমিতি। তস্মিন্নর্থে বাক্যং যোজয়তি—সৈযেতি। গায়এ্যাঃ প্রাণত্বে কিং সিধ্যতি, তদাহ—অত ইতি। তদেব স্পষ্টয়তি—যস্মিন্নিত্যাদিনা। ২
গায়ত্রীনামনির্বচনেন তস্যা জগজ্জীবনহেতুত্বমাহ—সা হৈষেতি। প্রয়োক্তশরীরং সপ্তম্যর্থঃ। গায়ন্তীতি গয়া বাগুপলক্ষিতাশ্চক্ষুরাদয়ঃ। ব্রাহ্মণ্যমূলত্বেন স্তুত্যর্থঃ গায়্যা এব সাবিত্রীত্বমাহ— স আচার্য্য ইতি। পচ্ছঃ পাদশঃ। সাবিত্যা গায়ত্রীত্বং সাধয়তি--স ইতি। অতঃ সাবিত্রী গায়ত্রীতি শেষঃ ॥ ৩৫৯ ॥ ৪ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—পূর্ব্বে যে ত্রৈলোক্যাত্মক, ত্রয়ীবিদ্যাত্মক ও প্রাণ- স্বরূপ গায়ত্রীর কথা বলা হইয়াছে, সেই ত্রিপদা গায়ত্রী পরোরজা ও দর্শত- স্বরূপ এই চতুর্থ পদে প্রতিষ্ঠিত; কেননা, জগতে মূর্ত(স্থূল আকৃতি-সম্পন্ন) ও অমূর্ত যত পদার্থ আছে, এই আদিত্য সে সমুদয়ের রস বা সারভূত। রসের অভাবে বস্তুমাত্রই নীরস হইয়া অবস্থানের অযোগ্য হইয়া থাকে; যেমন দগ্ধ হইলে কাষ্ঠাদির অবস্থা হয়, ইহাও সেইরূপ। মূর্তামূর্ত জগদাত্মক ত্রিপদা গায়ত্রীও পাদত্রয়ের সহিত নিজের সারভূত আদিত্যে অবস্থিত আছে; সেই চতুর্থ পদটাও আবার সত্যে প্রতিষ্ঠিত। সেই সত্য পদার্থ টী কি? তাহা বলা হইতেছে—চক্ষু হইতেছে সেই সত্যপদার্থ। ভাল, চক্ষু সত্য- স্বরূপ কিরূপে? তাহা বলা যাইতেছে—যেহেতু এখনও যদি দুইজন বিবদমান—বিরুদ্ধ কথা বলিতে বলিতে আসিয়া উপস্থিত হয়; একজন বলে— আমি দেখিয়াছি—চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করিয়াছি, আর অপরে যদি বলে—আমি শুনিয়াছি—তুমি যাহা দেখিয়াছ, তাহা সেরূপ নহে। এই উভয়ের মধ্যে যে ব্যক্তি এইরূপ বলে যে, আমি প্রত্যক্ষ করিয়াছি, আমরা তাহাকেই শ্রদ্ধা বা
১৪২৯
বিশ্বাস করিয়া থাকি; কিন্তু যে ব্যক্তি ‘আমি শুনিয়াছি’ বলে, তাহাকে শ্রদ্ধা করি না; কেননা, শ্রোতার ভুল শ্রবণও সম্ভব হইতে পারে, কিন্তু চক্ষু দ্বারা ভ্রান্ত দর্শন সম্ভব হয় না। সেইহেতু সত্যপ্রতীতির হেতু বা উপায় বলিয়া চক্ষু হইতেছে—সত্য। গায়ত্রীর চতুর্থ পদটি অপর পত্রত্রয়ের সহিত এই চক্ষুঃ- স্বরূপ সত্যে প্রতিষ্ঠিত আছে; অন্যত্রও উক্ত আছে যে, ‘সেই আদিত্য কোথায় প্রতিষ্ঠিত?[উত্তর—] চক্ষুতে[প্রতিষ্ঠিত]’ ইতি। ১।
সেই তুরীয় পদের আশ্রয়ভূত সত্যও আবার বলে প্রতিষ্ঠিত। সেই বল আবার কে? হাঁ, বলা যাইতেছে—প্রাণ হইতেছে বল; সেই প্রাণরূপী বলে সত্য প্রতিষ্ঠিত আছে, ‘সূত্রসংজ্ঞক প্রাণে সেই বল ওত-প্রোত রহিয়াছে’। এই শ্রুতিতেও সেই কথাই উক্ত হইয়াছে। যেহেতু বলেতেই সত্য প্রতিষ্ঠিত, সেই হেতু বিজ্ঞ লোকেরা বলিয়া থাকেন যে, সত্য অপেক্ষাও বল ওগীয় অর্থাৎ সমধিক শক্তিমান্। আশ্রিত অপেক্ষা আশ্রয়ের যে, অধিক বলবত্তা, ইহা লোকপ্রসিদ্ধও বটে; জগতে কোথাও দুর্ব্বলকে বলবানের আশ্রয় হইতে দেখা যায় না। যথোক্ত প্রণালীক্রমে এই গায়ত্রী অধ্যাত্ম অর্থাৎ দেহসম্বদ্ধ প্রাণে আশ্রিত রহিয়াছে। এই গায়ত্রীই প্রাণস্বরূপ; এই কারণে সমস্ত জগৎই গায়ত্রীতে প্রতিষ্ঠিত। ‘সমস্ত দেবতা, সমস্ত বেদ, সমস্ত কৰ্ম্মফল যে প্রাণেতে একীভূত হইয়া যায়,’ এই গায়ত্রী সেই প্রাণস্বরূপ বলিয়াই জগতেরও আত্মস্বরূপ। ২
সেই এই গায়ত্রীই গয়সমূহকে ত্রাণ করিয়াছে। ‘গয়’ কাহারা? না, প্রাণসমূহ; শব্দোচ্চারণের সাধন বলিয়া ইন্দ্রিয়গণ ‘গয়’ নামে প্রসিদ্ধ। যেহেতু গয়সমূহকে ত্রাণ করিয়াছে ও করিতেছে, সেই হেতু ‘গায়ত্রী’ নাম প্রসিদ্ধ। আচার্য্য(১) অষ্টবর্ষবয়স্ক বালককে উপনীত করিয়া এই যে সাবি- ত্রীকে—সূর্য্যদৈবতক গায়ত্রীকে এক এক পাদ, অর্দ্ধ পাদ ও সমস্ত বা ত্রিপাদ করিয়া উপদেশ করেন, এখানে যে গায়ত্রীর কথা বর্ণিত হইল, সাক্ষাৎ প্রাণ-
(১) তাৎপর্য্য—মনু বলিয়াছেন—“উপনীয় দদদ্বেদ আচার্য্যঃ পরিকীর্তিতঃ।” অর্থাৎ যিনি উপনয়ন সংস্কার সম্পাদন করিয়া বেদবিদ্যা শিক্ষা দেন, তিনি ‘আচার্য্য’। এইরূপ আচার্য্যই যথার্থ গুরুপদবাচ্য। ইহা ছাড়া আর একপ্রকার আচার্য্যের লক্ষণ আছে, তাহা এই—“আচিনোতি চ শাস্ত্রার্থম্ আচারে স্থাপয়ত্যপি। স্বয়মাচরতে যম্মাদাচার্য্যন্তেন কীর্তিতঃ।” অর্থাৎ যিনি শাস্ত্রের সারার্থ সংগ্রহ করেন, লোককে সদাচার শিক্ষা দেন, এবং নিজেও তদনুরূপ আচরণ করেন, তাঁহাকে আচার্য্য বলা হয়।
স্বরূপ জগদাত্মা সেই গায়ত্রীকেই তিনি মাণবককে প্রদান করিয়া থাকেন, অন্য কিছু নহে। সেই আচার্য্য, যে মাণবককে(উপনীত বালকে) এইরূপে উপদেশ প্রদান করেন, সেই মাণবককে(প্রাণসমূহকে) নরক-নিপাত হইতে পরিত্রাণ করিয়া থাকেন ॥৩৫৯৷৷৪৷৷
তাং হৈতামেকে সাবিত্রীমনুষ্টু ভমন্বাহুর্ব্বাগনুষ্টু বেতদ্বাচমনু- ক্রম ইতি, ন তথা কুৰ্য্যাদগায়ত্রীমেব সাবিত্রীমনুব্রূয়াৎ, যদিহ বা অপ্যেবংবিদ্ বহিব প্রতিগৃহ্লাতি ন হৈব তদগায়ত্র্যা একঞ্চন পদং প্রতি ॥ ৩৬০ ॥ ৫ ॥
সরলার্থঃ।-[অত্র প্রতীতিপ্রভেদ উচ্যতে-“তাং হৈতাম্” ইত্যা- দিনা।] একে(কেচিৎ শাখিনঃ) বাক্ অনুষ্টুপ্; এতৎ(এবং যথাস্যাৎ, তথা) বাচং অনুক্রমঃ(বয়ং মাণবকায় কথয়ামঃ, ইতি বদন্তঃ সন্তঃ) তাং হ এতাং (আচার্য্যেণ মাণবকায় উপদিষ্টাং) সাবিত্রীং অনুষ্টুভং(অনুষ্টু পছন্দোময়ীম্) অন্বাহুঃ(কথয়ন্তি) ইতি।[শ্রুতিরত্র স্বসিদ্ধান্তমাহ-] ন তথা কুৰ্য্যাৎ (গায়ত্রীমিমাম্ অনুষ্টুভং ন বিদ্যাৎ),[অপি তু] গায়ত্রীম্ এব সাবিত্রীম্ অনুব্রয়াৎ[আচার্য্যঃ],[ন তু অনুষ্টুভং]।[অতঃপরং বিদ্যাফলমুচ্যতে-] যদি হ বৈ এবংবিদ্(যথোক্তবিজ্ঞানসম্পন্নঃ) বহু প্রতিগৃহ্লাতি ইব(প্রতিগ্রহস্য অসত্যতাং সূচয়িতুম্ ইবশব্দঃ), তৎ(প্রতিগ্রহবাহুল্যং) গায়ট্রাঃ একংচন (একমপি) পদং প্রতি ন(একস্যাপি গায়ত্রীপাদস্য অপকর্ষং সাধয়িতুং ন সমর্থমিত্যর্থঃ) ॥৩৬০৷৷৫৷৷
মূলানুবাদ:-অপর বেদশাখীরা বলিয়া থাকেন যে, বাক্ হইতেছে অনুষ্টুপ্ ছন্দঃ;[সেই বাকই সরস্বতী]; আমরা মাণবককে এই বাক্স্বরূপা সরস্বতীরই উপদেশ করিয়া থাকি; অতএব সাবিত্রী- যাহা মাণবককে উপদেশ করা হইয়া থাকে, প্রকৃতপক্ষে তাহা অনুষ্টু পছন্দোময়ী(কিন্তু গায়ত্রীছন্দোযুক্তা নহে)।[শ্রুতি বলিতে- ছেন] না-সেরূপ করিবে না, অর্থাৎ সাবিত্রীকে অনুষ্টুপ্ বলিয়া উপদেশ করিবে না; পরন্তু সাবিত্রীকে গায়ত্রী বলিয়াই উপদেশ করিবে। এবংবিধ গায়ত্রী-তত্ত্ববিদ পুরুষ যদি কখনও বহু প্রতিগ্রহ করিতেছে বলিয়াও মনে হয়,[বাস্তবিকপক্ষে সর্বাত্মভাবাপন্ন
১৪০১
তাহার পক্ষে অল্প বা বহু কিছুই নাই]। বুঝিতে হইবে যে, তাহা গায়ত্রীর একটা পদের পক্ষেও যথেষ্ট নহে ॥ ৩৬০ ॥ ৫ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তামেতাং সাবিত্রীং হ একে শাখিনোহনুষ্টুভম্ অনুষ্টুপ্রভবাম্ অনুষ্টুপছন্দস্কাম্ অন্বাহুঃ উপনীতায়। তদভিপ্রায়মাহ—বাগ- নুষ্টুপ্; বাক্ চ শরীরে সরস্বতী; তামেব হি বাচং সরস্বতীং মাণবকায় অনুক্রম ইত্যেতদ্বদন্তঃ। ন তথা কুৰ্য্যাৎ, ন তথা বিদ্যাৎ, যত্তে আহুঃ, মৃষৈব তৎ। কিং তর্হি? গায়ত্রীমেব সাবিত্রীমনুক্রয়াৎ। কস্মাৎ? যস্মাৎ প্রাণো গায়ত্রীত্যুক্তম্। প্রাণে উক্তে, বাক্ চ সরস্বতী চান্যে চ প্রাণাঃ সর্ব্বং মাণবকায় সমর্পিতং ভবতি।
কিঞ্চ, ইদং প্রাসঙ্গিকমুক্তা গায়ত্রীবিদং স্তৌতি—যদি হ বৈ অপি এবংবিদ্ বহিব, ন হি তস্য সর্ব্বাত্মনো বহু নামাস্তি কিঞ্চিৎ, সর্ব্বাত্মকত্বাদ্বিদুষঃ; প্রতি- গৃহ্লাতি, ন হৈব তৎ প্রতিগ্রহজাতং গায়ত্র্যা একংচন একমপি পদং প্রতি পর্যাপ্তম্ ॥ ৩৬০ ॥ ৫ ॥
টীকা। মতান্তরমুদ্ভাবয়তি-তামেতামিতি। ‘তৎ সবিতুবৃণীমহে বয়ং দেবস্য ভোজনম্। শ্রেষ্ঠং সব্বধাতমং তুরং ভগস্য ধীমহি’ ইত্যনুষ্টুভং সাবিত্রীমাহুঃ, সবিতৃদেবতাকত্বাদিত্যর্থঃ। উপনীতস্য মাণবকস্য প্রথমতঃ সরস্বত্যাং বর্ণাত্মিকায়াং সাপেক্ষত্বং দ্যোতয়িতুং হিশব্দঃ। দূষয়তি-নেত্যাদিনা। নন্বপেক্ষিতবাগাত্মকসরস্বতীসমর্পণং বিনা গায়ত্রীসমর্পণমযুক্তমিতি শঙ্কিত্বা পরিহরতি-কম্মাদিত্যাদিনা। যদি হেত্যাদেরুত্তরস্ত গ্রন্থস্যাব্যবহিতপূর্ব্বগ্রন্থাসংগভি- মাশঙ্ক্যাহ-কিংচেদমিতি। সাবিত্র্যা গায়ত্রীত্বমিতি যাবৎ। ইবশব্দার্থং দর্শয়তি-ন হীতি। যদ্যপি বহু প্রতিগৃহ্নাতি বিদ্বানিতি পূর্ব্বেণ সংবন্ধঃ। তথাপি ‘ন তেন প্রতিগ্রহজাতেনৈকস্থাপি গায়ত্রীপদস্য বিজ্ঞানফলং মুক্তং স্যাৎ, দূরতন্তু দোষাধায়কত্বং তস্যেত্যর্থঃ। ৩৬০। ৫॥
ভাষ্যানুবাদ।—কোন কোন বেদশাখীরা সেই এই সাবিত্রীকে অনুষ্টুপ্ অর্থাৎ অনুষ্টুপছন্দোময়ী বলিয়া উপনীত বালককে উপদেশ করিয়া থাকেন। তাহাদের অভিপ্রায় বলিতেছেন—তাঁহারা বলিয়া থাকেন যে, বাক্ই অনুষ্টুপ, এবং সেই বাক্ই শরীরমধ্যে সরস্বতীরূপে(বাণীরূপে) অবস্থিতা; আমরা মাণবককে সেই বাক্—সরস্বতীরই উপদেশ করিয়া থাকি। [ স্বয়ং শ্রুতি বলিতেছেন যে,] না—সেরূপ করিবে না, অর্থাৎ সেইরূপ বুঝিবে না; কারণ, তাঁহারা যাহা বলিয়া থাকেন, তাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা বা ভ্রান্তিপূর্ণ। তবে কিরূপ(উপদেশ করিবে)? না, গায়ত্রী বলিয়াই সাবিত্রীর উপদেশ করিবে। কারণ? যেহেতু পূর্ব্বেই বলা হইয়াছে যে, প্রাণই গায়ত্রী; সুতরাং প্রাণের(প্রাণরূপা গায়ত্রীর) উপদেশ করিলেই(প্রাণের অধীন) বাক্,
সরস্বতী এবং অন্যান্য সমস্ত প্রাণ বা ইন্দ্রিয়বর্গই মাণবককে উপদেশ করা হইয়া যায়।
অতঃপর, প্রসঙ্গাগত কথা শেষ করিয়া গায়ত্রীবিদ্ পুরুষের প্রশংসা করিতেছেন—এবংবিধ গায়ত্রীতত্ত্বজ্ঞ পুরুষ যদি কখনও বহুই প্রতিগ্রহ করেন, বাস্তবিকপক্ষে কিন্তু তাঁহার নিকট বহু কিছু নাই; কারণ, বিদ্যাবলে তিনি সর্ব্বাত্মভাব লাভ করিয়াছেন; সুতরাং তাহার আবার বহু কি? তথাপি সেই সমস্ত প্রতিগ্রহ গায়ত্রীর একটা পদের পক্ষেও যথেষ্ট হয় না ॥৩৬০॥৫॥
স য ইমাস্ত্রীল্লোঁকান্ পূর্ণান্ প্রতিগৃহ্লীয়াৎ সোহস্যা এতৎ প্রথমং পদমাপু য়াৎ, অথ যাবতীয়ং ত্রয়ীবিদ্যা যস্তাবৎ প্রতিগৃহ্লীয়াৎ সোহস্যা এতদ্বিতীয়ং পদমাপুয়াদথ যাবদিদং প্রাণি, যস্তাবৎ প্রতিগৃহ্লীয়াৎ, সোহস্যা এততৃতীয়ং পদমাপুয়াদথাস্যা এতদেব তুরীয়ং দর্শতং পদং পরোরজা য এষ তপতি, নৈব কেনচনাপ্যং কুত উ এতাবৎ প্রতিগৃহ্লীয়াৎ ॥ ৩৬১ ॥ ৬॥
সরলার্থঃ।—সঃ যঃ(গায়ত্রীবিদ্) পূর্ণান্(ধনরত্নাঢ্যান্) ইমান্ ত্রীন্ (পৃথিব্যাদীন্) লোকান্ প্রতিগৃহ্বীয়াৎ, সঃ(প্রতিগ্রাহী) অস্যাঃ(গায়ত্র্যাঃ) এতৎ(যথোক্তং) প্রথমং পদম্ আপ্নুয়াৎ(তৎ গায়ত্র্যাঃ প্রথমপদ-বিজ্ঞান- ফলমিতি ভাবঃ), অথ(পক্ষান্তরে) ইয়ং ত্রয়ী বিদ্যা(বেদবিদ্যা) যাবতী, যঃ তাবৎ প্রতিগৃহ্বীয়াৎ, সঃ(প্রতিগ্রাহী) অস্যাঃ(গায়ত্র্যাঃ) এতৎ দ্বিতীয়ং পদম্ আপ্নুয়াৎ(দ্বিতীয়পদবিজ্ঞানেন স উপভুজ্যতে ইতি ভাবঃ)। অথ ইদং প্রাণি(প্রাণি জগৎ) যাবৎ, যঃ(গায়ত্রীবিদ্) তাবৎ প্রতিগৃহ্বীয়াৎ, সঃ(প্রতিগ্রাহী) অস্যাঃ এতৎ তৃতীয়ং পদম্ আপ্নুয়াৎ;(এবংবিধৈঃ প্রতি- গ্রহৈঃ ন তস্য কিঞ্চিৎ হীয়তে ইত্যাশয়ঃ)। অথ অস্যাঃ(গায়ত্র্যাঃ) এতদেব তুরীয়ং দর্শতং পদম্—য এষ পরোরজাঃ(আদিত্যঃ) তপতি। তৎ(তুরীয়ং পদং) কেনচন(কেনাপি প্রতিগ্রহেণ) আপ্যং(প্রাপ্যং) ন ভবতি।[যতঃ] কুতঃ (কস্মাৎ স্থানাৎ) এতাবৎ(এতৎপরিমাণং বস্তু) প্রতিগৃহ্বীয়াৎ?(ন কুতো- হপি, অসম্ভবাদিতি ভাবঃ) ॥৩৬১৷৬৷
মূল্যবান্দা।—উচ্চ মানের গায়ত্রীভঙ্গী কোন লোক
যদি ত্রিলোকও প্রতিগ্রহ করেন,[তাহা হইলেও বুঝিতে হইবে যে,] সেই প্রতিগ্রহ গায়ত্রীর একটামাত্র পদকে প্রাপ্ত হন, অর্থাৎ প্রথম পদবিজ্ঞানের ফল মাত্র; আর যদি কেহ ত্রয়ী বিদ্যার(বেদবিদ্যার) সমপরিমাণ প্রতিগ্রহ করেন, তাহা হইলে, সেই প্রতিগ্রহও গায়ত্রীর দ্বিতীয় পদবিজ্ঞানের ফল প্রাপ্ত হন; আর কেহ যদি প্রাণিজগতের সমপরিমাণ প্রতিগ্রহ করেন, তাহা হইলে সেই প্রতিগ্রহকারী গায়ত্রীর তৃতীয় পদ জানার ফলপ্রাপ্ত হন। তাহার পর, গায়ত্রীর এই যে দর্শত চতুর্থ পদ, যাহা আদিত্যরূপে তাপ দিতেছেন, গায়ত্রীর সেই চতুর্থ পদটী কোন প্রতিগ্রহ দ্বারাই প্রাপ্য নহে; কারণ, লোকে কোথা হইতে তাহার তুল্যপরিমাণ বস্তু প্রতিগ্রহ করিবে? অর্থাৎ গায়ত্রীর চতুর্থ পদের তুল্যপরিমাণ বস্তু ত জগতে নাই ॥ ৩৬১ ॥ ৬ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—স য ইমাং স্ত্রীন্—স যো গায়ত্রীবিদ্ ইমান্ ভূরাদীন্ ত্রীন্ গোশ্বাদিধনপূর্ণান্ লোকান্ প্রতিগৃহীয়াৎ, স প্রতিগ্রহঃ অস্যা গায়্যাঃ এতৎ প্রথমং পদং যদ্ব্যাখ্যাতম্ আপ্নুয়াৎ, প্রথমপদবিজ্ঞানফলং তেন ভুক্তং স্যাৎ, ন ত্বধিকদোষোৎপাদকঃ স প্রতিগ্রহঃ। অথ পুনর্যাবতী ইয়ং ত্রয়ী বিদ্যা, যস্তাবৎ প্রতিগৃহীয়াৎ, সোহস্যা এতদ্বিতীয়ং পদমাপ্নুয়াৎ, দ্বিতীয়পদবিজ্ঞানফলং তেন ভুক্তং স্যাৎ। তথা যাবদিদং প্রাণি, যস্তাবৎ প্রতিগৃহীয়াৎ, সোহস্যা এততৃতীয়ং পদমাপ্নুয়াৎ, তেন তৃতীয়পদবিজ্ঞানফলং ভুক্তং স্যাৎ।
কল্পয়িত্বেদমুচ্যতে—পাদত্রয়সমমপি যদি কশ্চিৎ প্রতিগৃহীয়াৎ, তৎ পাদত্রয়- বিজ্ঞানফলস্যৈব ক্ষয়কারণম্, ন ত্বন্যস্য দোষস্য কর্তৃত্বে ক্ষমম্। ন চৈবং দাতা প্রতি- গ্রহীতা বা; গায়ত্রীবিজ্ঞানস্তুতয়ে কল্প্যতে; দাতা প্রতিগ্রহীতা চ যদ্যপ্যেবং সম্ভাব্যতে, নাসৌ প্রতিগ্রহোহপরাধক্ষমঃ; কম্মাৎ? যতঃ অভ্যধিকমপি পুরুষার্থ- বিজ্ঞানম্ অবশিষ্টমেব চতুর্থপাদবিষয়ং গায়ত্র্যাঃ। তদ্দর্শয়তি—
অথাস্যা এতদেব তুরীয়ং দর্শতং পদং পরোরজা য এষ তপতি। যচ্চৈতৎ নৈব কেনচন কেনচিদপি প্রতিগ্রহেণ আপ্যং নৈব প্রাপ্যমিত্যর্থঃ, যথা পূর্ব্বো- ক্তানি ত্রীণি পদানি; এতান্যপি নৈব আপ্যানি কেনচিৎ; কল্পয়িত্বৈবমুক্তম্; পরমার্থতঃ কুত উ এতাবৎ প্রতিগৃহ্লীয়াৎ ত্রৈলোক্যাডিসমম্? তস্মাদ গায়ত্রী এবংপ্রকারা উপাস্যেত্যর্থঃ ॥ ৩৬১ ॥ ৬ ॥
টীকা। গায়ত্রীবিবৃতিঃ প্রতিগৃহ্যো দোষাবয়বং। গায়ত্রীবিবৃতিঃ॥ বিশেষতত্ত্বভাবাদ—
স য ইতি। যথা ত্রৈলোক্যাবচ্ছিন্নস্য ত্রৈবিদ্যাবচ্ছিন্নস্য চার্থন্য প্রতিগ্রহেণ পাদদ্বয়বিজ্ঞান- ফলমেব ভুক্তং, নাধিকং দূষণং, তথেতি যাবৎ। প্রতিগ্রহীত দাতা বা নৈবংবিধঃ সংভাব্যতে, কিংতু স্তুত্যর্থং শ্রুত্যৈতৎ কল্পিতমিত্যাহ-কল্পয়িত্বেতি। উক্তমেব সংগৃহ্নাতি-পাদত্রয়েতি। কল্পয়িত্বেদমুচ্যুত ইতি। কিমিতি কল্প্যতে? মুখ্যমেবৈতৎ কিং ন স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। কল্পনাপি তহি কিমর্থেত্যাশঙ্ক্যাহ-গায়ত্রীতি। অঙ্গীকৃত্যোত্তরবাক্যমুখাপয়তি-দাতেতি। তদেবাকাঙ্ক্ষাপূর্বকমাহ-কস্মাদিতি। বাগাত্মকপদত্রয়বিজ্ঞানফলভোগোত্যানন্তর্য্যমথশব্দার্থঃ। নৈব প্রাপ্যং প্রতিগ্রহেণ কেনচিদপি নৈব ভুক্তং স্যাদিত্যর্থঃ। তত্রৈব বৈধৰ্ম্যদৃষ্টান্তমাহ- যথেতি। তানি প্রতিগ্রহেণ যথাপ্যানি, ন তথৈতদাপ্যমিত্যর্থঃ। কুত ইত্যাদিবাক্যস্য তাৎপর্য্যমাহ-এতান্যপীতি। গায়ত্রীবিদঃ স্তুতিরুক্তা, তৎফলমাহ-তম্মাদিতি। এবংপ্রকারা পাদচতুষ্টয়রূপা সর্ব্বাত্মিকেত্যর্থঃ ॥ ৩৬১ ॥ ৬ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—‘স য ইমান্ ত্রীন্’ ইত্যাদি। যে কোন গায়ত্রীতত্ত্ববিদ্ পুরুষ যদি গো--অশ্বাদি ধনে পরিপূর্ণ এই পৃথিবী প্রভৃতি ত্রিলোকও প্রতিগ্রহ করেন, তাহা হইলে সেই প্রতিগ্রহ এই গায়ত্রীর এই প্রথম পদকে—যাহা পূর্ব্বে ব্যাখ্যাত হইয়াছে, তাহাকে প্রাপ্ত হন, অর্থাৎ উহাদ্বারা তাহার প্রথম পাদ- বিজ্ঞানের ফল মাত্র ভুক্ত হয়; সেই প্রতিগ্রহ তাহার অধিক দোষ সমুৎপাদনে সমর্থ হয় না। তাহার পর, এই ত্রয়ীবিদ্যা(বেদবিদ্যা) যে পরিমাণ, তাবৎ- পরিমাণও যদি কেহ প্রতিগ্রহ করেন, সেই প্রতিগ্রহ ইহার দ্বিতীয় পদটামাত্র প্রাপ্ত হন, অর্থাৎ তাহা দ্বারা তাহার দ্বিতীয় পদবিজ্ঞানের ফলমাত্র ভুক্ত হয়। সেইরূপ এই প্রাণিজগতের যাহা পরিমাণ, তাবৎপরিমাণ যিনি প্রতিগ্রহ করেন, সেই প্রতিগ্রহও তাহার এই তৃতীয় পদটী মাত্র প্রাপ্ত হয়, অর্থাৎ তাহা দ্বারা মাত্র তৃতীয় পদবিজ্ঞানের ফল উপভুক্ত হয়।
এখন চতুর্থ পদ সম্বন্ধে ফল কল্পনা করিয়া বলা হইতেছে যে, পূর্ব্বোক্ত পদত্রয়ের সমানও যদি কেহ প্রতিগ্রহ করেন, তাহা কেবল সেই পদত্রয়-বিজ্ঞা- নেরই ফল ক্ষয় করিতে সমর্থ হয়, কিন্তু অপর কোনও নূতন দোষ সমুৎপাদনে সমর্থ হয় না; প্রকৃতপক্ষে এরূপ দাতা বা প্রতিগ্রহীতা জগতে সম্ভবপরই হয় না; কেবল গায়ত্রীবিজ্ঞানের প্রশংসার্থ এইরূপ কল্পনা করিয়া বলা হইল মাত্র; আর যদি বা এই প্রকার দাতা ও প্রতিগ্রহীতা সম্ভবপরই হয়, তাহা হইলেও ঐরূপ প্রতিগ্রহ তাহার কোন অনিষ্ট উৎপাদনে সমর্থ হয় না; কারণ? সর্ব্বাতিশায়ী পুরুষার্থ-সাধনক্ষম যে, গায়ত্রীর চতুর্থ পদবিষয়ক বিজ্ঞান, তাহা ত তখনও তাহার অক্ষতই রহিয়াছে, অর্থাৎ প্রতিগ্রহেও অসংস্পৃষ্টই রহিয়াছে; অতঃপর তাহাই প্রদর্শন করিতেছেন। ২
এই গায়ত্রীর ইহাই চতুর্থ দর্শত পদ, যাহা এই পরোরজা সূর্য্যরূপে তাপ দিতেছেন; এবং যাহা পূর্ব্বোক্ত পাদত্রয়ের ন্যায় কোন প্রকার প্রতিগ্রহ-দোষের বিষয়ীভূত হয় না; প্রকৃতপক্ষে কিন্তু উক্ত পাদত্রয়ও কোনরূপ প্রতিগ্রহ-দোষের বিষয়ীভূত নহে; তবে এখানে কেবল কল্পনা করিয়া ঐরূপ বলা হইয়াছে মাত্র; কেননা, বাস্তবিকপক্ষে ত্রিলোকাদিসমষ্টির সমপরিমাণ বস্তু কোথা হইতে প্রতি- গ্রহ করিবে? অতএব সকলে ঈদৃশ মহিমান্বিত গায়ত্রীয় উপাসনা অবশ্য করিবে ॥ ৩৬১ ॥ ৬॥
তস্যা উপস্থানম্, গায়ত্র্যস্যেকপদী, দ্বিপদী, চতুষ্পদ্যপদসি, ন হি পদ্যসে। নমস্তে তুরীয়ায় দর্শতায় পদায় পরোরজ- সেহসাবদো মা প্রাপদিতি, যং দ্বিষ্যাদাসাবস্মৈ কামো মা সমৃদ্ধীতি বা, ন হৈবাস্মৈ স কামঃ সমৃধ্যতে, যস্মা এবমুপতিষ্ঠ- তেহহমদঃ প্রাপমিতি বা ॥ ৩৬২ ॥ ৭ ॥
সরলার্থঃ।—[সম্প্রতি গায়ত্র্যা উপস্থানং—নমস্কার উচ্যতে—“তস্যাঃ” ইত্যাদিনা]। তস্যাঃ(গায়ত্র্যাঃ) উপস্থানং(নমস্কারঃ)[উচ্যতে—] হে গায়ত্রি, ত্বং একপদী(ত্রৈলোক্যপদাত্মিকা), দ্বিপদী(ত্রয়ীবিদ্যারূপ-দ্বিতীয়- পদযুক্তা), ত্রিপদী(প্রাণাদিনা তৃতীয়পদান্বিতা), চতুষ্পদী(দর্শতাখ্যেন চতুর্থপদেন চ যুক্তা) অসি।[তথা নিরুপাধিকেন রূপেণ] অপদ(পাদ- বিভাগবর্জ্জিতা চ) অসি(ভবসি); হি(যস্মাৎ) ন পদ্যসে(নির্বিশেষরূপ- তয়া নেতি নেতীতি গম্যত্বাৎ ন জ্ঞায়সে; তস্মাৎ অপদ অসি)। তে(তব) পরোর- জসে দর্শতার তুরীয়ায় পদায় নমঃ(নমস্কারঃ অস্তু)। অসৌ(শত্রুঃ পাপম্) অদঃ (ত্বৎপ্রাপ্তিপ্রতিবন্ধকত্বং) মা প্রাপৎ(ন প্রাপ্নোতু) ইতি;[ইতি-শব্দঃ মন্ত্র- সমাপ্ত্যর্থঃ]।
বা(অথবা) অসৌ(বিদ্বান্) যং(জনং) দ্বিষ্যাৎ(দ্বেষং কুৰ্য্যাৎ)— অস্মৈ(অমুকনাম্নে শত্রবে) অসৌ কামঃ(তদভিলষিতঃ অর্থঃ) মা সমৃদ্ধি (বৃদ্ধিং ন গচ্ছতু) ইতি। যস্মৈ এবম্ উপতিষ্ঠতে, অস্মৈ স কামঃ ন হ এব(নৈব) সমৃধ্যতে(সমৃদ্ধিং গচ্ছতি); বা(অথবা) অহং(গায়ত্রীবিদ) অদঃ(কাম্যং ফলং) প্রাপম্ ইতি উপতিষ্ঠতে; এবং যস্মৈ[তৎ সম্পদ্যতে ইতি শেষঃ। রুচি- ভেদাদ এবমুপস্থানভেদ ইত্যাশয়ঃ] ॥ ৩৬২ ॥ ৭॥,
মূলানুবাদ:-অতঃপর সেই গায়ত্রীর উপস্থান বা নমস্কারমন্ত্র কথিত হইতেছে-হে গায়ত্রি, তুমি হইতেছ-পূর্ব্বোক্ত প্রকারে একপদী, দ্বিপদী ও চতুষ্পদী, এবং নিরুপাধিরূপে অপদ্ অর্থাৎ পাদাদিবিভাগবর্জিত; কেননা, তুমি সাধারণের প্রাপ্য নহে। তোমার পরোরজঃ ও দর্শত চতুর্থ পদের উদ্দেশ্যে নমস্কার।
এইরূপ নমস্কারের প্রয়োজন এই যে,—এই গায়ত্রীবিদ্ যে লোককে বিদ্বেষ করেন,[তাহার নামগ্রহণপূর্ব্বক এইরূপে উপস্থান করিবেন যে,] অমুক লোক অমুক ফল প্রাপ্ত না হউক; অথবা অমুকের অভিলষিত বিষয় সমৃদ্ধি(পুষ্টি) লাভ না করুক। যাহাকে উদ্দেশ করিয়া এইরূপ উপস্থান করেন, তাহার কাম অর্থাৎ অভিলষিত বিষয় কখনও সুসম্পন্ন হয় না; অথবা[গায়ত্রীবিদ্ ব্যক্তি আত্মহিতের জন্য এইরূপেও উপস্থান করিতে পারেন যে,] আমি অমুক ফল প্রাপ্ত হইব;[তাহা হইলে, তাহার সেই কাম্য ফল সুসিদ্ধ হয়] ॥ ৩৬২ ॥ ৭ ॥
• শাঙ্করভাষ্যম্।—তস্যা উপস্থানম্—তস্যা গায়ত্যা উপস্থানম্ উপেত্য স্থানং নমস্করণমনেন মন্ত্রেণ। কোহসৌ মন্ত্রঃ? ইত্যাহ—হে গায়ত্রি, অসি ভবসি, ত্রৈলোক্যপাদেন একপদী, ত্রয়ীবিদ্যারূপেণ দ্বিতীয়েন দ্বিপদী, প্রাণাদিনা তৃতীয়েন ত্রিপদ্যসি, চতুর্থেন তুরীয়েণ চতুষ্পদ্যসি; এবং চতুর্ভিঃ পাদৈরুপাসকৈঃ পদ্যসে জ্ঞায়সে; অতঃ পরং পরেণ নিরুপাধিকেন স্বেনাত্মনা অপদসি,—অবিদ্যমানং পদং যস্যাস্তব—যেন পদ্যসে, সা ত্বমপদসি, যস্মান্নহি পদ্যসে নেতি নেত্যাত্মত্বাৎ। অতো ব্যবহারবিষয়ায় নমস্তে তুরীয়ায় দর্শতায় পদায় পরোরজসে। অসৌ শত্রুঃ পাপ্না ত্বৎপ্রাপ্তিবিঘ্নকরঃ, অদঃ তদাত্মনঃ কার্য্যং যৎ ত্বৎপ্রাপ্তিবিঘ্নকর্তৃত্বং মাপ্রাপৎ মৈব প্রাপ্নোতু; ইতিশব্দো মন্ত্রপরিসমাপ্ত্যর্থঃ ॥
যং দ্বিষ্যাৎ—যং প্রতি দ্বেষং কুৰ্য্যাৎ স্বয়ং বিদ্বান্, তং প্রত্যনেনোপস্থানম্; অসৌ শত্রুঃ অমুকনামেতি নাম গৃহ্নীয়াৎ, অস্মৈ যজ্ঞদত্তায় অভিপ্রেতঃ কামো মা সমৃদ্ধি সমৃদ্ধিং মা প্রাপ্নোত্বিতি বোপতিষ্ঠতে; ন হৈবাস্মৈ দেবদত্তায় স কামঃ সমৃ- ন্ধ্যতে; কম্মৈ? যস্মৈ এবমুপতিষ্ঠতে। অহমদো দেবদত্তাভিপ্রেতং প্রাপমিতি
বা উপবিষ্টতে। অসাবদো মা প্রাপদিত্যাদিত্রয়াণাং মন্ত্রপদানাং যথাকামৎ বিকল্পঃ ॥ ৩৬২ ॥ ৭ ॥
টীকা। প্রকৃতমুপাসনমেব মন্ত্রেণ সংগৃহ্নাতি-তস্যা ইত্যাদিনা। ধ্যেয়ং রূপমুক্ত। জ্ঞেয়ং গায়ত্র্যা রূপমুপন্যস্যতি-অতঃ পরমিতি। চতুর্থস্য পাদস্য পাদত্রয়াপেক্ষয়া প্রাধান্যমভিপ্রেত্যাহ- অত ইতি। যথোক্তনমস্কারস্য প্রয়োজনমাহ-অসাবিতি।
দ্বিবিধমুপস্থানমাভিচারিকমাভ্যুদয়িকং চ, তত্রাদ্যং দ্বেধা ব্যুৎপাদয়তি-যং দ্বিষ্যাদিতি। নাম গৃহীয়াৎ, তদীয়ং নাম গৃহীত্বা চ তদভিপ্রেতং মা প্রাপদিত্যনেনোপস্থানমিতি সংবন্ধঃ। আভ্যু- দয়িকমুপস্থানং দর্শয়তি-অহমিতি। কীদৃগুপস্থানমত্র মন্ত্রপদেন কর্তব্যমিত্যাশঙ্ক্য যথারুচি বিকল্পং দর্শয়তি-অসাবিতি। ৩৬২॥৭॥
ভাষ্যানুবাদ।—সেই গায়ত্রীর উপস্থান কথিত হইতেছে—এই মন্ত্র দ্বারা গায়ত্রীর উপস্থান—সমীপগত হইয়া অবস্থান অর্থাৎ নমস্কার বিহিত হই- তেছে। সেই মন্ত্রটা কি? তাহা বলা হইতেছে—হে গায়ত্রি, তুমি হইতেছ— পূর্ব্বোক্ত ত্রৈলোক্যপাদ দ্বারা একপদী, ত্রয়ীবিদ্যারূপ দ্বিতীয়পাদ দ্বারা দ্বিপদী, প্রাণাদিরূপ তৃতীয় পাদ দ্বারা ত্রিপদী, এবং চতুর্থ পাদ দ্বারা চতুষ্পদী। তুমি এই- রূপ চারিটী পাদ দ্বারা বিশেষিত হইয়া উপাসকগণের নিকট পরিজ্ঞাত হইয়া থাক; ইহার পর কিন্তু সর্ব্বোপাধিবর্জ্জিত স্বীয় রূপে তুমি আবার অপদও বটে; তোমার পদ—যাহা দ্বারা তোমাকে জানা যাইতে পারে, তাহা বর্তমান নাই; কারণ, ‘নেতি নেতি’ শ্রুতিগম্য নির্বিশেষ ভাবই তোমার স্বরূপ; সুতরাং উহা অবেদ্য (অবিজ্ঞেয়); অবেদ্য বলিয়াই তুমি হইতেছ অপদু। অতএব লোক-ব্যবহারের বিষয়ীভূত তোমার পরোরজা দর্শত তুরীয় পদের উদ্দেশ্যে নমস্কার।
গায়ত্রীবিদ্ পুরুষ যাহার প্রতি দ্বেষ করেন, তাহার নামগ্রহণপূর্ব্বক এই মন্ত্রে উপস্থান করিবেন যে, অমুক পাপাত্মা শত্রু যেন নিজের অভীষ্ট কার্য্যে-তোমার প্রাপ্তি-বিষয়ে আমার বিঘ্ন সমুৎপাদনে সমর্থ না হয় ইতি। এখানে ‘ইতি’ শব্দটা মন্ত্রসমাপ্তিসূচক। এইরূপে উপস্থান করিবেন; অথবা গায়ত্রীবিদ্ পুরুষ যাহার প্রতি বিদ্বেষপরবশ হইবেন, তাহার উদ্দেশ্যে এইরূপে উপস্থান করিবেন;-আমার শত্রুর নাম-অমুক, এই বলিয়া প্রথমে তাহার নাম গ্রহণ করিবেন, পরে, অমুকনামক শত্রুর অভিপ্রেত-অভিলবিত অর্থাৎ প্রার্থনীয় বিষয় সমৃদ্ধি লাভ(পুষ্টিলাভ) না করুক, এইরূপে উপস্থান করিবেন। নিশ্চয়ই তাহার সেই কাম্য বিষয় সুসম্পন্ন হইবে না। কাহার? না, যাহার জন্য ঐরূপে উপস্থান করিয়া থাকেন। অথবা আমি অমুকের অভিলষিত অমুক বিষয়টা
প্রাপ্ত হইব, এইরূপে উপস্থান করিবেন। উক্ত মন্ত্রে কথিত ‘অসৌ অদঃ মা প্রাপৎ’ ইত্যাদি তিনটী প্রার্থনা-মন্ত্রের মধ্যে যাহার যাহা ভাল লাগে, সে তাহাই করিতে পারে; ইহা ব্যক্তিগত রুচি অনুসারে ইচ্ছাবিকল্পের স্থল(১) ॥৩৬২৷৭৷৷
এতদ্ধ বৈ তজ্জনকো বৈদেহো বুড়িলমাশ্বতরাশিমুবাচ, যনু হো তদগায়ত্রীবিদক্রথা অথ কথং হস্তীভূতো বহসীতি, মুখহস্যাঃ সম্রাণ্ন বিদাঞ্চকারেতি হোবাচ। তস্যা অগ্নিরেব মুখং যদি হ বা অপি বহ্বিবান্নাবভ্যাদধতি সর্বমেব তৎ সন্দহত্যেব- হৈবৈবংবিদ্ যদ্যপি বহ্বিব পাপং কুরুতে সর্বমেব তৎ সংসায় শুদ্ধঃ পূতোহজরোহমৃতঃ সম্ভবতি ॥ ৩৬৩ ॥ ৮ ॥
সরলার্থঃ।—[আখ্যায়িকামুখেন গায়ত্র্যা মুখবিজ্ঞানস্যার্থবাদ উচ্যতে— “এতদ্ধ বৈ” ইত্যাদিনা।] বুড়িলো নাম কশ্চিৎ গায়ত্র্যা মুখবিজ্ঞানাভাবদোষেণ হস্তী ভূত্বা রাজানমুবাহ, তমবলম্ব্য ইয়মাখ্যায়িকা প্রবৃত্তা।
বৈদেহঃ জনকঃ তৎ এতৎ(গায়ত্রীবিজ্ঞান-মাহাত্ম্যং) আশ্বতরাশ্বিং(অশ্ব- তরাশ্বস্য অপত্যং) বুড়িলং উবাচ—বৈশব্দঃ স্মরণার্থকঃ। হো(অহো বুড়িল), নু (বিতর্কে),[ত্বং] যৎ তদ্গায়ত্রীবিদ্[অস্মি ইতি] অক্রথাঃ(কথিতবান্ অসি); অথ(বিরোধদ্যোতনে), কথং(কেন কারণেন তর্হি) হস্তীভূতঃ (হস্তিভাবম্ আপন্নঃ সন্) বহাসি[মাম্] ইতি।[বুড়িলঃ] উবাচ—হে সম্রাট্, অস্যাঃ(গায়ত্র্যাঃ) মুখং হি ন বিদাংচকার(ন বিদিতবান্ অহং, তেন অপরাধেন হস্তীভূতোহস্মি) ইতি।[জনক আহ—] অগ্নিঃ এব তস্যাঃ(গায়ত্র্যাঃ) মুখম্;
যদি হবৈ বহু ইব(এব, অনেকমেব বস্তু) অগ্নৌ অভ্যাদধতি(প্রক্ষিপত্তি) [জনাঃ], তৎ সর্ব্বম্ এব[অগ্নিঃ যথা] সংদহতি, এবম্ এব হ এবংবিদ্ যদি অপি বহু ইব পাপং(পাপকরং কৰ্ম্ম) কুরুতে, তৎ সর্ব্বম্ এব সংস্পায়(ভক্ষয়িত্বা ভস্মীকৃত্য) শুদ্ধঃ(পাপসংস্পর্শরহিতঃ) পূতঃ(কর্মফলৈঃ অসংস্পৃষ্টঃ) অজরঃ অমৃতঃ[চ] ভবতি ॥ ৩৬৩ ॥৮॥
মূলানুবাদ:-[এখন গায়ত্রীর মুখ-বিজ্ঞানের প্রশংসা প্রদর্শিত হইতেছে]-বিদেহাধিপতি জনক অশ্বতরাশ্বির পুত্র বুড়িলকে সম্বোধন করিয়া বলিয়াছিলেন-হে বুড়িল, তুমি যে, নিজেকে গায়ত্রীবিদ্ বলিয়া পরিচয় প্রদান করিতেছ, তবে তুমি এইরূপ হস্তী হইয়া বহন করিতেছ কেন?[বুড়িল] বলিলেন-হে সম্রাট, আমি গায়ত্রীর মুখ যে কি, তাহা জানিতে পারি নাই,[তাহার ফলে এই- রূপ হইয়াছি]। জনক বলিলেন-অগ্নিই গায়ত্রীর মুখ। লোকে যদি অগ্নিতে বহু বস্তুও প্রক্ষেপ করে, তাহা হইলে অগ্নি যেরূপ সে সমস্তকে দগ্ধ করে, তেমনি গায়ত্রীমুখবিদ পুরুষও যদি বহু পাপকৰ্ম্মও করেন, তাহা হইলেও, সেই সমুদয় পাপ ভক্ষণ করিয়া-বিনষ্ট করিয়া শুদ্ধ(পাপে অসংস্পৃষ্ট), পূত(পাপবাসনা দ্বারাও অসম্বদ্ধ) এবং অজর ও অমর হইয়া থাকেন ॥ ৩৬৩॥৮॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—গায়ত্র্যা মুখবিধানায় অর্থবাদ উচ্যতে—এতদ্ধ কিল বৈ স্মর্য্যতে, তত্তত্র গায়ত্রীবিজ্ঞানবিষয়ে। জনকঃ বৈদেহঃ, বুড়িলো নামতঃ অশ্বতরাশ্বস্যাপত্যমাশ্বতরাশ্বিঃ, তং কিলোক্তবান্। যন্নু ইতি বিতর্কে; হো অহো ইত্যেতৎ। তদ্ যৎ ত্বং গায়ত্রীবিদ্ অব্রথাঃ গায়ত্রীবিদস্মীতি যদব্রথাঃ, কিমিদং তস্য বচসোহননুরূপম্? অথ কথম্, যদি গায়ত্রীবিদ, প্রতিগ্রহ-দোষেণ হস্তী- ভূতো বহসীতি। স প্রত্যাহ রাজ্ঞা স্মারিতঃ—মুখং গায়ট্র্যা হি যম্মাদস্যাঃ হে সম্রাট্, ন বিদাঞ্চকার ন বিজ্ঞাতবান্মীতি হোবাচ; একাঙ্গবিকলত্বাৎ গায়ত্রী- বিজ্ঞানং মমাফলং জাতম্। শৃণু তর্হি, তস্যা গায়ট্র্যা অগ্নিরেব মুখম্; যদি হ বৈ অপি বহিববেন্ধনং অগ্নাবভ্যাদধতি লৌকিকাঃ, সর্ব্বমেব তৎ সন্দহত্যেবেন্ধনমগ্নিঃ, এবং হ এব এবংবিদগায়ট্র্যা অগ্নিমুখমিত্যেবং বেত্তীত্যেবংবিৎ স্যাৎ, স্বয়ং গায়-
এ্যাত্মা অগ্নিমুখঃ সন্। স যদ্যপি বহিব পাপং কুরুতে প্রতিগ্রহাদিদোষম্, তৎ সর্ব্বং পাপজাতং সংস্পায় ভক্ষয়িত্বা শুদ্ধোহগ্নিবৎ পূতশ্চ তস্মাৎ প্রতিগ্রহদোষা- ‘দগায়এ্যাত্মা, অজরোহমৃতশ্চ সম্ভবতি ॥ ৩৬৩ ॥৮॥
পঞ্চমস্কন্ধং চতুর্দ্দশঃ স্কন্ধে। ৫ ॥ ১৪ ॥
টীকা। কিং তদ্গায়ত্রীবিজ্ঞানপ্রতিকূলমুপলভ্যতে, তদাহ-অথেতি। পূর্ব্বাপরবিরোধা- বদ্যোতকোহথশব্দঃ। তথাপি গায়ত্রীবিজ্ঞানস্য ফলবত্বে সতি প্রতিকুলমিদং হস্তীভূতস্য তব মাং প্রতি বহনমিত্যাশঙ্ক্যাহ-একাঙ্গেতি। রাজা ক্রতে-শৃন্বিতি। মুখবিজ্ঞানস্য দৃষ্টান্তা- বষ্টন্তেন ফলমাচষ্টে-যদীত্যাদিনা। ইবশব্দোহবধারণার্থঃ। পাপসংস্পর্শরাহিত্যং শুদ্ধিস্তৎফলা- সংস্পর্শস্তু পূততেতি ভেদঃ। গায়ত্রীজ্ঞানস্য ক্রমমুক্তিফলত্বং দর্শয়তি-গায়ত্র্যাত্মেতি। ৩৬৩।৮॥
ইতি বৃন্দাবনে শ্রীনিবাসচন্দ্রদেবায় পঞ্চবিংশতি চতুর্দ্দশঃ প্রদীপঃ। ৫।১৪।
ভাষ্যানুবাদ।—গায়ত্রীর মুখবিষয়ক বিজ্ঞান-বিধির প্রশংসার্থ ‘অর্থবাদ’ বা প্রশংসাবাক্য কথিত হইতেছে—গায়ত্রীবিজ্ঞান-বিষয়ে এইরূপ একটা আখ্যা- য়িকা স্মরণ হইতেছে,—বৈদেহ(বিদেহপতি) জনক বুড়িল নামে প্রসিদ্ধ অশ্বতরা- শ্বের পুত্র আশ্বতরাশ্বিকে বলিয়াছিলেন—‘যৎ নু’ কথাটী বিতর্কবোধক অর্থাৎ সংশয় বা বিরোধসূচক। ‘হো’ অর্থ অহো—আশ্চর্য্যবোধক। সেই যে, তুমি গায়ত্রীবিদ্- রূপে বলিয়াছিলে, অর্থাৎ আমি গায়ত্রীবিদ্ এই বলিয়া যে, আত্মপরিচয় দিয়াছিলে; এইরূপ ব্যবহার কি সেই কথার অনুরূপ হইতেছে? তুমি যদি নিশ্চয়ই গায়ত্রীবিদ্ হইবে, তবে প্রতিগ্রহ-দোষে হস্তী হইয়া বহন করিতেছ কেন? রাজা পূর্ব্ববৃত্তান্ত স্মরণ করাইয়া দিলে পর সে বলিল—হে সম্রাট্, যেহেতু আমি গায়ত্রীর মুখ অবগত হইতে পারি নাই,[সেইহেতু আমার এই অবস্থা]; ঐ একটা অংশ বিকল— অসম্পূর্ণ থাকায় আমার সমস্ত গায়ত্রী-বিজ্ঞানই বিফল হইয়াছে।
[জনক বলিলেন—যদি না জান,] তবে শ্রবণ কর;[আমি বলিয়া দিতেছি—] অগ্নিই সেই গায়ত্রীর মুখ; লোকে যদি কখনও বহুতর কাষ্ঠও অগ্নিতে নিক্ষেপ করে, তাহা হইলে, অগ্নি যেমন সেই সমস্ত কাষ্ঠই সম্পূর্ণরূপে দগ্ধ করে, তেমনি এবংবিদ্ অর্থাৎ অগ্নিই গায়ত্রীর মুখ, এই প্রকার বিজ্ঞানসম্পন্ন পুরুষও স্বয়ং গায়ত্রীস্বরূপ হন; কখনও যদি তিনি প্রতিগ্রহাদি দ্বারা বহুতর পাপও করেন, সেই সমস্ত পাপ ভক্ষণ করিয়া—বিনষ্ট করিয়া অগ্নির ন্যায় শুদ্ধ(সেই প্রতিগ্রহ—পাপে অসংস্পৃষ্ট) ও পূত(তাহার ফলসম্পর্কশূন্য) এবং গায়ত্রীস্বরূপে অজর ও অমর হইয়া থাকেন ॥ ৩৬৩॥৮॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ে চতুর্দ্দশ ব্রাহ্মণের ভাষ্যঅনুবাদ ॥ ৫ ॥ ১৪ ॥
হিরণ্ময়েন পাত্রেণ সত্যস্যাপিহিতং মুখম্, তত্ত্বং পূষন্নপাবৃণু সত্যধর্মায় দৃষ্টয়ে, পূষন্নেকর্ষে যম সূর্য্য প্রাজাপত্য ব্যূহ রশ্মীন্ সমূহ তেজো যত্তে রূপৎ কল্যাণতমম্, তত্তে পশ্যামি। যোহসাবসৌ পুরুষঃ সোহহমস্মি। বায়ুরনিলমমৃতমথেদং ভস্মান্ত- শরীরম্। ওঁম্ ক্রতো স্মর কৃতস্মর, ক্রতো স্মর কৃতস্মর। অগ্নে নয় সুপথা রায়ে অস্মান্ বিশ্বানি দেব বয়ুনানি বিদ্বান্। যুযোধ্যস্মজ্জুহুরাণমেনো ভূয়িষ্ঠাং তে নম উক্তিং বিধেম ॥ ৩৬৪॥১॥
ইতি বৃহদারণ্যকোপনিষদি পঞ্চদশং ব্রাহ্মণম্ ॥ ৫ ॥ ১৫ ॥
ইতিবৃহদারণ্যকোপনিষৎসু পঞ্চমোহধ্যায়ঃ সমাপ্তঃ ॥ ৫ ॥ বৃহদারণ্যকব্রাহ্মণক্রমেণ তু সপ্তমোহধ্যায়ঃ সমাপ্তঃ ॥ ৭ ॥
সম্বলার্থঃ।—[গায়ত্র্যান্তরীয়পাদস্য আদিত্যরূপত্বাৎ তদানীং তদুপস্থান- মপি যুক্তিমৎ, ইতি জ্ঞানকর্ম্ম-সমুচ্চয়কারিণঃ প্রাণপ্রয়াণকালীনপ্রার্থনাপ্রকার- উচ্যতে—“হিরণ্ময়েন” ইত্যাদিনা।]
হিরণ্ময়েন পাত্রেণ(জ্যোতির্ময়েন আদিত্যমণ্ডলেন) সত্যস্য(সত্যা- খ্যস্য ব্রহ্মণঃ) মুখং(উপলব্ধিদ্বারং) অপিহিতম্[অস্তি]; হে পৃষন্(সূর্য্য), ত্বং সত্যধর্মায়(সত্যৎ ধৰ্ম্মঃ যস্য মম, সোহহং সত্যধৰ্মা, তস্মৈ মহ্যম্) দৃষ্টয়ে(দর্শ- নায়)-সত্যব্রহ্মোপলব্ধয়ে তৎ(দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকং অপিধানং) অপাবৃণু(অপনয়)। হে পৃষন্(জগৎপোষক), হে একর্ষে(একশ্চাসৌ ঋষিশ-প্রকাশাত্মকত্বাৎ জগতঃ দ্রষ্টা চ), হে যম(জগতঃ সংযমনকারক), হে সূর্য্য(রসানাং প্রাণানাৎ চ সম্যক্ ঈরণাৎ প্রেরণাৎ সূর্য্য), হে প্রাজাপত্য(প্রজাপতেঃ হিরণ্যগর্ভস্য অপ- ত্যম্),[অত্রানেকনামগ্রহণম্ অভিমুখীকরণার্থম্]; তে(তব) রশ্মীন্(কিরণান্) ব্যূহ(অপনয়), তেজশ সমুহ(সংকোচয়)।[তৎপ্রয়োজনমাহ-] তে(তব) যৎ কল্যাণতমং(সর্ব্বকল্যাণেভ্যঃ অতিশয়েন কল্যাণাত্মকং) রূপম্, তে(তব) তৎ(রূপং) পশ্যামি(দ্রষ্টুম্ ইচ্ছামি);[অতঃ দৃষ্টিরোধকরং তেজ উপসংহর]। যঃ অসৌ(ব্যাহৃত্যবয়বঃ) পুরুষঃ, অহং সঃ অসৌ(পুরুষস্বরূপঃ) অমৃতম্ অস্মি (ভবামি)। অথ বায়ুঃ(প্রাণঃ) অনিলং(বাহ্যং বায়ুং)[প্রতিগচ্ছতু]; ইদং শরীরং চ ভস্মান্তং(ভস্মীভূতং সৎ)[পৃথিবীং প্রতিগচ্ছতু];[অন্যেষামপি ইন্দ্রিয়াদীনাং দেহোপাদানে প্রতিগমনোপলক্ষণার্থমেতদিত্যভিপ্রায়ঃ]।
[ অপেদানীং মনসি চিন্ত্যমানাম্ অগ্নিদেবতামভিমুখীকৃত্য ইদং প্রার্থয়তে। অত্র চ ওঁম্পদং মনঃপরম্, মনস ওঁঙ্কারপ্রতীকত্বাৎ সংকল্পপ্রধানত্বাচ্চ]। হে ওম (ওঙ্কারপ্রতীক), হে ক্রতো(সংকল্পময়ং মনঃ), স্মর(ইদানীং যৎ স্মর্তব্যম্, তৎ স্মর), তথা কৃতং(যৎ প্রাগনুষ্ঠিতম্, তদপি) স্মর(আলোচয়);[আগ্র- হাতিশয়প্রদর্শনার্থা ‘ক্রতো স্মর, কৃতং স্মর’ ইতি পুনরুক্তিঃ]। হে অগ্নে, রায়ে (ধনায়—কর্মফলানি প্রাপ্তুম্) সুপথা(শোভনেন মার্গেণ উত্তরায়ণেন) নয় (মাং পরিচালয়); হে দেব, বিশ্বানি(নিখিলানি) বয়ুনানি(প্রজ্ঞানানি) বিদ্বান (জানন্ ত্বম্) জুহুরাণং(কুটিলং) এনঃ(পাপং) অস্মৎ(অস্মত্তঃ) যুযোধি বিযোজয়; তে(তুভ্যং) ভূরিষ্ঠাং(প্রচুরতরাং) নমউক্তিং(বাচিকং নম- স্কারং) বিধেম(কুৰ্ম্মঃ),[ইদানীং নান্যৎ সম্পাদয়িতুং সমর্থোহম্মীতি- ভাবঃ] ॥ ৩৬৪ ॥ ১ ॥
মূলানুবাদ:-[এখন জ্ঞান ও কর্ম্মের এক সঙ্গে অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তি দেহান্ত সময়ে মনোগত ভাবনা অনুসারে যেরূপ প্রার্থনা করিয়া থাকেন, তাহা কথিত হইতেছে]-হে পূষন্- জগৎপোষক সূর্য্য, তোমার হিরণ্ময় অর্থাৎ সমুজ্জ্বল মণ্ডলরূপ যে পাত্র দ্বারা সত্য ব্রহ্মের মুখ(উপলব্ধির দ্বার) আচ্ছাদিত হইয়া রহিয়াছে, তুমি তাহা অপসারণ কর; কারণ, আমি সেই সত্যব্রহ্মে তৎপর; তাঁহাকে দর্শন করিতে ইচ্ছা করি;[অতএব আবরণ অপনয়ন কর]। হে পূষন্(জগতের পোষণকারিন্), হে একর্ষে (অদ্বিতীয় তত্ত্বদর্শিন), হে যম(সংযমনকারিন), হে সূর্য্য, হে প্রাজাপত্য, তুমি তোমার রশ্মিসমূহ সংকোচিত কর, এবং দৃষ্টিবিঘাত- কারী তোমার তেজঃপুঞ্জ অপনয়ন কর; যাহাতে তোমার যাহা সর্বোত্তম কল্যাণময় রূপ, সেই রূপটা দর্শন করিতে পারি।[পূর্ব্বে ব্যাহৃতি-অবয়বযুক্ত যে পুরুষের কথা বলা হইয়াছে, আমি এখন তৎস্বরূপ হইয়াছি; আমার দেহত্যাগের পর] প্রাণবায়ু বাহ্য বায়ুতে মিলিত হউক, এবং এই শরীর ভস্মীভূত হইলে পর, দেহোপাদান পৃথিবীতে বিলীন হইয়া যাউক।
যে প্রবোধক ও সংকল্পময় মন, তুমি এখন যাহা স্মরণ করিবার
স্মরণ কর; এবং আজীবন যাহা করিয়াছ, তাহাও পুনঃ পুনঃ স্মরণ- কর। হে অগ্নে, স্বকৃত কর্মফল-প্রাপ্তির নিমিত্ত তুমি আমাদিগকে সুপথে(উত্তরায়ণ পথে) লইয়া চল; হে দেব, তুমি নিখিল লোকের বুদ্ধিবৃত্তি অবগত আছ; তুমি আমাদের কুটিলস্বভাব পাপসমূহ অপনীত কর; তোমাকে কেবল প্রচুর পরিমাণে প্রণাম করিতেছি, [ এখন আমার আর কিছু করিবার ক্ষমতা নাই] ॥ ৩৬৪ ॥ ১ ॥
ইতি পঞ্চদশোহধ্যায়ঃ। বাণবিবরণং॥ ৫ ॥ ১৫ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যো জ্ঞানকর্ম্ম-সমুচ্চয়কারী, সোহন্তকালে আদিত্যং প্রার্থয়তি।—অস্তি চ প্রসঙ্গঃ; গায়ত্র্যাস্তরীয়ঃ পাদে। হি সঃ; তদুপস্থানং প্রকৃতম্; অতঃ স এব প্রার্থ্যতে। ১
হিরণ্ময়েন জ্যোতির্ময়েন পাত্রেণ, যথা পাত্রেণ ইষ্টং বস্তু অপিধীয়তে, এবমিদং সত্যাখ্যৎ ব্রহ্ম জ্যোতির্ময়েন মণ্ডলেনাপিহিতমিব, অসমাহিতচেতসা- মদৃশ্যত্বাৎ। তদুচ্যতে—সত্যস্যাপিহিতং মুখম্—মুখ্যং স্বরূপম্; তদপিধানং পাত্রম্ অপিধানমিব, দর্শনপ্রতিবন্ধকারণম্, তৎ ত্বম্, হে পূষন্, জগতঃ পোষণাৎ পূষা সবিতা, অপারণু অপাবৃতং কুরু, দর্শনপ্রতিবন্ধকারণমপনয়েত্যর্থঃ; সত্যধর্মায়—সত্যং ধর্মোহস্য মম, সোহহং সত্যধর্মা, তস্মৈ তদাত্মভূতায়েত্যর্থঃ; দৃষ্টয়ে দর্শনায়। ২
পূষন্নিত্যাদীনি নামানি আমন্ত্রণার্থানি সবিতুঃ। একর্ষে, একশ্চাসাবৃষিশ একষিঃ, দর্শনাদূষিঃ; স হি সর্ব্বস্য জগত আত্মা চক্ষুশ্চ সন্ সর্ব্বৎ পশ্যতি; একো বা গচ্ছতীত্যেকর্ষিঃ, “সূর্য্য একাকী চরতি” ইতি মন্ত্রবর্ণাৎ। যম, সর্ব্বং হি জগতঃ সংযমনং ত্বৎকৃতম্; সূর্য্য, সুষ্ঠু ঈরয়তে রসান্ রশ্মীন্ প্রাণান্ ধিয়ো বা জগত ইতি; প্রাজাপত্য, প্রজাপতেরীশ্বরস্যাপত্যং হিরণ্যগর্ভস্য বা; হে প্রাজাপত্য, ব্যূহ বিগময় রশ্মীন্; সমূহ সঙ্ক্ষিপ আত্মনস্তেজঃ, যেনাহং শকুয়াং দ্রষ্টুম্; তেজসা হি অপহতদৃষ্টিঃ ন শকুয়াং ত্বৎস্বরূপমঞ্জসা দ্রষ্টুম্, বিদ্যোতন ইব রূপাণাম্; অত উপসংহর তেজঃ। যৎ তে তব রূপং সর্ব্ব- কল্যাণানামতিশয়েন কল্যাণং কল্যাণতমম্, তৎ তে তব পশ্যামি পশ্যামো বয়ম্, বচনব্যত্যয়েন। ৩
যোহসৌ ভূর্ভুবঃ স্বর্যাহৃত্যবয়বঃ পুরুষঃ, পুরুষাকৃতিত্বাৎ পুরুষঃ, সোহহমস্মি ভবামি; “অহরহম্ ইতি” চোপনিষদ উক্তত্বাৎ আদিত্যচাক্ষুষয়োস্তদেবেদং
পরামৃশ্যতে। সোহহমম্ম্যমৃতমিতি সম্বন্ধঃ। মমামৃতস্য সত্যস্য শরীরপাতে শরীরস্থে। যঃ প্রাণো বায়ুঃ, স অনিলং বাহ্যং বায়ুমেব প্রতিগচ্ছতু। তথা অন্যা দেবতাঃ স্বাং স্বাং প্রকৃতিং গচ্ছন্ত; অথেদমপি ভস্মান্তং সৎ পৃথিবীং যাতু শরীরম্। ৪
অথেদানীম্ আত্মনঃ সঙ্কল্পভূতাং মনসি ব্যবস্থিতামগ্নিদেবতাং প্রার্থয়তে,— ওঁম্ ক্রতো; ওঁমিতি ক্রতো ইতি চ সম্বোধনার্থাবেব; ওঁঙ্কারপ্রতীকত্বাদোম্, মনোময়ত্বাচ্চ ক্রতুঃ। হে ওঁম্, ক্রতো, স্মর স্মর্তব্যম্; অন্তকালে হি ত্বৎস্মরণ- বশাদ ইষ্টা গতিঃ প্রাপ্যতে; অতঃ প্রার্থ্যতে—যন্ময়া কৃতম্, তৎ স্মর। পুনরুক্তি- রাদরার্থা। ৫
কিঞ্চ, হে অগ্নে, নয় প্রাপয়, সুপথা শোভনেন মার্গেণ, রায়ে ধনায় কৰ্ম্মফলপ্রাপ্তয়ে ইত্যর্থঃ, ন দক্ষিণেন কৃষ্ণেন পুনরাবৃত্তিযুক্তেন; কিং তর্হি? শুক্লেনৈব সুপথা অস্মান্; বিশ্বানি সর্ব্বাণি, হে দেব, বয়ুনানি প্রজ্ঞানানি সর্ব্বপ্রাণিনাং বিদ্বান্। কিঞ্চ, যুযোধি অপনয় বিযোজয়, অস্মদম্মত্তঃ, জুহুরাণং কুটিলং এনঃ পাপং পাপজাতং সর্ব্বম্; তেন পাপেন বিযুক্তা বয়মেষ্যাম উত্তরেণ পথা ত্বৎপ্রসাদাৎ; কিন্তু বয়ং তুভ্যৎ পরিচর্যাৎ কর্ত্তুং ন শত্রু মঃ; ভূয়িষ্ঠাং বহু- তমাং তে তুভ্যং নমউক্তিং নমস্কারবচনং বিধেম নমস্কারোক্ত্যা পরিচরেম ইত্যর্থঃ, অন্যৎ কর্তুমশক্তাঃ সন্তঃ ॥ ৩৬৪ ॥ ১ ॥
ইতি শ্রীমৎপরমহংসপরিব্রাজকাচার্য্য শ্রীগোবিন্দভগবৎপূজ্যপাদশিষ্যস্য শ্রীমচ্ছশঙ্করভগবতঃ কৃতৌ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্ভাষ্যে পঞ্চমোহধ্যায়ঃ সমাপ্তঃ ॥ ৫ ॥
টীকা‘।—ব্রাহ্মণান্তরস্য তাৎপর্য্যমাহ—যো জ্ঞানকর্ম্মেতি। আদিত্যস্যাপ্রস্তুতত্বাৎ কথং তৎপ্রার্থনেত্যাশঙ্ক্যাহ—অস্তি চেতি। তথাপি কথমাদিত্যস্য প্রসঙ্গস্তমাহ—তদুপস্থানমিতি। নমস্তে তুরীয়ায়েতি হি দর্শিতমিত্যর্থঃ। আদিত্যস্য প্রসঙ্গে সতি ফলিতমাহ—অতইতি। সমাহিতচেতসাং প্রযততাং দৃশ্যত্বান্নাপিহিতমেব, কিং তু পিহিতমিবেত্যত্র হেতুমাহ—অসমা- হিতেতি। জগতঃ পোষণাদ ঘৰ্ম্মহিমবৃষ্ট্যাদিদানেনেভি শেষঃ। অপাবরণকরণমেব বিবৃণোতি —দর্শনেতি। সত্যং পরমার্থস্বরূপং ব্রহ্ম ধর্মস্বভাব ইতি যাবৎ। ননু দর্শনার্থং তৎপ্রতিবন্ধক- নিবৃত্তৌ পুষণি নিযুক্তে কিমিত্যন্তে সংবোধ্য নিযুজ্যন্তে, তত্রাহ—পুষন্নিত্যাদীনীতি। দর্শনাদ্- ঋষিরিত্যুক্তং বিশদয়তি—স হীতি। ‘সূর্য্য আত্মা জগতস্তস্থূযশ্চ’ ইতি মন্ত্রবর্ণমাশ্রিত্যোক্তম্— জগত আত্ম্যেতি। ‘চক্ষুর্মিত্রস্য বরুণস্যাগ্নেঃ’ ইত্যেতদাশ্রিত্যাহ—চক্ষুশ্চেতি। ১—২
স্বাভাবিকা রশ্যয়ো ন বিগময়িতুং শক্যাঃ, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-সমূহেতি। মদীয়তেজঃসৎক্ষেপং বিনাপি তে মৎস্বরূপদর্শনং স্যাদিত্যশঙ্ক্যাহ-তেজসা হীতি। বিদ্যোতনং বিদ্যুৎপ্রকাশঃ,
তস্মিন্ সতি রূপাণাং স্বরূপমঞ্জসা চক্ষুষা ন শক্যং দ্রষ্টুং, তস্য চক্ষুর্মোষিত্বাৎ তথেত্যাহ-বিদ্যো- তনইবেতি। তেজঃসংক্ষেপস্য প্রয়োজনমাহ-বেদিতি। কিঞ্চ, নাহং ত্বাং ভৃত্যবদ্ যাচে, অভেদেন ধ্যাতত্বাদিত্যাহ-যোহসাবিতি। ব্যাহৃতিশরীরে কথমহমিতি প্রয়োগোপপত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ- অহরিতি। তদেবেদমিত্যহংরূপমুচ্যতে। বায়ুগ্রহণস্যোপলক্ষণত্বং বিবক্ষিত্বাহ-তথেতি। দ্বেহস্থদেবতানামপ্রতিবন্ধকত্বেহপি দেহস্যৈব সূক্ষ্মতাং গতস্য প্রতিবন্ধকত্বান্ন তবামৃতত্বমিত্যা- শঙ্ক্যাহ-অথেতি। ৩-৪
মন্ত্রান্তরমবতার্য্য ব্যাকরোতি—অথেদানীমিত্যাদিনা। অবতীতি ওমীশ্বরঃ সর্ব্বস্য রক্ষকস্তস্য জাঠরাগ্নিপ্রতীকত্বেন ধ্যাতহাদগ্নিশব্দেন নির্দেশঃ। এবমগ্নিদেবতাং সংবোধ্য নিযুক্তে— স্মরেতি। ইষ্টাং গতিং জিগমিষতা কিমিতি স্মরণে দেবতা নিযুজ্যতে, তত্রাহ—স্মরণেতি। প্রার্থনান্তরং সমুচ্চিনোতি—কিং চেতি। পাপবিয়োজনফলমাহ—তেনেতি। ভবদ্ভিরারা- ধিতো ভবতাং যথোক্তং ফলং সাধয়িষ্যামীত্যাশঙ্ক্যাহ—কিংত্বিতি। বহুতমত্বং ভক্তিশ্রদ্ধাতি- রেকযুক্তত্বম্। যাগাদিনাপি পরিচরণং ক্রিয়তামিত্যাশঙ্ক্যাহ—অন্যদিতি। সংতত- নমস্কারোক্ত্যা পরিচরেমেতি পূর্ব্বেণ সংবন্ধঃ। অশক্তিশ্চ মুমূর্ষাবশাদিতি দ্রষ্টব্যম্। ইতিশব্দোহধ্যায়সমাপ্ত্যর্থঃ। ৩৬৪॥১॥
ইতি কৃষ্ণদাসদেবায় নমোঽস্তু পঞ্চদশঃ স্কন্ধঃ। ৫। ১৫।
ভাষ্যানুবাদ।—যে লোক একযোগে জ্ঞান ও কর্ম্মের অনুশীলন করেন, সেই লোক আপনার অন্তিম সময়ে নিম্নলিখিত প্রকারে আদিত্যের নিকট প্রার্থনা করিয়া থাকেন। এখানে এই প্রকার প্রার্থনার প্রসঙ্গও রহিয়াছে; কেন না, আদিত্য হইতেছেন গায়ত্রীর চতুর্থ পাদ, তাঁহার উপস্থানই এখানে প্রস্তাবিত বিষয়; সুতরাং তাঁহার নিকট প্রার্থনা করা অবশ্যই সুসঙ্গত হইতেছে। ১
হিরণ্ময় অর্থ—জ্যোতির্ময়; জগতে প্রিয় বস্তু যেরূপ পাত্রবিশেষের দ্বারা আচ্ছাদিত(ঢাকা) থাকে, তদ্রূপ এই সত্যনামক ব্রহ্ম-বস্তুও জ্যোতির্ময় আদিত্য- মণ্ডলের দ্বারা যেন আচ্ছাদিতই আছেন; কারণ, অসমাহিতচিত্ত লোকেরা তাঁহাকে দেখিতে পায় না। এখন সেই কথাই বলা হইতেছে—‘সত্যের মুখ অপিহিত’ কথার অর্থ—সত্যব্রহ্মের যথার্থ স্বরূপটী আবৃত। অপিধান-পাত্র অর্থ— সেই পাত্রটা দর্শনের ব্যাঘাত জন্মায় বলিয়া অপিধানেরই মত। হে পূষন্, জগতের পোষণ করেন বলিয়া সবিতার(সূর্য্যের) নাম পূষা। হে পূষন্, তুমি সেই আবরণটা অপাবৃত কর, অর্থাৎ ব্রহ্মদৃষ্টির প্রতিবন্ধক কারণটী অপনয়ন কর;[কেন না,] যে আমার সত্যই একমাত্র ধর্ম, সেই সত্যধৰ্মা আমি তোমারই আত্মভূত; সেই আমার দর্শনের জন্য, অর্থাৎ আমি যাহাতে সেই সত্যব্রহ্ম উপলব্ধি করিতে পারি, তাহার যোগ্যতা বিধান কর। ২
পরবর্তী পুষন্ ইত্যাদি নামগুলি সূর্য্যের আমন্ত্রণসূচক। হে একর্ষে, এক- প্রধান ঋষি=একর্ষি। দর্শন করেন বলিয়া তিনি ঋষি; কেন না, সূর্যদেব সর্ব্ব জগতের আত্মা ও চক্ষুস্বরূপ হইয়া সমস্ত দর্শন করিয়া থাকেন; অথবা ‘সূর্য্য একাকী বিচরণ করেন’ এই মন্ত্রবাক্য হইতে জানা যায় যে, তিনি একাকী গমন করেন, এইজন্য ঋষিপদবাচ্য। হে যম, তোমা দ্বারাই সমস্ত জগতের সংযমন বা নিয়মিত ভাবে পরিচালন কার্য্য সম্পন্ন হয় বলিয়া তুমি যমপদবাচ্য; হে সূর্য্য, জগতের রস, রশ্মি, প্রাণ ও বুদ্ধিবৃত্তি যথাযথ ভাবে প্রেরিত করেন বলিয়া [তুমি সূর্য্য-পদবাচ্য]; হে প্রাজাপত্য,-প্রজাপতি ঈশ্বরের কিংবা হিরণ্যগর্ভের অপত্য(সন্তান), এইজন্য তুমি প্রাজাপত্য; হে প্রাজাপত্য, তুমি রশ্মিসমূহ অপ- সারণ কর; এবং আপনার তেজঃ সঙ্ক্ষিপ্ত কর-সংকোচিত কর, যাহাতে আমি তোমাকে দর্শন করিতে সমর্থ হই; কেন না, বিদ্যুৎসম্পাত হইলে যেমন কোনও রূপ দর্শন করিতে পারা যায় না, তেমনি তোমার তেজেও দৃষ্টিশক্তি ব্যাহত হওয়ায় তোমার যথার্থ রূপটি যথাযথভাবে দর্শন করিতে পারিতেছি না; অতএব সেই তেজের সংকোচন কর; সমস্ত কল্যাণ অপেক্ষাও অতিশয় কল্যাণময় যে, তোমার রূপ, সেই কল্যাণতম রূপটী আমরা দর্শন করিব।[মূলে ‘পশ্যামি’ একবচন থাকিলেও] তাহা বহুবচন করিয়া লইতে হইবে। ৩
ঐ যে,[‘ভূ ভুবঃ ও স্বঃ’ এই] ব্যাহৃতি-অবয়বযুক্ত পুরুষ—পুরুষের আকৃতি- সম্পন্ন বলিয়া পুরুষ-শব্দবাচ্য; আমি হইতেছি তৎস্বরূপ; পূর্ব্বে আদিত্যপুরুষ ও চাক্ষুষ পুরুষের যথাক্রমে ‘অহঃ ও অহম্’ উপনিষদ্(রহস্য নাম) উক্ত হওয়ায় ‘সোহহমস্মি’ বাক্যে উহাদেরই পরামর্শ বা সম্বন্ধ বুঝিতে হইবে। শ্রুতির ‘অমৃতম্’ শব্দটারও ‘সোহহমস্মি’ বাক্যের সহিত সম্বন্ধ বুঝিতে হইবে। অমৃত—সত্যস্বরূপ আমার শরীরপাত ঘটিলে পর, আমার শরীরস্থ যে প্রাণবায়ু, সেই বায়ু অনিলে অর্থাৎ বাহ্য বায়ুতে ফিরিয়া যাউক; সেইরূপ এই দেহস্থ অন্যান্য দেবতাগণও নিজ নিজ প্রকৃতিকে প্রাপ্ত হউক; এবং এই শরীরও ভস্মরাশিতে পরিণত হইয়া পৃথিবীতে মিলিয়া যাউক। ৪ অতঃপর আপনার সংকল্প-বিষয়ীভূত অর্থাৎ চিন্তাপথগত ও মনোগত অগ্নি- দেবতার নিকট প্রার্থনা করিতেছেন—ওঁম্ ক্রতো; এই ‘ওঁম্’ ও ‘ক্রতো’ শব্দ দুইটাই মনোদেবতার সম্বোধনার্থক। ওঁঙ্কার ইহার প্রতীক, এইজন্য ওঁম্, এবং সংকল্পপ্রধান বলিয়া ক্রতুপদবাচ্য। হে ওঁম্, হে ক্রতো, তুমি নিজের কর্তব্য স্মরণ কর; কারণ, অন্তিম সময়ে তোমার স্মরণানুসারেই অভিলষিত গতি লাভ
করা হইয়া থাকে; অতএব প্রার্থনা করা হইতেছে যে, আমি যাহা করিয়াছি, তাহা—আমার কৃত কর্ম্ম স্মরণ কর। ‘ক্রতো স্মর, কৃতং স্মর’ এই কথার পুনরুক্তি করিবার অভিপ্রায় এই যে, প্রার্থনায় আদরাতিশয় প্রদর্শন করা। ৫
আরও এক কথা, হে অগ্নে, কর্মফল প্রাপ্তির জন্য আমাদিগকে সুপথে— উত্তম পথে অর্থাৎ উত্তরায়ণ পথে লইয়া যাও, কিন্তু মলিন দক্ষিণ পথে—যাহাতে গেলে পুনর্ব্বার সংসারে আসিতে হয়, সেই পথে নহে, পরন্তু শুক্ল উত্তরায়ণ পথে[লইয়া যাও]। হে দেব, তুমি সকল লোকের সর্ব্বপ্রকার বুদ্ধিবৃত্তি অব- গত আছ; তুমি আমাদের হইতে জুহুরাণ—কুটিলস্বভাব সমস্ত পাপ বিয়োজিত —অপনীত কর। আমরা তোমার প্রসাদে ‘সেই পাপ হইতে বিমুক্ত হইয়া উত্তর পথে যাইব; কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা তোমার সেবা করিতে অসমর্থ; অতএব তোমার উদ্দেশ্যে কেবল ভূরিষ্ঠ অর্থাৎ বহুলপরিমাণে নম- উক্তি—বাচনিক নমস্কার মাত্র করিতেছি; অন্যপ্রকার পরিচর্যায় অসামর্থ্য- বশতঃ কেবল নমস্কার-বচন দ্বারাই তোমার পরিচর্যা(আরাধনা) করি- তেছি॥ ৩৬৪ ॥ ১ ॥
ইতি পঞ্চমাধ্যায়ে পঞ্চদশ ব্রাহ্মণের ভাষ্যানুবাদ সমাপ্ত ॥ ৫ ॥ ১৫ ॥ ইতি বৃহদারণ্যকোপনিষদে পঞ্চম অধ্যায় সমাপ্ত ॥ ৫ ॥ ব্রাহ্মণক্রমে সপ্তম অধ্যায় সমাপ্ত ॥ ৭ ॥
ওঁম্ যো হ বৈ জ্যেষ্ঠঞ্চ শ্রেষ্ঠঞ্চ বেদ, জ্যেষ্ঠশ্চ শ্রেষ্ঠশ্চ স্বানাং ভবতি, প্রাণো বৈ জ্যেষ্ঠশ্চ শ্রেষ্ঠশ্চ, জ্যেষ্ঠশ্চ শ্রেষ্ঠশ্চ স্বানাং ভবত্যপি চ যেষাং বুভূষতি য এবং বেদ ॥ ৩৬৫ ॥ ১ ॥
। সঙ্কল্যার্থঃ।—পূর্ব্বাধ্যায়ান্তে গায়ত্র্যাঃ প্রাণস্বরূপত্বমুক্তম্, তদুপপাদনার্থ- মিদমিদানীমারভ্যতে ‘ওঁম্’—ইত্যাদি।
‘হ’ শব্দোহত্র স্মারণে—‘ওম্ প্রাণো গায়ত্রী’ ইতি মন্ত্রঃ স্মার্য্যতে। যঃ বৈ জ্যেষ্ঠং(জ্যেষ্ঠত্বগুণযুক্তং) চ শ্রেষ্ঠং(শ্রেষ্ঠত্বগুণযুক্তং) চ বেদ(জানাতি),[সঃ] স্বানাং(জ্ঞাতীনাং মধ্যে) জ্যেষ্ঠঃ চ শ্রেষ্ঠঃ চ ভবতি।[কোহয়ং জ্যেষ্ঠশ্চ শ্রেষ্ঠশ্চ? ইত্যাহ—] প্রাণঃ বৈ(এব) জ্যেষ্ঠঃ চ শ্রেষ্ঠশ্চ। যঃ এবং বেদ, সঃ স্বানাং জ্যেষ্ঠঃ চ শ্রেষ্ঠঃ চ ভবতি। অপিচ, বেষাং(জ্ঞাতিভিন্নানামপি)[জ্যেষ্ঠঃ শ্রেষ্ঠঃ চ] বুভূষতি(অহম্ এষাং জ্যেষ্ঠঃ শ্রেষ্ঠঃ চ ভূয়াসম্ ইতি ইচ্ছতি); [তেষামপি জ্যেষ্ঠঃ চ শ্রেষ্ঠঃ চ ভবতীত্যর্থঃ] ॥ ৩৬৫ ॥ ১ ॥
মূলানুবাদ?—পূর্ব্ব অধ্যায়ে গায়ত্রীকে প্রাণস্বরূপ বলা হইয়াছে, এখন সেই প্রসঙ্গে প্রাণের শ্রেষ্ঠতা জ্ঞাপনার্থ বলিতেছেন— যে ব্যক্তি জ্যেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠকে জানে, সে ব্যক্তি জ্ঞাতিবর্গের মধ্যে জ্যেষ্ঠত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। এই জ্যেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠ কে? না, প্রাণই জ্যেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এই তত্ত্ব জানেন, তিনি নিজেও জ্ঞাতিগণের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠ হইয়া থাকেন; অথবা অন্য যাহাদের মধ্যেও জ্যেষ্ঠত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করিতে ইচ্ছা করেন, তাহাদের মধ্যেও জ্যেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠ হইয়া থাকেন ॥ ৩৬৫ ॥১॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—ওঁম্ প্রাণো গায়ত্রীত্যুক্তম্। কস্মাৎ পুনঃ কারণাৎ প্রাণভাবো গায়্যাঃ, ন পুনর্ব্বাগাদিভাবঃ? ইতি। যস্মাৎ জ্যেষ্ঠশ্চ শ্রেষ্ঠশ্চ প্রাণঃ, ন বাগাদয়ো জ্যৈষ্ঠ্যশ্রৈষ্ঠ্যভাজঃ। কথং জ্যেষ্ঠত্বং শ্রেষ্ঠত্বঞ্চ প্রাণস্যেতি, তন্নিদ্দি- ধারয়িষয়া ইদমারভ্যতে। অথবা উক্থ-যজুঃ-সাম-ক্ষত্রাদিভাবৈঃ প্রাণস্যৈবোপা- সনমভিহিতম্, সৎস্বপি অন্যেসু চক্ষুরাদিষু; তত্র হেতুমাত্রমিহানন্তর্য্যেণ সম্বধ্যতে,
১৪৯
ন পুনঃ পূর্ব্বশেষতা। বিবক্ষিতন্তু খিলত্বাদস্য কাণ্ডস্য পূর্ব্বত্র যদমুক্তং বিশিষ্টং ফলৎ প্রাণবিষয়মুপাসনম্, তদ্বক্তব্যমিতি। ১
যঃ কশ্চিৎ, হ বৈ ইত্যবধারণার্থো; যো জ্যেষ্ঠশ্রেষ্ঠ-গুণং বক্ষ্যমাণং বেদ, অসৌ ভবত্যেব জ্যেষ্ঠশ শ্রেষ্ঠশ। এবং ফলেন প্রলোভিতঃ সন্ প্রশ্নোয় অভি- মুখীভূতঃ, তস্মৈ চাহ-প্রাণো বৈ জ্যেষ্ঠশ শ্রেষ্ঠশ। কথং পুনরবগম্যতে প্রাণো জ্যেষ্ঠশ শ্রেষ্ঠশ্চেতি। যস্মান্নিষেককাল এব শুক্রশোণিতসম্বন্ধঃ প্রাণাদিকলা- পস্যাবিশিষ্টঃ, তথাপি ন অপ্রাণং শুক্রৎ বিরোহতীতি প্রথমো বৃত্তিলাভঃ প্রাণস্য চক্ষুরাদিভ্যঃ; অতো জ্যেষ্ঠো বয়সা প্রাণঃ; নিষেককালাদারভ্য গর্ভং পুষ্যতি প্রাণঃ; প্রাণে হি লব্ধবৃত্তৌ পশ্চাচ্চক্ষুরাদীনাং বৃত্তিলাভঃ; অতো যুক্তং প্রাণস্য জ্যেষ্ঠত্বং চক্ষুরাদিষু। ভবতি তু কশ্চিৎ কুলে জ্যেষ্ঠঃ, গুণহীনত্বাত্তু ন শ্রেষ্ঠঃ; মধ্যমঃ কনিষ্ঠো বা গুণাঢ্যত্বান্তবেৎ শ্রেষ্ঠঃ, ন জ্যেষ্ঠঃ; নতু তথেহেত্যাহ- প্রাণ এব তু জ্যেষ্ঠশ শ্রেষ্ঠশ। ২
কথং পুনঃ শ্রৈষ্ঠ্যমবগম্যতে প্রাণস্য? তদিহ সংবাদেন দর্শয়িষ্যামঃ। সর্ব্ব- থাপি তু প্রাণং জ্যেষ্ঠশ্রেষ্ঠগুণং যো বেদ উপাস্তে, স স্বানাং জ্ঞাতীনাং, জ্যেষ্ঠশ্চ শ্রেষ্ঠশ্চ ভবতি, জ্যেষ্ঠশ্রেষ্ঠগুণোপাসনসামর্থ্যাৎ; স্বব্যতিরেকেণাপি চ যেবাং মধ্যে জ্যেষ্ঠশ্চ শ্রেষ্ঠশ্চ ভবিষ্যামীতি বুভূষতি ভবিতুমিচ্ছতি, তেষামপি, জ্যেষ্ঠশ্রেষ্ঠপ্রাণদর্শী জ্যেষ্ঠশ্চ শ্রেষ্ঠশ্চ ভবতি। ননু বয়োনিমিত্তং জ্যেষ্ঠত্বং, তদিচ্ছতঃ কথং ভবতীত্যুচ্যতে? নৈষ দোষঃ। প্রাণবদ্বৃত্তিলাভস্যৈব জ্যেষ্ঠত্বস্য বিবক্ষিতত্বাৎ ॥ ৩৬৫ ॥ ১ ॥
টীকা-ওঁকারো দমাদিত্রয়ং ব্রহ্মাব্রহ্মোপাসনানি তৎফলং তদর্থা গতিরাদিত্যাদ্যুপস্থান- মিত্যেযোহর্থঃ সপ্তমে নিবৃত্তঃ। সংপ্রতি প্রাধান্যেনাব্রহ্মোপাসনং সফলং শ্রীমন্থাদিকৰ্ম্ম চ বক্তব্যমিত্যষ্টমমধ্যায়মারভমাণো ব্রাহ্মণসংগতিমাহ-প্রাণ ইতি। তস্মাৎ প্রাণো গায়ত্রীতি যুক্তমুক্তমিতি শেষঃ। প্রাণস্য জ্যেষ্ঠত্বাদি নাদ্যাপি নির্ধারিতমিতি শঙ্কিত্বা পরিহরতি-কথ- মিত্যাদিনা। প্রকারান্তরেণ পূর্বোত্তরগ্রন্থসংগতিমাহ-অথবেতি। আদিশব্দাদন্নবৈশিষ্ট্যাদি- নির্দেশঃ। তত্রেতি প্রাণস্যৈব বিশিষ্টগুণকস্যোপাস্তত্বোক্তিঃ। হেতুজ্যে ষ্ঠত্বাদিস্তন্মাত্রমিহা- নন্তরগ্রন্থে কথ্যত ইতি শেষঃ। তদেবং পূর্ব্বগ্রন্থস্থ্য হেতুমত্ত্বাদুত্তরস্য চ হেতুত্বাদানন্তর্য্যেণ পূর্ব্বগ্রন্থেন সহোত্তরগ্রন্থজাতং সংবধ্যত ইতি ফলিতমাহ-আনন্তর্য্যেণেতি। বক্ষ্যমাণ- প্রাণোপাসনস্থ্য পূর্ব্বোক্তোখাদ্যপান্তিশেষত্বমাশন্য গুণভেদাৎ ফলভেদাচ্চ নৈবমিত্যভিপ্রেত্যাহ -ন পুনরিতি। কিমিতি প্রাণোপাসনমিহ স্বতন্ত্রমুপদিগতে, তত্রাহ-খিলত্বাদিতি। ইতি- শব্দো ব্রাহ্মণারন্তোপসংহারার্থঃ ॥ ১ ॥
এবং ব্রাহ্মণারম্ভং প্রতিপাদ্যাক্ষরাণি ব্যাচষ্টে-যঃ কশ্চিদিত্যাদিনা। যচ্ছব্দস্য পুনরুপাদান- ‘মন্বয়ার্থম্। নিপাতয়োরর্থাববারণমেব প্রাগুক্তং প্রকটয়তি-ভবত্যেবেতি। প্রশ্নায়-
কোহসৌ?—জ্যেষ্ঠশ্চ শ্রেষ্ঠশ্চেতি প্রশ্নস্তদর্থমিতি যাবৎ। প্রাণস্য জ্যেষ্ঠত্বাদিকমাক্ষিপতি—কথ- মিতি। তত্র হেতুমাহ—যম্মাদিতি। তস্মাজ্যেষ্ঠত্বাদিকং তুল্যমেবেতি শেষঃ। সংবন্ধা- বিশেষমঙ্গীকৃত্য জ্যেষ্ঠত্বং প্রাণস্য সাধয়তি—তথাপীতি। উক্তমেব সমর্থয়তে—নিষেককালা- দিতি। তত্রাপি বিপ্রতিপন্নং প্রত্যাহ—প্রাণে হীতি। জ্যেষ্ঠত্বেনৈব শ্রেষ্ঠত্বে সিদ্ধে কিমিতি পুনরুক্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ—ভবতি ত্বিতি। জ্যেষ্ঠত্বে সত্যপি শ্রেষ্ঠত্বাভাবমুক্তা, তস্মিন্ সত্যপি জ্যেষ্ঠত্বাভাবমাহ—মধ্যম ইতি। ইহেতি প্রাণোক্তিঃ। প্রাণশ্রেষ্ঠত্বে প্রমাণাভাবমাশঙ্ক্য প্রত্যাহ —কথমিত্যাদিনা। পূর্ব্বোক্তমুপাস্তিফলমুপসংহরতি—সর্বথাপীতি। আরোপেণানারোপেণ বেত্যর্থঃ। জ্যেষ্ঠস্য বিদ্যাফলবত্ত্বমাক্ষিপতি—নন্বিতি। তস্য বিদ্যাফলত্বং সাধয়তি—উচ্যত- ইতি। ইচ্ছাতো জ্যৈষ্ঠং দুঃসাধ্যমিতি দোষস্যাসত্ত্বমাহ—নেতি। তত্র হেতুমাহ—প্রাণ- বদিতি। যথা প্রাণকৃতাশনাদিপ্রযুক্তশ্চক্ষুরাদীনাং বৃত্তিলাভস্তথা প্রাণোপাসকাধীনং জীবন- মন্যেষাং স্বানাং চ ভবতীতি প্রাণদর্শিনো জ্যেষ্ঠত্বং ন বয়োনিবন্ধনমিত্যর্থঃ॥ ৩৬৫ ॥ ১ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—পূর্ব্ব অধ্যায়ে এই গায়ত্রীকে প্রাণস্বরূপ বলা হইয়াছে; এখন প্রশ্ন হইতেছে যে, কি কারণে গায়ত্রীর কেবলই প্রাণস্বরূপতা, বাগাদি ইন্দ্রিয়স্বরূপতাই বা না হয় কেন?[উত্তর—] যেহেতু প্রাণই সর্ব্বাপেক্ষা জ্যেষ্ঠও বটে, শ্রেষ্ঠও বটে; কিন্তু বাগাদি ইন্দ্রিয়ের ত জ্যেষ্ঠত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব নাই;[কাজেই গায়ত্রীর বাগাদিভাব হইতে পারে না।] প্রাণেরই বা জ্যেষ্ঠত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণ কি? তাহা নির্দ্ধারণার্থ এই প্রকরণ আরব্ধ হইতেছে। অথবা, ইতঃপূর্ব্বে, চক্ষুঃ প্রভৃতি অপরাপর করণ বা ইন্দ্রিয়াদি বিদ্যমান সত্ত্বেও একমাত্র প্রাণেরই ঋক্, যজুঃ, সাম ও ক্ষত্রাদিরূপে যে উপাসনা অভিহিত হইয়াছে, তাহারই সমর্থনের জন্য এখানে হেতুমাত্র নিরূপিত হইতেছে, কিন্তু ইহা পূর্ব্বাধ্যায়ের শেষ বা অঙ্গ নহে। প্রকৃতপক্ষে শ্রুতির অভিপ্রায় এই যে, এই ষষ্ঠ অধ্যায়টী হইতেছে খিলকাণ্ড অর্থাৎ অনুক্ত বিষয়ের পরিপূরক; অতএব বিশিষ্টফলজনক যে সমুদয় উপাসনা পূর্ব্বে কথিত হয় নাই, সেই সমুদয়ই এখানে কথিত হইবে। ১
শ্রুতির ‘হ’ ও ‘বৈ’ শব্দ দুইটীর অর্থ অবধারণ;[বুঝিতে হইবে, যাহা যেরূপ বলা হইতেছে, তাহা সেইরূপই বটে]। যে কোন লোক বক্ষ্যমাণ জ্যেষ্ঠত্ব শ্রেষ্ঠত্ব গুণযুক্ত বস্তুটা জানে, সে নিজেও জ্যেষ্ঠত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব গুণসম্পন্ন হয়। শিষ্য এইরূপ ফল শ্রবণে প্রলোভিত হইয়া[জ্যেষ্ঠ-শ্রেষ্ঠ-গুণযুক্ত যে কে, তদ্বিষয়ে] প্রশ্ন করিতে অভিমুখীভূত হইয়া থাকে; সেই জিজ্ঞাসু শিষ্যকে লক্ষ্য করিয়া শ্রুতি বলিতেছেন—প্রাণই জ্যেষ্ঠও বটে এবং শ্রেষ্ঠও বটে। ভাল, প্রাণ যে, জ্যেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠ, ইহা জানা যায় কিরূপে?—যখন বীর্য্যনিষেক সময়ে প্রাণাদি সমস্ত ইন্দ্রিয়ের সহিতই শুক্র-শোণিতের সম্পর্ক সমান, তখন কেবল প্রাণেরই বা
১৪৫১
জ্যেষ্ঠত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব হইবে কেন?[হাঁ, যদিও একথা সত্য হউক,] তথাপি প্রাণ- সম্বন্ধরহিত শুক্র ত কখনই দেহাকারে প্রাদুর্ভূত হয় না; এইজন্য[বলিতে হয় যে,] চক্ষুঃ প্রভৃতি অপেক্ষা প্রাণই বয়সে জ্যেষ্ঠ; তাহার পর, নিযেক কাল হইতে প্রাণই প্রধানতঃ গর্ভের পোষণ বা পুষ্টিসাধন করিয়া থাকে; এবং অগ্রে প্রাণের বৃত্তিলাভ হইলে, পশ্চাৎ চক্ষুঃপ্রভৃতি ইন্দ্রিয়নিচয় বৃত্তিলাভ করিয়া থাকে; এই কারণেই চক্ষুঃপ্রভৃতির মধ্যে প্রাণের শ্রেষ্ঠতা। বংশের মধ্যে কোন লোক বয়সে জ্যেষ্ঠও হইতে পারে, কিন্তু গুণহীন বলিয়া শ্রেষ্ঠতা লাভ করিতে পারে না; অথচ গুণাধিক্য থাকিলে মধ্যম বা কনিষ্ঠও আবার শ্রেষ্ঠতা লাভ করিয়া থাকে, অথচ জ্যেষ্ঠ তাহা পারে না; এখানে কিন্তু সেরূপ নহে; এই অভিপ্রায়ই ‘প্রাণো বৈ জ্যেষ্ঠশ্চ শ্রেষ্ঠশ্চ’ কথায় প্রকাশ করা হইয়াছে। ২
পুনশ্চ প্রশ্ন হইতেছে যে, আর কি কারণে প্রাণের জ্যেষ্ঠত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব বুঝিতে পারা যায়? হাঁ, তাহা পরে প্রাণ-সংবাদ বা আখ্যায়িকা দ্বারা প্রদর্শন করিব। ফল কথা, যে লোক সর্ব্বপ্রকারে জ্যেষ্ঠ-শ্রেষ্ঠত্বগুণযুক্ত প্রাণের উপাসনা করেন, জ্যেষ্ঠ-শ্রেষ্ঠত্বগুণযুক্তের উপাসনা করেন, সে লোক নিজেও জ্ঞাতিবর্গের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠ হইয়া থাকেন; এবং জ্ঞাতিভিন্নও যাহাদের মধ্যে ‘আমি জ্যেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠ হইব’ বলিয়া ইচ্ছা করেন, সেই জ্যেষ্ঠ-শ্রেষ্ঠ প্রাণদর্শী লোক তাহাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠ হইয়া থাকেন। ভাল কথা, জ্যেষ্ঠত্বের কারণ হইল বয়স্, ইচ্ছামাত্রে তাহা কিরূপে সম্পন্ন হইতে পারে?—না, ইহা দোষাবহ হয় না; কারণ, এখানে বয়োনিমিত্ত জ্যেষ্ঠত্ব অভিপ্রেত নহে, পরন্তু প্রাণের ন্যায় প্রাধান্যে বৃত্তিলাভ করাই জ্যেষ্ঠত্ব শব্দের অভিপ্রেত অর্থ ॥ ৩৬৫ ॥ ১ ॥
যো হ বৈ বসিষ্ঠাং বেদ, বসিষ্ঠঃ স্বানাং ভবতি, বাগ্বৈ বসিষ্ঠা, বসিষ্ঠঃ স্বানাং ভবত্যপি চ যেষাং বুভূষতি, য এবং বেদ ॥ ৩৬৬ ॥ ২॥
সরলার্থঃ।—যঃ(জনঃ) বসিষ্ঠাৎ(তদ্গুণোপেতাং দেবতাং) হ বৈ বেদ,[সঃ] স্বানাং(জ্ঞাতীনাং মধ্যে) বসিষ্ঠঃ ভবতি।[কেয়ং বসিষ্ঠা? ইত্যাহ—] বাক্ বৈ(এব) বসিষ্ঠা(অতিশয়েন বাসয়তি, বস্তে আচ্ছা- দয়তি বা অন্যান্ ইতি বসিষ্ঠা। বাগ্মিনো হি ধনদ্বারা অন্যান্ বাসয়ন্তি, বাচা চ অন্যান্ অভিভবন্তি; তেন হি বাচো বসিষ্ঠাত্বম্)। য এবং বেদ, স স্বানাং
(জ্ঞাতীনাং)[অন্যেষাৎ চ] যেষাং[বসিষ্ঠঃ] বুভূষতি(ভবিতুমিচ্ছতি), [তেষাং] বসিষ্ঠঃ ভবতি;[উপাসনানুরূপং ফলমেতৎ] ॥ ৩৬৬ ॥ ২ ॥
মূলানুবাদ?—যিনি বসিষ্ঠাকে জানেন, তিনি জ্ঞাতিগণের মধ্যে বসিষ্ঠ হন, অর্থাৎ জ্ঞাতিগণ তাঁহার বশীভূত হইয়া থাকে। [ এই বসিষ্ঠা যে কে, তাহা বলিতেছেন—] বাক্ই বসিষ্ঠা; কেন না, বাগ্মী লোক সাধারণতঃ ধন দ্বারা অপরকে বাস করান, এবং বাক্য- বলে অপরকে বশীভূত(পরাভূত) করিয়া থাকেন;[এই কারণে বাক্কে বসিষ্ঠা বলা হইয়াছে]। যিনি এইপ্রকার জানেন(উপাসনা করেন), তিনিও জ্ঞাতিগণের এবং আরও যাহাদের মধ্যে বসিষ্ঠ হইতে ইচ্ছা করেন, তাহাদেরও বসিষ্ঠ হইয়া থাকেন ॥ ৩৬৬ ॥২॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যো হ বৈ বসিষ্ঠাং বেদ, বসিষ্ঠঃ স্বানাং ভবতি; তদ্দর্শনানুরূপ্যেণ ফলম্। যেষাং চ জ্ঞাতিব্যতিরেকেণ বসিষ্ঠো ভবিতুমিচ্ছতি, তেষাঞ্চ বসিষ্ঠো ভবতি। উচ্যতাং তর্হি, কাহসৌ বসিষ্ঠেতি। বাগ্বৈ বসিষ্ঠা; বাসয়ত্যতিশয়েন, বস্তে বেতি বসিষ্ঠা। বাগ্মিনো হি ধনবন্তো বসন্ত্যতিশয়েন, আচ্ছাদনার্থস্য বা বসের্ব্বসিষ্ঠা; অভিভবন্তি হি বাচা বাগ্মিনোহন্যান্; তেন বসিষ্ঠগুণবৎপরিজ্ঞানাদ্বসিষ্ঠ গুণো ভবতীতি দর্শনানুরূপং ফলম্ ॥ ৩৬৬ ॥ ২ ॥
টাকা।—বসিষ্ঠত্বমপি প্রাণস্যৈবেতি বক্তু মুত্তরবাক্যমুখাপ্য ব্যাচষ্টে—যো হেত্যাদিনা। ফলেন- প্রলোভিতং শিষ্যং প্রশ্নাভিমুখং প্রত্যাহ—উচ্যতামিত্যাদিন।। বাচো বসিষ্ঠত্বং দ্বিধা প্রতি- জানীতে—বাসয়তীতি। ব্যসয়ত্যতিশয়েনেত্যুক্তং বিশদয়তি—বাগ্মিনো হীতি। বাসয়ন্তি চেতি দ্রষ্টব্যম্। বস্তে বেত্যুক্তং স্ফুটয়তি—আচ্ছাদনার্থস্য বেতি। আচ্ছাদনার্থত্বমনুভবেন সাধয়তি—অভিভবন্তীতি। উক্তমুপান্তিফলং নিগময়তি—তেনেতি॥ ৩৬৬॥ ২॥
ভাষ্যানুবাদ।—যিনি বসিষ্ঠকে জানেন, তিনি জ্ঞাতিগণের মধ্যে বসিষ্ঠগুণযুক্ত হন। যেরূপ উপাসনা, তাহার ফলও তদনুরূপই হইয়া থাকে। তিনি জ্ঞাতিভিন্ন আরও যাহাদের মধ্যে বসিষ্ঠ হইতে ইচ্ছা করেন, তাহাদেরও বসিষ্ঠ হইয়া থাকেন। এই বসিষ্ঠ পদার্থটী যে কে, তাহা এখন বল। [উত্তর—] বাক্ই বসিষ্ঠা; অতিশয়রূপে বাস করায়, কিংবা আচ্ছাদন(অভিভব) করে বলিয়া বাক্ হইতেছে—বসিষ্ঠা; কারণ, বাগ্মী লোকেরা সাধারণতঃ ধনবান্ হয় এবং সেই ধন দ্বারা তাহারা লোককে উত্তমরূপে বাস করাইয়া থাকে; অথবা ‘বসিষ্ঠা’ শব্দটা আচ্ছাদনার্থক ‘বস্’ ধাতুর রূপ; কেন না, বাগ্মী
১৪৫৩
লোকেরা বাক্য দ্বারা অপর সকলকে পরাজিত করিয়া থাকে। অতএব বসিষ্ঠত্ব- ‘গুণযুক্ত বস্তুর উপাসনায় যে, বসিষ্ঠত্বগুণসম্পন্ন হইয়া থাকে, ইহা উপাসনার অনুরূপ ফলই বটে ॥ ৩৬৬ ॥ ২ ॥
যোহ বৈ প্রতিষ্ঠাং বেদ প্রতিতিষ্ঠতি সমে, প্রতিতিষ্ঠতি দুর্গে, চক্ষুর্ব্বে প্রতিষ্ঠা চক্ষুষা হি সমে চ দুর্গে চ প্রতিতিষ্ঠতি, প্রতিতিষ্ঠতি সমে প্রতিতিষ্ঠতি দুর্গে য এবং বেদ ॥ ৩৬৭ ॥ ৩॥
সরলার্থঃ।—যঃ হ বৈ, প্রতিষ্ঠাং বেদ,[সঃ] সমে(অনুকূলে দেশে কালে চ) প্রতিতিষ্ঠতি, দুর্গে(বিষমে চ) প্রতিতিষ্ঠতি।[কাসৌ প্রতিষ্ঠা?] চক্ষুঃ বৈ(প্রসিদ্ধৌ) প্রতিষ্ঠা;[কুতঃ?] হি(যতঃ) চক্ষুষা(করণেন) সম্বে চ দুর্গে চ প্রতিতিষ্ঠতি(প্রতিষ্ঠাং—স্থিতিং লভতে)। য এবং বেদ, স সমে প্রতিতিষ্ঠতি, দুর্গে চ প্রতিতিষ্ঠতি ॥ ৩৬৭ ॥ ৩॥
মূলানুবাদ?—যে লোক প্রতিষ্ঠার উপাসনা করে, সে সম ও বিষম—দেশে ও কালে স্থিতি লাভ করে। এই প্রতিষ্ঠা কে? চক্ষুই প্রতিষ্ঠা; কারণ, লোকে চক্ষুর সাহায্যেই সম ও বিষম স্থানে স্থিতি লাভ করিয়া থাকে। যে লোক ইহা জানে, সে লোক সম ও বিষম স্থানে ও কালে স্থিতি লাভ করিয়া থাকে ॥ ৩৬৭ ॥ ৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যোহ বৈ প্রতিষ্ঠাং বেদ, প্রতিষ্ঠিতত্যনয়েতি তাং প্রতিষ্ঠাং প্রতিষ্ঠাগুণবতীং যো বেদ, তস্যৈতৎ ফলং—প্রতিষ্ঠতি সমে দেশে কালে চ। তথা দুর্গে বিষমে চ দুর্গমনে চ দেশে, দুর্ভিক্ষাদৌ বা কালে বিষমে। বদ্যেবম্, উচ্যতাম্—কাহসৌ প্রতিষ্ঠা? চক্ষুর্ব্বে প্রতিষ্ঠা; কথং চক্ষুষঃ প্রতিষ্ঠাত্বমিত্যাহ— চক্ষুষা হি সমে চ দুর্গে চ দৃষ্টা প্রতিতিষ্ঠতি। অতোহনুরূপং ফলং,—প্রতিষ্ঠতি সমে, প্রতিতিষ্ঠতি দুর্গে, য এবং বেদেতি ॥ ৩৬৭ ॥ ৩ ॥
টীকা।—গুণান্তরং বক্তুং বাক্যান্তরমাদায় ব্যাচষ্টে যো বা ইতি। সমে প্রতিষ্ঠা বিদ্যাং বিনাপি স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ—তথেতি। বিষমে চ প্রতিতিষ্ঠতীতি সংবন্ধঃ। বিষমশব্দস্যার্থমাহ— দুর্গমনে চেতি। ইদানীং প্রশ্নপূর্ব্বকং প্রতিষ্ঠাং দর্শয়তি—যদ্যেবমিতি। প্রতিষ্ঠাত্বং চক্ষুষো ব্যুৎপাদয়তি—কথমিত্যাদিনা। বিদ্যাফলং নিগময়তি—অত ইতি ॥ ৩৬৭ ॥ ৩ ॥
ভাষ্যানুবাদ?—যে লোক প্রতিষ্ঠাকে জানে, অর্থাৎ যাহা দ্বারা লোকে প্রকৃষ্টরূপে স্থিতি লাভ করে, তাহার নাম প্রতিষ্ঠা; সেই প্রতিষ্ঠাকে— প্রতিষ্ঠা-গুণযুক্ত দেবতাকে যে ব্যক্তি জানে, তাহার ‘ফল এই—সে লোক সমান
(নিরুপদ্রব) দেশে ও কালে, এবং বিষমে অর্থাৎ দুর্গম দেশে ও দুর্ভিক্ষাদি সময়ে [স্থিতি লাভ করে]। ভাল, যদি এইরূপই হয়, তাহা হইলে বল, এই প্রতিষ্ঠা- গুণযুক্ত বস্তুটী কে?[উত্তর—] চক্ষুই প্রতিষ্ঠা। ভাল, চক্ষু প্রতিষ্ঠা কি প্রকারে? তদুত্তরে বলিতেছেন—যেহেতু প্রাণিগণ সম ও বিষমে দেশে ও কালে চক্ষু দ্বারা দর্শন করিয়াই প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়া থাকে। অতএব, এইরূপ গুণযুক্ত উপাসক যে, সম ও দুর্গম দেশে ও কালে প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়া থাকে, ইহা উপাসনার অনুরূপ ফলই বটে ॥ ৩৬৭ ॥ ৩ ॥
যো হ বৈ সম্পদং বেদ সংহাস্মৈ পদ্যতে যং কামং কাময়তে। শ্রোত্রং বৈ সম্পৎ, শ্রোত্রে হীমে সর্ব্বে বেদা অভিসম্পন্নাঃ, সংহাস্মৈ পদ্যতে যং কামং কাময়তে, য এবং বেদ ॥ ৩৬৮ ॥ ৪ ॥
সরলার্থঃ।—যঃ হ বৈ সম্পদং বেদ,[সঃ] যৎ কামং(বিষয়ং) কাময়তে, [তস্য স কামঃ] সম্পদ্যতে(আয়ত্তো ভবতি)।[কা নাম সম্পদ?] শ্রোত্রং বৈ(প্রসিদ্ধৌ) সম্পদ; হি(যস্মাৎ) ইমে(অনুভবগোচরাঃ) সর্ব্বে বেদাঃ শ্রোত্রে(কর্ণে) অভিসম্পন্নাঃ(স্থিতাঃ)। য এবং বেদ, অস্মৈ (বিদুষে),[সঃ] যং কামং কাময়তে,[সঃ কামঃ] সম্পদ্যতে(নিষ্পন্নঃ ভবতি)” ৩৬৮॥ ৪ ॥
মূলানুবাদ?—যে লোক সম্পদকে জানে, সে, যে বিষয় কামনা করে, তাহার সেই বিষয়ই সিদ্ধ হয়। শ্রোত্রই সেই সম্পদ; কেন না, এই সমস্ত বেদই এই শ্রবণেন্দ্রিয় অবস্থান করিয়া থাকে। যে লোক এই প্রকার উপাসনা করে, সে লোক যাহা কামনা করে, তাহার সেই কাম্য বিষয় পরিনিষ্পন্ন হইয়া থাকে॥ ৩৬৮॥ ৪॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যো হ বৈ সম্পদং বেদ, সম্পদগুণযুক্তং যো বেদ, তস্য এতৎ ফলম্—অস্মৈ বিদুষে সম্পদ্যতে হ। কিম্? যং কামং কাময়তে, সকামঃ। কিং পুনঃ সম্পদগুণকম্? শ্রোত্রং বৈ সম্পদ; কথং পুনঃ শ্রোত্রস্য সম্পদ্গুণত্বমিতি, উচ্যতে—শ্রোত্রে সতি, হি যম্মাৎ সর্ব্বে বেদা অভিসম্পন্নাঃ, শ্রোত্রেন্দ্রিয়বতোহধ্যেয়ত্বাৎ; বেদবিহিতকর্মায়ত্তাশ্চ কামাঃ; তস্মাচ্ছ্রোত্রং
১৪৫৫
সম্পদ্; অতো জ্ঞানানুরূপং ফলম্—সং হাস্মৈ পদ্যতে, যৎ কামং কাময়তে, য এবং বেদ ॥ ৩৬৮ ॥ ৪ ॥
টাকা।—বাক্যান্তরমাদায় বিভজতে—যো হ বৈ সংপদমিতি। প্রশ্নপূর্ব্বকং সংপদুৎপত্তি- বাক্যমুপাদত্তে—কিং পুনরিতি। শ্রোত্রস্য সংপদ্গুণত্বং ব্যুৎপাদয়তি—কথমিতি। অধ্যেয়ত্বমধ্যয়- নার্হত্বম্। তথাপি কথং শ্রোত্রং সংপদ্গুণকমিত্যাশঙ্ক্যাহ বেদেতি। পূর্ব্বোক্তং ফলমুপসংহরতি— অত ইতি॥ ৩৬৮ ॥ ৪ ॥
ভাষ্যানুবাদ।-যিনি সম্পদকে জানেন, অর্থাৎ সম্পদগুণযুক্তবিষয়ের যিনি উপাসনা করেন, তাহার ফল এই-সেই বিদ্বানের সম্বন্ধে[এই ফল] সম্পন্ন হয়; কোন্ ফল? তিনি যে বিষয় কামনা করেন, সেই কাম্য ফল। উক্ত সম্পদগুণযুক্ত বস্তুটা কি? শ্রোত্র হইতেছে সম্পদগুণযুক্ত; শ্রোত্রের যে, সম্পদ্গুণসম্বন্ধ কেন, তাহা কথিত হইতেছে-যেহেতু শ্রবণেন্দ্রিয় বিদ্যমান থাকিলেই সমস্ত বেদ সম্পন্ন হয়-অধিগত হয়; কারণ, শ্রবণেন্দ্রিয়সম্পন্ন পুরুষের পক্ষেই বেদ অধ্যয়নযোগ্য; কাম্য ফল সমুহও আবার বেদবিহিত কর্ম্মের অধীন; সেই হেতু শ্রবণেন্দ্রিয় হইতেছে সম্পদ। যে লোক এইরূপ জানে, তাহার যে, অভিমত কাম্য বিষয় পরিনিষ্পন্ন হইয়া থাকে, ইহা বিদ্যার অনুরূপ ফলই বটে ॥ ৩৬৮ ॥ ৪ ॥
যো হ বা আয়তনং বেদায়তনং স্বানাং ভবত্যায়তনং জনা- নাম্, মনো বা আয়তনমায়তনং স্বানাং ভবত্যায়তনং জনানাং য এবং বেদ ॥ ৩৬৯ ॥ ৫ ॥
সরলার্থঃ।—যঃ হ বৈ আয়তনং বেদ,[সঃ] স্বানাং(জ্ঞাতীনাং), জনানাং(জ্ঞাতিভিন্নানাং চ) আয়তনং ভবতি। মনঃ বৈ—প্রসিদ্ধম্ আয়তনম্। য এবং বেদ,[সঃ] স্বানাং আয়তনং ভবতি, জনানাং চ আয়তনং ভবতি ॥ ৩৬৯ ॥ ৫ ॥
মূলানুবাদ?—যে লোক আয়তনের উপাসনা করেন, তিনি জ্ঞাতিগণের এবং তদ্ভিন্ন লোকদিগেরও আশ্রয়ভূত হইয়া থাকেন। মনই প্রসিদ্ধ আয়তন; যিনি ইহা জানেন, তিনি জ্ঞাতি ও তদ্ভিন্ন লোকদিগের আশ্রয়স্বরূপ হইয়া থাকেন ॥ ৩৬৯ ॥ ৫ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যো হ বা আয়তনং বেদ। আয়তনমাশ্রয়ঃ, তদ্ যো বেদ, আয়তনং স্বানাং ভবতি, আয়তনং জনানামন্যেষামপি। কিং
পুনস্তদায়তনমিত্যুচ্যতে—মনো বা আয়তনম্ আশ্রয় ইন্দ্রিয়াণাং বিষয়াণাঞ্চ; মন আশ্রিতা হি বিষয়া আত্মনো ভোগ্যত্বং প্রতিপদ্যন্তে; মনঃসঙ্কল্পবশানি চেন্দ্রিয়াণি প্রবর্ত্তন্তে নিবর্ত্তন্তে চ; অতো মন আয়তনমিন্দ্রিয়াণাম্; অতো দর্শনানুরূপ্যেণ ফলম্,—আয়তনং স্বানাং ভবত্যায়তনং জনানাম্, য এবং বেদ ॥ ৩৬৯ ॥ ৫ ॥
টীকা।—বাক্যান্তরমাদায় বিভজতে—যো হ বা আয়তনমিতি। সামান্যেনোক্তমায়তনং প্রশ্নপূর্ব্বকং বিশদয়তি—কিং পুনরিতি। মনসো বিষয়াশ্রয়ত্বং বিশদয়তি—মন ইতি। ইন্দ্রিয়াশ্রয়ত্বং তস্য স্পষ্টয়তি—মনঃসংকল্পেতি। পূর্ব্ববৎ ফলং নিগময়তি—অত ইতি॥ ৩৬৯॥৫॥
ভাষ্যানুবাদ।—যিনি আয়তনকে জানেন; আয়তন অর্থ—আশ্রয়; তাহা যিনি জানেন, তিনি জ্ঞাতিগণের আয়তন হন, এবং অপর লোকদিগেরও আয়তন হন। সেই আয়তন যে, কি, তাহা বলা হইতেছে—মন হইতেছে আয়তন অর্থাৎ ইন্দ্রিয় ও রূপাদি বিষয় সমূহের আশ্রয়; কেন না, ভোগ্য বিষয়- সমূহ মনের আশ্রয়ে থাকিয়াই আত্মার যোগ্য হইয়া থাকে, এবং মনের ইচ্ছানু- যায়ী হইয়াই ইন্দ্রিয়সমূহ প্রবৃত্ত ও নিবৃত্ত হইয়া থাকে; এই কারণে মন হইতেছে ইন্দ্রিয়সমূহের আয়তন। অতএব এতদ্বিষয়ক জ্ঞানসম্পন্ন পুরুষ যে, জ্ঞাতি ও জনসাধারণের আশ্রয় হইয়া থাকে, ইহা বিদ্যানুযায়ী ফলই বটে ॥ ৩৬৯ ॥ ৫ ॥
যোহবৈ প্রজাতিং বেদ, প্রজায়তে হ প্রজয়া পশুভিঃ। রেতো বৈ প্রজাতিঃ, প্রজায়তে হ প্রজয়া পশুভির্য এবং বেদ ॥ ৩৭০ ॥ ৬॥
সম্বলার্থঃ।—যঃ হ বৈ প্রজাতিং বেদ,[সঃ] প্রজয়া(সন্তানেন) পশুভিঃ (বিত্তৈশ্চ)[উপলক্ষিতঃ] প্রজায়তে। রেতঃ(শুক্রং) বৈ(প্রসিদ্ধৌ) প্রজাতিঃ; য এবং বেদ, সঃ প্রজয়া পশুভিশ্চ[বিশিষ্টঃ] প্রজায়তে ॥ ৩৭০ ॥ ৬ ॥
মূলানুবাদ?—যিনি প্রজাতির উপাসনা করেন, তিনি প্রজা ও পশুদ্বারা আঢ্য হন। রেতই প্রজাতি বলিয়া প্রসিদ্ধ। সেই জাতিকে যিনি জানেন, তিনি সন্তান ও পশু-বিত্তযুক্ত হইয়া থাকেন ॥ ৩৭০ ॥ ৬ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যো হ বৈ প্রজাতিং বেদ, প্রজায়তে হ প্রজয়া পশু- ভিশ্চ সম্পন্নো ভবতি। রেতো বৈ প্রজাতিঃ; রেতসা প্রজননেন্দ্রিয়মুপলক্ষ্যতে। তদ্বিজ্ঞানানুরূপং ফলম্, প্রজায়তে ই প্রজয়া পশুভির্য এবং বেদ ॥ ৩৭০ ॥ ৬ ॥
১৪৫৭
টীকা।—গুণান্তরং বক্তুং বাক্যান্তরং গৃহীত্বা তদক্ষরাণি ব্যাকরোতি—যো হেত্যাদিনা। বাগাদীন্দ্রিয়াণি তত্তদ্গুণবিশিষ্টানি শিষ্টা শ্নেতো বিশিষ্টগুণমাচক্ষাণস্য প্রকরণবিরোধঃ স্যাদিত্যা- শঙ্ক্যাহ—রেতসেতি। বিদ্যাফলমুপসংহরতি—তদ্বিজ্ঞানেতি। ৩৭০॥৬॥
ভাষ্যানুবাদ।—যিনি প্রজাতিকে জানেন, তিনি প্রজা ও পশুবিত্ত- সম্পন্ন হন। রেতই(জননেন্দ্রিয়ই) প্রজাতি বলিয়া প্রসিদ্ধ; এখানে ‘রেতঃ’ শব্দে জননেন্দ্রিয় বুঝিতে হইবে। যিনি এইরূপ জানেন, তিনি যে প্রজা ও পশুসম্পন্ন হন, ইহা বিজ্ঞানেরই অনুরূপ ফল ॥ ৩৭০ ॥ ৬ ॥
তে হেমে প্রাণা অহংশ্রেয়সে বিবদমানা ব্রহ্ম জন্মুঃ, তদ্ধোচুঃ কো নো বসিষ্ঠ ইতি। তদ্ধোবাচ যস্মিন্ ব উৎক্রান্ত ইদং শরীরং পাপীয়ো মন্যতে, স বো বসিষ্ঠ ইতি ॥ ৩৭১ ॥ ৭ ॥
সরলার্থঃ।—তে হ ইমে প্রাণাঃ(বাগাদীনি করণানি) অহংশ্রেয়সে (স্বাত্মশ্রেষ্ঠত্বখ্যাপনপ্রয়োজনায়) বিবদমানাঃ(বিবাদং কুর্ব্বাণাঃ সন্তঃ) ব্রহ্ম (ব্রহ্মাণম্) জন্মুঃ(গতবন্তঃ)।[গত্বা চ] তৎ(ব্রহ্ম—ব্রহ্মাণং) উচুঃ হ—নঃ (অস্মাকং মধ্যে) কঃ বসিষ্ঠঃ(পূর্ব্বোক্ত-বসিষ্ঠত্বগুণবান্)? ইতি।[এবং পৃষ্টং সৎ] তৎ(ব্রহ্ম) উবাচ হ—বঃ(যুষ্মাকং মধ্যে) যস্মিন্ উৎক্রান্তে(দেহাদ্বিনি- র্গতে সতি) ইদং শরীরং পাপীয়ঃ(অতিশয়েন পাপিষ্ঠং—অস্পৃশ্যং) মন্যতে [জনঃ], সঃ বঃ(যুষ্মাকং মধ্যে) বসিষ্ঠ ইতি ॥ ৩৭১ ॥ ৭ ॥
মূলানুবাদ?—পুরাকালে, প্রাণসমূহ নিজ নিজ শ্রেষ্ঠত্ব নির্দ্ধারণের নিমিত্ত বিবাদ করিতে করিতে ব্রহ্মার নিকট গমন করিয়াছিল; সেখানে যাইয়া তাহারা ব্রহ্মাকে বলিল—আমাদের মধ্যে বসিষ্ঠগুণযুক্ত কে? ব্রহ্মা বলিলেন—তোমাদের মধ্যে যে প্রাণটী দেহ হইতে চলিয়া গেলে, এই দেহকে লোকে অত্যন্ত পাপিষ্ঠ—অস্পৃশ্য বলিয়া মনে করে, জানিবে, তোমাদের মধ্যে সে-ই বসিষ্ঠত্ব-গুণসম্পন্ন ॥ ৩৭১ ॥ ৭ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তে হ ইমে প্রাণা বাগাদয়ঃ অহংশ্রেয়সে অহংশ্রেয়ান্ ইত্যেতম্মৈ প্রয়োজনায় বিবদমানাঃ বিরুদ্ধং বদমানাঃ ব্রহ্ম জন্মুঃ ব্রহ্ম গতবন্তঃ ব্রহ্মশব্দবাচ্যং প্রজাপতিম্। গত্বা চ তদ্ব্রহ্ম হ উচুরুক্তবন্তঃ—কো নঃ অস্মাকং মধ্যে বসিষ্ঠঃ?—কোহম্মাকং মধ্যে বসতি চ বাসয়তি চ? তদ্ ব্রহ্ম তৈঃ পৃষ্টং সৎ
5
হোবাচ উক্তবৎ—যস্মিন্ বঃ যুগ্মাকং মধ্যে উৎক্রান্তে নির্গতে শরীরাৎ, ইদং শরীরং পূর্ব্বম্মাদতিশয়েন পাপীয়ঃ পাপতরং মন্যতে লোকঃ; শরীরং হি নাম অনেকাশুচিসঙ্ঘাতত্বাজ্জীবতোহপি পাপমেব, ততোহপি কষ্টতরং যস্মিন্নুৎক্রান্তে ভবতি; বৈরাগ্যার্থমিদমুচ্যতে—পাপীয় ইতি। স বঃ যুগ্মাকং মধ্যে বসিষ্ঠো ভবিষ্যতি। জানন্নপি বসিষ্ঠং প্রজাপতির্নোবাচ—অয়ং বসিষ্ঠ ইতি, ইতরেষামপ্রিয়পরিহারায় ॥ ৩৭১ ॥ ৭ ॥
টীকা।—উক্তা বসিষ্ঠত্বাদিগুণা ন বাগাদিগামিনঃ, কিং তু মুখ্যপ্রাণগতা এবেতি দর্শয়িতু- মাখ্যায়িকাং করোতি—তে হেত্যাদিনা। ঈয়সুপ্রয়োগস্য তাৎপর্য্যমাহ—শরীরং হীতি। কিমিতি শরীরস্য পাপীয়স্ত্বমুচ্যতে, তদাহ—বৈরাগ্যার্থমিতি। শরীরে বৈরাগ্যোৎপাদনদ্বারা তস্মিন্নহং- মমাভিমানপরিহারার্থমিত্যর্থঃ। বসিষ্ঠো ভবতীত্যুক্তবানিতি সংবন্ধঃ। কিমিতি সাক্ষাদেব মুখ্যং প্রাণং বসিষ্ঠত্বাদিগুণং নোক্তবান্ প্রজাপতিঃ, স হি সর্বজ্ঞঃ? ইত্যাশঙ্ক্যাহ—জানন্ন- পীতি। ৩৭১। ৭।
ভাষ্যানুবাদ।—পূর্ব্বোক্ত এই প্রাণসমূহ অর্থাৎ চক্ষুঃপ্রভৃতি করণ- বর্গ ‘আমি সর্ব্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, আমি সর্ব্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ’, এইরূপে নিজ নিজ শ্রেষ্ঠত্ব খ্যাপনের উদ্দেশ্যে বিবাদ—বিরুদ্ধ কথা বলিতে বলিতে ব্রহ্মার সমীপে গিয়াছিল, অর্থাৎ ব্রহ্ম-শব্দবাচ্য প্রজাপতির নিকট গিয়াছিল। যাইয়া সেই ব্রহ্মাকে বলিয়া- ছিল—আমাদের মধ্যে বসিষ্ঠ কে?—আমাদের মধ্যে কে অপরকে বাস করায়, অথবা আচ্ছাদন করিয়া রাখে? তাহারা এইরূপ জিজ্ঞাসা করিলে পর, ব্রহ্মা তাহাদিগকে বলিলেন—তোমাদের মধ্যে যিনি এই শরীর হইতে বহির্গত হইলে পর, লোকে এই শরীরকে পূর্ব্বাপেক্ষা অধিক পাপী(ঘৃণার্হ) বলিয়া মনে করে, তোমাদের মধ্যে তিনিই ‘বসিষ্ঠ’ বলিয়া নিশ্চিত হইবে।[এখানে শরীরকে ‘পাপীয়ঃ’ বলিবার অভিপ্রায় এই যে, শরীর স্বভাবতই নানাবিধ অশুচি দ্রব্যের সমবায়ে নির্মিত; সুতরাং জীবিত ব্যক্তির শরীরও পাপী বা অশুচিই বটে; যাহার অভাবে তদপেক্ষাও অধিক পাপী হয়। এই কথাটা কেবল দেহে বৈরাগ্য বা অনাদর উৎপাদনার্থই এখানে বলা হইয়াছে মাত্র। প্রজাপতি জানিয়াও যে, ইনি তোমাদের মধ্যে বসিষ্ঠ, এই কথা বলিলেন না, অপ্রিয় বাক্য পরিহার করাই তাহার একমাত্র কারণ॥ ৩৭১ ॥ ৭ ॥
বাগহোচ্চক্রাম, সা সংবৎসরং প্রোষ্যাগত্যোবাচ কথমশকত মদূতে জীবিতুমিতি। তে হোচুর্যথাকলা অবদন্তো বাচা, প্রাণন্তঃ
১৪৫৯
প্রাণেন, পশ্যন্তশ্চক্ষুষা, শৃণ্বন্তঃ শ্রোত্রেণ, বিদ্বাহ্সো মনসা, প্রজায়মানা রেতসৈবমজীবিস্মেতি, প্রবিবেশ হ বাক্ ॥ ৩৭২ ॥৮॥
সরলার্থঃ।—[ব্রহ্মণা এবমুক্তেষু প্রাণেষু মধ্যে প্রথমং] বাক্(বাগিন্দ্রিয়ং) হ(কিল) উচ্চক্রাম(দেহাৎ নিষ্ক্রান্তা বভূব); সা(বাক্) সংবৎসরং(একবর্ষং কালং ব্যাপ্য) প্রোষ্য(বহিরবস্থায়) আগত্য(পুনঃ দেহসমীপে সমাগত্য) উবাচ—মদ্ ঋতে(মাং বিনা) কথং জীবিতুমশকত(শক্তা অভবত)[যূয়ং]? ইতি। তে(এব- মুক্তাঃ প্রাণাঃ) উঁচুঃ—অকলা(বাগবিধুরাঃ) যথা বাচা অবদন্তঃ(বাগব্যবহার- মকুর্ব্বন্তঃ) প্রাণেন প্রাণন্তঃ, চক্ষুষা পশ্যন্তঃ, শ্রোত্রেণ শৃঙ্খলন্তঃ, মনসা বিদ্বাৎসঃ((বিজা- নন্তঃ), রেতসা প্রজায়মানাঃ[জীবন্তি], এবং(মুকবদেব) অজীবিঘ্ন(জীবিতা আত্ম) ইতি।[এতৎ শ্রুত্বা] বাক্[দেহমধ্যে] প্রবিবেশ হ॥ ৩৭২ ॥৮॥
মুলাসুবাদ:-ব্রহ্মা এই কথা বলিলে পর, প্রথমে বাগিন্দ্রিয় উৎক্রমণ করিল; সে এক বৎসর কাল বাহিরে থাকিয়া প্রত্যাগমন করিল; প্রত্যাগমন করিয়া সে অপর প্রাণাদিগকে জিজ্ঞাসা করিল- আমার অভাবে তোমরা কি প্রকারে বাঁচিয়া থাকিতে সমর্থ হইয়াছিলে? তদুত্তরে অপর সকলে বলিল-মুক ব্যক্তি যেরূপ কেবল বাগব্যবহার করিতে না পারিলেও, প্রাণদ্বারা প্রাণন, চক্ষু দ্বারা দর্শন, কর্ণদ্বারা শ্রবণ, মনদ্বারা চিন্তন এবং রেতঃ দ্বারা প্রজা সমুৎপাদন করত বাঁচিয়া থাকে, আমরাও ঠিক সেই প্রকারেই বাঁচিয়াছিলাম; এই কথা শুনিয়া বাগিন্দ্রিয় দেহমধ্যে প্রবেশ করিল ॥ ৩৭২ ॥ ৮॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তে এবমুক্তা ব্রহ্মণা, প্রাণা আত্মনো বীর্য্য-পরী- ক্ষণায় ক্রমেণোচ্চক্রমুঃ। তত্র বাগেব প্রথমং হ অস্মাচ্ছরীরাৎ উচ্চক্রাম উৎক্রান্তবর্তী। সা চ উৎক্রম্য সংবৎসরং প্রোষ্য প্রোষিতা ভূত্বা পুনরাগত্য উবাচ —কথমশকত শক্তবন্তঃ যুয়ম্ মদূতে মাং বিনা জীবিতুমিতি। তে এবমুক্তা উচুঃ—যথা লোকে অকলা মুকা অবদন্তো বাচা, প্রাণন্তঃ প্রাণন-ব্যাপারং কুর্ব্বন্তঃ প্রাণেন, পশ্যন্তঃ দর্শনব্যাপারং চক্ষুষা কুর্ব্বন্তঃ, তথা শৃণ্বন্তঃ শ্রোত্রেণ, বিদ্বাৎসঃ মনসা কার্য্যাকার্যাদিবিষয়ম্; প্রজায়মানা রেতসা পুত্রানুৎপাদয়ন্তঃ; এবমজীবিঘ্ন বয়ম্, ইত্যেবং প্রাণৈদ্দত্তোত্তরা বাক্ আত্মনঃ অস্মিন্ অবসিষ্ঠত্বং বুদ্ধা, প্রবিবেশ হ বাক্ ॥ ৩৭২ ॥৮॥
টীকা।—বাগ্ হোচ্চক্রামেত্যাদেস্তাৎপর্য্যমাহ—ত এবমিতি। উক্তেহর্থে প্রত্যক্ষরাণি ব্যাচষ্টে—তত্রেত্যাদিনা। কার্য্যাকার্য্যাদিবিষয়মিত্যাদিশব্দেনোপেক্ষণীয়সংগ্রহঃ। চক্ষুরাদিভি- দত্তোত্তরা পুনর্ব্বাক্ কিমকরোদিতি, তত্রাহ—আত্মন ইতি। ৩৭২।৮।
ভাষ্যানুবাদ।-ব্রহ্মাকর্তৃক এইপ্রকার অভিহিত হইয়া প্রাণসমূহ আপনাদের শক্তি-পরীক্ষার জন্য ক্রমশঃ দেহ হইতে উৎক্রমণ করিয়াছিল। তন্মধ্যে সর্ব্বপ্রথমে বাগিন্দ্রিয় এই শরীর হইতে উৎক্রমণ করিল; সে উৎক্রমণের পর, এক বৎসর কাল প্রবাস করিয়া অর্থাৎ বাহিরে থাকিয়া পুন- রাগমনপূর্ব্বক জিজ্ঞাসা করিল-তোমরা আমার অভাবে কিভাবে জীবিত থাকিতে সমর্থ হইয়াছিলে? তাহারা(প্রাণসমূহ) এইরূপে জিজ্ঞাসিত হইয়া উত্তর করিল- জগতে অকল-মুক ব্যক্তিরা যেরূপ বাগিন্দ্রিয় দ্বারা কথা বলিতে না পারিলেও প্রাণ দ্বারা প্রাণন ব্যাপার করত, চক্ষু দ্বারা দর্শনকার্য্য করত, শ্রবণেন্দ্রিয় দ্বারা শ্রবণ ব্যাপার করত, মনঃ দ্বারা কর্তব্যাকর্তব্য বিষয়ে বিচার করত, এবং রেতঃ দ্বারা(জননেন্দ্রিয় দ্বারা) পুত্রসমুৎপাদন করত জীবিত থাকে, আমরাও সেইরূপই জীবিত ছিলাম। প্রাণসমূহ এইপ্রকার উত্তর প্রদান করিলে পর, বাগিন্দ্রিয় আপনার অবিসিষ্ঠত্ব(বসিষ্ঠত্বগুণের অভাব) অবগত হইয়া পুনর্ব্বার দেহ- মধ্যে প্রবেশ করিল ॥ ৩৭২ ॥৮॥
চক্ষুর্হোচ্চক্রাম, তৎ সংবৎসরং প্রোষ্যাগত্যোবাচ কথমশকত মদূতে জীবিতুমিতি। তে হোচুর্যথান্ধা অপশ্যন্তশ্চক্ষুষা, প্রাণন্তঃ প্রাণেন, বদন্তো বাচা, শৃণ্বন্তঃ শ্রোত্রেণ, বিদ্বাহ্সো মনসা, প্রজায়মানা রেতসৈবমজীবিন্মেতি, প্রবিবেশ হ চক্ষুঃ ॥ ৩৭৩ ॥ ৯ ॥
সরলার্থঃ?—অনন্তরং চক্ষুঃ হ উচ্চক্রাম(উৎক্রমণং কৃতবৎ); তৎ (চক্ষুঃ) সংবৎসরং প্রোষ্য আগত্য চ উবাচ—মঋতে(মাং বিনা) কথং জীবিতুম্ অশকত ইতি।[এবমুক্তাঃ] তে(প্রাণাঃ) উঁচুঃ হ—অন্ধা যথা চক্ষুষা অপশ্যন্তঃ সন্তঃ, প্রাণেন প্রাণন্তঃ, বাচা বদন্তঃ, শ্রোত্রেণ শৃণ্বন্তঃ, মনসা বিদ্বাংসঃ(কর্তব্যাকর্ত্তব্য-বিষয়বিচারণাং কুর্ব্বন্তঃ), রেতসা প্রজায়মানাঃ [জীবন্তি];[বয়মপি] এবং অজীবিঘ্ন ইতি।[এবমুক্তে] চক্ষুঃ হ প্রবিবেশ ॥ ৩৭৩ ॥ ৯ ॥
মূল্যবান্দা।—অতঃপর চক্ষু দেহ হইতে বাহির হইয়া
১৪৬১
গেল; সে এক বৎসর কাল বাহিরে থাকিয়া পুনঃ প্রত্যাগত হইয়া, প্রাণসমূহকে জিজ্ঞাসা করিল—আমার অভাবে তোমরা কি প্রকারে বাঁচিতে সমর্থ হইয়াছিলে? তদুত্তরে অপর সকলে বলিল, অন্ধ লোকেরা যেরূপ কেবল চক্ষু দ্বারা দেখিতে পায় না; কিন্তু প্রাণ দ্বারা প্রাণন, বাগিন্দ্রিয় দ্বারা শব্দোচ্চারণ, শ্রবণেন্দ্রিয় দ্বারা শ্রবণ, মনঃ দ্বারা মনন এবং জননেন্দ্রিয় দ্বারা সন্তানোৎপাদন করিয়া জীবিত থাকে, আমরাও ঠিক সেইরূপেই জীবিত ছিলাম। এই কথা শুনিয়া চক্ষু দেহমধ্যে পুনঃ প্রবেশ করিল ॥ ৩৭৩ ॥ ৯ ॥
শ্রোত্রং হোচ্চক্রাম, তৎ সংবৎসরং প্রোষ্যাগত্যোবাচ কথ- মশকত মদৃতে জীবিতুমিতি, তে হোচুর্যথা বধিরা অশৃণ্বন্তঃ শ্রোত্রেণ, প্রাণন্তঃ প্রাণেন, বদন্তো বাচা, পশ্যন্তশ্চক্ষুষা, বিদ্বাৎসো মনসা, প্রজায়মানা রেতসৈবমজীবিন্মেতি, প্রবিবেশ হ শ্রোত্রম্ ॥ ৩৭৪ ॥ ১০ ॥
সরলার্থঃ।—শ্রোত্রং উচ্চক্রাম হ; তৎ(শ্রবণেন্দ্রিয়ং) সংবৎসরং প্রোষ্য[পুনঃ] আগত্য চ উবাচ—মদ্ ঋতে(মাং বিনা) কথম্ জীবিতুং অশকত ইতি।[এবং পৃষ্ঠাঃ] তে(প্রাণাঃ) উঁচুঃ হ—বধিরাঃ (শ্রবণেন্দ্রিয়বিহীনাঃ) যথা শ্রোত্রেণ অশৃণ্বন্তঃ সন্তঃ, প্রাণেন প্রাণন্তঃ, বাচা বদন্তঃ, চক্ষুষা পশ্যন্তঃ, মনসা বিদ্বাৎসঃ, রেতসা প্রজায়মানাঃ [জীবন্তি], এবং[বয়ং] অজীবিঘ্ন ইতি; লব্ধোত্তরং শ্রোত্রং[দেহং] প্রবিবেশ হ॥ ৩৭৪॥ ১০॥
মূলানুবাদ?—অনন্তর শ্রবণেন্দ্রিয় দেহ হইতে নির্গত হইল। সে এক বৎসর বাহিরে থাকিয়া প্রত্যাগমনপূর্ব্বক অপর সকল প্রাণকে জিজ্ঞাসা করিল—আমার অভাবে তোমরা কিরূপে জীবিত থাকিতে সমর্থ হইয়াছিলে? তদুত্তরে অপর সকলে বলিল— বধির লোকগণ যেরূপ কেবল কর্ণে শব্দ শ্রবণ করিতে পারে না; কিন্তু প্রাণ দ্বারা প্রাণন, বাগিন্দ্রিয় দ্বারা শব্দোচ্চারণ, চক্ষু দ্বারা দর্শন, মন দ্বারা মনন, জননেন্দ্রিয় দ্বারা সন্তানোৎপাদন করত জীবিত
থাকে, আমরাও সেইরূপ জীবিত ছিলাম। এইরূপ উত্তর শুনিয়া শ্রবণেন্দ্রিয় পুনঃ শরীরে প্রবেশ করিল ॥ ৩৭৪ ॥ ১০ ॥
মনো হোচ্চক্রাম, তৎ সংবৎসরং প্রোষ্যাগত্যোবাচ কথমশকত মদূতে জীবিতুমিতি, তে হোচুর্যথা মুগ্ধা অবিদ্বাহ্সো মনসা, প্রাণন্তঃ প্রাণেন, বদন্তো বাচা, পশ্যন্তশ্চক্ষুষা, শৃণ্বন্তঃ শ্রোত্রেণ, প্রজায়মানা রেতসৈবমজীবিস্মেতি, প্রবিবেশ হ মনঃ ॥ ৩৭৫॥ ১১॥
সন্মলার্থঃ।—[অনন্তরম্] মনঃ উচ্চক্রাম হ; তৎ(মনঃ) সংবৎসরং প্রোষ্য আগত্য উবাচ—[যুয়ম্] মদ্ ঋতে কথং জীবিতুম্ অশকত ইতি।[এবং পৃষ্ঠাঃ] তে(প্রাণাঃ) উঁচুঃ—মুগ্ধাঃ(বিমনসঃ) যথা মনসা অবিদ্বাৎসঃ(কাৰ্য্যা- কার্য্যমনবধারয়ন্তঃ) প্রাণেন প্রাণন্তঃ, চক্ষুষা পশ্যন্তঃ, শ্রোত্রেণ শৃণ্বন্তঃ, রেতসা প্রজায়মানাঃ[জীবন্তি],[তথা বয়ম্] অজীবিঘ্ন ইতি;[এবং প্রাপ্তোত্তরং,] মনঃ[শরীরে] প্রবিবেশ হ॥ ৩৭৫॥ ১১ ॥
মূলানুবাদ:-অতঃপর মন দেহ হইতে বহির্গত হইল। সে এক বৎসরকাল বাহিরে থাকিয়া প্রত্যাগমনপূর্ব্বক অপর সকলকে বলিল-আমার অভাবে তোমরা কিপ্রকারে জীবনধারণে সমর্থ হইয়াছিলে? তদুত্তরে তাহারা বলিল-মুগ্ধ(অমনস্ক) লোকেরা যেমন কেবল মন দ্বারা চিন্তা না করিয়াও প্রাণ দ্বারা প্রাণন, বাগিন্দ্রিয় দ্বারা শব্দোচ্চারণ, চক্ষু দ্বারা দর্শন, শ্রবণেন্দ্রিয় দ্বারা শ্রবণ এবং রেতঃ দ্বারা সন্তানোৎপাদন করত জীবিত থাকে, আমরাও সেইরূপই জীবিত ছিলাম; এই কথা শুনিয়া মন দেহে প্রবেশ করিল ॥ ৩৭৫ ॥ ১১ ॥ . রেতো হোচ্চক্রাম, তৎ সংবৎসরং প্রোষ্যাগত্যোবাচ কথমশকত মদৃতে জীবিতুমিতি, তে হোচুর্যথা ক্লীবা অপ্রজায়মানা রেতসা, প্রাণন্তঃ প্রাণেন, বদন্তো বাচা, পশ্যন্তশ্চক্ষুষা, শৃণুন্তঃ শ্রোত্রেণ, বিদ্বাহ্সো মনসৈবমজীবিস্মেতি, প্রবিবেশ হ রেতঃ ॥ ৩৭৬ ॥ ১২ ॥
সরলার্থঃ।—রেতঃ উচ্চক্রাম হ; তৎ(রেতঃ) সংবৎসরং প্রোষ্য আপত্য উবাচ—মদ্ ঋতে কথং জীবিতুম্ অশকত ইতি। তে(প্রাণাঃ) হ উচুঃ
১৪৬৩
যথা ক্লীবাঃ রেতসা অপ্রজায়মানাঃ সন্তঃ প্রাণেন প্রাণন্তঃ, বাচা বদন্তঃ, চক্ষুষা পশ্যন্তঃ, শ্রোত্রেণ শৃণ্বন্তঃ, মনসা বিদ্বাংসঃ[জীবন্তি], এবম্ অজীবিঘ্ন ইতি;[এবং লব্ধোত্তরং] রেতঃ প্রবিবেশ হ ॥ ৩৭৬ ॥ ১২ ॥
মূলানুবাদ?—তাহার পর রেতঃ দেহ হইতে বহির্গত হইল। সেই রেতঃ এক বৎসরকাল বাহিরে থাকিয়া প্রত্যাগমনপূর্ব্বক অপর সকলকে জিজ্ঞাসা করিল—আমার অভাবে তোমরা কিরূপে জীবনধারণ করিতে সমর্থ হইয়াছিলে? তাহারা(প্রাণসমূহ) বলিল— ক্লীব লোকেরা যেরূপ সন্তানোৎপাদনে অসমর্থ হইয়াও, প্রাণ দ্বারা প্রাণন, বাগিন্দ্রিয় দ্বারা শব্দোচ্চারণ, চক্ষু দ্বারা দর্শন, কর্ণ দ্বারা শ্রবণ এবং মন দ্বারা বিষয়-বিজ্ঞান করত জীবিত থাকে, আমরাও ঠিক সেইরূপেই জীবিত ছিলাম; এই কথার পর রেতঃ দেহমধ্যে প্রবেশ করিল ॥ ৩৭৬ ॥ ১২ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তথা চক্ষুহোচ্চক্রামেত্যাদি পূর্ব্ববৎ। শ্লোত্রং মনঃ প্রজাতিরিতি ॥ ৩৭৩—৩৭৬ ॥ ৯—১২ ॥
টাকা।—১। ৩৭৩—৩৭৬।—১২।
ভাষ্যানুবাদ।—সেইরূপ ‘চক্ষু উৎক্রমণ করিল’—ইত্যাদি শ্রুতির অর্থ পূর্ব্ব পূর্ব্ব শ্রুত্যর্থের অনুরূপ ॥ ৩৭৩—৩৭৬ ॥ ৯—১২ ॥
অথ হ প্রাণ উৎক্রমিষ্যন্ যথা মহাসুহয়ঃ সৈন্ধবঃ পড্বীশ- শঙ্কূন্ সংবৃহেদেবং হৈবেমান্ প্রাণান্ সংববহ, তে হোচুৰ্ম্মা ভগব উৎক্রমীন বৈ শক্ষ্যামস্তদূতে জীবিতুমিতি। তস্যো মে বলিং কুরুতেতি, তথেতি ॥ ৩৭৭ ॥ ১৩ ॥
সরলার্থঃ।—অথ(অনন্তরং) প্রাণঃ(প্রাণাপানাদিলক্ষণঃ মুখ্যঃ প্রাণঃ) হ উৎক্রমিষ্যন্(দেহাৎ বহির্গমিষ্যন্)—যথা সৈন্ধবঃ(সিন্ধু- দেশোদ্ভবঃ) মহাসুহয়ঃ(মহান্ শোভনশ্চ হয়ঃ—অশ্বঃ) পড়্বীশ-শঙ্কুন্ (পাদবন্ধন-কীলানি) সংবুহেৎ(সহসা উৎখনেৎ—উৎপাটয়েৎ), এবম্ এব হ ইমান্ প্রাণান্(মুখ্যপ্রাণেতরাণি ইন্দ্রিয়াণি) সংববহ(চালয়ামাস)। তে(প্রাণাঃ) হ উচুঃ—ভগবঃ(ভগবন্), মা উৎক্রমীঃ(দেহাদুৎক্রমণং মা কার্ষীঃ); [ যতঃ] ত্বৎ ঋতে(ত্বাং বিনা)[বয়ম্] জীবিতুৎ ন শক্ষ্যামঃ(ন শক্তা
ভবামঃ) ইতি।[এবমভ্যর্থিতঃ প্রাণ উবাচ-] উ(ভোঃ), তস্য(এতাদৃশ- মহিয়ঃ) মে(মম) বলিং(শ্রেষ্ঠত্বজ্ঞাপক-করপ্রদানং) কুরুত ইতি।[এবমুক্তাঃ প্রাণাঃ] তথা[অস্ত] ইতি[এবম্ উচুঃ ইত্যর্থঃ] ॥ ৩৭৭ ॥ ১৩॥
মূলানুবাদ?—তাহার পর মুখ্য প্রাণ উৎক্রমণ করিতে উদ্যত হইয়া, সিন্ধুদেশীয় উত্তম অশ্ব যেমন সহসা পাদবন্ধনের খুঁটি- গুলি উৎপাটন করে, ঠিক তেমনি অপর সমস্ত প্রাণকে উৎখাত— চঞ্চল করিল। তখন বাক্প্রভৃতি প্রাণবর্গ তাহাকে সম্বোধন করিয়া বলিল—ভগবন্, আপনি উৎক্রমণ করিবেন না; আপনাকে ছাড়িয়া আমরা জীবন ধারণ করিতে সমর্থ হইব না।[তখন মুখ্য প্রাণ বলিল—তাহা হইলে,] আমার জন্য বলি অর্থাৎ শ্রেষ্ঠত্বের চিহ্নস্বরূপ উপহার প্রদান কর।[বাক্ প্রভৃতি প্রাণ বলিল—] ‘তথাস্তু’ ইতি ॥ ৩৭৭ ॥ ১৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথ হ প্রাণ উৎক্রমিষ্যন্নুৎক্রমণং করিষ্যন্; তদানীমেব স্বস্থানাৎ প্রচলিতা বাগাদয়ঃ। কিমিবেত্যাহ—যথা লোকে মহাং- শ্চাসৌ সুহয়শ্চ মহাসুহয়ঃ—শোভনো হয়ঃ লক্ষণোপেতঃ, মহান্ পরিমাণতঃ, সিন্ধুদেশে ভবঃ সৈন্ধবঃ অভিজনতঃ, পড়ীশশঙ্কূন্ পাদবন্ধনশঙ্কূন্, পড়ীশাশ্চ তে শঙ্কবশ্চেতি তান্, সংবৃহেৎ উদ্বচ্ছেদ্ যুগপদুৎখনেদ্—অশ্বারোহে আরূঢ়ে পরীক্ষণায়; এবং হ এব ইমান্ বাগাদীন্ প্রাণান্ সংববহ্ উদ্যতবান্ স্বস্থানাৎ ভ্রংশিতবান্। তে বাগাদয়ো হ উচুঃ—হে ভগবঃ ভগবন্, মা উৎক্রমীঃ; যস্মাৎ ন বৈ শক্ষ্যামঃ ত্বদূতে ত্বাং বিনা জীবিতুমিতি। যদ্যেবং মম শ্রেষ্ঠতা বিজ্ঞাতা ভবন্তিঃ অহমত্র শ্রেষ্ঠঃ, তস্য উ মে মম বলিং করং কুরুত করং প্রযচ্ছতেতি।
অরঞ্চ প্রাণসংবাদঃ কল্পিতঃ বিদুষঃ শ্রেষ্ঠত্বপরীক্ষণপ্রকারোপদেশঃ। অনেন হি প্রকারেণ বিদ্বান্—কো নু খলত্র শ্রেষ্ঠ ইতি পরীক্ষণং করোতি। স এষ পরীক্ষণ- প্রকারঃ সংবাদভূতঃ কথ্যতে। নহি অন্যথা সংহত্যকারিণাং সতামেষামঞ্জসৈব সংবৎসরমাত্রমেবৈকৈকস্য নির্গমনাদ্যুপপদ্যতে; তস্মাদ্বিদ্বানেব অনেন প্রকারেণ বিচারয়তি বাগাদীনাং প্রধানবুভূৎসুরুপাসনায়। বলিং প্রার্থিতাঃ সন্তঃ প্রাণাঃ, তথেতি প্রতিজ্ঞাতবন্তঃ ॥ ৩৭৭ ॥ ১৩ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর মুখ্য প্রাণ যখন উৎক্রমণ করিতে উদ্যত হইল, তখন বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গণও নিজ নিজ স্থান হইতে বিচলিত হইয়া পড়িল।
কাহার ন্যায়, তাহা বলিতেছেন—জগতে সিন্ধুদেশোৎপন্ন—সৈন্ধব, মহাসুহয় অর্থাৎ পরিমাণে বৃহৎ ও উত্তম ‘সুলক্ষণাক্রান্ত অশ্ব যেরূপ অশ্বারোহী পৃষ্ঠে আরোহণপূর্ব্বক অশ্বের শক্তি-পরীক্ষায় প্রবৃত্ত হইবা মাত্র, পড়্বীশ-শঙ্কুসমূহ অর্থাৎ অশ্বের পাদবন্ধন খুঁটীসমূহ একসঙ্গে উৎপাটিত করে—উঠাইয়া ফেলে, ঠিক সেইরূপ এই বাক্প্রভৃতি প্রাণকেও উদ্যত—স্ব স্ব স্থান হইতে বিচলিত করিয়াছিল। তখন সেই বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয় মুখ্যপ্রাণকে বলিল—হে ভগবন্, তুমি উৎক্রমণ করিও না; যেহেতু তোমার অভাবে আমরা জীবন রক্ষায় সমর্থ হইব না। [মুখ্য প্রাণ বলিল—] তোমরা যদি আমার এইরূপই শ্রেষ্ঠতা বুঝিয়া থাক, [তাহা হইলে] আমি যখন শ্রেষ্ঠ, তখন সেই শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন বা চিহ্নস্বরূপ আমার জন্য কিঞ্চিৎ বলির ব্যবস্থা কর—কর প্রদান কর।
বিদ্বানের শ্রেষ্ঠতা পরীক্ষার প্রণালী উপদেশের জন্য শ্রুতি নিজেই এই প্রাণ-সংবাদ বা আখ্যায়িকাটী কল্পনা করিয়াছেন। উদ্দেশ্য—আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে? এইরূপে শ্রেষ্ঠতা লইয়া বিবাদ উপস্থিত হইলে, বিজ্ঞ লোকে এই প্রণালীতেই তাহার পরীক্ষা করিবেন; সেই প্রসিদ্ধ পরীক্ষা-প্রণালীই এখানে আখ্যায়িকাচ্ছলে কথিত হইতেছে; তাহা না হইলে সংহত্যকারী বা সম্মিলিত ভাবে কার্য্যকারী এই বাক্প্রভৃতি প্রাণগণের এক একটার যে নির্গমন, এবং এক বৎসরকাল প্রবাস ও প্রত্যাগমন, তাহা কখনই মুখ্যরূপে উপপন্ন হয় না। অতএব বুঝিতে হইবে যে, কেবল প্রাধান্যলাভেচ্ছু বিদ্বান্ লোকই উপাসনার জন্য এই প্রকারে বাক্প্রভৃতি প্রাণের প্রাধান্য বিচার’ করিয়া থাকেন। বাগাদি প্রাণগণের নিকট বলি প্রার্থনা করিলে পর, তাহারা ‘তথা’(সেইরূপই হউক) বলিয়া অঙ্গীকার জ্ঞাপন করিলেন ॥ ৩৭৭ ॥ ১৩ ॥
সা হ বাগুবাচ যদ্বা অহং বসিষ্ঠাস্মি ত্বং তদ্বসিষ্ঠোহসীতি, যদ্বা অহং প্রতিষ্ঠাস্মি ত্বং তৎপ্রতিষ্ঠোহসীতি চক্ষুঃ, যদ্বা অহৎ সম্পদস্মি ত্বং তৎসম্পদসীতি শ্রোত্রং যদ্বা অহমায়তনমস্মি ত্বং তদায়তনমসীতি মনঃ, যদ্বা অহং প্রজাতিরস্মি ত্বং তৎ- প্রজাতিরসীতি রেতঃ। তস্যো মে কিমন্নম্, কিং মে বাস ইতি, যদিদং কিঞ্চাশ্বভ্য আ কৃমিভ্য আ কীটপতঙ্গেভ্যস্তত্তেহন্নম্ আপো বাস ইতি; ন হ বা অস্যানন্নং জগ্ধং ভবতি, নানন্নং
পরিগৃহীতং, য এবমেতদনস্যান্নং বেদ, তদ্বিদ্বাংসঃ শ্রোত্রিয়া অশিষ্যন্ত আচামন্ত্যশিত্বা চাচামন্ত্যেতমেব তদনমনগ্নং কুর্ব্বন্তো মন্যন্তে ॥ ৩৭৮ ॥ ১৪ ॥
ইতি ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ প্রথমঃ ব্রাহ্মণম্ ॥ ৬ ॥ ১ ॥
সরলার্থঃ।—[মুখ্যপ্রাণেনৈবমভিহিতেষু প্রাণেষু মধ্যে প্রথমং] সা বাক্ উবাচ হ—অহং যদ্বসিষ্ঠা অস্মি(মম যদ্ বসিষ্ঠত্বম্), ত্বং তদ্বসিষ্ঠঃ অসি (মম যদ্ বসিষ্ঠত্বম্, তৎ তবৈব ইতি ভাবঃ) ইতি, তথা অহং বৈ যৎপ্রতিষ্ঠা অস্মি, ত্বং তৎপ্রতিষ্ঠঃ অসি(মম যঃ প্রতিষ্ঠাত্বগুণঃ, স তবৈব অস্তু ইতি ভাবঃ, এবং সর্ব্বত্র,) ইতি চক্ষুঃ[উবাচ]। অহং বৈ যৎ সম্পদ অস্মি, ত্বং তৎসম্পদ্ অসি ইতি শ্রোত্রম্[উবাচ]। অহং বৈ যদ্ আয়তনম্ অস্মি, ত্বং তদায়তনম্ অসি ইতি মনঃ[উবাচ]। অহং যৎ প্রজাতিঃ(প্রজননধৰ্ম্মকম্) অস্মি, ত্বং তৎপ্রজাতিঃ অসি ইতি রেতঃ[উবাচ]।[অনন্তরং মুখ্যপ্রাণ উবাচ—] উ(ভোঃ) তস্য মম কিং(বস্তু) অন্নং(ভক্ষণীয়ং)[ভবেৎ], বাসঃ (আচ্ছাদনং চ) কিং[ভবেৎ]? ইতি।[ইতরে প্রাণা উচুঃ—] আ শ্বভ্যঃ(সারমেয়পর্যন্তং), আ কৃমিভ্যঃ(কৃমিপর্যন্তং), আ কীটপতঙ্গেভ্যঃ (কীটপতঙ্গপর্যন্তং) যৎ ইদং কিঞ্চ(যৎ কিঞ্চিৎ বস্তু), তৎ(তৎসর্ব্বং) তে(তব) অন্নম্, আপঃ(আচমনীয়ং জলং) বাসঃ(আচ্ছাদনবস্ত্রম্) [অস্তু] ইতি।
যঃ অন্য অনস্য(প্রাণস্য) এতদ্ অন্নম্ এবং বেদ, অন্য(প্রাণান্নবিদুষঃ) নহবৈ(নৈব) অনন্নং জগ্ধং(ভক্ষিতং) ভবতি, অনন্নং পরিগৃহীতং চ ন ভবতি। তৎ(তস্মাৎ—অন্ন-পানয়োরেবম্ অন্নাচ্ছাদনত্বেন কল্পিতত্বাদেব) শ্রোত্রিয়া বিদ্বাংসঃ অশিষ্যন্তঃ(অশনং করিষ্যন্তঃ—অশনাৎ প্রাক্) আচামন্তি, অসিত্বা চ(অশনানন্তরমপি) আচামন্তি(জলং পিবস্তি); তৎ(তেন আচমনেন) এতম্ এব অনং(প্রাণং) অনগ্নং(বস্ত্রপরিহিতং) কুর্ব্বন্তঃ [বয়ম্] ইতি মন্যন্তে ॥ ৩৭৮ ॥ ১৪ ॥
মূলানুবাদ:-[মুখ্য প্রাণ এইরূপ বলিলে পর, প্রথমতঃ] বাগিন্দ্রিয় বলিল-আমার যে, বসিষ্ঠত্ব গুণ আছে, তুমি সেই বসিষ্ঠত্ব গুণসম্পন্ন হও; চক্ষু বলিল-আমার যে, প্রতিষ্ঠাত্ব গুণ আছে, তুমি
সেই প্রতিষ্ঠাত্বগুণযুক্ত হও; শ্রবণেন্দ্রিয় বলিল-আমার যে, সম্পদ্গুণ আছে, তাহা তোমারই হউক; মন বলিল-আমার যে, আয়তনত্ব গুণ আছে, তুমি সেই আয়তনগুণে অধিকৃত হও; জননেন্দ্রিয় বলিল-আমার যে, সন্তানোৎপাদনক্ষমতা আছে, সেই প্রজাতি গুণ তোমার হউক।[অনন্তর প্রাণ বলিল-] আমার যখন এইরূপ বিশিষ্ট গুণ রহিয়াছে, তখন আমার অন্নই বা কি, আর বস্ত্রই বা কি হইবে? তখন অপর সকলে বলিল-[চতুষ্পাদের মধ্যে] কুকুর পর্যন্ত ও কৃমি পর্যন্ত এবং কীট-পতঙ্গ পর্যন্ত যাহা কিছু আছে, সেই সমস্তই তোমার অন্ন(ভক্ষ্য বস্তু),[আর ভোজনার্থ আচমনীয়] জল তোমার বাসঃ-আচ্ছাদন বস্ত্র হইবে ইতি।
যিনি প্রাণের এই তত্ত্ব যথোক্তপ্রকারে জানেন, তাঁহার পক্ষে অনন্ন(অভক্ষ্য) ভক্ষিত হয় না, কিংবা অনন্ন পরিগৃহীত হয় না। এইজন্য শ্রোত্রিয় বিদ্বজ্জনেরা ভোজনের পূর্ব্বে আচমন করেন (জলপান করেন) এবং ভোজন করিয়াও আচমন করিয়া থাকেন। তাঁহারা মনে করেন যে, ইহা দ্বারা আমরা প্রাণের অনগ্নতা সম্পাদন করিতেছি ॥ ৩৭৮॥ ১৪ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—সা হ বাক্ প্রথমং বলিদানায় প্রবৃত্তা হ কিল উবাচ উক্তবতী।—যদ্বৈ অহং বসিষ্ঠাস্মি, যৎ মম বসিষ্ঠত্বম্, তৎ তবৈব—তেন বসিষ্ঠগুণেন ত্বং তদ্বসিষ্ঠোহসীতি। যদ্ বৈ অহং প্রতিষ্ঠাস্মি, ত্বং তৎপ্রতিষ্ঠোহসি, যা মম প্রতিষ্ঠা, সা ত্বমসীতি চক্ষুঃ। সমানমন্যৎ। সম্পদায়তন-প্রজাতিত্বগুণান্ ক্রমেণ সমর্পিতবন্তঃ। যদ্যেবম্, সাধু বলিং দত্তবস্তো ভবন্তঃ; দ্রুত—তস্য উ মে এবংগুণবিশিষ্টস্য কিমন্নম্? কিং বাস ইতি। আহুরিতরে—যদিদং লোকে কিঞ্চ কিঞ্চিদন্নং নাম আ শ্বভ্যঃ, আ কৃমিভ্যঃ, আ কীটপতঙ্গেভ্যঃ, যচ্চ শ্বান্নং কৃম্যন্নং কীট- পতঙ্গান্নং চ, তেন সহ সর্ব্বমেব যৎকিঞ্চিৎ প্রাণিভিরদ্যমানমন্নম্, তৎ সর্ব্বং তবান্নম্। সর্ব্বং প্রাণস্যান্নমিতি দৃষ্টিরত্র বিধীয়তে। ১
কেচিত্ত সর্ব্বভক্ষণে দোষাভাবং বদন্তি প্রাণান্নবিদঃ; তদসৎ, শাস্ত্রান্তরেণ প্রতিষিদ্ধত্বাৎ। তেনাস্য বিকল্প ইতি চেৎ; ন, অবিধায়কত্বাৎ; ন হ বা
অন্যানন্নং জগ্ধং ভবতীতি—সর্ব্বং প্রাণস্যান্নমিত্যেতস্য বিজ্ঞানস্য বিহিতস্য স্তুত্যর্থমেতৎ, তেনৈকবাক্যতাপত্তেঃ; ন তু শাস্ত্রান্তরে বিহিতস্য বাধনে সামর্থ্যম্, অন্যপরত্বাদস্য। প্রাণমাত্রস্য সর্ব্বমন্নমিত্যেতদ্দর্শনমিহ বিধিৎসিতম্, ন তু সর্ব্বং ভক্ষয়েদিতি। যত্তু সর্ব্বভক্ষণে দোষাভাবজ্ঞানম্, তন্মিথ্যৈব, প্রমাণাভাবাৎ। ২
বিদুষঃ প্রাণত্বাৎ সর্ব্বান্নোপপত্তেঃ সামর্থ্যাদদোষ এবেতি চেৎ; ন, অশেষান্ন- ত্বানুপপত্তেঃ; সত্যং যদ্যপি বিদ্বান্ প্রাণঃ, যেন কার্য্যকরণসঙ্ঘাতেন বিশিষ্টস্য বিদ্বত্তা, তেন কার্য্যকরণসঙ্ঘাতেন কৃমিকীটদেবাদ্যশেষান্নভক্ষণং নোপপদ্যতে; তেন তত্রাশেষান্নভক্ষণদোষাভাবজ্ঞাপনমনর্থকম্, অপ্রাপ্তত্বাদশেষান্নভক্ষণদোষস্য। ৩
ননু প্রাণঃ সন্ ভক্ষয়ত্যেব কৃমিকীটাদ্যন্নমপি; বাঢ়ম্, কিন্তু ন তদ্বিষয়ঃ প্রতিষেধোহস্তি; তস্মাদ্দৈবরক্তং কিংশুকম্—তত্র দোষাভাবঃ; অতস্তদ্রূপেণ দোষাভাবজ্ঞাপনমনর্থকম্, অপ্রাপ্তত্বাদ অশেষান্নভক্ষণদোষস্য। যেন তু কার্য্য- করণসঙ্ঘাতসম্বন্ধেন প্রতিষেধঃ ক্রিয়তে, তৎসম্বন্ধেন ত্বিহ নৈব প্রতিপ্রসবোহস্তি; তস্মাৎ প্রতিষেধাতিক্রমে দোষ এব স্যাৎ, অন্যবিষয়ত্বাৎ “ন হ বৈ” ইত্যাদেঃ। ৪
ন চ ব্রাহ্মণাদিশরীরস্য সর্ব্বান্নত্বদর্শনমিহ বিধীয়তে, কিন্তু প্রাণমাত্রস্যৈব। যথা চ সামান্যেন সর্ব্বান্নস্য প্রাণস্য কিঞ্চিদন্নজাতং কস্যচিৎ জীবনহেতুঃ, যথা বিষং বিষজস্য কৃমেঃ, তদেবান্যস্য প্রাণান্নমপি সদ্ দৃষ্টমেব দোষমুৎপাদয়তি—মরণাদিলক্ষণম্, তথা সর্ব্বান্নস্যাপি প্রাণস্য প্রতিষিদ্ধান্নভক্ষণে ব্রাহ্মণত্বাদিদেহসম্বন্ধাৎ দোষ এব স্যাৎ। তস্মান্মিথ্যাজ্ঞানমের অভক্ষ্যভক্ষণে দোষাভাবজ্ঞানম্। ৫
আপো বাস ইতি। অপো ভক্ষ্যমাণা বাসঃস্থানীয়াঃ তব। অত্র চ প্রাণস্য আপো বাস ইত্যেতদ্দর্শনং বিধীয়তে, ন বাসঃকার্য্যে আপো বিনিযোক্তুং শক্যাঃ; তস্মাদ্যথা প্রাপ্তে অবভক্ষণে দর্শনমাত্রং কর্তব্যম্। ন হ বৈ অন্য সর্ব্বং প্রাণস্যান্ন- মিত্যেবংবিদঃ অনন্নম্ অনদনীয়ং জগ্ধং ভুক্তং ভবতি হ। যদ্যপি অনেন অনদ- নীয়ং ভুক্তম্, অদনীয়মেব ভুক্তং স্যাৎ, ন তু তৎকৃতদোষেণ লিপ্যতে— ইত্যেতদ্বিদ্যাস্তুতিরিত্যবোচাম। তথা ন অনন্নং প্রতিগৃহীতম্, যদ্যপি অপ্রতি- গ্রাহ্যং হস্ত্যাদি প্রতিগৃহীতং স্যাৎ, তদাপি অন্নমেব প্রতিগ্রাহ্যং প্রতিগৃহীতং স্যাৎ, তত্রাপি অপ্রতিগ্রাহ্য-প্রতিগ্রহদোষেণ ন লিপ্যতইতি স্তুত্যর্থমেব; য এব- মেতদস্য প্রাণস্যান্নং বেদ, ফলন্তু প্রাণাত্মভাব এব; ন ত্বেতৎ ফলাভিপ্রায়েণ, কিং তর্হি, স্তুত্যভিপ্রায়েণেতি। ৬
ননু এতদেব ফলং কস্মাৎ ন ভবতি? ন, প্রাণাত্মদর্শিনঃ প্রাণাত্মভাব এব ফলম্; তত্র চ প্রাণাত্মভূতস্য সর্ব্বাত্মনঃ অনদনীয়মপি আদ্যমেব; তথা অপ্রতি- গ্রাহ্যমপি প্রতিগ্রাহ্যমেবেতি যথাপ্রাপ্তমেবোপাদায় বিদ্যা স্তূয়তে; অতো নৈব ফলবিধিসরূপতা বাক্যস্য। ৭
যম্মাদাপো বাসঃ প্রাণস্য; তস্মাদ্বিদ্বাংসঃ ব্রাহ্মণাঃ শ্রোত্রিয়া অধীতবেদাঃ, অশিষ্যন্তঃ ভোক্ষ্যমাণাঃ, আচামন্তি অপঃ, অশিত্বা আচামন্তি ভুক্ত্বা চোত্তরকালম্ অপো ভক্ষয়ন্তি। অত্র তেষামাচামতাং কোহভিপ্রায় ইত্যাহ-এতমেব অনং প্রাণমনগ্নং কুর্ব্বন্তো মন্যন্তে। অস্তি চৈতৎ-যো যস্মৈ বাসো দদাতি, স তমনগ্নং করোমীতি হি মন্যতে; প্রাণস্য চাপো বাস ইতি হ্যুক্তম্। যদপঃ পিবামি, তৎ প্রাণস্য বাসো দদামীতি বিজ্ঞানং কর্তব্যমিত্যেবমর্থমেতৎ। ৮
ননু ভোক্ষ্যমাণো ভুক্তবাংশ প্রযতো ভবিষ্যামীত্যাচামতি; তত্র চ প্রাণস্যা- নগ্নতাকরণার্থত্বে চ দ্বিকার্যতা আচমনস্য স্যাৎ। নচ কার্যদ্বয়মাচমনস্যৈকস্য যুক্তম্; যদি প্রায়ত্যার্থং, নানগ্নতার্থম্; অথ, অনগ্নতার্থম্, ন প্রায়ত্যার্থম্; যম্মাদেবম্, তস্মাদ্বিতীয়ম্ আচমনান্তরং প্রাণস্যানগ্নতাকরণায় ভবতু; ন, ক্রিয়াদিত্বোপপত্তেঃ; দ্বে হোতে ক্রিয়ে; ভোক্ষমাণস্য ভুক্তবতশ্চ যদাচমনং স্মৃতিবিহিতম্; তৎ প্রায়- ত্যার্থং ভবতি ক্রিয়ামাত্রমেব; ন তু তত্র প্রায়ত্যং দর্শনাদি অপেক্ষতে; তত্র চ আচমনাঙ্গভূতাসু অপ্সু বাসোবিজ্ঞানং প্রাণস্য ইতিকর্তব্যতয়া চোদ্যতে; ন তু তস্মিন্ ক্রিয়মাণে আচমনস্য প্রায়ত্যার্থতা বাধ্যতে, ক্রিয়ান্তরত্বাদাচমনস্য। তস্মাত্তোক্ষ্যমাণস্য ভুক্তবতশ্চ যদাচমনম্, তত্রাপোঁ বাসঃ প্রাণস্যেতি দর্শনমাত্রং বিধীয়তে, অপ্রাপ্তত্বাদন্যতঃ ॥ ৩৭৮ ॥ ১৪ ॥
ইতি ষষ্ঠ্যায়ে প্রথম-ব্রাহ্মণভাষ্যম্ ॥ ৬ ॥ ১ ॥
টীকা।—সা হ বাগিতি প্রতীকমাদায় ব্যাচষ্টে—প্রথমমিতি। তেন বসিষ্ঠগুণেন ত্বমেব বসিষ্ঠোহসি, তথা চ তদ্বসিষ্ঠত্বং তবৈবেতি যোজনা। বলিদানমঙ্গীকৃত্যান্নবাসসী পৃচ্ছতি— যদ্যেবমিত্যাদিনা। এবংগুণবিশিষ্টস্য জ্যেষ্ঠত্বশ্রেষ্ঠত্ববসিষ্ঠত্বাদিসংবদ্ধস্যেত্যর্থঃ। যদিদমিত্যাদি বাক্যং ব্যাচষ্টে—যদিদমিতি। প্রকৃতেন শুনামন্নেন কীটাদীনাং চান্নেন সহ যৎকিঞ্চিৎ কৃম্যন্নং দৃশ্যতে, তৎ সর্ব্বমেব তবান্নমিতি যোজনা। তদেব স্ফুটয়তি—যৎ কংচিদিতি। পদার্থমুক্তা বাক্যার্থং কথয়তি—সর্ব্বমিতি। ১
অস্মিন্নেব বাক্যে পক্ষান্তরমুখাপয়তি-কেচিত্ত্বিতি। ন হ বা অন্যেত্যাদ্যর্থবাদদর্শনাদি- ত্যর্থঃ। তদ্দবয়তি-তদসদিতি। শাস্ত্রান্তরেণ কুময়ো ভবন্ত্যভক্ষ্যভক্ষিণ ইত্যাদিনেত্যর্থঃ। প্রাণবিদতিরিক্তবিষয়ং শাস্ত্রান্তরং, সর্বভক্ষণং তু প্রাণদর্শিনো বিবক্ষিতম্, অতো ব্যবস্থিতবিষয়ত্বাৎ
প্রতিষেধেন সর্বভক্ষণস্যোদিতানুদিতহোমবদ্বিকল্পঃ স্যাদিতি শঙ্কতে-তেনেতি। কিং তর্হি সর্ব্বান্নভক্ষণং বিহিতং ন বা? ন চেৎ, ন তস্য নিষিদ্ধস্যানুষ্ঠানং প্রাণবিদি, তৎপ্রাপকাভাবাৎ; বিহিতং চেৎ, তৎ কিং যদিদমিত্যাদিনা ন হেত্যাদিনা বা বিহিতং? নাদ্য ইত্যাহ-নাবিধায়- কত্বাদিতি। যদিদমিত্যাদিনা হি সর্ব্বং প্রাণস্যান্নমিতি জ্ঞানমেব বিধীয়তে, নতু প্রাণবিদঃ সর্ব্বান্নভক্ষণং, তদবদ্যোতিপদাভাবান্ন বিকল্পোপপত্তেরিত্যর্থঃ। দ্বিতীয়ং দূষয়তি-ন বা ইতি। অস্যেতি বিদ্বৎপরামর্শান্নিপাতয়োরর্থবাদদ্যোতিনোর্দর্শনাদেকবাক্যত্বসংভবে বাক্যভেদস্যা- ন্যায্যত্বাচ্চেতি হেতুমাহ-তোতি। অর্থবাদস্যাপি স্বার্থে প্রামাণ্যং দেবতাধিকরণন্যায়েন ভবিষ্যতীত্যাশঙ্ক্য “ন কলঞ্জং ভক্ষয়েৎ” ইত্যাদিবিহিতস্য ভক্ষণাভাবস্য বাধনে, ন হেত্যাদেন সামর্থ্যং, দৃষ্টিপরত্বাদন্য, মানান্তরবিরোধে স্বার্থে মানত্বাযোগাদিত্যাহ-ন ত্বিতি। ন হেত্যা- দেরন্যপরত্বং প্রপঞ্চরতি-প্রাণমাত্রস্যেতি। ২
তত্র দোষাভাবজ্ঞাপনাত্তদেব বিধিৎসিতমিত্যাশঙ্ক্যাহ-যত্তিতি। অর্থবাদস্য মানান্তর- বিরোধে স্বার্থে মানত্বাযোগস্থোক্তত্বাদিতি ভাবঃ। প্রমাণভাবস্যাসিদ্ধিমাশঙ্কতে-বিদুষ ইতি। সামর্থ্যাৎ প্রাণস্বরূপবলাদিতি যাবৎ। অদোষঃ সর্ব্বান্নভক্ষণং তস্যেতি শেষঃ। অর্থাপত্তিং দূষয়তি-নেত্যাদিনা। অনুপপত্তিমেব বিবৃণোতি-সত্যমিতি। যেনেত্যস্মাৎ প্রাক্ তথাপীতি বক্তব্যং যদ্যপীত্যুপক্রমাৎ। প্রাণস্বরূপসামর্থ্যাদনুপপত্তিরপি শাম্যতীতি শঙ্কতে-নন্বিতি। কিং ফলাত্মনা বিদুষঃ সর্ব্বান্নভক্ষণং সাধ্যতে, কিং বা সাধকত্বরূপেণেতি বিকল্পাদ্যমঙ্গীকরোতি- বাঢ়মিতি। প্রাণরূপেণ সর্ব্বভক্ষণং তচ্ছব্দার্থঃ। তত্র প্রতিষেধাভাবে সদৃষ্টান্তং ফলিতমাহ- তন্মাদিতি। তথা স্বারসিকং প্রাণস্য সর্বভক্ষণং তত্র চাপ্রতিষেধাৎ, দোষরাহিত্যমিতি শেষঃ। তদ্রাহিত্যে কিং স্যাদিতি চেত্তদাহ-অত ইতি। পঞ্চম্যর্থেব স্ফোরয়তি-অপ্রাপ্তত্বাদিতি। ইহেতি প্রাণবিদুচ্যতে। নিমিত্তান্তরাদত্যন্তাপ্রাপ্তবিষয়ো বিধিঃ প্রতিপ্রসবঃ, যথা জ্বরিতস্যা- শনপ্রতিষেধেইপ্যৌষধং পিবেদিতি, তথা শাস্ত্রাধিকারিণঃ সর্বাভক্ষ্যভক্ষণনিষেধেহপি প্রাণবিদো বিশেষবিধির্নোপলভ্যতে, তথা চ তস্য ভক্ষণং দুঃসাধ্যমিত্যর্থঃ। প্রতিপ্রসবাভাবে লব্ধং দর্শয়তি-তস্মাদিতি। অর্থবাদন্য তর্হি কা গতিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-অন্যবিষয়ত্বাদিতি। তস্য স্তুতিমাত্রার্থত্বান্ন তদ্বশান্নিষেধাতিক্রম ইত্যর্থঃ ॥ ৩
ননু বিশিষ্টস্য প্রাণস্য সর্ব্বান্নত্বদর্শনমত্র বিধীয়তে, তথা চ বিদুষোহপি তদাত্মনঃ সর্ব্বান্নভক্ষণে ন দোষো যথাদর্শনং ফলাভ্যুপগমাৎ, অত আহ-ন চেতি। ইতোহপি সর্ব্বং প্রাণস্যান্নমিত্যে- তদবষ্টন্তেন প্রাণবিদঃ সর্ব্বভক্ষণং ন বিধেয়মিত্যাহ-তথা চেতি। প্রাণস্য যথোক্তস্য স্বীকারেইপি কস্যচিৎ কিংচিদন্নং জীবনহেতুরিত্যত্র দৃষ্টান্তমাহ-যথেতি। তথা সর্ব্বপ্রাণিযু ব্যবস্থয়াহন্নসংবন্ধে দাষ্টান্তিকমাহ-তথেতি। প্রাণবিদোহপি কার্য্যকরণবতো নিষেধাতিক্রমাযোগে ফলিতমাহ- ভস্মাদিতি। ৪
বাক্যান্তরমাদায় ব্যাকরোতি-আপ ইতি। স্মার্তাচমনাদন্যদেব শ্রৌতমাচমনমদ্যতো- ‘হপ্রাপ্তং বিধেয়ং, তদর্থমিদং বাক্যমিতি কেচিৎ, তান্ প্রত্যাহ-অত্র চেতি। বাসঃ কার্য্যং পরি- ধানম্। সাক্ষাদপাং বিনিয়োগাযোগে প্রাপ্তমর্থমাহ-তস্মাদিতি। যদিদং কিংচেত্যাদাবুক্তং
১৪৭১
দৃষ্টিবিধেরর্থবাদমাদায় ব্যাচষ্টে-নেত্যাদিনা। পুনর্নঞনুকর্ষণমন্বয়ার। পদার্থমুক্ত। বাক্যার্থ- মাহ-যদ্যপীতি। অভক্ষ্যভক্ষণং তর্হি স্বীকৃতমিতি চেৎ, নেত্যাহ-ইত্যেতদিতি। যথা প্রাণ- বিদো নানন্নং ভুক্তং ভবতি, তথেত্যেতৎ। অনুমতস্তর্হি প্রাণবিদো দুষ্প্রতিগ্রহোহপীত্যাশঙ্ক্যাহ- তত্রাপীতি। অসৎপ্রতিগ্রহে প্রাপ্তেহপীত্যর্থঃ। কিমিত্যয়ং স্তুত্যর্থবাদঃ, ফলবাদ এব কিং ন স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ ফলং ত্বিতি। ইতিশব্দঃ সর্ব্বং প্রাণস্যান্নমিতিদৃষ্টিবিধেঃ সার্থবাদস্যোপ- সংহারার্থঃ। উক্তমেবার্থং চোদ্যসমাধিভ্যাং সমর্থয়তে-নন্বিত্যাদিনা। যথাপ্রাপ্তং প্রকৃত- বাক্যবশাৎ প্রতিপন্নং রূপমনতিক্রম্যেতি। বাক্যস্য বিদ্যাস্তুতিত্বে ফলিতমাহ-অত ইতি। ৫
যদুক্তমাপো বাস ইতি, তস্য শেষভূতমুত্তরগ্রন্থমুখাপ্য ব্যাচষ্টে-যম্মাদিতি। তত্রেত্যশনাৎ প্রাগূর্দ্ধকালোক্তিঃ। উত্তেহভিপ্রায়ে লোকপ্রসিদ্ধিমনুকুলয়তি-অস্তি চেতি। তত্রৈব বাক্যো- পক্রমস্যানুকুল্যং দর্শয়তি-প্রাণস্থ্যেতি। কিমর্থমিদং সোপক্রমং বাক্যমিত্যপেক্ষায়ামত্র চেত্যাদাবুক্তং স্মারয়তি-যদপ ইতি। দৃষ্টিবিধানমসহমানঃ শঙ্কতে-নন্বিতি। অস্ত প্রায়ত্যার্থ- মাচমনং প্রাণপরিধানার্থং চেত্যাশঙ্ক্যাহ-তত্রেতি-কুল্যাপ্রণয়নন্যায়েন দ্বিকার্য্যত্বাবিরোধ- মাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। তত্র প্রত্যক্ষত্বাৎ কার্যভেদস্যাবিরোধেহপি প্রকৃতে প্রামাণ্যাভাবাৎ দ্বিকার্য্যত্বানুপপত্তিরিত্যভিপ্রেত্যোক্তমুপপাদয়তি-যদীতি। ননু স্মার্তাচমনস্য প্রায়ত্যার্থত্বং তথৈবানগ্নতার্থত্বং প্রকৃতবাক্যাদধিগতং, তথাচ কথং দ্বিকার্য্যত্বমপ্রামাণিকমিত্যাশঙ্ক্য বাক্যস্য বিষয়ান্তরং দর্শয়তি-যম্মাদিতি। দ্বিকার্য্যত্বদোষমুক্তং দূষয়তি-নেত্যাদিনা। তচ্চাচমনং দর্শননিরপেক্ষমিত্যাহ-ক্রিয়ামাত্রমেবেতি। নম্বাচমনে ফলভূতং প্রায়ত্যং দর্শনসাপেক্ষমিতি চেনেত্যাহ-ন ত্বিতি। ক্রিয়ায়া এব তদাধানসামর্থ্যাদিত্যর্থঃ। তত্রেত্যাচমনে শুদ্ধ্যর্থে ক্রিয়ান্তরে সতীত্যর্থঃ। প্রাণবিজ্ঞানপ্রকরণে বাসোবিজ্ঞানং চোদ্যতে চেদ্বাক্যভেদঃ স্যাদিত্যা- শঙ্ক্যাহ-প্রাণস্থ্যেতি। সর্ব্বান্নবিজ্ঞানবদিতি চকারার্থঃ। আচমনীয়াস্বপ্সু বাসোবিজ্ঞানং ক্রিয়তে চেৎ, কথমাচমনস্য প্রায়ত্যার্থত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন ত্বিতি। দ্বিকার্য্যত্বদোষাভাবে ফলিতং দর্শনবিধিমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। অপ্রাপ্তত্বাদ্বাসোদৃষ্টের্বিধিব্যতিরেকেণ প্রাপ্ত্যভাবাদৃষ্টেশ্চাত্র প্রকৃতত্বাৎ কাৰ্য্যাখ্যানাদপূর্বমিতি চ ন্যায়াদিত্যর্থঃ ॥ ৬॥ ১৪ ॥
ইতি বৃন্দাবনে কোপনিবৃতোঽধ্যায়ঃ। ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ প্রথমঃ। ৬।১।
ভাষ্যানুবাদ।—সেই বাগিন্দ্রিয় সর্ব্বপ্রথমে প্রাণকে কর প্রদানে উদ্যত হইয়া বলিল—আমি যে, বসিষ্ঠা বলিয়া প্রসিদ্ধ, অর্থাৎ আমার যে, বসিষ্ঠত্ব গুণ আছে, তাহা তোমারই, সেই বসিষ্ঠত্বগুণ দ্বারা তুমি সেই বসিষ্ঠ- গুণসম্পন্ন হও, চক্ষু বলিল—আমি যে প্রতিষ্ঠা আছি, তুমি সেই প্রতিষ্ঠা গুণসম্পন্ন হও; অর্থাৎ আমার যে প্রতিষ্ঠা, তাহা তোমারই হউক। অন্যান্য অংশের অর্থ—পূর্ব্বের অনুরূপ। যদি এইরূপই হইল—যদি তোমরা আমার জন্য উত্তম রূপেই বলি প্রদান করিলে, তাহা হইলে, এই প্রকারে বিশেষ গুণসম্পন্ন আমার অন্ন কি হইবে? এবং আচ্ছাদন বস্ত্রই বা কি হইবে? অপর সকলে বলিল—এই জগতে কুকুর হইতে আরম্ভ করিয়া, কৃমি হইতে আরম্ভ করিয়া, কীট-
পতঙ্গ হইতে আরম্ভ করিয়া যে সমস্ত প্রাণী এবং ঐ কুকুর, কৃমি ও কীট-পতঙ্গের যাহা অন্ন(ভক্ষণীয়), তাহার সহিত প্রাণিগণের ভক্ষণীয় যাহা কিছু আছে, সেই সমস্তই তোমার অন্ন। এখানে সর্ব্বত্র প্রাণান্ন-দৃষ্টিমাত্র বিহিত হইতেছে। ১
কেহ কেহ বলেন যে, প্রাণান্নবিদ্ পুরুষের পক্ষে সর্ব্বান্ন-ভক্ষণেও যে, কোন প্রকার দোষ হয় না, ইহা প্রতিপাদন করাই এই শ্রুতির উদ্দেশ্য। বস্তুতঃ সে কথা সত্য নহে; কারণ, শাস্ত্রান্তরে সর্ব্বভক্ষণ প্রতিষিদ্ধ হইয়াছে। যদি বল, সেই নিষেধক শাস্ত্রের সহিত ইহার বিকল্প হউক, অর্থাৎ সর্ব্বান্ন-ভক্ষণ কাহারো পক্ষে নিষিদ্ধ, আবার কাহারো পক্ষে বিহিত, এইরূপ ব্যবস্থা করা হউক? না, তাহাও হইতে পারে না; কারণ, এই শ্রুতিটা সর্ব্বান্ন-ভক্ষণের বিধায়ক নহে; পরন্তু ‘তাহার পক্ষে কখনও অনন্ন ভক্ষিত হয় না’, এই কথাটী ‘সমস্তই প্রাণের অন্ন-’ এই বাক্যবিহিত বিজ্ঞানের(উপাসনার) স্তুতিপ্রকাশক মাত্র; সুতরাং নিষেধক শাস্ত্রের সহিত ইহার একবাক্যতা বা একার্থপরতা হওয়াই উচিত, কিন্তু শাস্ত্রান্তরে বিহিত বা নিষিদ্ধ বিষয়ের বাধা করিতে ইহার শক্তি নাই; কারণ, এই বাক্যটী হইতেছে—অন্যার্থপর; অর্থাৎ প্রাণান্ন-বিজ্ঞানের স্তাবক মাত্র(১)। অতএব বুঝিতে হইবে যে, প্রাণমাত্রেরই যে, সমস্ত বস্তু অন্নস্বরূপ, তদ্বিষয়ক দৃষ্টি করাই(উপাসনা করাই) এখানে বিধিৎসিত(বিধান করা অভিপ্রেত), কিন্তু ‘সমস্ত বস্তু ভক্ষণ করিবে’—এই প্রকার বিধি নহে। অতএব সর্ব্ব- ভক্ষণে যে দোষাভাব জ্ঞান, তাহা নিশ্চয়ই ভ্রমাত্মক; কারণ, সে বিষয়ে কোন প্রমাণ নাই। ২
যদি বল, বিদ্বান্ পুরুষ নিজেও যখন প্রাণস্বরূপ হইয়া যান, তখন তাঁহার পক্ষে সর্ব্বান্ন গ্রহণ করা ত সম্ভবপরই হয়; সুতরাং সর্ব্বান্ন-ভক্ষণে তাঁহার দোষ হইবে কেন? না, তাহাও বলিতে পার না; কারণ, তাঁহার পক্ষেও সর্ব্বান্ন-গ্রহণ
১৪৭৩
করা সম্ভবপর হয় না। অভিপ্রায় এই যে, বিদ্বান্ পুরুষ যদিও জ্ঞানবলে প্রাণ- স্বরূপই হন সত্য, তথাপি, যে দেহেন্দ্রিয়াদি-সমষ্টিবিশেষ লইয়া তাঁহার বিদ্বত্তা (বিদ্যা), সেই দেহে ত কৃমি, কীট ও পতঙ্গাদি ভক্ষণ করা কখনই উপপন্ন হইতে পারে না; সুতরাং তাঁহার জন্য যে, সর্ব্বান্ন-ভক্ষণে দোষাভাব জ্ঞাপন, তাহা সম্পূর্ণ নিরর্থক; কারণ, তাঁহার ভক্ষণজনিত দোষের প্রাপ্তি-সম্ভাবনাই হয় না। ৩
ভাল, বিদ্বান্ পুরুষ যখন প্রাণস্বরূপই হইয়া যান, তখন তিনি ত কৃমি- কীটাদির অন্নও অবশ্যই ভক্ষণ করেন! হাঁ, একথা আংশিক সত্য বটে; কিন্তু প্রাণস্বরূপে সর্ব্বান্ন ভক্ষণ করিতে ত কোন নিষেধও নাই; অতএব সেস্থলে যে, দোষাভাব, তাহা ত দৈবরক্ত কিংশুকের তুল্য।(১) সুতরাং সেইরূপে(প্রাণ- স্বরূপে) সর্ব্বান্ন-ভক্ষণে দোষাভাব জ্ঞাপন করিবার কিছুমাত্র প্রয়োজনই হয় না; কেন না, সেস্থলে অশেষান্ন ভক্ষণজনিত দোষের প্রাপ্তি-সম্ভাবনাই নাই; [ যাহার প্রাপ্তি-সম্ভাবনা থাকে, তাহারই নিষেধ করা আবশ্যক হয়, অপ্রাপ্তের নিষেধ উন্মত্তের কার্য্য ভিন্ন আর কিছুই হইতে পারে না]। পক্ষান্তরে, যে দেহেন্দ্রিয়সংঘাতের সহিত সম্বন্ধনিবন্ধন সর্ব্বান্ন-ভক্ষণের নিষেধ করা হইতেছে, সেই দেহেন্দ্রিয়-সংঘাতের সম্বন্ধে ত এখানে কোনও প্রতিপ্রসব(নিষিদ্ধের পুনঃ অনুমোদন) করা হয় নাই; অতএব শাস্ত্রান্তরোক্ত প্রতিষেধের অতিক্রমে অবশ্যই দোষ হইতে পারে; যেহেতু উহা প্রাণান্নবিজ্ঞানের স্তুতিপর মাত্র। ৪
তাহার পর, এখানে কেবল ব্রাহ্মণাদি শরীরবিশেষের জন্য সর্ব্বান্নদর্শন বিহিত হয় নাই; পরন্তু প্রাণমাত্রের জন্যই হইয়াছে, অর্থাৎ এখানে সাধারণতঃ সমস্ত প্রাণেরই যে, সমস্ত অন্নের সহিত সম্বন্ধ রহিয়াছে, কেবল তাহাই প্রদর্শিত হইয়াছে; কিন্তু ব্রাহ্মণাদি শরীরভেদ অনুসারে প্রদর্শিত হয় নাই। প্রাণের সর্ব্বান্নসম্বন্ধ নিশ্চিতসত্ত্বেও যেমন কোন কোন অন্নই কোন কোন প্রাণীর জীবন-রক্ষার হেতুভূত হইয়া থাকে,-যেমন বিষকৃমির পক্ষে বিষই জীবন-রক্ষার উপায় হয়; সেই বিষ প্রাণের অন্ন হইয়াও, অপরের পক্ষে প্রত্যক্ষসিদ্ধ মরণাদি দোষ সমুৎপাদন করিয়া থাকে, তেমনি প্রাণ সর্ব্বান্নভুক্ হইলেও, ব্রাহ্মণাদি শরীরের সহিত সম্বন্ধ নিবন্ধনই অর্থাৎ ব্রাহ্মণাদি বিশিষ্ট
(১) তাৎপর্য্য—‘দৈবরক্ত কিংশুক’ কথার অর্থ এই যে, কিংশুক(পলাশ পুষ্প) স্বভাবতই রক্তবর্ণ, ইহা কোন ব্যক্তিবিশেষের চেষ্টার ফল নহে, পরন্তু দৈবকৃত; সুতরাং ‘ইহা রক্ত হইল কেন?’ এ প্রশ্ন সেখানে আসিতে পারে না; আলোচ্য স্থলেও প্রাণের পক্ষে সমস্তই অন্ন ভদ্বিষয়ে কোনও নিষেধ নাই, সুতরাং কোন প্রকার দোষেরও সম্ভাবনা নাই।
দেহমধ্যগত হয় বলিয়াই নিষিদ্ধ দ্রব্যভক্ষণে প্রাণের পক্ষেও নিশ্চয়ই দোষ হইবে। অতএব অভক্ষ্য-ভক্ষণে যে, দোষাভাব জ্ঞান, ইহা মিথ্যা—ভ্রমাত্মক জ্ঞান ভিন্ন আর কিছুই নহে। ৫
[এখন “আপো বাসঃ” কথার অর্থ বলা হইতেছে]। ভোজনের সময় যে জল পান করা হয়, সেই জলই তোমার বাসঃস্থানীয়(বস্ত্রস্বরূপ)। এখানে ভোজনকালে যে জলপান করা হয়, সেই জলেতে প্রাণের আচ্ছাদনভাব চিন্তা করিবার বিধান করা হইতেছে, কিন্তু বস্ত্রের কার্য্য যে, গাত্রাবরণ, তদ্বিষয়ে কখনই জলকে বিনিযুক্ত করা হয় নাই; কারণ, তাহা করিতে পারা যায় না; অতএব শাস্ত্রান্তরপ্রাপ্ত জলভক্ষণেই ‘বাসঃ’ দৃষ্টিমাত্র করিতে হইবে। সমস্ত বস্তুই প্রাণের অন্ন, এইরূপ জ্ঞানসম্পন্ন পুরুষের পক্ষে কিছুই অনন্ন-ভক্ষণ(অভক্ষ্য ভক্ষণ) হয় না। যদি তিনি কখনও অনন্ন ভক্ষণ করিয়া ফেলেন,[বুঝিতে হইবে,] তিনি অদনীয় বস্তুই ভোজন করিয়াছেন; অর্থাৎ সেইরূপ ভক্ষণজনিত দোষে তিনি সংস্পৃষ্ট হন না; ইহা যে, বিদ্যারই স্তুতিমাত্র, এ কথা আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি। এইরূপ তিনি কখনও অনন্ন বস্তু প্রতিগ্রহও করেন না; যদিও কখন অপ্রতিগ্রাহ্য হস্তী প্রভৃতি বস্তুও প্রতিগ্রহ করেন, তাহাও প্রতিগ্রহযোগ্যরূপেই প্রতিগৃহীত হয়। সেখানেও বুঝিতে হইবে যে, অপ্রতিগ্রাহ্য বস্তুর প্রতিগ্রহজনিত দোষে তিনি লিপ্ত হন না; ইহাও উক্ত বিদ্যারই স্তুতিপ্রকাশক মাত্র। যিনি এই প্রকারে প্রাণের অন্ন অবগত হন, তাঁহার উক্তপ্রকার ফললাভ, হয়। প্রকৃতপক্ষে, প্রাণাত্মভাবই উক্ত বিদ্যার ফল, কিন্তু ইহা বিদ্যার ফলাভিপ্রায়ে কথিত হয় নাই, পরন্তু বিদ্যার স্তুতি অভিপ্রায়ে কথিত হইয়াছে মাত্র। ৬
ভাল, ইহাই বিদ্যার মুখ্য ফল হয় না কেন? না, তাহা হইতে পারে না; প্রাণাত্মদর্শীর প্রাণাত্মভাবই মুখ্য ফল; তাহাতে প্রাণাত্মভাবাপন্ন প্রাণাত্মদর্শী পুরুষের অভক্ষ্যও ভক্ষণীয় হয় এবং প্রতিগ্রহের অযোগ্য বস্তুও নিশ্চয়ই প্রতিগ্রাহ্য হয়; এইরূপে স্বভাবপ্রাপ্ত কার্য্য লইয়াই বিদ্যার স্তুতি করা হইতেছে; এই কারণেই এই বাক্যটী ফলবোধক বিধির সমানরূপ নহে। ৭
যেহেতু জলই প্রাণের বাসঃ(আচ্ছাদন), সেই হেতুই শ্রোত্রিয় (বেদাধ্যায়ী) বিদ্বান্ ব্রাহ্মণগণ ভোজন করিবার পূর্ব্বে আচমন করেন (জল পান করেন), এবং ভোজন করিয়াও অর্থাৎ ভোজনের পরেও আবার জল পান করিয়া, থাকেন। সেই আচমনকারীদিগের যে, অভিপ্রায় কি,
১৪৭৫-
তাহা বলিতেছেন—[ঐরূপে জলপায়ীরা] মনে করেন যে, এই সর্ব্বান্ন প্রাণকে তাঁহারা অনগ্ন(বস্ত্রাচ্ছাদিত) করিতেছেন। আর ইহা লোকপ্রসিদ্ধও বটে, যে যাহাকে বাসঃ(বস্ত্র) দান করে, সে মনে করে যে, আমি তাহাকে অনগ্ন (উলঙ্গভাবরহিত) করিতেছি। এখানেও জলই প্রাণের বাসঃ—আচ্ছাদন— একথা পূর্ব্বেই উক্ত হইয়াছে। এ কথার অভিপ্রায় এই যে, আমি যে জল পান করিতেছি, তাহা দ্বারা ফলতঃ প্রাণের অনগ্নতাই সম্পাদন করিতেছি; ভোক্তার এই প্রকার চিন্তা করিতে হইবে। ৮
ভাল কথা, লোকে যে, ভোজনের পূর্ব্বে ও পরে আচমন করিয়া থাকে, তাহা কেবল নিজেদের শুদ্ধির জন্যই করিয়া থাকে; তাহাতে যদি প্রাণের’ অনগ্নতা-সম্পাদনও কল্পনা করা যায়, তাহা হইলে একই আচমনের দ্বিবিধ কার্য্য(শুদ্ধি ও অনগ্নতাকরণ) কল্পিত হইয়া পড়ে? কিন্তু একই আচমনের দ্বিবিধ কার্য্য কল্পনা করা ত কখনই যুক্তিসম্মত হইতে পারে না। অতএব আচমন যদি শুদ্ধির জন্য হয়, তবে অনগ্নতার জন্য নহে, আর যদি অনগ্নতার জন্যই হয়, তবে আর শুদ্ধির জন্য হইতে পারে না। যখন একটা কার্য্যের দুইপ্রকার ফল কল্পনা করা সঙ্গত হয় না, তখন প্রাণের অনগ্নতা সম্পাদনার্থ বরং আর একটী অতিরিক্ত আচমনই করা হউক? না, এ আপত্তিও হইতে পারে না; কারণ, এখানে ক্রিয়ারই দ্বৈবিধ্য উপপাদন করা যাইতে পারে। এখানে ক্রিয়া হইতেছে দুইটা—ভক্ষণের পূর্ব্বে ও পরে যে, স্মৃতিশাস্ত্রোক্ত আচমনের বিধান আছে, তাহা শুদ্ধির নিমিত্ত, এবং তাহা কেবলই ক্রিয়াত্মক, কিন্তু তাহাতে প্রায়ত্য-দর্শন প্রভৃতির(শুদ্ধি-চিন্তা প্রভৃতির) কিছুমাত্র অপেক্ষা নাই; স্মৃতিশাস্ত্র-বিহিত সেই আচমনেরই অঙ্গস্বরূপ আচমনীয় জলেতে প্রাণের আচ্ছাদনত্ব-চিন্তামাত্র এখানে ‘ইতিকর্তব্যতা’রূপে বিহিত হইতেছে। অথচ এইরূপ চিন্তা করিলেও আচমনের যে, শুদ্ধি-সাধনতা, তাহাও বাধিত হয় না; কেন না, চিন্তা ও আচমন এক ক্রিয়া নহে—ভিন্ন ক্রিয়া। অতএব বুঝিতে হইবে যে, ভোজনের পূর্ব্বে ও পরে স্মৃতিশাস্ত্রবিহিত যে আচমন, সেই আচমনীয় জলকে প্রাণের আচ্ছাদনরূপে চিন্তা করা অন্যত্র বিহিত নাই বলিয়াই এখানে কেবল তন্মাত্র বিহিত হইতেছে ॥ ৩৭৮ ॥ ১৪ ॥
ইতি ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ প্রথমোহধ্যায়ে সমাপ্তঃ ॥ ৬ ॥ ১ ॥
আভাসভাষ্যম্:-“শ্বেতকেতুর্হ বা আরুণেয়ঃ” ইত্যস্য সম্বন্ধঃ। খিলাধিকারোহয়ম্; তত্র যদমুক্তং তদুচ্যতে। সপ্তমাধ্যায়ান্তে জ্ঞানকর্ম- সমুচ্চয়কারিণা অগ্নের্ম্মার্গযাচনং কৃতম্-“অগ্নে নয় সুপথা” ইতি। তত্রানেকেষাং পথাং সদ্ভাবো মন্ত্রেণ সামর্থ্যাৎ প্রদর্শিতঃ; সুপথেতি বিশেষণাৎ। পন্থানশ্চ কৃতবিপাকপ্রতিপত্তিমার্গাঃ; বক্ষ্যতি চ “যৎ কৃত্বা” ইত্যাদি। তত্র চ কতি কর্মবিপাক-প্রতিপত্তিমার্গাঃ? ইতি সর্ব্বসংসারগত্যুপসংহারার্থোহয়মারম্ভঃ- এতাবতী হি সংসারগতিঃ, এতাবান্ কর্মবিপাকঃ, স্বাভাবিকস্য শাস্ত্রীয়স্য চ বিজ্ঞানস্যেতি। ১
যদ্যপি “দ্বয়া হ প্রাজাপত্যাঃ” ইত্যত্র স্বাভাবিকঃ পাপ্মা সূচিতঃ, ন চ তস্যেদং কার্য্যমিতি বিপাকঃ প্রদর্শিতঃ; শাস্ত্রীয়স্যৈব তু বিপাকঃ প্রদর্শিতঃ এ্যন্নাত্মপ্রতিপত্ত্যন্তেন, ব্রহ্মবিদ্যাপ্রারম্ভে তদ্বৈরাগ্যস্য বিবক্ষিতত্বাৎ। তত্রাপি কেবলেন কর্মণা পিতৃলোকঃ, বিদ্যয়া বিদ্যাসংযুক্তেন চ কৰ্ম্মণা দেবলোক ইত্যুক্তম্। তত্র কেন মার্গেণ পিতৃলোকং প্রতিপদ্যতে, কেন বা দেবলোকম্ ইতি নোক্তম্; তচ্চেহ খিলপ্রকরণে অশেষতো বক্তব্যমিত্যত আরভ্যতে। অন্তে চ সর্ব্বোপসংহারঃ শাস্ত্রস্যেষ্টঃ। ২
অপি চ, এতাবদমৃতত্বমিত্যুক্তম্; ন কর্ম্মণোহমৃতত্বাশ। অস্তীতি চ! তত্র হেতুর্নোক্তঃ; তদর্থশ্চায়মারম্ভঃ। যস্মাদিয়ং কর্ম্মণো গতিঃ, ন নিত্যেহমৃতত্বে ব্যাপারোহস্তি, তম্মাদেতাবদেব অমৃতত্বসাধনমিতি সামর্থ্যাৎ হেতুত্বং সম্পদ্যতে ॥ ৩
অপি চ, উক্তমগ্নিহোত্রে—“ন ত্বেবৈতয়োত্ত্বম্ উৎক্রান্তিং ন গতিং ন প্রতিষ্ঠাং ন তৃপ্তিং ন পুনরাবৃত্তিং ন লোকং প্রত্যুত্থায়িনং বেথ” ইতি। তত্র প্রতিবচনে “তে বা এতে আহুতী হতে উৎক্রামতঃ” ইত্যাদিনা আহুতেঃ কার্য্যমুক্তম্; তচ্চৈতৎ কর্তৃরাহুতিলক্ষণস্য কর্মণঃ ফলম্। ন হি কর্তারমনাশ্রিত্যাহুতি- লক্ষণস্য কৰ্ম্মণঃ স্বাতন্ত্র্যেণোৎক্রান্ত্যাদিকার্য্যারম্ভ উপপদ্যতে, কর্ত্রর্থত্বাৎ কর্মণঃ কার্য্যারম্ভস্য, সাধনাশ্রয়ত্বাচ্চ কৰ্ম্মণঃ। তত্রাগ্নিহোত্রস্তত্যর্থত্বাদ অগ্নিহোত্রস্যৈব কার্য্যমিত্যুক্তং ষট্প্রকারমপি, ইহ তু তদেব কর্ত্তুঃ ফলমিত্যুপ- দিশ্যতে, কর্মফলবিজ্ঞানস্য বিবক্ষিতত্বাৎ। তদ্বারেণ চ পঞ্চাগ্নিদর্শনমিহ
১৪৭৭
উত্তরমার্থপ্রতিপত্তিসাধনং বিধিসিতম্। এবমশেষসংসারগত্যুপসংহারঃ কর্ম্ম- কাণ্ডস্যৈষা নিষ্ঠা-ইত্যেতদ্দ্বয়ং দিদর্শয়িষুরাখ্যায়িকাৎ প্রণয়তি। ৪
টীকা।—ব্রাহ্মণান্তরমাদায় তস্য পূর্ব্বেণ সংবন্ধং প্রতিজানীতে—শ্বেতকেতুরিতি। কোহসৌ সংবন্ধস্তমাহ—থিলেতি। তত্র কর্ম্মকাণ্ডে জ্ঞানকাণ্ডে বা যদ্বস্তু প্রাধান্যেন নোক্তং, তদস্মিন্ কাণ্ডে বক্তব্যমন্য খিলাধিকারত্বাৎ; তথাচ পূর্ব্বমনুক্তং বক্তৃমিদং ব্রাহ্মণমিত্যর্থঃ। বক্তব্যশেষং দর্শয়িতুং বৃত্তং কীর্ত্তয়তি—সপ্তমেতি। সমুচ্চয়কারিণো মুমূর্ষোরগ্নিপ্রার্থনেহপি কিং স্যাদিত্যা- শঙ্ক্যাহ—তত্রেতি। অধ্যায়াবসানং সপ্তম্যর্থঃ। সামর্থ্যমেব দর্শয়তি—সুপথেতীতি। বিশে- ষণবশাদ্বহবো মার্গী ভাস্তু, কিং পুনস্তেষাং স্বরূপং? তদাহ—পন্থানশ্চেতি। তত্র বাক্যশেষ- মনুকুলয়তি—বক্ষ্যতি চেতি। সংপ্রত্যাকাঙ্ক্ষাদ্বারা সমনন্তরব্রাহ্মণতাৎপর্য্যমাহ—তত্রেতি। উপসংহ্রিয়মাণাং সংসারগতিমের পরিচ্ছিনত্তি—এতাবতী হীতি। দক্ষিণোদগধোগত্যাত্মিকেতি যাবৎ। কর্ম্মবিপাকস্তর্হি কুত্রোপসংহ্রিয়তে, তত্রাহ—এতাবানিতি। ইতিশব্দো যথোক্ত- সংসারগত্যতিরিক্তকর্ম্মবিপাকাভাবাত্তদুপসংহারার্থ এবায়মারম্ভ ইত্যুপসংহারার্থঃ।
অথোপনিষদাবিকারে সর্ব্বোহপি কর্ম্মবিপাকোহনর্থ এবেত্যুক্তত্বাৎ পরিশিষ্টসংসারগত্যভাবাৎ কথং খিলকাণ্ডে তন্নিৰ্দ্দেশসিদ্ধিরত আহ—যদ্যপীতি।
কস্তর্হি বিপাকস্তত্রোক্তস্তত্রাহ-শাস্ত্রীয়স্যেতি। তত্র সুকৃতবিপাকস্যৈবোপন্যাসে হেতু- মাহ-ব্রহ্মবিদ্যেতি। অনিষ্টবিপাকাত্তু বৈরাগ্যং সুকৃতাভিমুখ্যাদেব সিদ্ধমিতি ন তত্র তদ্বিবক্ষা। ইহ পুনঃ শাস্ত্রসমাপ্তৌ খিলাধিকারে তদ্বিপাকোহপ্যুপসংহ্রিয়ত ইতি ভাবঃ। প্রকারান্তরেণ সংগতিং বক্তুমুক্তং স্মারয়তি-তত্রাপীতি। শাস্ত্রীয়বিপাকবিষয়েহপীত্যর্থঃ। উত্তরগ্রন্থস্য বিষয়পরিশেষার্থং পাতনিকামাহ-তত্রেতি। লোকদ্বয়ং সপ্তম্যর্থঃ। প্রাগনুক্তমপি দেবযানাদ্যত্র বক্তব্যমিতি কুতো নিয়মসিদ্ধিস্তত্রাহ-তচ্চেতি। বক্তব্যশেষস্য সত্ত্বে ফলিতমাহ -ইত্যত ইতি। যত্তর্হি প্রাগনুক্তং তদ্দেবযানাদি বক্তব্যং, প্রাগেবোক্তং তু ব্রহ্মলোকাদি কম্মাদুচ্যতে? তত্রাহ অন্তে চেতি। শাস্ত্রস্যাস্তে চেতি সংবন্ধঃ। ২
ইতশ্চেদং ব্রাহ্মণমগতার্থত্বাদারভ্যমিত্যাহ—অপি চেতি। এতাবদিত্যাত্মজ্ঞানোক্তিঃ। অমৃতত্বং তৎসাধনমিতি। চকারাদুক্তমিত্যনুষঙ্গঃ। জ্ঞানমেবামৃতত্বে হেতুরিত্যুক্তোহর্থ- স্তত্রেতি সপ্তম্যর্থঃ। তদর্থো হেত্বপদেশার্থঃ। কথং পুনর্বক্ষ্যমাণা কৰ্ম্মগতিজ্ঞানমেবামৃতত্ব- সাধনমিত্যত্র হেতুত্বং প্রতিপদ্যতে, তত্রাহ—যস্মাদিতি। ব্যাপারোহস্তি কৰ্ম্মণ ইতি শেষঃ। সামর্থ্যাজ্ঞানতিরিক্তস্যোপায়স্য সংসারহেতুত্বনিয়মাদিত্যর্থঃ। ৩
প্রকারান্তরেণ ব্রাহ্মণতাৎপর্য্যং বক্তুমগ্নিহোত্রবিষয়ে জনকযাজ্ঞবন্ধ্যসংবাদসিন্ধমর্থমনুবদতি —অপি চেত্যাদিনা। এতয়োরগ্নিহোত্রাহুত্যোঃ সায়ং প্রাতশ্চানুষ্ঠিতয়োরিতি যাবৎ। লোকং প্রত্যুখায়িনং যজমানং পরিবেষ্টোমং লোকং প্রত্যাবৃত্তয়োস্তয়োরনুষ্ঠানোপচিতয়োঃ পরলোকং প্রতি স্বাশ্রয়োত্থানহেতুং পরিণামমিত্যেতদিতি প্রশ্নষট্কমগ্নিহোত্রবিষয়ে জনকেন যাজ্ঞবল্ক্যং প্রত্যুক্তমিতি সংবন্ধঃ। তত্রেত্যাক্ষেপগতপ্রশ্নষট্কোক্তিঃ। ননু ফলবতোহশ্রবণাৎ কস্যেদ- মাহুতিফলং? ন হি তৎ স্বতন্ত্রং সংভবতি, তত্রাহ—‘তচ্চেতি। কর্তৃবাচিপদাভাবাদাহুত্য-
পূর্ব্বস্যৈবোৎক্রান্ত্যাদিকার্য্যারম্ভকত্বান্ন তত্র কর্তৃগামিকফলমুক্তমিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন হীতি। কিংচ, কারকাশ্রয়ত্বাৎ কর্মণো যুক্তং তৎফলন্য কর্তৃগামিত্বমিত্যাহ-সাধনেতি। স্বাতন্ত্র্যাসংভবাদা- হত্যোঃ সকর্তৃকয়োরেব গত্যাদি বিবক্ষিতং চেৎ, তর্হি কথং তত্র কেবলাহত্যোর্গত্যাদি গম্যতে? তত্রাহ-তত্রেতি। অগ্নিহোত্রপ্রকরণং সপ্তম্যর্থঃ। অগ্নিহোত্রস্তুত্যর্থত্বাৎ প্রশ্নপ্রতিবচনরূপস্য সংদর্ভস্যেতি শেষঃ। ভবত্বেবমগ্নিহোত্রপ্রকরণস্থিতিঃ, প্রকৃতে তু কিমায়াতং, তত্রাহ-ইহ ত্বিতি। কিমিতি বিদ্যাপ্রকরণে কৰ্ম্মফলবিজ্ঞানং বিবক্ষ্যতে, তত্রাহ-তদ্বারেণেতি। ব্রাহ্মণারম্ভমুপপাদিতমুপসংহরতি-এবমিতি। সংসারগত্যুপসংহারেণ কর্মবিপাকস্য সর্ব্বস্যৈ- বোপসংহারঃ সিদ্ধো ভবতি, তদতিরিক্ততদ্বিপাকাভাবাদিত্যাহ-কর্মকাণ্ডস্যেতি। যথোক্তং বস্তু দর্শয়িতুং ব্রাহ্মণমারভতে চেৎ, তত্র কিমিত্যাখ্যায়িকা প্রণীয়তে, তত্রাহ-ইত্যেতদ্বয়মিতি। সর্বমেবং পূর্ব্বোক্তং বস্তু দর্শয়িতুমিচ্ছন্দেদঃ সুখাববোধার্থমাখ্যায়িকাং করোতীত্যর্থঃ। ৪
আভাস-ভাষ্যানুবাদ।—এই ব্রাহ্মণোক্ত “শ্বেতকেতুর্হ আরুণেরঃ” ইত্যাদি বাক্যের সহিত পূর্ব্ব ব্রাহ্মণের সম্বন্ধ[ প্রদর্শিত হইতেছে]। ইহাও খিল- কাণ্ডমধ্যে সন্নিবিষ্ট; পূর্ব্বে যাহা বলা হয় নাই, তাহা এখানে কথিত হইতেছে। অতীত সপ্তম অধ্যায়ের(পঞ্চমাধ্যায়ের) শেষে “অগ্নে নয় সুপথা” ইত্যাদি বাক্যে জ্ঞান ও কর্ম্মের সহানুষ্ঠানকারিকর্তৃক কৃত অগ্নির নিকট পথি-প্রার্থনা প্রদর্শিত হইয়াছে। সেই মন্ত্রে ‘সুপথা’ বিশেষণ দ্বারা কৌশলে অনেকপ্রকার পথের অস্তিত্বও প্রদর্শিত হইয়াছে। সেই সমস্ত পথ যে, স্বকৃত কর্ম্মবিপাক-প্রাপ্তির দ্বারস্বরূপ, পরেও তাহা ‘যৎ কৃত্বা’ ইত্যাদি বাক্যে বলা হইবে। তন্মধ্যে কর্ম্মফল প্রাপ্তির দ্বারভূত পথ যে, কতগুলি, তাহা নিরূপণের নিমিত্ত সর্ব্বপ্রকার সংসারপ্রাপ্তির উপসংহারার্থ এই প্রকরণ আরব্ধ হইতেছে। এখানে প্রদর্শিত হইতেছে যে, সংসার-গতি এত প্রকার এবং স্বভাবকৃত ও শাস্ত্রোপদেশপ্রাপ্ত জ্ঞানসহকৃত কর্ম্মের বিপাক বা শেষ ফল এতপ্রকার ইত্যাদি। ১
যদিও “দ্বয়া হ প্রাজাপত্যাঃ” এইস্থলে স্বভাবজ পাপকর্ম্মের কথা একপ্রকার কথিতই(সূচিত) হইয়াছে, তথাপি তাহার ফল বা পরিণতি প্রদর্শিত হয় নাই; অধিকন্তু, ব্রহ্মবিদ্যার প্রারম্ভে বৈরাগ্যোপযোগী বিষয় প্রতিপাদন করাও অভীপ্সিত; এই জন্য অন্নত্রয়-প্রতিপাদক গ্রন্থপর্যন্ত কেবল শাস্ত্রীয় কৰ্ম্ম-বিপাকই প্রদর্শিত হইয়াছে। সেখানেও বলা হইয়াছে যে, ‘কেবল (জ্ঞানরহিত) কৰ্ম্ম দ্বারা পিতৃলোক লাভ হয়, আর বিদ্যা(উপাসনা) ও বিদ্যাসংযুক্ত কৰ্ম্ম দ্বারা দেবলোক লাভ হয়।’ সেই বিষয়টাও এই খিলপ্রকরণে সম্পূর্ণরূপে বলা আবশ্যক; এই জন্যই এই প্রকরণের
১৪৭৯
আরম্ভ হইতেছে। বিশেষতঃ গ্রন্থশেষে সমস্ত শাস্ত্রার্থের উপসংহার করাও সকলেরই অভিপ্রেত;[সুতরাং এখানে সে বিষয় প্রদর্শন করাও অসঙ্গত হইতেছে না]। ২
আরও এক কথা, পূর্ব্বে ‘কেবল ইহাই একমাত্র অমৃতত্ব’ এইরূপ কথা উক্ত হইয়াছে; আবার ‘কর্মদ্বারা অমৃতত্বলাভের আশাও নাই’ এ কথাও বলা হইয়াছে; অথচ সে বিষয়ে কোনও কারণ প্রদর্শিত হয় নাই; তাহার জন্যও এই প্রকরণ আরম্ভ করা আবশ্যক হইতেছে। যেহেতু ইহাই কর্ম্মের গতি বা ফল, অথচ নিত্য মোক্ষে কোনপ্রকার ব্যাপারের(ক্রিয়ার) অপেক্ষা বা উপযোগিতা নাই; সেই হেতু কেবল ইহাই যে, অমৃতত্ব-সাধন, তাহা কথায় বলা না হইয়া থাকিলেও, ফলে উহাকেই অমৃতত্বলাভের হেতু বলিয়া নির্দিষ্ট করা হইয়াছে, অর্থাৎ কথার বলা না হইয়া থাকিলেও উহা যে, মোক্ষহেতু, তাহা প্রকারান্তরে সিদ্ধ হইতেছে। ৩
বিশেষতঃ অগ্নিহোত্র-প্রকরণে কথিত হইয়াছে যে, ‘তুমি নিশ্চয়ই এতদুভয়ের উৎক্রমণ(গতি প্রকার), প্রতিষ্ঠা, তৃপ্তি(ভোগ), পুনরাবৃত্তি (সংসারে পুনরায় ফিরিয়া আসা), এবং স্বর্গাদি লোকবিশেষের উদ্দেশে গমন- কারী পুরুষকে অর্থাৎ কে কোন্ লোকে যাইবে, তাহা জান না।’ এই প্রশ্নের প্রত্যুত্তরকালে, ‘সেই এই আহুতিদ্বয় আহুত হইয়া উৎক্রমণ করে’ ইত্যাদি বাক্যে আহুতির কার্য্য উক্ত হইয়াছে। ইহাই হইতেছে কৰ্ম্ম- কর্তার আহুতিরূপ কর্ম্মের ফল; কিন্তু কর্তাকে আশ্রয় না করিয়া আহুতিরূপ কর্ম কখনই স্বতন্ত্রভাবে উৎক্রমণাদি কার্য্য সমুৎপাদন করিতে পারে না; কেন না, উপকারার্থই কর্ম্মের ফলারম্ভ হইয়া থাকে, এবং কৰ্ম্মমাত্রই সাধনকে আশ্রয় করিয়া স্থিতিলাভ করে। সেখানে অগ্নিহোত্রযাগের প্রশংসার্থ ছয়প্রকার কার্য্যকেই অগ্নিহোত্রের ফল বলা হইয়াছে; এখানে আবার সেই ছয়প্রকার কার্য্যকেই কর্তার ফল বলিয়া নির্দেশ করা হইতেছে; কারণ, এখানে কর্মফল-বিজ্ঞানই বিবক্ষিত বা শ্রুতির অভিপ্রেত; এবং তদুপলক্ষেই উত্তরায়ণে গতিসাধন পঞ্চাগ্নি-বিদ্যাও বিধিৎসিত হইয়াছে। এই প্রকারে সংসারে যত রকম গতি হইতে পারে, সে সমুদয়ের উপসংহার এবং কর্মকাণ্ডের নিষ্ঠা(ফলের শেষ সীমা), এই দুইটা বিষয় প্রদর্শন করিবার ইচ্ছায় আখ্যায়িকা বিবৃত করিতেছেন—
শ্বেতকেতুর্হ বা আরুণেয়ঃ পঞ্চালানাং পরিষদমাজগাম, স আজগাম জৈবলিং প্রবাহণং পরিচারয়মাণম্, তমুদীক্ষ্যাভ্যুবাদ কুমারা ৩ ইতি, স ভো ৩ ইতি প্রতিশুশ্রাবানুশিষ্টোহন্বসি পিত্রোত্যোমিতি হোবাচ ॥ ৩৭৯ ॥ ১ ॥
সরলার্থঃ।—শ্বেতকেতুঃ(তন্নামকঃ) হ(ঐতিহ্যে) বৈ(প্রসিদ্ধৌ) আরুণেয়ঃ(অরুণস্য অপত্যং আরুণিঃ, তস্যাপত্যং) পঞ্চালানাং(পঞ্চাল- প্রদেশানাং) পরিষদম্(সভাম্) আজগাম।[আগত্য চ] সঃ(শ্বেতকেতুঃ) পরিচারয়মাণং(স্বভৃত্যৈঃ অঙ্গসংবাহনাদি কারয়ন্তম্) জৈবলিং(জীবলস্য অপত্যং) প্রবাহণং(তন্নামধেয়ং রাজানম্) আজগাম।[রাজা] তং(শ্বেতকেতুম্) উদীক্ষ্য (বিলোক্য) অভ্যুবাদ(উক্তবান্) কুমারা ৩ ইতি;[অত্র প্লুতিঃ অনাদরে]। (এবমুক্তঃ) সঃ(শ্বেতকেতুঃ) প্রতিশুশ্রাব ভো ৩ ইতি;[অত্রাপি প্লুতিরনাদ- রার্থা]।[রাজা পপ্রচ্ছ—] ত্বম্ পিত্রা অনু(অনুগতত্বেন) অনুশিষ্টঃ(সম্যক্ অধ্যাপিতঃ) অসি? ইতি;[শ্বেতকেতুঃ] উবাচ হ—ওম্(অনুশিষ্টোহস্মি) ইতি ॥ ৩৭৯ ॥ ১ ॥
মূলানুবাদ:-পুরাকালে শ্বেতকেতু নামে প্রসিদ্ধ আরুণেয় (আরুণির পুত্র) প্রসিদ্ধ পঞ্চালদেশীয় সভায় গমন করিয়াছিলেন। [সেখানে যাইয়া] তিনি জীবলের পুত্র-জৈবলি প্রবাহণনামক পঞ্চালরাজের নিকট উপস্থিত হইলেন। প্রবাহণ তখন ভৃত্যবর্গ দ্বারা শরীর-সংবাহন করাইতেছিলেন। তিনি শ্বেতকেতুকে দর্শন করিয়া অবজ্ঞা-প্রকাশার্থ ‘কুমারাঃ ৩’ বলিয়া সম্বোধন করিলেন। শ্বেত- কেতুও বিরক্তি সহকারে ‘ভোঃ ৩’ বলিয়া প্রত্যুত্তর প্রদান করিলেন। [রাজা বলিলেন-] তুমি তোমার পিতার নিকট উত্তমরূপে শিক্ষা প্রাপ্ত হইয়াছ কি? শ্বেতকেতু ‘ওম্’ বলিয়া শিক্ষাপ্রাপ্তির অঙ্গীকার জ্ঞাপন করিলেন ॥ ৩৭৯ ॥ ১॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—শ্বেতকেতুঃ নামতঃ; অরুণস্যাপত্যমারুণিঃ, তন্যা- পত্যমারুণেয়ঃ। হশব্দ ঐতিহ্যার্থঃ, বৈ নিশ্চয়ার্থঃ। পিত্রা অনুশিষ্টঃ সন্ আত্মনো যশঃপ্রথনায় পঞ্চালানাং পরিষদমাজগাম। পঞ্চালাঃ প্রসিদ্ধাঃ, তেষাৎ পরিষদ- মাগত্য, জিত্বা, রাজ্ঞোহপি‘পরিষদৎ জেষ্যামীতি গর্ব্বেণ স আজগাম—জীবলস্যা-
১৪৮১
পত্যং জৈবলিং পঞ্চালরাজং প্রবাহণনামানং স্বভৃত্যৈঃ পরিচারয়মাণম্ আখ্যানঃ পরিচরণং কারয়ন্তমিত্যেতৎ।
স রাজা পূর্ব্বমেব তস্য বিদ্যাভিমানগর্ব্বং শ্রুত্বা, বিনেতব্যোহয়মিতি মত্ত্বা, তমুদীক্ষ্য উৎপ্রেক্ষ্য আগতমাত্রমেব অভ্যুবাদ অভ্যুক্তবান্-কুমারা ৩ ইতি সম্বোধ্য; ভর্ৎসনার্থা প্লুতিঃ। এবমুক্তঃ স প্রতিশুশ্রাব-ভো ৩ ইতি; ভো৩ ইতি অপ্রতিরূপমপি ক্ষত্রিয়ং প্রতি উক্তবান্ ক্রুদ্ধঃ সন্। অনুশিষ্টঃ অনুশাসিতঃ, অসি ভবসি পিত্রা-ইত্যুবাচ রাজা। প্রত্যাহেতরঃ-ওমিতি, বাঢ়ম্ অনু- শিষ্টোহস্মি; পৃচ্ছ যদি সংশয়স্তে ॥ ৩৭৯ ॥ ১ ॥
টাকা।—যদা কদাচিদতিক্রান্তে কালে বৃত্তার্থদ্যোতিত্বং নিপাতস্য দর্শয়তি—হশব্দ ইতি। যশঃপ্রথনং বিদ্বৎসু স্বকীয়বিদ্যাসামর্থ্যখ্যাপনং প্রসিদ্ধবিদ্বজ্জনবিশিষ্টত্বেনেতি শেষঃ। কচিজ্জয়স্য প্রাপ্তত্বং গর্ব্বে হৈতুঃ। কিমিতি রাজা শ্বেতকেতুমাগতমাত্রং তদীয়াভিপ্রায়ম্ প্রতিপদ্য তিরস্কুর্ব্বন্নিব সংবোধিতবানিত্যাশঙ্ক্যাহ—স রাজেতি। সংবোধ্য ভর্ৎসনং কৃতবানিতি শেষঃ। তদবদ্যোতি পদমিহ নাস্তীত্যাশঙ্ক্যাহ—ভর্ৎসনার্থেতি। ভো ৩ ইতি প্রতিবচনমাচার্য্যং প্রত্যুচিতং, ন ক্ষত্রিয়ং প্রতি, তস্য হীনত্বাদিত্যাহ--ভো ৩ ইতাতি। অপ্রতিরূপবচনে ক্রোধং হেতুকরোতি—ক্রুদ্ধঃ সন্নিতি। পিতুঃ সকাশাত্তব লঙ্কানুশাসনত্বে লিঙ্গং নাস্তীত্যাশঙ্ক্যাহ— পৃচ্ছেতি ॥ ৩৭৯ ॥ ১ ॥
ভাষ্যানুবাদ।-শ্রুতির হ শব্দটী পুরাবৃত্তবোধক; এবং বৈ শব্দটী নিশ্চয়ার্থক। অরুণের পুত্র-আরুণি, তাহার পুল-আরুণের, অর্থাৎ অরুণের পৌত্র শ্বেতকেতুনামক ঋষি পিতার নিকট শিক্ষাপ্রাপ্ত হইয়া, আপনার যশঃ- খ্যাপনের উদ্দেশ্যে পঞ্চালদিগের সভায় গমন করিয়াছিলেন। জগতে পঞ্চালনামক দেশ অতি প্রসিদ্ধ; তাহাদের সভায় যাইয়া, বিজয়ী হইয়া, রাজসভাও জয় করিব- এইরূপ গর্ব্বসহকারে তিনি জীবলের পুল-জৈবলি প্রবাহণনামক পঞ্চালরাজ যে সময় নিজ ভৃত্যগণ দ্বারা আপনার পরিচর্যা(অঙ্গসংবাহনাদি) করাইতেছিলেন, সেই সময় তাঁহার নিকট গিয়াছিলেন।
সেই রাজা অগ্রেই শ্বেতকেতুর বিদ্যাভিমানজ গর্ব্বের কথা শ্রবণ করিয়া- ছিলেন, এবং মনে করিয়াছিলেন, ইহাকে শিক্ষা দিতে হইবে(বিনীত করিতে হইবে); এইরূপ মনে করিয়া তাঁহাকে দেখিয়াই—উপস্থিত হইবামাত্র প্লুতস্বরে ‘কুমারা ৩’ বলিয়া সম্বোধনপূর্ব্বক বলিলেন। ভর্ৎসনাসূচনার জন্য এখানে প্লুত- স্বরের ব্যবহার হইয়াছে। শ্বেতকেতু এইরূপে সম্বোধিত হইয়া ‘ভোঃ’ শব্দে প্রতিবচন দিয়াছিলেন। যদিও, ক্ষত্রিয়ের প্রতি ‘ভোঃ’ শব্দে প্রত্যুত্তর দেওয়া
সঙ্গত হয় নাই সত্য, তথাপি শ্বেতকেতু ক্রোধ বশতঃ ঐরূপ প্রতিবচন দিয়াছিলেন। (রাজা জিজ্ঞাসা করিলেন—) তুমি কি পিতাকর্তৃক যথাযথভাবে অনুশিষ্ট—সম্যক্ শিক্ষাপ্রাপ্ত হইয়াছ? শ্বেতকেতু প্রত্যুত্তরে বলিলেন, ওম্—হাঁ, আমি শিক্ষাপ্রাপ্ত হইয়াছি; যদি তোমার সংশয় থাকে, জিজ্ঞাসা কর ॥ ৩৭৯ ॥ ১ ॥
বেথ্য যথেমাঃ প্রজাঃ প্রয়ত্যো বিপ্রতিপদ্যন্তা ৩ ইতি, নেতি হোবাচ। বেথ্যো যথেমং লোকং পুনরাপদ্যন্তা ৩ ইতি, নেতি হৈবোবাচ। বেথ্যো যথাসৌ লোক এবং বহুভিঃ পুনঃ পুনঃ প্রযদ্ভিন্ন সম্পূর্য্যতা ৩ ইতি, নেতি হৈবোবাচ। বেথ্যো যতি- থ্যামাহুত্যাৎ হুতায়ামাপঃ পুরুষবাচো ভূত্বা সমুত্থায় বদন্তী ৩ ইতি; নেতি হৈবোবাচ। বেথ্যো দেবযানস্য বা পথঃ প্রতি- পদং পিতৃযাণস্য বা, যৎ কৃত্বা দেবযানং বা পন্থানং প্রতিপদ্যন্তে পিতৃযাণং বাপি হি; ন ঋষের্ব্বচঃ শ্রুতং দ্বে সূতী অশৃণবং পিতৃণামহং দেবানামৃত মর্ত্যানাম্, তাভ্যামিদং বিশ্বমেজৎ সমেতি, যদন্তরা পিতরং মাতরঞ্চেতি। নাহমত একঞ্চন বেদেতি হোবাচ ॥ ৩৮০ ॥ ২ ॥
সরলার্থঃ।—[ইদানীং রাজ্ঞঃ বচনমেব প্রপঞ্চ্যতে—‘বেথ’ ইত্যাদিনা] ইমাঃ প্রজাঃ(জায়মানা জনাঃ) প্রযত্যঃ(ম্রিয়মাণাঃ সত্যঃ) যথা(যেন রূপেণ) বিপ্রতিপদ্যন্তা ৩(বিপ্রতিপদ্যন্তে—বিভিন্নপথগামিনঃ ভবন্তি) ইতি বেখ? (জানাসি কিং?); ন(ন বেদ্মি) ইতি উবাচ হ[শ্বেতকেতুঃ]। উ (ভোঃ), যথা(যেন প্রকারেণ) ইমং লোকং পুনঃ আপদ্যন্তা ৩(আপদ্যন্তে) [পরলোকগতাঃ প্রজাঃ] ইতি বেখ?; ন এব ইতি উবাচ হ[শ্বেতকেতুঃ]। উ(ভোঃ) এবং পুনঃ পুনঃ প্রযস্তিং(গচ্ছদ্ভিঃ) বহুভিঃ(জনৈঃ) অসৌ লোকঃ (পরলোকঃ) যথা ন সম্পূর্য্যতা ৩(ন সম্পূর্ণ্যতে) ইতি বেখ?; ন এব ইতি উবাচ হ[শ্বেতকেতুঃ]। উ(ভোঃ), যতিথ্যাৎ(যৎসংখ্যাকায়াম্) আহুত্যাং[হুতায়াং সত্যাম্] আপঃ(জলপ্রধানা আহুতয়ঃ) পুরুষবাচঃ(পুরুষ- পদবাচ্যাঃ) ভূত্বা উত্থায় বদন্তি ৩(বদন্তি—বাগব্যবহারং কুর্ব্বন্তি) ইতি বেখ? ন—এব ইতি উবাচ হ[শ্বেতকেতুঃ]। উ(ভোঃ) দেবযানস্য বা পিতৃযাণস্য বা পথঃ প্রতিপদং(প্রতিপদ্যতে-অনয়া ইতি প্রতিপদ—প্রাপ্তিহেতুঃ ক্রিয়া বিদ্যা বা;
১৪৮৩
তাম্), যৎ(যাং প্রতিপদং) কৃত্বা দেবযানং বা পিতৃযাণং বা পন্থানং প্রতিপদ্যন্তে (লভন্তে প্রজাঃ),[তাং] বেথ? ইতি
[অস্মিন্ বিষয়ে] হি নঃ(অস্মাকং-অস্মাভিঃ) ঋষেঃ(মন্ত্রদ্রষ্টুঃ) বচঃ (মন্ত্রবাক্যম্) অপি শ্রুতম্[অস্তি]-‘অহং পিতৃণাং দেবানাম্ উত(অপি) [সম্বন্ধিন্যো] মর্ত্যানাং[গন্তব্যভূতে] দ্বে সূতী(পন্থানো) অশৃণবম্(শ্রুতবান্ অস্মি); যৎ ইদং বিশ্বং(জগৎ) পিতরং মাতরং চ অন্তরা(দ্যাবাপৃথিব্যো- মধ্যে), তাভ্যাং(দেবযান-পিতৃযাণপথাভ্যাম্) এজৎ(গচ্ছৎ সৎ) সমেতি (স্বোচিতং কৰ্ম্মফলং প্রাপ্নোতি) ইতি। অতঃ(এষু প্রশ্নেযু মধ্যে) একংচন (একমপি) অহং ন বেদ(বেদ্মি) ইতি[শ্বেতকেতুঃ] উবাচ হ ॥ ৩৮০॥ ২ ॥
মূলানুবাদ:-[এখন প্রবাহণের প্রশ্ন বিবৃত হইতেছে-] তুমি জান কি, এই সমুদয় প্রজা(লোক) মৃত্যুর পর যাইতে যাইতে কোথায় যাইয়া বিচ্ছিন্ন হয়?[শ্বেতকেতু] বলিলেন-না-আমি জানি না। তবে জান কি,[পরলোকগত লোকেরা] পুনর্ব্বার যে প্রকারে ইহলোকে ফিরিয়া আইসে? শ্বেতকেতু বলিলেন-না, আমি নিশ্চয়ই জানি না। এখান হইতে বহু লোক বারংবার গমন করিলেও সেই লোকটা(স্থানটী) যে কারণে পূর্ণ হইয়া যায় না, তাহা তুমি জান কি? শ্বেতকেতু বলিলেন-না, আমি নিশ্চয়ই জানি না। তুমি জান কি, যজ্ঞীয় আহুতির দ্রব্য সমূহ, যে আহুতিতে আহুত হইয়া, পুরুষ-সংজ্ঞা লাভ করতঃ জন্মগ্রহণ করিয়া বাগব্যবহার করিয়া থাকে?[শ্বেতকেতু] বলিলেন-না-আমি একেবারেই জানি না। তুমি জান কি, দেবযান ও পিতৃযাণনামক পথের প্রতিপদ্- প্রাপ্তির উপায় কি? যাহা করিয়া লোকে দেবযান বা পিতৃযাণ পথের একটা লাভ করিয়া থাকে? আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রবাক্যও শ্রবণ করিয়াছি। আমি শুনিয়াছি-মর্ত্য মানবগণের গমনোপযোগী পিতৃ- লোকসম্বন্ধী ও দেবলোকসম্বন্ধী দুইটী পথ আছে; এই দ্যাবা-পৃথিবীর (স্বর্গ ও পৃথিবীর) মধ্যবর্তী সমস্ত জগৎ ঐ দুইপথে স্বস্ব কর্ম্মানুরূপ লোকে গমন করিয়া থাকে। শ্বেতকেতু বলিলেন-ইহার মধ্যে একটাও আমি জানি না ॥ ৩৮০ ॥ ২॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যদ্যেবম্, বেখ বিজানাসি কিম্, যথা যেন প্রকারেণ ইমাঃ প্রজাঃ প্রসিদ্ধাঃ, প্রযত্যঃ ম্রিয়মাণাঃ, ‘বিপ্রতিপদ্যন্তা ৩ ইতি বিপ্রতিপদ্যন্তে, বিচারণার্থা প্লুতিঃ। সমানেন মার্গেণ গচ্ছন্তীনাং মার্গদ্বৈবিধ্যৎ যত্র ভবতি—তত্র কাশ্চিৎ প্রজা অন্যেন মার্গেণ গচ্ছন্তি, কাশ্চিদন্যেনেতি বিপ্রতিপত্তিঃ; যথা তাঃ প্রজাঃ বিপ্রতিপদ্যন্তে, তৎ কিং বেখেত্যর্থঃ। নেতি হোবাচ ইতরঃ। ১
তর্হি বেথ উ যথা ইমং লোকং পুনরাপদ্যন্তা ৩ ইতি পুনরাপদ্যন্তে, যথা পুন- রাগচ্ছন্তি ইমং লোকম্? নেতি হৈবোচ শ্বেতকেতুঃ। বেথ উ যথা অসৌ লোক এবং প্রসিদ্ধেন ন্যায়েন পুনঃ পুনরসকৃৎ প্রযস্ত্রিয়মাণৈঃ যথা যেন প্রকারেণ ন সম্পূর্য্যতা ৩ ইতি, ন সম্পূর্ণতেহসৌ লোকঃ, তৎ কিং বেথ? নেতি হৈবোবাচ। বেথ উ যতিথ্যাং যৎসঙ্খ্যাকায়াম্ আহুত্যাম্ আহুতৌ হুতায়াম্ আপঃ পুরুষবাচঃ পুরুষস্য যা বাক্, সৈব যাসাং বাক্, তাঃ পুরুষবাচঃ ভূত্বা, পুরুষশব্দবাচ্যা বা ভূত্বা, যদা পুরুষাকারপরিণতাস্তদা পুরুষবাচো ভবন্তি; সমুখায় সম্যক্ উত্থায় উদ্ভৃতাঃ সত্যঃ বদন্তী ৩ ইতি? নেতি হৈবোবাচ। যদ্যেবম্, বেথ উ দেবযানস্য পথো মার্গস্থ্য প্রতিপদম্, প্রতিপদ্যতে যেন, সা(তৎ?) প্রতিপদ, তাং প্রতিপদম্, পিতৃযাণশ্য বা প্রতিপদম্; প্রতিপচ্ছন্দবাচ্যমর্থমাহ—যৎ কৰ্ম্ম কৃত্বা যথা—বিশিষ্টং কৰ্ম্ম কৃত্বে- ত্যর্থঃ; দেবযানং বা পন্থানং মার্গং প্রতিপদ্যন্তে, পিতৃযাণং বা যৎ কৰ্ম্ম কৃত্বা প্রতিপদ্যন্তে, তৎ কৰ্ম্ম প্রতিপদুচ্যতে; তাং প্রতিপদং কিং বেথ, দেবলোক-পিতৃ- লোকপ্রতিপ্রত্তিসাধনং কিং বেথেত্যর্থঃ। ২
অপ্যত্র অন্যার্থস্য প্রকাশকম্ ঋষেৰ্ম্মন্ত্রস্য বচঃ বাক্যং নঃ শ্রুতমস্তি, মন্ত্রোহপ্যস্যার্থস্য প্রকাশকো বিদ্যত ইত্যর্থঃ। কোহসৌ মন্ত্র ইত্যুচ্যতে— দ্বে সূতী দ্বৌ মার্গাবশূণবং শ্রুতবানস্মি; তয়োরেকা পিতৃণাং প্রাপিকা- পিতৃলোকসম্বদ্ধা, তয়া সূত্যা পিতৃলোকং প্রাপ্নোতীত্যর্থঃ। অহমশূণবমিতি ব্যবহিতেন সম্বন্ধঃ। দেবানাম্ উত অপি দেবানাং সম্বন্ধিনী অন্যা, দেবান্ প্রাপয়তি সা। ৩
কে পুনরুভাভ্যাং স্মৃতিভ্যাং পিতৃন্ দেবাংশ গচ্ছন্তীত্যুচ্যতে—উতাপি মর্ত্যানাং মনুষ্যাণাং সম্বন্ধিন্যৌ; মনুষ্যা এব হি স্মৃতিভ্যাং গচ্ছন্তীত্যর্থঃ। তাভ্যাং স্মৃতিভ্যামিদং বিশ্বং সমস্তম্ এজদ গচ্ছৎ সমেতি সংগচ্ছতে। তে চ দ্বে স্মৃতী যদন্তরা যয়োরন্তরা যদন্তরা, পিতরং মাতরঞ্চ মাতাপিত্রোরন্তরা মধ্যইত্যর্থঃ। কৌ তৌ মাতাপিতরৌ? দ্যাবাপৃথিব্যাবণ্ড-কপালে “ইয়ং বৈ মাতা, অসৌ পিতা” ইতি হি ব্যাখ্যাতং ব্রাহ্মণেন। অণ্ড-কপালয়োর্মধ্যে সংসারবিষয়ে এবৈতে স্মৃতী
১৪৮৫
নাত্যন্তিকামৃতত্বগমনায়। ইতর আহ-নাহমতঃ অস্মাৎ প্রশ্নসমুদায়াদেকঞ্চন একমপি প্রশ্নং ন বেদ নাহং বেদেতি হোবাচ শ্বেতকেতুঃ ॥ ৩৮০ ॥ ২ ॥
টীকা।—পদার্থমুক্ত। বাক্যার্থমাহ—সম্মানেনেতি। নাড়ীরূপেণ—সাধারণেন মার্গেণা- ভ্যুদয়ং গচ্ছতাং যত্র মার্গবিপ্রতিপত্তিস্তৎকিং জানাসীতি প্রশ্নার্থঃ। বিপ্রতিপত্তিমেব বিশদয়তি —তত্রেতি। অধিকৃতপ্রজানিধারণার্থা সপ্তমী। প্রথমপ্রশ্নং নিগময়তি—যথেতি। ১
প্রশ্নান্তরমাদত্তে-তহীতি। তদেব স্পষ্টয়তি-যথেতি। পরলোকগতাঃ প্রজাঃ পুনরিমং লোকং যথাগচ্ছন্তি, তথা কিং বেখেতি যোজনা। প্রশ্নান্তরপ্রতীকমুপাদতে-বেথেতি। তদ্ব্যাকরোতি-এবমিতি। প্রসিদ্ধো ন্যায়ো জরাজ্জরাদিমরণহেতুঃ। প্রশ্নান্তরমুখাপ্য ব্যাচষ্টে-বেথেত্যাদিনা। পুরুষশব্দবাচ্যা ভূত্বা সমুত্থায় বদস্তীতি সংবন্ধঃ। কথমপাং পুরুষ- শব্দবাচ্যত্বং, তদাহ-যদেতি। প্রশ্নান্তরমবতারয়তি-যদ্যেবং বেথেতি। পিতৃযাণস্য বা প্রতিপদং বেথেতি সংবন্ধঃ। যৎ কৃত্বা প্রতিপদ্যন্তে পন্থানং, তৎকৰ্ম্ম প্রতিপদিতি যোজনা। বাক্যার্থমাহ-দেবযানমিতি। উক্তমর্থং সংক্ষিপ্ত্যাহ-দেবলোকেতি। ২
মার্গদ্বয়মেব নাস্তি, ত্বয়া তৃৎপ্রেক্ষামাত্রেণৈব পৃচ্ছাতে; তত্রাহ—অপীতি। অত্রেতি কৰ্ম্ম- বিপাকপ্রক্রিয়োক্তিঃ। অন্যার্থস্য মার্গদ্বয়স্যেত্যেতৎ। তেষামের মার্গদ্বয়েহধিকৃতত্বমিতি বক্তুং হীত্যুক্তং, তদেব স্ফুটয়তি—তাভ্যামিতি। বিশ্বং সাধ্যসাধনাত্মকং সংগচ্ছতে গন্তব্যত্বেন গন্তত্বেন চেতি শেষঃ। প্রকৃতমন্ত্রব্যাখ্যানগ্রন্থো ব্রাহ্মণশব্দার্থঃ। যদন্তরেত্যাদৌ বিবক্ষিত- মর্থমাহ—অণ্ডকপালয়োরিতি॥ ৩৮০॥২॥
ভাষ্যানুবাদ।—ভাল, তুমি যদি পিতার নিকট উত্তম শিক্ষালাভ করিয়া থাক;[তবে জিজ্ঞাসা করিতেছি,] তুমি জান কি, এই সমুদয় প্রজা ম্রিয়মাণ হইয়া অর্থাৎ মৃত্যু-গ্রাসে পতিত হইয়া কি’ প্রকারে বিপ্রতিপন্ন হয়? প্রজাগণ সমান পথে যাইলেও, যেখানে তাহাদের পথভেদ ঘটিয়া থাকে, সেখানে যাইয়া কোন কোন লোক এক পথে যায়, আবার কোন কোন লোক অন্য পথে যায়; এই প্রকার বিপ্রতিপত্তি অর্থাৎ বিভিন্ন পথপ্রাপ্তির কথা অবগত হওয়া যায়? যে প্রকারে সেই প্রজাগণ বিভিন্ন পথে যাইয়া থাকে, তাহা জান কি? এই বিষয়টা যে, বিবেচনীয়, তাহা বুঝাইবার জন্য ‘বিপ্রতিপদ্যন্তা ৩’ পদে প্লুতস্বর প্রযুক্ত হইয়াছে। শ্বেতকেতু বলিলেন—না—আমি জানি না। ১
তবে তুমি জান কি, প্রজাগণ ইহলোকে যে প্রকারে পুনর্ব্বার ফিরিয়া আইসে? শ্বেতকেতু এবারও অস্বীকার করিলেন। পুনশ্চ, তুমি জান কি, প্রজা- গণ মৃত্যুর পর পুনঃ পুনঃ প্রয়াণ(গমন) করিলেও, ঐ লোকটা(পরলোকটা) যে কারণে পরিপূর্ণ হয় না? অর্থাৎ যে কারণে ঐ লোক পরিপূর্ণ হয় না, তাহা তুমি জান কি? শ্বেতকেতু বলিলেন—না, আমি জানি না; তবে, তুমি জান
কি,[হবনীয় দ্রব্যের] জল সমূহ যেসংখ্যক আহুতিতে হুত(অর্পিত) হইয়া ‘পুরুষবাচঃ’-পুরুষের(মনুষ্যের) যাহা বাক্(শব্দ), সেই শব্দসম্পন্ন(মনুষ্য) হইয়া, অথবা পুরুষপদবাচ্য হইয়া;-কেন না, যখন পুরুষাকারে পরিণত হয়, তখন ত নিশ্চয়ই পুরুষপদবাচ্যও হয়; সেই প্রকারে সমুত্থিত হইয়া অর্থাৎ জন্ম পরিগ্রহ করিয়া যে, বাগব্যবহার করিয়া থাকে,[তাহা তুমি জান কি?]; শ্বেতকেতু ‘জানি না’ বলিয়া উত্তর করিলেন। যদি ইহাও না জান; তবে তুমি জান কি, দেবযান ও পিতৃযাণ পথের প্রতিপদ্ প্রাপ্তির উপায় কি? শ্রুতি নিজেই ‘প্রতিপদ্’ শব্দের অর্থ প্রকাশ করিয়া বলিতেছেন-যে কৰ্ম্ম করিয়া অর্থাৎ প্রজাগণ যে প্রকার বিশিষ্ট কৰ্ম্ম করিয়া দেবযান পথ প্রাপ্ত হয়, অথবা যেরূপ কৰ্ম্ম করিয়া পিতৃযাণ পথ প্রাপ্ত হয়, সেই কর্মকে ‘প্রতিপদ্’ বলা হইয়া থাকে; সেই প্রতিপদ্ তুমি জান কি? অর্থাৎ দেবলোক ও পিতৃলোক লাভের উপায় কি তুমি জান? যথোক্ত বিষয়ের প্রকাশক ঋষিবচনও(মন্ত্রবাক্যও) আমাদের শ্রুত আছে, অর্থাৎ এ বিষয়ের প্রকাশক মন্ত্রও বর্তমান আছে। সেই মন্ত্রটা কি, তাহা কথিত হইতেছে-‘আমি দুইটী পথের কথা শুনিয়াছি; তন্মধ্যে একটা পিতৃগণের প্রাপ্তিসাধক অর্থাৎ পিতৃলোক-সম্বন্ধী, সেই পথে গেলে পিতৃ- লোক প্রাপ্ত হইয়া থাকে। অপর পথটা দেবসম্বন্ধী অর্থাৎ সেই পথটা দেব- লোক প্রাপ্তির উপায়। ৩
সেই উভয় পথে পিতৃলোকে ও দেবলোকে কাহারা গমন করে, তাহা বলা হইতেছে—সেই দুইটা পথ মর্ত্যগণের অর্থাৎ মনুষ্যসম্বন্ধী; মনুষ্যগণই ঐ দুই পথে গমন করিয়া থাকে। এই সমস্ত জগৎই ঐ দুই পথে গমন করিয়া সম্মিলিত হয়। ঐ যে দুইটা পথ, যে উভয়ের মধ্যে—পিতা ও মাতার মধ্যে অবস্থিত, সেই পিতা ও মাতা কে কে? না, দ্যাবা-পৃথিবী অর্থাৎ ব্রহ্মাণ্ডের কপালদ্বয় বা আবরণদ্বয়— দ্যুলোক ও ভূলোক; ‘এই পৃথিবী হইতেছে মাতা, এবং দ্যুলোক হইতেছে পিতা’; এই ব্রাহ্মণগ্রন্থেও পিতা ও মাতা কথার এইরূপ ব্যাখ্যাই রহিয়াছে। অভিপ্রায় এই যে, উক্ত পথ দুইটী অণ্ড-কপালদ্বয়ের মধ্যেই অবস্থিত—সংসারেরই অন্তর্গত, কিন্তু আত্যন্তিক অমৃতত্বলাভের উপায় নহে। ইহা শুনিয়া শ্বেতকেতু বলিলেন—এই সমুদয় প্রশ্নের মধ্যে একটা প্রশ্নও আমি জানি না ॥ ৩৮০ ॥ ২ ॥
অথৈনং বসত্যোপমন্ত্রয়াঞ্চক্রেইনাদৃত্য বসতিং কুমারঃ প্রদুদ্রাব, স আজগাম পিতরম্, তং হোবাচেতি বাব কিল নো
১৪৮৭
ভবান্ পুরানুশিষ্টানবোচইতি; কথং সুমেধ ইতি, পঞ্চ মা প্রশ্নান্ রাজন্যবন্ধুরপ্রাক্ষীত্ততো নৈকঞ্চন বেদেতি; কতমে ত- ইতীম ইতি হ প্রতীকান্যুদাজহার ॥ ৩৮১ ॥ ৩ ॥
সরলার্থঃ?—অথ(শ্বেতকেতোরপ্রতিভানানন্তরম্)[রাজা] এনং শ্বেতকেতুং বসত্যা(বাসনিমিত্তং) উপমন্ত্রয়াঞ্চক্রে(আমন্ত্রণং কৃতবান্)। কুমারঃ(শ্বেতকেতুঃ) বসতিং(রাজভবনে স্থিতিং) অনাদৃত্য(উপেক্ষ্য) প্রদুদ্রাব(দ্রুতং প্রতস্থে); সঃ পিতরং আজগাম;[আগত্য চ] তং(পিতরং) উবাচ হ—ভবান্ কিল পুরা(প্রথমং) নঃ(অস্মান্) অনুশিষ্টান্(সম্যগুপ- দিষ্টান্) ইতি বাব(অবধারণে) অবোচঃ(অবোচৎ উক্তবান্) কিল।[পিতা আহ—] হে সুমেধঃ(সুবোধ), কথম্ ইতি?(কেন কারণেন এবং কথয়সি? ইতি)।[শ্বেতকেতুঃ আহ—] রাজন্যবন্ধুঃ(রাজন্যাপশদঃ), মা(মাং) পঞ্চ প্রশ্নান্ অপ্রাক্ষীৎ(পৃষ্টবান্); ততঃ(তেষু মধ্যে) একংচন(একমপি) ন বেদ (ন বিজ্ঞাতবানস্মি ইতি)।[পিতা আহ—] কতমে(কে কে) তে প্রশ্নাঃ? ইতি। [এবমুক্তঃ শ্বেতকেতুঃ—] ‘ইমে’[তে প্রশ্নাঃ] ইতি[কৃত্বা] প্রতীকানি (প্রশ্নাংশান্) উদাজহার(কথিতবান্)॥ ৩৮১ ॥৩॥
মূলানুবাদ:-অতঃপর,[রাজা] শ্বেতকেতুর বিদ্যাভিমানজ গর্ব্ব এইরূপে খর্ব্ব করিয়া শ্বেতকেতুকে সেখানে বাস করিবার জন্য অনুরোধ করিয়াছিলেন(আপনি এখানে বাস করুন, আপনার জন্য আমরা পাদ্য অর্ঘ্য আনয়ন করিতেছি, এইরূপে রাজা তাঁহাকে আমন্ত্রণ করিয়াছিলেন); কিন্তু কুমার শ্বেতকেতু বসতির আমন্ত্রণ অনাদর করিয়া দ্রুতগতিতে প্রস্থান করিলেন। তিনি পিতার নিকট আগমন করিলেন এবং পিতাকে বলিলেন-আপনি পূর্ব্বে বলিয়াছিলেন যে, আমাকে সম্পূর্ণরূপে শিক্ষা প্রদান করিয়াছেন! [ পিতা বলিলেন-] হে সুমেধ(সুবোধ), তুমি এরূপ বলিতেছ কেন? শ্বেতকেতু বলিলেন-রাজন্যবন্ধু অর্থাৎ নিকৃষ্ট রাজন্য প্রবাহণ আমাকে পাঁচটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, আমি তাহার একটাও বুঝিতে পারি নাই।[পিতা’ জিজ্ঞাসা করিলেন-] সেই
প্রশ্নগুলি কি কি? শ্বেতকেতু সেই প্রশ্নগুলির প্রতীক বা প্রথমাংশ- মাত্র উল্লেখ করিলেন ॥ ৩৮১ ॥ ৩॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথানন্তরম্ অপনীয় বিদ্যাভিমানগর্ব্বম্, এনং প্রকৃতং শ্বেতকেতুং বসত্যা বসতিপ্রয়োজনেনোপমন্ত্রয়াঞ্চক্রে, ইহ বসন্তু ভবন্তঃ; পাদ্য- মর্গ্যমানীয়তামিত্যুপমন্ত্রণং কৃতবান্ রাজা। অনাদৃত্য তাং বসতিং কুমারঃ শ্বেত- কেতুঃ প্রদুদ্রাব প্রতিগতবান্ পিতরং প্রতি। স চাজগাম পিতরম্; আগত্য চ উবাচ তম্। কথমিতি—বাব কিল এবং কিল নঃ অস্মান্, ভবান্ পুরা সমাবর্তন- কালে অনুশিষ্টান্ সর্ব্বাভির্বিদ্যাতিঃ, অবোচৎ ইতি। সোপালম্ভং পুত্রস্য বচঃ শ্রুত্বা আহ পিতা—কথং কেন প্রকারেণ তব দুঃখমুপজাতম্, হে সুমেধঃ, শোভনা মেধা যস্যেতি সুমেধাঃ। ১
শৃণু, মম যথা বৃত্তম্; পঞ্চ পঞ্চসখ্যাকান্ প্রশ্নান্ মাং রাজন্যবন্ধুঃ—রাজন্যা বন্ধবো যস্যেতি; পরিভববচনমেতৎ—রাজন্যবন্ধুরিতি; অপ্রাক্ষীৎ পৃষ্টবান্। ততস্তস্মাৎ ন একঞ্চন একমপি ন বেদ ন বিজ্ঞাতবানস্মি। কতমে তে রাজ্ঞা পৃষ্টাঃ প্রশ্নাঃ? ইতি পিত্রা উক্তঃ পুত্রঃ—‘ইমে তে’ ইতি হ প্রতীকানি মুখানি প্রশ্নানামুদাজহার উদাহৃতবান্ ॥ ৩৮১ ॥ ৩ ॥
টীকা।—শ্বেতকেতোরভিমাননিবৃত্তিদ্যোতনার্থং বহুবচনম্। রাজন্যদত্তবসত্যনাদরে হেতু- মাহ—কুমার ইতি। এবং কিলেতি রাজপরাভবলিঙ্গকং পিতৃবচসো মৃষাত্বং দ্যোতাতে। অজ্ঞানাধীনং দুঃখং তবাস’ভাবিতমিতি সুচয়তি--সুমেধ ইতি ॥ ৩৮১ ॥ ৩ ॥
ভাষ্যানুবাদ।-অতঃপর রাজা শ্বেতকেতুর বিদ্যাভিমানজনিত অহঙ্কার বিদূরিত করিয়া, শ্বেতকেতুকে সেখানে অবস্থান করিবার জন্য উপমন্ত্রণ করিয়াছিলেন;-আপনি এখানে অবস্থান করুন; ভৃত্যগণ, ইহার নিমিত্ত পাদ্য ও অর্ঘ্য আনয়ন কর; এইরূপে রাজা তাঁহাকে আমন্ত্রণ করিয়া- ছিলেন; কিন্তু কুমার শ্বেতকেতু সেখানে অবস্থানে অনাদর করিয়া(উপেক্ষা করিয়া) পিতার নিকট প্রতিগমন করিয়াছিলেন। তিনি পিতার নিকট আগমন করিলেন, এবং আসিয়া পিতাকে বলিলেন। কি কথা বলিলেন? পূর্ব্বে-সমাবর্তনসময়ে আপনি আমাকে সমস্ত বিদ্যায় শিক্ষাপ্রাপ্ত বলিয়া নির্দেশ করিয়াছিলেন;[কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে তাহা করেন নাই]। পুত্রের এই প্রকার তিরস্কারগর্ভ বাক্য শ্রবণ করিয়া পিতা বলিলেন-হে সুমেধ, তোমার মেধা-ধারণক্ষম বুদ্ধি অতি উত্তম; অতএব হে সুমেধ, কি কারণে তোমার দুঃখ সমুৎপন্ন হইয়াছে, তাহা বল।
৩৪৮৯
[পুত্র শ্বেতকেতু বলিলেন—] শ্রবণ করুন, যাহা হইয়াছে; রাজন্যগণ যাহার বন্ধু, সেই রাজন্যবন্ধু আমাকে পাঁচটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিয়াছিল। এখানে ‘রাজন্যবন্ধু’ কথাটী পরিভব-জ্ঞাপনার্থ প্রযুক্ত হইয়াছে। সেই পঞ্চ প্রশ্নের একটাও আমি বুঝিতে পারি নাই বা জানি না। সেই প্রশ্নগুলি কি কি, ইহা পিতা জিজ্ঞাসা করিলে পর, পুত্র ‘এই সেই সমুদয় প্রশ্ন’ এই বলিয়া, প্রশ্নগুলির প্রতীক অর্থাৎ প্রথমাংশমাত্র উদাহরণ করিয়াছিলেন— বলিয়াছিলেন ॥ ৩৮১ ॥ ৩ ॥
স হোবাচ তথা নস্তুং তাত জানীথাঃ, যথা যদহং কিঞ্চ বেদ সর্ব্বমহং তত্তুভ্যমবোচম্, প্রেহি তু তত্র প্রতীত্য ব্রহ্মচর্য্যং বৎস্যাব ইতি। ভবানেব গচ্ছত্বিতি, স আজগাম গৌতমো যত্র প্রবাহণস্য জৈবলেরাস, তস্মা আসনমাহৃত্যোদকমাহারয়াঞ্চকারাথ হাস্মা অর্ঘ্যং চকার, তং হোবচ বরং ভগবতে গৌতমায় দদ্ম- ইতি ॥ ৩৮২ ॥ ৪ ॥
সরলার্থঃ।—[এবং বিষণ্ণং পুত্রমুপসান্ত্বয়ন্] পিতা উবাচ হ—হে তাত (পুত্র),[ত্বম্] নঃ(অস্মান্) তথা জানীথাঃ, যথা অহং যৎ কিঞ্চ বেদ (বেদ্মি), অহং তৎ সর্ব্বং তুভ্যম্ অবোচং(উক্তবানস্মি);[অহমপি নৈতৎ- প্রশ্নপঞ্চকার্থং জানামীতি ভাবঃ]। তু(পুনঃ) প্রেহি(আগচ্ছ), তত্র প্রতীত্য(গত্বা) ব্রহ্মচর্য্যং বৎস্যাবঃ[আবাম্] ইতি।[শ্বেতকেতুঃ আহ—] ভবান্ এব গচ্ছতু ইতি; সঃ গৌতমঃ যত্র প্রবাহণস্য জৈবলেঃ আস (আসনম্, সাক্ষাৎকারস্থানম্), তত্র আজগাম। তস্মৈ(আগতায় গৌতমায়) আসনম্ আহৃত্য(আনীয়) উদকং(পাদ্যং) আহারয়ামাস (আনয়ামাস ভৃত্যৈঃ)[রাজা]। অথ(অনন্তরং) অস্মৈ(গৌতমায়) অর্ঘ্যং (পূজাং) চকার হ; তং উবাচ হ—ভগবতে(পূজনীয়ার) গৌতমায়(তুভ্যং) বরং দদ্মঃ(প্রযচ্ছামঃ)[বয়ম্] ইতি ॥ ৩৮২ ॥ ৪ ॥
মূলানুবাদ:—(এই প্রকারে বিষাদগ্রস্ত পুত্রকে সান্ত্বনা করিবার উদ্দেশ্যে) পিতা বলিলেন—তাত(বৎস), তুমি আমা- দিগকে সেই প্রকার জানিও যে, আমরা যাহা কিছু জানি, সে সমস্তই তোমাকে বলিয়াছি;(কিছুই বাকি রাখি নাই; ফলকথা, এই
੩੦
পাঁচটা প্রশ্নের তত্ত্ব আমিও জানি না); অতএব এস, আমরা উভয়ে সেই রাজার নিকট যাইয়া ব্রহ্মচর্য্য বাস করিব।(পুত্র বলিলেন), আপনিই গমন করুন।(অতঃপর) সেই গৌতম ঋষি, যেখানে রাজা প্রবাহণ জৈবলির বসিবার স্থান অর্থাৎ যেখানে বসিয়া রাজা সকলকে দেখা দেন, সেইখানে যাইয়া উপস্থিত হইলেন। রাজা তাঁহাকে আসন প্রদানপূর্ব্বক পাদপ্রক্ষালনের জল আনাইলেন; শেষে তাঁহার অর্চ্চনা করিলেন; এবং, তাঁহাকে বলিলেন যে, হে পূজনীয় গৌতম, আপনাকে বর প্রদান করিতেছি;[গ্রহণ করুন] ॥ ৩৮২ ॥ ৪ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।-স হোবাচ পিতা পুত্রং ক্রুদ্ধমুপশময়ন্-তথা তেন প্রকারেণ নঃ অস্মান্ ত্বম্-হে তাত বৎস, জানীথাঃ গৃহ্নীথাঃ, যথা যদহং, কিঞ্চ বিজ্ঞানজাতং বেদ, সর্ব্বং তৎ তুভ্যমবোচমিত্যেব জানীথাঃ; কোহন্যো মম প্রিয়তরোহস্তি ত্বত্তঃ, যদর্থং রক্ষিয্যে; অহমপি এতন্ন জানামি, যদ্রাজ্ঞা পৃষ্টম্; তস্মাৎ প্রেহি আগচ্ছ; তত্র গত্বা রাজ্ঞি ব্রহ্মচর্য্যৎ বৎস্যাবো বিদ্যার্থ- মিতি। স আহ,-ভবানেব গচ্ছত্বিতি, নাহং তস্য মুখং নিরীক্ষিতুমুৎসহে। স আজগাম গৌতমঃ, গোত্রতো গৌতমঃ, আরুণিঃ, যত্র প্রবাহণস্য জৈবলেরাস আসনম্ আস্থায়িকা; ষষ্ঠীদ্বয়ং প্রথমাস্থানে। তস্মৈ গৌতমায়াগতায় আসন- মনুরূপমাহৃত্য উদকং ভৃত্যেরাহারয়াঞ্চকার। অথ হ অস্মৈ অর্ঘ্যং পুরোধসা কৃতবান্ মন্ত্রবৎ, মধুপর্কঞ্চ। কৃত্বা চৈবং পূজাং তং হোবাচ,-বরং ভগবতে গৌতমায় তুভ্যং দদ্ম ইতি-গোশ্বাদিলক্ষণম্ ॥ ৩৮২ ॥ ৪ ॥
টীকা।—সত্যং কিংচিদুক্তং, কিঞ্চিত্তু বিজ্ঞানমন্যস্মৈ প্রিয়তমায় দাতুং রক্ষিতমিত্যা- শঙ্ক্যাহ—কোহন্য ইতি। রাজ্ঞা যৎ পৃষ্টং, তন্ময়া ন বিজ্ঞাতম্, তথা চ তস্মিন্ বিষয়ে ত্বয়া বঞ্চিতোঽস্মীত্যাশঙ্ক্যাহ—অহমপীতি। তর্হি তজ্ঞানং কথং সাধ্যতামিত্যাশঙ্ক্যাহ—তস্মা- দিতি॥ ৩৮২॥ ৪॥
ভাষ্যানুবাদ।—ক্রুদ্ধ পুত্রের সান্ত্বনার্থ পিতা গৌতম পুত্রকে বলিলেন—হে তাত(হে বৎস), তুমি আমাকে সেইরূপ জানিও—গ্রহণ করিও, যাহাতে বুঝিবে, আমি যাহা কিছু বিজ্ঞেয় বিষয় জানি, সে সমুদয়ই তোমাকে বলিয়াছি—এইরূপই বুঝিবে; কারণ, তোমা অপেক্ষা অধিক প্রিয়জন আমার আর কে আছে? যাহার জন্য আমি গোপন করিয়া রাখিব; বস্তুতঃ
১৪৯১’
রাজা যাহা জিজ্ঞাসা করিয়াছে, আমিও তাহা জানি না; অতএব এস, সেখানে যাইয়া রাজার নিকট বিদ্যাগ্রহণের জন্য ব্রহ্মচর্য্য বাস, করিব। শ্বেতকেতু বলিলেন—আপনিই যান; আমি তাহার মুখদর্শন করিতে ইচ্ছা করি না।
অনন্তর গোতমবংশীয় আরুণি ঋষি আসিয়া সেখানে উপস্থিত হইলেন, যেখানে প্রবাহণ জৈবলির আসন—আস্থায়িকা(যেখানে বসিয়া নৃপতিগণ সাধারণকে দেখা দিয়া থাকেন, তাহা) রহিয়াছে। ‘প্রবাহণস্য জৈবলেঃ’—এই উভয় পদেই প্রথমাবিভক্তির অর্থে ষষ্ঠী বিভক্তি হইয়াছে। রাজা সেই আগত গৌতমকে উপযুক্ত আসন প্রদান করিয়া, ভৃত্যগণ দ্বারা জল আনয়ন করিয়াছিলেন। অনন্তর পুরোহিত দ্বারা মন্ত্রোচ্চারণপূর্ব্বক গৌতমের অর্ঘ্য ও মধুপর্ক প্রদান করিয়াছিলেন। এইরূপ পূজা সমাপন করিয়া তাঁহাকে বলিয়াছিলেন—গোতম- বংশীয় পূজনীয় আপনাকে গো-অশ্বাদিরূপ বর প্রদান করিতেছি ॥ ৩৮২ ॥ ৪ ॥
স হোবাচ প্রতিজ্ঞাতো ম এষ বরো যান্ত কুমারস্যান্তে বাচমভাষথাস্তাং মে ব্রূহীতি ॥ ৩৮৩ ॥ ৫ ॥
সরলার্থঃ।—সঃ(গৌতমঃ) উবাচ হ—এষঃ(বক্ষ্যমাণঃ) বরঃ মে (মম সম্বন্ধে)[ত্বরা] প্রতিজ্ঞাতঃ; তু(পুনঃ) কুমারস্য(শ্বেতকেতোঃ) অন্তে(সমীপে) যাং বাচং(প্রশ্নরূপাং) অভাযথাঃ(উক্তবানসি), তাম্ এব মে(মহৎ) ক্রহি(কথয়) ইতি॥ ৩৮৩॥ ৫॥
মূলানুবাদ?—সেই গৌতম বলিলেন—আপনি আমাকে অভিলষিত বর দিতে প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন;(এ বিষয়ে আপনি দৃঢ়চিত্ত হউন)। আপনি আমার পুত্রের নিকট যে প্রশ্নবাক্য বলিয়াছিলেন, তাহাই আমাকে বলুন; ইহাই আমার প্রার্থনীয় বর ॥ ৩৮৩ ॥ ৫ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—স হোবাচ গৌতমঃ, প্রতিজ্ঞাতো মে মমৈষ বরস্বয়া; অস্যাং প্রতিজ্ঞায়াং দৃঢ়ীকুরু আত্মানম্। যান্তু বাচং কুমারস্য মম পুত্রস্যান্তে সমীপে বাচম্ অভাযথাঃ প্রশ্নরূপাম্, তামেব মে ব্রূহি; স এব নো বর ইতি ॥ ৩৮৩ ॥ ৫ ॥
টীকা।—বিবক্ষিতবিদ্যাগৌরবং বিবক্ষিত্বাহ—অস্যামিতি। তদিতি সামান্যোক্ত্যা বরো নিৰ্দ্দিষ্টতে ॥ ৩৮৩ ॥ ৫ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—সেই গৌতম বলিলেন—আপনি আমার জন্য এই যে, বর-প্রদানের প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন; সেই প্রতিজ্ঞায় আপনি আপনাকে দৃঢ়তর করুন। আপনি কুমারের—আমার পুত্রের অন্তে—সমীপে যে প্রশ্নবচন বলিয়াছিলেন, আমাকেও সেই বাক্যই(তাহার উত্তরই) বলুন; ইহাই আমার বর ॥ ৩৮৩॥ ৫ ॥
স হোবাচ দৈবেষু গৌতম তদ্বরেষু, মানুষাণাং ব্রহীতি ॥ ৩৮৪ ॥ ৬ ॥
সরলার্থঃ।—সঃ(রাজা) উবাচ হ—হে গৌতম, তৎ(সঃ ত্বৎপ্রার্থিতঃ বরঃ) দৈবেষু(দেবসম্বন্ধিযু) বরেষু[অন্তর্গতঃ];[অতঃ তৎ ন প্রার্থনীয়ম্]; মানুষাণাং(মনুষ্যসম্বন্ধিনং বরং) ক্রহি(প্রার্থয়স্ব) ইতি ॥ ৩৮৪ ॥ ৬ ॥
মূলানুবাদঃ—রাজা বলিলেন—হে গৌতম, তোমার প্রার্থিত বরটী হইতেছে—দেবসম্বন্ধী বরের অন্তর্গত;(অতএব, উহা প্রার্থনা না করিয়া) তুমি মনুষ্যসম্বন্ধী বর প্রার্থনা কর ॥ ৩৮৪ ॥ ৬ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—স হোবাচ—দৈবেষু বরেষু তদ্বৈ গৌতম, যৎ ত্বং প্রার্থয়সে। মানুষাণামন্যতমং প্রার্থয় বরম্ ॥ ৩৮৪ ॥ ৬ ॥
টীকা।—॥ ৩৩৮ ॥ ৬ ॥
ভাষ্যানুবাদ?—রাজা বলিলেন—হে গৌতম, তুমি যাহা প্রার্থনা করিতেছ, তাহা দৈব বরের অন্তর্গত; তুমি মনুষ্যসম্বন্ধী কোন একটা বর প্রার্থনা কর॥ ৩৮৪ ॥ ৬॥
স হোবাচ বিজ্ঞায়তে হাস্তি হিরণ্যস্যাপাত্তং গো-অশ্বানাং দাসীনাং প্রবারাণাং পরিদানস্য। মা নো ভবান্ বহোরনন্তস্যা- পর্য্যন্তস্যাভ্যবদান্যো ভূদিতি, স বৈ গৌতম তীর্থেনেচ্ছাসা- ইতি, উপৈম্যহং ভবন্তমিতি, বাচা হ স্মৈব পূর্ব্ব উপযন্তি, স হোপায়নকীর্ত্যোবাস ॥ ৩৮৫ ॥ ৭ ॥
সরলার্থঃ।—সঃ(গৌতমঃ) উবাচ হ—বিজ্ঞায়তে হ(ত্বং মে যৎ যৎ- দিৎসসি, তৎ সর্ব্বং ভবতা ইব ময়াপি বিজ্ঞায়তে বিশেষেণ জ্ঞায়তে এব; নাস্তি- মে তেন প্রয়োজনম্ ইতি ভাবঃ)।[মমাপি] হিরণ্যস্য(সুবর্ণস্য), গো-অশ্বানাং-
১৪৯৩
(গবাম্ অশ্বানাং চ), দাসীনাং(পরিচারিকাণাং), প্রবারাণাং(পরিবারাণাৎ, প্রবারাণামিতি দাসীবিশেষণং বা), তথা পরিদানস্য(পরিধানস্য বস্ত্রাদেঃ) অপাত্তং(প্রাপ্তং প্রাপ্তিঃ) অস্তি। ভবান্ নঃ(অস্মান্) অভি(প্রতি) বহোঃ (প্রভূতস্য) অনন্তস্য(অনন্তফলস্য) অপর্যন্তস্য(অপরিসীমস্য)[বস্তুনঃ] অবদান্যঃ(অদাতা) মা ভূৎ(সর্ব্বত্র দানশীলো ভূত্বা অস্মাসু কৃপণো ন ভবতু ভবান্ ইত্যাশয়ঃ) ইতি।[রাজা উবাচ-] হে গৌতম, সঃ[ত্বং] তীর্থেন (শাস্ত্রবিধিনা) ইচ্ছাসৈ(মৎসকাশাৎ বিদ্যামবিগন্তুমিচ্ছ) ইতি।[এবমুক্তঃ গৌতম আহ-] অহং ভবন্তং উপৈমি(শিষ্যবৃত্ত্যা উপগচ্ছামি) ইতি। পূর্ব্বে(প্রাচীনাঃ উত্তমবর্ণাঃ পুরুষাঃ)[অধমবর্ণে গুরৌ] বাচা এব উপযন্তি স্ম(শুশ্রূষণাদিকং বিনাপি কেবলেন শিষ্যত্বস্বীকারেণৈব শিষ্যতাং গতাঃ) হ (ঐতিহ্যে)।[অতঃ] সঃ(গৌতমঃ) উপায়নকীর্ত্যা(উপগমনকীর্তনমাত্রেণৈব) উবাস(বসতিং চকার, নতু উপগমনং কৃতবান্ ইতি ভাবঃ) ॥ ৩৮৫॥ ৭ ॥
মূলানুবাদ।—(রাজার কথা শ্রবণ করিয়া) সেই গৌতম বলিলেন—আমার জানা আছে, অর্থাৎ তুমি আমাকে যে সমুদয় বিষয় দিতে চাহিতেছ, আমি সে সমুদয় বিশেষ ভাবেই অবগত আছি, এবং হিরণ্য, গো, অশ্ব, দাসী, পরিজনবর্গ ও পরিধানাদি সমস্তই আমার আছে। আপনি আমার প্রতি অনন্তফলপ্রদ অপরিসীম বহুতর বিষয় প্রদানে বিমুখ হইবেন না।[রাজা বলিলেন,] হে গৌতম, বিদ্যার্থী তুমি শাস্ত্রোক্ত বিধান অনুসারে উপদেশ গ্রহণ করিতে ইচ্ছা কর।[গৌতম বলিলেন,] আমি আপনার নিকট শিষ্যভাবে উপস্থিত হইতেছি। পূর্ব্ববর্তী[উত্তম বর্ণের] লোকেরা শুশ্রূষণাদি ব্যতীতও কেবল বাক্য দ্বারাই অধমবর্ণীয় গুরুর সমীপে উপগত হইতেন।[এই কথা বলিয়া] তিনি কেবল উপগমনের বা গুরু- সমীপে বিনীত ভাবে উপস্থিতির উক্তি দ্বারাই বাস কার্য্য সম্পন্ন করিয়াছিলেন ॥ ৩৮৫ ॥ ৭ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—স হোবাচ গৌতমঃ—ভবতাপি বিজ্ঞায়তে হ মমাস্তি সঃ; ন তেন প্রার্থিতেন কৃত্যং মম, যং ত্বং দিৎসসি মানুষৎ বরম্; যস্মাৎ মমা- প্যন্তি হিরণ্যস্য প্রভূতস্য অপাত্তম্ প্রাপ্তম্; গো-অশ্বানাম্ অপাত্তমস্তীতি সর্ব্বত্রানু-
যঙ্গঃ। দাসীনাম, প্রবারাণাং পরিবারাণাম্, পরিধানস্য[পরিদানস্য?] চ। নচ যন্মম বিদ্যমানম্, তৎ ত্বত্তঃ প্রার্থনীয়ম্, ত্বয়া বা দেয়ম্; প্রতিজ্ঞাতশ্চ বরত্ত্বরা; ত্বমেব জানীষে, যদত্র যুক্তম্, প্রতিজ্ঞা রক্ষণীয়া, তবেতি। মম পুনরয়মভিপ্রায়ঃ— মা ভূৎ নঃ অস্মান্ অভি অস্মানেব কেবলান্ প্রতি, ভবান্ সর্ব্বত্র বদান্যো ভূত্বা অবদান্যো মা ভূৎ কদর্য্যো মা ভূদিত্যর্থঃ। বহোঃ প্রভৃতস্য, অনন্তস্য অনন্তফল- শ্যেত্যেতৎ, অপর্যন্তস্য অপরিসমাপ্তিকস্য পুত্রপৌত্রাদিগামিকস্যেত্যেতৎ, ঈদৃশস্য বিত্তস্য মাং প্রত্যেব কেবলম্ অদাতা মা ভূৎ ভবান্; ন চ অন্যত্রাদেয়মস্তি ভবতঃ। এবমুক্ত আহ—স ত্বং বৈ হে গৌতম, তীর্থেন ন্যায়েন শাস্ত্রবিহিতেন বিদ্যাং মত্তঃ ইচ্ছাসৈ ইচ্ছ অন্বাপ্তুম্; ইত্যুক্তো গৌতম আহ—উপৈমি উপগচ্ছামি শিষ্যত্বেন অহং ভবন্তমিতি। বাচা হ স্ম এব কিল পূর্ব্বে ব্রাহ্মণাঃ ক্ষত্রিয়ান্ বিদ্যাপিনঃ সন্তঃ বৈশ্যান্ বা, ক্ষত্রিয়া বা বৈশ্যান্ আপদি উপযন্তি,—শিষ্যবৃত্ত্যা হি উপগচ্ছন্তি, নোপায়নশুশ্রুষাদিভিঃ; অতঃ স গৌতমঃ হ উপায়নকীর্ত্ত্যা উপগমনকীর্ত্তন- মাত্রেণৈব উবাসোষিতবান্, ন উপায়নং চকার ॥ ৩৮৫ ॥ ৭ ॥
টীকা।—মমাস্তি স ইতি যদুক্তং, তদুপপাদয়তি—যগ্নাদিত্যাদিনা। ন চ যন্মমেত্যত্র তস্মাদিতি পঠিতব্যম্; কিং তর্হি ময়া কর্তব্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ—প্রতিজ্ঞাতশ্চেতি। যদ্ভবাভি- প্রেতং, তদহং ন করোমীত্যাশঙ্ক্যাহ—মমেতি। মা ভূদিত্যন্বয়ং দশয়ন্ প্রতীকমাদার ব্যাচষ্টে—নোহমানিতি। বদান্যো দানশীলঃ, বিভবে সত্যদাতা কদর্য্য ইতি ভেদঃ। পরিশিষ্টঃ ভাগং ব্যাকুর্ব্বম্বাক্যার্থমাহ—বহোরিত্যাদিনা। মাং প্রত্যেবেতি নিয়মস্য কৃত্যং দর্শয়তি— নচেতি। কোহসৌ ন্যায়স্তত্রাহ—শাস্ত্রেতি। উপসদনবাক্যং শাস্ত্রমিত্যুচ্যতে। গৌতমো রাজানং প্রতি শিষ্যত্ববৃত্তিং কুর্ব্বাণঃ শাস্ত্রার্থবিরোধমাচরতী-ত্যাশঙ্ক্যাহ—বাচা হেতি। আপনি সমাদধিকাম্বা বিদ্যাপ্রাপ্ত্যসংভাবস্থায়ামিত্যর্থঃ। উপায়নমুপগমনং পাদোপসর্পণমিতি যাবৎ॥ ৩৮৫ ॥ ৭ ॥
ভাষ্যানুবাদ।-এই কথার পর গৌতম বলিলেন-আপনিও জানেন যে, আমার বরণীয় ঐ সকল বিষয় বিদ্যমানই আছে। আপনি যে, মনুষ্যসম্বন্ধী বর প্রদান করিতে ইচ্ছা করিতেছেন, তাহা প্রার্থনা করিয়া আমার কোনও প্রয়োজন নাই; যেহেতু আমারও প্রভূত পরিমাণে সুবর্ণ অপাত্ত-প্রাপ্ত রহিয়াছে। অপর সকল স্থলেও এই ‘অপাত্ত’ শব্দটার সম্বন্ধ করিতে হইবে। বহু গো অশ্ব, অনেক দাসী, প্রভূত পরিজন এবং পরিধান বস্ত্রাদি আমার প্রাপ্তই আছে। যাহা আমার বিদ্যমান আছে, তাহা কখনই আপনার নিকট আমার প্রার্থনীয় কিংবা আপনারও প্রদেয় হইতে পারে না। অথচ আপনি বর প্রদানের প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন; এস্থলে কি করা যুক্তিসঙ্গত, তাহা আপনিই
১৪৯৫
জানেন; পালন করা কিন্তু আপনার অবশ্যকর্তব্য। আমার অভিপ্রায় এই যে, আপনি সর্ব্বত্র বদান্য—দানশীল হইয়াও কেবল আমাদের প্রতি অবদান্য—কদর্য্য (অদাতা) হইবেন না। কেবল আমাদের সম্বন্ধেই আপনি বহু—প্রভূত (প্রচুর পরিমাণ) অনন্তফলপ্রদ ও অপর্যন্ত অর্থাৎ যাহার পরিসমাপ্তি নাই, এমন পুত্রপৌত্রাদিভোগ্য বিত্তের অদাতা হইবেন না; অথচ অপরের নিকট ত আপনার কিছুই অদেয় হয় না।
এইরূপ উক্তির পর রাজা বলিলেন—হে গৌতম, তুমি আমার নিকট হইতে তীর্থক্রমে অর্থাৎ শাস্ত্রবিহিত নিয়মানুসারে বিদ্যা গ্রহণ করিতে ইচ্ছা কর। এই কথা শ্রবণের পর গৌতম বলিলেন—আমি শিষ্যরূপে আপনার নিকট উপস্থিত হইতেছি। পূর্ব্বতন ব্রাহ্মণগণ বিদ্যালাভের জন্য আপৎকালে(যখন সমান বর্ণ হইতে বিদ্যালাভ সম্ভবপর হয় না, তখন) ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যের নিকট, অথবা ক্ষত্রিয়গণ বৈশ্যের নিকট কেবল বাক্য দ্বারাই শিষ্যভাবে উপস্থিত হইতেন, কিন্তু উপায়ন(অনুগমন ও শুশ্রূষা প্রভৃতি দ্বারা নহে); এই কারণে সেই গৌতম উপায়নবিষয়ক কেবল বাক্যোচ্চারণ মাত্রেই বাস করিয়াছিলেন, কিন্তু কোন প্রকার উপায়ন ও শুশ্রূষা প্রভৃতির অনুষ্ঠান করেন নাই ॥ ৩৮৫ ॥ ৭ ॥
স হোবাচ তথা নস্তুং গৌতম মাপরাধাস্তব চ পিতামহাঃ যথেয়ং বিদ্যেতঃ পূর্ব্বং ন কস্মিংশন ব্রাহ্মণ উবাস, তাং ত্বহং ভুভ্যং বক্ষ্যামি, কো হি ত্বৈবং ব্রুবন্তমর্হতি প্রত্যাখ্যাতু- মিতি ॥ ৩৮৬ ॥ ৮ ॥
সরলার্থঃ।—সঃ(এবমুক্তঃ রাজা) উবাচ হ—হে গৌতম, ত্বং নঃ (অস্মান্ প্রতি) তথা(তদ্বৎ) মা অপরাধাঃ(অপরাধং মা কার্ষীঃ—অস্মিন্ বিষয়ে মম অপরাধঃ ক্ষন্তব্যইত্যর্থঃ); যথা তব পিতামহাঃ(পূর্ব্বপুরুষাঃ) চ (অপি)[অস্মৎপিতামহেষু অপরাধং ন জগৃহুঃ, তথা ইত্যর্থঃ)। ইয়ং বিদ্যা (পঞ্চাগ্নিবিদ্যা) ইতঃ পূর্ব্বং(ত্বয়ি সম্প্রদানাৎ প্রাক্) কস্মিংশ্চন(কস্মিন্নপি) ব্রাহ্মণে ন উবাস(স্থিতবতী বভূব); অহং তু(পুনঃ) তাং(বিদ্যাং) তুভ্যং বক্ষ্যামি(কথয়িষ্যামি);[যুক্তং চৈতৎ, যতঃ] এবং ব্রুবন্তং(কথয়ন্তং) ত্বা (ত্বাং) হি কঃ প্রত্যাখ্যাতুম্(নিরাকর্ত্তুং) অর্হতি(শক্লোতি,.ন কোহপীতি ভাবঃ) ॥ ৩৮৬ ॥ ৮ ॥
মূলানুবাদ।—এই কথায় পর রাজা বলিলেন—হে
গৌতম, তোমার পিতামহগণ(পূর্বপুরুষগণ) যেরূপ আমাদের অপরাধ গ্রহণ করিতেন না, তদ্রূপ তুমিও আমাদের অপরাধ গ্রহণ করিও না। এই পঞ্চাগ্নিবিদ্যা ইতঃপূর্ব্বে কোন ব্রাহ্মণেই বাস করে নাই অর্থাৎ কোন ব্রাহ্মণই জানিতেন না; আমি কিন্তু সেই বিদ্যাই তোমাকে প্রদান করিতেছি; আর তুমি যখন এই প্রকারে কাতর- ভাবে কথা বলিতেছ, তখন কোন্ লোকই বা তোমাকে প্রত্যাখ্যান করিতে সমর্থ হয়? অর্থাৎ কেহই তোমাকে প্রত্যাখ্যান করিতে পারে না ॥ ৩৮৬ ॥ ৮ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—এবং গৌতমেনাপদন্তর উক্তে, স হোবাচ রাজা পীড়িতং মত্বা ক্ষাময়ন্—তথা নঃ অস্মান্ প্রতি মা অপরাধাঃ অপরাধং মা কার্ষীঃ, অস্মদীয়োহপরাধো ন গ্রহীতব্য ইত্যর্থঃ। তব চ পিতামহা অস্মৎপিতামহেযু যথা অপরাধং ন জগৃহুঃ, তথা; পিতামহানাং বৃত্তং অস্মাস্বপি ভবতা রক্ষণীয়- মিত্যর্থঃ। যথা ইয়ং বিদ্যা ত্বয়া প্রার্থিতা ইতঃ ত্বৎসংপ্রদানাৎ পূর্ব্বং প্রাক্ ন কস্মিন্নপি ব্রাহ্মণে উবাস উষিতবতী, তথা ত্বমপি জানীষে; সর্ব্বদা ক্ষত্রিয়- পরস্পররেয়ং বিদ্যা আগতা; সা স্থিতিৰ্ম্ময়াপি রক্ষণীয়া—যদি শক্যতে—ইতি উক্তং “দৈবেষু গৌতম তদ্বরেষু, মানুষাণাং ভ্রূহি” ইতি; ন পুনস্তবাদেরো বর ইতি; ইতঃ পরং ন শক্যতে রক্ষিতুম্; তামপি বিদ্যামহং তুভ্যং বক্ষ্যামি। কো হি অন্যোহপি, হি যম্মাদেবং ক্রবন্তং ত্বামর্হতি প্রত্যাখ্যাতুম্—ন বক্ষ্যামীতি; অহং পুনঃ কথং ন বক্ষ্যে তুভ্যমিতি ॥ ৩৮৬॥৮॥
টীকা।—বিদ্যারাহিত্যাপেক্ষয়া নিহীনশিষ্যভাবোপগতিরাপদন্তরম্। তথাশব্দার্থমেব বিশদয়তি—তব চেতি। সন্তু পিতামহা যথা তথা, কিমস্মাকমিত্যাশখ্যাহ—পিতামহানামিতি। কিমিতি তহীয়ং বিদ্যা ঝটিতি মহৎ নোপদিশ্যতে, তত্রাহ—কমিন্নিতি। তর্হি ভবতা সা স্থিতী রক্ষ্যতামহং তু যথাগতং গমিষ্যামীত্যাশধ্যাহ—ইতঃ পরমিতি। তবাহং শিষ্যোহম্মীত্যেবং ক্রবস্তুং মত্তোহন্যোহপি ন বক্ষ্যামীতি যদ্নান্ন প্রত্যাখ্যাতুমর্হতি, তদ্নাদহং পুনস্তুভ্যং কথং ন বক্ষ্যে, কিন্তু বক্ষ্যাম্যের বিদ্যামিত্যুক্তমুপপাদয়তি—কো হীত্যাদিনা॥ ৩৮৬॥৮॥
ভাষ্যানুবাদ।—গৌতম ঋষি এই ভাবে আপদন্তর অর্থাৎ বিদ্যাবিহীন অবস্থায় থাকা অপেক্ষা অপকৃষ্টের শিষ্যত্বগ্রহণও শ্রেষ্ঠ বলিয়া নিবেদন করিলে পর, সেই রাজা গৌতম ঋষিকে কাতর বিবেচনা করিয়া নিজের অপরাধ ক্ষমাপনপূর্ব্বক বলিতে লাগিলেন—আমাদের প্রতি অপরাধ গ্রহণ করিবেন না, অর্থাৎ এ বিষয়ে আপনি আমাদের অপরাধ গ্রহণ করিবেন না। আপনার পিতামহগণ(পিতৃ-
১৪৯৭
পুরুষগণ) যেরূপ আমার পিতামহদিগের অপরাধ গ্রহণ করেন নাই, আপনারও তদ্রূপ পিতামহদিগের আচরিত ব্যবহার আমাদিগের উপর রক্ষা করা উচিত। আপনি এই বিদ্যা যেরূপ ভাবে(শিক্ষার জন্য) প্রার্থনা করিতেছেন, ইতঃপূর্ব্বে— আপনাকে দিবার পূর্ব্বে এই বিদ্যা সেরূপ ভাবে কোন ব্রাহ্মণেই স্থিতিলাভ করে নাই; ইহা আপনিও জানেন। এই বিদ্যা চিরকাল কেবল ক্ষত্রিয়-পরম্পরাক্রমেই চলিয়া আসিতেছে; পারিলে সেই স্থিতি(মর্য্যাদা) আমারও রক্ষা করা উচিত; কিন্তু আপনার প্রথিত বর ত না দিয়া পারা যায় না; সুতরাং ইহার পর আর পূর্ব্বস্থিতি রক্ষা করিতে পারিতেছি না; অতএব সেই সুরক্ষিত বিদ্যাও আপনাকে উপদেশ করিতেছি। যেহেতু আপনার এই প্রকার কাতরোক্তি শ্রবণ করিয়া অন্য কেহও আপনাকে ‘বলিব না’ বলিয়া প্রত্যাখ্যান করিতে পারে না; অতএব আমিই বা আপনাকে কেন বলিব না॥ ৩৮৬॥ ৮ ॥
অসৌ বৈ লোকোহগ্নির্গোতম তস্যাদিত্য এব সমিদ্রশ্ময়ো ধূমোহহরচ্চিদ্দিশোহঙ্গারা অবান্তরদিশো বিস্ফুলিঙ্গাস্তস্মিন্নেত- স্মিন্নগ্নৌ দেবাঃ শ্রদ্ধাং জুহ্বতি, তস্যা আহুত্যৈ সোমো রাজা সম্ভবতি ॥ ৩৮৭ ॥ ৯ ॥
সরলার্থঃ।-[অনন্তরং রাজা প্রশ্নান্তরাণাং বোধসৌকর্য্যায় প্রথমমেব চতুর্থ-প্রশ্নোত্তরমাহ-“অসৌ” ইত্যাদি।]।
হে গৌতম, অসৌ লোকঃ(দ্যুলোকঃ) বৈ(এব) অগ্নিঃ(দ্যুলোকে অগ্নিচিন্তা করণীয়া ইত্যর্থঃ)। তস্য(দ্যুলোকাগ্নেঃ) আদিত্যঃ(সূর্য্যঃ) এব সমিৎ(ইন্ধনম্); রশ্ময়ঃ(কিরণাঃ) ধূমঃ, অহঃ(দিবসঃ) অচ্চিঃ(শিখা), দিশঃ অঙ্গারাঃ, অবান্তরদিশঃ(দিক্কোণাঃ আগ্নেয্যাদয়ঃ) বিস্ফুলিঙ্গাঃ;[রশ্মিপ্রভৃতিষু ধূমাদিদৃষ্টিঃ করণীয়েতি ভাবঃ]।
তস্মিন্(যথোক্তপ্রকারে) এতস্মিন্ অগ্নৌ(অগ্নিত্বেন কল্পিতে দ্যুলোকে) দেবাঃ(ইন্দ্রাদয়ঃ) শ্রদ্ধাং(হবনীয়দ্রব্যস্থানীয়াং) জুহ্বতি(প্রক্ষিপন্তি); তস্যৈ (তস্যাঃ আহুতেঃ) রাজা(পিতৃণাং ব্রাহ্মণানাং চ পোষকঃ) সোমঃ সম্ভবতি. (জায়তে) ইত্যর্থঃ ॥ ৩৮৭ ॥ ৯ ॥
মূলানুবাদ।—[ অতঃপর, রাজা পরবর্তী প্রশ্নগুলির উত্তর প্রদানের সাহায্য হইবে মনে করিয়া প্রথমেই চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর; দিতেছেন—]
হে গৌতম, এই দ্যুলোক একটা অগ্নি; আদিত্য তাঁহার কাষ্ঠ, রশ্মিসমূহ তাঁহার ধূম, দিবস তাঁহার অর্চ্চিঃ—শিখা, দিক্সমূহ তাঁহার অঙ্গাররাশি, এবং অবান্তর দিক্সমূহ(অগ্নিকোণ প্রভৃতি) তাঁহার স্ফুলিঙ্গ। যথোক্ত গুণসম্পন্ন এই অগ্নিতে ইন্দ্রাদি দেবগণ শ্রদ্ধাকে আহুতিরূপে অর্পণ করিয়া থাকেন; সেই আহুতি হইতে পিতৃগণ ও ব্রাহ্মণগণের পোষক সোমরাজ সম্ভূত হন ॥ ৩৮৭ ॥ ৯ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—‘অসৌ বৈ লোকোহগ্নিগোতম’ ইত্যাদিচতুর্থঃ প্রশ্নঃ প্রাথম্যেন নির্ণীয়তে; ক্রমভঙ্গস্তু এতন্নির্ণয়ায়ত্তত্বাদিতরপ্রশ্ননির্ণয়স্য।
অসৌ দ্যৌলোকঃ অগ্নিঃ, হে গৌতম; দ্যুলোকেহগ্নিদৃষ্টিঃ অনগ্নৌ বিধীয়তে, যথা যোষিৎপুরুষয়োঃ; তস্য দ্যুলোকাগ্নেঃ আদিত্য এব সমিৎ, সমিন্ধনাৎ; আদিত্যেন হি সমিধ্যতে অসৌ লোকঃ। রশ্ময়ো ধূমঃ, সমিধ উত্থানসামান্যাৎ; আদিত্যাদ্ধি রশ্ময়ো নির্গতাঃ, সমিধশ্চ ধূমো লোকে উত্তিষ্ঠতি। অহঃ অর্চ্চিঃ, প্রকাশ-সামান্যাৎ; দিশঃ অঙ্গারাঃ, উপশমসামান্যাৎ; অবান্তরদিশঃ বিস্ফুলিঙ্গাঃ, বিস্ফুলিঙ্গবদ্বিক্ষেপাৎ; তস্মিন্ এতস্মিন্ এবংগুণবিশিষ্টে দ্যুলোকাগ্নৌ, দেবা ইন্দ্রাদয়ঃ, শ্রদ্ধাৎ জুহ্বতি আহুতিদ্রব্যস্থানীয়াং প্রক্ষিপন্তি। তস্যাঃ আহুত্যৈ আহুতেঃ সোমো রাজা পিতৃণাং ব্রাহ্মণানাঞ্চ সম্ভবতি। ১
টীকা।—অসাবিত্যাদিনা যতিথ্যামিত্যাদিচতুর্থপ্রশ্নস্য প্রাথমিকেন নির্ণয়ে ক্রমভঙ্গঃ স্যাৎ, তত্র চ কারণং বাচামিত্যাশঙ্ক্যাহ—ক্রমভঙ্গস্থিতি। মনুষ্যজন্মস্থিতিলয়ানাং চতুর্থপ্রশ্ননির্ণয়াধীনতয়া তস্য প্রাধান্যাৎ, প্রাধান্যে সত্যর্থক্রমমাশ্রিত্যাবিবক্ষিতস্য পাঠক্রমস্য ভঙ্গ ইত্যর্থঃ। ১
তত্র কে দেবাঃ, কথং জুহ্বতি, কিং বা শ্রদ্ধাখ্যং হবিরিত্যত উক্তমস্মাভিঃ সম্বন্ধে; “ন ত্বৈবৈনয়োস্তমুংক্রান্তিম্” ইত্যাদিপদার্থষট্কনির্ণয়ার্থম্ অগ্নিহোত্রে উক্তম্; “তে বা এতে অগ্নিহোত্রাহুতী হুতে সত্যৌ উৎক্রামতঃ”, “তেহন্তরিক্ষমাবিশতঃ”, “তেহন্তরিক্ষমাহবনীয়ং কুর্ব্বাতে, বায়ুং সমিধম্, মরীচীরের শুক্রামাহুতিম্”, “তেহন্তরিক্ষং তর্পয়তঃ”, “তে তত উৎক্রামতঃ”, “তে দিবমাবিশতঃ”, “তে দিবমাহবনীয়ং কুর্ব্বাতে, আদিত্যং সমিধম্” ইত্যেবমাদ্যুক্তম্। ২
ইন্দ্রাদীনাং কৰ্ম্মানধিকারিত্বাদ্যুলোকস্য চাহবনীয়ত্বাপ্রসিদ্ধ্যা হোমাধারত্বাযোগাৎ প্রত্যয়স্য চ শ্রদ্ধায়া হোমত্বানুপপত্তেস্তস্মিন্নিত্যাদি বাক্যমযুক্তমিতি শঙ্কতে-তত্রেতি। হোমকৰ্ম্ম সপ্তম্যর্থঃ। অস্য ব্রাহ্মণস্য সংবন্ধগ্রন্থে সমাধানমস্য চোদ্যস্যাস্মাভিরুক্তমিত্যাহ-অত ইতি। তদেব দর্শয়িতুমগ্নি- হোত্রপ্রকরণে বৃত্তং স্মারয়তি-নত্বিতি। কিং তদুক্তমিতি চেত্তদাহ-তে বা ইতি। আহুত্যোঃ স্বতন্ত্রয়োরুৎক্রান্ত্যাদি কথমিত্যাশঙ্ক্যাহ-তত্রেতি ॥ ২
১৪৯৯
তত্রাগ্নিহোত্রাহুতী সসাধনে এবোৎক্রামতঃ। যথেহ যৈঃ সাধনৈবিশিষ্টে যে জ্ঞায়েতে আহবনীয়াগ্নিসমিদ্ধ মাঙ্গারবিস্ফুলিঙ্গাহুতিদ্রব্যৈঃ, তে তথৈবোৎক্রামতঃ অস্মাল্লোকাদমুং লোকম্। তত্রাগ্নিঃ অগ্নিত্বেন, সমিৎ সমিত্ত্বেন, ধূমোধুমত্বেন, অঙ্গারা অঙ্গারত্বেন, বিস্ফুলিঙ্গা বিস্ফুলিঙ্গত্বেন, আহুতিদ্রব্যমপি পর আদি আহুতিদ্রব্যত্বেনৈব সর্গাদাবব্যাকৃতাবস্থায়ামপি পরেণ সূক্ষ্মেণাত্মনা ব্যবতিষ্ঠতে। তদ্বিদ্যমানমেব সসাধনম্ অগ্নিহোত্রলক্ষণং কৰ্ম্ম অপূর্ব্বেণাত্মনা ব্যবস্থিতং সৎ, তৎ পুনর্ব্যাকরণকালে তথৈব অন্তরিক্ষাদীনাম্ আহবনীয়াদগ্ন্যাদি ভাবং কুর্ব্বদ্বিপরিণমতে; তথৈব ইদানীমপি অগ্নিহোত্রাখ্যং কৰ্ম্ম। ৩
যজমানস্য মৃতিকালঃ সপ্তমার্থঃ। সসাধনারোবে তত্রোকৎক্রান্তিঃ। হতাবয়োরেবেতোতদুপ- পায়তি—তথেত্যাদিনা। ইহেতি জীবদস্তোচতে। নষ্টানামগ্ন্যাদীনাধব্যা তভাবান্নহেনা- বিশেষপ্রসঙ্গ’র তৈঃ সহায়তোৎফান্ত্যাদিসিনিবিত্যাশ ীহ—তত্রাগ্নিয়িতি! নাশাদূর্দ্ধমপি প্রতিবিবশক্তিরূপেণান্যাদিরবতিষ্ঠতে, তথা চারিংশপ্রনঙ্গাভাবাদাহত্যোঃ সনাধনয়োরেবোৎ- ক্রান্ত্যাদিসিনিবিতার্থঃ। যথোক্তয়োরাহতেসকর, স্থাদিসমর্থনেনারিহোত্রাচপুলন্ত জঘদারজকত্ব- মুক্ত’ ভবতীত্যহ—তদ্বিমমানমিতি। বিশ্বমানমো বিশংতি—অপুলেণেতি। অথ যথোদিতয়া বিংশা কণমণি পূৰ্বব নীচং ক, প্রলয়দশাদমনাবতায়না স্থিত’ পুনর্জ্জিতাবহত, তথাহপীদা- নীওনমরিহাক্কং কমু নথ্য ওনাহুক’ ভবীতাত্যাশনায়—তথেয়েতি। বিমতমাবস্তুকা তত্ত্বক্তিমদ্বাৎ সংপ্রতিএবিতি ভাবঃ॥ ৩
এবমগ্নিহোত্রাহত্যপূর্ব্ববিপরিণামাত্মনঃ জগৎ সকানিত্যাভত্যোয়েব স্তুত্যর্থত্বেন উৎক্রান্ত্যান্যা লোকং প্রত্যখায়িতান্তাঃ যট্ পদার্থাঃ কর্ম্মপ্রকরণে অসন্তান্নির্ণীতাঃ। ইত তু কর্ত্তুঃ কর্ম্মবিপাকবিরক্ষায়াং দ্যুলোকাগ্ন্যাদ্বত্য পঞ্চাগ্নিদর্শনমুত্তরমার্গ- প্রতিপত্তিসাধনং বিশিষ্টকর্ম্মফলোপভোগায় বিধিৎসিতম্-ইতি দ্যুলোকাগ্ন্যাদিদর্শনং প্রস্তুয়তে। তত্র যে আধ্যাত্মিকাঃ প্রাণা ইহাগ্নিহোত্রস্য হোতারঃ, তে এবাধি- দৈবিকত্বেন পরিণতাঃ সন্ত ইন্দ্রাদয়ো ভবন্তি; তে এব তত্র হোতারো দ্যুলোকাগ্নৌ; তে চেহ অগ্নিহোত্রস্য ফলভোগায় অগ্নিহোত্রং হুতবন্তঃ; তে এব ফলপরিণামকালেহপি তৎফলভোক্তৃত্বাৎ তত্র তত্র হোতৃত্বং প্রতিপদ্যন্তে, তথা তথা বিপরিণমমানা দেবশব্দবাচ্যাঃ সন্তঃ। ৪
অগ্নিহোত্রপ্রকরণস্যার্থং সংগৃহীতমুপসংহরতি-এবমিতি। উত্তমুপজীব্য প্রকৃতব্রাহ্মণপ্রবৃত্তি- প্রকারং দর্শয়তি-ইহ ত্বিতি। উত্তরমার্গপ্রতিপত্তিসাধনং বিধিৎসিতমিতি সংবন্ধঃ। কিমিত্যুত্তর- মার্গপ্রতিপত্তিস্তত্রাহ-বিশিষ্টেতি। ব্রাহ্মণপ্রবৃত্তিমভিধায়াসৌ বৈ লোকোহগ্নিরিত্যাদিবাক্য- প্রবৃত্তিপ্রকারমাহ-ইতি দ্যুলোকেতি। ইথং ব্রাহ্মণে স্থিতে সতীত্যেতৎ। ভবত্বেবং, তথাপি কে দেবা ইতি প্রশ্নস্য কিমুত্তরং, তত্রাহ-তন্ত্রেতি। উক্তনীত্যা পঞ্চাগ্নিদর্শনে প্রস্তুতে সতীত্যেতৎ।
ইহেতি ব্যবহারভূমিগ্রহঃ। কথং তেষাং তত্র হোতৃত্বং, তদাহ-তে চেতি। তথাপি কথং দ্যুলোকেহগ্নৌ তেষাং হোতৃত্বং, তদাহ-ত এবেতি। তৎফলভোক্তৃত্বাদিত্যত্র তচ্ছব্দোহগ্নিহোত্রাদি- কৰ্ম্মবিষয়ঃ, তন্ত্বোক্তৃত্বং চ প্রাণানাং জীবোপাধিত্বাদবধেয়ম্।’ তথা তথা দ্যুপর্জ ন্যাদিসংবন্ধযোগ্যা- কারেণেতি যাবৎ। ৪
অত্র চ যৎ পয়োদব্যমগ্নিহোত্রকর্মাশ্রয়ভূতম্ ইহ আহবনীয়ে প্রক্ষিপ্তম্ অগ্নিনা ভক্ষিতম্ অদৃষ্টেন সুক্ষ্মেণ রূপেণ বিপরিণতং সহ কর্ত্রা যজমানেন ইমং লোকং ধূমাদিক্রমেণান্তরিক্ষম্, অন্তরিক্ষাদ্ দ্যুলোকমাবিশতি; তাঃ সূক্ষ্মা আপ আহুতিকার্য্যভূতা অগ্নিহোত্র-সমবায়িন্যঃ কর্তৃসহিতাঃ শ্রদ্ধাশব্দবাচ্যাঃ সোম- লোকে কর্তৃঃ শরীরান্তরারম্ভায় দ্যুলোকং প্রবিশন্ত্যঃ ‘হূয়ন্তে’ ইত্যুচ্যন্তে। তাঃ তত্র দ্যুলোকং প্রবিশ্য সোমমণ্ডলে কর্তৃঃ শরীরমারভন্তে। তদেতদুচ্যতে-‘দেবাঃ শ্রদ্ধাং জুহ্বতি, তস্যা আহুত্যৈ সোমো রাজা সম্ভবতি’ ইতি, “শ্রদ্ধা বা আপঃ” ইতি শ্রুতেঃ। ৫
কে দেবা ইতি প্রশ্নো নির্ণীতঃ, সম্প্রত্যবশিষ্টং প্রশ্নদ্বয়ং নির্ণেতুমাহ—অত্র চেতি। জীবদবস্থায়া- মিতি যাবৎ। সহ কর্ত্রে ত্যত্র তচ্ছব্দো দ্রষ্টব্যঃ। অমুং লোকমাবিশতীতি সংবন্ধঃ। আবেশ- প্রকারমাহ—ধূমাদীতি। কথমেতাবতা কিং পুনঃ শ্রদ্ধাখ্যং হবিরিতি প্রশ্নো নির্ণীততত্রাহ—তাঃ সূক্ষ্মা ইতি। তথাপি জুহ্বতীতি প্রশ্নস্য কথং নির্ণয়স্তত্রাহ—সোমলোক ইতি। তথাপি তস্যা আহতেঃ সোমো রাজা সংভবতীতি কথনুচ্যতে, তত্রাহ—তাস্তত্রেতি। নির্ণীতেহর্থে শ্রুতিমব- তারয়তি—তদেতদিতি। কথং পুনরাপঃ শ্রদ্ধাশব্দবাচ্যাঃ, ন হি লোকে শ্রদ্ধাশব্দং তাসু প্রযুঞ্জতে, তত্রাহ—শ্রদ্ধেতি॥ ৫
‘বেথ যতিথ্যামাহুত্যাং হুতায়ামাপঃ পুরুষবাচো ভূত্বা সমুত্থার বদন্তি’ ইতি প্রশ্নঃ। তস্য চ নির্ণয়বিষয়ে ‘অসৌ বৈ লোকোহগ্নিঃ’ ইতি প্রস্তুতম্। তস্মাদাপঃ কৰ্ম্ম- সমবায়িন্যঃ কর্তৃঃ শরীরারম্ভিকাঃ শ্রদ্ধাশব্দবাচ্যা ইতি নিশ্চীয়তে। ভূয়স্বাদাপঃ পুরুষবাচ ইতি ব্যপদেশঃ, ন দ্বিতরাণি ভূতানি ন সন্তীতি। ‘কৰ্ম্মপ্রযুক্তশ্চ শরীরা- রম্ভঃ; কৰ্ম্ম চ অপ্সমবায়ি; ততশ্চাপাং প্রাধান্যং শরীরকর্তৃত্বে; তেন চ আপঃ পুরুষবাচঃ’ ইতি ব্যপদেশঃ; কৰ্ম্মকৃতো হি জন্মায়ন্তঃ সর্ব্বত্র। তত্র যদ্যপি অগ্নিহোত্রাহুতিস্তুতিদ্বারেণ উৎক্রান্ত্যাদয়ঃ প্রস্ততাঃ ষট্পদার্থা অগ্নিহোত্রে, তথাপি বৈদিকানি সর্ব্বাণ্যেব কর্মাণি অগ্নিহোত্রপ্রভৃতীনি লক্ষ্যন্তে; দ্বারাগ্নিসম্বদ্ধং হি পাঙক্তং কৰ্ম্ম প্রস্তুত্যোক্তম্-“কর্মণা পিতৃলোকঃ” ইতি; বক্ষ্যতি চ “অথ যে যজ্ঞেন দানেন তপসা লোকান্ জয়ন্তি” ইতি ॥ ৩৮৭ ॥ ৯॥
উপক্রমবশাদপ্যাপোহত্র শ্রদ্ধাশব্দবাচ্যা ইত্যাহ-বেখেতি। অপামের পুরুষশব্দবাচ্যানাং শরীরারম্ভকত্বান্ন ভূতান্তরাণামিতি কৃত্বা তস্য পঞ্চভূতারন্ধত্বাভ্যুপগমভঙ্গঃ স্যাদিতি চেয়েত্যাহ-
১৫০১
ভূয়স্তাদিতি। অপাং পুরুষশব্দবাচ্যত্বে হেত্বন্তরমাহ-কর্মেতি। অথাকৰ্ম্মপ্রযুক্তমপি প্রকৃষ্টং জন্মান্তি, তৎকথমপাং সর্বত্র পুরুষশব্দবাচ্যত্বং, তত্রাহ-কর্মকৃতো হীতি। অন্যথা তত্র তত্র সুখদুঃখপ্রভেদোপভোগাসংভবাদিতি ভাবঃ। যদি কর্মাপূর্ব্বশব্দবাচ্যং ভূতসূক্ষ্মং সর্ব্বত্র শরীরারম্ভকং; কথং তর্হি পূর্ব্বমগ্নিহোত্রাহত্যোর্নেব ব্যক্তজগদারম্ভকত্বমুক্তং, তত্রাহ- তত্রেতি। লক্ষ্যন্তেহগ্নিহোত্রাহুত্যেতি শেষঃ। লক্ষণায়াং পূর্ব্বোত্তরবাক্যয়োর্গমকত্বমাহ- দারান্নীতি। ৩৮৭। ৯।
ভাষ্যানুবাদ।—এখন ‘অসৌ বৈ লোকঃ অগ্নিঃ গৌতম’ ইত্যাদি চতুর্থ প্রশ্নটীর উত্তর প্রথমে অবধারিত বা প্রদত্ত হইতেছে। এই চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর নির্ণীত হইলেই অপর প্রশ্নগুলির উত্তর প্রদান করা সহজ হইবে; এই উদ্দেশ্যে এখানে প্রশ্নের পৌর্ব্বাপর্য্যক্রম লঙ্ঘন করা হইয়াছে।
হে গৌতম, এই দ্যুলোক একটা অগ্নি; প্রকৃতপক্ষে দ্যুলোক অগ্নি না হইলেও, তাহাতে অগ্নি-দৃষ্টি বিহিত হইতেছে, অর্থাৎ অনগ্নি দ্যুলোককে অগ্নিরূপে চিন্তা করিবার বিধান করা হইতেছে, যেমন যোষিৎ ও পুরুষে অগ্নিদৃষ্টির বিধান আছে। সেই দ্যুলোকরূপ অগ্নির উদ্দীপক বলিয়া আদিত্য তাহার সমিধ(কাষ্ঠ); কেন না, সূর্য্য দ্বারাই এই দ্যুলোক উদ্দীপিত হইয়া থাকে; রশ্মিসমূহ তাহার ধূম; কারণ, সমিধ হইতে উত্থান বা আবির্ভাব উভয়েরই সমান; আদিত্য হইতে রশ্মি নির্গত হয়, আর সমিধ হইতেও ধূম উদগত হয়। দিবস তাহার অচ্চিঃ বা শিখা; কেননা, উভয়েরই প্রকাশ গুণ তুল্য। দিক্সমূহ তাহার অঙ্গার; কারণ, অঙ্গারে যেমন অগ্নির উপশম বা জ্বালা-নিবৃত্তি হয়, তেমনি দিকেতেও সৌরালোকের পরিসমাপ্তি হইয়া থাকে। অবান্তর দিক্সমূহ (অগ্নিকোণ প্রভৃতি) তাহার স্ফুলিঙ্গস্থানীয়; কেন না, অবান্তর দিকগুলি অগ্নি- স্ফুলিঙ্গেরই মত ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত। ইন্দ্রাদি দেবগণ এতাদৃশ গুণসম্পন্ন এই দ্যুলোকাগ্নিতে শ্রদ্ধাকে আহুতিরূপে প্রদান করেন, অর্থাৎ শ্রদ্ধাকেই আহুতি- স্থলবর্তী করিয়া অর্পণ করেন। সেই আহুতি হইতে পিতৃগণ ও ব্রাহ্মণগণের রাজা সোম(চন্দ্র ও সোমরস) সমুদ্ভূত হয়। ১
এই হোমের দেবতা কাহারা, কিরূপেই বা তাঁহারা হোম করেন, এবং হবনীয় দ্রব্যই বা কি? এইরূপ প্রশ্ন হইতে পারে; সেইজন্য আমরা সম্বন্ধগ্রন্থে অর্থাৎ এই ব্রাহ্মণভাগ-আরম্ভের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণপ্রসঙ্গে সে-কথা বলিয়াছি; —অতীত অগ্নিহোত্রপ্রকরণে “নতু এব এনয়োঃ” ইত্যাদি বাক্যোক্ত ষড়বিধ পদার্থতত্ত্ব নির্ণয়প্রসঙ্গে তাহা প্রদর্শিত হইয়াছে।[ সেখানে যে সমুদয় কথা
উক্ত হইয়াছে, তাহাই এখানে প্রদর্শন করিতেছেন—] ‘অগ্নিহোত্র যাগের সেই দুইটা আহুতি উৎক্রমণ(ঊর্দ্ধগমন) করে’; ‘সেই আহুতিদ্বয় অন্তরিক্ষে প্রবেশ করে’, ‘তাহারা অন্তরিক্ষকে আহবনীয়(হোমাধার), বায়ুকে সমিধ্, এবং কিরণসমূহকে শুক্র(শুভ্র) আহুতিস্থানীয় করিয়া থাকে; অনন্তর সেই আহুতিদ্বয় অন্তরিক্ষকে তর্পিত করে’; ‘তাহারা সেখান হইতেও উৎক্রমণ করে’, ‘তাহারা দ্যুলোকে প্রবেশ করে’, ‘তাহারা দ্যুলোককে আবার আহবনীয় এবং আদিত্যকে সমিধ্ করিয়া পাকে’, সেখানে এই প্রকার কথা বলা হইয়াছে। ২
যথার্থ অগ্নিহোত্রযাগের আহুতি দুইটী স্বীয় সাধন বা উপকরণ স্বরূপ দ্রব্যসমূহ লইয়াই উৎক্রমণ করিয়া থাকে। উক্ত আহুতিদ্বয় ইহলোকে যেরূপ আহবনীয়, অগ্নি, সমিধ, ধূম, অঙ্গার, বিস্ফুলিঙ্গ ও আহুতিযোগ্য দ্রব্যপ্রভৃতি যে সমুদয় সাধন- সমন্বিতরূপে পরিদৃষ্ট হয়, সেই আহুতিদ্বয় ঠিক সেইরূপেই অর্থাৎ সেই সমুদয় সাধনসহযোগেই ইহলোক হইতে পরলোকে উৎক্রমণ করিয়া থাকে। সেখানে অগ্নি অগ্নিরূপে, সমিধ, সমিধরূপে, ধূম ধূমরূপে, অঙ্গার অঙ্গাররূপে, বিস্ফুলিঙ্গগুলিও বিস্ফুলিঙ্গরূপে এবং আহুতির দ্রব্য জলপ্রভৃতিও আহুতিদ্রব্যরূপেই—সৃষ্টির আদিতে অনভিব্যক্ত অবস্থার অতিশয় সূক্ষ্মরূপে অবস্থান করিতে থাকে; এবং স্বরূপতঃ বিদ্যমান সেই সসাধন অগ্নিহোত্র কর্মই অপূর্ব্ব বা অদৃষ্টাকারে অবস্থান করত সৃষ্টিসময়ে পুনরায় উক্ত অন্তরিক্ষপ্রভৃতি বস্তুনিচয়কে আহবনীয় ও অগ্নিপ্রভৃতির আকার গ্রহণ করিয়া তত্তৎরূপে পরিণত হইয়া থাকে। এই অগ্নিহোত্রনামক কর্ম এখনও পূর্ব্বেরই মত ফলরূপে পরিণত হইয়া থাকে। ৩
অগ্নিহোত্রযাগীয় আহুতিদ্বয়ের প্রশংসার্থই পূর্ব্বে কর্ম্মপ্রকরণে সমস্ত জগৎকে অগ্নিহোত্রীয় আহুতির বিচিত্র পরিণামাত্মক বলা হইয়াছে, এবং উৎক্রমণ হইতে আরম্ভ করিয়া পুনর্ব্বার প্রাদুর্ভাব পর্য্যন্ত ছয়টী অবস্থা যথাযথভাবে নিরূপিত হইয়াছে। এখন এখানে, কর্তার অনুষ্ঠিত কর্ম্মের কিরূপে পরিণতি হয়, তাহা প্রদর্শন করিবার অভিপ্রায়ে, বিশিষ্ট কর্মফল উপভোগের উপযোগী উত্তরায়ণমার্গ- প্রাপ্তির উপায়ভূত দ্যুলোকাগ্নি হইতে আরম্ভ করিয়া পঞ্চাগ্নি-দর্শনের বিধানপর্যন্ত সমস্তই নিরূপণ করিতে হইবে; এইজন্য দ্যুলোকপ্রভৃতিতে অগ্ন্যাদিদৃষ্টি বর্ণিত হইতেছে। ঐহিক অগ্নিহোত্রযাগে, আধ্যাত্মিক যে সমুদয় প্রাণ বা ইন্দ্রাদি দেবতাবর্গ অগ্নিহোত্রযাগের হোতা, তাঁহারাই আধিদৈবিকভাবে পরিণত হইয়া ইন্দ্রাদি দেবভাব প্রাপ্ত হইয়া থাকেন। তাঁহারাই সেই দ্যুলোকাগ্নিতে হোতা এবং তাঁহারাই অগ্নিহোত্রযাগীয় ফলোপভোগের নিমিত্ত অগ্নিহোত্রীয় আহুতি
১৫০৩
প্রদান করিয়া থাকেন; কর্মফলের বিপাককালেও, সেই ফলের ভোক্তৃত্ব নিবন্ধন তাঁহারাই বিশেষ বিশেষ দেবতার আকারে পরিণত হইয়া, সেই সেই স্থলে অর্থাৎ যেখানে যেখানে আবশ্যক হয়, সেই সকল স্থলে হোতৃত্ব প্রাপ্ত হইয়া থাকেন। ৪
ইহলোকে অগ্নিহোত্র কর্ম্মের আশ্রয় বা সাধনভূত যে জলীয় দ্রব্য, তাহাই আহবনীয়ে(হোমপাত্রে) অর্পিত ও অগ্নিকর্তৃক ভক্ষিত হইবার পর, কর্মকর্তা যজমানের সহিত সূক্ষ্ম অদৃষ্টাকারে পরিণত হইয়া ঊর্দ্ধলোকে ধূমাদিক্রমে—প্রথমে অন্তরিক্ষে, অন্তরিক্ষ হইতে দ্যুলোকে প্রবেশ করিয়া থাকে। অগ্নিহোত্রযাগীর আহুতির কর্ম্মস্বরূপ এবং অগ্নিহোত্রযাগসম্বন্ধী ও কর্তৃসহযোগী শ্রদ্ধাশব্দবাচ্য সেই সমুদয় সূক্ষ্ম জলীয় দ্রব্য সোমলোকে(চন্দ্রমণ্ডলে) কর্মকর্তার শরীর সমুৎপাদনের নিমিত্ত দ্যুলোকে প্রবেশ করে; এই জন্যই ‘আহুত হয়’ বলিয়া কথিত হইয়া থাকে। সেই সমুদয় জলীয় দ্রব্যই সোমমণ্ডলে প্রবেশপূর্ব্বক যজমানের ভবিষ্যৎ শরীরাকারে পরিণত হয়। সেই এই রহস্যই— “দেবাঃ শ্রদ্ধাং জুহ্বতি, তস্যা আহুত্যৈ সোমো রাজা সম্ভবতি” ইত্যাদি বাক্যে কথিত হইতেছে; কেন না, অন্য শ্রুতিতে কথিত আছে যে, ‘শ্রদ্ধাই অপ্’ ইত্যাদি। ৫
পূর্ব্বে প্রশ্ন হইয়াছিল যে, ‘তুমি জান কি, অপ্সমূহ, যে আহুতিতে আহুত হইয়া পুরুষপদবাচ্য হইয়া সমুদ্ভূত হইয়া কথা বলিয়া থাকে?’ সেই প্রশ্নের উত্তর-প্রদান প্রসঙ্গে এখানে ‘অসৌ বৈ লোকোহগ্নিঃ’, এই বাক্য আরব্ধ হইয়াছে; অতএব যজমানের শরীরারম্ভক কৰ্ম্মসম্বন্ধী অপই যে, এখানে ‘শ্রদ্ধা’ শব্দের অর্থ, ইহা অবধারিত হইতেছে। শরীরারম্ভক উপাদান- দ্রব্যে জলীয় ভাগ অধিক থাকায় ‘আপঃ পুরুষবাচঃ’(জলসমূহ পুরুষপদবাচ্য), এই কথা বলা হইয়াছে, কিন্তু অপরাপর ভূতও যে, তাহাতে আদৌ নাই, তাহা নহে। কর্তার শরীরারম্ভের প্রযোজক হইতেছে-প্রাক্তন কৰ্ম্ম; সেই কৰ্ম্ম আবার জলীয় দ্রব্যের সহিত সম্বন্ধযুক্ত; সেই কারণেই শরীরারম্ভে জলীয় দ্রব্যের প্রাধান্য; সেই জন্যই ‘জলই পুরুষপদবাচ্য হয়’ বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে! কর্মকর্তার শরীর সর্ব্বত্রই স্বীয়কর্ম দ্বারা সম্পাদিত হইয়া থাকে। যদিও অগ্নিহোত্র- যাগের আহুতি-প্রশংসার্থ উৎক্রমণাদি ছয়টা বিষয় অগ্নিহোত্রপ্রকরণে বর্ণিত হইয়াছে সত্য, তথাপি উহা দ্বারা অগ্নিহোত্রপ্রভৃতি সমস্ত বৈদিক(বেদবিহিত) কৰ্ম্মই এখানে লক্ষিত হইতেছে; কারণ, পত্নী ও. অগ্নি-সম্বদ্ধ অর্থাৎ পত্নী ও অগ্নি-
সাপেক্ষ পাঙক্ত কর্ম্মের প্রসঙ্গে উক্ত হইয়াছে যে, ‘কর্মদ্বারা পিতৃলোক লাভ হয়’; এবং পরেও বলিবেন, ‘পক্ষান্তরে, যাহারা যজ্ঞ, দান ও তপস্যা দ্বারা স্বর্গাদি লোকসমূহ জয় করেন’ ইত্যাদি ॥ ৩৮৭ ॥ ৯ ॥
পর্জন্যো বা অগ্নিগৌতম, তস্য সংবৎসর এব সমিদভ্রাণি ধূমো বিদ্যুদর্চিরশনিরঙ্গারা হ্রাদুনয়ো বিস্ফুলিঙ্গাস্তস্মিন্নেতস্মিন্নগ্নৌ দেবাঃ সোমং রাজানং জুহ্বতি, তস্যা আহুত্যৈ বৃষ্টিঃ সম্ভবতি ॥ ৩৮৮ ॥ ১০ ॥
সরলার্থঃ।—[ইদানীং দ্বিতীয়প্রশ্নোত্তরমুচ্যতে—‘পর্জন্যো বৈ’ ইত্যাদিনা]। হে গৌতম, পর্জন্যঃ(বৃষ্ট্যুপকরণদ্রব্যাভিমানিনী দেবতা) বৈ অগ্নিঃ(দ্বিতীয়ঃ হোমাধারঃ), তস্য(পর্জন্যাগ্নেঃ) সংবৎসর এব সমিধ(ইন্ধনস্থানীয়ঃ), অভ্রাণি (জলভৃতঃ মেঘাঃ) ধূমঃ; বিদ্যুৎ অর্চ্চিঃ; অশনিঃ(বজ্রৎ) অঙ্গারাঃ; হ্রাহনয়ঃ(অশনি- শব্দাঃ) বিস্ফুলিঙ্গাঃ। তস্মিন্ এতস্মিন্ অগ্নৌ(পর্জন্যে) দেবাঃ(ইন্দ্রাদয়ঃ.) সোমং রাজানং জুহ্বতি। তস্যাঃ আহুত্যৈ(আহুতেঃ) বৃষ্টিঃ সম্ভবতি ॥ ৩৮৮ ॥ ১০ ॥
মূলানুবাদ।—(এখন দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর প্রদত্ত হইতেছে—) হে গৌতম, পর্জন্য অর্থাৎ বৃষ্টির উপকরণভূত-দ্রব্যাভি- মানিনী দেবতা হইতেছেন—অগ্নি; সংবৎসর তাহার সমিধ বা কাষ্ঠস্থানীয়, অভ্রসমূহ(যে মেঘে বর্ষণোপযোগী জল সঞ্চিত থাকে, তাহাকে অভ্র বলে, তাহা), ধূম, বিদ্যুৎ তাহার অর্চ্চিঃ, বজ্র তাহার অঙ্গাররাশি, বজ্রধ্বনি তাহার স্ফুলিঙ্গসমূহ। সেই এই পর্জন্যরূপ অগ্নিতে দেবগণ সোম-রাজাকে আহুতি প্রদান করেন; সেই আহুতি হইতে বৃষ্টি প্রাদুর্ভূত হয়॥ ৩৮৮॥ ১০॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—পর্জন্যো বা অগ্নিগৌতম, দ্বিতীয় আহুত্যাধারঃ আহুত্যোরাবৃত্তিক্রমেণ। পর্জন্যো নাম বৃষ্ট্যুপকরণাভিমানী দেবতাত্মা; তস্য সংবৎসর এব সমিৎ; সংবৎসরেণ হি শরদাদিভিগ্রীষ্মান্তৈঃ স্বাবয়বৈর্ব্বিপরিবর্ত্ত- মানেন পর্জন্যোহগ্নিদীপ্যতে। অভ্রাণি ধূমঃ, ধূমপ্রভবত্বাৎ ধূমবদুপলক্ষ্যত্বাদ্বা। বিদ্যুদর্চ্চিঃ, প্রকাশসামান্যাৎ। অশনিঃ অঙ্গারাঃ, উপশান্তকাঠিন্যসামান্যাভ্যাম্। হ্রাদনয়ঃ হ্লাদনয়ঃ স্তনয়িত্বশব্দাঃ বিস্ফুলিঙ্গাঃ, বিক্ষেপানেকত্বসামান্যাৎ। ‘তস্মিন্নেতস্মিন্’—ইত্যাহুত্যধিকরণনির্দেশঃ। দেবা ইতি, তে এব হোতারঃ
সোমৎ রাজানং জুব্বতি; যোহসৌ দ্যুলোকাগ্নৌ শ্রদ্ধায়াং হুতায়ামভিনির্বৃত্তঃ সোমঃ, স দ্বিতীয়ে পর্জন্যাগ্নৌ হয়তে; তস্যাশ্চ সোমাহুতের ষ্টিঃ সম্ভবতি ॥ ৩৮৮ ॥ ১০ ॥
টীকা।—আদ্যমাহুত্যাধারমেবং নিরূপ্যাহুত্যাধারান্তরাণি ক্রমেণ নিরূপয়তি—পর্জন্যো বা- অগ্নিরিত্যাদিনা। কুতোহস্য দ্বিতীয়ত্বমিতি শঙ্কিত্বোক্তম্—আহুত্যোরিতি। অস্তি খল্বভ্রাণাং, ধূমপ্রভবত্বে গাথা—“ধূমজ্যোতিঃসলিলমরুতাং সংনিপাতঃ ক মেঘঃ” ইতি। ৩৮৮। ১০।
ভাষ্যানুবাদ।—হে গৌতম, পর্জন্য আর একটা অগ্নি; অর্থাৎ আহুতিদ্বয়ের প্রত্যাবৃত্তিসময়ে(ফিরিয়া আসিবার কালে) পর্জন্য(মেঘ) হয় দ্বিতীয় আহুতির আধার। এখানে পর্জন্য অর্থ—বৃষ্টির উপকরণ-দ্রব্যা- ভিমানী দেবতাবিশেষ। সংবৎসর তাহার সমিধ; কেন না, সংবৎসরই শরৎ হইতে গ্রীষ্মঋতু পর্য্যন্ত স্বীয় অবয়বসমূহ দ্বারা পর্জন্যকে উদ্দীপিত করিয়া থাকে; অভ্রসমূহ তাহার ধূম; কেন না, অভ্র সাধারণতঃ ধূম হইতে সমুৎপন্ন হয়; এইজন্য, অথবা ধুমের ন্যায় দৃষ্ট হয় বলিয়া ধূমস্থানীয়; বিদ্যুৎ তাহার অচ্চিঃ(শিখা); কারণ, প্রকাশরূপ ধর্ম উভয়েরই সমান। অশনি(বজ্র) তাহার অঙ্গারসমূহ; কেন না, উপশম ও কাঠিন্যরূপ ধর্মদ্বয় উভয়েতেই তুল্য। হ্রাদুনি—মেঘধ্বনিসমূহ তাহার বিস্ফুলিঙ্গরাশি; চতুদ্দিকে প্রসরণ ও অনেকত্ব ধর্ম উভয়েরই সমান। শ্রুতির ‘তস্মিন্’ ও ‘এতস্মিন্’ পদে আহুতির অধিকরণ নির্দেশ করা হইয়াছে। ‘দেব’ শব্দের অর্থ সেই পূর্ব্বোক্ত দেবগণ; তাঁহারাই হোতৃরূপে সোম-রাজাকে আহুতিরূপে প্রদান করেন। দ্যুলোকাগ্নিতে আহুত শ্রদ্ধা হইতে এই যে সোম নিষ্পন্ন হয়, তাহাই আবার পর্জন্যরূপ দ্বিতীয় অগ্নিতে আহুত হইয়া থাকে; সেই সোমাহুতি হইতে বৃষ্টি প্রাদুর্ভূত হয় ॥ ৩৮৮ ॥ ১০ ॥
অয়ং বৈ লোকোহগ্নির্গোতম, তস্য পৃথিব্যেব সমিদগ্নিধূমো রাত্রিরচ্চিশ্চন্দ্রমা অঙ্গারা নক্ষত্রাণি বিস্ফুলিঙ্গাস্তস্মিন্নেতস্মিন্নগ্নৌ দেবা বৃষ্টিং জুহ্বতি, তস্যা আহুত্যা অন্নং সম্ভবতি ॥ ৩৮৯ ॥ ১১ ॥
সরলার্থঃ।—হে গৌতম, অয়ং(প্রাণি-জন্ম-ভোগাশ্রয়ত্বেন অনুভূয়মানঃ) লোকঃ বৈ অগ্নিঃ(তৃতীয়াহুত্যাধারঃ); পৃথিবী এব তস্য(তৃতীয়স্য অগ্নেঃ) সমিৎ; অগ্নিঃ(ভূতাগ্নিঃ) ধূমঃ; রাত্রিঃ অর্চ্চিঃ; চন্দ্রমাঃ(চন্দ্রঃ) অঙ্গারাঃ; নক্ষত্রাণি বিস্ফুলিঙ্গাঃ। তস্মিন্ এতস্মিন্ অগ্নৌ দেবাঃ বৃষ্টিং জুহ্বতি; তস্যা আহত্যৈ(আহুতেঃ) অন্নং সম্ভবতি;(ব্যাখ্যা পূর্ব্ববৎ)॥ ৩৮৯ ॥ ১১ ॥
মূলানুবাদঃ—হে গৌতম, প্রাণিগণের জন্ম ও ভোগ- নিকেতন এই বর্তমান লোকই একটা অগ্নি,(তৃতীয় আহুতির অধিকরণ)। পৃথিবীই তাহার সমিধ, ভৌতিক অগ্নি তাহার ধূম; রাত্রি তাহার অর্চ্চিঃ; চন্দ্র তাহার অঙ্গারস্তূপ; নক্ষত্রসমূহ তাহার স্ফুলিঙ্গসমূহ। দেবগণ সেই এই অগ্নিতে বৃষ্টিকে আহুতিরূপে প্রদান করেন; সেই বৃষ্টিরূপ আহুতি হইতে অন্ন উৎপন্ন হয় ॥ ৩৮৯ ॥ ১১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অয়ং বৈ লোকোহগ্নিগৌতম। অয়ং লোক ইতি প্রাণিজন্মোপভোগাশ্রয়ঃ ক্রিয়াকারকফলবিশিষ্টঃ, স তৃতীয়োহগ্নিঃ। তস্যাগ্নেঃ পৃথিব্যেব সমিৎ, পৃথিব্যা হি অয়ং লোকঃ অনেকপ্রাণ্যুপভোগসম্পন্নয়া সমিধ্যতে। অগ্নিধূমঃ, পৃথিব্যাশ্রয়োত্থানসামান্যাৎ; পার্থিবং হি ইন্ধনদ্রব্য- মাশ্রিত্য অগ্নিরুত্তিষ্ঠতি, যথা সমিদাশ্রয়েণ ধূমঃ। রাত্রিঃ অচ্চিঃ, সমিৎসম্বন্ধ- প্রভবসামান্যাৎ; অগ্নেঃ সমিৎসম্বন্ধেন হি অচ্চিঃ সম্ভবতি, তথা পৃথিবী সমিৎ- সম্বন্ধেন শর্ব্বরী; পৃথিবীচ্ছায়াৎ হি শার্ব্বরং তম আচক্ষতে। চন্দ্রমা অঙ্গারাঃ, তৎপ্রভবত্বসামান্যাৎ; অচ্চিষো হ্যঙ্গারাঃ প্রভবন্তি, তথা রাত্রৌ চন্দ্রমাঃ; উপশান্তত্বসামান্যাদ্বা। নক্ষত্রাণি বিস্ফুলিঙ্গাঃ, বিস্ফুলিঙ্গবদ্বিক্ষেপসামান্যাৎ। তস্মিন্নেতস্মিন্নিত্যাদি পূর্ব্ববৎ। বৃষ্টিং জুহ্বতি, তস্যা আহুতেরন্নং সম্ভবতি, বৃষ্টিপ্রভবত্বস্য প্রসিদ্ধত্বাদ ব্রীহিযবাদেরন্নস্য ॥ ৩৮৯ ॥ ১১ ॥
টীকা।—এতল্লোকপৃথিব্যোর্দেহদেহিভাবেন ভেদ ইত্যাদি—পৃথিবীচ্ছায়াং হীতি। ‘এতানি হি চন্দ্রং রাত্রেস্তমসো মৃত্যোবিভ্যতমত্যপারয়ন্’ ইতি শ্রুতেঃ রাত্রেস্তমস্থাবগমাৎ, তস্য চ মৃত্যুর্বৈতমস্থায়া মৃত্যুমেব তত্তমস্থায়াং তরতীতি ভূচ্ছায়াত্বং শ্রুতম্। তমো রাহুস্থানং, তচ্চ ভূচ্ছায়েতি হি প্রসিদ্ধম্—
“উদ্ধৃত্য পৃথিবীচ্ছায়াং নির্ম্মিতং মণ্ডলাকৃতি। স্বর্ভানোস্তু বৃহৎ স্থানং তৃতীয়ং যত্তমোময়ম্।”
ইতি সুধীরভাষ্যং। শ্লোকচতুর্দ্দশোহধ্যায়ঃ। শেষঃ॥ ৩৯১॥ ১১॥
ভাষ্যানুবাদ:-‘অয়ং বৈ লোকঃ অগ্নিঃ গৌতম’ ইত্যাদি। ‘অয়ং লোকঃ’ অর্থ-প্রাণিগণের জন্ম ও উপভোগের আশ্রয়ভূত এবং ক্রিয়া কারক ও ফলবিশেষবিশিষ্ট এই বর্তমান লোক; তাহাই তৃতীয় অগ্নি; পৃথিবীই সেই অগ্নির সমিধ; কেন না, প্রাণিগণের বিবিধ ভোগসামগ্রীসমন্বিত পৃথিবী দ্বারাই বর্তমান লোকটা পুষ্টিলাভ, করিয়া থাকে। প্রসিদ্ধ অগ্নিই তাহার ধূম; কারণ, পৃথিবীরূপ আশ্রয় হইতে উত্থিত হওয়া উভয়েরই সমান;-
১৫৭
যেমন সমিধ আশ্রয় করিয়া ধূম উৎপন্ন হয়, তেমনি পৃথিবীর পরিণামস্বরূপ কাষ্ঠ আশ্রয় করিয়া অগ্নি প্রকটিত হয়;[এইজন্য অগ্নিকে ধূম বলা হইল।] রাত্রিই তাহার অর্চ্চিঃ; যেহেতু সমিধ-সংযোগে উৎপত্তি উভয়েরই তুল্য; অর্থাৎ কাষ্ঠসংযোগে যেমন অগ্নি হইতে অর্চ্চির আবির্ভাব হয়, তেমনি পৃথিবীরূপ সমিধের সহিত সম্বন্ধবশতঃ রাত্রির আবির্ভাব হয়; এই কারণে, সুধীগণ নৈশ অন্ধকারকে পৃথিবীর ছায়া বলিয়া বর্ণনা করিয়া থাকেন(১)।
চন্দ্র তাহার অঙ্গারস্থানীয়; কারণ, অচ্চিঃসম্ভূতত্ব উভয়েরই তুল্য; অগ্নির অচ্চিঃ হইতে যেমন অঙ্গার প্রকাশ পায়, চন্দ্রও তেমনি রাত্রিতে প্রকাশ পাইয়া থাকে; অথবা উহার উপশান্তর ধর্ম্মও এইরূপ, কল্পনার একটা কারণ। নক্ষত্রসমূহ তাহার স্ফুলিঙ্গরাশি; বিস্ফুলিঙ্গের ন্যায় নক্ষত্রসমূহও চতুর্দ্দিকে বিক্ষিপ্ত হইয়া থাকে; ‘তস্মিন্ এতস্মিন্’ ইত্যাদি কথার অর্থ পূর্ব্ববৎ। দৃষ্টিকে আহুতিরূপে অর্পণ করেন; সেই আহুতি হইতে অন্ন উৎপন্ন হয়; কারণ, গ্রীহি যব প্রভৃতি অন্ন যে, বৃষ্টিপ্রভব, ইহা সুপ্রসিদ্ধ ॥ ৩৮৯ ॥ ১১ ॥
পুরুষো বা অগ্নিগৌতম, তস্য ব্যাত্তমেব সমিৎ প্রাণো! ধূমো বাগচ্চিশ্চক্ষুরঙ্গারাঃ শ্রোত্রং বিস্ফুলিঙ্গাস্তস্মিন্নেতস্মিন্নগ্নৌ দেবা অন্নং জুহ্বতি, তস্যা আহুত্যৈ রেতঃ সম্ভবতি ॥ ৩৯০ ॥ ১২ ॥
সরলার্থঃ।—হে গৌতম, পুরুষঃ(হস্তমস্তাদিসম্পন্নঃ মনুষ্যঃ) বাব অগ্নিঃ; তস্য(পুরুষাগ্নেঃ) ব্যাত্তং(বিবৃতং মুখম্) এব সমিৎ, প্রাণঃ ধূমঃ, বাক্(বাক্যং) অচ্চিঃ, চক্ষুঃ অঙ্গারাঃ, শ্রোত্রং বিস্ফুলিঙ্গাঃ। ‘ভস্মিন্ এতস্মিন্(পুরুষাগ্নৌ) দেবাঃ(ইন্দ্রাদয়ঃ) অন্নং জহ্বতি; তস্যাঃ আলত্যৈ(আহুতেঃ) রেতঃ(শুক্রং) সংভবতি॥ ৩৯০॥ ১২॥
মূল্যবান্দা।—হে গৌতম, হৃষ্টমস্তকাদিসংযুক্ত এই পুরুষই
(১) তাৎপর্য্য—ভারতীয় প্রাচীন পণ্ডিতগণ নৈশ অন্ধকারকে পৃথিবীর ছায়া বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। সেই তমই রাহুর স্থান; একথাও তাঁহারা স্পষ্ট কথায় বলিয়া গিয়াছেন। যথা— “উদ্ধত্য পৃথিবীচ্ছায়াং নির্ম্মিতং মণ্ডলাকৃতি।
সর্ব্বতোঽপি বৃহৎ ক্ষুদ্রং তৃতীয়ং যৎ তমোঽয়ম্ ॥”
উল্লিখিত বাক্য হইতে স্পষ্টই বুঝা যাইতেছে যে, প্রাচীনেরা রাত্রিকে পৃথিবীর ছায়া বলিয়াই মনে করিতেন।
অগ্নি; তাহার মুখবিবরই সমিধ, প্রাণ তাহার ধূম, বাক্ তাহার অর্চ্চিঃ, চক্ষু তাহার অঙ্গার, শ্রবণেন্দ্রিয় তাহার বিস্ফুলিঙ্গ; সেই এই অগ্নিতে দেবগণ অন্ন(খাদ্যদ্রব্য) আহুতি প্রদান করেন; সেই আহুতি হইতে রেতঃ সমুৎপন্ন হয় ॥ ৩৯০ ॥ ১২ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—পুরুষো বা অগ্নিগৌতম; প্রসিদ্ধঃ শিরঃপাণ্যাদিমান্ পুরুষশ্চতুর্থোহগ্নিঃ; তস্য ব্যাত্তং বিবৃতং মুখং সমিৎ; বিবৃতেন হি মুখেন দীপ্যতে পুরুষঃ বচনস্বাধ্যায়াদৌ; যথা সমিধা অগ্নিঃ। প্রাণো ধূমঃ, তদুত্থানসামান্যাৎ; মুখাদ্ধি প্রাণ উত্তিষ্ঠতি। বাক্ শব্দঃ অর্চ্চিঃ, ব্যঞ্জকত্বসামান্যাৎ; অর্চ্চিশ্চ ব্যঞ্জকম্, তথা বাক্ শব্দোহভিধেয়ব্যঞ্জকঃ। চক্ষুঃ অঙ্গারাঃ, উপশমসামান্যাৎ প্রকাশাশ্রয়ত্বাদ্বা। শ্রোত্রং বিস্ফুলিঙ্গাঃ, বিক্ষেপসামান্যাৎ; তস্মিন্ অন্নং জুহ্বতি।
ননু নৈব দেবা অন্নমিহ জুহ্বতো দৃশ্যন্তে? নৈষ দোষঃ, প্রাণানাৎ দেবত্বোপপত্তেঃ; অধিদৈবমিন্দ্রাদয়ো দেবাঃ; ত এবাধ্যাত্মং প্রাণাঃ; তে চ অন্নস্য পুরুষে প্রক্ষেপ্তারঃ; তস্যা আহুতেঃ রেতঃ সম্ভবতি; অন্নপরিণামো হি রেতঃ ॥ ৩৯০ ॥ ১২ ॥
টীকা।—যোগ্যানুপলব্ধিবিরোধমাশঙ্কতে—নন্বিতি। ইহেতি পুরুষাগ্নিনির্দেশঃ। শঙ্কিতং বিরোধং নিরাকরোতি—নৈষ দোষ ইতি। উপপত্তিমেব দর্শয়তি—অধিদৈবমিতি। ৩৯০। ১২॥
ভাষ্যানুবাদ।—‘পুরুষো বৈ অগ্নিঃ গৌতম’ ইত্যাদি। হস্তমস্তকাদি- যুক্ত পুরুষ হইতেছে চতুর্থ অগ্নি; বিবৃত মুখই তাহার(পুরুষাগ্নির) সমিধ; কেন না, অগ্নি যেমন কাষ্ঠ দ্বারা দীপ্তি পায়, তেমনি পুরুষও বিবৃত মুখ দ্বারাই বাক্যব্যবহারে ও অধ্যয়নাদি কার্য্যে দীপ্তি(প্রকাশ) পাইয়া থাকে। প্রাণ তাহার ধূম; কারণ, কাষ্ঠ হইতে উত্থান উভয়েরই তুল্য; প্রাণও মুখ হইতেই উত্থিত হয়। অভিব্যঞ্জকতা বা প্রকাশকতা ধৰ্ম্ম সমান বলিয়া বাক্—শব্দ তাহার অর্চ্চিঃ(শিখাস্থানীয়); কেন না, অগ্নিশিখা যেরূপ বস্তুপ্রকাশক, শব্দও তেমনি বক্তব্য বিষয় প্রকাশ করিয়া থাকে। উপশম বা প্রকাশাশ্রয়ত্ব ধর্ম্ম সমান থাকায়, চক্ষু তাহার অঙ্গারসমূহ। শ্রবণেন্দ্রিয় তাহার বিস্ফুলিঙ্গসমূহ; কারণ, উভয়েরই বিক্ষেপ ধর্মটী সমান। সেই পুরুষাগ্নিতে দেবগণ অন্ন আহুতি প্রদান করিয়া থাকেন।
ভাল, এই পুরুষার্থি, কখনও ত দেবগণকে হোম করিতে দেখা যায়।
১৫০৯
না; না, ইহা দোষাবহ হয় না; কারণ, যেহেতু প্রাণ প্রভৃতিরও দেবত্ব উপপন্ন হইতে পারে; ইন্দ্রাদি দেবগণ হইতেছেন ইন্দ্রিয়গণের অধিদেবতা; তাঁহারাই আবার দেহমধ্যে প্রাণরূপে বিরাজ করিতেছেন; তাঁহারাই পুরুষে আহার্য্য অন্ন নিক্ষেপ করিয়া থাকেন। সেই আহুতি হইতে রেতঃ প্রাদুর্ভূত হইয়া থাকে; কেন না, রেতঃ বস্তুটা অন্নেরই পরিণাম ॥ ৩৯০ ॥ ১২ ॥
যোষা বা অগ্নিগৌতম, তস্যা উপস্থ এব সমিল্লোমানি ধূমো যোনিরর্চ্চিরদন্তঃ করোতি তেহঙ্গারা অভিনন্দন। বিস্ফুলিঙ্গা- স্তস্মিন্নেতস্মিন্নগ্নৌ দেবা রেতো জুহ্বতি, তস্যা আহুত্যৈ পুরুষঃ সম্ভবতি, স জাবতি যাবজ্জীবত্যথ যদা ম্রিয়তে—॥ ৩৯১ ॥ ১৩ ॥
সরলার্থঃ।—হে গৌতম, যোবা(স্ত্রী) বৈ অগ্নিঃ(পঞ্চমং হোমাধি- করণম্); উপস্থঃ এব তস্যাঃ(অগ্নিরূপায়া যোষায়াঃ) সমিৎ; লোমানি ধূমঃ; যোনিঃ(জননেন্দ্রিয়ম্) অচ্চিঃ; যৎ অন্তঃ করোতি(মৈথুনমাচরতি), তে অঙ্গারাঃ; অভিনন্দাঃ(মৈথুনসুখমাত্রাঃ) বিস্ফুলিঙ্গাঃ। তস্মিন্ এতস্মিন্ (যোষারূপে) অগ্নৌ দেবাঃ রেতঃ জুহ্বতি; তস্যা আহুত্যৈ(আহুতেঃ) পুরুষঃ (হস্তমস্তকাদিসম্পন্নঃ দেহঃ) সম্ভবতি। সঃ(পুরুষঃ) জীবতি[তাবৎ প্রাণীতি], যাবৎ জীবতি(দেহস্থিতিনিমিত্তং কৰ্ম্ম যাবন্তং কালং বিদ্যতে)। অথ (কর্মক্ষয়ানন্তরম্), যদা ম্রিয়তে(মৃত্যুং প্রাপ্নোতি)—॥ ৩৯১ ॥ ১৩ ॥
মূলানুবাদ।—হে গৌতম, স্ত্রী হইতেছে পঞ্চম অগ্নি; উপস্থই তাহার সমিধ, লোমসমূহ তাহার ধূম; যোনি তাহার অর্চ্চিঃ; কবলিত করা বা মৈথুন ব্যাপার তাহার অঙ্গারসমূহ, ক্ষুদ্র আনন্দসমূহ তাহার বিস্ফুলিঙ্গ। সেই এই অগ্নিতে দেবগণ রেতঃ(শুক্র) আহুতি প্রদান করেন; সেই আহুতি হইতে হস্তপদাদিযুক্ত পুরুষ প্রাদুর্ভূত হয়। যতকাল দেহে অবস্থানযোগ্য কৰ্ম্ম বর্তমান থাকে, তাবৎ সে জীবিত থাকে; তাহার পর যখন মৃত্যুপ্রাপ্ত হয়—॥ ৩৯১ ॥ ১৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যোষা বা অগ্নিগৌতম। যোষেতি স্ত্রী পঞ্চমো হোমাধিকরণম্ অগ্নিঃ; তস্যা উপস্থ এব সমিৎ; তেন হি সা সমিধ্যতে; লোমানি ধূমঃ, তদুত্থানসামান্যাৎ। যোনিরচ্চিঃ, বর্ণসামান্যাৎ; যদন্তঃ করোতি তে অঙ্গারাঃ; অন্তঃকরণং মৈথুনব্যাপারঃ, তে অঙ্গারাঃ, বীর্য্যোপশমহেতুত্ব-
সামান্যাৎ; বীর্য্যাদ্যপশমকারণং মৈথুনম্, তথা অঙ্গারভাবঃ অগ্নেরুপশমকারণম্। অভিনন্দাঃ সুখলবাঃ ক্ষুদ্রত্বসামান্যাদ্বিস্ফুলিঙ্গাঃ। তস্মিন্ রেতো জুহ্বতি। তস্যা আহুতেঃ পুরুষঃ সম্ভবতি।
এবং দ্যু-পর্জ্জন্যায়ংলোক-পুরুষ-যোযাগ্নিষু ক্রমেণ হুয়মানাঃ শ্রদ্ধা-সোমবৃষ্টিন্ন- রেতোভাবেন স্থূলতারতম্যক্রমমাপদ্যমানাঃ শ্রদ্ধাশব্দবাচ্যা আপঃ পুরুষশব্দবাচ্যৎ শরীরমারভন্তে। যঃ প্রশ্নশ্চতুর্থঃ “বেথ যতিথ্যামাহুত্যাং হুতায়ামাপঃ পুরুষবাচো ভূত্বা সমুখায় যদন্তী ৩” ইতি, স এষ নির্ণীতঃ—পঞ্চম্যামাহুতৌ যোধাম্নৌ হুতারাৎ রেতোভূতা! আপঃ পুরুষবাচো ভবন্তীতি। স পুরুষঃ এবংক্রমেণ জাতো জাবতি; কিয়ন্তৎ কালমিত্যচ্যতে—যাবজ্জীবতি যাবদস্মিন্ শরীরে স্থিতিনিমিত্তৎ কৰ্ম্ম বিদ্যতে, তাবদিতার্থঃ। অথ তৎক্ষয়ে যদা যস্মিন্ কালে ম্রিয়তে—॥ ৩১১ ॥ ১৩ ॥
টাকা।—তত্ত্ব। আউতা পুংসং সম্ভবতীতি বাক্যার্থাভি-মতি। পঞ্চাগ্নি- দর্শনস্ত চতুর্থপ্রশ্ননির্ণায়কত্বেন প্রত্যোপযোগ দশয়তি—৭ প্রশ্ন ইতি। নিমিপ্রকারমনুবদতি —পঞ্চগ্যামিতি। যথোক্তনীতা জাতে দেহে কথং পুরুষস্য জীবনবারো নিয়মতে, তত্রাহ— স পুরুষ ইতি পঞ্চাগ্নিপ্রমেণ জাতোহগ্নিলাশ্চাহ, তেনাগ্নেতি ধ্যানসিদ্ধয়ে ষষ্ঠমগ্নি- মন্ত্যাহত্যধিকরণং প্রস্তৌতি—অথেতি। জীবননিমিত্তকণবিষয়স্তস্যঃ॥ ৩।১।১৩॥
ভাষ্যানুবাক?—‘যোষ, বৈ অগ্নিঃ গোতম’ ইত্যাদি। যোষা অর্থ— স্ত্রী। স্ত্রীই পঞ্চম হোমের অধিকরণস্বরূপ অগ্নি; উপস্থ তাহার সমিন্ধ; কারণ, তাহা দ্বারাই যোষাগ্নি উদ্দীপিত হইয়া থাকে। লোমসমূহ তাহার ধূম; কারণ, কাষ্ঠ হইতে যেরূপ ধূম উদ্গত হয়, তদ্রূপ উপস্থিত হইতেও লোম উৎপন্ন হয়। যোনি তাহার অচ্চিঃ; কেন না, উভয়ের মধ্যে বর্ণগত সাদৃশ্য আছে। আর উহা যে, অন্তঃস্থ করে, তাহাই অঙ্গাররাশি। এখানে অন্তঃস্থ করা অর্থ—মৈথুন ক্রিয়া; তাহাই বীর্য্যপ্রশমন করে বলিয়া অঙ্গারস্থানের। মৈথুন যেমন বীর্য্য প্রশমনের কারণ, তেমনি অঙ্গারভাবও অগ্নির উপশমের হেতু। অভিনন্দনসমূহ অর্থাৎ তদুৎপন্ন ক্ষুদ্র সুখ সকল, ক্ষুদ্রতরূপ সাদৃশ্য বশতঃ বিস্ফুলিঙ্গস্বরূপ। দেবগণ সেই যোষা- অগ্নিতে রেতঃ(শুক্র) আহুতি প্রদান করেন; সেই আহুতি হইতে পুরুষ(স্কুল দেহ) প্রাদুর্ভূত হইয়া থাকে।
শ্রদ্ধাপদবাচ্য অপ্সমূহ এইরূপে দ্যু-পর্জন্য-পৃথিবী পুরুষ ও যোষারূপ অগ্নিতে যথোক্ত ক্রমানুসারে আহুত হইয়া, শ্রদ্ধা ‘সোম বৃষ্টি অন্ন ও রেতোরূপে ক্রমিক স্থূলতা প্রাপ্ত হইয়া পরিশেষে পুরুষপদবাচ্য শরীর সমুৎপাদন করিয়া থাকে। ‘তুমি জান কি, অপ্সমূহ যে-সংখ্যক আহুতিতে আহুত(প্রক্ষিপ্ত) হইয়া, পুরুষ-
১৫১১
পদবাচ্যরূপে উৎপন্ন হইয়া কথা বলিয়া থাকে?’ এই যে, চতুর্থ প্রশ্ন ছিল, এখানে সেই প্রশ্নের উত্তরে বলা হইল যে, যোষা অগ্নিতে পঞ্চমী আহুতি আহুত হইলে পর, অপ্সমূহ শুক্ররূপে পরিণত হইয়া পুরুষপদবাচ্য হইয়া থাকে—পুরুষ- সংজ্ঞা লাভ করিয়া থাকে। সেই পুরুষ যথোক্ত ক্রমানুসারে জন্মলাভের পর জীবিত থাকে, অর্থাৎ বর্তমান দেহে অবস্থানের নিমিত্ত স্বকৃত প্রাক্তন কৰ্ম্ম যতকাল বিদ্যমান থাকে, ততকাল। অতঃপর সেই কৰ্ম্ম ক্ষয় হইলে পর, যে সময়ে মৃত হয় ॥ ৩৯১ ॥ ১৩ ॥
অথৈনমগ্নয়ে হরন্তি তস্যাগ্নিরেবাগ্নির্ভবতি সমিৎ সমিদ্ধূমো ধুমোহচ্চিরচ্চিরঙ্গারা অঙ্গারা বিস্ফুলিঙ্গা বিস্ফুলিঙ্গাস্তস্মিন্নে- তস্মিন্নগ্নৌ দেবাঃ পুরুষং জুহ্বতি, তস্যা আহুত্যে পুরুষো ভাস্বরবর্ণঃ সম্ভবতি ॥ ৩৯২ ॥ ১৪ ॥
সরলার্থঃ।—অথ(মরণাৎ পরম্) এনং(মৃতং পুরুষং) অগ্নয়ে হরন্তি (অগ্নি-সৎকারার্থং নয়ন্তি)[জ্ঞাতয়ঃ]। তস্য(মৃতস্য) অগ্নিঃ এব অগ্নিঃ ভবতি, [ন তত্র অগ্নিভাবঃ পরত্র আরোপ্যতে ইতি ভাবঃ]; সমিৎ[এব] সমিৎ; ধূমঃ ধূমঃ; অর্চ্চিঃ অচ্চিঃ, অঙ্গারাঃ অঙ্গারাঃ, বিস্ফুলিঙ্গাঃ বিস্ফুলিঙ্গাঃ;[ন পুন- রত্র আরোপাপেক্ষা অস্তি]। তস্মিন্ এতস্মিন্ অগ্নৌ দেবাঃ পুরুষং(মৃতং) জুহ্বতি; তস্যাঃ আহুত্যৈ(আহুতেঃ) পুরুষঃ(অগ্নিক্ষিপ্তঃ) ভাস্বরবর্ণঃ (ঈষল্লোহিতঃ) সংভবতি ॥ ৩৯২ ॥ ১৪ ॥
মূলানুবাদ:-মৃত্যুর পর জ্ঞাতিগণ এই মৃত পুরুষকে অগ্নির উদ্দেশে লইয়া যায়; সেখানে অগ্নিই তাহার অগ্নি, ধূমই ধূম, অর্চ্চিই অর্চ্চিঃ, অঙ্গার সমূহই অঙ্গার, বিস্ফুলিঙ্গসমূহই বিস্ফুলিঙ্গ- রাশি হয়। সেই এই, অগ্নিতে দেবগণ ঐ মৃত পুরুষকে আহুতি প্রদান করেন; সেই আহুতি হইতে পুরুষ ভাস্বরবর্ণ(ঈযৎ রক্তবর্ণ) প্রাপ্ত হইয়া থাকে ॥ ৩৯২ ॥ ১৪ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথ তদা এনং মৃতমগ্নয়ে অগ্ন্যর্থমেব অন্ত্যাহুত্যৈ হরন্তি ঋত্বিজঃ; তস্যাহুতিভূতস্য প্রসিদ্ধোহগ্নিরেব হোমাধিকরণম্, ন পরি- কল্ল্যোহগ্নিঃ। প্রসিদ্ধৈব সমিৎ সমিৎ; ধূমো ধূমঃ; অর্চ্চিঃ অর্চ্চিঃ; অঙ্গারাঃ অঙ্গারাঃ, বিস্ফুলিঙ্গাঃ বিস্ফুলিঙ্গাঃ; যথাপ্রসিদ্ধমেব সর্ব্বমিত্যর্থঃ। তস্মিন পুরুষ-
মন্ত্যাহুতিৎ জুব্বতি। তস্যা আহত্যৈ আহুতেঃ পুরুষো ভাম্বরবণঃ অতিশয়- দীপ্তিমান্ নিবেকাদিভিরন্ত্যাহুত্যন্তৈঃ কর্মভিঃ সংস্কৃতত্বাৎ, সম্ভবতি নিষ্প- দ্যতে ॥ ৩৯২ ॥ ১৪ ॥
টীকা।—বক্ষ্যমাণকীটাদিদেহব্যাবৃত্তয়ে ভাস্বরব বিশেষণম্। দীপ্ত্যতিশয়বত্বে হেতুমাহ— নিবেকাদিভিরিতি। ৩৯২। ১৪।
ভাষ্যানুবাদ।—তাহার পর, ঋত্বিকগণ তখন এই মৃতব্যক্তিকে অগ্নির. জন্য অর্থাৎ অন্ত্যাহুতি বা অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার নিমিত্ত লইয়া যায়। আহুতিস্বরূপ সেই ব্যক্তির সম্বন্ধে লোকপ্রসিদ্ধ অগ্নিই হোমের অধিকরণ, কিন্তু স্বতন্ত্র অগ্নি কল্পনা করিতে হয় না; প্রসিদ্ধ সমিধুই সমিধ; ধূমই ধূম; অর্চ্চিই অর্চ্চিঃ; অঙ্গারসমূহই অঙ্গাররাশি; এবং প্রসিদ্ধ বিস্ফুলিঙ্গই বিস্ফুলিঙ্গ; এ সমস্তই লোকপ্রসিদ্ধি অনুসারে গ্রহণ করিতে হইবে। সেই অগ্নিতে মৃত ব্যক্তিকে অন্তিম আহৃতিরূপে হোম করিয়া থাকে। সেই আহুতির দরুণ সেই পুরুষ ভাস্বরবর্ণ অর্থাৎ গর্ভাধান হইতে অন্ত্যাহুতি—শ্মশানান্ত কর্মসমূহ দ্বারা সংস্কৃত বা বিশোধিত হওয়ায় অতিশয় দীপ্তিমান্ হইয়া থাকে(১) ॥ ৩৯২ ॥ ১৪ ॥
তে য এবমেতদ্বিদুর্য্যে চামী অরণ্যে শ্রদ্ধাৎ সত্যমুপাসতে, তেহচ্চিরভিসম্ভবন্ত্যর্চিষোহহরহূ আপূর্য্যমাণপক্ষমাপূর্য্যমাণ- পক্ষাদযান্ ষন্মাসানুদঙাদিত্য এতি, মাসেভ্যো দেবলোকং দেবলোকাদাদিত্যমাদিত্যাদ্বৈদ্যুতম্, তান্ বৈদ্যুতান্ পুরুষো মানস এত্য ব্রহ্মলোকান্ গময়তি, তেষু ব্রহ্মলোকেষু পরাঃ পরাবতো বসন্তি, তেষাং ন পুনরাবৃত্তিঃ ॥ ৩৯৩ ॥ ১৫ ॥
সরলার্থঃ।—[ইদানীং প্রথমপ্রশ্নোত্তরমুচ্যতে—“তে যে এবম্” ইত্যাদিনা।] তে যে এবং(যথোক্তরূপেণ) এতৎ(পঞ্চাগ্নিরহস্যং) বিদুঃ; যে চ অমী(বানপ্রস্থাঃ) অরণ্যে শ্রদ্ধাং[অবলম্ব্য] সত্যং(ব্রহ্ম হিরণ্য-
১৫১৩
গর্ভাখ্যং) উপাসতে, তে অর্চ্চিঃ(অর্চিরভিমানিনীং দেবতাম্ উত্তরায়ণ- লক্ষণাং) অভিসম্ভবন্তি(প্রাপ্নবন্তি); অর্চ্চিষঃ(অর্চিঃপ্রাপ্ত্যনন্তরং) অহঃ (দিবসাভিমানিনীৎ ‘দেবতাং), অহ্নঃ(দিবসাৎ পরং) আপূর্য্যমাণপক্ষম্ (শুক্লপক্ষম্),[অভিসম্ভবন্তি]; আপূর্য্যমাণপক্ষাৎ আদিত্যঃ(সূর্য্যঃ) যান্ ষট্ মাসান্[ব্যাপ্য] উদঙ্(উত্তরাভিমুখঃ সন্) এতি(গচ্ছতি),[তান্ মাসান্], মাসেভ্যঃ দেবলোকম্, দেবলোকাৎ আদিত্যম্, আদিত্যাৎ বৈদ্যুতম্, [অভিসংভবন্তীতি সর্ব্বত্র সম্বন্ধঃ]। তান্ বৈদ্যতান্(বিদ্যুল্লোকগতান্ বিদুষঃ) মানসঃ পুরুষঃ এত্য ব্রহ্মলোকান্ গময়তি(নয়তি); তে (ব্রহ্মলোকগতাঃ পুরুষাঃ) তেষু ব্রহ্মলোকেষু পরাঃ(উত্তমাঃ) পরাবতঃ (বৎসরান্) বসন্তি; তেষাং পুনরাবৃত্তিঃ(ইহ লোকে প্রত্যাগমনং) ন [ভবতি] ॥ ৩৯৩ ॥ ১৫ ॥
মূলানুবাদ:-যাঁহারা এই প্রকারে পঞ্চাগ্নিবিদ্যা জানেন, এবং এই যাঁহারা(বানপ্রস্থগণ) অরণ্যে শ্রদ্ধাপূর্বক সত্যব্রহ্ম- হিরণ্যগর্ভের উপাসনা করেন, তাঁহারাও[দেহপাতের পর] প্রথমে অর্চির-জ্যোতির অভিমানিনী দেবতার সমীপে গমন করেন; অর্চিঃ হইতে অহঃ(দিবসাভিমানিনী দেবতা), অহঃ হইতে আপূর্য্যমাণ পক্ষ; আপূর্য্যমাণ পক্ষের পর-সূর্য্য যে ছয় মাস কাল উত্তরাভিমুখে গমন করেন, সেই উত্তরায়ণ ছয়মাসে গমন ‘করেন; সেখান হইতে দেবলোকে, দেবলোক হইতে সূর্য্যলোকে, এবং সূর্য্যলোক হইতে বৈদ্যুত. পুরুষের সমীপে গমন করেন। অতঃপর মানস অর্থাৎ শুক্র- শোণিতসংযোগ ব্যতিরেকে উৎপন্ন ব্রহ্মলোকবাসী পুরুষ আসিয়া তাঁহাদিগকে ব্রহ্মলোকে লইয়া যান; তাঁহারা ব্রহ্মলোকে যাইয়া অনেক বৎসর বাস করেন; তাঁহাদের আর সংসারে ফিরিয়া আসিতে হয় না ॥ ৩৯৩ ॥ ১৫ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—ইদানীং প্রথমপ্রশ্ননিরাকরণার্থমাহ—তে, কে? যে এবং যথোক্তং পঞ্চাগ্নিদর্শনমেতদ্বিদুঃ। এবং-শব্দাদগ্নিসমিদ্ধু মার্চ্চিরঙ্গার- বিস্ফুলিঙ্গশ্রদ্ধাদিবিশিষ্টাঃ পঞ্চাগ্নয়ো নিদ্দিষ্টাঃ; তান্ এবমেতান্ পঞ্চাগ্নীন্ বিদু.রত্যর্থঃ। ১
ননু অগ্নিহোত্রাহুতিদর্শনবিষয়মেবৈতৎ দর্শনম্। তত্র হি উক্তম্ উৎ- ক্রান্ত্যাদিপদার্থষট্কনির্ণয়ে “দিবমেবাহবনীয়ং কুর্ব্বাতে” ইত্যাদি; ইহাপি অমুষ্য লোকস্যাগ্নিত্বম্; আদিত্যস্য চ সমিত্তম্ ইত্যাদি বহু সাম্যম্; তস্মাৎ তচ্ছেযমেবৈতদ্দর্শনমিতি। ন, যতিথ্যামিতি প্রশ্নপ্রতিবচনপরিগ্রহাৎ; যতিথ্যা- মিত্যস্য প্রশ্নস্য প্রতিবচনস্য যাবদেব পরিগ্রহঃ, তাবদেবৈবংশব্দেন পরাভ্রষ্টুং যুক্তম্, অন্যথা প্রশ্নানর্থক্যাৎ। ২
টীকা।—পঞ্চাগ্নিবিদো গতিং বিবক্ষুরুত্তরগ্রন্থমবতারয়তি—ইদানীমিতি। যে বিদুস্তে- হর্চ্চিষমভিসংভবন্তীতি সংবন্ধঃ। এবংশব্দস্য প্রকৃতপঞ্চাগ্নিপরামর্শিত্বম্ স্ফুটীকর্তুং চোদয়তি— নম্বিতি। এবমেতদ্বিদুরিতি শ্রুতমেতদ্দর্শনমিত্যুক্তং, তদেবেদমিতি প্রতাভিজ্ঞাপকং দর্শয়তি— তত্র হীতি। আদিপদমাদিত্য” সমিধমিত্যাদি সংগ্রহীতুং রশ্মীনাং ধূমত্বমহ্বোহচিষ্টু মিত্যাদি গ্রহীতুং দ্বিতীয়মাদিপদম্। প্রত্যভিজ্ঞাফলমাহ—তন্ত্রাদিতি। প্রশ্নপ্রতিবচনবিষয়স্যৈব পরামর্শান্ন প্রকৃতস্যৈবংশদেন ষট্প্রশ্নীয়ং দর্শনমিহ পরামৃষ্টমিতি পরিহরতি—নেত্যাদিনা। সংগৃহীতং পরিহারং বিবৃণোতি—যতিথ্যামিত্যস্তেতি। ব্যধিকরণে ষষ্ঠ্যৌ। যাবদেব বস্তু- পরিগ্রহো বিষয় ইত্যর্থঃ। ষট্প্রশ্নীয়মের ব্যবহিতং দশনমত্র পরামৃষ্টং চেত্তদা যতিথ্যামিতি প্রশনো বার্থঃ স্যাৎ। ষট্প্রশ্নিনিণী তদর্শনশেষভূতদর্শনস্য প্রশ্নাদৃতে প্রতিবচনসংভবাদিত্যাহ— অন্যথেতি। ১—২
নিজ্ঞাতত্ত্বাচ্চ সখ্যায়াঃ অগ্নয় এব বক্তব্যাঃ। অথ নির্জ্ঞাতমপ্যনূদ্যতে; যথাপ্রাপ্তস্যৈবানুবদনং যুক্তম্; ন তু “অসৌ লোকোহগ্নিঃ” ইতি; অথ উপ- লক্ষণার্থঃ; তথাপি আদ্যেনান্ত্যেন চোপলক্ষণং যুক্তম্। শ্রুত্যন্তরাচ্চ, সমানে হি প্রকরণে ছান্দোগ্যশ্রুতৌ “পঞ্চাগ্নীন্ বেদ” ইতি পঞ্চসখ্যায়া এবোপাদানাৎ অনগ্নিহোত্রশেষমেতৎ পঞ্চাগ্নিদর্শনম্। যতু সমিদাদিসামান্যম্, তদগ্নিহোত্র- স্তুত্যর্থমিত্যবোচাম; তস্মাৎ ন উৎক্রান্ত্যাদিপদার্থষট্কপরিজ্ঞানাদচ্চিরাদি- প্রতিপত্তিঃ, এবমিতি প্রকৃতোপাদানেনার্চ্চিরাদিপ্রতিপত্তিবিধানাৎ। ৩
কিংচ, পূর্বস্মিন্ গ্রন্থে প্রচয়শিষ্টতয়া নিশ্চিতত্বাত্তদবচ্ছিন্ন্নাঃ সাংপাদিকাগ্নয় এবাত্রৈবংশব্দেন পরাভ্রষ্টমুচিতা ইত্যাহ-নিজ্ঞাতত্বাচ্চেতি। অগ্নিহোত্রপ্রকরণে নির্জাতমেবাগ্ম্যাদি পূর্বগ্রন্থে- হপ্যনূদ্যতে। তথা চাগ্নিহোত্রদর্শনমব্যবহিতমেবংশব্দেন কিং ন পরামৃষ্টমিতি শঙ্কতে- অথেতি। অগ্নিহোত্রদর্শনং পূর্বগ্রন্থেহনূদ্যতে চেত্তৎপ্রকরণে প্রাপ্তং রূপমনতিক্রম্যৈবাস্তরিক্ষাদে- রপ্যত্রানুবদনং স্যাৎ, ন তু তদ্বৈপরীত্যেহনুবদনং যুক্তম্। অনুবাদস্য পুরোবাদসাপেক্ষত্বাৎ। ন চাত্রান্তরিক্ষাদ্যনুদ্যতে, তন্মাদেবংশব্দো নাগ্নিহোত্রপরামর্শীতি পরিহরতি-যথাপ্রাপ্তস্যেতি। দ্যুলোকাদিবাদস্যানন্তরিক্ষাদ্যপলক্ষণার্থত্বাৎ পূর্ব্বস্যানুবাদত্বসংভবাদেবংশশব্দস্যাগ্নিহোত্রবিষয়ত্বসিদ্ধিরিতি চোদয়তি-অথেতি। প্রাপকাভাবাদুপলক্ষণপক্ষাযোগেহপ্যঙ্গীকৃত্য পঞ্চাগ্নিনির্দেশ- বৈয়র্থ্যেন দূষয়তি-তথাপীতি। ইতশ্চ স্বতন্ত্রমেব পঞ্চাগ্নিদর্শনমেবংশব্দপরামৃষ্টমিত্যাহ-
শ্রত্যন্তরাচ্চেতি। সমিদাদিসাম্যদর্শনাদগ্নিহোত্রদর্শনশেষভূতমেবৈতদ্দর্শনমিত্যুক্তমনুষ্য দূষয়তি— যত্ত্বিত্যাদিনা। অবোচামাগ্নিহোত্রস্তুত্যর্থত্বাদগ্নিহোত্রস্যৈব কার্য্যমিত্যত্রেতি শেষঃ। এবংশব্দেনাগ্নিহোত্রপরামর্শসংভবে ফলিতমাহ—তস্মাদিতি। তচ্ছব্দার্থমেব স্ফুটয়তি— এবমিতীতি। প্রকৃতং পঞ্চাগ্নিদর্শনং, তচ্চ স্বতন্ত্রমিত্যুক্তং, তদ্বতামর্চ্চিরাদিপ্রতিপত্তির্ন কেবল- কর্মিণামিত্যর্থঃ। ৩
কে পুনস্তে, যে এবং বিদুঃ? গৃহস্থা এব। ননু তেষাং যজ্ঞাদিসাধনেন ধূমাদিপ্রতিপত্তিবিধিৎসিতা; ন, অনেকংবিদামপি গৃহস্থানাং যজ্ঞাদি- সাধনোপপত্তেঃ। ভিক্ষু-বানপ্রস্থরোশ্চ অরণ্যসম্বন্ধেন গ্রহণাৎ, গৃহস্থকর্মসম্বদ্ধ- ত্বাচ্চ পঞ্চাগ্নিদর্শনস্য। অতো নাপি ব্রহ্মচারিণঃ ‘এবং বিদুঃ’ ইতি গৃহন্তে; তেষাং তু উত্তরে পথি প্রবেশঃ, স্মৃতিপ্রামাণ্যাং—
“যাহোঽপি তস্মিন্ প্রস্থানং তস্য যোনিঃ।
উত্তরাধ্যায়ঃ পঞ্জিকাং হি তেষ্যি।” ইতি।
তস্মাৎ যে গৃহস্থা এবমগ্নিজোহহমগ্যপত্যম্—ইত্যেবং ক্রমেণ অগ্নিভ্যো জাতঃ অগ্নিরূপ ইত্যেবং যে বিদুঃ, তে চ, যে চামী অরণ্যে বানপ্রস্থাঃ পরিব্রাজকাশ্চ অরণ্যনিষ্ঠাঃ, শ্রদ্ধাং শ্রদ্ধাযুক্তাঃ সন্তঃ, সত্যং ব্রহ্ম হিরণ্য- গর্ভাত্মানম্ উপাসতে, ন পুনঃ শ্রদ্ধাং চোপাসতে, তে সর্ব্বে অর্চিরভি- সম্ভবন্তি। ৪
প্রশ্নপূর্ব্বকম্ বেদিতৃবিশেষ’ নিদ্দেশতি-কে পুনরিতা দিনা। গৃহস্থানাং যজ্ঞাদিনা পিতৃযাণপ্রাপ্তের্বক্ষ্যমাণত্বাৎ ন দেবযানপথিপ্রবেশোহস্তীতি শম্ভতে-নম্বিতি। পঞ্চাগ্নিবিদাং গৃহস্থানাং দেবযানে পথ্যধিকারস্তদ্রহিতানা’ তু তেষামের যজ্ঞাদিনা পিতৃযাণপ্রাপ্তিরিতি বিভাগোপপত্তের্ন বাক্যশেষবিরোধোহস্তীতি সমাধত্তে-নেত্যাদিনা। এবং বিদুরিতি সামান্য- বচনাৎ পরিব্রাজকাদেরপাত্র গ্রহণং স্যাদিতি চেন্নেত্যাহ--ভিমুবানপ্রস্থয়োশ্চেতি। বিধান- মন্তরেণ তয়োরুত্তরমার্গে প্রবেশান্ন পঞ্চাগ্নিবিষয়ত্বেন গ্রহণং, পুনরুক্তেরিত্যর্থঃ। গৃহস্থানামের পঞ্চাগ্নিবিদাং তত্র গ্রহণমিত্যত্র হেত্বন্তরমাহ-গৃহস্থেতি। ব্রহ্মচারিণাং তহীহগ্রহণং ভবিষ্যতি, নেত্যাহ-অত ইতি। পঞ্চাগ্নিদর্শনস্য গৃহস্থকস্মসংবন্ধাদেবেত্যেতং। কথং তহি নৈষ্টিকব্রহ্ম- চারিণাং দেবযানে পথি প্রবেশস্তত্রাহ-তেষাং স্থিতি। অর্যম্ণঃ সংবন্ধী যঃ পন্থাস্তমাসাদ্য তেনোত্তরেণ পণা, তে যথোক্তসংখ্যা ঋষয়ঃ সাপেক্ষমমৃতত্বং প্রাপ্তা ইতি স্মৃত্যর্থঃ। আশ্রমান্ত- রাণাং পঞ্চাগ্নিবিষয়ত্বেনাক্রাগ্রহণে ফলিতমাহ-তন্মাদিতি। অগ্নিজত্বে ফলিতমাহ-অগ্ন্য- পত্যমিতি। অগ্নিজত্বং সাধয়তি-এবমিতি। অগ্ন্যপত্যত্বে কিং স্যাত্তদাহ-অগ্নীতি ইত্যেবং যে গৃহস্থা বিদুস্তে চেতি যোজনা। অরণ্যং স্ত্রীজনাসংকীর্ণো দেশঃ। পরিব্রাজকা- শ্চেতি ত্রিদন্তিনো গৃহ্যন্তেহন্যেষামেষণাভ্যো ব্যুত্থিতানাং সম্যগ জ্ঞাননিষ্ঠানাং দেবযানে পথ্য- প্রবেশাৎ, আশ্রমমাত্রনিষ্ঠা বা, তেহপি গৃহ্যেরন্নিতি দ্রষ্টব্যম্। শ্রদ্ধাপি স্বয়মুপাস্যা কৰ্ম্মত্ব-
শ্রবণাদিত্যশঙ্ক্য প্রত্যয়মাত্রস্য সাপেক্ষত্বাদুপাস্যত্বানুপপত্তেনৈবমিত্যাহ—ন পুনরিতি। সর্ব্বে পঞ্চাগ্নিবিদঃ সত্যব্রহ্মবিদশ্চেত্যর্থঃ। ৪
যাবৎ গৃহস্থাঃ পঞ্চাগ্নিবিদ্যাং সত্যং বা ব্রহ্ম ন বিদুঃ, তাবৎ শ্রদ্ধাদ্যাহুতি- ক্রমেণ পঞ্চম্যাম্ আহুতৌ হুতায়াং ততো যোষাগ্নেজাতাঃ, পুনর্লোকং প্রত্যুখায়িনোহগ্নিহোত্রাদিকৰ্ম্মানুষ্ঠাতারো ভবন্তি; তেন কৰ্মণা ধূমাদিক্রমেণ পুনঃ পিতৃলোকম্, পুনঃ পর্জন্যাদিক্রমেণ ইমমাবর্তন্তে; ততঃ পুনর্যোষাগ্নেজাতাঃ পুনঃ কৰ্ম্ম কৃত্বা—ইত্যেবমেব ঘটীযন্ত্রবৎ গত্যাগতিভ্যাং পুনঃ পুনরাবর্তন্তে। ৫
বিনাপি বিদ্যাবলমচ্চিরভিসংপত্তিঃ স্যাদিতি চেন্নেত্যাহ—যাবদিতি। কৰ্ম্ম কৃত্বা লোকং প্রত্যুখায়িন ইতি পূর্ব্বেণ সংবন্ধঃ। কেবলকর্মিণাং দেবযানমার্গপ্রাপ্তির্নাস্তীত্যুক্তং নিগময়তি— ইত্যেবমেবেতি। ৫
যদা তু এবং বিদুঃ, ততো ঘটীযন্ত্রভ্রমণাদ্বিনিৰ্ম্মুক্তাঃ সন্তঃ অর্চিরভিসম্ভবন্তি; অর্চিরিতি নাগ্নিজ্বালামাত্রম্, কিং তর্হি? অর্চিরভিমানিন্যচ্চিঃশব্দবাচ্যা দেবতা উত্তরমার্গলক্ষণা; তামভিসম্ভবত্তি। ন হি পরিব্রাজকানামগ্নাচ্চিষৈব সাক্ষাৎসম্বন্ধোহস্তি; তেন দেবতৈব পরিগৃহ্যতে অর্চিঃশব্দবাচ্যা। ততঃ অহর্দেবতাম্; মরণকালনিয়মানুপপত্তেরহঃশব্দোহপি দেবতৈব; আয়ুষঃ ক্ষয়ে হি মরণম্; নহি এবংবিদা অহন্যেব মর্ত্তব্যমিতি অহর্ম্মরণকালো নিয়ন্তং শক্যতে; ন চ রাত্রৌ প্রেতাঃ সন্তঃ, অহঃ প্রতীক্ষন্তে; “স যাবৎ ক্ষিপ্যেন্মনস্তাবদাদিত্যং গচ্ছতি” ইতি শ্রুত্যন্তরাৎ। ৬
বিদুষামেব দেবযানপ্রাপ্তিমুপসঃহরতি-যদা ত্বিতি। নম্বচ্চিযো জ্বালাত্মনোহস্থৈর্য্যাত্ত- দভিসংপত্তির্ন ফলায় কল্পতে, তত্রাহ-অচিরিতীতি। অচিঃশব্দেন যথোক্তদেবতাগ্রহে লিঙ্গমাহ-ন হীতি। অতোহর্চির্দেবতায়াঃ সকাশাদিতি যাবৎ। অহঃশব্দস্য কালবিষয়ত্ব- মুক্তদোষাভাবাদিতি চেন্নেত্যাহ-মরণেতি। নিয়মাভাবমেব ব্যনক্তি-আয়ুষ ইতি। বিশ্ব- দ্বিষয়ে নিয়মমাশঙ্ক্যাহ-ন হীতি। ননু রাত্রৌ মৃতোহপি বিদ্বানহরপেক্ষ্য ফলী সংপৎস্যতে, নেত্যাহ-ন চেতি। ৬
অহ্নঃ আপূর্য্যমাণপক্ষম্, অহর্দেবতয়া অতিবাহিতাঃ আপূর্য্যমাণপক্ষদেবতাৎ প্রতিপদ্যন্তে শুক্লপক্ষদেবতামিত্যেতৎ। আপূর্য্যমাণপক্ষাৎ, যান্ যক্ষ্মাসান্ উদঙ্ উত্তরাং দিশমাদিত্যঃ সবিতা এতি, তান্ মাসান্ প্রতিপদ্যন্তে, শুক্লপক্ষদেবতয়াতিবাহিতাঃ সন্তঃ। মাসানিতি. বহুবচনাৎ সঙ্ঘচারিণ্যঃ ষড়ুত্তরায়ণদেবতাঃ; তেভ্যঃ মাসেভ্যঃ যক্ষ্মাসদেবতাভিরতিবাহিতাঃ দেবলোকাভিমানিনীং দেবতাং প্রতিপদ্যন্তে। দেবলোকাদাদিত্যম; আদি- ত্যাৎ বৈদ্যুতং বিদ্যুদভিমানিনীং দেবতাং প্রতিপদ্যন্তে; বিদ্যুদ্দেবতাৎ প্রাপ্তান্
১৫৭৯
ব্রহ্মলোকবাসী পুরুষঃ ব্রহ্মণা মনসা সৃষ্টঃ মানসঃ কশ্চিৎ এত্য আগত্য ব্রহ্মলোকান্ গময়তি; ব্রহ্মলোকানিতি অধরোত্তরভূমিভেদেন ভিন্না ইতি গম্যন্তে, বহুবচনপ্রয়োগাৎ উপাসনতারতম্যোপপত্তেশ্চ। তেন পুরুষেণ গমিতাঃ সন্তঃ, তেষু ব্রহ্মলোকেষু পরাঃ প্রকৃষ্টাঃ সন্তঃ স্বয়ম্ পরাবতীঃ প্রকৃষ্টাঃ সমাঃ সংবৎসরান্ অনেকান্ বসন্তি; ব্রহ্মণোহনেকান্ কল্পান্ বসন্তীত্যর্থঃ। ৭
তেষাং ব্রহ্মলোকং গতানাৎ নাস্তি পুনরাবৃত্তিঃ-অস্মিন্ সংসারে ন পুন- রাগমনম্, ‘ইহ’ ইতি শাখান্তরপাঠাৎ। ইহেতি আকৃতিমাত্রগ্রহণমিতি চেৎ, ‘শ্বোভূতে পৌর্ণমাসীম্’ ইতি যদ্বৎ; ন, ইহেতি বিশেষণানর্থক্যাৎ; যদি হি নাবর্ত্তন্ত এব, ইহগ্রহমনর্থকমের স্যাৎ; “শ্বোভূতে পৌর্ণমাসীম্’ ইত্যত্র পৌর্ণমাস্যাঃ শ্বোভূতত্বমনুক্তং ন জ্ঞায়তে, ইতি যুক্তং বিশেষয়িতুম্; ন হি তত্র শ্ব-আকৃতিঃ শব্দার্থে। বিদ্যতে, ইতি শ্বঃশব্দে। নিরর্থক এব প্রযুজ্যতে; যত্র তু বিশেষণ-শব্দে প্রযুক্তে অন্বিষ্যমাণে বিশেষণফলং চেন্ন গম্যতে, তত্র যুক্তো নিরর্থকত্বেনোৎসৃষ্টুং বিশেষণশব্দঃ, ন তু সত্যাং বিশেষণফলাবগতৌ। তস্মাদস্মাৎ কল্পাদুর্দ্ধমাবৃত্তির্গম্যতে ॥ ৩৯৩ ॥ ১৫ ॥
একস্মিন্নেব ব্রহ্মলোকে কথং বহুবচনমিত্যাশঙ্ক্যাহ-ব্রহ্মেতি। ব্রহ্মলোকানিতি বহুবচনপ্রয়োগাদিতি সংবন্ধঃ। অত্র ব্রহ্মলোকা বিশেষ্যত্বেন গৃহ্যন্তে। বহুবচনোপপত্তৌ হেত্বন্তরমাহ-উপাসনেতি। কল্পশব্দোহত্রাবান্তরকল্পবিষয়ঃ। তেষামিহ ন পুনরাবৃত্তিরিতি কচিৎপাঠাদস্মিন্নিত্যাদিব্যাখ্যানমযুক্তমিতি শঙ্কতে-ইহেতি। যথা শোভূতে পৌর্ণমাসীং যজেতেত্যত্রাকৃতিঃ পৌর্ণমাসীশব্দার্থঃ। শোভূতত্বং চ ন ব্যাবর্তকং, পৌর্ণমাসীপদলক্ষ্যেষ্টেঃ প্রতিপদ্যেব কর্তব্যতানিয়মাৎ, তথেহাকৃতেরিহশব্দার্থত্বান্নিরঙ কুশৈবানাবৃত্তিরিত্যত্র সিধ্যতীত্যর্থঃ। পরিহরতি-নেত্যাদিনা। পরোক্তং দৃষ্টান্তং বিঘটয়তি-শ্বোভূতইতি। কৃতসংভারদিবসাপেক্ষ্যং হি শোভূতত্বং, পৌর্ণমাসীদিনে চাতুৰ্ম্মাস্যেষ্টৌ কৃতায়াং কদা পৌর্ণমাসীষ্টিঃ কর্তব্যেতি বিনা বচনং ন জ্ঞায়তে, তত্র শোভূতত্বং বিশেষণং ভবত্যন্যব্যাবর্তকং, তদ্বদিহোতি, বিশেষণমপি ব্যাবর্তকমেবেতি নাত্যন্তিকানাবৃত্তিসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। যতু পৌর্ণমাসীশব্দবদিহ-শব্দস্যাকৃতিবাচিত্বাদব্যাবর্তকত্বমিতি, তত্রাহ-ন হীতি। যদ্যপি প্রকৃতে বাক্যে পৌর্ণমাসীশব্দো ভবত্যাকৃতিবচনওথাপি স্বঃশব্দার্থোহপি কাচিদাকৃতিরস্তীত্যঙ্গীকৃত্যাব্যাবর্তকঃ শোভূতশব্দো নৈব প্রযুজ্যতে। তথাত্রাপি বিশেষণশব্দস্য ব্যাবর্তকত্বমাবশ্যকমিত্যর্থঃ। সুষিরমাকাশমিত্যাদৌ ব্যাবর্ত্যাভাবেহপি বিশেষণপ্রয়োগবদত্রাপি বিশেষণং স্বরূপানুবাদমাত্রমিত্যাশঙ্ক্যাহ-যত্র ত্বিতি। বিশেষণফলমুপসংহরতি-তন্মাদিতি। ৩৯৩। ১৫॥
ভাষ্যানুবাদ?—এখন প্রথম প্রশ্নের উত্তর নিরূপণার্থ বলিতেছেন— তাঁহারা; তাঁহারা কাহারা? না, যাঁহারা উক্তপ্রকারে এই পঞ্চাগ্নিবিজ্ঞান
জানেন। এখানে ‘এবম্’ শব্দ থাকায় বুঝিতে হইবে যে, অগ্নি, সমিধ, ধূম, অচ্চি, অঙ্গার, বিস্ফুলিঙ্গ ও শ্রদ্ধাপ্রভৃতিবিশিষ্ট যে পঞ্চাগ্নি নির্দিষ্ট হইয়াছে, সেই এই পঞ্চাগ্নি যাঁহারা জানেন, তাঁহারা। ১
ভাল, এই দর্শনটী(বিজ্ঞানটী) হইতেছে নিশ্চয়ই অগ্নিহোত্রযাগের আহুতি-বিষয়ক দর্শন। সেখানে উৎক্রমণ প্রভৃতি ছয়টা বিষয়ের নিরূপণ প্রসঙ্গে বলা হইয়াছে যে, ‘দ্যুলোককেই আহবনীয়(হোমাধার) করিয়া থাকে” ইত্যাদি; এখানেও ঐ দ্যুলোকের অগ্নিত্ব এবং আদিত্যের সমিধভাব প্রভৃতি অনেকগুলি বিষয়ের সাদৃশ্য রহিয়াছে; অতএব মনে হয় যে, এই দর্শনটী পূর্ব্বোক্ত ষট্ পদার্থ-দর্শনেরই শেষ বা অঙ্গস্বরূপ। না, তাহা হইতে পারে না; যেহেতু এখানে ‘যতিথ্যাম্’ ইত্যাদি প্রশ্নের প্রতিবচন বা উত্তর প্রদান করা হইয়াছে; অতএব যে পর্যন্ত গ্রহণ করিলে ‘যতিথ্যাম্’ এই প্রশ্নের প্রতিবচন ধরা যাইতে পারে, ‘এবম্’ শব্দে সেই পর্যন্ত বিষয় গ্রহণ করাই উচিত; তাহা না হইলে, অর্থাৎ এই বাক্যটা ঐ প্রশ্নের উত্তরবাক্য না হইলে, ঐরূপ প্রশ্নই নিরর্থক হইয়া যায়। ২
বিশেষতঃ অগ্নিহোত্রপ্রকরণে যখন ষট্সংখ্যা নির্দিষ্টই রহিয়াছে, তখন এখানে পূর্ব্বে অনির্দ্ধারিত পঞ্চবিধ অগ্নির কথা বলাই আবশ্যক হইতেছে। আর যদি বল, পূর্ব্বে(অগ্নিহোত্রপ্রকরণে) নির্দ্ধারিত থাকিলেও এখানে তাহার অনুবাদ(কথিতের পুনঃ কথন) করা হইতেছে; তথাপি যথা প্রাপ্তেরই অর্থাৎ পূর্ব্বে যাহা যেরূপে উক্ত হইয়াছে, এখানেও তাহারই সেইরূপে অনুবাদ করা যুক্তিসঙ্গত হইত, কিন্তু ‘অসৌ লেকোহগ্নিঃ’ বলা উচিত হইত না। যদি বল, ইহা কেবল সেই ষট্ পদার্থেরই উপলক্ষণার্থ(প্রতীতির জন্য) কৃত হইয়াছে; তথাপি আদি বা অন্তিম বাক্যে উপলক্ষণ করাই যুক্তিসঙ্গত,[কিন্তু মধ্যবর্তী বাক্য দ্বারা উপলক্ষণ করা সঙ্গত নহে)। শ্রুত্যন্তরও ইহার অপর কারণ; ছান্দোগ্যোপনিষদে ঠিক ইহার অনুরূপ প্রকরণে ‘পঞ্চাগ্নীন্ বেদ’ এই বাক্যে পঞ্চ সংখ্যারই স্পষ্ট উল্লেখ রহিয়াছে; অতএব এই পঞ্চাগ্নি- দর্শনটী অগ্নিহোত্র-যাগের শেষ বা অধীন হইতে পারে না। এখানে যে, অগ্নি ও সমিধ প্রভৃতি অগ্নিহোত্র-বাগের সমান ধর্ম নিরূপিত হইয়াছে, তাহা কেবল ঐ অগ্নিহোত্র-যাগেরই স্তুতির নিমিত্ত,(শেষত্ব জ্ঞাপনের জন্য নহে)। এই জন্যই এখানে ‘এবং’ শব্দ দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে পূর্ব্বোক্ত পঞ্চাগ্নি-বিদ্যার সহিত সম্বন্ধ গ্রহণ করা হইয়াছে, এবং তাহা হইতেই অর্চ্চিরাদিপথে গতি বিহিত হইয়াছে;
১৫১৯
সেই হেতু বুঝিতে হইবে যে, উৎক্রমণাদি ষট্পদার্থ-বিজ্ঞানে অর্চ্চিরাদি পথ প্রাপ্ত হওয়া যায় না। ৩
যাহারা এইরূপ জানে; তাহারা কাহারা? গৃহস্থগণই তাহারা। ভাল, তাহাদের সম্বন্ধে ত যজ্ঞাদি সাধনানুষ্ঠানের ফলে ধূমাদি-পথের(দক্ষিণায়ন) প্রাপ্তিই বিধিৎসিত(বিধান করিবার অভীষ্ট); না, তাহা নহে; কারণ, এবংবিধ জ্ঞানহীন গৃহস্থও বহু আছে, তাহাদের পক্ষেই যজ্ঞাদি সাধনানুষ্ঠান উপপন্ন হইতে পারে; আর অরণ্য-সম্বন্ধ অভিহিত থাকায় ভিক্ষু ও বানপ্রন্থের স্বতন্ত্রভাবেই উল্লেখ রহিয়াছে। বিশেষতঃ এই পঞ্চাগ্নিদর্শন-ব্যাপারটা গৃহস্থ-কর্তব্য কর্ম্মের সহিত সম্বন্ধবিশিষ্টও বটে; এই সমুদয় কারণে ‘যে বিদুঃ’ কথায় গৃহস্থেরই গ্রহণ বুঝিতে হইবে। এই কারণেই ‘যে এবং বিদুঃ’ কথায় ব্রহ্মচারীও পরিগৃহীত হইতে পারে না; কেন না, স্মৃতিপ্রমাণ হইতে জানা যায় যে, উত্তরপথেই তাহাদের প্রবেশ হইয়া থাকে; যথা—‘অষ্টাশীতি-সহস্রসংখ্যক(৮৮০০০) উর্দ্ধরেতা ঋষিদিগের জন্য, সূর্য্যের উত্তরদিগ্বর্ত্তী পথ নিদ্দিষ্ট আছে; তাঁহারা সেই পথে অমৃতত্ব লাভ করিয়া থাকেন।’ অতএব যে সমুদয় গৃহস্থ জানেন যে, আমরা এইরূপে অগ্নি হইতে জাত—অগ্নির সন্তান—অগ্নিস্বরূপই; তাঁহারা, এবং যে সমুদয় বানপ্রস্থ ও পরিব্রাজক বা ভিক্ষু অরণ্যবাসীও শ্রদ্ধাযুক্ত হইয়া সত্যের—হিরণ্যগর্ভনামক ব্রহ্মের উপাসনা করেন, কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিরূপ শ্রদ্ধার উপাসনা করেন না, তাঁহারা সকলে অর্চ্চিরাদি পথেই গমন করিয়া থাকেন। ৪
গৃহস্থগণ যে পর্য্যন্ত পঞ্চাগ্নিবিদ্যা কিংবা সত্যব্রহ্ম জানিতে না পারে, ততকাল পূর্ব্বোক্ত শ্রদ্ধাদি আহুতিক্রমে পঞ্চমী আহুতি হুত হইলে পর, যোষাগ্নি(স্ত্রীরূপ অগ্নি) হইতে জন্ম লাভ করে এবং পুনশ্চ জগতে অগ্নিহোত্রাদি কর্মের অনুষ্ঠান করিতে থাকে; সেই কর্মের ফলে ধূমাদিক্রমে(দক্ষিণায়ন পথে) পুনর্ব্বার পিতৃলোকে, আবার পর্জ্জন্যাদিক্রমে ইহলোকে গমনাগমন করিতে থাকে। তাহার পর আবার যোষাগ্নিতে জন্ম লাভ করিয়া—পুনশ্চ কর্মানুষ্ঠান করিয়া ঠিক এইরূপেই ঘটীযন্ত্রের ন্যায় গমনাগমন করতঃ পুনঃপুনঃ আবর্তিত হইতে থাকে। ৫
কিন্তু যখন তাহারা উক্ত প্রকারে জ্ঞানলাভ করিতে সমর্থ হয়, তখন তাহারা ঘটীযন্ত্রাকারে সংসার-ভ্ৰমি হইতে বিমুক্ত হইয়া অর্চ্চিরাদি পথে উপস্থিত হয়। এখানে ‘অর্চ্চিঃ’ অর্থ—কেবল অগ্নিজ্বালা বা অগ্নিশিখা নহে; তবে কিনা, উত্তরায়ণপথে অবস্থিত অর্চ্চিঃ-শব্দবাচ্য অর্চ্চির অভিমানিনী দেবতা। তখন তাহারা সেই অর্চ্চিরভিমানিনী দেবতাকে প্রাপ্ত হয়; যেহেতু পরিব্রাজকগণের
সাক্ষাৎসম্বন্ধে অগ্নিজালার(অগ্নিশিখার) সহিত কোন সম্বন্ধই নাই, সেই হেতু অচ্চিঃশব্দে তদভিমানিনী দেবতাই বুঝিতে হইবে। ইহার পর অহর্দেবতাকে [প্রাপ্ত হয়];[দিনেই মরিতে হইবে], এরূপ কোনও নিয়ম না থাকায় ‘অহঃ’ শব্দেও দিবসাভিমানিনী দেবতাই বুঝিতে হইবে। আয়ুর অবসানেই মৃত্যু হইয়া থাকে; কিন্তু এবংবিধ জ্ঞানসম্পন্ন পুরুষকে যে কেবল দিবসেই মরিতে হইবে, (রাত্রিতে নহে), এরূপ নিয়ম করিতে পারা যায় না। বিশেষতঃ রাত্রিতে মৃত ব্যক্তিরা যে[উৎক্রমণের জন্য] দিবসের প্রতীক্ষা করিবে, তাহাও নহে; কারণ, অন্য শ্রুতিতে আছে—‘সে যখনই দেহত্যাগ করে, তখনই আদিত্যে গমন করে’; [সুতরাং মৃতব্যক্তির সময়-প্রতীক্ষা কল্পনা করা যাইতে পারে না]। ৬
দিবসের(অহর) পর আপূর্য্যমাণ পক্ষে[উপস্থিত হয়], অহর্দেবতাকর্তৃক অতিবাহিত হইয়া আপূর্য্যমাণ পক্ষের দেবতাকে প্রাপ্ত হয়; আপূর্য্যমাণ পক্ষদেবতা অর্থ-শুক্লপক্ষের অগ্নিদেবতা। আপূর্য্যমাণ পক্ষের পর-শুক্লপক্ষীয় দেবতাগণকর্তৃক অতিবাহিত হইয়া-আদিত্য যে ছয় মাস কাল উত্তরদিকে গমন করেন, সেই উত্তরায়ণ ছয় মাসের অধিপতি দেবতাগণকে প্রাপ্ত হয়। এখানে ‘ষণ্মাস’ পদে’ বহুবচন(মাসান্) থাকায়, বুঝা যায় যে, উত্তরায়ণের দেবতা ছয়টা সংঘচারী অর্থাৎ দলবদ্ধ হইয়া বিচরণ করেন। সেই সমুদয় মাসের পর, ষণ্মাস-দেবতাগণকর্তৃক পরিচালিত হইয়া দেবলোকাভিমানিনী দেবতার নিকট উপস্থিত হয়। দেবলোকের পর আদিত্যকে, আদিত্যের পর বৈদ্যুত পুরুষকে- বিদ্যুতের অভিমানিনী দেবতাকে প্রাপ্ত হয়। বিদ্যুৎ-দেবতার নিকটে উপস্থিত লোকদিগকে ব্রহ্মলোকবাসী অমানব-ব্রহ্মার মানসিক সংকল্প দ্বারা সৃষ্ট একজন পুরুষ আসিয়া ব্রহ্মলোকে লইয়া যান। ‘ব্রহ্মলোকান্’-এই বহুবচন হইতে প্রতীতি হয় যে, ব্রহ্মলোকেও উত্তমাধমভেদে ভূমিবিভাগ আছে; নচেৎ বহুবচনের প্রয়োগ হইত না। বিশেষতঃ উপাসনাগত তারতম্য থাকাও সম্ভব হয়;[সুতরাং উপাসনার তারতম্যানুসারে উত্তমাধম অংশবিশেষে গতি হওয়া অনুচিত নহে]। তাহার পর, সেই ব্রহ্মলোকবাসী পুরুষকর্তৃক নীত হইয়া সেই ব্রহ্মলোকে নিজেরা উৎকর্ষ লাভ করত প্রকৃষ্ট সংবৎসরকাল অর্থাৎ ব্রহ্মার পরিমাণে বহু কল্প পর্যন্ত বাস করিয়া থাকেন(১)। ৭
(১) তাৎপর্য্য—অর্চ্চিঃ ও অহঃ প্রভৃতি শব্দগুলি যদিও দ্রব্য ও কালবিশেষের বাচক বলিয়া আপাততঃ মনে হয় সত্য; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঐ সকল শব্দে অর্চ্চিঃ ও অহঃপ্রভৃতি দ্রব্য ও কালের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা’ বুঝিতে হইবে। ঐ সমুদয় দেবতাকে বেদান্তদর্শনে
১৫২১।
যাহারা ব্রহ্মলোকে গমন করে, তাহাদের আর পুনরাবৃত্তি হয় না, অর্থাৎ বর্তমান জগতে তাহাদের আর ফিরিয়া আসিতে হয় না;[কল্পান্তরে ফিরিয়া আসিতেও পারে; ইহার যুক্তি এই যে,] অন্য বেদশাখায় এইরূপ স্থলে ‘ইহ’ শব্দ পঠিত হইয়াছে। যদি বল, ‘ইহ’ শব্দে কেবল আকৃতিমাত্রের গ্রহণ, অর্থাৎ বর্তমান সৃষ্টির অনুরূপ যত সৃষ্টি আছে বা হইবে, ‘ইহ’ শব্দে সেই সমস্ত সৃষ্টিই বুঝিতে হইবে; যেমন “শ্বোভূতে পৌর্ণমাসীং যজেত” (রাত্রি প্রভাত হইলে পৌর্ণমাসী যাগ করিবে), এই বাক্যে ‘পৌর্ণমাসী’ পদটা আকৃতিমাত্রের বোধক, এখানেও তেমনি হউক? না,-তাহা বলিতে পার না; কারণ, তাহা হইলে ‘ইহ’ বিশেষণের কোনই সার্থকতা থাকে না, (শুধু ‘নাবর্ত্ততে’ বলিলেই হইত); কেন না, যদি একেবারেই পুনরাবৃত্তি না হইত, তাহা হইলে ‘ইহ’ বিশেষণটী সম্পূর্ণ নিরর্থক হইয়া পড়িত। ‘শ্বোভূতে পৌর্ণমাসীম্’ স্থলে যদি ‘শ্বোভূতে’ বলা না হইত, তাহা হইলে কিছুতেই উহা বুঝিতে পারা যাইত না; কাজেই ঐরূপ বিশেষণের প্রয়োগ যুক্তিযুক্ত হইয়াছে; সেখানেও যদি আকৃতিবিশেষ শ্বঃ শব্দের অর্থ না হয়, তবে সেখানেও শ্বঃ পদের প্রয়োগ নিরর্থকই হয়। অনুসন্ধান করিয়াও যেখানে ব্যবহৃত’ বিশেষণের কোনরূপ সার্থকতা পাওয়া যায় না, সেখানে সেই নিরর্থক বিশেষণ শব্দ পরিত্যাগ করিতে পারা যায়; কিন্তু বিশেষণের ফলাবগতিসত্ত্বে সেই বিশেষণ ত্যাগ করিতে পারা যায় না। অতএব এখানেও প্রতীতি হইতেছে যে, বর্তমান কল্পের পরে, তাহারা পুনরায় সংসারে আইসে বা আসিতে পারে.(১) ॥ ৩৯৩ ॥ ১৫ ॥
੩੪
সম্ভবন্তি, ধূমাদ্রাত্রিং রাত্রেরপক্ষীয়মাণপক্ষীয়মাণপক্ষাদ যান্ ষন্মাসান্ দক্ষিণামাদিত্য এতি, মাসেভ্যঃ পিতৃলোকং পিতৃ- লোকাচ্চন্দ্রম্, তে চন্দ্রং প্রাপ্যান্নং ভবন্তি, তাং স্তত্র দেবা যথা সোমং রাজানমাপ্যায়স্বাপক্ষীয়স্বেত্যেবমেনাস্থত্র ভক্ষয়ন্তি, তেষাং যদা তৎ পর্য্যবৈত্যথেমমেবাকাশমভিনিষ্পদ্যন্তে, আকাশা- দ্বায়ুং বায়োবৃষ্টিং বৃষ্টেঃ পৃথিবীম্, তে পৃথিবীং প্রাপ্যান্নং ভবন্তি, তে পুরুষাগ্নৌ হূয়ন্তে, ততো যোষাগ্নৌ জায়ন্তে লোকান্ প্রত্যুত্থায়িনস্ত এবমেবানুপরিবর্তন্তে, অথ য এতৌ পন্থানো ন বিদুস্তে কীটাঃ পতঙ্গা যদিদং দন্দশূকম্ ॥ ৩৯৪ ॥ ১৬ ॥
সরলার্থঃ।—অথ(পক্ষান্তরে) যে(উৎক্রান্ত্যাদিপদার্থষট্কবিদঃ কেবলকর্ম্মিণঃ) যজ্ঞেন(অগ্নিহোত্রাদিনা), দানেন(যজ্ঞাদন্যত্র ধনসম্প্রদানেন), তপসা(ক্লেশাত্মকেন চান্দ্রায়ণাদিনা) লোকান্(স্বর্গাদীন্) জয়ন্তি(ভোগ্যতয়া বশীকুর্ব্বন্তি), তে[প্রথমং] ধূমম্ অভিসম্ভবস্তি(প্রাপ্নুবন্তি); ধূমাৎ রাত্রিম্, রাত্রেঃ অপক্ষীয়মাণপক্ষম্(কৃষ্ণপক্ষম্); অপক্ষীয়মাণপক্ষাৎ[পরম্]—আদিত্যঃ যান্ ষট্ মাসান্ দক্ষিণাং(দক্ষিণাং দিশম্) এতি(গচ্ছতি),[তান্ মাসান্]; মাসেভ্যঃ পিতৃলোকম্, পিতৃলোকাৎ চন্দ্রম্,[অভিসম্ভবত্তি ইতি সর্ব্বত্র সম্বন্ধঃ]। [অত্রাপি ধূমাদিশব্দৈঃ তদভিমানিন্যো দেবতা লক্ষ্যন্তে]।
তে(ধূমাদিপথগামিনঃ) চন্দ্রং প্রাপ্য অন্নং(দেবানাং ভোগ্যং) ভবন্তি; তত্র দেবাঃ[যজ্ঞে] সোমং রাজানং যথা ‘আপ্যায়স্ব অপক্ষীয়স্ব’ ইতি[কৃত্বা ঋত্বিজঃ ভক্ষয়ন্তি], এবং(তথা) তান্ এনান্(এতান্ চন্দ্রলোকগতান্) তত্র (চন্দ্রলোকে) ভক্ষয়ন্তি(ভৃত্যবৎ উপভুঞ্জতে)। তেষাৎ(কর্মিণাৎ) তৎ (স্বর্গপ্রাপকং কৰ্ম্ম) যদা পর্য্যবৈতি(পরিক্ষীয়তে), অথ(কর্মক্ষয়ানন্তরম্) ইমম্ এব(প্রসিদ্ধম্) আকাশং অভিনিষ্পদ্যন্তে(সূক্ষ্মতয়া আকাশসাম্যং ভজন্তে); আকাশাৎ বায়ুম, বায়োঃ বৃষ্টিম্, বৃষ্টেঃ পৃথিবীং[অভিনিষ্পদ্যন্তে]। তে পৃথিবীং প্রাপ্য অন্নং ভবন্তি; তে পুনঃ[অন্নরূপেণ] পুরুষাগ্নৌ হয়ন্তে। ততঃ(তদনন্তরম্)- যোষাগ্নৌ—[হুতাঃ] লোকান্ প্রতি উত্থায়িনঃ জায়ন্তে(লোকবিশেষে ভোগাধিকারিণঃ সন্তঃ উৎপদ্যন্তে)। তে(কর্মিণঃ) এবম্ এব অনুপরিবর্ত্তন্তে
১০২৩
ঊর্দ্ধাধোভাবেন আবর্তন্তে)। অথ(পক্ষান্তরে) যে এতৌ পন্থানো (দক্ষিণায়নোত্তরায়ণলক্ষণৌ), ন বিদুঃ(ন জানন্তি), তে কীটাঃ পতঙ্গাঃ যৎ চ ইদং দন্দশূকং(দংশ-মশকাদি),(তদপি ভবন্তি ইত্যর্থঃ) ॥ ৩৯৪ ॥ ১৬ ॥
মূলানুবাদ:-আর যাহারা যজ্ঞ, দান ও তপস্যা দ্বারা স্বর্গাদি লোক-লাভের অধিকারী হয়, তাহারা প্রথমে ধূম প্রাপ্ত হয়; ঘুমের পর রাত্রি, রাত্রির পর অপক্ষীয়মাণ পক্ষ(কৃষ্ণপক্ষ), কৃষ্ণপক্ষের পর, যে ছয়মাসকাল আদিত্য দক্ষিণদিকে গমন করেন, সেই ছয়মাস, ছয় মাসের পর পিতৃলোক, পিতৃলোকের পর চন্দ্রলোক প্রাপ্ত হয়; তাহারা চন্দ্রকে প্রাপ্ত হইয়া দেবগণের অন্ন(উপভোগ্য) হইয়া থাকে। সেখানে দেবগণ তাহাদিগকে ভক্ষণ-উপভোগ করিয়া থাকেন; ঋত্বিকগণ যজ্ঞেতে যেমন-‘আপ্যায়স্ব অপক্ষীয়স্ব’(তৃপ্তিলাভ কর, সোমরস শেষ করিয়া ফেল) বলিয়া সোম ভক্ষণ করিয়া থাকেন, তেমনি চন্দ্রলোকগত কর্মীদিগকেও দেবতারা উপভোগ করিয়া থাকেন। তাহাদের ভোগানুকূল কৰ্ম্ম যখন পরিসমাপ্ত হইয়া যায়, তখন তাহারা এই আকাশের সমতা প্রাপ্ত হয়; আকাশের পর বায়ু- সাম্য, বায়ু হইতে বৃষ্টির সহিত মিলিত হয়; বৃষ্টির পর পৃথিবীতে পতিত হয়। তাহারা পৃথিবীকে পাইয়া-পৃথিবীতে পতিত হইয়া অন্নের-শস্যের সহিত মিলিত হয়; সেই অন্নের সহিত তাহারা পুরুষরূপ অগ্নিতে আহুত হইয়া থাকে। পুরুষাগ্নি হইতে[বীর্য্যরূপে] স্ত্রীরূপ ‘অগ্নিতে নিহিত হইয়া জন্মলাভ করে, এবং লোকবিশেষ- প্রাপ্তির উপযুক্ত হয়। তাহারা এই প্রণালীক্রমেই নিরন্তর ঘুরিয়া বেড়ায়। আর যাহারা উক্ত(দক্ষিণায়ন ও উত্তরায়ণ) দুইটা পথই জানে না, তাহারা কীট, পতঙ্গ, এবং ডাঁশ, মশক প্রভৃতিরূপে জন্মলাভ করিয়া থাকে ॥ ৩৯৪ ॥ ১৬ ॥
ইতি ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ দ্বিতীয়ঃ অধ্যায়ঃ ॥ ৬ ॥ ২ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথ পুনর্যে নৈবং বিদুঃ, উৎক্রান্ত্যাদ্যগ্নিহোত্র- সম্বন্ধ-পদার্থষট্কশ্যৈব বেদিতারঃ কেবলকর্মিণঃ যজ্ঞেন অগ্নিহোত্রাদিনা, দানেন
বহির্ব্বেদি ভিক্ষমাণেষু দ্রব্যসংবিভাগলক্ষণেন, তপসা বহির্ব্বেদ্যেব দীক্ষাদি- ব্যতিরেকেণ কৃচ্ছ্রচান্দ্রায়ণাদিনা, লোকান্ জয়ন্তি; লোকানিতি বহুবচনাৎ তত্রাপি ফলতারতম্যমভিপ্রেতম্; তে ধূমমভিসম্ভবস্তি। উত্তরমার্গ ইব ইহাপি দেবতা এব ধূমাদিশব্দ-বাচ্যাঃ, ধূমদেবতাঃ প্রতিপদ্যন্ত ইত্যর্থঃ; আতিবাহিতত্বং চ দেবতানাং তদ্বদেব। ধূমাৎ রাত্রিং রাত্রিদেবতাম্, ততঃ অপক্ষীয়মাণপক্ষম্— অপক্ষীয়মাণ-পক্ষদেবতাম্, ততো যান্ যন্মাসান্ দক্ষিণাং দিশমাদিত্য এতি, তান্ মাসদেবতাবিশেষান্ প্রতিপদ্যন্তে। ১
টীকা।—দেবযানং পন্থানমুক্ত। পথ্যন্তরং বক্তুং বাক্যান্তরমাদায় পদদ্বয়ং ব্যাকরোতি— অথেত্যাদিনা। কথং তে ফলভাগিনো ভবন্তীত্যাকাঙ্ক্ষায়ামাহ--যজ্ঞেনেতি। ননু দানতপসী যজ্ঞগ্রহণেনৈব গৃহীতে, ন পৃথগগ্রহীতব্যে, তত্রাহ—বহির্ব্বেদীতি। দীক্ষাদীত্যাদি- পদেন পয়োব্রতাদিযজ্ঞাঙ্গসংগ্রহঃ। তত্রেতি পিতৃলোকোক্তিঃ। অপিশব্দো ব্রহ্মলোক- দৃষ্টান্তার্থঃ। ধূমসংপত্তেরপুরুষার্থত্বমাশঙ্ক্যোক্তম্—উত্তরমার্গ ইবেতি। ইহাপীতি পিতৃষাণ- মার্গেহপীত্যর্থঃ। তত্ত্বদেবেত্যুত্তরমার্গগামিনীনাং দেবতানামিবেত্যর্থঃ। ১
মাসেভ্যঃ পিতৃলোকম, পিতৃলোকাৎ চন্দ্রম্। তে চন্দ্রং প্রাপ্য অন্নং ভবন্তি। তান্ তত্রান্নভূতান্ যথা সোমং রাজানমিহ যজ্ঞে ঋত্বিজঃ আপ্যায়স্বাপক্ষীয়স্ব- ইতি ভক্ষয়ন্তি, এবমেতান্ চন্দ্রং প্রাপ্তান্ কর্ম্মিণঃ ভৃত্যানিব স্বামিনঃ, ভক্ষয়ন্তি উপভুঞ্জতে দেবাঃ। আপ্যায়স্বাপক্ষীয়স্বেতি ন মন্ত্রঃ, কিং তহি? অপ্যায্যাপ্যাষ্য চমসস্থম্ ভক্ষণেনোপক্ষয়ঞ্চ কৃত্বা পুনঃপুনর্ভক্ষয়ন্তীত্যর্থঃ। এবং দেবা অপি সোমলোকে লব্ধশরীরান্ কর্ম্মিণ উপকরণভূতান্ পুনঃপুনর্বিশ্রাময়ন্তঃ কৰ্ম্মানুরূপং ফলং প্রযচ্ছন্তঃ-তদ্ধি তেষামাপ্যায়নং সোমস্যাপ্যায়নমিব, উপযুঞ্জতে উপকরণ- ভূতান্ দেবাঃ। ২
তত্রেতি ‘প্রকৃতলোকোক্তিঃ। কর্ম্মিণাং তর্হি দেবৈর্ভক্ষ্যমাণানাং চন্দ্রলোকপ্রাপ্তিরনর্থায়ৈ- বেত্যাশঙ্ক্যাহ-উপভুঞ্জত ইতি। অন্যথাপ্রতিভাসং ব্যাবর্ত্তয়তি-আপ্যায়স্বেতি। এবং দেবা অপীতি সংক্ষিপ্তং দাষ্টান্তিকং বিবৃণোতি-সোমলোক ইতি। কথং পৌনঃপুস্তেন বিশ্রান্তিঃ সংপাদ্যতে, তত্রাহ-কর্মানুরূপমিতি। দৃষ্টান্তবদ্দাষ্টান্তিকে কিমিত্যাপ্যায়নং নোক্তং, তত্রাহ-তৃষ্ণীতি। পুনঃ পুনর্বিশ্রাম্যাভ্যনুজ্ঞানমিতি যাবৎ। ২
তেষাং কর্মিণাং যদা যস্মিন্ কালে, তৎ যজ্ঞদানাদিলক্ষণৎ সোমলোক- প্রাপকং কৰ্ম্ম পর্য্যবৈতি পরিগচ্ছতি পরিক্ষীয়ত ইত্যর্থঃ; অথ তদা ইমমেব সিদ্ধমাকাশমভিনিষ্পদ্যন্তে। যাস্তাঃ শ্রদ্ধাশব্দবাচ্যা দ্যুলোকাগ্নৌ হুতা আপঃ সোমাকারেণ পরিণতা, যাভিঃ সোমলোকে কর্ম্মিণামুপভোগায় শরীরমারব্ধ- মন্ময়ম্, তাঃ কৰ্ম্মক্ষয়াৎ হিমপিণ্ড ‘ইবাতপসম্পর্কাৎ প্রবিলীয়ন্তে। প্রবিলীনাঃ
১০২৫
সুধা। আকাশভূতা ইব ভবন্তি; তদিদমুচ্যতে—ইমমেবাকাশমভিনিষ্পত্ত- ইতি। ৩
লোকদ্বয়প্রাপকৌ. পন্থানাবিথং ব্যাখ্যায় পুনরেতল্লোকপ্রাপ্তিপ্রকারমাহ— তেষামিত্যাদিনা। কথং চন্দ্রস্থলস্খলিতানাং কর্ম্মিণামাকাশতাদাত্ম্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ—যাস্তা ইতি। সোমাকারপরিণতত্বমেব ক্ষোরয়তি—যাভিরিতি। তস্য ঝটিতি দ্রবীভবনযোগ্যতাং দর্শয়ন্তি— অস্ময়মিতি। স্বাভাব্যাপত্তিরুপপত্তেরিতি ন্যায়েনাহ—আকাশভূতা ইবেতি। ৩
তেহপি কর্মিণস্তচ্ছরীরাঃ সন্তঃ পুরোবাতাদিনা ইতশ্চামুতশ্চ নীয়ন্তেহন্ত- রিক্ষগাঃ; তদাহ—আকাশাদ্বায়ুমিতি। বায়োবৃষ্টিং প্রতিপদ্যন্তে; তদুক্তম্— পর্জ্জন্যাগ্নৌ সোমং রাজানং জুহ্বতীতি। ততো বৃষ্টিভূতা ইমাৎ পৃথিবীং পতন্তি। তে পৃথিবীং প্রাপ্য ব্রীহিষবাদ্যন্নং ভবন্তি; তদুক্তম্—অস্মিল্লোকেহগ্নৌ বৃষ্টিং জুহ্বতি, তস্যা আহুত্যা অন্নং সম্ভবন্তীতি। তে পুনঃ পুরুষাগ্নৌ হুয়ন্তে অন্নভূতা রেতঃসিচি। ততো রেতোভূতা যোষাগ্নৌ হুয়ন্তে, ততো জায়ন্তে; তে লোকং প্রত্যুখায়িনঃ, তে লোকং প্রত্যুটিষ্ঠন্তোহগ্নিহোত্রাদিকর্ম অনুতিষ্ঠন্তি, ততো ধূমা- দিনা পুনঃ পুনঃ সোমলোকৎ পুনরিমৎ লোকমিতি—তে এবং কর্মিণোহনু- পরিবর্তন্তে ঘটীযন্ত্রবৎ চক্রীভূতা বভ্রমন্তীত্যর্থঃ, উত্তরমার্গায় সদ্যোমুক্তয়ে বা যাবদ্ ব্রহ্ম ন বিদুঃ “ইতি নু কাময়মানঃ সৎসরতি” ইত্যুক্তম্। ৪
আকাশাদ্বায়ুপ্রাপ্তিপ্রকারমাহ-তে পুনরিতি। অন্ত্যাধিষ্ঠিতে পূর্ব্ববদভিলাপাদিতি ন্যায়েনাহ-তে পৃথিবীমিতি। রেতঃসিযোগোহখেতি ন্যায়মাশ্রিত্যাহ-তে পুনরিতি। যোনেঃ শরীরমিতি ন্যায়মনুসৃত্যাহ-তত ইতি। উৎপন্নানাং কেষাংচিদিষ্টাদিকারিত্বমাহ- লোকমিতি। কর্মানুষ্ঠানানন্তরং তৎফলভাগিত্বমাহ-ততো ধূমাদিনেতি। সোমলোকে ফলভোগানন্তরং পুনরেতল্লোকপ্রাপ্তিমাহ-পুনরিতি। পৌনঃপুন্যেন বিপরীতনস্যাবধিং সুচয়তি-উত্তরমার্গায়েতি। প্রাগ্ জ্ঞানাৎ সংসরণং যষ্ঠেহপি ব্যাখ্যাতমিত্যাহ-ইতি দ্বিতি। ৪
অথ পুনর্যে উত্তরং দক্ষিণঞ্চৈতৌ পন্থানৌ ন বিদুঃ, উত্তরস্য দক্ষিণস্য বা পথঃ প্রতিপত্তয়ে জ্ঞানং কৰ্ম্ম বা নানুতিষ্ঠন্তীত্যর্থঃ। তে কিং ভবন্তীত্যুচ্যতে,- তে কীটাঃ পতঙ্গাঃ, যদিদং যচ্চেদৎ দন্দশুকং দংশমশকমিত্যেতৎ ভবন্তি। এবং হীয়ৎ সংসারগতিঃ কষ্টা; অস্মিন্ নিমগ্নস্থ্য পুনরুদ্ধার এব দুর্লভঃ। তথা চ শ্রুত্যন্তরম্,-“তানীমানি ক্ষুদ্রাণ্যসকৃদাবর্তীনি ভূতানি ভবন্তি জায়স্ব ম্রিয়স্ব” ইতি। তস্মাৎ সর্ব্বোৎসাহেন যথাশক্তি স্বাভাবিককৰ্ম্মজ্ঞানহানেন দক্ষিণোত্তর- মার্গপ্রতিপত্তিসাধনং শাস্ত্রীয়ং কৰ্ম্ম জ্ঞানং বা অনুতিষ্ঠেদিতি বাক্যার্থঃ। তথা- চোক্তম্-“অতো বৈ খলু দুর্নিপ্রপতরম্, তস্মাদন্নাজুগুপ্সেত” ইতি শ্রুত্যন্তরা-
ন্মোক্ষায় প্রযতেতেত্যর্থঃ। অত্রাপি উত্তরমার্গ-প্রতিপত্তিসাধন এব মহান্ যত্নঃ কর্তব্য ইতি গম্যতে, “এবমেবানুপরিবর্তন্তে” ইত্যুক্তত্বাৎ। ৫
স্থানদ্বয়মাবৃত্তিসহিতমুক্ত। স্থানান্তরং দর্শয়তি—অথেত্যাদিনা। স্থানদ্বয়াতৃতীরে স্থানে বিশেষং কথয়তি—এবমিতি। তৃতীয়ে স্থানে ছান্দোগ্যশ্রুতিং সংবাদয়তি—তথা চেতি অমুদ্ভা গতেরতিকষ্টত্বে পরিশিষ্টং বাক্যার্থমাচষ্টে—তস্মাদিতি। সর্ব্বোৎসাহো বাস্যায়চেতসাং প্রযত্বঃ। যদুক্তমস্যাং নিমগ্নস্য পুনরুদ্ধারো দুর্লভো ভবতীতি, তত্র শ্রুত্যন্তরমনুকূলয়তি— তথা চেতি। অতো ব্রীহ্যাদিভাবাদিত্যর্থঃ। তস্মাদিত্যতিকষ্টাৎ সংসারাদিত্যর্থঃ। দক্ষিণোত্তরমার্গপ্রাপ্তিসাধনে যত্নসাম্যমাশঙ্ক্যাহ—অত্রাপীতি। ৫
এবং প্রশ্নাঃ সর্ব্বে নির্ণীতাঃ। “অসৌ বৈ লোকঃ” ইত্যারভ্য “পুরুষঃ সম্ভবতি” ইতি চতুর্থঃ, “যতিথ্যামাহুত্যাম্” ইত্যাদিঃ প্রাথম্যেন; পঞ্চমস্ত দ্বিতীয়- ত্বেন—দেবযানস্য বা পথঃ প্রতিপদং পিতৃযাণস্য বেতি দক্ষিণোত্তরমার্গপ্রতিপত্তি- সাধনকথনেন; তেনৈব চ প্রথমোহপি। অগ্নেরারভ্য কেচিদর্চ্চিঃ প্রতিপদ্যন্তে, কেচিদ্ধুমমিতি বিপ্রতিপত্তিঃ। পুনরাবৃত্তিশ্চ দ্বিতীয়ঃ প্রশ্নঃ—আকাশাদি- ক্রমেণেমৎ লোকমাগচ্ছন্তীতি; তেনৈবাসৌ লোকো ন সম্পূর্ণরূপে, কীটপতঙ্গাদি- প্রতিপত্তেশ্চ কেষাঞ্চিদিতি—তৃতীয়োহপি প্রশ্নো নির্ণীতঃ ॥ ৩৯৪ ॥ ১৬ ॥
পঞ্চ প্রশ্নান্ প্রস্তুত্য কিমিতি প্রত্যেকং তেষাং নির্ণয়ো ন কৃত ইত্যাশঙ্ক্যাহ-এবমিতি। নির্ণীতং প্রকারমেব সংগৃহ্নাতি-অসাবিত্যাদিনা। প্রাথম্যেন নির্ণীত ইতি সংবন্ধঃ। দেবযানস্যেত্যাদিঃ পঞ্চমঃ প্রশ্নঃ। স তু দ্বিতীয়ত্বেন দক্ষিণাদিমার্গাপত্তিসাধনোক্ত্যা নির্ণীত ইত্যর্থঃ। তেনৈব মার্গদ্বয়প্রাপ্তিসাধনোপদেশেনৈবেতি যাবৎ। মৃতানাং প্রজানাং বিপ্রতিপত্তিঃ প্রথমপ্রশ্নস্তস্য নির্ণয়প্রকারমাহ-আগ্নেরিতি। দ্বিতীয়প্রশ্নস্বরূপমনূদ্য তস্য নির্ণীতত্ত্বপ্রকারং প্রকটয়তি-পুনরাবৃত্তিশ্চেতি। আগচ্ছন্তীতি নির্ণীত ইত্যুত্তরত্র সংবন্ধঃ। তেনৈব পুনরাবৃত্তেঃ সন্তেনেত্যর্থঃ। অমুষ্য লোকস্যাসংপূর্তির্হি তৃতীয়ঃ প্রশ্নঃ; স চ স্বাভ্যাং হেতুভ্যাং প্রাগুক্তাভ্যাং নির্ধারিতো ভবতীতি ভাবঃ। ৩৯৪। ১৬।
ভাষ্যানুবাদ।—পক্ষান্তরে, যাহারা এইপ্রকার জানে না,—কেবল অগ্নিহোত্র-যজ্ঞসম্পর্কিত উৎক্রমণাদি ছয়টা বিষয় মাত্র জানে; তাহারা যজ্ঞ— অগ্নিহোত্রাদি কর্ম্ম দ্বারা, দান দ্বারা—বেদীর বাহিরে ভিক্ষার্থীদিগকে দ্রব্য বিতরণ দ্বারা, এবং তপস্যা—বেদীর বাহিরেই দীক্ষাদিভিন্ন কৃচ্ছ্রচান্দ্রায়ণাদি দ্বারা স্বর্গাদি লোকসমূহ জয় করে(নিজেদের ভোগযোগ্য করে)। এখানে ‘লোকান্’ এই বহুবচন থাকায় বুঝিতে হইবে যে, কর্ম্মানুসারে ফলেরও তারতম্য
১৫২৭
ঘটিয়া থাকে। সেই কর্মিগণ প্রথমে ধূম প্রাপ্ত হয়। উত্তরারণ পথে অর্চ্চিঃ- প্রভৃতির ন্যায় এখানেও ধূমপ্রভৃতি শব্দে তদভিমানিনী দেবতা বুঝিতে হইবে; পূর্ব্বের ন্যায় ইহারাও আতিবাহিক; অতএব তাহারা প্রথমে ধুমাভিমানিনী দেবতাকে প্রাপ্ত হয়। ধূমের পর রাত্রিকে—রাত্রির দেবতাকে, তাহার পর অপক্ষীয়মাণ পক্ষকে অর্থাৎ কৃষ্ণপক্ষাভিমানিনী দেবতাকে; সেখান হইতে— সূর্য্যদেব যে ছয়মাস কাল দক্ষিণদিকে গমন করেন, সেই যক্ষ্মাস-দেবতাদিগকে প্রাপ্ত হয়। ১
মাসের পর পিতৃলোক, পিতৃলোকের পর চন্দ্রলোক প্রাপ্ত হয়। তাহারা চন্দ্রকে পাইয়া অর্থাৎ চন্দ্রলোকে যাইয়া অন্ন হইয়া থাকে। যজ্ঞে ঋত্বিকগণ যেরূপ ‘আপ্যায়স্ব, অপক্ষীয়স্ব’ বলিয়া সোমরস পান করেন, তদ্রূপ দেবগণও চন্দ্রলোকগত সেই সকল কর্মী পুরুষকে—প্রভুরা যেমন ভৃত্যবর্গকে ভোগ করিয়া থাকেন, তেমনি উপভোগ করেন। এখানে ‘আপ্যায়স্ব অপক্ষীয়স্ব’ কথাটী মন্ত্র নহে, পরন্তু ইহার অর্থ এই যে, ঋত্বিকগণ চমসস্থিত সোমপান সময়ে যে প্রকার, ‘ইহা ভক্ষণ কর, এবং তৃপ্তিলাভ কর’, এই বলিয়া ভক্ষণ করত উহার ক্ষয়সাধন করেন, এবং পুনঃ পুনঃ তাহা ভক্ষণ করেন; এই প্রকার দেবগণও চন্দ্রলোকে লব্ধ- শরীর ও নিজেদের ভোগোপকরণভূত কর্মী পুরুষদিগকে কর্ম্মানুরূপ ফল প্রদান- পূর্ব্বক আপ্যায়িত করেন; সোমরসের ন্যায় ইহাদের পক্ষেও উহাই আপ্যায়ন; এইরূপে আপ্যায়িত করিয়া উপভোগ করিয়া থাকেন। ২
যে সময় সেই কর্মীদিগের চন্দ্রলোকপ্রাপ্তি-সাধন যজ্ঞাদি কৰ্ম্ম অর্থাৎ কৰ্ম্ম- জনিত পুণ্য সম্পূর্ণরূপে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, সেই সময় তাহারা এই লোকপ্রসিদ্ধ আকাশ প্রাপ্ত হয়। শ্রদ্ধাশব্দবাচ্য যে জল দ্যুলোকাগ্নিতে আহুত হইয়া সোমাকারে পরিণত হইয়াছিল, এবং যে সমুদয় জল দ্বারা কর্মীদিগের উপভোগের নিমিত্ত সোমলোকে জলময় শরীর আরব্ধ হইয়াছিল, কর্মক্ষয়ের পর সেই সমুদয় জল সূর্যকিরণ-সংস্পর্শে হিমপিণ্ডের ন্যায় গলিয়া যায়; গলিবার পর সে সমুদয় জল আকাশের মত সূক্ষ্ম হইয়া থাকে; ‘ইমম্ এব আকাশম্ অভিনিষ্পদ্যন্তে’ কথায় এই অভিপ্রায়ই ব্যক্ত করা হইয়াছে। ৩
সেই কর্মিগণ পূর্ব্ব শরীরে থাকিয়াই পুরোবাতাদি(পূর্ব্বদিকের বায়ুপ্রভৃতি) দ্বারা পরিচালিত হইয়া পুনর্ব্বার আকাশেই এদিকে সেদিকে নীত হইতে থাকে; ‘আকাশাৎ বায়ুম্’ কথায় তাহাই ব্যক্ত করা হইয়াছে। অনন্তর বায়ু হইতে বৃষ্টি প্রাপ্ত হয়; এই কথাই “পর্জ্জন্যাম্নৌ সোমং রাজানৎ জুহ্বতি” বাক্যে
কথিত হইয়াছে। তাহার পর, বৃষ্টিরূপে এই পৃথিবীতে পতিত হয়; তাহারা পৃথিবীতে পতিত হইয়া ধান্য ও যবপ্রভৃতি অন্নরূপে প্রাদুর্ভূত হয়; ইহাই ‘অস্মিন্ লোকে অগ্নৌ বৃষ্টিং জুহ্বতি, তস্যা আহুত্যা অন্নৎ সম্ভবন্তি” বাক্যে বর্ণিত হইয়াছে। তাহারা অন্নরূপেই আবার রেতঃসেক-সমর্থ পুরুষরূপ অগ্নিতে আহত হয়; তাহার পর শুক্ররূপে স্ত্রীরূপ অগ্নিতে আহত হয়; তাহার পর জন্ম লাভ করিয়া থাকে; এবং তাহারাই লোকের প্রতি উত্থিত হয়, অর্থাৎ তাহারাই স্বর্গাদি লোকোদ্দেশে ঐরূপে উত্থান করত অগ্নিহোত্রাদি কর্ম্মের অনুষ্ঠান করিতে থাকে। তাহার পর বারংবার সোমলোকে এবং পুনর্ব্বার ইহলোকে,-এইরূপে কর্মিগণ ঘটীযন্ত্রের ন্যায় চক্রাকারে নিরন্তর পরিভ্রমণ করিতে থাকে,-যতকাল তাহারা উত্তরায়ণ পথের জন্য বা সদ্যোমুক্তির নিমিত্ত ব্রহ্মকে জানিতে না পারে। পূর্ব্বেও কথিত হইয়াছে যে, ‘কামনাশালী লোক এইরূপে সংসারী হইয়া থাকে’ ইত্যাদি। ৪
আর যাহারা উত্তরায়ণ বা দক্ষিণায়ন কোন পথই জানে না, অর্থাৎ উত্তরায়ণ বা দক্ষিণায়ন পথ লাভের জন্য জ্ঞান বা কর্মের অনুষ্ঠান করে না, তাহারা কি হয়? সে কথা বলিতেছেন-তাহারা কীট, পতঙ্গ এবং এই যে, দন্দশুক- পুনঃপুনঃ দংশনশীল ডাঁশ মশক প্রভৃতি, সেই সমুদয় জন্ম প্রাপ্ত হয়। এই যে, সংসারগতি, ইহা এমনই কষ্টকর যে, ইহার মধ্যে নিমগ্ন ব্যক্তির পুনরায় উদ্ধার পাওয়া বড়ই কঠিন। এতদনুরূপ অন্য শ্রুতিও আছে-‘তাহারা’ পুনঃপুনঃ আবৃত্তিস্বভাব ‘জায়স্ব-ম্রিয়স্ব’ নামে পরিচিত এই সমস্ত ক্ষুদ্র প্রাণীরূপে প্রাদুর্ভূত হয়, ইত্যাদি। অতএব মানুষ স্ব স্ব শক্তি অনুসারে পূর্ণ উৎসাহের সহিত স্বাভাবিক জ্ঞান ও কর্মানুষ্ঠান পরিত্যাগপূর্ব্বক দক্ষিণ ও উত্তরায়ণ পথ প্রাপ্তির উপায়ভূত জ্ঞান ও কর্মের অনুষ্ঠান করিবে, ইহাই উক্ত বাক্যের তাৎপর্য্যার্থ। অন্য শ্রুতিতেও এইরূপ কথাই উক্ত হইয়াছে-‘ইহা হইতে’ অর্থাৎ অন্নভাব প্রাপ্তি হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়াই বড় কষ্টকর; অতএব এই অবস্থা প্রাপ্তির যে সকল উপায়, সে সকলকে ঘৃণা করিবে। এই শ্রুতির উপদেশ হইতে বুঝা যায় যে, মোক্ষলাভের জন্যই যত্ন করিতে হইবে। এখানে ইহাও বুঝা যাইতেছে যে, উত্তর- মার্গপ্রাপ্তির উপায়বিষয়েই যে, সমধিক যত্ন করিতে হইবে, ইহাই উক্ত বাক্যের যথার্থ অর্থ; কেন না, এই শ্রুতিতেও উক্ত হইয়াছে যে, ‘এই রকমেই বারংবার সংসারে আবর্তিত হইয়া থাকে’;[এই কথাটা বৈরাগ্যেরই উদ্দীপক]। এইরূপে প্রশ্ন পাঁচটার উত্তর নিরূপিত হইল। ৫
১৫২৯
[ বিশেষ এই যে,] ‘অসৌ বৈ লোকঃ’ হইতে আরম্ভ করিয়া ‘পুরুষঃ সম্ভবতি’ পর্যন্ত যে কয়েকটা প্রশ্ন করা হইয়াছে, তন্মধ্যে ‘যতিথ্যাম্ আহুত্যাম্’ এই চতুর্থ প্রশ্নটী প্রথম প্রশ্নরূপে, পঞ্চম প্রশ্নটাও ‘দেবযান বা পিতৃযাণ পথের প্রাপ্তি- সাধন[ জান কি?]’ এইরূপে দক্ষিণ ও উত্তরায়ণ পথের প্রাপ্তিসাধন কথন- প্রসঙ্গে দ্বিতীয় প্রশ্নোত্তররূপে কথিত হইয়াছে; প্রথম প্রশ্নও তাহা দ্বারাই নিরূপিত হইয়াছে—‘কেহ কেহ অগ্নির পর অর্চ্চিঃ প্রাপ্ত হয়, কেহ কেহ বা ঘুম প্রাপ্ত হয়’ ইত্যাদি; পুনরাবৃত্তি বিষয়ে যে দ্বিতীয় প্রশ্ন—‘আকাশাদিক্রমে ইহলোকে আগমন করিয়া থাকে’ ইত্যাদি; এই প্রশ্নের উত্তর দ্বারাই—এবং ‘কেহ কেহ কীট-পতঙ্গাদি দেহ প্রাপ্ত হয় বলিয়াই ঐ চন্দ্রলোক পরিপূর্ণ হইয়া যায় না‘—এই উক্তিদ্বারা তৃতীয় প্রশ্নেরও উত্তর নির্ণীত হইল ॥ ৩৯৪ ॥ ১৬ ॥
ইতি ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ দ্বিতীয়োহধ্যায়ের ভাষ্যানুসারে ॥ ৬ ॥ ২ ॥
[Redacted]
স যঃ কাময়েত মহৎপ্রাপ্নুয়ামিত্যুদগয়ন আপূর্য্যমাণপক্ষস্য পুণ্যাহে দ্বাদশাহমুপসত্ত্বতী ভূত্বৌদুম্বরে কংসসে চমসে বা সর্ব্বো- ষধং ফলানীতি সম্ভৃত্য পরিসমূহ্য পরিলিপ্যাগ্নিমুপসমাধায় পরিস্তীর্য্যাবৃতাজ্যং সংস্কৃত্য পুংসা নক্ষত্রেণ মন্থং সন্নীয় জুহোতি—যাবন্তো দেবাস্ত্বয়ি জাতবেদস্তির্যঞ্চো ঘ্লন্তি পুরুষস্য কামান্ তেভ্যোহহং ভাগধেয়ং জুহোমি, তে মা তৃপ্তাঃ সর্ব্বৈঃ কামৈস্তর্পয়ন্ত স্বাহা।(যা তিরশ্চী নিপদ্যতেহহং বিধরণী ইতি তাং ত্বা ঘৃতস্য ধারয়া যজে সরাধনীমহং স্বাহা) ৩৯৫ ॥ ১ ॥
সন্মলার্থঃ।-সঃ যঃ(যঃ কশ্চিৎ) কাময়েত-মহৎ(মহত্ত্বং-লোক- প্রাধান্যম্) প্রাপ্নুয়াম্[অহম্] ইতি;[সঃ] উদগয়নে(উত্তরায়ণে) আপূর্য্য- মাণপক্ষস্য(শুক্লপক্ষস্য) পুণ্যাহে(পুণ্যতিথৌ) দ্বাদশাহং(পুণ্যাহাৎ প্রাক্ দ্বাদশাহং ব্যাপ্য) উপসদ্বতী(উপসদঃ জ্যোতিষ্টোমযাগে প্রসিদ্ধাঃ; তত্র পয়োভক্ষণরূপং যৎ ব্রতং-নিয়মবিশেষঃ, তত্ত্বতবিশিষ্টঃ) ভূত্বা, কংসে (কংসাকারে) চমসে(চমসাকারে) বা ঔদুম্বরে(উদুম্বরবৃক্ষনিৰ্ম্মিতে পাত্রে) সর্ব্বৌষধং(গ্রাম্যম্ আরণ্যং চ ওষধিসমুহং) ফলানি(তৎফলানি চ) ইতি (যথাশাস্ত্রং) সংভৃত্য(যথাশক্তি সমাহৃত্য), পরিসমুহ্য(ভূমিৎ বিশোধ্য) পরিলিপ্য(গোময়াদিভিঃ ভূমিসংস্কারৎ কৃত্বা), অগ্নিম্ উপসমাধার(প্রজাল্য) পরিসীর্য্য(কুশান বিস্তীর্য্য) আবৃতা(স্থালীপাকেন) আজ্যং সংস্কৃত্য (কর্মোপযোগি কৃত্বা), পুংসা(পুরুষজাতীয়েন) নক্ষত্রেণ[উপলক্ষিতে পুণ্যাহে] মন্থং(ঘৃতদধি-মধুসম্মিশ্রং সর্ব্বৌষধিফলবিশিষ্টং) সন্নীয়(আত্মনঃ অগ্নেশ মধ্যে সমানীয়)[বক্ষ্যমাণৈ: মন্ত্রৈঃ] জুহোতি-
হে জাতবেদঃ(জাতং জাতং বেত্তীতি জাতবেদাঃ, তৎসম্বোধনম্], ত্বয়ি [বিদ্যমানাঃ ত্বদধীনা ইত্যর্থঃ] যাবন্তঃ দেবাঃ তির্য্যঞ্চঃ(বক্রমতয়ঃ সন্তঃ) পুরুষস্য(জনস্য)(কামান্ ইষ্টান্ অর্থান্) স্বস্তি(প্রতিবয়ন্তি); অহং তেভ্যঃ (দেবেভ্যঃ) ভাগধেয়ং(আজ্যভাগং) জুহোমি। তে(দেবাঃ) তৃপ্তাঃ
১০৩১
(প্রসন্নাঃ সন্তঃ) মা(মাৎ) সর্ব্বৈঃ কামৈঃ তর্পয়ন্তু স্বাহা;[‘স্বাহা’ ইতি হবিস্ত্যাগার্থঃ; ইতি প্রথমমন্ত্রার্থঃ]।
তিরশ্চী(কুটিলমতিঃ) যা(দেবতা) ত্বা(ত্বাম্ আশ্রিতা সতী) ‘অহৎ বিধরণী’(‘সর্ব্বস্যৈব বিধারিকা অহমস্মি’ ইতি)[মত্বা] নিপদ্যতে(প্রবর্ত্ততে), অহং তাং সংরাধনীং(সর্ব্বার্থসাধিনীং দেবতাং) ঘৃতস্য ধারয়া যজে স্বাহা,[ইতি দ্বিতীয়মন্ত্রার্থঃ] ॥ ৩৯৫ ॥ ১ ॥
মূলানুবাদ?—যে কোন লোক যদি কামনা করে যে, আমি মহত্ত্ব(শ্রেষ্ঠত্ব) লাভ করিব, সেই লোক উত্তরায়ণে শুক্লপক্ষে পুরুষজাতীয় নক্ষত্রযুক্ত পুণ্যদিবসে, পূর্ব্ব হইতে দ্বাদশদিবসব্যাপী উপসদ্বূত ধারণপূর্ব্বক[ কংস এক প্রকার পাত্র,] তদাকার কিংবা চমসাকার ঔদুম্বর(যজ্ঞডুমুর বৃক্ষনির্মিত) পাত্রে শাস্ত্রোক্ত গ্রাম্য ও আরণ্য সমস্ত ওষধি ও ফলসমূহ যথাশক্তি সংস্থাপনপূর্ব্বক ভূমি সংশোধন ও বিলেপন করিয়া অগ্নি আনয়ন করত কুশ বিস্তীর্ণ করিয়া স্থালীপাকপূর্ব্বক আজ্যসংস্কার করিয়া অগ্নি ও নিজের মধ্য- স্থলে মন্থ আনয়নপূর্ব্বক নিম্নলিখিত মন্ত্রদ্বারা হোম করিবে।—
[ প্রথম মন্ত্রের অর্থ এইরূপ—] হে জাতবেদঃ—অগ্নে, তোমাতে আশ্রিত যে সমস্ত দেবতা ক্রূরবুদ্ধিসম্পন্ন হইয়া লোকের অভিলষিত বিষয়সমূহ বিনষ্ট করেন—পাইতে বাধা জন্মান, আমি তাঁহাদের উদ্দেশে আজ্যভাগ হোম করিতেছি। তাঁহারা পরিতৃপ্ত হইয়া সমস্ত কাম ‘দ্বারা(প্রার্থনীয় বিষয়) দ্বারা আমাকে তৃপ্ত করুন—[এই মন্ত্রোচ্চারণপূর্ব্বক] ‘স্বাহা’ বলিয়া হোম করিবে।
[ দ্বিতীয় মন্ত্রের অর্থ, এইরূপ—] কুটিলমতি যে দেবতা তোমাকে আশ্রয় করিয়া মনে করে যে, ‘আমিই সকলের ধারণকর্তা; আমি সর্ব্বার্থসাধিনী’; সেই দেবতাকে ঘৃতদ্বারা অর্চ্চনা করিতেছি; এই বলিয়া ‘স্বাহা’ শব্দ উচ্চারণপূর্ব্বক হোমীয় দ্রব্য অর্পণ করিবে ॥ ৩৯৫॥১।
শাঙ্করভাষ্যম্।—স যঃ কাময়েত। জ্ঞানকর্ম্মণোর্গতিরুক্তা, তত্র জ্ঞানং স্বতন্ত্রম্; কর্ম্ম তু দৈবমানুষবিত্তদ্বয়ায়ত্তম্; তেন কর্ম্মার্থং বিত্তমুপার্জনীয়ম্; তচ্চ অপ্রত্যবায়কারিণোপায়েনেতি তদর্থং মহাখ্যৎ কর্ম্মারভ্যতে মহত্ত্বপ্রাপ্তয়ে।
মহত্বে চ সত্যর্থসিদ্ধং হি বিত্তম্; তদুচ্যতে—স যঃ কাময়েত। স যো বিত্তার্থী কর্মণ্যধিক্বতো যঃ কাময়েত; কিম্? মহৎ মহত্ত্বং প্রাপ্নুয়াং মহান্ স্যামিতীত্যর্থঃ। ১
তত্র মন্থ-কর্মণো বিধিৎসিতস্য কালো বিধীয়তে—উদগয়নে আদিত্যস্য; তত্র সর্ব্বত্র প্রাপ্তৌ আপূর্য্যমাণপক্ষস্য শুরুপক্ষস্য; তত্রাপি সর্বত্র প্রাপ্তৌ, পুণ্যাহে অনুকূলে আত্মনঃ কর্মসিদ্ধিকর ইত্যর্থঃ। দ্বাদশাহম্—যস্মিন্ পুণ্যেহনুকূলে কর্ম চিকীর্ষতি, ততঃ প্রাক্ পুণ্যাহমেবারভ্য দ্বাদশাহম্ উপসদ্রতী। উপসৎসু ব্রতম্, উপসদঃ প্রসিদ্ধা জ্যোতিষ্টোমে; তত্র চ স্তনোপচয়াপচয়দ্বারেণ পয়োভক্ষণং তদ্ব্রতম্; অত্র চ তৎকৰ্মানুপসংহারাৎ কেবলমিতিকর্তব্যতাশূন্যং পয়োভক্ষণ- মাত্রমুপাদীয়তে। ননু উপসদো ব্রতমিতি যদা বিগ্রহঃ, তদা সর্ব্বমিতিকর্তব্যতা- রূপং গ্রাহ্যং ভবতি, তৎ কস্মান্ন পরিগৃহ্যতে? ইত্যুচ্যতে—স্মার্তত্বাৎ কৰ্ম্মণঃ; স্মার্ত্তং হীদং মন্থকৰ্ম্ম। ২
টীকা।—ব্রাহ্মণান্তরমবতার্য্য সংগতিমাহ—স য ইতি। তত্রেতি নির্দ্ধারণে সপ্তমী। কথং তর্হি বিতোপার্জনং সংভবতি, তত্রাহ—তচ্চেতি। তদর্থং বিত্তসিদ্ধ্যর্থমিতি যাবৎ। ননু মহত্ত্বসিদ্ধ্যর্থমিদং কর্ম্মারভ্যতে, মহৎ প্রাপ্নুয়ামিতি শ্রুতেঃ, তৎকথমন্যথা প্রতিজ্ঞাতমিতি শঙ্কতে—মহত্ত্বেতি। পরিহরতি—মহত্ত্বে চেতি। উক্তেহর্থে শ্রুত্যক্ষরাণি যোজয়তি— তদুচ্যত ইত্যাদিনা। স যো বিত্তার্থী কাময়েত, তস্যেদং কর্ম্মেতি শেষঃ। যস্য কন্য- চিন্বিত্তার্থিনস্তহীদং কৰ্ম্ম স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ—কর্মণ্যধিকৃত ইতি। তত্র বিত্তার্থিনি পুংসীতি যাবৎ। উপসদো নামেষ্টিবিশেষাঃ। জ্যোতিষ্টোমে প্রবর্গ্যাহঃস্থিতি শেষঃ। কিং পুনস্তাসু, ব্রতমিতি, তদাহ—তত্র চেতি। যদুপসৎসু স্তনোপচয়াপচয়াভ্যাং পয়োভক্ষণং যজমানস্য অসিদ্ধং, তদত্রোপসদ্রতমিত্যর্থঃ। প্রকৃতেহপি তর্হি স্তনোপচয়াভ্যাং পয়োভক্ষণং স্যাদিতি চেত্নেত্যাহ—অত্র চেতি। মন্থাখ্যং কৰ্ম্ম সপ্তমার্থঃ। তৎকর্ম্মেত্যুপসদ্রূপকর্ম্মোক্তিঃ। কেবল- মিত্যস্যৈবার্থমাহ—ইতিকর্তব্যতাশূক্তমিতি। সমাসান্তরমাশ্রিত্য শঙ্কতে—নন্বিতি। কর্মধারয়- রূপং সমাসবাক্যং তদিত্যুক্তম্। মন্থাখ্যস্ত কর্ম্মণঃ স্মার্ত্তত্বাদত্র শ্রুত্যুক্তানামুপসদামুপসংগ্রহা- ভাবান্ন কর্মধারয়ঃ সিধ্যতীত্যুত্তরমাহ—উচ্যত ইতি। ২
ননু শ্রুতিবিহিতং সৎ কথং স্মার্ত্তং ভবিতুমর্হতি? স্বত্যনুবাদিনী হি শ্রুতিরিয়ম্; শ্রৌতত্বে হি প্রকৃতি-বিকারভাবঃ, ততশ্চ প্রাকৃতধর্মগ্রাহিত্বং বিকারকর্মণঃ; ন দ্বিহ শ্রৌতত্বম্; অতএব চ আবসথ্যাগ্নাবেতৎ কৰ্ম্ম বিধীয়তে, সর্ব্বা চ আবৃৎ স্মার্ত্তৈবেতি। উপসদ্রতী ভূত্বা পয়োব্রতী সন্নিত্যর্থঃ। ৩
* যক্ষকর্মণঃ স্মার্তত্বমাক্ষিপতি-নম্বিতি। পরিসমূহনপরিলেপনায়্যুপসমাধানাদেঃ স্মার্তার্থস্যাত্রোচ্যমানত্বাদিয়ং শ্রুতিঃ স্বত্যসুবাদিনী যুক্তা, তথা চৈতৎ কর্ম ভবত্যেব স্মার্তমিতি
১০৩৩
পরিহরতি-স্মৃতীতি। ননু শ্রুতেন স্মৃত্যনুবাদিনীত্বং, বৈপরীত্যাৎ, অতো ভবতীদং শ্রৌতমিত্যাশঙ্ক্যাহ-শ্রৌতত্বে হীতি। যদীদং কৰ্ম্ম শ্রৌতং, তদা জ্যোতিষ্টোমেনাস্য প্রকৃতিবিকৃতিভাবঃ স্যাৎ। সমগ্রাঙ্গসংযুক্তা প্রকৃতির্ব্বিকলাঙ্গসংযুক্তা চ বিকৃতিঃ। প্রকৃতি- বিকৃতিভাবে চ বিকৃতিকৰ্ম্মণঃ প্রাকৃতধর্মগ্রহিত্বাদুপসদ এব ব্রতমিতি বিগৃহ্য সর্বমিতি- কর্তব্যতারূপং শক্যং গ্রহীতুং, ন চাত্র শ্রৌতত্বমস্তি পরিলেপনাদিসংবন্ধাৎ। ন চ পূর্ব্বভাবিন্যাঃ শ্রুতেরুত্তরভাবিস্মৃত্যনুবাদিত্বাসিদ্ধিস্তস্যাস্ত্রৈকাল্যবিষয়ত্বাভ্যুপগমাদিতি ভাবঃ। মন্থকৰ্ম্মণঃ স্মার্তত্বে লিঙ্গমাহ-অত্র এবেতি। তত্রৈব হেত্বন্তরমাহ-সর্ব্বা চেতি। মন্থগতেতিকর্তব্যতা- হত্রাবৃদিত্যুচ্যতে। উপসদ এব ব্রতমিতি বিগ্রহাসংভবাদুপসৎসু ব্রতমিত্যম্মুক্তং সিদ্ধ- মুপসংহতু মিতিশব্দঃ। পয়োব্রতী সন্ বক্ষ্যমাণেন ক্রমেণ জুহোতীতি সংবন্ধঃ। ৩
ঔদুম্বের উদুম্বরবৃক্ষময়ে, কংসে চমসে বা তস্যৈব বিশেষণম্—কংসাকারে চমসাকারে বা ঔদুম্বর এব; আকারে তু বিকল্পঃ, ন ঔদুম্বরত্বে। অত্র সর্ব্বৌষধং সর্ব্বাসামোষধীনাৎ সমূহং যথাসম্ভবং যথাশক্তি চ সর্ব্বা ওষধীঃ সমাহৃত্য; তত্র গ্রাম্যাণান্ত দশ নিয়মেন গ্রাহ্যা ব্রীহিষবাদ্যা বক্ষ্যমাণাঃ; অধিকগ্রহণে তু ন দোষঃ; গ্রাম্যাণাৎ ফলানি চ যথাসম্ভবং যথাশক্তি চ। ইতিশব্দঃ সমস্তসম্ভারোপচয়প্রদর্শনার্থঃ; অন্যদপি যৎ সম্ভরণীয়ম্, তৎ সর্ব্বং সম্ভূত্যেত্যর্থঃ। ক্রমস্তত্র গৃহ্যোক্তো দ্রষ্টব্যঃ। ৪
তাম্রমৌদুম্বরমিতি শঙ্কাং বারয়তি—উদুম্বরবৃক্ষময় ইতি। তস্যৈবেতি প্রকৃতপাত্র- পরামর্শঃ। ঔদুম্বরত্বেহপি বিকল্পমাশঙ্ক্যাহ—আকার ইতি। অত্রেতি পাত্রনির্দেশঃ, অসংভবাদশক্যত্বাচ্চ সর্ব্বৌষধং সমাহৃত্যেত্যযুক্তমিত্যাশঙ্ক্যাহ—যথাসংভবমিতি; ওষধিষু নিয়মং দর্শয়তি—তত্রেতি। পরিসংখ্যাং বারয়তি—অধিকেতি। ইতি সংভৃত্যাত্রেতিশব্দস্য প্রদর্শনার্থত্বে ফলিতং বাক্যার্থং কথয়তি—অন্যদপীতি। ওষধ্যাদীনাং সংভরণানন্তরং পরিসমুহনাদিক্রমে কিং প্রমাণমিত্যাশঙ্ক্যাহ—ক্রম ইতি। ৪
পরিসমুহন-পরিলেপনে ভূমিসংস্কারঃ। অগ্নিমুপসমাধায়েতি বচনাৎ আবসথ্যেহগ্নাবিতি গম্যতে, একবচনাদুপসমাধানশ্রবণাচ্চ বিদ্যমানস্যৈবোপ- সমাধানম্। পরিস্তীর্য্য দর্ভান; আবৃতা—স্মার্তত্বাৎ কর্ম্মণঃ স্থালীপাকাবৃৎ পরিগৃহাতে, তয়া আজ্যং সংস্কৃত্য; পুংসা নক্ষত্রেণ পুংনাম্না নক্ষত্রেণ পুণ্যাহসংযুক্তেন, মন্থং সর্ব্বৌষধফলপিষ্টং তত্রৌদুম্বরে চমসে দধনি মধুনি ঘৃতে চ উপসিচ্য, একয়োপমন্থন্যা উপসঙ্মুখ্য, সন্নীয় মধ্যে সংস্থাপ্য, ঔদুম্বরেণ ভ্রুবেণ আবাপস্থানে আজ্যস্য জুহোতি এতৈর্মন্ত্রৈঃ ‘যাবন্তো দেবাঃ’ ইত্যাদ্যৈঃ ॥ ৩৯৫ ॥ ১ ॥
ভত্রেতি পরিসমূহনাদ্যুক্তিঃ। হোমাধারত্বেন ত্রেতাগ্নিপরিসমূহনং বারয়তি-অগ্নিমিতি।’ আরসখ্যেহ্নৌ হোম ইতি শেষঃ। কথমেতাবতা ‘ত্রেতাগ্নিপরিত্যাগঃ, তত্রাহ-একবচনাদিতি।
কথমুপসমাধানশ্রবণং ত্রেতাগ্নিনিবারকং, তত্রাহ-বিদ্যমানস্যেতি। আহবনীয়াদেশ্চাধেয়স্থাৎ ন প্রাগেব সত্ত্বমিতি ভাবঃ। মধ্যে স্বস্যাগ্নেশ্চেতি শেষঃ। আৱাপস্থানমাহুতিবিশেষ- প্রক্ষেপপ্রদেশঃ। ভো জাতবেদঃ, ত্বদধীনা যাবস্তো দেবা বক্রমতয়ঃ সন্তো মমার্থান্ প্রতিবন্নন্তি, তেভ্যোহহমাজ্যভাগং ত্বয্যর্পয়ামি; তে চ তেন তৃপ্তা ভূত্বা সর্ব্বৈরপি পুরুষার্থৈর্মাং তর্পয়ন্তু। অহং চ ত্বদধীনোহর্পিত ইতি আত্মমন্ত্রস্যার্থঃ। জাতং জাতং বেত্তীতি বা, জাতে জাতে বিদ্যত ইতি বা জাতবেদাঃ। যা দেবতা কুটিলমতিভূত্বা সর্ব্বস্যৈবাহমেব ধারয়ন্তীতি মত্বা ত্বামাশ্রিত্য বর্ত্ততে, তাং সর্ব্বসাধনীং দেবতামহং ঘৃতস্য ধারয়া যজে স্বাহেতি পূর্ব্ববদেব দ্বিতীয়মন্ত্রস্যার্থঃ। ৩৯৫।১।
ভাষ্যানুবাদ।—‘সঃ যঃ কাময়েত’ ইত্যাদি। ইতঃপূর্ব্বে জ্ঞান (উপাসনা) ও কর্ম্মের গতি বা ফল উক্ত হইয়াছে; তন্মধ্যে জ্ঞান হইতেছে স্বতন্ত্র অর্থাৎ অন্যের অনধীন, আর কর্ম্ম হইতেছে দৈব ও মানুষ বিত্তসাধ্য; সুতরাং তদুভয়ের অধীন; সেইজন্য কর্ম্মানুষ্ঠানের নিমিত্ত বিত্ত উপার্জন করা আবশ্যক হয়; কিন্তু যাহাতে প্রত্যবায় না জন্মে, এমন উপায়ে তাহা করিতে হয়; এই কারণে মহত্ত্ব বা শ্রেষ্ঠতা লাভের নিমিত্ত ‘মন্থ’ নামক কর্ম্মের অনুষ্ঠানপদ্ধতি বর্ণিত হইতেছে; কেন না, মহত্ত্ব লাভ হইলে, ধনপ্রাপ্তি অবশ্যম্ভাবিনী;[সুতরাং তাহা না বলিলেও বুঝিতে পারা যায়]। এখন সেই মন্থাখ্য কর্ম্মের কথা বর্ণিত হইতেছে—‘স যঃ কাময়েত’ ইত্যাদি। ১
সেই কর্মের অধিকারী ব্যক্তি বিত্তাভিলাষী হইয়া যে কামনা করে। কি[কামনা করে]? না, আমি যেন মহত্ত্ব প্রাপ্ত হই অর্থাৎ আমি যেন মহান্-বড় লোক হইতে পারি। তদ্বিষয়ে প্রথমতঃ মন্থ কর্মের উপযুক্ত কাল বলা হইতেছে-উদ্গয়নে অর্থাৎ সূর্য্য যে সময় উত্তর দিকে গমন করেন, সেই উত্তরায়ণে; তন্মধ্যেও আবার আপুর্যমাণ পক্ষে,-শুক্লপক্ষে,-শুক্লপক্ষেরও সকল দিনেই প্রাপ্তির সম্ভাবনা ছিল,[তন্নিবৃত্ত্যর্থ] বলিতেছেন-পুণ্যাহে- আপনার কার্য্য-সিদ্ধিপ্রদ অনুকূল দিবসে; দ্বাদশাহ, অর্থাৎ যে পুণ্য দিনে কৰ্ম্ম করিতে ইচ্ছা করে, তাহার পূর্ব্ববর্তী-পুণ্যাহ লইয়া দ্বাদশ দিবস উপসদ্বতী হইবে। ‘উপসদ্ব ত’ অর্থ-উপসদসমূহে নিদ্দিষ্ট যে ব্রত(নিয়ম), তাহা গ্রহণ করিয়া; ‘উপসদ’ কাহাকে বলে, তাহা জ্যোতিষ্টোম যাগে প্রসিদ্ধ আছে। তাহার নিয়ম এই যে, স্তনের উপচয়(বৃদ্ধি বা পুষ্টি) ও অপচয়(হ্রাস) অনুসারে দুগ্ধ পান করিতে হয়; সেই ব্রত-সম্পন্ন হইয়া;-এখানে সেই ক্রিয়ার সম্পূর্ণ উপদেশ না থাকায়, শুধু দুগ্ধপান মাত্র গ্রহণ করিতে
১৫৩ত
হইবে, অন্যান্য ‘ইতিকর্তব্যতা’(অনুষ্ঠান-প্রণালী) গ্রহণ করিতে হইবে না। এখন প্রশ্ন হইতেছে—[‘উপসদ্বত’ কথার] যখন উপসদের ব্রত, এইরূপ সমাস-বাক্য প্রয়োগ করা যাইতে পারে, তখন ত উপসদ্-সম্পর্কিত সমস্ত ইতিকর্তব্যতাই গ্রহণীয় হইতে পারে, তবে তাহা গ্রহণ করা হইতেছে না কেন?[এই প্রশ্নের উত্তরে] বলা হইতেছে যে,—এই কর্ম্মের স্মার্ত্তত্বই উহার হেতু, অর্থাৎ এই মন্থাখ্য কর্মটি স্মৃতি-শাস্ত্রোক্ত;[সুতরাং ইহাতে বৈদিক কর্ম্মের সমস্ত ইতিকর্তব্যতা গৃহীত হইতে পারে না]। ২
পুনঃ প্রশ্ন হইতেছে—এই মন্থ ক্রিয়াটী যখন শ্রুতিতেই বিহিত রহিয়াছে, তখন ইহা স্মার্ত(স্মৃতি-বিহিত) কৰ্ম্ম বলিয়া পরিগণিত হইতে পারে কিরূপে? [উত্তর—] মন্থাখ্য-কৰ্ম্মবোধক সেই শ্রুতিটা হইতেছে—স্মৃতির অনুবাদিকা, অর্থাৎ এই শ্রুতিতে মৃত্যুক্ত কর্ম্মেরই অনুবাদ করা হইয়াছে মাত্র। শ্রৌত কৰ্ম্ম হইলে নিশ্চয়ই ইহার প্রকৃতি-বিকৃতিভাব হইতে পারিত; এবং তাহার ফলে বিকৃতি কৰ্ম্মে প্রকৃতিভূত ক্রিয়ার ধর্মসমূহও গ্রহণ করিতে হইত; কিন্তু ইহা ত শ্রৌত কৰ্ম্মই নহে। এই কারণেই ‘আবসথ্য’ বা গার্হপত্য অগ্নিতে এই ক্রিয়াটী কর্তব্যরূপে বিহিত হইয়াছে। আর যত প্রকার ‘আবৃৎ’ আছে, সে সমস্তই মৃত্যুক্ত;[এখানেও সেই আবৃতের কথা রহিয়াছে]। উক্ত বাক্যের অর্থ হইতেছে এই যে, উপসদ্ব ত গ্রহণপূর্ব্বক পয়োব্রতী হইয়া—। ৩
ঔদুম্বরে অর্থ—উদুম্বর(যজ্ঞডুমুর) বৃক্ষনির্মিত পাত্রে। ‘কংসে’ ও ‘চমসে’ শব্দ দুইটা তাহারই বিশেষণ,—কংসাকার কিংবা চমসাকার ঔদুম্বর পাত্রে; সুতরাং এখানে পাত্রটীর আকৃতি সম্বন্ধেই বিকল্প, কিন্তু ঔদুম্বরত্ব সম্বন্ধে বিকল্প নহে; অর্থাৎ কংসাকার বা চমসাকার ঔদুম্বর পাত্রে, সর্ব্বৌষধ—সমস্ত ওষধি শক্তি-অনুসারে যথাসম্ভব সমাহৃত করিয়া; তন্মধ্যেও বক্ষ্যমাণ ব্রীহি যব প্রভৃতি দশপ্রকার গ্রাম্য ওষধি অবশ্যগ্রাহ্য, কিন্তু তদপেক্ষা অধিক গ্রহণ করিতে পারিলেও দোষ হইবে না। গ্রাম্য ফলসমূহও যথাশক্তি ও যথাসম্ভব[গ্রহণ করিবে]। ‘ইতি’ শব্দের অর্থ—কর্মোপযোগী সমস্ত সম্ভার(উপকরণ দ্রব্যসমূহ) প্রদর্শন করা, অর্থাৎ আরও যাহা কিছু সংগ্রহ, করা আবশ্যক, সে সমুদয়ও সংগ্রহ করিয়া রাখা। কিরূপ ক্রমানুসারে যে, ঐ সমুদয় ওষধি ও ফল গ্রহণ করিতে হইবে, তাহা গৃহ্যসূত্র হইতে জানিতে হইবে। ৪
পরিঘ্ন ও পরিঘ্নগণ্য অর্থ—ভূমি-সংহার;[তত্রাখ্য পরিঘ্নগণ্য অর্থ—
ভূমি ঝাট দেওয়া]। পরে অগ্নি আনয়ন করিয়া; এখানে ‘উপসমাধার’ কথা থাকায় বুঝা যাইতেছে যে, ‘আরসথ্য’-নামক(গার্হপত্যসংজ্ঞক) অগ্নিতেই কার্য্য করিতে হয়; কারণ, ‘অগ্নি’ শব্দের উত্তর এক বচন আছে, সঙ্গে ‘উপসমাধান’ কথাও রহিয়াছে; আর বিদ্যমান অগ্নিরই উপসমাধান (আনয়ন) সম্ভবপর হয়;[অতএব এখানে অগ্নিত্রয় বুঝিতে হইবে না]। কুশসমূহ বিস্তীর্ণ করিয়া। মন্থ কৰ্ম্মটী স্মৃত্যুক্ত বিধায় ‘আবৃৎ’ শব্দে স্থালীপাক- রূপ ‘আবৃৎ’ গ্রহণ করিতে হইবে; সেই ‘আবৃৎ’ দ্বারা আজ্যের সংস্কার করিয়া, পুংনক্ষত্রে অর্থাৎ পুরুষজাতীয় নক্ষত্রযুক্ত পুণ্যাহে, পিষ্ট সর্ব্বৌষধ ও ফলাত্মক দ্রব্যগুলি সেই মন্ত্রে পূর্ব্বোক্ত চমসাকার ঔদুম্বর পাত্রে দধি, মধু ও ঘৃত দ্বারা সিক্ত করিয়া(ভিজাইয়া) একটা মন্থনদণ্ড দ্বারা বিমথিত করিয়া, অগ্নি ও নিজের মধ্যস্থলে সংস্থাপনপূর্ব্বক ঔদুম্বর শ্রুব(হাতার ন্যায় এক প্রকার পাত্র) দ্বারা ‘যাবন্তো দেবাঃ’ ইত্যাদি মন্ত্রে আজ্যসমর্পণের যোগ্যস্থলে হোম করিবে—॥ ৩৯৫ ॥ ১ ॥
জ্যেষ্ঠায় স্বাহা শ্রেষ্ঠায় স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রব- মবনয়তি, প্রাণায় স্বাহা বসিষ্ঠায়ৈ স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, বাচে স্বাহা প্রতিষ্ঠায়ৈ স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, চক্ষুষে স্বাহা সম্পদে স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, শ্রোত্রায় স্বাহা, আয়তনায় স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, মনসে স্বাহা প্রজাত্যৈ স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, রেতসে স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রব- মবনয়তি ॥ ৩৯৬ ॥ ২ ॥
সন্নলার্থঃ।—ইদানীং হোমক্রমমাহ—‘জ্যেষ্ঠায়’ ইত্যাদিনা। জ্যেষ্ঠার স্বাহা, শ্রেষ্ঠায় স্বাহা ইতি(আভ্যাং মন্ত্রাভ্যাম্) অগ্নৌ[বারদ্বয়ং] হুত্বা, সংস্রবং (ক্রুসসংলগ্নমাজ্যং) মন্থে অবনয়তি(সমর্পয়তি); প্রাণায় স্বাহা,[বসিষ্ঠায়ৈ] স্বাহা ইতি(মন্ত্রাভ্যাং পূর্ব্ববৎ) অগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবম্ অবনয়তি; বাচে স্বাহা, প্রতিষ্ঠায়ৈ স্বাহা ইতি অগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবম্ অবনয়তি,[ইত্যাদ্যন্যৎ সর্ব্বং পূর্ব্ববৎ বেদিতব্যম্।] ‘রেতসে স্বাহা’ ইত্যারভ্য একৈকশঃ মন্ত্রমুচ্চার্য্য একৈকামাহুতিং হুত্বা মন্থে সংস্রবম্ অবনয়তীতি বিশেষঃ]॥ ৩৯৬॥ ২॥
১৫৩৭
মুলাসুবাদ:-“জ্যেষ্ঠায় স্বাহা, শ্রেষ্ঠায় স্বাহা” ইত্যাদি মন্ত্রে দুইবার করিয়া আহুতি অর্পণ করিয়া ধ্রুব-সংলগ্ন আজ্য মন্থ্যে অর্পণ করিবে।[এইস্থলে জ্যেষ্ঠ-শ্রেষ্ঠাদিগুণরূপ চিহ্ন থাকায় বুঝিতে হইবে যে, জ্যেষ্ঠ-শ্রেষ্ঠগুণযুক্ত প্রাণবিদেরই এই মন্থাখ্য কর্ম্মে অধিকার, অন্যের নহে]। সেইরূপ “চক্ষুষে স্বাহা, সম্পদে স্বাহা” বলিয়া অগ্নিতে হোম করিয়া ধ্রুবসংলগ্ন আজ্য মন্থ্যে অর্পণ করিবে। “শ্রোত্রায় স্বাহা, আয়তনায় স্বাহা” বলিয়া অগ্নিতে হোম করিয়া মন্থ্যে ধ্রুব অবনত করিবে। “মনসে স্বাহা, প্রজাতন্ত্রে স্বাহা” বলিয়া পূর্ববৎ অগ্নিতে হোম করিয়া সংস্রব মন্থ্যে ত্যাগ করিবে। তদ্রূপ “রেতসে স্বাহা” বলিয়া অগ্নিতে আহুতি প্রদান করিয়া পুনশ্চ মন্থ্যে সংস্রব সমর্পণ করিবে ॥ ৩৯৬ ॥ ২ ॥
অগ্নয়ে স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, সোমায় স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, ভূঃস্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, ভুবঃ স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, স্বঃ স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, ভূর্ভুবঃ স্বঃ স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, ব্রহ্মণে স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, ক্ষত্রায় স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, ভূতায় স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, ভবিষ্যতে স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, বিশ্বায় স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, সর্ব্বায় স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি; প্রজাপতয়ে স্বাহেত্যগ্নৌ হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি ॥ ৩৯৭ ॥ ৩ ॥
সন্মলার্থঃ।—‘অগ্নয়ে স্বাহা’ ইতি(অনেন মন্ত্রেণ)[মন্থং] অগ্নৌ হুত্বা সংস্রবং(ক্রুবলগ্নমাজ্যৎ) মন্থে অবনয়তি,[ইত্যাদি সর্ব্বং দ্বিতীয়- শ্রুতিবৎ]। ৩৯৭॥৩॥
মৃণালিনী— “যায়, যাই” বলিয়া পরিচ্ছদ ত্যাগ
করিয়া সংস্রব অবনত করিবে। “সোমায় স্বাহা, ভূঃ স্বাহা, ভুবঃ স্বাহা, ভূর্ভুবঃ স্বঃ স্বাহা, ব্রহ্মণে স্বাহা, ক্ষত্রায় স্বাহা, ভূতায় স্বাহা, বিশ্বায় স্বাহা, সর্ব্বায় স্বাহা, এবং প্রজাপতয়ে স্বাহা” বলিয়া এক এক- বার অগ্নিতে আহুতি প্রদান করিয়া স্ক্রব-লগ্ন আজ্য মন্থে অর্পণ করিবে ॥ ৩৯৭ ॥ ৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—জ্যেষ্ঠায় স্বাহা শ্রেষ্ঠায় স্বাহেত্যারভ্য যে যে আহুতী হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, স্ক্রবাবলেপনমাজ্যং মন্থে সংস্রাবয়তি। এতস্মাদেব জ্যেষ্ঠায়-শ্রেষ্ঠায়েত্যাদিপ্রাণলিঙ্গাদ জ্যেষ্ঠশ্রেষ্ঠাদিপ্রাণবিদ এবাস্মিন্ কর্মণ্যধিকারঃ। ‘রেতসে’ ইত্যারভ্য একৈকামাহুতিং হুত্বা মন্থে সংস্রবমবনয়তি, অপরয়োপমন্থন্যা পুনর্মথাতি ॥ ৩৯৬—৩৯৭ ॥ ২—৩ ॥
টীকা।—জ্যেষ্ঠায়েত্যাদিমন্ত্রেষু ধ্বনিতমর্থমাহ—এতস্মাদেবেতি। যে যে আহুতী হত্বেত্যুক্তং, তত্র সর্ব্বত্র দ্বিত্বপ্রসঙ্গং প্রত্যাচষ্টে—রেতস ইত্যারভ্যেতি। সংস্রবঃ শ্রুবাবলিপ্তমাজ্যম্। ৩৯৬—৩৯৭। ২—৩॥
ভাষ্যানুবাদ।—‘জ্যেষ্ঠায় স্বাহা, শ্রেষ্ঠায় স্বাহা’—এই হইতে আরম্ভ করিয়া দুই দুইটা আহুতি অর্পণ করিয়া ক্রবসংলগ্ন আজ্যটুকু মন্থের মধ্যে অর্পণ করিবে। এখানে জ্যেষ্ঠত্ব শ্রেষ্ঠত্বরূপ প্রাণধর্ম্ম কথিত থাকায় বুঝা যাইতেছে যে, এই মন্থার্থ্য কর্ম্মের অনুষ্ঠানে কেবল প্রাণতত্ত্ববিদেরই অধিকার। ‘রেতসে স্বাহা’ হইতে আরম্ভ করিয়া এক একবার মাত্র আহুতি অর্পণ করিয়া ক্রবসংলগ্ন আজ্য মন্থরে অর্পণ করিবে, এবং অপর একটা মন্থনদণ্ড দ্বারা পুনর্ব্বার তাহা মর্দ্দন করিবে॥ ৩৯৬—৩৯৭॥ ২—৩॥
অথৈনমভিমৃশতি—ভ্রমদসি জ্বলদসি পূর্ণমসি প্রস্তব্ধমস্যেক- সভমসি হিষ্কৃতমসি হিঙ্কিয়মাণমস্যুদগাথমসি উদ্গীয়মানমসি শ্রাবিতমসি প্রত্যাশ্রাবিতমস্যাদ্রে সন্দীপ্তমসি বিভুরসি প্রভুরস্যন্নমসি জ্যোতিরসি নিধনমসি সংবর্গোহসীতি ॥ ৩৯৮ ॥ ৪ ॥
সক্সলার্থঃ।—অথ(অনন্তরং)[বক্ষ্যমাণেন মন্ত্রেণ] এনং(মন্থং) অভি- মৃশতি(স্পৃশতি)—[হে মন্থ,] ত্বং ভ্রমৎ(প্রাণস্বরূপতয়া চঞ্চলম্) অসি; জ্বলৎ (অগ্নিরূপত্বাৎ প্রকাশাত্মকম্) অসি; পূর্ণং(ব্রহ্মরূপেণ পরিপূর্ণম্) অসি; প্রস্তব্ধং(নভোরূপেণ নিশ্চলম্) অসি; একসভং(সর্ব্বৈরবিরোধিত্বাৎ সর্ব্বজগ- ন্দাত্মকম্) অসি; হিংকৃতং(যজ্ঞারম্ভে করণীয়ং হিষ্কৃতমপি) অসি; হিঙ্ক্রিয়-
১৫৩৯
মাণৎ(যজ্ঞমধ্যে ক্রিয়মাণমপি) অসি; উদগীথং(যজ্ঞারম্ভে পঠনীয়ং) অসি; উদগীয়মানং(যজ্ঞমধ্যে অনুষ্ঠীয়মানং) অসি; শ্রাবিতং(অধ্বর্য্যকৃতৎ শ্রাবিতং চ) অসি; প্রত্যাশ্রাবিতং(‘আগ্নীধ্রেণ প্রত্যাশ্রাবিতম্) অসি; আর্দ্রে(মেঘোদরে) সংদীপ্তং(বিদ্যুদ্রূপেণ প্রকাশময়ং) অসি; বিভুঃ(বিবিধং ভবতীতি, বিভুঃ) অসি; প্রভুঃ(সমর্থঃ) অসি; অন্নং(সোমাত্মকত্বাৎ ভক্ষ্যম্) অসি; জ্যোতিঃ (অগ্নিরূপেণ ভোক্তৃত্বাৎ জ্যোতিঃস্বরূপম্) অসি; নিধনং(কারণত্বাৎ লয়স্বরূপম্) অসি;[বাগাদীনাম্ অগ্ন্যাদীনাং চ সংহরণাৎ] সংবর্গশ্চ অসি ইতি ॥৩৯৮৷৷৪৷৷
মূলানুবাদ:-অনন্তর কর্মকর্তা, তুমিই ভ্রমৎ-ভ্রমণকারী জাজ্বল্যমান, পরিপূর্ণ, প্রস্তব্ধ, হিষ্কৃত, হিঙ্ক্রিয়মাণ, উদগীথ, উদগীয়- মান, শ্রাবিত, প্রত্যাশ্রাবিত, আর্দ্র বস্তুতে প্রদীপ্ত, বিভু, প্রভু, অন্ন, জ্যোতিঃ, নিধন এবং সংবর্গরূপে অবস্থিত রহিয়াছ, এই বলিয়া মন্থদ্রব্য ভক্ষণ(একত্র মিশ্রিত) করিবে ॥ ৩৯৮॥ ৪ ॥
শঙ্করভাষ্যম্।—অথৈনমভিমৃশতি—‘ভ্রমদসি’ ইত্যনেন মন্ত্রেণ ॥ ৩৯৮ ॥ ৪ ॥
টীকা।—মন্থদ্রব্যস্য প্রাণদেবতাকত্বাৎ প্রাণেনৈকীকৃত্য সর্বাত্মকত্বং; তথাচ সর্ব্বদেহেষু প্রাণরূপেণ ত্বং ভ্রমদসি, প্রাণস্য চলনাত্মকত্বাত্তদরূপত্বাচ্চ। তত্রাগ্নিরূপেণ চ ত্বং জ্বলদসি প্রকাশাত্মকত্বাদগ্রেস্তদ্রূপত্বাচ্চ। তদনু ব্রহ্মরূপেণ ত্বং পূর্ণমসি, নভোরূপেণ প্রস্তব্ধং নিষ্কম্পমসি, সর্ব্বৈরবিরোধিত্বাৎ সর্ব্বমপি জগদেকসভমাত্মন্যন্তর্ভাব্যাপরিচ্ছিন্নতয়া স্থিতং বস্তু ত্বমসি, প্রস্তোত্রা যজ্ঞারম্ভে ত্বমেব হিংকৃতমসি, তেনৈব যজ্ঞমধ্যে হিংক্রিয়মাণং চাসি, উদগাত্রা চ যজ্ঞারম্ভে তন্মধ্যে চোদ্গীথমুদ্গীয়মানং চাসি, অধ্বরুণা ত্বং শ্রাবিতমসি, আগ্রীধ্রেণ চ প্রত্যাশ্রাবিতমসি, আর্দ্রে মেঘোদরে সম্যন্দীপ্তমসি, বিবিধং ভবতীতি বিভুঃ, প্রভুঃ সমর্থঃ, ভোগ্যরূপেণ সোমাত্মনা স্থিতত্বাদন্নং, ভোক্তৃরূপেণাগ্ন্যাত্মনা জ্যোতিঃ; কারণত্বান্নিধনং লয়ঃ, অধ্যাত্মাধিদৈবয়োর্বাগাদীনামগ্ন্যাদীনাং চ সংহরণাৎ ত্বং সংবর্গোহসীত্য- ভিমর্শনমন্ত্রস্যার্থঃ। ৩৯৮।৪।
ভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর ‘ভ্রমৎ অসি’ ইত্যাদি মন্ত্রপাঠপূর্ব্বক মন্ত্রদ্রব্য স্পর্শ বা আলোড়ন করিবে ॥ ৩৯৮ ॥ ৪ ॥
অথৈনমুদ্যচ্ছত্যামস্যামহী তে মহি স হি রাজেশানো- হধিপতিঃ, স মাং রাজেশানোহধিপতিং করোত্বিতি ॥ ৩৯৯॥ ৫ ॥ সক্সলার্থঃ?—অথ(অনন্তরং)[ অনেন মন্ত্রেণ] এনং(মন্থৎ) উদযচ্ছতি (পাত্রেণ সহ উত্থাপ্য হস্তে গৃহ্লাতি—)[হে মন্থ, ত্বং] আমংসি(সর্ব্বং
বিজানাসি); তে(তব) মহি[মহত্তরং রূপং] আমংহি(মন্যামহে)[বয়ম্]। সঃ(প্রাণরূপঃ) রাজা ঈশানঃ অধিপতিশ্চ; সঃ রাজা ঈশানঃ অধিপতিশ্চ [প্রাণঃ] মাম্ অধিপতিং করোতু ইতি ॥ ৩৯৯ ॥ ৫ ॥
মুলাসুবাদঃ—অনন্তর, হে মন্থ, প্রাণস্বরূপ তুমি সমস্ত অবগত আছ; আমরাও তোমাকে সেই মহত্তররূপই মনে করি। রাজা ঈশান সেই প্রাণই ইহার অধিপতি; তিনি আমাকে অধিপতি করুন। এই মন্ত্র পাঠপূর্ব্বক উহা হস্তে গ্রহণ করিবে ॥ ৩৯৯ ॥ ৫ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথৈনমুদ্যচ্ছতি সহ পাত্রেণ হস্তে গৃহ্লাতি-আমং- স্যামংহি তে মহি ইত্যনেন ॥ ৩৯৯ ॥ ৫ ॥
টীকা।—আমংসি ত্বং সর্ব্বং বিজানাসি, বয়ং চ তে তব মহি মহত্তরং রূপমামংহি মন্যামহে। স হি প্রাণো রাজাদিগুণঃ, স চ মাং তথাভূতং করোত্বিত্যুদ্যমনমন্ত্রস্যার্থঃ॥ ৩৯৯॥ ৫॥
ভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর ‘আমংসি, আমংহি তে মহি’ ইত্যাদি মন্ত্র পাঠ করিয়া মন্থ-পাত্রের সহিত মন্থ হস্তে তুলিয়া লইবে ॥ ৩৯৯ ॥ ৫ ॥
অথৈনমাচামতি—তৎ সবিতুর্বরেণ্যম্। মধু বাতা ঋতায়তে মধু ক্ষরন্তি সিন্ধবঃ মাধ্বীনঃ সন্ত্বোষধীঃ ভূঃ স্বাহা। ভর্গো দেবস্য ধীমহি। মধু নক্তমুতোষসো মধুমৎ পার্থিবং রজঃ। মধু দ্যৌরস্তু নঃ পিতা, ভুবঃ স্বাহা। ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ। মধুমান্নো বনস্পতিৰ্ম্মধুমাং অস্তু সূর্য্যঃ। মাধ্বীর্গাবো ভবন্তু নঃ। স্বঃ স্বাহেতি। সর্ব্বাঞ্চ সাবিত্রীমন্বাহ সর্ব্বাশ্চ মধুমতীঃ; অহমেবেদং সর্ব্বং ভূয়াসং ভূর্ভুবঃ স্বঃ স্বাহেত্যন্তত আচম্য পাণী প্রক্ষাল্য জঘনেনাগ্নিং প্রাক্শিরাঃ সংবিশতি, প্রাতরাদিত্যমুপতিষ্ঠতে— দিশামেকপুণ্ডরীকমস্যহং মনুষ্যাণামেকপুণ্ডরীকং ভূয়াসমিতি, যথেতমেত্য জঘনেনাগিমাসীনো বংশং জপতি ॥ ৪০০ ॥ ৬ ॥
সরলার্থঃ।—অথ(অনন্তরং) এনং(মন্থং) আচামতি(বক্ষ্যমাণেন মন্ত্রেণ ভক্ষয়তি)—[অত্র চ গায়্যা মধুমত্যাশ্চ প্রথম-পাদাভ্যাম্, ব্যাহৃতেশ্চ প্রথমাবয়বেন প্রথমবারং ভক্ষণম্, গায়্যা মধুমত্যাশ্চ দ্বিতীয়-পাদাভ্যাং দ্বিতীয়েন চ ব্যাহৃত্যবয়বেন দ্বিতীয়বারং ভক্ষণম্, তয়োরেব তৃতীয়পাদাভ্যাং তৃতীয়েন চ ব্যাহৃত্যবয়বেন তৃতীয়বারং ভক্ষণম্, চতুর্থবারং তু তুষ্ণীৎ ভক্ষণৎ
১৫৪১
কার্য্যমিতি জ্ঞেয়ম্।] দেবস্য(প্রকাশমানশ্য) সবিতুঃ(জগৎপ্রসবকর্ত্তুঃ) তৎ(প্রসিদ্ধং) বরেণ্যং(বরণীয়ং) ভর্গঃ(তেজঃ) ধীমহি(চিন্তয়ামঃ); যঃ(সবিতা) নঃ(অস্মাকং) ধিয়ঃ(বুদ্ধীঃ) প্রচোদয়াৎ(প্রেরয়েৎ), [তস্য তৎ ধীমহি ইতি সম্বন্ধঃ]। বাতাঃ(বায়ুভেদাঃ) মধু(সুখং যথা স্যাৎ, তথা) ঋতায়তে(প্রবহন্তু), সিন্ধবঃ(নদ্যঃ) মধু ক্ষরন্তি (মধুররসং যথা স্যাৎ, তথা স্রবস্তু); ওষধীঃ(তৃণলতাঃ) মাধবীঃ (মধুরাঃ) সন্তু; নক্তং(রাত্রিঃ) উষসঃ(দিবসাঃ) উত(অপি) মধু (প্রীতিকরাঃ)[সন্ত]; পার্থিবং রজঃ(ধূলিঃ) মধুমৎ(মধুরং)[অস্ত]; নঃ(অস্মাকং) পিতা দ্যৌ:(দ্যুলোকঃ) মধু(প্রিয়া)[অন্ত]; বনস্পতিঃ (সোমঃ) নঃ(অস্মাকং সম্বন্ধে) মধুমান্[অস্ত]; সূর্য্যঃ মধুমান্ অস্ত; গাবঃ (দিশঃ) নঃ(অস্মাকং) মাধবীঃ[মধুরাঃ] ভবন্ত। সর্ব্বাং চ সাবিত্রীং সর্ব্বাঃ চ মধুমতীঃ অন্বাহ(উক্তা ব্রবীতি) “অহম্ এব সর্ব্বং ভূয়াসম্”।[এবমুক্তা] ভূর্তুবঃ স্বঃ স্বাহা ইতি[সর্ব্বং ভক্ষয়েৎ]।
অন্ততঃ(অন্তে) চ আচম্য(আচমনং কৃত্বা) পাণী(হস্তদ্বয়ং) প্রক্ষাল্য অগ্নিং জঘনেন(অগ্নেঃ পশ্চাৎ) প্রাক্শিরাঃ সন্ সংবিশতি(রাত্রৌ শয়ীত); প্রাতঃ[শয্যাম্ পরিত্যজ্য][বক্ষ্যমাণেন মন্ত্রেণ] আদিত্যৎ উপতিষ্ঠতে— [হে সূর্য্য, ত্বং] দিশাং একপুণ্ডরীকং(অদ্বিতীয়পদ্মস্বরূপং) অসি; অহং [অপি] মনুষ্যাণাং একপুণ্ডরীকং ভূয়াসম্—ইতি[উক্ত্বা] যথেতং(যথাগতং— গমনপদ্ধতিক্রমেণ) এত্য(প্রত্যাগত্য) অগ্নিং জঘনেন(অগ্নেঃ পার্শ্বে) আসীনঃ সন্ বংশং(বংশব্রাহ্মণং) জপতি(জপেৎ ইত্যর্থঃ) ॥ ৪০০ ॥ ৬॥
মূলানুবাদ?—অনন্তর, বক্ষ্যমাণ মন্ত্রক্রমে এই মন্থ ভক্ষণ করিবে।[এখানে গায়ত্রীর এক পাদ, মধুমতীর একপাদ এবং ব্যাহৃতির প্রথম অংশ পাঠপূর্ব্বক মন্তের প্রথম অংশ, গায়ত্রী ও মধুমতীর দ্বিতীয় পাদ ও ব্যাহৃতির দ্বিতীয় অংশ পাঠ করিয়া দ্বিতীয় অংশ, গায়ত্রী ও মধুমতীর তৃতীয় পাদ ও ব্যাহৃতির তৃতীয় অংশ পাঠপূর্ব্বক তৃতীয় অংশ, এবং বিনামন্ত্রে তৃষ্ণীস্তাবে পাত্র প্রক্ষালন- পূর্ব্বক সমস্তটা ভক্ষণ করিবে।[মন্ত্রার্থ এইরূপ]—দীপ্তিমান্ সবিতায় সেই বরণীয় ভর্গ আমরা চিন্তা করিতেছি, যে ভর্গ আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি- সমূহ কার্য্যে প্রেরণ করিয়া থাকেন।[মধুমতী মন্ত্রের অর্থ—]
বায়ুসমূহ সুখাবহ হইয়া প্রবাহিত হউক, নদীসমূহ মধুর রস ক্ষরণ করুক; ওষধি তৃণলতাসমূহ আমাদের নিকট মধুররসযুক্ত হউক; রাত্রি ও দিন মধুময় হউক; পার্থিব ধূলি প্রীতিময় হউক, আমাদের পিতৃস্থানীয় দ্যুলোক প্রিয় হউক, বনস্পতি(চন্দ্র বা সোম) আমাদের পক্ষে মধুমান্ হউক, সূর্য্যও মধুপূর্ণ হউক; গো-রশ্মিসমূহ আমাদের সম্বন্ধে মাধবী(প্রীতিকর) হউক।[ইহার পর] ‘স্বাহা’ উচ্চারণ- পূর্ব্বক তিনভাগ ভক্ষণ করিবে। শেষে সমস্ত সাবিত্রী ও সম্পূর্ণ মধুমতী মন্ত্রপাঠ করিয়া ‘আমিই যেন এই সমুদয় ভাব প্রাপ্ত হইতে পারি‘-বলিয়া সমস্ত ব্যাহৃতি ও ‘স্বাহা’ শব্দ উচ্চারণপূর্ব্বক পাত্র প্রক্ষালন করিয়া অবশিষ্ট সমস্তটা পান করিবে।
পরে আচমন ও হস্তদ্বয় প্রক্ষালন করিয়া, পূর্ব্বশিরা হইয়া অগ্নির পার্শ্বে শয়ন করিবে। পরদিন প্রাতঃকালে গাত্রোত্থানপূর্ব্বক আদিত্যের উপাসনা করিবে,—[হে সূর্য্য, তুমি] হইতেছ সমস্ত দিকের অদ্বিতীয় পুণ্ডরীক(পদ্মস্বরূপ); আমিও যেন মনুষ্যগণের মধ্যে অদ্বিতীয় পুণ্ডরীকতুল্য হইতে পারি; এই বলিয়া, যেভাবে গমন করিয়াছিল, সেইভাবেই প্রত্যাগমনপূর্ব্বক উপবেশন করিয়া বংশব্রাহ্মণ জপ করিবে ॥ ৪০০ ॥ ৬॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথৈনমাচামতি ভক্ষয়তি, গায়ব্র্যাঃ প্রথমপাদেন মধুমত্যৈকয়া ব্যাহৃত্যা চ প্রথময়া প্রথমগ্রাসমাচামতি। তথা গায়ত্রীদ্বিতীয়পাদেন, মধুমত্যা দ্বিতীয়য়া, দ্বিতীয়য়া চ ব্যাহৃত্যা দ্বিতীয়ৎ গ্রাসম্; তথা তৃতীয়েন গায়ত্রী- পাদেন, তৃতীয়য়া মধুমত্যা, তৃতীয়য়া চ ব্যাহৃত্যা তৃতীয়ং গ্রাসম্। সর্ব্বাৎ সাবিত্রীৎ সর্ব্বাশ্চ মধুমতীরুক্ত্বা ‘অহমেবেদং সর্ব্বং ভূয়াসম্’ ইতি চ অন্তে ‘ভূর্ভুবঃ স্বঃ স্বাহা’ ইতি সমস্তং ভক্ষয়তি। যথা চতুর্ভিগ্রাসৈস্তদ্রব্যং সর্ব্বং পরিসমাপ্যতে, তথা পূর্ব্বমেব নিরূপয়েৎ। যৎ পাত্রাবলিপ্তম্, তৎ পাত্রং সর্ব্বং নির্ণিজ্য তুষ্ণীৎ পিবেৎ। পাণী প্রক্ষাল্য আপ আচম্য, জঘনেনাগ্নিং পশ্চাদগ্নেঃ, প্রাক্শিরাঃ সংবিশতি। প্রাতঃসন্ধ্যামুপাস্য আদিত্যমুপতিষ্ঠতে—‘দিশামেকপুণ্ডরীকম্’ ইত্যনেন মন্ত্রেণ। যথেতং যথাগতম্, প্রত্যাগত্য জঘনেনাগ্নিম্ আসীনো বংশং জপতি ॥ ৪০০ ॥ ৬ ॥
১৫৪৩
টাকা।—তৎ সবিতুর্বরেণ্যং বরণীয়ং শ্রেষ্ঠং পদং ধীমহীতি সংবন্ধঃ। বাতা বায়ুভেদা মধু সুখমৃতায়তে বহস্তি। সিন্ধবো নদ্যো মধু ক্ষরন্তি মধুররসান্ শ্রবস্তি। ওষধীশাস্মান্ প্রতি মাধ্বীৰ্ম্মধুররসাঃ সন্তু। দেবস্য সবিতুর্ভর্গস্তেজোহন্নং বা প্রস্তুতং পদং চিন্তয়ামঃ। নক্তং রাত্রিরুতোষসো দিবসাশ্চ মধু প্রীতিকরাঃ সন্তু। পার্থিবং রজো মধুমদনুদ্বেগকরমন্ত। ঘৌশ্চ পিতা নোহস্মাকং মধু সুখকরোহস্ত। যঃ সবিতা নোহম্মাকং ধিয়ো বুদ্ধীঃ প্রচোদয়াৎ প্রেয়য়েত্তস্ত তম্বরেণ্যমিতি সংবন্ধঃ। বনস্পতিঃ সোমোহস্মাকং মধুমানস্ত। গাবো রশ্ময়ো দিশো বা মাধবীঃ সুখকরাঃ সন্তু। অন্তশব্দাদিতিশব্দাচ্চোপরিষ্টাদুক্তে ত্যনুষঙ্গঃ। এবং গ্রাসচতুষ্টয়ে নিবৃত্তে সত্যবশিষ্টে দ্রব্যে কিং কর্তব্যং, তত্রাহ যথেতি। পাত্রাবশিষ্টস্য পরিত্যাগং বারয়তি—যদিতি। নির্ণিজ্য প্রক্ষাল্যেতি যাবৎ। পাণিপ্রক্ষালনসামর্থ্যাৎ প্রাপ্তং শুদ্ধ্যর্থং স্মার্তমাচমনমনুজানাতি—অপ আচম্যেতি। একপুণ্ডরাঁকশব্দোহথগুশ্রেষ্ঠবাচী। ৪০০॥৬।
ভাষ্যানুবাদ।—অনন্তর গায়ত্রীর প্রথম পাদ, মধুমতীর প্রথম পাদ এবং ব্যাহৃতির প্রথমাবয়ব দ্বারা প্রথম গ্রাস ভক্ষণ করিবে; তদ্রূপ গায়ত্রীর দ্বিতীয় পাদ, মধুমতীর দ্বিতীয় পাদ এবং ব্যাহৃতির দ্বিতীয় অংশ পাঠ করিয়া দ্বিতীয় গ্রাস ভক্ষণ করিবে; সেইরূপ গায়ত্রী ও মধুমতীর তৃতীয় পাদ ও তৃতীয় ব্যাহৃতি দ্বারা তৃতীয় গ্রাস ভক্ষণ করিবে। পরিশেষে সমস্ত গায়ত্রী এবং সম্পূর্ণ মধুমতী ও ব্যাহৃতি উচ্চারণপূর্ব্বক ‘আমিই যেন এই সমস্ত জগৎ-স্বরূপ’ এইরূপ চিন্তা করত “ভূর্ভুবঃ স্বঃ স্বাহা” বলিয়া সমস্ত গ্রাস ভক্ষণ করিবে। এখানে জানা উচিত যে, ভক্ষণের পূর্ব্বেই ভক্ষণীয় দ্রব্যসমুদয় এমন ভাবে সজ্জিত রাখিতে হইবে, যাহাতে চারি গ্রাসেই সে সমস্ত নিঃশেষরূপে ভক্ষিত হইতে পারে; আর পাত্র-লিপ্ত যাহা কিছু থাকিবে, তৎসমস্তও পাত্র প্রক্ষালন করিয়া তুষ্ণীম্ভাবে অর্থাৎ বিনা মন্ত্রে পান করিবে। অনন্তর, হস্ত প্রক্ষালন ও জল পান করিয়া, অগ্নির পশ্চাৎদিকে পূর্ব্বশিরা হইয়া শয়ন করিবে। শেষে প্রাতঃকালে সন্ধ্যা-উপাসনার পর “দিশামেকপুণ্ডরীকম্” ইত্যাদি মন্ত্র দ্বারা সূর্য্যোপস্থাপন করিবে; পশ্চাৎ যে ভাবে গমন করিয়াছিল, ঠিক সেই ভাবেই প্রত্যাগত হইয়া অগ্নির পশ্চাদ্ভাগে উপবিষ্ট হইয়া ‘বংশ- ব্রাহ্মণ’ জপ করিবে ॥ ৪০০ ॥ ৬ ॥
তং হৈতমুদ্দালক আরুণির্ব্বাজসনেয়ায় যাজ্ঞবল্ক্যায়ান্তেবাসিন- উত্ত্রোবাচাপি য এনৎ শুষ্কে স্থাণৌ নিষিঞ্চেজ্জায়েরঞ্ছাখাঃ প্ররোহেয়ুঃ পলাশানীতি ॥ ৪০১ ॥ ৭ ॥
গবর্নমেন্ট।—[অতঃপরং মথুর্য্যঃ পঠ্যার্থমুচ্যতে—“তৎ” টীকা] ইত্যাদি।
আরুণিঃ(অরুণিপুত্রঃ) উদ্দালকঃ(তন্নামধেয় ঋষিঃ) তং(প্রসিদ্ধং) এতৎ, (মন্থং) বাজসনেয়ায়(বাজসনেয়ীশাখাপ্রবর্তকায়) অন্তেবাসিনে(শিষ্যায়) যাজ্ঞবল্ক্যার উক্তা(উপদিশ্য) উবাচ হ—যঃ এনৎ(মন্থং) শুষ্কে অপি স্থাণৌ (বৃক্ষে) নিষিঞ্চেৎ(বিসৃজেৎ),[তত্রাপি] শাখাঃ জায়েরন্(উৎপদ্যেরন্) পলাশানি(পত্রাণি চ) প্ররোহেষুঃ(প্রাদুর্ভবেয়ুঃ) ইত্যর্থঃ ॥ ৪০১ ॥ ৭ ॥
মূলানুবাদ?—এখন উক্ত মন্থকর্ম্মের প্রশংসার্থ বলিতে- ছেন—আরুণি উদ্দালক ঋষি বাজসনেয়(বাজসনেয়ী শাখার প্রবর্ত্তক) স্বশিষ্য যাজ্ঞবল্ক্যকে এই মন্থ ক্রিয়ার উপদেশ করিয়া বলিয়াছিলেন—যদি কেহ এই মন্থ শুষ্ক বৃক্ষেও নিক্ষেপ করে,[তাহা হইলে, সেই শুষ্ক বৃক্ষেও] শাখা জন্মে এবং পল্লব প্রাদুর্ভূত হয়॥ ৪০১॥৭॥
এতমু হৈব বাজসনেয়ো যাজ্ঞবল্ক্যো মধুকায় পৈঙ্গ্যায়ান্তে- বাসিন উক্রোবাচাপি, য এনং শুষ্কে স্থাণৌ নিষিঞ্চেজ্জায়ের- স্থাখাঃ প্ররোহেয়ুঃ পলাশানীতি ॥ ৪০২ ॥৮॥
সরলার্থঃ।—বাজসনেয়ঃ যাজ্ঞবল্ক্যঃ উ(অপি) অন্তেবাসিনে পৈঙ্গ্যায় মধুকায় এতং(মন্থম্) এব উক্ত্বা উবাচ হ—যঃ এনং(মন্থং) শুষ্কে স্থাণৌ অপি নিষিঞ্চেৎ,[তত্রাপি] শাখাঃ জায়েরন্ পলাশানি চ প্ররোহেয়ুঃ। [ব্যাখ্যা পূর্ব্ববৎ] ইতি ॥ ৪০২॥৮॥
মূলানুবাদঃ—বাজসনেয় যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি আবার স্বশিষ্য পৈঙ্গ্য মধুককে উপদেশ করিয়া বলিয়াছিলেন যে, যদি কেহ এই মন্থ শুষ্ক স্থাণুতেও ন্যস্ত করে,[তবে তাহাতেও] শাখা জন্মে এবং পত্ররাশি সমুৎপন্ন হয় ॥ ৪০২ ॥ ৮ ॥
এতমু হৈব মধুকঃ পৈঙ্গ্যশ্চূলায় ভাগবিত্তয়েহন্তেবাসিন- উক্ত্রোবাচাপি, য এনশুষ্কে স্থাণৌ নিষিঞ্চেজ্জায়েরস্থাখাঃ প্ররোহেয়ুঃ পলাশানীতি ॥ ৪০৩ ॥ ৯ ॥
সরলার্থঃ।—পৈদ্যঃ মধুকঃ উ(অপি) অন্তেবাসিনে(স্বশিষ্যায়) ভাগবিত্তয়ে চুলায় এতৎ(মন্থং) এব উক্তা উবাচ হ—যঃ এনং শুষ্কে স্থাণৌ
অপি নিষিঞ্চেৎ,[তত্রাপি] শাখাঃ জায়েরন্, পলাশানি চ প্ররোহেয়ুঃ ইতি ॥ ৪০৩ ॥ ৯ ॥
মুলাসুবাদঃ—পৈঙ্গ্য মধুক আবার স্বশিষ্য ভাগবিত্তি চুলকে এই মন্থের সম্বন্ধে উপদেশ করিয়া বলিয়াছিলেন যে, যদি কেহ এই মন্থ শুষ্ক স্থাণুতেও নিক্ষেপ করে,[তাহা হইলে সেখানেও] শাখা প্রাদুর্ভূত হয়, এবং পত্ররাশি উৎপন্ন হয় ॥ ৪০৩॥ ৯॥
এবমু হৈব চুলো ভাগবিত্তির্জানকয়ে আয়স্থুণায়াস্তেবাসিন- উত্ত্বোবাচাপি য এনং শুষ্কে স্থাণৌ নিষিঞ্চেজ্জায়েরঞ্জাখাঃ প্ররোহেয়ুঃ পলাশানীতি ॥ ৪০৪ ॥ ১০ ॥
সরলার্থঃ।—ভাগবিত্তিঃ চুলঃ উ(অপি) অন্তেবাসিনে আয়স্থুণায় জানকয়ে এতম্ এব উক্ত্বা উবাচ হ—যঃ এনং শুষ্কে স্থাণৌ অপি নিষিঞ্চেৎ [ তত্রাপি] শাখাঃ জায়েরন্, পলাশানি চ প্ররোহেষুঃ ইতি ॥ ৪০৪ ॥ ১০ ॥
মূলাসুবাদঃ—ভাগবিত্তি চুল ঋষি আবার স্বশিষ্য আয়স্থূণ জানকিকে এই মন্থেরই উপদেশ করিয়া বলিয়াছিলেন যে, যদি কেহ শুষ্ক স্থাণুতেও এই মন্থ নিষিক্ত করে, তবে তাহাতেও শাখা জন্মে এবং পত্ররাশি সমুৎপন্ন হয় ॥ ৪০৪ ॥ ১০ ॥
এতমু হৈব জানকিরায়স্থূণঃ সত্যকামায় জাবালায়ান্তেবাসিন- উত্তোবাচাপি য এনং শুক্ষে স্থাণৌ নিষিঞ্চেজ্জায়েরঞ্ছাখাঃ প্ররোহেয়ুঃ পলাশানীতি ॥ ৪০৫ ॥ ১১ ॥
সৰ্বলার্থঃ।—আয়স্থুণঃ জানকিঃ উ(অপি) অন্তেবাসিনে জাবালায় সত্যকামায় এতম্ এব উক্ত্বা উবাচ হ—যঃ এনং শুষ্কে স্থাণৌ অপি নিষিঞ্চেৎ, [ তত্রাপি] শাখাঃ জায়েরন্, পলাশানি প্ররোহেয়ুঃ ইতি ॥ ৪০৫ ॥ ১১ ॥
মূলানুবাদ?—আয়স্থূণ জানকি আবার নিজশিষ্য জাবাল সত্যকামকে এই মন্থের উপদেশ করিয়া বলিয়াছিলেন যে, যদি কেহ ইহা শুষ্ক স্থাণুতেও নিক্ষেপ করে,[সেখানেও] শাখা সমুৎপন্ন হয়, এবং পত্ররাশি প্রকাশ পায় ॥ ৪০৫ ॥ ১১ ॥
এতদ্ দৈব সত্যকামো জাবালোহস্তেষাসিভ্য উত্তোবাচাপি
য এনৎ শুদ্ধে স্থাণৌ নিষিঞ্চেজ্জায়েরঞ্খাখাঃ প্ররোহেয়ুঃ পলাশানীতি, তমেতন্নাপুত্রায় বান্তেবাসিনে বা ক্রয়াৎ॥ ৪০৬৷ ১২॥
সন্মলার্থঃ।—জাবালঃ সত্যকামঃ উ(অপি) এতং(মন্থং) এক অন্তেবাসিভ্যঃ(স্বশিষ্যেভ্যঃ) উক্তা উবাচ হ—যঃ এনং(মন্থং) শুষ্কে- স্থাণৌ নিষিঞ্চেৎ,[তত্রাপি] শাখাঃ জায়েরন্, পালাশানি চ প্ররোহেয়ুঃ ইতি ॥ ৪০৬ ॥ ১২ ॥
মূলাসুবাদঃ—জবালাপুত্র সত্যকামও শিষ্যগণকে এই মন্থ- বিদ্যা উপদেশ দিয়া বলিয়াছিলেন যে, যদি কেহ শুষ্ক স্থাণুতেও ইহা নিক্ষেপ করে, তবে তাহাতেও শাখা প্রাদুর্ভূত হয় এবং পত্ররাশি সমুদগত হয় ॥ ৪০৬ ॥ ১২ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—“তং হৈতমুদ্দালকঃ” ইত্যাদি। সত্যকামো জাবালঃ অন্তেবাসিভ্য উক্তা উবাচ—অপি য এনং শুষ্কে স্থাণৌ নিষিঞ্চেৎ, জায়েরন্নেব অস্মিন্ শাখাঃ, প্ররোহেষুঃ পলাশানীত্যেবমন্তম্। এনং মন্থম্ উদ্দালকাৎ প্রভৃত্যেকৈকাচার্য্য-ক্রমাগতং সত্যকাম আচার্য্যো বহুভ্যোহন্তেবাসিভ্য উক্তা উবাচ। কিমন্যদুবাচেত্যুচ্যতে,—অপি য এনং শুষ্কে স্থাণৌ গতপ্রাণেহপি এনং মন্থং ভক্ষণায় সংস্কৃতি নিষিঞ্চেৎ প্রক্ষিপেৎ, জায়েরন্ উৎপদ্যেরন্নেব অস্মিন্ স্থাণৌ শাখা অবয়বা বৃক্ষস্য, প্ররোহেষুঃ পলাশানি পর্ণানি, ‘যথা জীবতঃ স্থাণোঃ; কিমুত অনেন কর্ম্মণা কামঃ সিধ্যেদিতি। ধ্রুবফলমিদং কর্ম্মেতি কর্ম্মস্তুত্যর্থমেতৎ। বিদ্যাধিগমে ষট্ তীর্থানি; তেষামিহ সপ্রাণদর্শনস্য মন্থবিজ্ঞানস্যাধিগমে দ্বে এব তীর্থে অনুজ্ঞায়েতে—পুত্রশ্চান্তেবাসী চ॥ ৪০১—৪০৬॥ ১২॥
টীকা।—তমেতং নাপুত্রায়েত্যাদেরর্থমাহ-বিদ্যেতি। শিষ্যঃ শ্রোত্রিয়ো মেধাবী ধনদায়ী প্রিয়ঃ পুত্রো বিদ্যা বিদ্যাদাতেতি ষট্ তীর্থানি সংপ্রদানানি। ৪০৩-৪০৬। ৭-১২।
ভাষ্যানুবাদ।—জবালাপুত্র সত্যকাম শিষ্যগণকে উপদেশ দিয়া বলিয়াছিলেন—যদি কেহ ইহা শুষ্ক স্থাণুতেও নিক্ষেপ করে, নিশ্চয়ই তাহাতেও শাখাসমূহ সমুৎপন্ন হয়, এবং পত্ররাশি প্রাদুর্ভূত হয়। এই প্রকারে উদ্দালক ঋষি হইতে আরম্ভ করিয়া এক এক আচার্য্যক্রমে আগত এই মন্থের বিষয়, আচার্য্য সত্যকাম বহুসংখ্যক শিষ্যগণকে উপদেশ করিয়া বলিয়াছিলেন। তিনি আর কি বলিবেন;[তিনি বলিয়াছিলেন]—
৩৪৮৭
যিনি ভক্ষণের জন্য পরিশোধিত এই মন্থকে শুষ্ক—প্রাণহীন(মৃত) স্থাণুতেও (বৃক্ষেও) নিবেক—প্রক্ষেপ করেন,[তাহা হইলে,] জীবিত বৃক্ষের ন্যায় সেই স্থাণুতেও নিশ্চয়ই শাখাসমূহ—বৃক্ষের অবয়বসমূহ জন্মে—উৎপন্ন হয় এবং পলাশ- সমূহ—পত্ররাশিও প্রাদুর্ভূত হয়;[সুতরাং] ইহা দ্বারা যে কামনা সিদ্ধ হইবে, তাহাতে আর কথা কি। এই কর্ম্মের ফল যে, ধ্রুব, তাহা জ্ঞাপনের নিমিত্ত এই প্রশংসাপর বাক্যটা প্রযুক্ত হইয়াছে। বিদ্যালাভের পাত্র বা অধিকারী ছয় জন; এই মন্থবিদ্যালাভে তাহাদের মধ্যে পুত্র ও শিষ্য—এই দুইজনকে মাত্র বিদ্যালাভের অনুমতি দেওয়া হইতেছে(১)॥ ৪০৬॥ ১২॥
চতুরোদুম্বরো ভবত্যৌদুম্বরঃ শ্রুব ঔদুম্বরশ্চমস ঔদুম্বর ইষ্ম ঔদুম্বর্য্যা উপমন্থন্যৌ, দশ গ্রাম্যাণি ধান্যানি ভবন্তি ব্রীহিযবাস্তিলমাষা অণুপ্রিয়ঙ্গবো গোধূমাশ মসূরাশ খল্লাশ খলকুলাশ, তান্ পিষ্টান্ দধনি মধুনি ঘৃত উপসিঞ্চত্যাজ্যস্য জুহোতি ॥ ৪০৭ ॥ ১৩ ॥
সরলার্থঃ।—[অয়ং মন্থঃ] চতুরৌদুম্বরঃ(উদুম্বরময়ৈঃ চতুর্ভিঃ পাত্রৈঃ নিষ্পাদ্যঃ) ভবতি;[তথাহি—] ক্রবঃ(যজ্ঞীয়পাত্রবিশেষঃ) ঔদুম্বরঃ (উদুম্বরকাষ্ঠনিৰ্ম্মিতঃ); তথা, চমসঃ ঔদুম্বরঃ, ইষ্মঃ(কাষ্ঠং) ঔদুম্বরঃ, ঔদুম্বর্যা উপমন্থন্যৌ(মন্থনদণ্ডৌ)। গ্রাম্যানি(গ্রামভবানি) দশ(দশ- প্রকারাণি) ধান্যানি ভবন্তি—ব্রীহি-যবাঃ(ব্রীহয়ঃ হৈমন্তিকধান্যানি, যবাঃ প্রসিদ্ধাঃ), তিল-মাষাঃ(তিলাঃ, মাষাশ্চ) অণু-প্রিয়ঙ্গবঃ(অণবঃ অণুসংজ্ঞিতাঃ, প্রিয়ঙ্গবশ্চ-কঙ্গুশব্দবাচ্যাঃ), গোধূমাঃ চ, মসূরাঃ চ, খল্লাঃ(নিষ্পাবাঃ), খল- কুলাঃ(কুলখাঃ), পিষ্টান্(চূর্ণীকৃতান্) তান্ দধনি মধুনি, ঘৃতে[চ] উপসিঞ্চতি(দধ্যাদিভিরাদ্রীকরোতি)।[অনন্তরম্] আজ্যস্য জুহোতি (আজ্যরূপেণ অগ্নৌ প্রক্ষিপতি)॥ ৪০৭ ॥ ১৩॥
(১) তাৎপর্য্য—তীর্থ অর্থ বিদ্যাসম্প্রদানের যোগ্য পাত্র। সাধারণতঃ শিষ্য, শ্রোত্রিয় (বেদবিৎ), মেধাবী, ধনদাতা, প্রিয়পুত্র ও বিদ্যার বিনিময়ে বিদ্যাদাতা, এই ছয়জন বিদ্যা- সম্প্রদানের যোগ্যপাত্র বলিয়া নির্দিষ্ট আছে; তন্মধ্যে এখানে প্রিয় পুত্র ও শিষ্য, এই দুইজনকে, মাত্র এই মন্থবিদ্যাদানের অনুমতি দেওয়া হইল।
মূলানুবাদ:-উক্ত মন্থহোম চারিটী ঔদুম্বর পাত্র দ্বারা সম্পাদন করিতে হয়। মন্থহোমের শ্রুব ঔদুম্বর-উদুম্বর কাষ্ঠময়, চমস ঔদুম্বর, কাষ্ঠও ঔদুম্বর এবং মন্থনের দণ্ডদুইটাও ঔদুম্বর। দশ- প্রকার গ্রাম্য ধান্য থাকিবে-ব্রীহি, যব, তিল, মাষ, অণু, প্রিয়ঙ্গু (কাঐন?), গোধূম, মসূর, খল্ব ও খলকুল(কুলখ কড়াই), এই দশ প্রকার দ্রব্য পেষণ(চূর্ণ) করিয়া, দধি, ঘৃত ও মধুমিশ্রিত করিবে, এবং পরে আজ্যরূপে হোম করিবে ॥ ৪০৭ ॥ ১৩ ॥
ইতি ষষ্ঠ্যায়ে তৃতীয় ব্রাহ্মণব্যাখ্যা ॥ ৬ ॥ ৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—চতুরৌদুম্বরো ভবতীতি ব্যাখ্যাতম্। দশ গ্রাম্যাণি ধান্যানি ভবন্তি; গ্রাম্যাণান্ত ধান্যানাং দশ নিয়মেন গ্রাহ্যা ইত্যবোচাম। কে তে ইতি নিৰ্দ্দিশ্যন্তে,—ব্রীহিষবাঃ, তিলমাষাঃ, অণুপ্রিয়ঙ্গবঃ, অণবশ্চ অণুশব্দবাচ্যাঃ; কচিদ্দেশে প্রিয়ঙ্গবঃ প্রসিদ্ধাঃ কঙ্গুশব্দেন; খল্লা নিষ্পাবাঃ বল্লশব্দবাচ্যা লোকে; খলকুলাঃ কুলখাঃ। এতদ্ব্যতিরেকেণ যথাশক্তি সর্ব্বৌষধয়ো গ্রাহ্যাঃ, ফলানি চেত্যবোচাম, অযাজ্ঞিকানি বর্জয়িত্বা ॥ ৪০৭ ॥ ১৩ ॥
টাকা।—১।৪।৭।১৩।
ইতি কৃষ্ণদাসদেবকাব্যসংগ্রহে ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ। তৃতীয়ঃ খণ্ডঃ॥ ৬ ॥ ৩ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—‘চতুরোদুম্বরো ভবতি’ কথার অর্থ পূর্ব্বেই ব্যাখ্যাত হইয়াছে। গ্রাম্য ধান্য দশপ্রকার; গ্রাম্য ধান্যের মধ্যে দশপ্রকার ধান্য যে অবশ্য গ্রহণ করিতে হইবে, একথা আমরা ‘পূর্ব্বেই বলিয়াছি। সেই দশপ্রকার ধান্য কি কি, তাহাই এখন নির্দেশ করা হইতেছে—ব্রীহি, যব, তিল, মাষ, অণু ও প্রিয়ঙ্গু—অণু অর্থ—অণুশব্দবাচ্য, অর্থাৎ ‘অণু’ বলিলে যাহাকে বুঝায়; কোন কোন দেশে ‘প্রিয়ঙ্গু’ কঙ্গু নামে প্রসিদ্ধ; খল—নিষ্পাব, লোকে যাহাকে ‘বল্ল’ নামে অভিহিত করিয়া থাকে, খলকুল অর্থ—কুলখ কড়াই। শক্তি অনুসারে এতদতিরিক্ত সর্ব্বৌষধি ও ফলসমূহ যে, গ্রহণ করিতে হইবে, তাহা আমরা প্রথমেই বলিয়াছি; অবশ্য অযজ্ঞীয় বস্তুমাত্রই বর্জন করিতে হইবে ॥ ৪০৭ ॥ ১৩ ॥
ইতি ষষ্ঠ্যায়ে তৃতীয় ব্রাহ্মণের ভাষ্যঅনুবাদ সমাপ্ত ॥ ৬ ॥ ৩ ॥
এষাং বৈ ভূতানাং পৃথিবী রসঃ, পৃথিব্যা আপোহপামোষধয় ওষধীনাং পুষ্পাণি পুষ্পাণাং ফলানি ফলানাং পুরুষঃ পুরুষস্য রেতঃ ॥ ৪০৮॥ ১॥
সরলার্থঃ।—[প্রাগুক্তং শ্রীমন্থং কৃতবতঃ প্রাণদর্শিনঃ পুত্রমন্থে অধিকারং জ্ঞাপয়িতুং ব্রাহ্মণমিদমারভ্যতে—‘এষাং বৈ ভূতানাম্’ ইত্যাদি।] পৃথিবী বৈ(এব) এষাং(চরাচরাণাৎ) ভূতানাং রসঃ(সারঃ, পৃথিব্যুপাদানকত্বাদ- ভূতানাম্); আপঃ(জলানি) পৃথিব্যাঃ[রসঃ]; ওষধয়ঃ অপাং[রসঃ]; পুষ্পাণি ওষধীনাং[রসঃ], ফলানি পুষ্পাণাং[রসঃ]; পুরুষঃ(মনুষ্যাদিদেহঃ) ফলানাং(ব্রীহিযবাদীনাং)[রসঃ, তৎপরিণামত্বাৎ]; পুরুষস্য চ রেতঃ[রসঃ; সর্ব্বাঙ্গনির্য্যাসরূপত্বাৎ]॥ ৪০৮॥১॥
মূলানুবাদ:-প্রাণদর্শী পুরুষেরই পূর্ব্বোক্ত মন্থকৰ্ম্মানু- ষ্ঠানে অধিকার, এবং শ্রীমন্থকৰ্ম্মানুষ্ঠাতা অধিকারী পুরুষেরই যে, এই পুত্র-মন্থে অধিকার, ইহা জ্ঞাপনের নিমিত্ত এই ব্রাহ্মণ আরব্ধ হইতেছে।
পৃথিবীই এই স্থাবর-জঙ্গম ভূতবর্গের রস অর্থাৎ সারভূত; কারণ, পৃথিবীই উহাদের দেহোপাদান; জল’ আবার পৃথিবীর সার;- কারণ, জল হইতেই পৃথিবীর জন্ম; জলের সার আবার ওষধি—তৃণ- লতাসমূহ; ওষধির সার হইতেছে—পুষ্পসমূহ; পুষ্পের সার ধান্য যবাদি ফলসমূহ; ফলের সার পুরুষ; কেন না, পুরুষের দেহ অন্নময়; পুরুষের সার আবার শুক্র; কারণ, উহা পুরুষের সর্ব্বাঙ্গ হইতে নিঃসৃত হইয়া থাকে ॥ ৪০৮॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যাদৃজন্মা যথোৎপাদিতো যৈর্ব্বা গুণৈর্বিশিষ্টঃ পুত্র- আত্মনঃ পিতুশ্চ লোক্যো ভবতীতি, তৎসম্পাদনায় ব্রাহ্মণমারভ্যতে। প্রাণদর্শিনঃ শ্রীমন্থং কর্ম্ম কৃতবতঃ পুত্রমন্থেহধিকারঃ; যদা পুত্রমন্থং চিকীর্ষতি, তদা শ্রীমন্থং কৃত্বা- ঋতুকালং পত্ন্যাঃ প্রতীক্ষেত, ইত্যেতদ্ রেতস ওষধ্যাদিরসতমত্বস্তুত্যা অবগম্যতে।
এবং বৈ চণ্ডালগৌড়্যং ভূষণং, পৃথিবী যস্য, গায়ত্রী, সর্ব্বভূতানাং।
মধ্বিতি হি উক্তম্। পৃথিব্যা আপো রসঃ, অপ্সু হি ‘পৃথিবী ওতা চ প্রোতা চ; অপাম্ ওষধয়ো রসঃ, কার্য্যত্বাদ রসত্বমোযধ্যাদীনাম্; ওষধীনাং পুষ্পাণি; পুষ্পাণাৎ ফলানি; ফলানাৎ পুরুষঃ; পুরুষস্য রেতঃ; “সর্ব্বেভ্যোঽঙ্গেভ্যস্তেজঃ সম্ভূতম্” ইতি শ্রুত্যন্তরাৎ ॥ ৪০৮॥ ১ ॥
টাকা।—প্রাণোপাসকস্য বিত্তার্থিনো মস্থাখ্যং কর্ম্মোক্তা ব্রাহ্মণান্তরমুখাপয়তি—যাদৃগিতি। উক্তগুণঃ স কথং স্যাদিত্যপেক্ষায়ামিতি শেষঃ। তচ্ছব্দো যথোক্তপুত্রবিষয়ঃ। যদস্মিন্ ব্রাহ্মণে পুত্রমস্থাখ্যং কৰ্ম্ম বক্ষ্যতে, তদ্ভবতি সর্ব্বাধিকারবিষয়মিত্যাশঙ্ক্যাহ—প্রাণেতি। পুত্রমন্থস্ত কালনিয়মাভাবমাশঙ্ক্যাহ—যদেতি। কিমত্র গমকমিত্যাশঙ্ক্য রেতঃস্তুতিরিত্যাহ—ইত্যেতদিতি। পৃথিব্যাঃ সর্ব্বভূতসারত্বে মধুব্রাহ্মণং প্রমাণয়তি—সর্ব্বভূতানামিতি। তত্র গার্গিব্রাহ্মণং প্রমাণমিত্যাহ—অংসু হীতি। অপাং পৃথিব্যাশ্চ রসত্বং কারণত্বাদযুক্তম্, ওষধ্যাদীনাং কথমিত্যাশঙ্ক্যাহ—কার্য্যত্বাদিতি। রেতোহসৃজতেতি প্রস্তুত্য রেতসন্তত্র তেজঃশব্দপ্রয়োগাত্তস্য পুরুষে সারত্বমৈতরেয়কে বিবক্ষিতমিত্যাহ—সর্ব্বেভ্য ইতি ॥ ৪০৮॥১॥
ভাষ্যানুবাদ।—যে প্রকার জন্ম, যে প্রকার উৎপাদন এবং যে সমস্ত গুণবিশেষবিশিষ্ট হইলে পুত্র নিজের ও পিতার লোকহিতকর হইয়া থাকে, তাহা সম্পাদনের অর্থাৎ সেই প্রকার জন্ম, উৎপাদন ও গুণবিশেষ লাভের উপায় নির্দেশের নিমিত্ত এই ব্রাহ্মণ আরব্ধ হইতেছে। যে প্রাণদর্শী পুরুষ পূর্ব্বোক্ত শ্রীমন্থকৰ্ম্ম করিয়াছেন, বক্ষ্যমাণ পুত্রমন্থ কর্ম্মে তাঁহারই অধিকার। এখানে পুরুষের রেতকে ওষধিপ্রভৃতির সারভূত বলিয়া স্তুতি করায় বুঝা যাইতেছে যে, পুরুষ যখন পুত্রমন্থ কৰ্ম্ম করিতে ইচ্ছুক হয়, তখন অগ্রেই শ্রীমন্থ কৰ্ম্ম করিয়া পত্নীর ঋতুকাল প্রতীক্ষা করিবে।
এই যে, চরাচরাত্মক(স্থাবর-জঙ্গম) ভূতবর্গ, পৃথিবী তাহাদের রস— সারভূত; পূর্ব্বেও পৃথিবীকে সর্ব্বভূতের, ‘মধু’ বলা হইয়াছে। জল আবার পৃথিবীর রস; কেন না, এই পৃথিবী জলের মধ্যে ওত-প্রোত রহিয়াছে; ওষধি (তৃণলতাসমূহ’) জলের রস; কারণ, ওষধিসমূহ জল হইতে উৎপন্ন; এই জন্য উহারা জলের সারভূত; ওষধির সার পুষ্পসমূহ; পুষ্পের সার ফলসমূহ; ফলের সার হইতেছে পুরুষ(জীবদেহ); পুরুষের রস রেতঃ(শুক্র); কারণ, অপর শ্রুতিতে আছে ‘শুক্ররূপ তেজঃ সমস্ত দেহাবয়ব হইতে প্রাদুর্ভূত হইয়াছে’ ইতি ॥ ৪০৮॥ ১ ॥
সহ প্রজাপতিরীক্ষাঞ্চক্রে হস্তাস্মৈ প্রতিষ্ঠাং কল্পয়ানীতি; সস্ত্রিয়ং সসূজে, তাং সৃষ্টাধ উপাস্ত, তস্মাৎ স্ত্রিয়মধ উপাসীত,
১৫৫১
স এবং প্রাক্ষং প্রাবাণমাত্মন এব সমুদপারয়ত্তেনামভ্য- সৃজত ॥ ৪০৯ ॥ ২ ॥
সরলার্থঃ।—[ইদানীং সারতমন্য রেতসঃ প্রতিষ্ঠা-নির্মাণপ্রকার- মাহ—“সহ” ইত্যাদিনা।] সঃ(প্রসিদ্ধঃ) প্রজাপতিঃ(প্রজানাৎ স্রষ্টা) হ ঈক্ষাংচক্রে(রেতসঃ প্রতিষ্ঠাবিষয়ে আলোচনং কৃতবান্); হস্ত(উৎসাহে) অস্মৈ(রেতসে) প্রতিষ্ঠাং(আশ্রয়ং) কল্পয়ানি(নির্মাণং করবাণি), ইতি (এবমালোচ্য) সঃ(প্রজাপতিঃ) স্ত্রিয়ং(রেতোধারণপাত্রং) সসৃজে(সৃষ্টবান্); তাং(স্ত্রিয়ং) সৃষ্ট্বা অধঃ(অধস্তাৎ স্থাপয়িত্বা) উপাস্ত(উপাসনং মিথুন-সাধ্যং কৰ্ম্ম কৃতবান্); তস্মাৎ(প্রজাপতিনা এবমুপাসিতত্বাৎ) স্ত্রিয়ম্ অধ উপাসীত; [শ্রেষ্ঠজনানুসারিণ্যো হি প্রজাঃ]। সঃ(প্রজাপতিঃ) এতৎ(প্রসিদ্ধং) প্রাঞ্চৎ (স্পন্দমানং) আত্মন এব গ্রাবাণং(পাষাণবৎ কঠিনং পুংচিহ্নং) সমুদপারয়ৎ (স্ত্রিয়া জননেন্দ্রিয়ং প্রতি প্রেরিতবান্); তেন(প্রকারেণ) এনাং(স্ত্রিয়ং) অভ্যসূজত(সম্যক্ সংসর্গং কৃতবান্) ॥ ৪০৯ ॥ ২ ॥
মূলানুবাদ:-[অতঃপর সর্ব্বভূতের সারভূত শুক্রের আধানপাত্র নির্মাণের প্রণালী কথিত হইতেছে-] সেই প্রজাপতি (বিধাতা) উক্ত রেতের প্রতিষ্ঠা সম্বন্ধে চিন্তা করিয়াছিলেন,-ভাল, ইহার(রেতের) প্রতিষ্ঠা বা আধানপাত্র নির্মাণ করিব; তিনি স্ত্রী সৃষ্টি করিলেন; সেই স্ত্রীকে সৃষ্টি করিয়া নীচে রাখিয়া উপাসনা করিয়াছিলেন; সেই হেতু এখনও স্ত্রীকে অধে রাখিয়াই উপাসনা করিবে। সেই প্রজাপতি নিজেরই স্পন্দমান এই পাষাণতুল্য পুং-চিহ্নটী[স্ত্রী-চিহ্নে] প্রেরণ করিয়াছিলেন; তিনি সেই প্রকারেই স্ত্রী-সংসর্গ করিয়াছিলেন ॥ ৪০৯॥২॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যত এবং সর্ব্বভূতানাং সারতমমেতদ্রেতঃ, অতঃ কা- নু খবস্য যোগ্যা প্রতিষ্ঠেতি স হ স্রষ্টা প্রজাপতিঃ ঈক্ষাঞ্চক্রে। ঈক্ষাং কৃত্বা স্ত্রিয়ং সৃজে। তাং চ সৃষ্ট্বা অধ উপান্ত—মৈথুনাখ্যৎ কৰ্ম্ম অধ-উপাসনং নাম কৃতবান্। তস্মাৎ স্ত্রিয়ম্ অধ উপাসীত; শ্রেষ্ঠানুশ্রয়ণা হি প্রজাঃ।
অত্র বাজপেয়সামান্যক্বপ্তিমাহ-স এতৎ প্রাঞ্চৎ প্রকৃষ্টগতিযুক্তৎ আত্মনো গ্রাবাণং সোমাভিষবোপলস্থানীয়ং কাঠিন্যসামান্যাৎ প্রজননেন্দ্রিয়ম্, উদপারয়ৎ;
উৎপূরিতবান্ স্ত্রী-ব্যঞ্জনং প্রতি; তেন এনাং স্ত্রিয়মভ্যসৃজৎ অভিসংসর্গং কৃতবান্ ॥ ৪০৯ ॥ ২॥
টীকা।—শ্রেষ্ঠমনুশ্রয়ন্তেহনুসরন্তীতি শ্রেষ্ঠানুশ্রয়ণাঃ। পণ্ডকর্মণি স্বারম্ভেন প্রাণিমাত্রস্ত প্রবৃত্তেরূথা বিধিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-অত্রেতি। অবাচ্যং কৰ্ম্ম সপ্তম্যর্থঃ। ৪০৯।২।
ভাষ্যানুবাদ।—যেহেতু এই রেতঃ হইতেছে সমস্ত ভূতের সারতম, সেই হেতু প্রজাপতি চিন্তা করিয়াছিলেন যে, ইহার উপযুক্ত প্রতিষ্ঠা বা আধান- ‘পাত্র কি হইতে পারে? তিনি এইরূপ আলোচনা করিয়া স্ত্রীমূর্ত্তি সৃষ্টি করিয়া- ছিলেন। তিনি সেই স্ত্রী সৃষ্টি করিয়া তাহাকে অধে রাখিয়া উপাসনা করিয়া- ছিলেন—মৈথুন কর্মরূপ অধ-উপাসনা করিয়াছিলেন; সেই হেতু অপর লোকেও স্ত্রীর অধ-উপাসনাই করিবে; কেন না, সাধারণ লোকে শ্রেষ্ঠলোকের আচরণেরই অনুসরণ করিয়া থাকে।
এ বিষয়ে বাজপেয়-যাগের সাধারণ ধর্ম্মের পরিকল্পনা প্রদর্শন করিতেছেন,— তিনি(প্রজাপতি) কাঠিন্যরূপ তুল্য ধৰ্ম্ম থাকায়[যজ্ঞীয়] সোমনিষ্পেষণের পাষাণখণ্ডস্থানীয় প্রাঞ্চ—উত্তম গতিযুক্ত বা স্পন্দনসম্পন্ন আপনার এই পাষাণ- খণ্ডটী অর্থাৎ কাঠিন্যযুক্ত জননেন্দ্রিয়টী স্ত্রীচিহ্ন লক্ষ্য করিয়া উৎপূরণ করিয়া- ছিলেন; তাহা দ্বারাই এই স্ত্রীর সহিত সংসর্গ করিয়াছিলেন ॥ ৪০৯ ॥ ২ ॥
তস্যা বেদিরুপস্থো লোমানি বর্হিশর্ম্মাধিষবণে সমিদ্ধো মধ্যতস্তৌ মুষ্কৌ, স যাবান্ হ বৈ বাজপেয়েন যজমানস্য লোকো ভবতি তাবানস্য লোকো ভবতি, য এবং বিদ্বানধোপহাসঞ্চরত্যা- সাং স্ত্রীণাংসুকৃতং বৃক্তেহথ য ইদমবিদ্বানধোপহাসঞ্চরত্যাস্য স্ত্রিয়ঃ সুকৃতং বৃঞ্জতে ॥ ৪১০ ॥ ৩ ॥
সরলার্থঃ।—[ইদানীং তত্র যজ্ঞরূপতাৎ কল্পয়তি “তস্যাঃ” ইত্যাদিনা।] তস্যাঃ(স্ত্রিয়াঃ) উপস্থঃ(জননেন্দ্রিয়ং) বেদিঃ(যজ্ঞবেদিস্থানীয়ঃ); লোমানি বর্হিঃ(কুশঃ); চর্ম্ম(আভ্যন্তরং চর্ম্মৈব)[আনডুহং চর্ম্ম]; সমিদ্ধঃ (প্রদীপ্তঃ অগ্নিঃ) মধ্যতঃ(স্ত্রীচিহ্নস্য মধ্যে)(দ্রষ্টব্যঃ); তৌ(প্রসিদ্ধৌ) মুষ্কৌ(জননেন্দ্রিয়স্য পার্শ্বস্থৌ মাংসখণ্ডৌ) অধিষবণে(সোম-পেষণোপল- খণ্ডৌ)।[স্ত্রিয়াঃ তত্তৎস্থানেষু বেদ্যাদিদৃষ্টিঃ কর্ত্তব্যা ইতি ভাবঃ]।[ইদানীং বিজ্ঞানফলমুচ্যতে—] বাজপেয়েন(তন্নায়া যজ্ঞেন) যজমানশ্য সঃ যাবান্ (যৎপরিমাণঃ) হবৈ(প্রসিদ্ধৌ) লোকঃ(ভোগঃ) ভবতি, অন্য(বিদুষঃ)
তাবান্ লোকঃ ভবতি;[তস্মাৎ অত্র বীভৎসা ন কাৰ্য্যা]; যঃ এবং(যথোক্তং) বিদ্বান্(জানন্) অধোপহাসং চরতি,[সঃ] আসাং(ভোগ্যানাং) স্ত্রীণাং সুকৃতং(পুণ্যং) বৃক্তে(আয়ত্তং করোতি); অথ(পক্ষান্তরে) যঃ ইদং (যথোক্তং বিজ্ঞানং) অবিদ্বান্ সন্ অধোপহাসং চরতি; স্ত্রিয়ঃ অন্য(অবিদুষঃ) সুকৃতং আবৃঞ্জতে(আবর্জয়ন্তি) ইত্যর্থঃ ॥ ৪১০ ॥ ৩॥
মুলাসুবাদ।-স্ত্রীর উপস্থটাকে(জননেন্দ্রিয়কে) বেদি [বলিয়া চিন্তা করিবে]; লোমসমূহকে কুশ বলিয়া, চৰ্ম্মকে[চৰ্ম্ম বলিয়া] এবং মুস্কদ্বয়কে(উভয় পার্শ্বের স্থূল মাংসখণ্ড দুইটীকে) অধিষবণদ্বয়(সোম-পেষণের দুইটা পাষাণখণ্ড)[বলিয়া চিন্তা করিবে]। যজমান(যাজ্ঞিক পুরুষ) বাজপেয় যাগের দ্বারা যে পরি- মাণ লোক বা ফল প্রাপ্ত হন, যথোক্তপ্রকার বিজ্ঞানসম্পন্ন পুরুষেরও সেই পরিমাণই ফল লাভ হয়।[অতএব এ বিষয়ে ঘৃণা বা কুৎসা করিতে নাই]। যে ব্যক্তি এই প্রকার বিজ্ঞানসম্পন্ন হইয়া অধোপ- হাস(উক্ত কৰ্ম্ম) আচরণ করে, সেই লোক সেই স্ত্রীদিগের পুণ্য আহরণ করে; পক্ষান্তরে, যে লোক এইরূপ বিজ্ঞানবর্জিত—যথেচ্ছা- ‘চারী হইয়া উক্ত অধোপহাস কৰ্ম্ম আচরণ করে, স্ত্রীগণ তাহার পুণ্য আবৃত করে অর্থাৎ গ্রহণ করে ॥ ৪১০ ॥ ৩॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—তস্যা বেদিরিত্যাদি সর্ব্বং সামান্যং প্রসিদ্ধম্। সমিদ্ধোহগ্নির্মধ্যতঃ—স্ত্রীব্যঞ্জনস্য; তৌ মুষ্কৌ অধিষবণফলকে ইতি ব্যবহিতেন সম্বধ্যতে। বাজপেয়যাজিনো যাবান্ লোকঃ প্রসিদ্ধঃ, তাবান্ বিদুষো মৈথুনকর্ম্মণঃ লোকঃ ফলমিতি স্থূয়তে। তস্মাদ্বীভৎসা নো কার্য্যেতি। য এবং বিদ্বান্ অধোপ- হাসং চরতি, আসাং স্ত্রীণাং সুকৃতং বৃক্তে আবর্জয়তি; অথ পুনর্যঃ বাজপেয়- সম্পত্তিং ন জানাতি, অবিদ্বান্ রেতসো রসতমত্বঞ্চ, অধোপহাসং চরতি, অন্য স্ত্রিয়ঃ সুকৃতম্ আবৃঞ্জতে অবিদুষঃ ॥ ৪১০ ॥ ৩ ॥
টীকা।—মুক্তৌ বৃষণৌ যোনিপার্শ্বয়োঃ কঠিনৌ মাংসখণ্ডৌ, তত্রাধিষবণশব্দিত-সোমফলক- দৃষ্টিঃ। যচ্চানডুহং চৰ্ম্ম সোমকণ্ডনার্থং, তদ্দৃষ্টী রহস্যদেশস্য চৰ্ম্মণি কর্তব্যেত্যাহ—তাবিতি। উপান্তিপ্রকারমুক্ত। ফলোক্তেস্তাৎপর্য্যমাহ—বাজপেয়েতি। স্তূয়তে মৈথুনাখ্যং কর্ম্মেতি শেষঃ। স্তুতিফলমাহ—তন্মাদিতি। ইতিশব্দঃ স্তুতিফলদর্শনার্থঃ। উপান্তেরধিকং ফল- মাহ—য এবমিতি। অবিদুষো দুর্ব্যাপারনিয়তস্য প্রত্যবায়ং দর্শয়তি—অখেতি॥ ৪১০॥৩॥
३
ভাষ্যানুবাদ।—‘তস্যা বেদিঃ’ ইত্যাদি শ্রুতিতে বাজপেয় যাগের যে সমুদয় সাধর্ম্য কথিত হইয়াছে, সে সমুদয় প্রসিদ্ধই আছে। সমিদ্ধ—স্ত্রীচিহ্নের অভ্যন্তরগত অগ্নি; ‘তৌ মুস্কৌ’—(প্রসিদ্ধ কোষদ্বয়—উভয় পার্শ্বস্থ কঠিন মাংস- খণ্ড দুইটী), এই কথাটীর সম্বন্ধ—ব্যবধানস্থিত ‘অধিষবণে’ শব্দের সহিত করিতে হইবে;[‘অধিষবণ’ অর্থ—সোম-নিষ্পেষণ করিবার পাষাণখণ্ড। বাজপেয় যজ্ঞ- কর্তার যে পরিমাণ লোক প্রাপ্য বলিয়া প্রসিদ্ধ, যথোক্ত প্রকার মৈথুন-কর্ম্মকারী বিদ্বানেরও সেই পরিমাণ লোকই—ফলই সিদ্ধ হইয়া থাকে। যখন এইরূপে ঐ কর্ম্মের প্রশংসা করা হইতেছে; তখন এ বিষয়ে বীভৎসা বা নিন্দা করা উচিত নহে।
এইরূপ বিজ্ঞানসম্পন্ন যে লোক ‘অধোপহাস’ আচরণ করে, সে লোক সেই সকল স্ত্রীর পুণ্য অধিকার করে, আর যে লোক যথোক্তপ্রকার বাজপেয় যাগ- সম্পাদনক্রম জানে না এবং রেতঃ যে, রসতম, ইহাও অবগত নহে, অথচ অধোপ- হাস আচরণ করে, স্ত্রীগণ সেই অবিদ্বানের সুকৃতি বা পুণ্যরাশি আবৃত করিয়া থাকে ॥ ৪১০ ॥ ৩ ॥
এতদ্ধ স্ম বৈ তদ্বিদ্বানুদ্দালক আরুণিরাহৈতদ্ধ স্ম বৈ তদ্বিদ্বা- ন্নাকো মৌদগল্য আহৈতদ্ধ স্ম বৈ তদ্বিদ্বান্ কুমারহারিত আহ— বহবো মর্য্যা ব্রাহ্মণায়না নিরিন্দ্রিয়া বিসুকৃতোহস্মাল্লোকাৎ প্রযন্তি, য ইদমবিদ্বাহ্সোহধোপহাসঞ্চরস্তীতি, বহু বা ইদং সুপ্তস্য বা জাগ্রতো বা রেতঃ স্কন্দতি ॥ ৪১১ ॥ ৪ ॥
সরলার্থঃ।—তৎ এতৎ(বাজপেয়সম্পন্নং মৈথুনাখ্যং কৰ্ম্ম) বিদ্বান্ (জানন্) আরুণিঃ উদ্দালকঃ হ বৈ(ঐতিহ্যে) আহ স্ম(উক্তবান্- কিল); তথা তৎ এতৎ বিদ্বান্ কুমারহারিতঃ হ বৈ আহ স্ম।[তে কিমাহুরিত্যাহ] বহবঃ মর্য্যাঃ(মরণশীলাঃ ব্রাহ্মণায়নাঃ) ব্রাহ্মণ্য-জাতিমাত্রোপজীবিনশ্চ, নিরিন্দ্রিয়াঃ(শিথিলেন্দ্রিয়াঃ) বিসুকৃতঃ(পুণ্যবর্জিতাঃ সন্তঃ) অস্মাৎ লোকাৎ প্রযন্তি।[কে?] যে ইদং(বাজপেয়সম্পদ্যুক্তং কৰ্ম্ম) অবিদ্বাংসঃ অধোপহাসং চরন্তি ইতি।
[শ্রীমন্থং কৰ্ম্ম সমাপ্য পত্ন্যা ঋতুকালং প্রতীক্ষমাণস্য] অন্য সুপ্তস্য বা জাগ্রতঃ বা[যদি] বহু বা[অল্পং বা] রেতঃ স্কন্দতি(ক্ষরতি)-॥ ৪১১ ॥ ৪ ॥
মূল্যমান।—যশঃ-নন্দন(আকৃতি) উদ্যানক যদি
এই কৰ্ম্মতত্ত্ব অবগত হইয়া বলিয়াছিলেন; এবং মুদ্গলপুত্র(মৌদ্গল্য) নাকনামক ঋষিও সেই এই ‘কৰ্ম্মতত্ত্ব অবগত হইয়া বলিয়াছিলেন; এবং কুমারহারিত ‘ঋষিও সেই এই রহস্য জানিয়া বলিয়াছিলেন— বিকলেন্দ্রিয়, পুণ্যহীন ও ব্রাহ্মণাপসদ বহুতর মর্ত্য—মরণশীল মনুষ্য, বর্তমান লোক হইতে প্রস্থান করিয়া থাকে, যাহাদের জাগরণে বা স্বপ্ন সময়ে বহু বা অল্প রেতঃস্খলন হয় ॥ ৪১১ ॥ ৪ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—এতদ্ধ স্ম বৈ তদ্বিদ্বানুদ্দালক আরুণিরাহ, অধোপহাসাখ্যং মৈথুনকৰ্ম্ম বাজপেয়সম্পন্নং বিদ্বানিত্যর্থঃ। তথা নাকো মৌদগল্যঃ কুমারহারিতশ্চ। কিং তৌ আহতুরিত্যুচ্যতে, বহবো মর্য্যা মরণধর্মিণো মনুষ্যাঃ, ব্রাহ্মণা অয়নং যেষাং তে ব্রাহ্মণায়নাঃ—ব্রহ্মবন্ধবো জাতিমাত্রোপজীবিন ইত্যেতৎ। নিরিন্দ্রিয়া বিশ্লিষ্টেন্দ্রিয়াঃ, বিসুকৃতো বিগত- সুকৃতকর্মাণোহবিদ্বাৎসো মৈথুনকর্মাসক্তা ইত্যর্থঃ। তে কিম্? অস্মাল্লোকাৎ প্রযন্তি পরলোকাৎ পরিভ্রষ্টা ইতি। মৈথুনকৰ্ম্মণোহত্যন্তপাপহেতুত্বং দর্শয়তি—য ইদমবিদ্বাৎসোঽধোপহাসং চরন্তীতি। শ্রীমন্থং কৃত্বা পত্ন্যা ঋতুকালং ব্রহ্মচর্য্যেণ প্রতীক্ষেত; যদীদং রেতঃ স্কন্দতি, বহু বা অল্পং বা, সুপ্তস্য জাগ্রতো বা রাগপ্রাবল্যাৎ—॥ ৪১১ ॥ ৪ ॥
টীকা।—অবিদুষামতিগর্হিতমিদং কর্ম্মেত্যত্রাচার্য্যপরম্পরাসংমতিমাহ—এতদ্ধেতি। পশু- কর্ম্মণো বাজপেয়সংপন্নত্বমিদংশব্দার্থঃ। অবিদুযামবাচ্যে কৰ্ম্মণি প্রবৃত্তানাং দোষিত্বমুপ- সংহর্তুমিতিশব্দঃ। বিদুষো লাভমবিদুষশ্চ দোষং দর্শয়িত্বা ক্রিয়াকালাৎ প্রাগেব রেতঃস্খলনে প্রায়শ্চিত্তং দর্শয়তি—শ্রীমন্থমিতি। যঃ প্রতীক্ষতে, তস্য রেতো যদি স্কন্দতীতি যোজনো ॥ ৪১১ ॥ ৪ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—সেই এই মন্থকৰ্ম্মাভিজ্ঞ অর্থাৎ অধোপহাসনামক মৈথুন-ক্রিয়ার বাজপেয় যজ্ঞরূপে অনুষ্ঠান-প্রণালীতে অভিজ্ঞ আরুণি উদ্দালক ঋষি বলিয়াছেন; সেইরূপ মুদগলবংশীয় নাক ও কুমারহারিত ঋষিও [ বলিয়াছেন]। তাঁহারা কি বলিয়াছেন, তাহা বলা হইতেছে—ব্রাহ্মণায়ন— ব্রাহ্মণগণ যাহাদের অয়ন—আশ্রয়, তাহারা ব্রাহ্মণায়ন—ব্রহ্মবন্ধু অর্থাৎ ব্রাহ্মণত্ব জাতিই যাহাদের একমাত্র উপজীব্য, তাহারা; নিরিন্দ্রিয়—শিথিলেন্দ্রিয়, পুণ্যানুষ্ঠানবর্জ্জিত, অবিদ্বান্ অথচ মৈথুন-কর্ম্মে আসক্ত, এরূপ বহু মর্য্য— মরণশীল—মনুষ্য; তাহারা কি? না, তাহারা পরলোক হইতে ভ্রষ্ট হইয়া ইহলোক হইতে প্রয়াণ করিয়া থাকে। যে ইদমবিদ্বাংসঃ অধোপহাসং
চরন্তি”—এই বাক্যটী মৈথুন-ক্রিয়ার অত্যন্ত পাপজনকত্ব প্রদর্শন করিতেছে।
পূর্ব্বোক্ত শ্রীমন্থ কৰ্ম্ম সম্পাদন করিয়া, ব্রহ্মচর্য্য অবলম্বনপূর্ব্বক পত্নীর ঋতুকাল প্রতীক্ষা করিতে হয়; এই সময়ের মধ্যে যদি অনুরাগের প্রবলতা বশতঃ তাহার সুপ্তাবস্থায়ই হউক, আর জাগ্রৎ অবস্থায়ই হউক, এবং অল্পই হউক, আর অধিকই হউক, রেতঃস্খলন হয়—॥ ৪১১ ॥ ৪ ॥
তদভিমৃশেদনু বা মন্ত্রয়েত যম্মেহদ্য রেতঃ পৃথিবীমস্কানৎ- সীদযদোষধীরপ্যসরদযদপঃ। ইদমহং তদ্রেত আদদে পুনর্মা মৈত্বিন্দ্রিয়ং পুনস্তেজঃ পুনর্ভগঃ। পুনরগ্নিধিষ্ণ্যা যথা- স্থানং কল্পন্তামিত্যনামিকাঙ্গুষ্ঠাভ্যামাদায়ান্তরেণ স্তনৌ বা ভ্রুবৌ বা নিমৃজ্যাৎ ॥ ৪১২॥ ৫॥
সরলার্থঃ।—তৎ(স্কন্নং—নির্গতং রেতঃ) অভিমৃশেৎ(মার্জয়েৎ), অনুমন্ত্রয়েত বা(মন্ত্রং বা অনুজপেৎ)।[তত্রাদৌ আদানম্] অদ্য মম যৎ রেতঃ পৃথিবীম্ অঙ্কান্তীৎ(পৃথিব্যাং নির্গতম্), যৎ(রেতঃ) ওষধীঃ অপি অসরৎ(অগচ্ছৎ),[তথা] যৎ(রেতঃ) অপঃ(জলানি)[অসরৎ]; অহং তৎ রেতঃ ইদং(এবং যথা স্যাৎ, তথা) আদদে(গৃহ্লামি) ইতি(অনেন মন্ত্রেণ) অনামিকাঙ্গুষ্ঠাভ্যাম্ আদায়(গৃহীত্বা), ইন্দ্রিয়ং(রেতোরূপেণ নির্গতম্) পুনঃ মা(মাম্) এতু(প্রত্যাগচ্ছতু); তেজঃ(রেতসা সহ নির্গতা কান্তিঃ) পুনঃ[মাম্ এতু]; ভগঃ(সৌভাগ্যং জ্ঞানং বা) পুনঃ[মাম্ প্রত্যা- গচ্ছতু]। অগ্নিধিষ্ণ্যাঃ(অগ্নিঃ ধিষ্ণ্যং স্থানং যেষাং তে অগ্নিধিষ্ণ্যাঃ দেবাঃ); [রেতোরূপেণ বহিনিঃসৃতং তৎ সর্ব্বং] যথাস্থানং কল্পন্তাৎ(স্থাপয়ন্তু)[ইত্যনেন মন্ত্রেণ] স্তনৌ বা(স্তনয়োর্ব্বা) দ্রুবৌ বা(দ্রুবোর্ব্বা) অন্তরেণ(মধ্যে) নিমৃজ্যাৎ (মার্জয়েৎ) ইত্যর্থঃ ॥ ৪১২ ॥ ৫ ॥
মূলানুবাদ?—সেই নির্গত শুক্রটুকু মার্জনা করিবে এবং এই মন্ত্র জপ করিবে।[প্রথমতঃ] ‘অদ্য আমার যে রেতঃ পৃথি- বীতে স্খলিত হইয়াছে, অথবা যে রেতঃ ওষধি ও জলেতে নির্গত হইয়াছে, আমি সেই এই রেতঃ গ্রহণ করিতেছি’, এই মন্ত্র পাঠপূর্ব্বক অনামিকা ও অঙ্গুষ্ঠ অঙ্গুলি দ্বারা সেই রেতঃ গ্রহণ করিয়া,
১৫৫৭
[রেতোরূপে নির্গত আমার] ইন্দ্রিয় পুনরায় আমাতে প্রত্যাগত হউক, এবং তেজঃ(কান্তি) ও সৌভাগ্য বা জ্ঞানও পুনশ্চ আমাতে আসুক; অগ্নিধিষ্ণ্য(অগ্নিতে আশ্রিত দেবগণ) সেই সমুদয় ইন্দ্রিয়কে পুনর্ব্বার যথাস্থানে স্থাপন করুন, এই মন্ত্র দ্বারা সেই রেতঃ স্তনদ্বয়ের বা ভ্রূদ্বয়ের মধ্যস্থলে মার্জনা করিবে(ঘসিয়া দিবে) ॥ ৪১২ ॥ ৫ ॥
শাঙ্কর ভাষ্যম্।—তদভিমৃশেদনুমন্ত্রয়েত বা অনুজপেদিত্যর্থঃ। যদা অভিমৃশতি, তদা অনামিকাঙ্গুষ্ঠাভ্যাং তৎ রেত আদত্তে ‘আদদে’ ইত্যেবমন্তেন মন্ত্রেণ; ‘পুনর্মাম্’ ইত্যনেন নিমৃজ্যাৎ, অন্তরেণ মধ্যে ভ্রুবৌ ভ্রুবোর্ব্বা, স্তনৌ স্তনয়োর্বা ॥ ৪১২ ॥ ৫ ॥
টীকা।—মে মমাদ্যাপ্রাপ্তকালে যদ্রেতঃ পৃথিবীং প্রত্যস্কান্তসীদ্রাগাতিরেকেণ স্কন্নমাসীৎ, ওষধীঃ প্রত্যপ্যসরদগমৎ, যচ্চাপঃ স্বযোনিং প্রতি গতমভূৎ, তদিদং রেতঃ সংপ্রত্যাদদেহহ- মিত্যাদানমন্ত্রার্থঃ। কেনাভিপ্রায়েণ—তদাদানং, তদাহ—পুনরিতি। তৎপুনা রেতোরূপেণ বহির্নির্গতমিন্দ্রিয়ং মাং প্রত্যেতু সমাগচ্ছতু। তেজস্বগতা কান্তিঃ। ভগঃ সৌভাগ্যং জ্ঞানং বা। তদপি সর্ব্বং রেতোনির্গমাত্তদাত্মনা বহির্নির্গতং সম্মাং প্রত্যাগচ্ছতু। অগ্নিধিঞ্চ্যং স্থানং যেবাং, তে দেবাস্তদ্রেতো যথাস্থানং কল্পয়স্থিতি মার্জনমন্ত্রার্থঃ। ৪১২।৫।
ভাষ্যানুবাদ।—সেই নিঃসৃত রেতঃ অভিমর্শন বা মার্জনা করিবে, এবং এই মন্ত্র জপ করিবে। যখন অভিমর্শন করিবে, তখন ‘আদদে’ ইত্যন্ত মন্ত্র দ্বারা অঙ্গুষ্ঠ ও অনামিকা অঙ্গুলি দ্বারা সেই নির্গত রেতঃ গ্রহণ করিবে, আর ‘পুনঃ মাম্’ ইত্যাদি মন্ত্র দ্বারা স্তনদ্বয়ের কিংবা ভ্রূদ্বয়ের মধ্যে ঐ রেতঃ মার্জনা করিবে॥ ৪১২॥৫॥
অথ যদ্যুদক আত্মানং পরিপশ্যেত্তদভিমন্ত্রয়েত—ময়ি তেজ ইন্দ্রিয়ং যশো দ্রবিণং সুকৃতমিতি; শ্রীই বা এষা স্ত্রীণাং যন্মলোদ্বাসাস্তস্মান্মলোদ্বাসসং যশস্বিনীমভিক্রম্যোপমন্ত্রয়েত ॥ ৪১৩॥ ৬॥
সন্মলার্থঃ।—[ প্রসঙ্গতোহরিষ্টপ্রতিকারোপায়মাহ—‘অথ যদি’ ইত্যা- দিনা।] অথ যদি(সম্ভাবনায়াৎ)[কশ্চিৎ] উদকে(জলমধ্যে) আত্মানং(স্বদেহচ্ছায়াং) পশ্যেৎ, তৎ(তদা) অভিমন্ত্রয়েত(বক্ষ্যমাণং মন্ত্রং জপেৎ),—ময়ি তেজঃ; ইন্দ্রিয়ম্, যশঃ, দ্রবিণম্,(ধনম্) সুকৃতং
(পুণ্যং) ইতি।[অন্যচ্চ], এষা(মম পত্নী) স্ত্রীণাং মধ্যে শ্রীঃ(লক্ষ্মীঃ) হ বৈ(প্রসিদ্ধৌ); যৎ(যস্মাৎ)[এষা] মলোদ্বাসাঃ মলবদ্বাসঃপরিহিতা; তস্মাৎ হেতোঃ, মলোদ্বাসসং(মলিনবাসসং) যশস্বিনীং[প্রতিষ্ঠাবতীং] [ত্রিরাত্রান্তে কৃতস্নানাং তাম্] অভিক্রম্য(উপগম্য) উপমন্ত্রয়েত।[মন্ত্রস্ত ইহ অনুক্তোহপি ভাষ্যে দ্রষ্টব্যঃ] ॥ ৪১৩ ॥ ৬॥
মূলানুবাদ?—যদি কখনও জলমধ্যে আপনার প্রতিচ্ছায়া দর্শন করে, তাহা হইলে ‘ময়ি তেজঃ ইন্দ্রিয়ম্’ ইত্যাদি মন্ত্র জপ করিবে। এই স্ত্রী নারীগণের মধ্যে লক্ষ্মীরূপা; যেহেতু ইনি মুলোদ্বাসাঃ, অর্থাৎ রজস্বল বস্ত্রপরিহিতা; সেই হেতু রজস্বল বস্ত্র- সমন্বিতা সেই স্ত্রী[ ত্রিরাত্রের পর কৃতস্নানা হইলে পর,] তাহাকে গমন করিয়া মন্ত্র জপ করিবে[‘আমাদিগকে পুত্র সমুৎপাদন করিতে হইবে’ ইত্যাদি]॥ ৪১৩॥ ৬॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—যদি কদাচিদুদকে আত্মানমাত্মচ্ছায়াং পশ্যেৎ, তত্রাপি অভিমন্ত্রয়েত অনেন মন্ত্রেণ—‘ময়ি তেজঃ’ ইতি। শ্রীহ বা এষা পত্নী স্ত্রীণাং মধ্যে, যৎ যস্মাৎ মলোদ্বাসা উদগতমলবদ্বাসাঃ, তস্মাত্তাং মলোদ্বাসসং যশস্বিনীং শ্রীমতীং অতিক্রম্যাভিগত্যোপমন্ত্রয়েত ইদম্—অদ্য আবাভ্যাং কার্য্যং বৎ পুত্রোৎপাদনমিতি, ত্রিরাত্রান্তে আপ্লুতাম্॥ ৪১৩॥ ৬॥
টীকা।—অযোনৌ রেতঃস্খলনে প্রায়শ্চিত্তমুক্তং, রেতোযোনাবুদকে রেতঃসিচস্থায়াদর্শনে প্রায়শ্চিত্তং দর্শয়তি—অথেত্যাদিনা। নিমিত্তান্তরে প্রায়শ্চিত্তান্তরপ্রদর্শনপ্রক্রমার্থোহথশব্দঃ। ময়ি তেজঃপ্রভৃতি দেবাঃ কল্পয়স্থিতি মন্ত্রযোজনা। প্রকৃতেন রেতঃসিচা যস্যাৎ পুত্রো জনয়িতব্য- স্তাং স্ত্রিয়ং স্তৌতি—শ্রীরিত্যাদিনা। কথং সা যশস্বিনী, ন হি তস্যাঃ খ্যাতিরন্তি, তত্রাহ— বদিতি। রজস্বলাভিগমনাদি প্রতিষিদ্ধমিত্যাশঙ্ক্য বিশিনষ্টি—ত্রিরাত্রেতি॥ ৪১৩॥৬॥
ভাষ্যানুবাদ।-যদি কখনও জলমধ্যে আপনাকে-আপনার ছায়াকে দর্শন করে, তখনও ‘ময়ি-তেজঃ’ ইত্যাদি মন্ত্র জপ করিবে। এই পত্নী হইতেছে-স্ত্রীগণের মধ্যে শ্রীস্বরূপা(লক্ষ্মীরূপা); যেহেতু ইনি মলোদ্বাসাঃ-অর্থাৎ ইঁহার বস্ত্র হইতে রজোমল অপনীত হইয়াছে; সেই হেতু ত্রিরাত্রের পর কৃতস্নানা সেই মলোদ্বাসা(ঋতুমতী) পত্নীকে উপগত হইয়া ‘অদ্য আমাদিগকে পুত্রোৎপাদন করিতে হইবে’ এইরূপ চিন্তা করিবে॥ ৪১৩॥৬॥
১৫৫৯
সা চেদস্মৈ ন দদ্যাৎ কামমেনামবক্রীণীয়াৎ, সা চেদস্মৈ নৈব দদ্যাৎ, কামমেনাং যষ্ট্যা বা পাণিনা বোপহত্যাভিক্রামেদিন্দ্রিয়েন তে যশসা যশ আদদ ইত্যযশা এব ভবতি ॥ ৪১৪ ॥ ৭ ॥
সরলার্থঃ?—সা(পত্নী) চেৎ(যদি) অস্মৈ(যথোক্তায় পুরুষায়) ন দদ্যাৎ(মৈথুনাখ্যং কর্ম্ম ন অনুমন্যেত);[তদা] এনাং(অপ্রিয়কারিণীং) কামং(যথেচ্ছং অবক্রীণীয়াৎ(অলঙ্কারাদিনা) বশীকুর্য্যাৎ;[তথাপি] সা চেৎ অস্মৈ নৈব দদ্যাৎ, তদা এনাং যষ্ট্যা বা(যষ্টিদ্বারা বা) পাণিনা(হস্তেন) বা কামং(যথেচ্ছং) উপহত্য(অভিতাড্য) অভিক্রামেৎ(বক্ষ্যমাণং মন্ত্রং জপন্ উপগচ্ছেৎ)—ইন্দ্রিয়েণ যশসা(করণেন) তে যশঃ(সৌভাগ্যং) আদদে(গৃহ্লামি) ইতি।[এবং সতি বিপ্রিয়কারিণী সা স্ত্রী] অযশাঃ এব ভবতি ॥ ৪১৪ ॥ ৭ ॥
মূলানুবাদ?—সেই স্ত্রী যদি এই পুরুষকে[স্বদেহ] দান না করে, তাহা হইলে ইচ্ছানুসারে তাহাকে বস্ত্রালঙ্কারাদি দ্বারা বশী- ভূত করিবে। তাহাতেও যদি ইহার প্রতি অঙ্গদান না-ই করে, তবে ইচ্ছামত যষ্টি বা হস্ত দ্বারা ইহাকে তাড়না করিয়া, ‘আমি ইন্দ্রিয়রূপ যশঃ দ্বারা তোমার যশঃ(সৌভাগ্য) গ্রহণ করিতেছি’ বলিয়া তাহাতে উপগত হইবে।[এইরূপ করিলে] সে নিশ্চয়ই যশোহীনা হইবে॥ ৪১৪॥ ৭॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—সা চেদস্মৈ ন দদ্যান্মৈথুনং কর্ত্তুং, কামমেনাম্ অবক্রীণীয়াৎ আভরণাদিনা জ্ঞাপয়েৎ। তথাপি সা নৈব দদ্যাৎ, কামমেনাং যষ্ট্যা বা পাণিনা বোপহত্য অভিক্রামেন্মৈথুনায়; ‘শপ্স্যামি ত্বাং, দুর্ভগাং করিষ্যামীতি’ প্রখ্যাপ্য; তামনেন মন্ত্রেণোপগচ্ছেৎ—‘ইন্দ্রিয়েণ যশসা যশ আদদে’ ইতি। স তস্মাত্তদভিশাপাৎ বন্ধ্যা দুর্ভগেতি খ্যাতা অযশা এব ভবতি ॥ ৪১৪ ॥ ৭ ॥
টীকা।—জ্ঞাপয়েদাত্মীয়ং প্রেমাতিরেকমিতি শেষঃ। বলাদেব বশীকৃতাং ভার্য্যাং পশু- কর্মার্থং কথমুপগচ্ছেদিত্যাকাঙ্ক্ষায়ামাহ—শপ্স্যামীতি। ৪১৪। ৭॥
ভাষ্যানুবাদ।—সেই স্ত্রী যদি ইহাকে মৈথুন ব্যাপার করিতে না দেয়, তাহা হইলে নিশ্চয় ইহাকে অবক্রয় করিবে অর্থাৎ অলঙ্কারাদি দ্বারা [অভিপ্রায়] জ্ঞাপন করিবে; তাহাতেও যদি সে না দেয় অর্থাৎ সম্মত
না হয়, তাহা হইলে, ইচ্ছানুসারে যষ্টি বা হস্ত দ্বারা আঘাত করিয়া মৈথুনের জন্য ইহাকে অভিক্রম করিবে, অর্থাৎ ‘আমি তোমাকে শাপ দিব— দুর্ভগা করিব’ ইত্যাদি কথা বলিয়া—এই মন্ত্রে তাহাতে উপগত হইবে— ‘আমি ইন্দ্রিয় যশ দ্বারা তোমার যশ আহরণ করিতেছি’ ইতি। সেই কারণে—সেইরূপ অভিশাপ প্রদানের ফলে, সেই স্ত্রী নিশ্চয়ই বন্ধ্যা— দুর্ভগা নামে প্রসিদ্ধা; সুতরাং যশোহীনা হইয়া থাকে ॥ ৪১৪ ॥ ৭ ॥
সা চেদষ্টম দদ্যাদিন্দ্রিয়েন তে যশসা যশ আদধামীতি যশস্বিনাবেব ভবতঃ ॥ ৪১৫ ॥ ৮ ॥
সরলার্থঃ?—[পক্ষান্তরে] সা(পত্নী) চেৎ(যদি) দদ্যাৎ(দেহ- দানেন ভর্তারম্ অনুরঞ্জয়েৎ),[তদা] ‘ইন্দ্রিয়েণ যশসা তে(তুভ্যং) যশঃ আদধামি(সন্নিবেশয়ামি’) ইতি[উপমন্ত্রয়ন্ উপগচ্ছেৎ];[এবং সতি তৌ] যশস্বিনৌ এব ভবতঃ ॥ ৪১৫ ॥৮॥
মূলানুবাদ?—আর যদি সেই স্ত্রী[স্বামীর জন্য স্বদেহ] দান করে,[তাহা হইলে] ‘আমি ইন্দ্রিয় যশঃ দ্বারা তোমাতে যশঃ আধান করিতেছি’, এই বলিয়া[তাহাতে উপগত হইবে]; ইহার ফলে, তাহারা উভয়েই যশস্বী হইয়া থাকে ॥ ৪১৫ ॥৮॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—সা চেদম্মৈ দদ্যাৎ অনুগুণা এব স্যাভর্ত্তুঃ, তদা অনেন মন্ত্রেণোপগচ্ছেৎ—‘ইন্দ্রিয়েণ তে যশসা যশ আদধে’ ইতি, তদা যশস্বিনাবেবোভাবপি ভবতঃ ॥ ৪১৫ ॥ ৮॥
ভাষ্যানুবাদ।—আর সেই স্ত্রী, যদি দান করে, অর্থাৎ, স্বামীর অনুকূলাই হয়, তাহা হইলে ‘ইন্দ্রিয়েণ তে’ ইত্যাদি মন্ত্রে তাহাতে উপগত হইবে। তাহা হইলে তদ্দ্বারা উভয়েই যশস্বী হইয়া থাকে॥ ৪১৫ ॥ ৮॥
শ্রীশ্রীদুর্গা সহায়।
স যামিচ্ছেৎ কাময়েত মেতি, তস্যামর্থং নিষ্ঠায় মুখেন মুখং সন্ধায়োপস্থমস্যা অভিমৃশ্য জপেৎ অঙ্গাদঙ্গাৎ সম্ভবসি হৃদয়াদধি- জায়সে। স ত্বমঙ্গকষায়োহসি দিগ্ধবিদ্ধমিব মাদয়েমামমুং ময়ীতি ॥ ৪১৬ ॥ ৯ ॥
সত্ত্বার্থঃ।—সঃ যাৎ(ভাৰ্য্যাং) ইচ্ছেৎ[ইয়ং] মা.(মাং.) কাময়েত
১০৬১
(প্রার্থয়েত) ইতি; তস্যাৎ(ভার্য্যায়াং) অর্থং(স্বপ্রয়োজনং জননেন্দ্রিয়ং) নিষ্ঠায়(নিধায়) মুখেন[তস্যাঃ] মুখং সন্ধায়(সংযোজ্য), অস্যাঃ উপস্থম্ অভিমৃশ্য(স্পৃষ্টা) জপেৎ—‘অঙ্গাদদাৎ’ ইত্যাদি ॥ ৪১৬॥ ৯॥
মূলানুবাদ।—যথোক্তগুণসম্পন্ন পুরুষ যাহাকে ইচ্ছা করেন যে, এই স্ত্রী আমাকে কামনা করুক, সেই স্ত্রীতে আপনার জননেন্দ্রিয় নিক্ষেপ করত নিজের মুখের সহিত তাহার মুখ মিলিত করিয়া, তাহার জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করিয়া—‘অঙ্গাদঙ্গাৎ’ ইত্যাদি মন্ত্র জপ করিবে॥ ৪১৬॥ ৯॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—স যাং স্বভার্য্যামিচ্ছেৎ—ইয়ৎ মাং কাময়েতেতি, তস্যামর্থং—প্রজননেন্দ্রিয়ং নিষ্ঠায় নিক্ষিপ্য, মুখেন মুখ্যং সন্ধায়, উপস্থম্ অন্যা অভিমৃশ্য জপেদিমং মন্ত্রম্—‘অঙ্গাদঙ্গাৎ’ ইতি ॥ ৪১৬॥ ৯॥
টীকা।—ভর্ত্তু ভার্য্যাবশীকরণপ্রকারমুক্ত। পুরুষদ্বেষিণ্যাস্তস্যাস্তদ্বিষয়ে প্রীতিসংপাদনপ্রক্রিয়াং দর্শয়তি—স যামিত্যাদিনা। হে রেতত্ত্বং মদীয়াৎ সর্ব্বস্মাদঙ্গাৎ সমুৎপদ্যসে, বিশেষতশ্চ হৃদয়াদন্নবসদ্বারেণ জায়সে, স ত্বমঙ্গানাং কষায়ো রসঃ সন্ বিষলিপ্তবাণবিদ্ধাং মুগীমিবামুং মদীয়াং প্রিয়ং মে মাদয় মদ্বশাং কুর্বিত্যর্থঃ॥ ৪১৬॥৯॥
ভাষ্যানুবাদ।—তিনি যাহাকে—আপনার যে ভার্য্যাকে ইচ্ছা করেন যে, এই স্ত্রী আমাকে কামনা করুক; সেই স্ত্রীতে আপনার জননেন্দ্রিয় নিবেশপূর্ব্বক মুখের সহিত মুখ মিলাইয়া এবং তাহার জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করিয়া ‘অঙ্গাদদং’ ইত্যাদি মন্ত্র জপ করিবে॥ ৪১৬॥ ৯॥
অথ যামিচ্ছেদন গর্ভং দধীতেতি, তস্যামর্থং নিষ্ঠায় মুখেন মুখং. সন্ধায়াভিপ্রাণ্যাপান্যাদিন্দ্রিয়েন তে রেতসা রেত আদদ- ইত্যরেতা এব ভবতি ॥ ৪১৭ ॥ ১০ ॥
সরলার্থঃ।—অথ(পক্ষান্তরে) যাং(স্বভার্য্যাম্) ইচ্ছেৎ গর্ভৎ ন দধীত(ন গৃহ্লীয়াৎ) ইতি;[সঃ পূর্ব্ববৎ] তস্যাম্ অর্থং নিষ্ঠায়, মুখেন মুখং সন্ধায়, অভিপ্রাণ্য(প্রাণনব্যাপারং—স্ত্রীদেহে বায়ুসঞ্চারণং কৃত্বা)। অপান্যাৎ(অপানব্যাপারং—তস্যৈব বায়োরাকর্ষণং কুৰ্য্যাৎ—‘ইন্দ্রিয়েণ তে’ [ইত্যাদিনা মন্ত্রেণ]।[এবং চ সতি] সা অরেতা এব ভবতি(গর্ভিণী নৈব ভবতীত্যর্থঃ)। ৪১৭॥ ১০॥
মুসাফিরগণ।—সে যদি ইচ্ছা করে যে, এই স্ত্রী যেন গর্ভ-
ধারণ না করে; তাহা হইলে, পূর্বের ন্যায় তাহাতে জননেন্দ্রিয় অর্পণপূর্ব্বক; মুখে মুখ মিলাইয়া এবং প্রাণনব্যাপার—স্ত্রীদেহে বায়ু- প্রেরণ সম্পাদনপূর্ব্বক ‘ইন্দ্রিয়েণ তে’ ইত্যাদি মন্ত্রে অপান-বায়ুর কার্য্য করিবে। এইরূপ করিলে সেই স্ত্রী নিশ্চয়ই গর্ভিণী হইবে না ॥ ৪১৭ ॥ ১০ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথ যামিচ্ছেৎ ন গর্ভং দধীত ন ধারয়েৎ গর্ভিণী মা ভূদিতি, তস্যামর্থমিতি পূর্ব্ববৎ। অভিপ্রাণনং প্রথমং কৃত্বা পশ্চাদপান্যাৎ— ‘ইন্দ্রিয়েণ তে রেতসা রেত আদদে’ ইত্যনেন মন্ত্রেণ। অরেতা এব ভবতি, ন গর্ভিণী ভবতীত্যর্থঃ ॥ ৪১৭ ॥ ১০ ॥
টীকা—তস্যাঃ স্ববিষয়ে প্রীতিমাপাদ্য অবাচ্যকর্মানুষ্ঠানদশায়ামভিপ্রায়বিশেষানুসারেণ অনুষ্ঠানবিশেষং দর্শয়তি—অথেত্যাদিনা। তত্র তত্রাথশব্দস্তত্তদুপক্রমার্থো নেতব্যঃ। পশুকৰ্ম্ম- কালে প্রথমং স্বকীয়পুংস্বদ্বারা তদীয়স্ত্রীত্বে বায়ুং বিসৃজ্য তেনৈব দ্বারেণ ততস্তদাদানাবিমানং কুৰ্য্যাদিত্যাহ—অভিপ্রাণ্যেতি ॥ ৪১৭ ॥ ১০ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—“অথ যামিচ্ছেৎ” ইত্যাদি।[এই স্ত্রী] গর্ভধারণ না করুক, অর্থাৎ গর্ভিণী না হউক, এইরূপ যাহার প্রতি ইচ্ছা করেন, তাহাতে—‘অর্থ সন্নিবেশ’ প্রভৃতি কথার অর্থ পূর্ব্বের ন্যায়। প্রথমে অভিপ্রাণন—বায়ুপ্রেরণ করিয়া, পরে আবার ‘ইন্দ্রিয়েণ তে’ ইত্যাদি মন্ত্রে অপানন কার্য্য করিবে অর্থাৎ স্ত্রীতে নিবেশিত বায়ু আকর্ষণ করিবে। [এইরূপ করিলে] সেই স্ত্রী নিশ্চয়ই ‘অরেতা’ হয়, গর্ভিণী হয় না ॥ ৪১৭ ॥ ১০ ॥
অথ যামিচ্ছেদধীতেতি, তস্যামর্থং নিষ্ঠায় মুখেন মুখং সন্ধায়াপান্যাভিপ্রাণ্যাদিন্দ্রিয়েন তে রেতসা রেত আদধামীতি, গর্ভিণ্যেব ভবতি ॥ ৪১৮ ॥ ১১ ॥.
সরলার্থঃ।—অথ(পক্ষান্তরে), স যাম্ ইচ্ছেৎ—ইয়ং ‘দধীত’ ইতি; ‘তস্যাং’ অর্থং নিষ্ঠায়, মুখেন মুখং সন্ধায়,[পূর্ব্ববিপর্যয়েণ] অপান্য (তদন্তর্বায়ুমাকৃষ্য)[পশ্চাৎ] ‘ইন্দ্রিয়েন তে’[ইত্যাদিমন্ত্রেণ] অভিপ্রাণ্যাৎ (তস্মিন্ স্থানে বায়ুৎ প্রেরয়েৎ) ইতি।(এবং সতি)[সা স্ত্রী] গর্ভিণী এব ভবতি ॥ ৪১৮ ॥ ১১ ॥
মৃণালিনী।—যাই তিনি যে শ্লোক গর্জ্জরিত করিয়াছে
ইচ্ছা করেন, পূর্ব্বের ন্যায় অর্থ নিবেশনাদি করিয়া প্রথমে স্ত্রীদেহ হইতে বায়ু আকর্ষণ করিবেন, পশ্চাৎ ‘ইন্দ্রিয়েণ তে’ ইত্যাদি মন্ত্রে অভিপ্রাণন(স্ববায়ু স্ত্রীদেহে সঞ্চারণ) করিবেন। এইরূপ করিলে সেই স্ত্রী নিশ্চয়ই গর্ভিণী হইবে ॥ ৪১৮ ॥ ১১॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথ যামিচ্ছেৎ—দধীত গর্ভমিতি; তস্যামর্থমিত্যাদি পূর্ব্ববৎ। পূর্ব্ববিপর্যয়েণ অপান্য অভিপ্রাণ্যাৎ—‘ইন্দ্রিয়েণ তে রেতসা রেত আদধামি‘ইতি। গর্ভিণ্যেব ভবতি ॥ ৪১৮ ॥ ১১ ॥
টীকা।—ভর্ত্তুরেবাভিপ্রায়ান্তরানুসারিণং বিধিমাহ—অথ যামিত্যাদিনা। স্বকীয়পঞ্চ- মেন্দ্রিয়েন তদীয়পঞ্চমেন্দ্রিয়াদ্রেতঃ স্বীকৃত্য তৎপুত্রোৎপত্তিসমর্থং কৃতমিতি মত্বা স্বকীয়রেতসা সহ তস্মিন্নিক্ষিপেৎ, তদিদমপাননং প্রাণনং চ; তৎপূর্ব্বকং রেতঃসেচনম্ ॥ ৪১৭ ॥ ১১ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—পক্ষান্তরে, তিনি যাহাকে ইচ্ছা করেন যে, এই স্ত্রী গর্ভধারণ করুক; পূর্ব্বের ন্যায় তাহাতে অর্থনিবেশনাদি করিয়া বিপরীত ক্রমে প্রথমে অপানন(বায়ু আদান) করিয়া ‘ইন্দ্রিয়েণ তে’ ইত্যাদি মন্ত্রে অভিপ্রাণন করিবে অর্থাৎ আত্মবায়ু স্ত্রীদেহে প্রেরণ করিবে। সেই স্ত্রী নিশ্চয়ই গর্ভিণী হইবে॥ ৪১৮॥ ১১॥
অথ যস্য জায়ায়ৈ জারঃ স্যাৎ, তঞ্চেদ্বিষ্যাৎ আমপাত্রেহগ্নি- মুপসমাধায় প্রতিলোমং শরবর্হিস্তীত্বা তস্মিন্নেতাঃ শরভৃষ্টীঃ প্রতি- লোমাঃ সর্পিষাক্তা জুহুয়াৎ মম সমিদ্ধেহহৌষীঃ প্রাণাপাণৌ ত- আদদেহসাবিতি, মম সমিদ্ধেহহৌষীঃ পুত্রপশূস্ত আদদে- হসাবিতি, মম সমিদ্ধেহহৌষীরিষ্টাসুকৃতে ত আদদেহসাবিতি, মম সমিদ্ধেহহৌষীরাশাপরাকাশৌ ত আদদেহসাবিতি। স বা এষ নিরিন্দ্রিয়ো বিসুকৃদম্মাঁল্লোকাৎ প্রৈতি যমেবং বিদ্বান্ ব্রাহ্মণঃ শপতি, তস্মাদেবংবিচ্ছোত্রিয়স্য দারেণ নোপহাসমিচ্ছে- দুত হ্যেবংবিৎ পরো ভবতি ॥ ৪১৯ ॥ ১২ ॥
সরলার্থঃ।—অথ যস্য(পুরুষস্থ্য) জায়ায়ৈ(পত্নীমুদ্দিশ্য) জারঃ(উপপতিঃ) স্যাৎ, চেৎ(যদি), তং(পুরুষং) দ্বিষ্যাৎ(অপকর্ত্তুমিচ্ছেৎ),[তদা] আম- পাত্রে(অপক্কমৃৎপাত্রে) অগ্নিং উপসমাধায়(সংস্থাপ্য), প্রতিলোমং(বিপরীতং যথা স্যাৎ, তথা) শর-বর্হিঃ তীর্থ্বা(বিস্তীর্য্য) তস্মিন্(অগ্নৌ) সর্পিবাক্তাঃ
(ঘৃতসিক্তাঃ) এতাঃ শরভৃষ্টীঃ(শরেষীকাঃ) প্রতিলোমাঃ-মম সমিদ্ধে- হহৌষীঃ’ ইত্যাদিনা মন্ত্রেণ জুহুয়াৎ।[এবংসতি স এষ(বিদ্বিষ্টঃ) নিরিন্দ্রিয়ঃ (ইন্দ্রিয়শক্তিবিহীনঃ) বিসুকৃতঃ(পুণ্যহীনঃ সন্) অস্মাৎ লোকাৎ প্রৈতি (ম্রিয়তে);[কঃ?] এবংবিৎ ব্রাহ্মণঃ যং শপতি(যৎ প্রত্যভিচরতি, সঃ)। তস্মাৎ হেতোঃ এবংবিচ্ছোত্রিয়স্য(যথোক্তবিজ্ঞানসম্পন্নস্য শ্রোত্রিয়স্য) দারেণ (পত্ন্যা সহ) উপহাসং ন ইচ্ছেৎ[কিমুত অসদাচরণম্]; হি(যস্মাৎ) এবং- বিদ উত(অপি)(তাদৃশেন কর্মণা) পরঃ(শত্রুঃ) ভবতি;[অতঃ এবংবিদঃ পত্ন্যা সহ অসদাচারং ন কুৰ্য্যাদিত্যাশয়ঃ] ॥ ৪১৯ ॥ ১২ ॥
মুলাসুবাদ?—যাহার পত্নীর প্রতি উপপতি হয়; এবং সে যদি তাহাকে দ্বেষ করে অর্থাৎ সেই উপপতির অনিষ্ট করিতে ইচ্ছা করে, তাহা হইলে, কাঁচা মৃৎপাত্রে অগ্নি সংস্থাপনপূর্ব্বক বিপরীত ক্রমে শর-কুশ বিস্তীর্ণ করিয়া, সেই অগ্নিতে এই সমুদয় শরগুচ্ছ ঘৃতাক্ত করিয়া বিপরীতভাবে “মম সমিদ্ধে অহৌষীঃ, প্রাণা- পানৌ তে আদদে অসৌ” ইত্যাদিক্রমে হোম করিবে।[‘অসৌ’ স্থানে কর্তার নাম গ্রহণ করিবে]।
এবংবিধ বিদ্বান্ শ্রোত্রিয় ব্রাহ্মণ যাহার প্রতি শাপ প্রদান করেন, অর্থাৎ অভিচার করেন, সেই লোক ইন্দ্রিয়শক্তি-রহিত হইয়া এবং সমস্ত পুণ্যশূন্য হইয়া ইহ লোক হইতে প্রস্থান করে অর্থাৎ দেহত্যাগ করে। অতএব এবংবিধ শ্রোত্রিয়ের পত্নীর সহিত কখনও উপ- হাসের ইচ্ছাও করিবে না,[দুষ্কর্ম ত দূরের কথা]; কারণ;[ঐ প্রকার কার্য্য দ্বারা] এবংবিধ জ্ঞানী ব্যক্তিও শত্রু হইতে পারেন ॥ ৪১৯॥ ১২॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথ পুনর্যস্য জায়ায়ৈ জারঃ উপপতিঃ স্যাৎ, তঞ্চেদ দ্বিষ্যাদভিচরিষ্যাম্যেনমিতি মন্যেত, তস্যেদং কৰ্ম্ম। আমপাত্রেহগ্নিমুপসমাধায় সর্ব্বং প্রতিলোমং কুৰ্য্যাৎ; তস্মিন্নগ্নাবেতাঃ শরভৃষ্টীঃ শরেষীকাঃ প্রতিলোমাঃ সর্পিযাক্তাঃ ঘৃতাভ্যক্তা জুহুয়াৎ ‘মম সমিদ্ধেহহৌষীঃ’ ইত্যাদ্যা আহুতীঃ, অন্তে সর্ব্বাসামসাবিতি নামগ্রহণং প্রত্যেকম্। স এষ এবংবিৎ, যৎ ব্রাহ্মণঃ শপতি, স বিসুকৃতঃ বিগতপুণ্যকর্মা ‘প্রৈতি। তস্মাদেবংবিচ্ছোত্রিয়স্য দারেণ
নোপহাসমিচ্ছেৎ নর্মাপি ন কুৰ্য্যাৎ, কিমুতাধোপহাসম্; যম্মাদেবংবিদপি তাবৎ পরো ভবতি শত্রুর্ভবতীত্যর্থঃ ॥ ৪১৯ ॥ ১২ ॥
টীকা।—সংপ্রতি প্রাসঙ্গিকমাভিচারিকং কৰ্ম্ম কথয়তি—অথ পুনরিতি। দ্বেষবতাহনু- ষ্ঠিতমিদং কৰ্ম্ম ফলবদিতি বক্তুং দ্বিষ্যাদিত্যধিকারিবিশেষণম্। আমবিশেষণং পাত্রস্য, প্রকৃত- কৰ্ম্মযোগ্যত্বখ্যাপনার্থম্। অগ্নিমিত্যেকবচনাদুপসমাধানবচনাচ্চাবসথ্যাগ্নিরত্র বিবক্ষিতঃ। সর্ব্বং পরিস্তরণাদি, তস্য প্রতিলোমত্বে কৰ্ম্মণঃ প্রতিলোমত্বং হেতুকর্তব্যম্। মম স্বভূতে যোষাগ্নৌ যৌবনাদিনা সমিদ্ধে রেতো হতবানসি, ততোহপরাধিনস্তব প্রাণাপানাবাদদে ফড়ি- ত্যুক্ত। হোমো নির্ব্বর্ত্তয়িতব্যঃ। তদন্তে চাসাবিত্যাত্মনঃ শত্রোর্ব্বা নাম গৃহীয়াৎ। ইষ্টং শ্রৌতং কৰ্ম্ম, সুকৃতং স্মার্ত্তম্। আশা প্রার্থনা, বাচা যৎ প্রতিজ্ঞাতং, কৰ্ম্মণা নোপপাদিতং, তস্য প্রতীক্ষা পরাকাশঃ। যথোক্তহোমদ্বারা শাপদানস্য ফলং দর্শয়তি—স এষ ইতি। এবংবিদ্ধং মন্থকৰ্ম্মদ্বারা প্রাণবিদ্যাবত্ত্বম্। তন্মাদেবংবিত্ত্বং পরদারগমনে যথোক্তদোষজ্ঞাতৃত্বম্। তচ্ছন্দো- পাত্তং হেত্বন্তরমাহ—এবংবিদপীতি। ৪১৯। ১২।
ভাষ্যানুবাদ।—যাহার পত্নীতে উপপতি হয়, সে যদি তাহাকে দ্বেষ করে, অর্থাৎ আমি ইহার প্রতি অভিচার-ক্রিয়া(মারণ-ক্রিয়া) করিব বলিয়া মনে করে, তাহা হইলে, তাহার পক্ষে এইরূপ কর্ম্ম করিতে হইবে।
কাঁচা মৃৎপাত্রে অগ্নি সংস্থাপনপূর্ব্বক বিপরীতভাবে সমস্ত কৰ্ম্ম করিবে। সেই অগ্নিতে এই সমুদয় শরভৃষ্টি—ঈষীকা ঘৃতাক্ত করিয়া “মম সমিদ্ধে অহৌষীঃ” ইত্যাদি মন্ত্রে আহুতি প্রদান করিবে। প্রত্যেক আহুতির শেষে ‘অমুক’ বলিয়া নামোচ্চারণ করিতে হইবে। সেই এই বিদ্বান্ ব্রাহ্মণ যাহাকে শাপ দেন, সেই লোক বিসুকৃত—পুণ্যরহিত হইয়া প্রয়াণ করে, অর্থাৎ মরিয়া যায়। সেইহেতু এবংবিধ জ্ঞানী শ্রোত্রিয়ের পত্নীর সহিত উপহাস করিতে ইচ্ছা করিবে না,— ক্রীড়া-কৌতুকও করিবে না, অধোপহাসের আর কথা কি; যেহেতু এবংবিধ বিদ্বানও পর—শত্রু হইয়া থাকেন ॥ ৪১৯ ॥ ১২ ॥
অথ যস্য জায়ামার্তবং বিন্দেৎ এ্যহং কংসেন পিবেদহত- বাসাঃ, নৈনাং বৃষলো ন বৃষল্যুপহন্যাৎ, ত্রিরাত্রান্ত আপ্লুত্য ব্রীহীনবঘাতয়েৎ ॥ ৪২০ ॥ ১৩ ॥
সন্মলার্থঃ।—অথ যস্য জায়াং(জায়া—পত্নী) আর্ত্তবং বিন্দেৎ(রজঃ প্রাপ্নুয়াৎ), সা এ্যহং(দিবসত্রয়ং, ব্যাপ্য) কংসেন(পাত্রবিশেষেণ) [জলং] পিবেৎ; বৃষলঃ(শূদ্রঃ) বৃষলী(শূদ্রা বা) এনাং ন উপহন্যাৎ (স্পৃশেৎ)। ত্রিরাত্রান্তে আপ্লুত্য(স্নাত্বা) অহতবাসাঃ অচ্ছিন্নবস্ত্রা
ভবেৎ); ব্রীহীন্(ধান্যানি) অবঘাতয়েৎ(ধান্যাবঘাতায় তাং বিনিযুঞ্জ্যাদ ইত্যর্থঃ) ॥ ৪২০ ॥ ১৩ ॥
মূলাসুবাদঃ—যাহার স্ত্রী ঋতুদর্শন করে, সেই স্ত্রী তিন দিন পর্য্যন্ত কংস-পাত্রে জলপান করিবে; শূদ্র বা শূদ্রা তাহাকে স্পর্শ করিবে না; ত্রিরাত্রের পর স্নান করিয়া অচ্ছিন্ন বস্ত্র পরিধান করিবে; তাহাকে ধান্যাবঘাতে(তণ্ডুল নিষ্কাশণে) নিযুক্ত করিবে ॥ ৪২০ ॥ ১৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথ যস্য জায়ামার্ত্তবং বিন্দেৎ ঋতুভাবং প্রাপ্নুয়াদিত্যেবমাদিগ্রন্থঃ “শ্রীহ বা এষা স্ত্রীণাম্” ইত্যতঃ পূর্ব্বং দ্রষ্টব্যঃ, সামর্থ্যাৎ। এ্যহং কংসেন পিবেদপহতবাসাশ্চ স্যাৎ, নৈনাং স্নাতামস্নাতাঞ্চ বৃষলো বৃষলী বা নোপহন্যান্নোপস্পৃশেৎ। ত্রিরাত্রান্তে ত্রিরাত্রব্রতসমাপ্তাবাপ্লুত্য স্নাত্বা অপহত- বাসাঃ স্যাদিতি ব্যবহিতেন সম্বন্ধঃ। তামাপ্লুতাং ব্রীহীনবঘাতয়েৎ ব্রীহ্যাব- ঘাতায় তামের বিনিযুঞ্জ্যাৎ॥ ৪২০ ॥ ১৩ ॥
টীকা।—আভিচারিকং কৰ্ম্ম প্রসঙ্গাগতমুক্ত! পূর্ব্বোক্তমৃত্যুকালং জ্ঞাপয়তি—অথেতি। শ্রীই বা এষা স্ত্রীণামিত্যেতদপেক্ষয়া পূর্ব্বত্বম্। পাঠক্রমাদর্থক্রমস্য বলবত্ত্বে হেতুমাহ— সামর্থ্যাদিতি। অর্থবশাদিতি যাবৎ॥ ৪২০॥ ১৩॥
ভাষ্যানুবাদ।—যাহার পত্নী আর্ত্তব লাভ করে অর্থাৎ ঋতুভাব প্রাপ্ত হয়’, ইত্যাদি শ্রুতিটী পূর্ব্বোক্ত “শ্রীহ বা এষা স্ত্রীণাম্” ইত্যাদি শ্রুতির পূর্ব্বে পঠিত বুঝিতে হইবে। কারণ, পাঠক্রম অপেক্ষা শব্দক্রম দুর্ব্বল। তিনদিন কংসপাত্রে জলপান করিবে। সে স্নাতাই হউক আর অস্নাতাই হউক, কোন শূদ্র বা শূদ্রা তাহাকে স্পর্শ করিবে না। ত্রিরাত্রের পর অর্থাৎ ঐরূপ ত্রিরাত্রব্রত সমাপ্ত হইলে পর, স্নান করিয়া অচ্ছিন্ন বস্ত্র পরিধান করিবে। ঋতুস্নাতা সেই স্ত্রীকে ব্রীহি(ধান্য) অবঘাত করাইবে অর্থাৎ তণ্ডুল প্রস্তুত করিবার নিমিত্ত তাহাকেই নিযুক্ত করিবে ॥ ৪২০॥ ১৩॥
স য ইচ্ছেৎ পুত্রো মে শুক্লো জায়েত বেদমনুব্রবীত, সর্ব্ব- ‘মায়ুরিয়াদিতি। ক্ষীরৌদনং পাচয়িত্বা সর্পিমন্তমশ্নীয়াতামীশ্বরো জনয়িতবৈ ॥ ৪২১ ॥ ১৪ ॥
. সলার্থঃ?—স যঃ(যঃ কশ্চিৎ) ইচ্ছেৎ মে(মম) পুত্রঃ শুক্লঃ জায়েত, বেদং অনুব্রবীত(পঠেৎ), সর্ব্বম্ আয়ুঃ(বর্ষশতং) ইয়াৎ(প্রাপ্নুয়াৎ
১০৬৭
ইতি;[তর্হি দম্পতী] ক্ষীরৌদনং(পায়সং) পাচয়িত্বা[তৎ] সর্পিম্মন্তং [কৃত্বা] অন্নীয়াতাং(ভোজনং কুৰ্য্যাতাম্);[এবং কৃতে] জনয়িতবৈ(তাদৃশং পুত্রং জনয়িতুং) ঈশ্বরৌ সমর্থৌ স্যাতাম্ ॥ ৪২১ ॥ ১৪ ॥
মূলানুবাদ:-যদি যে কোন লোক ইচ্ছা করে যে, আমার পুত্র শুক্লবর্ণ হউক, একটা বেদ অধ্যয়ন করুক, এবং সম্পূর্ণ আয়ু লাভ করুক, তাহা হইলে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে ক্ষীরৌদন অর্থাৎ পায়স পাক করাইয়া, তাহা ঘৃতযুক্ত করিয়া ভোজন করিবে।[এই কৰ্ম্ম দ্বারা ঐরূপ পুত্র] সমুৎপাদন করিতে সমর্থ হইবে ॥ ৪২১ ॥ ১৪ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—স য ইচ্ছেৎ—পুত্রো মে শুক্লো বর্ণতো জায়েত, বেদমেকমনুক্রবীত, সর্ব্বমায়ুরিয়াৎ—বর্ষশতম্, ক্ষীরোদনং পাচয়িত্বা সর্পিমন্ত- মশ্নীয়াতাম্, ঈশ্বরৌ সমর্থৌ জনয়িতবৈ জনয়িতুম্ ॥ ৪২১ ॥ ১৪ ॥
টীকা।—কিং পুনরবঘাতনিষ্পন্নৈস্তণ্ডুলৈরনুষ্ঠেয়ং, তদাহ-ন য ইতি। বলদেবসাদৃশ্যং বা শুদ্ধত্বং বা শুক্লত্বম্ ॥ ৪২১ ॥ ১৪ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—যে লোক ইচ্ছা করে যে, আমার পুত্র শুক্লবর্ণ হউক; একটী বেদ অধ্যয়ন করুক, এবং সম্পূর্ণ আয়ু—একশত বৎসর জীবন লাভ করুক, [ তাহা হইলে], দুগ্ধমিশ্রিত অন্ন পাক করাইয়া সেই পায়স ঘৃতমিশ্রিত করিয়া উভয়ে ভোজন করিবে। ‘ঈশ্বরৌ’ অর্থ সমর্থ; ‘জনয়িতবৈ’ অর্থ জন্মাইতে ॥ ৪২১ ॥ ১৪ ॥
অথ য ইচ্ছেৎ পুত্রো মে কপিলঃ পিঙ্গলো জায়েত দ্বৌ বেদাবনুব্রুবীত সর্ব্বমায়ুরিয়াদিতি, দধ্যোদনং পাচয়িত্বা সর্পিমন্ত- মশ্নীয়াতামীশ্বরৌ জনয়িতবৈ ॥ ৪২২ ॥ ১৫ ॥
সরলার্থঃ।—অথ(পক্ষান্তরে) যঃ ইচ্ছেৎ—মে(মম) পুত্রঃ কপিলঃ পিঙ্গলঃ জারেত; দ্বৌ বেদৌ অনুব্রবীত, সর্ব্বম্ আয়ুঃ ইয়াৎ ইতি; [সঃ তৎপত্নী চ উভৌ] দধ্যোদনং(দগ্গা চরুং) পাচয়িত্বা সর্পিস্মন্তং [কৃত্বা] অন্নীয়াতাম্।[এবঞ্চ তৌ] জনয়িতবৈ(জনয়িতুম্) ঈশ্বরৌ [ভবেতাম্]॥ ৪২২ ॥ ১৫ ॥
মুলাসুবাদ?—যে লোক ইচ্ছা করে যে, আমার পুত্র কপিল পিঙ্গলবর্ণ হউক, দ্বিবেদাধ্যায়ী হউক এবং সম্পূর্ণ আয়ু লাভ করুক;[সে এবং তাহার পত্নী] দধ্যোদন অর্থাৎ দধিদ্বারা চরু পাক
করাইয়া ঘৃত মিশ্রিত করিয়া ভোজন করিবে;[তাহা হইলে তাহারা] ঐরূপ সন্তান সমুৎপাদন করিতে সমর্থ হয় ॥৪২২৷১৫৷
শাঙ্করভাষ্যম্।—দধ্যোদনং দন্না চরুং পাচয়িত্বা। দ্বিবেদঞ্চেদিচ্ছতি পুত্রম্, তদৈবমশননিয়মঃ ॥ ৪২২ ॥ ১৫ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—দধ্যোদন অর্থ—দধিমিশ্রিত চরু পাক করাইয়া। পুত্রকে যদি দ্বিবেদাধ্যায়ী দেখিতে ইচ্ছা করে, তাহা হইলে এই প্রকার- ভোজনের নিয়ম জানিবে ॥ ৪২২ ॥ ১৫ ॥
অথ য ইচ্ছেৎ পুত্রো মে শ্যামো লোহিতাক্ষো জায়েত ত্রীন্ বেদাননুক্রবীত সর্ব্বমায়ুরিয়াদিত্যুদোদনং পাচয়িত্বা সর্পিস্মন্ত- মশ্নায়াতামীশ্বরৌ জনয়িতবৈ ॥ ৪২৩ ॥ ১৬ ॥
সরমার্থঃ।—অথ যঃ ইচ্ছেৎ—মে পুত্রঃ শ্যামো বর্ণতঃ, লোহিতাক্ষশ্চ জায়েত, ত্রীন্ বেদান্ অনুব্রবীত, সর্ব্বম্ আয়ুঃ ইয়াৎ ইতি;[ সঃ] উদৌদনং (জলেন ওদনং) পাচয়িত্বা সর্পিমন্তম্ অশ্মীয়াতাম্;[এবং কৃতে তাদৃশং পুত্রং] জনয়িতবৈ(জনয়িতুং) ঈশ্বরৌ[স্যাতাম্] ॥ ৪২৩ ॥ ১৬ ॥
মূলানুবাদ।—যে লোক ইচ্ছা করে যে, আমার পুত্র শ্যামবর্ণ ও লোহিতলোচন হউক, এবং পূর্ণ একশত বৎসর আয়ুঃ প্রাপ্ত হউক; তাহা হইলে, জলদ্বারা অন্ন পাক করাইয়া এবং তাহা ঘৃতযুক্ত করিয়া[পতি ও পত্নী] ভোজন করিবে। [এইরূপে তাহারা ঐরূপ পুত্র] সমুৎপাদন করিতে সমর্থ হয় ॥ ৪২৩॥ ১৬॥
শাশ্বতভাষ্যম্।—কেবলমেব স্বাভাবিকমোদনম্; উদকগ্রহণমন্যস- নিবৃত্ত্যর্থম্ ॥ ৪২৩ ॥ ১৬ ॥
টীকা।—স্বাভাবিকমোদনং পাচয়তি চেৎ, কিমর্থমুদগ্রহণং? তদ্ব্যতিরেকেণৌদন- পাকাসংভবাদিত্যাশখ্যাহ—উদগ্রহণমিতি। ক্ষীরাদেরিতি শেষঃ ॥৪২৩৷১৬৷
ভাষ্যানুবাদ।—[উদৌদন, অর্থ—] কেবলই স্বাভাবিক—ওদন (অন্ন)। ওদনে অন্য পদার্থের সম্বন্ধ নিবৃত্তির উদ্দেশ্যে এখানে ‘উদ’ শব্দ প্রযুক্ত হইয়াছে॥ ৪২৩॥ ১৬॥
অথ য ইচ্ছুক হিতাং পণ্ডিতা জায়েত সর্ব্বমাধুরিয়াদিতি,
তিলৌদনং পাচয়িত্বা সর্পিমন্তমশ্নীয়াতামীশ্বরো জনয়িতবৈ ॥ ৪২৪ ॥ ১৭ ॥
সরলার্থঃ।—অথ(পক্ষান্তরে) যঃ ইচ্ছেৎ—মে পণ্ডিতা(বিদুষী) দুহিতা জায়েত; সর্ব্বম্ আয়ুশ্চ ইয়াং ইতি;[সঃ তৎপত্নী চ] তিলৌদনং(তিলমিশ্রিত- মোদনং) পাচয়িত্বা সর্পিম্মন্তম্[কৃত্বা] অন্নীয়াতাম্; জনয়িতবৈ ঈশ্বরৌ [স্যাতাম্] ॥ ৪২৪ ॥ ১৭ ॥
মূলানুবাদঃ—যে লোক ইচ্ছা করে যে, আমার বিদুষী কন্যা জন্মলাভ করুক, এবং সম্পূর্ণ আয়ুঃ প্রাপ্ত হউক,[সে এবং তাহার পত্নী] তিলৌদন(তিলতণ্ডুলের অন্ন) পাক করাইয়া ঘৃত মিশ্রিত করিয়া ভোজন করিবে;[তাহা হইলে] ঐরূপ কন্যোৎ- পাদনে সমর্থ হয় ॥ ৪২৪ ॥ ১৭ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—দুহিতুঃ পাণ্ডিত্যং গৃহতন্ত্রবিষয়মেব, বেদে- হনধিকারাৎ। তিলৌদনং কৃশরম্ ॥ ৪২৪ ॥ ১৭ ॥
টীকা।—বেদবিষয়মেব তৎপাণ্ডিত্যং কিং ন স্যাদত আহ-বেদ ইতি। ৪২৪। ১৭।
ভাষ্যানুবাদ।—দুহিতার পাণ্ডিত্য কথায় গার্হস্থ্য-শাস্ত্রবিষয়ক বিদ্যাই বুঝিতে হইবে; কারণ, স্ত্রীলোকের বেদে অধিকার নাই। তিলৌদন অর্থ—কৃশর (তিলের পায়স বা খিচুরী) ॥ ৪২৪ ॥ ১৭ ॥
অথ য ইচ্ছেৎ পুত্রো মে পণ্ডিতো বিগীতঃ সমিতিঙ্গমঃ শুশ্রুষিতাং বাচং ভাষিতা জায়েত সর্ব্বান্ বেদাননুক্রবীত সর্ব- মায়ুরিয়াদিতি, মাৎসৌদনং. পাচয়িত্বা সর্পিম্মন্তমশ্নীয়াতামীশ্বরৌ জনয়িতবা ঔক্ষেণ বার্ষভেণ বা ॥ ৪২৫ ॥ ১৮ ॥
সরলার্থঃ।—অথ,(পক্ষান্তরে) য ইচ্ছেৎ পণ্ডিতঃ বিগীতঃ(প্রসিদ্ধঃ) সমিতিঙ্গমঃ(সভাসদ্ বাগ্মী), শুশ্রূষিতাং(শ্রুতিপ্রিয়াং) বাচং ভাষিতা(বক্তা) পুত্রঃ মে(মম) জায়েত;[সঃ] সর্ব্বান্ বেদান্ অনুক্রবীত, সর্ব্বম্ আয়ুঃ ইয়াৎ ইতি।[সঃ তৎপত্নী চ] মাংসৌদনং(মাংসমিশ্রিতম্ ওদনং) পাচয়িত্বা সর্পিম্মন্তং কৃত্বা অন্নীয়াতাম্; ঔক্ষেণ(উক্ষা—রেতঃসেকসমর্থঃ পুংগবঃ, তদীয়েন) বা, আর্যভেণ বা(ঋষভঃ অধিকবয়াঃ, তদীয়েন বা মাংসেন সহ)। জনয়িতবৈ (জনয়িতুং) ঈশ্বরৌ ॥ ৪২৫ ॥ ১৮ ॥
মূলানুবাদঃ—যে লোক ইচ্ছা করে যে, আমার পুত্র পণ্ডিত, দেশবিখ্যাত, সভাসদ্ এবং শ্রুতিপ্রিয় বচনভাষী হউক; এবং সে সমস্ত বেদ অধ্যয়ন করুক, সম্পূর্ণ আয়ু লাভ করুক।[সেই লোক ও তাহার পত্নী] মাংসমিশ্রিত অন্ন পাক করিয়া ঘৃতযুক্ত করিয়া ভোজন করিবে। যৌবনাবস্থ কিংবা ততোহধিকবয়স্ক ষাঁড়ের মাংস দ্বারা[মিশ্রিত ওদন ভক্ষণ করিবে, তাহা হইলে, ঐরূপ পুত্র] সমুৎপাদনে সমর্থ হয়॥ ৪২৫ ॥ ১৮ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—বিবিধং গীতো বিগীতঃ প্রখ্যাত ইত্যর্থঃ। স সমিতিং- গমঃ সভাং গচ্ছতীতি প্রগল্ভ ইত্যর্থঃ, পাণ্ডিত্যস্য পৃথগ্রহণাৎ; শুশ্রূষিতাং শ্রোতু- মিষ্টাং রমণীয়াং বাচং ভাষিতা—সংস্কৃতায়া অর্থবত্যা বাচো ভাষিতেত্যর্থঃ। মাংস- মিশ্রমোদনং মাংসৌদনম্; তন্মাৎসনিয়মার্থমাহ—ঔক্ষেণ বা মাংসেন; উক্ষা সেচনসমর্থঃ পুঙ্গবঃ, তদীয়ং মাংসম্; ঋষভস্ততোঽপ্যধিকবয়াঃ, তদীয়মার্যভং মাংসম্ ॥ ৪২৫ ॥ ১৮ ॥
টীকা।—সমিতিঃ বিদ্বৎসভা, তাং গচ্ছতীতি বিদ্বানেবোচ্যতামিতি চেন্নেত্যাহ—পাণ্ডিত্যস্যেতি। সর্ব্বশব্দো বেদচতুষ্টয়বিষয়ঃ। ঔক্ষেণেত্যাদিতৃতীয়া সহার্থে। দেশবিশেষাপেক্ষয়া বা মাংসনিয়মঃ। অথশব্দস্তু পূর্ববাক্যেযু যথারুচি বিকল্পার্থঃ॥ ৪২৫॥ ১৮॥
ভাষ্যানুবাদ।—‘বিগীত’ অর্থ নানা প্রকারে গীত অর্থাৎ সমাজে সুপ্রসিদ্ধ; ‘সমিতিংগম’ অর্থ—যে লোক সভাতে গমন করে অর্থাৎ প্রগল্ভ (বাগ্মী); ‘শুশ্রূষিতা’ অর্থ—শ্রবণ করিতে অভীষ্ট অর্থাৎ রমণীয়; তাদৃশ বচনের ‘ভাষিতা’ অর্থাৎ বিশুদ্ধ ও অর্থযুক্ত বাক্যের বক্তা; ‘মাংসৌদন’ অর্থ মাংসমিশ্রিত ওদন; যে মাংস গ্রহণ করিতে হইবে, তাহা নিয়মিত করিয়া বলিতেছেন যে, ঔক্ষ মাংস; উক্ষা অর্থ রেতঃসেকসমর্থ পুং গো(ষাঁড়); তাহার মাংস(ঔক্ষ); তদপেক্ষাও অধিকবয়স্ক ষাঁড় ঋষভ; তাহার মাংস ‘আর্যভ ॥ ৪২৫ ॥ ১৮ ॥
অথাভিপ্রাতরেব স্থালীপাকাবৃতাজ্যং চেষ্টিত্বা স্থালীপাক- স্যোপঘাতং জুহোত্যগ্লয়ে স্বাহানুমতয়ে স্বাহা দেবায় সবিত্রে সত্যপ্রসবায় স্বাহেতি হুত্বোদ্ধৃত্য প্রাশ্নাতি, প্রাশ্যেতরস্যাঃ প্রযচ্ছতি, প্রক্ষাল্য পাণী উদপাত্রং পূরয়িত্বা তেনৈনাং
১৫৭১
ত্রিরভ্যুক্কৃত্যুভিষ্ঠাতো বিশ্বাবসোহস্যামিচ্ছ প্রপূর্ব্ব্যাং সং জায়াং পত্যা সহেতি ॥ ৪২৬ ১৯.
সরলার্থঃ।—[সম্প্রতি] থাক্তদ্রব্যোপযোগ-পদ্ধতিমাহ—‘অথাভিপ্রাত- রেব’ ইত্যাদিনা]। অথ প্রাতঃ(প্রাতঃকালে) এব স্থালীপাকাবৃতা(স্থালী- পাকবিধিনা) আজ্যং চেষ্টিত্বা(আজ্যসংস্কারং কৃত্বা, চরুং শ্রপয়িত্বা) স্থালী- পাকস্য উপঘাতং(উপহত্য উপহত্য) অগ্নয়ে স্বাহা, অনুমতয়ে স্বাহা, দেবায় সবিত্রে সত্যপ্রসবায় স্বাহা ইতি জুহোতি। হুত্বা[চরুশেষং] উদ্ধত্য প্রাপ্নাতি; প্রাশ্য(স্বয়ং ভুক্ত্বা শেষং) ইতরস্যাঃ(ইতরস্যৈ পত্ন্যে) প্রযচ্ছতি; পাণী(হস্তৌ) প্রক্ষাল্য উদপাত্রং(জলপাত্রং) পূরয়িত্বা, তেন(উদকেন) এনাং(পত্নীং) ‘উত্তিষ্ঠাতঃ’ ইত্যাদিনা মন্ত্রেণ ত্রিঃ(বারত্রয়ং) অভ্যূক্ষতি(সিঞ্চতি)॥ ৪২৬॥ ১৯॥
মূলানুবাদ:-প্রাতঃকালেই স্থালীপাকের প্রণালীক্রমে আজ্যসংস্কার চরুপাক করিয়া পুনঃপুনঃ আঘাত করিয়া ‘অগ্নয়ে স্বাহা’ ইত্যাদি মন্ত্রে আহুতিপ্রদান করিবে। হোমের পর চরুশেষ উদ্ধৃত করিয়া স্বয়ং ভোজন করিবে; নিজে ভোজন করিয়া’ অবশিষ্ট অংশ অপরকে(পত্নীকে) প্রদান করিবে। শেষে হস্তদ্বয় প্রক্ষালন করিয়া জলদ্বারা উদকপাত্র পরিপূর্ণ করিবে; অনন্তর ‘উত্তিষ্ঠাতঃ’ ইত্যাদি মন্ত্র পড়িয়া সেই জলদ্বারা সেই পত্নীকে তিনবার অভ্যুক্ষণ করিবে ॥ ৪২৬৷ ১৯॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথাভিপ্রাতরেব কালে অবঘাতনিবৃত্তান্ তণ্ডুলা- নাদায় স্থালীপাকাবৃতা স্থালীপাকবিধিনা আজ্যং চেষ্টিত্বা আজ্যসংস্কারং কৃত্বা, চরুৎ শ্রপয়িত্বা, স্থালীপাকস্যাহুতীর্জুহোতি। উপঘাতং উপহত্যোপহত্যা ‘অগ্নয়ে স্বাহা’ ইত্যাদ্যাঃ। গার্হ্যঃ সর্ব্বো বিধিদ্রষ্টব্যোহত্র; হুত্বোদ্ধত্য চরুশেষং প্রাপ্নাতি; স্বয়ং প্রাশ্যেতরস্যাঃ পত্নৈ প্রযচ্ছত্যুচ্ছিষ্টম্। প্রক্ষাল্য পাণী আচম্য, উদপাত্রং পূরয়িত্বা তেনোদকেনৈনাং ত্রিরভ্যুক্ষতি অনেন মন্ত্রেণ ‘উত্তিষ্ঠাতঃ’ ইতি, সকৃন্মন্ত্রোচ্চারণম্ ॥ ৪২৬ ॥ ১৯ ॥
টীকা।—কদা পুনরিদমোদনপাকাদি কর্তব্যং, তদাহ—অথেতি। কোহসৌ স্থালীপাক- বিধিঃ কথং বা তত্র হোমস্তত্রাহ—গার্য্য ইতি। গৃহে প্রসিদ্ধো গার্য্যঃ। অত্রেতি পুত্রমন্থ- কর্ম্মোক্তিঃ। অতো মদ্ভার্য্যতঃ সকাশাস্তো বিশ্বাবসো গন্ধর্ব্ব ত্বমুত্তিষ্ঠান্যাং চ জায়াং প্রপূর্ব্যাং তরুণীং পত্যা সহ সংক্রীড়মানামিচ্ছ, অহং পুনঃ স্বামিমাং জায়াং সমুপৈমীতি মন্ত্রার্থঃ॥ ৪২৬॥ ১৯॥
ভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর প্রাতঃকালেই অবঘাতের জন্য সম্পাদিত তণ্ডুলসমূহ লইয়া স্থালীপাকের বিধান অনুসারে আজ্য-চেষ্টা করিয়া—আজ্য সংস্কার করিয়া অর্থাৎ চরু পাক করিয়া বারংবার অবঘাত করিয়া ‘অগ্নয়ে স্বাহা’ ইত্যাদি মন্ত্রে স্থালীপাক চরু আহুতি প্রদান করিবে। এখানে গৃহ্যসূত্রোক্ত সমস্ত বিধিই গ্রহণ করিতে হইবে। হোমের পর হুতশেষ চরু উঠাইয়া ভোজন করিবে। নিজে ভোজন করিয়া উচ্ছিষ্ট ভাগ অপরকে—পত্নীকে প্রদান করিবে। হস্তদ্বয় প্রক্ষালন করিয়া আচমনপূর্ব্বক জলপাত্র পূর্ণ করিয়া সেই জল দ্বারা ‘উত্তিষ্ঠাতঃ’ ইত্যাদি মন্ত্রে পত্নীকে তিনবার অভ্যুক্ষণ করিবে(জল সেচন করিবে), ‘উত্তিষ্ঠাতঃ’ ইত্যাদি মন্ত্র একবার মাত্র উচ্চারণ করিবে ॥ ৪২৬ ॥ ১৯ ॥
অথৈনামভিপদ্যতেহমোহহমস্মি সা ত্বং সা ত্বমস্যমোহহং সামাহমস্মি ঋক্ ত্বং দ্যৌরহং পৃথিবী ত্বং, তাবেহি সংরভাবহৈ সহ রেতো দধাবহৈ পুংসে পুত্রায় বিত্তয় ইতি ॥ ৪২৭ ॥ ২০ ॥
সরলার্থঃ।—অথ(যথাপত্যকামং ক্ষীরোদনাদি ভুক্তা)[সংবেশন- কালে] ‘অমোহহমস্মি’ ইত্যাদি মন্ত্রেণ এনাং(পত্নীং) অভিপদ্যতে (আলিঙ্গতি) ইতি ॥ ৪২৭ ॥ ২০ ॥
মূলানুবাদ।—অতঃপর যাহার যেরূপ সন্তান কামনা, তদনুসারে ক্ষীরোদনাদি ভোজন করিয়া ‘অমোহহমস্মি’ ইত্যাদি মন্ত্রোচ্চারণপূর্ব্বক সেই স্ত্রীতে উপগত হইবে ॥ ৪২৭ ॥ ২০ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথৈনামভিমন্ত্র্য ক্ষীরৌদনানি যথাপত্যকামং ভুক্ত্বেতি ক্রমো দ্রষ্টব্যঃ। সংবেশনকালে ‘অমোহহমস্মি’ ইত্যাদিমন্ত্রেণাভি- পদ্যতে ॥ ৪২০ ॥ ২০ ॥
টীকা।—অভিপত্তিরালিঙ্গনম্। কদা ক্ষীরোদনাদিভোজনং, ‘তদাহ—ক্ষীরেতি। ভুক্তাভিপদ্যত ইতি সংবন্ধঃ। অহং পতিরমঃ প্রাণোহস্মি, সা ত্বং বাগসি। কথং তব প্রাণত্বং, মম বাক্মমিত্যাশঙ্ক্য বাচঃ প্রাণাধীনত্ববত্তব মদধীনত্বাদিত্যভিপ্রেত্য সা ত্বমিত্যাদি পুনর্ব্বচনম্। ঋগাধারং হি সাম গীয়তে; অস্তি চ মধাধারত্বং তব। তথা চ মম সামত্বমুক্তং চ তব। ভৌরহং পিতৃত্বাৎ, পৃথিবী ত্বং মাতৃত্বাৎ, তয়োৰ্ম্মাতাপিতৃত্বসিন্ধেরিত্যর্থঃ। তাবাবাং সংরভাবহৈ সংরম্ভমুদ্যমং করবাবহৈ। এহি ত্বমাগচ্ছ। কোহসৌ সংরম্ভস্তমাহ—সহেতি। পুংস্তযুক্তপুত্রলাভায় রেতোধারণং কর্তব্যমিত্যর্থঃ। ৪২৭॥ ২০॥
ভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর সেই স্ত্রীকে মন্ত্রপূত করিয়া, যেরূপ সন্তান কামনা করে, তদনুসারে ক্ষীরোদনাদি ভোজন করিয়া—এইরূপ ক্রম বুঝিতে
হইবে। শয়নসময়ে ‘অমোহহমস্মি’ ইত্যাদি মন্ত্রে ঐ স্ত্রীকে আলিঙ্গন করিবে ॥ ৪২৭ ॥ ২০ ॥
অথাস্যা ঊরূ বিহাপয়তি বিজিহীথাং দ্যাবাপৃথিবী ইতি, তস্যামর্থং নিষ্ঠায় মুখেন মুখং সন্ধায় ত্রিরেনামনুলোমামনুমাষ্টি— বিষ্ণুর্যোনিং কল্পয়তু ত্বষ্টা রূপাণি পিংশতু আসিঞ্চতু প্রজাপতি- র্ধাতা গর্ভং দধাতু তে। গর্ভং ধেহি সিনীবালি গর্ভং ধেহি পৃথু- -ষ্টুকে। গর্ভং তে অশ্বিনৌ দেবাবাধত্তাং পুষ্করস্রজৌ ॥৪২৮॥ ২১ ॥
সরমার্থঃ।—অথ(অনন্তরম্) অদ্যাঃ(স্ত্রিয়াঃ) উরূ(উরুদ্বয়ং) ‘বিজিহীথাং দ্বাবা পৃথিবী’ ইত্যনেন মন্ত্রেণ বিহাপয়তি(বিষোজয়তি)। তস্যাং অর্থং(পুংচিহ্নং) নিষ্ঠায়(নিবেশ্য) মুখেন মুখং সংধায়(সংযোজ্য) অনুলোমাম্ এনাং(স্ত্রিয়ং) ‘বিষ্ণুর্যোনিং কল্পয়তু’[ইত্যাদিনা মন্ত্রেণ শিরঃ- প্রভৃতি সর্ব্বাবয়বেষু] ত্রিঃ(বারত্রয়ং) অনুমাষ্টি(মার্জনং করোতি)। মন্ত্রার্থস্তু— বিষ্ণুঃ তে(তব) যোনিং কল্পয়তু(গর্ভগ্রহণযোগ্যং করোতু), ত্বষ্টা রূপাণি (অবয়বান্) পিংশতু(ঘটয়তু), প্রজাপতিঃ আসিঞ্চতু(রেতঃসেচনৎ করোতু), ধাতা গর্ভং দধাতু(ধারয়তু); সিনীবালি(হে অমাদেবি), গর্ভং ধেহি (আধৎস্ব), হে পৃথুষ্টুকে[ত্বমপি] গর্ভং ধেহি; পুষ্করস্রজৌ(রশ্মিমাল্যধরৌ) অশ্বিনৌ দেবৌ তে(তব) গর্ভং আধত্তাম্(গর্ভাধানং কুরুতাম্) ॥ ৪২৮ ॥ ২১ ॥
মূলাসুবাদঃ—অতঃপর ‘বিজিহীথাং দ্ব্যাবা-পৃথিবী’ এই মন্ত্র উচ্চারণপূর্ব্বক ঐ স্ত্রীর উরুদ্বয় বিযুক্ত করিবে। তাহার পর পূর্ব্বের ‘ন্যায় পত্নীতে সংসর্গ করতঃ মুখে মুখ সংযোজিত করিয়া ‘বিষ্ণুর্যোনিং কল্পয়তু’ ইত্যাদি মন্ত্রপাঠপূর্ব্বক তিনবার অনুলোমক্রমে তাহার আপাদ মস্তক গাত্র মার্জনা করিবে ॥ ৪২৮ ॥ ২১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথাস্য ঊরূ বিহাপরতি ‘বিজীহীথাৎ দ্যাবাপৃথিবী’ ইত্যনেন। তস্যামর্থমিত্যাদি পূর্ব্ববৎ। ত্রিরেনাং শিরঃপ্রভৃতি অনুলোমাম্ অনুমাষ্টি ‘বিষ্ণুর্যোনিম্’ ইত্যাদি প্রতিমন্ত্রম্॥ ৪২৮ ॥ ২১ ॥
টাকা।—উর্ব্বোঃ সম্বোধনং দ্বাবাপৃথিবী ইতি। বিজিহীথাং বিনিষ্টে, ভবেতাং যুবা মিত্যর্থঃ। বিষ্ণুর্যাপনশীলো ভগবান্ ভবত্যা যোনিং কল্পয়তু পুত্রোৎপত্তিসমর্থাং করোতু। ত্বষ্টা সবিতা তব রূপাণি পিংশতু বিভাগেন দর্শনযোগ্যানি করোতু। প্রজাপতিবিরাড়াত্মা
মদাত্মনা স্থিত্বা ত্বয়ি রেতঃ সমাসিঞ্চতু প্রক্ষিপতু। ধাতা পুনঃ সূত্রাত্মা ত্বদীয়ং গর্ভং ত্বদাত্মনা স্থিত্বা দধাতু ধারয়তু পুষ্ণাতু চ। সিনীবালী দর্শাহদেবতা ত্বদাত্মনা বর্ত্ততে। সা পৃথুষ্টকা বিস্তীর্ণস্তুতির্ভোঃ সিনীবালি পৃথুষ্টুকে গর্ভমিমং ধেহি ধারয়। অশ্বিনৌ দেবো সূর্য্যাচন্দ্রমসৌ, স্বকীয়রশ্মিমালিনৌ তব গর্ভং ত্বদাত্মনা স্থিত্বা সমাধত্তাম্ ॥ ৪২৮॥২১॥
ভাষ্যানুবাদ।—ইহার পর ‘বিজিহীথাং দ্যাবাপৃথিবী’ এই মন্ত্রে সেই স্ত্রীর উরুদ্বয় বিযোজিত করিবে। ‘তস্যাম্ অর্থম্ নিষ্ঠায়’ ইত্যাদি কথার অর্থ পূর্ব্ববৎ। তাহার পর, ‘বিষ্ণুর্যোনিং কল্পয়তু’ ইত্যাদি প্রত্যেক মন্ত্র পাঠ- পূর্ব্বক তিনবার তাহাকে মস্তক প্রভৃতি সর্ব্বাঙ্গে অনুলোমক্রমে মার্জনা করিবে ॥ ৪২৮ ॥ ২১ ॥
হিরণ্ময়ী অরণী যাভ্যাং নিৰ্ম্মন্থতামশ্বিনৌ। তং তে গর্ভং হবামহে দশমে মাসি সূতয়ে। যথাগ্নিগর্ভা পৃথিবী যথা দ্যৌরিন্দ্রেণ গর্ভিণী। বায়ুদিশাং যথা গর্ভ এবং গর্ভং দধামি তেহসাবিতি ॥ ৪২৯ ॥ ২২ ॥
সরলার্থঃ।—হিরণ্ময়ী(হিরণ্মযৌ) অরণী[প্রাক্ আসতুঃ]; অশ্বিনৌ যাভ্যাং নির্মন্থতাম্; দশমে মাসি সূতয়ে(প্রসবায়) তে(তব) তং গর্ভং হবামহে(আহৃতিরূপেণ অর্পয়ামঃ)। পৃথিবী যথা অগ্নিগর্ভা, দ্যৌঃ যথা ইন্দ্রেণ গভিণী(গর্ভবতী), বায়ুঃ যথা দিশাং(প্রাচ্যাদীনাং) গর্ভঃ, অহং এবং (তদ্বদেব) তে গর্ভং দধামি ইতি ॥ ৪২৯ ॥ ২২ ॥
মূলানুবাদ?—অশ্বিনদ্বয় যেই হিরণ্ময় অবণীদ্বয় দ্বারা মন্থন করেন, আমি দশম মাসে প্রসবার্থ তাহাতে গর্ভ আধান করিতেছি। পৃথিবী যেরূপ অগ্নিগর্ভা, আকাশ ‘যেমন সূর্য্য দ্বারা গর্ভবতী, দিক্ সকল যেমন বায়ু দ্বারা গর্ভিণী, সেইরূপ আমি তোমায় এই গর্ভ অর্পণ করিয়া গর্ভবতী করিতেছি; এই বলিয়া নাম গ্রহণপূর্ব্বক গর্ভাধান করিবে ॥ ৪২৯ ॥ ২২ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অন্তে নাম গৃহ্লাতি—অসাবিতি তস্যাঃ ॥ ৪২৯ ॥ ২২ ॥ টীকা।—জ্যোতির্ময্যাবরণী প্রাগাসতুর্যাভ্যাং গর্ভমশ্বিনৌ নির্ম্মথিতবস্তৌ, তং তথাভূতং গর্ভং তে জঠরে দধাবহৈ দশমে মাসি প্রসবার্থম্। আধীয়মানং গর্ভং দৃষ্টান্তেন দর্শয়তি— যথেতি। ইন্দ্রেণ সূর্য্যেণেতি যাবৎ। অসাবিতি পত্যুর্ব্বা নির্দেশঃ। তস্যা নাম গৃহ্লাতীতি পূর্ব্বেণ সংবন্ধঃ ॥ ৪২৯ ॥ ২২ ॥
১৫৭৫
ভাষ্যানুবাদ।—মন্ত্রের শেষে ‘অসৌ’ বলিয়া সেই স্ত্রীর নাম গ্রহণ করিবে ॥ ৪২৯ ॥ ২২ ॥
সোয্যন্তীমদ্ভিরভ্যুক্ষতি। যথা বায়ুঃ পুষ্করিণীং সমিঙ্গয়তি সর্ব্বতঃ। এবাতে গর্ভ এজতু সহাবৈতু জরায়ুণা। ইন্দ্রস্যায়ং ব্রজঃ কৃতঃ সার্গলঃ সপরিশ্রয়ঃ। তমিন্দ্র নির্জ্জহি গর্ভেণ সা- বরাঙ্ সহেতি ॥ ৪৩০ ॥ ২৩ ॥
সরলার্থঃ।—[অনন্তরং] সোষ্যন্তীং(আসন্নপ্রসবাং)[স্ত্রিয়ং] ‘যথা বায়ুঃ পুষ্করিণীম্’ ইত্যাদিনা মন্ত্রেণ অস্তিঃ(জলৈঃ) অভ্যক্ষতি(সিঞ্চতি)। মন্ত্রার্থস্তু—বায়ুঃ যথা পুষ্করিণীং(পদ্মিনীং) সর্ব্বতঃ সমিঙ্গয়তি(কম্পয়তে), এবা (এবং) তে(তব) গর্ভঃ এজতু(পরিস্পন্দতাম্ নির্গচ্ছতু);[ত্বাংচ] জরায়ুণা সহ অবতু(রক্ষতু)। ইন্দ্রস্য(প্রাণস্য) অয়ং ব্রজঃ(নির্গমনপথঃ) সার্গলঃ সপরিশ্রয়ঃ চ(পরিশ্রয়েণ জরায়ুণা সহিতঃ) কৃতঃ[অস্তি]; হে ইন্দ্র, তং (পন্থানং প্রাপ্য) গর্ভেণ সহ নির্জহি(নির্গমনং কুরু), সাবরাং(মাংস- পেশীং) চ নির্জহি ইতি॥ ৪৩০॥ ২৩॥
মূলানুবাদঃ—পরে, সুখপ্রসবের নিমিত্ত “সোষ্যন্তীমস্তিঃ” ইত্যাদি মন্ত্র দ্বারা স্ত্রীকে অভ্যুক্ষণ(জলসেক) করিবে, এবং বলিবে যে, বায়ু যেমন পদ্মিনীকে অর্থাৎ পুষ্করিণীকে সর্ব্বতোভাবে পরিচালিত করে, তেমন তোমার গর্ভও জরায়ুর সহিত পরিস্পন্দিত হউক; এবং [ তোমাকে] রক্ষা করুক! গর্ভের জন্য একটা অর্গলযুক্ত ব্রজ অর্থাৎ পথ নির্মিত আছে; হে ইন্দ্র(প্রাণ), তুমি যাহাতে সেই পথ অবলম্বন করিয়া গর্ভের সহিত নির্গত হও, এবং গর্ভনিঃসরণের সময় যে মাংসপেশী নির্গত হইয়া থাকে, তাহাও নির্গত কর ॥ ৪৩০ ॥ ২৩ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—সোষ্যন্তীমদ্ভিরভ্যুক্ষতি—প্রসবকালে সুখপ্রসবনার্থ- মনেন মন্ত্রেণ—“যথা বায়ুঃ পুষ্করিণীং সমিঙ্গয়তি সর্ব্বতঃ; এবা তে গর্ভ এজতু’ইতি ॥ ৪৩০ ॥ ২৩॥
টীকা।—সমিঙ্গয়তি স্বরূপোপঘাতমকৃত্বৈব চালয়তীত্যেতৎ। এবা ত এবমেষ স্বরূপোপ- ঘাতমকুর্ব্বন্নেজতু গর্ভশ্চলতু। জরায়ুণা গর্ভবেষ্টনমাংসখণ্ডেন সহাবৈতু নির্গচ্ছতু। ইন্দ্রস্য প্রাণস্যায়ং ব্রজো মার্গঃ সর্গকালে গর্ভাধানকালে বা কৃতঃ। সাৰ্গল ইত্যস্য ব্যাখ্যা সপরিশ্রয়
ইতি, পরিবেষ্টনেন জরায়ুণা সহিত ইত্যর্থঃ। তং মার্গং প্রাপ্য ত্বমিন্দ্র গর্ভেণ সহ নির্জহি নির্গচ্ছ। গর্ভনিঃসরণানন্তরং যা মাংসপেশী নির্গচ্ছতি, সাবরা, তাং চ নির্গময়েত্যর্থঃ। ৪৩০ ॥ ২৩॥ ভাষ্যানুবাদ।—প্রসবকালে সুখপ্রসবের জন্য আসন্নপ্রসবা সেই স্ত্রীকে ‘যথা বায়ুঃ পুষ্করিণীম্’ ইত্যাদি মন্ত্রে অভ্যুক্ষণ করিবে ॥ ৪৩০ ॥ ২৩॥
জাতেহগ্নিমুপসমাধায়াঙ্ক আধায় কংসে পৃষদাজ্যং সন্নীয় পৃষদাজ্যস্যোপঘাতং জুহোত্যস্মিন্ সহস্রং পুষ্যাসমেধমানঃ স্বে গৃহে। অস্যোপসন্দ্যাং মা চ্ছেৎসীৎ প্রজয়া চ পশুভিশ্চ স্বাহা। ময়ি প্রাণাত্ত্বয়ি মনসা জুহোমি স্বাহা। যৎ কৰ্ম্মণাত্যরীরিচং যদ্বা ন্যূনমিহাকরম্। অগ্নিষ্টৎ স্বিষ্টকৃদ্বিদ্বান্ স্বিষ্টং সুহুতং করোতু নঃ স্বাহেতি ॥ ৪৩১ ॥ ২৪ ॥
সরলার্থঃ।—[ইদানীং জাতকৰ্ম্ম নিরূপ্যতে—‘জাতে’ ইত্যাদিনা]। জাতে(পুত্রে ভূমিষ্ঠে সতি), অগ্নিং উপসমাধায়(সমানীয়)[পুত্রং] অঙ্কে আধায় কংসে(পাত্রবিশেষে) পৃষদাজ্যং(মিশ্রিতং দধিঘৃতং) সংনীয়(সংযোজ্য) ‘অস্মিন্ সহস্রম্’ ইত্যাদিনা মন্ত্রেণ পৃষদাজ্যস্য উপঘাতং(পৌনঃপুন্যেন) জুহোতি ॥ ৪৩১ ॥ ২৪ ॥
মূলানুবাদ।—অনন্তর পুত্র জন্মিলে পর, অগ্নি আনয়ন- পূর্ব্বক পুত্রকে ক্রোড়ে ধারণ করিয়া কংস(আজ্যস্থালীতে) পৃষদাজ্য অর্থাৎ দধি ও ঘৃত মিশ্রিত করিয়া অল্প অল্প পৃষদাজ্য গ্রহণ করতঃ পুনঃ পুনঃ এই বলিয়া হোম করিবে যে, এই নিজগৃহে আমি পুত্ররূপে বর্দ্ধিত হইয়া সহস্র সহস্র মনুষ্যকে পরিপোষণ করিব। আমার এই পুত্রের সন্তান-সন্ততিতে লক্ষ্মী ও পশু-সম্পত্তি যেন অবিচ্ছিন্ন থাকে। এই আমাতে(পিতাতে) যে সমস্ত প্রাণ(ইন্দ্রিয়) বর্তমান আছে, আমি তৎসমস্তই মনে মনে তোমাতে(পুত্রেতে) অর্পণ করিতেছি। আমি কার্য্যতঃ যে কিছু ন্যূনতা কিংবা অতিরিক্ততা করিয়াছি, সর্বদেবোত্তম অগ্নি স্বিষ্টকৃৎ হইয়া আমার হোমকর্ম্ম উত্তম করুন ॥ ৪৩১ ॥ ২৪ ॥
‘শাঙ্করভাষ্যম্।—অথ জাতকর্ম্ম। জাতেহগ্নিমুপসমাধায় অঙ্কে আধায় পুত্রম্, কংসে পৃষদাজ্যং সন্নীয় সংযোজ্য দধিঘৃতে, পৃষদাজ্যন্যোপঘাতং জুহোতি ‘অস্মিন্ সহস্রম্’ ইত্যাদ্যাবাপস্থানে ॥ ৪৩১ ॥ ২৪ ॥
১৫৭৭
টাকা।—ঘৃতমিশ্রং দধি পৃষদাজ্যমিত্যুচ্যতে। উপঘাতমিত্যাভীক্ষাং পৌনঃপুন্যং বিবক্ষিতম্। পৃষদাজ্যস্যাল্পমল্পমাদায় পুনঃ পুনর্জুহোতীত্যর্থঃ। অস্মিন্ স্বে গৃহে পুত্ররূপেণ বর্দ্ধমানো মনুষ্যাণাং সহস্রং পুষ্যাসমনেকমনুয্যপোষকো ভূয়াসম্, অন্য মৎপুত্রস্তোপসন্দ্যাং সংততৌ প্রজয়া পশুভিশ্চ সহ শ্রীৰ্মা বিচ্ছিন্না ভূয়াদিত্যাহ—অস্মিন্নিতি। ময়ি পিতরি যে প্রাণাঃ সন্তি, তান্ পুত্রে ত্বয়ি মনসা সমর্পয়ামীত্যাহ—ময়ীতি। অত্যরীরিচমিত্যতিরিক্তং কৃতবানস্মি, ইহ কৰ্ম্মণ্য- করমরকবঃ, তৎ সর্ব্বং বিদ্বানগ্নিঃ স্বিষ্টং করোতীতি স্বিষ্টকৃদ্ ভূত্বা স্বিষ্টমনধিকং সুহতমন্যূনং চাস্মাকং করোত্বিত্যর্থঃ ॥ ৪৩১ ॥ ২৪ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর জাতকর্ম্ম[ কথিত হইতেছে—] পুত্র জন্মিলে পর, অগ্নিসমানয়নপূর্ব্বক পুত্রকে ক্রোড়ে লইয়া, কংসে পৃষদাজ্য—দধি ও ঘৃত মিশ্রিত করিয়া উপঘাতপূর্ব্বক ‘অস্মিন্ সহস্রম্’ ইত্যাদি মন্ত্রে সেই পৃষদাজ্য হোম করিবে ॥ ৪৩১ ॥ ২৪ ॥
অথাস্য দক্ষিণং কর্ণমভিনিধায় বাঘাগিতি ত্রিরথ দধিমধুঘৃতং সম্নীয়ানন্তর্হিতেন জাতরূপেণ প্রাশয়তি। ভূস্তে দধামি, ভুবস্তে দধামি, স্বস্তে দধামি, ভূর্ভুবঃ স্বঃ সর্ব্বং ত্বয়ি দধামীতি॥ ৪৩২॥ ২৫॥
সকলার্থ।—অথ(যথোক্তহোমানন্তরম্) অন্য(বালকস্য) দক্ষিণং কর্ণম্ অভি(দক্ষিণকর্ণে)[স্বমুখং] নিধায় ‘বাক্বাক্’ ইতি ত্রিঃ(বারত্রয়ং)[জপেৎ]। অথ দধি মধু ঘৃতং সংনীয়(একীকৃত্য) অনন্তর্হিতেন(অব্যবহিতেন মুখলগ্নেন) জাতরূপেণ(সুবর্ণপাত্রেণ) ‘ভূস্তে দধামি’ ইত্যাদিভিঃ মন্ত্রৈঃ প্রাশয়তি (ভোজয়তি) ॥ ৪৩২ ॥ ২৫ ॥
মূলাঙ্গুবাদ?—অনন্তর, পিতা বালকের দক্ষিণকর্ণে নিজ মুখ সংলগ্ন করিয়া বারত্রয় “বাক্ বাক্” এই প্রকার জপ করিবে। তাহার পর দধি, মধু ও ঘৃত মিশ্রিত করিয়া অদূরস্থিত হিরণ্ময় পাত্র দ্বারা প্রত্যেকবার “ভূস্তে দধামি” ইত্যাদি মন্ত্র উচ্চারণপূর্ব্বক ভোজন করাইবে ॥ ৪৩২ ॥ ২৫ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথাস্য দক্ষিণকর্ণমভিনিধায় স্বং মুখং বাগ্বাগিতি ত্রির্জপেৎ। অথ দধি মধু ঘৃতং সন্নীয়ানন্তর্হিতেনাব্যবহিতেন জাতরূপেণ হিরণ্যেন প্রাশয়ত্যেতৈর্মন্ত্রৈঃ প্রত্যেকং ভূরিতি ॥ ৪৩২ ॥ ২৫ ॥
টীকা। -অস্য জাতস্য শিশোরিত্যর্থঃ। ত্রয়ীলক্ষণা বাক্ ত্বরি প্রবিশত্বিতি’ জপতোহভিপ্রায়ঃ। এতৈর্মন্ত্রৈর্ভুক্তে দধামীত্যাদিভিরিতি শেষঃ। ৪৩২। ২৫।
ভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর পিতা বালকের দক্ষিণকর্ণে নিজমুখ সংলগ্ন করিয়া ‘বাক্বাক্’ এই কথা তিনবার জপ করিবে। তাহার পর দধি মধু, ঘৃত- একত্রিত করিয়া সুবর্ণপাত্র নিকটে লইয়া তাহা দ্বারা একএকটা মন্ত্রোচ্চারণপূর্ব্বক ভোজন করাইবে ॥ ৪৩২ ॥ ২৫ ॥
অথাস্য নাম করোতি বেদোহসীতি, তদ্যস্য তদগুহ্যমেব নাম ভবতি ॥ ৪৩৩ ॥ ২৬ ॥
সরলার্থঃ।—অথ(ঘৃতাদিপ্রাশনানন্তরম্) অন্য(বালকস্য) নাম করোতি—, ‘বেদোহসি’ ইতি। তচ্চ ‘বেদনাম’ অন্য(বালকস্য) তৎ গুহ্যম্ এব নাম ভবতি ॥৪৩৩৷৷২৬৷৷
মূলানুবাদ?—অনন্তর, পিতা সেই জাত-পুত্রের ‘বেদোহসি’ বলিয়া নামকরণ করিবে; এই নাম অতি গোপনীয়, সাধারণে প্রকাশ্য নহে ॥৪৩৩৷৷২৬৷৷
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথাস্য নামধেয়ং করোতি বেদোহসীতি। তদস্য তদ্গুহ্যং নাম ভবতি বেদ ইতি ॥ ৪৩৩ ॥ ২৬ ॥
টীকা।—বেদনায়া ব্যবহারো লোকে নাস্তীত্যাশঙ্ক্যাহ—তদস্যেতি। যত্তদ্বেদ ইতি নাম, তদস্য গুহ্যং ভবতি। বেদনং বেদোহনুভবঃ সর্ব্বস্থ্য নিজং স্বরূপমিত্যর্থঃ॥ ৪৩৩॥ ২৬॥
ভাষ্যানুবাদ।—অনন্তর, ‘বেদঃ অসি’ বলিয়া এই বালকের নামকরণ করিবে। এই ‘বেদ’ নামটী বালকের গোপনীয় নাম হয় ॥৪৩৩৷২৬॥
অথৈনং মাত্রে প্রদায় স্তনং প্রযচ্ছতি—যস্তে স্তনঃ সশয়ো যো ময়োহভূর্য্যো রত্নধা বসুবিদ্যঃ সূদত্রঃ। যেন বিশ্বা পুষ্যসি বার্যাণি সরস্বতি তমিহ ধাতবে করিতি ॥ ৪৩৪ ॥ ২৭ ॥
সন্নসার্থঃ।—অথ(অনন্তরং) এনং(বালকং) মাত্রে প্রদায়(সমর্প্য)। ‘যস্তে স্তনঃ’ ইত্যাদিনা মন্ত্রেণ স্তনং প্রযচ্ছতি ॥ ৪৩৪ ॥ ২৭ ॥
মূলানুবাদ।—ইতঃপর স্বীয় অঙ্ক-স্থিত সেই বালককে মাতৃক্রোড়ে সমর্পণ করিয়া এই মন্ত্র পাঠপূর্ব্বক স্তন প্রদান করিবে,— ‘হে সরস্বতি, তোমার যে স্তন লোকস্থিতির হেতুভূত অন্ন হইতে জাত, যে স্তন ভুক্ত ও পীত অন্ন-জলের ধারক, যে স্তন কর্ম্মফলরূপী বসুর প্রদাতা, এবং যে স্তন দ্বারা এই সমস্ত বিশ্বই বরণীয় হয়, তুমি
সেই স্তন পোষণ করিতেছ; অতএব তুমি আমার পুত্রের জীবন- ধারণার্থ সেই স্তন আমার ভার্য্যাতে প্রবিষ্ট কর ॥ ৪৩৪ ॥ ২৭ ॥.
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথৈনং মাত্রে প্রদায় স্বাঙ্কস্থম্, স্তনং প্রযচ্ছতি “যস্তে স্তনঃ” ইত্যাদিমন্ত্রেণ ॥ ৪৩৪ ॥ ২৭ ॥
টীকা।—হে সরস্বতি, যন্তে স্তনঃ সশয়ঃ শয়ঃ ফলং, তেন সহ বর্তমানঃ, যশ্চ সর্ব্বপ্রাণিনাং স্থিতিহেত্বন্নভাবেন জাতো যশ্চ রত্নধা অন্নস্য পয়সো বা ধাতা, যশ্চ বসু কৰ্ম্মফলং তদ্বিন্দতীতি বসুবিৎ। যঃ সুষ্ঠু দদাতীতি সুদত্রঃ, যেন চ স্তনেন বিশ্বা বিশ্বানি বীর্য্যাণি বরণীয়ানি বেদা- দীনি ভূতানি ত্বং পুষ্যসি, তং স্তনং মদীয়পুত্রস্য ধাতবে পানায় মদীয়ভার্য্যাস্তনে প্রবিষ্টং কুর্বিত্যর্থঃ॥ ৪৩৪ ॥ ২৭ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—অনন্তর, পিতা নিজক্রোড়স্থিত সেই বালককে মাতার ক্রোড়ে সমর্পণ করিয়া ‘যস্তে স্তনঃ’ ইত্যাদি মন্ত্রোচ্চারণপূর্ব্বক স্তনপ্রদান করিবে ॥ ৪৩৪ ॥ ২৭ ॥
অথাস্য মাতরমভিমন্ত্রয়তে—ইলাসি মৈত্রাবরুণী বীরে বীর- জীজনৎ, সা ত্বং বীরবতী ভব। যাস্মান্ বীরবতোহকরদিতি। তং বা এতমাহুরতিপিতা বতাভূরতিপিতামহো বতাভূঃ পরমাং বত কাষ্ঠাং প্রাপচ্ছিয়া যশসা ব্রহ্মবর্চ্চসেন, য এবংবিদো ব্রাহ্মণস্য পুত্রো জায়ত ইতি ॥ ৪৩৫ ॥ ২৮ ॥
ইতি ষষ্ঠ্যাধ্যায়শ্চ চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্ ॥ ৬ ॥ ৪ ॥
সকমার্থঃ।—অথ অন্য(বালকস্য) মাতরম্ ‘ইলাসি মৈত্রাবরুণী’ ইত্যাদিনা, মন্ত্রেণ, অভিমন্ত্রয়তে(অভিমুখীকরোতি)। এবংবিদঃ ব্রাহ্মণস্য যঃ পুত্রঃ জায়তে, তম্(পুত্রম্) আহুঃ(কথয়ন্তি)[পণ্ডিতাঃ]—বত(হর্ষে)[ত্বং] অতিপিতা(পিতরম্ অতিক্রান্তঃ) অভূঃ,[ত্বং] অতিপিতামহঃ(পিতামহমতি- ক্রান্তঃ) অভূঃ; বত শ্রিয়া, যশসা, ব্রহ্মবর্চ্চসেন চ পরমাং কাষ্ঠাং প্রাপৎ (প্রাপিতবানিত্যর্থঃ)।
মন্ত্রার্থস্তু—হে বীরে ত্বং ইলা(লোকস্ততা) মৈত্রাবরুণী(মিত্রাবরুণাভ্যাং জাতঃ মৈত্রাবরুণিঃ—বশিষ্ঠঃ, তৎপত্নী অরুন্ধতী—মৈত্রাবরুণী, তৎসমা অসি, বীরং(পুত্রং) অজীজনৎ(উৎপাদিতবর্তী);[যা ত্বম্] অস্মান্ বীরবতঃ (বীরপুত্রজননাৎ বীরযুক্তান্) অকরৎ(কৃতবতী), সা! ত্বং, বীরবতী ভব ইতি॥ ৪৩৫ ॥ ২৮ ॥
মুলাসুবাদঃ—অতঃপর বালকের মাতাকে সম্বোধনপূর্ব্বক বলিবে যে, তুমিই স্তবনীয়া মৈত্রাবরুণীরূপে(অরুন্ধতীরূপে) অবস্থান করিতেছ;[মিত্র—সূর্য্য ও বরুণ হইতে সমুৎপন্ন বশিষ্ঠের নাম মৈত্রাবরুণ, তাঁহার পত্নী অরুন্ধতীকে মৈত্রাবরুণী বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে]। হে বীর, তুমি বীর পুত্র প্রসব করিয়া আমাদিগকে বীরবান্ করিয়াছ, অতএব তুমিও বীরবতী হও।
এই প্রকার বিধিবোধিত সংস্কারসম্পন্ন পুত্রগণই শ্রী, যশঃ ও. ব্রহ্মবর্চ্চস দ্বারা পিতা পিতামহ প্রভৃতিকেও অতিক্রম করিয়াছে। অতএব ইতঃপরও এই প্রকার বিশিষ্ট জ্ঞানবানের যে পুত্র হয়, সেই পুত্রও শ্রী, যশ ও ব্রহ্মবর্চ্চস প্রভৃতি প্রাপ্ত হইয়া এই প্রকারেই সকলের স্তুতিভাজন হয় ॥ ৪৩৫ ॥ ২৮ ॥
শাঙ্কর ভাষ্যম্।—অথাস্য মাতরমভিমন্ত্রয়তে ‘ইলাসি’ ইত্যনেন। তং বা এতমাহুরিত্যনেন বিধিনা জাতঃ পুত্রঃ পিতরং পিতামহং অতিশেত- ইতি। শ্রিয়া যশসা ব্রহ্মবর্চ্চসেন পরমাং নিষ্ঠাং প্রাপৎ—ইত্যেবং স্তুত্যো ভবতীত্যর্থঃ। যস্য চৈবংবিদো ব্রাহ্মণস্য পুত্রো জায়তে, স চৈবং স্তুত্যো ভবতীত্যধ্যাহার্য্যম্ ॥ ৪৩৫ ॥ ২৮ ॥
টাকা।—ইলা স্বত্যা ভোগ্যাসি। মিত্রাবরুণাভ্যাং সংভূতো মৈত্রাবরুণো বসিষ্ঠস্তস্য ভার্য্যা মৈত্রাবরুণী চারুদ্ধতী, তদ্বত্বং তিষ্ঠসীতি ভার্য্যাং সংবোধয়তি—মৈত্রাবরুণীতি। বীরে পুরুষে ময়ি নিমিত্তভূতে ভবতী ‘বীরং পুত্রমজীজনৎ। সা ত্বং বীরবতী জীবদ্বহপুত্রা ভব। যা ভবতী বীরবতঃ পুত্রসংপন্নানস্মানকরৎ কৃতবতীতি মন্ত্রার্থঃ। পিতরমতীত্য বর্তত ইত্যতিপিতা। অহো মহানেষ বিস্ময়ো যৎ পিতরং পিতামহং চ সর্বমেব বংশমতীত্য সর্ব্বম্মাদধিকত্ত্বং জাতো- হসীত্যর্থঃ। ন কেবলং পুত্রস্যৈব্যেং স্তুতিরপি তু যথোক্তপুত্রসংপন্নস্য পিতুরপীত্যাহ— যস্যেতি। ৪৩৫। ২৮।
ইতি সুরাবংশীয়ং নিদানং কায়স্থস্য চতুর্থং ব্রোণম্ ॥ ৬ ॥ ৪ ॥
ভাষ্যানুবাদ।—ইহার পর ‘ইলাসি’ ইত্যাদি বাক্যে পত্নীকে আমন্ত্রণ—আত্মসমুখীন করিবে। ‘তং বৈ এতম্ আহুঃ ইতি’ এই প্রকার বিধানক্রমে জাত পুত্র স্বীয় পিতা ও পিতামহকেও অতিক্রম করে; এই জন্যই
১৫৮১
বলা হইল যে, শ্রী, যশ ও ব্রহ্মবর্চ্চস দ্বারা পরম উৎকর্ষ প্রাপ্ত হইয়াছে— এইরূপে স্তুতিযোগ্য হইয়া থাকে! এই প্রকার জ্ঞানসম্পন্ন যে ব্রাহ্মণের এই প্রকার পুত্র সমুৎপন্ন হয়, তিনি নিজেও যে, এই প্রকারে স্তুতিভাজন হইয়া থাকেন, ইহা ধরিয়া লইতে হইবে ॥ ৪৩৫ ॥ ২৮ ॥
ইতি ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ চতুর্থোঽধ্যায়ের ভাষ্যানুবাদের ॥ ৬ ॥ ৪
অথ বংশঃ। পৌতিমাষীপুত্রঃ কাত্যায়নীপুত্রাৎ কাত্যায়নী- পুত্রো গৌতমীপুত্রাদগৌতমীপুত্রো ভারদ্বাজীপুত্রাদ্ভারদ্বাজীপুত্রঃ পারাশরীপুত্রাৎ পারাশরীপুত্র ঔপস্বস্তীপুত্রাদৌপস্বস্তীপুত্রঃ পারাশরীপুত্রাৎ পারাশরীপুত্রঃ কাত্যায়নীপুত্রাৎ কাত্যায়নীপুত্রঃ, কৌশিকীপুত্রাৎ কৌশিকীপুত্র আলম্বীপুত্রাচ্চ বৈয়াঘ্রপদীপুত্রাচ্চ বৈয়াঘ্রপদীপুত্রঃ কাণীপুত্রাচ্চ কাপীপুত্রাচ্চ, কাপীপুত্রঃ ॥৪৩৬৷১॥
সরলার্থঃ।—[ অত্র স্ত্রীণাং গুণোৎকর্ষমহিয়া গুণবৎপুত্রোৎপত্তেঃ প্রস্তুতত্বাৎ স্ত্রীপ্রধান্যেনৈবাচার্য্যক্রমো নির্দিষ্টঃ।] প্রজাপতিরিহ অগ্রিম আচার্য্যঃ, পৌতিমাষীপুত্রশ্চান্তিমো বিজ্ঞেয়ঃ। ইমানি শুক্লানি(শুদ্ধানি) যজুৎষি যাজ্ঞবল্ক্যেন আ সাংজীবীপুত্রাৎ সামানম্ আখ্যায়ন্তে(প্রোচ্যন্তে)। প্রজাপতিমারভ্য পৌতিমাষীপুত্রপর্য্যন্তমাচার্য্যক্রমো নিয়ত এব, যাজ্ঞবল্ক্য- সাংজীবীপুত্রয়োমধ্যে তু য পরম্ বিভিদ্যতে। ব্রহ্মণঃ স্বয়ম্ভুবিশেষণং জাত্যা দ্যর্থান্তরবারণায়। স্বয়ম্ভু ব্রহ্ম চ প্রবচনাখ্যম্ অনাদ্যনন্তম্ নিত্যসিদ্ধম্, তস্মৈ ব্রহ্মণে নম ইত্যর্থঃ ॥ ৪৩৬—৪৩৯ ॥ ১—৪ ॥
সেরমল্পপদোপেতা শ্রীশঙ্করমতে স্থিতা। ভাষ্যার্ণব-মহারত্নজিঘৃক্ষুণাং কৃতে কৃতা। সাংখ্য-বেদান্ততীর্থ-শ্রীদুর্গাচরণশর্ম্মণা। বৃহদারণ্যকে ব্যাখ্যা সরলা স্যাৎ সতাং মুদে ॥
মূলাসুবাদ?—সম্প্রতি স্ত্রীপ্রধান বংশব্রাহ্মণ বর্ণিত হই- তেছে,—স্ত্রীপ্রাধান্য বশতঃ গুণবান্ পুত্র জন্ম লাভ করে, এ কথা পূর্ব্বে উক্ত হইয়াছে; সেই কারণে এখানেও স্ত্রীরূপ বিশেষণে বিশেষিত আচার্য্যেরই পারম্পর্য্যক্রম বর্ণিত হইতেছে। পৌতিমাসী- তনয় শেষ আচার্য্য; তিনি কাত্যায়নীপুত্র হইতে, কাত্যায়নীপুত্র গৌতমীপুত্র হইতে, গৌতমীপুত্র ভারদ্বাজী-পুত্র হইতে, ভারদ্বাজী-
পুত্র পারাশরীপুত্র হইতে, পারাশরীপুত্র ঔপস্বস্তীপুত্র হইতে, ঔপ- স্বস্তীপুত্র পারাশরীপুত্র হইতে, পারাশরীপুত্র কাত্যায়নীপুত্র হইতে, কাত্যায়নীপুত্র কৌশিকীপুত্র হইতে, কৌশিকীপুত্র আলম্বীপুত্র ও বৈয়াঘ্রপদীপুত্র হইতে, বৈয়াঘ্রপদীপুত্র কাণ্বীপুত্র ও কাপীপুত্র হইতে, কাপীপুত্র আবার—॥ ৪৩৬—৪৩৯ ॥ ১ ॥
শাঙ্করভাষ্যম্।—অথেদানীং সমস্তপ্রবচনবংশঃ। স্ত্রীপ্রাধান্যাৎ গুণবান্ পুত্রো ভবতীতি প্রস্তুতম্; অতঃ স্ত্রীবিশেষণেনৈব পুত্রবিশেষণাদাচার্য্য- পরম্পরা কীর্ত্যতে। তানীমানি শুক্লানীতি অব্যামিশ্রাণি ব্রাহ্মণেন। অথবা, অযাতযামানীমানি যজুংষি, তানি শুক্লানি শুদ্ধানীত্যেতৎ। প্রজাপতিমারভ্য- যাবৎ পৌতিমাষীপুত্রঃ, তাবদধোমুখো নিয়তাচার্য্যপূর্ব্বক্রমো বংশঃ সমানম্ আ সাংজীবীপুত্রাৎ। ব্রহ্মণঃ প্রবচনাখ্যস্য। তচ্চৈতদ্ ব্রহ্ম প্রজাপতি-প্রবন্ধ- পরম্পরয়া আগত্য অস্মাস্বনেকধা বিপ্রসূতম্, অনাদ্যনন্তম্, স্বয়ম্ভু ব্রহ্ম নিত্যম্; তস্মৈ ব্রহ্মণে নমঃ। নমস্তদনুবর্ত্তিভ্যো গুরুভ্যঃ ॥ ৪৩৬—৪৩৯ ॥ ১ ॥
ইতি ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ পঞ্চমঃ ব্রাহ্মণম্ ॥ ৩ ॥ ৫ ॥
টীকা।—সান্নিধ্যাৎ খিলকাণ্ডস্য বংশোহয়মিতি শঙ্কাং নিবর্ত্তয়ন্ বংশব্রাহ্মণতাৎপর্য্যমাহ— অথেতি। বিদ্যাভেদাদতীতস্য কাণ্ডদ্বয়স্য প্রত্যেকং বংশভাক্তেহপি নান্য পৃথক্ত্রভাগিত্বং, খিলত্বেন তচ্ছেযত্বাৎ। তথা চ সমাপ্তৌ পঠিতো বংশঃ সমস্তস্যৈব প্রবচনস্য ভবিষ্যতীত্যর্থঃ। পূর্ব্বো বংশৌ পুরুষবিশেষিতৌ, তৃতীয়ঃ স্ত্রীবিশেষিতস্তত্র কিং কারণমিত্যাশঙ্ক্যাহ—স্ত্রীপ্রাধান্যা- দিতি। তদেব স্ফুটয়তি—গুণবানিতি। কীর্ত্যতে ব্রাহ্মণেনেতি সংবন্ধঃ। শুক্লানি যজুংষীত্যস্য ব্যাখ্যানমব্যামিশ্রাণীতি দোষৈরসংকীর্ণানি, পৌরুষেয়ত্বদোষদ্বারাভাবাদিত্যর্থঃ। অযাতযামান্যদুষ্টান্যগতার্থানীত্যর্থঃ। পাঠক্রমেণ মনুষ্যাদিঃ প্রজাপতিপর্য্যন্তো বংশো ব্যাখ্যাতঃ। সংপ্রত্যর্থক্রমমাশ্রিত্যাহ—প্রজাপতিমিতি। অধোমুখত্বং পাঠক্রমাপেক্ষয়োচ্যতে। তত্রাপি প্রজাপতিমারভ্য ‘সাংজীবীপুত্রপর্যন্তং বাজসনেয়িশাখাসু সর্ব্বাস্বেকো বংশ ইত্যাহ— সমানমিতি। প্রবচনাখ্যস্য বংশাত্মনো ব্রহ্মণঃ সংবন্ধাৎ প্রজাপতিবিদ্যাং ‘লব্ধবানিত্যাহ— ব্রহ্মণ ইতি। তস্যাধিকারিভেদাদবান্তরভেদং দর্শয়তি—তচ্চেতি। প্রজাপতিমুখপ্রবন্ধঃ প্রপঞ্চঃ, সৈব পরস্পরা তয়েতি যাবৎ। তন্য পরমাত্মরূপং স্বয়ম্ভূত্বমভিদধাতি—অনাদীতি। তস্যাপৌরুষেয়ত্বেনাসংভাবিতদোষতয়া প্রামাণ্যমভিপ্রেত্য বিশিনষ্টি—নিত্যমিতি। আদি- মধ্যান্তেষু কৃতমঙ্গলা গ্রন্থাঃ প্রচারিণো, ভবন্তীতি মন্থানঃ সন্নাহ—তস্মৈ ব্রহ্মণে নম ইতি ॥ ৪৩৬— ৪৩৯ ॥ ১—৪ ॥
ইতি কৃষ্ণদাসকোপনিষদীয়ং ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ। পঞ্চমঃ পরঃ। ৬। ৫।
নমো জন্মাদিসংবন্ধহেতুবিধ্বংসহেতবে। হরয়ে পরমানন্দপরিজ্ঞানবপুর্ভূতে। ১। নমন্ত্রয্যস্তসংদোহ-সরসীরুহভানবে। গুরবে পরপক্ষৌষধান্তধ্বংসপটীয়সে। ২। ইতি শ্রীপরমহংসপরিব্রাজকশুদ্ধানন্দ-পূজ্যপাদশিষ্য-ভগবদানন্দজ্ঞানকৃতায়াং বৃহদারণ্যকোপনিষদ্ভাষটীকায়াং যষ্ঠোঽধ্যায়ঃ সমাপ্তঃ। ৬।
ভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর এখন সমস্ত উপনিষদের(আচার্য্যক্রম) বর্ণিত হইতেছে। স্ত্রীলোকের উৎকর্ষানুসারে গুণবান্ পুত্র সমুৎপন্ন হয়, এই বিষয়ই পূর্ব্বে বর্ণিত হইয়াছে; সেইজন্য এখানে স্ত্রীর(মাতার) বিশেষণানুসারে পুত্রকে বিশেষিত করিয়া আচার্য্য-পরম্পরা বর্ণিত হইতেছে। সেই এই বজ্রুঃসমূহ শুক্ল অর্থাৎ ব্রাহ্মণভাগের সহিত মিশ্রিত নহে, অথবা এই যে সকল যজুঃ কথিত হইল, এ সমুদয় যজুঃ শুক্ল অর্থাৎ শুদ্ধ নির্দোষ। প্রজা- পতি হইতে আরম্ভ করিয়া পৌতিমাষীপুত্র পর্য্যন্ত যে আচার্য্য-পরম্পরাক্রম প্রদর্শিত হইল, তাহা অধোমুখ অর্থাৎ প্রতিলোমক্রমে বুঝিতে হইবে। সাংজীবীপুত্র পর্য্যন্ত স্ত্রীপ্রাধান্যক্রম অব্যাহত আছে। ‘ব্রহ্মণঃ’ অর্থ—বেদ- ভাগের; সেই এই প্রবচনাত্মক ব্রহ্ম প্রজাপতির উপদেশ-পরম্পরাক্রমে আমাদের নিকট আসিয়া বহুভাগে বিস্তৃতি লাভ করিয়াছে। এখানে স্বয়ম্ভূ অর্থ অনাদি অনন্ত নিত্য ব্রহ্ম; সেই ব্রহ্মের উদ্দেশে নমস্কার, এবং তাঁহার অনুগামী গুরুগণকেও নমস্কার ॥ ৪৩৬—৪৩৯ ॥ ১—৪ ॥
ইতি ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ পঞ্চমোহধ্যায়ের ভাষ্যানুসারে সমাপ্ত ॥ ৬ ॥ ৫ ॥
বৃহদারণ্যকোপনিষদ্ভাষ্যং সমাপ্তম্ ॥ ০ ॥
আত্রেয়ীপুত্রাদাত্রেয়ীপুত্রো গৌতমীপুত্রাদেগৌতমীপুত্রো ভারদ্বাজীপুত্রাদ্দারদ্বাজীপুত্রঃ পারাশরীপুত্রাৎ পারাশরীপুত্রো বাৎসীপুত্রাদ্বাৎসীপুত্রঃ পারাশরীপুত্রাৎ পারাশরীপুত্রো বার্কা- রুণীপুত্রাদ্বারকারুণীপুত্রো বার্কারুণীপুত্রাও আর্ত- ভাগীপুত্রাদার্তভাগীপুত্রঃ শৌঙ্গীপুত্রাচ্ছৌঙ্গীপুত্রঃ সাঙ্কতীপুত্রাৎ সাঙ্কতীপুত্র, আলম্বায়নীপুত্রাদালম্বায়নীপুত্র ‘আলম্বীপুত্রাদালম্বী- পুত্রো জায়ন্তীপুত্রাজ্জায়ন্তীপুত্রো মাণ্ড কায়নীপুত্রাম্মাণ্ড কায়নী-
পুত্রো মাণ্ডুকীপুত্রান্মাণ্ডকীপুত্রঃ শাণ্ডিলীপুত্রাচ্ছাণ্ডিলীপুত্রো রাথীতরীপুত্রাদ্রাথীতরীপুত্রো ভালুকীপুত্রাদ্ভালুকীপুত্রঃ ক্রৌঞ্চি- কীপুত্রাভ্যাং ক্রৌঞ্চিকীপুত্রৌ বৈদভৃতীপুত্রাদ্বৈদভৃতীপুত্রঃ কার্শকেয়ীপুত্রাৎ কার্শকেয়ীপুত্রঃ প্রাচীনযোগীপুত্রাৎ প্রাচীন- যোগীপুত্রঃ সাঞ্জীবীপুত্রাৎ সাঞ্জীবীপুত্রঃ প্রাণ্মীপুত্রাদাসুরিবাসিনঃ প্রাণ্মীপুত্র আসুরায়ণাদাসুরায়ণ আসুরেরাসুরিঃ—॥৪৩৭৷২৷৷
মূলানুবাদ:-আয়েরীপুত্র হইতে, আত্রেয়ীপুত্র গৌতমী- পুত্র হইতে, গৌতমীপুত্র ভারদ্বাজীপুত্র হইতে, ভারদ্বাজীপুত্র পারাশরী পুত্র হইতে, পারাশরী-পুত্র বাৎসীপুত্র হইতে, বাৎসীপুত্র পারাশরী-পুত্র হইতে, পারাশরীপুত্র বার্কারুণীপুত্র হইতে, বার্কারুণী- পুত্র পুনশ্চ বার্কারুণীপুত্র হইতে, বার্কারুণীপুত্র আর্তভাগীপুত্র হইতে, আর্তভাগীপুত্র শৌঙ্গীপুত্র হইতে, শৌঙ্গীপুত্র সাঙ্কতীপুত্র হইতে, সাঙ্কতীপুত্র আলম্বায়নী-পুত্র হইতে, আলম্বায়নী-পুত্র আলম্বীপুত্র হইতে, আলম্বী-পুত্র জায়ন্তীপুত্র হইতে, জায়ন্তীপুত্র মাণ্ডু- কায়নী-পুত্র হইতে, মাণ্ডুকায়নী-পুত্র মাণ্ডুকীপুত্র হইতে, মাণ্ডুকীপুত্র শাণ্ডিলীপুত্র হইতে, শাণ্ডিলীপুত্র রাধীতরী-পুত্র হইতে, রাধীতরীপুত্র ভালুকীপুত্র হইতে, ভালুকীপুত্র ক্রৌঞ্চিকীর পুত্রদ্বয় হইতে, ক্রৌঞ্চিকীর পুত্রদ্বয় বৈদভৃতীপুত্র হইতে, বৈদভৃতীপুত্র কার্শকেয়ীপুত্র হইতে, কার্শকেয়ীপুত্র প্রাচীনযোগীপুত্র হইতে, প্রাচীনযোগীপুত্র সাঞ্জীবীপুত্র হইতে, সাঞ্জীবীপুত্র প্রাক্ষী-পুত্র হইতে, প্রাষ্মী-পুত্র আসুরিবাসী আসুরায়ণ হইতে, আসুরায়ণ আসুরি হইতে, আসুরি—॥৪৩৭৷২
যাজ্ঞবল্ক্যাদ্ যাজ্ঞবল্ক্য উদ্দালকাদুদ্দালকোহরুণাদরুণ উপ- বেশেরুপবেশিঃ কুশ্রেঃ কুশ্রিব্বাজশ্রবসো বাজশ্রবা জিহ্বাবতো বাধ্যোগাজিহ্বাবান্ বাধ্যোগোহসিতাদ্বার্যগণাদসিতো বার্যগণো হরিতাৎ কশ্যপাৎ হরিতঃ কশ্যপঃ শিল্পাৎ কশ্যপাৎ শিল্পঃ
৭৩
কশ্যপঃ কশ্যপান্নৈধ্রবেঃ কশ্যপো নৈধ্রুবির্বাচো বাগন্তিণ্যা. অন্তিণ্যাদিত্যাৎ। আদিত্যানীমানি শুক্লানি যজূষি বাজসনেয়েন যাজ্ঞবল্ক্যেনাখ্যায়ন্তে ॥৪৩৭৷৷৩৷৷
মুলাসুবাদ:-যাজ্ঞবল্ক্য হইতে, যাজ্ঞবল্ক্য উদ্দালক হইতে, উদ্দালক অরুণ হইতে, অরুণ উপবেশি হইতে, উপবেশি কুশ্রি হইতে, কুশ্রি বাজশ্রবা হইতে, বাজশ্রবা জিহ্বাবান্ বাধ্যোগ হইতে, জিহ্বা- বান বাধ্যোগ অসিত বার্ষগণ হইতে, অসিত বার্ষগণ হরিতকশ্যপ হইতে, হরিত কশ্যপ, শিল্প-কশ্যপ হইতে, নৈধ্রবিকশ্যপ হইতে, নৈধ্রবিকশ্যপ বাক্ হইতে, বাক্ অন্তিনী হইতে, অন্তিনী আদিত্য হইতে। আদিত্য হইতে প্রাপ্ত এই সমস্ত শুক্ল যজু বাজসনেয় যাজ্ঞবল্ক্য কর্তৃক ব্যাখ্যাত হইয়াছে ॥৪৩৮৷৷৩৷৷
সমানমা সাঞ্জীবীপুত্রাৎ, সাঞ্জীবীপুত্রো মাণ্ডুকায়নেৰ্ম্মাণ্ড কায়- নিৰ্মাণ্ডব্যান্মাণ্ডব্যঃ কৌৎসাৎ কৌৎসো মাহিখেৰ্ম্মাহিখির্ব্বা- মকক্ষায়ণাদ্বামকক্ষায়ণঃ শাণ্ডিল্যাচ্ছাণ্ডিল্যো বাৎস্যাদ্বাস্যঃ কুশ্রেঃ কুশ্রিযজ্ঞবচসো রাজস্তম্বায়নাদ্ যজ্ঞবচা রাজস্তম্বায়নস্তুরাৎ কাবষেয়াৎ তুরঃ কাবষেয়ঃ প্রজাপতেঃ, প্রজাপতিব্রহ্মণো ব্রহ্ম স্বয়ম্ভু, ব্রহ্মণে নমঃ ॥৪৩৯৷৪৷
ইতি পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্ ॥৬৷৫॥ ইতি বাজসনেয়ক-বৃহদারণ্যকোপনিষৎসু ষষ্ঠোহধ্যায়ঃ, বৃহদারণ্যক-ব্রাহ্মণক্রমেণ তু অষ্টমোহধ্যায়ঃ সমাপ্তঃ ॥ ॥ ওঁম তৎসৎ ॥
মূলানুবাদ।—সাঞ্জীবীপুত্র পর্য্যন্ত আচার্য্যক্রম সমান। সাঞ্জীবীপুত্র মাণ্ডকায়নি হইতে, মাণ্ডকায়নি মাণ্ডব্য হইতে, মাণ্ডব্য কৌৎস হইতে, কৌৎস মাহিখি হইতে, মাহিখি বামকক্ষায়ণ হইতে, বামকক্ষায়ণ শাণ্ডিল্য হইতে, শাণ্ডিল্য বাৎস হইতে, বাৎস কুশি হইতে, কুশি যজ্ঞবচস্ রাজস্তম্বায়ন হইতে, যজ্ঞবচা রাজস্তম্বায়ন তুর কাবষেয় হইতে, তুর কাবষেয় প্রজাপতি হইতে, এবং প্রজাপতি ব্রহ্ম হইতে বিদ্যালাভ করিয়াছিলেন। ব্রহ্ম অর্থ নিত্য স্বয়ম্ভু। তাহার উদ্দেশে নমস্কার ॥৪১৯৷৷৪॥
ইতি ষষ্ঠ অধ্যায়ে পঞ্চম ব্রাহ্মণ ব্যাখ্যা ॥৬॥৫॥ ইতি শ্রীবৃহদারণ্যকোপনিষদের মূলানুবাদ সমাপ্ত ॥০॥